Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলেছিল ইজরায়েল (Israel)। ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও, তাঁকেই দেশের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও ছকেছিল তেল আভিভ (ইজরায়েলের রাজধানী)। মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেই এমনই দাবি করা হয়েছে (Ahmadinejad Intelligence Asset)।

    ইজরায়েলের ছক! (Israel)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রথম দিকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবন থেকে তাঁকে গোপনে সরিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মোসাদের সদস্যরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদ স্বয়ং ওই উদ্ধার অভিযানে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিলেন, এবং আস্থা হারিয়েছিলেন ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের ইজরায়েলি পরিকল্পনার সাফল্যে। ফলে গোটা পরিকল্পনাটাই ভেস্তে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। সম্মেলনটি ছিল আসলে ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের আড়াল। সেই সময় মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া নিজেও বুদাপেস্টে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    আহমাদিনেজাদ-রহস্য

    গত বছরের জুন মাসে আবারও বুদাপেস্ট সফরে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইরানি রক্ষীরা পরে জানান, ওই সফরে অন্তত দু’বার তিনি তাঁদের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। আহমাদিনেজাদ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিদেশ সফর এবং থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করেছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা (Israel)। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের থাকার ভবন এবং সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়। এর কিছুক্ষণ পর একটি কালো রঙের পিউজো গাড়ি সেখানে পৌঁছে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যায়। মার্কিন ও ইরানি কর্তাদের বক্তব্য দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের সদস্যরা।

    ভূখণ্ড দখলের ছক!

    এরপর তাঁকে একটি গোপন নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। একই সময়ে ইরানের সরকার উৎখাতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানি কুর্দি বিরোধী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভূখণ্ড দখল এবং পরে তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কীভাবে আহমাদিনেজাদ নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এর কিছুদিন পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের যাত্রায় খানিকক্ষণের জন্য প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল আহমাদিনেজাদকে। তিনি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ছিলেন, এবং কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ইরানের চার প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন আহমাদিনেজাদ, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘনিষ্ঠদের কাছে আহমাদিনেজাদ (নাকি) জানিয়েছিলেন, বিদেশি সমর্থনে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। শাসন পরিবর্তনের পর তিনি ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পক্ষেও প্রস্তুত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে (Israel)। তবে এই সব অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোসাদ কিংবা আহমাদিনেজাদের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে (Ahmadinejad Intelligence Asset) কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তাই জানা যায়নি, সত্যটা ঠিক কী।

     

  • Trump: ফের মুখ ফসকে ভুল! প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এবার নিজেই বিদ্রুপের নিশানায় ট্রাম্প

    Trump: ফের মুখ ফসকে ভুল! প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এবার নিজেই বিদ্রুপের নিশানায় ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভুলত্রুটি তুলে ধরে জনসমর্থন আদায় করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump)। প্রতিপক্ষের সামান্য ভুল বা বিতর্কিত মন্তব্যকেও তিনি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন বহুবার (Leon Musk)। অবশ্য সম্প্রতি উল্টে গিয়েছে পাশা! একের পর এক বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই একাধিক তথ্যগত বিভ্রান্তি ও মুখ ফসকে ভুল মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাঁর এই ধারাবাহিক ভুলই এখন রাজনৈতিক মহলে জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের।

    ভুল নিয়ে বিরোধীদের করতেন কটাক্ষ (Trump)

    নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প জো বাইডেনের বিভিন্ন ভুলের একটি সংকলিত ভিডিও পর্যন্ত দেখিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বাইডেন একবার ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের নাম গুলিয়ে ফেললে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “দারুণ কাজ, জো!” আবার ওবামা একবার ভুল করে বলেছিলেন তিনি ৫৭টি অঙ্গরাজ্য সফর করেছেন। সেই সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, “আমি যদি এমন কথা বলতাম, সেটাই বছরের সবচেয়ে বড় খবর হয়ে যেত।”

    একাধিক ভুলের জন্য খবরে ট্রাম্প

    এবার সেই একই ধরনের একাধিক ভুলের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছেন ট্রাম্প নিজেই। সম্প্রতি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে বসে মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই তিনি তিনটি উল্লেখযোগ্য ভুল করেন। ইরানের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে দেশটিকে “জাপানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র” বলে উল্লেখ করেন। এরপর ইরানের পরমাণু চুক্তির সংক্ষিপ্ত রূপও ভুল উচ্চারণ করেন। সবশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য কোনও প্রশ্ন আছে?” অথচ তাঁর পাশেই বসে ছিলেন জেলেনস্কি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ন্যাটো সম্মেলনে বাইডেনও জেলেনস্কি এবং পুতিনের নাম গুলিয়ে ফেলেছিলেন। সেই ঘটনায় তখন সব চেয়ে বেশি সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্পই।

    ট্রাম্পের ভুল

    এর আগেও একাধিক অনুষ্ঠানে একই ধরনের ভুল করতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। জুনে সংস্কার হওয়া রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমান পরিদর্শনের সময় শিল্পপতি ইলন মাস্ককে ভুল করে “লিয়ন” বলে ফেলেছিলেন ট্রাম্প। যদিও কিছুক্ষণ পরেই ভুল শুধরে নেন। ন্যাটো সম্মেলনের কয়েক দিন আগে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের প্রধান কেলি লফলারকে পরিচয় করাতে গিয়ে দু’বার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের নাম উচ্চারণ করেন। একবার ভুলবশত এবং পরে আবার যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই নাম ব্যবহার করেন। মে মাসে ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানতে চান দলের প্রধান প্রশিক্ষক কার্ট সিগনেটি কোথায়। অথচ সিগনেটি তখন তাঁর একেবারে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন (Trump)। ওই মাসে আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং কাবুল বিমানবন্দরে ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দায়ী করেন। যদিও ওবামা সরে গিয়েছিলেন ২০১৭ সালেই, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল বাইডেনের আমলে (Leon Musk)।

    ভুল, আরও ভুল

    মে মাসেই তাইওয়ানকে ঘিরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সেটিকে ইরান সংক্রান্ত প্রশ্ন ভেবে উত্তর দেন এবং “তাদের (হরমুজ) প্রণালী” নিয়ে মন্তব্য করেন। এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “ইউক্রেন সামরিকভাবে পরাজিত।” কিন্তু পরে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি আসলে ইরানের নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা নিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলেন (Trump)। ওই মাসেই নারী ইতিহাস মাস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিটকে পরিচয় করাতে গিয়ে তাঁর পরিবর্তে কেলিয়ান কনওয়ের নাম বলেছিলেন ট্রাম্প। জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দাভোস বৈঠকে ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের পরিবর্তে আইসল্যান্ডের নাম উচ্চারণ করেন। অথচ গ্রিনল্যান্ড নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। গত নভেম্বরে মায়ামিতে এক ভাষণে ট্রাম্প শহরটিকে “দক্ষিণ আফ্রিকা” থেকে পালিয়ে আসা মানুষের আশ্রয়স্থল বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অবশ্য নিজেকে শুধরে নিয়ে “দক্ষিণ আমেরিকা” বললেও, আবারও ফিরে যান “দক্ষিণ আফ্রিকা” প্রসঙ্গে।

    প্রতিপক্ষকেই অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন ট্রাম্প!

    গত বছরই দু’বার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আজারবাইজান ও আলবেনিয়ার মধ্যে সংঘাত মেটানোর কৃতিত্ব তাঁর। যদিও ওই দুই দেশের মধ্যে এমন কোনও যুদ্ধই হয়নি। বাস্তবে তিনি যে সংঘাতের কথা বলতে চেয়েছিলেন, সেটি হয়েছিল আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে (Trump)। এদিকে, এই অগাস্টেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প দু’বার প্রকাশ্যে বলেন, তিনি রাশিয়ায় যাচ্ছেন। যদিও বৈঠকটি হওয়ার কথা আলাস্কায়, যা উনিশ শতকের ছয়ের দশক থেকে আর রাশিয়ার অংশ নয় (Leon Musk)। ট্রাম্প অতীতে প্রতিপক্ষদের একই ধরনের ভুল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেও, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও নাম গুলিয়ে ফেলার ঘটনাগুলি এখন নতুন নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক সমালোচকদের হাতেই (Trump)।

     

  • Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে। দুই দেশ আমেরিকা-ইরানের (US Iran Conflicts) মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত। মার্কিন হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। আর এই দুই মহাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ভারতীয় নাবিক (Indian Killed), আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই এক ধাক্কায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

    নিহত ১ ভারতীয়, আহত আরও ৬

    জানা গিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ (Mombasa) ‘আল বাহিয়াহ’ (Al Bahiyah)নামে দুটি আমিরশাহির তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ‘মোমবাসা’ জাহাজেই নিহত ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যোগাযোগ করা হচ্ছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও।

    কড়া প্রতিক্রিয়া আরব আমিরশাহির

    আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।

    কেন হামলা, জানাল ইরান

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, দু’টি ট্যাঙ্কার তাদের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেছিল। জাহাজগুলি নাকি নিজেদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে ‘মাইন পাতা রুট’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই ওই জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। আইআরজিসি-র অভিযোগ, আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে একটি ভুল রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হতে আরও দেরি হবে এবং বিশ্ব জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ঘটনার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮১.৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২০ ডলারের চেয়ে কম, তবুও বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আবার মার্কিন হামলা ইরানে

    পরপর তিনদিন ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা খুব জোরালোভাবে আঘাত করেছি। ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকবে এবং অবরোধও ফের কার্যকর করা হচ্ছে।” এদিকে হরমুজে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর করও আরোপ করেছে আমেরিকা।

    হরমুজের রক্ষাকর্তা আমেরিকা!

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবার নিজেদের হাতে নিতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প মার্কিন প্রশাসনকে এই জলপথের রক্ষাকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী এই প্রণালীটি পরিচালনা করবে এবং এর নতুন নাম দেবে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক দাবি-পাল্টা দাবি তুঙ্গে উঠেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে যেকোনও ধরনের সামরিক অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার পাহারার কারণেই এতদিন এই রুট নিরাপদ ছিল, তাই বিশ্ববাসীর উচিত এর খরচ মেটানো। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুমতি ছাড়া কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সেনাদল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও মার্কিন বাহিনীর পাশে না দাঁড়াতে সতর্ক করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও ধরনের সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে গণ্য করা হবে। এই সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি।

  • US Citizen Arrested: পাসপোর্ট ছাড়াই নেপাল সীমান্তে ধৃত মার্কিন নাগরিক, নিজেকে প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার বলে দাবি!

    US Citizen Arrested: পাসপোর্ট ছাড়াই নেপাল সীমান্তে ধৃত মার্কিন নাগরিক, নিজেকে প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার বলে দাবি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছাড়াই অবৈধভাবে নেপাল সীমান্ত (Nepal Border) পার হওয়ার চেষ্টা! অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার (US Citizen Arrested) করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (SSB)। উত্তরপ্রদেশের মহরাজগঞ্জ জেলার সোনৌলি সীমান্ত এলাকা থেকে আটক জর্ডান ব্রাউন (৩৬) নামের ওই ব্যক্তি। ধৃত ব্যক্তি নিজেকে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর (US Navy) প্রাক্তন কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন। এসএসবি (SSB)-এর ২২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা মৈনিহাওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত (Border Security) পিলারের কাছে রুটিন টহল দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। জওয়ানেরা তাঁকে থামতে বললেই পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁকে ধরে ফেলে।

    থাইল্যান্ডে পাসপোর্ট হারিয়ে গোয়ায়!

    মহরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, জেরার মুখে জর্ডান ব্রাউন দাবি করেছেন, তিনি পর্যটন ভিসা নিয়ে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই কোনওভাবে তাঁর পাসপোর্টটি হারিয়ে যায়। এরপর তিনি সমুদ্রপথে প্রথমে শ্রীলঙ্কা এবং পরে ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতে প্রবেশ করেন। গত প্রায় সাত মাস ধরে তিনি ভারতের গোয়ায় কোনও নথিপত্র ছাড়াই বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি গোয়া থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে নেপালে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ইতিমধ্যেই তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩১,৪৬০ টাকা নগদ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কোনও পাসপোর্ট বা ভিসা তিনি দেখাতে পারেননি। এরপর এসএসবি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের (UP Police) হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইনের (Immigration and Foreigners Act) ২১/২৩ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে সোনৌলি থানার পুলিশ।

    ধৃত ৫ ইউক্রেনীয় ও ১ মার্কিন নাগরিক

    অন্যদিকে, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে যুদ্ধ ও ড্রোনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার (US Citizen Arrested) করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ধৃতদের গত ৩ জুলাই পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হয়। এনআইএ-এর অভিযোগ, এই বিদেশি নাগরিকেরা প্রথমে পর্যটন ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং এরপর মিজোরাম সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে যান। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে ওই গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে তাঁরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

  • Vietnam Boat Capsized: ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকোডুবি, ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের নিথরদেহ ফিরলো মুম্বইয়ে

    Vietnam Boat Capsized: ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকোডুবি, ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের নিথরদেহ ফিরলো মুম্বইয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভিয়েতনামে নৌকোডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক। এবার তাঁদের মরদেহ এসে পৌঁছলো মুম্বাইয়ে। মঙ্গলবারই ‘ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স’-এর বিশেষ বিমান ‘VN979’-এ করে মরদেহ নিয়ে আসা হয় মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Mumbai Airport)। সেখান থেকেই মৃতদেহগুলি নিজের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ভারত সরকার। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলোর হাতে শেষকৃত্যের জন্য মরদেহগুলো তুলে দিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে প্রশাসন। মৃতদেহগুলো মুম্বাই (Mumbai) থেকে সড়ক ও আকাশপথে চেন্নাই, হায়দরাবাদ, তিরুবনন্তপুরম এবং কোয়েম্বাটুরের মতো বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে স্বজনেরা তাঁদের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Vietnam Boat Capsized)?

    ১১ জুলাই, শনিবার। ভিয়েতনামের ফু কোক দ্বীপের কাছে ‘হোন মে রুত এনগোই’ দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল পর্যটক বোঝাই একটি নৌকো। নৌকোয় ছিলেন ৩২ জন ভারতীয় পর্যটকসহ মোট ৩৬ জন আরোহী। ঠিক যখন, বাকি পর্যটকেরা ছবি তোলায় ব্যস্ত, তখনই ঘটে গেল বিপত্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দ্বীপ থেকে খুব বেশি হলে ৩০০ মিটার পৌঁছতেই ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে উল্টে পড়ে নৌকোটি (Vietnam Boat Capsized)। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, হঠাৎ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পড়ে উল্টে যায় নৌকোটি। জলে ডুবে যান পর্যটকরা। দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে যায় উদ্ধারকারী দল। ৩৬ জনের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দুর্ভাগ্যবশত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক প্রাণ হারান।

    নিহত ও আহতদের বিবরণী

    মৃত ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। ৩ জন অন্ধ্রপ্রদেশের এবং ২ জন কেরালার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত একমাত্র ভারতীয় পর্যটকের চিকিৎসা চলছে। ফু কোক দ্বীপে একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হো চি মিন সিটির একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

    তৎপর ছিল ভারতীয় দূতাবাস

    দুর্ঘটনার পর থেকেই ভিয়েতনামে (Vietnam) নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস এবং হো চি মিন সিটির কনস্যুলেট জেনারেল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। মৃতদের সনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তাঁরা ভিয়েতনাম সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন। সহযোগিতার জন্য ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

  • Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর্থিক দেউলিয়াত্ব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতায় জেরবার পাকিস্তান। এবার এক চরম স্বাস্থ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan Medicine Crisis)। জীবনদায়ী ওষুধের (Life-saving Medicines) তীব্র ঘাটতির কারণে সে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। ওষুধের দাম নির্ধারণ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের দীর্ঘসূত্রতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই সঙ্কটকে আরও গভীর করে তুলেছে। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো মারণব্যাধির ওষুধ না পেয়ে সে দেশে হাহাকার শুরু হয়েছে। অথচ, এই একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বের ‘ফার্মেসি’ (Pharmacy of the World) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বের দরবারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে।

    পরিস্থিতি হাতের বাইরে (Healthcare Crisis)?

    পাকিস্তানে জীবনদায়ী ওষুধের সাম্প্রতিক সঙ্কট ও উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে মূল কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘ড্র্যাপ’ (DRAP)। ওষুধ তৈরির খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কারণ দায়ী। পাকিস্তানি রুপির রেকর্ড পরিমাণ মূল্যপতনের ফলে আমদানির খরচ আকাশচুম্বী। ওষুধ তৈরির আমদানিকৃত কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন এবং শ্রমিকদের মজুরি বা শ্রমের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া ও ব্যাংক ঋণ বা অর্থায়নের অতিরিক্ত খরচ ইত্যাদি এই সংকটের জন্য দায়ী।

    অন্যদিকে, দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারের বর্তমান মূল্য নির্ধারণ নীতি (Pricing policy) মেনে ওষুধ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই তোলা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসান এড়াতে অনেক কোম্পানি বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ (Dawn)-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের পিছনে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতাও বড় ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ওষুধ তৈরি করা ফার্মা কোম্পানিগুলোর জন্য আর লাভজনক ছিল না। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ড্র্যাপ (DRAP) দুই বছরেরও বেশি সময় আগে ১০৫টি অতি প্রয়োজনীয় বা সঙ্কটকালীন ক্যাটাগরির (Hardship category) ওষুধের দাম পুনর্বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সেই প্রস্তাবগুলো এখনও পাকিস্তানের ফেডারেল ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।

    দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি সিদ্ধান্ত না আসায় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ওষুধের উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলস্বরূপ, বেশ কিছু উৎপাদক সংস্থা বাজারে অতি প্রয়োজনীয় ও জীবনদায়ী ওষুধের জোগান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে তীব্র ওষুধ সঙ্কট (Pakistan Medicine Crisis) তৈরি হয়েছে।

    দেউলিয়া পাকিস্তানের ব্যর্থতা

    অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পাকিস্তান সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ওষুধের দাম বাড়াতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ফার্মা কোম্পানিগুলি ওষুধ তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ইনসুলিন, ক্যানসারের কেমোথেরাপির ওষুধ, হেপারিন এবং সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের মতো জরুরি ড্রাগ।

    ধুঁকছে পাকিস্তান, বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে ভারতের ফার্মা সেক্টর

    পাকিস্তানের এই শোচনীয় পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাকিস্তান যখন সামান্য প্যারাসিটামল বা ইনসুলিনের জন্য অন্যান্য দেশের দিকে হাত পাতছে, ভারত তখন সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল হয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করছে। ভারত আজ বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশ। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয় ভারতে। ভারতের শক্তিশালী ফার্মা পরিকাঠামোর কারণে এখানে অত্যন্ত কম মূল্যে জীবনদায়ী ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যা পাকিস্তানের কাছে কল্পনা করাও অসম্ভব। পাকিস্তানের রোগীরা আজ নিজেদের দেশে ন্যূনতম চিকিৎসা না পেয়ে ভারতের উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

  • Nepal Protest: নেপালে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, নিজের তৈরি আগ্রাসী নীতিরূপী ‘ভস্মাসুর’-এর মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

    Nepal Protest: নেপালে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, নিজের তৈরি আগ্রাসী নীতিরূপী ‘ভস্মাসুর’-এর মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের রাজনীতিতে ফের বড়সড় অসন্তোষ। যে সরকারকে এক বছরও হয়নি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল দেশের যুবসমাজ , আজ সেই সরকারের বিরুদ্ধেই কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ (Nepal Protest) দেখাচ্ছেন তাঁরা। রাজধানী কাঠমান্ডুর সরকারি দফতর ‘সিংহদরবার সেক্রেটারিয়েট’-এর বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। ‘গরিবের উপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান দাও’- স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এই গণবিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা।

    কেন এই জনরোষ (Nepal Protest)? 

    গত বৃহস্পতিবার, কাঠমান্ডুর রাস্তায় খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেলে যাত্রী বহনকারী চালক বছর ২৫-এর গণেশ নেপালি। নেপালি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেই সময় পুরসভার পুলিশ এসে আচমকা তাঁর মোটরসাইকেলের চাকায় লক (Wheel Clamp) লাগিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে নিরুপায় হয়ে ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই মর্মান্তিক মৃত্যুই নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা নেপালকে। বারুদের মতো জ্বলে উঠেছে জেন-জিদের ক্ষোভ (Gen Z Protest)।

    পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা আন্দোলনকারীদের

    গণেশ নেপালির মৃত্যুর বিচার চেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যাসিবাদী নীতি’-র বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পড়ুয়া, চালক ও যুবসমাজ বীর হাসপাতালের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। ভদ্রকালী এলাকায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের পথ আটকালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশ ও যুবকদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়ে আন্দোলনকারীরাও।

    উত্তাল নেপালের সংসদও

    রাস্তার সংঘর্ষের আঁচ এবার পৌঁছেছে নেপালের সংসদেও। সরকারের শরিক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)-র সাংসদ আশিকা তামাং থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের নেতারাও বালেন্দ্র শাহ-র সরকারকে তুলোধোনা করেছেন। বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, সরকারকে স্টান্টবাজি বন্ধ করতে হবে। এই প্রশাসনই সাধারণ দিনমজুরদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পুলিশের ডিআইজি (DIG) গোবিন্দ থাপালিয়ার নেতৃত্বে একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পুরপুলিশের ক্ষমতা খর্ব না করা পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরতে নারাজ নেপালের লড়াকু জেন-জি প্রজন্ম।

    বালেন্দ্র শাহ-এর ‘আগ্রাসী’ শাসন নীতি

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই অত্যাচার নতুন নয়। ২০২২ সালে বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার পর থেকেই ওখানকার পুরপুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। শহরের সৌন্দর্যায়ন ও ফুটপাত পরিষ্কার করার নামে বালেন্দ্র শাহ কড়া মনোভাব নেন। নদীপাড়ের বস্তি উচ্ছেদ এবং হকারদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার কারণে বারবার পুলিশের সঙ্গে গরিব মানুষের সংঘর্ষ বাঁধে। ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও গরিব মানুষদের উপর পুলিশের এই জুলুমের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ (Gen Z Protest) জমছিল। যা এই তরুণ চালকের মৃত্যুর পর গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।

    আইন কী বলছে? 

    আইনজ্ঞদের মতে, বালেন্দ্র শাহ-এর প্রশাসন সংবিধানের তোয়াক্কা না করে পুরপুলিশকে ফেডারেল পুলিশের মতো আগ্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। নেপালের ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপ্যাল পুলিশ অ্যাক্ট ২০২৩’ অনুযায়ী, পুরপুলিশের কাজ পুরসভার সম্পত্তি রক্ষা করা, পার্কের দেখভাল করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় উৎসবে সাহায্য করা। নেপালের প্রাক্তন ডিআইজি পূর্ণচন্দ্র জোশী এবং প্রবীণ আইনজীবী রাজু চাপাগাইন জানিয়েছেন, পুরপুলিশের কোনো নাগরিককে আটক করার, লাঠিচার্জ করার বা বলপ্রয়োগ করার আইনি অধিকার নেই। ট্রাফিক বা রাস্তা অবরোধের সমস্যা হলে তাদের ট্রাফিক পুলিশ বা নেপাল পুলিশকে জানানো উচিত। কিন্তু আইন অমান্য করে এই পুরপুলিশ প্রতিনিয়ত হকারদের তাড়া করছে, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে এবং মারধর করছে—যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

    বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ ও বাসস্থানের দাবি

    রাইড-শেয়ারিং চালকের মৃত্যুর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা সরকারের অবৈধ গ্রেফতারি বন্ধ করার এবং নদীপাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। কয়েক মাস আগে যে যুবসমাজ (Gen Z) পরিবর্তনের আশায় বালেন্দ্র শাহ-কে সমর্থন করেছিল, আজ তারাই দেশের গরিব মানুষের মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনের জবাবদিহির দাবিতে অনড়।

  • 56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে ফের ভারতের জয়জয়কার! কলম্বিয়ার বুকরাম্যাঙ্গায় (Bucaramanga) আয়োজিত ৫৬তম আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (56th International Physics Olympiad 2026) ইতিহাস গড়ল ভারতীয় পড়ুয়ারা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পাঁচজন ভারতীয় ছাত্রই সোনা (Five Gold Medals) জিতে দেশবাসীকে গর্বিত করেছেন। এই দুর্দান্ত ‘ক্লিন সুইপ’-এর হাত ধরে রাশিয়া, চিন, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো হেভিওয়েট দেশগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করল ভারত। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই মেধা প্রতিযোগিতায় ভারতের এই জয় বিজ্ঞান শিক্ষায় দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই প্রমাণ।

    ৩৭৮ জন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থানে ভারত

    এবারের অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৮৭টি দেশ থেকে মোট ৩৮১ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। তাদের সবাইকে পিছনে ফেলে ভারতীয় দলের পাঁচ রত্ন ভারতের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। মেধা এবং নিখুঁত পারফরম্যান্সের জোরে পাঁচজনই সোনা পকেটে পুরে নেন।

    ভারতের সোনার ছেলেরা (Five Gold Medalist)

    দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই পাঁচ কৃতি ছাত্র হলেন, কনিষ্ক জৈন (পুনে), ঋদ্ধেশ অনন্ত বেন্দালে (ইন্দোর), ঋষিত গর্গ (দিল্লি), শ্রেষ্ঠ সুরাইয়া (মুম্বই), স্বৈয়ত জোশী (আমেদাবাদ)।

    মাসের পর মাস কঠিন পরিশ্রম

    বিশ্বের দরবারে এই সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। আন্তর্জাতিক স্তরের এই কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য পড়ুয়াদের মাসের পর মাস কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অধীনে পদার্থবিদ্যার অ্যাডভান্সড থিওরি, ল্যাবরেটরির জটিল কাজ এবং নিয়মিত প্র্যাকটিস সেশনের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করেছিলেন এই তরুণ বিজ্ঞানীরা। এই পুরো যাত্রায় ভারতীয় দলের মেন্টর ও গাইড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন (HBCSE-TIFR)-এর অধ্যাপক অন্বেষ মজুমদার, ড. লীনা জোশী এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত থাকা আইআইএসইআর (IISER) কলকাতার অধ্যাপক আনন্দ দাশগুপ্ত ও নিশা কেলকর। তাঁদের যোগ্য নেতৃত্বই ছাত্রদের এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

    আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কী?

    এটি প্রতি বছর আয়োজিত হওয়া স্কুল স্তরের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও কঠিন পদার্থবিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। এখানে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের কঠিন তাত্ত্বিক (Theoretical) এবং ব্যবহারিক বা পরীক্ষামূলক (Experimental) পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের পদার্থবিদ্যার গভীরতা, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং কঠিন সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

    শিক্ষামহলে খুশির হাওয়া

    ভারতীয় দলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে দেশের শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী মহলে খুশির হাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সেরা বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থার দেশগুলির সাথে প্রথম স্থান ভাগ করে নেওয়া প্রমাণ করে যে, ভারতীয় পড়ুয়াদের মেধা আন্তর্জাতিক স্তরেও কতটা শক্তিশালী। এই জয় দেশের হাজার হাজার তরুণ পড়ুয়াকে আগামীদিনে বিজ্ঞান চর্চা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

  • Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত মার্কিন সেনেটের দীর্ঘ দিনের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম (Lindsey Graham)। বারাক ওবামার আমল থেকেই ইরান-বিরোধী নেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। সেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষের আবহেই প্রয়াত হলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বয়স হয়েছিল ৭১। বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন গ্রাহাম। রবিবার গ্রাহামের কার্যালয়ের তরফে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রবীণ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রবীণ এই সেনেটর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘‘লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকৃত আমেরিকাপ্রেমী ছিলেন।’’ তাঁর মৃত্যু ‘বড় ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পরামর্শ

    গ্রাহাম (US Senator Death) তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আর ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। গ্রাহামের দাবি, কী ভাবে একটা নীতিগত পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে, তার ‘ভাল উদাহরণ’ দিল্লির উপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিলেন গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিলে (গ্রাহাম-ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল) অনুমোদন দিয়েছেন, যা নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে কাজ করছিলেন। এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেবে, যার বলে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী ভারত-সহ দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এই শুল্ককে ‘শাস্তি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর গ্রাহাম।

    ইরান-বিরোধী বলে পরিচিত

    ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন গ্রাহাম। ইরানে হামলার প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জায়গায় থাকতাম, তবে যাঁরা গণহত্যা করছেন, তাঁদের খুন করতাম।’’ গ্রাহাম এ-ও দাবি করেছিলেন, ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে। গ্রাহাম পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান অত্যন্ত সমস্যাজনক। ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের শত্রুতা অনেক দিনের। এটা স্বীকার করতেই হবে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, জুন মাসেই সেনেটে পঞ্চম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রাহাম। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘উনি আমার দেখা অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব এবং সেনেটর ছিলেন। লিন্ডসে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন, যিনি দেশের জন্য সবসময় কাজ করে গিয়েছেন। ওঁর কথা আমাদের সব সময়ে মনে পড়বে।’

  • Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগুনে পুড়েও, ফুরিয়ে যায়নি ৫০০ বছরের ঐতিহ্য। প্রতি বছর রথযাত্রার সময় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানার উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। পুরী বা আমেদাবাদের রথযাত্রার কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, একসময় পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও বিশাল রথযাত্রা হত বাংলাদেশের ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে (Dhamrai Rath Yatra)। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই রথযাত্রার ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনই কষ্টেরও। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এর ওপর নির্মম আঘাত হেনেছিল। তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল রথ, যদিও মুছে ফেলা যায়নি ভক্তদের মনের বিশ্বাসকে।

    ৫০০ বছরের পুরানো উৎসব

    ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ধামরাই জনপদ। এখানকার রথযাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ৫০০ বছর আগে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh)। পুরানো ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৬৭২ সালেও এই রথযাত্রা উৎসব হত খুব ধুমধাম করে। উৎসব দেখতে একসময় শুধু বাংলা নয়, ওড়িশা, অসম, মায় নেপাল থেকেও হাজার হাজার মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতেন। টানা এক মাস ধরে চলত মেলা। হত নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ধামরাইয়ের বিখ্যাত যশোমাধব মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করত রথ। শেষ হত আধ কিলোমিটার দূরের গোপীনগর মন্দিরে গিয়ে।

    পুরীর রথের চেয়েও বড় ধামরাইয়ের রথ (Dhamrai Rath Yatra)!

    উনিশ শতকের শুরুর দিকে ধামরাইয়ের জমিদাররা মিলে একটি বিশাল কাঠের রথ তৈরি করেন। এলাকার সেরা কাঠমিস্ত্রিরা প্রায় এক বছর ধরে এই রথটি বানিয়েছিলেন। রথটি ছিল প্রায় ৬০ ফুট উঁচু (60 feet tall Dhamrai Rath)। পুরীর বর্তমান রথটি ৪৪ ফুট উঁচু, অর্থাৎ ধামরাইয়ের রথটি ছিল তার চেয়েও ঢের বড়। রথে ছিল ৩২টি বিশাল কাঠের চাকা। রথটি টানার জন্য প্রায় ১,০০০ কেজি ওজনের মোটা দড়ি ব্যবহার করা হত।

    দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা ও ১৯৭১-এর কালো অধ্যায়

    ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর জমিদারি প্রথা লোপ পেলে রথযাত্রার আয়োজকরা পড়েন ঘোর সঙ্কটে। তখন গর্বের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে এগিয়ে আসেন টাঙ্গাইলের বিখ্যাত দানবীর তথা সমাজসেবক রণদাপ্রসাদ সাহা (আরপি সাহা)। তিনি নিজের খরচে এই রথ ও উৎসবের সব দায়িত্ব নেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের (Bangladesh) মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সব ওলটপালট হয়ে যায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রণদাপ্রসাদ ও তাঁর ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর আর খোঁজ মেলেনি তাঁদের।

    রথ পুড়িয়ে দিল পাক বাহিনী

    পাক হানাদারদের অত্যাচারের জেরে যে কেবল রণদাপ্রসাদ ও তাঁর জওয়ান ছেলে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তা নয়, দুষ্কৃতীরা ইতিহাসখ্যাত এই রথে আগুন লাগিয়ে দেয়। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১০ জুন। রোষের আগুনে সপ্তাহখানেক ধরে ধিকধিক করে পুড়ে গিয়েছিল ধামরাই তথা তামাম বাংলার এই গর্ব। রথ পুড়ে যাওয়ায় ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে ধামরাইয়ে রথযাত্রা হয়নি। বাংলাদেশের ৫০০ বছরের এই রথযাত্রার ইতিহাসে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh) এটি ছিল একটি বড় আঘাত।

    নতুন করে পথ চলা ও ভারতের সাহায্য

    স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭৩ সালে একটি ছোট রথ বানিয়ে ফের শুরু হয় উৎসব। যদিও আগের সেই জাঁকজমক আর ছিল না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আসাও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এরপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। ২০০৯ সালে ভারত সরকার (Indian govt) ধামরাইয়ের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ২০১০ সালে একটি নতুন রথ নির্মাণ করে শুরু হয় উৎসব। এই নতুন রথটি ৪০ ফুট উঁচু, চাকা রয়েছে ১৬টি। সেই থেকে ফি বছর উৎসবে টানা হয় এই রথটিই। আজও ধামরাইয়ে প্রতি বছর রথযাত্রা হয়। বসে মেলাও। রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্য অর্জন করে হাজারো ভক্ত। আগের সেই অতিকায় রথ আর নেই, ফুরিয়ে গিয়েছে সেদিনের সেই জাঁকও। তবে ধামরাইয়ের বাসিন্দাদের মন থেকে মুছে ফেলা যায়নি সেই ৬০ ফুটের কাঠের রথ এবং তাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহভর উৎসবের ছবি। বস্তুত, এটাই ধামরাইয়ের রথযাত্রার আসল শক্তি।

LinkedIn
Share