Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় ভগবান রামের (Lord Ram Idol) নির্মীয়মান একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন উগ্র ইসলামপন্থী এক ব্যক্তি। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলমান গোষ্ঠীগুলির নানা মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হিন্দু দেবতা রামকে ‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে হিংসায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

    উগ্র ইসলামি বক্তার হুমকি (Lord Ram Idol)

    ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক উগ্র ইসলামি বক্তা হুমকি দিয়ে বলেন, “পলাশবাড়ী উপজেলায় হিন্দুদের দেবতা রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ যদি নির্বিঘ্নে চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, এ দেশে কোনও সম্মানিত ইসলামি আলেম নেই। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুত্ববাদীদের হাতে গণহত্যার শিকার হওয়ারই যোগ্য।” তিনি এও বলেন, “পলাশবাড়ীতে রামের একটি মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দাও। সরকারকেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলতে হবে। সরকার যদি তা না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ (মুসলমানরা) সেটি ধ্বংস করবে। সরকারকে সাহায্য করা মুসলমানদের দায়িত্ব। বাংলাদেশে এই মন্দির ভেঙে ফেলতেই হবে।”

    ভারত দখলের হুমকি

    এর আগে ভারত দখলের হুমকি দিয়েছিলেন এই উগ্র ইসলামি বক্তা। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো হবে। ভারত দখল করা হবে। মোদি ও তাঁর রাম রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মুসলমানরা যদি একযোগে আক্রমণ করে, তাহলে ভারত এক ঘণ্টাও টিকতে পারবে না।” প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যেই চলছে এই আক্রমণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

     

  • PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে।” শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin)। ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করেন তিনি। বলেন, “সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।” সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নীতি নির্ধারণ করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বাইরের কোনও চাপ এলেও ভবিষ্যতেও তাই করবে।

    নিষেধাজ্ঞার হুমকি বুমেরাং হতে পারে (PM Modi)

    তিনি বলেন, “ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি ততক্ষণাৎ বুমেরাং হয়ে যাবে।” পুতিন জানান, রাশিয়া আগে ভারতের সঙ্গে Su-57 যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সহযোগিতা বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাশিয়া একাই বিমানটি তৈরি করে। ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু যে কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাও জানান পুতিন। বলেন, “আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিশেষত্ব হল পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমরা শুধু কেনাবেচা নয়, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিই।”

    ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগ

    উদাহরণ হিসেবে (PM Modi) তিনি ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতীয় ও রুশ বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং তা সফল হয়েছে।” আমেরিকা যদি ভারত Su-57 বা S-500 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে চায়, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কি? এই (Putin) প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও উপযুক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। অন্যরা যা-ই বলুক, ভারত সবসময় এই ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি জানান, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের বদলে সামরিক প্রয়োজন ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে (PM Modi)।

    পুরানো সেই দিনের কথা

    পুতিন মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে একসময় নরেন্দ্র মোদিকে আমেরিকায় প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সবাই সেই সময়ের কথা মনে করি যখন প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী, সব নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক সফলভাবেই এগোচ্ছে।” তিনি জানান, মোদি নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাননি এবং এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও জানান পুতিন (Putin)। বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা, অন্য সব অংশীদারের মতোই, রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে, ভারতের কাছে এটা সরবরাহ করো না।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারদের, বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবসময় রক্ষা করব (PM Modi)।”

  • Putin Su-57 Offer: ‘কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’, সু-৫৭ নিয়ে এবার ভারতকে বিরাট প্রস্তাব খোদ পুতিনের, বদলাবে কি আকাশযুদ্ধের সমীকরণ?

    Putin Su-57 Offer: ‘কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’, সু-৫৭ নিয়ে এবার ভারতকে বিরাট প্রস্তাব খোদ পুতিনের, বদলাবে কি আকাশযুদ্ধের সমীকরণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জন্য আবারও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির যৌথ প্রকল্পের দরজা খুলে দিল রাশিয়া। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের (SPIEF) ফাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে আলাপচারিতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের কাছে নতুন করে সুখোই সু-৫৭ (Su-57) স্টেলথ ফাইটার জেটের যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম উন্নত এই যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে মস্কোর কোনও আপত্তি বা সীমাবদ্ধতা নেই। পুতিনের এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) এখনও পর্যন্ত কোনও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিজেদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। অন্যদিকে, চীন ও পাকিস্তান দ্রুত নিজেদের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন চাপ তৈরি করছে।

    ‘কোনও বাধা নেই, কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে ভারতকে সু-৫৭ প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই সময় রাশিয়া ও ভারত যৌথভাবে ফিফথ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (FGFA) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিল। পুতিন বলেন, “আমরা আগে ভারতকে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই সময় ভারতীয় অংশীদাররা চেয়েছিলেন রাশিয়া নিজে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাক এবং পরে তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছিল।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমানে যদি ভারত আগ্রহ দেখায়, তাহলে যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও বাধা থাকবে না।

    কেন ২০১৮ সালে প্রকল্প থেকে সরে এসেছিল ভারত?

    ভারত ও রাশিয়ার বহু প্রতীক্ষিত এফজিএফএ প্রকল্প ২০১৮ সালে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে ভারত প্রাথমিক নকশা ও গবেষণা পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। তবে ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক আপত্তি ছিল।

    প্রধান উদ্বেগগুলির মধ্যে ছিল—

    • ● সু-৫৭-এর স্টেলথ ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
    • ● উন্নত ইঞ্জিন তৈরিতে দীর্ঘ বিলম্ব
    • ● পর্যাপ্ত প্রযুক্তি হস্তান্তরের অভাব
    • ● প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান ব্যয়
    • ● যুদ্ধবিমানের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এই কারণগুলির জেরেই ভারত শেষ পর্যন্ত প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

    এবার কী বদলেছে?

    প্রতিরক্ষা মহলের সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক সংস্থা রসোবরোনএক্সপোর্ট এখন ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন শর্ত প্রস্তাব করছে। মস্কোর তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভারত চাইলে দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে যুক্ত করে বৃহৎ আকারে সু-৫৭ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের কাছে প্রস্তাবটিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

    নতুন টুইন-সিট সু-৫৭ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    রাশিয়ার নতুন প্রস্তাবের অন্যতম আকর্ষণ হল সু-৫৭-এর একটি নতুন টুইন-সিট বা দ্বি-আসন বিশিষ্ট সংস্করণ। সাধারণ প্রশিক্ষণ বিমানের মতো এটি শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের জন্য নয়। দ্বিতীয় ককপিটটিকে একটি বিশেষ যুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিতীয় আসন থেকে—

    • ● ‘লয়্যাল উইংম্যান’ ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে
    • ● একাধিক মানববিহীন যুদ্ধবিমান পরিচালনা সম্ভব হবে
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিচালনা করা যাবে
    • ● নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও কন্ট্রোল শক্তিশালী হবে

    ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে যেখানে মানবচালিত ও মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে কাজ করবে, সেখানে এই ধরনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চিন-পাকিস্তানের চাপে ভারতের উদ্বেগ

    ভারতের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল প্রতিবেশী দেশগুলির দ্রুত আধুনিকীকরণ। চিন ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যায় জে-২০ (J-20) স্টেলথ ফাইটার মোতায়েন করছে। একই সঙ্গে তারা আরও উন্নত যুদ্ধবিমান উন্নয়নের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা চিনের জে-৩৫এই (J-35AE) পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য আগামী দশকে বড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।

    অ্যামকা আসতে এখনও অনেক দেরি

    ভারত নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট বা সংক্ষেপে অ্যামকা (AMCA) প্রকল্পে কাজ করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অ্যামকা-র প্রথম প্রোটোটাইপ উড়তে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে এবং পূর্ণমাত্রায় অপারেশনাল পরিষেবায় আসতে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ভারতের সামনে একটি ‘ক্যাপাবিলিটি গ্যাপ’ তৈরি করছে, যা পূরণ করার জন্য অন্তর্বর্তী সমাধান খুঁজছে নয়াদিল্লি।

    এফ-৩৫ বনাম সু-৫৭: ভারতের সামনে দুই পথ

    ভারতের কাছে অন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রস্তাব ও রুশ প্রস্তাবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

    এফ-৩৫-এর ক্ষেত্রে—

    • ● প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সীমিত
    • ● স্থানীয় উৎপাদনের নিশ্চয়তা নেই
    • ● অপারেশনাল বিধিনিষেধের সম্ভাবনা রয়েছে
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ ও সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সংবেদনশীল

    অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে—

    • ● পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি সহযোগিতা
    • ● যৌথ উৎপাদন
    • ● মেক ইন ইন্ডিয়া অংশীদারিত্ব
    • ● দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সহযোগিতা

    এই কারণেই সু-৫৭ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ভারতের সিদ্ধান্ত কোন পথে?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই অনুমোদিত মাত্রার নিচে রয়েছে। একই সময়ে চিন ও পাকিস্তানের আধুনিকীকরণ দেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

    এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির সামনে তিনটি বড় বিকল্প রয়েছে—

    • ● দেশীয় অ্যামকা প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা করা।
    • ● রাশিয়ার সঙ্গে সু-৫৭ যৌথ উৎপাদন প্রকল্পে যোগ দেওয়া।
    • ● মার্কিন এফ-৩৫ বা অন্য কোনও বিদেশি প্ল্যাটফর্ম বিবেচনা করা।

    পুতিনের সর্বশেষ বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মস্কো ভারতের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। এখন নজর থাকবে নয়াদিল্লি এই প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের প্রস্তুতিতে কোন পথ বেছে নেয় তার দিকে।

  • Tiananmen Square: তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কী ঘটেছিল? ৩৭ বছর পরেও কেন ১৯৮৯-এর সেই গণহত্যাকে ভয় পায় চিন?

    Tiananmen Square: তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কী ঘটেছিল? ৩৭ বছর পরেও কেন ১৯৮৯-এর সেই গণহত্যাকে ভয় পায় চিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের নিজস্ব কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু একনায়কতন্ত্রের চেয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনেক ভালো। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য বহু দেশের মানুষ প্রতিবাদ করেছে, লড়াই করেছে, এমনকি প্রাণও দিয়েছে। ১৯৮৯ সালে চিনে এমনই একটি সাহসী কিন্তু ব্যর্থ আন্দোলন ঘটেছিল। ৪ঠা জুন তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যার ৩৭ বছর পূর্ণ হলো, যাকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP) হালকা করে দেখায় এবং এটিকে ‘৪ঠা জুনের ঘটনা’ বলে অভিহিত করে। তিয়ানানমেন স্কোয়ারের (Tiananmen Square) প্রতিবাদ ১৯৮৯ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল এবং ৩রা ও ৪ঠা জুন ১৯৮৯-এর মধ্যে একটি হিংসাত্মক সামরিক দমনপীড়নের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। অন্তর্নিহিত ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও, চিনে আর কখনো এই ধরনের ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দেখা যায়নি। যেহেতু সিসিপি (CCP) চিনকে একটি কমিউনিস্ট ইউটোপিয়া (আদর্শ রাষ্ট্র) হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তাই চিনের ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়টি মনে রাখা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

    তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদ: গণতন্ত্রের সন্ধানে

    ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং গৃহযুদ্ধে জয়ী হয়ে ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ প্রতিষ্ঠা করার পর রিপাবলিকান নেতা চিয়াং কাই-শেক তাইওয়ানে চলে যান। এরপর থেকে চিন কখনো গণতন্ত্র দেখেনি। চিনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র বড় প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে।

    ১৯৮৯ সালের ১৫ই এপ্রিল কমিউনিস্ট পার্টির সংস্কারপন্থী প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হু ইয়াওবাং-এর মৃত্যুর পর এই গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তাকে ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখা হতো। বেজিংয়ের তিয়ানানমেন স্কোয়ারে বিপুল সংখ্যায় শোকগ্রস্ত মানুষ সমবেত হন। এই সমাবেশ শীঘ্রই মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি, সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে এবং বাক-স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সহ রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে একটি ব্যাপক প্রতিবাদের রূপ নেয়।

    যখন হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিয়ানানমেন স্কোয়ারে জড়ো হয়েছিল, তখন সিসিপি-র মুখপত্র ‘পিপলস ডেইলি’ এই প্রতিবাদকে “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত” বলে আখ্যায়িত করে।

    ১৯৮৯ সালের মে মাসের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ছাত্র স্কোয়ার সমবেত হন এবং ১৩ই মে থেকে অনশন শুরু হয়। আন্দোলনকারী ছাত্ররা বিপুল জনসমর্থন পান এবং শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকরাও শীঘ্রই তাদের সাথে যোগ দেন। ঝাও জিয়াং-এর মতো মধ্যপন্থী নেতারা আন্দোলনকারীদের কাছে গিয়ে সহানুভূতি জানালেও, শেষ পর্যন্ত শীর্ষ নেতা ডেং জিয়াও পিং এবং চিনের প্রিমিয়ার লি পেং-এর সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

    সামরিক আইন ঘোষণা এবং কুখ্যাত তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যা

    ডেং জিয়াও পিং এবং অন্যান্য কমিউনিস্ট পার্টি নেতারা তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদকে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন।

    তিয়ানানমেন প্রতিবাদ দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায়, স্টেট কাউন্সিল ২০শে মে সামরিক আইন (Martial Law) ঘোষণা করে এবং বেজিংয়ের রাস্তায় ৩,০০,০০০-এরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করে। চিনের প্রিমিয়ার লি পেং আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামরিক আইন ঘোষণা করেছিলেন।

    সৈন্যরা বেজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ১৯৮৯ সালের ৪ঠা জুনের ভোররাতে রাজধানী শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র এই সৈন্যরা প্রদর্শনকারী ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিক উভয়কেই হত্যা করে। চিনা সেনারা এমনকি পথচারী বা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষদেরও রেহাই দেয়নি।

    যদিও চিনা সরকারি পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে যে, এই ক্র্যাকডাউনে পিএলএ সেনাসহ মাত্র ২০০-৩০০ জন মারা গেছে, তবে স্বতন্ত্র সূত্রগুলোর অনুমান অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১০,০০০-এরও বেশি। সিসিপি তাদের সিংহাসনের প্রতি এই হুমকিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষকে আহত বা গ্রেফতার করা হয়েছিল। আর এই আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল রাজনৈতিক নেতা ঝাও জিয়াংকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

    রাজনীতি সংবাদ বিশ্লেষণ, ইনস্যুরেন্স, সোশ্যাল মিডিয়া নিউজ

    তিয়ানানমেন স্কোয়ারের গণহত্যা ছিল চিনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট; সিসিপি নিশ্চিত করেছিল যে রাজনৈতিক উদারীকরণ যেন থমকে যায়। এরপর সিসিপি সরকার এমন অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করে, যাকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আসলে সেটা এই গণহত্যাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এবং অর্থনৈতিক উন্নতির চাকচিক্যে গা ভাসিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। হাতের কাছে থাকা প্রতিটি কৌশল ব্যবহার করে সিসিপি তিয়ানানমেন গণহত্যার ইতিহাস মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।

    গত কয়েক বছর ধরে সিসিপি একটি কাল্পনিক আখ্যান তৈরি করার চেষ্টা করছে যে, আন্দোলনকারী ছাত্ররা ছিল মার্কিনপন্থী এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কাজ করছিল। কমিউনিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে এই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে যে, তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘শাসনবদল অভিযান’ (regime change operation), যা তারা শক্ত হাতে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

    ১৯৮৯ সালে যখন চিনা কমরেডরা ছাত্রদের হত্যা করছিল, তখন ভারতের কমিউনিস্টরা নীরব

    ভারতের কমিউনিস্টরা বিশ্বজুড়ে থাকা কমিউনিস্ট শাসনগুলোর প্রতি, বিশেষ করে চিনের প্রতি গভীর আনুগত্য পোষণ করে। ভারতের কমিউনিস্ট নেতারা চিনকে একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করেন। সম্ভবত এই মোহগ্রস্ততার কারণেই ভারতের কমিউনিস্টরা ১৯৮৯ সালের তিয়ানানমেন গণহত্যার নিন্দা না করে এক সুবিধাজনক নীরবতা বেছে নিয়েছিল।

    দুই বছরের লজ্জাজনক নীরবতার পর, ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে সিপিআই(এম) মাদ্রাজের ১৪তম কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সেখানে তারা তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রগতিশীল আন্দোলনকে “সফলভাবে” দমন করার জন্য তারা সিসিপি-র প্রশংসা করেছিল। সিপিআই(এম) তিয়ানানমেন প্রতিবাদ এবং গণহত্যাকে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে খারিজ করে দেয় এবং আন্দোলনকারীদের ‘উচ্ছৃঙ্খল’ বা ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ বলে অভিহিত করে।

    নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির (JNU) কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠনগুলো তিয়ানানমেন স্কোয়ারে প্রতিবাদকারী চিনা ছাত্রদের ‘সিআইএ-র দালাল’ (CIA lackeys), ‘কিশোর অপরাধী’ (juvenile delinquents) এবং ‘বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল’ (bourgeois reactionaries) বলে ডাকত।

    সিসিপি দেশের ভেতরে তিয়ানানমেন ঘটনার তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা নিশ্চিত করেছে, অনলাইনে ও অফলাইনে যেকোনো আলোচনা, স্মরণসভা বা পরোক্ষ উল্লেখ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে। সিসিপি এমনকি তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যার কোনো প্যাটার্ন বা পরোক্ষ উল্লেখ খোঁজার জন্য এআই (AI) টুল ব্যবহার করে। ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল, পরিমার্জিত স্কুলের পাঠ্যক্রম এবং মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে চিনের তরুণ প্রজন্ম ১৯৮৯ সালের গণহত্যা সম্পর্কে খুব কমই জানে বা কিছুই জানে না। শোকগ্রস্ত মানুষ, কর্মী, শহীদদের পরিবার—সবাইকে কয়েক দশক পরেও তিয়ানানমেন স্কোয়ারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বললে হয়রানি ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়।

    ২০২১ সালে, চিনের ইনস্টাগ্রামের মতো একটি স্টার্টআপ ‘শিয়াওহংশু’ (Xiaohongshu), ১৯৮৯ সালের তিয়ানানমেন স্কোয়ার ক্র্যাকডাউনের বার্ষিকী ৪ঠা জুনে একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছিল, “জোরে বলো, আজ কত তারিখ?” পোস্টটি খুব দ্রুত নামিয়ে নেওয়া হয় এবং কোম্পানিটিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। চিনে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। কমিউনিস্ট শাসন তিয়ানানমেন প্রতিবাদকে তাদের ক্ষমতার জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখেছিল এবং তিন দশক পরেও তারা ১৯৮৯ সালের গণহত্যার সত্য ও স্মৃতিকে তাদের ক্ষমতার জন্য একটি হুমকি হিসেবেই দেখে চলেছে।

  • Russia Taliban Military Pact: আফগানিস্তান-রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, কতটা লাভ ভারতের?

    Russia Taliban Military Pact: আফগানিস্তান-রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, কতটা লাভ ভারতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। এর ঠিক এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে রাশিয়া কাবুলের সঙ্গে স্বাক্ষর করল সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে। বুধবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোরামে’ (International Security Forum) আফগানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মহম্মদ ইয়াকুব এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর বৈঠকে এই চুক্তি সই হয়। যদিও চুক্তিটির নির্দিষ্ট বিবরণ এখনও জানানো হয়নি। তবে ইয়াকুব একে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পদক্ষেপ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। বৈঠক শেষে ইয়াকুব বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, এবং আমরা চাই এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে যেতে।”

    মস্কো ও কাবুলের সম্পর্ক (Russia Taliban Military Pact)

    এই ঘটনা মস্কো ও কাবুলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করেছিল। এক দশক ধরে মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল সোভিয়েত। যাদের অনেকেই পরে তালিবানের অংশ হয়ে ওঠে। সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের পরেও বহু বছর দুই পক্ষের মধ্যে বৈরিতা বজায় ছিল। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান আক্রমণের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোপনে কিছু তালিবান গোষ্ঠীকে সমর্থন করার অভিযোগ ওঠে। শোইগু পশ্চিমি দেশগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন তালিবানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং আফগানিস্তানে তাদের ২০ বছরের উপস্থিতির দায়িত্ব স্বীকার করে।

    তালিবানকে স্বীকৃতি

    ২০২৫ সালে রাশিয়া তালিবানকে বৈধতা দেওয়ার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ করে। ওই বছরের এপ্রিল মাসে মস্কো তালিবানকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল ২০০৩ সাল থেকে। ওই বছরেরই জুলাই মাসে আমেরিকা এবং ন্যাটো বাহিনী ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর তালিবান ক্ষমতা দখল করে। এরপর রাশিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তৎকালীন রুশ বিদেশমন্ত্রক জানায়, তালিবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিলে গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও উন্নত হবে। তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। বলেন, “এটি অন্যান্য দেশের জন্য একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে।”

    ভারতের লাভ

    রাশিয়া ও তালিবানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। নয়াদিল্লি ঐতিহ্যগতভাবে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানে নিজেদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও বিনিয়োগ রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তালিবানের সঙ্গেও ফের যোগাযোগ শুরু করেছে। ২০২৫ সালে তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছিলেন। রাশিয়ার মদতপুষ্ট একটি তালিবান সরকার ভারতের জন্য কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার কূটনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাছাড়া, এর ফলে আফগানিস্তান পুরোপুরি পাকিস্তান বা চিনের প্রভাববলয়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমাতে পারে।

    রাশিয়া-তালিবান অংশীদারিত্ব

    এই পরিস্থিতি পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তানের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ উন্নত করার ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও সাহায্য করতে পারে। রাশিয়া-তালিবান অংশীদারিত্ব আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের ঐতিহ্যগত প্রভাবকে দুর্বল করতে পারে। একসময় ইসলামাবাদকে তালিবানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হত। কিন্তু সীমান্ত সংঘর্ষ, জঙ্গি কার্যকলাপ, এবং বিমান হামলার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দু’পক্ষের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করেছে, তালিবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে।

    প্রাণঘাতী বিমান হামলা

    আবার, কাবুল পাকিস্তানের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে। চলতি বছরের শুরুতে কাবুল অভিযোগ করে যে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী কাবুলের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রেও হামলার অভিযোগ ছিল।তালিবান কর্তাদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান অসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা টিডিপির (TTP) সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল। এই সঙ্কটের আগে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন (Durand Line) সীমান্ত বরাবর কয়েক মাস ধরে সীমান্ত গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাকিস্তান ফের অভিযোগ করেছে, তালিবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। কাবুল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে।

  • UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন সে দেশের সাংসদ রুপার্ট লো (Rupert Lowe)। তিনি দেশের বহুল আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ (Pakistan Grooming Gang) যৌন কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের (survivors) সাক্ষ্য থেকে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লো বলেন, “শুধু বিতর্ক নয় (UK), এখন এসেছে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার সময়।” পার্লামেন্টে তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি তদন্তে উপস্থাপিত সাক্ষ্যগুলি ভয়াবহ রকমের পদ্ধতিগত নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণ (UK)

    তিনি বলেন, তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্রিটেনের অন্তত ৮৫টি এলাকায় গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণের (gang-based child sexual exploitation) প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত দাবিরও ফের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি,  এই সব গোষ্ঠীর অনেকগুলির সঙ্গেই যুক্ত ছিল পাক বংশোদ্ভূত পুরুষরা। লোর মতে, “প্রধানত পাকিস্তানি পুরুষদের জড়িত থাকার একটি ধারা এবং সরকারি সংস্থাগুলির গুরুতর অবহেলা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    চরম যৌন হিংসা

    পার্লামেন্টে তাঁর পেশ করা সাক্ষ্যগুলিতে উঠে এসেছে চরম যৌন হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা। ভুক্তভোগীরা জানান, অল্প বয়সেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছিল। উপহার, মদ খাওয়ানো বা হুমকি দিয়ে তাদের প্রভাবিত করা হত। কিছু সাক্ষ্যে আবার এমনও দাবি করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর ধরে একাধিক অপরাধীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন (UK)।আরও কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতি (race) ও ধর্মকে (religion) ব্যবহার করে তাদের অপমান ও নিয়ন্ত্রণ করা হত (Pakistan Grooming Gang)। কয়েকজন ভুক্তভোগী আবার জানান, খ্রিস্টান হওয়ায় তাঁদের উপহাস করা হত অথবা বলা হত তাঁদের “মূল্য কম”।প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার (institutional failure) গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্যাতনের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ, হাসপাতালের কর্মী এবং শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ যথাযথ হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    নির্যাতনে জড়িত পুলিশ কর্তারাও!

    একটি সাক্ষ্যে এমনও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু পুলিশ কর্তাও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, এবং তাই সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। ব্রিটেনে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে এমন সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের শোষণের পাশাপাশি নির্যাতনও করে (UK)। রদারহ্যাম (Rotherham), রচডেল (Rochdale) এবং ওল্ডহ্যাম (Oldham)-এর মতো শহরগুলিতে মামলাগুলি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এসব মামলায় ব্যাপক নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পায় (Pakistan Grooming Gang)। জাতিগত পরিচয়, পুলিশি ব্যর্থতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়ে গিয়েছে। ২০০০-এর শুরুতে অ্যান ক্রায়ার (Ann Cryer)-এর মতো রাজনীতিবিদরা প্রথম এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। লো বলেন, “দেশের নেতাদের উচিত এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ করা। আসন্ন তদন্ত রিপোর্ট ব্রিটেনকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে দেবে (UK)।

     

  • Kuwait: ইরানের দাবি ওড়াল কুয়েত, স্পষ্ট জানিয়ে দিল ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন

    Kuwait: ইরানের দাবি ওড়াল কুয়েত, স্পষ্ট জানিয়ে দিল ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কুয়েত (Kuwait) ও বাহরিনে থাকা মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে (Missiles Drones) বুধবার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের (ইরানের রাজধানী) দাবি, এটি ছিল এর আগে কেশম (Qeshm) দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধমূলক জবাব।

    ইরানের দাবি (Kuwait)

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (US Fifth Fleet) এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করেছে। তাদের দাবি, আমেরিকা একটি ইরানি টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা ও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। ইরান জানিয়েছে, তারা আগে আমেরিকাকে এই মর্মে সতর্ক করেছিল যে, যে কোনও আগ্রাসনের জবাব হবে আরও কঠোর এবং ভিন্ন ধরনের। এই অভিযান সেই সতর্কতার বাস্তবায়ন।

    কুয়েতের দাবি

    কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল। এই সময় দেশজুড়ে বহু বাসিন্দা জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিবৃতিতে কুয়েতি সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। জনগণ যে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে, তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে টার্গেট ধ্বংস করার। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কুয়েতি সেনার তরফে দ্বিতীয় সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এতে দেশবাসী এবং সে দেশে বসবাসকারী লোকজনকে ধ্বংসাবশেষ, ধাতব টুকরো বা অপরিচিত কোনও বস্তু স্পর্শ না করার আহ্বান জানানো হয়। এসব বস্তু জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে (Kuwait)।

    উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি জনগণকে যে কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেলে জরুরি নম্বর ১১২-এ ফোন করে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেন। সবাইকে কেবল সরকারি ও অনুমোদিত সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে, এবং কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সবাইকে সহযোগিতা ও জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে (Kuwait)।” প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইরান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ।

    ভিডিও ফুটেজ

    এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-এর দাবি, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক আচরণের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। যদিও এই দাবির নিশ্চয়তা মেলেনি (Missiles Drones)। বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, বুধবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে (Kuwait)। এক্স হ্যান্ডেলে আইআরআইবি একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, বাহরিনের আকাশ দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

    কেশম দ্বীপে হামলা

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ফের জানায়, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা ও একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর আমরা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করেছি।” এও বলে, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে আগ্রাসনের জবাব হবে ভিন্ন এবং আরও কঠোর। আজ রাতে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি।” ২ জুন আমেরিকা কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। মার্কিন কর্তাদের মতে, টার্গেট ছিল একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন, যা ড্রোন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে, এর আগে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছোড়া একাধিক ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছিল।

    ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতি

    পরে সেন্টকম দ্রুত একটি ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে ইরানের দাবি অস্বীকার করা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের (ইরানের) আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলিতে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে (Kuwait)। বস্তুত, এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে (Missiles Drones) উদ্বেগের পারা আরও চড়িয়ে দিতে পারে।

     

  • Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ফের মিলল পাক-যোগের প্রমাণ! তদন্তকারীরা জেনেছেন, জঙ্গিদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনের উৎস পাকিস্তান। ২০২১ সালে আমদানি করা একটি চালানের সঙ্গেই সেটি এসেছিল ভারতে। এই চালানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছিল করাচির একটি ব্যাঙ্ক। অতীতেও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের এই ব্যাঙ্কের নাম। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA) এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।

    বাজেয়াপ্ত ২ ফোন (Karachi Bank)

    সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জেনেছেন, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসবাদীরা দু’টি Xiaomi Redmi সিরিজের ফোন ব্যবহার করছিল। এর মধ্যে একটি ছিল Redmi 9T। ২০২১ সালে এটি আমদানি করা হয়েছিল পাকিস্তানে। অন্য ফোনটি ছিল Redmi Note 12, আমদানি করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ফোন দু’টি উদ্ধার হয় ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই, জম্মু-কাশ্মীরের দাচিগাম জঙ্গলে মুলনার মহাদেব এলাকায়। সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয় তিন জঙ্গি—ফয়সাল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানির কাছ থেকে। আরও জানা গিয়েছে, Redmi 9T ফোনটি পাকিস্তানের করাচির ক্লিফটন রোডের Tech Sirat Pvt Ltd নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা চালানের অংশ ছিল। Xiaomi Global-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চালানটি ১ জানুয়ারি ২০২১ সালে পাকিস্তানে পৌঁছেছিল।

    ফোন পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিদের হাতে

    এই চালানের লজিস্টিকস ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় ইসলামিক ব্যাঙ্ক ফয়জল ব্যাঙ্ক লিমিটেড (Faysal Bank Ltd)। চালান ডেলিভারির ঠিকানায় লেখা ছিল: “ফয়জল হাউস, মেন ব্রাঞ্চ, সাহারা-ই-ফয়জল, করাচি।” তদন্তকারীদের অনুমান, সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া, যেমন লেটার অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে আমদানিতে অর্থায়ন করা হয়েছিল। ফোনটি ওই চালান থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে পরে পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গিদের হাতে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মধ্যে একজন বলেন, “পহেলগাঁও হামলায় ব্যবহৃত ফোনটি সম্ভবত এই চালান থেকেই পাচার হয়ে লস্কর-ই-তৈবার হাতে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১ সালে আমদানির পর থেকে ফোনটি চালুই করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার সময়ই সেটি প্রথম চালু হয়।”

    ফয়জল ব্যাঙ্কে জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট

    তদন্তকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এখনও অব্দি ফয়জল ব্যাঙ্ককে সরাসরি পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে অতীতের বিভিন্ন সন্ত্রাসে অর্থায়ন-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের ওই ব্যাঙ্কটির নাম। ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফয়জল ব্যাঙ্কে লস্কর-ই-তৈবা এবং লাজনাত-আল-দাওয়া-সহ কয়েকটি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট ছিল। যদিও ব্যাঙ্কটির হোল্ডিং কোম্পানি সেই সময় স্পষ্ট জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই নেই। এও জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর তাদের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই ফোন চালু

    তদন্তকারীরা ৯/১১ হামলার পর প্রকাশিত পুরানো কিছু রিপোর্টের দিকেও নজর দিচ্ছেন। ওই প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই দেশেরই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে, এর মধ্যে ফয়জল ব্যাঙ্কও ছিল।জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ফোনটি পাকিস্তানেরই লাহোরভিত্তিক এয়ার লিঙ্ক কমিউনিকেশনস লিমিটেড আমদানি করেছিল।তদন্তকারীরা জেনেছেন, কেনার পর এই ফোনটিও কয়েক বছর চালু করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই প্রথম চালু করা হয়।

    ফোনে মিলল ছবি

    ফোন দু’টিতে নিয়মিত কল আসা-যাওয়া কিংবা ইন্টারনেট যোগাযোগের তথ্যও মেলেনি। কারণ জঙ্গিরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের বদলে দূর-পাল্লার রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করত। তাই তারা নিশ্চিন্তে যোগাযোগ করতে পেরেছে এবং সাধারণ কল বা ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও ডিজিটাল ট্রেইল রেখে যায়নি। তদন্তকারীরা অবশ্য ওই ফোন দু’টি থেকে কিছু ছবি এবং মানচিত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন মেডোজ এবং আশপাশ এলাকার ছবিও। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জঙ্গিরা একটি তাঁবু পেতেছিল। এটি হামলার কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁবুটি এমন একটি উঁচু জায়গায় ফেলা হয়েছিল যেখান থেকে সহজেই নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়।

     

  • India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি আরও প্রসারিত করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং জানান, ভিয়েতনামের (Vietnam Indonesia Agreement) সঙ্গে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি (India Brahmos Missile Deal) ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই রকম আরও একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে।

    সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (India Brahmos Missile Deal)

    শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (Shangri-La Dialogue)-এর ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে রাজেশ জানান, হ্যানয় ইতিমধ্যেই ওই মিসাইল কেনা সংক্রান্ত চুক্তিটি সই করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ভিয়েতনামের এক প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার ধারণা, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম—উভয় দেশের ক্ষেত্রেই চুক্তিগুলি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে ব্রহ্মোস প্যাকেজের মূল্য প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সাহায্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রগতি ভারতের একটি বড় প্রতিরক্ষা রফতানিকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    প্রতিরক্ষা সচিবের বক্তব্য

    জানা গিয়েছে, ফিলিপিন্স ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বিদেশি ক্রেতা। ২০২৪ সালে ম্যানিলা প্রথম ব্যাচের ক্ষেপণাস্ত্র কেনে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় চালান পায়। এর মাধ্যমে বৃহৎ প্রতিরক্ষা রফতানি চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের ক্ষমতা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রতিরক্ষা সচিব জানান, ভারত আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সবাইকে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করি, যাদের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া যায়।” তিনি জানান,  সাধারণত উন্নত সামরিক প্রযুক্তি কেবল সেইসব দেশের সঙ্গেই ভাগ করা হয় যাদের ওপর গভীর আস্থা এবং কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে উন্নত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি কৌশলের অন্যতম প্রধান পণ্য হয়ে উঠেছে (India Brahmos Missile Deal)। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করতে আগ্রহী বিভিন্ন দেশের মধ্যে ব্রহ্মোসের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশ বলেন, “ভারত এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অংশের অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, নিরাপদ সামুদ্রিক পরিবেশ এবং উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রয়োজনীয়তাগুলির একটি হয়ে উঠেছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করায় জোর

    প্রতিরক্ষা সচিবের এই ঘোষণার আগে আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি হ্যানয় সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফান ভানন জিয়াংয়ের (Phan Van Giang) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন (India Brahmos Missile Deal)। শাংরি-লা ডায়ালগের পাশাপাশি রাজেশ অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং নেদারল্যান্ডসের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি আরও জোরদার করছে।

    ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সচিব মেঘান কুইন (Meghan Quinn)-এর সঙ্গে আলোচনায় উভয়পক্ষই ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (India-Australia Comprehensive Strategic Partnership)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। অনুসন্ধান করে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রও। ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ব্রহ্মোস চুক্তিগুলি ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এমন একটা সময়ে এই (Vietnam Indonesia Agreement) অগ্রগতি হচ্ছে, যখন অঞ্চলটিতে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে (India Brahmos Missile Deal)।

     

  • Hormuz Strait: বন্ধ হরমুজ প্রণালী, কৌশলেই বাজিমাত করে চলেছে মোদির ভারত

    Hormuz Strait: বন্ধ হরমুজ প্রণালী, কৌশলেই বাজিমাত করে চলেছে মোদির ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরগুলির একটি হল হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait)। মাস তিনেক ধরে অবরুদ্ধ রয়েছে এই প্রণালী। ইরান ও ওমানের মাঝখানে থাকা (Indian Vessels) এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। তাই প্রণালী অবরোধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাহত হয়েছে সরবরাহ। প্রত্যাশিতভাবেই বেড়েছে জ্বালানির দামও। যদিও ৯ এপ্রিল ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বন্ধ হয়েছে সক্রিয় সংঘাত। তার পরেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি ওই প্রণালী পথে ভেসেলগুলির চলাচল। সংঘাতের জেরে জাহাজ চলাচল এখনও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

    ধারাবাহিক জাহাজ চলাচল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)

    এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত বেশ কয়েকটি জাহাজ এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করেই চলাচল করছে। তার জেরে আঞ্চলিক বিস্তর বিঘ্ন সত্ত্বেও, ভারত তার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে পেরেছে। এই ধারাবাহিক জাহাজ চলাচল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। প্রশ্ন হল, তাহলে কীভাবে ভারত বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পেরেছে, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি (US-Israeli) হামলার জবাবে ইরান বারবার বিভিন্ন জাহাজকে চাঁদমারি করেছিল? এই হামলাই সংঘাতের সূচনা করেছিল এবং এর ফলে বিশ্বের বহু শিপিং অপারেটর এই রুট এড়িয়ে চলতে শুরু করে (Hormuz Strait)। শুক্রবার শিপিংমন্ত্রকের কর্তারা উত্তেজনাপূর্ণ এই জলপথে ভারতের জাহাজ চলাচল বজায় রাখার কৌশল সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়েছেন, যদিও নিরাপত্তার কারণে তাঁরা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি (Indian Vessels) হননি।

    আধিকারিকের বক্তব্য

    বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের পরিচালক (শিপিং) ওপেশ কুমার শর্মা বলেন, “ভারত ও ইরানের মধ্যে আমরা কীভাবে সমন্বয় করি, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করি—স্বাভাবিক কারণেই আমি সেই বিষয়গুলি প্রকাশ করতে চাই না। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করি। বিষয়টি সেখানেই সীমাবদ্ধ (Hormuz Strait)।” তিনি “অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং সার মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে। সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে আমরা জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করি।”

    হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ

    সূত্রের খবর, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ১টি এলপিজি ট্যাঙ্কার, ৫টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, ১টি রাসায়নিক বা পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার, ৩টি কনটেইনার জাহাজ, ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১টি ড্রেজার (Indian Vessels)। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারত এই রুটে সামুদ্রিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যার দিক থেকে এখনও শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে রয়েছে (Hormuz Strait) ভারত। প্রসঙ্গত, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের পর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বহু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে চলেছে। তবুও ভারত কৌশলগত সমন্বয় ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তার বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পেরেছে।

LinkedIn
Share