Tag: Madhyom

Madhyom

  • Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র পরবর্তী ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। বর্তমানে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত দীক্ষিত বিদায়ী ডিরেক্টর তপন কুমার ডেকা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি (ACC) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

    কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহেশ দীক্ষিতকে পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে দুই বছরের জন্য, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, এফআর ৫৬(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, ১৯৫৮-এর রুল ১৬(১এ)-এর বিধান অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি আইবি-র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বর্তমান আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবেই দীক্ষিতের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    কে এই মহেশ দীক্ষিত?

    মহেশ দীক্ষিত ১৯৯৩ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-র কর্মকর্তা। তিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের অফিসার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ বিষয় হল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি চিকিৎসক (Medical Doctor) হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আইপিএস হন।

    দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা

    তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে মহেশ দীক্ষিত সন্ত্রাসবাদ দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। নিরাপত্তা মহলে তাঁকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। আইবির সদর দফতরে স্পেশাল ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

    অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহেশ দীক্ষিতের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময়কার দায়িত্ব। সেই সময় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    জি-২০ বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন

    ২০২৩ সালে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান। সেই সম্মেলনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন মহেশ দীক্ষিত।

    গত বছর হয়েছিলেন আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী

    ২০২৫ সালে মহেশ দীক্ষিতকে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে উন্নীত করা হয়। এই পদটি সংস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকেই তিনি আইবির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এবার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার হুমকি, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

    কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

    ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব এই সংস্থার উপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা কার্যক্রমে দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মহেশ দীক্ষিতকে আইবির নতুন ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

  • Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হল। শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে আরও দু’জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। যদিও উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন। ফলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও কেউ আটকে আছে কি না, এখনই বলা সম্ভব নয়। এটা এনডিআরএফ ও সেনা চূড়ান্ত জানালে, আমি কলকাতা পুলিশকে জানাব।” হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    বুধবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    বুধবার দুপুরে তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকাই ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিটের বিশাল অংশ, লোহার বিম এবং নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক ও কর্মী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, দমকল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী সময়ে ক্রেন, হাইড্রোলিক কাটার, অত্যাধুনিক যন্ত্র এবং স্নিফার ডগ ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া আহতদের ঘটনাস্থলে তৈরি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর এসএসকেএম-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে, কারণ এখনও ভিতরে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটলেও অভিযান বন্ধ করা হয়নি।

    তদন্তে সিট, গ্রেফতার একাধিক

    ঘটনার পরই রাজ্য প্রশাসন তদন্তভার দেয় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে এবং গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে নির্মাণে গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, অনুমোদনপত্র এবং প্রযুক্তিগত দিকও পরীক্ষা করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে ধৃতদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে অতীতেও ফৌজদারি মামলার অভিযোগ ছিল বলেও জানা গিয়েছে।

    সিটের জালে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কে তিনি?

    এই তদন্তেই নতুন মোড় আসে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। প্রথমে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সিট তাঁকে গ্রেফতার করে। ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণের প্ল্যান কীভাবে অনুমোদন পেল এবং সেই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়েই মূলত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই ইস্যুতে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। একটি নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্মাণের অনুমোদনপত্রে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মেয়র জড়িত। দেখুন মাননীয় ফিরহাদ হাকিমের সই। দেখুন কীভাবে স্ট্রাকচারে ডিফেক্ট থাকা অবস্থাতেও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ করেছেন।” একইসঙ্গে তিনি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, “কালীকে তুললেই সব হয়ে যাবে। পুরসভায় কালী না বললে কোনও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ হয় না। আর কালী ক্যামাক স্ট্রিটের দ্বারা নিযুক্ত।” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বা তাঁর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

    পরিচয় জানার চেষ্টা, অভিযান অব্যাহত

    শুক্রবার উদ্ধার হওয়া দুই মৃতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাঁদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন থানার নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা, আঙুলের ছাপ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরিয়ে নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। একইসঙ্গে তদন্তে যদি কারও গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বা আইনভঙ্গের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে।

  • Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আইন আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী সোমবার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে। তার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) ২০২৬’ বিল। পাশাপাশি দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি এবং গুণ্ডাদমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও আনা হচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মোট পাঁচটি বিল পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউসিসি বিল এবং দুর্নীতি-বিরোধী বিলকে সরকার তাদের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

    সোমবারই বিধানসভায় ইউসিসি বিল

    বিধানসভা সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি সোমবার পেশ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যবিবরণী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রশাসনিক ও আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হলেও ইউসিসি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় পৌঁছনোর পর চলতি অধিবেশনেই বিলটি আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সোমবারের কর্মসূচির দ্বিতীয় ভাগে বিলটি পেশ করা হবে। বিধানসভার টেবিল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অংশ নেবেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গ

    বর্তমানে দেশের মধ্যে অসম, উত্তরাখণ্ড এবং গোয়ায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রাজ্যটি দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হতে পারে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো প্রয়োগ করা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর এটি রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    একই অধিবেশনে আসছে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী বিল

    বিশেষ অধিবেশনেই সরকার দুর্নীতি ও বেআইনি সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও পেশ করতে চলেছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কোনও আপস করবে না। তাঁর বক্তব্য, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। আমরা শপথ নিয়েছি, কোনও চোর জেলের বাইরে থাকবে না। অনেকে ভাবছেন জেলে গিয়ে দু’মাস পরে জামিনে বেরিয়ে এলাম। তা হবে না। বিল আনছি। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অকশন করব।”

    কী থাকছে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আইনে বেআইনি আয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন, গুণ্ডামি, ঘুষের অর্থ সাদা করা এবং অপরাধমূলক উপায়ে সম্পত্তিকে বৈধ রূপ দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিলের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● বেআইনি সম্পত্তি অর্জন ও দখলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা।
    • ● ‘গুণ্ডা’ শব্দকে আইনের অংশ করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা।
    • ● গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি প্রয়োগের সুযোগ।
    • ● দুর্নীতি দমনের অভিযানে বাধা দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
    • ● বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের বিধান।
    • ● রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার এবং বেসরকারি—সব ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই একই আইনি বিধান প্রয়োগ।
    • ● বেআইনি দখল, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি সুযোগ।
    • ● দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত বা ভাঙচুরের ঘটনার ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা বাজেয়াপ্তির দাবি জানানো যাবে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে

    একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং দুর্নীতি-বিরোধী—দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইউসিসি কার্যকর করার মাধ্যমে বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ, অন্যদিকে দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এনে প্রশাসনিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় এই দুই বিল পেশ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশন (UPSC) প্রথমবারের মতো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার (CSE) আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অযোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করেছে। এই উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে ৫৬৯টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ছিল একাধিকবার জমা দেওয়া আবেদন এবং নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করা প্রার্থীদের আবেদন।

    পূজা খেডকর বিতর্কের পর কঠোর নজরদারি

    ইউপিএসসি-র এই পদক্ষেপ এসেছে প্রাক্তন আইএএস প্রশিক্ষণার্থী পূজা খেড়কর-কে ঘিরে বিতর্কের প্রায় দুই বছর পর। ২০২৪ সালে অভিযোগ ওঠে যে তিনি নিজের ও তাঁর বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যদিও তিনি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত প্রচেষ্টার সংখ্যা শেষ করে ফেলেছিলেন। পরে UPSC তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে এবং তাঁকে পরিষেবা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে সাধারণত এই ধরনের যাচাই-বাছাই সাক্ষাৎকার পর্বে, অর্থাৎ প্রিলিমস ও মেইনস উত্তীর্ণ হওয়ার পর করা হতো। তবে এ বছর কমিশন আবেদন জমার পরপরই যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

    এআই ও আধারভিত্তিক যাচাই

    ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য মোট ৮.১৮ লক্ষ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫.৪৯ লক্ষ পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বছরের ৯.৫ লক্ষ আবেদনকারীর তুলনায় এ বছর সংখ্যা কিছুটা কম। সূত্রের মতে, নতুন যাচাই পদ্ধতি এই হ্রাসের অন্যতম কারণ হতে পারে। কমিশন এ বছর একটি নতুন আবেদন পোর্টাল চালু করে, যেখানে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ ছিল। প্রায় ৯৪ শতাংশ আবেদনকারী এই সুবিধা গ্রহণ করেন। বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ এবং ছবি মিলিয়ে ডুপ্লিকেট আবেদন শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ১৫ বছরের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় প্রার্থীরা বয়সসীমা বা প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছেন কি না। এই প্রক্রিয়ায় ৫৬৯ জন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী এবং আরও ৬৯ জন ভারতীয় বন পরিষেবা (IFS) পরীক্ষার আবেদনকারীকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়।

    সংরক্ষণ শ্রেণি পরিবর্তনও খতিয়ে দেখা হয়েছে

    ইউপিএসসিতে এআই-এর সাহায্যে পরীক্ষা করেছে, কোনও প্রার্থী পূর্ববর্তী আবেদনের তুলনায় সামাজিক শ্রেণি (Category) পরিবর্তন করেছেন কি না। তদন্তে দেখা যায়, ৪৩,৪৯৭ জন আবেদনকারী আগেরবারের তুলনায় ভিন্ন ক্যাটাগরি নির্বাচন করেছেন। তাঁদের ই-মেইলের মাধ্যমে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হয়। অনেক প্রার্থী জানান, সময়মতো প্রয়োজনীয় শংসাপত্র না পাওয়ায় তাঁরা আগে সাধারণ (General) শ্রেণিতে আবেদন করেছিলেন। তবে যাচাই শেষে ১৩৩টি আবেদন বাতিল করা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা তাঁদের বর্তমান শ্রেণির নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

    প্রযুক্তির লক্ষ্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করা

    ইউপিএসসি-র চেয়ারম্যান অজয় কুমার বলেন, “প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এ বছর UPSC প্রিলিমসের আবেদন পর্যায়েই ডি-ডুপ্লিকেশন প্রক্রিয়া চালিয়েছে, যাতে প্রকৃত প্রার্থীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায় এবং জাল বা একাধিক আবেদন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউপিএসসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং প্রযুক্তি সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি।”

  • Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চারদিনের প্রতীক্ষার অবসান। অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর শুক্রবার ভোর থেকে পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল অসমের অন্যতম শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার। এদিন ভোরে দেবীর নিত্যপুজো সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নীলাচল পাহাড়ে শুরু হয় দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়।

    অম্বুবাচী মহাযোগের নিবৃত্তি

    গত ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডে অম্বুবাচী মহাযোগের সূচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী টানা তিন দিন, অর্থাৎ ২৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরে সাধারণ দর্শন ও পুজো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। ২৫ জুন রাতে অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান এবং নিত্যপূজা সম্পন্ন করে শুক্রবার সকাল থেকে আবার ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

    নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

    অম্বুবাচী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের ঢল নামে। অসমের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী, তপস্বী, অঘোরী, সন্ন্যাসী ও সাধারণ ভক্ত মা কামাখ্যার আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মন্দিরে প্রবেশের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে। এই সময় নীলাচল পাহাড় কার্যত এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধু-সন্ন্যাসীদের বিচিত্র বেশভূষা, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তদের ভিড় উৎসবের আবহকে আরও গাঢ় করে তোলে।

    কেন চারদিন বন্ধ থাকে কামাখ্যা মন্দির?

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর সময় ধরিত্রী বা বসুমতী রজস্বলা হন। সেই বিশ্বাসের কারণেই এই কয়েকদিন কামাখ্যা মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং দেবীর নিয়মিত পূজাও স্থগিত থাকে। শুধু কামাখ্যা মন্দিরই নয়, অসমের বহু মঠ, মন্দির এবং নামঘরেও এই সময় পূজা-অর্চনা করা হয় না। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। হালচাষ, জমি কোপানো বা মাটি খোঁড়ার মতো কাজ এই কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়। অসমের বহু মানুষ এই সময়কে ‘সাত’ বা ‘আমতি’ হিসেবে পালন করেন। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির দিন বাড়িঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া এবং শুচিতা পালনের পরেই আবার মন্দির ও নামঘরে নিয়মিত পূজা শুরু হয়।

    আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের বিশেষ বিশ্বাস

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচী মহাযোগের সময় মা কামাখ্যার আরাধনা করলে বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সেই কারণেই প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই সময় কামাখ্যা ধামে এসে উপস্থিত হন। শক্তি উপাসকদের কাছে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

    রাজ্যপালের শুভেচ্ছা

    কামাখ্যা মন্দির পরিদর্শন করে অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বলেন, “এই শুভ অনুষ্ঠানের উপলক্ষে আমি রাজ্যবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মা কামাখ্যার দর্শনে এসেছেন এবং তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য অত্যন্ত সুসংগঠিত ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “পবিত্র অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর আজ পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে গেল মা কামাখ্যা ধামের পবিত্র দ্বার। নীলাচল পাহাড়ে আবার অনুভূত হল আদ্যাশক্তির অপরিসীম মহিমা ও আধ্যাত্মিক শক্তির স্পন্দন। এই শুভক্ষণে মা কামাখ্যার শ্রীচরণে সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি। কামাখ্যা ধাম অসমের ঐতিহ্যে নারীশক্তির কেন্দ্রীয় প্রতীক। গত কয়েকদিনে ৮ লক্ষেরও বেশি ভক্ত এই অনন্য ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন।”

    ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির এক মহামিলন

    অম্বুবাচী মহাযোগ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অসমের সংস্কৃতি, শাক্ত উপাসনা এবং নারীশক্তির প্রতীকী উদযাপন হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছরও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে নীলাচল পাহাড় সাক্ষী থাকল এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহের। মন্দিরের দ্বার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের প্রার্থনা, আরতি এবং ‘জয় মা কামাখ্যা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কামাখ্যা ধাম।

  • ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করল ভারত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সম্প্রতি চালু করেছেন অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) নামের একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ, যা মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি ভারতের পুলিশি তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং আধুনিক করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অপরাধ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য পেতে সাহায্য করবে। এটি শুধু তদন্তের গতিই বাড়াবে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে উন্নততর সমন্বয় সাধনেও সাহায্য করবে।

    অভিজ্ঞান অ্যাপ কী?

    অভিজ্ঞা(ABHIGYAN App)  হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার জন্য নির্মিত একটি উন্নত ডেটা-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো অপরাধ-সম্পর্কিত তথ্যের একটি একক উৎস প্রদান করা। আগে বিভিন্ন বিভাগ ও ডেটাবেসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্য খুঁজে বের করতে অনেক সময় লাগত, কিন্তু এখন অভিজ্ঞানের মাধ্যমে এই তথ্য সহজেই এক জায়গা থেকে পাওয়া যাবে। এই প্ল্যাটফর্মটি আঙুলের ছাপের রেকর্ড, অপরাধীদের প্রোফাইল, মানব পাচার নেটওয়ার্ক এবং অপরাধ-সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। এই অ্যাপটি তদন্তকারীদের দ্রুত মামলাটি সমাধানে সাহায্য করার জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণও করে। এই অ্যাপটির ডেমোতে দেখানো হয়েছে যে, মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে ডাটাবেসের সাথে আঙুলের ছাপ মেলানো যায়।

    ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণে বড় অগ্রগতি

    অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপটি দেশের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে একটি বিশাল জাতীয় বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্তমানে এই ডেটাবেসে ১.২৯ কোটিরও বেশি ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে আগে যেখানে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় যাচাই করতে কয়েক দিন সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ৩৫ সেকেন্ডেই সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এই অ্যাপটি সরাসরি যুক্ত রয়েছে ন্যাশনাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (National Automated Fingerprint Identification System বা NAFIS) সঙ্গে। এনএএফআইএস দেশের স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। পুলিশ স্টেশন কিংবা প্রথম পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির আঙুলের ছাপ স্ক্যান করা হলে, অভিজ্ঞান তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য পরিচয় খুঁজে বের করে। ফলে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    অ্যাপের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

    • ● মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে শনাক্তকরণ
    • ● জাতীয় অপরাধ তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ
    • ● নতুন বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটাবেস সম্প্রসারণ
    • ● গ্রাউন্ড লেভেল থেকেই তদন্ত ও পুলিশি কাজে সহায়তা
    • ● ম্যানুয়াল যাচাইয়ের উপর নির্ভরতা কমানো

    তদন্তে গতি ও নির্ভুলতা বাড়বে

    দ্রুতগতিতে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। প্রতারকরা মানুষকে টার্গেট করতে নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে স্ক্যাম করছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং মানব পাচার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে, অপরাধ নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়াটি এত দীর্ঘ সময় নেয় যে অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দেশজুড়ে পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি পেতে চলেছে যা তাদের কাজকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করে দেবে। সরকারি সূত্রের দাবি, অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপ চালুর ফলে পুনরাবৃত্ত অপরাধী এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে তদন্তের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি প্রমাণ সংগ্রহ ও মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

    রাস্তায় দাঁড়িয়েই অপরাধী শনাক্তকরণ

    অভিজ্ঞান অ্যাপের (ABHIGYAN App) সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কোনও সন্দেহভাজন তথ্য বা একটি মামলা সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে বের করার জন্য তদন্তকারীদের বিভিন্ন রেকর্ড ঘাঁটতে হবে না, এখান থেকেই সব পাবেন। এই একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে, তাঁরা দ্রুত সেই কেসটি শনাক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও, এই প্ল্যাটফর্মটি অপরাধের ধরন বুঝতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে অপরাধ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকা বা কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এর ফলে পুলিশ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই অ্যাপটির সাহায্যে পুলিশ রাস্তায়ও যেকোনো সন্দেহভাজনের বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করতে পারবে, ফলে পলাতক অপরাধীদের ধরতে আরও সহজ হবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের দিকে ভারত

    বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলি ক্রমশ বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সেই ধারায় ভারতও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল রেকর্ড ও সময়সাপেক্ষ ফরেনসিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল পুলিশি ব্যবস্থা এখন রিয়েল-টাইম ডিজিটাল শনাক্তকরণের যুগে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যাপ শুধু তদন্তের সাফল্যের হারই বাড়াবে না, বরং দ্রুত পরিচয় যাচাইয়ের কারণে অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটাবেস, অটোমেশন এবং মোবাইল প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি অভিজ্ঞান ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভোর থেকে রাত, দিনভর থাকে নানান কাজ! পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, গান শেখা কিংবা সাঁতার-ক্যারাটের মতো খেলা চলে। একদম রুটিন মেনে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ক্লান্তি। শরীর ও মনে এর গভীর প্রভাব পড়ছে। তাই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের বাড়তি যত্ন জরুরি। বিশেষত তাদের খাবারের দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের শারীরিক বিকাশে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাদের ঠিকমতো শারীরিক বিকাশ না হলে পরবর্তীতে একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্যেও গভীর প্রভাব পড়ে। মনঃসংযোগ নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি স্মৃতিশক্তিতেও প্রভাব ফেলে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত এমন কিছু খাবার থাকা জরুরি, যাতে তাদের শরীর ও মন ভালো থাকে। দিনভরের ধকল নিতে সক্ষম হয়।

    কোন খাবারে ভরসা রাখছেন পুষ্টিবিদেরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর পাতে এমন খাবার দিতে হবে, যা সহজেই হজম হবে। কিন্তু তার পুষ্টিগুণ পর্যাপ্ত থাকবে। এমন একাধিক সব্জি এবং ফল নিয়মিত শিশুকে দেওয়া যেতে পারে, যাতে তার শরীরের সমস্ত চাহিদা পূরণ হয়।

    পালং শাক!

    পুষ্টিকর সব্জির তালিকায় প্রথমেই থাকছে পালং শাক। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, পালং শাক সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাওয়া উচিত। পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন কে সহ একাধিক ভিটামিন। ভারতের অসংখ্য শিশু আয়রনের অভাবে ভোগে। আয়রনের ঘাটতি শিশুর ক্লান্তি বোধ বাড়িয়ে দেয়। রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এছাড়া ভিটামিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ জরুরি। তাই পালং শাকের মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

    গাজর!

    স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত গাজর থাকা প্রয়োজন বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শিশুর দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। চোখ ভালো রাখতে গাজর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত সব্জি হিসাবে কিংবা স্যালাডের সঙ্গে গাজর খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গাজর বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ একটি সব্জি। তাই গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমতে পারে।

    ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মজবুত পেশি এবং স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।‌ ভিটামিন, আয়রনের পাশপাশি শিশুর পাতে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যাতে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাই ফুলকপি এবং মিষ্টি আলুর মতো সব্জি নিয়মিত শিশুকে খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু ভিটামিন এ, সি, কে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ দুটো সব্জি। তাই এগুলো নিয়মিত খেলে অন্ত্র, লিভার ভালো থাকবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর সচলতা বাড়বে। পাশপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। ফলে শিশুর সহজে ক্লান্তিবোধ হবে না।

    পেয়ারা, কলা, আমের মতো ফলে বাড়বে খেলাধুলার এনার্জি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশুই সাঁতার, ক্রিকেট কিংবা ক্যারাটের মতো নানান ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধূলা চালানোর জন্য বাড়তি এনার্জি জরুরি। শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দিলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়বে। মনে রাখার ক্ষমতা কমবে। তার সঙ্গে দক্ষতাও কমবে। ফলে শিশুর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের যাতে বাড়তি এনার্জি পাওয়া যায়, এমন কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, পেয়ারা, কলা এবং আমের মতো ফল নিয়মিত খেলে সহজেই বাড়তি এনার্জি পাওয়া যেতে পারে। কলা কার্বোহাইড্রেট এবং পটাশিয়ামের জোগান দেয়। পেয়ারার থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি। আম কার্বোহাইড্রেটের পাশপাশি ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ফল। তাই এই তিন ফলের মধ্যে যেকোনো একটা ফল নিয়মিত খেলেই শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দেবে না।

    কেন সব্জি ও ফলে বাড়তি গুরুত্ব?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অন্যতম বড় সমস্যা স্থুলতা। বিশেষত শিশুদের অতিরিক্ত ওজন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শিশুদের ওবেসিটির হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবন‌ যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। শিশুদের নিয়মিত এমন কিছু খাবার দেওয়া প্রয়োজন, যা মেদ তৈরি করবে না। বরং পুষ্টির জোগান দেবে। অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া বিশেষত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার জেরেই স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার প্রবণতাই শিশুর সুস্থ জীবনের পরিপন্থী হয়ে উঠছে। তাই প্রোটিনের পাশপাশি শিশুর ভিটামিন, ফাইবার, আয়রন এবং পটাশিয়ামের মতো উপাদানের চাহিদা মিটছে কিনা সেদিকে নজর রাখাও জরুরি।‌ কারণ সেগুলোর ঘাটতি হলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। আর তাই ভরসা রামধনু মেনুতে। অর্থাৎ, প্রতিদিন খাবারে নানান রঙের সব্জি থাকবে‌। অর্থাৎ , ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে গাজর, বিট, পালং শাক, কুমড়ো, পটলের মতো নানান রঙের সব্জি থাকবে। যাতে শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়। তবেই সুস্থ দীর্ঘ জীবন সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Daily Horoscope 26 June 2026: দুপুরের পরে কোনও ভালো খবর আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 26 June 2026: দুপুরের পরে কোনও ভালো খবর আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

      মেষ

    ১) ব্যবসায় সুখবর আসতে পারে।

    ২) প্রেমের বাধা কেটে গিয়ে সুখের সময় আসতে চলেছে।

    ৩) দিনটি অনকূল।

    বৃষ

    ১) অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমন কিছু কাজ করতে হতে পারে, যা নিয়ে পরে অনুতাপ হবে।

    ২) ভালো কাজে সময় ব্যয় হতে পারে।

    ৩) ধৈর্য্য ধরতে হবে।

    মিথুন

    ১) নতুন ব্যবসা নিয়ে সংশয় বাড়তে পারে।

    ২) সকাল থেকে কোনও জটিল সমস্যার ভিতর পড়তে হতে পারে।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    কর্কট

    ১) কোনও বন্ধুর উপকার করতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারেন।

    ২) সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে পারেন।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    সিংহ

    ১) ব্যবসায় শান্তির পরিবেশ পেতে পারেন।

    ২) কোনও অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ আপনার কাজে আসবে।

    ৩) ধর্মস্থানে যাত্রা করতে পারেন।

    কন্যা

    ১) কোনও ভালো জিনিস আপনার হাতে নষ্ট হতে পারে।

    ২) অতিরিক্ত পরিশ্রমের মূল্য পাবেন না।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    তুলা

    ১) দুপুরের পরে কোনও ভালো খবর আসতে পারে।

    ২) ব্যবসা ভালো চলবে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসায় চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে লাভও ভালো হবে।

    ২) সন্তানদের জন্য চিন্তা বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) কাজে সাফল্য আসবে।

    ধনু

    ১) শুভকাজ থাকলে সেরে ফেলুন।

    ২) সতর্ক না থাকলে কর্মক্ষেত্রে সম্মানহানির যোগ।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    মকর

    ১) শত্রুভয় কাজ করতে পারে।

    ২) গৃহনির্মাণের পরিকল্পনা সফল হতে পারে।

    ৩) সবাই প্রশংসা করবে।

    কুম্ভ

    ১) নতুন বন্ধু হতে পারে।

    ২) চাকরির পদোন্নতিতে বিদেশযাত্রার যোগ।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    মীন

    ১) সকালের দিকে ভ্রমণের ইচ্ছা বাড়তে পারে।

    ২) কারও কাছে অপদস্থ হতে পারেন।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফের পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas) চালুর কথা ঘোষণা করল ভারত। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশে (Bangladeshi Citizens) ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী এই খবর জানান। তিনি বলেন, “২৮ জুন, রবিবার থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হবে।” রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও স্বাভাবিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশিরা আবারও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে ভ্রমণ করতে পারবেন।

    বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas)

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা দেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ফের চালু করা হচ্ছে।দীনেশ জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন নেওয়া হবে। তিনি এও জানান, বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় সফরের সময় ভিসা সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও যাতায়াত অনায়াস করতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ

    এদিন দুপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ। এই সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন (India Reopens Tourist Visas)। গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার দীনেশকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তিনি ভারতের প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দীনেশ কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি মাসে স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের সহযোগিতা আরও (Bangladeshi Citizens) জোরদার হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।” উল্লেখ্য, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন (India Reopens Tourist Visas) দীনেশ।

     

  • US: হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্যানফোর্ড বিশপের

    US: হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্যানফোর্ড বিশপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমাদের হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে”। ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে এমনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মার্কিন (US) কংগ্রেসম্যান স্ট্যানফোর্ড বিশপ (Sanford Bishop)। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ধর্মীয় বিদ্বেষ ও হিন্দু-বিরোধী মনোভাবের তীব্র নিন্দা করেন (Georgia Anti Hindu Resolution), এবং এই ধরনের ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড রোধে আরও বেশি সতর্কতা ও ঐক্যের আহ্বান জানান।

    ভারতীয়দের অসামান্য অবদান (US)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকানদের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন বিশপ। বলেন, “এই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, সম্মান জানানো এবং মূল্যায়ন করা উচিত। ঘৃণা ও হিংসা ছড়ানোর পরিবর্তে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালনকারী এই সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।” বিশপ জানান, হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি—এই দুই বিষয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাঁর মতে, আমেরিকায় হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছে।

    হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক

    ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কড়া সমালোচনাও করেন তিনি। জানান, তাঁর নিজের রাজ্য জর্জিয়া হিন্দু-বিরোধী অপরাধ এবং বিদ্বেষ মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এর পরেই ওই মার্কিন কংগ্রেসম্যান বলেন, “আমাদের হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে”। স্ট্যানফোর্ডের এহেন মন্তব্যে উপস্থিত ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বছরে আমেরিকায় হিন্দুদের মৌখিক আক্রমণ, অবমাননাকর মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হয়রানি এবং হিন্দুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংগঠনের দাবি। এর পাশাপাশি মন্দির ও অন্যান্য হিন্দু উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভারতীয়-আমেরিকানদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো হুমকির মুখোমুখিও হতে হচ্ছে, যদিও তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দক্ষ কর্মশক্তি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ (US)।

    হিন্দুফোবিয়াকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জর্জিয়ার

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে জর্জিয়া হিন্দুফোবিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘৃণাজনিত অপরাধ ও বৈষম্যের বিষয়টি রাজ্যের আইনগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে (Georgia Anti Hindu Resolution)। এই উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে Coalition of Hindus of North America। এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে আসছে। রাজ্যের গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি বিভিন্ন দফতর হিন্দুফোবিয়াজনিত বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার নথিভুক্তকরণ এবং তদন্তের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে। এই আইন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা (CoHNA) জানিয়েছে, ‘সেনেট বিল ৩৭৫ শুধু ক্রমবর্ধমান হিন্দু-বিরোধী ঘৃণার প্রতিক্রিয়া নয়, এটি আমাদের সম্প্রদায় যে (Georgia Anti Hindu Resolution) এই দেশের অংশ, অবদানকারী এবং আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য—তারও একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি (US)।’

     

LinkedIn
Share