Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে (Teesta Water Ties) কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ।” অন্তত এমনই বললেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনে।তবে একইসঙ্গে নিজেদের স্বার্থের কথাও নয়াদিল্লিকে (India Bangladesh) বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনই আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এই বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন বন্ধু আর এক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কখনও নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না।”

    তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের তৎপরতা (Teesta Water Ties)

    দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই জলসম্পদমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে এল। এর অংশ হিসেবে চিনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে ঢাকা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উত্তর বাংলাদেশের বারবার দেখা দেওয়া বন্যা, নদীভাঙন এবং শুকনো মরশুমে জলসংকট মোকাবিলা করা। মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে সরকার একাধিক সেমিনার ও পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করেছে। এসব আলোচনায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।তিস্তা প্রকল্পকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন-সহ নানা সমস্যায় বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছ’টি জেলার মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওই এলাকার পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে (Teesta Water Ties)।”

    জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ

    তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ রয়েছে। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে বাংলাদেশের যমুনা নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদীর জল গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল তিস্তার ওপর। আটের দশক থেকেই তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় তিস্তার জলের ৩৯ শতাংশ ভারতের জন্য এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি ২৫ শতাংশ জল বণ্টন করা হয়নি (India Bangladesh)।

    তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি জরুরি প্রয়োজন

    এরপর ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তাতে শুষ্ক মরশুমে তিস্তার জল ভাগাভাগির একটি সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই ব্যবস্থার বিরোধিতা করায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি (Teesta Water Ties)। জলসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি “জরুরি প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেটিকে তিস্তা চুক্তি বা অন্য কোনও ব্যবস্থার নামে অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর

    জুন মাসে বেজিংয়ে সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (India Bangladesh)। তিস্তা প্রকল্পে চিনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের এই জলবণ্টন বিরোধে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ উত্তর বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন্স নেকের) কাছাকাছি। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে (Teesta Water Ties)। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তিস্তা সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য

    জুলাই মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের অংশ হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন” বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিস্তা জলবণ্টন বিরোধ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি থেকে আলাদা। ওই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদী ও জলসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দুই দেশ প্রায়ই আলোচনা করে থাকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে (Teesta Water Ties)।

     

  • Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ (America Act) পাশ করার দাবি তুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ বার সেই দাবির স্বপক্ষে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়ম রয়েছে। সেই তুলনা টেনেই আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ট্রাম্প লেখেন, “চলতি মাসের গোড়ায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?”

    ট্রাম্পের মুখে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Donald Trump)

    ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন এবং ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল! ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল।” ভারতের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প ফের তাঁর প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ পাশ করাতে ডাক দেন কংগ্রেসকে। তিনি লেখেন, “আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা আইন পাশ করতে হবে!” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প “সম্পূর্ণ সঠিক” কথা বলেছেন। ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে গোর বলেন, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। একই সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসকে সেভ আমেরিকা আইন পাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সেভ আমেরিকা আইন’

    আমেরিকায় নির্বাচনী নিয়ম আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত আইনটি ট্রাম্পের (Donald Trump) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার মতো বিষয়ও এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তুলনা করে ট্রাম্প মূলত আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন (America Act)। ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সামনে রেখে তাঁর এই রাজনৈতিক প্রচার নতুন করে দুই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়েও জন্ম দিয়েছে গভীর চর্চার (Donald Trump)।

     

  • Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ফের প্রকাশ্যে হুমকি দিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ইমরান লিয়াকত ভাট্টি। ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে কাসুরের একটি লস্কর শিবির থেকে দেওয়া বলে দাবি করা একটি ভিডিওতে ভাট্টিকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে। সেখানে সে দাবি করে, একদিন দিল্লিকে ‘কনে সাজানো হবে’ এবং ‘মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে’। ভিডিও এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ভাট্টি শুধু দিল্লি ও মুম্বই নয়, কাশ্মীর, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়েও বিতর্কিত ও আগ্রাসী মন্তব্য করে। তার বক্তব্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ভূখণ্ড দখলের উগ্রপন্থী বয়ান তুলে ধরা হয়। এই ভিডিও আবারও প্রমাণ করল প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে।

    কাসুরের লস্কর শিবির থেকেই হুমকি

    ঘটনার সময় ও স্থানকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি কাসুর শহর থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ভাট্টির বক্তব্যের সঙ্গে একটি লস্কর শিবিরের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে। ভাট্টি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে নিশানা করার অভিযোগ তোলে এবং আফগানিস্তানে ‘অবিশ্বাসীদের’ উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করে। এরপর দেশভাগের ইতিহাসকে সামনে এনে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বক্তব্য দেয় বলে অভিযোগ।

    মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা

    ভাট্টির বক্তব্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল দিল্লি ও মুম্বইকে ঘিরে তার মন্তব্য। হুমকির সুরে বলে, ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে’ এবং দাবি করে, মুম্বইয়ে একদিন পাকিস্তানের পতাকা উড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লি ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র এবং মুম্বই দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে এই দুই শহরকে নিশানা করে এমন বক্তব্যকে শুধু ভূখণ্ডগত দাবি নয়, ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কোনও জঙ্গি নেতার প্রকাশ্য হুমকি নিজে থেকেই আসন্ন হামলার প্রমাণ নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচার, নিয়োগের বার্তা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হামলার হুমকির মধ্যে পার্থক্য করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।

    লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে ভাট্টির যোগসূত্র

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইমরান লিয়াকত ভাট্টিকে লস্করের ক্যাডার এবং পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের (PMML) দক্ষিণ পাঞ্জাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাহাওয়ালপুরে একটি জনসভায় সে হাফিজ মহম্মদ সইদকে পিএমএমএল-এর প্রকৃত নেতা বলে দাবি করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বক্তব্যকে পিএমএমএল-এর সঙ্গে নিষিদ্ধ লস্কর নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের যোগাযোগের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রচার, সমর্থক সংগঠিত করা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    মুম্বই হামলার ছায়া

    ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গেও সংগঠনটির নাম জড়িত। ওই হামলায় মুম্বইয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে লস্কর ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে দিল্লি ও মুম্বই নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি ফের নিরাপত্তা মহলের নজর কাড়ার মতো ঘটনা। বিশেষ করে যখন বক্তব্যের সঙ্গে কাশ্মীর, দেশভাগ এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বয়ান যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি লস্করের পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে জুলাই ২০২৬-এ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টগুলিতে ভাট্টিকে কাসুরে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কাঠামোকেও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

    নজরে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি

    ভাট্টির বক্তব্যে ভারতের একাধিক অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ফলে ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে আসা স্বাভাবিক। ভিডিওর সঙ্গে সোশাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও ট্যাগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু ভাট্টির বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানের মাটিতে নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    পাকিস্তানের জঙ্গি-চ্যালেঞ্জ ফের সামনে

    ইমরান লিয়াকত ভাট্টির কথিত হুমকি পাকিস্তানে সক্রিয় ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কগুলির একটি বৃহত্তর চিত্র সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানভিত্তিক কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর দাবি কিংবা কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চল ‘দখল’ বা ‘মুক্ত’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং সীমান্তপারের প্রচারের যে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করে, তারই আরেকটি দিক সামনে এসেছে। তবে ভাট্টির বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক হামলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে না দেখে, উগ্রপন্থী প্রচার ও হুমকির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে এখন মূল বিষয় হল—এই বক্তব্যের পিছনে কোনও বাস্তব অপারেশনাল পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি কীভাবে কাজ করছে, তা খুঁজে দেখা।

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

  • Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করল বালুচিস্তান (Balochistan Independence Day)। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করল বালুচরা। বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ জানান বালুচিস্তান, পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা। মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনের মধ্যেই এক বার্তায় রাষ্ট্রসংঘ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে এই দাবি জানান তিনি। এরপরই দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। বালুচদের স্বাধীনতা উৎসব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়, বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

    আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থনের আহ্বান

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত বার্তায় মীর ইয়ার বালুচ বলেন, বালুচিস্তানকে আর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে উল্লেখ না করে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, বালুচ স্বাধীনতা আন্দোলন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন। বালুচ নেতার বার্তায় পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়। বালুচিস্তানের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক ‘নৈতিক সমর্থন’ অব্যাহত রাখার আবেদনও জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ

    বালুচিস্তান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মীর ইয়ার বালুচ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, গবেষক এবং বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের প্রচারের ফলে বালুচিস্তানের পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বালুচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীন বালুচিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে নিজস্ব পাসপোর্ট, মুদ্রা, সংবাদমাধ্যম, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কূটনীতির দায়িত্বও স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ১১ অগাস্টের ঐতিহাসিক দাবিকে সামনে রেখে প্রচার

    মীর ইয়ার বালুচের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের স্বাধীনতার দাবি ১৯৪৭ সালের ১১ অগাস্টের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের আগে ওই দিন বালুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এবার সেই ঐতিহাসিক দাবির স্মরণে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দিকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বালুচিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে সংঘাত তৈরি হয় এবং ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি বাহিনী কালাত দখল করে। অন্যদিকে, বালুচিস্তানে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঠেকাতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বালুচ গোষ্ঠীর দাবি, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও বালুচিস্তানের একাধিক এলাকায় সমর্থকেরা ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালন করেছেন। তাঁরা ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন না করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

    দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ

    তবে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বালুচিস্তানকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে। প্রদেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবি নিয়ে ইসলামাবাদ ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে ১১ অগাস্ট ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনকে ঘিরে বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা দিনটিকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দাবির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তথাকথিত ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-কে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বালুচ নেতাদের দাবি, পাকিস্তানি প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নজরদারি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কোয়েটা, নৌশকি, কালাত, গওয়াদর, তুরবত ও খুজদারসহ একাধিক এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মিষ্টিও বিতরণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ

    বালুচ মানবাধিকারকর্মী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ব্যাহত করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু এলাকায় ভারী নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনসমাবেশ ও মিছিলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখারও অভিযোগ উঠেছে। তবে বালুচ নেতৃত্বের দাবি, এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বাধীনতার দাবিতে কর্মসূচি থামেনি। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের একাংশ স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

    ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর দাবি

    সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ নামে একটি নথি প্রকাশ করে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি আরও জোরদার করেছেন। ওই ঘোষণায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ‘বালুচি ফালুস’ নামে নতুন মুদ্রা চালুর দাবিও করা হয়েছে। মীর ইয়ার বালুচের পক্ষ থেকে বালুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বালুচ নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বালুচিস্তানকে না দেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বালুচ জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বালুচিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই স্বীকৃত। ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর স্বাধীনতার ঘোষণা মূলত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্বের রাজনৈতিক দাবি; এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, নিরাপত্তা অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বালুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ১১ আগস্টের কর্মসূচি সেই দীর্ঘস্থায়ী স্বাধীনতার আন্দোলনকে ফের আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

  • Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-কে এর উদ্যোক্তারা প্যান-ইসলামিক যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কৌশলগত বিশ্লেষক এই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি আদৌ কোনও ঐক্যবদ্ধ ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়। বরং চুক্তিটি ইরানকে ঘিরে সুন্নি শক্তিগুলির একটি কৌশলগত জোট হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্বের দীর্ঘদিনের সুন্নি-শিয়া বিভাজন কমার বদলে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    যৌথ নিরাপত্তার আড়ালে কি সুন্নি সমীকরণ?

    রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা— তিন দেশের কর্তারা বারবার জানিয়েছেন, এই ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরি। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী সুন্নি রাজতন্ত্র সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্নি সন্ত্রাসী শক্তি পাকিস্তান এবং ন্যাটোর  সুন্নি সদস্য তুরস্ককে একই নিরাপত্তা কাঠামোয় নিয়ে আসার ফলে ইরানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র সঙ্গে তুলনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ইরান এই জোটের বাইরে। ফলে এই চুক্তিকে সর্বজনীন ইসলামি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে দেখার যুক্তি দুর্বল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে চুক্তিটির পেছনে রয়েছে সুন্নি-শিয়া ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় স্বার্থের হিসাব।

    তেহরান থেকে ইসলামাবাদ—চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

    চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রেজাই বলেন, ‘‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে একটি চুক্তি করলেই সৌদি আরব নিরাপত্তা পাবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন আমেরিকার উপর নির্ভর করেও সৌদি আরব যে নিরাপত্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান পায়নি, অন্য দেশের উপর নির্ভর করে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি রিয়াধকে অন্যের কাছ থেকে নিরাপত্তা ‘চেয়ে নেওয়ার’ পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন। তবে শুধু ইরান থেকেই সমালোচনা আসেনি। চুক্তির অন্যতম অংশীদার পাকিস্তানের প্রাক্তন আমেরিকা-স্থিত রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট কূটনীতিক হুসেন হাক্কানিও এই চুক্তিকে নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। হাক্কানির মতে, সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবের তুলনায় প্রতীকী দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর যুক্তি, একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন একটি অভিন্ন শত্রু। কিন্তু তিন দেশের ক্ষেত্রে সেই অভিন্ন শত্রু কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, চুক্তির ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো সহযোগিতা বাড়তে পারে। কিন্তু এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে দেখার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের স্বার্থ কি এক?

    সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। তিন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক নীতি একে অপরের থেকে যথেষ্ট আলাদা। পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি ভারতকে ঘিরে সীমান্ত বিরোধ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা নীতি গভীরভাবে যুক্ত ন্যাটো এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে। ফলে আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রাধিকার রিয়াধ বা ইসলামাবাদের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা, তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা।ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও একটি অভিন্ন সামরিক কৌশল বা একক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কি শুধুই ভূ-রাজনৈতিক মিথ?

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা জোটের ধারণা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে সুন্নি-শিয়া বিভাজন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক নীতি সেই সম্ভাবনাকে বারবার দুর্বল করেছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই চুক্তি গোয়েন্দা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটিকে একটি সর্বজনীন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার তুলনায় অনেকটাই অতিরঞ্জিত। বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কৌশলগত ও লেনদেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবেই চুক্তিটিকে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্যের পথ তৈরি করবে, নাকি ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র স্বপ্নের চেয়ে বাস্তব ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সমীকরণই এই জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Gautam Adani: ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন ফৌজদারি মামলা খারিজ

    Gautam Adani: ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন ফৌজদারি মামলা খারিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির (Gautam Adani) বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডেরাল আদালত। ১০ অগাস্ট আদালতের (US Court) এই রায়ের জেরে মার্কিন ফেডেরাল কৌঁসুলিরা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। তবে মামলা খারিজের অনুমোদন দেওয়ার সময় বিচারক মার্কিন বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন। ব্রুকলিনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিস মামলাটি খারিজের অনুমোদন দেন। তবে তিনি বিশেষভাবে মার্কিন বিচার বিভাগের কর্তা ট্রেন্ট ম্যাককটারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের আগে আদানির আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন ম্যাককটার। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, মামলাটিতে আগে কাজ করা একাধিক ফেডেরাল কর্তা ও তদন্তকারীর মতামতকে ম্যাককটার উপেক্ষা করেছেন বলে মনে হয়েছে। পরিবর্তে তিনি নিজের মূল্যায়নের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন বলে বিচারক মন্তব্য করেন।

    আদানির ১০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন (Gautam Adani)

    আদালতে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আমেরিকায় আদানি গোষ্ঠীর ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলেও তখন জানানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে গৌতম আদানির হয়ে মামলা লড়া আইনজীবী রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন একটি দল মার্কিন বিচার বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে জিউফ্রা ১০০ পাতার একটি নথি উপস্থাপন করেন। সেখানে যুক্তি (US Court) দেওয়া হয়, আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ কৌঁসুলিদের হাতে নেই। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনাগুলি সম্পূর্ণভাবে ভারতে ঘটেছে বলে এই মামলার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার্য এক্তিয়ারও নেই বলে দাবি করা হয়েছিল। আদানির (Gautam Adani) পক্ষে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, মামলায় উল্লেখ করা ঋণপত্রগুলি মার্কিন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল না এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনও বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতি হয়নি।

    ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি

    ১০০ পাতার ওই নথির একটি পাতায় আমেরিকায় আদানির ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ ছিল। এর পরেই বিচারক প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি কি মার্কিন বিচার বিভাগের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল? ম্যাককটার অবশ্য দাবি করেন, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেনি। এই বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও তিনি অস্বীকার করেন। তবে ১৫ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় গৌতম আদানি স্বীকার করেন, তাঁর আইনজীবীরা মার্কিন বিচার বিভাগকে জানিয়েছিলেন যে এই বিনিয়োগ মামলাগুলির নিষ্পত্তির অংশ হতে পারে। জিউফ্রাও আদালতকে জানান, অভিযুক্ত পক্ষ মার্কিন বিচার বিভাগকে জানিয়েছিল যে সম্ভাব্য নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে আদানি গোষ্ঠী ওই বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিচারক গারাউফিস বলেন, এই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া যথাযথ কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তবে তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে—এই ধরনের প্রস্তাব সমান বিচার এবং আইনের শাসনের ক্ষেত্রে কী অর্থ বহন করতে পারে (US Court)।

    ২০২৪ সালে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ

    ২০২৪ সালে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, আদানি গোষ্ঠীর একটি সহযোগী সংস্থার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত করতে তিনি ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিলেন (Gautam Adani)। মার্কিন কৌঁসুলিরা আরও অভিযোগ করেছিলেন, সংস্থার দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে আদানি গোষ্ঠী প্রথম থেকেই এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক নথিতে ম্যাককটার বলেন, মামলাটি মূলত বিদেশকেন্দ্রিক, অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন এবং এটি মার্কিন বিচার বিভাগের বর্তমান আইন প্রয়োগের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক, বিচার বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ এবং নিজের আইনি গবেষণা ও বিশ্লেষণের পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    আদানি পরিবারের সদস্য ও সংস্থার বিরুদ্ধেও আলাদা মামলা

    এদিকে, আদানি পরিবারের সদস্য এবং গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থাকে ঘিরে মার্কিন বিচার বিভাগে আরও কয়েকটি পৃথক আইনি বিষয় রয়েছে। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলায় গৌতম আদানি ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছেন। তাঁর ভাইপো সাগর আদানি ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে সম্মত হয়েছেন। এদিকে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড মার্কিন অর্থ দফতরকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে।

    আদালতের সিদ্ধান্তে স্বস্তি আদানির

    আদালতের রায়ের পর গৌতম আদানি (Gautam Adani) সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি বিনয় ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এই মামলা খারিজের ফলে আপাতত গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও, মামলাটি খারিজের পেছনে (US Court) বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিচারকের মন্তব্য নতুন করে জন্ম দিয়েছে একরাশ প্রশ্নের (Gautam Adani)।

     

  • Colombia Earthquake: ভয়াবহ ভূমিকম্প! তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল একের পর এক বাড়ি, মৃত্যুপুরী কলম্বিয়া

    Colombia Earthquake: ভয়াবহ ভূমিকম্প! তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল একের পর এক বাড়ি, মৃত্যুপুরী কলম্বিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তছনছ হয়ে গেল পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ (Colombia Earthquake)। ৭.৪ মাত্রার এই ভয়াবহ কম্পনের বলি হয়েছেন অন্তত ১৩২ জন। মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে গিয়েছে একাধিক বহুতল ও ঘরবাড়ি। ইট-পাথরের স্তূপের নীচে এখনও আটকে রয়েছেন শয়ে শয়ে মানুষ (Earthquake In Colombia)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পাবে বলে খবর। বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি দায়িত্ব নিয়েছেন কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। সান হোসে দেল পালমারে জরুরি উদ্ধারকাজ তদারকির আশ্বাস দিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কেউ একা নন। দেশ আপনাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

    ভূমিকম্পের উৎসস্থল 

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার দুপুরের দিকে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে, কলম্বিয়ার স্থানীয় সময় ছিল সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট। জানা গিয়েছে, চকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের উৎস। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কলম্বিয়ার অনেকটা এলাকাজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়। ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর এবং পানামাতেও অনুভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, কম্পনের উৎসস্থল স্যান হোসে দে পামার এলাকাটি প্রশান্ত মহাসাগরের অখ্যাত ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থান করার ফলে মহাসাগরকে ঘিরে থাকা ওই বলয়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকাগুলির মধ্যে একটি। তবে কলম্বিয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এটি গত এক দশকে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

    ধসে পড়েছে একাধিক বাড়ি

    ভূমিকম্পের জেরে বহু ঘর বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ঘটনার পরই জোরকদমে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার কাজ চলছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা পেরেইরা শহরের। সেখানকার মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানান, শুধুমাত্র পেরেইরাতেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের সামগ্রিক অবস্থাকে অত্যন্ত ‘সংকটময়’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে পেরেইরা, কালি এবং কিবদো শহরে চোখের সামনে ধসে পড়ছে বাড়িঘর। ভেঙে পড়া বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় ছুটছেন মানুষ। শোনা যআচ্ছে আর্তনাদ। অন্যদিকে, বোগোটা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মানিজালেস শহরের বিখ্যাত নিও-গোথিক ক্যাথেড্রালের একটি টাওয়ার ভেঙে পড়েছে।

    দেশে জরুরি অবস্থা, বন্ধ বিমানবন্দর

    ভূমিকম্পের জেরে কলম্বিয়ার পাঁচটি বিমানবন্দরে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পেরেইরা, মানিজালেস, আর্মেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেনতুরা বিমানবন্দর আপাতত শুধুমাত্র চিকিৎসা ও সরকারি উড়ানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বিমানবন্দরগুলির পরিকাঠামোয় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার।

  • India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে (India Bangladesh Talks)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে হবে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই হল এই বৈঠক। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নয়াদিল্লিতে। সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত ব্রিকসের সব সদস্য রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে বলেই আশা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তঃসরকারি সংগঠনে বর্তমানে ১১টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেকের বৈঠক (India Bangladesh Talks)

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেখা যায় তারেককে একটি শাল উপহার দিতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন। এর এক দিন আগে, রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকে অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমাতেও এই বৈঠকের ভূমিকা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আলোচনায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও খবর। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা

    তারেকের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও নয়াদিল্লির অবস্থানে এখনও বড় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই কূটনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে অতিথি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়েই রয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেককে দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। অর্থাৎ শুধু ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেকের পৃথক রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়েও ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে (Tarique Rahman)।তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেকের নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

    শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে অস্বস্তি

    বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে। গত বুধবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ (India Bangladesh Talks)। হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও, পিছিয়ে যাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে দিতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। তবে আমি আমার জনগণের সঙ্গে থাকার জন্য দেশে ফিরে যাব।” হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিকে আগে থেকেই ওই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তারপরেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, হাসিনার ওই বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দেয়।

    ভারতকে ‘মহান বন্ধু’ আখ্যা হাসিনার

    তবে একই বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকটের সময় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন হাসিনা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা নয়। বরং বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য (India Bangladesh Talks)। হাসিনার এই বক্তব্যের পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠককে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক (Tarique Rahman) পর্যবেক্ষকেরা।

    সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা কি মিলছে?

    পরপর দু’দিনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ—এই দু’টি বিষয়ই এখন ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে (India Bangladesh Talks) করা হচ্ছে। আবার তিনি সম্মেলনে না গেলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্বস্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। কারণ, ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার তরফে এখনও কোনও ঘোষণা করা আসেনি। আবার, ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে হাসিনা এবং তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে (Tarique Rahman) কূটনৈতিক যোগাযোগ কোন দিকে এগোয় এবং ব্রিকস সম্মেলনে তারেক যোগ দেন কি না, এখন সেটাই দেখার (India Bangladesh Talks)।

     

LinkedIn
Share