Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড কিংডম-এর সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham)। যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Congratulates Burnham)। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রথমবার কোনও ক্যাথোলিক ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন, যা ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন।

    মোদির শুভেচ্ছা বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামকে শুভেচ্ছা বার্তায় মোদি লেখেন, ‘‘ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভারত ও ব্রিটেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দুই দেশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা বিস্তৃত। চলতি মাসে সিইটিএ (CETA) কার্যকর হওয়ায় এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত-ব্রিটেনের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Comprehensive Strategic Partnership) আরও গভীর করতে এবং ‘ভিশন ২০৩৫’-এর যৌথ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’’

    ব্রিটেনের নয়া নেতা

    এর আগে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, দলের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র বার্নহ্যাম, কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। লন্ডনের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (TUC) সদর দফতরে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপার্সন তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, বার্নহ্যাম ৩৭৯ জন লেবার সাংসদের সমর্থন পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় মনোনয়নের সীমা অতিক্রম করা একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় সদস্যদের ভোটাভুটি ছাড়াই তাঁকে নেতা ঘোষণা করা হয়।

    সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব

    মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সম্প্রতি সংসদে ফিরে আসেন বার্নহ্যাম। এরপর ২২ জুন কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কথা জানান। নেতৃত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, গত কয়েক দশকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হয়েছে এবং আবাসন, জল, বিদ্যুৎ ও পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার বেসরকারিকরণের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশের বহু প্রাক্তন শিল্পাঞ্চল পুনর্গঠনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব।’’ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের পর লেবার পার্টির সাংসদদের মধ্যে বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন আরও বৃদ্ধি পায়, যার ফলেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি

    নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণেই ব্রিটিশ আমজনতার উদ্দেশ্যে পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। তাঁর দেওয়া সেই ৫টি মূল অঙ্গীকার হল- দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা, আদর্শগত ভিত্তি, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাস বলছে, গত এক দশকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং চলে গেছেন। কিয়ের স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় ছিলেন ঋষি সুনক, লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পাঁচজনই ছিলেন লেবার পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা। টানা রাজনৈতিক টালমাটালের পর কিয়ের স্টার্মারের হাত ধরে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলেও তিনি বেশিদিন টিকতে পারেননি। এবার কনজারভেটিভদের হারিয়ে আসা লেবার পার্টির অন্দরে ও দেশের শাসনভার সামলাতে অ্যান্ডি বার্নহাম কতটা সফল হন এবং ব্রিটেনকে কতটা রাজনৈতিক স্থায়িত্ব দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

    বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ

    ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গত ১০ বছর ধরে চলছে প্রধানমন্ত্রীদের যাওয়া আসা। স্বাভাবিক হিসাবে ১০ বছরে ২জন প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা বহু বেশি। গত ১০ বছরে ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোমবার নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রথামাফিক তাঁকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। ক্ষমতায় এসেই রাজনীতিতে আস্থা ফেরাতে অর্থনৈতিক শক্তি ফেরাতে প্রচেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দেশের জন্য কী রূপরেখা তৈরি করতে চান তিনি, কী ভাবনা রয়েছে, তা এদিন বক্তব্যে তুলে ধরেন। ইতিহাস অনুসারে বার্নহাম ইউকে-র ৫৯ তম প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাকিংহাম প্যালেসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিং চার্লস।

    কিং অফ দ্য নর্থ নামে পরিচিত

    ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল তাঁকে ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ নামে চেনে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপাতত তাঁকেই ভোট দিয়ে বেছে নিয়েছে লেবার পার্টি। রাজার আমন্ত্রণ পেয়ে এবার ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজাতে হবে তাঁকে। নতুন দায়িত্ব পেয়েই নতুন ব্রিটেন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন অ্যান্ডি। জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জন্যও তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। আপাতত ৬ সপ্তাহের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কুর্সি সুরক্ষিত। সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনে হাউস অফ কমন্সের অধিবেশন হবে, সেখানে এমপিদের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে অ্যান্ডিকে।

  • US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে ইরান। তাই আপাতত ইরান সফরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই নিরাপদ। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইরানের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আমেরিকার সঙ্গে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত পরামর্শে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে অস্থিরতা ও সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    ফের বোমাবর্ষণ আমেরিকার

    ইরানে ফের বোমাবর্ষণ শুরু করেছে আমেরিকা। এই নিয়ে টানা ন’দিন তারা ইরানে হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন। এর আগে ইরানের হামলায় জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। রবিবার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরাকে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে সেই বোমা ফেটে মৃত্যু হয়েছে আরও এক মার্কিন সেনার। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে ১৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হল। জখম হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি। এর পর থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই হামলা চলছে, জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক শহরে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনিতে।

    অশান্ত হরমুজ প্রণালী

    সোমবার সকালে একটি বিবৃতি জারি করে পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকান সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা চালাতে না-পারে, সেই কারণে তাদের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে সেখানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় বোমা ফেলেছে আমেরিকা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলার বিশদ কোনও বিবরণ মার্কিন সেনাবাহিনী দেয়নি। আমেরিকার হামলার জবাব দিচ্ছে ইরানও। তাদের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী সিরিয়ায় মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযানের সদর দফতরে আচমকা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া, কুয়েতের দু’টি ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের নিশানায় রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। ইরানে হামলা চালানোর জন্য এই সমস্ত দেশের সেনাঘাঁটিই ব্যবহার করে ওয়াশিংটন।

    দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংসের দাবি

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে।

    বাহরিনে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

    ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরিনে মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের দাবি, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামার কিছু জায়গায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। তাই বাহরিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ

    ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, যেকোনও উদ্দেশ্যে ইরান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সফর এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সাময়িকভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। যাঁরা আপাতত ইরানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও সামরিক তৎপরতা চলা এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সব নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসে নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ

    যেসব ভারতীয় এখনও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের অবিলম্বে তা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশিকা নিয়মিত অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কেন এই সতর্কতা?

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের সেতু, লবণাক্ত জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। কুয়েত, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এ ধরনের একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগেই ভারত সরকারের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে সংঘটিত হামলায় অন্তত ১৪ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত ভারতীয় নাবিক—সংখ্যা ৯। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার ও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

     

     

     

  • Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে ভারতে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) হাভিয়ের এদুয়ার্দো মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ (Javier Eduardo Martinez-Acha Vasquez)। রবিবার ভোরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী মিরেয়া পারিস দে মার্তিনেজ আচা-ও। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ভারত ও পানামার মধ্যে অংশীদারিত্ব অত্যন্ত দৃঢ়, যা অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক স্বার্থ এবং শুভেচ্ছার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে (India-Panama Relationship) এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কী কী কর্মসূচি রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর?

    বিদেশমন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, পাঁচ দিনের এই সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) একাধিক হাই-প্রোফাইল বৈঠক করবেন।

    ২০ জুলাই (সোমবার): বিকেলে নয়া সংসদ ভবনে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন হাভিয়ের মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ। সেখানে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এবং যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

    ২১ জুলাই (মঙ্গলবার): এই দিনে দিল্লিতে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সরকারি কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর।

    ২২ জুলাই (বুধবার): ট্রান্সপোর্ট ভবনে ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পানামার বিদেশমন্ত্রী। সমুদ্র বাণিজ্য এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রে দুই দেশের কাজের পরিধি বাড়াতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

    ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার): পাঁচ দিনের সফর শেষ করে দুপুর ১২:৩৫ নাগাদ দিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

    এই বছরের শুরুতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF 2026) সাইডলাইনে ভারতের পক্ষ থেকে পানামার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (Clean Energy) এবং টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। বর্তমান সফরটি সেই আলোচনার সূত্র ধরেই দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে (India-Panama Relationship) আরও গতিশীল করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত ইরান-আমেরিকা সংঘাত (US-Iran War)। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। জর্ডনে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় খেপে ছিল ওয়াশিংটন। তারই জেরে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাল আমেরিকা। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেই এই অতর্কিত হামলা বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি।

    প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ওয়াশিংটন (US-Iran War)

    গত শুক্রবার জর্ডনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন, চারজন গুরুতর জখম হন। একজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর ঠিক পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ফলস্বরূপ, রবিবারের এই ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলা।

    অকেজো শান্তি চুক্তি, প্রচ্ছন্ন হুমকি মোজতবা খামেনেইর!

    আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘ক্ষমার অযোগ্য শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মাত্র এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটিও ইরান বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা চুক্তি ভঙ্গ করায় ইরান আর কোনও শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

    ইরাক- কুয়েতেও যুদ্ধের আঁচ

    আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের (US-Iran War) রেশ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। ইরাকের ইরবিল অঞ্চলে কুর্দিশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে, কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন প্ল্যান্ট (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) এবং তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর ফলে কুয়েতে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং জর্ডন ও সৌদি আরবও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

    বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালী (Hormuz) দিয়ে সারা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্রণালীর দখল নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের (US-Iran War) ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা। অসামরিক পরিকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলির জোট (GCC) ইরানকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে, যা পুরো বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

  • Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের (Pakistan) জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। কারণ, ভারত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করায় শুধু নিজের নয়, ভারতের ভাগের (Indus Waters Treaty) খরচও বহন করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকেই। একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা চালাতে ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করে ফেলেছে পাকিস্তান। শুনানি যত এগোবে, খরচের বহর আরও বাড়বে। যদিও ভারত প্রথম থেকেই এই সালিশি ট্রাইব্যুনালের এক্তিয়ার মেনে নেয়নি, অংশও নেয়নি কোনও শুনানিতেই।

    বিতর্কের সূত্রপাত (Pakistan)

    বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়। সিন্ধু জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান অনুযায়ী, সালিশি প্রক্রিয়ার ব্যয় সমানভাবে বহন করার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু ভারত সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পাকিস্তান একাই মামলা চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়। ফলে সালিশি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদকে মেটাতে হচ্ছে দুই দেশেরই ব্যয়ের অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই ধরনের মামলায় সাধারণত প্রতিটি দেশের গড় ব্যয় প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার। ভারত কোনও অর্থ না দেওয়ায় পাকিস্তানের মোট ব্যয় ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে এবং শুনানি চলতে থাকলে খরচের অঙ্ক আরও বাড়বে।

    পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের সাফ কথা

    বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা। পাকিস্তানের অভিযোগ, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পগুলি সিন্ধু জলচুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করছে। সেই কারণেই তারা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয় (Pakistan)। এদিকে, ভারতের দাবি, এই ধরনের প্রযুক্তিগত বিরোধের নিষ্পত্তি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে হওয়া উচিত, সালিশি আদালতের মাধ্যমে নয়। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সালিশি আদালতে একযোগে একই বিষয়ের শুনানি হওয়া চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামোর পরিপন্থী বলেও ভারতের বক্তব্য। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তানের উদ্যোগে শুরু হওয়া সালিশি প্রক্রিয়া বয়কট করে আসছিল ভারত। পরে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে এবং সালিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতা করাও বন্ধ করে দেয়। ভারত সরকারের অবস্থান, পাকিস্তান যত দিন না বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, তত দিন পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে। একই সঙ্গে ভারত এই সালিশি ট্রাইব্যুনালকে “অবৈধভাবে গঠিত” বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, এর যে কোনও সিদ্ধান্তই “অকার্যকর ও বাতিল” (Indus Waters Treaty)।

    আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি

    ভারত অংশ না নিলেও আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে যে তাদের এক্তিয়ার রয়েছে, তবে শুনানি চালিয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ট্রাইব্যুনাল জানায়, পাকিস্তানের মামলার শুনানি করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সিন্ধু জলচুক্তিতে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার কোনও সুযোগ নেই। এর পর থেকে অন্তত আটটি শুনানি হয়েছে, যার প্রতিটিই ভারত বয়কট করেছে।২০২৫ সালের ৮ অগস্ট প্রকাশিত সিন্ধু জলচুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আদালত গঠনের প্রক্রিয়ায় ভারত অংশ নেয়নি, কোনও বৈঠকেও উপস্থিত ছিল না এবং সালিশি প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ চাওয়া অর্থও জমা দেয়নি (Pakistan)। পরে ২০২৬ সালের ১৫ মে সর্বাধিক জলাধার ধারণক্ষমতা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময়ই মামলার ব্যয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শুধু সালিশি আদালতই নয়, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া থেকেও পরে সরে দাঁড়ায় ভারত। প্রথমদিকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারত ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং নিজের ব্যয়ের অংশও বহন করেছিল। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখার আবেদন জানায় (Indus Waters Treaty)।

    পাকিস্তানের ঘাড়ে দেনার বোঝা

    এর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের বৈঠক-সহ পরবর্তী কার্যক্রম থেকেও ভারত দূরে থাকে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হয়েছে। এই বিপুল ব্যয় এমন একটা সময় বাড়ছে, যখন পাকিস্তান এখনও বিদেশি আর্থিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের বর্ধিত ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ১৯৫০ সালে সদস্য হওয়ার পর এটি পাকিস্তানের ২৫তম ঋণ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের অর্থনীতি ৩.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৭.২ শতাংশ। পাশাপাশি সংস্থাটির কাছে পাকিস্তানের বকেয়া ঋণের পরিমাণও ৯০০ থেকে ১,০০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (Pakistan)। তবে এত সব ব্যয় সত্ত্বেও ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ট্রাইব্যুনালকে মানে না, এর কোনও রায়কে বৈধ বলে মনে করে না এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। ফলে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায়, সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনেও (Indus Waters Treaty) সম্পূর্ণ আর্থিক বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হতে পারে। যার জেরে আরও গাড্ডায় পড়বে শাহবাজ শরিফের দেশ (Pakistan)।

     

  • BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশ আবারও যুদ্ধক্ষেত্র পরিস্থিতি। মাস্তুং জেলায় সেনা কনভয়ে অতর্কিত হামলা বালোচ লিবারেশন আর্মির (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)। হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা জওয়ান। হামলাটির নেপথ্যে ছিল বিএলএ-এর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। অবশ্য এই হামলার খবরকে ভুয়ো ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাক সেনা।

    কীভাবে হামলা (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)?

    বিএলএ-এর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কোয়েটা-করাচি মহাসড়কের খাদকোচা (Khadkocha) এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। বিএলএ-এর দাবি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বহনকারী বাসের একটি বড় বহরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় বালোচ সেনার বিশেষ এলিট ফোর্স ‘ফাতাহ স্কোয়াড’। প্রাথমিক হামলার পর ঘটনাস্থলে যখন অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা (Reinforcements) উদ্ধারকাজের জন্য পৌঁছয়, তখন তাদের উপরও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

    ক্ষয়ক্ষতি

    বিএলএ-এর দাবি, হামলায় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি বাস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা ৪৫ ছাড়িয়ে গেছে। অভিযানের তীব্রতা বিবেচনা করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও হাসপাতালের তৎপরতা

    হামলার পর থেকেই ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও থমথমে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাস্তুঙের স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা (Emergency Alert) জারি করা হয়েছে। সমস্ত ডাক্তার ও চিকিৎসা কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। তবে বিএলএ-এর এই দাবিগুলো স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কেন অশান্ত বালোচিস্তান (Balochistan)?

    বালোচিস্তানে (Balochistan) এই ধরনের সংঘাত নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে এখানে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ চলছে। এর মূল কারণগুলো হল, বালোচিস্তান পাকিস্তানের আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট। এখানকার বালোচ জাতিগোষ্ঠী সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বালোচিস্তানের কালাত রাজ্য স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জোরপূর্বক এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে। বালোচদের অভিযোগ, তখন থেকেই তাদের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে এবং তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা হচ্ছে। নিজেদের অধিকার আদায় ও স্বাধীনতার দাবিতে বিএলএ-সহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার এই লড়াই আর কতদূর এগোয়?

  • US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে আগুন। জর্ডান থেকে ওমান, কাঁপল একাধিক দেশ। সুইৎজারল্যান্ড বৈঠকের পরেই ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে নতুন করে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত। ষষ্ঠ রাতেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর। মার্কিন হামলার পাল্টা হিসেবে বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েত, জর্ডান এবং সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। হামলা-পাল্টা (US Iran War) হামলায় পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য।

    হামলায় (US Iran War) এখনও পর্যন্ত নিহত

    গত ২২ জুন, সুইৎজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সূত্র অনুযায়ী, তারপর থেকেই মার্কিন হামলায় ইরানে (US Iran War) এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় নিহত ৮ জন।

    ইরানে কোথায় কোথায় হামলা আমেরিকার?

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইরানের উপর সর্বশেষ বড় মাপের হামলাটি চালানো হয়। আমেরিকা নির্দিষ্ট জায়গার নাম না জানালেও ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির অন্তত ৬টি সেতু, একটি রেল স্টেশনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের যে সেতুগুলি ধ্বংস হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, বান্দার আব্বাস থেকে খেমির ও লারা সংযোগকারী গারিভেহ সেতু। লাতিদান গ্রামের কাছের একটি সেতু। কাহুরেস্তান-লার রুটের দুটি সেতু। বন্দর আব্বাস ও খেমির সংযোগকারী একটি নির্মাণাধীন সেতু ও খেমির জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু। এছাড়াও বিদ্যুৎ লাইনে আঘাতের জেরে বান্দার আব্বাস ও তার আশেপাশের গ্রামগুলো পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। তবে বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।

    ইরানের পাল্টায় কাঁপল কোন কোন দেশ?

    শুক্রবার সকালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) আমেরিকার বিরুদ্ধে ১৩তম পাল্টা হামলা (US Iran War) চালায়। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে:

    • কাতার: শুক্রবার ভোরে কাতারে পরপর দুটি সতর্কতা জারি করা হয়। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কাতারের আকাশেই ধ্বংস করে দেয় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে দোহার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর তার ভাঙা টুকরো (Shrapnel) গায়ে পড়ে এক শিশু আহত হয়েছে।

    • বাহরাইন: এদিন সকালে বাহরাইনেও বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    • ওমান: ওমানের ঘানিম অঞ্চলে মার্কিন এয়ার কন্ট্রোল রেডার এবং হরমুজ প্রণালীতে একটি মেরিটাইম রেডার ধ্বংস করার দাবি ইরানের। এছাড়াও ওমানের খাসাব থেকে ৩৫ কিমি দূরে একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র।

    • কুয়েত: কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ইরানের হামলায় আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রেডার, অস্ত্রাগার এবং দুটি হিমার্স (HIMARS) মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস হয়।

    • জর্ডান ও সিরিয়া: জর্ডানের সেনাবাহিনী তাদের আকাশে তিনটি ইরানি মিসাইল গুলি করে নামিয়েছে। যদিও এতে কোনও হতাহতের খবর নেই। অন্যদিকে, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ড সেন্টারেও হামলা ইরানের।

    আমেরিকা ও ইরানের নেতারা কী বলছেন?

    ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সরাসরি আমেরিকাকে দোষারোপ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘‘হরমুজ প্রণালী আর কোনওদিন আগের অবস্থায় ফিরবে না।’’ অন্যদিকে, এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিস্ফোরক দাবি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। ইজরায়েল সরকারের কিছু সদস্য আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যাতে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তি না করে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। দাবি ভ্যান্সের।

    কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত ২২ জুন সুইৎজারল্যান্ডে উভয়পক্ষ ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা পর্বে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই মুহুর্মুহু হামলা ও পাল্টা হামলার (US Iran War) জেরে সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি খাদের কিনারায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর কেবল ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্রমশ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শান্তি চুক্তির আশা ম্লান হয়ে আসায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চরম উদ্বেগ। এখন দেখার, আলোচনার টেবিল ফের কার্যকর হয়, নাকি ধ্বংসের এই চাকা আরও ঘূর্ণায়মান রূপ নেয়।

  • India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের (UN Security Council Reform) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও বিস্তৃত সংস্কারের দাবি ফের জোরালোভাবে তুলল ভারত (India)। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, সাধারণ পরিষদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ভারত বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    গোলটেবিল বৈঠকে সোচ্চার ভারত (India)

    স্থানীয় সময় ১৪ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি। তিনি বলেন, “ভারতের কাছে ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অর্থ হল, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম করা। সেই কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের সর্বাত্মক সংস্কার, সাধারণ পরিষদের পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত— টেকসই উন্নয়নের এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।”

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে

    রাষ্ট্রসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাত থামাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে (India)।” নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকেই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন হরিশ। তিনি বলেন, “আশি বছর আগের বাস্তবতা মাথায় রেখে তৈরি করা কাঠামো বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আর যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রসংঘ এখনও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। আন্তঃসরকারি আলোচনার কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রস্তুত বক্তব্যই দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ৩৯ থেকে ৪১ নম্বর পদক্ষেপও মূলত কাগজেই রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

    আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

    তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় আন্তঃসরকারি আলোচনার বিষয়ে যে সুপারিশগুলি রয়েছে, সেগুলি ওই আলোচনার সহ-সভাপতিরা তৈরি করেছিলেন, পরিকল্পনার সহ-সমন্বয়কারীরা নন। ওই অংশ নিয়ে ভারতের গুরুতর আপত্তি থাকলেও, গঠনমূলক মনোভাব থেকেই ভারত এই কর্মপরিকল্পনা সমর্থন করেছে (UN Security Council Reform)।” আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে গেলে পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী এবং নিশ্চিত অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এবং উন্নয়নমুখী হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মূল দায়িত্বও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।” বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতের অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর সংস্কারের লক্ষ্যে সব আন্তরিক উদ্যোগকে ভারত (India) সমর্থন করে যাবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করে তোলাই আমাদের যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত (UN Security Council Reform)।”

     

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) জ্বলল অশান্তির আগুন। রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে নিউ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর এবং ওয়াজিদ হায়াত। তাঁদের মধ্যে ওয়াজিদ রাওয়ালাকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনাল এলাকায় নিহত হন বলে খবর।

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে (POK)

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    মানবিক সাহায্যের আবেদন

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পুঞ্চ এবং ডোডা সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক (POK)। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ৫৭ শতাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, যা পাকিস্তানের জাতীয় গড় ১৯.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে।

    কী বলল ভারত?

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ছবিও উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ জীবিত সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০৪ জন মায়ের। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল।” তিনি এও বলেন, “স্থানীয় মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান চরম পুলিশি দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে (POK)।” ভারতের দাবি, পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে পাকিস্তানকে।

     

  • Bangladesh: গ্রেফতার ৮১ ফুটের রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা, ‘বাছাইকৃত বিচার’- সরব হিন্দু সংগঠনগুলো

    Bangladesh: গ্রেফতার ৮১ ফুটের রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা, ‘বাছাইকৃত বিচার’- সরব হিন্দু সংগঠনগুলো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের আবহে ফের একবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার এবং বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। সম্প্রতি ৮১ ফুটের একটি শ্রীরাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার (Haridas Chandra Arrest) করেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে একাধিক হিন্দু অধিকার রক্ষা সংগঠন। তাদের দাবি, দেশে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে “বাছাইকৃত বিচার” (Selective Justice) চালানো হচ্ছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের গাইবান্ধায় বিশাল আকৃতির (৮১ ফুট) একটি রাম মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দাবি করা হচ্ছিল, এটি নির্মিত হলে তা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং বিশ্বের অন্যতম উঁচু রাম মূর্তি হতো। এই উদ্যোগের পর থেকেই স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী ও প্রশাসনের একাংশের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। মূর্তি নির্মাণের আইনি বৈধতা, জমির মালিকানা এবং ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাত দেখিয়ে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করা শুরু হয়। এই বিতর্কের জেরেই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার (Haridas Chandra Arrest) করে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি

    পুলিশের দাবি, এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে রাম মূর্তি বিতর্কের কোনও সম্পর্ক নেই, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক অপরাধের মামলা।২০২০- ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁর ৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ৪টি মোবাইল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হয় এবং প্রায় সমপরিমাণ টাকা তুলেও নেওয়া হয়। কোনও বৈধ পেশা বা আয়ের উৎস ছাড়াই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সিআইডির দাবি, হরিদাস এবং তাঁর সহযোগীরা অবৈধ ‘হুন্ডি’ ও হাওয়ালার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের একটি চক্র গড়ে তুলেছিল।

    হিন্দু সংগঠনগুলোর তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

    পুলিশ বিষয়টিকে মানি লন্ডারিং হিসেবে দেখালেও, হিন্দু ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদানকে অবৈধ প্রতিপন্ন করতে এবং ৮১ ফুটের রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতেই পুলিশ এই সাজানো মামলা এনেছে। হরিদাস চন্দ্রের গ্রেপ্তারের (Haridas Chandra Arrest) খবর সামনে আসতেই তীব্র নিন্দা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন হিন্দু অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীর। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

    “বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর, জমি দখল এবং উৎসব উদযাপনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। সেই সমস্ত ঘটনায় দোষীরা পার পেয়ে গেলেও, একটি ধর্মীয় মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় হরিদাস চন্দ্রকে যেভাবে দ্রুততার সাথে গ্রেপ্তার করা হলো, তা চরম বৈষম্যমূলক।”

    তাদের আরও অভিযোগ, অপরাধের বিচার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কিন্তু এখানে বেছে বেছে শুধু হিন্দুদের কণ্ঠরোধ করার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ দেখানো হচ্ছে। নিজের জমিতে বা নির্দিষ্ট নিয়মে ধর্মীয় প্রতীক বা মূর্তি নির্মাণ করা যেকোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতাই খর্ব করা হয়েছে। এই ধরণের আইনি পদক্ষেপের ফলে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বারবার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে আসছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এবং হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা সরকারের সেই আশ্বাসকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অধিকারকর্মীরা দ্রুত হরিদাস চন্দ্রের নিঃশর্ত মুক্তি এবং এই ঘটনার পিছনে থাকা প্রকৃত উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

LinkedIn
Share