মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) ময়মনসিংহে জল থেকে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হিন্দু স্বর্ণব্যবসায়ীর দেহ। মৃতের নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি জল কপাটের কাছে ড্রামটি ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন (Hindu Found Dead) স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, নিরঞ্জনকে খুন করার পর তাঁর দেহ ড্রামে ভরে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও শনাক্ত করতে পারেননি তদন্তকারীরা।
জল কপাটের কাছে ভাসছিল ড্রাম (Bangladesh)
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি এলাকায় জল কপাটের কাছে একটি প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশ। ড্রামের ভিতরে মেলে এক ব্যক্তির দেহ। পরে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর। তিনি ময়মনসিংহের আঠারবাড়ি বিল্ডিং এলাকায় যৌথভাবে একটি সোনার দোকান চালাতেন। স্ত্রী সুমিতা রানী সূত্রধর এবং ছেলে জয় সূত্রধরকে নিয়ে শহরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন তিনি।
পকেটে পাওয়া টোকেন থেকে পরিচয় উদ্ধার
মৃতের পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা।
কোতোয়ালি মডেল থানার আধিকারিক রুহুল আমিন জানান, টোকেনটি পরীক্ষা করে সমবায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মৃতের পরিচয় জানা যায়। পরে নিরঞ্জনের স্ত্রী এবং ছেলে দেহ শনাক্ত করেন।
২০ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নিরঞ্জন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান নিরঞ্জন। ২১ সেপ্টেম্বর স্টেডিয়াম এলাকায় তাঁকে শেষবার দেখেছিলেন তাঁর এক ভাইপো।
এর আগেও নিরঞ্জন তিন থেকে চার দিন বাড়ির বাইরে কাটিয়ে ফিরে এসেছিলেন। সেই কারণে এবারও তিনি ফিরে আসবেন বলে মনে করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি তাঁরা। শেষমেশ উদ্ধার হল দেহ।
মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিরঞ্জনের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। দেহের আঘাতের চিহ্ন এবং যেভাবে সেটি ড্রামে ভরে জলে ফেলা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে খুনের সন্দেহ করছেন (Bangladesh) তদন্তকারীরা।
ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দুষ্কৃতীদের পরিচয় জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নিরঞ্জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতেই বাংলাদেশে হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হয়।
সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে, বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে (Hindu Found Dead)।
তবে নিরঞ্জনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশি তদন্তেও এখনও পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়নি (Bangladesh)।

Leave a Reply