Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Iran: ২১ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের, বাহরিনে ইউএস ফিফথ ফ্লিট সদর দফতরকেও টার্গেট

    Iran: ২১ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের, বাহরিনে ইউএস ফিফথ ফ্লিট সদর দফতরকেও টার্গেট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের (Iran) চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত (Drone Attack) আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ২১টি মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস এবং বাহরিনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতরেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার।

    ইরানের দাবি (Iran)

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, চারটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে জর্ডনের আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এছাড়া জর্ডনের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে, ইরানের (Iran) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েত এবং বাহরিনেও নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, ওই দুই দেশেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি এও জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটে নাগাদ বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম অঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।

    ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দু’টি জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসির নৌবাহিনী বাহরিনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা (Drone Attack) চালায়। ইরানের (Iran) এহেন দাবির কিছুক্ষণ পরেই বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়ে দেয়, দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং কাছাকাছি কোনও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ শুরু করেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    সেন্টকমের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান শুরু হয়েছে, যা আগের দিনের হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে টহলরত একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে। তিনি জানান, হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আমেরিকা এর উপযুক্ত জবাব দেবে। অন্যদিকে, ইরানের (Iran) বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও হুমকির জবাব দিতে তেহরান প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনও হামলার জবাব দিতে ছাড়বে না।” উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের আহ্বানও জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সামরিক উত্তেজনা ইতিমধ্যেই ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে (Drone Attack)। যার বড় ধরনের প্রভাব পড়তে (Iran) পারে পুরো পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

     

  • MT Marivex: ওমান উপকূলে ডুবে গেল ক্ষেপণাস্ত্রবিদ্ধ বাণিজ্যিক জাহাজ! উদ্ধার ২৪ ভারতীয় নাবিক

    MT Marivex: ওমান উপকূলে ডুবে গেল ক্ষেপণাস্ত্রবিদ্ধ বাণিজ্যিক জাহাজ! উদ্ধার ২৪ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওমানের মাসিরাহ দ্বীপের কাছে বড়সড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি মারিভেক্স’ (MT Marivex)। জাহাজটিতে আগুন লাগার পর তা ধীরে ধীরে ডুবে যায়। তবে স্বস্তির খবর, জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এর একদিন আগে জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে জাহাজের ক্রুরা জরুরি ভিত্তিতে এসওএস (SOS) বার্তা পাঠান। ভারতের ওমানে অবস্থিত দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁরা সুস্থ রয়েছেন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ওমান প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

    কীভাবে উদ্ধার নাবিকরা

    কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ এমটি মারিভেক্সে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জাহাজটি বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়। এদিকে অল ইন্ডিয়া সিফেয়ারার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, আগুন লাগার পর জাহাজের এক নাবিক নিলেশ জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়ে ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই পরিস্থিতির ওপর নজরদারি শুরু করে ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখে। জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ওমানের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA), বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করেছে।

    ভারত ও ওমান সংযোগ

    এই ঘটনায় ভারত ও ওমানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতারও প্রমাণ মিলেছে। অল ইন্ডিয়া সিফেয়ারার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নাবিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে তারা রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ২৪ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর জাহাজে আগুন লাগে এবং শেষ পর্যন্ত তা ডুবে যায়, সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে (India) ‘প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিল চিন (China)। বেজিং এও জানিয়েছে, দুই দেশের উন্নয়নকে একে অন্যের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। চিন-ভারত-রাশিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষেও সওয়াল করেছে ড্রাগনের দেশ।

    চিনা বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (China)

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “ভারত ও চিন সীমান্ত-সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে।” তাঁর মতে, ইউরেশিয়ার তিন প্রধান শক্তি—চিন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লিন জিয়ান জানান, বর্তমানে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তিনি এও বলেন, “চিন ও ভারতের উচিত একে অন্যকে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে দেখা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।”

    কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে চিনের বক্তব্য

    তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার পর সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে (China)। উভয় দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। বেজিং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও এক্স হ্যান্ডেলে একই বার্তা দিয়ে বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান চিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাদের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।” প্রসঙ্গত, সীমান্তপার সন্ত্রাস-সহ একাধিক ইস্যুকে (India) কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে (China)।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলল ভারত (India Slams Pakistan)। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতানেনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ ভারতের (India Slams Pakistan)

    গত বছর পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে এই নামে চিহ্নিত করে দাবি করেছিল যে, তারা ভারতের মদতপুষ্ট। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ দাখিল করেনি। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে এই নামকরণ আসলে পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের অংশ।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে পাকিস্তান আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনাও করেন। পার্বতানেনির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করে ভারত। পার্বতানেনি সাফ জানিয়ে দেন, অসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে কোনও অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না। তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামি সংহতির কথা বললেও, রমজান মাসে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে।” ভারতের প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের।

    পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল, সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ (India Slams Pakistan)। এরপর আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN Security Council) অন্তত ২৬৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সীমান্তে এখনও ঘটছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা (India Slams Pakistan)।

     

  • India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত, রাশিয়া এবং চিনের (India-China Relation) মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করল বেজিং। চিনের মতে, ইউরেশিয়ার এই তিন প্রধান শক্তির মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, রাশিয়া-ভারত-চিন (RIC) কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে বেজিং নয়াদিল্লি ও মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত।

    ভারত-রাশিয়া-চিন সম্পর্কের গুরুত্ব

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুই নেতা পারস্পরিক সমস্যার সমাধান এবং সংলাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছেন। লিন জিয়ান বলেন, “চিন, রাশিয়া এবং ভারত—তিনটিই উদীয়মান অর্থনীতি। এই তিন দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তাদের নিজস্ব স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্যও সহায়ক।” তিনি আরও বলেন, “তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চিন প্রস্তুত।”

    আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত হয়েছে এবং তা কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। ভারত-চিন সম্পর্ককে তিনি “জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধানে বাইরের হস্তক্ষেপ বিশেষ সাহায্য করবে না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত-সহ একাধিক ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও বেজিং নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই সহনশীল ভূমিকা সারা বিশ্বের কাছে শিক্ষনীয় অভিমত পুতিনের।

    সীমান্ত পরিস্থিতি ‘সাধারণভাবে স্থিতিশীল’

    ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে লিন জিয়ান জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে “সাধারণভাবে স্থিতিশীল” রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও চিনের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে দেখা। লিন জিয়ান বলেন, “দুই দেশকে সঠিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। উভয় দেশের উন্নয়নের জন্য একে অপর সুযোগ, হুমকি নয়।” লিনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার পথে এগোনো উচিত দুই দেশের।

    ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট 

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে চিনের মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমরা দুই পক্ষকেই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ মেটানোর এবং যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।”

    মতপার্থক্য দূর হওয়ার পথে

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং নতুন অর্থনৈতিক জোটের উত্থানের প্রেক্ষাপটে আরআইসি কাঠামোর গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও নানা মতপার্থক্য থাকলেও, বেজিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও কৌশলগত সংলাপ বাড়ানোর প্রতি নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

    জিয়ানের এই মন্তব্য চিন-ভারত সুসম্পর্ক পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। কিছুদিন আগেই অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিকৃত’ মানচিত্র নিয়মিত প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে চিনকে। গালওয়ান ক্ষতের উপর নুন ছিটিয়েছে করাচির সঙ্গে বেজিংয়ের সখ্যতা। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটেনি। এই আবহে জিয়ানের এই মত, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ— সেরকমটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

    চিনকে বিশ্বাস করা যায়!

    উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ স্লোগানকে পদদলিত করে ৬২-তেই যুদ্ধে নেমেছিল চিন। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফ নেমেছে। সীমান্তবর্তী উত্তেজনা ছাড়াও নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপের সদস্যপদ গ্রহণ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার — একাধিক বিষয়ে ভারতের সামনে প্রাচীর তুলেছে চিন। ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে।

    ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’

    ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য সম্প্রতি অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। অতিমারিও এখন অতীত। কূটনীতিকদের মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই তিন দেশ পৃথক বলয় তৈরি করলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়বে। ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’ বা ‘রিক ট্রয়িকা’ বিশ্বকে চাপে রাখবে।

  • PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি — সংক্ষেপে জেএএসি বা ‘জাক’ (JAAC)— সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালাকোটে একটি শোকসভা ও ‘জনাজা’র জমায়েতে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

    কীভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ?

    ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন, যখন জেএএসি ৯ জুন সমগ্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘট ও গণআন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংঘর্ষের জেরে অন্তত ২০০ জন আহত এবং কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালকোটের বারমাং ব্রিজ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় স্থানীয় অধিকারকর্মী সর্দার উমর নাজির কাশ্মীরিকে বহনকারী একটি গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী আটকায়। অভিযোগ, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সর্দার উমর নাজির অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহজেব হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করছে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে।

    জনাজার জমায়েতে গুলি চালানোর অভিযোগ

    জেএএসি-র দাবি, শাহজেব হাবিবের জনাজার নামাজ উপলক্ষে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (CMH) বাইরে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষ ও আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও শেল নিক্ষেপ করে। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের গুলিতেই হাবিব নিহত হন। জেএএসি আরও দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এবং অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চারজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

    ‘সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে জেএএসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এনেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘অরাজকতা সৃষ্টি’-র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জেএএসি নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জনস্বার্থে পরিচালিত। সংগঠনের সদস্য শওকত নওয়াজ মির বলেন, “আমরা কোনও দেশ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত অন্যায়। ৯ জুন থেকে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ লং মার্চ শুরু হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    ৩৮ দফা দাবিপত্রে কী রয়েছে?

    জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি ৩৮ দফা দাবিপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দাবি হল—

    • ● বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস
    • ● ভর্তুকিযুক্ত আটা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
    • ● স্থানীয় সম্পদের উপর জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি
    • ● রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি
    • ● বহিরাগতদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল

    জেএএসি-র অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলি স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, বাড়ছে ক্ষোভ

    অঞ্চলে একাধিক জেএএসি নেতার গ্রেফতারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের একদল সাংসদও। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাশ্মীর বিষয়ক সর্বদলীয় গোষ্ঠীর (APPG on Kashmir) চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাডফোর্ড ইস্টের সাংসদ ইমরান হুসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রায় ৩০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গ্রেফতারি অভিযান, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জেএএসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগাযোগের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

    দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, স্থানীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চলেছে। বিশেষত গত বছর থেকে একাধিকবার বৃহৎ বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, ইসলামাবাদ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বর্তমান সংঘর্ষ সেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই নতুন বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে জেএএসি-র ঘোষিত লং মার্চ এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

  • H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ফি বড় ধাক্কা খেল আদালতে। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের ঘোষিত ১ লক্ষ ডলারের (প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকা) অতিরিক্ত এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের মতে, এই ফি কার্যত একটি ‘কর’ (Tax), যা আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এই রায়কে মার্কিন প্রযুক্তি শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা খাত এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তটি ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভারতীয়রাই অন্যতম।

    কী ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত?

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপ করেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং এই উচ্চ ফি বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে। সাধারণত এইচ-১বি ভিসার জন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন খাতে মোট ২,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের মধ্যে ফি দিতে হতো। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই খরচ এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

    আদালত কী বলেছে?

    ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক লিও সোরোকিন রায়ে বলেন, প্রশাসন এই অর্থকে ‘জরিমানা’ (Penalty) হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে এটি একটি কর (Tax)। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, “এই ১ লক্ষ ডলারের অর্থপ্রদানের প্রকৃতি ও প্রয়োগ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি কর, নাম যাই দেওয়া হোক না কেন।” তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নতুন কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন আর্থিক বোঝা চাপাতে পারেন না, যদি না কংগ্রেস সেই ক্ষমতা প্রদান করে।

    কারা মামলা করেছিল?

    ক্যালিফোর্নিয়া-সহ মোট ২০টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তাদের যুক্তি ছিল, এই বিপুল ফি আমেরিকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রযুক্তি শিল্প এবং গবেষণা ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। বহু সংস্থা বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে, যার ফলে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হবে।

    এইচ-১বি ভিসার উপর কী প্রভাব পড়েছিল?

    আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, নতুন ফি কার্যকর হওয়ার পর এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের ফি জমা পড়েছিল। এটি দেখায় যে বিপুল ব্যয়বহুল এই নীতি নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আবেদন করা থেকে নিরুৎসাহিত করেছিল।

    রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরের সমর্থন

    রায়ের পর শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার বলেন, এই ফি চালু থাকলে এমন অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র মারাত্মক সমস্যায় পড়ত, যারা ইতিমধ্যেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির মুখোমুখি। অন্যদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারও আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের কর্মীদের এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি দ্বিদলীয় উদ্যোগে আইন প্রস্তাব করেছিলেন।

    রাজ্যগুলির প্রতিক্রিয়া

    ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, এই নীতি আমেরিকার দক্ষ কর্মী আকর্ষণের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। তার বক্তব্য, “এই কর ছিল আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের চাহিদা পূরণে সহায়তা করা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভাদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।”

    হোয়াইট হাউসের অবস্থান

    আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন সন্তুষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তারা উচ্চতর আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার কয়েক দশক ধরে চলেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশেষে সেই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।” প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয় এবং সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশগুলির মধ্যে ভারত শীর্ষে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চিকিৎসক এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি বহাল থাকলে ভারতীয় আইটি সংস্থা এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠত। আদালতের এই রায় সেই আশঙ্কা আপাতত দূর করেছে।

    এইচ-১বি ভিসা কী?

    এইচ-১বি (H-1B) হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ।

    প্রতি বছর—

    • ● ৬৫,০০০টি সাধারণ এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।
    • ● অতিরিক্ত ২০,০০০টি ভিসা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
    • ● সাধারণত এই ভিসার মেয়াদ ৩ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত হয়।
    • ● প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে এই ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

    ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

    আদালতের এই রায় আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বড় বাধা তৈরি করলেও আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। হোয়াইট হাউস আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে ফেডারেল আপিল আদালত বা প্রয়োজনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে আপাতত আদালতের সিদ্ধান্ত বিদেশি দক্ষ কর্মী, মার্কিন নিয়োগকারী সংস্থা এবং বিশেষ করে ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Iran Crisis: ইরানে না যাওয়ার কড়া সতর্কতা ভারতের, দ্রুত দেশ ছাড়তে বলা হল সেখানে থাকা ভারতীয়দের

    Iran Crisis: ইরানে না যাওয়ার কড়া সতর্কতা ভারতের, দ্রুত দেশ ছাড়তে বলা হল সেখানে থাকা ভারতীয়দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করল ভারত সরকার। সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সকল ভারতীয় নাগরিককে ইরান সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে যাঁরা ইরানে রয়েছেন, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব উপলব্ধ পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর এড়িয়ে চলার জন্য আগের পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদেরও উপলব্ধ পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত দেশ ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি

    গত রাত থেকে অঞ্চলে নতুন করে সামরিক তৎপরতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ার পরই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভারতীয়দের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, বরং ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় তীর্থযাত্রী এবং অন্যান্য নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

    চলমান সংঘাতের মধ্যে অষ্টম সতর্কতা

    ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এটি চলমান ইরান-আমেরিকা-সম্পর্কিত সংঘাত ঘিরে জারি করা অষ্টম সরকারি পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি)। গত কয়েক মাস ধরে অঞ্চলের অস্থির পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে নাগরিকদের সতর্ক করে আসছে। এর আগে এপ্রিল মাসে সংঘাতের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতীয় দূতাবাস ইরানে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তখন দূতাবাস একটি বিশেষ হেল্পলাইনও চালু করে, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সেই সময় যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাগরিকদের সরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল, কারণ পরিস্থিতি যে কোনও সময় আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।

    এখনও ইরানে প্রায় ৭,৫০০ ভারতীয়

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও প্রায় ৭,৫০০ ভারতীয় নাগরিক ইরানে অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী, বিশেষত মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এছাড়াও ব্যবসা, ধর্মীয় ভ্রমণ এবং অন্যান্য পেশাগত কারণে বহু ভারতীয় সেখানে রয়েছেন। সংঘাতের শুরু থেকে ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে।

    স্থলপথে উদ্ধার অভিযান

    এর আগে হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে ইরান থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস। বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পর বহু ভারতীয়কে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের স্থল সীমান্ত ব্যবহার করে নিরাপদে বের করে আনা হয়। দূতাবাসের সহযোগিতায় সীমান্ত পারাপার, অস্থায়ী আবাসন, ভ্রমণ নথিপত্র এবং পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    নাগরিকদের প্রতি দূতাবাসের বার্তা

    ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের নিয়মিতভাবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভারত সরকার এবং তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস উভয়েই ইরানে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    পরিস্থিতির দিকে নজর দিল্লির

    পশ্চিম এশিয়ার এই নতুন অস্থিরতা ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক সেখানে অবস্থান করায় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমানে নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ভারত সরকার নতুন উদ্ধার অভিযান বা অতিরিক্ত কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরানো এবং তাঁদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

     

  • Israel: ইজরায়েলে স্থাপিত হবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের বিশাল মূর্তি; পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মহারাষ্ট্র সরকারের

    Israel: ইজরায়েলে স্থাপিত হবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের বিশাল মূর্তি; পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মহারাষ্ট্র সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইজরায়েলের (Israel) মধ্যকার কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বীর মারাঠা যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের একটি বিশাল মূর্তি এবার স্থাপিত হতে চলেছে ইজরায়েলে। সম্প্রতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) রাজ্যাভিষেক দিবস উপলক্ষে মুম্বাইতে নিযুক্ত ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করেছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক (Israel)

    মুম্বইতে ইজরায়েলের (Israel) কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি ইজরায়েলের কোনও একটি বড় শহরে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) এই স্মারক ও মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাবটি পেশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইজরায়েল সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন এবং একে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন।

    ইয়ানিভ রেভাচ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে আসার পর তিনি মারাঠা সাম্রাজ্যের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস এবং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের সুশাসন, সাহস ও দূরদর্শিতা সম্পর্কে বিশদ পড়াশোনা করেন। তিনি ভারত ও ইজরায়েলের ইতিহাসের মধ্যে এক গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, “উভয় দেশকেই নিজেদের অস্তিত্ব ও ভূমির সুরক্ষায় দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক জেরুজালেম সফরের পর দুই দেশের জনগণকে আরও কাছাকাছি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এই মূর্তি স্থাপন কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি দুই দেশের মানুষের আবেগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও মজবুত করবে।”

    ইজরায়েলে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের মহিমান্বিত

    এই মূর্তি নির্মাণের জন্য ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র, নকশা ও শৈল্পিক পরামর্শের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র সরকারের সাহায্য চেয়েছে ইজরায়েল প্রশাসন। পরবর্তীতে এটিকে একটি ‘জনগণের প্রকল্প’ (People’s Project) হিসেবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খুশির খবরটি ভাগ করে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ লিখেছেন, “এটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের সংবাদ। ইজরায়েলে (Israel) ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) মহিমান্বিত মূর্তি স্থাপনের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সফল করতে মহারাষ্ট্র সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্মারক গড়ে উঠলে তা বিশ্বমঞ্চে মারাঠা ঐতিহ্যকে যেমন সম্মানিত করবে, তেমনই দুই দেশের বন্ধুত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

  • Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন (Gilgit Baltistan Elections) আয়োজনের কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দে করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চল ভারতের (India) অংশ, যা পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Gilgit Baltistan Elections)

    পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, ছ’বছর পরে গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ২ জুন। এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার ফের তার সুপরিচিত অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, যার মধ্যে তথাকথিত গিলগিট-বাল্টিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সম্পূর্ণ, বৈধ ও অপরিবর্তনীয় ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” বিদেশমন্ত্রক এও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানও সেই দাবিরই অন্তর্ভুক্ত।

    দখল করা এলাকা খালি করুক পাকিস্তান

    পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল খালি করার আহ্বান জানিয়ে ভারত বলেছে, ওই অঞ্চলের চরিত্র বা প্রশাসনিক অবস্থার কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, এসব পদক্ষেপ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বের সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। পাকিস্তানকে এই ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতেই হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে (Gilgit Baltistan Elections), এই ধরনের উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকতে পারবে না।

    মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

    এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেফতার এবং আটক করা হচ্ছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বহু সদস্যকে জেলে পাঠানো হচ্ছে স্রেফ তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিকে দমন করতে।

    গিলগিট-বাল্টিস্তান

    প্রসঙ্গত, গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অঞ্চল বলে দাবি করে ভারত, যদিও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান।ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি জম্মু-কাশ্মীরের দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত (India) স্বাধীন হওয়ার পর এবং দেশভাগের সময়, তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দলিলে সই করেছিলেন। যদিও তারপর থেকে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত “আজাদ জম্মু-কাশ্মীর” পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাক সরকার এলাকাটি শাসন করলেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল (Gilgit Baltistan Elections)। পাক সরকারের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারা ক্রমেই বাড়ছে (India)।

     

LinkedIn
Share