Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে ফ্রান্সজুড়ে (France Protest) সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চরম মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এক তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে। রাজধানী প্যারিস সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এই আন্দোলন চরম হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সের (France Protest) লিমোগেস শহরের প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক টাউন হল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবাক করা বিষয় হলো, যে ভবনটি অতীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সফলভাবে পার করে টিকে ছিল, তা আধুনিক ফ্রান্সের এই সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেল না।
    বিক্ষোভের কারণ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি
    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রতিবাদে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তবে এই আন্দোলন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী জোর করে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, নিস, লিমোগেস এবং বোর্দোসহ বহু শহরে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৫০ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট-এটিয়েন শহরে পুলিশের ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরের হাত উড়ে গেছে।
    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
    ফ্রান্সের (France Protest) প্রধানমন্ত্রী এই চরম মাত্রার হিংসার তীব্র নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যারা সরকারি অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি শাস্তি দেওয়া হবে। সামনেই দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বর্তমান সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করে এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছে।
  • Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা এক নির্বাহী নির্দেশে ২০২৬ সালের ‘Sanctioning Russia and Iran Act’-এর আওতায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগে ছাড় ঘোষণা করেছেন তিনি। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা নিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর নতুন করে মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ তৈরির আশঙ্কা আপাতত কমল।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ছাড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে তিনি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার উপর থেকে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বলে দেখার সুযোগ নেই। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাশিয়া সংক্রান্ত আগের নির্বাহী নির্দেশগুলির আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বহাল থাকবে।

    কী ছিল গ্রাহাম আইনের প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা?

    গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘Lindsey O. Graham Act’ নামে পরিচিত আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে রাশিয়ার জ্বালানি ক্ষেত্রকে নিশানা করার পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধেও কড়া শুল্ক আরোপের সংস্থান রাখা হয়েছিল।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাশিয়া থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি, ১৮ অক্টোবর বা তার পরে জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের নতুন সরবরাহ কিনলে রুশ জ্বালানির পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা পাঁচ বৃহত্তম দেশের পণ্যের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্কের সংস্থান ছিল।

    ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশে এই প্রস্তাবিত শুল্ক ও বিধিনিষেধ প্রয়োগে আপাতত ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত ও চিনের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত?

    রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, দেশের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরবরাহের নিরাপত্তা, প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী দামের কথা মাথায় রেখে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করলে তার প্রভাব ভারতের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ খরচের উপরেও পড়তে পারে।

    রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে নয়াদিল্লি আগে থেকেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি আমদানিকে শুধু ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নটি উপেক্ষিত হতে পারে। চিনও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিল।

    ট্রাম্পের এই ছাড়ের ফলে ভারতের উপর তাৎক্ষণিকভাবে নতুন শুল্কের চাপ তৈরির আশঙ্কা কমেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক মতপার্থক্যের স্থায়ী সমাধান বলা যাবে না। কারণ, নির্বাহী নির্দেশে রুশ জ্বালানি কেনাকাটা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

    আমেরিকায় জ্বালানির দাম, মধ্যবর্তী নির্বাচনও কি বড় কারণ?

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পিছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ তেল ও গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলির উপর নতুন করে শুল্ক চাপালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও ছিল।

    নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্প্রতি রুশ ডিজেল রফতানি ফের চালু করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে রাশিয়ার রাজস্ব বাড়বে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে মস্কো সুবিধা পেতে পারে।

    মার্কিন প্রতিনিধি ডন বেয়ারও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে খর্ব করছে।

    রুবিওর ভারত সফরে রিলায়্যান্সের শোধনাগার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর আসন্ন মুম্বই ও জামনগর সফর বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, রুবিওর সফরে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    মুম্বইয়ে একাধিক বৈঠকের পর রুবিও জামনগরে যাবেন। সেখানে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। জামনগরেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে অন্যতম, যা রিলায়্যান্স পরিচালনা করে।

    গোর আরও জানিয়েছেন, আমেরিকায় গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন তেল শোধনাগার খোলার পরিকল্পনা রয়েছে রিলায়্যান্সের। ফলে এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পেতে পারে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং রুশ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে তাই শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জ্বালানির জোগান, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ভারত-মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

    নজরদারি চলবে, ভবিষ্যতে ফের কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দেশের রুশ তেল ও গ্যাস কেনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার কোনও প্রচেষ্টা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিলে প্রেসিডেন্টকে তা জানাতে হবে।

    এই ছাড় কত দিন বহাল থাকবে, তারও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকরা যখন মনে করবেন যে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তখন এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের চাপ আপাতত কমল। তবে ওয়াশিংটনের নীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট। ভারতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এলেও ভবিষ্যতে রুশ তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন অবস্থান কোন দিকে যায়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

  • US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকটি সমীক্ষায় তাঁর অনুমোদনের হার ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

    ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ ভোটার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ২৬ শতাংশ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশের মতে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই বহুলাংশে দায়ী। কর্মসংস্থানের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম। ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম

    ফিনান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৪৫ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের অবস্থান রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা। এপি-নরক-এর ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। প্রায় ৪৬ শতাংশের দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জ্বালানি ও খাবারের খরচ বহন করা নিয়েও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। যুদ্ধের মেয়াদ, আর্থিক ব্যয় এবং তার কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ এই সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকী, রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলির দৈনন্দিন ব্যয়ে। প্রথমদিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন চলতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই আশঙ্কা রয়েছে।

    শুল্কনীতি নিয়েও বাড়ছে বিরোধিতা

    ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও জনসমর্থন হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। জানুয়ারিতে এই মত পোষণকারীর হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা। প্রশাসনের দাবি, শুল্কনীতি মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এই নীতির ফলে আমদানি করা পণ্য ও বিভিন্ন উপকরণের খরচ বাড়তে পারে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই পড়বে।

    হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনেও ভাঙন

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হিস্পানিক বা লাতিনো বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের ব্যবধান কমেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র দুই শতাংশে। গত ডিসেম্বরে এই ব্যবধান ছিল আট শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ

    আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলের পরিবর্তনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী মূল্যায়নে ১৮টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৯ থেকে ১৯টি আসন বাড়াতে পারেন। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল কর্মসংস্থান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং হিস্পানিক ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিপাবলিকানরা। ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং দলের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা।

     

  • Millben Targets Dipke: ২০২৯-এও জিতবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! ফের দীপকেকে আক্রমণ মার্কিন গায়িকা মিলবেনের

    Millben Targets Dipke: ২০২৯-এও জিতবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! ফের দীপকেকে আক্রমণ মার্কিন গায়িকা মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের কক্‌রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নিশানা করলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন (Millben Targets Dipke)। বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকার সমর্থনের কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর পাশে রয়েছেন দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও মোদির জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি।

    দীপকের উদ্দেশে মিলবেন

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (Mary Millben about PM Modi) প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের জন্য পরিচিত মিলবেন দীপকের উদ্দেশে লেখেন, “সত্য সকলকে মুক্তি দেয়। আপনাকেও।” তাঁর অভিযোগ, আমেরিকাভিত্তিক অনুদানদাতারা রাজনৈতিক সাফল্য না এলে দীপকের পাশ থেকে সরে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, “আইনহীনতা কখনও জয়ী হয় না।” এর পরেই সিজেপি নেতাকে নিজের রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তনের পরামর্শ দেন মিলবেন। দীপকের মার্কিন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রতিভাকে ইতিবাচক কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে দীপকের উচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসা। তাঁর মতে, সঠিক কাজ করার সাহসের প্রমাণ দিতে হলে দীপককে আগামী দিনে নিজের পদক্ষেপের মাধ্যমে তা দেখাতে হবে।

    মোদির পাশে ভারতীয়রা, দাবি মিলবেনের

    ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদির জনসমর্থনের পক্ষে সওয়াল করেছেন মার্কিন গায়িকা। তাঁর দাবি, মোদি আমেরিকার সমর্থনের উপর নির্ভরশীল নন। বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের সমর্থন পেয়ে আসছেন তিনি। মিলবেনের কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকার সমর্থনের প্রয়োজন নেই। তাঁর পাশে রয়েছেন ১৫০ কোটি ভারতীয় নাগরিক।” ২৫ বছরের জনজীবন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছরের দায়িত্ব এবং পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ২০২৯ সালেও মোদি জয়ী হবেন।

    কী নিয়ে সংঘাত দীপকে ও মিলবেনের?

    মিলবেন ও দীপকের এই বাক্‌যুদ্ধের সূত্রপাত বিদেশি অনুদান এবং ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এর আগে মিলবেন অভিযোগ করেছিলেন, আমেরিকাভিত্তিক কিছু অনুদানদাতা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে দীপক ও তাঁর দলকে অর্থ জোগাচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বিদেশি অনুদানদাতারা কখনও কখনও আমেরিকায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের বেছে নিয়ে তাঁদের উগ্রপন্থী করে তোলেন এবং পরে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য অর্থ সাহায্য করেন।মমিলবেনের অভিযোগের জবাবে দীপকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে বিদেশি নাগরিকদের হস্তক্ষেপের অধিকার কে দিয়েছে? তাঁর বক্তব্য, ভারতীয়রা নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে সক্ষম। দীপকে আরও দাবি করেন, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পড়াশোনার খরচ মিটেছিল বৃত্তি ও শিক্ষাঋণের মাধ্যমে। বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

    মোদিকে সম্মান মেরি মিলবেনের

    মেরি মিলবেন একজন আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি তাঁর সমর্থন বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৩ সালে মোদির রাষ্ট্রীয় আমেরিকা সফরের সময় তিনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। সম্প্রতি মোদির ২৫ বছরের জনজীবনের প্রশংসা করে তাঁকে ‘ভারতীয় স্বপ্নের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

     

  • US Teen’s Plot To Kill Indians: রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, তাই রক্ষা! শিকাগোর হিন্দু মন্দিরে ভারতীয়দের হত্যার ছক ১৯ বছরের যুবকের

    US Teen’s Plot To Kill Indians: রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, তাই রক্ষা! শিকাগোর হিন্দু মন্দিরে ভারতীয়দের হত্যার ছক ১৯ বছরের যুবকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একটি হিন্দু মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভারতীয়কে হত্যার (US Teen’s Plot To Kill Indians) পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৯ বছরের এক যুবককে। অভিযুক্তের নাম আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিস। পেশায় তিনি একটি টাকো বেল (Taco Bell) রেস্তরাঁর ক্যাশিয়ার। গত ১১ অক্টোবর শিকাগোর শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী বালাজি মন্দিরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তিনি গিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। কিন্তু তাঁর রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর মধ্যেই তাঁর এক সহকর্মী সময়মতো পুলিশকে খবর দেওয়ায় সম্ভাব্য বড়সড় হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হয়। অভিযুক্তের লক্ষ্য ছিল মন্দিরে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভারতীয়কে হত্যা করা। রবিবার মন্দিরটিতে সাধারণত তিন হাজারেরও বেশি ভক্তের সমাগম হয়। তার উপর নবরাত্রি উপলক্ষে ভক্তদের ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে হামলার পরিকল্পনা আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    সহকর্মীদের কাছে প্রকাশ্যে ভারতীয়দের হত্যার হুমকি

    আদালতে জমা দেওয়া নথি এবং সহকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাপোরাকিস কর্মস্থলে নিজেকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী (White Supremacist) বলে পরিচয় দিতেন। তিনি সহকর্মীদের কাছে ভারতীয়দের হত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলেও অভিযোগ। এমনকী, ১১ অক্টোবরের রবিবারকে তিনি ‘বিশেষ দিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা। তবে তাঁর বয়স কম হওয়ায় সহকর্মীরা প্রথমে এই হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ১১ অক্টোবর সংশোধিত এআর-ধাঁচের রাইফেল নিয়ে তিনি মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরে পৌঁছে তিনি গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাইফেলটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় গুলি বেরোয়নি। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে ফিরে যান এবং কীভাবে রাইফেলের ত্রুটি সারানো যায়, তা জানতে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করেন। এরই মধ্যে এক সহকর্মীকে ফোন করে গণহত্যার পরিকল্পনার কথা জানায় আলেকজান্দ্রোস। সেই সহকর্মী পুলিশকে বিষয়টি জানালে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মন্দিরে ফিরে যাওয়ার আগেই পাপোরাকিসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    বাড়ি থেকে উদ্ধার ৩০০ রাউন্ড গুলি, নাৎসি প্রতীক

    অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০০ রাউন্ড গুলি, বডি আর্মার, একটি গ্যাসের ক্যানিস্টার এবং নাৎসি প্রতীক ও স্বস্তিকা-চিহ্নযুক্ত একাধিক সামগ্রী। গ্যাসের ক্যানিস্টারে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে অবমাননাকর শব্দও লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে একটি ইস্তাহার বা ম্যানিফেস্টো। সেখানে অভিযুক্ত নিজেকে ‘অরোরা শুটার’ বলে উল্লেখ করেছেন। লেখায় ভারতীয়, ইহুদি, আফ্রিকান-আমেরিকান-সহ বিভিন্ন অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর বিদ্বেষের প্রতিফলন রয়েছে। নিজেকে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী নব্য-নাৎসি’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিদিন গণহত্যার কল্পনা করার কথাও ওই লেখায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

    এই ঘটনা আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষত, ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দিরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযুক্তের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না এবং হামলার পরিকল্পনায় অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না। এই ঘটনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষী ও নব্য-নাৎসি মতাদর্শের বিস্তার নিয়ে তুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

  • India At UN: সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ভারতের, রাষ্ট্রপুঞ্জে জোরালো সওয়াল

    India At UN: সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ভারতের, রাষ্ট্রপুঞ্জে জোরালো সওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) মঞ্চে সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাল ভারত (India At UN)। গত ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে এই অবস্থান স্পষ্ট করে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্বের উপর জোর দিয়েছে ভারত। মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারত জানিয়েছে, যে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড (India on Terrorism) মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে, সেগুলিকে যথাযথভাবে এই অপরাধের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের তরফে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় আইন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রেরই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্র ও জাতীয় বিচারব্যবস্থার অগ্রাধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকেও সম্মান জানাতে হবে।

    নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান

    মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি তৈরি হলে তা যেন ইতিমধ্যে কার্যকর থাকা আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার পরিপূরক হয়, সেই দাবি জানিয়েছে ভারত। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর বিধানগুলিকে হুবহু নতুন চুক্তিতে স্থানান্তরের বিরোধিতাও করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনস্বীকৃত নীতি, দেশগুলির জাতীয় স্তরে আইন প্রয়োগ ও বিচার পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি দেশের আইনগত অধিকার ও সার্বভৌমত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার উপরও জোর দিয়েছে ভারত।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো জোরদার

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি, গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমেও দেশের নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ষষ্ঠ কমিটিতে ভারতের বক্তব্যের মূল সুর, সন্ত্রাসবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। তবে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় বিদ্যমান চুক্তির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে জাতীয় বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত নীতিগুলিকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

  • Protest Against Muhammad Yunus: “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন?” নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের মুখে ইউনূস

    Protest Against Muhammad Yunus: “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন?” নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের মুখে ইউনূস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। বাংলাদেশি প্রবাসীদের একাংশ তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আক্রমণ করে। তাঁদের অভিযোগ, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ইউনূসকে লক্ষ্য করে এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলছেন, “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন? আপনি আমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন!” অন্য এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন।” বিক্ষোভকারীদের কয়েক জনের অভিযোগ, তাঁর আমলে বহু বাংলাদেশি পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইউনূসকে ‘ফিরে যান’ স্লোগান দেন।

    ইউনূসের ১৮ মাসের শাসন নিয়ে প্রশ্ন

    বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে নিউইয়র্কে পৌঁছন ইউনূস। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৮-এ পৌঁছনোর পরই একদল বাংলাদেশি প্রবাসী তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। ভিডিওয় তাঁকে হুইলচেয়ারে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসের প্রায় ১৮ মাসের মেয়াদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, যথেচ্ছ গ্রেফতার, সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং আইনজীবী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘদিন আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। ডেইলি সান-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ওই সময়ে কত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কত জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং কত জনের বিচার হয়েছে, তার প্রকাশ্য নথির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কার করা। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, বাস্তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে অনির্বাচিত নাগরিক সমাজের ব্যক্তিত্ব, একটি প্রভাবশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহি যথেষ্ট ছিল না।

    রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিক ব্যবহার

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা আরেকটি বড় অভিযোগ হল, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে। ডেইলি সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমালোচকদের একাংশের দাবি, ওই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রশাসনের কিছু অংশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে ওই সময়ে পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে এই বিক্ষোভ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকলাপ ও তার উত্তরাধিকার নিয়ে চলতে থাকা রাজনৈতিক বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এসেছে।

  • IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল সংস্থাটি। শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা, পরিষেবা ক্ষেত্রে শক্তিশালী কার্যকলাপ এবং অর্থনীতির ধারাবাহিক গতি এই আশাবাদের মূল কারণ।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশে উন্নীত করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। এবার আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের ইতিবাচক মনোভাবকেই তুলে ধরল।

    কেন ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ?

    আইএমএফ-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি আউটলুক (World Economic Outlook) রিপোর্টের সাম্প্রতিক আপডেটে বলা হয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনীতিকে গতি জুগিয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—

    • ● বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার: দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান বাজার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সহায়তা করছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তি: পরিষেবা ক্ষেত্রে স্থিতিশীল কার্যকলাপ জিডিপি বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।
    • ● অনুকূল জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি: কর্মক্ষম জনসংখ্যার সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে।
    • ● কাঠামোগত সংস্কার: ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কার দেশের উৎপাদনশীলতা ও বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে।

    আইএমএফ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সমস্ত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে ভারত এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে উঠে আসছে, যার বৃদ্ধির গতি আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

    বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?

    ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে। ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফ সামান্য বাড়িয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাস ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যেখানে ৩ শতাংশের আশপাশে, সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেশটির তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরছে। এই কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধিতে ভারতের ভূমিকা আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও বৃদ্ধির আশা

    বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    আইএমএফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তির উপর ভর করে ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল থেকেছে।

    তবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যয় বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ ও উৎপাদন খরচের উপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ইতিবাচক পূর্বাভাসের পাশাপাশি জ্বালানির দামের গতিপ্রকৃতিও নজরে রাখতে হবে।

    ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    আইএমএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, ব্রেন্ট, দুবাই ফতেহ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—এই তিন ধরনের অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

    ২০২৭ সালে অবশ্য তেলের গড় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্তরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি খাতের ভারসাম্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে।

    জার্মানি ও ব্রিটেনের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়াল আইএমএফ

    শুধু ভারত নয়, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। ২০২৬ সালে জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৩ শতাংশ হয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে উন্নত অর্থনীতিগুলির বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে এই গোষ্ঠীর জন্য ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমান করা হলেও, বর্তমানে তা কমিয়ে ৩.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

    চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের বৃদ্ধির গতি নিয়ে সংশয়

    উদীয়মান অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমার অন্যতম কারণ চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ধীরগতির বৃদ্ধি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও অন্যান্য বড় উদীয়মান অর্থনীতির দুর্বল সম্ভাবনা সামগ্রিক গোষ্ঠীর বৃদ্ধির উপর চাপ তৈরি করছে।

    অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ

    আইএমএফ-এর আগেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB), অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) এবং দুই আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা  এসঅ্যান্ডপি  (S&P) ও ফিচ্ (Fitch) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৭ শতাংশের আশপাশে রেখেছে বা বাড়িয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শক্তিশালী গতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতাকে এই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির সামনে কী বার্তা?

    আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। অভ্যন্তরীণ বাজার, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং কাঠামোগত সংস্কারের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধির গতি ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ভারতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যথেষ্ট বেশি। তবে এই পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    আন্তর্জাতিক সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশ্ববাণিজ্যের পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, আইএমএফ-এর নতুন পূর্বাভাসে স্পষ্ট—বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত আপাতত তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই সম্ভাবনা বাস্তব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কতটা প্রতিফলিত হয়।

  • Houthi Attack: রিয়াধ বিমানবন্দরে হুথি হামলা, মৃত বেড়ে ১৩, নিহত এক ভারতীয়ও

    Houthi Attack: রিয়াধ বিমানবন্দরে হুথি হামলা, মৃত বেড়ে ১৩, নিহত এক ভারতীয়ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় মৃতের (Houthi Attack) সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক ভারতীয় নাগরিকও। রবিবার সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস সূত্রে এও জানানো হয়েছে, জখম তিন ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আহত আরও (Riyadh Airport) দুই ভারতীয় সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস (Houthi Attack)

    রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায়, ১০ অক্টোবরের হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মৃতদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাস।

    দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, “১০ অক্টোবর রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য। জানা গিয়েছে, রিয়াধে হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকের আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবারের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি এবং মৃতদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেব।”

    এর পরেই দূতাবাসের আধিকারিকেরা আহত ভারতীয়দের দেখতে হাসপাতালগুলিতে যান। পরে জারি করা আরও একটি বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, তিন ভারতীয় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকলেও তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। আরও দু’জন সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বাকি আহত ভারতীয়দের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের দ্বিতীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে আরও একটি সর্বশেষ তথ্য। হামলায় আহত ভারতীয় নাগরিকেরা যে সব  হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, আমাদের দূতাবাসের আধিকারিকেরা সেই সব হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। আগেই জানানো হয়েছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিন জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন, তবে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। আরও দু’জন সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন এবং বাকিদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহত ভারতীয় নাগরিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করছি যে দূতাবাসের তরফে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা করা হবে।”

    সৌদি আরবের বক্তব্য

    এর আগে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের সাধারণ অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, এই হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। মৃতদের মধ্যে চার জন সৌদি নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমেরিকা, মিশর, জর্ডন, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন ও সুদানের এক জন করে নাগরিক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হয়েছে (Houthi Attack)।

    সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাধারণ অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করছে যে এই হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে চার জন সৌদি নাগরিক এবং অন্যদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক, এক জন আমেরিকান, এক জন মিশরীয়, এক জন জর্ডনীয়, এক জন সিরীয়, এক জন প্যালেস্টাইনি এবং এক জন সুদানি নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আরও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

    হামলার নিন্দা অস্ট্রেলিয়ারও

    এই হামলার নিন্দা করেছে অস্ট্রেলিয়াও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং সৌদি আরবে হামলা এবং অসামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা করছে অস্ট্রেলিয়া। রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলায় বহু নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হুথিদের হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।”

    উল্লেখ্য, এর আগে ৬ ও ৭ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলাগুলিতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ৩৬ জন।

    ১১ অক্টোবরের হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানোর জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন (Riyadh Airport) কর্তৃপক্ষ।

    পরপর হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। চলছে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা (Houthi Attack)।

     

  • Nepal Flood: নেপালে বুধিগণ্ডকী নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১০, ভেসে গেল ৬টি সেতু

    Nepal Flood: নেপালে বুধিগণ্ডকী নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১০, ভেসে গেল ৬টি সেতু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের গোর্খা জেলায় বুধিগণ্ডকী নদীর অববাহিকায় রবিবার ভোরে ভয়াবহ বন্যায় (Nepal Flood) অন্তত ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ছ’টি সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জনবসতি। প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বহু বাসিন্দা। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি, উদ্ধার কাজ এবং বিপন্নদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে নিরাপত্তাবাহিনী (Budhi Gandaki River)। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ গোর্খা জেলার উত্তরাংশে আছড়ে পড়ে বন্যা। নদীর জলস্তর কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা।

    ১০ জন নিখোঁজ (Nepal Flood)

    গোর্খার সহকারী মুখ্য জেলা আধিকারিক নেত্র প্রসাদ শর্মা সংবাদ সংস্থাকে জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তিনি বলেন, “আজ সকালে জেলার উত্তরাংশে বন্যা আছড়ে পড়ার পর থেকে ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়ছে এবং কমছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্কতা জারি রয়েছে। নদীর গতিপ্রবাহের উপর আমরা নিরন্তর নজর রাখছি।”

    প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্যায় ভেসে গিয়েছে ছ’টি সেতু। এর মধ্যে দু’টি মোটরযান চলাচলের উপযোগী সেতু এবং চারটি ঝুলন্ত সেতু। আরুঘাট, ত্রিপুরাসুন্দরী এবং সোতি-মানবু এলাকার সেতুগুলির ক্ষতি হয়েছে অথবা সেগুলি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন শর্মা।

    ধারছে গ্রামীণ পুরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে সংযোগকারী একটি বেইলি সেতুও বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। এ ছাড়া মাচ্ছিখোলা ও কারাউজা, ঠাডোভরিয়াং ও জগৎ এবং ঘট্টেখোলা ও ফিলিমের মধ্যে থাকা একাধিক সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনিউ ও বাগার এলাকায় প্রায় ৩৫টি বাড়ি বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। জগৎ, সাল্লেরি, দোভান এবং ঘট্টেখোলা এলাকার জনবসতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাজারেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

    ব্যাপক ক্ষতি

    চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার উপপ্রধান লক্ষ্মী গুরুং জানিয়েছেন, বন্যার জেরে এলাকার বাজারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধিগণ্ডকীর বন্যা ভোতেকোশী নদীর বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। কয়েক ডজন বাড়ি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।”

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ আশপাশের ছোট নদী ও জলধারা থেকে বিকট গর্জনের শব্দ শুনে চুমলিং ও লোকপা-সহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করেন। স্থানীয় হোটেলগুলিতে থাকা পর্যটকেরাও নিরাপদ জায়গায় চলে যান।

    উদ্ধারকাজে সেনা

    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তিনি জানিয়েছেন, তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য নেপাল সেনার একটি দলকে আকাশপথে এবং স্থলপথে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে (Nepal Flood)।

    ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টারও নামানো হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে একটি যৌথ দ্রুত প্রতিক্রিয়াদলকে আকাশপথে দুর্গত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে নেপাল সেনার তরফে জানানো হয়, ছ’জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে দুর্গত এলাকার দূরত্ব প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টার-সহ নিরাপত্তাবাহিনীর বিভিন্ন দল মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর সতর্কবার্তা, নদীর জলস্তর এখনও ওঠানামা করছে এবং ঘোলা বন্যার জল ঘট্টেখোলা এলাকার কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে পড়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে গুরুং চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ন্যাকচেট ও ফিলিম বাজারের মধ্যে সংযোগকারী সেতু ভেঙে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    বুধিগণ্ডকী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সিরদিবাস, জগৎ, সাল্লেরি, খোরলাবেসি, মাচ্ছাখোলা, সোতি, আরখেত এবং আরুঘাট এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলা হয়েছে।

    জরুরি সাহায্যের প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনের তরফে মাইকে প্রচারও চালানো হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ অগাস্ট নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল দেশটি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া ও ত্রিশূলী নদী এলাকায় বন্যায় ১,৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল (Budhi Gandaki River)।

    বর্তমানে গোর্খা জেলায় বুধিগণ্ডকী নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখছে প্রশাসন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে (Nepal Flood)।

     

LinkedIn
Share