Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল (Israel Election Results) ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে (Netanyahu) পারেনি। এদিকে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির আসনসংখ্যা এবং তাদের অবস্থানই নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত আংশিক হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দু’টি দল মিলিয়ে পেতে পারে ১৯টি আসন, যা তাদের সরকার গঠনের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এখনও পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

    নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগে তাই দু’টি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু কি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন? নাকি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করবে? শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে ইজরায়েলের রাজনীতি, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার উপর।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে নেতানিয়াহুর জোট (Israel Election Results)

    প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলির জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা থেকে তারা আটটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বর্তমান জোটের বাইরে অন্য কোনও দলের সমর্থন আদায় করা নেতানিয়াহুর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    এতদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিল দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল দলগুলি। কিন্তু নির্বাচনের ফল বলছে, এই দলগুলির সম্মিলিত শক্তি দিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্য দলগুলির সমর্থন পাওয়া অথবা নতুন কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছনো ছাড়া তাঁর সামনে বিকল্প সীমিত।

    তবে সরকার গঠনের দৌড় থেকে নেতানিয়াহু এখনই ছিটকে গিয়েছেন, এমনটা বলা যায় না। তিনি আরও বিস্তৃত জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, বিরোধী শিবিরের কোনও অংশের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে পারেন অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলাকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন (Israel Election Results)।

    বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলি যদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন এবং অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তা হলে তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই সুযোগে নেতানিয়াহু নতুন করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারেন।

    আরব দলগুলির সমর্থনে কি বিকল্প সরকার গঠন সম্ভব?

    নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্মিলিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১২টি আসন এবং রা’আম পেতে পারে সাতটি আসন। সব মিলিয়ে ১৯টি আসন তাদের হাতে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনায় এই দলগুলি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

    বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির ১৯টি আসন যোগ হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। অর্থাৎ, এই দলগুলি একযোগে সমর্থন দিলে ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। কিন্তু সংখ্যার এই সমীকরণ বাস্তবে কার্যকর করা সহজ নয়।

    বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা অতীতে আরব দলগুলির সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাঁদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে সমঝোতা করতে হতে পারে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব নাগরিক এবং তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিরোধী সরকার গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতারাও নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন আটকানোর লক্ষ্যে বিকল্প সরকার গঠনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট (Israel Election Results)।

    তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে ঐকমত্য থাকলেই যে আরব দলগুলি সরকারে যোগ দেবে, তা নয়। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও সংসদে বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারে। এই ধরনের সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে তাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংসদের সমর্থন বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার উপর নির্ভর করতে হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি?

    এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্ভাব্য ১৯টি আসন তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের হিসাব জটিল হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আরব দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনিচ্ছুক বিরোধী নেতাদের উপরও চাপ বেড়েছে।

    আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এই ফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বিরোধীদের কাছে এই দলগুলির সমর্থন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের একটি বাস্তবসম্মত পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি এবং আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সেই সম্ভাবনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে (Netanyahu)।

    ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন হল, নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলি কি তাঁকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হতে পারবে, নাকি নিজেদের মতপার্থক্যের কারণে বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে (Israel Election Results)?

    কী হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ?

    নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে অন্য কোনও নেতাকেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। অর্থাৎ, সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েন চললেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা বজায় থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    আলোচনার মাধ্যমে কোনও কার্যকর জোট তৈরি করা সম্ভব না হলে ইজরায়েলে ফের সাধারণ নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

    কোন তিনটি সম্ভাবনা সামনে?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির আরব দলগুলির সমর্থনে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনও পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ফের নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে (Netanyahu)।

    তবে এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কোন রাজনৈতিক শিবির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারছে। ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যেই (Israel Election Results)।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) দিনাজপুর জেলায় জমি বিবাদের মীমাংসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক হিন্দু শিক্ষকের। মৃতের নাম মনোরঞ্জন রায় (৫৫)। রবিবার, ২৫ অক্টোবর, প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় (Hindu Teacher) বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলায় জড়িত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

    সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মনোরঞ্জন (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রাবেয়া বাজারের সোনাপুকুর নয়াপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। মনোরঞ্জন চিরিরবন্দর উপজেলার পূর্ব সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এলাকার পরিচিত ও সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে রাস্তা ও জমি সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর জন্য আয়োজিত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

    অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দু’পক্ষকে থামাতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। সেই সময় আসাদুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের উপর লাঠি নিয়ে হামলা চালান। মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। মারধরের পর পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    এই বিবাদের নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণের কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আল রোমান নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল আসাদুজ্জামানের। আল রোমানের বাড়িতে নির্মাণকাজ করা ছুতোর ফরতাজ হোসেনের সঙ্গেও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল রোমানের।

    প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি

    প্রায় ১৩ বছর আগে আল রোমানের বাবা আজিজুল মাস্টারের মৃত্যু হয়। মনোরঞ্জন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজিজুলের মৃত্যুর পর থেকে রোমান ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মনোরঞ্জন। পরিবারের অভিভাবকের মতো তাঁদের দেখাশোনা করতেন। রোমান ও তাঁর ভাইবোনদের পড়াশোনা-সহ নানা প্রয়োজনেও সাহায্য করতেন তিনি।

    এদিকে, ফরতাজ হোসেন আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন। সেই কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে (Bangladesh) তাঁর সঙ্গে আল রোমানের বিরোধ বাধে। বাড়ির পাশের এক টুকরো জমিতে থাকা কয়েকটি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা নিয়েও রোমানের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের বিবাদ চলছিল। রোমানের অভিযোগ ছিল, তাঁর অনুমতি না নিয়েই ওই জমির গাছ কাটা হয়েছে। ফরতাজ গাছগুলি করাতকলে নিয়ে গিয়েছিলেন কাঠ চেরাই করানোর জন্য। পরে কাঠের পরিমাণ এবং তা বিক্রি করে পাওয়া টাকার হিসাব নিয়েও রোমানের সন্দেহ তৈরি হয়।

    রবিবার দুপুরে ফরতাজ হোসেন আসাদুজ্জামান ও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রোমানের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। গোলমালের খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। অভিযোগ, তখনই ফরতাজ, আসাদুজ্জামান ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর উপর হামলা চালান।

    গ্রেফতার অভিযুক্ত

    আল রোমানই পুলিশকে ঘটনার খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। হামলায় জড়িত অন্যদের সন্ধান চলছে (Hindu Teacher)।

    দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের বিবাদ মেটাতে চিরিরবন্দর থেকে এসেছিলেন ওই শিক্ষক। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় (Bangladesh) তিনি আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

     

  • India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না—এই অবস্থানেই অনড় ভারত (India Pakistan Trade)। ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ। বন্ধ হয়েছে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণও। অথচ বাণিজ্য বন্ধ থাকার পরেও ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারত থেকে ৫,৮৭৬ কোটি টাকার পণ্য আমদানি (Pak’s India Imports Spike) করেছে পাকিস্তান। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩,৪৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ওই সময়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে কোনও পণ্য আমদানি হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসছে ভারতীয় পণ্য?

    প্রশ্ন উঠছে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য? পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যানে এই পণ্য পরিবহণের নির্দিষ্ট পথের উল্লেখ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রবিন্দর সিং রবিনের মতে, ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে এখনও যথেষ্ট। সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে এই পণ্যগুলি কোন পথে পৌঁছচ্ছে এবং নথিতে উৎপত্তির দেশ হিসেবে কোন দেশের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    কোন কোন ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে বেশি?

    ভারত থেকে পাকিস্তানের আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্লাস্টিক, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রং, জৈব রাসায়নিক, রবার, কফি, চা, শাকসবজি, মশলা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং খাদ্যশস্য। বিশেষ করে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারতের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে ভারতের ওষুধ রফতানির পরিমাণ ছিল ২০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগেও নিষেধাজ্ঞার পর ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির নজির সামনে এসেছে। আরব নিউজের একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল পাকিস্তান। সেই আমদানির সিংহভাগই ছিল ওষুধ তৈরির কাঁচামাল।

    কীভাবে কার্যকর হচ্ছে ‘গ্রে-জোন’ কৌশল?

    গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর মতে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ঘুরপথে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্য রফতানির একটি বড় বাজার রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব এই পদ্ধতিকে ‘গ্রে-জোন স্ট্র্যাটেজি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতিতে ভারতীয় পণ্য প্রথমে দুবাই, সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বাণিজ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত রাখা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট পণ্যের নথি ও লেবেল পরিবর্তন করে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে পুনরায় রফতানি করা হতে পারে। এর ফলে পণ্যের মূল উৎস আড়াল করে পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। জিটিআরআই-এর অনুমান, এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক ও ঘুরপথে বাণিজ্যের মাধ্যমে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্যের রফতানি বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে এই অঙ্ক একটি অনুমান, সরকারি ভাবে যাচাই করা সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান নয়।

    কেন বন্ধ হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য?

    ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ মর্যাদা প্রত্যাহার করে ভারত। এরপর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর পর ভারত ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং পাকিস্তানে উৎপত্তি হওয়া বা পাকিস্তান থেকে রফতানি করা পণ্যের সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আমদানি ও ট্রানজিটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ মে পাকিস্তানও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য-সহ ভারতের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা করে।

    ক্রমশ কমেছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০১৯ সালে ভারতে পাকিস্তানের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে মাত্র ৪৮০,০০০ ডলারে দাঁড়ায়। পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল কাচের সামগ্রী, তামা, গন্ধক, ফল ও বাদামজাতীয় পণ্য। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভারত পাকিস্তানে ৪৪৭.৬৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল। বিপরীতে পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৪২ মিলিয়ন ডলার। সরাসরি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যে পাকিস্তানে এখনও রয়েছে, সাম্প্রতিক আমদানির পরিসংখ্যান সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসা পণ্যগুলির প্রকৃত উৎস, পরিবহণের পথ এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

  • India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) সংস্কারের নামে ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন কোনও ধরনের স্থায়ী সদস্যপদ চালু করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হবে। এর ফলে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। সোমবার এমনই স্পষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত (India)।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার অধীনে ভেটো ক্ষমতা সংক্রান্ত বিতর্কের একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পি হরিশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পরেও যদি ভেটো ক্ষমতার বিধান বহাল থাকে, তবে সমস্ত স্থায়ী সদস্যকেই সেই ক্ষমতা দিতে হবে।

    তাঁর কথায়, “ভেটো ক্ষমতা নিয়ে ভারতের অবস্থান নীতিগত এবং সুপরিচিত। আমরা আবারও স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, যত দিন ভেটো ক্ষমতা থাকবে, তত দিন সংস্কার করা নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত স্থায়ী সদস্যের হাতেই সেই ক্ষমতা থাকতে হবে।”

    নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ (India)

    বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতা ভোগ করে। দেশগুলি হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশকে দু’বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ১৯৪৫ সালের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি এই কাঠামো একুশ শতকের বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভারতের বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করলে নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক কোনও পরিবর্তন আসবে না।

    হরিশ বলেন, “ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য নতুন একটি শ্রেণি তৈরি করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণ ঘটালে কার্যত তাঁদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যে পরিণত করা হবে। এতে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সমীকরণে কোনও পরিবর্তন আসবে না।”

    শুধু ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন সদস্যপদ চালুর প্রস্তাবই নয়, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক, স্থায়ী সদস্যদের জন্য নতুন কোনও শ্রেণি তৈরিরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির মতে, এমন ব্যবস্থা চালু হলে যে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই বৈষম্যই আরও শক্তিশালী হবে।

    হরিশের সাফ কথা

    ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, “নিয়মিত নির্বাচন এবং স্থায়ী সদস্যপদের ধারণা মৌলিকভাবেই পরস্পরবিরোধী।” ১৯৬৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের শেষ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। সেই সময় পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ছয় থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছিল। এর ফলে স্থায়ী ও নির্বাচিত সদস্যের অনুপাত পাঁচ অনুপাত ছয় থেকে পরিবর্তিত হয়ে পাঁচ অনুপাত দশ হয়। ভারতের (India) বক্তব্য, এই পরিবর্তন আপেক্ষিকভাবে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

    ভারত তাই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সদস্যপদের বিভিন্ন শ্রেণি, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা, ভেটো ক্ষমতা এবং কাজের পদ্ধতি—সংস্কারের আলোচনায় এই সমস্ত বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    ভেটো ক্ষমতার পাশাপাশি আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মতির নীতির ব্যবহার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত। ভারতের মতে, এই পদ্ধতি কার্যত আড়াল থেকে ভেটো প্রয়োগের কৌশলে পরিণত হতে পারে। হরিশ বলেন, “সতেরোটি আলোচনা-পর্ব পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনও দেখানোর মতো কোনও ফল পাইনি।” তিনি স্পষ্ট সময়সীমা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রকৃত খসড়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল, কেবল অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকলে তা কার্যত ব্যর্থতার মুখে পড়বে। ভারতের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রগুলির অন্যতম এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ন্যায্য দাবিদার ভারত।

    এদিকে, ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছে নয়াদিল্লি। এই পদের নির্বাচন হবে ২০২৭ সালের জুন মাসে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত একমাত্র আসনে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ভারত।

    সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সংস্কার নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকৃত সংস্কার করতে হলে কেবল সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলেও পরিষদের পুরনো ক্ষমতার কাঠামোই অক্ষুণ্ণ থেকে যাবে (India)।

     

  • Rajnath Singh: ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা রাজনাথ-হেগসেথের

    Rajnath Singh: ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা রাজনাথ-হেগসেথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের সেবু শহরে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের ত্রয়োদশ বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় গত এক বছরে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সামরিক প্রযুক্তি, তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথ উৎপাদন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও পর্যালোচনা করেন দুই (India US Defence Framework) দেশের প্রতিনিধিরা।

    বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনাথ লেখেন, “আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের ত্রয়োদশ বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত-মার্কিন দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামোর অগ্রগতি আমরা পর্যালোচনা করেছি। সামরিক প্রযুক্তি, তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। অবাধ, উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।”

    বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিট হেগসেথও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি খুশি। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের কাঠামোর এক বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছি এবং সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি।”

    তিন দফায় প্রতিরক্ষা কাঠামো নবীকরণ (Rajnath Singh)

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয় ২০০৫ সালের ২৮ জুন। তার আগে ১৯৯৫ সালে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রথম কাঠামোটির মেয়াদ ছিল দশ বছর। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ৩ জুন নয়াদিল্লিতে দ্বিতীয় দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়।

    ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের সময় তৃতীয় দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের পক্ষে রাজনাথ এবং আমেরিকার পক্ষে হেগসেথ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করাই এই কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য।

    আসিয়ান বৈঠকে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা

    তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার সেবু শহরে পৌঁছন রাজনাথ। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দু’দিনের আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিন্ন সমস্যাগুলি নিয়ে বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গেও একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    সফর সম্পর্কে রাজনাথ সিং জানান, ভারতের ‘পূর্বমুখী নীতি’র আওতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা, আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রাখা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি (Rajnath Singh) বলেন, “এই সফরে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করব। এই আলোচনাগুলি আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার নতুন সুযোগ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

    আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের গুরুত্ব

    ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির সংগঠনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সহযোগিতার সর্বোচ্চ মঞ্চ। এর সম্প্রসারিত বিন্যাসে আসিয়ানের ১১টি সদস্য দেশের পাশাপাশি আটটি সহযোগী দেশ অংশগ্রহণ করে।

    আসিয়ানের সদস্যদেশগুলি হল ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে এবং ভিয়েতনাম। আটটি সহযোগী দেশ হল ভারত, আমেরিকা, চিন, রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

    ১৯৯২ সালে আসিয়ানের সঙ্গে (India US Defence Framework) সংলাপ-সহযোগী দেশ হিসেবে যুক্ত হয় ভারত। ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর ভিয়েতনামের হ্যানয়ে প্রথম সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সাল থেকে এই মঞ্চের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা প্রতি বছর বৈঠকে বসছেন। আসিয়ান সদস্যদেশ এবং আটটি সহযোগী দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই বার্ষিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    ২০২৬ সালে এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করছে ফিলিপিন্স। পাশাপাশি, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের কার্যচক্রে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতিত্ব করছে ভারত ও মালয়েশিয়া।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মঞ্চে ভারতের (Rajnath Singh) অংশগ্রহণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। ‘পূর্বমুখী নীতি’র আওতায় আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই বৈঠক ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

  • UAE Honours Indian Captain: ককপিটে হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতা! ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে সম্মান জানাল আমিরশাহি

    UAE Honours Indian Captain: ককপিটে হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতা! ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে সম্মান জানাল আমিরশাহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর সেই বীরত্বের স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। দুবাইয়ের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর এবং সংশ্লিষ্ট বিমানকর্মীদের সম্মানিত করল সে দেশের সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    জায়েদ সম্মানে সম্মানিত বিমানকর্মীরা

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংশ্লিষ্ট বিমানকর্মীদের ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মানে ভূষিত করেন। জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বিমানকর্মীদের হাতে সম্মান তুলে দেন। মঙ্গলবার শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের উপস্থিতিতে বিমানকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সে দেশের নেতৃত্ব। তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করে যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষাকে দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করা হয়।

    হাসপাতালে গিয়ে ক্যাপ্টেনকে কুর্নিশ শেখ হামদানের

    এর আগে গত ৩ অক্টোবর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছিলেন শেখ হামদান। ভারতীয় পাইলটের সাহস, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জীবনের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে শেখ হামদান জানান, কঠিন পরিস্থিতিতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর অসাধারণ সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কথায়, দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেনের প্রতি রয়েছে পূর্ণ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। মাচ্ছরকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করেন শেখ হামদান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মানবিকতা, শান্তি এবং জীবনের প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটিও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর, বিমানকর্মী এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা যাত্রীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছিল।

    ভারত, ইজরায়েল ও আমেরিকার নেতাদের প্রশংসা

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার তাঁর প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ‘নায়ক’ বলে অভিহিত করেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে নাগরিক বীরত্বের পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইজরায়েলও। তবে চোট থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁকে ওই পুরস্কার প্রদান করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মাঝআকাশে সংকট, গুরুতর চোট এবং প্রাণের ঝুঁকি—সবকিছুর মধ্যেও দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর সাহসিকতা এবং বিমানকর্মী ও যাত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ফের মনে করিয়ে দিল, বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

  • China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় গাড্ডায় চিন! ড্রাগনের দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলির শেয়ারবাজারে (China AI Stocks) ব্যাপক ধস নেমেছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের দর যখন টালমাটাল, তখন চিনের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারগুলির পতন আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দরপতনে চিনের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য মুছে গিয়েছে। গত চার মাসেরও কম সময়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রধান সূচক স্টার৫০ প্রায় ৪০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা নিয়ে সংশয়, চিনা পণ্যের রফতানিতে বিধিনিষেধ এবং সংস্থাগুলির অত্যধিক মূল্যায়ন—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা টাল খেয়েছে (Market Loss) বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    বিশ্বের দুর্বল শেয়ারবাজারের জন্য এই পতন যথেষ্ট উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের সম্প্রসারণে অর্থ জোগাতে সাধারণ মানুষকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বেজিংয়ের উদ্যোগও ধাক্কা খেয়েছে। গত দু’বছরের ঊর্ধ্বমুখী বাজারের প্রবণতা থমকে গিয়েছে। পুরনো উত্থান-পতনের চক্রের বদলে বাজারকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা চিন সরকার করেছিল, তা-ও বাধার মুখে। দেশের প্রধান বৃহৎ সংস্থাগুলির সূচক সিএসআই৩০০ জুন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নেমে এসেছে।

    বেজিংয়ের বিনিয়োগ তহবিল পরিচালনাকারী ডং বাওঝেনের কথায়, “শেয়ারবাজার এক উন্মত্ত জল্পনানির্ভর ঊর্ধ্বগতিতে পরিণত হয়েছিল। আর এখন আমরা সেই বুদ্‌বুদ ফেটে যেতে দেখছি।”

    নেমেছে নাসডাক সূচক (China AI Stocks)

    চিনের বাজারে এই পতন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত কয়েক বছরে চিনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের উত্থান পশ্চিমের দেশগুলি এবং এশিয়ার অন্যান্য বাজারকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল। তুলনায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলির শেয়ারে এখনও পর্যন্ত বড় ধাক্কা লাগেনি। তবে তিন সপ্তাহ আগে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছনোর পর নাসডাক সূচক প্রায় ৬ শতাংশ নেমেছে।

    বাজারের লেনদেনকারীদের মতে, চিনের শেয়ারবাজারে এই পতনের পিছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। শেয়ারের অত্যধিক দাম, করের বোঝা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্য দেশগুলির তরফে তথ্যকেন্দ্রে চিনা যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির আশঙ্কা—এই সবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

    গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, চিনের মূল ভূখণ্ডের ‘এ’ শ্রেণির শেয়ার এবং হংকংয়ের ‘এইচ’ শ্রেণির শেয়ার মিলিয়ে বাজারের মোট মূলধনের ৪২ শতাংশ দখল করেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থাগুলি। মোট লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাদের অংশ ছিল ৫৭ শতাংশ। চিনের বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বেশি হওয়ায় এই পতনের ধাক্কা এড়ানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে (China AI Stocks)।

    ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পছন্দের সংস্থাগুলির শেয়ারেও ধস

    চিনের রোবট নির্মাতা সংস্থা ইউনিট্রির শেয়ারের দর অগাস্টে বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। সংস্থাটির শেয়ার কেনার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রস্তাবিত শেয়ারের তুলনায় প্রায় আট হাজার গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

    চিনের চিপ নির্মাতা সংস্থা সিএক্সএমটির বাজারমূল্য গত এক মাসে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমেছে। অন্য দুই চিপ নির্মাতা মেটাএক্স ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস এবং মুর থ্রেডস টেকনোলজির শেয়ার গত বছর বাজারে আত্মপ্রকাশের সময় যথাক্রমে ৭০০ শতাংশ ও ৪০০ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসের পর থেকে উভয় সংস্থার শেয়ারের মূল্যও অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।

    দক্ষিণ চিনের হাইনান প্রদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী চেন ওয়েনশেং জানান, সরকারি সমর্থন রয়েছে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে অংশ নিয়েছিলেন। ইউনিট্রির মতো সংস্থায় সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগ তহবিলের অংশগ্রহণ তাঁর আস্থার অন্যতম কারণ ছিল। কিন্তু এখন চেন এবং তাঁর বন্ধুরা বিনিয়োগে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

    হতাশা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে…

    বেজিংয়ের সমর্থনপুষ্ট একটি বিনিয়োগের প্রবণতা এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। অনেকেই ঝুঁকি কম এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পক্ষে নতুন করে শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে (Market Loss)।

    যন্ত্রাংশ নির্মাতা সংস্থা ঝংজি ইনোলাইট এবং ইওপ্টোলিংক টেকনোলজির শেয়ারের দর জুন ও জুলাই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। এর অন্যতম কারণ, মার্কিন প্রশাসন চিনা সংস্থাগুলিকে আমেরিকার তথ্যকেন্দরে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা থেকে বিরত রাখার পথে এগোচ্ছে। একসময় যে সংস্থাগুলির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল, তারাই এখন অনিশ্চয়তার (China AI Stocks) মুখে।

    পতনের পরেও স্টার৫০ সূচকের সংস্থাগুলির শেয়ার তাদের গত এক বছরের আয়ের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ দামে লেনদেন হচ্ছে। একসময় এই অনুপাত প্রায় ২৫০ গুণে পৌঁছেছিল। তবু তা মার্কিন নাসডাক১০০ সূচকের প্রায় ৩০ গুণ আয়ের অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগে শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে।

    হংকংয়ের লোটাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ও প্রধান বিনিয়োগ আধিকারিক হং হাও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির ফলে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা বহু সংস্থার পরিকল্পনা থমকে যাবে।”

    ‘সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়’

    শেয়ারবাজারে এই উন্মত্ত উত্থান এবং পরবর্তী পতন চিন সরকারের বাজারকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঋণনির্ভর বিনিয়োগ এবং অতিদ্রুত লেনদেনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কমানো ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল প্রশাসন। বাজারের অতিরিক্ত উত্থান ঠেকাতে সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করেছিলেন।

    গত সপ্তাহে সংবাদ সংস্থার পাঠানো প্রশ্নের জবাবে চিনের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা চিন সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের গোড়ায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান উ ছিং শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। মূলধনবাজারের উন্নতির উপায় নিয়ে তাঁদের পরামর্শ শোনাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে বিনিয়োগ মহলের একাংশের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলির অতিরিক্ত উত্থান বাজারের কাঠামোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে (China AI Stocks)।

    ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টায় বহু বিনিয়োগকারী…

    বেজিংয়ের কিয়ানচুয়াং ক্যাপিটালের অংশীদার লিও ওয়াং বলেন, “প্রযুক্তিগত গুরুত্বকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া—অর্থাৎ বড় সূচকগুলিতে বাজারমূল্যের নিরিখে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অংশ বাড়িয়ে তোলা—মূলধনের ব্যবহারে বিচ্যুতি, এমনকি বিকৃতিও তৈরি করে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহ জল্পনামূলক বুদ্‌বুদ তৈরি হয়েছে এবং অন্য ক্ষেত্রগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধন সরে গিয়েছে।”

    তবে কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই পতন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাঁদের যুক্তি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাজারের সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আয়, বিশেষত নিয়মিত আয়ের সুযোগ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে এই পতন অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর নয়।

    এইচএসবিসির গবেষণা অনুযায়ী, গত তিন মাসে চিনা শেয়ার বিক্রি করলেও এশিয়ার বিনিয়োগ তহবিলগুলির বড় অংশ এখনও চিনের বাজারে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ ধরে রেখেছে।

    চলতি মাসের গোড়ায় প্রকাশিত নতুন সুপারিশের তালিকায় গোল্ডম্যান স্যাকস চিনের কয়েক ডজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থার মধ্যে ইনোলাইট এবং সিএক্সএমটিকে রেখেছে। অন্যদিকে, বিএনপি পারিবাস সিকিউরিটিজের কৌশলবিদ উইলিয়াম ব্র্যাটন মনে করেন, সতর্ক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বাজারে শেয়ার কেনার সুযোগ রয়েছে (China AI Stocks)।

    অন্য শিল্পক্ষেত্রে নজর বিনিয়োগকারীদের

    তবু চিনের মূল ভূখণ্ডের বহু বিনিয়োগকারী এখন অন্য শিল্পক্ষেত্রের দিকে নজর দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার শেয়ারের দাম আরও কমার অপেক্ষা করছেন।

    সাংহাইয়ের ঝুওঝু ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের অংশীদার ও তহবিল পরিচালনাকারী ওয়াং ঝুও বলেন, “চিনের অন্যান্য উৎপাদনকারী সংস্থার মতো চিপ নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও শেষ পর্যন্ত মূল্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে (Market Loss)।” তিনি আরও বলেন, “এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে চিনের শেয়ারবাজারে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। অতিরিক্ত মূল্যায়ন কাটিয়ে ওঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই (China AI Stocks) আপাতত বাজারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • India Mocks at Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কটাক্ষ, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ বলে তোপ! কী এই শব্দবন্ধ, কারা ব্যবহার করে?

    India Mocks at Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কটাক্ষ, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ বলে তোপ! কী এই শব্দবন্ধ, কারা ব্যবহার করে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে সে দেশের সরকারকে ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ (Form 47 Government) বলে কটাক্ষ করল ভারত। গত ২৪ অক্টোবর রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী (Raghoo Puri) পাকিস্তানের (India Mocks at Pakistan) অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দাবি করেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরাতেই ভারতকে নিশানা করছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকারের উপরে সেনাবাহিনীর প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।

    কী এই ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’?

    ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ কথাটি মূলত পাকিস্তানের ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, নির্বাচনে জনসমর্থন পেলেও তাঁদের প্রার্থীদের জিততে দেওয়া হয়নি। বরং নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র সমর্থনপুষ্ট জোট সরকারকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। পিটিআইয়ের দাবি, এই নির্বাচনী কারচুপির নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। যদিও এই অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখা যায় না; বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

    ফর্ম ৪৫ ও ফর্ম ৪৭-এর পার্থক্য কী?

    পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ ও ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ করতে একাধিক সরকারি ফর্ম ব্যবহার করে। তার মধ্যে ফর্ম ৪৫ এবং ফর্ম ৪৭ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ফর্ম ৪৫: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার পর প্রিসাইডিং অফিসার এই ফর্মে ফলাফল নথিবদ্ধ করেন। সেখানে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসেব-সহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচনী তথ্য থাকে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদেরও এই নথি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    ফর্ম ৪৭: একটি নির্বাচনী কেন্দ্রের অধীন সমস্ত ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একত্র করে রিটার্নিং অফিসার এই ফর্ম প্রস্তুত করেন। এতে প্রার্থীদের মোট প্রাপ্ত ভোট-সহ সামগ্রিক ফলাফলের হিসেব থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত এই ফলাফল পরবর্তী যাচাই ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ।

    পিটিআইয়ের অভিযোগ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে একাধিক আসনে ফর্ম ৪৫-এ তাদের সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন বা জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ফর্ম ৪৭-এ প্রকাশিত সামগ্রিক ফলাফলে অন্য প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাদের আরও দাবি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের ফর্ম ৪৫-এর কপি পেতেও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। ইমরান খানের দাবি ছিল, সরকারি ফলাফলের তুলনায় তাঁর দল অনেক বেশি আসনে জয়ী হয়েছিল। ফর্ম ৪৫-এর হিসাবের ভিত্তিতে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা ১৭০টি আসনে জয় পেয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছিল। তবে এই সংখ্যাকে সরকারি ভাবে স্বীকৃত ফলাফল হিসেবে দেখা যায় না। ভোটের ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও সেই সময় কারচুপির অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক বাড়িয়েছিল।

    রাষ্ট্রসংঘে ঠিক কী বলেছে ভারত?

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দেন ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরী। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে নজর সরাতেই ভারতকে নিশানা করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সে দেশের প্রকৃত ক্ষমতা সেনার হাতেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সেনাবাহিনীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করার মতো স্বাধীনতা পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের নেই। জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুরী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দেশের নাগরিকদের কল্যাণে মনোযোগ দেওয়া এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) থেকে সরে আসা। ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও কটাক্ষ করেন ভারতীয় প্রতিনিধি।

    ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কেন?

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ইমরান খানের দল পিটিআই সরাসরি দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় তাদের বহু প্রার্থী নির্দল হিসেবে লড়েছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীদের আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের সমীকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পিটিআইয়ের অভিযোগ ছিল, ভোটের প্রকৃত ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনের সরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হলেও ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধটি মূলত পিটিআইয়ের রাজনৈতিক প্রচার এবং বিরোধিতার একটি পরিচিত ভাষা হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের মার্চে মার্কিন কংগ্রেসের প্রায় ৩১ জন সদস্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে চিঠি লিখে পাকিস্তানের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

    ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতি 

    ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। তাঁর সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, তাঁর সরকারকে সরানোর পিছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন ইমরান খান। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এবং মার্কিন বিদেশ দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন সহকারী বিদেশসচিব ডোনাল্ড লু-র মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠক সংক্রান্ত একটি গোপন কূটনৈতিক বার্তা বা সাইফার পরবর্তীকালে বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।

    আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত বলে উল্লেখ করা কিছু প্রতিবেদনে ওই নথির বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়। নথিটি থেকে আমেরিকা ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এবং ইমরান খানের রাশিয়া নীতিকে ঘিরে ওয়াশিংটনের মনোভাব সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়। তবে ওই নথির উল্লেখ থেকেই ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আমেরিকা ষড়যন্ত্র করেছিল—এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির পর শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করার চেষ্টা করে। একই সময়ে ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আলোচনা হয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ) পাকিস্তানের জন্য ৩০০ কোটি ডলারের একটি স্ট্যান্ডবাই ব্যবস্থা অনুমোদন করেছিল। তবে এই আর্থিক সহায়তার সঙ্গে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগকে সতর্কতার সঙ্গে বিচার করা প্রয়োজন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ ভারতের এই মন্তব্য?

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে ভারত শুধু পাকিস্তানের কাশ্মীর সংক্রান্ত বক্তব্যের জবাব দেয়নি, বরং সে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিতর্ককেই আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে তুলে ধরে ইসলামাবাদের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ কোনও সরকারি সাংবিধানিক পরিচয় নয়। এটি মূলত পাকিস্তানের ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় হওয়া একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ। এর মাধ্যমে পিটিআই-সমর্থকরা শাহবাজ শরিফের সরকারের জনসমর্থন ও নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

     

     

     

     

     

  • Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলে ২৬তম নেসেট (সংসদ) নির্বাচনের (Israel Election 2026) দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি বিরোধীদের হাত ধরে আসবে নতুন সরকার—এই প্রশ্নের মধ্যেই উঠে আসছে ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্কের (India Israel Relation) ভবিষ্যৎ। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে ইজরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটের গঠন এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কি বদল আসবে?

    ভারতের কাছে ইজরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী দেশ। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সমীক্ষার উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোনও একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলের মধ্যে জোট-আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেই যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড়সড় পরিবর্তন আসবে, এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাই এই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।

    অটুট থাকবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইজরায়েলি দূতাবাস। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা বলেন, “কে নির্বাচিত হবেন, তা-নির্বিশেষে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের সামান্যতম পরিবর্তনও হবে না।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পাক, তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত ইজরায়েলি দূতাবাস। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইজরায়েলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কোনও নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের মেয়াদের উপর নির্ভরশীল নয়।

    মোদি-নেতানিয়াহু সম্পর্কের পর ভবিষ্যৎ সমীকরণ কী?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। তবে ইজরায়েলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সমীকরণও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে ভূমিকা নিতে পারে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক পোলার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারত ও ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী এলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিই থাকবে সহযোগিতার মূল ভিত্তি

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উৎপাদন, জল ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা বজায় রাখা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন সরকার পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েলের অবস্থান কীভাবে নির্ধারণ করে, সেদিকেও নজর রাখবে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয় বা পরাজয় দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ইজরায়েলে নির্বাচনী লড়াই

    ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নেতা নেতানিয়াহু আরও একবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তাঁর লিকুদ পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী সহযোগী দলগুলিকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইজরায়েলের ভোটের আগে ফের এক বার ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হয়ে প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্প। আজ, মঙ্গলবার ইজরায়েলে নির্বাচন রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইজরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলার পর এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে সে দেশে।

    ইজরায়েলি দূতাবাসের বার্তা

    ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফলের কারণে এতে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা (Mishelle Sirota) ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগেই জানান, ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ভারতকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারে একটি দৃঢ় ও অভিন্ন ঐক্যমত্য বা ‘ক্রস-পার্টি কনসেনসাস’ রয়েছে। তাই জরায়েলে নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক বা যে নেতাই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, ভারতের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একাধিকবার সরকার এবং জোটের পরিবর্তন হলেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। বর্তমানে ভারত ও ইজরায়েলের এই অংশীদারিত্ব শুধু কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক ক্ষেত্রে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেছে।

  • Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাদের অনুপ্রবেশের (Islamist Entryism) অভিযোগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গত ৮ অক্টোবর গৃহীত একটি প্রস্তাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সন্দেহভাজন যোগসূত্র থাকা সংগঠনগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির মোকাবিলায় ইউরোপের নীতিগত অবস্থানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Muslim Brotherhood)। এই প্রস্তাবে এমন সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, মুসলিম ব্রাদারহুডের চারটি শাখাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেও ইউরোপের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কড়া রাজনৈতিক বার্তা (Islamist Entryism)

    প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য সেলিন ইমার্ট এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। সমাজমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “এই ভোট ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলির দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।” প্রস্তাবটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ইমার্ট। তবে সমাজতন্ত্রী ও চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির একাংশের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি বয়কট করার অভিযোগও তোলেন তিনি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি) এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উগ্রপন্থা-বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক লরেঞ্জো ভিডিনোর মতে, এই ভোট ইউরোপের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শিবির এবং বামপন্থীদের মধ্যে মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্য, অধিকাংশ জাতীয়তাবাদী প্রতিনিধি প্রস্তাবটির পক্ষে থাকলেও বামপন্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর বিরোধিতা করেছে। ভিডিনো আরও জানান, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া প্রায় এক দশক ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। তাঁর মতে, বিষয়টিকে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধের দৃষ্টিতে না দেখে ইউরোপীয় সমাজের সামনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, নারী-পুরুষের সমতা এবং মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবে ইউরোপীয় মূল্যবোধকে ভিতর থেকে দুর্বল করার কাজে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে—এমন নেটওয়ার্কগুলিকে অর্থায়ন, পরামর্শ বা বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী নীতিকে ইসলাম নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সংগঠিত ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই নীতির অপব্যবহার করা উচিত নয় বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিজের সিনিয়র ফেলো এবং ইয়েমেনে নিযুক্ত ব্রিটেনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এডমন্ড ফিটন-ব্রাউন এই প্রস্তাবকে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের সূচনা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর মতে, প্রস্তাবের সুপারিশগুলিকে বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত করা সহজ হবে না।

    তিনি আরও সতর্ক করেছেন, অহিংস ইসলামপন্থাকে হিংসাত্মক উগ্রপন্থার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাঁর যুক্তি, পদ্ধতি আলাদা হলেও দুই ধরনের গোষ্ঠীর লক্ষ্য কখনও কখনও একই হতে পারে।

    অর্থায়ন ও বিদেশি প্রভাবের উপর বাড়তি নজরদারির প্রস্তাব

    প্রস্তাবে ইউরোপীয় কাউন্সিলকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনগুলিকে ইইউয়ের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত কি না, তা মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নের উৎস ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অনুসরণযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড বা রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার সন্দেহে থাকা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলিকে দেওয়া অনুদান খতিয়ে দেখতে ইউরোপীয় কমিশনের পর্যালোচনারও প্রস্তাব রয়েছে (Islamist Entryism)।

    বিদেশি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের উপর আরও কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে কাতার বা তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারকারী ধর্মীয় বক্তাদের তালিকা তৈরির জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে প্রস্তাবটি। একই ধরনের তালিকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্তরেও তৈরির পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শেনজেন ব্যবস্থার পাশাপাশি ইইউয়ের বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডার আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিনোর মতে, এই প্রস্তাব ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থা এবং সরকারগুলিকে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আরও রাজনৈতিক সমর্থন জোগাতে পারে। তবে এর ফলে অবিলম্বে বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি নিজেদের কার্যকলাপ আড়াল করতে সহযোগী সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করতে পারে।

    বামপন্থী সংগঠনের বিরোধিতা, উঠল ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক এগেনস্ট রেসিজম (ইএনএআর)। ইউরোপজুড়ে বর্ণবৈষম্যবিরোধী কাজ করা এই সংগঠনটি প্রস্তাবটিকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছে।

    ইএনএআরের অভিযোগ, ইউরোপীয় পিপলস পার্টি এমন কিছু অভিযোগকে সামনে এনেছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় মুসলিম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলির ফোরাম (ফেমিসো)-সহ বিভিন্ন সংগঠনকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এই অভিযোগগুলি খারিজ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি অন্যায্যভাবে মুসলিমদের নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠন, ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করা গোষ্ঠী এবং মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা ব্যক্তিদের নিশানা করেছে।

    ইএনএআরের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলিকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে পারে। সংগঠনটির মতে, গণতন্ত্র, সমতা এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ঘোষিত অঙ্গীকারের ক্ষেত্রেও এই ভোট নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।

    এই বিতর্কে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে দুটি ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এক পক্ষের মতে, ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির কার্যকলাপ এবং বিদেশি অর্থায়নের উপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাত

    ইউরোপে অভিবাসন, সামাজিক সংহতি, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের সঙ্গেও এই সংঘাত যুক্ত। জাতীয়তাবাদী দলগুলির একাংশ বিদেশি অর্থায়ন এবং ইসলামপন্থী উদ্দেশ্য প্রচারের সন্দেহে থাকা সংগঠনগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, বামপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বৈষম্য ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলতে পারে (Muslim Brotherhood)।

    এখন নজর থাকবে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাস্তবে কী পদক্ষেপ করে। অর্থায়ন, বিদেশি অংশীদারিত্ব, সন্দেহভাজন ইসলামপন্থী নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইউরোপীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলির পরবর্তী সিদ্ধান্তের (Islamist Entryism) উপর।

    প্রস্তাবের সমর্থকদের কাছে এটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভিতরে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সূচনা। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে তখনই, যখন প্রস্তাবের সুপারিশগুলি বাস্তব নীতি ও আইনে রূপান্তরিত হবে।

     

LinkedIn
Share