Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশই ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar on UN Reform)। তাঁর অভিযোগ, যে দেশগুলি রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের পথে বাধা দিচ্ছে, তারা এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, কিন্তু আদতে রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

    রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন জরুরি

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।” তাঁর মতে, গুরুতর সংস্কার করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন লিখিত খসড়া বা ‘টেক্সট-বেসড নেগোশিয়েশন’। কারণ, কোনও লিখিত প্রস্তাব ছাড়া প্রকৃত অর্থে আলোচনা সম্ভব নয়। ‘Ruptures & Ramparts: Building Bridges for a Changing World’ শীর্ষক ওই আলোচনার আয়োজন করেছিল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF), রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন, রাষ্ট্রসংঘের ভারতীয় দফতর এবং রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশন। অনুষ্ঠানে আলোচনা পরিচালনা করেন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি সমীর সরণ। উপস্থিত ছিলেন জামাইকার বিদেশমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ, সুরিনামের বিদেশমন্ত্রী মেলভিন বুভা, ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুডজেটো আব্লাকওয়া এবং ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও সেলেস্ট কনর্স।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই

    জয়শঙ্কর বলেন,“প্রতি বছরই নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এবার সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের হতাশা বাড়ছে। কারণ, কোনও লিখিত খসড়া ছাড়া আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু সময় নষ্ট করার জন্য আলোচনা চলতে পারে না।” রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনি সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সংস্কার করতে পারবেন না।’’ তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে তার আগে প্রত্যেক পক্ষকে নিজেদের মতামত পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

    সংস্কারের জন্য খসড়া তৈরি জরুরি

    জয়শঙ্কর বলেন, রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের জন্য একটি খসড়া তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সেই খসড়ায় সব দেশের মতামত ও প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান কাঠামো নিয়েও সরব হন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় রাষ্ট্রসংঘ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের দাবি তোলা মানেই রাষ্ট্রসংঘ-বিরোধী হওয়া নয়। বরং যারা রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই চিন্তিত, তারাই সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তুলতে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

    রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে

    গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, এই দেশগুলি নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও সম্পদ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে পুরনো নির্ভরতার কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর ফলে বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বও আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে একজন মহিলাকে নির্বাচিত করার ভাবনা কোনও উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি নিচ থেকে উঠে আসা একটি ধারণা।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার প্রয়োজন

    এদিকে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে নিজের শেষ ভাষণেও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে এবং এর বৈধতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিতে সরব ভারত। ১৯৪৫ সালে গঠিত ১৫ সদস্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ একবিংশ শতকের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না বলে ভারতের বক্তব্য। তাই স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্যপদই সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে ভারত। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্যও ভারত প্রার্থী হয়েছে। আগামী বছর জুনে এই পদের নির্বাচন হওয়ার কথা।

    জয়শঙ্করের কূটনৈতিক তৎপরতা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। বৃহস্পতিবার পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। মালদ্বীপের বিদেশমন্ত্রী ইরুথিশাম আদমের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরাকের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি ভারত ও ইরাকের অর্থনৈতিক এবং জ্বালানি সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।

    আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    এস্তোনিয়ার বিদেশমন্ত্রী মার্গুস তসাখনার সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও এস্তোনিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর জানান, চলমান ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাও আলোচনায় উঠে আসে। ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যাম ওকুজেতো আব্লাকওয়ার সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। ব্রিটেনের বিদেশসচিব এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠকে সংঘাতের কারণে খাদ্য ও জ্বালানি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। তাজিকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী সিরোজিদ্দিন মুহরিদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভারত-তাজিকিস্তানের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও বার্বাডোসের বিদেশমন্ত্রী ক্রিস্টোফার পিটার সিনকলেয়ার, আর্মেনিয়ার বিদেশমন্ত্রী আরারাত মির্জোয়ান এবং সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউক্রেন সংঘাত, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

     

     

     

     

     

  • India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মে মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের সংঘাতকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) সেই দাবিকে তীব্র কটাক্ষ করল ভারত। ভারতের বক্তব্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তা পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। ৮০তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘রাইট অব রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট। তিনি বলেন, “ধ্বংস হওয়া রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গার যদি জয় বলে মনে হয়, তা হলে পাকিস্তান সেই জয় উপভোগ করতেই পারে।”

    পাকিস্তানের ‘জয়ের’ দাবি নিয়ে ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘে নিজের ভাষণে শাহবাজ শরিফ মে মাসের সামরিক সংঘাতে পাকিস্তান জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ জিতেছে এবং এখন তারা শান্তি জিততে চায়। ভারতের সঙ্গে সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেন তিনি। এর জবাবে গেহলট বলেন, সংঘাতের ঘটনাপ্রবাহ পাকিস্তানের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর বক্তব্য, ৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সরাসরি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের আবেদন জানায়। ভারতের প্রতিনিধি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মতোই ভারতীয় সাধারণ নাগরিকদের উপর একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ ছিল। ভারত তার নাগরিকদের সুরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।

    ‘সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলার ছবি তার প্রমাণ’

    অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় ভারতীয় হামলার প্রসঙ্গও রাষ্ট্রসংঘে তুলে ধরেন গেহলট। তাঁর দাবি, বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় হামলার পর নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেন, “একটি ছবি হাজার কথার সমান।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক ও অসামরিক আধিকারিকরা যেসব সন্ত্রাসবাদীকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়ে থাকেন, তা পাকিস্তানের নীতির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভারতের বক্তব্যে পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে আসে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকজন মন্ত্রীর সন্ত্রাসবাদী শিবির নিয়ে করা মন্তব্যের উল্লেখ করে গেহলট ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের আলাদা করে দেখা হবে না। একইসঙ্গে পারমাণবিক হুমকির আড়ালে সন্ত্রাসবাদ চালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

    শাহবাজের বক্তব্য ‘নাটক’

    কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে আক্রমণ করার পর রাষ্ট্রসংঘে তারও জবাব দেয় নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল “অযৌক্তিক নাটক”। তাঁর দাবি, কোনও ধরনের রাজনৈতিক নাটক বা মিথ্যা তথ্য বাস্তব ঘটনাকে আড়াল করতে পারে না। ভারতের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের আড়াল করেছিল। ভারতীয় পক্ষ ওই সংগঠনকে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে দাবি করেছে।

    শান্তি চাইলে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো বন্ধ করতে হবে

    শাহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও ভারত জানিয়ে দিয়েছে, শান্তির পথ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। গেহলট বলেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারতের সঙ্গে শান্তি চায়, তা হলে অবিলম্বে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবির বন্ধ করতে হবে। দিল্লির নিশানায় থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও জনপরিসরের বক্তব্য নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায় ডুবে থাকা একটি দেশ” রাষ্ট্রসংঘে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে অন্য দেশকে উপদেশ দিচ্ছে—বিষয়টি “অত্যন্ত পরিহাসের”।

    তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতার সম্ভাবনাও ফের খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই একমত যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবেই সমাধান করা হবে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার জায়গা নেই—এটাই ভারতের দীর্ঘদিনের জাতীয় অবস্থান। অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, পাকিস্তান শক্তিশালী অবস্থান থেকেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব”-এর প্রশংসা করেন। তবে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (DGMO) মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই সমঝোতা হয়েছিল।

    অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট

    ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ছাড়াও পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি, রাডার, গোলাবারুদ ভাণ্ডার এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মে মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটির বিস্ফোরণের ছবি এবং রহিম ইয়ার খান বিমানঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ের দৃশ্য প্রকাশ করেছিলেন। ভারতীয় পক্ষের দাবি, করাচির মালির ক্যান্টনমেন্টের কাছাকাছি এলাকাতেও সামরিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছিল।

    পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ

    ভারতের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে লস্কর-ই-তইবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও ভারত সেগুলির অনেকগুলি প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে নয়াদিল্লির দাবি। চার দিনের এই সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে ১০ মে। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত সেই ঘটনাপ্রবাহই তুলে ধরে পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকাশ্যে আসা সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও অন্যান্য তথ্য পাকিস্তানের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

     

     

     

     

  • White House Ban On CNN: সিএনএন-সহ শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের উপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল মার্কিন আদালত

    White House Ban On CNN: সিএনএন-সহ শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের উপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল মার্কিন আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump’s Ban On Media Outlets) প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় আইনি ধাক্কা। সিএনএন, এমএস নাও (MS NOW) এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ টিম কেলি নির্দেশ দেন, তিনটি সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা সম্ভবত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিন সংবাদমাধ্যমের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক কেলি। সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোয়াইট হাউসে (White House Ban On CNN) সাংবাদিকদের প্রবেশ আটকে দেওয়ার কয়েকদিন পর সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি সংবাদমাধ্যমের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে‘মিথ্যা ও কল্পিত খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেছিলেন। এরপরই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়।

    ‘প্রথম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন’

    মামলায় তিন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশনের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বেছে বেছে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে। এটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তিন সংস্থার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার কোনও সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে বা কীভাবে সংবাদ পরিবেশন করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না। তাদের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ না করা হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের সরকারি কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনওভাবেই ‘অধিকার হিসেবে নিশ্চিত’ নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথম সংশোধনী সংবাদ প্রকাশের অধিকার রক্ষা করে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কোনও সাংবাদিকের বাধ্যতামূলকভাবে প্রেস পাস, ব্রিফিং রুমে আসন বা প্রেস পুলে থাকার অধিকার থাকবে। ট্রাম্পও তাঁর প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে সমর্থন করেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে আক্রমণ করেন।

    সরকারের পক্ষে ভিত্তিহীন যুক্তি

    সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ’ বলে যুক্তি দেওয়া হলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারক উল্লেখ করেন, ‘মামলা চলাকালীন বাদীপক্ষের প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বা পাস বাতিল রাখা কেন আবশ্যক—নথিপত্রে সরকারের এই দাবির স্বপক্ষে বাস্তব কোনো প্রমাণ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে জানান যে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের ‘কথিত অসত্যতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’র কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস কিংবা উক্ত তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই তিনটি সংবাদমাধ্যমের “অনবরত কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের সুযোগ পাওয়া উচিত নয়।” অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ইরান যুদ্ধ ও ক্রমাগত মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা মার্কিন মুলুকে এখন প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতাও খর্ব করা হচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক টিম কেলি উল্লেখ করেন, ‘ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট’-এর দুটি পূর্ববর্তী নজির থেকে এটি স্পষ্ট যে, সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিল করার আগে তাদের আইনি প্রক্রিয়াগত অধিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রমাণ দেখে মনে হচ্ছে না যে হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো অর্থপূর্ণ সুযোগ দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষে অংশ নেওয়া আইনজীবী বিচারক কেলিকে জানান, কোনো প্রকার আইনসম্মত আগাম নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দেওয়া ছাড়াই তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটিকে নজিরবিহীন, অযৌক্তিক এবং অত্যন্ত কঠোর শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল

    এই সংঘাত আরও তীব্র হয় যখন শনিবার সিএনএন এবং এমএস নাও-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। সিএনএনের সাংবাদিক বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাও-এর সাংবাদিক আকায়লা গার্ডনার জানান, কাজের জন্য হোয়াইট হাউসে পৌঁছনোর পর তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে পলিটিকো জানায়, তাদের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকেও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁর প্রেস ব্যাজ নিয়ে নেওয়া হয়। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি জ্যাকুই হাইনরিখ সতর্ক করে বলেন, একটি সংবাদমাধ্যমকে তার সংবাদ পরিবেশনের কারণে বাদ দেওয়ার যে নীতি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে।

    সিএনএনকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে টিভি পুলের কভারেজ বন্ধ

    হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও পড়ে। প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচি কভার করার দায়িত্বে থাকা টেলিভিশন পুল থেকে সিএনএনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের জন্য ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের কভারেজও ছিল। পাঁচটি বড় মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত ওই পুলের চেয়ারম্যান এবং ফক্সের ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান ব্রায়ান বটন এক ই-মেলে জানান, সিএনএনের পরিবর্তে অন্য কোনও নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অন্য নেটওয়ার্কগুলিও অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত ‘পুল কভারেজ’ স্থগিত রাখবে।

    অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সংহতি

    এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য সংবাদ সংস্থাও সিএনএন এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলির পাশে দাঁড়ায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম সোমবার প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রভাবও চোখে পড়ে। ওই দিন ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে নতুন একটি হেলিকপ্টার অবতরণ দেখান এবং বক্তব্য রাখেন। কিন্তু টেলিভিশন পুলের কোনও ক্যামেরা সেখানে উপস্থিত ছিল না, ফলে তাঁর বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক টেলিভিশন কভারেজও হয়নি। বিচারকের সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে এখন সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর হোয়াইট হাউস কভারেজের অধিকার পুনর্বহালের পথে বড় আইনি অগ্রগতি হয়। মামলাটি একইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ক্ষমতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

     

     

     

     

  • Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে বিকল্প রুট গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ ক্ষেত্রে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বহুপাক্ষিক বৈঠকে মঙ্গলবার এ কথা (IMEC) বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ট্রাম্প বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের জঙ্গি হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর এবং তেল বাইরে নিয়ে যাওয়ার অন্যান্য পথ—তা পাইপলাইন হোক বা অন্য কোনও ব্যবস্থা—দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। একসঙ্গে আমরা এমন সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি, যেগুলি এক দশক ধরে এই অঞ্চলকে সমস্যায় রেখেছে।”

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (Donald Trump)

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর একটি বহুদেশীয় পরিবহণ, জ্বালানি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো প্রকল্প। ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত, আমেরিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্প নিয়ে সমঝোতাপত্রে সই করে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই করিডরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় পথ ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে এবং একটি উত্তরাঞ্চলীয় পথ উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মধ্যে রেলপথ, বন্দর-সংযোগ এবং সমুদ্র ও স্থলপথের যৌথ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য তার এবং পরিষ্কার হাইড্রোজেন পরিবহণের জন্য পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ আরও বাড়ানো।

    চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের বিকল্প হিসেবেও এই করিডরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ইরান-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

    বাড়ছে বিকল্প জ্বালানি পথের গুরুত্ব

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতার কারণে বিকল্প জ্বালানি করিডরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যেও এই প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়েছে।

    তবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডর এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলপথ, বন্দর ও মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রিক সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয় (Donald Trump)।

    ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ইরানকে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। তেহরান দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশা করছেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, “একটা সময় আসবে যখন অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি দেশ হিসেবে তাদের টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমাদের হাতে আর থাকবে না। আমি সেটা দেখতে চাই না। তবে এই টেবিলে বসে থাকা মানুষগুলির অনেকেই সেটাই দেখতে চান।”

    ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান ‘মিডনাইট হ্যামারে’র কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণু স্থাপনাগুলি ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় (IMEC)।

    তবে ২০২৫ সালের ওই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবির বাইরে বিভিন্ন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলা চালানো হয়েছিল। পরে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ ধ্বংস” দাবির মাত্রা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয় (Donald Trump)।

     

  • Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতালির স্কুলগুলিতে বোরখা ও নিকাব (Burqa Niqab Ban) পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় (Giorgia Meloni) নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যারও একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর রোমে নিজের দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’-র যুব সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই পরিকল্পনার কথা জানান মেলোনি। তিনি বলেন, শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে।

    স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্কুলে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরখা ও নিকাব পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। বোরখা এমন একটি পোশাক, যাতে শরীর ও মুখ সম্পূর্ণ ঢাকা থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকে, তবে চোখ দেখা যায়।

    মেলোনি বলেন, ইতালিতে কোনও ব্যক্তি “বাস্তব বা কথিত কোনও ঐতিহ্যের নামে” কোনও তরুণীকে নিজের মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করতে পারবেন না। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাঁদের ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে, দেশের সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

    তবে প্রস্তাবটি এখনও আইন নয়। সরকারের অনুমোদন মেলার পর ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন পেতে হবে, তবেই তা আইনে পরিণত হবে।

    শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা

    মেলোনির প্রস্তাবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা। তবে সেই সীমা কত হবে, তা এখনও জানাননি প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া, যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইতালীয় স্কুলব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেছেন মেলোনি।

    মেলোনির বক্তব্য, কোনও শ্রেণিতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী যদি ইতালীয় ভাষা না বোঝে, তাহলে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে ভাষা শেখা এবং স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেলে, তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ইতালীয় শিশুদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষেই যেন সংখ্যালঘু মনে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

    অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

    ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে ইতালি ইউরোপে অভিবাসী আগমনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতি ও সমাজে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলি থেকে আসা অভিবাসীদের একীভূতকরণ নিয়ে ইতালিতে বিতর্ক রয়েছে। ধর্মীয় প্রতীক, সাংস্কৃতিক একীকরণ, নাগরিকত্বের নিয়ম এবং অভিবাসন নীতি—এই বিষয়গুলি বিভিন্ন সময়ে মতভেদের কারণ হয়েছে (Giorgia Meloni)।

    ইতালির অভিবাসন ও শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ফোন্দাজিওনে ইসমুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ইতালির স্কুলগুলিতে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৯ লক্ষ ৩০ হাজার। মোট স্কুলশিক্ষার্থীর মধ্যে তাদের অংশ ১১.৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২ জনের ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই।

    এখনও চূড়ান্ত নয় প্রস্তাব

    মেলোনির সরকার এখনও শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা বা অনুপাত নির্দিষ্ট করেনি। মুখ ঢাকা পোশাক (Burqa Niqab Ban) নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাব—দু’টিই প্রথমে সরকারের অনুমোদন এবং পরে সংসদের অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। ফলে প্রস্তাবগুলি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা আইন প্রণয়নের পরেই স্পষ্ট হবে (Giorgia Meloni)।

     

  • UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের (India) দীর্ঘদিনের দাবিতে মিলল নতুন কূটনৈতিক সমর্থন। মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র—ভারতের দাবির প্রতি সমর্থন (UNSC Seat) জানিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে প্রথম ভারত ও ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সমর্থন সামনে আসে।

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠী (ভি-৪)-র সদস্য চার দেশই ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানার বলেন, “আমরা ভি-৪-এর চার দেশই একমত যে, গ্লোবাল সাউথের অংশ এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতের উচিত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে সেই টেবিলে থাকা।”

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই বৈঠককে “একটি নতুন ঐতিহাসিক উপলক্ষ” বলে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে শুধু নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার নয়, ভারত ও ভি-৪ দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ চায় ভারত (India)

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হওয়ার সময় বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বর্তমানে পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য—আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন। বাকি ১০টি সদস্য দেশ সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হয় এবং তাদের মেয়াদ দু’বছর।

    ভারতের যুক্তি, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন দেশের ভূমিকা নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোয় যথেষ্ট প্রতিফলিত হয় না। ভারত বহুবার নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হয়েছে; সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে দুই বছরের মেয়াদে পরিষদে ছিল।

    জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভারতের অবদান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা—স্থায়ী সদস্যপদের দাবির অন্যতম ভিত্তি।

    একা নয় ভারত, পাশে একাধিক দেশ

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবির সমর্থন করেছে বিশ্বের একাধিক দেশ। ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের দাবিকে সমর্থন করে আসছে। ব্রিটেনও সম্প্রসারিত নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে। আমেরিকা নীতিগতভাবে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করেছে বলে বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে। রাশিয়াও ভারতের দাবিকে সমর্থন করেছে।

    ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি-৪ গোষ্ঠীর সদস্য। এই চার দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে পরস্পরের প্রার্থিতাকে সমর্থন করে এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনায় নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় রাখে (UNSC Seat)।

    জি-৪-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বর্তমান ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ অথবা ২৬ করা যেতে পারে। এর মধ্যে ছ’টি নতুন স্থায়ী সদস্যপদ এবং চার অথবা পাঁচটি নতুন অস্থায়ী সদস্যপদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। জি-৪-এর নথিতে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ক্ষেত্রে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে (India)।

    স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ঘিরেই বড় জটিলতা

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে সংস্কারের কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্য। কতগুলি দেশকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কোন কোন অঞ্চল নতুন সদস্যপদ পাবে এবং নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নগুলিতে এখনও ঐকমত্য নেই।

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তত ন’টি সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কেউ ভেটো প্রয়োগ না করলে তবেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।

    ভারতের দাবির ক্ষেত্রে চিনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বেজিং ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে স্পষ্টভাবে সমর্থন করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে বৃহত্তর ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা চিন বলে আসছে।

    ফলে কোনও দেশ ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করলেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রতিটি বিষয়, বিশেষ করে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে তার সঙ্গে ভারতের মত এক হবে—এমন নয়।

    ভেটো ক্ষমতা নিয়েও ভারতের অবস্থান

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আলোচনায় ভেটো ক্ষমতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে (India)। নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যদের এই ক্ষমতা নেই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নতুন স্থায়ী সদস্য তৈরি হলে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে পুরনো স্থায়ী সদস্যদের থেকে আলাদা শ্রেণি তৈরি করা উচিত নয়। জি-৪-এর সাম্প্রতিক প্রস্তাবেও নতুন স্থায়ী সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের সমতুল্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে সংস্কারের পরবর্তী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে (UNSC Seat)।

    ভারত-ভি-৪ সম্পর্কে নতুন অধ্যায়

    নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভারত ও ভি-৪ দেশগুলি নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি বছর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক যেমন গভীর হচ্ছে, তেমনই ভি-৪ দেশগুলির সঙ্গেও আমরা কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেব। একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজন করা হবে এবং বিদেশমন্ত্রীরা প্রতি বছর বৈঠকে বসবেন। এই বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য হয়েছে।”

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির মতো আন্তর্জাতিক সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেন মন্ত্রীরা (UNSC Seat)।

    কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই সমর্থন?

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর চার দেশের সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন দিলেও এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে না। রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনের জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনের পাশাপাশি সব স্থায়ী সদস্যের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদন প্রয়োজন।

    তবে ভারতের জন্য এই সমর্থনের গুরুত্ব রয়েছে। ইউরোপের মধ্যাঞ্চলের চারটি দেশ একই সঙ্গে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে (UNSC Seat) ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আরও একটি সম্মিলিত সমর্থন যুক্ত হল (India)।

     

  • Mass Ukrainian Drone Attack: মস্কোয় শত শত ড্রোন হামলা, নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত আস্ত তেল শোধনাগার

    Mass Ukrainian Drone Attack: মস্কোয় শত শত ড্রোন হামলা, নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত আস্ত তেল শোধনাগার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কো ও সংলগ্ন এলাকায় শত শত ড্রোন হামলায় (Mass Ukrainian Drone Attack) অন্তত দু’জন নিহত এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ১,৬০০টিরও বেশি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল।

    রাশিয়ার অভিযোগ (Mass Ukrainian Drone Attack)

    রাশিয়ার অভিযোগ, কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে অনুষ্ঠিত তিনদিনের নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটাতেই ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে। এই নির্বাচন শেষ হলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ২৬ বছরের ক্ষমতার মেয়াদ আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সোবিয়ানিন বলেন, “এই নজিরবিহীন হামলা যে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিত হয়েছিল, তা স্পষ্ট। তবে শত্রুপক্ষ সফল হয়নি।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করে বলেন, “গত রাতে মস্কো অঞ্চলে আমাদের দূরপাল্লার পাল্টা হামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে।” এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল শিল্পের একটি স্থাপনা এবং আগ্রাসী বাহিনীর একটি রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে। এই স্থাপনাগুলি থেকে যুদ্ধযন্ত্র চালানোর জন্য যে অর্থ আসে, তার পরিমাণ কয়েকশো কোটি ডলার।” মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, দু’টি পৃথক জায়গায় ড্রোন হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন প্রৌঢ়া, অন্যজন বৃদ্ধ। ভোরোবিয়ভ জানান, ২১ তলা একটি ভবনে একটি ড্রোন আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায়। দ্রুত প্রায় ৪০০ জনকে ভবনটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও ড্রোনগুলি কোথা থেকে আসছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানাননি। এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের মস্কোর দখলে থাকা খেরসন অঞ্চলের একটি অংশে ড্রোন হামলার ঘটনায় একটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় দু’জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নির্বাচনী কমিশনের সদস্য ছিলেন।

    নির্বাচন চলাকালীন হামলা

    গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে কিয়েভ (ইউক্রেনের রাজধানী)। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ক্রেমলিনের আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসে আঘাত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে (Mass Ukrainian Drone Attack)। সোবিয়ানিন আরও জানান, মস্কো তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারটি গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাটি এমন একটা সময়ে হল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    রাশিয়ায় নির্বাচন

    এদিকে, শুক্রবার রাশিয়ার নাগরিকেরা ভোট দিতে শুরু করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর এটাই দেশটির প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। ওই সামরিক সংঘাতের ফলে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষের দাবি। রাশিয়ায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মূলত প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ক্রেমলিনের সামরিক অভিযানের সমর্থক দলগুলিকেই নিবন্ধিত করা হয়েছে। মস্কো ইউক্রেনের দখল করা এলাকাগুলিতেও ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছে। পুতিনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড রাশিয়া দল আবারও সহজেই জয়ী হবে—এমনটাই জানিয়েছেন সিংহভাগ রাশিয়ান। এই নির্বাচন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের মাত্রা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে (Mass Ukrainian Drone Attack) বলে ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Nila Vikhe Patil: শিকড় মহারাষ্ট্রে, সুইডেনের সংসদে নীলা ভিখে পাটিল

    Nila Vikhe Patil: শিকড় মহারাষ্ট্রে, সুইডেনের সংসদে নীলা ভিখে পাটিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ অশোক ভিখে পাটিলের মেয়ে নীলা ভিখে পাটিল (Nila Vikhe Patil) সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে স্টকহোম সিটি কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (Sweden Parliament)। ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বছর একচল্লিশের নীলা ৩৪৯ সদস্যের সুইডিশ সংসদে প্রবেশ করেছেন। সুইডেনের সংসদের সরকারি তথ্যেও তাঁকে স্টকহোম সিটি কেন্দ্রের গ্রিন পার্টির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নির্বাচনে জয়ের পর সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে নীলা বলেন, “৩৪৯ সদস্যের সংসদের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। শহর ও দেশের জন্য অবদান রাখার অপেক্ষায় আছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ভোট দিতে পারেন না, তাঁদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে অবদান রাখতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ পাওয়ার সুযোগ পায়। আমাদের এমন একটি বাসযোগ্য গ্রহ দরকার, যেখানে থাকবে বিশুদ্ধ জল, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের কারণে যতটা সম্ভব কম প্রাকৃতিক বিপর্যয়।”

    নীলা এশিয়ার প্রথম সমবায় চিনি কারখানার প্রতিষ্ঠাতা ভিতলরাও ভিখে পাটিলের প্রপৌত্রী এবং প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বালাসাহেব ভিখে পাটিলের নাতনি। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ ভিখে পাটিল তাঁর কাকা।

    দাদার কথা স্মরণ করে নীলা বলেন, “আমি আশা করি, আমার দাদা আমাকে নিয়ে গর্বিত হবেন। আমি যখন ১৫ বছরের, তখন তিনি আমাকে রাজ্যের বাজেট পড়তে দিয়েছিলেন।”

    মহারাষ্ট্রে কেটেছে শৈশব (Nila Vikhe Patil)

    নীলার জন্ম সুইডেনে। তবে শৈশবের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে কাটিয়েছেন। পরে সুইডেনেই তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন গড়ে ওঠে।

    শিক্ষাজীবনে তিনি গোথেনবার্গ স্কুল অব বিজনেস থেকে অর্থনীতি ও আইন নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাদ্রিদের কমপ্লুতেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি ব্যবসা প্রশাসন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও কাজ করেছেন

    সুইডেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন নীলা। সেখানে অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও আবাসন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর দায়িত্ব ছিল।

    এর আগে তিনি স্টকহোমের নগর পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রিন পার্টির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। বর্তমানে তিনি (Nila Vikhe Patil) স্টকহোম গ্রিন পার্টির নির্বাচন কমিটির সদস্য।

    মহারাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি বড় পরিসরের শৃঙ্খল পরিচালনাকারী ভিখে পাটিল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অশোক ভিখে পাটিল মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

    ভারতের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে নীলা বলেন, “আমি ভারতকে খুব ভালোবাসি এবং ভারতের সঙ্গে নিজেকে গভীরভাবে যুক্ত মনে করি। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ ভারতীয় বন্ধু রয়েছেন।”

    দাদার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। নীলা বলেন, “আমি আমার দাদাকে খুব মিস করি। তাঁর জীবনের শেষ কয়েক বছরে তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমাকে ফোন করতেন।”

    সুইডেনের নির্বাচনে বিরোধীদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা

    ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সুইডেনের চারটি বিরোধী দল মিলিয়ে ৩৪৯ আসনের সংসদে ১৭৬টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিদায়ী রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারকে গঠন বা সমর্থন করা চারটি দল পেয়েছে ১৭৩টি আসন।

    এই বিরোধী জোটের অন্যতম দল গ্রিন পার্টি পরিবেশ সংরক্ষণ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নীতির ওপর গুরুত্ব দেয়। নীলা প্রায় ২৫ বছর ধরে গ্রিন পার্টির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

    ২০১৬ সালেও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নীলার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় তাঁর দায়িত্বের মধ্যে করব্যবস্থা, লিঙ্গনীতি ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়ও ছিল।

    ২০২০ সাল থেকে নীলা আন্তর্জাতিক পেশাদারি পরিষেবা সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সে কাজ করছেন। সেখানে কৌশল, ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও ঝুঁকি-সংক্রান্ত পরামর্শ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (Sweden Parliament) তিনি। সুইডিশ সংসদের সরকারি প্রোফাইলেও গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাঁকে (Nila Vikhe Patil)।

     

  • Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ১৬ মাস পরেও সারগোধায় পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) মুশাফ ঘাঁটির রানওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে মেরামতির কাজ চলছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে রানওয়ের একটি অংশে ফের খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর উচ্চ-রেজোলিউশনের ভানতুর উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও ট্যাক্সি ট্র্যাকের সংযোগস্থলে একটি স্পষ্ট কালো অংশ দেখা যাচ্ছে। আশপাশের অ্যাসফল্টের তুলনায় ওই জায়গার রং ও গঠন আলাদা। এর ফলে সেখানে নতুন করে খনন বা রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কাজের জায়গার কাছে একটি লাল রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। এই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ের যে দুটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে এটি একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগের মেরামতির অংশেই ফের কাজ

    সারগোধায় অবস্থিত মুশাফ বিমানঘাঁটি লাহোর থেকে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং অমৃতসরের কাছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যে অংশটি আগে মেরামত করা হয়েছিল, সেটিই ফের খুঁড়ে নিচের স্তর বা সাবগ্রেড পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, পাকিস্তান ওই অংশে শুধু নতুন করে অ্যাসফল্টের প্রলেপ দিচ্ছে না, বরং আরও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ করছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে এই খননের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রানওয়ের নিচে বসে যাওয়া, অসমতল হয়ে যাওয়া, উপরের স্তরে ক্ষতি কিংবা আগের মেরামতির নীচে কোনও সমস্যা—এর মধ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

    উপগ্রহচিত্রে রানওয়ে মেরামতির  ছবি

    ছবিতে রানওয়ের বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে সংস্কারের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে। কোথাও তুলনামূলক গাঢ় ও মসৃণ পৃষ্ঠ দেখা যাচ্ছে, আবার অন্য একটি অংশে মেরামতির কাজ এখনও চলছে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর উপগ্রহচিত্রে ওই হামলাস্থলটি মেরামত হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ছবিতে একই জায়গায় ফের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বশেষ উপগ্রহচিত্র অবশ্য রানওয়ের বর্তমান মেরামতির সুনির্দিষ্ট কারণ বা কাজের পূর্ণ পরিধি নিশ্চিত করে না।

    রানওয়ের দুটি জায়গায় আঘাত

    ২০২৫ সালের ১০ মে-র উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির প্রায় ৩,২০০ মিটার দীর্ঘ মূল রানওয়ের উপর দুটি পৃথক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের অনুমান অনুযায়ী, রানওয়ের সংযোগস্থলে তৈরি গর্তটির প্রস্থ ছিল প্রায় ৮-৯ মিটার এবং গভীরতা ৪-৫ মিটার। আঘাতের জায়গার চারপাশে অ্যাসফল্ট ও কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ এবং বেশ কিছু স্থলযানও দেখা গিয়েছিল। রানওয়ের একই অংশে প্রায় ৬৬০ মিটার দূরে দ্বিতীয় একটি আঘাতের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছিল। মুশাফ ঘাঁটিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম ভারতীয় বায়ুসেনা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে গর্তের আকার ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এটি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত এয়ার-লঞ্চড ব্রহ্মোসের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ মাত্র; সরকারি ভাবে অস্ত্রটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

    এক বছরেরও বেশি সময় পর ফের সংস্কার

    সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র থেকে মুশাফ ঘাঁটির ওই অংশে এখনও পুনর্গঠনের কাজ চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার পর একবার মেরামত করা অংশে এক বছরেরও বেশি সময় পরে ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে। ভারতীয় সামরিক সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোও ছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় সরগোধা এবং কিরানা হিলসের আশপাশে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এই ড্রোনগুলির মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা খুঁজে বের করা।

    ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাঘাত

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরপরই ভারত সরকার প্রমাণের স্তূপ তুলে ধরেছিল। পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার বিস্তারিত ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আসল ফুটেজও বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুক্ত তথ্যসূত্র গোয়েন্দা সংস্থা (OSINT) এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রেও পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খানের মতো একাধিক পাক বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে গভীর ক্ষতের ছবি ধরা পড়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই প্রত্যাঘাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামোর ওপর ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছিল।

  • India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করেছে নিউজিল্যান্ডের (India new Zealand Trade Deal) সংসদ। বুধবার ৯৩-২৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী লেবার পার্টিও বিলটির পক্ষে (Tariff Relief) ভোট দিয়েছে।

    চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে ভারতে রফতানি করা নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক হয় তুলে দেওয়া হবে, নয়তো তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের মোট রফতানির ৫৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। পরবর্তী সময়ে এই সুবিধার ক্ষেত্র আরও বাড়বে।

    নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে বলেন, “রফতানিকারীদের জন্য এর সুফল তাৎক্ষণিক এবং উল্লেখযোগ্য। আমরা আশা করছি, এই উচ্চমানের চুক্তি চলতি বছরেই কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে এই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।”

    শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা (India new Zealand Trade Deal)

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে নিউজিল্যান্ডে আমদানি করা পণ্যের উপরও চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

    চুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও রয়েছে। নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। এই বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থাও গড়ে তুলবে (India new Zealand Trade Deal)।

    ভারত ও নিউজিল্যান্ড চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তিটি কার্যকর করার আগে দুই দেশকেই নিজেদের আইনি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ

    দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার, যা ভারতকে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার নবম বৃহত্তম রফতানি বাজারে পরিণত করেছে।

    নতুন চুক্তির ফলে ফল, মধু, কাঠ, উল, মৎস্যজাত পণ্য, মদ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ভারতে আরও সুবিধাজনক বাজার-প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যও নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।

    উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের সংসদে চুক্তি কার্যকরের জন্য আইন পাস হলেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। দুই দেশের নিজ (Tariff Relief) নিজ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই তা কার্যকর হবে (India new Zealand Trade Deal)।

     

LinkedIn
Share