Tag: pakistan

pakistan

  • Pakistan: বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে প্রথম স্থানে পাকিস্তান, এক বছরে নিহত ১১৩৯

    Pakistan: বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে প্রথম স্থানে পাকিস্তান, এক বছরে নিহত ১১৩৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এল পাকিস্তান (Pakistan)। ২০২৫ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় (Global Terrorism Index) প্রাণহানির সংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতি ও শান্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের প্রকাশিত বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর পাকিস্তানে ১ হাজার ৪৫টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৩৯ জন। ২০১৩ সালের পর দেশটিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় এত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়নি।

    বিশ্বের ১৬৩টি দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি, বিশেষত আফগানিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। টানা ছ’বছর ধরে দেশটিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

    পণবন্দির ঘটনা (Pakistan) 

    প্রতিবেদনে পাকিস্তানে পণবন্দি করার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে জঙ্গিদের হাতে ১০১ জন পণবন্দি হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৫। মূলত জাফর এক্সপ্রেসে সন্ত্রাসবাদী হামলার জেরেই এই বিপুল বৃদ্ধি। ওই হামলায় ৪৪২ জনকে পণবন্দি করা হয়েছিল (Pakistan)।

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। গত বছর দেশটিতে সংঘটিত মোট সন্ত্রাসবাদী হামলার ৭৪ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে এই দুই প্রদেশে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদী হামলায় মোট প্রাণহানির ৬৭ শতাংশও ঘটেছে এই দুই অঞ্চলে। এই পরিসংখ্যান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।

    সন্ত্রাসবাদী হামলা

    বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ছাড়াও বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, নাইজার এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জঙ্গি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটেছে এই পাঁচটি দেশে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে দ্বিতীয় স্থানে ছিল (Global Terrorism Index) পাকিস্তান। এবার প্রথম স্থানে উঠে এসেছে দেশটি। টানা ছ’বছর ধরে সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পণবন্দি করার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান পাকিস্তানের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে (Pakistan)।

     

  • Pakistan: ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ নিরাপত্তাকর্মীতে ছয়লাপ

    Pakistan: ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ নিরাপত্তাকর্মীতে ছয়লাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ)। আন্দোলনকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ রুখতে ইসলামাবাদজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন (Imran Khan)। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী। জনসমাবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রবেশের বিভিন্ন সড়কে এক হাজারেরও বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার বসানো হয়েছে। এগুলির অনেকগুলিতে লাগানো হয়েছে ধারালো কাঁটা। সেতুগুলিতে রাখা হয়েছে বালি ভর্তি বস্তা। রাজধানীতে প্রবেশের একটি প্রধান সড়কও বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

    ইসলামাবাদ অভিমুখী অভিযান স্থগিত পিটিআইয়ের (Pakistan)

    ইমরানের মুক্তির দাবিতে প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিল পিটিআই। তবে শুক্রবার দলের তরফে জানানো হয়, অভিযান শুরুর তারিখ পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। দলটির দাবি, এটি সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, ইমরানের সঙ্গে আচরণ এবং জেলে তাঁর বন্দিদশার পরিবেশ নিয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না পিটিআই।

    সরকারের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার সমালোচনা করে আফ্রিদি বলেন, “সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই তারা ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং আমাদের মন্ত্রীদের অপহরণ করছে। কিন্তু ইমরান খান দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাঁর জন্য মানুষ রাস্তায় নামবে।” বিপুলসংখ্যক সমর্থক নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।আফ্রিদি বলেন, “আমি জানি, আমাদের থামাতে তারা বর্বর শক্তিপ্রয়োগের যে কোনও পর্যায়ে যেতে পারে। এ নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ থাকলে তারা আমাদের ওপর গুলি চালাতে পারবে না। আমাদের পরিকল্পনা হল, এত বেশি মানুষ নিয়ে আসা, যাতে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।”

    ইসলামাবাদ-খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কঠোর নিরাপত্তা

    পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদে যাওয়ার প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রদেশটিতে মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী (Pakistan)। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সরকারনিযুক্ত গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, পিটিআই দেশে অস্থিতিশীলতা ও হিংসা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কুন্দি বলেন, “কোনও সহিংস গোষ্ঠীকে ইসলামাবাদ অভিমুখে অভিযান চালানোর অনুমতি রাষ্ট্র দিতে পারে না।” এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে ইসলামাবাদের স্বাভাবিক জনজীবনেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পণ্য সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    ইমরানের তিন বোন আটক, গ্রেফতারি পরওয়ানা

    ইসলামাবাদ অভিমুখী কর্মসূচি ঘিরে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ও জোরদার করা হয়েছে। দলের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা।

    এর মধ্যেই লাহোরে আটক করা হয়েছে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নওরিন নিয়াজিকে। পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনের আওতায় তাঁদের ৩০ দিন আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির কয়েক দিন আগেই তাঁদের আটক করা হয়।

    সরকারের দাবি, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এসব পদক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে, এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে পিটিআই। ইমরানের বোনদের আটকের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লাহোর হাইকোর্টেও আবেদন করা হয়েছে (Imran Khan)। ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর মুক্তির দাবিতে (Pakistan) আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে পিটিআই।

     

     

  • S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতকে প্রশ্ন করতে গিয়ে ওই সাংবাদিক পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন, সরাসরি জবাব জয়শঙ্করের

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হাই-লেভেল উইকের জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন জয়শঙ্কর। শুক্রবার লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেইসোলো নাইয়ান্তির সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকটির মূল বিষয় ছিল ‘গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অফ শিপিং অ্যান্ড সিফ্যারার্স’। বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগে এটিকে মূলত ‘শুধুমাত্র বক্তব্যের বিবরণী’ হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক বৈঠকের শেষদিকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি জানতে চান, “আপনাদের সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে?” এর পরেই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    নির্মম সত্যের মুখোমুখি পাক সাংবাদিক!

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ—নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান ফের স্পষ্ট হয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতানেনি ওই পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেন, “আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনেছেন। খুব স্পষ্টভাবেই আপনার জবাব পেয়ে গিয়েছেন।” আসলে, গতকাল ভারতীয় সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে প্রশ্ন করেছিলেন, “লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালাবেন?” শাহবাজের কাছে এর কোনও জবাব ছিল না, তিনি সেখান থেকে চলে যান। আজ ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু জয়শঙ্করের কাছ থেকে নির্মম সত্যের মুখোমুখি হন তিনি।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?

    সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে বিশ্বাসযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। একইসঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ, পরিকাঠামো বা অন্য কোনও ধরনের সহায়তা বন্ধ করার জন্যও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    পহেলগাঁও হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা। ওই হামলায় ২৬ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হন।

    এর পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালায়। ভারতীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের পরিকাঠামো, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক পরিকাঠামো নয়।

    নয়াদিল্লি আরও দাবি করেছে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকারের প্রয়োগ। এই হামলা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চেও উঠে এসেছে।

    ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নিয়ে ভারতের দাবি

    পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ-এর যোগ থাকার দাবি করেছে ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই টিআরএফ-কে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

    ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আমেরিকা টিআরএফ-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির একটি রিপোর্টেও টিআরএফ এবং পহেলগাঁও হামলার মধ্যে যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্যও ভারত নিয়মিত ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উদ্যোগ নিয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নিয়েও পাকিস্তানকে ঘিরে চাপ

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের উৎস বন্ধ করাও ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন রোধের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

    ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর নজরদারিও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং অর্থপাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না করার কারণে পাকিস্তান একাধিকবার এফএটিএফ-এর ‘গ্রে লিস্টে’ ছিল। সর্বশেষ পর্যায়ে ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান বর্ধিত নজরদারির আওতায় ছিল।

    এই সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন চিহ্নিত ও বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর পথ আটকানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য ছিল, এফএটিএফ-এর নজরদারির ফলে পাকিস্তানকে একাধিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামও ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলেছে।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের সরব জয়শঙ্কর

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক টানাপড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেছে, সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে স্বাভাবিক করে তোলা উচিত নয়।

    নিউইয়র্ক সফরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বৈঠকও করছেন জয়শঙ্কর। শনিবার সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁর শুক্রবারের মন্তব্য তাই শুধুমাত্র একটি সাংবাদিক বৈঠকের তাৎক্ষণিক উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান—সবকটি বিষয়ই এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে।

  • India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মে মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের সংঘাতকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) সেই দাবিকে তীব্র কটাক্ষ করল ভারত। ভারতের বক্তব্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তা পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। ৮০তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘রাইট অব রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট। তিনি বলেন, “ধ্বংস হওয়া রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গার যদি জয় বলে মনে হয়, তা হলে পাকিস্তান সেই জয় উপভোগ করতেই পারে।”

    পাকিস্তানের ‘জয়ের’ দাবি নিয়ে ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘে নিজের ভাষণে শাহবাজ শরিফ মে মাসের সামরিক সংঘাতে পাকিস্তান জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ জিতেছে এবং এখন তারা শান্তি জিততে চায়। ভারতের সঙ্গে সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেন তিনি। এর জবাবে গেহলট বলেন, সংঘাতের ঘটনাপ্রবাহ পাকিস্তানের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর বক্তব্য, ৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সরাসরি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের আবেদন জানায়। ভারতের প্রতিনিধি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মতোই ভারতীয় সাধারণ নাগরিকদের উপর একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ ছিল। ভারত তার নাগরিকদের সুরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।

    ‘সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলার ছবি তার প্রমাণ’

    অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় ভারতীয় হামলার প্রসঙ্গও রাষ্ট্রসংঘে তুলে ধরেন গেহলট। তাঁর দাবি, বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় হামলার পর নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেন, “একটি ছবি হাজার কথার সমান।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক ও অসামরিক আধিকারিকরা যেসব সন্ত্রাসবাদীকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়ে থাকেন, তা পাকিস্তানের নীতির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভারতের বক্তব্যে পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে আসে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকজন মন্ত্রীর সন্ত্রাসবাদী শিবির নিয়ে করা মন্তব্যের উল্লেখ করে গেহলট ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের আলাদা করে দেখা হবে না। একইসঙ্গে পারমাণবিক হুমকির আড়ালে সন্ত্রাসবাদ চালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

    শাহবাজের বক্তব্য ‘নাটক’

    কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে আক্রমণ করার পর রাষ্ট্রসংঘে তারও জবাব দেয় নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল “অযৌক্তিক নাটক”। তাঁর দাবি, কোনও ধরনের রাজনৈতিক নাটক বা মিথ্যা তথ্য বাস্তব ঘটনাকে আড়াল করতে পারে না। ভারতের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের আড়াল করেছিল। ভারতীয় পক্ষ ওই সংগঠনকে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে দাবি করেছে।

    শান্তি চাইলে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো বন্ধ করতে হবে

    শাহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও ভারত জানিয়ে দিয়েছে, শান্তির পথ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। গেহলট বলেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারতের সঙ্গে শান্তি চায়, তা হলে অবিলম্বে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবির বন্ধ করতে হবে। দিল্লির নিশানায় থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও জনপরিসরের বক্তব্য নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায় ডুবে থাকা একটি দেশ” রাষ্ট্রসংঘে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে অন্য দেশকে উপদেশ দিচ্ছে—বিষয়টি “অত্যন্ত পরিহাসের”।

    তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতার সম্ভাবনাও ফের খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই একমত যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবেই সমাধান করা হবে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার জায়গা নেই—এটাই ভারতের দীর্ঘদিনের জাতীয় অবস্থান। অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, পাকিস্তান শক্তিশালী অবস্থান থেকেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব”-এর প্রশংসা করেন। তবে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (DGMO) মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই সমঝোতা হয়েছিল।

    অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট

    ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ছাড়াও পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি, রাডার, গোলাবারুদ ভাণ্ডার এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মে মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটির বিস্ফোরণের ছবি এবং রহিম ইয়ার খান বিমানঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ের দৃশ্য প্রকাশ করেছিলেন। ভারতীয় পক্ষের দাবি, করাচির মালির ক্যান্টনমেন্টের কাছাকাছি এলাকাতেও সামরিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছিল।

    পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ

    ভারতের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে লস্কর-ই-তইবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও ভারত সেগুলির অনেকগুলি প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে নয়াদিল্লির দাবি। চার দিনের এই সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে ১০ মে। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত সেই ঘটনাপ্রবাহই তুলে ধরে পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকাশ্যে আসা সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও অন্যান্য তথ্য পাকিস্তানের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

     

     

     

     

  • OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন) গোষ্ঠীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ওআইসির (OIC) নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতবিরোধী প্রচারের মঞ্চ (Kashmir References) করে না দেওয়ার জন্যও ওআইসিকে পরামর্শ দিয়েছে ভারত।

    বুধবার এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওআইসির জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত মন্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় এবং তথ্যগত ভাবে ভুল বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও এখতিয়ারই নেই ওআইসির।”

    ভারত আরও একবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দু’টি দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। আন্তর্জাতিক কোনও মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তা পরিবর্তনের চেষ্টা ভারত মেনে নেবে না বলেও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির বৈঠক (OIC)

    মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ওআইসি জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বলে তারা যে বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে, তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যোগাযোগ গোষ্ঠী। এর পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিবৃতি দেয়।

    ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বারবার মন্তব্য করার কারণে ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যকে বারবার সমর্থন করা ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।”

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হল, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা নিয়ে হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই।

    পাকিস্তানকে ‘পরামর্শ’ দেওয়ার কথা ওআইসিকে

    ওআইসির বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ভারত যে বিষয়গুলিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে, পাকিস্তান সেগুলিকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য ওআইসিকে ব্যবহার করছে (OIC)।

    বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “পাকিস্তানকে তার মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানোর জন্য মঞ্চ দেওয়ার পরিবর্তে, ওআইসির উচিত পাকিস্তানকে পরামর্শ দেওয়া।”

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও মদত দেওয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত ও নথিবদ্ধ রেকর্ড রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকি তৈরি হচ্ছে, ইসলামাবাদের উচিত প্রথমে সেই সমস্যার মোকাবিলা করা।

    ওআইসি বৈঠকে কী বললেন ইশাক দার?

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির সদস্য দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ২০১৯ সালের ৫ অগাস্টের পর ভারত যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের দাবিও জানান দার। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবিও তোলেন (Kashmir References) তিনি।

    পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়মিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে আসছে। আর, ভারত বরাবরই এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর (OIC) দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ (Cross Border Terrorism) মোকাবিলায় পাকিস্তানকে (Pakistan) কথার পাশাপাশি বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। পাকিস্তান কী বলছে, তা আন্তর্জাতিক মহল বিশ্বাস করার আগে ইসলামাবাদকে কাজের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি প্রমাণ করতে হবে বলে মঙ্গলবার জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

    মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মুনির জানিয়েছিলেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানকে পদক্ষেপ এবং দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা যা বলছে, তা সত্যিই করবে—বিশ্বকে তা বিশ্বাস করাতে হলে এই পদক্ষেপ জরুরি।”

    গত বছর পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই নয়াদিল্লি বলে আসছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়া থেকে পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে।

    পেশোয়ারে আসিম মুনিরের বার্তা (Cross Border Terrorism)

    এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেছিলেন, দেশে জঙ্গি হুমকি বাড়তে থাকলেও, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মুনির পেশোয়ারের সেনা সদর দফতর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সেখানে মোতায়েন বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়েও তাঁকে জানানো হয়।

    পাক সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, মুনির জোর দিয়ে জানান, দেশের জনগণের অবিচল সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে এবং সারা দেশে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা ভারতের

    এদিকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলারও তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, সার্বভৌম প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এই ধরনের আগ্রাসনের ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আফগানিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।

    পাকিস্তান সোমবার জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের শিবির ও গোপন আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় আত্মঘাতী হামলাকারী-সহ ২৮ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।

    তবে আফগানিস্তান পাকিস্তানের এই দাবি ও পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। কাবুলের তরফে আফগান ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে।

    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই কাবুলের তালিবান প্রশাসনের কাছে আফগান ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, এসব জায়গা থেকে তাদের দেশে হামলা চালানো হয় (Cross Border Terrorism)।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারত-পাকিস্তান মতবিরোধ

    এদিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে ভারত।

    পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় হিসেবে তুলে ধরছে—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “প্রথমত, পাকিস্তানের মন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন, তথাকথিত এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় নয়। এটি একটি বেআইনিভাবে গঠিত আদালতের সিদ্ধান্ত। আমরা একে বাস্তবতাকে বিকৃত করার পাকিস্তানের আর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছি। এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আমরা তা একাধিকবার জানিয়েও দিয়েছি।”

    অগাস্টের শেষের দিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে সালিশি সংস্থা (Pakistan) জানিয়েছিল, চুক্তিটি কার্যকর রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে সেটিকে স্থগিত রাখতে পারে না। ভারত অবশ্য ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছিল, তারা ওই সালিশি প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতিই দেয় না (Cross Border Terrorism)।

     

  • Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপাল, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও অসমকে ঘিরে জাল ভারতীয় নোটের একটি সন্দেহভাজন চক্র (Pakistan) সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদ মাধ্যমের একটি তদন্ত প্রতিবেদন। তদন্তে উঠে এসেছে, নেপালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার পর সন্দেহভাজন চক্রটির একটি অংশ গুয়াহাটিতে চলে আসে। তদন্তকারী দলের দাবি, গুয়াহাটি থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাল নোট সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয় (UP Polls)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের পারসা জেলার ইনরওয়া থেকে তদন্তের সূত্রপাত হয়। সেখানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মধ্যে জাল নোটের লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মায়া পৌডেল নামে এক মহিলার কথা উঠে আসে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, নেপালে নজরদারি ও ধরপাকড় বাড়ার পর জাল নোটের সন্দেহভাজন কারবারের একটি অংশ গুয়াহাটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর তদন্তকারীরা রাতুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। রাতুল নিজেকে গুয়াহাটি থেকে জাল নোটের একটি চক্র পরিচালনাকারী হিসেবে দাবি করেন। তদন্তকারী প্রতিবেদক সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৮০ কোটি টাকার জাল নোট সরবরাহ নিয়ে কথাবার্তা হয়।

    ১ কোটি টাকায় ৩ কোটি টাকার জাল নোট! (Pakistan)

    তদন্তে প্রকাশিত কথোপকথন অনুযায়ী, রাতুল দাবি করেন, ১ কোটি টাকার বিনিময়ে ৩ কোটি টাকার জাল নোট দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতুলের দাবি ছিল, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে জাল নোট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। বিভিন্ন জেলায় সমন্বয়কারী রাখা হবে এবং তাঁদের কাছে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রেতার লোকজন তা আরও বিতরণ করবে।

    রাতুল আরও দাবি করেন, আগের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর চক্র জাল নোট সরবরাহ করেছিল এবং প্রায় ৬৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছিল। তবে তদন্তে প্রকাশিত উপাদান দিয়ে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যোগসূত্রের দাবি

    তদন্তকারী প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনে রাতুল দাবি করেন, জাল নোটের উৎস চিন ও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ হয়ে তা ভারতে ঢোকে। তাঁর দাবি, গুয়াহাটিতে একটি ‘জাল নোটের ভাণ্ডার’ রয়েছে, যেখান থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নোট পাঠানো হয়।

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান ও হরিয়ানায়ও এই সন্দেহভাজন চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।

    তবে চিন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে জাল নোট আসার দাবি শুধুমাত্র ওই ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এই বক্তব্য থেকেই জাল নোটের প্রকৃত উৎস বা পরিবহণের পথ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয় না (Pakistan)।

    গুয়াহাটিতে তদন্তকারী প্রতিবেদক

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তদন্তকারী প্রতিবেদক গুয়াহাটিতে যান। রাতুল তাঁকে রাজীব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। রাজীব লখরা উড়ালপুলের কাছে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে একটি কথিত মজুতকেন্দ্রের দিকে নিয়ে যান।

    রাজীবের দাবি ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা একটি বড় চালান থেকে প্রতিবেদকের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট একটি চালান তৈরি করা হচ্ছে। এরপর প্রতিবেদককে একটি পাহাড়ি এলাকার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি পুরনো দোতলা ভবনের বাইরে থামানো হয়।

    রাজীব দাবি করেন, ভবনের ভিতরে বাইরের লোকজন রয়েছে, তাই প্রতিবেদককে ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। পরিবর্তে তিনি জাল নোট প্যাকেটজাত করার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও দেখান (UP Polls)।

    ভিডিওতে নোটের বান্ডিল দেখানোর দাবি

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে কয়েকজনকে প্লাস্টিকের মোড়কে নোটের বান্ডিল ভরতে দেখা যায়। সেখানে ৫০০ টাকার নোটের মতো দেখতে বান্ডিলও ছিল।

    তদন্তকারী দলের দাবি, একটি বাক্সে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট রয়েছে বলে মনে হয়েছিল। তবে ভিডিওতে দেখা সামগ্রীর সত্যতা এবং প্রকৃত মূল্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    রাজীবের দাবি ছিল, ওই নোট বিহারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল এবং নির্বাচন না থাকলেও সেখানে জাল নোটের চাহিদা রয়েছে (Pakistan)।

    দুই ধরনের জাল নোট দেখানোর দাবি

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদককে দু’ধরনের সন্দেহভাজন জাল নোট দেখানো হয়। একটি ছিল কালো আবরণে ঢাকা এবং অন্যটি আসল নোটের মতো দেখতে।

    রাজীবের দাবি, কালো আবরণে ঢাকা নোট চিন ও পাকিস্তান থেকে আসে এবং নোট পরীক্ষার যন্ত্রের পরীক্ষায়ও বিষয়টি ধরা পড়েনি। তাঁর আরও দাবি, নতুন ধরনের নোটে উন্নত মানের কাগজ ও ছাপার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলি আগের চালানের তুলনায় দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে।

    ৮০ কোটি টাকার তথাকথিত নির্বাচনী চুক্তি

    তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে প্রতিবেদক রাতুলের সঙ্গে ৮০ কোটি টাকার একটি তথাকথিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। রাতুল দাবি করেন, আগে তাঁদের কার্যকলাপ নেপালকেন্দ্রিক ছিল। সেখানে কড়াকড়ি বাড়ার পর জাল নোটের ভাণ্ডার গুয়াহাটিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    গুয়াহাটির অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা দেয় বলেও রাতুল দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, এই অবস্থান থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চালান পাঠানো সহজ।

    তদন্তে আরও বলা হয়েছে, গুয়াহাটি থেকে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে জাল নোট কীভাবে পৌঁছতে পারে (UP Polls), কারা সেগুলি গ্রহণ করে এবং কোন পথ ব্যবহার করা (Pakistan) হয়—এখন সেগুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

     

  • Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ১৬ মাস পরেও সারগোধায় পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) মুশাফ ঘাঁটির রানওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে মেরামতির কাজ চলছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে রানওয়ের একটি অংশে ফের খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর উচ্চ-রেজোলিউশনের ভানতুর উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও ট্যাক্সি ট্র্যাকের সংযোগস্থলে একটি স্পষ্ট কালো অংশ দেখা যাচ্ছে। আশপাশের অ্যাসফল্টের তুলনায় ওই জায়গার রং ও গঠন আলাদা। এর ফলে সেখানে নতুন করে খনন বা রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কাজের জায়গার কাছে একটি লাল রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। এই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ের যে দুটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে এটি একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগের মেরামতির অংশেই ফের কাজ

    সারগোধায় অবস্থিত মুশাফ বিমানঘাঁটি লাহোর থেকে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং অমৃতসরের কাছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যে অংশটি আগে মেরামত করা হয়েছিল, সেটিই ফের খুঁড়ে নিচের স্তর বা সাবগ্রেড পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, পাকিস্তান ওই অংশে শুধু নতুন করে অ্যাসফল্টের প্রলেপ দিচ্ছে না, বরং আরও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ করছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে এই খননের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রানওয়ের নিচে বসে যাওয়া, অসমতল হয়ে যাওয়া, উপরের স্তরে ক্ষতি কিংবা আগের মেরামতির নীচে কোনও সমস্যা—এর মধ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

    উপগ্রহচিত্রে রানওয়ে মেরামতির  ছবি

    ছবিতে রানওয়ের বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে সংস্কারের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে। কোথাও তুলনামূলক গাঢ় ও মসৃণ পৃষ্ঠ দেখা যাচ্ছে, আবার অন্য একটি অংশে মেরামতির কাজ এখনও চলছে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর উপগ্রহচিত্রে ওই হামলাস্থলটি মেরামত হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ছবিতে একই জায়গায় ফের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বশেষ উপগ্রহচিত্র অবশ্য রানওয়ের বর্তমান মেরামতির সুনির্দিষ্ট কারণ বা কাজের পূর্ণ পরিধি নিশ্চিত করে না।

    রানওয়ের দুটি জায়গায় আঘাত

    ২০২৫ সালের ১০ মে-র উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির প্রায় ৩,২০০ মিটার দীর্ঘ মূল রানওয়ের উপর দুটি পৃথক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের অনুমান অনুযায়ী, রানওয়ের সংযোগস্থলে তৈরি গর্তটির প্রস্থ ছিল প্রায় ৮-৯ মিটার এবং গভীরতা ৪-৫ মিটার। আঘাতের জায়গার চারপাশে অ্যাসফল্ট ও কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ এবং বেশ কিছু স্থলযানও দেখা গিয়েছিল। রানওয়ের একই অংশে প্রায় ৬৬০ মিটার দূরে দ্বিতীয় একটি আঘাতের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছিল। মুশাফ ঘাঁটিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম ভারতীয় বায়ুসেনা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে গর্তের আকার ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এটি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত এয়ার-লঞ্চড ব্রহ্মোসের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ মাত্র; সরকারি ভাবে অস্ত্রটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

    এক বছরেরও বেশি সময় পর ফের সংস্কার

    সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র থেকে মুশাফ ঘাঁটির ওই অংশে এখনও পুনর্গঠনের কাজ চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার পর একবার মেরামত করা অংশে এক বছরেরও বেশি সময় পরে ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে। ভারতীয় সামরিক সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোও ছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় সরগোধা এবং কিরানা হিলসের আশপাশে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এই ড্রোনগুলির মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা খুঁজে বের করা।

    ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাঘাত

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরপরই ভারত সরকার প্রমাণের স্তূপ তুলে ধরেছিল। পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার বিস্তারিত ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আসল ফুটেজও বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুক্ত তথ্যসূত্র গোয়েন্দা সংস্থা (OSINT) এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রেও পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খানের মতো একাধিক পাক বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে গভীর ক্ষতের ছবি ধরা পড়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই প্রত্যাঘাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামোর ওপর ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছিল।

  • India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণাকে ‘লোকদেখানো পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লির বক্তব্য, নিজেদের মাটিতে নিষিদ্ধ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এই ধরনের ‘ভাঁওতা ঘোষণা’ করে কোনও লাভ নেই।

    মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে বলেন, “পাকিস্তানের এই ধরনের লোকদেখানো কৌশল এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও আমরা একই ধরনের কৌশল দেখেছি।”

    তিনি এও বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা একটি রাষ্ট্র যখন এই ধরনের ভাঁওতা দেয়, তখন তার ফাঁপা চরিত্র আমরা সকলেই জানি। পাকিস্তানের উচিত পদক্ষেপ করা, এমন ঘোষণা নয়, যার কোনও বাস্তব ফল নেই।”

    পাকিস্তান সম্প্রতি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করলে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কারের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থার ২০২৬ সালের ‘রেড বুক’-এও আজহারের নাম রয়েছে।

    মাসুদ আজহার (India)

    ভারতের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ান্টেড মাসুদ আজহার। ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাঠমান্ডু থেকে কান্দাহারগামী আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাইয়ের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত আজহার-সহ তিন জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছিল।

    পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করে আসছে, আজহারের বর্তমান অবস্থান তাদের জানা নেই এবং সে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও আজহার আফগানিস্তানে রয়েছে বলে পাকিস্তানের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাঁও হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেই হামলায় আজহারের কয়েকজন আত্মীয় নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    এফএটিএফের চাপ

    এদিকে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও আর্থিক অপরাধ দমনের নজরদারি সংস্থা এফএটিএফের চাপের মধ্যেই পাকিস্তানের এই ঘোষণা সামনে এসেছে। আগামী মাসে বৈঠকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের বর্ধিত নজরদারির ‘ধূসর তালিকা’য় ছিল। বিশেষ করে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আন্তর্জাতিক চাপের পর পাকিস্তান ওই দুই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল (India)।

    ২০১৯ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাসুদ আজহারকে (Masood Azhar) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। চিন আপত্তি তুলে নেওয়ার পরেই পরিষ্কার হয়েছিল তার তালিকাভুক্তির পথ।

     

  • BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্যপদের (BRICS Membership) জন্য ২০২৩ সালেই আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন বছর পরেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির এই জোটে জায়গা হয়নি ইসলামাবাদের। মূলত ভারতের আপত্তিই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস পরবর্তী সময়ে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে জোটটি ‘ব্রিকস+’-এ পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৯টি দেশ ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও।

    কেন ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পিছনে অন্যতম কারণ দেশের অর্থনৈতিক সংকট। পাকিস্তান ইকনমিক সার্ভে অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার বা আইএমএফ-এর উপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প অর্থের উৎস তৈরি করাও ইসলামাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তান ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্ব কিনেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ।

    ব্রিকস-এ ভারতের বাণিজ্যও বেড়েছে

    ব্রিকসের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জোটটির বৈশ্বিক গুরুত্বও বেড়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা PPP-এর ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের অংশীদার এই গোষ্ঠী। ব্রিকস দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। জোটের সদস্য দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে হয়েছে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৩ সালেই সদস্যপদের আবেদন

    ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আবেদন করেছে। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ ব্রিকসকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনকে তাদের ‘ইনক্লুসিভ মাল্টিল্যাটারালিজম’-এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    রাশিয়া-চিনের সমর্থন, তবুও থমকে পাকিস্তানের সদস্যপদ

    পাকিস্তানের রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মহম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায়ের জন্য যোগাযোগ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও এখনও সদস্যপদ মেলেনি। কারণ ব্রিকসে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির নীতি কার্যকর। অর্থাৎ নতুন কোনও দেশকে সদস্য করতে হলে সমস্ত পূর্ণ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরোধিতাই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদিন নয়াদিল্লি পাকিস্তানের সদস্যপদের বিরোধিতা করবে, ততদিন সর্বসম্মতির নিয়মে ইসলামাবাদের আবেদন কার্যত আটকে থাকবে। ফলে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ভারতের আপত্তি কাটিয়ে ইসলামাবাদ শেষ পর্যন্ত এই জোটে জায়গা করে নিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

     

     

     

     

LinkedIn
Share