Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Iran: ৪৭তম দিনে পড়ল ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, ক্ষোভ

    Iran: ৪৭তম দিনে পড়ল ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে ইরান (Iran)। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসের মতে, ইরানে ইন্টারনেটের প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট (Digital Blackout) এখন ৪৭তম দিনে পড়ল, যেখানে সাধারণ জনগণ ১,১০৪ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক সংযোগ ছাড়াই রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতেই নতুন করে শুরু হওয়া দেশীয় বিক্ষোভের পর ডিজিটাল অ্যাক্সেস ভেঙে পড়তে শুরু করে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞাগুলি আরও কঠোর ও তীব্র হয়ে ওঠে।

    বিশাল তথ্যশূন্যতা (Iran)

    পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এই দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন লাখ লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং একটি বিশাল তথ্যশূন্যতা তৈরি করেছে। যদিও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে চালু রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের বাধা দেশটিকে একটি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সময় কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ অবস্থা সাম্প্রতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল সেন্সরশিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে ১,১০৪ ঘণ্টার মাইলফলক সংযোগ সঙ্কটের তীব্রতা নির্দেশ করছে। এই অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল নীরবতা একই সঙ্গে একটি গভীরতর কূটনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিদেশি চাপ ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ইসলামিক রিপাবলিকের ওপর বলপ্রয়োগের যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।” এহেন মন্তব্যটি এসেছে যখন একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে (Iran)।

    ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-এর মতে, পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, “ইরান গঠনমূলক আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও জোরজবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না।” ইসলামাবাদে প্রাথমিক আলোচনার অচলাবস্থার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার খবরের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যটি আসে। তিনি বলেন, “আমরা গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছি, কিন্তু আত্মসমর্পণে বাধ্য হব না। ইরানের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং জনগণ কখনওই তা মেনে নেবে না। ইরান যুদ্ধ চায় না (Digital Blackout)।”

    তেহরান-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরও খারাপ

    প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে বেড়ে যাওয়া উত্তেজনার প্রতিফলন, বিশেষ করে আমেরিকা কর্তৃক ইরানের বন্দরগুলি অবরোধের সিদ্ধান্তের পর, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে আরও খারাপ করেছে (Iran)। পেজেশকিয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর প্রশ্ন, “কার অনুমতিতে এবং কোন অপরাধের জন্য আমাদের দেশের ওপর এই আক্রমণ চালানো হয়েছে?” তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির আলোকে অসামরিক মানুষ, শিশু, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং স্কুল-হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হামলার কোনও যৌক্তিকতাই নেই।” তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান শান্তি চায়, তবে তার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনও বাহ্যিক চাপ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে। ৪৭তম দিনে ইরানের ১,১০৪ ঘণ্টার ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট (Digital Blackout) আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে আরও তীব্র হয়েছে (Iran)।

    ইরানের বন্দরগুলিতে সফল অবরোধ

    এই প্রতিরোধ এখন একটি বৃহৎ সামরিক মোতায়েনের মুখে পড়েছে। একই দিনে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করে, ইরানের বন্দরগুলিতে পূর্ণ অবরোধ সফলভাবে কার্যকর হয়েছে। মার্কিন বাহিনী কৌশলগত জলপথ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। এক বিবৃতিতে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের সমুদ্রপথে সব ধরনের বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রাখার ফলে ইরানের বন্দরগুলি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনীতি সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ শুরুর ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ে সমুদ্রপথে সব অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”

    আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জানিয়েছেন, এই অভিযানে ১০,০০০-এর বেশি মার্কিন সেনা সদস্য, নাবিক, মেরিন ও বিমানসেনা অংশ নিয়েছে, পাশাপাশি এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও বহু বিমান (Digital Blackout) মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আঞ্চলিক সঙ্কট চলাকালীন অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকে (Iran)।

     

  • Earthquake: ফের ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, পাশে থাকার আশ্বাস ভারতের

    Earthquake: ফের ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, পাশে থাকার আশ্বাস ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পের জেরে বুধবার কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি হয়েছিল মাটির ১৪০ কিলোমিটার গভীরে। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টেই এ খবর জানিয়েছে এনসিএস। গত ১২ এপ্রিলও ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল আফগানিস্তান। সেদিনও কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। তার উৎসস্থল ছিল ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে ৬ এপ্রিল, ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারত বন্যা ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তানকে মানবিক সাহায্য দিয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Earthquake)

    এক্স হ্যান্ডেলে আর একটি পোস্টে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারত মানবিক সাহায্য ও দুর্যোগ ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ছিল রান্নার সেট, স্বাস্থ্যবিধি কিট, প্লাস্টিক শিট, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ এবং আরও অন্যান্য সামগ্রী।” তিনি বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” টোলো (TOLO) নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুদিনে আফগানিস্তানের ২৫টি প্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। জখম হয়েছেন ৫২ জন। রেড ক্রসের মতে, আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, বিশেষ করে হিন্দুকুশ অঞ্চলে, যা অত্যন্ত সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলের অন্তর্গত।

    আফগানিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণতা

    আফগানিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণতা এর অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ এটি রয়েছে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে। এছাড়া, একটি প্রধান ফল্ট লাইন দেশের বিভিন্ন অংশ দিয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে হেরাত অঞ্চলও রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (UNOCHA) জানিয়েছে, আফগানিস্তান এখনও ভূমিকম্প, ভূমিধস এবং বন্যা-সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার কম্পন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে, বিশেষ করে সেইসব সম্প্রদায়ের জন্য যারা বহু বছরের সংঘাত ও সীমিত উন্নয়নের কারণে ইতিমধ্যেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

     

  • BLA: বিএলএ কর্তৃক নৌ-শাখা ‘এইচএমডিএফ’ গঠনের ঘোষণা; পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের নৌকায় হামলার ভিডিও এবার প্রকাশ্যে

    BLA: বিএলএ কর্তৃক নৌ-শাখা ‘এইচএমডিএফ’ গঠনের ঘোষণা; পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের নৌকায় হামলার ভিডিও এবার প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তনের পাকসেনা বিরোধী বালুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের একটি নতুন নৌ-শাখা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘হাবিল মারি ডিফেন্স ফোর্স’ (HMDF)। এই ঘোষণার পাশাপাশি তারা পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের একটি নৌকায় হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে।

    নতুন নৌ-শাখা (BLA)

    বিএলএ-এর (BLA) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই বিশেষ শাখাটি সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে পাকিস্তানি নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের গতিবিধি (HMDF) লক্ষ্য করে কাজ করবে। বালুচিস্তানের সমুদ্র সম্পদ রক্ষা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আধিপত্য কমানোই এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য বলে তারা দাবি করেছে।

    কোস্ট গার্ডের ওপর হামলা

    বিএলএ-এর (BLA) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সমুদ্রের মাঝে পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের একটি টহলদারি নৌকায় (HMDF) অতর্কিত হামলা চালানো হচ্ছে। ভিডিওতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং নৌকায় থাকা পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

    ভিডিওর সত্যতা

    প্রতিবাদী বিএলএ গোষ্ঠীর তরফে দাবি করেছে যে, এই হামলাটি তাদের নবগঠিত নৌ-শাখা এইচএমডিএফ-এর দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই ভিডিও বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    নিরাপত্তা উদ্বেগ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএলএ-এর (BLA)  এই নতুন নৌ-শাখা গঠন পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে করাচি এবং গোয়াদর বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বালুচিস্তান অঞ্চলে গত কয়েক দশকে বিদ্রোহ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তীব্রতর হয়েছে। বিএলএ প্রায়শই পাকিস্তানের পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার দায় স্বীকার করে থাকে। এবারের নৌ-শাখা (HMDF) গঠনের ঘোষণা এই লড়াইকে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • Vikram Misri’s US Visit: ভারত-আমেরিকা জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর মার্কিন সফরে নয়া দিক

    Vikram Misri’s US Visit: ভারত-আমেরিকা জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর মার্কিন সফরে নয়া দিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো আসতে পারেন ভারত সফরে। তিনদিনের আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী (Vikram Misri’s US Visit)। সেখানে বাণিজ্য এবং ‘কোয়াড’-সহ নানা বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তার পরই আমেরিকার বিদেশ সচিবের ভারত সফরের বিষয়টি গতি পেয়েছে। বিক্রমের আমেরিকা সফরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকগুলিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোরে। তিনি পরে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বিক্রম মিস্রীকে স্বাগত জানাই। মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রুবিয়ো ভারত সফরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন’।

    পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    বিক্রম মিস্রী-র (Vikram Misri) সাম্প্রতিক এই সফর (৮–১০ এপ্রিল) ভারত–মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট (Chris Wright)-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশ অসামরিক পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি হল ভারতের নতুন পরমাণু আইন, যা গত ডিসেম্বর মাসে পাস হয়েছে।

    শান্তি আইন (SHANTI) কী

    ভারতের পরমাণু শক্তি খাতে বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করেছে ‘সাসটেনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (SHANTI)’ আইন। এই আইনের প্রধান লক্ষ্য, স্বাধীনতার ১০০ বছর তথা ২০৪৭-এ পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভারতের ‘শান্তি’ আইন ২০২৫-কে স্বাগত জানিয়েছে। বিলটি পাশ হওয়ার পরেই এটিকে ‘শক্তিশালী শক্তি নিরাপত্তা অংশীদারি’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা’র দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকা। কেন্দ্রের দাবি, এখন ৮.৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ২০৪৭-এ তা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া, যাতে পেট্রল-ডিজ়েল আমদানির উপরে নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়, সে জন্যই পরমাণু বিদ্যুৎক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নি প্রয়োজন।

    পরমাণু খাতে বড় সংস্কার

    নতুন শান্তি আইন (SHANTI) ভারতের পরমাণু নীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এতদিন এই খাত পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এখন থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলিও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। এই আইনের ফলে—
    বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। পরমাণু উৎপাদন ক্ষেত্রে মার্কিন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ সহজ হবে। পরমাণু শক্তি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই আইনি সংস্কার ভারত–মার্কিন শক্তি সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

    ২০৪৭ লক্ষ্য: ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি

    ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে— আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সফরে শুধু জ্বালানি নয়, আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে— বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উপর জোড় দিয়েছে দুই দেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক ও পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্য চুক্তি

    চলতি মাসের শেষেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছে এক উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল। লক্ষ্য, দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য চুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই খবর জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক নীতিগুলি সফল করতে মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে তাঁর ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গর বলেন, “ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে। এই মাসেই ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি

    বিদেশ মন্ত্রক একটি সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিদেশ সচিবের ওয়াশিংটন ডিসি সফরের ফলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এই সফরে বিদেশ সচিব মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত এমন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসে।”

  • India: ফের একবার আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়াল ভারত, এবার কী সাহায্য করা হচ্ছে?

    India: ফের একবার আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়াল ভারত, এবার কী সাহায্য করা হচ্ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত। মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, আফগানিস্তানের শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচিকে সমর্থন করতে ১৩ টন বিসিজি (BCG) টিকা এবং সংশ্লিষ্ট শুকনো সামগ্রী সরবরাহ করল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্যেই জানা গেল এ খবর।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (India)

    এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রককে ১৩ টন বিসিজি টিকা এবং সংশ্লিষ্ট শুকনো সামগ্রী দিয়েছে, যাতে দেশটির শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধ টিকাকরণ কর্মসূচি আরও জোরদার করা যায়।” এই চালানটি আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে, যাতে দেশের শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধ কর্মসূচি শক্তিশালী করা যায়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানকে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে, এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং টিকা দানও রয়েছে। ৩ এপ্রিল আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের পরেও এই সাহায্য অব্যাহত রয়েছে। এর আগে, ৫ এপ্রিল বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ভারত বন্যা ও ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে।

    ভারত আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে

    সেই সময় রণধীর জয়সওয়াল এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ভারত দুর্যোগ ত্রাণ সামগ্রী যেমন রান্নার সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যবিধি কিট, প্লাস্টিক শিট, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ ইত্যাদি পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তা দান অব্যাহত রাখবে।” জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১৩১টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ৬৫০টির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ৩,০০০-এর বেশি জেরিব কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তান সরকার রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছে। সাম্প্রতিক তালিকাকে তারা “অযৌক্তিক এবং অকার্যকর” বলে অভিহিত করেছে।

    আফগানিস্তানের মুখপাত্রের বক্তব্য

    এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নীতিগত ব্যর্থতা এবং সঠিক বিশ্লেষণের অভাব প্রকাশ করে।” তিনি বলেন, “বারবার একই পদক্ষেপ করা যুক্তিহীন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এর প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।” মুজাহিদ আরও বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞাগুলি মূলত সাধারণ আফগান জনগণের ক্ষতি করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নয়।” তিনি সতর্ক করেন, ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজকেও প্রভাবিত করে।

    প্রসঙ্গত, এই মন্তব্যগুলি এসেছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর। সেখানে ১৯৮৮ সালের নিষেধাজ্ঞা কমিটি চারজন প্রবীণ তালিবান কর্তার তথ্য আপডেট করা হয়েছে। এঁরা হলেন, মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ, আবদুল গনি বরাদর, আমির খান মুত্তাকি এবং হেদায়াতুল্লাহ বাদরি।

     

  • PM Modi: প্রথম বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রীর মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন

    PM Modi: প্রথম বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রীর মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র বালেন শাহ (Nepal PM Balendra) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। একদিকে যখন তিনি নেপালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে ভিআইপি সংস্কৃতি, আমলাতন্ত্র ও শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে ১০০ দফার এক আমূল পরিবর্তনকারী কর্মসূচি শুরু করেছেন, ঠিক তখনই এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা সামনে এল।

    বালেন শাহের প্রথম বড় সফর (PM Modi)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, “নেপাল সরকার এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রক এখন এই সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে বালেন শাহের প্রথম বড় কোনো বৈদেশিক বা কূটনৈতিক সফর। এর আগে ২০২৩ সালের জুন মাসে নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল “প্রচণ্ড” ভারত সফর করেছিলেন।

    নেপালে আমূল সংস্কারের উদ্যোগ

    ভারত সফরের (PM Modi) প্রস্তুতির পাশাপাশি কাঠমাণ্ডুতে নতুন সরকার বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন থাকতে পারবে না। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সমস্ত দলীয় ছাত্রসংগঠন ভেঙে দিয়ে সেগুলোর পরিবর্তে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ বা ‘ভয়েস অফ স্টুডেন্টস’ প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে হবে।

    ভিআইপি সংস্কৃতি নির্মূল

    সরকারি অফিস থেকে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি সরিয়ে ফেলা এবং ব্যক্তিগত সংবাদমাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় হ্রাস

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ১৭টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও মন্ত্রীদের সন্তানদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি স্কুলে পাঠাতে হবে।

    স্বাস্থ্য ও পরিষেবা

    গরিবদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ‘জিরো পেন্ডিং ফাইল’ অভিযান শুরু হয়েছে।

    বালেন শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “স্কুল ও কলেজগুলো আর রাজনীতির আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, বরং সেগুলো শুধুমাত্র শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে।”

    ভারতের সাথে সম্পর্ক

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) গত মাসে বালেন শাহকে (Nepal PM Balendra) সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং ভারত-নেপাল বন্ধুত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন। নেপাল সরকারের এই সফরের সিদ্ধান্তকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে মাদক সংক্রান্ত বিবাদে মুসলিমের হাতে মুসলিম খুন! রংপুরে নির্দোষ হিন্দুদের বাড়ি ও দোকানে হামলা

    Bangladesh: বাংলাদেশে মাদক সংক্রান্ত বিবাদে মুসলিমের হাতে মুসলিম খুন! রংপুরে নির্দোষ হিন্দুদের বাড়ি ও দোকানে হামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) নতুন করে সাম্প্রদায়িক হিংসার খবর পাওয়া গিয়েছে। রংপুরে দুই মুসলিম ব্যক্তির মধ্যে মাদক সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিবাদকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটলেও, তার জেরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের (Hindu) ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ফের আরেকবার বিপর্যস্ত হিন্দু জনজীবন।

    ৪০ থেকে ৬০ জনের একটি দল আক্রমণ করে (Bangladesh)

    রংপুরের (Bangladesh) দাসপাড়া বাজার এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসা নিয়ে পুরনো শত্রুতার জেরে রাকিব হাসান নামে এক মুসলিম যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে মোহাম্মদ মোমিন নামের এক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিহত এবং অভিযুক্ত উভয়ই মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও একদল সশস্ত্র উগ্র জনতা দাসপাড়া এলাকার হিন্দু বসতিতে হামলা চালায়। উল্লেখ্য, এই এলাকায় প্রায় ১০০টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ৪০ থেকে ৬০ জনের একটি দল অন্তত ২০টি হিন্দু মালিকানাধীন দোকান ভাঙচুর করে এবং বেশ কিছু বাড়ির দরজা-জানলা গুঁড়িয়ে দেয়। হামলাকারীরা গালিগালাজ করার পাশাপাশি একটি মন্দিরের দানবাক্স লক্ষ্য করেও হামলা চালায়।

    রংপুর (Hindu) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মজিদ আলী জানিয়েছেন, তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি ‘তৃতীয় পক্ষ’ এই হামলা চালিয়েছে। নিহতের মা নূর জাহান বেগমও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, হিন্দুদের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘটেছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন

    একই সাথে কুষ্টিয়াতেও (Bangladesh) এক আধ্যাত্মিক নেতা শামীম রেজাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সেখানেও হামলার পর স্থানীয় বেশ কিছু হিন্দু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হামলার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ ধরে সশস্ত্র হামলা (Hindu) চললেও পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব (RAB) মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে

  • US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবরুদ্ধ হরমুজ। সোমবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই হরমুজ প্রণালীতে ‘অবরোধ’ শুরু করল আমেরিকা। তবে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সায় দেয়নি ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার ইরান যুদ্ধের শুরুতেই নিঃশর্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু স্টার্মার তাঁর আশা পূরণ করেননি। এবার ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করল লন্ডন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল থেকে হরমুজ অবরোধের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন, তাতে তাঁর সায় নেই, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধের অভিযানে শামিল হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

    কাদের আটাকানো হবে, কারা ছাড় পাবে

    ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

    ট্রাম্পের নির্দেশ

    মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে শুল্ক দিয়ে যে সমস্ত দেশ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ করবেন। সেই ভাবনা থেকেই অবরোধ শুরু করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণের জন্য ইরানকে শুল্ক দেওয়া ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর পর হরমুজের জলে যে মাইন পেতেছিল ইরানের সেনা, সেগুলিও ধ্বংস করার কাজ আমেরিকা শুরু করবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘যারা বেআইনি শুল্ক দেয়, তাদের কেউ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে না। আর আমাদের উপর ইরান থেকে কেউ যদি কোনও হামলা করে বা গুলি চালায়, শান্তিপূর্ণ ভাবে যাতায়াতকারী কোনও জাহাজের উপর যদি হামলা হয়, আমরা তাদের নরকে পাঠাব।’’

    ইরানের পাল্টা

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা দিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। বলা হয়েছে, হরমুজের দিকে কোনও সামরিক জাহাজ যদি এগিয়ে আসে, তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসাবে ধরা হবে এবং কঠোর ভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ আমেরিকার উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘তোমরা যদি যুদ্ধ করো, আমরাও করব। তোমরা যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসো, আমরাও যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করব।

  • Afghanistan-Pakistan: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে পরপর দুই দিনে ১৬ জন হাজারা শিয়া মুসলিমকে হত্যা করল উগ্রবাদী সুন্নি জঙ্গিরা

    Afghanistan-Pakistan: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে পরপর দুই দিনে ১৬ জন হাজারা শিয়া মুসলিমকে হত্যা করল উগ্রবাদী সুন্নি জঙ্গিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে (Afghanistan-Pakistan) সংখ্যালঘু হাজারা শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর ফের রক্তক্ষয়ী হামলা চালাল উগ্রপন্থী সুন্নি ইসলামপন্থী জঙ্গিরা (Sunni Islamist Radical)। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দেশে পৃথক দুটি হামলায় মোট ১৬ জন হাজারা শিয়া নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের কোয়েটায় ৪ জন এবং আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ১২ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে কট্টর ইসলামী মৌলবাদের শিকার দুই দেশের মুসলিম সমাজ।

    হেরাত প্রদেশে গণহত্যা (Afghanistan-Pakistan)

    আফগানিস্তানের (Afghanistan-Pakistan) হেরাত প্রদেশে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় একটি ভয়াবহ হামলায় ১২ জন হাজারা শিয়া নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দুকধারীরা অতর্কিতে সাধারণ নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে হাজারা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই আইএস (ISIS-K) সহ বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর (Sunni Islamist Radical) লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। এই ঘটনায় মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    কোয়েটায় হামলা জঙ্গিদের

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের বালুচিস্তান (Afghanistan-Pakistan) প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে ৪ জন হাজারা শিয়া নাগরিক নিহত হয়েছেন। কোয়েটার হাজারা টাউন এলাকায় এই হামলাটি চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীরা লক্ষ্য স্থির করে গুলি চালায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। লস্কর-ই-জাংভি বা আইএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলো (Sunni Islamist Radical) এই এলাকায় নিয়মিত শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালিয়ে থাকে।

    বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

    পরপর দুই দিনে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—উভয় দেশেই হাজারা শিয়ারা পদ্ধতিগতভাবে জাতিগত নির্মূলকরণ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন।

    নৃশংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো মূলত সুন্নি উগ্রবাদী মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত। আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের পর শিয়াদের ওপর হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। একইভাবে পাকিস্তানেও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো (Sunni Islamist Radical) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারগুলো নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর এই নৃশংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই ঘটনার প্রতিবাদে কোয়েটা ও হেরাতের স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরুতেই ব্যর্থ ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ (Islamabad Talk Collapses)। ফলে নতুন করে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ (US Iran War) বাধা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত ১১ এপ্রিল ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ আয়োজিত হয় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে। সেখানে যোগ দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও ইরানি পার্লামেন্টের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বেশ কিছু ক্ষণ পর শান্তি বৈঠক থেকে বেরিয়ে দু’পক্ষই জানিয়ে দেয় যে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। পরে এই নিয়ে আলাদা আলাদা করে বিবৃতি দিয়েছেন ভান্স ও গালিবাফ। সেখানে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

    বৈঠক ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপট

    এই বৈঠককে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বৈঠক শেষে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানান, “ইরান আমাদের চূড়ান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে।” অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ—মার্কিন দাবি “অতিরিক্ত” এবং “আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী”। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। তা ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন বিশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। ভান্স তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘আমরা কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারিনি। এই খবর আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ। সমঝোতা ছাড়াই আমরা আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি। আমাদের শর্তগুলো খুব পরিষ্কার ভাবে ওঁদের জানিয়েছি, কী আমরা চাই এবং কী চাই না। যতটা সম্ভব স্পষ্ট করেই আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। ওরা সেটা মানতে চায়নি।’ বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রেখেছিলেন ভান্সরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। ট্রাম্পের বলে দেওয়া প্রস্তাবগুলিই ইরানের সামনে রেখেছিলেন ভান্স। তাতে ইরানের জবাব, তাদের অবস্থান ফোনেই ট্রাম্পকে তিনি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হল না।

    আলোচনা ভাঙার পিছনে কারণ

    ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতা শুধু একটি কূটনৈতিক পরাজয় নয়—এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘চোকপয়েন্ট’। যুদ্ধ থামার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থির হয়ে উঠছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যে কোনও সময় আবার বড় আকারে হামলা শুরু হতে পারে। ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

    পারমাণবিক চুক্তি

    একটি জায়গাতেই ইরান-আমেরিকা (US Iran War) আলোচনা ধাক্কা খেয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভান্স। জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চান তাঁরা। তা মেলেনি। ভান্সের কথায়, ‘‘সহজ সত্যিটা হল, আমরা ইরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার বিষয়ে একটা ইতিবাচক নিশ্চয়তা চাই। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এটাই। সেই সমঝোতাতেই আমরা পৌঁছোতে চেয়েছি। ভান্সের এই বিবৃতির পর ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার অবাস্তব, অযৌক্তিক দাবির কারণেই পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান যেন স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ত্যাগ করে। কিন্তু ইরান এটিকে তার সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

    হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ

    হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহনের পথ—এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ইরান দাবি করে, তারা এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে “নৌ অবরোধ” (Naval Blockade) ব্যবহার করা হতে পারে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে, ইরানের তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—যার বড় প্রভাব পড়বে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলিতে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ। কয়েকটি জাহাজই কেবল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ইরানের পাতা মাইন (naval mines) বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    লেবানন ইস্যু

    ইরান চেয়েছিল লেবানন-এ হেজবোল্লাহ-র বিরুদ্ধে ইজরায়েল-এর হামলা বন্ধ হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল জানায়, এটি আলাদা বিষয়—এবং হামলা চলতেই থাকবে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাতার ও কুয়েত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তারা সম্পূর্ণভাবে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলি চোখে পড়েতে পারে। বেড়ে যাবে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও জাহাজ আটক-এর ঘটনা। ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। ইরানের পক্ষ থেকে প্রক্সি যুদ্ধের বিস্তার ঘটতে পারে।

LinkedIn
Share