Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Venezuela Earthquake: পরপর জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

    Venezuela Earthquake: পরপর জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় তছনছ হয়ে গিয়েছে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অংশ। পরপর জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কায় রাজধানী কারাকাসের বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বহু মানুষ। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, জোড়া ভূমিকম্পের মধ্যে রিখটার স্কেলে প্রথমবার কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১ ৷ যার উৎপত্তিস্থল ক্যারিবীয় উপকূলীয় এলাকা মোরোনের পশ্চিমে ৷ ওই এলাকাটি কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার (104 মাইল) দূরে। ভূমিকম্পনের গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরে হওয়া দ্বিতীয় ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৫। এর উৎপত্তিস্থল প্রায় ওই একই অঞ্চলে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

    কেন এত ভয়াবহ এই ভূমিকম্প?

    ভেনেজুয়েলা অবস্থিত ক্যারিবিয়ান প্লেট (Caribbean Plate) এবং দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)-এর সংযোগস্থলের কাছে। এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় অতীতে একাধিক শক্তিশালী কম্পনের সাক্ষী থেকেছে দেশটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী কয়েকদিন আফটারশকের আশঙ্কাও রয়েছে।

    হতাহতের আশঙ্কা

    ইউএসজিএস আশঙ্কা করে জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এই সংস্থা। ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলা জুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। কারাকাসের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উল্লেখ্য, ভেলেজুয়েলার এই ভূমিকম্প ওই অঞ্চল থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটাতেও অনুভূত হয়েছে। দুটি ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে ২০ বার আফটারশক হয়। কারাকাস ছাড়াও ভেনেজুয়েলার উত্তরীয় তটরেখা, লা গুয়ারিয়া, আরাগুয়া, ফ্যালকন, কারাবোডো অঞ্চল ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রশাসন ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সেনা, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে। হাসপাতালগুলিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শতাব্দীর ভয়াবহতম ভূমিকম্প!

    ভেনেজুয়েলায় এই ভূমিকম্প গত এক শতকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ৷ শক্তিশালী এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করাও হচ্ছে ৷ এখনও কোনও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো না-হলেও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। অনেকেই হতাহত হয়ে থাকতে পারেন বলেও জানানো হয়েছে ৷ রাজধানী কারাকাসে বেশ কিছু ভবন তাসের ঘরের মত ধসে পড়ে। বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন৷ একাধিক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের তরফে ভূমিকম্পে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে৷ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীর রাষ্ট্রপতি ডেলসি রডরিগেজ দেশে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি জানিয়েছেন, দেশের সমস্ত বিমানবন্দর, রেল এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থা আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের জেরে ভেঙে পড়েছে সেখানকার ইন্টারনেট পরিষেবা।

  • Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ সৈয়দ আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফনের অনুষ্ঠান প্রথমে মার্চ মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান-ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে একাধিক অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করে।

    খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিতে আমন্ত্রণ ভারতের (Iran)

    অনুষ্ঠানের সূচনা হবে ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে। সেখানে খামেনেইর মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দেশজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোকানুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে বিশাল শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজা মাজারে খামেনেইকে দাফন দেওয়া হবে। মাশহাদই ছিল খামেনেইর জন্মস্থান। সপ্তাহব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে লক্ষাধিক নয়, বরং কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা ইরানি প্রশাসনের (Iran)।

    ভারত-ইরান সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটকালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। একই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি।

    সম্প্রতি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও (Iran)। ইরানের এই (PM Modi) রাষ্ট্রীয় শোকের অনুষ্ঠানে ইরাক, পাকিস্তান, রাশিয়া, চিন-সহ একাধিক আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকতে পারে বলেও খবর।

     

  • Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    সুশান্ত দাস

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দিল মার্কিন সেনেট। ৫০-৪৮ ভোটে সেনেট একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানো বন্ধ করা। ঘটনাটিকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, ১৯৭৩ সালে ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ— হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) বা প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সেনেট— কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস করল। যদিও এই প্রস্তাব অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবে না, তবুও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক গুরুতর রাজনৈতিক সতর্কবার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?

    মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু গত কয়েক দশকে একাধিক প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালিয়েছেন সরাসরি কংগ্রেসের পূর্ণ অনুমোদন ছাড়াই। ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছেন। সেই কারণেই ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটরও এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এই ভোট কেবল ইরান যুদ্ধ নিয়ে নয়; এটি মূলত প্রেসিডেন্ট বনাম কংগ্রেস— কার হাতে যুদ্ধ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে, সেই সাংবিধানিক প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে।

    ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: ‘অর্থহীন ও ভুল সময়ের সিদ্ধান্ত’

    সেনেটে ভোটাভুটির পর ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশাল-এ (Truth Social) তিনি এই প্রস্তাবকে “ভুল সময়ের এবং অর্থহীন” বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে “সাহায্য ও মানসিক সমর্থন” জোগাচ্ছে এবং রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাজকে আরও কঠিন করে তুলছেন। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, তিনি এই ভোটকে কেবল প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

    রিপাবলিকান শিবিরেই ফাটল

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চারজন রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা হলেন— লিসা মার্কাওস্কি, সুজান কলিন্স, র‌্যান্ড পল, বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ফেটারম্যান John Fetterman ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজন দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরে ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছে।

    যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ

    ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে আরেকটি বড় সমস্যা হল যুদ্ধের বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের আবেদন জানিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই খরচ হয়েছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।

    এর ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—

    • ● যুদ্ধ কতদিন চলবে?
    • ● শেষ লক্ষ্য কী?
    • ● মার্কিন করদাতাদের অর্থ কতটা ব্যয় হবে?
    • ● আর এই সংঘর্ষ কি আরেকটি “অনন্ত যুদ্ধ”-এ পরিণত হতে চলেছে?

    ট্রাম্পের নতুন ইরান চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ

    যুদ্ধের পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন ইরান চুক্তিও বিতর্কের কেন্দ্রে।খবরে বলা হয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থী অংশের মতে, যুদ্ধ করে আবার ইরানকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার যুক্তি ভোটারদের কাছে ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে।

    ফলে ট্রাম্প এখন দুই দিক থেকেই চাপের মুখে—

    • ● যুদ্ধপন্থীরা চুক্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট।
    • ● যুদ্ধবিরোধীরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্ট।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য কতটা বিপজ্জনক?

    রাজনৈতিকভাবে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) যত এগিয়ে আসছে, ততই রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের আসন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। ইতিহাস বলছে, দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি যুদ্ধ প্রায়শই ক্ষমতাসীন দলের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    ১. স্বাধীন ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে

    মার্কিন নির্বাচনে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বা নির্দলীয় ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাঁদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে ট্রাম্প কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছেন, তাহলে বহু সুইং স্টেটে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

    ২. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংঘর্ষ

    ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম ভিত্তি ছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। তিনি বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমেরিকাকে আর বিদেশি যুদ্ধের জালে জড়াবেন না। কিন্তু ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিরোধীরা সহজেই প্রশ্ন তুলতে পারবে— “যে নেতা অন্তহীন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনিই কি নতুন যুদ্ধ শুরু করলেন?” এই প্রশ্ন রিপাবলিকান ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশকে বিচলিত করতে পারে।

    ৩. রিপাবলিকান ঘাঁটিতেই বিভাজন

    র‌্যান্ড পলের মতো নেতারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই বিভাজন যদি আরও বাড়ে, তাহলে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    ৪. যুদ্ধের ব্যয় বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে

    মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ এবং বাজেট ঘাটতির মতো অর্থনৈতিক ইস্যুগুলি ইতিমধ্যেই ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে আরও ৮০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ ব্যয় অনুমোদনের প্রশ্ন উঠলে ডেমোক্র্যাটরা এটিকে বড় নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

    কংগ্রেস কি সত্যিই ট্রাম্পকে থামাতে পারবে?

    বাস্তবিক অর্থে এখনই নয়। এই প্রস্তাব মূলত রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। প্রেসিডেন্ট চাইলে এটিকে উপেক্ষা করতে পারেন অথবা ভেটো দিতে পারেন।

    তবে কংগ্রেসের হাতে আরও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে—

    • ● যুদ্ধের অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া,
    • ● প্রতিরক্ষা বাজেটে শর্ত আরোপ করা,
    • ● নতুন আইন পাস করার চেষ্টা করা।

    ফলে যুদ্ধ বন্ধ না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তা স্পষ্ট।

    ট্রাম্পে বাড়ছে অনাস্থা!

    সেনেটের ৫০-৪৮ ভোট শুধু একটি প্রতীকী প্রস্তাব নয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রকাশ্য অনাস্থার বার্তা। ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম কংগ্রেসের দুই কক্ষ একসঙ্গে কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা সরানোর আহ্বান জানাল। তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামবে না, কিন্তু রাজনৈতিক অভিঘাত গভীর। রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল, যুদ্ধের বাড়তি খরচ, ইরান চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন— সব মিলিয়ে ট্রাম্প এমন এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দলের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন একটাই— ইরান যুদ্ধ কি ট্রাম্পের জন্য নতুন বিদেশনীতি সংকট, নাকি সেটাই ২০২৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুর্বলতা হয়ে উঠবে?

  • Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সরকারি সফরে চিনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) বিএনপির তারেক রহমান। সোমবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ (Teesta Project Talks) ফ্লাইট চিনের দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    তারেকের কর্মসূচি (Bangladesh PM)

    এই সফরে তারেক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স (সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬)-এ অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সফরের মধ্যেই বেজিংয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ২৪ জুন তিনি বৈঠক করবেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। পরে দ্রুতগতির ট্রেনে তিনি যাবেন দালিয়ান থেকে বেজিংয়ে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, বাংলাদেশের নয়া সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বহুমাত্রিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সমন্বয় জোরদার করার সুযোগ হিসেবে চিন এই সফরকে দেখছে (Bangladesh PM)।

    ভারতের নজর

    এদিকে, তারেকের এই সফরে তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে কোনও অগ্রগতি বা ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না (POWERCHINA) তিস্তা যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (Teesta Comprehensive Management and Restoration Project) মউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি করে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হল, তিস্তা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও পুরোনো বাঁধ সংস্কার, খনন করা মাটি ব্যবহার করে জমি পুনরুদ্ধার এবং শুখা মরশুমে জল সংরক্ষণের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা (Bangladesh PM)। এই প্রকল্পে চিন যুক্ত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছে ভারত। কারণ তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেকে’র কাছেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই এলাকায় চিনের প্রভাব বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে নয়া উদ্বেগ তৈরি (Teesta Project Talks) হতে পারে।

    ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্স’

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে চিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। চিনের দাবি, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা গভীর হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক ফল নিয়ে আসছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সমঝোতা সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য আর্থিক সাহায্য নিয়ে আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ঢাকা চিনকে প্রযুক্তি, শিল্প বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশ-চিন সম্পর্কের ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্সে’ প্রবেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারত সফরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ওই সূত্রের বক্তব্য, কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বর্তমানে সেই পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়নি (Teesta Project Talks)। যদিও বাংলাদেশ মনে করে, ভারত ও চিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনওভাবেই ‘জিরো-সাম গেম’ নয়, বরং (Bangladesh PM) উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • Pakistan: বালোচ মানবাধিকার নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানের আওড়ানো অসার মানবাধিকার বুলি নিয়ে নয়া বিতর্ক

    Pakistan: বালোচ মানবাধিকার নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানের আওড়ানো অসার মানবাধিকার বুলি নিয়ে নয়া বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খসে পড়ল পাকিস্তানের (Pakistan) ভন্ডামির মুখোশ! মানবাধিকার নিয়ে ভারতের সমালোচনা করার কয়েক দিনের মধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল পাকিস্তানে বালোচ অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহরাং বালোচ (Mahrang Baloch) এবং বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র নেতা সিবঘাতুল্লাহ শাহকে। পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই সাজা দিয়েছে। ২০২৪ সালে বালোচিস্তানের গওয়াদরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় মাহরাংদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    পাক আদালতের রায় (Pakistan)

    পাক আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই সে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ঐতিহাসিক মুসলিম কাঠামো রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছিলেন। তার পরপরই বালোচ মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজা পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলল বলেই মত পর্যবেক্ষকের। মামলার তদন্তে নেমে পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিওয়াইসির বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে উত্তেজিত জনতা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়। পরে ওই বাহিনীর সদস্য শাব্বির বালোচকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, জনতাকে সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন মাহরাং ও সিবঘাতুল্লাহ।

    বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ!

    যদিও, শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই দুই বালোচ নেতা। তাঁদের সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং (Pakistan) বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ করতেই এই মামলা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বালোচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, এটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মামলা নয়, একজন নিরাপত্তা কর্মীর হত্যাকাণ্ডের বিচার। জানা গিয়েছে, প্রথমে গওয়াদরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, নিরাপত্তার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে মামলাটিকে স্থানান্তরিত করা হয় কোয়েটার একটি কারাগারে। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মি

    পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র ঘনিষ্ঠ বা তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করে। বিওয়াইসি অবশ্য বারবার সেই অভিযোগ খারিজ করে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলনের সংগঠন বলে দাবি করেছে। উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ বালোচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। বহু দশক ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে (Mahrang Baloch) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। স্থানীয়দের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা এবং সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি (Pakistan) জানিয়ে আসছে।

     

  • Brahmos Akashteer Weapon Systems: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির সমীকরণ! ভারতের ব্রহ্মস ও আকাশতীর চাইছে ইউএই

    Brahmos Akashteer Weapon Systems: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির সমীকরণ! ভারতের ব্রহ্মস ও আকাশতীর চাইছে ইউএই

    সুশান্ত দাস

    আবুধাবি শুধু অস্ত্র কিনতে চাইছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশে ভারতের সঙ্গে আরও গভীর কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে…

    ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই) ভারতের অন্যতম অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশতীর বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউএই। একই সঙ্গে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে একক উৎসের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে।

    দ্রুত এগোচ্ছে ভারত-ইউএই প্রতিরক্ষা আলোচনা

    সূত্রের খবর, ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একাধিক প্ল্যাটফর্মের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে আবুধাবি। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশতীর। এক সরকারি সূত্রের বক্তব্য, “ইউএই আমাদের বেশ কয়েকটি অস্ত্র ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্রহ্মস এবং আকাশতীর নিয়ে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও তা দ্রুত এগোচ্ছে।” যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার বা ইউএই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    কেন প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে চাইছে ইউএই?

    সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত সংঘাতের সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা ইউএইকে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে বাধ্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএই বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হরমুজ প্রণালী-র নিরাপত্তা নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস রফতানি হয়। ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া আবুধাবি এখন এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুঁজছে যা দ্রুতগতির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশপথের হুমকিকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।

    কী এই আকাশতীর?

    আকাশতীর হল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

    এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন সেন্সর ও রাডার থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ
    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ
    • ● বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয়
    • ● স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
    • ● দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশতীর মূলত একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, যা বিভিন্ন অস্ত্র ও সেন্সরকে একত্রে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে।

    ব্রহ্মস: ভারতের গর্ব

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অন্যতম।

    ব্রহ্মসের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য—

    • ● গতি: শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ
    • ● উৎক্ষেপণ মাধ্যম: স্থল, জল ও আকাশ
    • ● রফতানি সংস্করণের পাল্লা: প্রায় ২৯০ কিলোমিটার
    • ● অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা
    • ● শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা

    যেহেতু ব্রহ্মস যৌথভাবে ভারত ও রাশিয়ার তৈরি, তাই ইউএই-কে এই ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি করতে হলে মস্কোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে সূত্রের দাবি, রাশিয়া ও ইউএই-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই অনুমোদন বড় বাধা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়

    বর্তমানে ইউএই-এর কাছে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—

    • ● থাড (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স)
    • ● প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
    • ● এমজিএম-১৬৮ অ্যাটাকমস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    বিশ্লেষকদের মতে, আকাশতীর এই বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় ঘটাতে পারে এবং আকাশপথে আসা হুমকি মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

    ভারত-ইউএই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইউএই-এর সম্পর্ক শুধু বাণিজ্য বা জ্বালানি সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দ্রুত এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির জন্য একাধিক চুক্তি করেছে। ফলে সম্ভাব্য ব্রহ্মস ও আকাশতীর চুক্তিকে কেবল অস্ত্র বিক্রি হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সৌদি আরব-পাকিস্তান সমীকরণের প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার পেছনে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএই-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা বহন করে। দক্ষিণ এশিয়ার সংঘাত ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পার্ল পাণ্ডিয়ার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-ইউএই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের গভীরতাকেই তুলে ধরছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে ভারতের উত্থান

    গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী—

    • ● ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা রফতানি ছিল মাত্র ৬৮ কোটি টাকা
    • ● ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৩৭,৮৬৮ কোটিরও বেশি হয়েছে
    • ● প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা রফতানি ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে সফল ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় অস্ত্রের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    কোন কোন দেশ ব্রহ্মস কিনছে?

    ভারত ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সকে ব্রহ্মস সরবরাহ করেছে। এছাড়া ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রফতানি চুক্তি করেছে। পাশাপাশি তাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং চিলি-সহ একাধিক দেশ ব্রহ্মসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

    বিশ্ব অস্ত্রবাজারে ভারতের অবস্থান

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে দ্রুত অগ্রগতি হলেও ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অস্ত্র আমদানির ৮ শতাংশেরও বেশি ভারতের দখলে।

    অন্যদিকে ২০২১-২৫ সময়কালে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে—

    • ● প্রথম স্থানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৫৪ শতাংশ)
    • ● দ্বিতীয় স্থানে ইতালি (১২ শতাংশ)
    • ● তৃতীয় স্থানে ফ্রান্স (১১ শতাংশ)

    ভারত-আমিরশাহী কূটনীতিতে নয়া মাইলফলক

    ব্রহ্মস ও আকাশতীর রফতানি নিয়ে ভারত-ইউএই আলোচনা সফল হলে তা শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য নয়, বরং ভারতের কৌশলগত কূটনীতির ক্ষেত্রেও একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় ভারতের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করবে যে ভারত এখন শুধু বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক নয়, বরং দ্রুত উত্থানশীল একটি প্রতিরক্ষা রফতানিকারক শক্তিও।

  • Keir Starmer: ব্রিটেনে রাজনৈতিক ভূমিকম্প, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন স্টার্মার, এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার পথে যুক্তরাজ্য

    Keir Starmer: ব্রিটেনে রাজনৈতিক ভূমিকম্প, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন স্টার্মার, এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার পথে যুক্তরাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয় মোড়! ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ প্রধানমন্ত্রী (UK Prime Minister) ও দলীয় নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। সোমবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন ভাষণে তিনি জানান, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত স্টার্মারের (Keir Starmer)

    বছর তেষট্টির স্টার্মার বলেন, ‘‘আমার দল এখন প্রশ্ন তুলছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি কিনা? সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেই সিদ্ধান্ত আমি সসম্মানে মেনে নিচ্ছি। দেশের স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছি। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সোমবার সকালেই ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে (King Charles III) অবহিত করেছেন বলেও জানান তিনি। স্টার্মারের কথায়, ‘‘আমি আজ সকালে মহামান্য রাজার সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমার সিদ্ধান্তের কথা তাঁকে জানিয়েছি। আমি লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানাব, যাতে সেপ্টেম্বর মাসে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারেন।’’

    নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি

    তিনি জানান, নতুন নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন করবেন এবং বিশ্বাস করেন যে তাঁর উত্তরসূরি আরও শক্তিশালী ব্রিটেনের নেতৃত্ব দেবেন (UK Prime Minister)। স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্টার্মার বলেন, ‘‘ভালো সময়ে ও খারাপ সময়ে উনি (ভিক্টোরিয়া) আমার পাশে অটল থেকেছেন।’’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি করে সময় কাটাতে চান তিনি। স্টার্মারের কথায়, ‘‘দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছেড়ে আমি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে চাই—একজন ভালো স্বামী ও একজন ভালো বাবা হওয়া।’’ লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি (NEC) ইতিমধ্যেই নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করেছে। ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে, চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত (Keir Starmer)। যদি একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন, তাহলে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। লক্ষ্য, সেপ্টেম্বর মাসে সংসদ ফের বসার আগেই নতুন লেবার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা।

    অ্যান্ডি বার্নহামের উত্থানেই কি শেষ হল স্টার্মার যুগ?

    রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, স্টার্মারের পদত্যাগের পেছনে বড় কারণ দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের (Andy Burnham) ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ নির্বাচনে বার্নহামের জয় লেবার পার্টির অভ্যন্তরে শক্তির ভারসাম্য বদলে দেয়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহাম প্রকাশ্যেই স্টার্মারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সোমবারই নতুন সাংসদ হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের উত্থানই স্টার্মারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় (UK Prime Minister)।

    ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) রবিবারই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে দাবি করেছিলেন, স্টার্মার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। যদিও ব্রিটিশ সরকারের এক কর্তা জানান, এ বিষয়ে ট্রাম্পকে সরকারিভাবে কোনও তথ্য জানানো হয়নি এবং স্টার্মারের সঙ্গেও তাঁর কোনও আলোচনা হয়নি (Keir Starmer)। তাই ট্রাম্পের ওই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে নয়া বিতর্কের।

    কেন বাড়ছিল স্টার্মারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ?

    ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিপুল জয়ের মাধ্যমে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টার্মার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নানা ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। মূল অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে, প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতা, জনসেবামূলক পরিষেবার উন্নতিতে ধীরগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় সঙ্কট মোকাবিলায় অক্ষমতা, একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভুল সিদ্ধান্ত, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক। এসবের জেরে দলের ভেতরেই স্টার্মারের বিরুদ্ধে জমছিল অসন্তোষের মেঘ। যার জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন (UK Prime Minister) তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে লেবার পার্টি একদিকে উদারপন্থী ভোটারদের একটি অংশকে হারাচ্ছে গ্রিন পার্টি অফ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের (Green Party of England and Wales) কাছে, অন্য দিকে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে রিফর্ম ইউকে (Reform UK)। নাইজেল ফারেজের (Nigel Farage) নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে বর্তমানে একাধিক জাতীয় জনমত সমীক্ষায় এগিয়ে রয়েছে বলে (Keir Starmer) দাবি করা হচ্ছে। ফলে আগামী নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি লেবার পার্টি।

    এক দশকে ৭ প্রধানমন্ত্রী?

    স্টার্মারের পদত্যাগ গৃহীত হলে গত এক দশকে ব্রিটেন তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নেতৃত্বের দ্রুত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বারবার চর্চায় এসেছে (UK Prime Minister)। নয়া নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে লেবার পার্টি সেই (Keir Starmer) অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

     

  • China: মাও যুগে ফিরছে চিন? রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নতুন মতবাদ শি জিনপিংয়ের

    China: মাও যুগে ফিরছে চিন? রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নতুন মতবাদ শি জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের (China) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়া এবং চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)-র অভ্যন্তরে চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই নতুন একটি রাজনৈতিক-আদর্শিক মতবাদ সামনে আনল বেজিং। ‘শি জিনপিং থট অন পার্টি বিল্ডিং’ (Xi Jinping Thought on Party Building) নামে পরিচিত এই নতুন তত্ত্বকে বিশ্লেষকরা শি জিনপিংয়ের হাতে আরও ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। গত ১৫ জুন বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টি-নির্মাণ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মতবাদ উন্মোচন করা হয়। ঘটনাচক্রে দিনটি ছিল চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ৭৩তম জন্মদিন। সাধারণত চিনা নেতাদের ব্যক্তিগত উপলক্ষকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না, কিন্তু এবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে শি এবং তাঁর জন্মদিনকে অস্বাভাবিকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ‘পার্টিই সর্বেসর্বা’— নতুন প্রচারের মূল বার্তা

    সম্মেলনে সিসিপির শীর্ষ নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, চিনের সমস্ত প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক কাঠামোর ওপর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বই সর্বোচ্চ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি-ঘনিষ্ঠ নেতা কাই ছি, পাশাপাশি দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রধান লি শি। কাই ছি পার্টির কর্মীদের নির্দেশ দেন শি জিনপিংয়ের রচনাবলি ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে নতুন করে অধ্যয়ন শুরু করতে। তিনি ‘টু আপহোল্ডস’ (Two Upholds) নীতির প্রতি আনুগত্যের ওপরও জোর দেন, যার মূল লক্ষ্য শি জিনপিংকে দলের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সিসিপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব অটুট রাখা।

    নতুন আদর্শিক অভিযানে জোর রাজনৈতিক আনুগত্যে

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শি জিনপিং রাজনৈতিক শিক্ষা, মতাদর্শগত প্রচার এবং পার্টির নজরদারি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত করেছেন। নতুন মতবাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পার্টি শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক আনুগত্য এবং ‘পার্টিই সবকিছুর নেতৃত্ব দেবে’— এই নীতিকে। যদিও এই ধারণাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সিসিপির অংশ, তবে প্রথমবার এগুলিকে শি জিনপিংয়ের নামে পৃথক ও আনুষ্ঠানিক মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলো। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া একে মার্ক্সবাদী পার্টি-গঠন তত্ত্বে ‘গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান’ বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মাও সে তুং ও অন্যান্য পূর্বসূরি নেতাদের মতোই শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক দর্শনকে দলীয় মতাদর্শের কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে।

    অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই রাজনৈতিক কড়াকড়ি

    চিন বর্তমানে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি খাতের সংকট, দুর্বল ভোক্তা আস্থা এবং জনসংখ্যাগত সমস্যার মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে বেজিং রাজনৈতিক ঐক্য ও দলীয় শৃঙ্খলা জোরদারে আরও সক্রিয় হয়েছে। সম্মেলনের বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য এবং শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্যকে আলাদা করে দেখা যাবে না।

    দেং শিয়াওপিংয়ের সংস্কার যুগ থেকে ভিন্ন পথে চিন?

    ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে দেং শিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে চিন অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের পথে হাঁটতে শুরু করে। সেই সময়ের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মাও সে তুংয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অস্থিরতা থেকে দেশকে দূরে সরিয়ে স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা। কিন্তু শি জিনপিংয়ের আমলে পার্টির প্রভাব আবারও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। নতুন মতবাদ সেই প্রবণতাকেই আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। এ বছর সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরুর ৬০ বছর পূর্তি হওয়ায় নতুন এই আদর্শিক প্রচারের সময়কালও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক অধ্যয়ন, মতাদর্শগত আনুগত্য এবং পার্টির সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের ওপর জোর দেওয়ায় অনেকেই মাও যুগের সঙ্গে তুলনা টানছেন।

    শি জিনপিংকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক কাঠামো

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সিসিপি শি জিনপিংয়ের নামকে দলীয় নীতি, শিক্ষা সামগ্রী এবং বিভিন্ন বিধিবিধানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। নতুন মতবাদ সেই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করল। ১৫ জুন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি ‘কমিউনিস্ট পার্টি সদস্য শি জিনপিং’ শিরোনামে ছয় মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে তুলে ধরা হয় যে শি জিনপিংয়ের “প্রথম পরিচয় একজন কমিউনিস্ট পার্টি সদস্য” এবং তাঁর “প্রথম দায়িত্ব পার্টির জন্য কাজ করা”। দেশজুড়ে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় পার্টি ইউনিট এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শি জিনপিংয়ের রচনা ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়মিত অধ্যয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৭-এর আগে ক্ষমতার ভিত্তি আরও মজবুত?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৭ সালের সম্ভাব্য নেতৃত্ব পুনর্গঠনের আগে শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারাকে দলীয় কাঠামোর গভীরে প্রোথিত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা হচ্ছে। নতুন মতবাদের মাধ্যমে বেজিং আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে— রাষ্ট্র, সমাজ এবং অন্যান্য সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে রয়েছে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি। আর ‘শি জিনপিং থট অন পার্টি বিল্ডিং’ সেই পার্টি-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থাকেই আরও আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল।

  • Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল (Osman Faizan Ali)। এই বিক্ষোভকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলির ভূমিকা নিয়ে।

    ককরোচ জনতা পার্টি (Osman Faizan Ali)

    প্রতিবাদ কর্মসূচিটি হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) উদ্যোগে। আন্দোলনটিকে ছাত্র-যুবদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন পোস্টার ও প্রচারসামগ্রীতে ওসমান ফয়জান আলির ছবি দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে তাঁর পরিচয় হিসেবে লেখা ছিল ‘ইন্ডিয়ান ওসমান ফয়জান আলি – ফ্রম ইউএসএ’। বিক্ষোভকারীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই পোস্টারে থাকা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কয়েকজন আবার জানান, সংগঠকদের কাছ থেকে তাঁরা পোস্টার পেয়েছেন এবং ছবিতে থাকা ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই।

    কে এই ওসমান ফয়জান আলি?

    জানা গিয়েছে, ওসমান মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘@bbm_india_’-এ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ও নিট ইস্যু নিয়ে একাধিক ভিডিও এবং পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব কনটেন্টে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ১ জুন ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে মন্তব্য করতে গিয়ে ওসমান বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনা উসকে দিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও ভিডিওতে সরাসরি কোনও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ডাক দেওয়া হয়নি (Osman Faizan Ali)। সম্প্রতি প্রকাশিত আরও একটি ভিডিওতে তিনি দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। তবে সেই ভিডিওতেও আন্দোলন আটকে দিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Button Ballot Movement by Osman Faizan Ali’-এর পুরনো কিছু কনটেন্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি হায়দরাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের ভোটারদের এআইএমআইএম (AIMIM) এবং কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে বিজেপিকে পরাজিত করার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ককরোচ জনতা পার্টি-সমর্থন এবং অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য ওসমানের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি (CJP)।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগে দ্রুত বদলাচ্ছে রাজনৈতিক আন্দোলনের চরিত্র। এখন দেশের বাইরে অবস্থান করেও কোনও ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলনের বয়ান গঠন, জনমত প্রভাবিত করা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছেন (Osman Faizan Ali)। যন্তর মন্তরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রচারসামগ্রীর উৎস সম্পর্কে কতটা সচেতন, এবং সর্বোপরি, বিদেশে থেকে অনলাইন সক্রিয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় অনলাইন প্রচার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং জনআন্দোলনের সম্পর্ক নিয়ে (CJP) আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (Osman Faizan Ali)।

    অতএব, সাধু সাবধান!

     

LinkedIn
Share