Tag: Madhyom

Madhyom

  • Daily Horoscope 23 June 2026: প্রেমের ব্যাপারে মানসিক অবসাদ এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 23 June 2026: প্রেমের ব্যাপারে মানসিক অবসাদ এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) ব্যবসায় অশান্তি বাধার আশঙ্কা রয়েছে।

    ২) বুকের সমস্যা বৃদ্ধি।

    ৩) চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে পারে।

    বৃষ

    ১) বুদ্ধির ভুলে কোনও ক্ষতি হতে পারে, একটু সাবধান থাকা দরকার।

    ২) ভালো কাজে নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হবে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মিথুন

    ১) প্রেমের ব্যাপারে মানসিক অবসাদ।

    ২) ব্যবসায় লাভ বৃদ্ধি, তবে খরচও বাড়বে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    কর্কট

    ১) কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি থেকে সাবধান।

    ২) নতুন কাজের প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াবেন না।

    সিংহ

    ১) দিনটি ভালো-খারাপ মিশিয়ে কাটবে।

    ২) বাড়ির কাছে ভ্রমণের ব্যাপারে আলোচনা।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    কন্যা

    ১) ব্যবসায় মন্দা দেখা দিতে পারে।

    ২) বিবাহ নিয়ে অশান্তি হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    তুলা

    ১) শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে ভালো কাজ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

    ২) সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে সমস্যা হতে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    বৃশ্চিক

    ১) মধুর ভাষণের দ্বারা শ্রোতাদের মন জয় করতে পারবেন।

    ২) দাম্পত্য কলহের অবসান।

    ৩) দিনটি ভালোই কাটবে।

    ধনু

    ১) সকালের দিকে কাজের জন্যে শুভ যোগাযোগ আসতে পারে।

    ২) কর্মস্থানে গুপ্তশত্রু হতে পারে।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    মকর

    ১) অন্যের জিনিসের উপর লোভ সামলাতে না পারলে বিপদে পড়তে পারেন।

    ২) সংসারে মনঃকষ্ট।

    ৩) বন্ধুদের সাহায্য পাবেন।

    কুম্ভ

    ১) বাড়িতে গুরুজনদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।

    ২) কুসঙ্গে পড়ে নিজের ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    মীন

    ১) চাকরির জায়গায় বিরোধী ব্যক্তির সঙ্গে মিত্রতা হয়ে যেতে পারে।

    ২) প্রতিবেশীদের চিকিৎসার জন্য সময় ব্যয়।

    ৩) সমাজে আপনার প্রশংসা বৃদ্ধি পাবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • West Bengal Budget 2026: শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি, কলকাতার কাছে আরও একটি বিমানবন্দর, পালবদলের বাজেটে বড় ঘোষণা

    West Bengal Budget 2026: শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি, কলকাতার কাছে আরও একটি বিমানবন্দর, পালবদলের বাজেটে বড় ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা, বাজেট পেশ করে মমতার সরকারকে নিশানা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বাংলায় পালাবদলের প্রথম বাজেট পেশ করলেন স্বপন। রাজ্য সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে আশাকর্মী- প্রত্যেকেই সুখবর শুনিয়েছে নতুন সরকার। উত্তরবঙ্গ থেকে সুন্দরবন প্রত্যেক অঞ্চলের জন্যই রয়েছে বিশেষ ঘোষণা। শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে ক্রীড়া-শিল্প সবক্ষেত্রেই ভরসা জুগিয়েছে নয়া সরকারের বাজেট (West Bengal Budget 2026)।

    শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি

    পশ্চিমবঙ্গের রূপকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি তাঁর বাড়ি সংরক্ষণেও বিশেষ বরাদ্দ শুভেন্দু সরকারের। মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ব্লককে একটি মডেল ব্লক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে, এই ব্লকের প্রাইমারি হেলথ সেন্টারকে ১০০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

    মদের দোকান নিয়ে কড়াকড়ি

    অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে এই লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম দূরত্ব হবে ৫০০ মিটার। ব্যবসাকে সিন্ডিকেট চার্জ এবং অন্য বেআইনি অর্থ আদায় থেকে রক্ষা করার আইন আনা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। স্বপন জানান, হস্তক্ষেপ এবং চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এই কারণে আগামী দিনে একটি আইন আনা হবে।

    দুর্গাপুজোকে ঘিরে পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান

    অর্থমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজো হল বাংলার সাংস্কৃতিক আত্মা। দুর্গাপুজো বিশ্বজনীন উৎসব, বাংলার চিরন্তন আবেগ— এই মূল প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে আমরা একটি লক্ষ্যভিত্তিক পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান শুরু করব।” রাজ্যে শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কালীঘাট, তারাপীঠ থেকে ফুল্লরা, বক্রেশ্বরকে নিয়ে সার্কিট তৈরি হবে। ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে হেরিটেজ কমিশন গঠন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

    রাজ্যে নতুন পাঁচ জেলা!

    রাজ্যে মোট পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এই পাঁচটি প্রস্তাবিত জেলা হল— কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ। পাশাপাশি কাঁথিতে একটি নতুন পুলিশ জেলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গোপীবল্লভপুরে তৈরি হবে নতুন মহকুমা। পাশাপাশি শিবমন্দির, গাজোল, চাঁচল, বেলদা, বাগনান, জয়গাঁ, কোলাঘাট, কামারপুকুর এবং টুঙ্গিদিঘিতে নতুন পুরসভা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন বিমানবন্দর!

    রাজ্য সরকারের নতুন বাজেটে জোর দেওয়া হল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও। কলকাতার কাছে আরও একটি বিমানবন্দর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। কল্যাণীর কাছে একটি ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর তৈরি করতে ১০০০-১৫০০ একর জমি চিহ্নিত করবে সরকার। পাশাপাশি কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়া, বালুরঘাট এবং মালদহেও বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    খেলার উন্নতিতে বরাদ্দ

    উত্তরবঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম এবং একটি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি হবে। ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাজ্যে খেলো ইন্ডিয়া কার্যক্রম শুরু হবে। রাজ্যে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি হবে।

    মিড ডে মিলের উপকরণে ১০ টাকা

    প্রাথমিক স্কুলে মিড ডে মিলের উপকরণের খরচ ১০ টাকা করা হবে। ইসকনের সহযোগিতায় কলকাতা পুরসভা এলাকায় স্কুলে পুষ্টিকর রান্না করে মিড ডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।আশাকর্মীদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ৫০০০ টাকা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন। স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টরদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করে মাসে ১৬ হাজার টাকা করা হবে। সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও গ্রিন পুলিশদের পারিশ্রমিক ২০০০ টাকা করে বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। হোমগার্ডদেরও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০০০ টাকা।

    শিল্প নিয়ে ঘোষণা

    উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ টানতে বিশেষ প্রকল্প
    উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাটারিচালিত গাড়ির কারখানা তৈরি হবে।
    শিলিগুড়িতে ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিক হাব তৈরি হবে
    শিলিগুড়িতে আইটি পার্ক গড়ে তোলা হবে
    দুর্গাপুরে তৈরি হবে সেমি কন্ডাক্টর ইউনিট
    দক্ষিণ দিনাজপুরে টেক্সটাইল হাব তৈরি হবে

    স্বাস্থ্যের জন্য ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গে এইমস ও ক্যান্সার হাসপাতাল
    ৫টি নতুন মেডিক্যাল হাব তৈরির ঘোষণা
    ভেলোর, মুম্বইয়ে রোগীর পরিবারের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে
    সুন্দরবনে মোটর বোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা
    দক্ষিণ দিনাজপুর ও কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ
    আলিপুরদুয়ার ও পশ্চিম বর্ধমানে মেডিক্যাল কলেজ
    হাসপাতালে রোগী পিছু খাবারে ১১০ টাকা বরাদ্দ

  • West Bengal Budget 2026: সুন্দরবনের জন্য ১,২৮০ কোটি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বরাদ্দ ১,৮২১ কোটি! ৪ লক্ষ কোটির রাজ্য বাজেট ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    West Bengal Budget 2026: সুন্দরবনের জন্য ১,২৮০ কোটি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বরাদ্দ ১,৮২১ কোটি! ৪ লক্ষ কোটির রাজ্য বাজেট ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে (West Bengal Budget 2026)। এর মধ্যে কৃষিতে ৮,৫৬৫.৮৪ কোটি টাকা, কৃষি বিপণনে ৩৬৮.৯৯ কোটি টাকা, প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ১,৪০৪.৪২ কোটি টাকা, অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়নে ২,৫৪৪.৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সুন্দরবন বিষয়ক কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১,২৮০.০৭ কোটি টাকা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে ১,৮২১.৫২ কোটি টাকা। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ হয়েছে ২,১৬৫.৪২ কোটি টাকা। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নে ৫১,৮৩৬.৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শিল্প বাণিজ্য এবং শিল্পোদ্যোগে বরাদ্দ হয়েছে ৩,২৬৬.৫৯ কোটি টাকা।

    কোন খাতে কত বরাদ্দ

    জরুরি পরিষেবার জন্য প্রতিটি থানায় একটি করে গাড়ি চালু করা হবে। তাতে বরাদ্দ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বন্যা প্রতিরোধ এবং পুনর্বাসনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনায় বরাদ্দ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের স্কুলছুটের হার কমাতে নতুন প্রকল্প চালু হবে। সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজে অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। প্রসূতিদের উন্নত পুষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী মাত্রুবন্দনা যোজনার সাহায্য-সহ ২১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জন্য ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ। ঝাড়গ্রামে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। তার জন্য চলতি অর্থবর্ষে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ১২৫ দিনের কাজের জন্য রাজ্য সরকারের ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

    আদর্শ বিদ্যালয় তৈরির জন্য ২১০০ কোটি টাকা

    হুগলি-ভাগীরথী নদীর উপর জেটি উন্নয়ন, জেটি ও গ্রামীণ বাজারের যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। সুন্দরবনে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও উন্নত করতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি অফিসগুলিতে সৌরশক্তির গ্রিড বসানো হবে। তার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। মুড়িগঙ্গায় সেতু নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি বরাদ্দ। আদর্শ স্কুল গঠনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২১০০ কোটি টাকা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনাখরচের কোচিং সেন্টার চালু হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে বিনামূল্যের কোচিং সেন্টার। রাজ্যে আদর্শ বিদ্যালয় তৈরির জন্য ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সংস্কৃত কলেজ ও সংস্কৃত ভাষার প্রসারের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দু’টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে।

  • West Bengal Budget 2026: ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা, পাটের ফাইল নিয়ে, পুজো দিয়ে বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর

    West Bengal Budget 2026: ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা, পাটের ফাইল নিয়ে, পুজো দিয়ে বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রথম বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যে মোট ঋণ রয়েছে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯১ কোটি টাকার ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন। স্বপন বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মূল স্তম্ভ। রাজ্যের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে আমাদের। রাজ্য সরকার নাগরিকদের কাছে পৌঁছোতে ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।”

    ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। ওই সময় থেকে সব মিলিয়ে ৩৮ শতাংশ ডিএ কার্যকর হবে। মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫৫০ কোটি টাকা। এই উদ্দেশ্যে শীঘ্রই পিঙ্ক কার্ড চালু করা হবে বলে ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী।

    সব সামাজিক প্রকল্প চালু

    বিধায়ক তহবিল ৭০ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ কোটি টাকা করা হচ্ছে। বাজেটে এমনই ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। জানালেন ঋণ যাই থাক ডবল ইঞ্জিন সরকার তা সামলানোর চেষ্টা করবে। রাজ্যে চালু থাকা সকল সামাজিক সুরক্ষাপ্রকল্প অব্যাহত থাকবে। ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণির কাছে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রকল্পগুলির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটাতে হবে।”

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের

    এক লক্ষ শূন‍্যপদ নিয়োগ করা হবে। তাতে ৩৩ শতাংশ মহিলা নিয়োগ করা হবে। তার মধ্যে ২০ হাজার পুলিশ বিভাগ, ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি পদে নিয়োগে ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ইতিমধ্যে ৫ বছর ছাড় দেওয়া হবে। এই সুবিধা পরবর্তী ২ বছরের জন্য বহাল থাকবে।

    পাটের ফাইল নিয়ে, পুজো দিয়ে বাজেট পেশ

    এদিন রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট পেশের আগে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও। পাটের তৈরি বাজেট ফাইল নিয়ে বিধানসভায় আসেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পেশের আগে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। লোক ভবনে তোলা ওই ছবিটির সঙ্গে স্বপন লিখেছেন, “বাজেটের আগে তাঁর আশীর্বাদ।”

  • BRICS NSA: ব্রিকস নিরাপত্তা উপদেষ্টা বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছলেন ইরানের প্রতিনিধি গাদির নেজামি

    BRICS NSA: ব্রিকস নিরাপত্তা উপদেষ্টা বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছলেন ইরানের প্রতিনিধি গাদির নেজামি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস (BRICS) সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (Supreme National Security Council) উপ-সচিব গাদির নেজামি সোমবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক্স (X)-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ২২-২৩ জুন অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নেজামি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

    বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    বিদেশমন্ত্রক (MEA) সূত্রে খবর, ২২ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বৈঠকে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির নিরাপত্তা প্রতিনিধিরা ‘বর্তমান বিশ্বের অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ (Non-traditional Security Challenges) বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন। বিদেশমন্ত্রকের মতে, বৈঠকে দ্রুত পরিবর্তনশীল জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নতুন প্রযুক্তির কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সাইবার ও তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক হুমকির মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়ে ব্রিকসের যৌথ কর্মগোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফলও পর্যালোচনা করা হবে।

    কারা কারা রয়েছে এই জোটে

    উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ভারত চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে। এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে ভারত এই দায়িত্ব পালন করেছিল। এবারে ভারতীয় সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য “ বিল্ডিং ফর রেসিলেন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি ” (Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability), যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৫ সালের রিও শীর্ষ সম্মেলনে উত্থাপিত ‘মানবকেন্দ্রিক ও মানবতার অগ্রাধিকার’ দর্শনের প্রতিফলন বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ব্রিকস জোটে ১১টি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ রয়েছে— ব্রাজিল (Brazil), রাশিয়া (Russia), ভারত (India), চিন (China), দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa), মিশর (Egypt), ইথিওপিয়া (Ethiopia), ইরান (Iran), ইউনাইটেড আরব এমিরেটস (United Arab Emirates), সৌদি আরব (Saudi Arabia) এবং ইন্দোনেশিয়া (Indonesia)।

    কোন কোন বিষয়ে সহযোগিতা

    ব্রিকসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জোটটির কার্যক্রম এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনীতি ও অর্থায়ন, এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—এই তিনটি মূল স্তম্ভকে কেন্দ্র করে ব্রিকসের কার্যপরিধি ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, টেলিযোগাযোগ, কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-সংক্রান্ত বিষয়েও ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে।

  • China: মাও যুগে ফিরছে চিন? রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নতুন মতবাদ শি জিনপিংয়ের

    China: মাও যুগে ফিরছে চিন? রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নতুন মতবাদ শি জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের (China) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়া এবং চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)-র অভ্যন্তরে চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই নতুন একটি রাজনৈতিক-আদর্শিক মতবাদ সামনে আনল বেজিং। ‘শি জিনপিং থট অন পার্টি বিল্ডিং’ (Xi Jinping Thought on Party Building) নামে পরিচিত এই নতুন তত্ত্বকে বিশ্লেষকরা শি জিনপিংয়ের হাতে আরও ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। গত ১৫ জুন বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টি-নির্মাণ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মতবাদ উন্মোচন করা হয়। ঘটনাচক্রে দিনটি ছিল চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ৭৩তম জন্মদিন। সাধারণত চিনা নেতাদের ব্যক্তিগত উপলক্ষকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না, কিন্তু এবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে শি এবং তাঁর জন্মদিনকে অস্বাভাবিকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ‘পার্টিই সর্বেসর্বা’— নতুন প্রচারের মূল বার্তা

    সম্মেলনে সিসিপির শীর্ষ নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, চিনের সমস্ত প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক কাঠামোর ওপর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বই সর্বোচ্চ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি-ঘনিষ্ঠ নেতা কাই ছি, পাশাপাশি দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রধান লি শি। কাই ছি পার্টির কর্মীদের নির্দেশ দেন শি জিনপিংয়ের রচনাবলি ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে নতুন করে অধ্যয়ন শুরু করতে। তিনি ‘টু আপহোল্ডস’ (Two Upholds) নীতির প্রতি আনুগত্যের ওপরও জোর দেন, যার মূল লক্ষ্য শি জিনপিংকে দলের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সিসিপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব অটুট রাখা।

    নতুন আদর্শিক অভিযানে জোর রাজনৈতিক আনুগত্যে

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শি জিনপিং রাজনৈতিক শিক্ষা, মতাদর্শগত প্রচার এবং পার্টির নজরদারি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত করেছেন। নতুন মতবাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পার্টি শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক আনুগত্য এবং ‘পার্টিই সবকিছুর নেতৃত্ব দেবে’— এই নীতিকে। যদিও এই ধারণাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সিসিপির অংশ, তবে প্রথমবার এগুলিকে শি জিনপিংয়ের নামে পৃথক ও আনুষ্ঠানিক মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলো। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া একে মার্ক্সবাদী পার্টি-গঠন তত্ত্বে ‘গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান’ বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মাও সে তুং ও অন্যান্য পূর্বসূরি নেতাদের মতোই শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক দর্শনকে দলীয় মতাদর্শের কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে।

    অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই রাজনৈতিক কড়াকড়ি

    চিন বর্তমানে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি খাতের সংকট, দুর্বল ভোক্তা আস্থা এবং জনসংখ্যাগত সমস্যার মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে বেজিং রাজনৈতিক ঐক্য ও দলীয় শৃঙ্খলা জোরদারে আরও সক্রিয় হয়েছে। সম্মেলনের বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য এবং শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্যকে আলাদা করে দেখা যাবে না।

    দেং শিয়াওপিংয়ের সংস্কার যুগ থেকে ভিন্ন পথে চিন?

    ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে দেং শিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে চিন অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের পথে হাঁটতে শুরু করে। সেই সময়ের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মাও সে তুংয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অস্থিরতা থেকে দেশকে দূরে সরিয়ে স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা। কিন্তু শি জিনপিংয়ের আমলে পার্টির প্রভাব আবারও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। নতুন মতবাদ সেই প্রবণতাকেই আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। এ বছর সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরুর ৬০ বছর পূর্তি হওয়ায় নতুন এই আদর্শিক প্রচারের সময়কালও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক অধ্যয়ন, মতাদর্শগত আনুগত্য এবং পার্টির সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের ওপর জোর দেওয়ায় অনেকেই মাও যুগের সঙ্গে তুলনা টানছেন।

    শি জিনপিংকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক কাঠামো

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সিসিপি শি জিনপিংয়ের নামকে দলীয় নীতি, শিক্ষা সামগ্রী এবং বিভিন্ন বিধিবিধানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। নতুন মতবাদ সেই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করল। ১৫ জুন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি ‘কমিউনিস্ট পার্টি সদস্য শি জিনপিং’ শিরোনামে ছয় মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে তুলে ধরা হয় যে শি জিনপিংয়ের “প্রথম পরিচয় একজন কমিউনিস্ট পার্টি সদস্য” এবং তাঁর “প্রথম দায়িত্ব পার্টির জন্য কাজ করা”। দেশজুড়ে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় পার্টি ইউনিট এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শি জিনপিংয়ের রচনা ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়মিত অধ্যয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৭-এর আগে ক্ষমতার ভিত্তি আরও মজবুত?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৭ সালের সম্ভাব্য নেতৃত্ব পুনর্গঠনের আগে শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারাকে দলীয় কাঠামোর গভীরে প্রোথিত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা হচ্ছে। নতুন মতবাদের মাধ্যমে বেজিং আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে— রাষ্ট্র, সমাজ এবং অন্যান্য সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে রয়েছে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি। আর ‘শি জিনপিং থট অন পার্টি বিল্ডিং’ সেই পার্টি-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থাকেই আরও আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল।

  • Gopal Patha: ৮০ বছরের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন! সুরাবর্দির নাম সরিয়ে কলকাতায় গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা

    Gopal Patha: ৮০ বছরের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন! সুরাবর্দির নাম সরিয়ে কলকাতায় গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার (KMC) সিদ্ধান্তে এবার নতুন নাম পেল পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ (Suhrawardy Name Removed)। ২০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাস্তার নতুন নাম হবে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ (Gopal Patha)। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের আবহে নেওয়া এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ-এর নাম পরিবর্তন করে স্বর্গীয় গোপাল মুখার্জির নামে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ করার জন্যে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের গৃহীত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন।’

    কার নামে ছিল সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ?

    কলকাতার এই রাস্তার নামকরণ হয়েছিল ১৯৩৩ সালে। নামটি রাখা হয়েছিল বিশিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য স্যার হাসান সুরাবর্দির (Sir Hassan Suhrawardy) নামে। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন খ্যাতনামা সার্জন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের কাছে এই নামটি যুক্ত হয়ে যায় তাঁর ভাইপো হুসেন সঈদ সুরাবর্দির (Huseyn Shaheed Suhrawardy) সঙ্গে, যিনি ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (Premier) ছিলেন এবং কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন।

    কে ছিলেন গোপাল পাঁঠা?

    গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে বেশি পরিচিত, ছিলেন কলকাতার এক প্রভাবশালী স্থানীয় সংগঠক। ১৯৪৬ সালের ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে (Direct Action Day)-এর সময় তিনি হিন্দু মহল্লাগুলির আত্মরক্ষার জন্য স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলে বহু ঐতিহাসিক ও সামাজিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দাঙ্গার সময় তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেন এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধ সংগঠিত করেন। এই কারণে অনেকের কাছে তিনি ‘বউবাজারের সিংহ’ বা ‘কলকাতার রক্ষাকর্তা’ হিসেবেও পরিচিত।

    ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা ও সুরাবর্দি বিতর্ক

    ১৯৪৬ সাল, নেহরু তখন দিল্লিতে অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী। আর অখণ্ড বাংলার শাসনের দায়িত্ব পেয়েছিল মুসলিম লিগ এবং মুখ‍্যমন্ত্রী ছিলেন সুরাবর্দি। তাঁর নির্দেশেই ১৬ অগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র প্রেক্ষিতে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তী সময়ে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে পরিচিত হয়। কলকাতায় ছিল মহড়া, আর পুরো বিষয়টি কার্যকর করা হয় নোয়াখালিতে। ১৯৩১ সালে কলকাতায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ৩১.৭০ শতাংশ ছিল বাইরের রাজ‍্য থেকে আসা এবং ৩০ শতাংশ ছিল কলকাতার বাইরের জেলাগুলি থেকে আসা লোকজন। ৬০ লক্ষ মানুষের বাস কলকাতায় ছিল ১২০০ জনের পুলিশ বাহিনী, এর মধ্যে মুসলমান ৬৩ জন। এছাড়া ডেপুটি কমিশনার ও একজন ও.সি ছিলেন মুসলমান। মুসলমান দাঙ্গাবাজদের বেশির ভাগ ছিল গ্রাম থেকে আসা লোক। এর মধ্যে ছিল মুসলমান শ্রমিক, কষাই, খালাসি, ছ‍্যাকড়া গাড়ির চালক।

    হিন্দুদের প্রতিরোধে নেতৃত্বে গোপাল

    মুসলিম লিগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজে ভূমিকা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষিত যুবক, ছাত্র সমাজ ও মধ্যবিত্তদের। ১৯৪৬-এর ১৬ আগস্টের সকালে মুসলিম লিগ যখন অ্যাকশান শুরু করে, তখনও পর্যন্ত কলকাতার হিন্দুরা বিষয়টা বুঝে উঠতে পারেনি। কারণ, ওই দিন বিকেলে কলকাতার তথাকথিত প্রগতিশীল “ধর্মনিরপেক্ষ” হিন্দুরা ময়দানে মনুমেন্টের তলায় মুসলিম লিগ ও ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টির যৌথ মিটিং শুনতে গিয়েছিল। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগের নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ শুরু হলে রুখে দাঁড়ান গোপাল মুখোপাধ্যায় ও তাঁর ভারতীয় জাতীয় বাহিনী। মূলত একার হাতেই সেদিন কলকাতাকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি। প্রবাদ হয়ে গিয়েছে গোপাল ছিলেন বলে টালা ট্যাঙ্ক আছে, শিয়ালদহ স্টেশন আছে, আপনি, আমি রয়েছি। আর সেই প্রবাদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টোদিকে এক চিলতে মাংসের দোকান। প্রসঙ্গত ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ রুখে ছিলেন যিনি সেই গোপাল মুখোপাধ্যায়েরও পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল। যে কারণে গোপাল পাঁঠা নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। তাঁকে স্মরণ করেই এবার থেকে বেনিয়াপুকুর এলাকার রাস্তার নাম সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ থেকে বদলে হল গোপাল মুখার্জি রোড।

    কেন বদলানো হল রাস্তার নাম?

    রাজ্য বিজেপি এবং বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের মতে, গোপাল মুখোপাধ্যায়ের অবদান দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁদের দাবি, কলকাতার ইতিহাসে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি দিতেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ ইতিহাসের জটিল ঘটনাগুলিকে একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নামটি মূলত স্যার হাসান সুরাবর্দির সম্মানে রাখা হয়েছিল, যাঁর পরিচয় তাঁর রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ভাইপোর থেকে আলাদা। এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে খুশি গোপাল মুখোপাধ্যায় তথা গোপাল পাঁঠার পরিবার। তারা বলছে, ‘এক ঐতিহাসিক দিনে, ঐতিহাসিক ভুলের, ঐতিহাসিক সংশোধন হল। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আমরা খুশি। অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ পরিবারের দাবি, এমন উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচিৎ ছিল। আবেগে ভাসছেন তাঁরা।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    পর্যবেক্ষকদের মতে, রাস্তার নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইতিহাস, পরিচয় ও স্মৃতির রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। একপক্ষ এটিকে ‘ঐতিহাসিক সংশোধন’ বলে মনে করছে, অন্যপক্ষের মতে এটি ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যার অংশ। ফলে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে রাস্তার নামকরণ শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার বিভাজন-পূর্ব ইতিহাস, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা এবং স্বাধীনতার আগে-পরে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রকৃত নায়কদের’ স্মরণ এবং ইতিহাসের ‘ভুল সংশোধনের’ সময় এসে গিয়েছে।

  • Daily Horoscope 21 June 2026: শরীরে কোথাও আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 21 June 2026: শরীরে কোথাও আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) আপনার কর্মদক্ষতার কারণে জীবিকার স্থানে শত্রু বাড়তে পারে।

    ২) বাড়িতে বদনাম থেকে সবাই খুব সতর্ক থাকুন।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    বৃষ

    ১) জমি বা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করার শুভ দিন।

    ২) শেয়ারে বাড়তি লগ্নি চিন্তাবৃদ্ধি ঘটাতে পারে।

    ৩) বন্ধুদের সাহায্য পাবেন।

    মিথুন

    ১) সঞ্চয়ের ব্যাপারে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

    ২) শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

    ৩) সখপূরণ হবে।

    কর্কট

    ১) সন্তানের ব্যবহারে আমূল পরিবর্তন লক্ষ করতে পারবেন।

    ২) শরীরে কোথাও আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

    ৩) বিবাদে জড়াবেন না।

    সিংহ

    ১) ব্যবসা বা অন্য কোনও কাজে বাড়তি বিনিয়োগ না করাই শ্রেয়।

    ২) মাথাগরম করার ফলে হাতে আসা কাজ ভেস্তে যাবে।

    ৩) গুরুজনদের পরামর্শ মেনে চলুন।

    কন্যা

    ১) ব্যবসা গতানুগতিক ভাবেই চলবে।

    ২) ভাই-বোনের কাছ থেকে ভাল সাহায্য পেতে পারেন।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    তুলা

    ১) উচ্চশিক্ষার্থীদের সামনে ভাল যোগ রয়েছে।

    ২) পারিবারিক ভ্রমণে আনন্দ লাভ।

    ৩) পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।

    বৃশ্চিক

    ১) অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ করার ফলে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

    ২) কোনও অসৎ লোকের জন্য আপনার বদনাম হতে পারে।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    ধনু

    ১) কারও কুপ্রভাবে সংসারে অশান্তি হতে পারে।

    ২) সামাজিক সুনাম বৃদ্ধি বা প্রতিপত্তি বিস্তারের যোগ।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    মকর

    ১) অবাক করে দেওয়া কোনও সুখবর পেতে পারেন।

    ২) কাউকে টাকা ধার দিলে বিপদ ঘটতে পারে।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    কুম্ভ

    ১) সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা মিটে যাওয়ায় আনন্দ লাভ।

    ২) সংসারে শান্তি বজায় থাকবে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মীন

    ১) আপনার রূঢ় আচরণে বাড়িতে বিবাদ বাধতে পারে।

    ২) ব্যবসায় বিশেষ লাভের শুভ যোগ দেখা যাচ্ছে।

    ৩) ভালোই কাটবে দিনটি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschimbanga Divas)। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর মহাসাড়ম্বরে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ২০ জুন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বিশেষ কর্মসূচি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর অবদান

    বিজেপি সরকারে আসার পরেই ২০ জুন নিয়ে যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নয়। বরং বঙ্গ বিজেপি বরাবরই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার উপর জোর দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে টানাপোড়েনও চলে আসছিল। তৃণমূল পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য দিবস হিসেবে পালন করে। আর অন্যদিকে, বিজেপির যুক্ত হল, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় (বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি) বাংলা ভাগের পক্ষে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই দিনই বাংলা ভাগ হয়ে জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গের। এই অংশ জুড়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। অন্যদিকে, পূর্ববঙ্গ জুড়ে যায় পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দাবি, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামের কোনো রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না।”

    বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের সময়

    একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলা দেশের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞানচর্চা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাগেরও ঘোষণা করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু বাংলার হিন্দু-প্রধান অংশের কাছে সুযোগ ছিল ভারতে জুড়ে যাওয়ার। এরজন্য তৎকালীন বঙ্গীয় আইনসভার ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ভোটেই ঠিক হয়, বাংলা ভাগ হয়ে জুড়বে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। বিজেপির দাবি, ওই দিন বাংলা ভাগ না হলে, পশ্চিমবঙ্গ তৈরিই হত না। আর এই প্রদেশ জুড়ে যেত বাংলাদেশের সঙ্গে।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা

    এদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এবার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। মানুষ প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাইছে।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন, দেশভাগের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি প্রসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার উল্লেখ করেন।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ

    রাজ্য সরকারের নির্দেশে ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময় রাজ্যজুড়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশভাগের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চর্চার মাধ্যমে বিজেপি সরকার বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়ানে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চাইছে।

    স্বাধীন মতপ্রকাশের পীঠস্থান

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৎকালীন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং অনমনীয় মনোভাব যদি সেই সময় না থাকত, তবে আজ হয়তো ভারতের মানচিত্রটাই অন্যরকম হত। আজ বাঙালি হিন্দুরা যে নিজেদের রাজ্যে স্বাধীনভাবে বাস করতে পারছেন, তার কৃতিত্ব যে এই মানুষটিরই প্রাপ্য। একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও মন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তিনিও প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন যে, দেশভাগের সেই অত্যন্ত জটিল ও অগ্নিগর্ভ সময়ে কলকাতাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার পিছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অন্যতম কনিষ্ঠতম প্রাক্তন উপাচার্য ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক বিরাট ও অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল। ইতিহাসের সেই পাতাগুলি আজ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের এই পবিত্র পীঠস্থানে কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং তিনি চান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, তাঁর আদর্শ এবং বাংলার জন্য তাঁর অবদান নিয়ে ডানপন্থী, বামপন্থী কিংবা অন্য যে কোনও রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের মধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে স্বাধীনভাবে আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিতর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে বেরিয়ে আসবে।

  • RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের নতুন মোড়। নিহত চিকিৎসকের পরিবার এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা চিকিৎসক আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে পাওয়া গিয়েছিল। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র উচিত তাঁকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা।

    কী অভিযোগ রত্না দেবনাথের?

    নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ বৃহস্পতিবার এই দাবি তুলে বলেন, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সময় হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সম্প্রতি প্রাক্তন পানিহাটি বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে তলব করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন এখনও ডাকা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    ‘মৃত্যুর সময়সীমার মধ্যে উপস্থিত সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক’

    রত্না দেবনাথ দাবি করেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। ফলে ওই সময় হাসপাতাল চত্বরে কারা ছিলেন, কারা ঘটনাস্থলের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছেন, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আজ নির্মল ঘোষকে সিবিআই ডেকেছে, সঙ্গে ডাকা হয়েছে সোমনাথ দে-কে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। তাহলে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন ডাকা হবে না? তাঁর টাওয়ার লোকেশনও সেখানে পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।”

    প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

    নিহত চিকিৎসকের মা আরও অভিযোগ করেন, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রমাণ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান গবেষণাগার (সিএফএসএল)-এর রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে তরুণী চিকিৎসককে হাসপাতালের সেমিনার রুমে খুন করা হয়নি। রত্না দেবনাথের অভিযোগ, প্রকৃত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল হাসপাতালের পিজিটি (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি) রুমে, যেখানে চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীরা বিশ্রাম নিতেন। পরে মৃতদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে সেমিনার রুমের সামনে ফেলে রাখা হয়, যাতে তদন্তকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায় এবং প্রকৃত অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলা সম্ভব হয়। তাঁর বক্তব্য, “এত বড় মাত্রার প্রমাণ লোপাট ও ঘটনাস্থল পরিবর্তনের ঘটনা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ‘ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্ব’ আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছিল।

    নিহত চিকিৎসকের বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ

    শুক্রবার নিহত চিকিৎসকের বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথও একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। তাঁর দাবি, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালের একটি বাথরুমে স্নান করেছিলেন, কারণ তাঁর শরীরে রক্তের ছিটে লেগেছিল। শেখরবাবুর দাবি, ওই বাথরুমটিই পরবর্তীকালে দ্রুত ভেঙে ফেলা হয়।

    বাথরুম ও বিশ্রামকক্ষ ভাঙার ঘটনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

    উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পরদিনই হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ চিকিৎসকদের একটি বিশ্রামকক্ষ এবং কর্মীদের ব্যবহৃত একটি শৌচাগার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এই দুটি ঘরই সেই সেমিনার হলের কাছাকাছি ছিল, যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিনই ওই অংশ ‘সংস্কারের’ নির্দেশ কেন দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্ত চলাকালীন এই সিদ্ধান্তকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন তদন্তকারীরা এবং বিভিন্ন মহল।

    ‘ঘটনাস্থলে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা’

    শেখর রঞ্জন দেবনাথ আরও দাবি করেন, ঘটনার রাতভর তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অপরাধ প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের সেমিনার রুমে অসংখ্য মানুষ প্রবেশ করেছিলেন, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, সিবিআইয়ের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২,০০০ মানুষের পদচিহ্নের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

    এখনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অনড় পরিবার

    ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভিতরে কর্মরত ৩১ বছর বয়সি এক পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। চিকিৎসক মহল, ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশ। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় গ্রেফতার হন এবং পরে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবার দাবি করে আসছে, শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় নয়, এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং প্রকৃত দোষীদের অনেকেই আইনের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছেন।

    প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে, অভিযোগ নিহতের পরিবারের

    রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপান্তরিত করে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নিহত চিকিৎসকের পরিবারের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সিবিআই, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তকারী সংস্থাও এই নতুন অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিবারের উত্থাপিত নতুন অভিযোগ তদন্তের গতিপথে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, তা এখন দেখার।

LinkedIn
Share