Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK Unrest)-এ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের আবহ অব্যাহত রয়েছে। যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র অভিযোগ, বাগ জেলায় চলমান বিক্ষোভ দমাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একই সঙ্গে মুজাফফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি

    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) রাষ্ট্রসংঘ (UN), রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (OHCHR), আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পিওকে-র একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। JAAC-এর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

    আগেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সেনা। সাধুনাটি জেলায় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নিরস্ত্র জমায়েতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনালের সামনে গুলিবর্ষণেও মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ইসলামাবাদের সেনার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘নয়াদিল্লি আশা করে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘটিত নির্যাতন ও অনাচারের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সেখানে কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ভাবে দখলে থাকা এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি পরিণতি এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ।’’ ভারতের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অভিযোগগুলোর সমাধান করার পরিবর্তে পাকিস্তানি রাষ্ট্র চরম দমনপীড়নের পথ নিয়েছে এবং নিরস্ত্র অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। যার ফলে ধারাবাহিক ভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

    ১২টি সংরক্ষিত আসন-ই ইসলামাবাদের চাবিকাঠি

    দীর্ঘ দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে। ১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে।

    কীভাবে ভুল পথে অধিকৃত কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামাবাদ

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। জেএএসি-র, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। অভিযোগ, ওই আসনগুলি থেকে সাজানো নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রফতানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনে নতুন পর্যায়। তাতে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

    উদ্বেগ প্রকাশ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি পাকিস্তান সরকারের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির আরও অভিযোগ, পিওকে-র কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ঘটনাগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখারও আহ্বান জানিয়েছে। পিওকে-তে পরিস্থিতি ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

  • Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস (Dallas Gita Event) শহরে অনুষ্ঠিত হল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পারায়ণ অনুষ্ঠান। অবধূত দত্ত পীঠমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি-র (Sri Ganapathy Sachchidananda Swamiji) নেতৃত্বে কিউটেক্স (CUTEX) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বামীজির যুক্তরাষ্ট্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্মৃতি থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক একযোগে আবৃত্তি করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।

    সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার

    ডালাসে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে আশীর্বাদ করুন, আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন এবং সমগ্র বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। স্বামীজি জানান, এই গীতা পারায়ণ প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সমাজের কল্যাণ এবং বিশ্বের সমৃদ্ধি ও শান্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান, শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    মার্কিন মুলুকে নিয়মিত গীতাপাঠ

    আমেরিকায় গীতাপাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ভারতীয় প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি বড় অংশ। টেক্সাসের ডালাসে, শিকাগো বা মিশিগানের মতো শহরে শয়ে শয়ে মানুষের একসঙ্গে গীতা আবৃত্তির মতো বড় ইভেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় স্বামীজির আশীর্বাদ এবং সর্বজনীন শান্তির মন্ত্র ‘লোকাঃ সমস্তাঃ সুখিনো ভবন্তু’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। যার অর্থ—“সমস্ত বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী, সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক।”

  • Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি (Trump Tariffs)। সোমবার ডেমোক্র্যাট-শাসিত ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর (India Tariffs) নতুন করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন ফের তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। একই ধরনের শুল্ক নিয়ে একাধিক আদালতের রায়ের পরেও প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওই রাজ্যগুলির।

    মার্কিন আদালতে দায়ের মামলা (Trump Tariffs)

    নিউইয়র্কের মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এতে গত মাস থেকে কার্যকর হওয়া ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের রফতানি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির জন্য নতুন এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হতে চলেছে। কারণ, মার্কিন আদালতে একের পর এক ধাক্কা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কৌশল এখনও বহাল রয়েছে।

    আদালতের রায় উপেক্ষা করছেন ট্রাম্প!

    ওরেগন ও নিউইয়র্ক-সহ ২৫টি অঙ্গরাজ্য এই মামলা করেছে। এসব রাজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট গভর্নর অথবা অ্যাটর্নি জেনারেল। রাজ্যগুলির দাবি, আদালত যে ব্যাপক আমদানি শুল্ককে ইতিমধ্যেই বেআইনি বলে রায় দিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ভিন্ন আইনি যুক্তি ব্যবহার করে কার্যত সেই শুল্কই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারা ঐতিহাসিকভাবে নির্দিষ্ট দেশ বা শিল্পের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এই ধারার মাধ্যমে আমেরিকায় আমদানি হওয়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের নজির নেই। রাজ্যগুলির আরও অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এমন শুল্ক ফের চালু করছে, যেগুলি ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে আদালত। রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে এক বিবৃতিতে ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড বলেন, “প্রতিটি ধাপে হেরে যাওয়ার পরেও ট্রাম্প আবারও কর্মজীবী পরিবার এবং ওরেগনের স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসার ওপর আরও বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন (Trump Tariffs)।”

    ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যে নয়া শুল্ক

    গত ২৪ জুলাই নতুন শুল্কের ঘোষণা করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের আমদানিতে এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে কয়েকটি দেশ তাদের নজরদারি ও প্রয়োগব্যবস্থা জোরদার করায় তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা পেয়েছে। একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য, ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য নয়। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া পণ্যগুলিকে নতুন শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক ঘোষণার সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “প্রায় এক শতাব্দী ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই কাজ করার সময় অনেক আগেই এসেছে।”

    নতুন আইনি পথে ট্রাম্প

    আগের শুল্ক নীতিগুলি আদালতে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—শুল্কনীতিকে টিকিয়ে রাখতে নতুন আইনি পথ বেছে নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, International Emergency Economic Powers Act বা IEEPA প্রেসিডেন্টকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্যোগ আইনি ধাক্কা খায়।এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারার আওতায় সাময়িকভাবে বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প (Trump Tariffs)। পরে মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেই শুল্ককেও বেআইনি বলে রায় দেয়। যদিও প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় শুল্কগুলি আপাতত কার্যকর রয়েছে (India Tariffs)। এই আইনি পথগুলিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর এবার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদেশি সরকারের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে এই ধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও চিনের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এই একই আইনি ধারা ব্যবহার করেছিলেন। সেই শুল্ক নির্দিষ্ট একটি দেশের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছিল বলে আইনি চ্যালেঞ্জের পরেও তা বহাল ছিল।

    শুল্কনীতিতে অনড় ট্রাম্প

    একাধিক আদালতের রায়ে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প আমেরিকার উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কাঠামো বদলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে শুল্কনীতিকে তুলে ধরছেন। গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির সমান। সেই যুক্তিতে তিনি জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে আদালত সেই পদক্ষেপে বাধা দেয়। নতুন মামলার মাধ্যমে ফের স্পষ্ট হল, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কনীতিকে কার্যকর রাখতে একের পর এক আইনি পথ খুঁজছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের মাধ্যমে সেই নীতিকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। ফলে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নয়, মার্কিন (Trump Tariffs) প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়েও ফের চলে এসেছে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে।

     

  • Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার টানটান অ্যাকশন দৃশ্য! পাকিস্তানের বুকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ’-দের (unknown gunmen model) একের পর এক সফল নিশানা। সিনেমার মতো বাস্তবেও এখন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সাজানো বাগান তছনছ। গত তিন-চার বছরে পাকিস্তানের (Pakistan) অভ্যন্তরেই খতম ৩০-এর বেশি জঙ্গি, অবশেষে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এই বড়সড় হারের কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হল খোদ লস্কর-ঘনিষ্ঠ এক নেতা! তাঁদের কথায়, দলের মধ্যে ভারতের এজেন্ট ছদ্মবেশে থেকেই অধিকাংশকে হত্যা করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথাকথিত ‘অজানা বন্দুকধারী’ (unknown gunman model) কৌশল।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীরও নিরাপদ নয়!

    সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতা রিজওয়ান হানিফ দাবি করেন, পাকিস্তানের পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফ্ফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোট-সহ একাধিক এলাকায় সংগঠনের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মে মাসে তৈরি ওই ভিডিওতে হানিফ বলেন, “গত তিন থেকে চার বছরে ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের হাতে আমাদের ৩০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে।” হানিফ আরও দাবি করেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও (PoK) তাদের সদস্যরা নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

    ভাইরাল ভিডিও-য় বিরল স্বীকারোক্তি

    বিশ্লেষকদের মতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে সংগঠনের এত বড় ক্ষয়ক্ষতির প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি অত্যন্ত বিরল। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জঙ্গি নেতা ও সদস্য রহস্যজনকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন। এসব ঘটনার জন্য পাকিস্তান একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, নয়াদিল্লি সেই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। নিজের বক্তব্যে রিজওয়ান হানিফ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি দাবি করেন, লস্করের সদস্যদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল তাদের ধর্মীয় পরিচয়। পাশাপাশি তিনি হিন্দু ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখেন।

    কী এই লস্কর-ই-তৈবা?

    লস্কর-ই-তৈবা ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন (Hafiz Muhammad Saeed), জাফর ইকবাল (Jaffar Iqbal) এবং আবদুল্লা আজ (Abdullah Azzam)। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় গঠিত এই সংগঠন পরবর্তীতে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে জঙ্গি কার্যকলাপে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউনাইটেড নেশন এবং বিশ্বের একাধিক দেশ লস্কর-ই-তৈবাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারত-সহ একাধিক পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তানের আইএসআই (Inter-Services Intelligence)-এর কাছ থেকে এই সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মদত পেয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ২০০৮ সালে মুম্বই জঙ্গি হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই হামলা জড়িত ছিল লস্কর। ওই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যরাই খুন হয়েছেন ও হচ্ছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে, ভারতে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ নিষেধাজ্ঞা চাপায় লস্করের উপরে।

    ‘টার্গেট কিলিং’

    সাধারণত দলের সদস্যদের খতম হওয়ার কথা স্বীকার করে না জঙ্গি সংগঠনগুলি। ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সময়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত। ওই অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের অনেক সদস্যকে নিকেশ করা হয় বলেও জানিয়েছিল ভারতীয় সেনা। তবে এই দাবি উড়িয়ে দেয় লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)। তবে এ বার অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী পাকিস্তানের ভেতরেই সংগঠনটির প্রায় ৩০ সদস্যকে হত্যা করেছে বলে ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ জঙ্গি নেতা । একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী এই ‘টার্গেট কিলিং’ করেছে বলেও দাবি করেন হানিফ।

    ‘অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজ’ ও টার্গেটে থাকা জঙ্গি 

    সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হন ভারতে একের পর এক হামলার নেপথ্যে থাকা লস্করের দ্বিতীয় নেতা আমির হামজা, হাফিজ সইদের পর যার নাম উঠে আসে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর বুকে আইআইএসসির অন্দরে হামলার ঘটনার নেপথ্যেও হামজার হাত ছিল। যে হামলা চালিয়েছিল লস্কর ই তৈবা। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে ওয়ান্টেড লস্করের শীর্ষ কমান্ডার জিয়া-উর-রহমান ওরফে নাদিম অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়। তাকে ২০২৪ সালের ৯ই জুনের রিয়াসি বাস হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হত, যে হামলায় সন্ত্রাসীরা নয়জন তীর্থযাত্রীকে হত্যা এবং ৪১ জন আহত হন। হাফিজ সাইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুফতি কায়সার ফারুকও করাচিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় পাকিস্তানের মাটিতে। ২০১০ সালে ভারতের হেফাজতে ছিল শাহিদ লাতিফ। পরে তার ঠাঁই হয় পাকিস্তানে। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী, জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) জঙ্গি শাহিদ লতিফ শিয়ালকোটের দাসকা এলাকার একটি মসজিদের ভেতরে নিহত হয়। ২০২২ সালের মার্চ মাসে, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি ৮১৪-এর অন্যতম ছিনতাইকারী জহুর মিস্ত্রি করাচির আখতার কলোনিতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীর গুলিতে নিহত হয়। যে জাহুরকে পাকিস্তানি মিডিয়া, ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে দাবি করে।

    ভারতীয় গোয়েন্দাদের বক্তব্য

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটি দেখেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। যে ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তিনি ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় আছেন বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। ওই লস্কর সদস্যদের খতম করার পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আছে বলে দাবি করেছেন হানিফ। তবে তার এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। এরই পাশাপাশি,  ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন হানিফ বলেও জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একের পর এক শীর্ষ ক্যাডারের মৃ‌ত্যুতে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে লস্কর বাহিনী। তাই ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কে দিয়ে নতুন করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ ও মৌলবাদ ছড়ানোর কৌশলকেই অস্ত্র করতে চাইছে লস্কর-ই-তৈবা।

  • Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাইজেরিয়ার ( Nigeria Terror) মধ্যাঞ্চলে ফের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ও বাসিন্দাদের দাবি, গত ২৪ থেকে ২৯ জুলাই-এর মধ্যে বেনুয়ে ও কাদুনা রাজ্যে ধারাবাহিক হামলায় ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা এসব হামলার জন্য ফুলানি সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রুথ নাইজেরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই বেনুয়ে রাজ্যে অন্তত ৬১ জন খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। যদিও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সেনা ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক ক্ষেত্রে হামলা প্রতিরোধ বা দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনা

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনায় বিগত কয়েক বছর ধরেই জর্জরিত আফ্রিকার অন্যতম এই দরিদ্র দেশটি। যে অঞ্চলগুলিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী, সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় পাশাপাশি বসাবস করেন বলেই জানা গিয়েছে। স্থানীয় মুসলিম পশুপালক ফুলানি গোষ্ঠী এবং খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে বিবাদ। সূত্রের খবর, শরিয়তি আইন স্থাপনের জন্য খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর উপরে ভয়ানক হামলা চালানো হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম মানুষজনের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে গ্রামবাসীদের। সন্ত্রাসের রেশ এখনও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘরবাড়ি জ্বালানোর পাশাপাশি নির্বিচারে চলেছে গুলি।

    ওতুকপোতে ভোরের হামলায় বহু নিহত

    সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে ২৮ জুলাই ভোরে বেনুয়ে রাজ্যের ওতুকপো কাউন্টির এফেই-উতিকপি গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র হামলাকারী ২৫টিরও বেশি মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার সময় তারা ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিল বলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ওচে আদাহ জানান, হামলায় অন্তত ১৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরদিন এমিচি ও নওয়াবা ওজু এলাকাতেও হামলা চালিয়ে আরও তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগে ২৭ জুলাই ইপোম গ্রামেও একজন নিহত হন। গত দুই সপ্তাহে একই অঞ্চলে আরও অন্তত ১৬ জন খ্রিস্টান নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    বেনুয়ে রাজ্যের আইনসভার সদস্য মাইকেল অডু বলেন, “এই ধরনের হামলা আমাদের এলাকায় বারবার ঘটছে। মানুষ প্রতিনিয়ত স্বজন হারাচ্ছে এবং আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।” ওতুকপো কাউন্টির চেয়ারম্যান ম্যাক্সওয়েল ওগিরি অভিযোগ করেন, এলাকায় সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো যায়নি। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই হামলার আগাম তথ্য থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কৃষক ও গ্রামবাসীরাও হামলার শিকার

    কোয়ান্ডে কাউন্টির আবাজি এলাকায় ২৭ জুলাই খামারে কাজ করার সময় তেরেহেম্বা নামে এক খ্রিস্টান নারী নিহত হন বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ইগবা তের্না জানান, তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদিকে ওহিমিনি কাউন্টির আগাদাগবা ও ওচোবো এলাকায় ২৪ ও ২৫ জুলাই দুই দফা হামলায় একজন পথচারী ও দুজন স্থানীয় প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পরও প্রায় ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    কাদুনায় রাতের হামলায় ৩০ জন নিহতের দাবি

    একই সময়ে কাদুনা রাজ্যের কৌরু এলাকায় ২৬ জুলাই রাতে আরেকটি বড় হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারিডন গ্রামের ওপর হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়। গ্রামের প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানান, এক পরিবারে এক রাতেই পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিকটবর্তী নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলের খুব কাছে অবস্থান করলেও দীর্ঘ সময় হামলা চলার পরও কার্যকর হস্তক্ষেপ করেনি।

    প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

    কাদুনা রাজ্যের গভর্নর উবা সানি হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পার্শ্ববর্তী প্লেটো রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনুয়ে, কাদুনা, প্লেটো ও তারাবা রাজ্যে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলাগুলোর উদ্দেশ্য, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

    নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব

    ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, প্রায় দুই দশক ধরে নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে মূলত দু’টি জঙ্গি গোষ্ঠী। একটি হলো বোকো হারাম। নাইজেরিয়ায় ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অপহরণ, হামলা, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আর একটি সংগঠন হলো ইসলামিক স্টেট অফ ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স। এরা এক সময়ে বোকো হারামেরই অংশ ছিল। ২০১৬ সালে আলাদা হয়ে যায়। এদেরও ইসলামিক শাসন কায়েম করাই লক্ষ্য। তবে ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স সাধারণ মানুষের বদলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপরেই বেশি হামলা চালায়।

  • POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (POJK Protests) নীলম উপত্যকার আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনায় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। রাজা এহসান নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। ব্যাপক হিংসা, কম ভোট পড়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (News Portals Banned)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনার সময় এহসানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভোটপর্ব চলাকালীন ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

    নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি (POJK Protests)

    রবিবার শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, তীব্র অশান্তি এবং ভোটারদের কম অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১টি আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে মুজফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনের পাশাপাশি ছিল ১২টি উদ্বাস্তু আসনও। এই উদ্বাস্তু আসনের মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটের দিনও তীব্র বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে একাধিক এলাকা কার্যত উত্তেজনার মধ্যেই ছিল। পরিস্থিতির বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অশান্তির আঁচ এখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও।

    একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের আবহেই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় প্রতিরোধের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে একাধিক নির্বাচনী এলাকায়। রাস্তা অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর, এলএ-২৭ কোটলিতে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করায় নির্বাচনী কর্মী ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এলএ-২৮ মুজফফরাবাদ-২ অর্থাৎ লেচরাট এলাকায়। সেখানে ৭১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আধিকারিক ও ভোটগ্রহণের সামগ্রী পৌঁছতে পারেনি। অন্যান্য কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায়ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হন বলে খবর। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী গোষ্ঠী এবং বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    দিনভর বিক্ষোভ, দীর্ঘ মিছিলের ডাক

    এদিকে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ডি-চকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। মুজফফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিল করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাওয়ালাকোট থেকেও বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিচালনার খবর মিলেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল ড্রেক ইদগাহে প্রায় ৫০ দিন ধরে অবস্থান চলছে। সেখানেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। নারী ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে ভোটের দিনও সেই অশান্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল (POJK Protests)।

    ভারতের অবস্থান

    এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ফের জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলগুলির যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের “অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে” রয়েছে, সেটিও ভারতেরই অংশ। ২৮ জুলাই নয়াদিল্লি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলা “গুরুতর” মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত।

    ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়াল বিক্ষোভ

    ২ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৫টা থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রেস ক্লাবের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পড়ুয়ারা। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জও করা হয় এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গুলিচালনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। করাচি, ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও বড় জমায়েতের খবর এসেছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ।

    ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

    পাকিস্তানে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অশান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটির বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস রেস্ট্রিকটেড করা বলে জানা গিয়েছে (News Portals Banned)। স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলিকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের পরিষেবায়ও অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর (POJK Protests)। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, মূলত তাদের উপরই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল, তার নেতা তথা জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে খবর। এদিকে ২৭ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ইউটিউব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে না চললে তাঁদের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মুজফফরাবাদে চলা হিংসা নিয়ে জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।কমিটির দাবি, সাধারণ পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালাচ্ছিলেন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিষদের ২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জুলাইয়ের আগে ৩৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং ২৭ জুলাইয়ের পর রাওয়ালাকোট, মিরপুর ও মুজফফরাবাদে আরও ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। এই পরিস্থিতিতে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছেও পরিস্থিতির অবনতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো (News Portals Banned) হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি (POJK Protests)।

     

  • Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ (Glasgow Restaurant) ক্ষমা চেয়ে মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে (Incomplete India Map), নাকি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফর (Glasgow Restaurant)

    ঘটনার সূত্রপাত ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফরকে ঘিরে। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় বক্সিং দল মোট ১০টি পদক—সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো—জিতে দেশে গৌরব এনে দেয়। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতেই দলের সদস্যরা গ্লাসগোর ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া, দ্য হোম অব কারি’ রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। উৎসবের সেই আয়োজনই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, লভলিনা রেস্তরাঁর ছাপানো একটি ন্যাপকিন হাতে নিয়ে তাতে থাকা ভারতের মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    লভলিনার অভিযোগ

    তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। লভলিনা বলেন, “দয়া করে বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না। এতে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছি। ভারতের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। হ্যাঁ, বাইরেও যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাদের সত্যিই কষ্ট দেয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। পরের বার দয়া করে বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।” অসমের এই বক্সারের বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে অভিযোগ রয়েছে, লভলিনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে আসে (Glasgow Restaurant)।

    প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের

    সমালোচনার পর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩২ বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সবার আগে আমরা ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। এটি সংশোধনের জন্য আমরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করব। আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি। বরং ভারতীয় দলের জন্য গর্বের সঙ্গে পরিষেবা দিতে চেয়েছিলাম।” ভারতীয় দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের আতিথেয়তা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, “সঠিক মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তন করা হবে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় দলের অসাধারণ সাফল্যের পর তাঁদের পরিষেবা দিতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাঁদের সন্ধ্যাটি উপভোগ করেছেন। এই স্মৃতি আমাদের কাছে ভারতের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

    অদৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট

    ক্ষমা চাওয়ার পরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাকাউন্টটি কি কর্তৃপক্ষ নিজেই নিষ্ক্রিয় করেছেন, নাকি সম্পূর্ণ মুছে (Incomplete India Map) দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় (Glasgow Restaurant)।

     

  • Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সম্প্রতি বেজিংয়ে প্রথমবারের মতো ‘ওপেন হাউস’ (Indian Embassy Open House) কর্মসূচির আয়োজন করে ভারতীয় দূতাবাস। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সোশাল মিডিয়ায় ভারত ও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপমানজনক মন্তব্যের বিষয়টি।

    অনলাইনে ভারতবিরোধী প্রচার নিয়ে উদ্বেগ

    প্রবাসীদের অভিযোগ, চিনের একাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে ভুল তথ্য, নেতিবাচক প্রচার এবং ভারতীয়দের লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট শুধু ভারতীয়দের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি করছে। তাই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

    আলোচনায় ভিসা, চাকরি ও পারিবারিক সমস্যাও

    শুধু অনলাইন বিদ্বেষ নয়, বৈঠকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাও জোরালোভাবে উঠে আসে। চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) একাংশ জানান, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য কাজের ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেকের স্বামী বা স্ত্রীর চাকরির ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে চিনে বসবাস করাও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা নিয়ে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস?

    প্রবাসীদের বক্তব্য শোনার পর ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, ভারতবিরোধী বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং প্রবাসীদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যাও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সংলাপ চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয় দূতাবাস।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনা যে কোনও দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দিক থেকে বেজিংয়ের এই ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নজরে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

    এই বৈঠকের পর প্রবাসী ভারতীয়দের প্রত্যাশা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা এবং অনলাইনে ভারতবিদ্বেষী প্রচারের মতো বিষয়গুলিতে ভারতীয় দূতাবাস আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে নিয়মিত এই ধরনের ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি হলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

  • Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক পর্বতারোহণের জগতে এক যুগের অবসান। ব্রড পিক অভিযানে তুষারধসে প্রাণ হারালেন কিংবদন্তি ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজা (Nirmal Purja)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) ব্রড পিকের (Broad Peak Avalanche) ওয়েস্ট রিজ রুটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার তাঁর সংস্থা এলিট এক্সপেড এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী ও গাইড- পুর বাহাদুর গুরুং (যুক্তা) এবং নিমা শেরপাও।

    কীভাবে দুর্ঘটনা?

    ব্রড পিক অভিযানে (Broad Peak Avalanche) নির্মল পুরজার নেতৃত্বে নেপাল, আমেরিকা, পাকিস্তান, ওমান, চিন-সহ একাধিক দেশের পর্বতারোহীরা অংশ নিয়েছিলেন। অভিযান চলাকালীন প্রায় ৬,৫৮০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-২ ও ক্যাম্প-৩-এর মাঝামাঝি ভয়াবহ তুষারধস নামে। দলের জিপিএস ট্র্যাকার থেকে আচমকা উচ্চতা দ্রুত কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। পরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারী দল একাধিক দেহ উদ্ধার করে।

    হিমালয়ের গ্রাম থেকে ব্রিটেনের এলিট বাহিনী

    নেপালের মিয়াগদি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নির্মলের (Nirmal Purja)। গোর্খা পরিবারে বেড়ে ওঠা নির্মল ২০০৩ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেড অব গোর্খাস-এ যোগ দেন। এরপর কঠিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া পেরিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিটেনের অভিজাত স্পেশাল বোট সার্ভিস (এসবিএস)-এর সদস্য হন। ১৬ বছরের সামরিক জীবনে অর্জিত মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতাই পরবর্তীতে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

    একটি ট্রেকই বদলে দিয়েছিল জীবন

    মজার বিষয় হল, নির্মল (Nirmal Purja) প্রথমে পেশাদার পর্বতারোহী হতে চাননি। ২০১২ সালে পর্যটক হিসেবে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পাহাড়ের প্রতি গভীর টান তৈরি হয়। দেশে ফিরে না গিয়ে তিনি পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর প্রথম সফল শৃঙ্গজয় ছিল ৬,১১৯ মিটার উচ্চতার লোবুচে ইস্ট। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল উচ্চতাজয়ী পর্বতারোহী হয়ে ওঠেন।

    প্রজেক্ট পসিবল-এই ইতিহাস সৃষ্টি

    ২০১৯ সালে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অভিযান প্রজেক্ট পসিবল। সেই সময় বিশ্বের ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ জয়ের দ্রুততম রেকর্ড ছিল প্রায় আট বছর। নির্মল বিশ্বাস করতেন, এটি কয়েক মাসেও সম্ভব। অর্থের অভাবে স্পনসর না পেয়ে তিনি নিজের বাড়ি ফের বন্ধক রাখেন। স্ত্রী সুচির সমর্থনেই শুরু হয় অভিযান। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ জয় করে তিনি ইতিহাস গড়েন। পরে এই রেকর্ড ভাঙলেও, অসম্ভবকে সম্ভব করার ধারণাই বদলে দিয়েছিল নির্মলের (Nirmal Purja) এই সাফল্য।

    এভারেস্টের সেই ভাইরাল ছবি

    ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানের সময় শৃঙ্গের ঠিক নীচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতারোহীদের একটি ছবি তুলেছিলেন নির্মল। সেই ছবি সারা বিশ্বে ভাইরাল হয়। এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড়, বাণিজ্যিক অভিযান এবং নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল ওই ছবিকে কেন্দ্র করেই।

    রেকর্ডের পাশাপাশি মানবিকতার নজির

    শুধু রেকর্ড গড়াই নয়, বিপদে পড়া বহু পর্বতারোহীর জীবন বাঁচাতেও নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। অন্নপূর্ণা থেকে নামার সময় প্রায় ৪০ ঘণ্টা খাবার, জল ও অক্সিজেন ছাড়া আটকে থাকা এক পর্বতারোহীকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে আরও দু’জন আটকে পড়া পর্বতারোহীকে বাঁচাতে নিজের অক্সিজেনও দিয়ে দেন।

    শেরপাদের প্রাপ্য সম্মানের দাবিতে সোচ্চার

    আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ার পর নির্মল (Nirmal Purja) এলিট এক্সপেড, নিমসদাই ফাউন্ডেশন এবং একটি পর্বতারোহণ সরঞ্জাম সংস্থা গড়ে তোলেন। পাশাপাশি তিনি সবসময় দাবি করেছেন, নেপালি শেরপা ও পর্বত গাইডদের অবদানকে বিশ্বের সামনে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত। ২০১৮ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (MBE) সম্মানে ভূষিত করেন।

    শেষ অভিযানের আগে কী লিখেছিলেন?

    সম্প্রতি গাশেরব্রুম-২ জয় করেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। এরপর ব্রড পিকে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। এই শৃঙ্গ জয় করতে পারলে অক্সিজেন ছাড়া দ্বিতীয়বার বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ সম্পূর্ণ করা প্রথম পর্বতারোহী হওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। শেষবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ব্রড পিক (Broad Peak Avalanche) তাঁর মূল পরিকল্পনায় ছিল না। তবে সুযোগ যখন এসেছে, তখন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের কাছে নিরাপদ যাত্রার প্রার্থনাও করেছিলেন। তাঁর শেষ বার্তায় ছিল- “সমর্থক হোক বা সমালোচক, সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের দু’পক্ষই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।”

    শোকে পর্বতারোহণ বিশ্ব

    তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করে। ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস নির্মল পুরজাকে (Nirmal Purja) অসাধারণ এবং অনন্য মানুষ বলে শ্রদ্ধা জানান। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই থেমে গেল নির্মল নিমসদাই পুরজার জীবনযাত্রা। কিন্তু তাঁর সাহস, আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার অদম্য মানসিকতা ভবিষ্যতের প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করে যাবে।

LinkedIn
Share