Pakistan: বালোচ মানবাধিকার নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানের আওড়ানো অসার মানবাধিকার বুলি নিয়ে নয়া বিতর্ক

pakistan-jails-mahrang-baloch-after-criticizing-india-on-minority-rights

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খসে পড়ল পাকিস্তানের (Pakistan) ভন্ডামির মুখোশ! মানবাধিকার নিয়ে ভারতের সমালোচনা করার কয়েক দিনের মধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল পাকিস্তানে বালোচ অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহরাং বালোচ (Mahrang Baloch) এবং বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র নেতা সিবঘাতুল্লাহ শাহকে। পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই সাজা দিয়েছে। ২০২৪ সালে বালোচিস্তানের গওয়াদরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় মাহরাংদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

পাক আদালতের রায় (Pakistan)

পাক আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই সে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ঐতিহাসিক মুসলিম কাঠামো রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছিলেন। তার পরপরই বালোচ মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজা পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলল বলেই মত পর্যবেক্ষকের। মামলার তদন্তে নেমে পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিওয়াইসির বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে উত্তেজিত জনতা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়। পরে ওই বাহিনীর সদস্য শাব্বির বালোচকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, জনতাকে সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন মাহরাং ও সিবঘাতুল্লাহ।

বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ!

যদিও, শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই দুই বালোচ নেতা। তাঁদের সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং (Pakistan) বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ করতেই এই মামলা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বালোচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, এটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মামলা নয়, একজন নিরাপত্তা কর্মীর হত্যাকাণ্ডের বিচার। জানা গিয়েছে, প্রথমে গওয়াদরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, নিরাপত্তার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে মামলাটিকে স্থানান্তরিত করা হয় কোয়েটার একটি কারাগারে। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

বালোচ লিবারেশন আর্মি

পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র ঘনিষ্ঠ বা তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করে। বিওয়াইসি অবশ্য বারবার সেই অভিযোগ খারিজ করে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলনের সংগঠন বলে দাবি করেছে। উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ বালোচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। বহু দশক ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে (Mahrang Baloch) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। স্থানীয়দের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা এবং সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি (Pakistan) জানিয়ে আসছে।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share