Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ৫ অগাস্টের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না বলে সাফ জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক (India)। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে করা কোনও মন্তব্যকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার এ বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। এতে সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। ওই মঞ্চে যা বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিকভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে করা মন্তব্যগুলিকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।” ৫ আগস্ট হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। বিদেশমন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার নয়, একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছিল।

    কী বললেন হাসিনা (India)

    বুধবারের ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা জানান, জেলবন্দি হওয়া কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর কথায়, দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। তার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতা। শুধু অডিওর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁর বক্তব্য শুনতে পান। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে পাঠাতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। কিন্তু আমি আমার মানুষের সঙ্গে থাকতে দেশে ফিরব।”

    পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ

    তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা নয়। বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ পুনরুদ্ধার করাই তাঁর লক্ষ্য (India)। হাসিনার কথায়, “আমার জন্য যে পরিণতিই অপেক্ষা করুক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরব। আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্ট পাচ্ছেন, তখন আমি তাঁদের থেকে দূরে থাকতে পারি না।” বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের সঙ্গে দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও গোপন আলোচনা বা পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    ভারত মহান বন্ধু

    ভারতকে বাংলাদেশের মহান বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, “কঠিন সময়ে নয়াদিল্লি সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।” গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও উন্নয়নের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিনার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের যে আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল, সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করতে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি ওই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছিল।বাংলাদেশে জাতীয় পুনর্মিলন ও ক্ষত নিরাময়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, যারা অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড

    ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে তাঁর সরকারের দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতাখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য (Sheikh Hasina) রাখেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং ভারতের (India) পূর্ব সীমান্তে দেশটি আরও একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীণ নেতাও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের অভিযোগ, ভারতের মাটি ব্যবহার করে হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়েছেন। ঢাকার দাবি, এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে হাসিনাকে (Sheikh Hasina) প্রত্যর্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও, নয়াদিল্লির (India) কাছ থেকে এখনও কোনও জবাব না পাওয়ায় দুঃখপ্রকাশও করেছে বাংলাদেশ।

  • Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা, প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আসক্তিকর করে তোলা এবং অনলাইন যৌন শোষণ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বড় ধাক্কা খেল মেটা (Meta in Crisis)। বিপুল আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হল ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটাকে (Meta)। সামাজিক দূষণের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক। ‌ভারতীয় মুদ্রায় ৭৮৬০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেটাকে। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় (কনটেন্ট) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই কনটেন্টের মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগের তদন্তে মেটা-সহ আটটি রাজ্যের ডিজিপিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

    মেটাকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

    শুধু জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দায়ের করা মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মকে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের মতে, বিষয়টি আর শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের সমস্যা নয়। এর প্রভাব শিশুদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। তাই মেটার কার্যকলাপকে ‘Public Nuisance’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    কেন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা?

    মামলায় নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য মেটা এমন কিছু ফিচার ও নকশা তৈরি করেছে, যা সোশাল মিডিয়া-নির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে শিশুদের অনলাইন হয়রানি, গ্রুমিং এবং যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির পর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস আগে একই মামলার প্রথম পর্যায়ে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা দাবি করে মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটার প্ল্যাটফর্মে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এই নির্দেশের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও— অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটের উপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসাতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।

    সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশ দূষণের সামিল

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে? বিচারক বিডশেইড তাঁর রায়ে সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্প কারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন কারখানার সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবও মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা বাস্তব জীবনে শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

    মেটার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা

    মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ওই কর্তার কথায়, আমাদের সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্টগুলির দিকে আমাদের অবিরাম নজর রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কন্টেন্টগুলি নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্ক। যদিও নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতগুলিতে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং নানা সামাজিক সংগঠন হিংসা, বিকৃত যৌনতা, ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করছেন।

    ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে মেটা

    ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। এনএইচআরসি সদস্য প্রিয়ঙ্কা কানুনগো জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া কনটেন্টে সিএসএএম থাকলে তা পকসো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০টি বিষয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে গাফিলতি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে এনএইচআরসি। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকেও অবগত করা হয়েছে

    রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।’’

  • Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) মাগুরার বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগ। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাড়িতে (Bangladesh) কেউ ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। হামলায় কেউ আহতও হননি।

    শাকিবের বাড়িতে হামলা (Shakib Al Hasan)

    স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শাকিবের বাড়িতে হামলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে, পরে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার সময় বাড়িতে পেট্রলবোমাও ছোড়া হয়। যদিও পুলিশ পেট্রলবোমা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বাড়িতে ইটের টুকরো ছুড়ে জানালা ভাঙচুর করেছে। তারা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছে।” হামলার সময় শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো বিকট শব্দ শোনা যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকেও প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো শব্দ। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম।  শাকিব মাগুরা-১ কেন্দ্রের প্রাক্তন আওয়ামি লিগ সংসদ। ঘটনার পর তাঁর বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীরা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ

    শাকিবের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণে অংশ নেওয়া একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে শাকিবের যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই। দক্ষিণ এশিয়ার বিদেশি সংবাদদাতাদের সংগঠনের উদ্যোগে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন মোকাবিলায় তাঁর সরকারের ভূমিকার পক্ষে সাফাই দেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না, ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সরকার পরিবর্তনের একটি ছক। অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছিল।আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণের কারণেই তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও হামলার সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানের কোনও যোগসূত্রের প্রমাণ পায়নি। হামলাকারীদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি (Bangladesh)।

    রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিতর্কে শাকিব

    বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত শাকিব দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ নাম। তবে আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগ থাকায় তিনি একই সঙ্গে বিতর্কিতও হয়ে উঠেছেন (Shakib Al Hasan)।২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামি লিগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচিত হন শাকিব। বিরোধী একাধিক দল ওই নির্বাচনকে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হিসেবে সমালোচনা করেছিল। ওই বছরের অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়। বুধবারের বক্তব্যে হাসিনা তাঁর দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও, বাংলাদেশে ফেরার আসার ইচ্ছার কথাও ফের জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণ আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক এখনও অব্যাহত থাকার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে এনেছে।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরেননি শাকিব

    হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শাকিব আর বাংলাদেশে ফেরেননি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায়ও তাঁকে একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক একাধিকবার বলেছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় বসবাস করছেন শাকিব। সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলছেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।বাংলাদেশ (Bangladesh) ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য আগে একবার জানিয়েছিল, জাতীয় দলে শাকিবের ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি (Shakib Al Hasan)।

     

  • Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’বছর পরে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফেরার কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বুধবার এক প্রকাশ্য ভাষণে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান তিনি। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরে ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে বলে কবুল করেছেন হাসিনা। তবে কোনও ভয়ই তাঁকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।

    ‘হত্যাও করা হতে পারে’ (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যাও করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি এবং ছ’বছর নির্বাসনে কাটিয়েছি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।” দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ফের প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, শান্তি ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘আমি ফিরতে চাই’

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ফিরতে চাই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং শান্তির অধিকারী। তারা এমন একটি রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকারী, যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন তারা দেখেছিল এবং এমন একটি অর্থনীতি পাওয়ার অধিকারী, যা তাদের সামনে সুযোগ তৈরি করবে। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করতে ফিরতে চাই। সমস্ত ক্ষমতার উৎস হল জনগণ।” দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, দেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর কখনও বিচ্ছেদ ঘটেনি বলেও দাবি করেন হাসিনা। বলেন, “গত দু’বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি… এ সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এ সেই বাংলাদেশও নয়, যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।”

    ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না

    ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন নিয়ে হাসিনা জানান, তাঁর সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সেই (Bangladesh) আন্দোলন কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, ছাত্রদের সামনে রেখে হিংসা ও সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। হাসিনা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের সত্যটা আমি আপনাদের জানাতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র প্রতিবাদও ছিল না।” আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব (Sheikh Hasina)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যখন পুলিশ ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং সেগুলি লুট করা হয়, তখন মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার কি রাষ্ট্রের কোনও দায়িত্ব নেই?” হাসিনা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই হিংসার ঘটনার তদন্ত এবং প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য তিনি একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা।”

    ভারতকে ‘চিরকালের বন্ধু’ বললেন হাসিনা

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে হাসিনার বক্তব্যে। প্রতিবেশী দেশ ভারতকে তিনি “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ভারত সরকার অবগত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চান—এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই ভারতের সকলেই এ বিষয়ে জানবেন।” গত দু’বছর ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁকে একজন সরকারপ্রধানকে যে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সেই মর্যাদা ও নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে (Sheikh Hasina)। তিনি বলেন, “ভারত তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দিচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করছে। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মতো পূর্ণ নিরাপত্তায় এখানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে (Bangladesh)।”

    বাংলাদেশের ক্ষোভ

    হাসিনার এই বক্তব্যের পর দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে হাসিনাকে “পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী” বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, তাঁকে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে “বিষোদ্গার” করেছেন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি প্রকাশ্যে আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে (Sheikh Hasina)।

    ভারতের বক্তব্য

    তবে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের যে যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনারা যে যোগাযোগের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই (Bangladesh)। ওই মঞ্চে যে মতামত প্রকাশ করা হবে, সরকার তার (Sheikh Hasina) কোনওটিই সমর্থনও করে না।”

     

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সুস্পষ্ট ও বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। অতীতেও সীমান্তবর্তী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

    ১৯৬০ সালের চুক্তিতেই বিরোধ মেটানোর পথ

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী জলবণ্টন চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বব্যাঙ্ক চুক্তির কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে স্বাক্ষরকারী হলেও, চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে পার্মানেন্ট সিন্ধু কমিশন (PIC), যেখানে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান না হলে নিউট্রাল এক্সপার্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আর জটিল আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ নিয়ে যাওয়ার বিধানও রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ স্বেচ্ছায় এই কাঠামো মেনে চুক্তি স্বাক্ষর করায় বিরোধ মেটানোর প্রধান পথও এটিই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো রাজনৈতিক মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি খুবই দুর্বল।

    রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং তাই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় আনা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।

    দ্বিপাক্ষিক অবস্থানেই অনড় ভারত

    ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং চুক্তির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তার সমাধান হওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, এই চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিকীকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতের এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কেন কম?

    আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে সাধারণত নিরাপত্তা পরিষদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বিদ্যমান আইনি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কোনও বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করাতে সদস্য দেশগুলির ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো এড়ানোও জরুরি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঐকমত্য গড়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    আইসিজিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পাঠানোর সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ, আইসিজি সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া কোনও মামলার বিচার করে না। পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে বিষয়টি তুললেও সিন্ধু জলচুক্তির নির্ধারিত কাঠামোই বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান এবং কার্যকর পথ হিসেবে বহাল থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সেই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। তখন থেকেই জল সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এই নিয়ে আগেই ভারতকে নিশানা করেছিল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারতকে ফের আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

  • Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেন উপকূল (Yemen) সংলগ্ন লোহিত সাগরে (Red Sea) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে গেল ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)। তবে জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাবিক এবং একজন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ইয়েমেন কোস্ট গার্ড (National Resistance Force)। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ইয়েমেনের মোখা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, নিরস্ত্র একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। তিনি জানান, জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

    হামলার তীব্র নিন্দা বিদেশ মন্ত্রকের

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)-এর ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাগরিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য ইয়েমেন প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা সবার আগে

    কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘‘বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় জাহাজটিকে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বিহীন একটি জলযানের উপরে বিনা প্ররোচনায় এই হামলার তীব্র নিন্দা করছে ভারত। আমাদের নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’ তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-কে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কারা চালাল হামলা?

    উপসাগরীয় এলাকায় ভারতীয় কোনও জাহাজে এইভাবে সরাসরি হামলার ঘটনা এই প্রথম৷ সৌদি থেকে তেল নিয়ে আসছিল ভারতীয় এই জাহাজটি৷ ইয়েমেনের বাব আল মানডাবের হোদেইদাহ থেকে ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে৷ বিস্ফোরক বোঝাই যে নৌকা করে আত্মঘাতী এই হামলা চালানো হয়, সেটিও ইয়েমেনেরই বলে জানা গিয়েছে৷সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন উপকূল এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জেরে গোটা লোহিত সাগর অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার। লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে। পরপর এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?

    লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য পথ। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই পথেই হয়। কিন্তু ইয়েমেন উপকূলবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা জাহাজ ঘুরিয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচল করছে। ফলে পরিবহণ ব্যয়, বীমার খরচ এবং পণ্য সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলিও টহল বাড়িয়েছে।

    সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ

    একই দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছে আরেকটি ড্রাই বাল্ক কার্গো জাহাজও একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ওই জাহাজের কর্মীরা জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। তবে একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরাকের হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল রফতানি প্রায় ৭১ শতাংশ কমে গেছে। সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে ইরাক প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে মাসিক গড় রফতানি ছিল ১০.৫ কোটি ব্যারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ (Naval Blockade) কার্যকর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ বাণিজ্য জরুরি

    ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌচলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছে দিল্লি। গত মাসেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা করে। তার পর থেকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

     

     

     

     

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK Unrest)-এ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের আবহ অব্যাহত রয়েছে। যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র অভিযোগ, বাগ জেলায় চলমান বিক্ষোভ দমাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একই সঙ্গে মুজাফফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি

    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) রাষ্ট্রসংঘ (UN), রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (OHCHR), আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পিওকে-র একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। JAAC-এর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

    আগেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সেনা। সাধুনাটি জেলায় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নিরস্ত্র জমায়েতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনালের সামনে গুলিবর্ষণেও মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ইসলামাবাদের সেনার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘নয়াদিল্লি আশা করে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘটিত নির্যাতন ও অনাচারের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সেখানে কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ভাবে দখলে থাকা এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি পরিণতি এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ।’’ ভারতের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অভিযোগগুলোর সমাধান করার পরিবর্তে পাকিস্তানি রাষ্ট্র চরম দমনপীড়নের পথ নিয়েছে এবং নিরস্ত্র অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। যার ফলে ধারাবাহিক ভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

    ১২টি সংরক্ষিত আসন-ই ইসলামাবাদের চাবিকাঠি

    দীর্ঘ দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে। ১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে।

    কীভাবে ভুল পথে অধিকৃত কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামাবাদ

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। জেএএসি-র, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। অভিযোগ, ওই আসনগুলি থেকে সাজানো নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রফতানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনে নতুন পর্যায়। তাতে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

    উদ্বেগ প্রকাশ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি পাকিস্তান সরকারের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির আরও অভিযোগ, পিওকে-র কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ঘটনাগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখারও আহ্বান জানিয়েছে। পিওকে-তে পরিস্থিতি ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

  • Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস (Dallas Gita Event) শহরে অনুষ্ঠিত হল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পারায়ণ অনুষ্ঠান। অবধূত দত্ত পীঠমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি-র (Sri Ganapathy Sachchidananda Swamiji) নেতৃত্বে কিউটেক্স (CUTEX) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বামীজির যুক্তরাষ্ট্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্মৃতি থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক একযোগে আবৃত্তি করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।

    সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার

    ডালাসে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে আশীর্বাদ করুন, আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন এবং সমগ্র বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। স্বামীজি জানান, এই গীতা পারায়ণ প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সমাজের কল্যাণ এবং বিশ্বের সমৃদ্ধি ও শান্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান, শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    মার্কিন মুলুকে নিয়মিত গীতাপাঠ

    আমেরিকায় গীতাপাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ভারতীয় প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি বড় অংশ। টেক্সাসের ডালাসে, শিকাগো বা মিশিগানের মতো শহরে শয়ে শয়ে মানুষের একসঙ্গে গীতা আবৃত্তির মতো বড় ইভেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় স্বামীজির আশীর্বাদ এবং সর্বজনীন শান্তির মন্ত্র ‘লোকাঃ সমস্তাঃ সুখিনো ভবন্তু’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। যার অর্থ—“সমস্ত বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী, সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক।”

  • Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি (Trump Tariffs)। সোমবার ডেমোক্র্যাট-শাসিত ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর (India Tariffs) নতুন করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন ফের তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। একই ধরনের শুল্ক নিয়ে একাধিক আদালতের রায়ের পরেও প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওই রাজ্যগুলির।

    মার্কিন আদালতে দায়ের মামলা (Trump Tariffs)

    নিউইয়র্কের মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এতে গত মাস থেকে কার্যকর হওয়া ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের রফতানি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির জন্য নতুন এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হতে চলেছে। কারণ, মার্কিন আদালতে একের পর এক ধাক্কা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কৌশল এখনও বহাল রয়েছে।

    আদালতের রায় উপেক্ষা করছেন ট্রাম্প!

    ওরেগন ও নিউইয়র্ক-সহ ২৫টি অঙ্গরাজ্য এই মামলা করেছে। এসব রাজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট গভর্নর অথবা অ্যাটর্নি জেনারেল। রাজ্যগুলির দাবি, আদালত যে ব্যাপক আমদানি শুল্ককে ইতিমধ্যেই বেআইনি বলে রায় দিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ভিন্ন আইনি যুক্তি ব্যবহার করে কার্যত সেই শুল্কই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারা ঐতিহাসিকভাবে নির্দিষ্ট দেশ বা শিল্পের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এই ধারার মাধ্যমে আমেরিকায় আমদানি হওয়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের নজির নেই। রাজ্যগুলির আরও অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এমন শুল্ক ফের চালু করছে, যেগুলি ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে আদালত। রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে এক বিবৃতিতে ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড বলেন, “প্রতিটি ধাপে হেরে যাওয়ার পরেও ট্রাম্প আবারও কর্মজীবী পরিবার এবং ওরেগনের স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসার ওপর আরও বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন (Trump Tariffs)।”

    ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যে নয়া শুল্ক

    গত ২৪ জুলাই নতুন শুল্কের ঘোষণা করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের আমদানিতে এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে কয়েকটি দেশ তাদের নজরদারি ও প্রয়োগব্যবস্থা জোরদার করায় তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা পেয়েছে। একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য, ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য নয়। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া পণ্যগুলিকে নতুন শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক ঘোষণার সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “প্রায় এক শতাব্দী ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই কাজ করার সময় অনেক আগেই এসেছে।”

    নতুন আইনি পথে ট্রাম্প

    আগের শুল্ক নীতিগুলি আদালতে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—শুল্কনীতিকে টিকিয়ে রাখতে নতুন আইনি পথ বেছে নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, International Emergency Economic Powers Act বা IEEPA প্রেসিডেন্টকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্যোগ আইনি ধাক্কা খায়।এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারার আওতায় সাময়িকভাবে বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প (Trump Tariffs)। পরে মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেই শুল্ককেও বেআইনি বলে রায় দেয়। যদিও প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় শুল্কগুলি আপাতত কার্যকর রয়েছে (India Tariffs)। এই আইনি পথগুলিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর এবার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদেশি সরকারের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে এই ধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও চিনের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এই একই আইনি ধারা ব্যবহার করেছিলেন। সেই শুল্ক নির্দিষ্ট একটি দেশের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছিল বলে আইনি চ্যালেঞ্জের পরেও তা বহাল ছিল।

    শুল্কনীতিতে অনড় ট্রাম্প

    একাধিক আদালতের রায়ে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প আমেরিকার উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কাঠামো বদলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে শুল্কনীতিকে তুলে ধরছেন। গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির সমান। সেই যুক্তিতে তিনি জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে আদালত সেই পদক্ষেপে বাধা দেয়। নতুন মামলার মাধ্যমে ফের স্পষ্ট হল, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কনীতিকে কার্যকর রাখতে একের পর এক আইনি পথ খুঁজছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের মাধ্যমে সেই নীতিকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। ফলে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নয়, মার্কিন (Trump Tariffs) প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়েও ফের চলে এসেছে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে।

     

LinkedIn
Share