Tag: bangla news

bangla news

  • Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের (Pakistan)! বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী আচরণ পাকিস্তানের মূল বৈশিষ্ট্য (US Attacks)। শাহবাজ শরিফের দেশের প্রকৃত চরিত্রের আর একটি উদাহরণ হল পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। এই একই সময়ে তারা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকাও পালন করছিল। ১১ মে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের (CBS News) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানগুলিকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে তাদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

    পাকিস্তানের দ্বিচারিতা (Pakistan)

    রিপোর্টে বলা হয়, “এই সব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমানসম্পদকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল, যদিও একই সময়ে আধিকারিকরা প্রকাশ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই ইরান তাদের সামরিক বিমান, যার মধ্যে একটি আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও ছিল, পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এই সব বিমান রাখা হয় পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই বিমানবন্দর (US Attacks)।

    বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই। এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ১২ মে এক বিবৃতিতে রিপোর্টটিকে ‘ভুল ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, শান্তি-আলোচনা চলাকালীনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কিছু ইরানি ও মার্কিন বিমান পাকিস্তানে এসেছিল। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানি বিমানগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বিমানগুলি যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানে আসে। তবে এগুলির সঙ্গে কোনও সামরিক পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর (US Attacks)।”

    মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য

    মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত (Pakistan)। তিনি বলেন, “যদি এই খবর ঠিক হয়, তাহলে ইরান, আমেরিকা ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” বস্তুত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের শিকার। একদিকে পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আমেরিকার স্বার্থকেই।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, পাকিস্তান নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকা প্রথমে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। এর মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও ছিল। যদিও পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ, পাকিস্তান এই তথ্য গোপন করেছে (Pakistan)।

    শরিফের করা খসড়া সংস্করণ ফাঁস অনলাইনে

    এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের করা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের খসড়া সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয় (US Attacks)। সেখানে লেখা ছিল ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্সে লেখা মেসেজ’ (Draft – Pakistan’s PM Message on X)। পরে অবশ্য সংশোধিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। যদিও ততক্ষণে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শান্তি আলোচনা চলার সময়ই ইজরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ইজরায়েলকে তিনি ‘অভিশাপ’, ‘মানবতার ক্যানসার’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

    সমালোচকদের বক্তব্য

    এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান ইরানের জন্য ছ’টি বাণিজ্যপথ খুলে দেয়। এর ফলে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমেরিকার চাপ। সমালোচকদের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে (Pakistan)। একদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। ফলে পাকিস্তানকে অনেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নয়, বরং ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেই মনে করছেন (US Attacks)।

     

  • Lakshagraha: হিন্দুদের বড় জয়, মহাভারত আমলের লাক্ষাগৃহ আর ওয়াকফ সম্পত্তি নয়, আদালতের রায়ে বড় পদক্ষেপ সরকারের

    Lakshagraha: হিন্দুদের বড় জয়, মহাভারত আমলের লাক্ষাগৃহ আর ওয়াকফ সম্পত্তি নয়, আদালতের রায়ে বড় পদক্ষেপ সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ সরকার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাগপতের প্রাচীন লাক্ষাগৃহ (Lakshagraha) সাইটটিকে ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাগপত সিভিল কোর্টের দেওয়া একটি রায়কে কার্যকর করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের ওই রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, এই স্থানটি প্রকৃতপক্ষে মহাভারত আমলের ঐতিহাসিক লাক্ষাগৃহ, কোনও দরগাহ বা মুসলিম কবরস্থান (Waqf Property) নয়।

    বিবাদের প্রেক্ষাপট ও আদালতের রায় (Lakshagraha)

    এই বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭০ সালে। সে সময় মুকিম খান নামে এক ব্যক্তি মেরঠ আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করে দাবি করেছিলেন যে, বরনাওয়ার প্রায় ৩৬ বিঘা জমিতে বদরুদ্দিনের মাজার এবং একটি কবরস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, লাক্ষাগৃহ (Lakshagraha) গুরুকুলের প্রতিষ্ঠাতা ব্রহ্মচারী কৃষ্ণদত্ত মহারাজ এই দাবির বিরোধিতা করেন।

    দীর্ঘ ৫৪ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত মুসলিম পক্ষের (Waqf Property)  দাবি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ওই স্থানে কোনও ঐতিহাসিক মাজারের অস্তিত্ব নেই এবং এটি একটি প্রাচীন টিলা যা লাক্ষাগৃহ হিসেবে স্বীকৃত।

    উমিদ (UMEED) পোর্টাল ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিতর্কটি নতুন করে দানা বাঁধে যখন ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের ডিজিটাল পোর্টাল ‘উমিদ’-এ এই স্থানটিকে ভুলবশত একটি দরগাহ (Waqf Property) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে এটিকে তালিকাভুক্ত করায় স্থানীয় হিন্দু সংগঠন এবং গুরুকুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

    আদালতের রায়ের পর বাগপত জেলা প্রশাসন রাজ্য সরকারকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠায়। জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক কৈলাশচাঁদ তিওয়ারি জানান যে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এরপরই উত্তরপ্রদেশ সরকার উমিদ পোর্টালে লাক্ষাগৃহের (Lakshagraha) নাম ওয়াকফ তালিকা থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়।

    লাক্ষাগৃহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

    মহাভারত অনুযায়ী, পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য কৌরবরা মোম, বাঁশ ও অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ দিয়ে এই ‘লাক্ষাগৃহ’ (Lakshagraha) নির্মাণ করেছিল। বাগপতের বরনাওয়া (Barnawa) নামক এই স্থানটি ঐতিহাসিকভাবে ‘বারাণাবত’ নামে পরিচিত ছিল। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) এই টিলাটিকে (Waqf Property) একটি সংরক্ষিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। খননকার্যের সময় এখানে প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন পাওয়া গেছে যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

    পঞ্চগ্রামের তাৎপর্য

    মহাভারত যুদ্ধে রক্তপাত এড়াতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের জন্য কৌরবদের কাছে যে পাঁচটি গ্রাম বা ‘প্রস্থ’ চেয়েছিলেন, বাগপত বা ‘ব্যঘ্রপ্রস্থ’ (Lakshagraha) ছিল তার মধ্যে একটি। অন্য গ্রামগুলো হল:

    • ইন্দ্রপ্রস্থ (দিল্লি)
    • স্বর্ণপ্রস্থ (সোনিপত)
    • পানপ্রস্থ (পানিপত)
    • তিলপ্রস্থ (তিলপত)
    • ব্যঘ্রপ্রস্থ (বাগপত)

    বর্তমানে যদিও মুসলিম পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে, তবে সরকারের এই পদক্ষেপ হিন্দুদের জন্য একটি বড় আইনি ও সাংস্কৃতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ডিজিটাল নথিকরণের (Waqf Property) চেয়ে বিচারবিভাগীয় রায় এবং ঐতিহাসিক প্রমাণই অগ্রাধিকার পাবে।

  • PM Modi Convoy Cut: জ্বালানি সাশ্রয় লক্ষ্য, নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi Convoy Cut: জ্বালানি সাশ্রয় লক্ষ্য, নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়ে নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Convoy Cut)। পেট্রোল-ডিজেলের দাম ঊর্দ্ধমুখী। এই পরিস্থিতিতে কনভয় ছোট করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর কনভয়ের আকার ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইরান যুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দেশের ব্যয় কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্যই এই পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বৈদ্যুতিক যান ব্যবহার বাড়ানোর জন্যও আহ্বান জানান।

    এসপিজি-কে পাঠানো বিশেষ নির্দেশ

    পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সূত্র ধরেই নিজেও তার বাইরে বেরোলেন না প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশ্যাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-র কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রেখেই কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে হবে। পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে। তবে তার জন্য নতুন কোনও গাড়ি এখন কেনা যাবে না বলে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, নির্দেশ হাতে পাওয়ার পরেই তা বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে এসপিজি। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের প্রভাব থেকে নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য কেন্দ্র চেষ্টা করছে, এই কথার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির দাবি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝে এই সময়ে জ্বালানি ব্যবহার এবং ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় খুঁজছে।

    কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীরাও

    সূত্রের খবর, বিজেপিশাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রী মোদির পথে হেঁটে তাঁদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে পারেন। পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা, তামা, রাসায়নিক সার— এই পণ্যগুলির একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ভারতকে। টান পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝে এই পণ্যগুলি সংযমী হয়ে ব্যবহারের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদের এক সভাতে মোদির মুখে প্রথম ওই আর্জির কথা শোনা গিয়েছিল। সোমবার গুজরাতের ভদোদরায় এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ফের বলেন, ‘‘বিশ্ব দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার এক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কোভিড-১৯ অতিমারি দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং এখন পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।’’

  • IFAD: গ্রামীণ আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য, ভারত ও আইএফএডি-এর ৮ বছর ব্যপী নয়া কৌশলগত কর্মসূচি ঘোষণা

    IFAD: গ্রামীণ আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য, ভারত ও আইএফএডি-এর ৮ বছর ব্যপী নয়া কৌশলগত কর্মসূচি ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সরকার এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD) মঙ্গলবার ২০২৬-২০৩৩ সালের জন্য একটি নতুন আট বছর মেয়াদী ‘কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজিক অপরচুনিটিজ প্রোগ্রাম’ (COSOP) চালু করেছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ভারতের গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করা, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা (resilience) বাড়ানো এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারিত করা।

    নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘আইএফএডি-ইন্ডিয়া পার্টনারশিপ ফর রুরাল প্রসপারিটি’ অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচিটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইএফএডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন।

    বিকশিত ভারত@২০৪৭ দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্য

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন এই সিওএসওপি (COSOP) কর্মসূচিটি ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’ ভিশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে:

    ১. গ্রামীণ সম্প্রদায়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

    ২. একটি শক্তিশালী জ্ঞান ব্যবস্থা (knowledge systems) গড়ে তোলা, যাতে সফল উন্নয়নের মডেলগুলো ভারতের পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

    অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের সচিব অনুরাধা ঠাকুর বলেন, “ভারত ও আইএফএডি-এর এই অংশীদারিত্ব কৃষি রূপান্তর, জীবিকার বৈচিত্র্যকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই জোটটি এখন দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রাথমিক পর্যায় ছাড়িয়ে টেকসই এবং বাজার-মুখী গ্রামীণ জীবিকা তৈরির দিকে এগিয়ে গেছে, যা জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সক্ষম।”

    প্রাতিষ্ঠানিক ও বাজার সংযোগে জোর

    আইএফএডি-এর সহযোগী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডোনাল ব্রাউন বলেন, “এই অংশীদারিত্ব কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ার দিকে নজর দিচ্ছে যা প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন, অবকাঠামো এবং বাজারকে দীর্ঘমেয়াদী গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য সংযুক্ত করবে।”

    এই কৌশলের একটি বড় অংশ হল তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান যেমন— স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), কৃষক সংস্থা (FPO) এবং সমবায় সমিতিগুলোকে শক্তিশালী করা। এই সংস্থাগুলোই প্রযুক্তি, অর্থ এবং বাজারের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে মূল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    অর্জিত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

    গত দুই দশকে ভারতে আইএফএডি-সমর্থিত প্রকল্পগুলো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এবং ই-কমার্স ও মূল্য সংযোজনের (value addition) মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

    নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত নিজেকে গ্রামীণ উন্নয়নের ‘নলেজ লিডার’ বা জ্ঞান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ডিজিটাল কৃষি, অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ অর্থায়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল ভ্যালু চেইনের সফল মডেলগুলো আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

    নাবার্ড (NABARD)-এর সাথে চুক্তি

    অনুষ্ঠানের ফাঁকে, ন্যাশনাল ব্যাংক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (NABARD) গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে উদ্ভাবনী কাজে সহায়তার জন্য আইএফএডি (IFAD)-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    উল্লেখ্য, ভারত ও আইএফএডি (IFAD) গত পাঁচ দশক ধরে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ৩৫টি গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারকে উপকৃত করেছে।

  • PM Modi on Ayushman Bharat: ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ভাই-বোনেদের কল্যাণই আমার কাছে সবার আগে’’ রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর পর খুশি প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi on Ayushman Bharat: ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ভাই-বোনেদের কল্যাণই আমার কাছে সবার আগে’’ রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর পর খুশি প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আয়ুষ্মান ভারত (PM Modi on Ayushman Bharat) স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। সোমবারই রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, এই পরিষেবা কার্যকর করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে বাংলার মানুষ জুড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডলে বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ভাই-বোনেদের কল্যাণই আমার কাছে সবার আগে। আমি অত্যন্ত খুশি যে, রাজ্যবাসী বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং উচ্চ গুণমানসম্পন্ন এই স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।’’

    মিলে গেল মোদির গ্যারান্টি

    ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ বা আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat in Bengal) প্রকল্প চালু করেছিল। এই পরিষেবার আওতায় তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের চিকিৎসা পরিষেবা একরকম নিখরচায় পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত সহায়ক। প্রসঙ্গত, কেন্দ্র এই স্বাস্থ্য পরিষেবা গোটা দেশে চালু করেছে। অভিযোগ ওঠে, সেই পরিষেবাকে এ রাজ্যে কার্যকর হতে দেয়নি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। উল্টে তারা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নামে একটি আলাদা প্রকল্প চালু করে। নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিলেন, দল যদি ক্ষমতায় আসে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রের সমস্ত রকম প্রকল্পের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। হলও তাই, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী গত শনিবার শপথ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রের অন্যতম প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করা হল এ রাজ্যে। মিলে গেল মোদির গ্যারান্টি।

    ডবল-ইঞ্জিন সরকার-এর সাহায্য

    রাজ্যে এই প্রকল্প চালুর পর প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও লেখেন,‘‘কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে রাজ্যের জনগণ পান, তা নিশ্চিত করবে ডবল-ইঞ্জিন সরকার।’’ রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে দীর্ঘদিন আটকে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পও এবার দ্রুত কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যবাসী পরিবারপিছু বছরে পাঁচ লক্ষ টাকার ক্যাশেলস স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবেন। খুব সহজে অনলাইনেই আবেদন করা যায় এই প্রকল্পের জন্য। প্রয়োজন হয় না অনেক নথির। বাড়িতে বসেই আবেদন করা যায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর কার্ডের জন্য।

  • Suvendu Adhikari on BSF: পদ্মঝড় গঙ্গাপারে, আতঙ্ক পদ্মাপারে! শুভেন্দুর সীমান্ত-ঘোষণায় তোলপাড় বাংলাদেশে

    Suvendu Adhikari on BSF: পদ্মঝড় গঙ্গাপারে, আতঙ্ক পদ্মাপারে! শুভেন্দুর সীমান্ত-ঘোষণায় তোলপাড় বাংলাদেশে

    সুশান্ত দাস

    কথায় বলে, ‘একা রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর’। প্রাচীন প্রবাদবাক্যটা যথার্থ বাংলাদেশের পক্ষে। এতদিন নিজেদের পূবদিকে ব্রহ্মপুত্রের কোল ঘেঁষা বিজেপি-শাসিত অসমের অনুপ্রবেশ-বিরোধী অবস্থান নিয়ে জেরবার ছিল বাংলাদেশ। এখন পশ্চিমদিকে, গঙ্গাপারও গেরুয়াময় হয়ে ওঠায় আশঙ্কার শেষ নেই পদ্মাপারে। রীতিমতো, উভয় সঙ্কটে ভুগছে ওপারের কট্টরপন্থীরা, যারা অনুপ্রবেশকে এতদিন নিজেদের কায়েমি অধিকার হিসেবে দেখে এসেছিল। যারা, কিছুদিন আগে পর্যন্তও এরাজ্য়ের সাম্প্রদায়িক ও রাষ্ট্র-বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বদান্যতায় কাঁটাতার-বিহীন সীমান্ত দিয়ে ইচ্ছামতো যত্রতত্র ভারতে ঢুকে জনবিন্যাসে হেরফের ঘটাত এবং অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করত। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গবাসী সেই স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে দেওয়ায় বাজ পড়েছে বঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া অবৈধ বাংলাদেশিদের মাথায়।  ভারতের মোদি সরকারের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশি তাড়ানো অভিযান আগেই শুরু হয়েছিল। এবাং বঙ্গেও নতুন সরকার আসায় সেই কাজ শুরু হল বলে। লক্ষ্য হল, ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের স্বভূমে ফেরত পাঠানো, এবং একইসঙ্গে এই গণ-অনুপ্রবেশকে যথাসম্ভব আটকানো। ফলে, সব মিলিয়ে  বাংলাদেশের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এখন তিনটি শব্দ— ‘বিজেপি’, ‘কাঁটাতার’ ও ‘পুশব্যাক’।

    প্রমাদ গোনা শুরু বাংলাদেশে…!

    নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বিরাট ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়ে দেন, বাংলা-সীমান্তে আউটপোস্ট বসাতে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। এর পর থেকেই যেন প্রমাদ গুণতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এমনিতে, রাজ্যে পালাবদল ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসা থেকেই বাংলাদেশিদের একাংশ টার্গেট করা শুরু করেছে শুভেন্দুকে। তার ওপর সোমবার শুভেন্দুর বিএসএফকে জমি দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সেই আক্রমণ আরও বেড়ে গিয়েছে। গঙ্গাপারের নবান্ন থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তা নিয়ে পদ্মাপারের সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে— তবে সেই সংবাদ যে সব ইতিবাচকভাবে পরিবেশন করা হয়েছে, তেমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

    হিন্দুত্ববাদকে ভয় পাচ্ছে বাংলাদেশ…!

    তবে বিজেপির বঙ্গজয় ও রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরে একটা বিষয় পরিষ্কার। তা হল, হিন্দুত্ববাদের শক্তিকে ক্রমশ ভয় পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘‘সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জয়ী হয়েছে বিজেপি, এটা একটা গেরুয়া পতাকা। এই গেরুয়া পতাকা বাংলাদেশের কাছে এসে গেছে। মুসলমানরা যদি সজাগ না থাকে, যদি ইমানি বক্তা না থাকে তাহলে কিন্তু এই পতাকা আমরা ঠেকাতে পারব না।’’ শুভেন্দুর কথার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে যে প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, এপার বাংলায় বিজেপির উত্থানে বাংলাদেশের একটা বড় অংশ আশঙ্কিত। আর এই শঙ্কা কেবলমাত্র জনমানসে নয়, একেবারে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরেও বর্তমান।

    ‘‘বাংলার সুরক্ষার প্রশ্ন, দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন’’

    সোমবার, নবান্নে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর একগুচ্ছ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। যার মধ্যে অন্যতম ছিল সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ঘোষণা। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “এটা আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। বাংলার সুরক্ষার প্রশ্ন। যেভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আজ প্রথম দিনেই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।”

    কী বলেছেন ইউনূস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা?

    বাংলাদেশ এনসিপির নেতা তথা ইউনূস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইঁয়া শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই বিভিন্ন সময় আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। আবার পশ্চিমবঙ্গ এবং জেএনইউ-তে যখন সিএএ-বিরোধী আন্দোলন হয়, তখন আমরা তাদের সমর্থন জানিয়েছি।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘এই অঞ্চলের মুসলমানরা হামলার শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, তারা যেন কূটনৈতিকভাবে আরও তৎপর হয় এবং ভারতের কাছে এই নিয়ে সরব হয় এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ায়। এই সরকার যেন দেশের স্বার্থ দেখে নয়ত আমরা আমাদের সম্ভাব্য বন্ধুদের হারাব। আমরা এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও আবেদন জানাতে চাই।’’

    শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঢাকায়…!

    আবার ঢাকায় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের দেখান একদল মানুষ। ‘ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামক একটি এক হ্যান্ডেল থেকে ভাইরাল হয় বেশ কিছু ছবি। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ হাতে ফেস্টুন নিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। জানা যাচ্ছে, ‘অঞ্জুমানে ছালেকীন বাংলাদেশ’ নামক একটি সংগঠনের তরফে ডাকা হয় এই বিক্ষোভ মিছিল। পশ্চিমবঙ্গে নাকি সংখ্যালঘু মুসলিমরা নির্যাতিত এবং নিপীড়িত হচ্ছে! এমন দাবি সামনে রেখেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পা বাড়িয়েছে ওপার বাংলার ওই সংগঠনটি।

    ঢাকাকে চাপ দিল্লির…

    এমনিতে, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ঢাকার ওপর ক্রমাগত চাপসৃষ্টি করছে দিল্লি। অবৈধ বাংলাদেশিদের ‘পুশব্যাক’ করার কথা ঘোষণা করেই রেখেছেন অসমে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। যা নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। সেই সময়ও বাংলাদেশের স্বস্তির জায়গা ছিল পশ্চিমবঙ্গ। কারণ, যতদিন গঙ্গাপার তৃণমূলের দখলে ছিল, ততদিন বেশ নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছিল বাংলাদেশের জামাত-বাহিনী। তার ওপর সেখানকার নির্বাচনে ভারত-সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলিতে জয় পাওয়ার পর থেকেই যেন জামাতের একপ্রকার ডানা গজিয়েছে।

    ক্ষমতার ‘হাতবদল’ এপারে, ঘুম উড়েছে ওপারে…!

    কিন্তু, এপার বাংলায় ক্ষমতার ‘হাতবদল’ হতেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে ওপার বাংলায়। সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে জামাতরা। তারা হারে হারে টের পাচ্ছে, এতদিন তারা যে পশ্চিমবঙ্গ তাদের কাছে অনুপ্রবেশের নিরাপদ মাধ্যম ছিল, তা রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে। উল্টোদিকে উঠেছে মস্ত প্রাচীর। বর্তমানে বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা ভারতের অঙ্গ রাজ্যগুলির মধ্যে— অসম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও সিকিম বিজেপি-শাসিত। এখন সেই তালিকায় ঢুকে পড়ল, তাদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া পশ্চিমবঙ্গ। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। অতীতে ভারতের বিএসএফ (BSF) সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ করতে গেলে বিভিন্ন জায়গায় বাধার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে বিজিবি (BGB)-এর ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে, বিজিবির কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালানোর ঘটনা ঘটলেই বাংলাদেশে বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং কট্টরপন্থী মহলের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

    ‘পুশব্যাক’-এর আশঙ্কা! হাই অ্যালার্টে বিজিবি…

    ঢাকা মনে করছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, এবং অসম ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারের ত্র্যহস্পর্শ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হলে অনুপ্রবেশকারীদের নতুন করে ‘পুশব্যাক’ করার বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার হতে পারে। শুভেন্দুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ঢাকায় জানান, বাংলাদেশ সরকার আশা করে ‘পুশব্যাক’ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রচারে যা বলেছেন, সরকার পরিচালনায় সেই কড়া পদক্ষেপ বজায় রাখবে না, পশ্চিমবঙ্গের সরকার। হুমায়ুন কবিরের দাবি, এই বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার আর কাঁটাতারের বেড়ার ভয় পায় না। বাংলাদেশেরও সীমান্ত নিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা ভারতের এই প্রশাসনিক গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-কে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ‘পুশব্যাক’-এর সম্ভাবনা রুখতেই বিজিবি-কে সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • Tutu Basu Died: অভিভাবকহীন সবুজ-মেরুন! প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসু

    Tutu Basu Died: অভিভাবকহীন সবুজ-মেরুন! প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রীড়াপ্রশাসনের জগতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বসু (Tutu Basu Died)। ময়দানে যাঁর পরিচিতি টুটু বসু নামে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সোমবার সন্ধ্যায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক। দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। ভেন্টিলেশনে ছিলেন। মঙ্গলবার তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সঙ্গে ছিলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও টুটুবাবুর খোঁজ নিয়েছিলেন।

    মোহনবাগান আর টুটু বসু

    মোহনবাগান ক্লাব (Mohunbagan Ex President Tutu Basu) এবং টুটু বসু সমার্থক। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোহনবাগানের সচিব ছিলেন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে ফের তিনি সচিব নির্বাচিত হন। দায়িত্ব সামলেছিলেন দু’বছর। এরপর ২০২০-২২ এবং ২০২২-২০২৫, দু’দফায় ফের তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত বছর মোহনবাগানের নির্বাচনের আগে তিনি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। শারীরিক কারণে বর্তমানে কোনও আনুষ্ঠানিক পদে থাকেননি তিনি। অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে তাঁর ‘জুটি’ ময়দানের মিথ হয়ে আছে।

    আধুনিক মোহনবাগান তাঁর হাতেই

    টুটু বসুর হাত ধরেই মোহনবাগান ক্লাবে একের পর এক ইতিহাস তৈরি হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন‌্কার হাতে ক্লাবের মালিকানা তুলে দেওয়া। মোহনবাগানের নামের আগে তখন যুক্ত হয় ‘এটিকে’। তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। তারও আগে তিনি মোহনবাগান ক্লাবে আরও এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। যে সবুজ-মেরুনে কখনও বিদেশি ফুটবলার খেলতে দেখা যায়নি, সেখানেই চিমা ওকেরিকে সই করিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন টুটু। চিমাই মোহনবাগানের প্রথম বিদেশি। তাঁর পুত্র সৃঞ্জয় এখন মোহনবাগানের সচিব পদে রয়েছেন। ফুটবল প্রশাসক ছাড়াও একাধিক পরিচয় ছিল টুটু বসুর। তিনি রাজ্যসভায় সাংসদ ছিলেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী এবং সংবাদপত্রের মালিকও।

    অভিভাবক-হারা মোহনবাগান

    জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৮ টায় তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর বালিগঞ্জের বাসভবনে। সেখান থেকে খিদিরপুর ক্লাব, ভবানীপুর ক্লাব হয়ে মোহনবাগান ক্লাবে। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মোহনবাগানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হবে। দুপুর ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাবেই থাকবে মরদেহ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য হবে টুটু বসুর। পরিবারের তরফে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছর মোহনবাগান দিবসের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ ছিলেন টুটু বসুই। তিনি প্রশাসক থাকাকালীন ‘মোহনবাগান রত্ন’ দেওয়া শুরু হয়। সেই সম্মানই গত বছর তুলে দেওয়া হয়েছিল টুটুর হাতে। মোহনবাগান ভক্ত এবং ফুটবল অনুরাগীদের মনে টুটুই ছিলেন সবুজ-মেরুনের অভিভাবক। এখন অভিভাবক-হারা মোহনবাগান।

     

     

     

     

  • PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার আবহে আগামী ১৫ মে, শুক্রবার থেকে ছয় দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু করে ইউরোপের একাধিক দেশে যাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভারতের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরও গভীর করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ১৫ থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পাঁচ দেশের সফরে প্রধানমন্ত্রী যাবেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালিতে। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে চলেছে জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ব্লু ইকোনমি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সদ্য সম্পন্ন ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (India-EU FTA) প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    আমিরশাহীতে আলোচনায় জ্বালানি ও প্রবাসী ভারতীয়রা

    প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের শুরু ১৫ মে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। সেখানে প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (Mohamed bin Zayed Al Nahyan)-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টানরাশিপ (Comprehensive Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাবে জ্বালানি নিরাপত্তা। এছাড়াও আরবে থাকা প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর কল্যাণও মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম বড় উৎস। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চিলক ও আন্তর্জাতিক নানান বিষয়ে মত বিনিময় করবেন। দ্বিপাক্ষিক সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং মানুষে মানুষে সংযোগের বিষয়টিও স্থান পাবে তাঁদের আলোচ্য সূচীতে।

    নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি ও সবুজ শক্তি

    সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী যাবেন নেদারল্যান্ডসে। সেখানে তিনি রাজা উইলিয়াম অ্যালেকজান্ডার (Willem-Alexander) এবং রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের (Rob Jetten) সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন। নেদারল্যান্ডসে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিতীয় সফর। এর আগে তিনি ২০১৭-এ সেখানে যান। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, পরিবেশ বান্ধব হাইড্রজেন, সেমিকন্ডাক্টর ও জল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫ থেকে ১৭ মে নেদারল্যান্ডস সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে ভারত-নেদারল্যান্ডস দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৭.৮ বিলিয়ন ডলার। আগামী দিনে তা কয়েক গুণ বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস বর্তমানে ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

    সুইডেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা ও শিল্প সহযোগিতা

    ১৭ ও ১৮ মে রবিবার সুইডেনের কোটেনবার্গে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে সুইডিস প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসনের (Ulf Kristersson) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবেন তারা। এর মধ্যে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, স্টার্ট আপ, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনা। দুই প্রধানমন্ত্রী শিল্পের জন্য ইউরোপীয় রাউন্ড টেবিল বৈঠকেও ভাষণ দেবেন। এই অগ্রণী প্যান ইউরোপীয় বাণিজ্যিক ফোরামের বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েনও (Ursula von der Leyen) উপস্থিত থাকবেন। ২০২৫ সালে ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেনের বিনিয়োগ ভারতে ২.৮২৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।

    নরওয়েতে ব্লু ইকোনমি ও নর্ডিক সম্মেলন

    ১৮ থেকে ১৯ মে নরওয়ে সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৪৩ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে যাচ্ছেন। নরওয়েতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখা করবেন রাজা হারলাড ভি (Harald V) এবং প্রধানমন্ত্রী জোনাস (Jonas) এর সঙ্গে। ভারত-ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং নরওয়ের ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ১৯ মে অসলোতে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ইন্ডিয়া-নর্জিক সামিট (India-Nordic Summit)। সেখানে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের নেতারা অংশ নেবেন। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে আর্কটিক গবেষণা, নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং টেকসই উন্নয়ন। ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও গবেষণা সম্মেলনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমানে ভারত-নরওয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৭৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া নরওয়ের গভর্নমেন্ট পেনশন ফান্ড ভারতের পুঁজিবাজারে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

    ইতালিতে প্রতিরক্ষা ও উদ্ভাবন নিয়ে আলাপচারিতা

    সফরের শেষ পর্যায়ে ১৯ ও ২০ মে ইতালি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলানির (Giorgia Meloni) সঙ্গে বৈঠকে ২০২৫-২৯ জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান (Joint Strategic Action Plan 2025–2029) পর্যালোচনা করা হবে। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা, শক্তি, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এখান থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত নির্মাণশিল্প এবং অনুসারী শিল্পগুলির ক্ষেত্রে আরও গতি আনবে। এর ফলে বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গণতন্ত্রও পোক্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ২০২৫-২০২৯ যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত-ইতালি সম্পর্ক দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ১৬.৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ইতালির মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার।

  • Ramakrishna 645: “যে বৃক্ষের নিচে বুদ্ধদেব তপস্যা করিয়া নির্বাণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, সেই বৃক্ষের স্থানে একটি নূতন বৃক্ষ হইয়াছে”

    Ramakrishna 645: “যে বৃক্ষের নিচে বুদ্ধদেব তপস্যা করিয়া নির্বাণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, সেই বৃক্ষের স্থানে একটি নূতন বৃক্ষ হইয়াছে”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ৯ই এপ্রিল

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কাশীপুরের বাগানে নরেন্দ্রাদি ভক্তসঙ্গে
    বুদ্ধদেব ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ভক্তসঙ্গে কাশীপুরের বাগানে আছেন। আজ শুক্রবার বেলা ৫টা, চৈত্র শুক্লা পঞ্চমী। ৯ই এপ্রিল, ১৮৮৬।

    নরেন্দ্র, কালী, নিরঞ্জন, মাস্টার নিচে বসিয়া কথা কহিতেছেন।

    নিরঞ্জন (মাস্টারের প্রতি) — বিদ্যাসাগরের নূতন একটা স্কুল নাকি হবে? নরেনকে এর একটা কর্ম যোগাড় করে —

    নরেন্দ্র — আর বিদ্যাসাগরের কাছে চাকরি করে কাজ নাই!

    নরেন্দ্র বুদ্ধগয়া হইতে সবে ফিরিয়াছেন। সেখানে বুদ্ধমূর্তি দর্শন করিয়াছেন এবং সেই মূর্তির সম্মুখে গভির ধ্যানে নিমগ্ন হইয়াছিলেন। যে বৃক্ষের নিচে বুদ্ধদেব তপস্যা করিয়া নির্বাণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, সেই বৃক্ষের স্থানে একটি নূতন বৃক্ষ হইয়াছে, তাহাও দর্শন করিয়াছিলেন। কালী বলিলেন, “একদিন গয়ার উমেশ বাবুর বাড়িতে নরেন্দ্র গান গাইয়াছিলেন, — মৃদঙ্গ সঙ্গে খেয়াল, ধ্রুপদ ইত্যাদি।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ হলঘরে বিছানায় বসিয়া। রাত্রি কয়েক দণ্ড হইয়াছে। মণি একাকী পাখা করিতেছেন। — লাটু আসিয়া বসিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মণির প্রতি) — একখানি গায়ের চাদর ও একজোড়া চটি জুতা আনবে।

    মণি — যে আজ্ঞা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — চাদর দশ আনা ও জুতা, সর্বসুদ্ধ কত দাম?

    লাটু — একটাকা দশ আনা।

    ঠাকুর মণিকে দামের কথা শুনিতে ইঙ্গিত করিলেন।

    নরেন্দ্র আসিয়া উপবিষ্ট হলেন। শশী, রাখাল ও আরও দু-একটি ভক্ত আসিয়া বসিলেন। ঠাকুর নরেন্দ্রকে পায়ে হাত বুলাইয়া দিতে বলিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ইঙ্গিত করিয়া নরেন্দ্রকে বলিতেছেন — “খেয়েছিস?”

    বুদ্ধদেব কি নাস্তিক? “অস্তি নাস্তির মধ্যের অবস্থা”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি, সহাস্যে) — ওখানে (অর্থাৎ বুদ্ধগয়ায়) গিছল।

    মাস্টার (নরেন্দ্রের প্রতি) — বুদ্ধদেবের কি মত?

    নরেন্দ্র — তিনি তপস্যার পর কি পেলেন, তা মুখে বলতে পারেন নাই। তাই সকলে বলে, নাস্তিক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)  — নাস্তিক কেন? নাস্তিক নয়, মুখে বলতে পারে নাই। বুদ্ধ কি জানো? বোধ স্বরূপকে চিন্তা করে করে, — তাই হওয়া, — বোধ স্বরূপ হওয়া।

  • Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনদিনের চিন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump China Visit)। ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চিনে থাকবেন তিনি। বহুচর্চিত এই রাষ্ট্রীয় সফর ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Xi Jinping) বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রাখেননি চিনে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও এটিই প্রথম চিন সফর। যদিও তাঁর প্রথম মেয়াদের ২০১৭ সালের সফরের পর এটিই প্রথম তাঁর চিন-যাত্রা।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ! (Trump China Visit)

    চিন সম্পর্কে নানা সময় কড়া ভাষায় মন্তব্য করলেও, ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। গত সপ্তাহেও তিনি শি-কে ‘ভালো মানুষ’ এবং ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। জানিয়ে দেন, তাঁদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির খবরাখবর যাঁরা রাখেন, তাঁদের মতে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্পের দেশ। ট্রাম্পের বেজিং সফরের ওপর সবচেয়ে বড় ছায়া ফেলেছে ইরান সঙ্কট। কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউস চেষ্টা করছে যাতে চিন তেহরানের ওপর তার প্রভাব খাটিয়ে মার্কিন-সমর্থিত সমাধান নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তা না হলেও, অন্তত যাতে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া হয়, সেজন্য চাপ সৃষ্টি করে।

    মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতা

    যদিও এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি পরাজিত হয়নি, তবে এই সংঘাত মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতার কঙ্কালসার চেহারাটাই বেআব্রু (Xi Jinping) করে দিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অশান্তির প্রভাব পড়লেও, এখনও যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি ওয়াশিংটন। ট্রাম্প অবশ্য (Trump China Visit) মচকাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমি এর শেষ দেখতে চাই।”  অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রণালী ফের চালু করতে যে তিনি মরিয়া, তা স্পষ্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যেই। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। কারণ তিনি তেহরানের (ইরানের রাজধানী) সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আধিকারিকদের মতে, ওই প্রস্তাবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত ছিল। যদিও ট্রাম্প সেটিকে ‘জঞ্জাল’ বলে উড়িয়ে দেন। এহেন আবহে ওয়াশিংটন তাকিয়ে রয়েছে বেজিংয়ের সাহায্যের দিকে। চিন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং এখনও বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কেনে। তাই তেহরানের ওপর তাদের এমন প্রভাব রয়েছে, যা আমেরিকারও নেই।

    বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞের বক্তব্য

    হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিনা (Xi Jinping) বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, “ট্রাম্প আলোচনায় প্রবেশ করছেন দুর্বল অবস্থান থেকে। ট্রাম্পের চিনকে প্রয়োজন চিনের তুলনায় বেশি (Trump China Visit)।” তিনি এও বলেন, “ট্রাম্প একটি বিদেশনীতি-সংক্রান্ত সাফল্য চান। এমন একটি সাফল্য, যা দেখাবে তিনি শুধু বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন না, বরং স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করতে চাইছেন।” এদিকে, ট্রাম্পের চিন সফরের আগে উত্তেজনা কমানোর তেমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প, কখনও ভাববেন না যে ইরানের বর্তমান শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপনি বিজয়ীর বেশে বেজিংয়ে ঢুকতে পারবেন।” অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ থেকে স্পষ্ট সংঘাত এখনও শেষ হয়নি (Trump China Visit)।

    ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে!

    তবে ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে আসবে না। বেজিং হয়তো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে। প্রসঙ্গত, চিন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে। তাইপের (তাইওয়ানের রাজধানী) সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছে চিন। মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটনের নীতিতে সামান্য পরিবর্তনও এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের কূটনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বেজিং হয়তো তাইওয়ানের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি শিথিল করার চেষ্টা করবে। তাই এই বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, চিনের সহযোগিতার বিনিময়ে কতদূর আপস করতে প্রস্তুত ট্রাম্প। শি-ট্রাম্প বৈঠকের আর একটি বড় বিষয় হবে বাণিজ্য, বিশেষ করে গত বছরের তীব্র শুল্কযুদ্ধের পর (Xi Jinping)।

    হাতিয়ার যখন বিরল খনিজ রফতানি

    এই বৈঠকের পথ তৈরি হয় অক্টোবর মাসে বুসানে, যখন দুই দেশ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল। সেই সংঘাতে চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক পৌঁছেছিল ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (Trump China Visit)। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চিন বিরল খনিজ (Rare Earth Minerals) রফতানিতে কড়াকড়ি করে। এসব খনিজ আমেরিকার প্রযুক্তি কোম্পানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনের কড়াকড়ির জেরে আমেরিকার কয়েকটি কারখানায় দেখা দেয় বড় ধরনের উৎপাদন সমস্যা। এই অচলাবস্থা দেখিয়ে দেয়, চিন এখন আমেরিকার অর্থনীতির কৌশলগত খাতগুলিতেও আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। বর্তমানে উভয় পক্ষই অন্তত সাময়িকভাবে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আগ্রহী। চিন মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও রফতানি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা চায়। আর ওয়াশিংটন চায় চিন আরও বেশি করে মার্কিন পণ্য কিনুক, প্রতিশ্রুতি দিক নয়া লগ্নির (Trump China Visit)।

    সংঘর্ষের সুতোয় জড়িয়ে গিয়েছে সব

    সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত বিমান চুক্তি। জানা গিয়েছে, চিন ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এবং আরও কয়েক ডজন ওয়াইড-বডি বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০১৭ সালের পর এটাই হবে চিনের সবচেয়ে বড় বোয়িং কেনা। আমেরিকা আরও চাইছে চিন যেন সয়াবিন, মুরগি, গরুর মাংস, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়ায় (Xi Jinping)। বিশ্লেষকদের মতে, চিনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার এখনও তাদের বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। বেজিং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদি বিরল খনিজ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারে, যদিও সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত সরবরাহ সীমিত রাখবে (Trump China Visit)। এই কৌশলগত প্রভাবই ট্রাম্পের চিন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে কূটনীতি, বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা – সব একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে সংঘর্ষের সুতোয়।

     

LinkedIn
Share