Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দু সমাজকে ঘিরে বিতর্ক, হামলায় ব্যাপক উত্তেজনা

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দু সমাজকে ঘিরে বিতর্ক, হামলায় ব্যাপক উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও (Roundup week) মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে ঘিরে একাধিক ঘটনা নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, সাংস্কৃতিক বিতর্ক, নারী নির্যাতন এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ১৪ থেকে ২০ জুন, ২০২৬ – এই সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

    ককরোচ জনতা পার্টি (Hindus Under Attack)

    ভারতে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে নির্মিত একটি হরিয়ানভি মিউজিক ভিডিও নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মালিকানাধীন ‘আনম্যাড আর্টওয়ার্কস’ (Unmaad Artworks) প্রযোজিত ‘ভোলে কাটিং কারা লে’ (Bhole Cutting Kara Le) নামের ভিডিওতে ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

    আর্যভট্টকে তাচ্ছিল্য!

    এদিকে, অ্যামাজন ইন্ডিয়ার কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যামাজন নাও’ (Amazon Now) -এর একটি বিজ্ঞাপনী প্রচার নিয়েও তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, ওই বিজ্ঞাপনে প্রাচীন ভারতীয় গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্টকে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। বিষয়টি ঘিরে আইনি নোটিশ, পুলিশ অভিযোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।

    হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত

    কর্নাটকে অধ্যাপক কেএস ভগবানের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি (HJS)। এক জনসভায় তিনি ভগবান শ্রীরাম এবং হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। সংগঠনের দাবি, এসব মন্তব্য কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ তরুণী বধূর

    মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বছর চব্বিশের এক বিবাহিত তরুণী ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল, তোলাবাজি এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ এনে (Roundup week) পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও এক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

    ওয়েব সিরিজ বিতর্ক

    এদিকে, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘Raakh’ ওয়েব সিরিজ নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ১৯৭৮ সালের রঙ্গা-বিল্লা হত্যাকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হলেও, সিরিজটিতে বাস্তব চরিত্রগুলির ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিনেতা প্রকাশ রাজকেও ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, তিনি নিজেকে হিন্দুবিরোধী নন, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতির বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করলেও তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যে সেই অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে।

    বাংলাদেশের ছবি

    অন্যদিকে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠনের দাবি, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, নারী নির্যাতন (Hindus Under Attack) ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মতো ঘটনা সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    হিন্দু ব্যবসায়ী পরিবারে হামলা

    বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় রিপন মণ্ডল নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ী ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দিনের বেলায় তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। ঘটনায় অন্তত চারজন জখম হন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে রিপনকে।

    বন্ধ রাম মূর্তি নির্মাণ কাজ

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুরে অবস্থিত (Roundup week) শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে নির্মাণাধীন দেশের সম্ভাব্য বৃহত্তম ভগবান শ্রীরামের মূর্তি নির্মাণের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

     

  • Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে সূচনা হতে চলেছে এক নয়া অধ্যায়ের। এই প্রথমবার রাজধানী নয়াদিল্লির বাইরে অসমের (Assam) গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত-জাপান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (Japan Summit)। জুলাই মাসেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অসম সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অংশ নেবেন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Assam)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ আরও গতি পাবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে আন্তর্জাতিক স্তরে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। ফলে গুয়াহাটিতে এই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে জাপান, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেই অনুমান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে অসমকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষ যুবশক্তি এবং দ্রুত উন্নয়নশীল পরিকাঠামো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর

    জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পেলে পরিবহণ ব্যয় ও সময় কমবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের পক্ষে একটা বড় সমস্যার সমাধানে করবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচির এটি হবে প্রথম ভারত সফর। তাঁর সঙ্গে ভারতে আসবেন ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ শিল্পপতি ও কর্পোরেট প্রতিনিধি। প্রতিনিধি দলে থাকবেন সুজুকি মোটরের প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো সুজুকি, ইতোচু কর্পোরেশন এবং টয়োটা সুশোর শীর্ষ আধিকারিকরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে শুধু পরিকাঠামো নয়, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, সাপ্লাই চেন (Japan Summit) রেজিলিয়েন্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে (Assam)। এই বৈঠকের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে উৎপাদন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নয়া  বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিতে পারে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

    ইতিমধ্যেই জাপান অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক পরিকাঠামো, এবং যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। ২০২৩ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরে ঘোষিত ‘বে অফ বেঙ্গল–নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেন কনসেপ্ট’ উত্তর-পূর্ব ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। এদিকে, টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ইউনিট, রিলায়েন্সের ডেটা সেন্টার এবং আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় শিল্প লগ্নি শুরু হয়েছে অসমে। ফলে জাপানি সংস্থাগুলির আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে (Assam)। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতে নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও কৌশলগত মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করবে, এবং (Japan Summit) জাপান আত্মপ্রকাশ করবে এই অঞ্চলের (Assam) অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে।

     

  • Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদীদের চাপে পড়ে বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে প্রস্তাবিত ৮১ ফুট উচ্চতার ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণ স্থগিত করে দিয়েছে প্রশাসন। তার জেরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Bangladesh Hindus Protest) বিএনপি শাসিত বাংলাদেশে। অভিযোগ, মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করা ইসলামপন্থীদের একটি বিক্ষোভে ভগবান রামের ছবির অবমাননা (Lord Ram Image Desecration) করা হয়। তারই প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকায় মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, স্লোগান দেন ‘জয় শ্রী রাম’।

    বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি (Bangladesh Hindus Protest)

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, গাইবান্ধার এক সমাবেশে ভগবান রামের ছবির ওপর জুতো রেখে অপমান করা হয়েছে সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়কে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ করা না বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। হিন্দু মহাজোটের ডাকে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। শেষ হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গিয়ে। প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁরা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কাছেও আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এদিনই রংপুরে হিন্দুদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সামান্য তর্কাতর্কিও হয়।

    নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ বন্ধ

    এদিকে, পলাশবাড়িতে নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পরে আর কাজ এগোয়নি। ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির তরফে। কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র দাসের দাবি, মূর্তি নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে ৮১ ফুটের রামমূর্তির পাশাপাশি ৫০ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি এবং ৩০ ফুটের শিবমূর্তিও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আপাতত মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

    মন্দির কমিটির বক্তব্য

    শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত জানান, “সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে মন্দির কমিটি আপাতত রাম মূর্তি স্থাপনের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সমালোচনার মধ্যে থাকতে চাই না। কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হোক, আমরা সেটাও চাইব না। এ দেশে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। তবে কোনও কিছু করতে হলে ধর্মের প্রতিই সম্মান রেখেই করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই নীতিতে আমরা সবাই বিশ্বাসী (Bangladesh Hindus Protest)।” এদিকে, হিন্দু মহাজোট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি পলাশবাড়ির এই প্রকল্প ফের শুরু করার অনুমতি দেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়ই এক এক করে রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী নয়া কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী বললেন তসলিমা নাসরিন?

    নির্বাসিত লেখিকা বাংলাদেশের তসলিমা নাসরিন বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি একটি মৌলিক অধিকার হয়, তবে তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—উভয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। দেশে নতুন নতুন মসজিদ নির্মাণ করা গেলে একটি রামমূর্তি বা মন্দির নির্মাণ নিয়ে এত আপত্তি কেন?” তসলিমা জানান, প্রকল্পটিকে ঘিরে যে ধরনের হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনও মতভেদ বা ধর্মীয় অবস্থান অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা ধর্মীয় প্রকল্পে বাধা দেওয়ার কারণ হতে পারে না।” পলাশবাড়ি এলাকায় (Lord Ram Image Desecration) আগেও হিন্দু মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার কথাও মনে করিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) দেন নির্বাসিত লেখিকা।

    উত্তেজনা বাংলাদেশের নানা প্রান্তে

    ভগবান রামের প্রতিকৃতি অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশের নানা প্রান্তে। ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা। ‘সচেতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দে’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রনিবাসের আবাসিকরাও যোগ নেন। পরে ওই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে গিয়ে পৌঁছয় শাহবাগ মোড়ে। রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন (Bangladesh Hindus Protest) প্রতিবাদীরা। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুরা দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশই তারা। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলেই খবর (Lord Ram Image Desecration)।

     

  • France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্সে প্রথম ঐতিহ্যবাহী বিএপিএস স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন হচ্ছে। প্রবাসী ভারতীয়দের মতে, এটিই হবে প্যারিসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দির, যা প্রাচীন ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে।মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত বিশেষ বেলেপাথর ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে জোগাড় করা হয়েছে। সেই পাথর ভারতেই খোদাই করার পর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মন্দিরটি। এই প্রকল্প ভারতের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের পাশাপাশি ফ্রান্সের মানুষের ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগ্রহেরও প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান (France)

    মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এই উৎসবে যোগ দেবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। উদ্বোধনের পর মন্দিরের দ্বার খুলে দেওয়া হবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য ভাভি পারেখ জানান, এই মন্দির ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, “মন্দিরটি ভারতে নির্মিত ও খোদাই করা হয়েছে, পরে ফ্রান্সে এনে বসানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক উপাসনালয়ে সবাইকে স্বাগত জানাতে আমরা মুখিয়ে রয়েছি।” বিএপিএস সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, ভারত থেকে বিশেষভাবে আনা পাথর ব্যবহার করে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ভারতীয় শিল্প ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

    ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক

    মন্দির উদ্বোধনের খবরটি প্রকাশ্যে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফ্রান্স সফরের সময়। জি-৭ সম্মেলন ও ভিভাটেক সামিটে যোগ দিতে তিনি প্যারিসে পৌঁছলে প্রবাসী ভারতীয়রা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অবদান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন হিন্দু মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং ইউরোপে ভারতের সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসার আরও বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

  • Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর একাধিক মন্তব্যে ট্রাম্প মোদিকে “খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী” (Very Tough Cookie) বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রশংসনীয় নেতা বলেও অভিহিত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, “শি জিনপিং পুরোপুরি কাজমুখী নেতা। আর নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত কঠিন একজন মানুষ, আলোচনার টেবিলে তাঁকে হারানো সহজ নয়।”

    কঠোর ও দক্ষ আলোচক

    এর আগে ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। সে সময় ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, “তিনি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন কঠোর ও দক্ষ আলোচক। তিনি সবসময় ভারতের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি অত্যন্ত কঠিন দর-কষাকষি করেন। আলোচনার টেবিলে তিনি সম্পূর্ণ ‘কিলার’। তবে তাঁর আচরণ খুবই শান্ত, সংযত এবং চিন্তাশীল।” ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “যতদিন নরেন্দ্র মোদি ভারতের নেতা থাকবেন, ততদিন ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা পাশে থাকবে। যদি কেউ তাঁকে বা তাঁর নেতৃত্বাধীন ভারতকে আক্রমণ করে, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকব।”

    মোদি-ট্রাম্প বৈঠক

    উল্লেখ্য, ফ্রান্সের এভিয়ঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতার এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি হোয়াইট হাউসে সরকারি সফরে গিয়েছিলেন। এদিকে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান অস্থিরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে মোদি-ট্রাম্প বৈঠক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বার্তাই এই বৈঠকের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছে ওয়াশিংটন।

  • India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি তৈরির কারখানা। একটা ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ (Frankenstein state)। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ভারতের। শুক্রবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং বলেন, ‘‘ওই দেশটি এখন নিজের তৈরি দানবের (সন্ত্রাসবাদী) কামড় খেয়ে নিজেরাই চমকে উঠেছে।’’ রাষ্ট্রসংঘে দিল্লির প্রতিনিধি (India Pakistan Relation) অনুপমা সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ, মোতায়েন এবং আশ্রয়” দেওয়াই ইসালামাবাদের কাজ। সম্মেলনে পাক প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলতেই পালটা আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি।

    পাকিস্তানের হিংসা ও দমনপীড়ন

    পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় তার জবাব দিতে গিয়ে অনুপমা পাল্টা অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ ধারাবাহিক ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ-সহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল, ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি।’’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন এক দেশ, যার বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী “রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে জঙ্গিদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ এবং কাজে লাগানোর বিষয়ে গর্ব করেন। অথচ পাকিস্তান নিজেকেই সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে। সত্যিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য, যা কেবল পাকিস্তানই জিইয়ে রাখতে পারে। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ, নিজেরই সৃষ্টি করা দানবের পালটা কামড়ে হতবাক হয়ে পড়ে।” পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে সিন্ধুচুক্তি বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেন ভারতীয় প্রতিনিধি। ভারতের অনুপমা সিংয়ের বক্তব্যের সামনে কার্যত দাঁড়াতে পারেনি পাক প্রতিনিধি।

    গায়ের জোরে দখলদারি

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রাওয়ালাকোটের হিংসা ও দমনপীড়নের উল্লেখ তিনি পাকিস্তান সরকার এবং সেনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। চলতি মাসের গোড়া থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সাধারণ জনতার। ওই অঞ্চলে আর্থিক দুর্দশা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। সম্প্রতি ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তার পর থেকেই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাক সেনা এবং রেঞ্জার্স বাহিনীর হামলাও। নির্বিচার গুলিবর্ষণে এ পর্যন্ত শতাধিক সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অনুপমা বলেন, “রাওয়ালাকোটের এই ট্র্যাজেডি, শত শত সাধারণ নাগরিককে হত্যা এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চালানো নৃশংস দমন-পীড়ন আদতে প্রত্যাশিত পরিণতি। কারণ তা গায়ের জোরে দখলদারির উপর প্রতিষ্ঠিত। দমন-পীড়ন চালিয়েই শাসন টিকিয়ে রাখা হয়েছে।” একটি সূত্রে দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মোট মৃতের সংখ্যা তিরিশ ছাড়িয়েছে। এই বিষয়ে অনুপমা বলেন, “কয়েক দশক ধরে সামরিক শক্তিতে ভূমি দখল, জনবিন্যাস নিয়ে কারসাজি এবং মৌলিক স্বাধীনতা হরণের ফলে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনকী খাদ্য, বিদ্যুৎ, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার মতো দাবিওগুলিও বন্দুক উঁচিয়ে চেপে দেওয়া হচ্ছে।”

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বাক্ষরিত হল ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি । বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, সমঝোতাপত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন দুই প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, জি৭ সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজ করছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমঝোতাপত্রের নথিতেও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন। চুক্তি হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে তেহরানও। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা ও সংঘাতের আপাত অবসান ঘটল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মূল লক্ষ্যই হল দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।

    ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর

    মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার দুই রাষ্ট্রনেতার ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এর আগে রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেছিলেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতিতে ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চুক্তির হার্ড কপিতেও স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং এর ছবি ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সে দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা চূড়ান্ত হয়েছে। দুই প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।”

    জেনেভা বৈঠক থাকলেও হবে না স্বাক্ষর অনুষ্ঠান

    প্রথমে জানা গিয়েছিল, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায়, দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে। তবে তার আগেই সমঝোতাপত্রে সিলমোহর পড়ায় জেনেভার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল হল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেহরানের দাবি, জেনেভার শান্তিবৈঠক আগের সূচি মেনেই হবে। ইরানি কর্তারা জানিয়েছেন যে, শুক্রবার বৈঠকের উদ্দেশ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা নয়। তারা জানায় যে দলিলটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাই সুইৎজারল্যান্ডে কোনও মুখোমুখি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

    তেল রফতানি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি

    ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে বাধাহীনভাবে তেল রফতানির সুযোগ দিতে হবে এবং সেই বিক্রির অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তেহরানকে কোনও পরিবহন বা বিমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই তার তেল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং সেই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর তার পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। পাশাপাশি, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তিনি জানান, তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বৃহত্তর চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলবে।

    ৬০ দিনের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি

    সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিন কোনও পক্ষই এমন পদক্ষেপ নেবে না যা চুক্তিকে দুর্বল করতে পারে। নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। বাঘেই এই ব্যবস্থাকে “প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি” বলে উল্লেখ করেছেন।

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংবেদনশীল অবস্থান

    ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। তবে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির ফারসি ও ইংরেজি উভয় সংস্করণেই একই ধরনের শর্ত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই তাতে স্বাক্ষর করেছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে

    ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। বাঘেই বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনার জন্য নয়, ব্যবহারের জন্য তৈরি।” প্যারিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি সৌদি আরব, কাতারসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে তা থেকে বঞ্চিত করা ন্যায্য হবে না। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে চুক্তি কার্যকর হলেও মার্কিন সেনাবাহিনী আপাতত উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে।

    নতুন ব্যবস্থায় খুলবে হরমুজ প্রণালী

    প্রধান আলোচক কালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুললেও তা যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই ইরান সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিষেবা ফি নেওয়া হবে।

    ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

    চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান কালিবাফ। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রকল্পেও এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে।

    পাকিস্তানের দাবি

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারককে “ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি” বলা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে বলেও জানান তিনি। শরিফের মতে, চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের পথে বড় ভূমিকা নেবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।

    যুদ্ধ উদ্বেগে গোটা বিশ্ব

    গত ১৫ সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ উদ্বেগে রেখেছিল গোটা বিশ্বকে। এই যুদ্ধের জেরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা যায়। এর প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতেও। শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে হরমুজ প্রণালীর উপর থেকেও অবরোধ এবং যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই জলপথ ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আর কোনও বাধা রইল না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, রবিবারই ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চুক্তি স্বাক্ষরিত করবে আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, ওই দিনেই ৮০-তে পা দেন ট্রাম্প। আমেরিকা এবং ইরান অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও বেশ কিছু বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিন ধরে বোঝাপড়া করতে রাজি হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের তরফে অবশ্য বার বারই জানানো হচ্ছিল যে, তারা চুক্তির শর্তগুলি খতিয়ে দেখছে।

     

     

     

     

     

  • Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আলাপচারিতা ও সৌজন্য বিনিময়ে ব্যস্ত জি৭ সম্মেলনে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা। একে অপরের সঙ্গে চলছে করমর্দন। হালকা মেজাজে কথাবার্তা বলছেন। সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সেই জটলায় ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হাজির হতেই মোদি এগিয়ে যান। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ফটোর আগে দুই নেতাকে একে অপরের সঙ্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা বিনিময় করতে দেখা যায়। সেই সময়েই ঘটে এক মজার মুহূর্ত, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। মেলোনি হাসিমুখে মোদিকে বলেন, “আবার দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর রসিকতার সুরে যোগ করেন, “আমরাই তো ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি!” প্রধানমন্ত্রী মোদিও হাসিমুখে সেই মন্তব্যের জবাব দেন।

    ফের ‘মেলোডি’

    গত কয়েক বছরে ‘মেলোডি’ (Melodi) শব্দটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— দুই নেতার পদবির সংমিশ্রণ থেকেই তৈরি হয়েছে এই নাম। মাসখানেক আগে ইটালি সফরে মেলোনির সঙ্গে মোদির ‘রসায়ন’ আলোচনায় ছিল। মেলোনিকে এক প্যাকেট মেলোডি চকোলেট উপহার দিয়েছিলেন মোদি। চকোলেট উপহার পেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি হালকা মেজাজের ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোদি এবং মেলোনি। একটি মেলোডি চকোলেটের প্যাকেট ধরে রেখেছেন দু’জনে। দু’জনেই হাসছেন।

    মোদি-মেলোনি সম্পর্ক, কূটনৈতিক গুরুত্ব

    মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতারা। সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরা একই মঞ্চে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা সেরে নেন। ‘গ্রুপ ফটো’ তোলেন। ছবি তোলার সময় যখন রাষ্ট্রনেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তার ঠিক আগে মোদি-মেলোনি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। করমর্দন করেন দু’জনে। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তাঁরা দু’জনে কিছু কথা বলছেন। তবে কী কথা হয়েছে, তা খুব স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ, অর্থনীতি, জলবায়ু সংকট— একের পর এক গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা আর কূটনৈতিক জটিল সমীকরণের হিসেবনিকেশের ফাঁকে এক টুকরো চেনা হাসি। বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে ঠিক যেমন আগের আড্ডার রেশ থাকে, মেলোনিও সেই সুরে বলে ওঠেন, ‘আবার দেখা হয়ে গেল, খুব ভালো লাগছে।’ মোদি তোলেন ‘মেলোডি’ ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার কথা। সুযোগ হাতছাড়া করেনননি ইটালির প্রধানমন্ত্রী। হাসতে হাসতে রসিকতার সুরে বলেন, ‘হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামে এখন আমরাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।’ জি-৭ সম্মেলনের সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির গম্ভীর পরিবেশের মাঝেও মোদি ও মেলোনির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, মোদি-মেলোনির সম্পর্ক নিছক ছবি বা ভিডিয়োয় সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক ইটালি এবং ভারতের চলমান বিদেশনীতির অংশ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইটালি। উভয় দেশই ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে।

  • Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    সুশান্ত দাস 

    ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (সংক্ষেপে এভিয়ঁ) শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ‘লিডার্স ফটোগ্রাফ’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে মোদির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান শুধু প্রোটোকলের বিষয় নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক।

    সদস্য নয়, তাও ভারতকে আমন্ত্রণ

    বিশ্বের সাতটি প্রধান শিল্পোন্নত অর্থনীতির এই ফোরামে ভারত সদস্য না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির গুরুত্ব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান এখন বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে জি৭ নেতাদের এই ঐতিহাসিক ছবিতে।

    মাক্রঁর বিশেষ অভ্যর্থনা, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন বার্তা

    সম্মেলনের শুরুতেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। তিনি সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমেও শেয়ার করেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি ও প্যারিসের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ফ্রান্স বর্তমানে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।

    ১৬ মাস পর মুখোমুখি মোদি ও ট্রাম্প

    জি৭ সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতা সরাসরি মুখোমুখি হলেন। শুধু তাই নয়, সম্মেলনের মূল অধিবেশনেও তাঁদের পাশাপাশি বসতে দেখা যায়। এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। চিনকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কেন বারবার জি৭-এ আমন্ত্রিত হচ্ছেন মোদি?

    এবারের সম্মেলন ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির সপ্তম ধারাবাহিক জি৭ অংশগ্রহণ। জি৭-এর সদস্য না হয়েও এতবার আমন্ত্রিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

    • ● বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর অন্যতম ভারত।
    • ● বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে।
    • ● প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সবুজ শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে।
    • ● উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধানে ভারতের অংশগ্রহণ এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে জি৭-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি ক্রমশ স্থায়ী চরিত্র ধারণ করছে।

    ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর মুখপাত্র হিসেবে ভারতের অবস্থান

    গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। জলবায়ু অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট, ডিজিটাল বৈষম্য এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। জি২০-র সভাপতিত্বের সময়ও ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। জি৭ সম্মেলনেও সেই অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন মোদি।

    একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সহযোগিতা এসব বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের অনুমান।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উত্থানের প্রতীকী বার্তা

    এভিয়ানের জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি নিছক একটি আনুষ্ঠানিক ছবি নয়। এটি এমন এক ভারতের প্রতিচ্ছবি, যা আজ বিশ্বের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর সঙ্গে সমান গুরুত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ, বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে ভারত যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল, জি৭ সম্মেলনের এই দৃশ্য যেন সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।

LinkedIn
Share