Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Balochistan: বালুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, ২০২৫ সালে ১,৪৮২ গুমের অভিযোগ

    Balochistan: বালুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, ২০২৫ সালে ১,৪৮২ গুমের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ২০২৫ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছে বালুচিস্তানের মানবাধিকার পরিষদ। সংগঠনটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জোরপূর্বক গুম, হত্যা এবং নাগরিক (Balochistan) স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সন্ত্রাসবাদ হিসেবে চিহ্নিত করে কর্মী ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

    “বালুচিস্তান: ২০২৫ সালে মানবাধিকারের (Human Rights Crisis) পরিস্থিতি” শীর্ষক প্রতিবেদনে বছরজুড়ে নথিভুক্ত বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলির জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্রবাদী গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বালুচিস্তানে জোরপূর্বক গুমের ১,৪৮২টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলেও দাবি করা হয়েছে।

    একই সময়ে ৫৯৮টি হত্যার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার পরিষদ। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। নিহতদের মধ্যে ২৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩২৫টির জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করা হয়েছে। এই সংখ্যা মোট হত্যাকাণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি। মানবাধিকার পরিষদের নথিতে সবচেয়ে বেশি যে সংস্থার নাম এসেছে, সেটি হল ফ্রন্টিয়ার কর্পস। সংগঠনটির দাবি, ওই বাহিনীর সঙ্গে ৮৯৭টি জোরপূর্বক গুম এবং ১৯৫টি হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।

    সাংবাদিক, আইনজীবী ও প্রতিবাদকারীরাও নিশানায় (Balochistan)

    শুধু গুম ও হত্যাকাণ্ড নয়, ২০২৫ সালে সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরাও আইনি হয়রানি, নির্বিচারে আটক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

    মানবাধিকার পরিষদের দাবি, বৃহৎ সামরিক অভিযান, যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনটি নিজেকে বালুচিস্তান (Balochistan) ও সুইডেনভিত্তিক একটি অলাভজনক ও নির্দলীয় মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়।

    তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, বালুচিস্তানে নিরাপত্তা অভিযান আইন মেনেই পরিচালিত হয় এবং এসব অভিযানের উদ্দেশ্য হল সশস্ত্র তৎপরতা দমন ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

    নজরদারি ও দমনের বিস্তৃত কাঠামোর অভিযোগ

    প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং গোয়েন্দা ব্যুরোর বিরুদ্ধে বালুচ সমাজের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ডিজিটাল ও মানবভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকারকর্মীদের আত্মীয়স্বজনের ওপর নজর রাখছে, বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে এবং গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা করছে।

    এ ছাড়া টেলিফোনে আড়িপাতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধীদের শনাক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

    এই নজরদারির পরিধি বালুচিস্তানের বাইরেও সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সেখানে নিরাপত্তার সন্ধানে বালুচিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী ও উদ্বাস্তুদেরও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

    করাচিতেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়মিত জোরপূর্বক গুম করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    নিরাপত্তা বাহিনী ও পাল্টা-সন্ত্রাস কাঠামোর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    প্রতিবেদনে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের বিরুদ্ধে বেআইনি তল্লাশি চৌকি পরিচালনা, তোলাবাজি এবং অপহরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস দমন বিভাগকে বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    মানবাধিকার পরিষদের অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকায় সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পর আগে অপহৃত বালুচ অসামরিক নাগরিকদের গোপন আটকস্থান থেকে বের করে হত্যা করা হয় এবং পরে তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহত জঙ্গি হিসেবে দেখানো হয়। সংগঠনটির মতে, এই ধরনের সাজানো সংঘর্ষের মাধ্যমে সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করার (Balochistan) চেষ্টা করা হয়।

    ২০২৬ সালেও গুমের ধারা অব্যাহত থাকার দাবি

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতেও কেচ, কোয়েটা ও গোয়াদরের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জোরপূর্বক গুমের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শিক্ষার্থী, অধ্যাপক, কবি ও চিকিৎসকদের রাতের অন্ধকারে সামরিক পোশাক পরা মুখোশধারী ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর তাদের গোপন আটককেন্দ্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    কিছু ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃতদেহ প্রত্যন্ত এলাকায় ফেলে রাখা বা অজ্ঞাত গণকবরে দাফন করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Human Rights Crisis)।

    রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভিযোগ

    পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব স্থানীয় অপরাধী ও ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করে অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযান চালাচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছে মানবাধিকার পরিষদ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক পাচারকারী ও স্থানীয় ভাড়াটে যোদ্ধারাও রয়েছে। তারা রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    সাংবাদিক আসিফ খান খেতরান এবং প্রয়াত সাংবাদিক সাজিদ হুসাইন বালুচের মতো ব্যক্তিদেরও এই ধরনের গোষ্ঠী টার্গেট করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিহত অধ্যাপক ও কবি ঘামখোয়ার হায়াতের হত্যাকাণ্ডেও এমন গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশিষ্ট বালুচি নারী কবি হাবিবা পীরজানকে দ্বিতীয়বার অপহরণের সঙ্গেও এসব গোষ্ঠী জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে (Balochistan)।

    দমন-পীড়নই কি উল্টো প্রতিরোধ বাড়াচ্ছে?

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, বালুচিস্তানে দমন-পীড়ন যত বাড়ছে, ততই তা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের মনোভাবকে শক্তিশালী করতে পারে।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, একজন শিক্ষার্থীকে গুম করা, একজনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ ফেলে রাখা কিংবা রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা—এসব পদক্ষেপ সশস্ত্র প্রতিরোধকে দমন করার বদলে উল্টে সেটিকে আরও বৈধতা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে নিখোঁজ বা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও প্রতিরোধের মনোভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে মত প্রকাশ করা হয়েছে (Human Rights Crisis)।

    তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষও পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা অভিযানকে আইনসম্মত এবং সশস্ত্র তৎপরতা মোকাবিলার (Balochistan) অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

     

  • Hindu Family Killed: বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক-সহ হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে খুন

    Hindu Family Killed: বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক-সহ হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রংপুরে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে (Hindu Family Killed) পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বছর বারোর ছেলে। শনিবার রাতে রংপুর শহরের কামালকাছনা মাচুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে চারজনের দেহ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে কান্তি চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।

    বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে দেহ উদ্ধার (Hindu Family Killed)

    রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের জানান, বাড়ির ভেতরে ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    গণপতির দেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে। প্রতিলতা ও তাঁর মেয়ের দেহ মেলে তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলের দেহ উদ্ধার হয় একটি খাটের নীচ থেকে।

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু সময় ধরে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে দেখা না যাওয়া এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে, উদ্ধার করে দেহ।

    বৃহস্পতিবার রাতে শেষ কথা হয় পরিবারের সঙ্গে

    প্রতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট রাতে তিনি তাঁর দিদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলেছিলেন।

    তিনি জানান, শনিবার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে গণপতির বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তখনই সন্দেহ হওয়ায় পূজা বাংলাদেশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাঁকে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে পুলিশ আসে (Hindu Family Killed)।

    অবসর নেওয়ার পরেও চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন গণপতি

    গণপতি গত বছরের ডিসেম্বরে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। এর পর তিনি রংপুর সমবায় বাজারে একটি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন।

    তাঁর মেয়ে কান্তি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল।

    তদন্তে পুলিশ ও সিআইডি

    পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর কারণ জানতে বাড়ি থেকে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ। রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় মূল ফটকটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্তারা ঘটনাস্থল থেকে নথি সংগ্রহ করছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আপাতত একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতি কিংবা পারিবারিক কোনও ঘটনা।

    রংপুর অপরাধ তদন্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুমিত চৌধুরী জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ডাকাতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

    দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    হিন্দু পরিবারকে ঘিরে হামলার উদ্বেগের মধ্যেই ঘটনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পর দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা ও হিংসার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত। সেই প্রেক্ষাপটে রংপুরের এই ঘটনা নতুন করে নজর কেড়েছে।

    তবে এই ঘটনায় পরিবারের হিন্দু পরিচয়ের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করতে (Bangladesh) পারেননি। একইভাবে চারজনের মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণও এখনও স্পষ্ট নয় (Hindu Family Killed)।

     

  • Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বরকে ‘দীপাবলি দিবস’ (Deepawali) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদের আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্য, উদারতা, ইতিবাচকতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্লেষণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘সফট পাওয়ারে’রও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীপাবলির সর্বজনীন বার্তাকে স্বীকৃতি (Indian Americans)

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। অ্যাসেম্বলি সদস্য দর্শনা প্যাটেল এবং অ্যাশ কালরা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। দীপাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৃহত্তর ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অ্যাসেম্বলি তার “গভীরতম শ্রদ্ধা” প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের দীপাবলি উৎসবকে রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের এই আনন্দময় উদ্‌যাপনের দিনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।”

    আমেরিকাজুড়ে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকার সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উৎসব পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। উদারতা, ঐক্য, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালন করে। সাধারণত ঘরবাড়ি মোমবাতি, তেলের প্রদীপ, মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হয়। অনেক জায়গায় আতশবাজিও পোড়ানো হয় দীপাবলি উদ্‌যাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই ঐতিহ্যগুলির মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়ের বৃহত্তর বার্তা। একই সঙ্গে সংগ্রাম অতিক্রম করা, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি, ইতিবাচকতা ও বিনয়কে গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের প্রতি সদয় থাকার মতো মূল্যবোধের সঙ্গেও দীপাবলির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “যাঁরা দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন, তাঁদের কাছে এই উৎসব জ্ঞান, বিকাশ ও সুখের প্রতি অঙ্গীকারের সময়। এটি আত্মবিশ্লেষণেরও সময়, যা প্রজ্ঞা, দয়া এবং পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।”

    ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানেও জোর

    ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও অ্যাসেম্বলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার এবং দীপাবলির সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধগুলি বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Americans)।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধি উদ্‌যাপনের একটি সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীপাবলি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আলো, আশা ও ইতিবাচকতার বার্তাকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি।

    ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে (Deepawali) গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসবকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং টেক্সাসও বিভিন্ন সময়ে দীপাবলিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে উৎসব উদ্‌যাপনের উদ্যোগও নিয়েছে (Indian Americans)।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) সফরের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি দিল শতাধিক কানাডীয় (Canada Visit) হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী। ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করার যে দাবি উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়—চিঠিতে এমনই আবেদন জানানো হয়েছে।

    কানাডা সরকারকে চিঠি (Mohan Bhagwat)

    কার্নির পাশাপাশি জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী, অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ দিয়াব এবং বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছেও চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। আরএসএস প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কিছু খালিস্তানপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ, যাঁদের মধ্যে জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন রয়েছেন। কিছু ইসলামপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনও একই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার বৃহৎ হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর “যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়”। শতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী ১০১টিরও বেশি কানাডীয় সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কানাডা সফরের প্রস্তাবের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাতে লিখছি। এই সফর কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ১০ লাখেরও বেশি কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন।”

    আরএসএস ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন

    চিঠিতে আরএসএসকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনপরিসরে মতপ্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রকল্প এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটি পরিচিত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, “তাই আমরা নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন এবং কয়েকটি সংগঠনের সাম্প্রতিক সেই আহ্বান নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানে কানাডা সরকারকে ভাগবতকে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং তাঁকে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) কানাডা সফর ঠেকানোর এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ভাগবতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। দুই সাংসদের তরফে ভাগবতের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ইতিহাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাকে সমর্থন, পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

    চিঠিতে যা লেখা হয়েছে

    এই বিষয়ে চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “গুরুতর অভিযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।”

    আরও বলা হয়েছে, “এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা বা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয় (Canada Visit)।”

    চিঠিতে কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলির সমর্থনে থাকা প্রমাণ খুঁজে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ আইনি ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

    ভাগবতের উপস্থিতি কানাডার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে কিংবা সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছে সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, কানাডায় ভাগবত বা আরএসএসের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও নজির রয়েছে কি না। তাঁর কানাডা সফর জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, “কানাডার অভিবাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত আইন, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত,  অনুমান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।”

    হিন্দু সংগঠনগুলির বক্তব্য

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও বৈধ। তবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বিদেশি নেতাকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তা (Mohan Bhagwat) বহুত্ববাদ ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।

    চিঠিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশ করতে না দিলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তার বৃহত্তর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে কানাডীয় হিন্দু ও তাঁদের সংগঠনগুলির সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, “কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ব্যবস্থা এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মানুষ জনজীবনে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্য সব ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় পটভূমির কানাডীয়দের মতো হিন্দুরাও মর্যাদা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং আইনের চোখে সমতার অধিকারী।”

    “হিন্দুফোবিয়া”য় উদ্বেগ

    ভাগবতের বিরুদ্ধে চলা প্রচারাভিযানকে কিছু কানাডীয় হিন্দু “হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত” বা “হিন্দুফোবিয়া” হিসেবে দেখছেন বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংগঠন বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামত দিয়ে কানাডার সব নাগরিক কিংবা সমস্ত কানাডীয় হিন্দুর অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়।

    চিঠিতে ভাগবতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ভাগবতের বক্তব্যের মূল গুরুত্ব সব সময় সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয়, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের উপর ছিল। তাই আমরা রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলিকে তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং এমন ভাষা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই, যা কানাডার বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে (Mohan Bhagwat)।”

    চিঠির শেষাংশে সংগঠনগুলি বলেছে, “কানাডার প্রয়োজন আরও আলোচনা, বিভাজন নয়; আরও প্রমাণ, অভিযোগ নয়; আরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ নয়; এবং তার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি আরও সম্মান। কোনও একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাকে স্বাগত জানানোর বৈধ অধিকারকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা নয়। আমরা সম্মানের সঙ্গে কানাডা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর বিবেচনার সময় সমতা, বহুত্ববাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নীতিগুলি বজায় রাখা হোক।”

    চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছে

    এই যৌথ উদ্যোগে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডিয়ান আর্য সমাজ, ব্র্যাম্পটন হিন্দু সোসাইটি, হিন্দু সোসাইটি অব কানাডা, হিন্দু মিশন অব কানাডা, হিন্দু সভা টেম্পল, হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কানাডা-সহ একাধিক মন্দির, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Canada Visit)।

    চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী—ইসলামপন্থী, বামপন্থী ও খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সমন্বয়ে একটি প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। অনলাইন আবেদন, লিখিত আবেদন এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য—এই তিন দেশের সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে ভাগবতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পাল্টা দাবিগুলি চিঠিতে উল্লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসেছে, এগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই ও প্রমাণের মূল্যায়ন প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।

     

  • HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের আসন্ন মার্কিন সফর (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)-এর কয়েকজন সদস্যের প্রকাশ্য আপত্তির তীব্র সমালোচনা করল হিন্দু অধিকারকেন্দ্রিক সংগঠন হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)। সংগঠনটির দাবি, ইউএসসিআইআরএফ (USCIRF)-এর বক্তব্যে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। এই মন্তব্য আরএসএস (RSS) ও ভারতকে ঘিরে একটি ‘একপেশে’ প্রচারের অংশ।

    মার্কিন মুলুকে হিন্দু-বিদ্বেষ নিয়ে কেন বলে না ইউএসসিআইআরএফ

    এক বিবৃতিতে হিন্দু প্যাক্ট -এর (HinduPACT to USCIRF) অভিযোগ, ইউএসসিআইআরএফ -এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এবং কমিশনার জিন মিলসের বক্তব্যে ভারসাম্যের পরিবর্তে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু-বিদ্বেষ, মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির প্রতি একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) আরও দাবি করেছে, আরএসএস-কে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ -এর অবস্থানের সঙ্গে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (Council on American-Islamic Relations বা CAIR), ইন্ডিয়ান-আমরিকানমুসলি কাউন্সিল (Indian American Muslim Council বা IAMC)এর মতো সংগঠনের অবস্থানের মিল রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, এই গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একপেশে প্রচার চালিয়ে আসছে।

    আরএসএস-এর সামাজিক কাজ

    হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বিবৃতিতে আরএসএস-এর সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দু প্যাক্টের দাবি, শিক্ষা, ত্রাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-কে বিচার করা উচিত নয়। ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হিন্দু প্যাক্ট। তাদের দাবি, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত থাকা জরুরি। তাদের মতে, আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা ‘গিল্ট বাই অ্যসোসিয়েশন’ (guilt by association)-এর সমান।

    কেন হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিউ ইয়র্ক সফরের আগেই বড় অস্বস্তি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন সেদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থার এক কর্তা। পাশাপাশি ওই সংস্থা ওয়াশিংটনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন- যেন আরএসএস নেতাদের কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো না হয় বা তাঁদের সঙ্গে কোনও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করা হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) -এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ বলেন, “ইউএসসিআইআরএফ তার নিরপেক্ষতার দায়িত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মোহন ভাগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সফরকে অপপ্রচারের মাধ্যমে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। মার্কিন মাটিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে হেয় করার জন্য কোনও সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও অসম্মান!

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। মিলস জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরএসএস-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরএসএস হল একটি মূল সংগঠন, যার সহযোগী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পোস্টটিতে উল্লেখ, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সদস্য। এটি ভারতের এমন একটি মূল সংগঠন যার বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠী খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আর এখন আরএসএস নেতা মোহন ভাগবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করছেন।” এর আগে মার্চ মাসে ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের সমালোচনা করা হয়েছিল এবং আরএসএস ও ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই মন্তব্যগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভারত এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-এর বিরুদ্ধে “প্রশ্নবিদ্ধ উৎস ও আদর্শিক বয়ানের” ওপর ভিত্তি করে দেশটির একটি “বিকৃত ও বাছাইকৃত” ছবি তুলে ধরার অভিযোগ এনেছে।

    নিরপেক্ষ আচরণের দাবি হিন্দু প্যাক্ট-এর

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’-এর আয়োজনে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সফরে যাবেন। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বক্তব্য, মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর আমেরিকার জন্য কোনও হুমকি নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একতরফা অবস্থান নেওয়াই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। সংগঠনটি মার্কিন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ নাগরিকদের ইউএসসিআইআরএফ-এর বক্তব্যকে সমালোচনামূলকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) জানিয়েছে, মোহন ভাগবতের সফরকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনাকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু সংগঠনগুলির প্রতি সমান মর্যাদা ও নিরপেক্ষ আচরণের দাবি জানাচ্ছে।

     

     

     

  • Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের আসন্ন ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডা সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে তাঁর বিদেশ সফর শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন— ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশানাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)—আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।

    আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত প্রচার

    ইউএসসিআইআরএফ-এর তরফে ওয়াশিংটনের কাছে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করার আর্জি জানানো হয়েছে। তাঁদের কূটনৈতিক সৌজন্যও না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ। ইউএসসিআইআরএফ-এর কমিশনার জিন মিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-এ দেওয়া এক বার্তায় আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আরএসএস নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনের আবহেই ড. মোহন ভাগবতের এই বিদেশ সফর। আরএসএস-এর প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, বিদেশের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও ভারতীয় প্রবাসী সংগঠনের আমন্ত্রণে ২৫ আগস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনে সফর করবেন ভাগবত। সফরে তিনি ভারতীয় প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গিয়েছে।

    ইউএসসিআইআরএফ-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

    চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। রিপোর্টে আরএসএস-সহ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘টার্গেটেড স্যাংশন’-এর সুপারিশ করা হয়। সেই রিপোর্ট অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইউএসসিআইআরএফ-এর রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বাছাই করা’ চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সমালোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফ-এর উচিত আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও হামলা, ভারতকে লক্ষ্য করে বাছাই করা সমালোচনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও ভয় দেখানোর মতো ঘটনাগুলির দিকেও নজর দেওয়া। ভাগবতের সফরের ঠিক আগে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফ-এর এই অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগেও সংস্থাটির রিপোর্টের নিরপেক্ষতা ও তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

  • Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে দীর্ঘদিন ধরে সোশাল মিডিয়ার নীতিমালা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মেটার (Meta) চিফ এক্সিকিউটিভ মার্ক জুকারবার্গ (Zuckerberg) এবার আমেরিকায় বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় এমন কিছু প্রতিকারের দাবি জানানো হয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক দায়ের মুখে পড়তে পারে সংস্থাটি।ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণ ইউজারদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে স্ক্রলিং, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সুপারিশের মতো বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যগুলির অভিযোগ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো করেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে নকশা করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় (Meta)

    তবে ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অঙ্কটি মেটার ওপর ইতিমধ্যেই আরোপিত কোনও জরিমানা নয়। আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লিখিত অভিযোগ ও প্রযোজ্য শাস্তির ভিত্তিতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় হিসাব করে এই অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। মেটা এই দাবিকে “অবাস্তব” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী মেগান ও’নিলের মতে, বাস্তবসম্মত অঙ্ক ১৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সও ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই হিসাবকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। শেষ পর্যন্ত মেটাকে কত অর্থের আর্থিক দায় বহন করতে হবে, তা আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিচারকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

    ভারতে মেটার কার্যকলাপ নিয়েও বাড়ছে প্রশ্নের বহর

    ভারতে মেটার কার্যক্রমও ক্রমশ সরকারি ও জনপর্যায়ের নজরদারির মধ্যে পড়ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচালনাগত ত্রুটি নিয়ে বহুদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লক করে দিয়েছিল ফেসবুক। এরপর ভারত সরকার মেটার কর্তাদের তলব করে। পরে মেটা ক্ষমা চেয়ে জানায়, ঘটনাটি ছিল পরিচালনাগত ভুলের ফল।

    বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ও প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ সালের অগাস্টে জুকারবার্গ ভারতীয় কর্তাদের কাছেও ক্ষমা চান। তাঁর প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান, কৃত্রিমভাবে তৈরি (Meta) ভুয়া ভিডিও এবং অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

    বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সরকারি আধিকারিকরা জানান, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট ধরনের বিষয়বস্তুর প্রচার বাড়ানোর জন্য অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এর ফলে ভারতে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—অর্থের বিনিময়ে যদি কোনও বিষয়বস্তুকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কোটি কোটি ভারতীয় ইউজারের সামনে কোন বিষয়বস্তু দৃশ্যমান হবে, সেই সিদ্ধান্তে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলি কতটাই বা নিরপেক্ষ?

    ভারত সোশাল মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। সরকারি সংস্থা বা আদালতের নোটিশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে ভারতের মতো মেটার অন্যতম বৃহৎ বাজারে সংস্থাটির জন্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার সতর্ক করেছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করলে মেটা তার দায়মুক্তির আইনি সুরক্ষাও হারাতে পারে।

    মেটার এআইয়ের কৌশলেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা

    মামলাটির প্রভাব শুধু সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মেটার ক্রমবর্ধমান এআই-ভিত্তিক পরিকল্পনার উপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের কাছে এমন নির্দেশ দাবি করছে, যার ফলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পরিচালনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এর মধ্যে অল্পবয়সী ইউজারদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ, সুপারিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্ক্রলিংয়ের মতো সুবিধায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয় রয়েছে।

    ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার দাবিও জানানো হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও অ্যালগরিদমের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হতে পারে।

    আদালত যদি মনে করে শিশুদের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং পরে সেই তথ্য এআইয়ের মডেল বা অ্যালগরিদম প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে মেটাকে তার এআই পরিকাঠামোর কিছু অংশ শনাক্ত, পর্যালোচনা, পরিবর্তন এমনকি প্রয়োজনে বাতিলও করতে হতে পারে (Meta)।

    সাক্ষ্য দিতে পারেন জুকারবার্গ ও মোসেরি

    পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। সেখানে মেটা কর্তা জুকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেটার বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী এবং প্রযুক্তি ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও সাক্ষ্য দিতে পারেন।

    তরুণ ইউজারদের ওপর ইনস্টাগ্রামের প্রভাব নিয়ে এর আগেও জুকারবার্গকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্য একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ইনস্টাগ্রামকে আসক্তি তৈরির জন্য নয়, বরং ইউজারদের উপকারে আসার মতো করে তৈরি করা হয়েছিল।

    ২৯ অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ

    ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি-সহ ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা সম্পর্কে ইউজারদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এমন কিছু সুবিধা জেনেশুনে তৈরি করেছে, যা তরুণ ইউজারদের আরও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে কাটাতে উৎসাহিত করে। এসব কার্যকলাপের মাধ্যমে মেটা অঙ্গরাজ্যগুলির ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে (Zuckerberg)।

    অন্য একটি মামলায় ২৯টি অঙ্গরাজ্যই অভিযোগ করেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে মেটা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষাসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটা অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলির প্রধান আইন কর্তারা পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করতে পারেননি এবং যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে, তা অভিযোগের তুলনায় অসমানুপাতিক। কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকারও সাফাই দিয়েছে মেটা। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের নকশা, বয়স যাচাই এবং ইউজারদের প্রতারণার অভিযোগও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

    বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

    এই মামলার রায় মেটার জন্য শুধু বিপুল আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নই নির্ধারণ করবে না, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করতে পারে (Meta)।

    এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, মামলাটি এআই শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। আদালত যদি এমন নির্দেশ দেয়, বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এআই মডেল মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কীভাবে এআই সিস্টেম তৈরি, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা করবে, তার ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জুকারবার্গের জন্য এটি নিজের দেশের মাটিতেই এক বড় আইনি পরীক্ষা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোশাল মিডিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এখন এমন এক আদালত-লড়াইয়ের মুখোমুখি, যা শুধু মেটার আর্থিক অবস্থাকেই নয়, সংস্থাটির ভবিষ্যতের অন্যতম (Zuckerberg) প্রধান বাজি এআই -কেন্দ্রিক কৌশলেরও একটি অংশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে (Meta)।

     

  • Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে (Imran Khan)। শুক্রবার ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁকে জেল হেফাজতেই রাখা নিরাপদ। ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য আদিয়ালা জেল থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁকে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি নেই। এরপরই তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর নির্ধারিত সেলে রাখা হয়।

    চিকিৎসা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিবার ও দলের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা বারবার অভিযোগ করেছেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছে না। অন্যদিকে, পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতির কথা বলা হয়নি যার জন্য অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক-সহ একটি মেডিক্যাল প্যানেলকে তাঁকে পরীক্ষা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস আপত্তির কারণে ফেরত দিয়েছে বলে খবর। আপত্তিগুলি সংশোধন করে সরকার ফের আবেদন জানাতে পারে।

    চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ

    ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে জানুয়ারির শেষ দিকে তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন ধরা পড়ার পর। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিকবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী।

    টানা ৩ বছর জেলে ইমরান

    ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। যদিও পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। ২০২৩ সালের ৯ মে তাঁর প্রথম গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটে। পরে ওই বছরের ৫ আগস্ট দুর্নীতির মামলা, যার মধ্যে তোষাখানা মামলাও ছিল, সেই মামলায় তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে একাধিক মামলা ও সাজা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান।

  • Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে পৃথক দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলি দখল করেছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। দুই ঘটনায় মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক জলদস্যুদের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরপর এই দুই ঘটনায় পূর্ব আফ্রিকার ‘হর্ন অফ আফ্রিকা’ অঞ্চল সংলগ্ন এডেন প্রণালী জলসীমায় ফের সক্রিয় হয়ে ওঠা সোমালি দস্যুদের  নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দখল

    প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে এডেন প্রণালীতে। ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছয় সশস্ত্র জলদস্যু দখল করে নেয় ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী তেলজাত পণ্য পরিবহণকারী ট্যাঙ্কার এমটি সিবু ১। জাহাজটিতে মোট ২০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন সিরীয়, একজন সুদানি, একজন ইরাকি এবং আরও একজনের জাতীয়তা নিশ্চিত নয়। ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিএমএ) রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে জাহাজের সমস্ত কর্মী নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের বর্তমান অবস্থান এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

    ঘটনার পর রিক্রুটমেন্ট ও প্লেসমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স-প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ডিএমএ। পাশাপাশি ই-নাবিক অনলাইন মেরিন ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসকেএস কৃষিভ মেরিন সার্ভিসের সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা জাহাজটির চারজন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। সংশ্লিষ্ট চার কর্মীর তথ্যও ডিএমএ-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সোমালিয়া উপকূলে দ্বিতীয় জাহাজ ছিনতাই

    অন্যদিকে, সোমবার সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড অঞ্চলের আইল প্রদেশের মারায়া এলাকার কাছে দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে। আট জলদস্যু ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি লুতুফ  দখল করে নেয়। হামলার সময় জাহাজটি উপকূল থেকে মাত্র ৩.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।  এক সোমালি আধিকারিক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, জাহাজটি দখলের পর জলদস্যুরা সেটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।

    এমভি লুতুফ-এ মোট ১০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, একজন তুরস্কের নাগরিক, একজন জর্জিয়ার নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। জাহাজটির মালিক পোলার মুভমেন্ট শিপিং। জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সংক্রান্ত সরঞ্জামের পাশাপাশি অস্ত্রও ছিল। এগুলি মোগাদিশুতে একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন ওই সোমালি আধিকারিক।

    এপ্রিলেও একই ধরনের জাহাজ ছিনতাই

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এমভি লুতুফ ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত জলদস্যুরা সম্ভবত সেই একই গোষ্ঠীর সদস্য, যারা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এমভি স্বার্ড নামে একটি জাহাজ ছিনতাই করেছিল। এপ্রিলের ওই ঘটনায় জলদস্যুরা জাহাজটিকে পন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার অন্তর্গত গারমাল-এর কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এমভি লুতুফ, তার কর্মী এবং জাহাজে থাকা পণ্য ও অস্ত্রের বর্তমান অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনা নিয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ফের কি বাড়ছে সোমালি জলদস্যুদের দাপট?

    একই সময়ে ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যু হামলা এবং ২২ জন ভারতীয়ের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এডেন প্রণালী, সোমালিয়া ও আফ্রিকার হর্ন সংলগ্ন জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এই ধরনের হামলা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরপর দুটি ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দুই জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

  • Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের ধর্মীয় প্রচারক আল্লামা নাসির মাদনি। তাঁর দাবি, লস্কর-ই-তৈবার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ কাশ্মীরে প্রায় ১০ হাজার জঙ্গিকে পাঠিয়েছিল। গত ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের বাহাওয়ালনগরে লস্কর-ঘনিষ্ঠ একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মাদনি এই মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। বক্তৃতায় মাদনি হাফিজ সইদকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন, যে তথাকথিত ‘মাতৃভূমির’ জন্য আত্মত্যাগ করেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সইদ হাজার হাজার জঙ্গিকে কাশ্মীরের দিকে পাঠিয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার ও নিয়োগের অভিযোগ বহু পুরনো। নাসির মাদনির সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই ফের উসকে দিল।

    পাকিস্তানের নজরে কাশ্মীর

    কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার, নিয়োগ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো সংগঠনগুলি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বাস্তবে এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর উপর একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বারবার পড়শি দেশ পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে ভারত। পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী যে ভারতে ক্রমাগত নাশকতা চালাতে চাইছে তার ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান কখনও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগের কথা স্বীকার করেনি।

    ভারতের দাবিই সত্য প্রমাণিত

    একটা দেশ যারা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, সুযোগ সুবিধা দিয়ে, সবরকমের সাহায্য করে অন্য দেশে নাশকতার জন্য পাঠাচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের ফলে তারা নিজেদের ভাল প্রমাণিত করার চেষ্টা করছে। কখনও বলছে, তাদের দেশই জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে। কখনও আবার কোনও জঙ্গিনেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলছে। ইসলামাবাদের বিপক্ষে এই অভিযোগ বহুবার করেছে ভারত। সেই অভিযোগ যে সত্যি তা এই ধরনের ভিডিও বারবার প্রমাণ করে।

    হাসপাতালের শয্যা থেকে ফের প্রকাশ্যে

    নাসির মাদনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। গত ৩ জুলাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জাহানিয়ানের একটি মসজিদে শুক্রবারের ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পাক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। পরে তাঁকে মুলতানের চৌধরি পারভেজ এলাহি ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজিতে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল। অসুস্থতার পর প্রকাশ্যে ফিরে এসে তাঁর এমন মন্তব্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

    হাফিজ সইদকে ঘিরে বিতর্ক

    লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিদের যোগ ছিল। ওই হামলায় ১৬০-রও বেশি মানুষ নিহত হন। পাকিস্তানের আদালতও সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় হাফিজ সইদকে দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে সে পাকিস্তানে কারাবন্দি রয়েছে, এমনই দাবি ইসলামাবাদের। তবে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাফিজ এখন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। তার জীবন-যাপন আর পাঁচজনের মতোই। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই জঙ্গির জন্য পাক সরকার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত রক্ষীও রয়েছে হাফিজের। তাদের ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে রাখে সে।

    কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর দাবি

    নাসির মাদনির বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, তিনি সইদকে সন্ত্রাসবাদী নেতা হিসেবে না দেখিয়ে তথাকথিত জাতীয় স্বার্থে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর যে দাবি তিনি করেছেন, তা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। তবে ‘১০ হাজার জঙ্গি’ পাঠানোর দাবিটি নাসির মাদনির বক্তব্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে। এই নির্দিষ্ট সংখ্যার কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

    নাসির মাদনি কে

    নাসির মাদনিকে বিভিন্ন রিপোর্ট ও অনলাইন সূত্রে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে মাদনির একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় বক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতির কথাও উঠে এসেছে। ২০২০ সালে তাঁকে বন্দুকের মুখে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে এই ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    সতর্ক ভারতীয় গোয়েন্দারা

    স্বাধীনতা দিবসের আগে ও পরে পাকিস্তান থেকে লস্কর জঙ্গিদের বিভিন্ন দাবিকে উড়িয়ে না দিয়ে সতর্ক রয়েছে ভারত। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) থেকে শুরু করে উপত্যকার প্রধান শহর ও সড়কগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজন গতিবিধির সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে শ্রীনগর, উধমপুর, পুঞ্চ, ডোডা এবং রিয়াসির মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে বড় ধরনের তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এবং পাহাড়ি বনাঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ রুখতে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (CIK) উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে।

     

     

LinkedIn
Share