Tag: bangla news

bangla news

  • India vs Brazil: ভারত-ব্রাজিল মহারণে মাঠে মুখ্যমন্ত্রী! তিন স্তরের তল্লাশি, ৩০০-র বেশি সিসিটিভি-তে নজরদারি

    India vs Brazil: ভারত-ব্রাজিল মহারণে মাঠে মুখ্যমন্ত্রী! তিন স্তরের তল্লাশি, ৩০০-র বেশি সিসিটিভি-তে নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil) ফুটবল দলের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তেজনায় ফুটছেন ফুটবলপ্রেমীরা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারত-ব্রাজিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাবেন। শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে বন দফতরের একটি অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই এ কথা জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। এই ম্যাচকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ম্যাচ দেখতে বিপুল দর্শক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় ২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ৪০০-র বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ।

    স্টেডিয়ামে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    ভারতীয় মাটিতে দুই দেশের সিনিয়র পুরুষ দলের এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হওয়ায় ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমি বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, অন্যদিকে ভারত রয়েছে ১৩৮ নম্বরে। ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সল্টলেক স্টেডিয়াম এবং কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শকদের বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে যান চলাচল ও প্রবেশপথ নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনের জন্য সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে রাজ্য সরকারের তরফে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার নিজেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে ঐতিহাসিক এই ম্যাচ দেখার কথা জানালেন তিনি।

    জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও ভারতের ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ম্যাচ দেখতে বিপুল দর্শক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় ২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ৪০০-র বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ। শহরে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ফুটবল ম্যাচ হিসেবে এই ম্যাচকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দর্শকদের ভিড় এড়াতে বিকেল ৫টার মধ্যে স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। দর্শকদের প্রবেশের জন্য আলাদা আলাদা গেট ও চ্যানেল নির্দিষ্ট করা হয়েছে। লাইনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ ও বেরনোর পথ আলাদা রাখতে গার্ডরেল ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে দর্শকদের তিন স্তরের তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল টিকিট যাচাইয়ের পরই দর্শকদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। গোটা এলাকায় নজরদারির জন্য ৩০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    মেসি সফরের কথা মাথায় রেখে নিষেধাজ্ঞা

    নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের ভিতরে বাইরে থেকে খাবার বা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। আতশবাজি, স্মোক ক্যান্ডেল, লাইটার, সিগারেট-সহ সমস্ত ধরনের দাহ্য সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও লেজার লাইট, ব্যানার, পোস্টার, ধারালো বস্তু, অস্ত্র, মদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। ব্যানার ও ঢাক-ঢোলও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। মাঠে ছুড়ে দেওয়া যেতে পারে এমন কোনও বস্তু যাতে দর্শকরা সঙ্গে না আনেন, সে বিষয়েও নজর রাখবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময় স্টেডিয়ামে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার প্রবেশপথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে এবং পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে দর্শকদের অনুরোধ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনও পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

    গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামেও ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা

    সল্টলেক স্টেডিয়ামের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে শনিবার কসবার অ্যাক্রোপলিস মলের পিছনে গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিল-ভারত ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানে প্রায় ৩ হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা থাকবে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কোথায় দেখা যাবে ম্যাচ?

    ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট না পেলেও সমস্যা নেই। অনায়াসে টিভিতেই দেখতে পারেন ম্যাচটি। সেক্ষেত্রে সোনি স্পোর্টসের চ্যানেলগুলিতে এই খেলা দেখা যাবে। ফুটবলের আবেগে যে কোনও জাতিকে টেক্কা দিতে পারে বাংলা। তাই ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের ম্যাচ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। আর এই খেলাটি বাংলা কমেন্ট্রিতেও দেখতে পারেন। টিভিতে সোনি আট চ্যানেলে বাংলায় এই খেলাটি দেখতে পারেন। তাই যাঁরা বাংলায় ব্রাজিল ম্যাচটি দেখতে চাইছেন, তাঁরা সোনি ৮ চ্যানেলে টিউন করুন। এখন অনেকেই আর টিভির দিকে চোখ রাখেন না। তাঁদের কাছে মোবাইলটাই জগৎ। সেখানেই খেলা থেকে ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ দেখেন তাঁরা। আর এই দলের মানুষকে নিরাশ হতে হবে না। কারণ, মোবাইল ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও দেখা যাবে খেলাটি। এক্ষেত্রে সোনি লিভ অ্যাপে খেলাটি দেখতে পারেন। যাঁদের এই অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন আসে, তাঁরা দেখতে পাবেন। এই অ্যাপে এইচডি কোয়ালিটিতে ম্যাচ দেখা যাবে। সেই সঙ্গে ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা সহ বেশ কিছু ভারতীয় ভাষায় শোনা যাবে কমেন্ট্রি। তাই যাঁর মোবাইলে খেলাটি দেখতে চাইছেন, তাঁরা অবশ্যই এই অ্যাপটি ইনস্টল করে নিন। তাহলেই টেনশন ফ্রি।

     

     

     

  • Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Strait) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার জাহাজ। জাহাজটিতে পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। শনিবার ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই ঘটনার পর পাঁচ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। কুয়েতের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি কাজিমাহ থ্রি’-তে ওই পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। জাহাজটি আফ্রিকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। হামলার পর ওমান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলা সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ১০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য (Hormuz Strait)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ৪,৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ভারতের পতাকাবাহী ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। পাশাপাশি, আরও ছ’টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ পণ্য নিয়ে ভারতে আসছে। এই ১২টি জাহাজে প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।

    জয়সওয়াল জানান, ভারতীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রক ওই জাহাজগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। নাবিকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য রাখতে ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসগুলি নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ ভারতের কাছে অগ্রাধিকার (Hormuz Strait) বলেও জানান তিনি।

    নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জয়শঙ্করের

    বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি সমুদ্রপথে নতুন নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

    জয়শঙ্কর বলেন, “সমুদ্রে নতুন হুমকি স্থলভাগে ইতিমধ্যেই তৈরি হওয়া সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। অন্যান্য দেশের নাবিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    উপসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো এবং সংযম দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যও যাতে বাধাহীনভাবে চলতে পারে, তার পরিবেশ তৈরি হবে।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

    এদিকে, ইরানের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা ছিল। এর পাশাপাশি ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো শর্তও ছিল।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান এই চুক্তি চাইছে কারণ তারা খুব খারাপভাবে হারছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যের উপর ইরানের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল বলেও (Hormuz Strait) মন্তব্য করেন তিনি।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলির উপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অঞ্চলের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ তেহরানের উপর চাপ তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

    তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা।

    বাড়ছে সমুদ্রপথের ঝুঁকি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই দেশগুলিতে হামলা চালায়, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

    আমেরিকা জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা দুর্বল করা। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক পরিকাঠামোকেও টার্গেট করা হয়েছে।

    এদিকে, ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও ইরান অস্বীকার করেছে।

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা শুধু নাবিকদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপরও প্রভাব ফেলছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে কর্মরত।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ মমতার’! ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

    Suvendu Adhikari: ‘ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ মমতার’! ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একুশের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতি উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালে বিরুলিয়ায় যে ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লেগেছিল, সেখানে আদৌ কোনও হাড় ভাঙেনি। তাঁর অভিযোগ, হাড় ভাঙার কথা বলে পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে প্রচারে ঘুরেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। এই (Nandigram Injury Claim) দাবির সমর্থনে তাঁর কাছে নথি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু। প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জ করা হলে সেই নথি প্রকাশ্যে আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া এলাকায় আহত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কয়েকজন তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন এবং গাড়ির দরজার ধাক্কায় তাঁর পায়ে চোট লাগে। পরে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় তাঁকে হুইলচেয়ারে দেখা গিয়েছিল, পায়ে প্লাস্টার।

    চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট কী বলছে (Suvendu Adhikari)

    তবে সেই সময়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্টে চোটের প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রাথমিক বিবৃতিতে বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর হাড়ের চোটের কথা বলা হয়েছিল। এদিকে, সেই সময়ের একটি রিপোর্টে চিকিৎসকেরা হাড়ে চোট থাকলেও ফ্র্যাকচার নেই বলে জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ২০২১ সালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে ‘চোট’ এবং ‘ফ্র্যাকচার’ নিয়ে যে পার্থক্য ছিল, তা বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পুরনো ঘটনা নিয়েই শুক্রবার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে সরব হন শুভেন্দু। বলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করা পছন্দ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এক্স-রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে থাকে না। রিপোর্টটা থাকে। সেদিন আপনাদের বদনাম করে দিয়েছিল না? লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল। দরজাটা ফিরে এসে তাঁর একটু পায়ে লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিল।”

    এরপরই নথির প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকেরা যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন, তাতে হাড় ভাঙার কথা ছিল না। তাঁর (Suvendu Adhikari) কথায়, “আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর ডাক্তাররা লিখে দিয়েছে নো ফ্র্যাকচার। যেদিন দরকার হবে, চ্যালেঞ্জ করলে দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে। সেদিন দেখিয়ে দেব, গোটা বিরুলিয়া ও নন্দীগ্রামকে কীভাবে অপমান করেছিলেন।”

    হুইলচেয়ারে করেই নির্বাচনী প্রচার

    একুশের ওই ঘটনার পর পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারে করেই নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন মমতা। সেই সময় তাঁর প্রচারে “ভাঙা পায়ে খেলা হবে” স্লোগানও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ চর্চায় এসেছিল। সেই সময়কার সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে অবশ্য তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, পায়ে চোট, চিকিৎসা এবং হুইলচেয়ারে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর বিষয়গুলি নথিভুক্ত হয়েছিল (Nandigram Injury Claim)।

    তবে শুধু পুরনো পায়ের চোটের প্রসঙ্গ নয়, নন্দীগ্রামের সভা থেকে দুর্নীতি নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের আর একটি অংশকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে। সভা থেকে সুমিত রায়ের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “হলদিয়াতে আমি যেদিন সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম, চার তারিখের মধ্যরাত্রি, সেদিনই বলেছিলাম সব দল থাকবে, এই পার্টির নাম ও নিশান থাকবে না। আজ নামও নেই, নিশানও নেই। এত পাপ ও এত অত্যাচার করেছে, তার সীমা-পরিসীমা নেই। আপনারা সবাই অপেক্ষা করে আছেন, সুমিত রায়, সব চোরেরা তো জেলে, বড় চোর কবে যাবে? বড় চোরও জেলে যাবে। এতটুকু বিচলিত হবেন না।”

    “বড় চোর”

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই “বড় চোর” মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কাকে ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করলেন তিনি? যদিও নিজের বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির নিজেদের মতো করে এর ব্যাখ্যা দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলিতেও এই মন্তব্যকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ধরনের মন্তব্যকে নির্বাচনী রাজনীতির অংশ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী তো কেউই বলতে পারেন না। এটা নির্বাচনী গিমিক। এগুলো নির্বাচনের সময় অনেক কথা বলেন, পরে ভুলে যান। কেউ যদি অপরাধ করেন, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্যের সারকথা, এই ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তার কোনও অর্থ হয় না। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলেরই আর এক নেতা মদন মিত্র অবশ্য বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কুণাল ঘোষ কী জানেন যে বড় চোর কে, শুভেন্দু অধিকারী কাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছেন। দু’দিন অপেক্ষা করুন, সবটা সামনে আসবে। বাংলার জনগণ জানে কে বেইমান, আর কেই বা বিজেপির দালাল।”

    রাজনৈতিক উত্তাপের নেপথ্যে

    নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক উত্তাপের পিছনে রয়েছে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে ভোট হবে ৬ অক্টোবর, গণনা তিনদিন পরে, ৯ তারিখে (Nandigram Injury Claim)।

    শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সেখানেই তিনি ধুয়ে দেন তৃণমূল এবং কান্ডারিকে। মমতার সাধের দল তৃণমূলের নাম ও প্রতীক না থাকা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং অতীতের নন্দীগ্রাম-কাণ্ড—একাধিক প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করেন তিনি। নন্দীগ্রামের এই সভায়ই “বড় চোরও জেলে যাবে” মন্তব্য করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর ইঙ্গিত আসলে কার দিকে। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচার জমজমাট। এখন দেখার, রাজ্যের অন্যতম ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিধানসভার আসন নন্দীগ্রামে শেষ হাসি হাসেন কে।

     

  • Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ১৩তম দিনটি ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকল। একদিনেই ৬টি সোনা, ২টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ১০টি পদক জিতে নিল ভারত। তিরন্দাজি, বক্সিং, কুস্তি এবং হকিতে একের পর এক সাফল্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতের পদক তালিকা। দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে—৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সোনা জিতে তারা সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে জায়গা নিশ্চিত করল। শেষে মহিলা হকি দলের ১-০ ব্যবধানে চিনকে হারানো সেই দিনকে আরও স্মরণীয় করে তুলল। চলতি এশিয়ান গেমসে ১৬টি সোনা হল ভারতের।

    ৪৪ বছর পর মহিলা হকিতে এশিয়ান গেমস সোনা

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ফাইনালে চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলা হকির সোনা জেতে ভারত। ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই সোনার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত হওয়ায়। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারত সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। তার পর এ বারই সোনা জিতল তারা। ম্যাচের আগে সম্মান জানানো হয় লালরেমসিয়ামিকে। তিনি ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। তাঁর একমাত্র গোলেই ভারত এশিয়াডে সোনা জিতল দীর্ঘ দিন পর। গত অলিম্পিক্সে রুপো পেয়েছিল চিন। মহিলাদের হকিতে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে তারা। বার বার ঢুকে পড়তে থাকে ভারতের ডি বক্সে। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে যায় ভারত। চিনের ডি বক্সে বল পেয়েছিল ভারত। বৃত্তের মধ্যে থেকে লালরেমসিয়ামির শট গোলে ঢুকে যায়। লেখা হয়ে যায় ইতিহাস।

    জন্মদিনে সোনার মুকুট লাভলিনার

    নিজের জন্মদিনেই সোনা জিতে নিলেন ভারতীয় বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই। মহিলা ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের বাও জিই-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হলেন লাভলিনা। এর আগে ২০১৪ সালে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এমসি মেরি কম। আগের এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন লাভলিনা। এবার সেই রুপোকে সোনায় বদলে দিলেন তিনি। জয়ী হওয়ার পর লাভলিনা বলেন, “আমি খুব ভালো অনুভব করছি। ভেবেছিলাম জন্মদিনে নিজেকেই সোনার পদক উপহার দিতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যও হারার কথা মাথায় আসেনি। লড়াইটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি সব সময় ভেবেছি যে আমাকে জিততেই হবে।”

    প্রত্যাবর্তনের পর পারভিন হুডার সোনা

    বক্সিংয়ে ভারতের দ্বিতীয় সোনা আসে পারভিন হুডার হাত ধরে। মহিলা ৬৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনা তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন পারভিন। চেন নিয়েন-চিন প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী। তাঁর বিরুদ্ধে এই জয় তাই পারভীনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও নাম লেখালেন পারভীন। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা ভারতীয় মহিলা বক্সারদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। এর আগে ২০১৪ সালে মেরি কম এবং এদিনই লভলিনা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

    মহিলা রিকার্ভ দলগত তিরন্দাজিতে ঐতিহাসিক সোনা

    দিনের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে ভারত। মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং ১৭ বছরের কুমকুম মহোদের দল। কঠিন আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের মধ্যেও ভারতীয় তিরন্দাজরা অসাধারণ সংযম দেখান। সেমিফাইনালে চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। এরপর কুমকুম মহোদ ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিশ্র রিকার্ভ দলগত ইভেন্টেও ফাইনালে পৌঁছন। এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে ভারত। তবে ফাইনালে চিনের কাছে ৩-৫ ব্যবধানে হেরে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

    সুজিতের অবিশ্বাস্য কামব্যাক

    কুস্তির ম্যাটেও দেখা গেল নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। পুরুষদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের ফাইনালে তাজিকিস্তানের আবদুলমজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে একসময় ২-৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সুজিত কালকাল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুর্দান্ত আক্রমণে ফিরে আসেন ভারতীয় কুস্তিগির। শেষদিকে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-৯ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। সেমিফাইনালেও বড় চমক দিয়েছিলেন সুজিত। জাপানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোটারো কিয়োকাওয়াকে ৩-৩ ব্যবধানে আটকে দিয়ে ক্রাইটেরিয়ায় ফাইনালে ওঠেন তিনি।

    ২০১৮-এর পর পুরুষ বক্সিংয়ে আবার সোনা

    ভারতের তৃতীয় বক্সিং সোনা আসে পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে। আনকুশ পাংহাল জিতে নেন এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার কোনও ভারতীয় পুরুষ বক্সার এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন। ফলে একই দিনে লাভলিনা, পারভিন এবং আনকুশ—তিন ভারতীয় বক্সারের হাত ধরে তিনটি সোনা আসে।

     

     

     

     

  • Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, সংঘাতের অবসান ঘটাতে মোদির কাছে ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে এবং তিনি উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি নিয়মিতভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। পুতিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই বিশ্বনেতাদের একজন, যিনি আমাদের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের বিষয়টি নিয়মিতভাবে তিনি তুলে ধরেছেন।”

    সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী মোদি

    রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের (India Russia Relation) বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর মতে, পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু ‘খুব ভালো ভাবনা’ রয়েছে। পুতিনের ভাষায়, মোদি এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে একইসঙ্গে সংঘাতের অবসানের ব্যাপারে তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর তাঁর ইচ্ছার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর ভারতের

    ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একাধিকবার বলেছেন, সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ। আগস্টে জাপানের সংবাদপত্র দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান ‘নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক’। তাঁর দাবি, এই অবস্থান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। মোদি জানান, দুই নেতাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত তার নীতিনিষ্ঠ ও ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

    শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতার বার্তা

    ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন মোদি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠক হয়। সেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের ‘প্রোগ্রাম ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করে।

    বরাবরই শান্তির পক্ষে ভারত

    চোখের বদলে চোখ উপড়ে নিলে একদিন গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে, মন্তব্য করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। একটানা চলা দুই যুদ্ধ— ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরানে কার্যত সেই অবস্থা! ভেঙে পড়ছে ভারত-সহ গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি। এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২ অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা, যুদ্ধের বদলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে মোদির কাছে “দুর্দান্ত কিছু ভাবনা” রয়েছে। গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের সামনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মোদি বলেছিলেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। উল্লেখ্য, দুটি যুদ্ধ (ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরান) অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে, কদিন আগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। নেপথ্যে জ্বালানি, সারের মতো জরুরি পণ্য সামগ্রী আমদানিতে বাঁধা। এই অবস্থায় যুদ্ধ থামাতে মরিয়া চিরকাল শান্তিপ্রিয় ভারত।

    রুশ প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধা

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে ভারত বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও সংঘাতের প্রশ্নে কখনও কোনও এক পক্ষকে সমর্থন জানায়নি নয়াদিল্লি। ভারতের এই অবস্থানকে শ্রদ্ধা করে রাশিয়া, এবার তা নিজেই বুঝিয়ে দিলেন পুতিন। সেই সঙ্গে জানালেন, শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে মোদীর চেষ্টা এবং চিন্তাভাবনাগুলি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। মস্কোয় ভালদাই ফোরাম অফ ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া এক্সপার্টের মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদীর প্রসঙ্গ টানেন পুতিন। বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী সেই রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একজন, যিনি আমাদের মধ্যে খুব ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বার বার ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর বিষয়ে কথা বলেন এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’’

     

     

     

     

     

  • Asian Games 2026: ৪৪ বছরের কোরীয় আধিপত্যের অবসান! এশিয়ান গেমসে রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ভারতের

    Asian Games 2026: ৪৪ বছরের কোরীয় আধিপত্যের অবসান! এশিয়ান গেমসে রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রিকার্ভ আর্চারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা দল। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতলেন অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা ও কুমকুম মহোড। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের এই জয় নিঃসন্দেহে দেশের রিকার্ভ আর্চারির (Asian Games Recurve Gold) এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফাইনালের আগে কোরিয়াকেই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির অন্যতম সদস্য ছিলেন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থাকা কাং চায়ে-ইয়ং। রিকার্ভ ইভেন্টে দীর্ঘদিন ধরেই কোরিয়ার দাপট। কিন্তু প্রতিপক্ষের খ্যাতি বা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে মাথা ঘামাননি ভারতের তিন তিরন্দাজ।

    চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে

    সেমিফাইনালেই নিজেদের আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছিল ভারত। চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অঙ্কিতা-কীর্তি-কুমকুমের দল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নাগোয়ার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনজনের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। চিনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কীর্তির নিখুঁত ১০ পয়েন্টের শট ভারতকে এগিয়ে দেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় সেটের শেষ তিরে তাঁর ১০ পয়েন্ট ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শেষ সেটেও প্রয়োজনের সময় নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি। এরপর ফাইনালে সামনে ছিল শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া। শুরু থেকেই কাং, লি এবং ওহ ই-জিনের কোরীয় দল চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু ভারতীয় দলও একটুও পিছিয়ে যায়নি। প্রথম সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করলে ভারতও একই স্কোর করে। দ্বিতীয় সেটে কোরিয়ার ৫৬ পয়েন্টের জবাবেও ৫৬-ই করে ভারত। ফলে দুই সেটের পর স্কোর দাঁড়ায় ২-২। তৃতীয় সেটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। কোরিয়ার ছয়টি তিরের মধ্যে চারটিই ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত ৫৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং সেট জিতে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। চতুর্থ সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট তোলে। ফলে সোনা নিশ্চিত করতে ভারতকে অন্তত ৫৪ পয়েন্ট করতেই হত। শুরুতে কীর্তির একটি তির ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। পরে রিভিউয়ের পর সেটি ৯ পয়েন্ট হিসেবে গণ্য হয়। শেষ পর্যন্ত ভারতও ৫৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সেটটি টাই হওয়ায় ভারত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং ইতিহাসে প্রথমবার মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে কোরিয়াকে হারিয়ে সোনা জেতে।

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য

    এই সাফল্যের নেপথ্যে তিন তিরন্দাজের পথচলাও আলাদা করে নজর কাড়ার মতো। কুমকুম মাত্র তিন বছর আগে রিকার্ভে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তাঁর আর্চারির যাত্রা শুরু হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ধনুক দিয়ে। অন্যদিকে, কীর্তিকে একসময় বলা হয়েছিল যে তাঁর গড়ন খুবই পাতলা—রিকার্ভ বো ধরে রাখার মতো শক্তি তাঁর নেই। সেই সংশয়কে পিছনে ফেলে আজ তিনি এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী দলের সদস্য। অঙ্কিতা ভকত অবশ্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মুখ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট ২৩টি পদক। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা রিকার্ভ দল ব্রোঞ্জ জিতেছিল। সেটিই ছিল দলের আগের সেরা সাফল্য; ফাইনালে ওঠার সুযোগ হয়নি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দিলেন অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুম। ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য নতুন দিগন্ত খুলেছে। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে কম্পাউন্ড আর্চাররা নজর কেড়েছিলেন। এবার রিকার্ভ বিভাগেও বিশ্বসেরাদের সঙ্গে সমানে টক্কর দেওয়ার বার্তা দিয়ে দিল ভারত। নাগোয়ায় তিন ‘সোনার মেয়ে’ দেখিয়ে দিলেন—কোরিয়ার দীর্ঘ আধিপত্যও ভাঙা সম্ভব। এখন মিশ্র দল ও পুরুষ রিকার্ভ দলও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হল ২০২৭ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচি (ICC World Cup 2027 Schedule)। আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে ১৪ দলের এই বিশ্বকাপ। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ফাইনালের জন্য ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। এবারের বিশ্বকাপে থাকছে নতুন ফরম্যাট। প্রথমে উইন্ডহোকে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। এরপর ১২ দলকে নিয়ে হবে গ্রুপ পর্ব। গ্রুপ পর্বের পর শুরু হবে ‘সুপার ৭’ পর্ব। সেখান থেকে সেরা চার দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে।

    অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরু ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান

    ভারত রয়েছে গ্রুপ এ-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং কোয়ালিফায়ার এ। ৭ অক্টোবর কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভারত (India Australia Pakistan)। ফলে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচই রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

    কোন গ্রুপে কারা?

    গ্রুপ এ: ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে ও কোয়ালিফায়ার এ।

    গ্রুপ বি: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও কোয়ালিফায়ার বি।

    গ্রুপ পর্ব চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দুই দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা দল—মোট সাতটি দল—সুপার ৭ পর্বে জায়গা করে নেবে।

    নভেম্বরেই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল

    সুপার ৭ পর্বের শেষে সেরা চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম সেমিফাইনাল ১৭ নভেম্বর কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৮ নভেম্বর তাসওয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফাইনালের রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে ২২ নভেম্বর। এবারের বিশ্বকাপে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ার মোট ১২টি ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলি। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে প্রথমবার সিনিয়র পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে নামিবিয়া।

  • Gandhi Jayanti: “বাপুর চিরন্তন বার্তা বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে” গান্ধী জয়ন্তীতে রাজঘাটে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, স্মরণ শাস্ত্রীকেও

    Gandhi Jayanti: “বাপুর চিরন্তন বার্তা বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে” গান্ধী জয়ন্তীতে রাজঘাটে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, স্মরণ শাস্ত্রীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর (Gandhi Jayanti) সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। শান্তি, অহিংসা ও স্বচ্ছতার বার্তা স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে আয়োজিত সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi’s Tribute To Bapu)। এরপর তিনি বিজয় ঘাটে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও রাজঘাটে সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিজয় ঘাটে গিয়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। রাজঘাটে গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানান দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

    বাপুর চিরন্তন বার্তা

    রাজঘাটে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ছবি এবং ভিডিও ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে সামনে এসেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি সৌধে ফুল ছড়িয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। এক্সে মোদি জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই আত্ম বলিদান দেশের প্রগতি এবং উন্নতির এবং ‘বিকশিত ভারতের’ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “বাপুর চিরন্তন বার্তা আমাদের উন্নত এবং বিকশিত ভারত উন্নতির লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে গান্ধী জয়ন্তীর পালনের মুহূর্তের ছবিও এক্সে টুইট করেন মোদি।

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গান্ধী জয়ন্তী পালন

    রাজস্থানের জয়পুরে রাজ্য সচিবালয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। একই সঙ্গে তিনি লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। হরিয়ানার গুরুগ্রামে স্বচ্ছ ভারত অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে ‘স্বচ্ছাথন ২০২৬’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান্ধী জয়ন্তীতে কলকাতাতেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তিতে সম্মান জানাতে উপস্থিত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

    শান্তি ও অহিংসার বার্তা স্মরণ রাষ্ট্রপতির

    গান্ধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গান্ধীজির শান্তি ও অহিংসার বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির বার্তায় বলা হয়, মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও আদর্শ বিশ্বজুড়ে সম্মানিত। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর শান্তি ও অহিংসার দর্শন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছয়, তার জন্য সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গান্ধীজির ‘সর্বোদয়’-এর আদর্শের সঙ্গে এই ভাবনার সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩০ দিনের স্বচ্ছতা অভিযান

    গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৩০ দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালানোর জন্য সাধারণ মানুষ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অন্যান্য সংস্থাকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাঁর জন্মদিনটি প্রতিবছর গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। রাষ্ট্রসংঘও ২ অক্টোবরকে ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবে পালন করে। মহাত্মা গান্ধীকে ‘জাতির জনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষেই দেশজুড়ে প্রতি বছর জাতীয় ছুটি পালন করা হয়।

    লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী

    এদিনই পালিত হচ্ছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯০৪ সালের ২ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন শাস্ত্রী। স্বাধীনতার পর শাস্ত্রী উত্তর প্রদেশে এবং পরে কেন্দ্রীয় সরকারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন, ১৯৫৬ সালের একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনার পর তিনি সেই মর্মান্তিক ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই দৃষ্টান্তটি আজও জনজীবনে জবাবদিহিতার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁর নেতৃত্ব এবং কৃষি ও আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়ার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।  তিনি খাদ্য স্বনির্ভরতার পক্ষে ছিলেন এবং সবুজ বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করেন। এছাড়াও তিনি দেশজুড়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্বেত বিপ্লবকেও সমর্থন করেছিলেন।

  • Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে জ্বালানি পরিষেবার প্রসারের প্রশংসা করলেন অস্ট্রেলিয়ার (India Australia Relation) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ (Albanese Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, ভারতের যত মানুষ গত এক দশকে বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পরিষেবার আওতায় এসেছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত বড় পরিসরে এমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (UNGA) পার্শ্ববৈঠকে প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের সঙ্গে এক আলোচনায় এই মন্তব্য করেন আলবানিজ। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।

    উজ্জ্বলা থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বেড়েছে জ্বালানি পরিষেবার পরিধি

    আলবানিজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাঁর নেতৃত্বে ভারতে যত মানুষ জ্বালানি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত মানুষকে এভাবে সংযুক্ত করার নজির নেই।” মূলত ভারতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মধ্যে ১০.৫৭ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে চালু হওয়া সৌভাগ্য যোজনা-র মাধ্যমে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২.৮৬ কোটি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা (PM Surya Ghar Muft Bijli Yojana)-র আওতায় ২০২৬ সালের আগস্টে উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। PM-KUSUM প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১.৭৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই প্রকল্পের আওতায় সৌরচালিত কৃষি পাম্প-সহ বিভিন্ন বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হচ্ছে।

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে, আলবানিজ

    আলোচনায় ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারত ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ। গত এক দশকে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করেছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি দেশ হয়েছে। এর ফলে কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নানা ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি-এর সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়েছে ভারত।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা

    পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়াও ভারতকে এলএনজি সরবরাহ করেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    ‘আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে’

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন আলবানিজ। তাঁর কথায়, দুই দেশের সম্পর্ক “ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে”। তবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আলবানিজ জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দু’বার ভারত সফর করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিও দু’বার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। মেলবোর্নের একটি স্টেডিয়ামে মোদিকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের কথাও স্মরণ করেন তিনি। হালকা মেজাজে আলবানিজ বলেন, কোনও রাজনৈতিক সম্মেলনে নেতাদের জন্য যতটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, “মোদির স্টেডিয়াম অনুষ্ঠান না দেখলে সেই উচ্ছ্বাসের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন।” তিনি জানান, ডিসেম্বরে আমেরিকায় আয়োজিত নির্ধারিত জি২০ বৈঠকের পর তিনি মুম্বই সফর করবেন। সেখানে ব্যবসা-কেন্দ্রিক ‘গুড ডে নমস্তে’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরের শেষে চেন্নাইয়ে একটি ক্রিকেট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। রাজনীতি ও ক্রিকেটের বাইরেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের বিস্তৃত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন আলবানিজ। কমনওয়েলথের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ইংরেজি ভাষার যোগাযোগ এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলবানিজের কথায়, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সম্ভাবনাকে এতদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। আগামী দিনে দুই দেশের সরকারই এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।

  • Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call)। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে এই কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আমরা একমত হয়েছি।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’’

    মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের তাৎপর্য

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পাশাপাশি, আলোচনায় এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও। ঘটনাচক্রে, ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারপর্ব সাঙ্গ হওয়ার দিনেই মোদি ও ট্রাম্পের কথা হল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল ট্রাম্প সরকার কার্যকর করলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে মোদির ফোন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US Relation) দীর্ঘদিন ধরে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে “মোটামুটি একটি বোঝাপড়া” তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং সেকশন ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ১৯৭১-এর সেকশন৩০১-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের এমন বাণিজ্যিক নীতি বা কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে, যেগুলিকে তারা অন্যায্য বলে মনে করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শুল্ক-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও এই ধারায় রয়েছে।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

    এদিকে রাশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন (SRIA) নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়া এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে আসতে পারে। ভারত ও চিনও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখবে এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সাম্প্রতিক কালে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

    বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারতের অবস্থান

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে এসআরআইএ-সংক্রান্ত ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ দুই দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

LinkedIn
Share