Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। আসুন, ৫ থেকে ১১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা (Hindus Under Attack)

    পুনের ঐতিহাসিক মহাত্মা ফুলে ওয়াড়ায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির ঐতিহ্যবাহী বট পূর্ণিমার আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত প্রগতিশীল মহলের একাংশের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইতিহাস ও জাতিভিত্তিক বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলার জেরে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রথম মামলাটি জুনের শুরুতে এক বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ীর ছেলেকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি সামনে আসে জুলাইয়ের শুরুতে, যেখানে একটি রাজপুত পরিবার তাদের ৩৫ বিঘা পৈতৃক জমি দখলের হুমকি এবং ধর্মান্তরের চাপের অভিযোগ তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা বাঘরার যোগ সাধনা আশ্রমের প্রধান স্বামী যশবীর মহারাজের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

    কৃষি উৎসবকে কেন্দ্র করে হিংসা

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার হাঙ্গাল তালুকের নরেগাল গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন সনাতনী কৃষি উৎসব কারা হুন্নিমে উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইসলামি সম্প্রদায়ের একদল দুষ্কৃতী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুদের ওপর বিনা প্ররোচনায় হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত আটজন জখম হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কর্নাটকেরই বেঙ্গালুরুর জিগানিতে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বছর তিরিশের অক্ষতা ইন্দরাগির দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গী জনৈক নানা সাব এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের কেশর আমদানি এবং তিলক পরার রীতি নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে (Hindus Under Attack) বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, বিশ্বের অধিকাংশ কেশর ইসলামি দেশগুলি থেকে আমদানি হয়, তাই হিন্দুদের তিলক পরা বন্ধ করা উচিত। সমালোচকদের মতে, অধিকাংশ হিন্দুই দৈনন্দিন তিলকের জন্য বিশুদ্ধ কেশর ব্যবহার করেন না, ফলে তাঁর বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন

    এদিকে, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় নিবন্ধন থাকলেই আর বিদেশি অর্থ নেওয়া সাধারণ অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন থেকে বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে (Roundup Week)। একই সঙ্গে ধর্মান্তর, রাজনৈতিক প্রচার এবং আন্দোলনে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের ওপর সরকারের কড়াকড়িও চর্চায় এসেছে। চেন্নাইয়ের তাম্বরমে বছর ছাপ্পান্নর মহম্মদ ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে বছর বারোর এক নাবালিকাকে টানা চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে। নির্যাতিতার বাবা তাঁরই গুদামের কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে শিশু সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে (Hindus Under Attack)।

    বহির্বিশ্বের ছবি

    বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন স্বঘোষিত সাংবাদিক পিটার ফ্রিডরিখ। অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তিনি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ঘুরে সিটি কাউন্সিল-সহ বিভিন্ন জনমঞ্চে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। আটলান্টা, পালো অল্টো-সহ একাধিক শহরে তাঁর বক্তব্যের টার্গেট হয়েছে হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠন, যার মধ্যে কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি, তাঁর অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং হিন্দু সমাজের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ কেবল প্রত্যক্ষ হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন দেশে (Roundup Week) সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে, তামাম বিশ্বে (Hindus Under Attack) খুব একটা সুখে নেই হিন্দুরা।

     

  • Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ (Hormuz) প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে ঘিরে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Launches Fresh Strikes)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড।

    বিবৃতিতে যা জানাল আমেরিকা (Hormuz)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের তরফে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’তে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইঞ্জিন রুম, নিখোঁজ হয়েছেন এক নাবিক। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলাগুলির জন্য জবাবদিহির পরে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হলেও, তারা তা মানেনি। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী অসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান যাতে আর হামলা চালাতে না পারে, তাই এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী!

    কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওই পোস্টের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের তার মূল্য দিতে হবে।” এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়ে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই সময়ে কোনও জাহাজকে আর ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলে থাকা প্রতিপক্ষের আরও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা, ইজরায়েল এবং যেসব আঞ্চলিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, তাদেরই দায়ী করেছে ইরান।

    অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা

    অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনার আবহেই কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। উত্তেজনা কমিয়ে (Hormuz) আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফের শুরুর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ঘুরে গিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ওমানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস আরাগচি। বৈঠক শেষে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে বিশেষভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে (US Launches Fresh Strikes) আলোচনা হয়। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা আরও একবার জানিয়ে দিয়েছে (Hormuz) ওমান।

     

  • Vietnam: ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী স্পিডবোট দুর্ঘটনা, মৃত্যু অন্তত ১৫ ভারতীয়ের

    Vietnam: ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী স্পিডবোট দুর্ঘটনা, মৃত্যু অন্তত ১৫ ভারতীয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভিয়েতনামের (Vietnam) দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে শনিবার উল্টে গেল যাত্রিবোঝাই স্পিডবোট (Indian Tourists Capsizes)। শনিবার ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৩২ জন ভারতীয় যাত্রী এবং চারজন নাবিককে নিয়ে চলা ওই স্পিডবোটটি উল্টে গেলে ঘটে দুর্ঘটনা। খবর পেয়েই দ্রুত সমুদ্রে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। আহত ও নিখোঁজদের খোঁজে জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান। ফু কুয়ক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওশান পার্ল আইল্যান্ড’ নামে একটি সংস্থা পরিচালিত স্পিডবোটটি হন মে রুট দ্বীপ থেকে আন থই বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। দুপুর ১টা নাগাদ হন মে রুট দ্বীপ থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পৌঁছতেই উত্তাল সমুদ্রে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় সেটি। হাবুডুবু খেতে থাকেন যাত্রী ও নাবিকরা।

    শুরু হয় উদ্ধারকাজ (Vietnam)

    দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপন্নদের উদ্ধার করতে ছুটে আসে আশপাশে থাকা পর্যটকবাহী নৌকোগুলি। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এক নাবিক বলেন, “আমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। কিন্তু অনেক যাত্রী উল্টে যাওয়া নৌকোর ভেতরে আটকে পড়েছিলেন। তাই উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অল্প কয়েকজনকেই জীবিত অবস্থায় বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।” দুর্ঘটনার পরপরই ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায়, তারা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সাহায্য করতে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দূতাবাসের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া একটি স্পিডবোট দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং ঘটনার সঠিক বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সাহায্য দিতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।”

    চলছে যাচাইকরণ

    ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সরকারি সূত্রের ভিত্তিতে স্পিডবোটে থাকা ৩২ জন ভারতীয় পর্যটকের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নিহত ও আহতদের শনাক্ত করতে চলছে যাচাইকরণ। পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে (Vietnam)। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, “ভিয়েতনামের ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই (Indian Tourists Capsizes)। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।” তিনি আরও জানান, ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বতোভাবে সাহায্য করছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রীর তৎপরতা

    অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী নারা লোকেশও ঘটনাটির পরপরই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু করেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ ভবন এবং রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত পর্যটকদের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের কয়েকজন বাসিন্দাও থাকতে পারেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাঁকে জানান, ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাত্রীদের পরিচয় ও অবস্থার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মন্ত্রী নির্দেশ দেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে (Vietnam)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র ছিল উত্তাল। বৃষ্টি না হলেও, ঢেউ ছিল প্রবল। তার মধ্যেই চলাচল করছিল পর্যটকবাহী স্পিডবোটগুলি। স্পিডবোট পরিচালনাকারী সংস্থার এক প্রতিনিধি জানান, স্পিডবোটটি দ্বীপভ্রমণ করাতেই পর্যটকদের নিয়ে যাচ্ছিল। চালকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও ছিল (Indian Tourists Capsizes)।

    মে রুট দ্বীপপুঞ্জ

    প্রসঙ্গত, মে রুট দ্বীপপুঞ্জ ফু কুয়কের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। স্বচ্ছ সমুদ্রের জল, সাদা বালুকাবেলা এবং প্রবালপ্রাচীরের জন্য দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক সেখানে বেড়াতে যান। স্নরকেলিং, ডাইভিং-সহ বিভিন্ন জলক্রীড়ার জন্য এলাকাটি বিশেষ পরিচিত। আন থই বন্দর থেকে স্পিডবোটে সাধারণত ২০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছনো যায় (Vietnam)। গত বছরও ভিয়েতনামে বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হা লং উপসাগরে একটি পর্যটকবাহী স্পিডবোট প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়ে উল্টে গেলে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় বহু শিশুও প্রাণ হারিয়েছিল। পরপর এমন দুর্ঘটনার পর ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নৌ-নিরাপত্তা এবং (Indian Tourists Capsizes) জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই উঠছে গুচ্ছের প্রশ্ন (Vietnam)।

     

  • Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি নীতিনির্ধারণী সেমিনার থেকে তামাম বিশ্বকে বড় বার্তা দিয়ে খবরের শিরোনামে ভারতীয় কূটনীতিক পূজা কুমারী ঝা (Pooja Kumari Jha)। ভারতের মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir India) ভুল উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রচারের আলোকে চলে এসেছেন তিনি। ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এ আয়োজিত “আস্থা পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সংহতির নবায়ন: সার্ক পুনরুজ্জীবনের পথ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন পূজা। সেখান থেকেই দৃঢ় গলায় জানিয়ে দেন জন্মু-কাশ্মীরের ভুল উপস্থাপন নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তির কথা।

    জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই (Jammu Kashmir India)

    জানা গিয়েছে, ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ভারতে বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার আহমেদ তারিক করিম। তিনি ২০০৯ থেকে ’১৪ পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তব্যের সময় তাঁর উপস্থাপনায় ভারতের একটি মানচিত্র দেখানো হয়। সেই ম্যাপে জম্মু- কাশ্মীরের সীমানা ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেই ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পূজা। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, “এখানে ভারতের যে মানচিত্রটি দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিকঠাক নয়। জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ।” তাঁর আপত্তির জবাবে আহমেদ তারিক করিম বলেন, “এই মানচিত্রটি কেবল উপস্থাপনার সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমানা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়নি।” তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরেও ভারতের সরকারি অবস্থান মনে করিয়ে দেন পূজা। বলেন, “আমি আপনার বক্তব্য বুঝতে পারছি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এখানে সেটাই ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। তাই বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেছি।”

    ঢোক গিলতে হল বাংলাদেশকে!

    এই সময় (Jammu Kashmir India) করিম জানতে চান, তিনি ভারতের প্রতিনিধি কি না। উত্তরে নিজের পরিচয় দিয়ে পূজা জানান, তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব। বাধ্য হয়ে করিম বলেন, “আপনার বক্তব্য নথিভুক্ত করা হল।” এই বলেই তিনি তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরে করিম জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি আইনি সার্বভৌমত্ব অর্জন করলেও, তাদের পরিচয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক শাসন শুধু সীমান্ত নির্ধারণ করেনি, বরং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার ধরনও বদলে দিয়েছিল। এর ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে অনেক সময় সহযোগী নয়, সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

    দেশভাগের জের

    তিনি আরও জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের আগে দক্ষিণ এশিয়া কঠোরভাবে বিভক্ত ভূখণ্ড ছিল না। সাম্রাজ্য, দেশীয় রাজ্য, বাণিজ্যপথ, তীর্থযাত্রা, ভাষাগত ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশগত সংযোগের মাধ্যমে মানুষ অবাধে চলাচল করত, বাণিজ্য হত, বিবাহ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চলও ছিল। দেশভাগের ফলে পরিবার, বাজার, নদী, রেলপথ, বন্দর, স্মৃতি এবং (Jammu Kashmir India) পরিচয় বিভক্ত হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “দেশভাগ ছিল যেন একটি পরিবারের বাড়িকে ভাগ করে দেওয়ার মতো ঘটনা (Pooja Kumari Jha)।” সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

    কে এই পূজা?

    এদিকে, ভারতীয় কূটনীতিক পূজার এই প্রতিবাদের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মানচিত্রে আপত্তি তুলে ধরে পূজা স্পষ্ট ভাষায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূজা ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার ২০২২ ব্যাচের আধিকারিক। ওই বছরই তিনি প্রথমবারের চেষ্টায়ই ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৮২তম স্থান লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্রই ২৫ বছর। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানিয়েছিলেন, তাঁর শৈশব আর্থিক সঙ্কট ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। পরিবারের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir India) প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান বরাবরই এক। নয়াদিল্লির দাবি, সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে ভারত বরাবরই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর খালি করার দাবি জানিয়ে এসেছে, এবং এই ইস্যুতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে (Pooja Kumari Jha)।ঢাকার এই সাম্প্রতিক ঘটনায়ও ভারতীয় কূটনীতিক পূজা সরকারের সেই অবস্থানই আরও একবার জানিয়ে দিলেন প্রকাশ্যে। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বিআইআইএসএস। এর লক্ষ্য হল নানা আন্তর্জাতিক, নিরাপত্তা, কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা পরিচালনা করা। এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত (Jammu Kashmir India)।

     

  • PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এখন শুধু একটি বড় বাজার নয়, বরং বিশ্বের প্রবৃদ্ধির অন্যতম ‘লঞ্চপ্যাড’। নিউজিল্যান্ড সফরে সে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলের সামনে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in New Zealand)। একই সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ডের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। দুই দিনের নিউজিল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড বিজনেস অ্যান্ড স্পোর্টস এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র নয় মাসের রেকর্ড সময়ে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, বলেও বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারতের উন্নয়ন-যাত্রার অংশীদার

    প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিনিয়োগ নয়, ভারতের উন্নয়নের যাত্রার অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার। ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের ভিত্তি এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সংস্কার, কর্মদক্ষতা এবং রূপান্তর— এই তিন স্তম্ভের উপরই আমাদের শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে রয়েছে নীতিগত স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্বের উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত শুধু একটি বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড।”

    ভারতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    দেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, স্মার্ট সিটিজ মিশনের অধীনে দেশের ১০০টি শহরে ৮,০০০-রও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নগর পরিবহণ, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। নিউজিল্যান্ডের মাওরি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধ এবং মাওরি সংস্কৃতির মধ্যে প্রকৃতি, সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি একই ধরনের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে মাওরি ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    পরে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, গত বছর লাক্সনের ভারত সফরের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করছেন। মোদির কথায়, “আমার পূর্বসূরিরা অনেক ভালো কাজ অসম্পূর্ণ রেখে গিয়েছিলেন। সেই কাজগুলিই আমি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।” এদিন দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করে এবং ‘ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: রোডম্যাপ টু ২০৩০’ গ্রহণ করে। এই রোডম্যাপে বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, কৃষি, ক্রীড়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিকস সহায়তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, হাইড্রোগ্রাফি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা, পশুপালন ও দুগ্ধ শিল্প, পর্যটন, ক্রীড়া, সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কেও একাধিক সমঝোতা হয়েছে। এছাড়াও মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়ালগ চালু করা, ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ (IPOI)-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা অংশে নিউজিল্যান্ডের যোগদান, গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্সে সদস্যপদ গ্রহণ, নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে কিউইফ্রুট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপন, অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা এবং খাদ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে।

  • Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁকে হত্যার চেষ্টা হলে ইরানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব সামরিক হামলার নির্দেশ আগে থেকেই দেওয়া রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকার পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ ভয়াবহ সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য (Trump)

    ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি কার্যকর করা হলে বা একজন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে।’’ তাঁর আরও দাবি, প্রথম দফার হামলার পরপরই হাজার হাজার অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বছরের জন্য, প্রয়োজনে যার মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” এর আগে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই তাদের টার্গেট। এটাই বাস্তবতা। যদি আমার সঙ্গে কিছু ঘটে, তা হলে এমন মাত্রায় ইরানে বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।’’

    ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট

    তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁকে হত্যার নতুন কোনও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য নেই। ইজরায়েল এই ধরনের নতুন কোনও তথ্য পেয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “না, না। ইজরায়েল এমন কিছুই পায়নি। আমি বহু দিন ধরেই ইরানের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে আছি। এটাই বাস্তবতা।” চলতি সপ্তাহেই নিজেকে ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। এদিন তিনি ফের জানান, ইরানকে কখনওই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। তবে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কোনও সংঘাত হলেও, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান। পরে মার্কিন প্রশাসন ট্রাম্পকে হত্যার একাধিক কথিত ইরান-যোগের ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ করলেও, তেহরান বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ!

    এদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান ফের আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের কাছে আবার আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গিয়েছে।’’

  • Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। তাঁর সঙ্গেই স্বদেশে (Bangladesh) ফিরবেন নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। বর্তমানে ভারতে রয়েছেন হাসিনা। তিনি জানান, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও, বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।সংবাদসংস্থাকে দেওয়া ঘণ্টাখানেকের টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে আশি ছুঁইছুঁই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, “আমি দেশে ফিরব। আমায় গ্রেফতার করা হতে পারে। হত্যা করা হলেও, আমি ফিরব।”

    ‘যদি মৃত্যুই আসে…'(Sheikh Hasina)

    তিনি বলেন, “আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।” এটাই প্রথমবার, যখন হাসিনা প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা জানালেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামি লিগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। হাসিনার পাশাপাশি এঁকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের জেরে টানা কয়েক সপ্তাহের হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশ (Bangladesh) ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। সেনাপ্রধানের পরামর্শেই নিরাপত্তার স্বার্থে দেশ ছাড়েন বলে সেই সময় জানা গিয়েছিল। এরপর থেকে হাসিনা রয়েছেন ভারতেই।

    মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হাসিনা

    গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার অভিযোগে দেশে না থাকা অবস্থায়ও হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। যদিও প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন পড়শি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বারবার হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরাতে ভারতের কাছে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব।” তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকার কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তাই এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’’ ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আবেদন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা

    তাঁর বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) দায়ের হওয়া মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে হাসিনা বলেন, “আমি বিচারব্যবস্থার ওপর (Bangladesh) বিশ্বাস রাখি। আদালতে মামলা শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবেন এই বিচার কতটা প্রহসনের।” তিনি বলেন,  ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন। তাই আমি বলেছি, এ বার আমি ঘরে ফিরছি। এক দিন আপনাদের সকলকেই ফিরতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের প্রহসনমূলক চরিত্র প্রকাশিত হয়ে যাবে। আমি সেটাই চাই।’’ মহম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষেধাজ্ঞার জেরে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামি লিগ। হাসিনা চান, তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক বাংলাদেশের জনগণ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন।

    কারাবাসের ভয় নেই

    তিনি জানান (Sheikh Hasina), কারাবাসের ভয় তাঁর নেই। অতীতেও একাধিকবার তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালে, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। অবশ্য তাঁর কারাবাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো হাসিনা। হাসিনা এও জানান, নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠন করতে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত নয়।

    আত্মসমালোচনা হাসিনার

    দীর্ঘ ২০ বছরের রাজপাট নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেন হাসিনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি (Sheikh Hasina)।” আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। হাসিনা ভারত ছেড়ে নিজের দেশে না ফেরায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। চলতি বছরেই তিনি যে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফিরবেন, তা আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বার নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বরেই তিনি ফিরছেন বাংলাদেশে (Sheikh Hasina)।

     

  • Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের (Christopher Luxon) সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ঘোষণা করলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    বৈঠকের পর এক্স (আগের টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছিল। আর চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফর হিসেবে আমার এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করল। আমরা সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য ও বাস্তব ফলাফলকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’

    ২০৩০-এর মধ্যে ৩৫,০০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা

    দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৭০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি) করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত কার্যকর করতে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই বৈঠকে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সামনে এসেছে, যার মধ্যে ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে আগামী চার বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তারের একটি রোডম্যাপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের একটি কাঠামো এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি।

    বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যৌথ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহযোগিতার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে গভীর কৌশলগত আস্থার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে আরও সহযোগিতা

    মোদির মতে, ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ। সেই কারণেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।’

    একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, ক্রীড়া এবং পশুপালন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে আলোচনা

    পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁরা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে পুনঃস্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন দুই নেতা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের উপর যে কোনও ধরনের বাধার বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণে জোর

    এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জে (ইউএন) সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণের প্রতিও নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও ক্রিস্টোফার লাক্সন।

    নতুন গতি পাবে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক

    কূটনৈতিক মহলের মতে, চার দশক পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দেশই এখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পাবে।

  • PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে পা পড়ল ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in New Zealand)। শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। ১৯৮৬ সালের পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেননি। এই দীর্ঘ বিরতির পর মোদির সফর দুই দেশের মধ্যে পুরনো বন্ধুত্বকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে সফরের শুরু হয়। দুই নেতা হাত মিলিয়ে কথা বলেন এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ‘ঐতিহাসিক’ সফর আখ্যা মোদির

    অকল্যান্ডে পা রাখার পরেই নিজের নিউজিল্যান্ড সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি লেখেন, “কিছুক্ষণ আগেই অকল্যান্ডে পৌঁছলাম। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সনকে ধন্যবাদ। এই সফর ঐতিহাসিক, কারণ চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এলেন।” নিজের পোস্টের সঙ্গে সফরের কিছু ছবিও শেয়ার করেন মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অকল্যান্ডে কমিউনিটি ভাষণ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বের সব দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামী কাল অকল্যান্ডে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেব।” শুক্রবার অকল্যান্ডে বিমান থেকে নামার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। লাক্সনের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এটিই নিউজিল্যান্ডে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মসূচি

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অকল্যান্ডে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। গত দু’বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন তাঁরা। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, অকল্যান্ডে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলবেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মজবুত সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশে ভাষণও দেবেন। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ক্রিস্টোফার লাক্সন যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট

    সফরের সবচেয়ে বড় খবর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে অগ্রগতি। দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় উভয় দেশই উচ্ছ্বসিত। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, আইটি সেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লাক্সন বলেন, “ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এফটিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হবে।” অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানুষের মধ্যে সংযোগও গভীর। এই সফর সেই বন্ধনকে আরও মজবুত করবে।” দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের। ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে দুধ, মাংস, ফলমূল এবং ওয়াইন আমদানি করে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে ওষুধ, আইটি সেবা, টেক্সটাইল এবং মেশিনারি পায়। চুক্তির ফলে শুল্ক হ্রাস পাবে, যা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে। সফরের এজেন্ডায় শুধু বাণিজ্য নয়, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাও রয়েছে।

    বিনা শুল্কে বাণিজ্য

    ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ভারত–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand Trade Deal) কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই নিউজিল্যান্ডের ভারতের উদ্দেশে রফতানির ৫৭ শতাংশ পণ্যের ওপর কোনও শুল্ক (ট্যারিফ) থাকবে না। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

    ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্ব

    নিউজিল্যান্ড সফরটি প্রধানমন্ত্রী মোদির তিন দেশব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যকেও এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদির নিউজিল্যান্ড সফর এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    সুশান্ত দাস

    ভারতের কাছ থেকে ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ (Astra) বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল (BVRAAM) ইন্দোনেশিয়ার কেনার সিদ্ধান্ত চিনের কপালেও ভাঁজ ফেলেছে। বেজিংয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রভাব পড়তে পারে গোটা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও ভূ-রাজনীতির ওপর। বিশেষ করে মালাক্কা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা কূটনীতির বিস্তারকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে চিন।

    চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সামরিক চুক্তি

    ভারতের তৈরি ‘ব্রহ্মস’ এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ কেনার সিদ্ধান্তে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করল চিন। আর সেই স্বীকৃতির পরই চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিল, বেজিং এই চুক্তিকে শুধু অস্ত্র রফতানি হিসেবে দেখছে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ব্রহ্মসের গ্রাহক হচ্ছে এবং একই সময়ে ভিয়েতনামের সঙ্গেও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করছে, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা-অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, ভারত এখন শুধু অস্ত্র রফতানি করছে না, বরং আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কও গড়ে তুলছে।

    ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ বলছে চিন

    চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধে জড়িত দেশগুলির হাতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে গেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলেই মনে করছে বেজিং। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা এখন শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নয়াদিল্লির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

    ব্রহ্মসের মোকাবিলা কীভাবে? ভাবনা শুরু চিনের!

    তবে একই সঙ্গে ব্রহ্মসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে চিনা প্রতিরক্ষা মহল। তাদের দাবি, রফতানিযোগ্য ব্রহ্মস সংস্করণের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর আগের রফতানি নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এই সংস্করণ মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষার জন্য বেশি উপযোগী, দীর্ঘ-পাল্লার আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য নয়। এছাড়াও চিনা বিশ্লেষকদের দাবি, পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ‘টাইপ ০৫৫’ এবং ‘টাইপ ০৫২ডি’ ডেস্ট্রয়ারে থাকা বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম। যদিও এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে তাত্ত্বিক এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    মালাক্কা প্রণালি ঘিরে বাড়ছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব

    চিনা প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানকে। মালাক্কা, সুন্ডা এবং লম্বক প্রণালি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। বিশ্বের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের বড় অংশ এই রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়। চিনের আশঙ্কা, এই ধরনের কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশগুলির হাতে যদি স্থলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, তবে ভবিষ্যতের কোনও আঞ্চলিক সংঘাতে নৌ-অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে ভারতের যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠছে, তা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    ইন্দোনেশিয়াকে সরাসরি আক্রমণ নয়, সতর্ক বার্তা বেজিংয়ের

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্দোনেশিয়ার সমালোচনা না করে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সম্পাদকীয়গুলিতে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তির বাইরের দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, চিন এখনও ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার—এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের জন্য বড় মাইলফলক

    ভারতের দৃষ্টিতে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সাফল্য। ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস ভারতের সবচেয়ে সফল প্রতিরক্ষা রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি কার্যকর হলে অ্যাস্ট্রা হবে ভারতের প্রথম স্বদেশে তৈরি বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যা বিদেশে রফতানি করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিণত সক্ষমতারও প্রমাণ। একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত অস্ত্র-রফতানিকারি দেশগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলির কাছে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

    ‘স্ট্রিং অব পার্লস’-এর জবাব দিচ্ছে ভারত, বলছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকরা

    ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই চুক্তিকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল পিকে সেহগল (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়ার ব্রহ্মস কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এটি আত্মনির্ভর ভারত এবং মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগেরও বড় সাফল্য।’’ তিনি জানান, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে তা ৫০,০০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। মেজর জেনারেল সেহগল আরও জানান, ভারতের সঙ্গে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পর এবার ইন্দোনেশিয়ারও ব্রহ্মস চুক্তি প্রমাণ করছে যে, চিন যেভাবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, ভারতও তার কৌশলগত জবাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়া শুধু ব্রহ্মসই নয়, ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রও নিচ্ছে, যা দেশটির বিমানবাহিনি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সাবাং বন্দর-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।’’

    ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ কৌশলের ইঙ্গিত

    মেজর জেনারেল সঞ্জয় সোই (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তি চিনের সম্প্রসারণবাদি নীতির কার্যকর জবাব। তাঁর মতে, চিন যেখানে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশলের মাধ্যমে ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছে, সেখানে ভারত ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ নীতির মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত অংশিদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল ধ্রুব কাটোচ (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ব্রহ্মসের মতো কৌশলগত অ্যাস্ট্রা কোনও দেশের হাতে থাকলে সেটি শুধুমাত্র যুদ্ধের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence) তৈরি করে। এতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সামরিক আগ্রাসনের আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়।’’

    ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি শুধু একটি প্রতিরক্ষা রফতানি নয়; এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ভারতের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উপর আস্থা দেখাচ্ছে, তখন স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা রফতানিকারি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশিদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছে। একই সঙ্গে চিনের তীব্র প্রতিক্রিয়াও এই চুক্তির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

LinkedIn
Share