Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের প্রভাব পড়তে পারে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে। নির্বাচনী ধাক্কার পর ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে উদ্যোগী হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত চাপ সৃষ্টির কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব প্রমাণ করতে চাইবেন ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যেই ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি তাঁর কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে পরিবর্তন

    মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন ভোটাররা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রদেশের গভর্নর পদেও জয় পেয়েছে বিরোধী দল। টেক্সাস, জর্জিয়া ও আইওয়ার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়ের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের দল। অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, নির্বাচনের ফলাফল আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে বড় পরিবর্তন আনবে না। কারণ, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, দেশীয় উৎপাদন এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর কথায়, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় ট্রাম্পের এখন দ্রুত সাফল্য প্রয়োজন। সেই কারণে ভারতের উপর বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার চাপ বাড়তে পারে। আমেরিকার কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য একাধিক ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারেন বলে মনে করছেন তিনি।

    ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকার বাজার

    অন্যদিকে, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (FIEO)-এর সভাপতি এস সি রালহানের বক্তব্য, ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আগামী কয়েক মাসে মার্কিন শুল্কনীতি এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেটাই ভারতীয় রফতানিকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির (MSME) জন্য স্থিতিশীল বাণিজ্যিক পরিবেশ প্রয়োজন। তবেই তারা নির্ভরযোগ্যভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ এবং আগাম রফতানির পরিকল্পনা করতে পারবে। জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরিত ভানসালিও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, হিরে ও গয়না রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকা ভারতের অন্যতম প্রধান বাজার। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন।

    ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

    ভানসালির আশা, মার্কিন কংগ্রেসের গঠন পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রভাব পড়লেও প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্য, এর আগে যে শুল্কগুলি আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন করে নয়, বরং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কার্যকর হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ভারতীয় রফতানিকারীরা দ্রুত এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমবে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়বে এবং দুই দেশের রত্ন ও গয়না শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের জন্য একটি কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। তবে আমেরিকার পরিবর্তিত শুল্ক পরিস্থিতির কারণে চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় পণ্যের উপর কম শুল্ক আরোপের দাবি জানাচ্ছে নয়াদিল্লি। ফলে নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের।

  • Nithya Raman: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

    Nithya Raman: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন (Nithya Raman)। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার নজির গড়লেন কেরলে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক। তাঁর কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন বিদায়ী মেয়র ক্যারেন বাস। পাশাপাশি নতুন মেয়রের (Los Angeles Mayor) হাতে দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    রাজনৈতিক জীবনে উত্থান

    লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন নিত্যা (Nithya Raman)। ২০২০ সালে প্রথমবার কাউন্সিলের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০২৪ সালে ফের নির্বাচিত হন। এবার সরাসরি মেয়র পদে জয়ী হয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিত্যা লেখেন, “লস অ্যাঞ্জেলেস, (Los Angeles Mayor) আপনাদের পরবর্তী মেয়র হতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত।”

    কত ভোটের ব্যবধানে জয়ী

    লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সর্বশেষ নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটের মধ্যে নিত্যা পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৭৭২টি ভোট। যা মোট গণনা হওয়া ভোটের ৫২.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ক্যারেন বাস পেয়েছেন ৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৫১৯টি ভোট, অর্থাৎ ৪৭.৩০ শতাংশ। ফলে ৪৭ হাজার ২৫৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন নিত্যা। এর আগে দিনের প্রথম দিকে তাঁর ব্যবধান ছিল ৩৪ হাজার ৬৫৪ ভোট। যদিও মঙ্গলবারের নির্বাচনে পড়া সমস্ত ব্যালটের গণনা এখনও শেষ হয়নি। তাই এই পরিসংখ্যান আপাতত অস্থায়ী।

    পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস

    নিত্যার সঙ্গে কথা বলার পরেই পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস। এক্স-এ তিনি লেখেন, কাউন্সিল সদস্য নিত্যা রমনকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বিদায়ী মেয়র তাঁর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান এবং শহরের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান। অন্যদিকে, নিত্যাও ক্যারেন বাসের সঙ্গে কথা বলে তাঁর নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের জনসেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের

    নিত্যার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের আবাসন সমস্যা, গৃহহীন মানুষের দুর্দশা এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে রাস্তার আলো রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তার গর্ত মেরামত এবং পুলিশি ব্যবস্থায় সংস্কারের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি দেন তিনি। পড়াশোনা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন।

    প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি

    রাজনীতিতে আসার আগে গৃহহীন মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন নিত্যা। পাশাপাশি গৃহহীনদের সহায়তায় কাজ করা ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ নামে একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে প্রথম এশীয়-আমেরিকান মহিলা এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হওয়ার নজির গড়েছিলেন নিত্যা। চার বছর পর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরে এবার মেয়র পদে জয়। কেরল থেকে আমেরিকা, আর সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রশাসনের শীর্ষ পদ—নিত্যা রমনের রাজনৈতিক যাত্রায় যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের জয়জয়কার

    নিত্যা রমনের জয়ের ফলে আমেরিকার দুটি বৃহত্তম শহরের শাসনভার এখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের হাতে। অন্য শহরটি হল নিউইয়র্ক। গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জোহরান মামদানি। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের প্রবল প্রচার সত্ত্বেও নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের কাছে হতাশাজনক হলেও ভারতীয়দের পক্ষে অন্য ভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিত্যা এবং মামদানি দু’জনেই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার প্রার্থী। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস হাতছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নির্বাচনে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকরা। কেউ চিকিৎসক, কেউ আইনজীবী, কেউ বা আবার প্রশাসনিক কর্তা। আমেরিকার মাটিতে জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা হলেও তাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতে। সেই তালিকাতেই নতুন নাম নিত‌্যার।

    নির্বাচনে বাজিমাত অরুণার

    শুধু নিত্যাই নয়, মার্কিন মুলুকে নির্বাচনে বাজিমাত করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাদের মধ্যে রয়েছেন অরুণা মিলারও। ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর তিনি হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন আমেরিকায়। মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা। ১৯৮৯ সালে অরুণা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি সরকারি চাকরি করেন। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে যোগ দেন অরুণা। ২০১০ সালে মেরিল্যান্ড হাউস অফ ডেলিগেটসে দায়িত্ব পান তিনি। ২০২২ সালে প্রথমবার অরুণা মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন (ডেমোক্র্যাটি শিবির)। এই নির্বাচনে ফের জয় পেলেন তিনি।

    নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া

    এছাড়াও আমেরিকার এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন পেশায় শিক্ষাবিদ পিয়া। এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর জন্ম ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে। তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষক হিসাবে। পরে নিউ ইয়র্কের হারলেমে একটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ হন পিয়া।

  • JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কি ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের? ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ভ্যান্সের একটি দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তাঁর বক্তব্যে কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকেই নির্বাচনে দলের হারের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন কেন

    গত বুধবার, ৪ নভেম্বর, নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভ্যান্স লেখেন, ২০২৪ সালে যাঁরা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে দলের অন্দরে অনেক বিতর্ক ও মতবিরোধ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, নির্বাচনে হারের আসল কারণ প্রায় সকলের কাছেই স্পষ্ট। এক রাজনৈতিক সমীক্ষকের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ভ্যান্স জানান, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া বহু মানুষ এবার রিপাবলিকানদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কেন তাঁরা আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফিরতে পারেন, তা জানতে চাওয়া হলে চারটি প্রধান বিষয় উঠে আসে।

    কেন আবার ভোট দেবেন রিপাবলিকানদের

    ভ্যান্সের পোস্ট অনুযায়ী, সেই চারটি দাবি হল—প্রথমত, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া। তৃতীয়ত, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং চতুর্থত, ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা। এর পরেই সরাসরি ভ্যান্সের মন্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হল যুদ্ধ। তাঁর এই বক্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে মার্কিন রাজনৈতিক মহল। ভ্যান্সের পোস্টে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি এবং দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একাধিক পরোক্ষ সমালোচনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের জন্য এমন বড় নির্বাচনী ধাক্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইস প্রেসিডেন্টের এই ধরনের মন্তব্যকে যথেষ্ট নজিরবিহীন।

    ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত

    যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও বিরোধের কথা বলেননি ভ্যান্স। বরং নিজের পোস্ট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ভ্যান্সের মনোভাব তিনি জানেন এবং তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট ভালো বলেই মনে হয়েছে। তবে এই পোস্টের মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সিএনএন-এর সাংবাদিক স্টিফেন কলিনসনের মতে, মঙ্গলবার থেকেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে বলে রাজনৈতিক মহলে মশকরা চলছিল। কিন্তু ভ্যান্সের এই মন্তব্য কার্যত সেই নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করে দিল।

  • Pakistan: ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়ানোর ছক কষছে পাকিস্তান-তুরস্ক! সতর্কবার্তা মার্কিন বিশ্লেষকের

    Pakistan: ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়ানোর ছক কষছে পাকিস্তান-তুরস্ক! সতর্কবার্তা মার্কিন বিশ্লেষকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। রাজনৈতিক প্রচার, সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনকে হাতিয়ার করে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এমনই (India Civil War Warning) আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ানে’ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে, কাশ্মীর প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অবস্থানের পাশাপাশি এবার ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সমীকরণকেও নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে ইসলামাবাদ (Pakistan) ও আঙ্কারা (তুরস্কের রাজধানী)। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংহতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

    ‘কুড ইন্ডিয়া ফেস আ সেক্টারিয়ান সিভিল ওয়ার?’ শীর্ষক ওই নিবন্ধটি ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। লেখক মাইকেল রুবিন ওয়াশিংটন ডিসির মিডল ইস্ট ফোরামের নীতি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক এবং উসানাস ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ফেলো। তাঁর দাবি, সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান ও তুরস্ক রাজনৈতিক বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে এমন একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যা ভারতের বহুধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক পরিচয়কে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

    রুবিনের মতে, ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় অসন্তোষকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এর ফলে বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় পরিস্থিতিকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এখনও দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

    দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রচার থেকে নতুন রাজনৈতিক বয়ান (Pakistan)

    নিবন্ধে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অ-মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে মুসলিমদের বসবাসের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

    ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে মুহাম্মদ আলি জিন্নার পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবির বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে ভারত শুধুমাত্র হিন্দুদের দেশ হয়ে উঠতে পারে।

    ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মুখেও একই ধরনের বক্তব্য শোনা গিয়েছিল। পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, জীবনযাপনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে এবং তারা দু’টি পৃথক জাতি।

    রুবিনের মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মধ্যে বৃহত্তর ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগী তুরস্কও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একই ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্য

    ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের একাধিক মন্তব্যকে এই প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিন।

    ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকে পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত একটি আলোচনামঞ্চে ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ তোলেন এরদোয়ান।

    এর পাঁচ মাস পর নিজের রাজনৈতিক দলের তরুণ সদস্যদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে হিন্দুদের হাতে মুসলিমরা গণহত্যার শিকার হচ্ছেন (Pakistan) বলে তাঁর অভিযোগ।

    রুবিনের ব্যাখ্যা, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে তুরস্ক ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত বয়ান তুলে ধরে নিজেদের ধর্মীয় রাজনৈতিক বিদেশনীতি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে আঙ্কারা।

    ভারতবিরোধী প্রচারে তুরস্ক-পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম

    ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবং পাকিস্তানের বিশিষ্ট ভাষ্যকারদের ভূমিকারও উল্লেখ করেছেন রুবিন।

    বিশেষভাবে উঠে এসেছে তুরস্কের সংবাদপত্র ‘ইয়েনি সাফাকে’র নাম। সংবাদপত্রটিকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের রাজনৈতিক শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহিম কারাগুল একটি নিবন্ধে দাবি করেন, চিন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন করলে ভারত ভেঙে যেতে পারে। ভারতকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি মুঘল, সেলজুক এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

    ৮ মে ওই সংবাদপত্রে পাকিস্তানি ভাষ্যকার ফুরকান হামিদের একটি অতিথি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উর্দু বিভাগের প্রধান। ওই লেখায় ভারতকে সংখ্যালঘুদের বসবাসের পক্ষে ক্রমশ প্রতিকূল দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয় (India Civil War Warning)।

    পরের দিন তুরস্কের ‘সাবাহ’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি লেখায় ভাষ্যকার হিলাল কাপলান ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন।

    রুবিনের মতে, এই ধরনের প্রকাশনা নিছক ভারত সরকারের নীতির সমালোচনা নয়। বরং ধারাবাহিকভাবে ভারতকে মুসলিমবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণকে উৎসাহিত করার (Pakistan) প্রচেষ্টা।

    তাঁর আশঙ্কা, সোশ্যাল মিডিয়া, দাতব্য সংস্থা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে ধর্মীয় অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলা হতে পারে। এর ফলে উগ্রপন্থী মনোভাব এবং রাজনৈতিক অধিকারবোধের নামে সংঘাতের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন

    ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তোলা পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির তুলনাও করেছেন রুবিন।

    তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানে হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। দেশটির স্বাধীনতার সময় এই দুই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমনকী তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলিকে জাতীয় ছুটির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও একসময় বিবেচনা করা হয়েছিল।

    কিন্তু পরবর্তী সময়ে বৈষম্য, ধর্মীয় নিপীড়ন, হামলা এবং ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহারের কারণে সংখ্যালঘুদের একাংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে শিখ সম্প্রদায়ের অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রুবিনের বক্তব্য, ভারতে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনকে পাকিস্তানের সমর্থনের সঙ্গে সে দেশের পাঞ্জাবে শিখ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অবক্ষয়ের বিষয়টি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করে।

    তুরস্কের ক্ষেত্রেও এরদোয়ান সরকারের ধর্মীয় রাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

    ভারতের বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বড় শক্তি

    রুবিন তাঁর নিবন্ধে ভারতের ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, জরথুষ্ট্রী-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।

    বিশ্বের বৃহত্তম হিন্দু ও জৈন জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস ভারতেই। দেশের খ্রিস্টান জনসংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি ভারতে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত ২৭০টিরও বেশি ভাষা এবং ৭০০-র বেশি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রয়েছে।

    রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম হাউসের বিভিন্ন মূল্যায়নের উল্লেখ করে রুবিনের দাবি, রাজনৈতিক স্বাধীনতার একাধিক মাপকাঠিতে ভারতের অবস্থান পাকিস্তান ও তুরস্কের তুলনায় ভালো। তাঁর আরও বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিভিন্ন সময়ে ভারতের সমালোচনা সত্ত্বেও ধর্মীয় সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের রেকর্ড একাধিক মুসলিম (Pakistan) সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায় উন্নত।

    সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ?

    নিবন্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হল, পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রচলিত সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রচারের মাধ্যমে ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

    রুবিন বিংশ শতাব্দীর ভূখণ্ডগত সংঘাতের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, চিনের আকসাই চিন দখল, জম্মু ও কাশ্মীরের একটি বড় অংশে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ, তুরস্কের উত্তর সাইপ্রাস দখল এবং ইরাকের কুয়েত আক্রমণ ছিল প্রচলিত ভূখণ্ডগত আগ্রাসনের উদাহরণ।

    কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘাতের ধরন বদলেছে। এখন বিদ্রোহ, অপপ্রচার, অনিয়মিত নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগানোর প্রবণতা বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার পদক্ষেপ এবং বাল্টিক অঞ্চলের রুশভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

    এই প্রেক্ষাপটে রুবিনের আশঙ্কা, এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রসংঘের কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের পথও খুঁজতে পারে আঙ্কারা।

    রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে তুরস্কের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং বর্তমানে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব ফেরিদুন সিনিরলিওগলুকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার জন্য এরদোয়ানের প্রচেষ্টার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

    রুবিনের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

    খালিস্তান আন্দোলনের উদাহরণ টেনে সতর্কবার্তা

    আটের দশকে পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনেছেন রুবিন। তাঁর মতে, সেই সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।

    তাঁর আশঙ্কা, ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামান্য একটি অংশকেও যদি উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলেও তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দেশের জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    রুবিনের মূল্যায়ন, সাম্প্রদায়িক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। এমনকী পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে না পৌঁছলেও তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

    নিবন্ধের উপসংহারে বলা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যাকে শুধুমাত্র পাকিস্তান বা চিনের মতো প্রতিবেশী দেশের সামরিক হুমকির নিরিখে বিচার করলে চলবে না। ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতাদর্শগত ঘনিষ্ঠতা, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার এবং ধর্মীয় বয়ানে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকেও গুরুত্ব দিয়ে (Pakistan) দেখতে হবে।

    রুবিনের মতে, ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে এই ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রচারের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর (India Civil War Warning) যে কোনও প্রচেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে অদূর ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট।

     

  • BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে ২৫টিরও বেশি হামলা চালানোর দাবি করেছে বিএলএ (BLA)। সংগঠনটির দাবি, এই হামলাগুলিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। একাধিক সামরিক ও রসদ পরিবহণকারী গাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে (Pakistani Troops) বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানান, তাঁদের যোদ্ধারা বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী এবং সংগঠনটির ভাষায় ‘ডেথ স্কোয়াড’গুলিকে নিশানা করেছে। এই অভিযানে একাধিক সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।

    এই সংঘর্ষের জেরে বালোচিস্তানজুড়ে কয়েক দিনের জন্য রেল পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল পাক প্রশাসন। জাফর এক্সপ্রেসে হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে বালোচ জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহীদের হাতে অপহৃত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিল এই ট্রেন। তার পরেও একাধিকবার ট্রেনটিকে নিশানা করা হয়েছে। সাধারণত এই ট্রেনে সামরিক কর্মীদের যাতায়াতের কারণেই হামলার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হয়।

    সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশে অনীহা পাকিস্তানের (BLA)

    একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংবাদ ও জনসংযোগ বিভাগ নিয়মিতভাবে সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশ করত। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা বালোচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে লড়াইয়ের বিবরণও নিয়মিত জানানো হত। কিন্তু দুই অশান্ত প্রদেশেই সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর থেকে সেই স্বচ্ছতা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বালোচিস্তান পোস্ট’।

    কোনও অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিহত হলে অবশ্য কখনও কখনও তা স্বীকার করতে বাধ্য হয় সেনার জনসংযোগ বিভাগ। গত ১৯ অক্টোবর লাহোরের বাসিন্দা মেজর ওয়াজাহাত ওয়াহিদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিল তারা। একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্রের হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সেনাকর্মীদের হতাহত হওয়ার বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বর্তমানে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ কিংবা হতাহতের বিস্তারিত বিবরণ খুব কমই সামনে আনে ওই বিভাগ। অধিকাংশ বিবৃতিতে বরং টিটিপি বা পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বালোচ বিদ্রোহীদের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনার দুই সপ্তাহ কিংবা এক মাস পরে অভিযানের বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

    ৩০টিরও বেশি গাড়ির কনভয়ে হামলা

    বিএলএর দাবি, গত ২৬ অক্টোবর খুজদার জেলার কারখ এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর ৩০টিরও বেশি গাড়ির একটি কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালান তাদের যোদ্ধারা। ওই কনভয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সন্ত্রাসদমন বিভাগ এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী বাহিনীর গাড়ি ছিল। খুজদার রেঞ্জের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল ইমরান কুরেশি এবং জেলার পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ গাড়িও ওই কনভয়ে ছিল। হামলায় অন্তত ৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তিনটি গাড়ি অকেজো হয়ে গিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    সংগঠনটির আরও দাবি, আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কোয়েটা-করাচি সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন তাদের সদস্যরা। ওই সময় যাতায়াতকারী গাড়ি থামিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়।

    খারান জেলাতেও একাধিক সংঘর্ষের দাবি করেছে বিএলএ। গত ২৮ অক্টোবর বরশোনকিতে একটি নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে তারা। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি সংগঠনটির।

    এর পর ১ নভেম্বর লেজাই এবং সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষ চলে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অগ্রসরমান সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্রের সাহায্যে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করা হয়। তিনটি পৃথক এলাকায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। তাতে আটজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। পরদিন একই এলাকায় আরও একটি সামরিক গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর ফলে সেনাদের পিছিয়ে যেতে হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর খারানেই আরও দুটি হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সংগঠনটি (BLA)। সকালে জোমি এলাকায় এবং রাতে নওরোজ কালাতে সামরিক গাড়ি নিশানা করা হয়। জোমির হামলায় অন্তত তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি। একই দিনে রোটিনকো এলাকায় একটি সামরিক চৌকিতেও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএ।

    তুরবত, বাসিমা ও নুশকিতেও হামলার দাবি

    বিবৃতি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর তুরবত জেলার গিবান এলাকায় একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালান বিএলএ-র সদস্যরা। দু’টি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। একই দিনে কেচ জেলার হিররঙ্ক কানরাক এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহলদারি দলের উপর দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

    ২৮ অক্টোবর বাসিমায় সাজিদের কাছে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাতে চারজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং অন্তত সাতজন গুরুতর জখম হন। একই দিনে পাঞ্জগুর জেলার গোয়ারগো এলাকায় আর একটি সামরিক গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি।

    নুশকির আহমদ ওয়াল এলাকায় গত ২৬ অক্টোবর ভারী অস্ত্র নিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান শিবিরে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিএলএ। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। চার দিন পর ওই এলাকাতেই সেনাবাহিনীর ট্রাকের একটি বহরে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। তাতে দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত, বেশ কয়েকজন আহত এবং একটি ট্রাক ধ্বংস হয় বলে সংগঠনটির দাবি।

    গত ২ নভেম্বর আহমদ ওয়াল এলাকায় পায়ে হেঁটে এবং গাড়িতে যাতায়াতকারী সেনাদের ফের নিশানা করা হয়। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। একই দিনে মাস্তুংয়ের প্রধান সড়কে মদিনা হোটেলের কাছে একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে চারজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে (Pakistani Troops) দাবি সংগঠনটির। এ ছাড়াও ৩০ অক্টোবর হোশাবের গোয়ান্ড সারিন এলাকায় বিস্ফোরণে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

    বিএলএর মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানিয়েছেন, সংগঠনটির গোয়েন্দা শাখা জিরাবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ২৬ অক্টোবর ডালবান্দিনের কোহ-এ-তারান এলাকায় শাহজাহান ওরফে শাহুর গাড়ি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পর তাঁর গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। শাহু-সহ তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)। বিএলএর অভিযোগ, শাহু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় সহযোগীদের নিয়োগ এবং ডালবান্দিন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংগঠনটির ভাষায় ‘মৃত্যুদল’ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    গত ২৮ অক্টোবর রাতে গোয়াদরের ঘাট্টি ডোর এলাকায় লাহোরের বাসিন্দা রানা মহম্মদ আহমেদকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তিনি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করতেন তিনি। এ ছাড়াও ২৮ অক্টোবর তুরবতের নোদিজ এলাকায় রাষ্ট্রসমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এতে গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভিতরে থাকা ব্যক্তিরা আহত হন।

    পুলিশ থানা দখল ও সড়ক অবরোধ

    গত ৩১ অক্টোবর খারান জেলার মুসকান কালাত পুলিশ থানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বক্তব্য, থানার সমস্ত পুলিশকর্মীকে আটক করার পাশাপাশি তাঁদের অস্ত্রশস্ত্র ও তদন্তের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে বিস্ফোরক ব্যবহার করে থানার ভবনটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি। এর আগে ২৬ অক্টোবর বাব-এ-খারানের কাছে নির্মীয়মাণ ডেপুটি কমিশনারের দফতরে বিস্ফোরক হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। হামলার পর ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদেরও নিশানা করা হয়। এতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।

    বাসিমার দোরুগ এলাকায় ৩০ অক্টোবর একটি ফাঁকা সামরিক চৌকি বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে বিএলএ। একই দিনে পাসনি জিরো পয়েন্টের কাছে একটি হোটেলে লাগানো নজরদারি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনী ওই ক্যামেরাগুলি নজরদারির কাজে ব্যবহার করত। সামরিক রসদ ও বাণিজ্যিক যানবাহন আটক করার একাধিক ঘটনার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর নুশকির জারিন জঙ্গলে সেনাবাহিনীর একটি রসদবাহী গাড়ি আটক করা হয় বলে দাবি। ৩০ অক্টোবর ডালবান্দিন ও ইয়াকমাচের মধ্যবর্তী প্রধান সড়ক থেকে পাকিস্তানি সেনাদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী আরও একটি গাড়ি আটক করা হয়। এর পর ৩১ অক্টোবর কোয়েটা-তাফতান সড়কের চেয়াহতর এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক গাড়ি আটক করা হয়। বিএলএ এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক অবরোধে’র অংশ বলে উল্লেখ করেছে। ২ নভেম্বর একই সড়কে অবরোধ চলাকালীন আরও একটি বাণিজ্যিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)।

    সাত সদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার বিএলএর

    একদিকে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক হামলার দাবি করলেও, অক্টোবর মাসে সংঘর্ষে নিজেদের সাত সদস্যের মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বিবৃতি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর কালাতের রোডিনজো এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার সদস্যের মৃত্যু হয়। তাঁদের নাম ফরিদ ওরফে আবিয়ান, মুনির ওরফে নূরা, শাহজেব ওরফে এহসান এবং জলিল। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর মাঙ্গুচারের চোটাঙ্ক এলাকায় ঔরঙ্গজেব ওরফে আসিফ নিহত হন। একই দিনে সুরাবের গিদার এলাকায় সংঘর্ষে নোমান জামালদিনি ওরফে কমরেড সামির এবং পারভেজ মহম্মদ হাসনি ওরফে (Pakistani Troops) কাদিরের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নিহত সাত সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ফের অঙ্গীকারও করেছে বিএলএ (BLA)।

     

  • Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্ষতির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি (Elon Musk)। টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও কিংবা অন্য কোনও অঙ্গরাজ্যের ব্যালটেও ছিল না তাঁর নাম। তবু এই নির্বাচনের ফলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল (US Midterm Elections)।

    গত কয়েক বছরে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছিলেন মাস্ক। বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ জুগিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলে আমেরিকার কী পরিণতি হতে পারে, তা নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তাঁর অনুগামীদের।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে সেই অর্থ, প্রভাব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার কোনও কিছুই কাজে আসেনি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান যেমন বড় ধাক্কা খেল, তেমনই রিপাবলিকানদের পরাজয় মাস্কের রাজনৈতিক কৌশলকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বিশেষ করে টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে, যেখানে মাস্ক বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, সেখানেও প্রত্যাশিত ফল পেল না রিপাবলিকান শিবির।

    মাস্কের কাছে এই পরাজয় শুধু বিব্রতকর নয়। আমেরিকার ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তাঁর রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধি এবং একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত—সব কিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ব্যর্থ মাস্ক (Elon Musk)

    রিপাবলিকানদের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাস্কের আর্থিক অবদান ছিল নজিরবিহীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন তিনি। এই নির্বাচনী পর্বে ব্যক্তিগতভাবে অর্থদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শীর্ষে।

    এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, অক্টোবর মাসের মধ্যেই তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রচার সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়।

    আমেরিকা পিএসি, সেনেট লিডারশিপ ফান্ড-সহ একাধিক রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ ঢেলেছিলেন মাস্ক। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

    টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন (Elon Musk) ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো।

    টেক্সাসের সঙ্গে মাস্কের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। নিজের বাসস্থান এবং একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম এই অঙ্গরাজ্যে সরিয়ে এনেছেন তিনি। টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিও রয়েছে সেখানে। ফলে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচন তাঁর কাছে নিছক একটি রাজনৈতিক লড়াই ছিল না। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, সেই ব্যবস্থাকে নিজের বিপুল আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে রক্ষা করতে পারবেন কি না, তারও পরীক্ষা ছিল এই নির্বাচন। কিন্তু ভোটারদের রায় ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।

    কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জয়ী হন জেমস টালারিকো। এর ফলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটদের উত্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। জয়ের পর ভাষণে টালারিকো সেই ধনকুবের অর্থদাতাদের প্রসঙ্গ তোলেন, যাঁরা নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভোটাররা গলিয়াথকে পরাজিত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অথচ এই ফল ঠেকাতেই কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। ঘটনার মধ্যে রয়েছে গভীর তাৎপর্য। যাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তিনিও যে নিজের পছন্দমতো রাজনৈতিক ফল কিনে নিতে পারবেন না, তা এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিল।

    মাস্কের রাজনৈতিক বোঝা

    মাস্কের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার সম্পর্কও রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন মাস্ক। সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধি দফতর বা ডিওজিই-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং সরকারি কাজের গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রক্ষণশীলদের একাংশের কাছে মাস্ক ছিলেন এমন এক উদ্যোক্তা, যিনি বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রের দক্ষতা ও জবাবদিহির ধারণাকে সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

    কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো এবং একাধিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি, নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও একজন ধনকুবের কীভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Elon Musk)।

    প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পরেও সেই বিতর্কের ছায়া পুরোপুরি কাটেনি। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে মাস্ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি ছেড়ে দেননি।

    সমস্যা হল, এত দিনে তিনি শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

    একজন ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর সমস্ত গ্রাহক একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু কোনও ব্যবসায়ী যখন বারবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন, তখন সেই মতবিরোধ তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলির উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    মাস্কের বিপদের কারণ

    মাস্কের জন্য নির্বাচনের ফল অস্বস্তিকর হয়ে ওঠার আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্পেসএক্সের ব্যবসার বড় অংশ সরকারি চুক্তি ও অংশীদারিত্বের উপর নির্ভরশীল। টেসলার ব্যবসাও সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত তাঁর উদ্যোগগুলির জন্যও প্রয়োজন অনুকূল সরকারি নীতি, পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ববর্তী ঘনিষ্ঠতার কারণে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস মাস্কের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এর মধ্যে সরকারি দফতরে মাস্কের পূর্ববর্তী ভূমিকা এবং তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য সংঘাতও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

    কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মাস্কের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে যে ধরনের তদন্তের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকত, এবার সেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের তদন্তের নিশানায় থাকতে পারেন মাস্ক-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

    অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, অবিলম্বে তাঁর ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে কিংবা সরকারি চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে তাঁর জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

    যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলিতে সরকারি সিদ্ধান্তের উপর বিপুল আর্থিক স্বার্থ নির্ভর করে, সেখানে এই অনিশ্চয়তা মাস্কের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় (US Midterm Elections)।

    এক্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেও লাভ হল না

    মাস্কের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সের ভূমিকা।২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণ করার সময় বাক্‌স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং মতাদর্শগত সেন্সরশিপ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাস্ক। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক্স তাঁর রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

    রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন, ডেমোক্র্যাট নেতাদের আক্রমণ এবং আমেরিকার রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বারবার এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন তিনি।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    বিশেষ করে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনে জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ ছিল যথেষ্ট তীব্র। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমেরিকার গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে, এমন নীতির সমর্থক হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও টালারিকোর জয় আটকানো যায়নি। এখানেই উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এক্সের মাধ্যমে বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম মাস্ক?

    কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকশো মিলিয়ন অনুগামী থাকা মানেই যে তাঁদের প্রত্যেককে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব, এমন নয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিক হলেই সেই মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান মেনে নেবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই (Elon Musk)। বরং রাজনৈতিক বিষয়ে মাস্কের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ উল্টে তাঁর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ গবেষণা কিংবা প্রযুক্তিক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের প্রশংসা করেন এমন অনেক মানুষই তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একমত নন। বারবার দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ফলে নিজের অনুগামী ও গ্রাহকদের একাংশকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে তাঁর। এই নির্বাচনের ফল থেকে অবশ্য বলা যায় না যে, এক্সের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে এটুকু স্পষ্ট, শুধুমাত্র এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে ভোটের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসাতেও বাড়তে পারে রাজনৈতিক চাপ

    মাস্কের রাজনৈতিক সমস্যার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আমেরিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিপুল পরিকাঠামোসমৃদ্ধ তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এক্সএআই এবং তাঁর বৃহত্তর প্রযুক্তি ব্যবসার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রেও বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে মাস্কের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, জমি, বিনিয়োগ এবং সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা এখন আর শুধুমাত্র পরিবেশকর্মী কিংবা ডেমোক্র্যাটদের একাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বড় তথ্যকেন্দ্রের বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, জলসম্পদের উপর চাপ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

    নির্বাচনের আগে বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা ক্রমশ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এই জনমতকে নিজেদের প্রচারের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দ্রুত সম্প্রসারণের পথে আরও বেশি বাধা তৈরি করতে পারে। মাস্ক হয়তো ভেবেছিলেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলে তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের ফল তাঁর সেই প্রত্যাশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে।

    মাস্কের মস্ত বড় ভুল

    মাস্কের এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ হল নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, বড় ঝুঁকি নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পক্ষেত্রের প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা।

    টেসলাকে বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থায় পরিণত করেছেন তিনি। স্পেসএক্সকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ব্যবসা এবং রাজনীতি এক জিনিস নয়।

    অর্থ দিয়ে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন চালানো যায়, জনসভার আয়োজন করা যায়, প্রচারকর্মী নিয়োগ করা যায় এবং নির্বাচনী সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায়। কিন্তু অর্থ ব্যয় করে মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করা যায় না।

    মাস্ক সম্ভবত মনে করেছিলেন, তাঁর বিপুল সম্পদ, এক্সের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তাঁকে রিপাবলিকান রাজনীতির অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সেই ধারণার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেও রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো আটকাতে পারেননি তিনি। নির্বাচনী অর্থের নিরিখে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের জয়ের গতি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।

    পরাজয়ের পর এক্সে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে কৌতুকের ছলে বলেছেন, তাঁর তথাকথিত মহাকাশভিত্তিক লেজার অস্ত্রও নাকি কাজ করেনি। পাশাপাশি মহাকাশেই তথ্যকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এই রসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ছে না নির্বাচনী বিপর্যয়ের বাস্তবতা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে দ্বিতীয় বড় পরাজিত মাস্ক?

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরাজিত নিঃসন্দেহে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, এই নির্বাচন কার্যত তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের উপর গণভোটে পরিণত হয়েছিল। তাঁর দল কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তাঁর পছন্দের একাধিক প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাকি সময়ে তাঁর পক্ষে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠবে। তবে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা যে ইলন মাস্কের, তা বলাই যায়।

    ট্রাম্পের মতো নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার কোনও সাংবিধানিক দায়িত্ব মাস্কের ছিল না। তা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় কয়েকশো মিলিয়ন ডলার, নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনপরিসরে প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তিকে রিপাবলিকানদের জয়ের স্বার্থে বাজি রেখেছিলেন তিনি। বস্তুত, সেই বাজিতে হেরে গেলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নির্বাচনের ফল দেখিয়ে দিয়েছে যে বিপুল সম্পদ কিংবা শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিকানা থাকলেই সাধারণ আমেরিকানদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

    মহাকাশে রকেট পাঠাতে পারেন মাস্ক, বিপুল সংখ্যায় বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থের জোরে নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত শিল্পব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের সাফল্যের ভিত গড়েছেন, তিনিই এবার বুঝতে পারলেন, ধনকুবেরের চেকবই (US Midterm Elections) দিয়ে গণতন্ত্রের ফল বদলে দেওয়া যায় না। ট্রাম্পের কাছে এই নির্বাচন রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। আর মাস্কের কাছে এটি নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বোঝার বড় শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে (Elon Musk)। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে খরচ হওয়া বিপুল অর্থের ক্ষতির থেকেও এই উপলব্ধি তাঁর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • US Midterm Election: মার্কিন কংগ্রেসে ধাক্কা ট্রাম্পের! ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভারতের জন্য কী কী নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল?

    US Midterm Election: মার্কিন কংগ্রেসে ধাক্কা ট্রাম্পের! ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভারতের জন্য কী কী নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল ডেমোক্র্যাটরা। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান দলের কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা।

    মানুষের ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প

    মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনীতির অস্থিরতা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং সরকারি স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ—একাধিক ইস্যুতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে। আর এই ফলাফলের দিকে বিশেষ নজর ছিল ভারতেরও। কারণ, গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের রফতানি ও অর্থনীতিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের সমস্ত জটিলতা যে রাতারাতি মিটে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

    ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম, বাড়বে সিদ্ধান্তে বাধা?

    ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়তে পারে কংগ্রেসের নজরদারি। তদন্ত, শুনানি, বাজেট সংক্রান্ত ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নজরদারির মাধ্যমে ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতির রাজনৈতিক মূল্য বাড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও চাপে পড়তে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    বাণিজ্য ও শুল্কনীতি: ভারতের জন্য কি মিলবে স্বস্তি?

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম বাণিজ্য। ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্কনীতির জেরে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একসময় ভারতীয় পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সেই শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং ভারতীয় কৃষিপণ্যের বাজারে মার্কিন প্রবেশাধিকার—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসে এবার মার্কিন ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে ভারতের উপর শুল্কের চাপ কমানোর বিষয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটরাও সব ক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্যের সমর্থক নন। তাই অবিলম্বে শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এখনও স্পষ্ট নয়।

    রুশ তেল আমদানি: চাপ কি কমবে ভারতের উপর?

    রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের উপর একাধিকবার চাপ তৈরি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। রুশ তেল কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪৪ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে রুশ তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় আপাতত ভারতের উপর মার্কিন চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

    এইচওয়ান বি ভিসা: ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য আশার আলো?

    ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এইচওয়ান বি ভিসা। নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচওয়ান বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব ঘিরে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ফেডারেল আদালত এই ফি কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) ফি ছাড়াই জমা পড়া কিছু আবেদন অনুমোদন করতে শুরু করেছে। এবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের উপর বিধিনিষেধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগে এই নীতির প্রভাব খতিয়ে দেখা হতে পারে। ফলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও অভিবাসন নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনও প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা: বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দুই দেশ ১০ বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। এর আওতায় কৌশলগত সহযোগিতা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের বিষয়গুলি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ভারত ও আমেরিকার অভিন্ন উদ্বেগ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। আমেরিকায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন রয়েছে। তাই কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও এই ক্ষেত্রে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    ভারতের জন্য কৌশলগত সুবিধা, নাকি বাড়বে অনিশ্চয়তা?

    মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ভারতের সামনে আলোচনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সমস্ত নীতি যে বদলে যাবে, তা নয়। বাণিজ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার, অভিবাসন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক—এই বিষয়গুলিতে দুই দেশের মতপার্থক্য থেকেই যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে ভারতের বিদেশনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করা উচিত নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প অংশীদারিত্ব বাড়ানো, দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উপর জোর দিতে হবে। সব মিলিয়ে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ভারতের জন্য তা আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করলেও ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ নীতির অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটবে না। এটাই ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

  • US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ চলে গেল ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর ফলে কংগ্রেসে (US Midterm Elections) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। আগামী দিনে নতুন আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

    নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে (Democrats) বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে হতে পারে।

    প্রশ্ন হল, এরপর কী? নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত একতরফা আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রথম ১০০ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে তারা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা।

    কী রয়েছে পরিকল্পনায়? (US Midterm Elections)

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে মার্কিন শুল্কনীতি প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিল আনা, ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমানোর প্রস্তাব। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নিজেদের সমস্ত প্রস্তাব সহজে আইনে পরিণত করতে পারবেন না। এর পিছনে রয়েছে দু’টি সাংবিধানিক বাধা।

    প্রথমত, সেনেটে কোনও বিল ভোটাভুটির জন্য পেশ করার ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত ৬০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেনেটের মোট আসন ১০০টি। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ৬০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে তাঁদের রিপাবলিকানদের একাংশের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় ও কর সংক্রান্ত বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনা কিছু বিলের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, কোনও বিল কংগ্রেসে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট চাইলে তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তে নামতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা

    নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তমূলক ক্ষমতা এসেছে। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁরা সরকারি নথি তলব করতে পারবেন, সাক্ষীদের হাজিরার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে কংগ্রেসীয় তদন্ত শুরু করতে পারবেন।

    ইতিমধ্যেই ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরাও তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।

    সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “যাঁরা আমেরিকার মানুষের অর্থ চুরি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কিংবা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন থেকেই তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

    ডেমোক্র্যাট দলের একাংশ বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে (US Midterm Elections)।

    গত মাসে মেইনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ বলেন, “প্রথম দিন থেকেই এই সমস্ত সরকারি সংস্থার প্রধানদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।”

    তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের মুখে ট্রাম্প?

    ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের জন্য ইমপিচমেন্টের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সদস্য। তবে এই বিষয়ে দলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস করাতে পারেন। কিন্তু তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে হলে সেনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমর্থন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

    কমলা হ্যারিস এবং হিলারি ক্লিন্টনের মতো ডেমোক্র্যাট নেত্রীরা অবশ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে নন। তাঁদের মতে, এই বিষয়ে শক্তি ব্যয় না করে দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্যে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    তবে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নিশানায় পরিণত হতে পারেন। তাঁকে অভিশংসনের দাবিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব এনেছেন বিদায়ী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি। ইরান, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন-সহ বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে এই প্রস্তাবের সম্পর্ক রয়েছে।

    অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে জেফ্রিস একাধিকবার জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা পিট হেগসেথকে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করবেন।

    গত মাসের শেষ দিকে এক সাক্ষাৎকারে জেফ্রিস বলেন, “প্রেসিডেন্টের উচিত পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। তা না হলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    তবে হেগসেথ কিংবা ট্রাম্প—কারও বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াকে তিনি সরাসরি সমর্থন করেছেন কি না, তা স্পষ্ট (US Midterm Elections) করেননি।

    নতুন কংগ্রেসের আগে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন

    নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হলেও নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারির আগে শপথ নেবেন না। তার আগে বর্তমান কংগ্রেসের সদস্যরা ৯ নভেম্বর থেকে আবার অধিবেশনে বসবেন। তাঁদের সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

    সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সরকারি ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত বিল পাস করানো। কারণ ওই দিনই বর্তমান সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন অর্থ বরাদ্দের বিল পাস না হলে মার্কিন সরকারের একাধিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ফের সরকারি অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এমনটা হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির সময়ে চতুর্থবারের মতো সরকারি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বছরের শেষ দিকে এই ঘটনা আমেরিকার রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিয়োগ-বরখাস্তেও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগের প্রস্তাব সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেলে তবেই কার্যকর হয়।

    ফলে সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের কাছে বড় রাজনৈতিক বাধা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে (Democrats) নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীরা বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন।

    গত সেপ্টেম্বরে ডেমোক্র্যাটদের সেনেট নেতা চাক শুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমরা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাই, কারণ ট্রাম্প যাতে সুপ্রিম কোর্ট এবং নিম্ন আদালতগুলিতে তাঁর পছন্দের চরম রক্ষণশীল বিচারপতিদের নিয়োগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বয়স অবসরের সাধারণ বয়সসীমার অনেকটাই বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স টমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো।

    তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের আগেই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বিচারপতি আলিটো। বিচারপতি টমাসও দায়িত্বে থেকে যেতে চান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (US Midterm Elections)।

    রিপাবলিকানদের হাতে সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতেই তাঁদের অবসরের জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজেদেরই।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প চাইলে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরখাস্ত করে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে পারবেন। কারণ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। ফলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে রদবদলের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

    সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নয়া রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক (Democrats) নিয়োগ এবং সরকারি নীতির বাস্তবায়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে হোয়াইট হাউসকে। আগামী দু’বছর আমেরিকার রাজনীতিতে এই ক্ষমতার ভারসাম্য (US Midterm Elections) কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে যে সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই অগ্রগতির বড় অংশই কার্যত হারিয়েছে (Indian Americans) দলটি। নয়া এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন আবারও বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকদের ৬২ শতাংশ আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান (US Midterms Survey)। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন মাত্রই ১৯ শতাংশ।

    সোমবার প্রকাশিত এই সমীক্ষাটি করেছে কার্নেগি (Carnegie) এবং গবেষণা সংস্থা ইউগভ (YouGov)। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত ওই সমীক্ষার ফলে ফলে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সমাজে ভারতীয়-আমেরিকানদের অবস্থান এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

    ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে (Indian Americans)

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক তাঁদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ১৯ শতাংশ। বাকি ভোটাররা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি অথবা ভোটদানে আগ্রহী নন।

    ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা ছিল। সেই সময় ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ২২ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছে দলটি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক ভোটদানের প্রবণতা সেই অগ্রগতির স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে অসন্তোষ

    ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষ।

    সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের গোড়ার দিকে ভারতীয়-আমেরিকানদের একটি বড় অংশ অভিবাসন নীতি, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং এমনকি মার্কিন-ভারত সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একসময় এই সম্পর্ক ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনামূলক শক্তিশালী দিকগুলির অন্যতম।”

    কার্নেগি ও ইউগভের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১,০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। সমীক্ষার লেখকরা হলেন সুমিত্রা বদ্রিনাথন, দেবেশ কাপুর, অ্যানাবেল মিলার, অ্যান্ডি রবাইনা এবং মিলান বৈষ্ণব (US Midterms Survey)।

    তবে সমীক্ষার ফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আগের আইএএএস (IAAS) সমীক্ষাগুলিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দ পরিমাপ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবরের সমীক্ষায় মূলত কংগ্রেস নির্বাচনে ভোটদানের ইচ্ছা বা প্রবণতা যাচাই করা (Indian Americans) হয়েছে।

    রিপাবলিকান-বিরোধী মনোভাবও প্রভাব ফেলছে ভোটে

    ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়লেও এর পিছনে শুধু দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে না। রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই প্রবণতাকে ‘নেগেটিভ পার্টিজানশিপ’ বা বিরোধী দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের ভিত্তিতে ভোটদান বলা হয়।

    সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাঁরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, তাঁদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মূলত রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করেন না বলেই ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিচ্ছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানানো ভোটারদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাই তাঁদের ভোট দেওয়ার প্রধান কারণ।

    সমীক্ষায় এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “দলের প্রতি সমর্থন কিছুটা ফিরে আসায় ডেমোক্র্যাটরা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এই পুনরুদ্ধার দলের প্রতি ভোটারদের রাজনৈতিক আনুগত্য বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, তা কেন ভোটের বাক্সে স্থায়ী সাফল্যে পরিণত হল না, সেই বিষয়টি দলটির বিবেচনা করা উচিত।”

    কমছে রিপাবলিকান সমর্থন

    বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতেও ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভারতীয়-আমেরিকান পুরুষদের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন বর্তমানে ২৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৪০ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান মহিলাদের মধ্যেও। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে।

    সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে ভারতীয়-আমেরিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুধু কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা। তাঁদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর, মাত্র ১২ শতাংশ জানিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে (US Midterms Survey) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সমীক্ষা। ২০২৪ সালে রিপাবলিকানদের দিকে যে ঝোঁক তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এই প্রত্যাবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নির্বাচনী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি (Indian Americans) তাঁদের আস্থার উপর।

     

  • India Pakistan Trade: পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের

    India Pakistan Trade: পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক (India Pakistan Trade) কার্যত ছিন্ন করেছিল পাকিস্তান। এবার সেই সিদ্ধান্তের মাশুল যে কতটা চড়া, তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন সে দেশের ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরাই। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ রাখার কারণে গত ছ’বছরেরও বেশি সময়ে পাকিস্তানের অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন পাক-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের (PIBC) চেয়ারম্যান নুর মহম্মদ কাসুরি। প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (PTI)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ আগের হিসাবের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

    পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে

    কাসুরির বক্তব্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলই লাভবান হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ও পণ্য আমদানির জন্য দূরবর্তী দেশগুলির উপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফলে পরিবহণ খরচ, পণ্য পরিবহণের ভাড়া এবং সরবরাহের সময়—সবই বেড়েছে।

    ওষুধ ও বস্ত্রশিল্পে বিপুল ক্ষতি

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের ওষুধ ও বস্ত্রশিল্পে। কাসুরির দাবি, ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। অন্যদিকে, দেশে তুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বস্ত্রশিল্পকে ব্রাজিল, মিশর, চিন এবং আমেরিকার মতো দেশ থেকে তুলো আমদানি করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুধু তাই নয়, ভারতের তেল শোধনাগারগুলি ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের অনেক কাছাকাছি হওয়ায় ভারত থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করলে খরচ ও সময়—দু’টোই কমতে পারে বলে মনে করেন কাসুরি। ভারতের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য সহজলভ্য হলে পাকিস্তানের উৎপাদন খরচও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

    ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্বীকার পাকিস্তানের?

    আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে কাসুরি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় ভারতের আর্থিক সহায়তার উদাহরণও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলি একে অপরের সঙ্কটের সময় পাশে দাঁড়ালে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিই উপকৃত হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাসুরি দাবি করেছিলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে ছ’বছরে পাকিস্তানের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে বছরে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার সেই ক্ষতির হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে।

    ভারতের সঙ্গে সু-সম্পর্কের গুরুত্ব

    দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এই পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৪ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি নিয়ে ভারত যেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি, সেখানে পাকিস্তানের অর্থনীতির আকার তুলনায় অনেক ছোট। দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ রাখার ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের সঙ্কট এবং বাণিজ্যের সুযোগ হারানোর মতো সমস্যায় পড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দাবি আসলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভারতের গুরুত্বকেই আরও একবার সামনে আনছে।

LinkedIn
Share