Tag: pakistan

pakistan

  • Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে (Lahore Street Name Restoration)। দেশভাগের আট দশক পর ইসলামি রাষ্ট্রে কদর বেড়েছে হিন্দু-জৈন নামের! অমৃতসর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে সম্প্রতি একাধিক ঐতিহাসিক এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একদা হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরে কমপক্ষে ন’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় ও এলাকার দেশভাগের আগে যে নাম ছিল,সেই নামই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। কয়েক দশক আগে ইসলামিকরণ নীতির সময়ে বদলে দেওয়া পুরোনো হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ইসলামপুরা’-র নাম আবার ‘কৃষ্ণনগর’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম ‘জৈন মন্দির চক’ করা হয়েছে।

    কেন এই পরিবর্তন

    প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আসলে শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল বহুসাংস্কৃতিক শহর। হিন্দু, শিখ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতেন। সেই সময়ের বহু রাস্তা, মহল্লা, বাজার এবং চৌকের নাম সেই সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী ছিল। কিন্তু ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানে নতুন জাতীয় পরিচয় গঠনের অংশ হিসেবে বহু নাম বদলে দেওয়া হয়। এবার সেই পুরনো নামই আবার ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং লাহোরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পরিচয়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।

    ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর প্রকল্প

    এই নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আসলে আরও বড় একটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় লাহোরের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ এবং পুরনো কুস্তির আখড়াও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক, যা আগে মিন্টো পার্ক নামে পরিচিত ছিল, সেখানে ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং আখড়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেটার ইনজামাম উল হক সেখানে খেলেছেন। দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি লালা অমরনাথ-ও সেখানে অনুশীলন করতেন বলে জানা যায়। এছাড়া ঐতিহাসিক কুস্তির আখড়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তি পহেলওয়ান গামা পহেলওয়ান এবং ইমাম বক্স-এর নামও।

    সিন্ধু প্রদেশেও গৃহীত হতে পারে এই পদক্ষেপ

    এই পরিবর্তনগুলো উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই নতুন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কোনও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের বিরোধিতা গড়ে তুলতে পারেনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের মতে, পাক দিল্লি গেট-সহ লাহোরের প্রাচীর ঘেরা শহরের আটটি ফটকই পুনরুদ্ধার করা হবে। সূত্রমতে, নাম পরিবর্তন অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাকিস্তানের সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও মূল নামগুলো পুনর্বহাল করা হতে পারে।

    কার উদ্যোগে এই পরিবর্তন

    এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সমর্থনেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজও এই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। কেউ একে পাকিস্তানের অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের নতুন বিতর্ক

    এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশভাগের পর মুছে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরায় সামনে আনার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ এটি। রাস্তার নাম বদল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় — এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের স্মৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের পরিচয়ের প্রশ্নও। বহু ক্ষেত্রে সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও সাধারণ মানুষের মুখে পুরোনো নামই প্রচলিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদরা। সরকারের যুক্তি, ইউরোপের দেশগুলির মতোই পাকিস্তানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা উচিত। এর ফলে হেরিটেজ ট্যুরিজমের যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি সরকারের কোষাগারের রাজস্ব জমা পড়বে

    ইসলামপুরা টু কৃষ্ণনগর

    ‘ইসলামপুরা’ এলাকার নাম পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে। দেশভাগের আগে ওই এলাকার নাম ছিল ‘কৃষ্ণনগর’। পরে পাকিস্তানের ইসলামিক পরিচয় জোরদার করার সময়ে ওই এলাকার নাম বদলে ‘ইসলামপুরা’ করা হয়। এ বার সেই পুরোনো নামই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বাবরির রোষে ‘জৈন মন্দির চক’

    একইভাবে, ‘বাবরি মসজিদ চক’ আবার ‘জৈন মন্দির চক’ নামে পরিচিত হবে। এই ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, লাহোরে এক সময়ে একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পরে পাকিস্তানে ক্ষোভ ছড়ায় এবং প্রতিশোধের আবহে ওই জৈন মন্দির আক্রমণ ও ভাঙচুর করা হয়। পরে এলাকার নাম বদলে ‘বাবরি মসজিদ চক’ রাখা হয়েছিল। এখন সেই নাম সরিয়ে ফের ‘জৈন মন্দির চক’ নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

    শুধু এই দুই জায়গাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, ‘ধরমপুরা’, ‘রাম গলি’-র মতো এলাকা।

    একনজরে পরিবর্তিত নয়া নাম—

    ইসলামপুরা: কৃষ্ণনগর

    সুন্নাতনগর: সন্ত নগর

    মওলানা জাফর চক: লক্ষ্মী চক

    বাবরি মসজিদ চক: জৈন মন্দির চক

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    স্যর আগা খান চক: ডেভিস রোড

    আল্লামা ইকবাল রোড: জেল রোড

    ফাতিমা জিন্নাহ রোড: কুইন্স রোড

    বাগ-ই-জিন্নাহ: লরেন্স রোড

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    হামিদ নিজামী রোড — টেম্পল স্ট্রিট

    নিশতার রোড — ব্র্যান্ডরেথ রোড

    রেহমান গলি — রাম গলি

    গাজিয়াবাদ — কুমহারপুরা

    জিলানি রোড — আউটফল রোড

    শাহরাহ-ই-আবদুল হামিদ বিন বাদিস — এমপ্রেস রোড

  • Pakistan: পাকিস্তানের ১৫,০০০ শ্রমিকের পাসপোর্টে ‘জেল খাটা’ ও ‘পলাতক’ তকমা, ফেরত পাঠাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত

    Pakistan: পাকিস্তানের ১৫,০০০ শ্রমিকের পাসপোর্টে ‘জেল খাটা’ ও ‘পলাতক’ তকমা, ফেরত পাঠাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) থেকে গণহারে পাকিস্তানি শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে প্রায় ১৫,০০০ পাকিস্তানি (Pakistan) শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে জানা গিয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, এই শ্রমিকদের পাসপোর্টে ‘জেল খাটা’ (Jailed) এবং ‘পলাতক’ (Absconding)-এর মতো নেতিবাচক সিল মেরে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের অন্য কোনও দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিয়ে বিশ্বদরবারে পাকনাগরিকদের ফের আরও একবার মুখপুড়ল।

    ঘটনার নেপথ্যে আসিম মুনিরের ইরান নীতি(Pakistan)?

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গণ-ডিপোর্টেশনের পেছনে শুধুমাত্র প্রশাসনিক কারণ নেই, বরং এর গভীরে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক ইরান নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের (UAE) দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এর অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    শ্রমিকদের ওপর প্রভাব

    যেসব শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশেরই অভিযোগ যে তাঁদের কোনও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাসপোর্টে ‘পলাতক’ বা ‘অপরাধী’ তকমা লাগিয়ে দেওয়ার ফলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পাকিস্তানের (Pakistan) বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস হল রেমিট্যান্স, আর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা এই অর্থ। এবার সেই অর্থ কমে গেলে পাকিস্তানের (UAE) নড়বড়ে অর্থনীতি আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।

    নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা

    সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যেভাবে ইরানের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে, তার পাল্টা জবাব হিসেবেই আমিরাত এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের (UAE) দেশগুলো এখন পাকিস্তানের (Pakistan) ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের বিদেশ নীতি পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।

    পাকিস্তান সরকারের নীরবতা

    এই বিশাল সংকটের মুখেও পাকিস্তান (Pakistan) সরকার বা সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও জোরালো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। লক্ষাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ যখন অন্ধকারে, তখন সেনাপ্রধানের কৌশলগত অবস্থান পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের রুটিরুজিতে টান দিচ্ছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল (UAE)। এই পরিস্থিতি পাকিস্তান ও আরব বিশ্বের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছ।

  • Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের (Pakistan)! বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী আচরণ পাকিস্তানের মূল বৈশিষ্ট্য (US Attacks)। শাহবাজ শরিফের দেশের প্রকৃত চরিত্রের আর একটি উদাহরণ হল পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। এই একই সময়ে তারা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকাও পালন করছিল। ১১ মে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের (CBS News) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানগুলিকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে তাদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

    পাকিস্তানের দ্বিচারিতা (Pakistan)

    রিপোর্টে বলা হয়, “এই সব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমানসম্পদকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল, যদিও একই সময়ে আধিকারিকরা প্রকাশ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই ইরান তাদের সামরিক বিমান, যার মধ্যে একটি আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও ছিল, পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এই সব বিমান রাখা হয় পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই বিমানবন্দর (US Attacks)।

    বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই। এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ১২ মে এক বিবৃতিতে রিপোর্টটিকে ‘ভুল ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, শান্তি-আলোচনা চলাকালীনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কিছু ইরানি ও মার্কিন বিমান পাকিস্তানে এসেছিল। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানি বিমানগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বিমানগুলি যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানে আসে। তবে এগুলির সঙ্গে কোনও সামরিক পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর (US Attacks)।”

    মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য

    মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত (Pakistan)। তিনি বলেন, “যদি এই খবর ঠিক হয়, তাহলে ইরান, আমেরিকা ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” বস্তুত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের শিকার। একদিকে পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আমেরিকার স্বার্থকেই।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, পাকিস্তান নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকা প্রথমে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। এর মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও ছিল। যদিও পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ, পাকিস্তান এই তথ্য গোপন করেছে (Pakistan)।

    শরিফের করা খসড়া সংস্করণ ফাঁস অনলাইনে

    এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের করা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের খসড়া সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয় (US Attacks)। সেখানে লেখা ছিল ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্সে লেখা মেসেজ’ (Draft – Pakistan’s PM Message on X)। পরে অবশ্য সংশোধিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। যদিও ততক্ষণে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শান্তি আলোচনা চলার সময়ই ইজরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ইজরায়েলকে তিনি ‘অভিশাপ’, ‘মানবতার ক্যানসার’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

    সমালোচকদের বক্তব্য

    এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান ইরানের জন্য ছ’টি বাণিজ্যপথ খুলে দেয়। এর ফলে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমেরিকার চাপ। সমালোচকদের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে (Pakistan)। একদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। ফলে পাকিস্তানকে অনেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নয়, বরং ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেই মনে করছেন (US Attacks)।

     

  • Pakistan: মধ্যরাতে দুঃস্বপ্ন পাকিস্তানে! লিটার প্রতি ৪১৫ টাকা ছুঁল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, দিশেহারা মানুষ

    Pakistan: মধ্যরাতে দুঃস্বপ্ন পাকিস্তানে! লিটার প্রতি ৪১৫ টাকা ছুঁল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, দিশেহারা মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের (Pakistan) সাধারণ মানুষ। মধ্যরাতে যেন ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্ন ধেয়ে এল জঙ্গিরাষ্ট্রে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি ঘোষণা করায় দেশজুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। নয়া ঘোষণা অনুযায়ী, পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের (Petrol Diesel Price) দাম লিটার প্রতি ৪১৫ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে।

    রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি

    পাক সরকারের (Pakistan) এই সিদ্ধান্তে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পেট্রোলের পাশাপাশি ডিজেল এবং কেরোসিন তেলের (Petrol Diesel Price) দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং আইএমএফের (IMF) কঠিন শর্ত পূরণ করতেই পাক সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে খবর।

    জনজীবনে প্রভাব

    রাতারাতি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানের (Pakistan) পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার জোগাড়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপে আগে থেকেই পর্যুদস্ত পাক নাগরিকদের ওপর এই নতুন বোঝা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। অনেক জায়গায় পেট্রোল (Petrol Diesel Price) পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে, ক্ষুব্ধ নাগরিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

    অর্থনৈতিক সঙ্কট ও আইএমএফের শর্ত

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএমএফের থেকে বেলআউট প্যাকেজ বা আর্থিক সহায়তা (Pakistan) পাওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারকে ভর্তুকি কমাতে এবং কর বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পকেটে। তেলের দাম (Petrol Diesel Price) ৪০০ টাকার গণ্ডি পার করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির জীবনযাত্রার মান তলানিতে ঠেকার জোগাড়। এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলিও সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই পরিস্থিতি আরও উসকে দিতে পারে পাকিস্তানে গণ-অসন্তোষ এবং অস্থিরতাকে।

  • Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) ফের সক্রিয় অজ্ঞাত হামলাকারীদের রহস্যময় নেটওয়ার্ক। রহস্যমৃত্যু আরও এক ভারতশত্রুর। দিল্লির হিট লিস্টে থাকা হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সাজ্জাদ আহমেদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কোনও অজ্ঞাত আততায়ীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে এই জঙ্গির। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরি এই জঙ্গি উপত্যকায় একাধিক সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড। তার মৃত্যু পাকিস্তানে সক্রিয় ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্কের জন্য বিরাট ধাক্কা।

    অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেটেড হামলায় লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। এবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হিজবুল মুজাহিদিনের এক কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ। এ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন মৃত্যুর (Death) কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর। অনেকে মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে অভ্যন্তরীণ কোনও সংঘাত। সাজ্জাদের প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, সাজ্জাদ আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, আততায়ীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    কে এই সাজ্জাদ

    সাজ্জাদ আহমেদ কাশ্মীরের বারামুলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসে সাজ্জাদ। এরপর ধীরে ধীরে হিজবুল মুজাহিদিনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে সে সংগঠনে কমান্ডার স্তরের দায়িত্বে ছিল। কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় সাজ্জাদ। সেখানে বসেই ভারতীয় বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নামে। সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ভারতের নানা প্রান্তে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা ছিল এই জঙ্গির। দেশের গোয়েন্দা বিভাগের হিট লিস্টে দীর্ঘদিন ধরে নাম ছিল এই জঙ্গির। ভারতে সন্ত্রাসী হামলাগুলির অন্যতম অপারেটর হিসেবে গণ্য করা হত এই জঙ্গিকে। তার মৃত্যু দেশের নিরাপত্তা বিভাগের জন্য নিশ্চিতভাবে স্বস্তির।

    ভারত-বিরোধীদের মৃত্যু

    সাম্প্রতিক সময়ে পাকভূমে অজ্ঞাত বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হয়েছে একাধিক ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসীর। আড়ালে থাকা এই হামলাকারীদের হিরো হিসেবে গণ্য করছে ভারতের জনগণ। সাজ্জাদের হত্যাও এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন গত কয়েকদিনে পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন বড় জঙ্গি নেতা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছে।

    শেখ ইউসুফ আফ্রিদির হত্যা: সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত হামলায় মৃত্যু হয়েছিল লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদির। জানা যায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে লস্করের সংগঠনের প্রধান ছিল আফ্রিদি। মূলত এখান থেকে মুজাহিদদের (আত্মঘাতী জঙ্গি) প্রশিক্ষণ দিয়ে কাশ্মীর-সহ অন্যান্য জায়গায় পাঠানোর দায়িত্ব ছিল এর উপরেই। বহুবার হাফিজ সইদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা এই আফ্রিদিকে।

    সালমান আজহারের মৃত্যু: দু’দিন আগে জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম সালমান আজহারের মৃত্যুও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। সালমান আজহারকে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। তাকে বাহাওয়ালপুরের সুবহানআল্লাহ মরকজে কবর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সাল থেকে চলছে রহস্যজনক হত্যার ধারা

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক জঙ্গিকে নিশানা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে মারা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ঘটনাগুলি নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খুব কমই সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তের অবস্থাও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে লস্কর এবং জইশের মতো সংগঠনের হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের পঞ্জাব, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এলাকায় অনেক ট্রেনিং ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, যেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আসলে পাকিস্তানে হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। তাদের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত হলে আরও সমস্যায় পড়তে পারে পাক সরকার। তাই পুরোটাই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা হয়।

  • Pakistan: তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান, বিশ্বের ১০টি ‘ক্ষুধার্ত’ দেশের তালিকায় রয়েছে শরিফের দেশও

    Pakistan: তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান, বিশ্বের ১০টি ‘ক্ষুধার্ত’ দেশের তালিকায় রয়েছে শরিফের দেশও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। বিশ্বের ১০টি ‘ক্ষুধার্ত’ দেশের তালিকায় নাম রয়েছে শাহবাজ শরিফের দেশের। ২০২৬ সালের গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস (Global Report on Food Crises)-এ পাকিস্তানকে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো, মায়ানমার, নাইজিরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের সঙ্গে তীব্র ক্ষুধার প্রধান কেন্দ্রগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে খাদ্য সঙ্কট (Pakistan)

    পাক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ২০২৫ সালে বিশ্বের সেই ১০টি দেশের মধ্যে ছিল যেখানে সবচেয়ে বড় খাদ্য সঙ্কট দেখা গিয়েছে। সেখানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৯৩ লাখ মানুষ “ক্রাইসিস” অবস্থায় এবং ১৭ লাখ মানুষ “এমার্জেন্সি” অবস্থায় ছিল, যা দুর্ভিক্ষের ঠিক আগের সবচেয়ে গুরুতর স্তরগুলির মধ্যে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) নামের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি অনুযায়ী, খাদ্য সঙ্কট এমন এক পরিস্থিতি যেখানে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তখন ঘটে যখন খাদ্যে প্রবেশাধিকার এতটাই সীমিত হয়ে যায় যে, তা আদতে হয়ে দাঁড়ায় মানুষের বেঁচে থাকার পক্ষে হুমকি স্বরূপ।

    খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম কারণ চরম আবহাওয়া। ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ফলে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল, যা জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাকিস্তানে ভারী মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কৃষিজমি এবং পরিকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।” পুষ্টি বিশ্লেষণেও পাকিস্তানের নাম এসেছে, যেখানে বালুচিস্তান, সিন্ধ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া উদ্বেগের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জন্য আনুষ্ঠানিক তীব্রতা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত সাম্প্রতিক তথ্য না থাকায় পাকিস্তানকে “নো সেভেরিটি ডেটা” (no severity data) তালিকায় রাখা হয়েছে।

    মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছতে পারে ৬ শতাংশে

    পাকিস্তানে অপুষ্টির ঝুঁকির কারণ বিশ্লেষণেও রয়েছে, যেখানে খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জল এবং স্যানিটেশন এবং রোগব্যাধি সম্পর্কিত দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যা পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি দেশটির সঙ্কটের গভীরতা এবং তথ্য সংগ্রহ বিস্তারের প্রতিফলন। বিশ্লেষণের এরিয়া ২০২৪ সালের ৪৩টি গ্রামীণ জেলা থেকে ২০২৫ সালে ৬৮টি জেলায় বাড়ানো হয়েছে। এতে বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং সিন্ধের এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত পাকিস্তানের জনসংখ্যার হার ১৬ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছে ওই তালিকায়।

  • Lashkar Commander Shot Dead: পাকিস্তানে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলায় খতম লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার

    Lashkar Commander Shot Dead: পাকিস্তানে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলায় খতম লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:পাকিস্তানের মাটিতে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলা। এবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রহস্যজনক আততায়ীর গুলিতে খুন হল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদি (Sheikh Yousuf Afridi)। মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং লস্কর জঙ্গি সংগঠনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ইউসুফকে দীর্ঘ বেশ কয়েকদিন ধরেই টার্গেটে (Lashkar Commander Died) রাখা হয়েছিল, বলে খবর।

    ছক কষে কীভাবে গুপ্তহত্যা

    প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। আত্মরক্ষার কোনও সুযোগই পায়নি সে। গুলির আওয়াজ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পাক নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত গুপ্তহত্যা। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন পাক তদন্তকারীরা। এই মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    টার্গেট লস্করের শীর্ষ নেতারা

    বিগত কয়েক বছর ধরে একেবারে বেছে বেছে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্করের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যা করছে দুষ্কৃতীরা। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাফিজ সইদের শ্যালক তথা লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মৌলানা কাশিফ আলিও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রে খবর, শেখ ইউসুফ আফ্রিদি দীর্ঘদিন ধরে লস্করের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাথা ছিল। পাকিস্তানে গত এক বছরে একাধিক শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতার রহস্যমৃত্যু ঘটেছে। শেখ ইউসুফ আফ্রিদি দীর্ঘদিন ধরে লস্কর প্রধানের অনুগামী ছিল। পাঠান অধ্যুষিত খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে মুজাহিদকে প্রস্তুত করার কাজ করত সে। এখান থেকে জঙ্গিদের দলে নিয়ে কাশ্মীর এবং অন্যান্য জায়গায় পাঠাত আফ্রিদি। লস্করের খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রধান হিসাবে বিবেচনা করা হত এই আফ্রিদিকে। হফিজ সইদের সঙ্গে একাধিকবার প্রকাশ্যে হাজির হয়েছে আফ্রিদি। এহেন লস্কর কমান্ডারের মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি অটোতে করে দুই বন্দুকধারী রাস্তায় নেমে একটি সাদা এসইউভি গাড়ির ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং তারপর তারা ফের সেই অটোতে চড়ে পালিয়ে যায়। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম

    ভারতবিরোধী জঙ্গি-নিধন!

    সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানে মাঝেমাঝেই অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ভারতবিরোধী জঙ্গিদের খতম করে চলেছে। এই সব জঙ্গি নেতাদের জামাই আদর করে রেখেছিল পাকিস্তানি সেনা। আর তাদের মৃত্যুতে বারংবার ইসলামাবাদের কান্নাকাটি দেখা গিয়েছে। স্বভাবতই, প্রতিবার এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটার পরই পাকিস্তানের তরফ থেকে ভারতের দিকে আঙুল তোলা হয়। যদিও আজও পর্যন্ত একটি ঘটনাতেও ভারতের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাকিস্তান দিতে পারেনি। ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, তারা কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে না বা কোনও মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়।

  • Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) গিয়ে ইরানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূতেরা। অন্তত এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন।

    ট্রাম্পের দাবি (Donald Trump)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, দু’মাসের সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, ‘না, তোমরা সেখানে যাওয়ার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নেবে না। আমাদের হাতে সব কার্ড আছে। তারা চাইলে যে কোনও সময় আমাদের ফোন করতে পারে। কিন্তু তোমরা আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নিয়ে গিয়ে বসে বসে অর্থহীন আলোচনা করবে না।’”

    আরাঘচির বক্তব্য

    এদিকে, আরাঘচি ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ ছেড়ে গিয়েছেন। এটি ছিল তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম গন্তব্য। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা, ওমান এবং রাশিয়ায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি প্রেস টিভি জানিয়েছে, তিনি শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে আরাঘচি বলেন, তিনি পাকিস্তানি আধিকারিকদের সঙ্গে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে। তিনি এও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতিতে আন্তরিক কিনা, তা এখনও দেখা বাকি (Donald Trump)।”

    ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ওমান সফর শেষে এবং রাশিয়ায় যাওয়ার আগে আরাঘচি ফের পাকিস্তান সফর করতে পারেন (Pakistan)। বিদেশমন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তার প্রতিনিধিদলের একটি অংশ তেহরানে ফিরে গিয়েছে যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে। তারা রবিবার রাতে ফের ইসলামাবাদে ফিরবে। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে যে কোনও আলোচনা ফোনের মাধ্যমে হতে পারে। তিনি লেখেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!!!” তাঁর আরও দাবি, ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা কেউ জানে না এবং সেখানে চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা চলছে।

    হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

    বিশ্লেষকদের মতে, “সব কার্ড আমাদের হাতে” কথাটি সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং অঞ্চলে ৫০,০০০-এর বেশি সেনার উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে, যারা প্রয়োজনে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত (Donald Trump)। এদিকে, এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা চলছে, তার কারণে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস শনিবার জানিয়েছে, তারা এই জলপথে তাদের অবরোধ এখনই তুলে নিতে চায় না। যদিও এটি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে (Pakistan)। ট্রাম্প বলেন, “আমার দূতদের সফর বাতিল মানেই যুদ্ধ ফের শুরু হবে না। আমরা এখনও সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করিনি।”

    ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আরাঘচি শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকটে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ওমানি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি রাশিয়ায় যাবেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করেছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল (Donald Trump)।

     

  • Amir Hamza Shot: লাহোরে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা লস্করের সহ প্রতিষ্ঠাতা হামজা

    Amir Hamza Shot: লাহোরে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা লস্করের সহ প্রতিষ্ঠাতা হামজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা (Amir Hamza Shot in Lahore)। অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। লাহোরে একটি খবরের চ্যানেলের দফতরের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয় হামজা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আততায়ীদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। লাহোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হামজাকে। হাফিজ সইদের সঙ্গে মিলে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠা করে হামজা। একাধিক নাশকতায় নাম জড়িয়েছে তার। ভারতে জঙ্গি হামলাতেও তার সংযোগ পাওয়া যায়।

    কে এই আমির হামজা?

    ভারতের কাছে আমির হামজা (Amir Hamza)এক পরিচিত নাম। ১৯৮৭ সালে হাফিজ সইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সে লস্কর-ই-তৈবা তৈরি করেছিল। ভারতের উপর একাধিক হামলার নেপথ্যেও এই হামজা। এই কুখ্যাত জঙ্গির রয়েছে আফগান যোগও। আশির দশকে আফগান মুজাহিদিনদের দলে লড়াই করেছিল হামজা। ১৯৭৯ সালে আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে হাতেখড়ি হয় তার। পরে পাকিস্তানে ফিরে এসে সন্ত্রাসবাদে মগজ ধোলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে লস্করের প্রকাশনা ‘মাজাল্লা আল-দাওয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিল। ২০০২ সালে চরমপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে দিতে ‘কাফিলা দাওয়াত অর শাহাদাত’ নামে একটি বইও লিখেছিল সে। আমেরিকার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় হামজার নাম রয়েছে। লস্করের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং নতুন জঙ্গি নিয়োগের ক্ষেত্রে সে ছিল মাস্টারমাইন্ড। ২০১২ সালে আমেরিকা হামজাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাকে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    নতুন জঙ্গি গোষ্ঠী ও কাশ্মীর যোগ

    ২০১৮ সালে যখন পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে, তখন লোকদেখানো হিসেবে লস্কর ও তার শাখা সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সময় লস্কর থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে আমির হামজা ‘জইশ-ই-মনকাফা’ (Jaish-e-Manqafa) নামে একটি নতুন দল গড়ে তোলে। অভিযোগ, এই দলের মাধ্যমে সে কাশ্মীর উপত্যকায় নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, লস্করের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে হামজার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সে অবাধে পাকিস্তানে ঘুরে বেড়াত।

    পাকিস্তানে সক্রিয় অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা

    পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালার বাসিন্দা হামজা ২০০০ সালের আশপাশে ভারতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে যে হামলা হয়, তাতে তার হাত ছিল। এর আগে, ২০২৫ সালেও হামজার উপর হামলা হয়। সেবার বাড়িতেই তার উপর হামলা হয় বলে জানা যায়। লস্করের আবু সইফুল্লার মৃত্যুর পর পরই ওই ঘটনা ঘটে। সইফুল্লাকেও গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে আবার ‘আননোন গানম্যানের’ প্রসঙ্গ উঠে আসছে। প্রশ্ন পাকিস্তানে আর সেটা হলে আবার খারাপ অবস্থা হবে পাকিস্তানের জঙ্গিদের। আবার কি পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে অ্যাক্টিভ হল ‘আননোন গানম্যান’? আর সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে কিন্তু ইসলামাবাদের কপালে আরও দুঃখ আছে। এর আগেও এই ‘আননোন গানম্যান’ অনেক জঙ্গিকে নিকেশ করেছে। এখন আবার সেই ট্রেন্ড চালু হতে পারে।

    কীভাবে হামজার উপর হামলা

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লাহোরে একটি নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা হামজাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। আমির হামজার ওপর এই হামলা পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর নেতৃত্বের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক ভারত-বিরোধী জঙ্গি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামজার ওপর এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বর ঘিরে রেখেছে পাক সুরক্ষা বাহিনী। হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলার শিকার হয়েছে হামজা। গত বছর মে মাসে লাহোরে তার বাসভবনের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা কুখ্যাত জঙ্গিকে গুলি করে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ওই জঙ্গির নিরাপত্তা জোরদার করে বলে জানা যায়।

    ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান! কারা চালাল গুলি? 

    পাকিস্তানে গত দুবছরে অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত বারো জন জেহাদি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এরা প্রত্যেকেই ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে। এই ঘটনায় প্রশ্ন তুলে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে। সেখানে বলা হয়, মোসাদের ধাঁচে ২০১৯ সাল থেকে মোট ২০ জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ‘র’। তবে এই অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে সাম্প্রতিক কালে বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানে একের পর এক লস্কর, জইশ বা খলিস্তানি জঙ্গিদের ওপর একই কায়দায় হামলা হয়েছে। প্রতিবারই নাম জড়িয়েছে সেই রহস্যময় ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ঘাতকদের। হামজার ওপর এই হামলা কি সেই ধারাবাহিতাকারই অঙ্গ? নাকি কোনও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।

  • BLA: বিএলএ কর্তৃক নৌ-শাখা ‘এইচএমডিএফ’ গঠনের ঘোষণা; পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের নৌকায় হামলার ভিডিও এবার প্রকাশ্যে

    BLA: বিএলএ কর্তৃক নৌ-শাখা ‘এইচএমডিএফ’ গঠনের ঘোষণা; পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের নৌকায় হামলার ভিডিও এবার প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তনের পাকসেনা বিরোধী বালুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের একটি নতুন নৌ-শাখা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘হাবিল মারি ডিফেন্স ফোর্স’ (HMDF)। এই ঘোষণার পাশাপাশি তারা পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের একটি নৌকায় হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে।

    নতুন নৌ-শাখা (BLA)

    বিএলএ-এর (BLA) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই বিশেষ শাখাটি সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে পাকিস্তানি নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের গতিবিধি (HMDF) লক্ষ্য করে কাজ করবে। বালুচিস্তানের সমুদ্র সম্পদ রক্ষা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আধিপত্য কমানোই এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য বলে তারা দাবি করেছে।

    কোস্ট গার্ডের ওপর হামলা

    বিএলএ-এর (BLA) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সমুদ্রের মাঝে পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের একটি টহলদারি নৌকায় (HMDF) অতর্কিত হামলা চালানো হচ্ছে। ভিডিওতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং নৌকায় থাকা পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

    ভিডিওর সত্যতা

    প্রতিবাদী বিএলএ গোষ্ঠীর তরফে দাবি করেছে যে, এই হামলাটি তাদের নবগঠিত নৌ-শাখা এইচএমডিএফ-এর দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই ভিডিও বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    নিরাপত্তা উদ্বেগ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএলএ-এর (BLA)  এই নতুন নৌ-শাখা গঠন পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে করাচি এবং গোয়াদর বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বালুচিস্তান অঞ্চলে গত কয়েক দশকে বিদ্রোহ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তীব্রতর হয়েছে। বিএলএ প্রায়শই পাকিস্তানের পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার দায় স্বীকার করে থাকে। এবারের নৌ-শাখা (HMDF) গঠনের ঘোষণা এই লড়াইকে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

LinkedIn
Share