Tag: Madhyom

Madhyom

  • Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হানিট্র্যাপ’-এর (Honey Trap) ফাঁদে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) কর্মরত এক উইং কমান্ডারকে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট-এর আওতায় তদন্ত চলছে। পুলিশ ও বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বায়ুসেনার গোয়েন্দা শাখা প্রথমে ওই অফিসারের গতিবিধি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পায়। এরপর তাঁর উপর নজরদারি শুরু করে বায়ুসেনা। পরে সেই তথ্য ও নজরদারির উপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তাঁকে গ্রেফতার করে। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের অভিযোগ

    দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই উইং কমান্ডারকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এক মহিলা পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তি আসলে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ওই ব্যক্তি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের হয়ে কাজ করছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময়কে কাজে লাগিয়েই ওই অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হয়। প্রথমে অনলাইন চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো হয়। পরে ধীরে ধীরে তাঁর কাছ থেকে সামরিক সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ, ওই অফিসারের কাছ থেকে সামরিক গতিবিধি, সেনা মোতায়েন এবং প্রতিরক্ষা ইউনিট সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্যও পাঠিয়েছিলেন।

    সহকর্মীর ফোনে সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টলের নির্দেশ

    তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই মহিলার পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি ওই উইং কমান্ডারকে তাঁর এক সহকর্মীর ফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করতে বলেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অ্যাপটি স্পাইওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যার মাধ্যমে ফোনের তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্তকরণ অথবা যোগাযোগে নজরদারি চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। দিল্লি পুলিশ মনে করছে, ঘটনাটি শুধুমাত্র একজন বায়ুসেনা অফিসারকে ঘিরে নয়; এর পিছনে আরও বড় একটি গুপ্তচর চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া, ভুয়ো পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বায়ুসেনার অভ্যন্তরীণ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সচেতনতা প্রশিক্ষণের গুরুত্বও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত যত এগোবে, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের পরিধি এবং দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর প্রকৃত প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি (West Bengal) কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। সপ্তম বেতন কমিশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী ও কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বেতনস্তরের সামঞ্জস্য, মহার্ঘ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সপ্তম বেতন কমিশনের অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা (West Bengal)

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যৌথভাবে এই ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বার কমিশন কোন কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবে এবং সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিল শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকার। ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন ভাবনার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। একই সঙ্গে দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এত দিন ২৭০০ ক্যালোরির যে পুরনো মানদণ্ড ছিল, তার বদলে নয়া এই ভিত্তি গ্রহণের বিষয়টি কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। এর ফলে ন্যূনতম বেতনের হিসাবের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

    বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব

    সপ্তম বেতন কমিশনের কার্যপরিধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ে বছরে ৩ শতাংশ হারে। সেই হার বাড়িয়ে অন্তত ৫ শতাংশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়া বেতনস্তর তৈরির বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতনস্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। একই বেতনস্তরে সর্বভারতীয় সমতা তৈরির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বা কার্যত অচল বেতনস্তর একত্রিত করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো আরও সরল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় মামলা কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    ডিএ-র সংজ্ঞা ও নিয়মিত দেওয়ার ভাবনা

    ডিএর (মহার্ঘ ভাতা) ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে ডিএর সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ডিএ দেওয়ার জন্য স্থায়ী নির্দেশ জারির সুপারিশ করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও কমিশনকে মতামত দিতে বলা হয়েছে (West Bengal)। সপ্তম বেতন কমিশন কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সেই বিষয়টিও কমিশনের আলোচনার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভর্তুকি এবং অন্যান্য ভাতার পরিমাণ ও নিয়ম নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ভাতাগুলির কাঠামো নির্ধারণের বিষয়েও সুপারিশ করতে পারবে কমিশন। বাড়িভাড়া ভাতার ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও রয়েছে।

    অবসরকালীন সুবিধায়ও একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা

    অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সুবিধার বিষয়েও কমিশনের কার্যপরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত। অবসর নেওয়ার পরে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে পেনশনের যে অংশ এককালীন গ্রহণ করা হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারের বর্তমান নিয়ম পর্যালোচনা করা হবে। ১১ বছর পর সেই পেনশন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার তালিকায় রয়েছে। অবসরের সময় জমা ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধি দেওয়ার বিষয়টিও কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। ফলে অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও নতুন সুপারিশ আসতে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।

    কর্মজীবনে অগ্রগতির কাঠামো বদলের সম্ভাবনা

    সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবনে পদোন্নতি ও আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে (7th Pay Commission)। বর্তমানে ৮, ১৫ এবং ২৪ বছরের তিনটি ধাপে যে কর্মজীবন অগ্রগতি ব্যবস্থা রয়েছে, তার পরিবর্তে ৫, ৮, ১২, ১৮ এবং ২৪ বছরের পাঁচটি ধাপ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। এ ছাড়াও সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা সম্প্রসারণ, চিকিৎসকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ও কার্যপরিধিতে রয়েছে।

    কারা রয়েছেন সপ্তম বেতন কমিশনে?

    প্রসঙ্গত, সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অতনু চক্রবর্তীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের প্রবীণ ফেলো পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের অর্থনীতির অধ্যাপক পার্থ প্রতীম পাল। কমিশনের সদস্য-সচিব পদে রয়েছেন আইএএস আধিকারিক দেবীপ্রসাদ করনম।

    কোন কোন বিষয় বিবেচনায় রাখবে কমিশন?

    সরকারি নির্দেশিকায় (West Bengal) বলা হয়েছে, সুপারিশ তৈরির সময় কমিশন শুধু রাজ্য সরকারের বর্তমান বেতন কাঠামো দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামো, দেশের অন্যান্য রাজ্যের বেতন কাঠামো, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য, সরকারি আয় ও ব্যয়ের পরিস্থিতি এবং অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশও বিবেচনায় রাখা হবে।কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো, ডিএ, বিভিন্ন বিশেষ ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, পদোন্নতির নীতি, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা খতিয়ে দেখবে। নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের প্রাথমিক বেতন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেই পদ্ধতিও কমিশন সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি নিয়েও মতামত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে ডিএ-সহ—সরকারি চাকরির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও পরিষেবাগত বিষয়ই কমিশনের পর্যালোচনার আওতায় আসছে (7th Pay Commission)।

    ২০২৭ সালে কার্যকর করার লক্ষ্য

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। এখন কমিশনের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আগামী দিনে বেতন, ডিএ এবং অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর বার্তা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তির পর সেই প্রক্রিয়াও আরও এক ধাপ এগোল (West Bengal)।

    কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আমাদের পরামর্শ দিয়েছিল যে যাঁরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বেতন চাইছেন, তাঁরা দিল্লি চলে যান। আমরা দিল্লির সরকারকেই পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসেছি। আর আজ প্রকাশিত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আমাদের বেশির ভাগ দাবিকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা এই বিজ্ঞপ্তি দেখে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে বর্তমান রাজ্য সরকার যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের সাথী (7th Pay Commission) হয়, সেই বিষয়ে আমাদের আবেদন থাকবে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে (West Bengal)। কারণ, তিনি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন যেসব প্রতিশ্রুতি আমাদের দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।”

     

     

  • Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা, প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আসক্তিকর করে তোলা এবং অনলাইন যৌন শোষণ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বড় ধাক্কা খেল মেটা (Meta in Crisis)। বিপুল আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হল ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটাকে (Meta)। সামাজিক দূষণের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক। ‌ভারতীয় মুদ্রায় ৭৮৬০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেটাকে। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় (কনটেন্ট) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই কনটেন্টের মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগের তদন্তে মেটা-সহ আটটি রাজ্যের ডিজিপিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

    মেটাকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

    শুধু জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দায়ের করা মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মকে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের মতে, বিষয়টি আর শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের সমস্যা নয়। এর প্রভাব শিশুদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। তাই মেটার কার্যকলাপকে ‘Public Nuisance’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    কেন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা?

    মামলায় নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য মেটা এমন কিছু ফিচার ও নকশা তৈরি করেছে, যা সোশাল মিডিয়া-নির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে শিশুদের অনলাইন হয়রানি, গ্রুমিং এবং যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির পর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস আগে একই মামলার প্রথম পর্যায়ে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা দাবি করে মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটার প্ল্যাটফর্মে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এই নির্দেশের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও— অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটের উপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসাতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।

    সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশ দূষণের সামিল

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে? বিচারক বিডশেইড তাঁর রায়ে সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্প কারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন কারখানার সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবও মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা বাস্তব জীবনে শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

    মেটার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা

    মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ওই কর্তার কথায়, আমাদের সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্টগুলির দিকে আমাদের অবিরাম নজর রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কন্টেন্টগুলি নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্ক। যদিও নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতগুলিতে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং নানা সামাজিক সংগঠন হিংসা, বিকৃত যৌনতা, ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করছেন।

    ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে মেটা

    ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। এনএইচআরসি সদস্য প্রিয়ঙ্কা কানুনগো জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া কনটেন্টে সিএসএএম থাকলে তা পকসো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০টি বিষয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে গাফিলতি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে এনএইচআরসি। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকেও অবগত করা হয়েছে

    রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।’’

  • Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh Map Update) বিভিন্ন এলাকার নাম বারবার বদলে দেওয়ার চিনা (India China) প্রচেষ্টার পাল্টা জবাব দিল ভারত। গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও মানচিত্র-সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানকে ভারতের মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শুক্রবার অরুণাচল সরকারের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করে, সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মানচিত্রগুলিতে এই ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে মানচিত্রে যোগ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিগত নামকরণ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বরাবর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলোর সঠিক ভৌগোলিক স্বীকৃতিকে উৎসাহিত করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই ২৭টি স্থানের মধ্যে ২১টি স্থলভাগ, ৪টি গিরিপথ, ১টি হ্রদ এবং ১টি স্মৃতিসৌধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল সেগুলিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।”

    চিনকে জবাব ভারতের

    অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার চিনা পদক্ষেপকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এ ধরনের নামকরণ “অর্থহীন ও হাস্যকর” এবং এর মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার বাস্তবতা বদলানো সম্ভব নয়। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—অরুণাচল প্রদেশ “ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকবে।” অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় ভূখণ্ডের জন্য চিনের দেওয়া নামকে বরাবরই “কাল্পনিক” ও “ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বদলানো যাবে না। বরং এই ধরনের পদক্ষেপ ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। চিন ২০১৭ সালে অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের জন্য তথাকথিত ‘মানক’ নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০২১ সালে আরও ১৫টি স্থানের নাম প্রকাশ করা হয়। ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নামের তালিকা প্রকাশ করে বেজিং। চিন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ (Zangnan) নামে অভিহিত করে। তবে ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে, নাম পরিবর্তন করে কোনওভাবেই অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অংশ হওয়ার ঐতিহাসিক ও বাস্তব সত্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা

    সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলির আনুষ্ঠানিক নামকরণ, বহুদিন ধরে ঘটে চলা আঞ্চলিক নামকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের কড়া জবাব। জাতীয় মানচিত্রের মধ্যে আদিবাসী, ঐতিহাসিক এবং কৌশলগত নামগুলিকে আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমে নয়াদিল্লি তার সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করল। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষামূলক উপকরণ, সরকারি নথি, জনযোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানচিত্র সংক্রান্ত তথ্যে সরকারি ভারতীয় নামকরণই উল্লেখিত হবে।

    কোন কোন জায়গা চিহ্নিত

    সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে লং জু (Long Ju)। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-এর কাছে অবস্থিত এই এলাকা ১৯৫৯ সালে ভারত-চিন উত্তেজনার অন্যতম প্রাথমিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ওই সময় চিনা বাহিনী সেখানে প্রবেশ করেছিল। উপরের সুবনসিরি জেলার লং জু-এর কাছে অবস্থিত মাজা (Maja) গ্রামকেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিসা (Bisa) গ্রাম এবং বেশ কয়েকটি উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ—জো লা (Dzo La), রিজা লা (Riza La) এবং পুকুর লা (Pukur La)। সরকারি মানচিত্রে স্থান পেয়েছে উচ্চ পার্বত্য হ্রদ সাম্ভো সরোবর (Sambho Sarovar), পূর্ব অরুণাচল প্রদেশের বড়া কুন্ডুন ও ছোট কুন্ডুন, পাশাপাশি ধানবাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর এবং জশবন্ত গড়।

    ১৯৬২ সালে ভারত-চিনের সংঘাতের জায়গার নামও ম্যাপে

    একইভাবে তাওয়াং জেলার নামকা চু উপত্যকার টেগ লা’ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মানচিত্রে। ১৯৬২ সালে ভারত এবং চিনের যুদ্ধের শুরুটা প্রথম যে জায়গাগুলিতে শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল থাগ লা (Thag La)। আবার পূর্ব সীমান্তের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত জয়রামপুর, বৈশাখী, যশবন্ত গড়ের (১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে শহিদ জওয়ান যশবন্ত সিং রাওয়াতের মেমোরিয়াল) মতো জায়গাকে মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জয়রামপুর (Jairampur)-ও। চাংলাং জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্রটি পূর্ব অরুণাচল এবং মায়ানমার সীমান্তের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবেও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

    কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

    জশবন্ত গড়ে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনা জওয়ান জশবন্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। তাওয়াং যাওয়ার পথে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি ভারতীয় সেনার বীরত্বের অন্যতম প্রতীক। ২৭টি স্থানের তালিকায় আরও রয়েছে সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর ও বৈশাখী গ্রামের নাম। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের বীর ত্রিলোক সিং থাপা-র স্মৃতিতে নির্মিত শের-এ-থাপা মেমোরিয়াল-কেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ছোট রোপুক, বড়া রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা, কামলাং নগর এবং বুদ্ধমন্দির-ও। কামলাং অভয়ারণ্যের কাছে অবস্থিত কামলাং নগরেরও কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের তিনটি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। উত্তরে ও উত্তর-পূর্বে তিব্বতের মধ্য দিয়ে চীন, পশ্চিমে ভুটান এবং পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে মায়ানমার। তাই এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ করে আন্তর্জাতিক স্তরেও বার্তা দিল ভারত।

  • Heart Health Tips: ভাত-রুটি পুরো বাদ দেওয়া নয়! সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে এই সহজ ৫ অভ্যাসই যথেষ্ট

    Heart Health Tips: ভাত-রুটি পুরো বাদ দেওয়া নয়! সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে এই সহজ ৫ অভ্যাসই যথেষ্ট

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদেশের দামী চা কিংবা ফল নয়। এমন কিছু প্রতিদিনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নয়। আবার এমন কিছু অভ্যাসের তালিকায় রাখার প্রয়োজন নেই, যা বছরের পর বছর সামলানোই কঠিন হয়ে যাবে। বরং জীবন যাপন হোক সাদামাটা। যা দিনের পর দিন অভ্যাস করতে সহজ হবে। আর সেই সহজ জীবনেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

    সহজ জীবন যাপনেই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি!

    সম্প্রতি ইউরোপিয়ান কার্ডিওলজি সোস্যাইটির তরফে এক রিপোর্টে এমন কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ।
    বিশ্ব জুড়ে হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। আর এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশপাশি, কিডনি, লিভার সহ একাধিক অঙ্গের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গবেষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই জীবন যাপনের ধরনে বদল আনছেন। কিন্তু এমন কিছু পরিবর্তন করছেন, যেটা স্বাস্থ্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, লাভ হচ্ছে না। তাঁদের পরামর্শ সহজ জীবন যাপনেই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি রয়েছে। শুধু প্রয়োজন সেই সম্পর্কে সচেতনতা।

    সহজ জীবনের কোন কৌশলের কথা বলছেন চিকিৎসকেরা?

    সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রে চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত একটা স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অভ্যাস জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, নিজের এলাকায় সহজেই পাওয়া যায় এমন কিছু ফল নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন।

    সহজেই পাওয়া যাবে এমন একটা ফল প্রত্যেক দিন!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব দামী ফল মানেই দারুণ উপকারি এমন নয়। ভারতে কলা, লেবু, পিয়ারার মতো সহজেই পাওয়া যায়। নিয়মিত এই ধরনের ফল খেলে শরীরে ফাইবার, ভিটামিন সি, আয়রনের জোগান সহজেই থাকবে। ভিটামিন এবং মিনারেল শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াবে, ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে। শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত একটা ফল খাওয়া জরুরি। কিন্তু অনেক সময়েই এমন কিছু ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা হয়, যা সহজে পাওয়া যায় না। ফলে সমস্যা বাড়ে।

    সব্জি ও ডাল খাওয়ার অভ্যাস!

    খুব দামী দানাশস্য খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত পাতে থাকুক পর্যাপ্ত সবুজ সব্জি এবং ডাল খাওয়ার অভ্যাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভাত কিংবা রুটি খেতে রাজি হন না। বরং তার পরিবর্তে নানান বিদেশি দানাশস্য খান। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গম-বাজরা-মিলেটের তৈরি রুটি কিংবা সহজলভ্য চালের ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি এবং ডাল খাওয়ার অভ্যাস থাকলেই শরীর সুস্থ থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি, লিভার এবং অন্ত্রের কার্যকরিতা বজায় রাখতে নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। তাছাড়া পর্যাপ্ত সব্জি খেলে তবেই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত পালং শাক, পটল, বিট, গাজর, ধনেপাতার মতো সবুজ সব্জি খাওয়া জরুরি। তবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সুস্থ থাকতে ভাত এবং রুটি সম্পূর্ণ বর্জন করছেন। কিন্তু এভাবে দীর্ঘমেয়াদি জীবন যাপন সম্ভব নয়। এর ফলে ক্লান্তি বাড়বে। প্রত্যেক দিনের স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই ভাত ও রুটি নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া প্রয়োজন। কারণ শরীরে কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন আছে। তবে পেট ভরাতে ভাত কিংবা রুটি নয়। বরং সব্জি এবং ডাল খাওয়া জরুরি।

    নিয়মিত বাদাম জাতীয় খাবার হৃদপিন্ড সুস্থ রাখবে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম, পেস্তা কিংবা চিনেবাদামের মতো খাবার সহজলভ্য। নিয়মিত এই ধরনের যেকোনও একটা বাদাম অল্প পরিমাণ খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। যেকোনও প্রকার বাদামেই প্রচুর পরিমাণে মিনারেল থাকে। শরীরের উপকারি চর্বি থাকে। যেগুলো হৃদপিন্ড সুস্থ থাকে। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাবে। ফলে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অত্যন্ত দামী কিংবা দুর্মূল্য খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ খাবার না খেলেও চলবে। বরং প্রতিদিনের তালিকায় থাকুক সহজে পাওয়া যাবে এমন বাদাম জাতীয় খাবার। যাতে শরীর সুস্থ থাকে।

    পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক কসরত জরুরি!

    জটিল জীবন যাপন নয়। বরং, পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক কসরত এই দুই দিকে নজর দেওয়া দরকার। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয়। শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।‌ মানসিক চাপ এবং অবসাদ কমবে। তাছাড়া, স্নায়ুর সক্রিয়তা বজায় রাখতেও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তাছাড়া নিয়মিত সহজ শারীরিক কসরত করতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মানুষ ওজন কমাতে নানান জটিল কসরত করছেন‌। তাতে সব সময় উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।‌ বরং, নিয়মিত আধ ঘণ্টা হাঁটা কিংবা সহজ কিছু যোগাভ্যাস এবং প্রাণায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি মানসিক উদ্বেগ এবং অবসাদ কমবে। ফলে শরীরের একাধিক রোগের মোকাবিলা সহজ হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনি ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করেন? তাহলে এই খবর আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দিয়েছে কেন্দ্র। সংসদে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই (UPI) লেনদেনে চার্জ বসানোর আইনি ক্ষমতা পেতে পারে সরকার। তবে এখনই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা কাটার কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেমন চলছে, তেমনই ইউপিআই (UPI) পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকছে। গুগল পে (Google Pay), ফোনপে (PhonePe), পেটিএম (Paytm) বা অন্য কোনও UPI অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোনও ট্রানজেকশন ফি দিতে হবে না। Taxation and Other Laws (Amendment) Bill, 2026- এর মাধ্যমে এই আইনি পরিবর্তনের রাস্তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি Payment and Settlement Systems Act, 2007-এ সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। তাহলে কি ইউপিআই-তে (UPI) চার্জ আসছে? কার কাছ থেকে নেওয়া হবে? সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপর কতটা প্রভাব পড়বে? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয়।

    কাল থেকেই ইউপিআই (UPI) পেমেন্টে টাকা কাটা শুরু হবে?

    এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে উত্তর হল- না। বিল পাস হলেও আগামিকাল থেকে বা এখনই ইউপিআই (UPI) লেনদেনে কোনও চার্জ চালু হচ্ছে না। এই বিল শুধুমাত্র সরকারকে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে চার্জ চালুর আইনি ক্ষমতা দেবে। ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, আপাতত ইউপিআই দিয়ে আগের মতোই বিনামূল্যে টাকা পাঠানো ও পেমেন্ট করা যাবে।

    টাকা দেবে কারা?

    সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইউপিআই (UPI)-তে কোনও ফি চালু হলেও তা সরাসরি গ্রাহকদের উপর চাপানো হবে না। প্রস্তাবিত এই চার্জের নাম এমডিআর (Merchant Discount Rate)। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই চার্জ প্রযোজ্য হবে ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, দোকানদার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা বড় সংস্থাগুলি ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করলে তাদের উপর এই চার্জ বসতে পারে। আপনি যদি ইউপিআই (UPI) দিয়ে বাজারের জিনিস কেনেন, বিদ্যুতের বিল দেন, রেস্তরাঁয় টাকা মেটান বা ক্যাব বুক করেন- তাহলে সাধারণ গ্রাহক হিসেবে সরাসরি কোনও চার্জ দেওয়ার কথা নয়।

    হঠাৎ কেন এমডিআর চালু?

    কেন্দ্রের যুক্তি, ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যাঙ্ক ও ফিনটেক সংস্থাগুলিকে নিয়মিত পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ইউপিআই (UPI) লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ থেকে ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট সংস্থাগুলির কোনও সরাসরি আয় নেই। ফলে ভবিষ্যতে পরিষেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি আনার জন্য এমডিআর (Merchant Discount Rate)-এর মতো চার্জের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) কী বললেন?

    ইউপিআই (UPI)-তে চার্জ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, ইউপিআই সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) স্পষ্ট করে বলেন, এমডিআর (MDR) শুধুমাত্র মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নয়। তিনি আরও জানান, ইউপিআই এবং Services Steering Committee, যার নেতৃত্বে রয়েছে এনপিসিআই (NPCI), এখনও এমডিআর চালুর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    ইউপিআই-তে কত শতাংশ চার্জ বসতে পারে?

    এই মুহূর্তে সরকার কোনও নির্দিষ্ট এমডিআর হার ঘোষণা করেনি। তবে সম্ভাব্য কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে- ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে বড় ব্যবসায়ীদের উপর ০.৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর বসানো হতে পারে। যেসব মার্চেন্টের বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ১.৫ কোটি টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। আরেকটি প্রস্তাবে লেনদেনের অঙ্কের বদলে ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ চার্জের একটি সীমাও বেঁধে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

    কার উপর পড়বে সবচেয়ে বেশি প্রভাব?

    যদি ভবিষ্যতে ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু হয়, তাহলে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি। ছোট দোকানদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপ কম রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রেও মার্চেন্টদের এমডিআর (Merchant Discount Rate) দিতে হয়। ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত প্রায় ১.৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ থাকতে পারে। ডেবিট কার্ডে তুলনামূলক কম চার্জ নেওয়া হয়।

    তাহলে ইউপিআই ব্যবহারকারীদের এখন কী চিন্তা করা উচিত?

    না, এখনই নয়। ইউপিআই (UPI) এখনও সম্পূর্ণ বিনামূল্যের পরিষেবা। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনও ট্রানজেকশন চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে যদি এমডিআর চালু হয়ও, তার বোঝা মূলত মার্চেন্টদের উপর পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। সুতরাং, আপাতত নিশ্চিন্তে ইউপিআই ব্যবহার করুন। চার্জ চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

  • Rabindranath Tagore: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ ২২ শ্রাবণে স্মরণ বিশ্বকবিকে, স্মৃতির আকাশে আজও অমর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Rabindranath Tagore: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ ২২ শ্রাবণে স্মরণ বিশ্বকবিকে, স্মৃতির আকাশে আজও অমর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা যেন প্রতি বছর ২২ শ্রাবণে (22 Shravan) একটু অন্যরকম হয়। আকাশে জমে থাকা মেঘ, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, ভেজা কদমফুলের গন্ধ- সবকিছু মিলিয়ে যেন বাংলার বাতাসে ভেসে ওঠে এক পরিচিত সুর। কোথাও বাজে আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ…”, কোথাও আবার মনের অজান্তেই উচ্চারিত হয়- চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”। ২২ শ্রাবণ তাই কেবল একটি তারিখ নয়। এটি বাঙালির স্মৃতির দিন, আত্মপরিচয়ের দিন, সংস্কৃতির সামনে মাথা নত করার দিন। এই দিনেই, ১৯৪১ সালের ৭ অগাস্ট, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য, দর্শন ও সাংস্কৃতিক চিন্তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। তাঁর ভাবনা শুধু বাংলা ভাষার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়ে দিয়েছে আধুনিক ভারতের মনন ও সাংস্কৃতিক চেতনাকেও। তাঁর লেখার মাধ্যমে বিশ্ব চিনেছিল ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনের গভীরতাকে। তিনি আজও আছেন আমাদের ভাষায়, ভাবনায়, গানে, কবিতায়, প্রেমে, প্রতিবাদে, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসায় এবং মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাসে।

    অনুপ্রেরণার ২২ শ্রাবণ (22 Shravan)

    আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। তিনি শুধু বাংলা সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাননি, আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য, দর্শন এবং সাংস্কৃতিক চিন্তার অন্যতম নির্মাতা হিসেবেও ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে গিয়েছেন। স্বাধীনতা, মানবতা, ভয়হীন চিন্তা এবং বিশ্বমানবতার যে বীজ তিনি রোপণ করেছিলেন, তার ছায়াতেই আজও আশ্রয় খোঁজে কোটি কোটি মানুষ। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন আজও নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখায়। ২২ শ্রাবণ তাই অনুপ্রেরণার দিনও।

    জোড়াসাঁকো থেকে বিশ্বমঞ্চ

    ১৮৬১ সালের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। এক অভিজাত পরিবারে জন্ম হলেও তাঁর মন পড়ে থাকত প্রকৃতির কোলে, মানুষের জীবনে, সমাজের পরিবর্তনের স্বপ্নে। শৈশব থেকেই ছিল সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর আকর্ষণ। অল্প বয়সেই লেখা শুরু। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠলেন এমন এক স্রষ্টা, যাঁর পরিচয় শুধু কবি শব্দে সীমাবদ্ধ রাখা অন্যায়। তিনি ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, সুরকার, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক এবং চিত্রশিল্পী। বাংলা ভাষা তাঁর হাতে শুধু সমৃদ্ধই হয়নি, বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ আসনেও পৌঁছে গিয়েছে।

    যে কলমে সৃষ্টি হয়েছে বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) সাহিত্যকে কোনও একটি ধারায় বাঁধা যায় না। তাঁর কলমে যেমন প্রেম আছে, তেমনি প্রতিবাদ; যেমন প্রকৃতি আছে, তেমনি মানুষের অন্তর্জগত; যেমন দেশপ্রেম আছে, তেমনি বিশ্বমানবতার আহ্বান। তাঁর লেখা ‘গীতাঞ্জলি’, ‘সোনার তরী’, ‘মানসী’, ‘বলাকা’, ‘গীতিমাল্য’-  বাংলা কাব্যসাহিত্যের ইতিহাসে আজও মাইলফলক। উপন্যাসে গোরা, ঘরে বাইরে, চোখের বালি, যোগাযোগ, শেষের কবিতা শুধু সাহিত্য নয়, সমাজ, রাজনীতি, জাতীয়তাবোধ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং মানুষের আত্মসঙ্কটকে নতুন দৃষ্টিতে দেখিয়েছে। ছোটগল্পে কাবুলিওয়ালা, পোস্টমাস্টার, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষাণ আজও বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদের মধ্যে গণ্য হয়। নাটকে ডাকঘর, রক্তকরবী, রাজা, অচলায়তন মানুষের মুক্তি, প্রশ্ন করার অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। শিশুদের জন্যও তিনি লিখেছেন অজস্র ছড়া, কবিতা ও গল্প। আবার তাঁর প্রবন্ধে উঠে এসেছে শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, সভ্যতা এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা।

    ‘গীতাঞ্জলি’

    তাঁর সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ‘গীতাঞ্জলি’। ১৯১৩ সালে এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন। তিনিই প্রথম এশীয়, যিনি এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, সমগ্র ভারতবর্ষকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নতুন মর্যাদা এনে দেয়।

    বিশ্বভারতীর জন্ম

    কবিগুরুর অবদান শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা মানুষের সৃজনশীলতা, স্বাধীন চিন্তা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনবোধ গড়ে তোলে। এই দর্শন থেকেই শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। আজও বিশ্বভারতী তাঁর সামগ্রিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিশ্বমানবতার আদর্শ বহন করে চলেছে।

    সুরে, দর্শনে, মানবতায় রবীন্দ্রনাথ

    দুই হাজারেরও বেশি গান লিখেছেন কবিগুরু। যা আজ রবীন্দ্রসঙ্গীত নামে শুধু একটি সঙ্গীতধারা নয়, বাঙালির জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু, প্রেম থেকে বিচ্ছেদ, পূজা থেকে প্রকৃতি, দেশপ্রেম থেকে আত্মঅন্বেষণ- মানুষের জীবনের এমন কোনও অনুভূতি নেই, যার জন্য তিনি একটি গান রেখে যাননি। সময় বদলেছে, পৃথিবী বদলেছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের আনন্দ, বেদনা, ভালোবাসা, একাকীত্ব, প্রশ্ন আর স্বপ্ন বদলায়নি। সেই কারণেই আজও বাঙালির মনে বারবার ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। তাই আজও ভোর শুরু হয়- “আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে…” দিয়ে। বর্ষার দিনে ভেসে আসে— “আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে…”। ভালোবাসার মুহূর্তে বাজে— “আমার পরান যাহা চায়…”। আবার দুঃসময়ে সাহস জোগায়— “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে…”। তাঁর প্রতিটি লেখা যেন আজও নতুন করে আমাদের প্রশ্ন করে- আমরা কি সত্যিই মুক্ত? আমরা কি সত্যিই মানবিক?

    জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্ঠা

    সঙ্গীত ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্টির অন্যতম গৌরব, ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

    আজও পথ দেখায় বিশ্বকবির দর্শন

    কবিগুরুর সাহিত্য বারবার মানবমর্যাদা, স্বাধীনতা ও নৈতিক সাহসের কথাই বলেছে। তাঁর অমর পঙ্‌ক্তি—

    • “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”

    শুধু একটি কবিতার লাইন নয়, এটি এক মুক্ত সমাজের স্বপ্ন। আজও এই বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই সম্ভব, যখন মানুষ ভয়, কুসংস্কার, সংকীর্ণতা ও অজ্ঞতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হবে।

    যতদিন বাংলা থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথও থাকবেন

    • “মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুরই রূপ,
      দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ।”

    হয়তো সেই কারণেই তিনি মৃত্যুকেও ভয় পাননি। তিনি জানতেন, শরীর একদিন থেমে যাবে, কিন্তু সৃষ্টি থেমে থাকে না। আজ ২২ শ্রাবণে (22 Shravan) যখন বৃষ্টি নীরবে ঝরে পড়ে, তখন মনে হয়, প্রকৃতিও যেন তার শ্রেষ্ঠ কবিকে স্মরণ করছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) আছেন বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষরে, প্রতিটি রবীন্দ্রসঙ্গীতে, প্রতিটি শিশুর প্রথম কবিতায়, প্রতিটি প্রেমপত্রে, প্রতিটি স্বাধীন চিন্তায়, প্রতিটি প্রতিবাদে। তিনি আছেন শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা পথের ধুলোয়, কাশফুলের দোলায়, বর্ষার গানে, শরতের আকাশে, বসন্তের পলাশে। তিনি আছেন বাঙালির অস্তিত্বে। তাই ২২ শ্রাবণ কোনও সমাপ্তির দিন নয়। এটি এক অনন্ত আলোর সামনে মাথা নত করার দিন। কারণ মানুষ চলে যান, কিন্তু মহামানবেরা তাঁদের সৃষ্টির মধ্যেই যুগের পর যুগ বেঁচে থাকেন। যতদিন বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে, যতদিন মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখবে, যতদিন পৃথিবী মানবতার আলো খুঁজবে- ততদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) অমর হয়ে থাকবেন আমাদের মনে।

  • FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (FCRA Amendment Bill, 2026) আগামী ১২ অগাস্ট সংসদে আলোচনা ও পাসের জন্য তোলা হবে। তবে বিলটি পূর্ববর্তী সময় (Retrospective Effect) থেকে কার্যকর করা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। মিজোরামের বিভিন্ন চার্চ সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। বৈঠকে তাঁরা প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। লালদুহোমা বলেন, “আমরা নতুন এফসিআরএ বিল নিয়ে আমাদের আশঙ্কার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই বিল অতীত থেকে কার্যকর হবে না।” তিনি আরও জানান, অমিত শাহ তাঁদের বলেছেন যে ১২ অগাস্ট সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, বিলটি চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত হয়েছিল।

    বিলে কী কী প্রস্তাব রয়েছে

    প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিল অনুযায়ী, যে সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল হবে, স্বেচ্ছায় জমা দেবে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে তৈরি সম্পদ প্রথমে একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’-র অধীনে অস্থায়ীভাবে ন্যস্ত হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা নতুন লাইসেন্স না পায় বা লাইসেন্স পুনর্বহাল না হয়, তাহলে সেই সম্পদ ও বিদেশি অনুদান স্থায়ীভাবে ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যাবে।

    প্রতি বছর হিসেব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক

    বিদেশি অনুদান (এফসিআরএ) সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি অনুদান গ্রহণে কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সেই অর্থ কোথা থেকে এল, কীভাবে খরচ হল এবং তার হিসেব যাতে স্পষ্ট থাকে, সেটাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংস্থাগুলিকে এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান নিতে হবে। প্রতি বছর নিরীক্ষিত হিসেব জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

    বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে

    ২০২৬ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা কোন ধরনের কাজ করবে এবং কোন রাজ্যে কাজ করবে, তা আগে থেকেই জানাতে হবে। নিবন্ধন নবীকরণের জন্য গত দুই বছরে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা প্রকল্পে খরচের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও প্রকাশ করতে হবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই সংশোধনের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের অপব্যবহার রোধ করা, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রকৃত জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু দেশেও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে।

  • PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে অনেক বেশি। কেন্দ্রের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। একই সময়ে, অর্থাৎ এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে এসেছে ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। চলতি বছরে একাধিক দেশে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা রাজ্যসভায় স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪.৫ কোটি।

    কোথায় কত টাকা থরচ হয়েছে

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন-সহ মোট ২৩টি দেশ সফরে ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে মোট ৭৪টি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০১৮ এই চার বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি। ২০২০ থেকে ২০২৫-এই পাঁচ বছরে খরচ কমে দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি। সে তুলনায় ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদেশ সফরের খরচ এবং এই সফরগুলির জেরে দেশে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোট ৬টি সরকারি বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এই সফরগুলিতে তিনি ১৩টি দেশে সফর করেছেন এবং তাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ৭৪.৫ কোটি টাকা।

    কত টাকা এফডিআই এসেছে

    কেন্দ্রের তরফে যে হিসেব দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, ডলার প্রতি ৮৩ টাকা বিনিময় হার ধরে হিসেব করলে দেখা যায়, বিদেশ সফরে প্রতি ১ টাকা খরচের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬৫,৬২০, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি। তবে এটি শুধুমাত্র একটি গাণিতিক তুলনা। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও দাবি করা হয়নি যে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ফলেই এই বিনিয়োগ এসেছে বা দুইয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও কারণ-ফল সম্পর্ক রয়েছে।

    বিদেশ সফরে কত খরচ হয়েছে

    করোনা মহামারির পর ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২১: ৩টি বিদেশ সফর, ব্যয় ৩৬.১২ কোটি
    ২০২২: ৭টি সফর, ব্যয় ৫৫.৮৩ কোটি
    ২০২৩: ৬টি সফর, ব্যয় ৯৩.৬৩ কোটি
    ২০২৪: ১১টি সফর, ব্যয় ১০৯.৫১ কোটি
    ২০২৫: ১১টি সফর, ব্যয় ১৮৭.৮৩ কোটি

    সব মিলিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩৮টি বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। এছাড়া ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত বিদেশ সফরে ৭৪.৫৯ কোটি ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। তবে এই অঙ্ক চূড়ান্ত নয়। জুন মাসের ফ্রান্স সফরের ব্যয় এখনও সংকলনের পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সফরের বিল নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে।

    বিদেশ সফরের গুরুত্ব নিয়ে সরকারের বক্তব্য

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) রাজ্যসভায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক মাধ্যম। সরকারের মতে, এসব সফরের সময় স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    একাধিক ক্ষেত্রে মউ স্বাক্ষর

    সংসদে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মহাকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ, সমালোচনামূলক খনিজ, গ্রিন হাইড্রোজেন, স্টার্টআপ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি এবংইউপিআই-সহ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ভুটান, সাইপ্রাস, ইথিওপিয়া ও গায়ানাসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এই চুক্তিগুলি হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

    ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর

    সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমেরিকা সফর ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ওই সফরে ২৫.৫ কোটিরও বেশি সরকারি টাকা খরচ হয়েছিল। আর ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে নরওয়ে সফরে। যেখানে মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের ব্যয় এবং তার বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সফরগুলির মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

LinkedIn
Share