Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। একদিকে আমেরিকার অবস্থানে ‘বড় পরিবর্তন’, অন্যদিকে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব—এই দুই প্রবণতাই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আমেরিকা তার বর্তমান অবস্থান ‘নিজের পছন্দেই’। তারা বেছে নিয়েছে তাদের নীতি। এর ফলে দেশটি “ইচ্ছাকৃতভাবে আরও একাকী শক্তি” হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটন-বেজিং প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতাকে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব

    চিনের অর্থনৈতিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে চিন যুক্ত। এই বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাবেও পরিণত হচ্ছে। তাঁর মতে, চিনের উত্থান এবং আমেরিকার নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলির কাছেও নিজেদের স্বার্থকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

    ‘এক শক্তির ওপর নির্ভরতা নয়’

    জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলি এখন নিজেদের আরও বেশি স্বনির্ভর করে তুলতে চাইছে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই দেশগুলি ঝুঁকি কমাতে এবং বিভিন্ন উৎস ও অংশীদারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। কোনও একটি বড় শক্তি বা জোটের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্বার্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সব বিষয়ে একই মত থাকা জরুরি নয়। বরং কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে “যথেষ্ট মাত্রায় অভিন্নতা” থাকলেই দুই বা একাধিক দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

    কোয়াড, ব্রিকস থেকে আন্তর্জাতিক করিডর

    এই ধরনের বহুমুখী সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে জয়শঙ্কর কোয়াড ও ব্রিকসের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর এবং নর্দার্ন সি রুটের মতো যোগাযোগ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো সংক্রান্ত জোটের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট অভিন্ন লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এই ধরনের সহযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন কাঠামোর জন্ম দিচ্ছে, যেখানে একটি দেশ একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারে।

    রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান

    রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমের দেশগুলির একাংশ ভারতের মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং রুশ তেল কেনা নিয়ে সমালোচনা করলেও, ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদেশনীতি তার নিজস্ব ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে ভারত বিভিন্ন সময়ে সোভিয়েত সমর্থন পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস—কোনওটাই ভুলে যায় না।” ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম বিশ্বের একটি বড় অংশ যখন পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন করেছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভারত-সমর্থনের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। জয়শঙ্করের দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা “ইতিবাচক এবং ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক”। তবে সময়ের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ধরন যে বদলেছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেন।

    রুশ তেল নিয়ে বিতর্ক

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ নিয়ে আপত্তি জানালেও নয়াদিল্লির অবস্থান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারত একই সঙ্গে একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতিতে জোর দিয়ে আসছে। জয়শঙ্করও বলেন, ভারতের সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান

    ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারত এখনও আলোচনা, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে বলে পুনরায় জানান জয়শঙ্কর।তিনি বলেন, ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছে এবং কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্যশস্য সরবরাহ, জ্বালানি রফতানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর হামলার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

    ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে ভারতের বিদেশনীতির মূল দিকটি আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে—কোনও একটি শক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে জোটবদ্ধ না হয়ে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। আমেরিকা ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যেও ভারত যেমন কোয়াডের অংশ, তেমনই ব্রিকসের সদস্য এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের বক্তব্যের মূল বার্তা হল—বর্তমান বিশ্বে দেশগুলিকে আর একটিমাত্র শক্তি বা জোট বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বার্থের মিল থাকলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে সহযোগিতা করাই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

     

     

     

  • Flydubai Hijacking: ৯/১১-ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা! দুই বিমানের সংঘর্ষের কথাও ভেবেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট

    Flydubai Hijacking: ৯/১১-ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা! দুই বিমানের সংঘর্ষের কথাও ভেবেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের ইজরায়েলগামী বিমানের কো-পাইলটের পরিকল্পনা একে একে প্রকাশ্যে আসছে। ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Hijacking) একটি যাত্রীবাহী বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা এবং সেটিকে ইজরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে বিমানের সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে, কোনও পরিকল্পনাই তিনি বাস্তবায়িত করতে পারেননি। কিন্তু সফল হলে ৯/১১-র ধাঁচে আরও একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সাক্ষী হত গোটা বিশ্ব। ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছেন। তারাই তদন্ত করছে। গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমে দাবি, তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের পরিকল্পনা বিশদে জানিয়েছেন। স্বীকার করেছেন, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে মেরে বিমানটি ‘ক্র্যাশ’ করাতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই মতোই পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

    বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানি নাগরিক হিসেবে পরিচিত আল-হাম্মামি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের কাছে নাকি বলেছেন, প্রথমে তিনি বিমানের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। এরপর বিমানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় অবতরণের অনুমতি নেওয়ার পর বিমানটিকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনও ভবন অথবা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিমানটি জর্ডানের আকাশসীমার কাছে পৌঁছনোর সময় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বেন গুরিয়নে পৌঁছনো সম্ভব না হলে তেল আভিভের কোনো উঁচু ভবন অথবা জর্ডানে অবস্থিত কোনো মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কথিত হামলার পরিকল্পনাটি সহ-পাইলট নিজে করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নির্দেশনা ছিল।

    ৯/১১-ধাঁচের হামলার পরিকল্পনা

    হামাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে তাঁর লক্ষ্য ছিল তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেখানে পৌঁছে কোনও বিমানে ধাক্কা মারতে পারলে তাঁর পরিকল্পনা সফল হত। হামাম জানিয়েছেন, দুই বিমানের সংঘর্ষের কথা তিনি ভেবে রেখেছিলেন। তা একান্ত সম্ভব না-হলে তেল আভিভ শহরের উঁচু কোনও ইমারতে বিমান ঢুকিয়ে দিতেন তিনি। দুই ক্ষেত্রেই প্রচুর সংখ্যক প্রাণহানির সম্ভাবনা তৈরি হত। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় আল কায়েদার সন্ত্রাসবাদী হামলা দ্বারা হামাম অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই সেই ধাঁচে একের পর এক পরিকল্পনা করেছিলেন।

    ভারতীয় পাইলটের প্রতিরোধ

    বিমান জর্ডনের কাছাকাছি চলে আসার পর তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। তার আগে পর্যন্ত কাউকে কিছু টের পেতে দেননি। জর্ডন হয়ে বিমানটি ইজরায়েলে ঢুকত। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, জর্ডনের আকাশসীমা পেরিয়ে ইজরায়েলের দিকে যাওয়ার সময় সহ-পাইলট ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। তাঁকে মেরে ফেলার পরও বিমান স্বাভাবিক ভাবে উড়িয়ে তেল আভিভ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যাতে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলি নির্ঝঞ্ঝাটে পাওয়া যায়। কিন্তু বাধ সাধলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ। হামলায় ক্যাপ্টেন আহত হলেও তিনি পাল্টা প্রতিরোধ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    বিমান ধ্বংসের শেষ চেষ্টা

    অভিযোগ, পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে দেখে শেষ চেষ্টা করেছিলেন হামাম। বিমানের অটোপাইলট বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। দু’টি ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেন। এর ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। যাত্রীআসনে আরও দুই পাইলট না-থাকলে বিমানটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হত না। বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটও নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানে মোট ১৭২ জন ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলায় ক্যাপ্টেন আহত হন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই ক্রু সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পূর্ববর্তী চাকরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তকারীরা সহ-পাইলটের পূর্ববর্তী কর্মজীবন ও কার্যকলাপও খতিয়ে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি এর আগে ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন এবং সেখানেই পাইলট প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি পর্যবেক্ষণের সময় কিছু উদ্বেগের বিষয় সামনে আসার পর তাকে অফিসের দায়িত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কথিত কার্যকলাপও তদন্তের আওতায় এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি দুবাইয়ে ইজরায়েলি এয়ারলাইন্সের বিমানের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন এবং পরে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন।

    ইজরায়েলগামী রুটের জন্যই ফ্লাইদুবাই

    তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পাওয়ার আগেই আল-হাম্মামি ইজরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন বিমান সংস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি একাধিকবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। গত জুনে একটি সফরের সময় তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ওই ফ্লাইটের এক ক্রু সদস্য তাঁর পরিচিত হওয়ায় তিনি তা থেকে সরে আসেন বলে তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের সুমি শহরে ভারতীয় কুসুম গোষ্ঠীর মালিকানাধীন একটি বৃহৎ ওষুধ কারখানায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন (Kusum Group Pharma Plant)। হামলায় কারখানাটির মূল ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় আধিকারিকেরা জানিয়েছেন (Russian Drone Attack)।হামলার পরে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ড্রোনগুলি কারখানা চত্বরে আঘাত হানার পরেই আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।

    কুসুম গোষ্ঠী (Kusum Group Pharma Plant)

    কুসুম গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। সেই সময় ভারতীয় ওষুধ ইউক্রেনে রফতানি করার মাধ্যমে সংস্থাটি বাণিজ্য শুরু করেছিল। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্তের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গোষ্ঠী ২০০২ সালে অন্য সংস্থার পণ্য বিতরণের কাজ বন্ধ করে নিজেদের ব্র্যান্ডের ওষুধ বাজারজাত করা শুরু করে।

    পরবর্তীকালে সংস্থাটি ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে। ২০০৭ সালে ভারতে কারখানা স্থাপনের পর ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে একটি উৎপাদন কেন্দ্র চালু করে কুসুম গোষ্ঠী। এরপর ভারতে আরও দু’টি উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সংস্থাটি ৫০টিরও বেশি মূলত জেনেরিক ওষুধ তৈরি করে এবং ন’টিরও বেশি দেশে সেগুলি বিক্রি করে। ইউক্রেন ছাড়াও উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইন তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

    কুসুম গোষ্ঠী নিজেদের ভারতীয় শিকড়-সমৃদ্ধ একটি ইউক্রেনীয় সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময় জুড়েই সুমির কারখানাটি উৎপাদন চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলায় সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৪০০ কোটি টাকা।

    হামলার তীব্র নিন্দা ইউক্রেনের

    হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। জেলেনস্কি বলেন, “আজ সকালে রুশ বাহিনী ফের কিয়েভের পিভনিচনি সেতুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা সুমিতে একটি সাধারণ ওষুধের গুদামেও ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমার সমবেদনা। দিনিপ্রোতেও একটি যোগাযোগকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলিতে ছ’জন জখম হয়েছেন (Kusum Group Pharma Plant)।”

    গত গ্রীষ্ম থেকে মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন বহু দ্রুতগতির ও তুলনামূলকভাবে কম খরচের জেটচালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে এগুলি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরোধী ড্রোনগুলির গতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দ্রুতগতির শাহেদ ড্রোনকে আটকাতে সমস্যা হচ্ছে (Russian Drone Attack)।

    এর মধ্যেই ইউক্রেন চলতি সপ্তাহে নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এফপি-৭ প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (Kusum Group Pharma Plant)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও প্রতিমার অবমাননা, জমি দখল, হিংসা এবং বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের ঘটনাবলি তুলে ধরে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনই (Hindus Under Attack) দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলির প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয় না (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনটিতে হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও প্রতিমা অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    অসমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু (Hindus Under Attack)

    অসমের গুয়াহাটির উপকণ্ঠে একটি অতিথিশালায় বছর বাইশের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা বছর ছাব্বিশের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।ওই যুবকের নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে আসিফ, আশিক বা আশিক আলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, নিমিষা আত্মহত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    কাঠামো নিয়ে বিতর্ক

    মহারাষ্ট্রের তালোদায় গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রায় সমাধির মতো দেখতে একটি কাঠামো প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় কিছু হিন্দু সংগঠন ও বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও বিভিন্ন উপকরণের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গণেশ উৎসব উপলক্ষে নেমসুশীল বিদ্যামন্দিরের সঙ্গে যুক্ত একটি বিসর্জন শোভাযাত্রায় ওই কাঠামো প্রদর্শিত হয়। বিষয়টিতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তামিলনাড়ুতে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে যুক্ত কয়েকজন মহিলা শ্রমিককে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভিডিওগুলিতে কর্মসংস্থান প্রকল্পে অংশ নেওয়া মহিলাদের কাছে ধর্মান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভিডিওগুলির সত্যতা, স্থান এবং ঘটনাগুলির প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

    নিষিদ্ধ সংগঠনে তরুণদের যুক্ত করার অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর বিশেষ তদন্ত শাখা তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব-উত-তাহরির ও খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। মন্দিরে হামলা ও অবমাননা, জমি দখল, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

    স্বর্ণকারকে হত্যার অভিযোগ

    ময়মনসিংহে নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর নামে এক স্বর্ণকার নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে একটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ এখনও মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    ধর্মীয় বিদ্বেষ-বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কিছু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম-প্রধান দেশগুলির বাইরে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতে দীপাবলির সময় আতশবাজি ব্যবহারের উপর আরোপিত বিধিনিষেধকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তি থাকলেও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের প্রয়োগে সমতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আতশবাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কারণও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (Hindus Under Attack)।

    সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও নজরদারি এবং মানবাধিকারভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ, পরিসংখ্যান এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করাই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ (Weekly Roundup)।

     

  • Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার পরেও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ‘নায়ক’ বলে প্রশংসা করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। শনিবার টেলিফোনে পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য (Israel Independence Day) আমন্ত্রণও জানান নেতানিয়াহু। স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি ইজরায়েল, ভারত এবং গোটা বিশ্বের কাছে একজন নায়ক।”

    নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ (Netanyahu)

    এর পরেই তিনি মচ্ছর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “আমি আপনাকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তাঁর কথায়, স্বাধীনতা দিবসে মশাল প্রজ্বলন ইজরায়েলের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মানগুলির একটি। তিনি বলেন, “সাধারণত এই সম্মান ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমি মনে করি, এই ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সমস্ত নাগরিক আপনাকে আপন করে নেবেন।”

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে ঘটে নজিরবিহীন ঘটনা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন এবং বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। হামলার জেরে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায়। এর পরেই বিমান ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

    হামলার পরেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে অন্য যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও।

    ঠিক কী ঘটেছিল

    ফোনে নেতানিয়াহু মচ্ছরের কাছে জানতে চান, ঠিক কী ঘটেছিল। জবাবে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট গোটা ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সহ-পাইলট নমাজ আদায়ের জন্য তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। আচমকাই মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করেন (Netanyahu) তিনি।

    মচ্ছর বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, বিমানে কোনও সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তার পর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে। তখন বুঝতে পারি, বিমানে কোনও সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে ককপিটে থাকা অন্য ব্যক্তিই আমাকে আক্রমণ করছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে আঘাতের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি তিনি। একবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে আক্রমণকারী তা বন্ধ করে দেন।

    এর পর নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন মচ্ছর। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে যদি শেষ লড়াইটুকুও না থাকে, তাহলে আমি মারা যাব। তখন আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজার দিকে ধাক্কা দিই। আমার যা শক্তি ছিল, সবটুকু দিয়ে (Netanyahu) দরজা খুলে ফেলি।”

    পাইলটের মুখে পুরো ঘটনা শুনে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে আপনার সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে আমি (Israel Independence Day) অভিভূত।”

    নেতানিয়াহুর সমবেদনা

    নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আপনি এত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমার এবং আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনার স্ত্রীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবেন। আমি জানি, আপনার একটি পরিবার রয়েছে এবং আপনি বিভিন্ন দেশের মানুষের বৃহত্তর পরিবারেরও অংশ। যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।”

    এর আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আহত পাইলট (Israel Independence Day), যাত্রী এবং বিমানের অন্য কর্মীরা মিলে “৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন (Netanyahu)।”

     

  • Flydubai Hijacking: আল-কায়েদা নেতার ছবি, উগ্র মতাদর্শের অভিযোগ! ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলা ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ দাবি আমিরাতের

    Flydubai Hijacking: আল-কায়েদা নেতার ছবি, উগ্র মতাদর্শের অভিযোগ! ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলা ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ দাবি আমিরাতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদা নেতাদের ছবি, উগ্রপন্থী ওয়েবসাইটে যাতায়াতের অভিযোগ, নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস—ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের কথিত হামলার পর তার অতীত নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে ওই সহ-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ৩০ তারিখে ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Hijacking) ওই ফ্লাইটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ঘটনাটি বিমানটি বিধ্বস্ত করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর আগে দাবি করেছিলেন, ওই ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত’ হয়েছিলেন।

    কে এই ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-হামামির বাবা একজন ওমানি ও মা সিরিয়ার বাসিন্দা। জীবনের বড় অংশ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাটিয়েছেন। তবে ওমান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেনি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকতে পারে। এই তথ্য সত্য হলে ইজরায়েলগামী ফ্লাইটের ক্রুতে তিনি কীভাবে যুক্ত হলেন, তা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ফ্লাইদুবাইয়ে (Flydubai Co-Pilot Attacked) যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ওমান এয়ার এবং মরক্কোর জাতীয় বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মরক্কো-এ কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ওমান এয়ার-এ থাকাকালীন নজরে?

    প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ওমান এয়ার (Oman Air)-এ কর্মরত থাকাকালীন আল-হামামির উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এমনকি তিনি কিছু ‘র‌্যাডিক্যাল’ বা উগ্রপন্থী ওয়েবসাইট পরিদর্শন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে উড়ান-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অফিসের কাজে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অফিসের কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে পরবর্তীতে তিনি ওমান এয়ার (Oman Air) ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে। আল-হামামি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ার-এ কাজ করার পর ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মরক্কো (Royal Air Maroc)-এ যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদা নেতাদের ছবি

    ঘটনার পর তার নামে থাকা একটি প্রোফাইল নিয়ে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে। সিএনএন (CNN)-এর প্রতিবেদনের দাবি, প্রোফাইলে মাত্র দুটি পোস্ট ছিল এবং সেগুলো ঘটনার দিন প্রকাশিত হয়েছিল। পোস্ট দুটি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। একটি ভিডিওতে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স (Boeing 737 Max)-এর ককপিটের দৃশ্য এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইজরায়েলি বিমান সংস্থার একটি বিমানের দৃশ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি ক্লিপে ওমান এয়ার-এর একটি ফ্লাইটের ককপিটের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটিতে ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখও দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে ভিডিওটির শেষে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি থাকার কথা বলা হয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব নেন। ২০২২ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। ভিডিওটিতে ২০০৯ সালের আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত আল-কায়েদা সদস্য হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবিও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আরেকটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন পবিত্র স্থানকে দেখানো একটি ছবি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নারী ও মিশ্র কর্মপরিবেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

    সিএনএন ২০২১ ও ২০২২ সালে আল-হামামির নামে থাকা কিছু পোস্ট বিশ্লেষণ করেছে বলে জানিয়েছে। এসব পোস্টে নারীদের পোশাক, কর্মক্ষেত্র এবং নারী-পুরুষের মেলামেশা নিয়ে তার রক্ষণশীল ও বিতর্কিত মতামত প্রকাশ পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। একটি পোস্টে তিনি নিজের বিয়ের জন্য কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কনের নিকাব পরা এবং বিয়ের পর চাকরি না করার বিষয় ছিল বলে বলা হয়েছে। আরেকটি পোস্টে তিনি নারী-পুরুষের মিশ্র কর্মপরিবেশের বিরোধিতা করে দাবি করেছিলেন, এ ধরনের পরিবেশ নারীদের ওপর ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ ফেলতে পারে। তবে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সত্যিই অভিযুক্ত সহ-পাইলটের নিজের লেখা কি না, তা তদন্ত সাপেক্ষ।

    তদন্তে এখন বড় প্রশ্ন

    ঘটনার পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য, সেগুলো বিমান সংস্থাগুলোর নজরে এসেছিল কি না, এবং যদি এসে থাকে তাহলে কী ধরনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর তিনি ফের পাইলট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন—এসবই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেন, সময়ের সঙ্গে ঘটনাটির একটি ‘পরিষ্কার ছবি’ সামনে আসছে। তাঁর দাবি, হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদে’ প্রভাবিত হয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, কথিত উগ্র মতাদর্শ বা অতীতের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে আল-হামামির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, কী কারণে তিনি ওই ফ্লাইটে হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল।

     

     

     

     

  • Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলটকে ছুরি দিয়ে (Flydubai Hijacking) আঘাত এবং বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে নীচে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর ইজরায়েলের প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক শীর্ষ কর্তা রামি ইগ্রা দাবি করেছেন, ওমানি সহ-পাইলট একাই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

    প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তার দাবি (Flydubai Hijacking)

    ২ অক্টোবর সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, “এটি একজনের একক হামলা বলেই মনে হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, ওই ব্যক্তি একাই ইসলামি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করেছিলেন।” তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি যাতে বোঝা যায় যে সহ-পাইলট কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন। ইগ্রার দাবি, ওমানি সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে ইজরায়েলে প্যালেস্তাইন পক্ষের সমর্থনে লেখা কিছু প্রচারপত্র পাওয়া গিয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ওই সহ-পাইলট অন্য কোনও ব্যক্তি, দেশ বা সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন, তাহলে ঘটনার তাৎপর্য অনেক বড় হবে। তাঁর কথায়, “তিনি কি একাই এই কাজ করেছিলেন, যেমনটা আমি মনে করি, নাকি অন্য কোনও দেশ বা সংগঠন তাঁকে পাঠিয়েছিল—তার উপরেই এই ঘটনার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য নির্ভর করবে।”

    ইগ্রা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই এই ধরনের ‘একক হামলা’কে দেখতে হবে। তাঁর মতে, ধর্মীয় উগ্রপন্থায় প্রভাবিত কোনও ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকে ‘শহিদি’র পথ হিসেবে দেখলে এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য অবশ্য তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ; তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে (Flydubai Hijacking) না।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের (ইজরায়েলের রাজধানী) উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের উপর ওমানি সহ-পাইলট হামলা চালান বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি। এরপর বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। আহত অবস্থাতেও ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্ব নেন বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট এবং ওমানি সহ-পাইলট—দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওমানি সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁর পরিচয় ও নাম সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Flydubai Hijacking)।

    নেতানিয়াহুর দাবি

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ওই ওমানি সহ-পাইলট ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত তথ্য থেকেই এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণের পর সহ-পাইলট বিমানটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী মিশনে ছিলেন।

    নেতানিয়াহুর আরও দাবি, হামলাকারীকে যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তিনি বিমানের কর্মীদের তাঁকে হত্যা করতে বলেছিলেন। নেতানিয়াহু বলেন, “এতে স্পষ্ট যে তিনি আত্মঘাতী ছিলেন।” তাঁর মতে, বিমানটি ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তবে এই উদ্দেশ্য ও হামলার পেছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে (Flydubai Hijacking)।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্র?

    ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের সামনে অন্যতম বড় প্রশ্ন—ওমানি সহ-পাইলট কি নিজের সিদ্ধান্তেই হামলা চালিয়েছিলেন, নাকি কোনও সংগঠন বা রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ ছিল?

    ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, তিনি ‘একক হামলাকারী’। যদিও সম্ভাব্য বৃহত্তর যোগসূত্রের বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ হামলার অভিযোগ উঠেছে বিমানের এমন এক কর্মীর বিরুদ্ধে, যাঁর ককপিটে সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পাশাপাশি বিমানকর্মীদের নিয়োগ, যাচাই এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য উগ্রপন্থী যোগ এবং কোনও সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ওমানি সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন (Flydubai Hijacking) সৌদি কর্তৃপক্ষ।

     

  • Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ। জাহাজটিতে পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। শনিবার ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই ঘটনার পর পাঁচ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। কুয়েতের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি কাজিমাহ থ্রি’-তে ওই পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। জাহাজটি আফ্রিকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। হামলার পর ওমান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলা সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ১০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য (Hormuz Strait)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ৪,৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ভারতের পতাকাবাহী ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। পাশাপাশি, আরও ছ’টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ পণ্য নিয়ে ভারতে আসছে। এই ১২টি জাহাজে প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।

    জয়সওয়াল জানান, ভারতীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রক ওই জাহাজগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। নাবিকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য রাখতে ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসগুলি নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ ভারতের কাছে অগ্রাধিকার (Hormuz Strait) বলেও জানান তিনি।

    নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জয়শঙ্করের

    বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি সমুদ্রপথে নতুন নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    জয়শঙ্কর বলেন, “সমুদ্রে নতুন হুমকি স্থলভাগে ইতিমধ্যেই তৈরি হওয়া সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। অন্যান্য দেশের নাবিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    উপসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো এবং সংযম দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যও যাতে বাধাহীনভাবে চলতে পারে, তার পরিবেশ তৈরি হবে।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

    এদিকে, ইরানের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা ছিল। এর পাশাপাশি ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো শর্তও ছিল।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান এই চুক্তি চাইছে কারণ তারা খুব খারাপভাবে হারছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যের উপর ইরানের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল বলেও (Hormuz Strait) মন্তব্য করেন তিনি।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলির উপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অঞ্চলের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ তেহরানের উপর চাপ তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

    তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা।

    বাড়ছে সমুদ্রপথের ঝুঁকি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই দেশগুলিতে হামলা চালায়, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

    আমেরিকা জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা দুর্বল করা। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক পরিকাঠামোকেও টার্গেট করা হয়েছে।

    এদিকে, ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও ইরান অস্বীকার করেছে।

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা শুধু নাবিকদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপরও প্রভাব ফেলছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে কর্মরত।

     

  • Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, সংঘাতের অবসান ঘটাতে মোদির কাছে ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে এবং তিনি উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি নিয়মিতভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। পুতিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই বিশ্বনেতাদের একজন, যিনি আমাদের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের বিষয়টি নিয়মিতভাবে তিনি তুলে ধরেছেন।”

    সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী মোদি

    রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের (India Russia Relation) বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর মতে, পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু ‘খুব ভালো ভাবনা’ রয়েছে। পুতিনের ভাষায়, মোদি এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে একইসঙ্গে সংঘাতের অবসানের ব্যাপারে তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর তাঁর ইচ্ছার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর ভারতের

    ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একাধিকবার বলেছেন, সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ। আগস্টে জাপানের সংবাদপত্র দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান ‘নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক’। তাঁর দাবি, এই অবস্থান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। মোদি জানান, দুই নেতাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত তার নীতিনিষ্ঠ ও ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

    শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতার বার্তা

    ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন মোদি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠক হয়। সেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের ‘প্রোগ্রাম ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করে।

    বরাবরই শান্তির পক্ষে ভারত

    চোখের বদলে চোখ উপড়ে নিলে একদিন গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে, মন্তব্য করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। একটানা চলা দুই যুদ্ধ— ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরানে কার্যত সেই অবস্থা! ভেঙে পড়ছে ভারত-সহ গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি। এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২ অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা, যুদ্ধের বদলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে মোদির কাছে “দুর্দান্ত কিছু ভাবনা” রয়েছে। গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের সামনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মোদি বলেছিলেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। উল্লেখ্য, দুটি যুদ্ধ (ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরান) অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে, কদিন আগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। নেপথ্যে জ্বালানি, সারের মতো জরুরি পণ্য সামগ্রী আমদানিতে বাঁধা। এই অবস্থায় যুদ্ধ থামাতে মরিয়া চিরকাল শান্তিপ্রিয় ভারত।

    রুশ প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধা

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে ভারত বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও সংঘাতের প্রশ্নে কখনও কোনও এক পক্ষকে সমর্থন জানায়নি নয়াদিল্লি। ভারতের এই অবস্থানকে শ্রদ্ধা করে রাশিয়া, এবার তা নিজেই বুঝিয়ে দিলেন পুতিন। সেই সঙ্গে জানালেন, শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে মোদীর চেষ্টা এবং চিন্তাভাবনাগুলি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। মস্কোয় ভালদাই ফোরাম অফ ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া এক্সপার্টের মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদীর প্রসঙ্গ টানেন পুতিন। বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী সেই রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একজন, যিনি আমাদের মধ্যে খুব ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বার বার ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর বিষয়ে কথা বলেন এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’’

     

     

     

     

     

  • Smit Machchhar Health Update: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত? ‘হাসিমুখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন’, জানালেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

    Smit Machchhar Health Update: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত? ‘হাসিমুখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন’, জানালেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তরের পর হাসপাতালে পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাঁর। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসিমুখে সময় কাটাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। শুক্রবার এই খবর জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল।

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে ক্যাপ্টেন স্মিতের সঙ্গে দেখা করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। পরে প্রসার ভারতীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাইলটের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁর কথায়, স্মিতের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি এবং তাঁকে দেখে স্বস্তি পেয়েছেন।

    দীপক মিত্তল বলেন, “আমি ওঁর সঙ্গে এবং ওঁর পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছি। উনি ভালো আছেন। ওঁকে দেখে আমি খুব খুশি এবং স্বস্তি পেয়েছি। ওঁর অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল।”

    রাষ্ট্রদূত আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন স্মিত। কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও তাঁর চিকিৎসা ভালোভাবেই চলছে। মিত্তলের কথায়, “উনি কথা বলছিলেন, পরিবারের সঙ্গে গল্প করছিলেন। কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে, তবে ভালো চিকিৎসা চলছে।”

    পরিবারের সঙ্গে ফের দেখা, স্বস্তি ক্যাপ্টেন স্মিতের

    ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার পর ক্যাপ্টেন স্মিতের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে ছিল তাঁর পরিবার। প্রথমে সৌদি আরবের তাবুকে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন।

    রাষ্ট্রদূত মিত্তল জানান, পরিবারের সদস্যরাও স্মিতকে দেখে যথেষ্ট স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর স্মিতও খুশি হয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন।

    ভারতীয় দূতাবাসও জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার ভালোভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।

    কী হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মাঝআকাশে বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিমানের সহকারী পাইলট কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা করেন।

    ঘটনার জেরে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    শেষ মুহূর্তে গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন স্মিত ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যানকে উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল জানিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থাতেও নিজের “শেষ শক্তিটুকু” ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলেন স্মিত।

    দরজা খোলার পর যাত্রী এবং বিমানের কর্মীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা আরও দুই ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করানো হয়।

    ১৭৪ জনের প্রাণরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ককপিটে হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের নেওয়া সিদ্ধান্তই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভিতরে ঢোকার সুযোগ পান। এরপর হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে ক্যাপ্টেন স্মিতকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল তাঁকে “ভারতের সাহসী সন্তান” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, স্মিতের ভূমিকা শুধু বিমানের যাত্রীদের রক্ষা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করে মানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

    বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি—এই খবরেই আপাতত স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে।

LinkedIn
Share