Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Hina Baloch: “পাকিস্তানের বহু মানুষই নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখে”,  বিস্ফোরক দাবি পাকিস্তানের হিনা বালোচের

    Hina Baloch: “পাকিস্তানের বহু মানুষই নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখে”, বিস্ফোরক দাবি পাকিস্তানের হিনা বালোচের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) অনেক মানুষই সামাজিক চাপ, ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং পারিবারিক প্রত্যাশার কারণে নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী হিনা বালোচ (Hina Baloch)। তাঁর একটি ভাইরাল ভিডিও অনলাইনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ভিডিওতে পাকিস্তানে যৌনতা নিয়ে সাহসী মন্তব্য করেছেন তিনি। ১ এপ্রিল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বালোচ বলেন, “দেশের অনেক মানুষ সামাজিক চাপ, ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং পারিবারিক প্রত্যাশার কারণে নিজেদের যৌন পরিচয় লুকিয়ে রাখেন।”

    অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সমকামী (Hina Baloch)

    ওই সাক্ষাৎকারে বালোচ এমন এক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন, যা মানুষ প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চায় না। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় পাকিস্তানের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ আসলে সমকামী। তারা এটা প্রকাশ্যে বলতে চায় না, কিন্তু আমি মনে করি ৮০ শতাংশ মানুষ সমকামী এবং বাকি ২০ শতাংশ উভকামী।” তিনি এও বলেন, “যৌনতার দিক থেকে পাকিস্তানে কেউই পুরোপুরি ‘স্ট্রেইট’ নয় বলে আমি মনে করি (Pakistan)।” তাঁর মতে, অনেক মানুষ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে নিজেদের পরিচয় দমন করে বা অস্বীকার করে। হিনা বলেন, “তারা এটা অস্বীকার করবে, ধর্মের কথা তুলবে, সংস্কৃতির কথা বলবে—কিন্তু এটা এক ওপেন-সিক্রেট বিষয়। পাকিস্তানে কেউই স্ট্রেইট নয়।”

    বালোচের নিজের মুখে ‘কিশোরী বেলা’র কথা

    বালোচ নিজের জীবনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বড় হওয়ার সময় তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল না যৌনতা, বরং নিজের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা। বালোচ (Hina Baloch) বলেন, “আমি ভাবতাম কীভাবে লিপস্টিক লাগাবো, অথচ পরিবারের কাছে গালাগাল খাবো না। কীভাবে মহিলাদের মতো পোশাক পরব, গয়না পরব, আর মারধরের শিকার হব না?” বালোচ পাকিস্তানের খাওয়াজা সরা (ট্রান্সজেন্ডার) সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সুযোগের অভাবে অনেককে ভিক্ষা, নাচ বা যৌনকর্মের মতো সীমিত ও প্রায়ই শোষণমূলক কাজে ঠেলে দেওয়া হয় (Hina Baloch)। এই সীমাবদ্ধতা অস্বীকার করে তিনি আন্দোলনের পথ বেছে নেন এবং সিন্ধ মুরাত মার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হন। তিনি পাকিস্তানের ‘আওরাত মার্চ’-এও অংশ নেন এবং ট্রান্সজেন্ডার ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সোচ্চার হন (Pakistan)।

    অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার বালোচ

    বালোচ আগে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর আন্দোলনের কারণে তিনি হিংসার শিকার হন—প্রাইড পতাকা উত্তোলনের পর তাঁকে আক্রমণ করা হয়, এমনকি অপহরণ ও নির্যাতনেরও শিকার হন তিনি। এসব ঘটনার ফলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য হতে হয় (Hina Baloch)। পরে তিনি চলে যান ব্রিটেনে। সেখানে তিনি এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে পড়াশোনা করেন, আবেদন করেন শরণার্থী মর্যাদার জন্য

     

  • LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৪৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি (LPG) বহনকারী একটি ট্যাঙ্কার শনিবার সকালে পার হল হরমুজ প্রণালী। ৬ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বই বন্দরে পৌঁছবে বলেই আশা। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের তরফে (Hormuz Strait) জানানো হয়েছে, এলপিজি বহনকারী জাহাজ গ্রিন সানভি বর্তমানে প্রণালী পার হয়ে গিয়েছে। জাহাজ মন্ত্রকের কর্তারা জানান, জাহাজটি ৪৬,৬৫৫ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করছে।

    ভারতীয় বন্দরে দুই জাহাজ (LPG)

    দিন কয়েক আগেই হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতীয় বন্দরে পৌঁছেছে দুটি এলপিজি ভর্তি ট্যাঙ্কার। এর মধ্যে জাগ বসন্ত (Jag Vasant) কাণ্ডলায় পৌঁছেছে ৪৭,৬১২ মেট্রিক টন এলপিজি, আর পাইন গ্যাস (Pine Gas) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি পৌঁছে দিয়েছে। আরও দুটি এলপিজি জাহাজ গ্রিন আশা (Green Asha)  এবং জাগ বিক্রম (Jag Vikram) বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। পদস্থ এক নৌ-আধিকারিক জানান, ওই অঞ্চলে আটকে থাকা সব জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

    শিপিং কর্তার বক্তব্য

    এদিকে, বিডাব্লু টিওয়াইআর নামের এলপিজি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই মুম্বই পৌঁছে গিয়েছে। মুম্বই আউটার পোর্ট লিমিটসে জাহাজ-থেকে-জাহাজ পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করা হয়েছে। আর একটি জাহাজ বিডাব্লু ইএলএমকে এন্নোর বন্দরের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভারতে পৌঁছানোর কথা এই জাহাজটির (Hormuz Strait)। শিপিং-কর্তা জানান, বর্তমানে ১৭টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে, ২টি ওমান উপসাগরে, ২টি এডেন উপসাগরে এবং ১টি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন।

    ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য!

    পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০,৫০০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০৪ জন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত, এবং ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ১,১৩০ জন নাবিককে সরিয়ে নিয়েছে (LPG)। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান সমন্বয় এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ ও সময় মতো চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় বন্দরে এলপিজির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)। এই ঘটনাপ্রবাহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনা এবং নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, যাতে নির্বিঘ্নে ভারতে পৌঁছতে পারে জ্বালানি ভর্তি ট্যাঙ্কার (LPG)।

     

  • US Army Chief: মার্কিন সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জের পদত্যাগ! ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ আবহে বিরাট চাঞ্চল্য

    US Army Chief: মার্কিন সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জের পদত্যাগ! ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ আবহে বিরাট চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্দরে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা প্রকাশ্যে এসেছে। সেনাপ্রধান (US Army Chief) জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মূলত প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের (Defence Secretary Pete Hegseth) সঙ্গে গভীর মতপার্থক্যের জেরেই তাঁকে সরে যেতে হল বলে জানা গেছে।

    নীতিগত সংঘাত (US Army Chief)

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের গৃহীত বেশ কিছু সামরিক সংস্কার এবং নীতির সঙ্গে একমত হতে পারছিলেন না জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জ (US Army Chief)। বিশেষ করে বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াই চলছিল।

    নেতৃত্বের ধরণ নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে হেগসেথের কাজের ধরণ এবং সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর কঠোর অবস্থান সেনাপ্রধানের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল (Defence Secretary Pete Hegseth)। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রদবদল নিয়ে দুজনের মধ্যে চূড়ান্ত মতবিরোধ (US Army Chief) তৈরি হয়।

    প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে জর্জ ইরাক ও আফগানিস্তানে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুসারে, আফগানিস্তানে তিনি দুর্গম উপত্যকাগুলো থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের তত্ত্বাবধান করেছেন। মার্কিন বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

    জেনারেল জর্জের (US Army Chief) এই আকস্মিক বিদায় মার্কিন সেনাবাহিনীর চেন অফ কমান্ডের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে সেনাপ্রধানের এই প্রস্থানকে অনেকেই ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করছেন।

    দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, হেগসেথ এবং জর্জের মধ্যকার উত্তেজনার কারণ সেনাবাহিনীর দিকনির্দেশনা নিয়ে কোনও মৌলিক মতবিরোধ ছিল না। বরং, সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, এই বিরোধের মূল কারণ ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি হেগসেথের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ এবং মার্কিন সেনা সচিব ড্যানিয়েল পি ড্রিসকলের সাথে তার তিক্ত সম্পর্ক।

    রাজনৈতিক প্রভাব

    সমালোচকদের একাংশের মতে, পেন্টাগনের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর যে চেষ্টা চলছে, এই পদত্যাগ তারই একটি বড় প্রতিফলন। জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জের পদত্যাগ কেবল একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায় নয়, বরং এটি মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা ফাটলের বহিঃপ্রকাশ। হোয়াইট হাউস এখন এই শূন্যস্থান পূরণে কাকে বেছে নেয় এবং হেগসেথের সাথে নতুন সেনাপ্রধানের রসায়ন কেমন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।

  • US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পারস্য উপসাগর এলাকায় আবারও ভেঙে পড়ল মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান (US Iran Conflict)। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। সেই বিমানের দুই পাইলট ঝাঁপ দেন। এর পরেই মার্কিন বায়ুসেনার এ-১০ ওয়ারথগ (Fairchild Republic A-10 Thunderbolt II/ A-10 Warthog) বিমানও দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানে থাকা দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বিমানটি হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) কাছাকাছি এলাকায় ভেঙে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শুধু তাই নয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত এফ-১৫ই বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে বের হওয়া দুই ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

    দুর্ঘটনা না ধ্বংস!

    আল জাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় একটি মার্কিন এ-১০ বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান (US Iran Conflict)। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরের কাছে ঘটেছে। বর্তমানে আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই হরমুজ প্রণালী। উল্লেখ্য, এই এ-১০ ওয়ারথগ বিমান জমিতে লড়াইয়ের সময় সাহায্যের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “শত্রু” এ-১০ বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাতেই ভেঙে পড়ে মার্কিন বিমান (US Jet Crash)। তবে, বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    এফ-১৫ ভেঙে পড়েছিল আগেই

    এই ঘটনার আগে ইরানের আকাশসীমায় একটি এফ-১৫ (F-15E Strike Eagle) যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে আমেরিকার একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল তেহরান। তাতে দু’জন পাইলট ছিলেন। এক জনকে উদ্ধার করা গেলেও আর এক জনের খোঁজ এখনও পায়নি মার্কিন সেনা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান জুড়ে ‘শত্রু’ পাইলটকে জীবন্ত ধরে আনার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম এই কাজে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। বলা হচ্ছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের (US Jet Crash) ওই পাইলটকে যদি জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ইরানি সেনার হাতে তুলে দেওয়া যায়, সেনা উপযুক্ত সম্মান এবং পুরস্কার দেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, ইরানে ভেঙে পড়া বিমানটি এফ-১৫ই। এতে এক জন পাইলট থাকেন। পিছনের আসনে থাকেন এক জন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার। সংবাদসংস্থা এপি-র রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে পাইলট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি কী অবস্থায় আছেন, এখনও স্পষ্ট নয়। ওই বিমানের আর এক অফিসারকে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনা। দ্বিতীয় জনের খোঁজ চলছে। কিছু প্রতিবেদনে আবার বলা হচ্ছে তিনি ইরানের হেফাজতে।

    পাইলট ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

    ইরানের (US Iran Conflict) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রাদেশিক গভর্নর দাবি করেছেন, যে কেউ মার্কিন পাইলটকে ধরতে বা হত্যা করতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এমনকি স্থানীয় মানুষদের পাইলট খোঁজার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে বলেও খবর। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহ্‌গিলুয়ে এবং বয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ে। এটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা। ইরানের সংবাদমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে এই সমস্ত এলাকার মানুষদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, ‘‘আমেরিকান পাইলটকে খুঁজতে আমাদের সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। আপনারা যদি শত্রু দেশের ওই পাইলটকে ধরতে পারেন এবং সেনার হাতে তুলে দেন, অনেক পুরস্কার ও বোনাস পাবেন।’’ কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন পাইলটকে খুঁজে পেলেই গুলি করে দেওয়া হোক। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিবৃতি দিয়ে অনুরোধ করেছে, আমেরিকান পাইলটকে খুঁজে পেলে কেউ যেন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না-করেন। তাঁকে যেন সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে আরও দাবি, মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে ইরানের ওই দুর্গম এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন।

    ইরানের দাবি

    শুক্রবারই ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর তরফে আবার দাবি করা হয়েছিল, মধ্য ইরানে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তারা। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র ইরানের প্রেস টিভিকে জানান, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে পাইলটের জীবিত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। মার্কিন বিমান ধ্বংসের পর ইরান গোটা ঘটনাকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। মুম্বইয়ে ইরানের দূতাবাসের তরফে এই বিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। একইসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হল। ইরান একটি শক্তিশালী দেশ। কারও সামনে মাথানত করে না।’

    ট্রাম্পের অসন্তোষ

    ইরান যুদ্ধ (US Iran Conflict) শুরু হওয়ার পর থেকে এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পুরোদমে লড়ছে ইরান। শুক্রবারই দুটি মার্কিন যুদ্ধ বিমান গুলি করে নামানোর দাবি করে ইরানি সেনা। তবে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে প্রথমবার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই ঘটনাগুলির কোনও প্রভাব ইরানের সঙ্গে চলা কূটনৈতিক আলোচনায় পড়বে না। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এই ঘটনাগুলির কূটনীতি বা আলোচনার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। এটা যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধের মধ্যেই আছি।” এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ট্রাম্প দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তবে তাঁর কথায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। তবে, ইরানের দাবি, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের ২ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারকেও তারা গুলি করে নামিয়েছে।

    ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছে না ইরান

    ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাপক ভাবে ধাক্কা খেয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত হয়ে রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের মধ্যস্থতার পরেও আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি নয়।

    ক্ষয়ক্ষতির হিসেব

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-র বেশি আহত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনা ইরানের হাতে বন্দি হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। ক্রমাগত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনা এবং ইরানের US Iran Conflict) পাল্টা দাবিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।

  • Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ (Deputy PM Manturov)। আজ, ২ এপ্রিল ভারত সফরে এসেছেন তিনি, যা দুই দিনের একটি সরকারি সফর। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যা আদতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জানায়, “রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতি ডেনিস মান্তুরভকে নয়াদিল্লিতে আন্তরিক স্বাগত। সফরের সময় তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Russia)

    ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের তরফেও তাঁর আসার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, চলতি সফরে রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক আলোচনা হবে। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মান্তুরভ বলেন, “এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক সম্প্রসারণ (Deputy PM Manturov)।” তিনি এও বলেন, “পারস্পরিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, লজিস্টিক চেন শক্তিশালী করা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা এবং নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ২০৩০ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।”

    সফরের বহুমুখী গুরুত্ব

    নয়াদিল্লতে থাকার সময় মান্তুরভ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যা এই সফরের বহুমুখী গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে (Deputy PM Manturov)। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার রফতানি ছিল ৬৩.৮ বিলিয়নেরও বেশি, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়নের কম। এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণ ভারতীয় বাজারে সস্তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি বৃদ্ধি।

    ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ

    ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৮ শতাংশ হয়েছে। এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি কৌশলের অংশ (Deputy PM Manturov)। ভারত ও রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা। এছাড়া বাণিজ্যের কাঠামোগত বাধা দূর করা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত একই সঙ্গে তার জ্বালানি আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ দেশে সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নির্ভরতা কমে।

    ব্রিকস সম্মেলন

    রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেনকো জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তিনি জানান, মস্কো এই সম্মেলনে ঐকমত্য গঠনে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল রফতানি নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে যে তেল চুক্তি রয়েছে, তাকেও সম্মান করবে (Deputy PM Manturov)। রুডেনকো বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে রাশিয়া সফর করবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। এবার পরবর্তী সম্মেলন মস্কোয় হবে। সেখানেই ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন পুতিন-মোদির (Deputy PM Manturov)।

     

  • Iran War: ভরসা সেই ভারতই, তীব্র জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে হাত পাতল বাংলাদেশ-মলদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা

    Iran War: ভরসা সেই ভারতই, তীব্র জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে হাত পাতল বাংলাদেশ-মলদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিপদে পড়ে সাধুও কলার খোসা খায়! তেমনই দশা হয়েছে বাংলাদেশ, মলদ্বীপের। মাস কয়েক আগেও ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগান দিচ্ছিল (Iran War) যারা, তারাই (Energy Crisis) ফের হাত পাতছে ভারতের কাছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সঙ্কট চরমে। এমতাবস্থায় ভারতের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশ এবং মলদ্বীপকে। শ্রীলঙ্কাকেও জ্বালানি দেবে নরেন্দ্র মোদির ভারত। যে ভারতের বিরুদ্ধে এক সময় কুকথা বলেছিল বাংলাদেশের মৌলবাদীরা, বয়কটের ডাক দিয়েছিল ভারতীয় পণ্য, জ্বালানি সঙ্কটের জেরে সেই মোদি সরকারের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশ-মলদ্বীপকে। আর ভারত? যাবতীয় তিক্ততা ভুলে গিয়ে সে বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। এটি তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ।

    হরমুজ প্রণালী (Iran War)

    অবশ্য একটি কঠিন সত্য হল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এশিয়ার দেশগুলির জন্য নির্ধারিত। এতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো জ্বালানি আমদানি-নির্ভর দেশগুলির দুর্বলতা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে ইরান ভারতের “বন্ধু” হিসেবেই চিহ্নিত। তাই তেল এবং এলপিজি  ট্যাঙ্কারগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। যার ফলে স্বস্তিতে নয়াদিল্লি। জানা গিয়েছে, সঙ্কটকালে ভারত ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায়। বিবেচনা করা হচ্ছে মলদ্বীপের অনুরোধও। যদিও ভুটান ও নেপালে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে নরেন্দ্র মোদির দেশ (Iran War)।

    কী বললেন রণধীর জয়সওয়াল

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ওই দেশগুলি ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছে (Energy Crisis)। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন বিবেচনা করেই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় দু’মাসের জ্বালানি মজুদ থাকায় আতঙ্কের পরিস্থিতি নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সঙ্কটকালে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত অপরিহার্য শক্তি। ইরান-যুদ্ধজনিত সঙ্কটের সব চেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। দেশটি ৯৫ শতাংশ তেল এবং ৩০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত ডিজেলের অভাবে হুমকির মুখে।

    বাংলাদেশকে সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে, স্থগিত করা হয়েছে পাঁচটির মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার কাজকর্ম।এই সঙ্কট-পর্বের মোকাবিলা করতে ভারতের সাহায্য চেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকেও জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে (Energy Crisis)। জানা গিয়েছে, ১০ মার্চ ভারত বাংলাদেশকে ৫,০০০ টন ডিজেল পাঠিয়েছে। এটি ১৫ বছরের চুক্তির অংশ। পরবর্তী সপ্তাহে আরও ১০,০০০ টন এবং নতুন করে ৭,০০০ টন ডিজেল পাঠানো হচ্ছে। এই সহযোগিতার ঘটনা এমন একটি সময়ে ঘটছে, যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নয়া সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে (Iran War)।

    “বয়কট ইন্ডিয়া” স্লোগান

    ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় তলানিতে পৌঁছয় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক। সেই সময় “বয়কট ইন্ডিয়া”-সহ ভারতবিরোধী মনোভাব বেড়ে গিয়েছিল। সেই আবহে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হয় গভীর। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে অবশ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের লেখচিত্র ফের ঊর্ধ্বমুখী। এক বছর আগেও ভারতের কড়া সমালোচক ছিল মলদ্বীপ। এখন জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু “ইন্ডিয়া আউট” প্রচারের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করেন এবং চিনের দিকে ঝোঁকেন। তবে বর্তমান সঙ্কটের প্রেক্ষিতে মলদ্বীপ আবার ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়েছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির এই দেশ মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে (Iran War)। পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির ঘাটতিতে দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির। মলদ্বীপ এখন ভারতের কাছে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ করেছে, যা বিবেচনা করছে দিল্লি (Energy Crisis)।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা

    শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তখন দেশটি চিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষা করে চিনা জাহাজকে বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। বর্তমান ইরান যুদ্ধ আবারও শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দেশটি তার ৬০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে, যার বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সঙ্কটের কারণে জ্বালানির দাম ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে (Iran War)। মার্চের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন। এর পরেই ভারত দ্রুত ২০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল ও ১৮,০০০ মেট্রিক টন পেট্রোল পাঠায়। দিসানায়েকে বলেন, “ভারতের দ্রুত সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলের পরিস্থিতি অস্থির ছিল। যার প্রমাণ মলদ্বীপে “ইন্ডিয়া আউট” প্রচার বা বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তির মাথাচাড়া দেওয়া। কিন্তু ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কট একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে। এটি হল, রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, ভৌগোলিক বাস্তবতাই গুরুত্বপূর্ণ (Iran War)। এই বাস্তবতায় (Energy Crisis) দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত এখনও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

  • Pakistan: একটা রুটির জন্য জেহাদিদের যৌন লালসার শিকার হয় গরিব কাশ্মিরী মেয়েরা! বোমা ফাটালেন পাক ধর্মগুরু

    Pakistan: একটা রুটির জন্য জেহাদিদের যৌন লালসার শিকার হয় গরিব কাশ্মিরী মেয়েরা! বোমা ফাটালেন পাক ধর্মগুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বোমা ফাটালেন পাক ধর্মগুরু মুফতি সঈদ খান! তাঁর অভিযোগ, কাশ্মীরে (Kashmir) সক্রিয় জেহাদিরা অসহায় (Pakistan) মহিলাদের খাদ্যের মতো মৌলিক প্রয়োজনের বিনিময়ে যৌন শোষণে বাধ্য করছে।

    “কাশ্মীর এবং আমাদের ভণ্ডামি” (Pakistan)

    সঈদ পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। “কাশ্মীর এবং আমাদের ভণ্ডামি” শিরোনামের এক আলোচনাসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে, বিদ্রোহের এক অন্ধকার বাস্তবতা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, শরণার্থী শিবিরে থাকা নারী ও কিশোরীদের একটি রুটির বিনিময়ে যৌন সুবিধা দিতে বাধ্য করা হত। ওই ধর্মগুরুর মতে, যেসব গোষ্ঠী নিজেদের “মুজাহিদিন” বা ধর্মীয় যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেয়, তারা বাস্তবে বাস্তুচ্যুত ও আর্থিকভাবে অসহায় নারীদের লক্ষ্য করে তাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে। তাঁর মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, এমন এক জোরপূর্বক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যেখানে বেঁচে থাকার মৌলিক প্রয়োজনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে (Kashmir)।

    গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি

    ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র এই বক্তব্যকে “গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, পাকিস্তানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিসরের ভেতর থেকে এই ধরনের স্বীকারোক্তি খুবই বিরল (Pakistan)। কর্তাদের ধারণা, এই মন্তব্যগুলি দীর্ঘদিনের সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করে, যেখানে বলা হয়েছে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি ‘জেহাদে’র আড়ালে স্থানীয় জনগণের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলি আরও জানিয়েছে, এই তথ্যগুলি পূর্বে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে শেয়ার করা ভারতের গোপন নথিপত্রের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব নথিতে বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষ করে আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা অঞ্চলে হিংসা ও শোষণে জড়িত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলিকে মদত দেয়।

    ধর্মগুরুর বক্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব

    প্রতিবেদনগুলিতে বলা হয়েছে, এই ধর্মগুরুর বক্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এটি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন হিংসা ও জোরপূর্বক শোষণের বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যদি এই সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের “নৈতিক ও আদর্শিক সংগ্রাম” সম্পর্কিত বিষয় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এই বিতর্ক আবারও অঞ্চলটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মানবিক মূল্য, বিশেষ করে নারী ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাবকে নিয়ে এসেছে সামনের সারিতে। পাশাপাশি এটি জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির ভূমিকা এবং ভূরাজনৈতিক বয়ানের আড়ালে থাকা বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি নিয়ে (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

  • Masood Azhar’s Brother Dies: কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা, পাকিস্তানে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের দাদার রহস্যজনক মৃত্যু

    Masood Azhar’s Brother Dies: কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা, পাকিস্তানে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের দাদার রহস্যজনক মৃত্যু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে ফের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর প্রধান মাসুদের পরিবারে রহস্যমৃত্যু। দিল্লির পার্লামেন্ট থেকে পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের (Jaish chief Masood Azhar) বড় ভাই, সংগঠনের শীর্ষ নেতা মহম্মদ তাহির আনোয়ারের রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। পাকিস্তানের বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, তার মৃত্যু কী ভাবে হয়েছে তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি। স্বাভাবিক মৃত্যু, অসুস্থতা, নাকি অন্য কোনও কারণ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। মাসুদ আজহারের (Masood Azhar’s Brother Dies) দাদার মৃত্যুর খবর মিললেও ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তানের প্রশাসনের তরফেও কোনও বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, ফলে বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় বহওয়ালপুরে জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে জইশের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভারতে একাধিক হামলার মূল চক্রী তাহির

    দীর্ঘদিন ধরে জইশের ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ এবং নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরির নেপথ্যে অন্যতম মূল চক্রী ছিল এই তাহির আনোয়ার। জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডার ছিল মাসুদের বড় ভাই তাহির। জঙ্গি সংগঠনের প্রধান মাসুদের ১২ ভাইবোনের মধ্যে সে-ই বড়। জইশ-এর একাধিক ভারতবিরোধী হামলায় যুক্ত ছিল তাহির। ৬২ বছর বয়সি এই জঙ্গি নেতা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জইশের সামরিক শাখার প্রধানের ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন অভিযানের আগে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব থাকত তাহিরের উপরেই। ভারতে সংসদে হামলা, পুলওয়ামা হামলার সময়েও জঙ্গিদের প্রশিক্ষণে মাসুদের এই দাদার ভূমিকা ছিল বলে দাবি। সূত্রের খবর, জইশ-ই মহম্মদে যোগদানের আগে তারিক পোল্ট্রি খামারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৯৯৯ সালে কান্দাহর কাণ্ডে মাসুদ ভারতের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার পরে জইশকে ঢেলে সাজায়। ২০০১ সালে তার ডাকে সংগঠনে যোগ দেয় জঙ্গি নেতার বড়দা তারিক। ২০০১ সাল থেকে আনোয়ার জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন, পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণের তত্ত্বাবধান করে আসছিল। ফলে তার মৃত্যু জইশের জন্য বড় ক্ষতি বলে দাবি করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

    মারকাজের দায়িত্বে তাহির

    তাহির দীর্ঘ সময় ধরে জইশের নানা কাজকর্ম সামলাচ্ছিল। সংগঠনের অন্যতম মাথা ছিল সে। মাসুদের আর এক ভাই ইব্রাহিম আজহার আফগনিস্তানে নানা জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত। তাহিরের দায়িত্বে ছিল সশস্ত্র জঙ্গিরা। পরবর্তী কালে তাকে মারকাজ উসমান-ও-আলির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারত যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিঁদুর অভিযান চালাচ্ছিল, সেই সময় এই মারকাজেই অস্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছিল মাসুদ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারকাজের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। তার পরই তাহিরকে মারকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, বাহাওয়ালপুরে জইশের নতুন নবপ্রতিষ্ঠিত সদর দফতর ‘মারকাজ উসমান-ও-আলি’-তেই গত কয়েক মাস ধরে থাকছিল তারিক। সোমবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সেখানেই মারা যায় সে। সূত্রমতে, সোমবার রাতেই আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টায় মারকাজ উসমান-ও-আলি কমপ্লেক্সের ভিতরেই তার জানাজার নমাজ সম্পন্ন হয়। সংগঠনটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সদস্য জানাজায় উপস্থিত ছিল। মাসুদ আজহার, ইব্রাহিম আজহার, তালহা আল সাইফ, আবদুর রউফ এবং মহম্মদ আম্মার আলভির উপস্থিতির কথা জানা গিয়েছে।

    ভারতে জঙ্গি-হামলায় জইশ যোগ

    গত বছর সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানের যে সব জায়গায় হামলা চালিয়েছিল ভারত, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বহওয়ালপুর। সেই সময় এক রাতে পাকিস্তানের ২১টি জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় মৃত্যু হয় জইশ প্রধান আজহারের পরিবারের ১০ জনের। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে সেই সময় দাবি করা হয়, ওই হামলায় নিহত হয়েছেন মাসুদের বোন এবং ভগ্নিপতিও। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন মাসুদ। এমনকী, রাষ্ট্রপুঞ্জও মাসুদকে ‘জঙ্গি’ বলে দাগিয়ে দেয়। তিনিই জইশের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০২ সালে সরকারি ভাবে জইশ-ই-মহম্মদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তা কেবল খাতায়কলমে। পাকিস্তানের ক্যাম্পাসে বসে বিনা বাধায় কাজ করত জইশ জঙ্গিরা। ভারতে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার নেপথ্যেই ছিল জইশ। ২০০১ সালে দিল্লিতে সংসদে হামলা হোক বা ২০১৬ সালে পঠানকোটে বিমানঘাঁটি কিংবা ২০১৯ সালের পুলওয়ামায় হামলা— এমন নানা জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল জইশ।

    অন্তরালে আজহার

    তাহিরের মৃত্যু হলেও ২০০১ সালের সংসদ হামলার পর থেকে এখনও অন্তরালে রয়েছেন মাসুদ আজহার। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে বহওয়ালপুরে আবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় গোয়েন্দারা, তার গতিবিধির উপর কড়া নজর রেখেছিলেন। সর্বশেষ খবর থেকে জানা যায়, বাহওয়ালপুরের ওই ক্যাম্পাসে বসেই আবার নতুন করে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল আজহার। অপরাশেন সিঁদুরে পরিবারের সদস্য ছাড়াও, জইশ প্রধানের একাধিক ছায়াসঙ্গী এবং সংগঠনের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন কমান্ডার খতম হলেও, আজহার ছিল অধরা। তবে, সব মিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে আর্থিক ও সামরিক দিক থেকে খাদের কিনারায় থাকা জইশ-ই-মহম্মদের আর এক শীর্ষ নেতার মৃত্যু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক।

  • US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত পাকিস্তান। পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রেক্ষিতেই এমনতর দাবি করেছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। পাকিস্তানের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়ে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাক নেতৃত্বাধীন এমন কোনও প্রচেষ্টার (US Iran War) সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। সোমবার মুম্বইয়ে ইরানের কনসুলেট জেনারেল জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেবল অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। কনসুলেট আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের যে কোনও মঞ্চ তাদের নিজস্ব বিষয়, সেখানে ইরান অংশ নেয়নি।

    কনসুলেট জেনারেলের বক্তব্য (US Iran War)

    এক বিবৃতিতে কনসুলেট জেনারেল জানান “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক কিছু দাবি এসেছে। আমেরিকার ‘কূটনীতি’ বারবার অবস্থান বদলায়। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। পাকিস্তানের মঞ্চ তাদের নিজস্ব। আমরা তাতে অংশ নিইনি। আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান স্বাগত, তবে মনে রাখতে হবে—কে এই যুদ্ধ শুরু করেছে!”  রবিবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক করার পর এই ঘোষণা করেন। বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও ছিল।

    পাক মন্ত্রীর বক্তব্য

    টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “আগত মন্ত্রীরা ইসলামাবাদে সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।” দারের দাবি, তিনি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্তাদের সঙ্গে, যেমন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান আমেরিকা প্রশাসনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। রবিবারের ইসলামাবাদ বৈঠকটি কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল বা ইরানের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না (US Iran War)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার মতে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা স্বীকার করেনি। তবে ইসলামাবাদের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার একটি প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে (US Iran War)। এদিকে, সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর তাদের হামলা অব্যাহত রাখে। এর জবাবে ইরান কুয়েতের একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ জল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ফাটায় এবং উত্তর ইসরায়েলের একটি তৈল শোধনাগারেও আঘাত হানে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি সম্মানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সময়ে, ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন রয়েছে (US Iran War) এবং সমসংখ্যক আরও একটি বাহিনী পথে রয়েছে। এর (Pakistan) মধ্যে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

     

  • LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসছে আরও দুটি এলপিজি (LPG) বহনকারী ট্যাঙ্কার। এগুলিতে প্রায় ৯৪,০০০ মেট্রিক টন রান্নার গ্যাস রয়েছে। নিরাপদে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) পার হয়ে ভারতের দিকে আসছে। রবিবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে এই খবর। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিডব্লু টিওয়াইআর’ (BW Tyr) এবং ‘বিডব্লু ইএলএম’ (BW Elm) নামের জাহাজ দু’টির যথাক্রমে ৩১ মার্চ মুম্বই এবং ১ এপ্রিল নিউ মাঙ্গালোরে পৌঁছানোর কথা। এই ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পরে নাবিকরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে থাকেন। সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সেই ভারতীয় নাবিকরা ভারতের পতাকাও ধরে ছিলেন।

    হরমুজ প্রণালী পার দুই ভারতীয় জাহাজের (LPG)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যদিও ইরান জানিয়েছে, “বন্ধু সব দেশের জাহাজ যদি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে তারা এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।” জানা গিয়েছে, এই দুই জাহাজ সাম্প্রতিকতম ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, যেগুলি এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ পার হতে পেরেছে। ইতিমধ্যেই চারটি এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছে। প্রণালীর পশ্চিম দিকে রয়েছে আরও তিনটি জাহাজ।

    এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং

    শুক্রবার এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং থেকেই এই খবর মিলেছে। সরকার জানিয়েছে, মোট ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও পশ্চিম উপসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে। ওই জাহাজগুলিতে ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারী দেশ ভারত গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন টন গ্যাস খরচ করেছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়েছিল। এই আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন বন্দরে কাজকর্ম চলছে (Hormuz Strait) স্বাভাবিকভাবেই। কোথাও কোনও জটের খবর মেলেনি (LPG)।

LinkedIn
Share