Tag: Madhyom

Madhyom

  • Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত আবারও ইতিহাস গড়লেন। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার (Fighter Combat Leader – FCL) কোর্স’ সফলভাবে সম্পন্ন করলেন ভাবনা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে অবস্থিত ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (TACDE)-এ অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণকে আইএএফ-এর অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ উন্নত যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০ সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে শুধুমাত্র নির্বাচিত ফাইটার পাইলটদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ শেষ করলে সংশ্লিষ্ট পাইলটরা আকাশপথে কঠিন যুদ্ধাভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

    শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় ভাবনা

    ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টকে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান ফাইটার ট্যাকটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মর্যাদা অনেকটা মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ (Strike Fighter Tactics Instructor Programme)-এর সমতুল্য। এখানে উন্নত যুদ্ধকৌশল, মিশন পরিকল্পনা, আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার কৌশল, পাশাপাশি উচ্চ-তীব্রতার সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকেন ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট ও এয়ার কন্ট্রোলাররা। এই প্রশিক্ষণ পেয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় স্থান করে নিলেন ভাবনা।

    কে এই স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত?

    বিহারের দারভাঙার বাসিন্দা ভাবনা কান্ত একজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলটদের ব্যাচের সদস্য হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় কমিশনপ্রাপ্ত হন। তাঁর সঙ্গে একই ব্যাচে ছিলেন অবনী চতুর্বেদী এবং মোহনা সিং। সামরিক বিমানচালনায় নারীদের অগ্রযাত্রায় ভাবনা কান্ত একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে দিনের বেলায় যুদ্ধবিমান পরিচালনার অনুমোদন পান। প্রথমে তিনি মিগ ২১ বাইসন উড়িয়েছেন, পরে এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ওড়ান। ২০২১ সালে তিনি প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এরপর ২০২৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। আর এবার ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের নেতৃত্ব ও যুদ্ধক্ষমতার ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাবনা কান্তের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

  • Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরভোটের (Municipal Elections) আগেই বদলে যাচ্ছে কলকাতা ও হাওড়ার রাজনৈতিক মানচিত্র! শহরের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও নাগরিক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্য়াস (Ward Delimitation) করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় এক ধাক্কায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। ২০৯টি ওয়ার্ড নিয়ে সাজছে তিলোত্তমা, অন্যদিকে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬৮-তে। ১২ অগাস্ট বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাশ হলেই সিলমোহর পড়বে নতুন বিন্যাসে- যার পর শহর জুড়ে বাজবে বহুল প্রতীক্ষিত পুরভোটের রণকাসর। 

    কলকাতায় ২০৯, হাওড়ায় ৬৮

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অর্থাৎ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ৬৫টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে হাওড়া পুরসভার (Howrah Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৬৮। এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এখন বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই তা আইনি স্বীকৃতি পাবে।

    মুখ্যমন্ত্রী কী জানালেন?

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, “১২ অগাস্ট এক দিনের বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হয়েছে। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮ করা হবে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে।”

    শেষ হচ্ছে ডিলিমিটেশনের কাজ

    আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরেই পুরভোট (Municipal Elections) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই নির্দেশ মেনে কলকাতা পুরসভার সমীক্ষা বিভাগ দ্রুত কাজ শুরু করে। বোরো-ভিত্তিক বিশেষ কমিটি গঠন করে প্রতিটি এলাকার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক প্রয়োজন খতিয়ে দেখে নতুন ওয়ার্ডের খসড়া তৈরি করা হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন বাড়ানো হচ্ছে ওয়ার্ড সংখ্যা?

    সরকারের মতে, গত কয়েক বছরে কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে এবং অনেক ওয়ার্ডের আয়তনও বড় হয়ে গিয়েছে। ফলে নাগরিক পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক কাজ আরও কার্যকর করতে ছোট ছোট ওয়ার্ড গঠন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নতুন ওয়ার্ড হলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলেই সরকারের দাবি।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন পরিকল্পনা

    গত মে মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। পরে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই পুরভোটের (Corporation Vote) আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (Ward Delimitation) কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নজরে ১২ অগাস্টের বিধানসভা

    ১২ অগাস্ট বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হলে কলকাতা ও হাওড়ার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস (Ward Delimitation) কার্যকর করার পথ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত পুরভোটের (Corporation Vote) দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনাও জোরালো হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়ার পুর-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

  • Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ (Mohan Bhagwat on Reservation) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের আবহে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, “যতদিন সামাজিক বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও চলবে।” তবে যাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করেছেন, তাঁদের উচিত উদারতার পরিচয় দিয়ে সেই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ উপকৃত হতে পারেন। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার (NMACC)-এ এক অনুষ্ঠানে আনুমানিক ২,০০০ তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত।

    ‘আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সংরক্ষণকে দেখতে হবে’

    শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ অনির্দিষ্টকাল চলবে কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভাগবত বলেন, বিষয়টি ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দেখা উচিত। তাঁর কথায়, “সংরক্ষণ সামাজিক কারণে চালু হয়েছে। যতদিন সমাজে বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও থাকবে। সংরক্ষণের মাধ্যমে যাঁদের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে, তাঁদের উচিত স্বেচ্ছায় এই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ সুযোগ পান।” তিনি জানান, সংরক্ষণপ্রাপ্তদের একাংশের মধ্যেই এমন মানসিকতা গড়ে উঠছে যে, সংরক্ষণ কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়; এর সুফল নিয়ে নিজেদের উন্নত করার পর অন্যদের জন্য সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিত। এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

    উপ-শ্রেণিবিন্যাসের পক্ষে মত

    সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে উপ-শ্রেণিবিন্যাস (Sub-categorisation) নিয়ে ওঠা দাবির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, এর উদ্দেশ্য হল সংরক্ষণের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও মতামত দিয়েছে। ভাগবতের বক্তব্য, সংরক্ষণকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকার যদি আন্তরিকভাবে কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে, তবে দ্রুত সামাজিক বৈষম্য কমবে এবং একসময় সংরক্ষণের প্রয়োজনও শেষ হবে। তার আগে সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়।

    ‘রাজনীতিকরণই সমস্যার মূল’

    সংরক্ষণ নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা করে মোহন ভাগবত বলেন, এটি মূলত সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে ব্যবহার করায় সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “ব্যবস্থাটি ভুল নয়। কিন্তু যারা এটিকে ব্যবহার করছে, তারা ভুলভাবে ব্যবহার করছে। এই প্রবণতা না বদলালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।” রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশে সংরক্ষণ নীতির পর্যালোচনা বা সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভের আবহে সংঘ প্রধানের এই মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি রা যদি নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে, তাহলে সেটিকে কেবল বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং সমস্যাগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বোঝা এবং সমাধানের চেষ্টা করা সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদ করলেই নতুন প্রজন্মকে ‘দেশ-বিরোধী’ (Anti-National) দেগে দেওয়ার প্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আজকের ‘জেন জি’ (Gen Z) বা নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তার অর্থ এই নয় যে তারা দেশবিরোধী। ওরা দেশের ভবিষ্যৎ। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণ। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে, তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে।

    জেন জি ও জেন আলফা দেশের ভবিষ্যৎ

    বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat on Gen-Z) বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আমরা যখন ওদের বয়সে ছিলাম, তখন প্রবীণদের কথা চোখ বন্ধ করে শুনে নিতাম। প্রশ্ন করার সাহস বা মানসিকতা ছিল না। কিন্তু আজকের জেন জি যুক্তিসহ উত্তর চায়। তারা না বুঝে কোনও কিছু মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘যদি জেন জি কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়, তবে তারা দেশবিরোধী, এমন তো নয়। তারা আমাদেরই পরিবার, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি মনে করি, আমাদের প্রজন্মের চেয়ে এই নতুন প্রজন্ম – জেন জি এবং জেন আলফা (Gen Alpha) অনেক বেশি সৎ। দেশপ্রেম ও সেবার সৎ বার্তা ওদের ওপর সবচেয়ে বেশি কাজ করে।’’

    সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

    সমাজে মতভেদ বা অসন্তোষের পরিস্থিতিতে সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন আরএসএসের সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত মাধ্যম হলেও তা যেন সমাজে বিভাজন সৃষ্টি না করে, বরং ঐকমত্য গড়ে তোলার পথে সহায়ক হয়। সম্প্রতি মুম্বইয়ে ইন্ডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর একটি অনুষ্ঠানে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ড. ভাগবত এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন ‘শাস্ত্রার্থ’-এর ঐতিহ্যে বিরোধী মত (পূর্বপক্ষ) এবং তার জবাব (উত্তরপক্ষ)—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতপার্থক্য দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়

    ড. ভাগবতের মতে, তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়। তবে প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং আচরণ যেন মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হয়। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা ড. ভীমরাও রামজি আম্বেডকরও সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সঠিক নীতির ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনও আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়; বরং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কারের উদ্দেশ্যেই আন্দোলন হওয়া উচিত। এদিন আনুমানিক দুই হাজার জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড. ভাগবত। ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে যুবসমাজের ভূমিকা: ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি’’ শীর্ষকর্ষ এই অনুষ্ঠানে দেশের ১০০-রও বেশি শহর থেকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ কেন

    সোশাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তিতর্তি রোল মডেল এবং শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মোহন ভাগবত। সংঘ প্রধানের মতে, সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাই সমস্যার সমাধান নয়; বরং সমাজের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলাই প্রকৃত পথ। মোহন ভাগবত বলেন, ‘‘সোশাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারই আসল বিষয়। নিয়ম তৈরি করা এবং শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনর্ত না হলে শুধু আইন করে কোনও লাভ হবে না। সমাজই প্রকৃত আইন।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি যুগে রোল মডেল পরিবর্তিত হয়। তবে যাঁদের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুসরণ করেন, তাঁদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। যদি আমার দশ লক্ষ অনুসারী থাকে, তাহলে আমার দায়িত্ব তাঁদের ভুল পথে পরিচালিত না করা। এটিই প্রকৃত প্রজ্ঞা।’’

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার

    সোশাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে কারও মুখ, কণ্ঠস্বর বা বক্তব্য নকল করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাই যে কোনও তথ্য বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা উচিত। ড. ভাগবত বলেন, ‘‘নতুন যুগের এই মাধ্যম ব্যবহারে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মশৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি। শুধুজেন জি নয়, গোটা সমাজকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বড়রা নিজেরা তা মেনে চললে তবেই তরুণ প্রজন্মও সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে।’’ সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘‘কোনও কিছু নিষিদ্ধ করলে তা কালোবাজারে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিষেধাজ্ঞা কোনও সমাধান নয়। এর সমাধান সমাজের ভেতর থেকেই আসতে হবে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না।’’

  • WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটঅ্যাপ (WhatsApp) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে অফিসের কাজ…সব ক্ষেত্রেই এই অ্যাপের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে, এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বয়স (WhatsApp Age Restriction) বাধা হতে পারে। সম্প্রতি, ব্যবহারকারীর কাছে একটি নোটিফিকেশন আসছে। সেখানে তাঁদের জন্মতারিখ দিতে বলা হচ্ছে। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি ভারতে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বয়স যাচাই (Age Verification) ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

    কেন বয়স যাচাই

    হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহার করার সময় সংস্থা বয়স বা জন্মতারিখ জানতে চাইতে পারে। প্রয়োজনে বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে। সংস্থার দাবি, এই তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন দেশের আইনি নিয়ম মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ১৩ মে থেকে কার্যকর হতে চলা ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইন মেনে চলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কোনও পরিবর্তন আনবে না। তবে এর মাধ্যমে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তাদের তথ্য ব্যবহারের আগে অভিভাবকের যাচাইকৃত সম্মতি নেওয়া সম্ভব হবে।

    ডিপিডিপি আইনে কী বদলাবে?

    নতুন আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স-সহ সমস্ত বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের আগে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে—

    শিশুদের অনলাইন আচরণ পর্যবেক্ষণ বা ট্র্যাক করা যাবে না।
    ১৮ বছরের কম বয়সীদের লক্ষ্য করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানো নিষিদ্ধ হবে।
    ব্যবহারকারী নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে।

    তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের এই বয়স যাচাই প্রক্রিয়া সম্ভবত ডিপিডিপি আইনের প্রস্তুতির অংশ। আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংস্থার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সরকার খতিয়ে দেখবে।

    মেটার উপর বাড়ছে সরকারি নজর

    বয়স যাচাই পরীক্ষার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে মেটা বর্তমানে কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। সরকার হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ফিচার চালু হলে মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেও ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক দিক থেকে এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান-সহ সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    হঠাৎ অ্যাকাউন্ট ‘রিভিউ’-তে, ব্যাখ্যা হোয়াটসঅ্যাপের

    সম্প্রতি ভারত-সহ একাধিক দেশে হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ‘Account in review’ অবস্থায় চলে যায়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনেকেই বার্তা পাঠানো বা কল করতে পারেননি। স্ক্রিনে একটি বার্তায় জানানো হয়, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট কার্যকলাপ ও ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তাঁরা কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। এর জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, অপব্যবহার রোধে তাদের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে। তবে কখনও কখনও সেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ভুল হতে পারে। সংস্থার দাবি, সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করা হয়েছে।

    শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন অধ্যায়

    এর মধ্যে রয়েছে—উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম,টিকটক,স্ন্যাপচাট,এক্স,ইউটিউব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারত যদি এ ধরনের নিয়ম আনে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি টেলিগ্রাম,সিগনাল, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকেও বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। তবে, এই মুহূর্তে ভারত সরকার বা হোয়াটসঅ্যাপ, কোনও পক্ষই এমন কোনও নতুন নিয়মের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তবে ভারতে ডিপিডিপি আইন কার্যকর হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বয়স যাচাই, অভিভাবকের সম্মতি সংগ্রহ এবং শিশুদের তথ্য সুরক্ষার জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম কীভাবে ভারতের নতুন তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

  • Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষার মরশুমে সামান্য জ্বর আর সর্দিতে কমবেশি সকলেই ভোগেন। পরিবারের খুদে সদস্যের জ্বর বা সর্দি হলেও তাই অভিভাবকেরা হালকা ভাবেই নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক ভাইরাসের দাপটে আতঙ্ক বাড়ছে। বর্ষার মরশুমে জ্বর-সর্দি-কাশি হলেও বাড়তি নজরদারি জরুরি। কারণ, দেশজুড়ে দাপট বাড়াচ্ছে চাঁদিপুরা ভাইরাস! তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    চাঁদিপুরা ভাইরাস কী?

    চাঁদিপুরা ভাইরাস একটি বিরল এবং বিপজ্জনক ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এটা ১৯৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের চাঁদিপুর এলাকায় প্রথম দেখা গিয়েছিলো। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে।

    কেন চাঁদিপুরা ভাইরাস আতঙ্ক বাড়াচ্ছে?

    সম্প্রতি গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে চাঁদিপুরা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গুজরাটে ২২ জন শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। মহারাষ্ট্রেও এই ভাইরাসের সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। তাই দেশ জুড়ে সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই এই বিপজ্জনক ভাইরাস থেকে সতর্ক না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হয়। ১৫ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তেরা সকলেই ১৫ বছরের কম বয়সি। তাই শিশুদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    কীভাবে এই সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বালির মাছি বা স্যান্ড ফ্লাই থেকে চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের যে অঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছে, সেখানে স্যান্ড ফ্লাইয়ের দাপট বেশি। তবে যে কোনও রকম পোকা, যা মানুষকে সহজে কামড়াতে পারে, কামড়ে রক্ত বেরিয়ে যায়, এই ধরনের পোকার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে পারেন‌। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে দ্রুত এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না। তাই সতর্ক থাকলে মহামারির ঝুঁকি হবে না।

    কেন বাড়তি আতঙ্ক এই ভাইরাসে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাস স্নায়ু ও মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। আক্রান্তের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা চলে যায়। স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়। রোগ নির্ণয় হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। তাঁরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিবায়োটিক নেই। নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। তবে আক্রান্তের উপসর্গ কমানোর চেষ্টা করা হয়। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা যাতে বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। আর স্নায়বিক জটিলতা কমানোর চেষ্টা চলে। এই রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা এবং ওষুধ না থাকার জেরেই এই রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সংক্রামক রোগ রুখতে সচেতনতা জরুরি। সন্তানের জ্বর হলে তার বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, বার বার বমি হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করছে কিনা কিংবা স্নায়বিক কোনও জটিলতা দেখা দিচ্ছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে আর দেরি করা যাবে না। বরং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।‌ তাই যাতে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সক্রিয় থাকে, তাই আগাম চিকিৎসা শুরু জরুরি। না হলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই মরশুমে রোগ থেকে বাঁচতে হাত ও পা ঢাকা জামা কাপড় পরা জরুরি। কোনও রকম পোকা যাতে কামড়াতে না পারে, সেদিকেও‌ খেয়াল রাখতে হবে। রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামের বদল, টাকাও পৌঁছতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। একসময় কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বাংলায় বদলে হয়েছিল ‘বাংলার বাড়ি’। এবার সেই প্রকল্পই ফের নতুন পরিচয় পেল। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ (Paschim Banga Awas)। একইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান। সরকারের দাবি, ১৮ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার থেকেই ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানো হচ্ছে।

    নবান্ন (Nabanna) থেকে বড় ঘোষণা

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। মোট ১৮ লক্ষ মানুষ পাবেন ৬০ হাজার টাকা করে। তৃণমূল সরকারের তৈরি প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকার মধ্যে সাড়ে ১২ লক্ষই অযোগ্য। সেইসব নাম বাদ দিয়েই যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

    ‘রং-ধর্ম নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি’

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “যোগ্যরা সবাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। উপভোক্তাদের রং দেখব না, ধর্ম দেখব না।” সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি দারিদ্রসীমার নিচে থাকা বহু উপভোক্তা। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পেয়ে অসমাপ্ত বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করার আশা দেখছেন তাঁরা।

    কীভাবে বদলেছে প্রকল্পের নাম?

    মূলত এটি কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নাম নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেই সময় রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই প্রকল্প চালাবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হয় বাংলার বাড়ি। উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি হয় এবং প্রতিটি বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় এবং বিজেপি সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকারের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মতো আবাস প্রকল্পেও দ্রুততার সঙ্গে অনুদান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    কেন বদল হল নাম?

    এপ্রসঙ্গে এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এতদিন তৃণমূল সরকারের আপত্তি ছিল মোদিজির প্রকল্পের নাম নিয়ে। গোটা দেশে যে প্রকল্পের সুবিধা দরিদ্র মানুষ পান, সেটা পশ্চিমবঙ্গে এতদিন সেই নামে চলত না। আমাদের স্পষ্ট কথা, এখন থেকে গোটা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কাজ হবে। তাই বাংলার বাড়ির নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস (Paschim Banga Awas) রাখা হচ্ছে। এদিন থেকেই দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময় তৈরি তালিকায় বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম ছিল। সেইসব নাম যাচাই করে বাদ দেওয়ার পরই বর্তমান সরকার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করছে।” নামের বদলের সঙ্গে শুরু হল দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও বিতরণ। একদিকে প্রকল্পের নতুন পরিচয় পশ্চিমবঙ্গ আবাস, অন্যদিকে ১৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে ৬০ হাজার টাকা- এই দুই ঘোষণাকেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।

  • Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে যে পিছিয়ে পড়ার ছবি তৈরি হয়েছে, তা বদলে রাজ্যকে নতুন শিল্পায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা (Industrial Investment)। ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র হাত ধরে রাজ্য উন্নয়নের নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    শিল্পপতি, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্যে শিল্পের গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। এর জেরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একাধিক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৫০ বছরে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এখন ‘অমৃত কাল’ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে আমরা শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছি। তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বাংলা এখন এগোতে প্রস্তুত, তাই নির্ভয়ে এখানে বিনিয়োগ করুন।”

    অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন

    শিল্পায়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পর্কের বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা গেলে শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে। সেই আস্থা থেকেই নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যেই রাজ্যের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্র ও চা শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগাস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। বস্ত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তাঁত, পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Industrial Investment)।

    ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’

    বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের যাতে একাধিক দফতর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পপতিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী করা হবে (Suvendu Adhikari)। জমি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলেও জানান রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সরল করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

    রাজ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, লাক্স কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি (Suvendu Adhikari)। শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন শিল্প হলে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে (Industrial Investment)।

    বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরির আশ্বাস

    তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যের দীর্ঘদিনের তাঁতশিল্প ও পোশাক উৎপাদনকে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার এবং বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন, জমি নীতির পরিবর্তন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে বস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সের মঞ্চ থেকে তাই একই সঙ্গে তিনটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী—শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে সেই (Industrial Investment) পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজ্যের অর্থনীতিতে দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

LinkedIn
Share