Tag: Madhyom

Madhyom

  • Cristiano Ronaldo: জোড়া গোলে বাজিমাত! উজবেকদের ৫ গোলে ওড়াল পর্তুগাল, কোন কোন রেকর্ড রোনাল্ডোর?

    Cristiano Ronaldo: জোড়া গোলে বাজিমাত! উজবেকদের ৫ গোলে ওড়াল পর্তুগাল, কোন কোন রেকর্ড রোনাল্ডোর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সব সমালোচনা উড়িয়ে স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন ঘটালেন সি আর সেভেন। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক রোনাল্ডো। মুগ্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। এবার এমন এক কীর্তি গড়লেন রোনাল্ডো, যে রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব। এবারের বিশ্বকাপে মেসি আর রোনাল্ডো এমন দু’জন খেলোয়াড় যাঁরা এই প্রথমবারের জন্য নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ (Fifa World Cup 2026) খেলছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি রোনাল্ডো প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই ৬ বিশ্বকাপের প্রতিটাতেই গোল করেছেন। এবারের বিশ্বকাপের উজবেকিস্তান ম্যাচ পর্যন্ত ধরলে বিশ্বকাপে মোট ১০ টি গোল করেছেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)।

    নকআউটের দৌড়ে ভাল ভাবে রইল পর্তুগাল

    লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড— বিশ্বকাপে দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতায় কেউ বাকি ছিলেন না। পড়ে ছিলেন শুধু তিনিই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। প্রথম ম্যাচে হতশ্রী পারফরম্যান্সের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনাল্ডো বুঝিয়ে দিলেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। মঙ্গলবার হিউস্টনে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে নকআউটের দৌড়ে ভাল ভাবে টিকে থাকল পর্তুগাল। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে। কঙ্গোর বিরুদ্ধে খারাপ খেলার পর কেন তাঁকে পর্তুগালের প্রথম একাদশে রাখা হবে, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কোচ থেকে ফুটবলার, সকলেই ছিলেন রোনাল্ডোর পাশে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ উজবেকিস্তান ম্যাচেও প্রথম একাদশে রেখেছিলেন রোনাল্ডোকে। কোচের বিশ্বাস রাখলেন সি আর সেভেন।

    রোনাল্ডোর রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব

    ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি গোল করেন। সেই ম্যাচে ৭-০ জিতেছিল পর্তুগাল। এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিরুদ্ধে একমাত্র গোলটি করেন ক্রিশ্চিয়ানো। ২০১৮ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, একটি গোল করেন মরোক্কোর বিরুদ্ধেও। সব মিলিয়ে ওই বছর বিশ্বকাপে মোট ৪ টি গোল করেন তিনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তাঁর একমাত্র গোলটি আসে ঘানার বিরুদ্ধেই। আর তারপর চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে জোড়া গোল করে ৬ বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়লেন রোনাল্ডো। তাঁর এই রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব। কারণ, ফুটবলে ৬ টা বিশ্বকাপ খেলা যে কোনও খেলোয়াড়ের পক্ষে খুবই কঠিন কাজ। এ ছাড়াও ৬ টা বিশ্বকাপ খেললেও প্রতিটা বিশ্বকাপে গোল করা আরও কঠিন। উজবেকিস্তান ম্যাচে আরও একটি রেকর্ড করেচেন ক্রিশ্চিয়ানো। ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় হয়ে গিয়েছেন তিনি। এতদিন বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোল ছিল ইউসেবিওর। ৯ টা গোল করেছিলেন তিনি। আর উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনাল্ডো করে ফেললেন মোট ১০ টি গোল। এর ফলে, পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ স্কোরারের নাম এখনও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

  • Suvendu Adhikari: ‘অধিবেশনের শেষ দিনই আসছে আইন’! দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল আনার বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘অধিবেশনের শেষ দিনই আসছে আইন’! দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল আনার বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় শুভেন্দু-সরকার। বিধানসভায় জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, শুধু গ্রেফতার নয়, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের জন্যও নতুন আইন আনার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যপালের ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাবে বক্তৃতা করতে গিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই অধিবেশনের শেষ দিনেই দুর্নীতি রোধে আরও কড়া আইন আনা হচ্ছে। সেই আইন কার্যকর হলে দোষীদের শুধু জেল হবে না, দুর্নীতিকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে।

    তৃণমূল আর ফিরবে না

    নাম না-করে এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পূর্বতন তৃণমূল সরকার তাঁর সঙ্গে কী কী করেছিল, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। সেই সঙ্গে নিজের ভাষণে বার বার তিনি বলতে ছাড়েননি যে, ‘‘তৃণমূল আর ফিরবে না।’’ আমতলায় তৃণমূলের প্রাসাদোপম পার্টি অফিস। কিংবা কালীঘাটে হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। বিভিন্ন সময় আলোচনার কেন্দ্রে উঠেছে। এবার নাম না করে বিধানসভায় ওই ‘প্রাসাদগুলি’ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভায় তিনি বলে দিলেন, “ওই প্রাসাদগুলোতে কলকাতার রাস্তায় যাঁরা রাতের বেলা ফ্লাইওভারে নিচে থাকেন, তাঁদের রাখাব।”

    ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে যেত দুবাই!

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। কেউ কেউ জ্ঞান দিচ্ছিলেন, টাকা আসবে কোথা থেকে। টাকা কোথা থেকে আসবে জানেন? বীরভূমে পাথরে কী করেছেন জানেন? এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে রাজস্ব দিয়েছেন ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা একমাসে রাজস্ব দিয়েছি ৮৩ কোটি। এটা ১০০ কোটি হবে। এক বছরে ১২০০ কোটি টাকা। আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তহবিলে ১০০ কোটি, বাকি ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে যেত দুবাই।”

    অধিবেশনের শেষ দিন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বিল

    মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যে তোলাবাজি, মাফিয়ারাজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, সংগঠিত অপরাধ এবং আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি অধিবেশনেই এমন একটি বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি কাঠামো (Property Seizure Bill) তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সেই সম্পত্তি নিলামের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সবার হিসেব হবে। আমার দফতর স্বরাষ্ট্র দফতর এই অধিবেশনেই বিল আনছে। বিধানসভায় বিএ (বিজনেস অ্যাডভাইসরি) কমিটি অনুমোদন দিলেই অধিবেশনের শেষ দিন বিল আসবে। অনেকেই ভাবছেন, ২ মাস থাকলাম (জেলে)। তারপর আইনি লড়াই করে বেরিয়ে এলাম। বিল আসছে। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তির নিলাম করব।”

    কোনও চোরকে ছাড়া হবে না

    এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনি যা যা পদক্ষেপ করছেন, পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু, যাঁরা যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটাকে বাঁচতে দেবেন না।” তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। একটাও গুণ্ডা মাফিয়া জেলের বাইরে থাকবে না। স্বরাষ্ট্র দফতর আমার। আপনারা যদি ওদের বিরুদ্ধে কোনও চুরি, দুর্নীতি, ত্রিপল লুকিয়ে রাখা, অবৈধ সম্পত্তির কোনও তথ্য থাকে, লিখিতভাবে দেবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কথা দিলাম।”

    আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মুখ্যমন্ত্রী

    ভাষণ দিতে গিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আগাগোড়া আক্রমণাত্মক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান, শওকত মোল্লাদের কোনও ভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তের প্রসঙ্গও। সব্যসাচীর সোনা-কেনা প্রসঙ্গ নিয়ে বলেন, ‘‘সমস্ত সোনা কেনা হয়েছে ২০২১ সালের পরে।’’ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, সব্যসাচীর মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেড় কেজি রুপো বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ও আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।

    নাম না করে মমতাকে নিশানা

    নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের আমলে বাণিজ্য সম্মেলনে ফিকিকে ৩২৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল নিয়ম বহির্ভূত ভাবে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজিবিএস দেখবেন? সরকার ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা ফিকি (ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডিস্ট্রি)-কে দিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সই দেখবেন নাকি? ৩২৪ কোটি টাকা। এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র!’’ শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘‘আপনি কি এটা করতে পারেন?’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘একটা কমিশন হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং মেম্বার সেক্রেটারি, যাঁর নাম শুনলে অনেকেই আপনারা ভয় পান, এডিজি র‍্যাঙ্কের আইপিএস কে জয়রামনকে নিয়ে। যত চুরি করেছেন, মনরেগার চুরি, আবাসের চুরি, জল জীবন মিশনের চুরি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের চুরি— যত চুরি করেছেন, এই কমিশনে অভিযোগ পড়বে এবং তাঁদের শ্রীঘরে যেতে হবে।’’

    ইউপিএসসি-র মতো নিয়োগ

    তার পরেই শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, এ বার থেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই পক্ষপাতদুষ্টতা থাকবে না, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে। কোনও রাজনীতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। ইউপিএসসি-র মতো নিয়োগ হবে। বাজেটেও সে কথা জানিয়েছে সরকার। এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। তাঁর বক্তব্য, জনস্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

  • India FDC Medicines Ban: জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ১৬টি ওষুধ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! তালিকায় কী কী? কেন এই সিদ্ধান্ত?

    India FDC Medicines Ban: জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ১৬টি ওষুধ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! তালিকায় কী কী? কেন এই সিদ্ধান্ত?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হজমের অসুবিধা হোক কিংবা ভারি খাবার খাওয়ার পরে বমি ভাব! এমন যে কোনও ফি-দিনের অসুবিধায় কিছু ওষুধ নিত্যসঙ্গী। আবার সামান্য জ্বর, পেটে ব্যথার অসুবিধা হলেও দেদার সেই সব ওষুধ খাওয়া হয়। এমন বেশ কিছু সহজলভ্য ওষুধ আসলে বিপদ বাড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দিয়েই তাই সেই সব ওষুধ বাতিল করল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রমাণ পেয়েছেন, ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন বা এফডিসি (FDC) ওই ওষুধ নিয়ম মাফিক তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের (Public Health) উপরে এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

    কোন কোন ওষুধ নিষিদ্ধ হল?

    কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health) তরফে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ১৬টি ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ১৬টি ওষুধ উৎপাদন এবং বিক্রি ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    তালিকায় রয়েছে—

    • ১. নিমেসুলাইড ১০০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা
    • ২. এসিক্লোফেনাক ১০০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা
    • ৩. সেফিক্সিম ২০০ মিগ্রা + ওফ্লক্সাসিন ২০০ মিগ্রা
    • ৪. সেফট্রিয়াক্সোন ২৫০ মিগ্রা + সালব্যাকটাম ১২৫ মিগ্রা
    • ৫. অ্যামক্সিসিলিন ২৫০ মিগ্রা + ক্ল্যাভুলানিক অ্যাসিড ১২৫ মিগ্রা
    • ৬. সিটিরিজিন ৫ মিগ্রা + ফেনাইলএফ্রিন ১০ মিগ্রা
    • ৭. ডাইক্লোফেনাক ৫০ মিগ্রা + সেরাটিওপেপটিডেজ ১০ মিগ্রা
    • ৮. প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা + ট্রামাডল ৩৭.৫ মিগ্রা
    • ৯. ট্রিপসিন ৪৮ মিগ্রা + ব্রোমেলিন ৯০ মিগ্রা + রুটোসাইড ১০০ মিগ্রা
    • ১০. মেফেনামিক অ্যাসিড ২৫০ মিগ্রা + ডাইসাইক্লোমিন ১০ মিগ্রা
    • ১১. ডাইসাইক্লোমিন ১০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৫০০ মিগ্রা
    • ১২. মেটফরমিন ৫০০ মিগ্রা + ভোগলিবোজ ০.২ মিগ্রা
    • ১৩. গ্লাইমেপিরাইড ১ মিগ্রা + মেটফরমিন ৫০০ মিগ্রা
    • ১৪. ডমপেরিডন ১০ মিগ্রা + প্যান্টোপ্রাজল ৪০ মিগ্রা
    • ১৫. ক্লোবেটাসল প্রোপিওনেট ০.০৫% + নিওমাইসিন সালফেট ০.৫% + মাইকোনাজল নাইট্রেট ২%
    • ১৬. ক্লিন্ডামাইসিন ১% + নিকোটিনামাইড ৪%

    ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন কী?

    ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) হল এমন একটি ওষুধ, যেখানে দুই বা ততোধিক সক্রিয় উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে একসঙ্গে একটি মাত্র ডোজ ফর্মে (যেমন ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল) দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, বাতিল হওয়া এই ১৬টি ওষুধে নির্দিষ্ট পরিমাণ উপাদান ছিল না। ফলে, এর প্রভাব স্বাস্থ্যের উপরে গভীর ভাবে পড়ছিল।

    কেন বাতিল হল এই ১৬টি ওষুধ?

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, রোগ নিরাময়ে এই ১৬টি ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর, সেই প্রমাণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এর ফলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে কি না তার যথেষ্ট উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের ড্রাগ কন্ট্রোল অথারিটির তরফে জানানো হয়েছে, বাতিল হয়ে যাওয়া এই ওষুধগুলো রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছিল। তার কারণ, এই ওষুধগুলো যে ধরনের ড্রাগ ব্যবহার করে, সেখানে পরিমাণের রকমফের হচ্ছিল। ওষুধে নির্দিষ্ট পরিমাণ ড্রাগ দিতে হবে। পরিমাণের সামান্য হেরফের হলেও স্বাস্থ্যে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে। এই ওষুধগুলো সেই ঝুঁকি তৈরি করছিল। ওষুধ বাতিল করার অন্যতম কারণ, রোগীদের মধ্যে একসঙ্গে একাধিক ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছিল। এর ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছিল। যা শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। আবার, ওষুধ ঠিকমতো কাজ না করলে রোগীর আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। আর এই কারণেই সম্প্রতি ১৬টি ওষুধ বাতিল করা হয়েছে।

    ওষুধ বাতিলের উদ্দেশ্য কী?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওষুধ বাতিল করার মূল কারণ, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা।‌ বাজারে এমন কোনও ওষুধ যদি সহজলভ্য হয়, যা আসলে রোগীকে শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তাহলে সেটা বন্ধ করা জরুরি। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওষুধ খাওয়ার পরে শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।‌ আবার পাশপাশি নজর রাখা প্রয়োজন ওষুধে কাজ হচ্ছে কিনা। সেটা না হলে রোগীর সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করা হয়। তাই বৈজ্ঞানিক দিক এবং আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গির মাপকাঠিতে বিচার করে তবেই বাজারে ওষুধ বিক্রির সম্মতি পাওয়া যায়‌। এই ১৬টি ওষুধ সেই সম্মতি আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বাতিল হয়েছে।

  • Pune Murder: পরিকল্পিত খুন! কেতনকে বিয়ের আগে পাহাড় থেকে ফেলে দেন বাগদত্তা ও তাঁর বন্ধু, অনুমান তদন্তকারীদের

    Pune Murder: পরিকল্পিত খুন! কেতনকে বিয়ের আগে পাহাড় থেকে ফেলে দেন বাগদত্তা ও তাঁর বন্ধু, অনুমান তদন্তকারীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুণেতে ব্যবসায়ীর (Pune Murder) ছেলে কেতনবিশাল আগরওলকে (Ketan Bishal Agarwal) পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, এটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে বড় কোনও ষড়যন্ত্র। পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে কেতনকে। পাহাড়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আর এই ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিয়েছে মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডকে। গত বছরের মে মাসে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় স্বামী রাজা রঘুবংশীকে নিয়ে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে খুন করার অভিযোগ ওঠে সদ্যবিবাহিত স্ত্রী সোনম রঘুবংশীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। গ্রেফতার হয়েছেন সোনম, তাঁর প্রেমিক-সহ ন’জন।

    কেতন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেঘালয়ের মিল

    কেতন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেঘালয়ের মিল পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুণে গ্রামীণ পুলিশের এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীপুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এটা নিশ্চিত যে, কেতনের মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা। ইতিমধ্যেই কেতনের বাগদত্তা এবং তাঁর এক পুরুষ বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন বাগদত্তা সিয়া প্রবীণ বাসেশ্বর গয়াল এবং তাঁর বন্ধুর সঙ্গে পুণের লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীপুত্র কেতন। পাহাড়ের উপরে সেই দুর্গে নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে ৪৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, এমন বেশ কিছু তথ্য মিলেছে, যা থেকে এই ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

    কেতনের বাগদত্তা সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি

    তদন্তকারীদের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সিয়ার ফোন, সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কল ডিটেল-সহ বেশ কিছু গতিবিধি পরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কেতনের বাগদত্তার। পুলিশের দাবি, সেই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন সিয়া। কিন্তু কেতনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গিয়েছিল। জুলাইয়েই তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। জয়পুরে একটি বড় মহলও বিয়ের জন্য বুক করেছিল কেতনের পরিবার। সিয়ার প্রেমের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন কেতন। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। গত ১৯ জুন ছিল কেতনের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন কেতন, তাঁর বাদগত্তা এবং কয়েক জন বন্ধু। বিয়ের আগে একটা ‘ট্যুর প্ল্যান’ করেছিলেন কেতন। সেখানেই এই ভয়াবহ পরিকল্পনাকে পরিণতি দেওয়া হয়, অনুমান তদন্তকারীদের।

  • Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রহস্যমৃত্যুকে’ চক্রান্ত বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বলিদান দিবসে’ পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কলকাতার হাজরা মোড়ে বিজেপির যুব মোর্চার রক্তদান শিবিরে যোগ দিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের কাজকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।’ শ্যামাপ্রসাদের আদর্শেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার, ২৩ জুন ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘তাঁর (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা আড়ালে ছিল। ইচ্ছে করে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”

    শ্যামাপ্রসাদের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শই পথ

    বদলের বাংলায় ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই সরকারি ছুটি, বিরাট মূর্তি গড়ায় উদ্যোগ আগেই গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। সকাল থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর বিশাল মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা জড়ো হন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে মাল্যদান করেন। এরপর একে একে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, ড: হরেকৃষ্ণ বেরা, কৌশিক চৌধুরীরা। মূর্তিতে মাল্যদান করে, প্রণাম জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    শ্যামাপ্রসাদ প্রসঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারকে জামাতের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিনি না হলে হিন্দু বাঙালি মাতৃভূমি পেত না। পাকিস্তানে চলে যেতে হতো। সেই জায়গা থেকে উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এখন থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শ নিয়ে আমরা চলব।” নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,‘‘ভবানীপুরে আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। তিনি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেননি।” যুব মোর্চা অনেক কষ্টে ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের বাড়ির সামনে বলিদান দিবস পালন করতেন বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালন

    ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেক স্কুলে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ পালনের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কেওড়াতলার অনুষ্ঠান সেরে হাজরা মোড়ে যুব বিজেপির রক্তদান শিবিরে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে ঘিরে রীতিমতো জনতার ভিড় দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু। এ বারই প্রথম কলকাতা পুরসভা এবং তথ্য সংস্কৃতি দফতর যৌথ ভাবে বলিদান দিবস পালন করেছে বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি

    জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার জন্য ‘পারমিট প্রথা’-র বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন শ্যামাপ্রসাদ। মে মাসে তাঁকে গ্রেফতার করে শ্রীনগর পুলিশ। বন্দি থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও বিজেপির তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি এক দেশ, এক নিশান (পতাকা), এক বিধান (সংবিধান)-এর দাবি করেছিলেন। তাই তাঁকে অসময়ে-অকালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত।

    ‘বলিদান দিবস’-এর তাৎপর্য

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (Shyama Prasad)কলকাতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি “ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড”। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার আন্দোলনের কারণেই তাঁকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশের অখণ্ডতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং তাঁর আদর্শ আজও ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিজেপি ও তার আদর্শিক শিকড় জনসংঘের কাছে তিনি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক। তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের প্রশ্নও সময় সময় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেওয়া হয়নি

    হুগলির বলাগড়ের জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেতে ১২৫ ফুট উঁচু নতুন মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুরোনো বাড়ির আমূল সংস্কার ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে তার কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘তাঁর আবির্ভাব দিবসেই ভূমি পুজোর কাজ শুরু হবে।’  বঙ্গীয় আইনসভায় ৫৮-২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারকেশ্বরে হিন্দু মহা সম্মেলনে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, এই সরকার তাঁর আদর্শে চলবে।’

  • Brahmos Akashteer Weapon Systems: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির সমীকরণ! ভারতের ব্রহ্মস ও আকাশতীর চাইছে ইউএই

    Brahmos Akashteer Weapon Systems: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির সমীকরণ! ভারতের ব্রহ্মস ও আকাশতীর চাইছে ইউএই

    সুশান্ত দাস

    আবুধাবি শুধু অস্ত্র কিনতে চাইছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশে ভারতের সঙ্গে আরও গভীর কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে…

    ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই) ভারতের অন্যতম অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশতীর বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউএই। একই সঙ্গে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে একক উৎসের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে।

    দ্রুত এগোচ্ছে ভারত-ইউএই প্রতিরক্ষা আলোচনা

    সূত্রের খবর, ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একাধিক প্ল্যাটফর্মের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে আবুধাবি। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশতীর। এক সরকারি সূত্রের বক্তব্য, “ইউএই আমাদের বেশ কয়েকটি অস্ত্র ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্রহ্মস এবং আকাশতীর নিয়ে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও তা দ্রুত এগোচ্ছে।” যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার বা ইউএই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    কেন প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে চাইছে ইউএই?

    সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত সংঘাতের সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা ইউএইকে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে বাধ্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএই বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হরমুজ প্রণালী-র নিরাপত্তা নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস রফতানি হয়। ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া আবুধাবি এখন এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুঁজছে যা দ্রুতগতির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশপথের হুমকিকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।

    কী এই আকাশতীর?

    আকাশতীর হল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

    এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন সেন্সর ও রাডার থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ
    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ
    • ● বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয়
    • ● স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
    • ● দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশতীর মূলত একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, যা বিভিন্ন অস্ত্র ও সেন্সরকে একত্রে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে।

    ব্রহ্মস: ভারতের গর্ব

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অন্যতম।

    ব্রহ্মসের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য—

    • ● গতি: শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ
    • ● উৎক্ষেপণ মাধ্যম: স্থল, জল ও আকাশ
    • ● রফতানি সংস্করণের পাল্লা: প্রায় ২৯০ কিলোমিটার
    • ● অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা
    • ● শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা

    যেহেতু ব্রহ্মস যৌথভাবে ভারত ও রাশিয়ার তৈরি, তাই ইউএই-কে এই ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি করতে হলে মস্কোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে সূত্রের দাবি, রাশিয়া ও ইউএই-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই অনুমোদন বড় বাধা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়

    বর্তমানে ইউএই-এর কাছে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—

    • ● থাড (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স)
    • ● প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
    • ● এমজিএম-১৬৮ অ্যাটাকমস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    বিশ্লেষকদের মতে, আকাশতীর এই বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় ঘটাতে পারে এবং আকাশপথে আসা হুমকি মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

    ভারত-ইউএই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইউএই-এর সম্পর্ক শুধু বাণিজ্য বা জ্বালানি সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দ্রুত এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির জন্য একাধিক চুক্তি করেছে। ফলে সম্ভাব্য ব্রহ্মস ও আকাশতীর চুক্তিকে কেবল অস্ত্র বিক্রি হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সৌদি আরব-পাকিস্তান সমীকরণের প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার পেছনে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএই-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা বহন করে। দক্ষিণ এশিয়ার সংঘাত ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পার্ল পাণ্ডিয়ার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-ইউএই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের গভীরতাকেই তুলে ধরছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে ভারতের উত্থান

    গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী—

    • ● ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা রফতানি ছিল মাত্র ৬৮ কোটি টাকা
    • ● ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৩৭,৮৬৮ কোটিরও বেশি হয়েছে
    • ● প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা রফতানি ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে সফল ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় অস্ত্রের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    কোন কোন দেশ ব্রহ্মস কিনছে?

    ভারত ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সকে ব্রহ্মস সরবরাহ করেছে। এছাড়া ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রফতানি চুক্তি করেছে। পাশাপাশি তাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং চিলি-সহ একাধিক দেশ ব্রহ্মসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

    বিশ্ব অস্ত্রবাজারে ভারতের অবস্থান

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে দ্রুত অগ্রগতি হলেও ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অস্ত্র আমদানির ৮ শতাংশেরও বেশি ভারতের দখলে।

    অন্যদিকে ২০২১-২৫ সময়কালে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে—

    • ● প্রথম স্থানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৫৪ শতাংশ)
    • ● দ্বিতীয় স্থানে ইতালি (১২ শতাংশ)
    • ● তৃতীয় স্থানে ফ্রান্স (১১ শতাংশ)

    ভারত-আমিরশাহী কূটনীতিতে নয়া মাইলফলক

    ব্রহ্মস ও আকাশতীর রফতানি নিয়ে ভারত-ইউএই আলোচনা সফল হলে তা শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য নয়, বরং ভারতের কৌশলগত কূটনীতির ক্ষেত্রেও একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় ভারতের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করবে যে ভারত এখন শুধু বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক নয়, বরং দ্রুত উত্থানশীল একটি প্রতিরক্ষা রফতানিকারক শক্তিও।

  • Sabyasachi Dutta: পার্থর পরে সব্যসাচী! ধৃত তৃণমূল নেতার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার কেজি কেজি সোনা

    Sabyasachi Dutta: পার্থর পরে সব্যসাচী! ধৃত তৃণমূল নেতার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার কেজি কেজি সোনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা নগদের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছিল পাঁচ কিলো সোনা! চার বছর পরে তারই একটি ঝলক দেখা গেল রাজ্যে। এবার সল্টলেকের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সব্যসাচী দত্তের (Sabyasachi Dutta) বান্ধবীর বাড়িতে বিপুল সোনার খোঁজ পেল পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে সব্যসাচীকে নিয়ে নদীয়ার করিমপুরের কিশোরপুরে টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, সেখানে মোট ৩ থেকে সাড়ে তিন কিলো সোনার গয়না মিলেছে। যার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে। ইতিমধ্য়েই সামনে এসেছে উদ্ধার হওয়া সোনার ছবি।

    কীভাবে নজরে এল সোনা

    গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন সব্যসাচী দত্ত। আজ, মঙ্গলবার তাঁর পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর এরই মধ্য়ে নতুন তথ্য সামনে এল। জানা গিয়েছে, সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়ে নদিয়ার তেহট্ট ও করিমপুরে তল্লাশি চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তল্লাশি চলে তৃণমূল নেত্রী তথা সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ টিনা ভৌমিক সাহার বাপের বাড়ি ও শ্বশুর বাড়িতে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে উঠে এসেছে যে সব্যসাচীর টাকাতেই ওই সোনা কিনে রাখা ছিল টিনার বাড়িতে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই ধৃত সব্যসাচীর বাড়ি থেকে ৫০ কেজি সোনা কেনার রশিদ মিলেছে। তারপরই শুরু হয় তল্লাশি। টিনার দুই বাড়ি থেকে তিন কেজি অর্থাৎ ৪ কোটি টাকা বেশি মূল্যের সোনা উদ্ধার করা হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শাঁখা বাঁধানো, পলা বাঁধানো, চওড়া হার, চুড়ি, লকেট, চূড় সবই রয়েছে। এছাড়াও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু জমির কাগজপত্র। বৃহস্পতিবার টিনাকে বিধাননগর থানায় সশরীরে হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়।

    তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্য টিনা

    নদিয়া তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্য টিনা সাহা ভৌমিক। এছাড়া নদিয়া জেলায় তৃণমূলের বঙ্গজননীর সভানেত্রী ছিলেন তিনি। সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। বিধায়ক তাপস সাহার সঙ্গে টিনার দ্বন্দ্ব ছিল বলেও চর্চা রয়েছে। বিধায়কের অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বেশ কয়েকজনকে চাকরি দিয়েছিলেন এই টিনা। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, রাজনৈতিক কারণে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক ছাড়া সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে তাঁদের আর কোনও সম্পর্ক নেই। ২০২৫ সালে পরিচয় বলে জানান টিনা। বার চারেক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়েছেন সব্যসাচী দত্ত। টিনার অভিযোগ, তাঁর মা, ভাইয়ের স্ত্রী সহ পরিবারের সাত মহিলার সব গয়না বাজেয়াপ্ত করেছে। তিনি আইনি পথে হাঁটবেন।

    রাতভর তল্লাশি, কী বলছে পুলিশ

    পুলিশ সূত্রে খবর, রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে টিনার বাড়ি থেকে তিন কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, যে বাড়ি থেকে সোনা উদ্ধার হয়েছে, সেটি টিনার বাবা কাঞ্চন ভৌমিকের। সোমবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ ওই বাড়িতে যায় বিধাননগর উত্তর এবং করিমপুর থানার পুলিশের একটি দল। ওই দলে ছিলেন ৭ জন পুলিশ আধিকারিক। ২১ জন পুলিশকর্মী গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলেন। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ একটি লাল স্করপিও গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় সব্যসাচীকে। এত পরিমাণ সোনা কিভাবে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা কেনার রসিদ পেয়েছিল পুলিশ। মোট কত টাকার সোনা কিনেছেন, সেই টাকার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁর ফ্ল্যাট থেকে ৭০-৮০ গ্রাম সোনার গয়নাও উদ্ধার হয়। এরাব বিপুল সোনা মিলল তাঁর বান্ধবীর বাড়ি থেকে।

    তোলাবাজির টাকা দিয়ে সোনা কিনতেন সব্যসাচী

    গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচীকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তার পর তৃণমূল নেতাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর আগে সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাঙ্কের লকার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনার সন্ধান পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, তোলাবাজির টাকা দিয়ে সোনা কিনে রাখতেন সব্যসাচী। এর আগে সব্যসাচী এবং তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত (ফ্রিজ়) করেছে পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়, ওই পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মেয়াদি আমানত (ফিক্সড ডিপোজ়িট), নগদ মিলিয়ে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বিপুল টাকার উৎস কী, তা জানতে তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ।

    টিনার সব সম্পত্তি খতিয়ে দেখার আর্জি

    তোলাবাজি সংক্রান্ত মামলায় এর আগে সব্যসাচী-‘ঘনিষ্ঠ’ টিনাকে তলব করেছিল পুলিশ। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। তার মধ্যে তাঁর পৈতৃক বাড়়িতে তল্লাশি অভিযান চালাল পুলিশ। টিনার বাবা কাঞ্চন নাজিরপুর বাজারে একটি কাপড়ের দোকান চালান। স্থানীয়দের দাবি, এই বিপুল সোনার মালিক টিনা। যদিও এই বিষয়ে টিনার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে কাঞ্চন বলেন, “এগুলি আমাদের পরিবারের গয়না। এর মধ্যে মেয়ের কিছু গয়না থাকলেও থাকতে পারে। সেটা ওর মা ভাল বলতে পারবে।” এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতা সৌমেন সরকার বলেন, “সব্যসাচীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন টিনা। শুধুমাত্র সোনা নয়, নদিয়ার নাজিরপুর এলাকা জুড়ে তাঁর বিপুল সম্পত্তি আছে। কলকাতায় চারটি ফ্ল্যাট আছে। সব বিষয়সম্পত্তি তদন্তের আওতায় এনে খতিয়ে দেখা হোক।”

  • Fifa World Cup 2026: বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির মেসির, জোড়া গোল এমবাপের, নকআউটে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স

    Fifa World Cup 2026: বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির মেসির, জোড়া গোল এমবাপের, নকআউটে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মিরোস্লাভ ক্লোজেকে টপকে বিশ্বকাপের (Fifa World Cup 2026) সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি। তবুও নিরুত্তাপ-শান্ত। নিজের রেকর্ড নিয়ে খুব একটা হেলদোল নেই মেসির। তিনি বেশি খুশি হয়েছেন আর্জেন্টিনাকে নকআউটে তুলতে পেরে। তাঁর জোড়া গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা-এটা উপরি পাওনা। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর এমনই অভিমত লিও-র। আর্জেন্টিনা ছাড়া সোমবার নকআউটে গেল ফ্রান্সও। মেসির মতোই জোড়া গোল এমবাপের। ২৬-এর বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসিকে তাড়া করছেন কিলিয়ান এমবাপে। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাতে ক্লোজেকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের মালিক হয়েছেন মেসি। কয়েক ঘণ্টা পর ক্লোজেকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিও করে ফেললেন ১৬ গোল। ছাপিয়ে গেলেন ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে।

    আর্জেন্টিনার কাছে ২২ জুন ইতিহাস

    জোড়া গোলে আবার নায়ক লিয়োনেল মেসি। ঠিক ৪০ বছর আগে এই ২২ জুন দিনটিকে দিয়েগো মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় তুলে দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করে। একই দিনে মেসি রচনা করলেন অন্য এক কীর্তি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য এদিন একটি গোল দরকার ছিল লিয়োর। সহজতম সুযোগ এসে গিয়েছিল ৯ মিনিটে। বক্সের মধ্যে লাউতারো মার্তিনেজকে একসঙ্গে ট্যাকল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ফুটবলার। ভার-এর সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। পিছন থেকে ট্যাকল করাতেই সম্ভবত পেনাল্টি দেন তিনি। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশ সন্তুষ্ট নন। তবে নজর ছিল মেসির দিকে। আর্জেন্টিনার অধিনায়কই পেনাল্টি মারতে এগিয়ে যান। গোটা স্টেডিয়াম তখন বিষ্ফোরণের অপেক্ষায়। কিন্তু গোল করতে পারলেন না মেসি! ডান পোস্টে শট মারেন। কিন্তু শটে তেমন জোর ছিল না! আটকে দিলেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার। মেসি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন ১৯ মিনিটেও। এ বার শ্লেগারকে প্রায় একা পেয়েও তাঁর গায়ে মারেন! মেসি-ভক্তেরা যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মাহেন্দ্রক্ষণ এল ৩৮ মিনিটে। গোল করলেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে চতুর্থ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৭তম গোল এলএম টেনের।

     দলকে জিতিয়েই খুশি

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দলকে জিতিয়ে মেসি বলেন, “দল জেতায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। খুব দরকার ছিল এই জয়টা। কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। দল নকআউটে ওঠায় মানসিক শান্তি পেয়েছি, যা ভবিষ্যতে আমাদের সাহায্যে করবে। এই বিশ্বকাপে সব ম্যাচই টান টান হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে ম্যাচ জিততে গেলে। আমি প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য তর সইছে না।” দু’গোলে জিতলেও অস্ট্রিয়া যথেষ্ট লড়াই করেছে বলে মনে করেন মেসি। জয় যে সহজে আসবে না, এটাও তিনি জানতেন। মেসি বলেন, “জিততে পেরে খুশি হয়েছি। কিন্তু কতটা কষ্ট করে জয় পেতে হয়েছে সেটা সকলেই দেখেছেন। ছ’পয়েন্ট পাওয়া খুব দরকার ছিল। আমরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলাম। তবে এটা জানতাম জয় সহজে আসবে না। এখনকার ফুটবলে কোনও দলই সহজে হাল ছেড়ে দেয় না। প্রতিটা ম্যাচই মনোযোগ দিয়ে খেলতে হয়।”

    সব ম্যাচ জেতাই লক্ষ্য 

    মেসির সংযোজন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যোগ্যতা অর্জন করা। সব ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। দলের প্রত্যেকে খুশি। আসলে আমরা একসঙ্গে হলে খুব মজা করতে ভালবাসি। অনুশীলনেও রোজ হাসিঠাট্টার মধ্যে দিয়েই কেটে যায়। সে কারণেই মাঠে নেমে এত ভাল খেলি। আমরা ইতিমধ্যেই অনেককে আনন্দ দিয়েছি। আরও আনন্দ দিতে চাই। পেনাল্টি নষ্ট করার পর নিজের উপরেই খুব রেগে গিয়েছিলাম। দিনের শেষে সেটা অবশ্য মাথায় নেই।” অস্ট্রিয়া ম্যাচেই বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে নিতে চেয়েছিলেন লিয়োনেল স্কালোনি। যে কোনও পেশাদার কোচ তাই চাইবেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচও ব্যতিক্রম নন। সোমবার দলকে শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেইমতো খেলে নীল-সাদা। এদিন বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম গোলও করেন মেসি। এ বারেই দু’ম্যাচে পাঁচটি।

    দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা

    অন্যদিকে, প্রত্যাশা মতোই ইরাককে ৩-০ গোলে হারাল ফ্রান্স। আরও এক বার জোড়া গোল করলেন এমবাপে। কিন্তু এই ম্যাচে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আমেরিকার আবহাওয়া। দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা ধরে। ১৫ মিনিটের বিরতি বেড়ে হল ১৩১ মিনিটের। ফলে যে খেলা ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত তা শেষ হল প্রায় সাড়ে ৬টায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দীর্ঘতম ম্যাচ। ফিলাডেলফিয়াতে যে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে তা আগেই জানা গিয়েছিল। বিরতির সময়েই জানা যায়, স্টেডিয়ামের কাছাকাছি ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামেও তা শুরু হয়। দর্শকেরা গ্যালারির ভিতরের দিকে আশ্রয় নেন। প্রবল বৃষ্টি দেখে এক এক সময় মনে হচ্ছিল, আদৌ খেলা শুরু করা যাবে তো। আমেরিকায় এই দৃশ্য মাঝেমাঝেই দেখা যায়। ফলে সেখানকার ফুটবল স্টেডিয়ামের নিকাশি ব্যবস্থা সে ভাবেই করা। বৃষ্টি থামলে দ্রুত খেলা শুরু করা যায়।

    এমবাপের ঝড়

    ঝড়বৃষ্টির আগে ও পরে দু’বার ঝড় তুললেন এমবাপেও। ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। তাঁর শটের কোনও জবাব গোলরক্ষকের কাছে ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হওয়ার পর আবার গোল করেন এমবাপে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে টপকে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন ক্লোজ়েকে। পরের ম্যাচে একটি গোল করলে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে একই বিশ্বকাপে ক্লোজ়েকে ছাপিয়ে যাবেন তিনি। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে হবেন দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা। ফ্রান্সের হয়ে ৬৬ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন উসমান দেম্বেলে। এই জয়ের পর ফ্রান্সের পয়েন্ট দুই ম্যাচ ৬।

  • BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৩ জুন মঙ্গলবার, ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালে আজকের দিনে জম্মু-কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mookerjee Martyrdom Day)। দেশজুড়ে এই দিনটি বিজেপি পালন করে বলিদান দিবস (BJP Balidan Diwas) হিসেবে। এই প্রতিবেদনে আমরা জানব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আন্দোলন সম্পর্কে।

    জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই

    বিজেপির পূর্বতন ভারতীয় জনসংঘ গঠন, পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানে যেতে না দেওয়া, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন-এই সব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বাঙালি নাম। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ‘বাংলার বাঘ’ বলে খ্যাত আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও যোগমায়াদেবীর পুত্র একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে একজন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর জন্মস্থান কলকাতার ৭৭ রসা রোডে (বর্তমানে আশুতোষ মুখার্জি রোড)।

    শিক্ষাজীবন ও বিবাহ

    • – ১৯০৬ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন।
    • – ১৯১৭ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি (১০ টাকা প্রতি মাসে) সহ উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আর্টসে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন, ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।
    • – ১৯২২ সালের ১৬ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডাঃ বেণীমাধব চক্রবর্তীর কন্যা সুধাদেবীর সঙ্গে।
    • – ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

    মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো

    ১৯২৪ সালের ২৫ মে বিহারের পাটনায় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনা গভীর রেখাপাত করে যুবক শ্যামাপ্রসাদের মনে। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, পিতার মৃত্যুতে তাঁর জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ উধাও হয়ে যায়। এরপরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৬ সালে আইন পড়তে তিনি ইংল্যান্ড যান। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্মেলনে ওই বছরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। কলকাতায় ফিরে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে যোগদান করেন। তবে হাইকোর্টের কর্মজীবনকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ১৯৩৩ সালে তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে, প্রয়াত হন স্ত্রী সুধাদেবী।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

    ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নতুন কোর্স হিসেবে এগ্রিকালচারের ওপর ডিপ্লোমা তিনিই চালু করেন। চিনা ও তিব্বতীয় ভাষাশিক্ষার ওপরে কোর্স চালু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর আমলে নতুনভাবে তৈরি হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি হল। তিনি উপাচার্য থাকাকালীন প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানান বক্তব্য রাখতে।

    হিন্দু মহাসভায় যোগদান

    ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ওই বছরেই হিন্দু মহাসভায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের সভাপতিত্বে কলকাতায় বসে হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪০ সালে তিনি হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন।

    শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা

    ১৯৪১ সালে সাম্প্রদায়িক মুসলিম লিগকে বাংলার ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জোট হয় ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির। এই জোট জনপ্রিয় ছিল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা নামে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

    দাঙ্গা বিধ্বস্ত বাংলায় উদ্বাস্তুদের পাশে

    ১৯৪৪ সালে মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরে বসে হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় অধিবেশন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সে বছর থেকেই চালু করেন ‘ন্যাশনালিস্ট’ পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি দাঙ্গা করে মুসলিম লিগ। সে সময় আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে থাকা, উদ্বাস্তুদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, সবটাই তিনি নিজে হাতে করেছিলেন। সে সময় তিনি তৈরি করেছিলেন হিন্দুস্থান ন্যাশনাল গার্ড।

    পশ্চিমবঙ্গ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পশ্চিমবঙ্গ। বাঙালি হিন্দু পায় তার নিজস্ব বাসভূমি। মুসলিম লিগের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তারপর থেকে এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’। হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়। পৃথক হয় পশ্চিমবঙ্গ। সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ঘোষণাও করে।

    স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী

    ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট নেহরুর মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর হিন্দু মহাসভাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। ভারতের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন শিল্প উন্নয়ন নিগম, প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ স্থাপন, সিন্ধ্রি সার কারখানা-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। খড়্গপুরে ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি স্থাপনা, কলকাতার প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্থাপনার ভাবনা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়ে চলে। হত্যা, লুন্ঠন, নারীর সম্ভ্রমহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫০ সালের ১৪ এপ্রিল নেহরু মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হয়েও এর প্রতিবাদে লোকসভায় গর্জে ওঠেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পদত্যাগ করেন।

    ভারতীয় জনসংঘ গঠন

    দেশভাগের পরবর্তীকালে হিন্দু শরণার্থীদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের বন্দোবস্ত তিনিই করেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। একমাত্র জাতীয়তাবাদী সাংসদ হিসেবে তিনিই আইনসভায় হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতেন। এমন সময় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল স্থাপনের উদ্দেশ্যে গুরুজি গোলওয়ালকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুজি কয়েকজন স্বয়ংসেবককে পাঠান, তাঁরা হলেন, দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, জগদীশ মাথুর, সুন্দর সিং ভাণ্ডারি প্রমুখ। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লির রাঘোমাল গার্লস স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। তিনিই ছিলেন প্রথম সভাপতি। প্রতীক ছিল প্রদীপ। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসঙ্ঘ তিনটি আসন পায়। যার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জেতেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজে।

    জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু

    দেশের প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বর তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপের জন্য তিনি আন্দোলন শুরু করেন। দাবি ছিল ‘এক প্রধান-এক নিশান-এক বিধান’। কারণ কাশ্মীরের জন্য ছিল তখন আলাদা পতাকা। কাশ্মীরে চালু ছিল না ভারতের সংবিধানও। বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল ৩৭০ ধারার মাধ্যমে। এই ধারা কার্যত কাশ্মীরকে পৃথক করে রেখেছিল ভারত থেকে। কাশ্মীরে প্রবেশ করতে ভারতীয়দের লাগত অনুমতিও। এর প্রতিবাদ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বিনা পারমিটে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে গেলে ফারুক আবদুল্লার সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে ১৯৫৩ সালের ১১ মে। জম্মু ও কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন।

  • Waterborne Diseases: ফুচকা থেকে কাটা ফল— বর্ষায় এই খাবারগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক? সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

    Waterborne Diseases: ফুচকা থেকে কাটা ফল— বর্ষায় এই খাবারগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক? সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে কোচিং ক্লাস থেকে ফেরার সময় হোক কিংবা অফিস থেকে বেরিয়ে, দিনভরের ক্লান্তি দূর করতে আর মেজাজ ফুরফুরে রাখতে, রাস্তায় সাজানো থাকে নানান পসরা! জিভে জল আনা খাবারের কমতি নেই সেখানে! রাস্তার পাশে কম দামে সহজেই নানান খাবার! আর তাতেই মজে আট থেকে আশি! স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রী কমবেশি সকলেই সন্ধ্যার মুখরোচক খাবারে নজর থাকে। লেবু আর তেঁতুল জল দেওয়া ফুচকা হোক কিংবা মিষ্টি রঙিন সরবত, দিনের নানান ক্লান্তি কাটাতে, এমন মুখোরোচক খাবারের তুলনা নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই জিভে জল আনা খাবারেই বিপদ বাড়ছে! বিশেষত বর্ষার ভোগান্তি বাড়াবে এই ধরনের খাবার। সাবধানতা বজায় রাখতে না পারলেই সঙ্কট বাড়তে পারে।

    কোন কোন খাবারে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় জলবাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত রাজ্যের একাধিক জায়গায় যেভাবে জমা জলের সমস্যা রয়েছে, তার জেরে বর্ষায় রোগের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় সুস্থ থাকতে তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি বাড়ায় জলবাহিত রোগ।

    ফুচকা

    পেটের অসুখ, টাইফয়েড এমনকি নানান রকমের হেপাটাইটিসের নেপথ্যে থাকে অপরিশ্রুত জল। ফুচকার মতো খাবার থেকে লিভার এবং পাকস্থলীর অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ফুচকার সঙ্গে তেঁতুল ও লেবুর রস মেশানো জল খাওয়া হয়। এই জল সব দোকানে সমান পরিশ্রুত থাকে না। ফলে সেই জল থেকে নানান অসুখের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্ষায় যে কোনও জায়গায় জলে সহজেই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ফুচকা থেকে তাই সহজেই রোগ সংক্রমণ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রঙিন সরবত

    ফুচকার পাশপাশি রঙিন সরবত নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ প্রচন্ড বৃষ্টি হলেও, রোদের পারদ যথেষ্ট থাকছে। আবহাওয়ার রকমফেরে অস্বস্তি বাড়ছে। এর ফলে সাময়িক আরাম পাওয়ার জন্য অনেকেই রাস্তায় নানান রকমের রঙিন সরবত খাচ্ছেন। কিন্তু এই ধরনের রঙিন সরবত ভোগান্তি বাড়াতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, রঙিন সরবতে যে জল ব্যবহার করা হয়, অনেক সময়েই তার গুণমান ঠিক থাকে না। তাছাড়া, রাস্তার ধুলো-বালি মিশে, সেই জলের মানের অবনমন ঘটে। সব মিলিয়ে সেই সরবত থেকে সহজেই লিভারে যে কোনও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

    কাটা ফল

    বর্ষার মরশুমে বাজারে কাটা ফল বা ফ্রুট চাট জাতীয় খাবার বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে ডায়েরিয়া-কলেরার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। বর্ষার জমা জল ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এই ধরনের রোগের দাপট বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে খাবারের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সজাগ থাকা জরুরি। রাস্তার কাটা ফল বা ফ্রুট চাট জাতীয় খাবারে যে ধরনের ফল ও মশলা ব্যবহার করা হয়, এতে কলেরার মতো রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, কাটা ফলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ধরনের খাবার থেকে বর্ষার রোগের দাপট বাড়তে পারে।

    কোন ধরনের রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় সবচেয়ে বেশি বিপদ বাড়ায় লিভারের অসুখ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস এ-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও ডায়ারিয়া, টাইফয়েডের মতো রোগের দাপট ও বাড়ে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং খাবার খাওয়ার জেরেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো রোগে লিভার কিংবা অন্ত্রের জটিল সমস্যার পাশপাশি লিভার বা পাকস্থলীর সংক্রমণ থেকে জ্বর, পেট ব্যথা, বমির মতো দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলেও জানাচ্ছেন তাঁরা। এছাড়াও পেটের সাধারণ রোগ ও হজমের গোলমালের সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কয়েক দিন বৃষ্টি না হলেই তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। অস্বস্তি বাড়ছে। রোদের দাপটে নাজেহাল। আবার একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে হঠাৎ করেই তাপমাত্রার পারদ কমে যাচ্ছে। আবার প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টির জেরে জল জমে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে একদিকে পরিবেশের এই তারতম্য, আরেকদিকে জমা জলের দূর্ভোগ, মানুষের স্বাস্থ্য ভোগান্তিও বাড়াতে পারে। তাই বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ভোগান্তি কমাতে কী করতে হবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার রোগের দাপট কমাতে সবচেয়ে জরুরি সচেতনতা। সতর্ক থাকলেই সংক্রামক রোগের দাপট কমবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, খোলা খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না। বরং পরিষ্কার জায়গায় খাবার খাচ্ছেন কিনা, এই আবহাওয়ায় সে নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। পরিশ্রুত পানীয় জল খেতে হবে। যাতে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজর দেওয়ার পাশপাশি যে পাত্রে জল রাখা হচ্ছে এবং যে পাত্রে জল খাওয়া হচ্ছে, সেটা ঠিক আছে কিনা, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ সেগুলো থেকেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। শৌচালয় ব্যবহারের পরে এবং খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে হাত ধোয়ার ব্যাপারে বাড়তি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যাতে কোনও রকম জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি না হয়।

LinkedIn
Share