Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ayatollah Alireza Arafi: ইরানের রাশ এবার আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির হাতে, কে তিনি জানেন?

    Ayatollah Alireza Arafi: ইরানের রাশ এবার আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির হাতে, কে তিনি জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ করেছে (Ayatollah Alireza Arafi)। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেইনি নিহত হওয়ার একদিন পর (Interim Supreme Leader)। উল্লেখ্য, ইরান তাদের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে জরুরি নেতৃত্বের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

    আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি (Ayatollah Alireza Arafi)

    আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই-এর সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের নেতৃত্ব দেবেন। ৬৭ বছর বয়সী আরাফি ইরানের একজন প্রবীণ ধর্মীয় নেতা। তিনি পূর্বে ইরানের ইসলামিক সেমিনারি নেটওয়ার্কের প্রধান ছিলেন এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন (Ayatollah Alireza Arafi)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় কার্যত বিধ্বস্ত ইরানের (Iran) বিভিন্ন শহর। তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের যৌথ হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি। তেহরান এই তথ্য নিশ্চিত করার পর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ছিল ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েল তেহরানে শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানালেও, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষমতা দখলের আশায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে (Interim Supreme Leader)।

    নয়া ইরান

    এদিকে, নয়া ইরান গঠনের প্রেক্ষাপটে দেশটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিরোধী নেত্রী মরিয়ম রাজাভি এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি পৃথক বার্তায় ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, যদিও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও স্পষ্ট করে দেন। নয়া নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ইসলামি আইনজ্ঞকে (Interim Supreme Leader) নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে। সেই মতো ওই পদে (Ayatollah Alireza Arafi) আপাতত বসানো হল আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।

     

  • Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় কার্যত বিধ্বস্ত ইরানের (Iran) বিভিন্ন শহর। ওই দুই দেশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা সামনে চলে এসেছে। চিন (China) থেকে সম্প্রতি সংগ্রহ করা এইচকিউ-৯বি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত করেছিল, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এর আগে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময়ও এইচকিউ-৯বি পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইরানে এর দুর্বল প্রদর্শনের পর এখন সামরিক বিশ্লেষকরা এইচকিউ-৯বি-এর সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।

    আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা (Iran)

    যদিও এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এর নকশাগত ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবুও এটাও সম্ভব যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্মিলিত বিমানশক্তি এইচকিউ-৯বি সমর্থিত পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে চাপে ফেলে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে যে প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা হয়তো এই আক্রমণের তীব্রতা সামাল দিতে পারেনি। চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন (CASIC) দ্বারা উন্নয়নকৃত এইচকিউ-৯বি মূলত রাশিয়ার এস-৩০০পিএমইউ এবং আমেরিকার প্যাট্রিয়ট পিএসি-২ সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হলেও পরে এটি সম্পূর্ণ দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। এটি প্রথম ২০০৬ সালে পরীক্ষা করা হয় এবং গত এক দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে (Iran)।

    লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পাল্লা ২৬০ কিলোমিটার এবং এটি ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা (China) পর্যন্ত উঠে উচ্চ-উচ্চতায় উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। সক্রিয় রাডার হোমিং এবং প্যাসিভ ইনফ্রারেড সিকার প্রযুক্তির কারণে এটি স্টেলথ বিমান শনাক্ত ও আঘাত করতে কার্যকর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি একই সঙ্গে ৬-৮টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এবং প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। বেইজিং, তিব্বত এবং দক্ষিণ চিন সাগর অঞ্চলে এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছে। এই এলাকাগুলি চিনের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অর্থাৎ, এই ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি প্রধান স্তম্ভ (Iran)।

    ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তি

    উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলে ইরান তার সামরিক ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়। জানা গিয়েছে, চিনের সঙ্গে ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এইচকিউ-৯বি জোগাড় করে। ২০২৫ সালের সংঘাতে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এস৩০০পিএমইউ-২ দুর্বল পারফরম্যান্স দেখানোর পর এটি ছিল ইরানের বড় আপগ্রেড (China)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি ছিল দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা স্তর। এর সঙ্গে সহায়ক হিসেবে ছিল এস-৩০০পিএমইউ এবং ব্যাভার-৩৭৩, খোড়দাদ -১৫ ও রাড, এবং স্বল্প-পাল্লার টর-এম২, প্যান্টসার-এস১, জলফাকার এবং কৌশলগত এমএএনপিএডিএস ক্ষেপণাস্ত্র। সম্ভবত এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশে, যেমন নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্স, ফোরদো সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং তেহরান ও ইসফাহানের নিকটবর্তী বিমানঘাঁটি।

    যৌথভাবে হামলা

    সপ্তাহ ও মাসব্যাপী উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথভাবে হামলা চালায়, যার জবাবে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি, রাজধানী তেহরান-সহ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (Iran)।পাল্টা হামলা ও প্রতি-হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে (China)। ইরান সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে মার্কিন মিত্র কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকেও টার্গেট করেছে—এমন বার্তা দিতে যে শত্রুপক্ষের পাশে দাঁড়ালে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে, এবং তেহরান তাঁর হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেইনিকে ইতিহাসের সবচেয়ে দুষ্ট ব্যক্তিদের একজন বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকবে (Iran)।

     

  • Ayatollah Khameneis: আয়াতুল্লাহ খামেইনির মৃত্যুতে ইরানে উল্লাস, স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে রাজপথে নারীরা

    Ayatollah Khameneis: আয়াতুল্লাহ খামেইনির মৃত্যুতে ইরানে উল্লাস, স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে রাজপথে নারীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তথা সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ইরান জুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে চলা কট্টর মুসলিম শাসনের অবসান ঘটার আশায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। বিশেষ করে ইরানের মহিলারা এই পরিবর্তনকে তাঁদের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    দেশজুড়ে উদযাপন (Ayatollah Khameneis)

    শিয়া ধর্মগুরু খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুকে ঘিরে তেহরান-সহ ইরানের প্রধান শহরগুলিতে মানুষ আতশবাজি ফাটিয়ে, মিষ্টি বিলি করে আনন্দ প্রকাশ করছেন। গত শনিবার মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলায় খামেইনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই এই উল্লাস শুরু হয়। অনেক জায়গায় মানুষকে তাঁদের বাড়ির ছাদ থেকে “স্বৈরাচারী শাসকের পতন হোক” বলে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে। ইতিমধ্যে খামেইনির ছবি, মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    নারীদের প্রতিবাদ ও জয়

    ইরানের কারাজ, বেসাত, ফুলাদ, বোরাজ্জন, মামাসানিটে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক হামলা হলেও নারীরা পতাকা নিয়ে মেতে উঠেছেন আনন্দে। এই উল্লাস উদযাপনের অগ্রভাগে রয়েছেন ইরানের সাধারণ নারীরা। অনেক নারী জনসমক্ষে তাঁদের হিজাব পুড়িয়ে, চুল কেটে দীর্ঘদিনের দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ (Woman, Life, Freedom) স্লোগানটি আবারও তেহরানের রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাঁদের মতে, খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যু মানে কয়েক দশকের লিঙ্গবৈষম্য ও নিপীড়নের সমাপ্তি।

    আর্ন্তজাতিক প্রতিক্রিয়া

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, প্রবাসে থাকা ইরানিরাও লন্ডন, প্যারিস এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় নেমে নেচে-গেয়ে আনন্দ করছেন। তাঁরা একে “ইরানের দ্বিতীয় জন্ম” হিসেবে অভিহিত করছেন।

    নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান

    আমেরিকা এবং ইজরায়েল অপারেশন রোইয়ারিং লায়ন এবং অপারেশন এপিক ফিউড়ি নামে যৌথ অভিযান চালায়।  যদিও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবে অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড়ের সামনে তারা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। কিছু কিছু সামরিক সদস্য সাধারণ মানুষের মিছিলে যোগ দিচ্ছেন বলেও সূত্রের খবর।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেইনির এই আকস্মিক বিদায় ইরানে এক বিশাল ক্ষমতাশূন্যতা তৈরি করেছে। একদিকে যেমন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের এই জোয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান একটি গণতান্ত্রিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের পথে পা বাড়াতে পারে। আয়াতুল্লাহ খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক নেতার প্রস্থান নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী ধর্মতান্ত্রিক শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের রাজপথ এখন পরিবর্তনের গানে মুখরিত, যেখানে সাধারণ মানুষ একটি নতুন ও মুক্ত ইরানের স্বপ্ন দেখছেন।

  • Khameneis Death: খামেইনির মৃত্যুর জের, পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে ভাঙচুর, আগুন

    Khameneis Death: খামেইনির মৃত্যুর জের, পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে ভাঙচুর, আগুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হানায় নিহত হয়েছেন আলি খামেইনি (Khameneis Death)। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তানের করাচির (US Consulate Karachi) রাস্তায়। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হন।

    কনস্যুলেটে আগুন (Khameneis Death)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের বাইরের প্রবেশপথ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ছে, সম্পত্তির ক্ষতি করছে, ভবনের কিছু অংশে আগুনও লাগিয়ে দিচ্ছে।  প্রাঙ্গণ থেকে ঘন ধোঁয়ার কুন্ডলিও উঠতে দেখা গিয়েছে। এই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে উন্মত্ত জনতাকে। আপাতত হতাহত কিংবা গ্রেফতারির বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।করাচির এই অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিকাঠামো টার্গেট করে যৌথ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

    বিক্ষোভ ভারতেও

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ঘোষণা করে দেন খামেইনি নিহত হয়েছেন। এরপরেই তেহরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। জানা গিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরেই এই যৌথ হামলা শুরু হয়, যা এলাকাজুড়ে নয়া সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে (Khameneis Death)। পাকিস্তানের পাশাপাশি বিক্ষোভের খবর মিলেছে ভারতেরও বিভিন্ন জায়গায়। জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর, বান্দিপোরা ও বারামুল্লার পাশাপাশি লখনউ ও কর্নাটকের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভের খবর পাওয়া (US Consulate Karachi) গিয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিরাট সংখ্যায় রাস্তায় নামেন।

    হামলার নিন্দা জানিয়ে স্লোগান

    বিক্ষোভকারীরা কালো পতাকা ও ইরানি নেতার প্রতিকৃতি সঙ্গে নিয়ে হামলার নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দেন এবং ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। শ্রীনগর ও কাশ্মীর উপত্যকার অন্যান্য জেলায় শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং শোকগাথা পাঠ করা হয়। বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডকে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন (Khameneis Death)। লখনউতেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। শিয়া জনসংখ্যার প্রচুর মানুষ এই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল করেন। পশ্চিম এশিয়ায় বিদেশি আগ্রাসন বন্ধের আহ্বানও জানান তাঁরা (US Consulate Karachi)। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের বাইরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে বলে খবর। বিক্ষোভকারীরা ওয়াশিংটনকে কাঠগড়ায় তুলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান।

    ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দাহ

    ভারতে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে রামবানে, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা সঈদ সামার কাজমি এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে বলেন, “প্রতারণা করে এই ইরানি নেতাকে টার্গেট করা হয়েছে।” তিনি জানান, তাঁর সম্প্রদায় তথাকথিত নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। বিশ্লেষকদের মতে, খামেইনির মৃত্যুর পর দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে (Khameneis Death)। অস্থিরতার আশঙ্কায় একাধিক দেশে মার্কিন কূটনৈতিক দফতরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে (US Consulate Karachi)।

     

  • Iran: নিহত আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি, ইরানের কুর্সিতে এবার কে?

    Iran: নিহত আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি, ইরানের কুর্সিতে এবার কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের যৌথ হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি (Khameneis Possible Successors)। তেহরান এই তথ্য নিশ্চিত করার পর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েল তেহরানে শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানালেও, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষমতা দখলের আশায় পাল্টা হামলা শুরু করেছে।

    আসরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতা (Iran)

    এদিকে, নয়া ইরান গঠনের প্রেক্ষাপটে দেশটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিরোধী নেত্রী মরিয়ম রাজাভি এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি পৃথক বার্তায় ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, যদিও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও স্পষ্ট করে দেন। নয়া নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ইসলামি আইনজ্ঞকে নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে (Khameneis Possible Successors)।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

    ট্রুথ সোশ্যালে খামেইনির হত্যার কথা ঘোষণা করার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তেহরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কয়েকজন ভালো প্রার্থী আছেন।” সংবাদমাধ্যমে ফোনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ঠিক জানি কে, কিন্তু বলতে পারছি না।”
    কাকে তিনি পছন্দ করেন—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, আমার মনে হয় আছে। কয়েকজন ভালো প্রার্থী আছেন।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি (Iran)। প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরান (এনসিআরআই)-এর প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত মরিয়ম রাজাভি ইরানিদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় দেশটির ধর্মীয় শাসন উৎখাত করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তিনি বলেন, “ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের শাসনে আমাদের মাতৃভূমি আরও যন্ত্রণা ও ধ্বংস সহ্য করছে।” তিনি বিশেষ করে দেশের সাহসী তরুণদের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার আহ্বান জানান (Iran)।

    এনসিআরআই

    ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত এনসিআরআই নিজেকে নির্বাসিত সরকার হিসেবে উপস্থাপন করে। দলটির দাবি, ছ’মাসের একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নকশা তাদের প্রস্তুত আছে, যা অবাধ নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে (Khameneis Possible Successors)। রাজাভি বলেন, “এখনই সংহতির সময়। ইরানিরা শাহ ও মোল্লা—উভয়কেই প্রত্যাখ্যান করেছে।” এর অর্থ হল, রাজতন্ত্রে ফেরার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেন। এদিকে, ইরানের শেষ সম্রাটের পুত্র রেজা পাহলভিও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেন, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন হলে তিনি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছেন।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে মানবিক হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন, যা জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং শাসনের বিরুদ্ধে (Iran)। তিনি লেখেন, “চূড়ান্ত বিজয় আমাদেরই হবে। এই শেষ লড়াই শেষ করবে ইরানের জনগণ। আবার রাস্তায় নামার সময় ঘনিয়ে আসছে (Khameneis Possible Successors)।”

    জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

    দুই নেতাই ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানান, যাতে তারা গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করে। রাজাভি আইআরজিসি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের অস্ত্র নামিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাহলভি সতর্ক করে বলেন, “তা না করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খামেইনির জাহাজের সঙ্গে ডুবে যাবেন।” বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খামেইনির অনুপস্থিতিতে আইআরজিসি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে। খামেইনি কখনও প্রকাশ্যে উত্তরসূরির নাম জানাননি, তবে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেইনিকে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা তাঁর পিতার কঠোর নীতির অনুসারী বলে সূত্রের খবর (Iran)।

    হাসান খোমেইনি

    আর একটি সম্ভাব্য নাম হল হাসান খোমেইনি, ইসলামিক বিপ্লবের জনক রুহোল্লাহ খোমেইনির নাতি। ৫৩ বছর বয়সী হাসান খোমেইনিও প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে খামেইনির তুলনায় তুলনামূলকভাবে সমঝোতাপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন (Khameneis Possible Successors)। খামেইনি হত্যার পরের দিন থেকেই জটিল উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে। সংবিধান অনুযায়ী, ইরান একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করেছে, যা সাময়িকভাবে দেশ পরিচালনা করবে। এতে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং কট্টরপন্থী প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই প্রমুখ। তবে অন্তর্বর্তী পরিষদ দায়িত্ব পালন করলেও, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে—এমনটাই বলছে ইরানি আইন। এই পরিষদের সদস্যরা শিয়া আলেম, যাঁরা প্রতি আট বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং যাঁদের প্রার্থিপদ গার্ডিয়ান কাউন্সিল অনুমোদন করে। গার্ডিয়ান কাউন্সিল অতীতে বহু প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। এমনকি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকেও ২০২৪ সালে অ্যাসেম্বলিতে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি (Iran)।

    সর্বোচ্চ নেতার পদে পরিবর্তন

    উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা জনসমক্ষে হয় না, ফলে কে এগিয়ে আছেন তা অনুমান করা কঠিন। ১৯৮৯ সালে আয়াতোল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পরই একমাত্র সর্বোচ্চ নেতার পদে পরিবর্তন হয়েছিল (Khameneis Possible Successors)। সর্বোচ্চ নেতা ইরানের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু, যিনি রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কও। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরোধিতায় গঠিত তথাকথিত অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্সের নেতৃত্বেও এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতির বহু ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব রয়েছে (Iran)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ উভয় জায়গায়ই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। বহু দশক ধরে বিশ্বের দৃষ্টি এই ধরনের আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তির দিকে যায়নি, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন (Roundup Week)। ২১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়কালের এই সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত বিবরণে এই ধরনের অপরাধের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হল। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে মানুষকে এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন করা যাবে বলেও ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় (Hindus Under Attack)

    প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। একটি প্রাচীন মন্দিরের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ ‘অরুলমিগু কন্যাকুমারী ভাগবতী আম্মান তিরুকোভিলে’র ‘কন্নিয়াম্বালম’ কল মণ্ডপম থেকে অবিলম্বে সব দখলদারি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে এবং কাঠামোটি সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জি জয়চন্দ্রন ও বিচারপতি কেকে রামকৃষ্ণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ হিন্দু রিলিজিয়াস অ্যান্ড চ্যারিটেবল এন্ডাওমেন্টস (HR&CE) দফতরকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে মন্তব্য করে যে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি “আর্থিক লাভের জন্য” ব্যবহার করা হয়েছে এবং মণ্ডপমের ভেতরে নির্মাণসামগ্রী ও ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

    শিবাজি জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় পাথর

    ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে কর্নাটকের বাগালকোট শহরে কিলা ওনি এলাকায় শিবাজি জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় পাথর ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের স্মরণে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি উদ্‌যাপনের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, এমন সময় এই ঘটনা ঘটে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পুলিশ তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে (Roundup Week)। ‘দ্য নিউজ মিনিটে’ সম্প্রতি বিনু করুণাকরণের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিরুনাভায়ার মহা মাঘ মহোৎসবকে “গেরুয়া চিত্রনাট্য” এবং “হিন্দুত্বের রাজনৈতিক নাটক” বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এটি ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে কেরলকে মেরুকরণ করতে পূর্ণাঙ্গ কুম্ভমেলার রূপ নেবে। সমালোচকদের মতে, অন্য ধর্মের বৃহৎ জনসমাবেশের ক্ষেত্রে নীরব থেকে এই ধরনের মন্তব্য ভণ্ড-ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচায়ক (Hindus Under Attack)।

    ধর্মীয় স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ

    এদিকে, ওয়ারাঙ্গলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT)-এ ছাত্রদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দমনের অভিযোগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে (NHRC) একটি পিটিশন দাখিল হয়েছে। অভিযোগ, এনআইটি ওয়ারাঙ্গলের ১.৮কে হস্টেলে থাকা ছাত্ররা প্রায় এক বছর ধরে প্রতি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পনেরো মিনিট ধরে হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তারা হস্টেলে গিয়ে প্রার্থনা সভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং যাঁরা সাংবিধানিক ধর্মীয় অধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমনকি বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয় (Roundup Week)। কর্নাটকের শিবমোগ্গা জেলার উর্গাদুর এলাকায় নাবালক ইসলামপন্থী যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে ১৬ বছর বয়সী সংকেত নামে এক হিন্দু কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি তাঁর বন্ধু গিরিশকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান (Hindus Under Attack)।

    মোবাইল স্ক্রিন গার্ড কেনা নিয়ে তর্কের জের

    কর্নাটকের চিত্রদুর্গ শহরের সন্থে ময়দানের কাছে মোবাইল দোকান মালিক বিক্রম চৌধুরীকে মোবাইল স্ক্রিন গার্ড কেনা নিয়ে তর্কের জেরে এক ইসলামপন্থী যুবক ছুরিকাঘাত করে। দেশের পাশাপাশি বিদেশের ছবিটাও এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত এবং তা ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না (Roundup Week)। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, ভুয়ো ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণআক্রমণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    গণধর্ষণের অভিযোগ

    বরিশাল জেলায় এক বিবাহিত হিন্দু মহিলাকে অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে একটি গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তিনি কীর্তনের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল হামলাকারীর কবলে পড়েন এবং তাঁকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম গ্রামে নিশান্ত বৈদ্য নামে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত বলে অভিযোগ। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ প্রকাশ্যে এলেও ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্মভাবে হিন্দু-বিরোধী মনোভাব কাজ করে বলে দাবি করা হয়। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না প্রচলিত আইন ও নীতির ধরণ বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। আপাতভাবে (Roundup Week) এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবের ওপর বিধিনিষেধ এবং যুক্তির অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আজ রবিবার সকালে খবরটি নিশ্চিত করেছে। খামেইনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবারের হামলায় খামেইনির পাশাপাশি তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতিরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

    এরই মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, খামেইনি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প খামেইনিকে “ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ।”

    হামলার বিবরণ (Ayatollah Khameneis)

    শনিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল তেহরানে খামেইনির সুরক্ষিত বাসভবন কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। স্যাটেলাইট চিত্রে খামেইনির দফতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গিয়েছে। ইরানের (Iran) সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, খামেইনি (Ayatollah Khameneis) নিজের দফতরে থাকা অবস্থায়ই হামলার শিকার হন।

    ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করে আসছেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারের সকল শাখা, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের করিম সাদ্দাদপুর সংবাদমাধ্যমে বলেন, খামেইনি ছিলেন ইতিহাসের এক দুর্ঘটনা। যিনি একজন দুর্বল রাষ্ট্রপতি থেকে প্রাথমিকভাবে দুর্বল সর্বোচ্চ নেতা হয়ে গত ১০০ বছরের পাঁচজন শক্তিশালী ইরানির একজন হয়ে উঠেছিলেন।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ মাধ্যম ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) শনিবার সকালে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকদের যৌথ হামলায় শহিদ হয়েছেন। ইরান (Iran) এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলির দিকে একের পর এক মিসাইল নিক্ষেপ শুরু করেছে।

    অন্যান্য নেতার মৃত্যু

    ইরানি (Iran) সংবাদ মধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেইনির (Ayatollah Khameneis) পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির নাসিরজাদে এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া খামেইনির কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও মারা গিয়েছেন বলে খবর।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লেখেন, “খামেইনি (Ayatollah Khameneis) এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নেতারা আমেরিকার উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। এটিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেইনি। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আরও অন্তত এক সপ্তাহ ইরানে (Iran) বোমাবর্ষণ চলবে!”

    পরবর্তী পরিস্থিতি

    খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুর পর ইরানে (Iran) ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেইনির কোনও নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারী না থাকায় দেশটিতে এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এহেন আবহে ইরান এই হামলার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।

  • Iran Israel War: যুদ্ধ শুরু ইরান-ইজরায়েলের, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি বিদেশ মন্ত্রকের

    Iran Israel War: যুদ্ধ শুরু ইরান-ইজরায়েলের, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি বিদেশ মন্ত্রকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের আশঙ্কায় ভারতীয়দের আগেই ইরান (Iran Israel War) ছাড়তে বলেছিল বিদেশ মন্ত্রক। এই পরিস্থিতিতে শনিবার অতর্কিতে ইরানে হামলা চালাল ইজরায়েল। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বাড়ির কাছেই হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর। ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরান। তাই ইজরায়েলে বসবাসকারী সকল ভারতীয় নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে। পাশাপাশি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

    প্রত্যাঘাত হানতে পারে ইরান

    যুদ্ধের আশঙ্কা করাই হচ্ছিল। সত্যি সত্যি ইরানে বড়সড় হামলা হল। তবে আমেরিকা নয়, হামলা চালাল ইজরায়েল। শনিবার সকালে ইরানের উপরে বড় হামলা চালায় ইজরায়েল। তেহরানে পরপর বিস্ফোরণ হয়েছে। হামলার পরই রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইরান। তেহরান জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় ছোটাছুটি করছেন। লম্বা অ্যাম্বুল্যান্সের মিছিল দেখা যাচ্ছে। পাল্টা জবাব দেবে ইরান, তা ধরেই নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলে সাইরেন বাজছে। ইরান নিজেদের এয়ারস্পেস খালি করেছে। হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল সমস্ত স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তেই প্রত্যাঘাত হানতে পারে ইরান।

    কী কী নির্দেশ বিদেশ মন্ত্রকের?

    ইজরায়েলে বসবাসকারী সকল ভারতীয় নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং হোম ফ্রন্ট কমান্ডের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশিকা এবং নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। তাদের আবাসস্থল বা কর্মক্ষেত্রের নিকটে থাকা সুরক্ষিত স্থানগুলি কোথায় তা জেনে নিতে হবে। এছাডাও, ভারতীয় নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদ, সরকারি ঘোষণা এবং জরুরি সতর্কতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা তেল আবিবের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে হেল্পলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।

    হেল্পলাইন নম্বর হল

    টেলিফোন: +৯৭২-৫৪-৭৫২০৭১১
    ই-মেইল: cons1.telaviv@mea.gov.in

    পরমাণু অস্ত্রের আশঙ্কা

    কূটনীতিকদের অনুমান, আমেরিকার নির্দেশেই ইজরায়েল হামলা করেছে তেহরানে। ইরানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। পারস্য় উপসাগরে মার্কিন রণতরী অপেক্ষা করছে। এই পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিশ্বের চাহিদার ৬০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে গোটা বিশ্বের। সেই কারণে আগে হরমুজ প্রণালীর পথ খোলা রাখতে চাইছে আমেরিকা। এবারের আক্রমণের পাল্টা জবাবে ইরান পরমাণু অস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।

  • Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়ে গেল পূর্ণমাত্রার সংঘাত। শনিবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল (US Israel) একযোগে হামলা চালাল ইরানে (Iran)। ইরানজুড়ে একযোগে ৩০টিরও বেশি টার্গেটে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার দফতর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। জবাবে তেল আভিভের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান।

    আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই কোথায় (Iran)

    ইরান জানিয়েছে, তেহরানের পূর্ব ও উত্তরাংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই বসবাস করেন। যদিও সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খামেনেইকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরান ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাবে’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামলার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হতে পারে। ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, “অস্ত্র নামিয়ে রাখো, নইলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবে।” এই নতুন হামলা ঘটল কয়েক মাস পর, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কাঠামোয় আঘাত হেনেছিল এবং গত বছরের জুনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশজুড়ে ডজনখানেক টার্গেটে হামলা চালিয়েছিল।

    ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’

    ইজরায়েল জানায়, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে একটি ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা শুরু করেছে। এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। হামলার তারিখও নির্ধারিত হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। ইরানে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, সর্বোচ্চ নেতার দফতর, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং পারচিন—যা ইরানের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি। প্রাথমিক চিত্রে তিন ধরনের টার্গেটের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমত, পশ্চিম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি—বিশেষ করে কেরমানশাহ, কারাজ এবং খোররামাবাদ অঞ্চলে। এই এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সরকারি ভবনগুলি। তৃতীয়ত, সন্দেহভাজন পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান—যেমন কোম ও বুশেহর (US Israel)।

    কী বলল আমেরিকা

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আকাশ ও সমুদ্রপথে পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকা জানিয়েছে, হামলা কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই কেন্দ্র করে হচ্ছে। হামলার খবর স্বীকার করে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেব। ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না (Iran)।” এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইজরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং জানায়, তাদের জবাব হবে “চূর্ণকারী”। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর (US Israel)। হামলার পর ইজরায়েল ও ইরান উভয়ই অসামরিক উড়ানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান থেকে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

    ইরানে শহর ছাড়ার ধুম

    আধিকারিকরা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক দিনব্যাপী অভিযান চালাতে পারে। এদিকে তেহরানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীতে পেট্রোল পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন পড়েছে। কারণ বহু মানুষ শহর ছাড়ার চেষ্টা করছেন (US Israel)। সর্বশেষ হামলার ঢেউ আগের টার্গেটভিত্তিক হামলার তুলনায় আরও বড় হতে পারে। এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের অভ্যন্তরে তার সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটতে পারে (Iran)।” মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেই ভারত ইজরায়েলে থাকা নাগরিকদের “সর্বোচ্চ সতর্কতা” অবলম্বন এবং নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই হামলা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন (US Israel)। পাশাপাশি তেহরানে খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন অভিযানে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন (Iran)।

    একাধিক মার্কিন বেসে পাল্টা হামলা ইরানের

    আমেরিকার হামলার পাল্টা হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্যবস্তু ঘাঁটিগুলি হল— কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস, কুয়েতের আল সালেম এয়ার বেস এবং জর্ডানের মুওয়াফাক আল-সালতি ঘাঁটি। এছাড়া, ইরান বাহরাইনে একটি মার্কিন নৌঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-র আল-ধাফরা এয়ারবেসেও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।

  • Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধে’ নামল পাকিস্তান (Pakistan Afghanistan War)। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দহার, পাকতিকায় পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কাবুল। পাল্টা হানায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। যদিও এই পরিসংখ্যান মানতে রাজি নয় ইসলামাবাদ। তাদের পাল্টা দাবি, দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো দিকে মারা গিয়েছেন ৩৬ জন আফগান সেনা। শুক্রবার ভোর থেকেই কাবুলে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তালিবান সরকার জানায়, তারা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং পোস্ট দখল করে ফেলেছে। তবে পাকিস্তান এসব দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, আফগান যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    পাকিস্তানের অপারেশন ঘাজাব লিল হক

    ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ঘাজাব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “যে কোনও আগ্রাসী বাসনাকে ধ্বংস করতে সক্ষম আমাদের সামরিক বাহিনী।” ইসলামাবাদের দাবি, পাক-আফগান সীমান্ত বরাবর আফগানিস্তানের আগ্রাসী আচরণের মোকাবিলা করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ডুরান্ড লাইন (পাক-আফগান আন্তর্জাতিক সীমান্ত) বরাবর ইসলামাবাদ হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তালিবানের। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ্ তারারের পাল্টা দাবি, আফগান হানায় দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন জন। পাকিস্তানের হানায় ৩৬ জন তালিব যোদ্ধা মারা গিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    পাক সেনার এফ-১৬ ভেঙে পড়ার ভিডিও ভাইরাল

    যুদ্ধ ঘোষণার পরেই পাক সেনার এফ ১৬ ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। আফগান প্রশাসনের দাবি, তারাই গুলি করে নামিয়েছে ওই যুদ্ধবিমান। সেই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। তবে, একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ভিডিওটি ভুয়ো। এআই-এর সহায়তায় তৈরি। ভিডিওতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি। তবে, সীমান্তে রক্তক্ষয়ী  সংঘাতের জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে আফগানিস্তান। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ্ মুজাহিদ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “ভীরু পাক সেনা কাবুল, কান্দাহার, পাকতিকার কিছু এলাকায় বিমানহানা চালিয়েছে। ভাগ্যক্রমে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।” কাবুলের দাবি, পাকিস্তানই প্রথমে আফগান সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো শুরু করে। একাধিক আফগান শহরে এয়ারস্ট্রাইক করে পাকিস্তান। এরপরই দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    পাক সামরিক ঘাঁটি দখল, দাবি আফগানিস্তানের

    আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে পাল্টা অভিযানে পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত, নানগারহার, কুমার ও নুরিস্তান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চলেছে। তাদের দাবি, ২টি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া কিছু সেনাকে জীবিত আটক এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আফগান কর্তৃপক্ষ এ-ও স্বীকার করেছে, তাদের ৮ জন তালেব যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। নানগারহারের একটি শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশু সহ ১৩ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

    টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও সংঘর্ষ

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মশাররফ আলি জাইদি বলেন, ‘‘কোনও পাকিস্তানি সেনাকে আটক করা হয়নি।’’ পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রকের দাবি, আফগান তালিবান বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ইচ্ছাকৃত এবং উস্কানিমূলক হামলা চালায়। যার জবাবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেন, ‘‘পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনও আপস করবে না।’’ সংঘর্ষ টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারাপার পয়েন্ট।

    কোন দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি

    ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। গত কয়েক মাস ধরেই সীমান্তে সংঘর্ষ চলছে। যদিও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত রেখেছিল। বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন নিয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধে নামল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ৷ গত কয়েক মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষে দু’পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেনা জওয়ানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। ফের দুই দেশের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি (Iran’s Foreign Minister Seyed Abbas Araghchi) জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে সাহায্য করতে তৈরি ইরান।

    ভারতকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার পাকিস্তানের

    অন্যদিকে, নিজেদের স্বভাববশত যে কোনও বিষয়ে ভারতকে টেনে আনার পুরনো রীতি ছাড়েনি পাকিস্তান। পাক-আফগান দ্বন্দ্ব নিয়েও পাকিস্কতান প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘‘ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর, আফগানিস্তানে শান্তির প্রত্যাশা ছিল ৷ তালিবানরা আফগান জনগণের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তালিবানরা আফগানিস্তানকে কার্যত ভারতের উপনিবেশে পরিণত করেছে। তারা সারা বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদীদের আফগানিস্তানে জড়ো করছে ৷ সন্ত্রাসবাদকে রফতানি করাও শুরু করেছিল ৷’’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধু দেশগুলির মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল । তবে, তালিবানরা ভারতের মতো প্রতিশোধের মানসিকতাই দেখিয়েছে বলে দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ৷

    নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা কেন, প্রশ্ন কাবুলের

    অন্যদিকে, কাবুলের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশের মধ্যে ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে আফগানিস্তান কখনওই সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এক বিবৃতিতে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রমজানের মধ্যেই রাত আটটায় এই অভিযান শুরু হয়েছিল ৷ কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বাহিনী আফগান ভূখণ্ড দখলের প্রতিক্রিয়ায় শুরু করেছিল তার বিরুদ্ধেই এই অভিযান বলে দাবি তালিবানের। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘কয়েক দিন আগে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ৷ আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করে এসে নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ৷ তাই পাক হামলার প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে।’’

LinkedIn
Share