Tag: bangla news

bangla news

  • Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম (Netaji Bose Ashes Tokyo) ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নেতাজির কন্যা অনিতা বি পাফ এই আবেদনটি করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এএম সিংভি আদালতকে জানান, নেতাজির কন্যা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে তাঁর বাবার দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” (Supreme Court)

    সিংভি বলেন, “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” তাঁর বক্তব্য, এর আগে শীর্ষ আদালত নেতাজির উত্তরাধিকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এবার তাঁর কন্যা সরাসরি আদালতে এসেছেন। সওয়াল-জবাবের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করে আদালত। গত মার্চেই নেতাজির গ্র্যান্ড নেফিউ (নাতি-ভাইপো) আশিস রায় তাঁর দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নেতাজির উত্তরাধিকারী যদি তাঁর চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আদালতের সামনে আসতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছিল, “আমরা তাঁর আবেগকে সম্মান করি এবং তাঁর আবেগকে আইনি পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব (Supreme Court)।”

    সিংভির সওয়াল

    সেই শুনানির সময় সিংভি আদালতকে জানিয়েছিলেন, সুভাষচন্দ্র বসুর কন্যা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি ওই আবেদন সমর্থন করছেন। তবে বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এর আগে একই ধরনের একাধিক আবেদন করা হয়েছে এবং সেগুলি খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “এই বিষয়টি আর কতবার আদালতের সামনে আসবে?” সিংভি জবাব দেন, এবারের বিষয়টি আগের আবেদনের মতো নয়। তখন বেঞ্চ মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, “পরোক্ষভাবে হোক বা সরাসরি… এই আবেদন আবার কেন আসছে? প্রথমত, চিতাভস্ম কোথায় রয়েছে? তার প্রমাণ কী?” এর জবাবে সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী তাঁর কন্যা, যাঁর বয়স ৮৪ বছর এবং যিনি সেই সময় আদালতের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, ভারতে দায়িত্ব পালন করা প্রায় প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানই জাপানের রেনকোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানে সংরক্ষিত নেতাজির চিতাভস্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন (Netaji Bose Ashes Tokyo)।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রথমত, আমরা জানতে চাই নেতাজির পরিবারের কতজন সদস্য জীবিত রয়েছেন। নেতাজি নিঃসন্দেহে এই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা। তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য আমাদের অনেকেই তাঁর সামনে মাথা নত করি।” সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র সন্তান অনিতা এবং তিনিই একমাত্র উত্তরাধিকারী। তিনি বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, তিনি এই মামলার আবেদনকারী নন। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরাধিকারীকে আমাদের সামনে আসতে দিন… উত্তরাধিকারী যদি চিতাভস্ম আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আমাদের সামনে আসতে হবে।” বেঞ্চের অবস্থান দেখে সিংভি আশিস রায়ের দায়ের করা আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। তিনি জানান, নেতাজির কন্যা নিজে পরবর্তী সময়ে আবেদন করবেন। এরপর আদালত আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়ে মামলাটির নিষ্পত্তি করে।

    রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষিত রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়ে আসছে। সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরেই (Netaji Bose Ashes Tokyo) বিতর্ক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। এবার নেতাজির কন্যার সরাসরি আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

     

  • Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নয়া দিশা দেখাচ্ছে। বাদ নেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্র! একের পর এক সাফল্যে দেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এখনও কয়েকটি জায়গায় হোঁচট খেতে হচ্ছে! রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভারতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অঙ্গদান! বিশেষত রোগীর ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে দেহদান নিয়েই চলে নানান জটিলতা! অগাস্ট মাসে বিশ্ব জুড়ে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। ভারতেও পালন করা হয় ন্যাশনাল অরগ্যান ডোনেশন ডে! আর সেই উপলক্ষে একাধিক কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে প্রশাসনিক জটিলতা। বিশেষত ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সেই জটিলতা আরও বাড়ে।

    কোন জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে অঙ্গদান?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর ব্রেন ডেথ হলে, অর্থাৎ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ শেষ হলে, তাকে মৃত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারপরেও সেই রোগীর শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। কিন্তু মস্তিষ্কের মৃত্যুর কারণে রোগীর বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তার অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দেরি হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির অঙ্গ অন্য রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষত হৃদপিণ্ড, চোখের মতো অঙ্গ দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু উপযুক্ত যোগাযোগ ও তৎপরতার অভাবে অনেক সময়েই অঙ্গদান‌ হচ্ছে না।

    একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাব

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে, তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই সময় অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা এক সরকারি অফিস থেকে আরেক সরকারি অফিস ছুটোছুটি করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। এক ছাদের তলায় সহজে অঙ্গদানের সুযোগ ও পরিকাঠামো থাকলে তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অনেকেই জানাচ্ছেন, অঙ্গদানে ইচ্ছুক থাকলেও, হাসপাতালকে জানানোর পরেও অঙ্গদান হয় না। বিশেষত ছুটির দিনে সরকারি জটিলতা আরও বাড়ে। এর ফলে অঙ্গদান সম্ভব হয় না। অনেক সময় রোগীর পরিবার দ্রুত অনুমতি দেওয়ার পরেও একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে অঙ্গদান ব্যর্থ হয়‌।

    মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ

    তাছাড়া মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর আগে স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার অঙ্গদানে ইচ্ছুক। কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ এগোতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত তার শরীরের একাধিক অঙ্গ সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে সেটা প্রতিস্থাপনের কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু মরণোত্তর অঙ্গদান পর্বের প্রশাসনিক জটিলতার জেরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেহ চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানোর কাজ ছাড়া, অন্য কোনও ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় না।

    কেন অঙ্গদানে বাড়তি গুরুত্ব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে। সেই উন্নতিকে কাজে লাগাতে মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। একাধিক রোগীর সুস্থতার জন্য অঙ্গদান অত‌্যন্ত জরুরি। ভারতের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে চোখ, লিভার, কিডনি, ত্বক এমনকি হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন হয়। একজন রোগীর দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপিত করে, সে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন। কিন্তু অঙ্গদানে ঘাটতির জন্য সেই সুস্থতার পথে বাধা আসে। ঠিকমতো অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা দ্রুত প্রতিস্থাপনের বন্দোবস্ত না থাকার জেরে, প্রতি বছর এদেশে বহু রোগী মারা যান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, লিভার, কিডনি কিংবা হৃদপিণ্ডের জটিল সমস্যা নিয়ে প্রতি বছর কয়েক হাজার রোগী অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ঠিকমতো যথেষ্ট অঙ্গদাতা না থাকার জেরে রোগীর ভোগান্তি বাড়ে। এমনকি প্রাণ সংশয়ও হয়।‌ অন্যান্য দেশের নিরিখে ভারতে অঙ্গদানের হার কম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলে এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনা জরুরি।

    অঙ্গদানের জটিলতা কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তিনটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই অঙ্গদানের হার বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি দেশ জুড়ে সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের হার বাড়বে।

    জনসচেতনতার হার বাড়ানো দরকার!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানের প্রবণতা বাড়াতে এই নিয়ে লাগাতার সচেতনতা প্রয়োজন। ব্রেন ডেথ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, কখন একজন রোগীর ব্রেন ডেথ ঘোষণায় করা হবে, সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই। চিকিৎসায় কোনও সাড়া না দিলে, মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ শক্তি হারালে তবেই ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। তখন তাঁর অঙ্গদান করলে, একাধিক রোগী সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন, এই সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি। কিন্তু এই নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক হাসপাতালে এই নিয়ে আলাদা বিভাগ প্রয়োজন। রোগীর পরিবারকে এই সম্পর্কে বোঝানো প্রয়োজন। তাঁদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেই তাঁদের এই সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। পরিবারের সম্মতি পেলে তবেই বাকি কাজ করা সম্ভব হবে। কারণ, হৃদপিণ্ড সক্রিয় থাকলেও মস্তিষ্কের মৃত্যু হতে পারে। আর মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে আর বাঁচানো সম্ভব হয় না। এটা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই।

    হাসপাতাল ও প্রশাসনের অন্যান্য মহলে সমন্বয়!

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মূল সমস্যা সরকারি মহলে জটিলতা। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই জটিলতা কমাতেই হবে। কারণ অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হলে অঙ্গদান ব্যর্থ হবে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের যাতে সহজেই দ্রুত যোগাযোগ হয় এবং প্রয়োজনীয় রোগীরা যাতে অঙ্গ পেতে পারেন, সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত ছুটির দিনেও যাতে কাজ আটকে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আলাদা এই বিশেষ দফতরে যাতে রুটিন মাফিক কর্মী উপস্থিত থাকেন, সেদিকেও নজরদারি জরুরি।

    অঙ্গ পরিবহণে বাড়তি জোর!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অঙ্গ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্র্যান্সপ্লান্ট সেন্টারে পৌঁছনো জরুরি। না হলে অঙ্গদান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। তাই প্রয়োজন অঙ্গ পরিবহণের পরিকাঠামো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অঙ্গ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারে না। সেদিকে স্বাস্থ্য দফতরের পাশপাশি অন্যান্য দফতরের খেয়াল রাখতে হবে। তবেই এত বড় বিষয়টি সফল হবে।

  • West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে পশ্চিমবঙ্গে ফের পাক-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার এক ব্যক্তি। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-হাবড়া এলাকা থেকে পাকিস্তানের নাগরিক বলে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ/রানা রাউত নামে ভারতে বসবাস করছিল এবং ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে তার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর যোগাযোগের সন্দেহও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, রানাকে ভুয়ো নথি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল ইজাজ। সূত্রের খবর, বুধবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালায় এসটিএফ। সেই অভিযানে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল সে। সেই খবর পাওয়ার পরই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করা হয়।

    পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ থেকে নেপাল হয়ে ভারতে?

    প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফ জানতে পেরেছে, রানা আদতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। প্রায় ২০১২ সাল নাগাদ নেপাল হয়ে সে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে ভারতে আসার পর কোথায় কোথায় ছিল এবং এর আগে একাধিকবার সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বেশ কিছুদিন বসবাস করেছিল রানা। সেখানে ছোটখাটো কাজ করার পাশাপাশি ওয়াহাব আলম নাম ব্যবহার করে আধার কার্ড-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। এই ভুয়ো নথি তৈরির ক্ষেত্রে তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ তাকে সাহায্য করেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে এসটিএফ। রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইজাজের নাম সামনে আসে। এরপর তপসিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, রানা ভারতে নিজের পরিচয় গোপন রেখে থাকতে ইজাজের সাহায্য নিয়েছিল।

    পাক সেনা ও আইএসআই-যোগের সন্দেহ

    রানার সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই-এর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, রানা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং আইএসআই-এর হ্যান্ডলার হিসেবেই নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, ভারতে থাকার সময়ে রানা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং পাকিস্তানে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সে নির্দেশ পেত কি না।

    ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধিতে নজর?

    রানার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারতে থাকার সময়ে সে ভারতীয় রেল এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। কোন ধরনের তথ্য সে সংগ্রহ করেছিল, সেই তথ্য কোথাও পাঠানো হয়েছিল কি না এবং এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।  বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশের দিকে পালানোর চেষ্টা কেন করছিল রানা, বাংলাদেশে তার জন্য কেউ অপেক্ষা করছিল কি না এবং সীমান্তের ওপারে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    হামিম মণ্ডল গ্রেফতারের পরই নতুন সূত্র

    রানাকে গ্রেফতারের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। হামিমের কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভিআইপি গতিবিধি, রুট ম্যাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।তদন্তে উঠে আসে, হামিমের যোগাযোগ ছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে। তাকে পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূলচক্রী সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করেছে তদন্তকারী সূত্র। বর্ধমানে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার আগে হামিম কলকাতার নিউটাউন এলাকায় থাকত বলে তদন্তে জানা যায়। তার সূত্র ধরেই এসটিএফ পরে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং ওরফে রাজ-কেও গ্রেফতার করে।

    অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে অর্পিতার পাকিস্তান-যোগও সামনে আসে। পাকিস্তানের বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করে নেতা, মন্ত্রী এবং আমলাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে যোগাযোগ করা হত বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাস্তবে কোনও অপহরণ বা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণে অর্পিতার যোগাযোগ এবং পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

    একই নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজছে এসটিএফ

    রানা-ইজাজ গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। পাকিস্তান থেকে বেআইনি ভাবে ভারতে ঢোকার পর রানা কীভাবে এত বছর ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিল? কে তাকে ভুয়ো নথি তৈরিতে সাহায্য করেছিল? ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধি সম্পর্কে সে কী তথ্য সংগ্রহ করেছিল? সেই তথ্য কোথায় পাঠানো হত? আর বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনার পিছনে কারা ছিল? এর পাশাপাশি হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার, আদিত্য সিংহ এবং নতুন করে গ্রেফতার হওয়া রানা ও ইজাজের মধ্যে কোনও সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, একের পর এক গ্রেফতারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় সন্দেহভাজন পাক-যোগ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য চক্রটি আরও বড় আকার নিচ্ছে। এসটিএফ এখন এই সমস্ত সূত্রকে এক জায়গায় এনে পাকিস্তান, আইএসআই, জঙ্গি সংগঠন, ভুয়ো পরিচয়পত্র, সীমান্তপথ এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটাই খুঁজে দেখছে।

  • RG Kar Incident: নার্সের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি! অভয়ার অভিশপ্ত রাতে আরজিকরের সেই ভবনে উপস্থিত সকলকে তলব সিবিআই-এর

    RG Kar Incident: নার্সের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি! অভয়ার অভিশপ্ত রাতে আরজিকরের সেই ভবনে উপস্থিত সকলকে তলব সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Medical) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। ৮ এবং ৯ অগাস্টের রাতে আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Incident) যে ভবনে নির্যাতিতা কর্মরত ছিলেন, সেখানকার সকল কর্মী, চিকিৎসক, নিরাপত্তা কর্মীকে তলব করল সিবিআই। সেই রাতের কোনও ঘটনা আগের বার তদন্তকারীদের কোনও ভাবে নজর এড়িয়ে গিয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত হতেই আবার জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত আরও জানা যাচ্ছে, জেলবন্দি আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকেও প্রয়োজনে জেরা করতে পারেন তদন্তকারীরা।

    নতুন করে এসআইটি তৈরি

    আর জি কর কাণ্ডে নতুন করে এসআইটি তৈরি হয়েছে। অপরাধস্থল, আশপাশের এলাকা খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকরা। আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ মোট সাতজন ও নিরাপত্তারক্ষীদের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষা ও তদন্তের অনেক দিক নিয়ে নতুন তদন্তকারীরা খুশি নন বলে সূত্রের খবর। তাতেই মামলায় যুক্ত সকলকে ফের জেরা করা হবে বলে খবর। ডাকা হচ্ছে ঘটনার দিন অভয়ার সঙ্গে ডিনার করা বন্ধুদেরও। নিরাপত্তারক্ষী থেকে সেই সময় উপস্থিত থাকা চিকিৎসকদেরও ডাকা হবে বলে জানা যাচ্ছ। ফের খতিয়ে দেখা হবে সিসিটিভি ফুটেজ।

    এক নার্সের বয়ানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি

    সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিল। অভিযোগ করেছিল, এক নার্সের বয়ানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার ভিত্তিতেই আবার শুরু হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের বারে আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন দল। তাঁরা ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসক-সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। ঘটনার রাতে ওই বিল্ডিংয়ে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করা হয়। কিন্তু সেই তদন্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ ছিল যে, বেশ কয়েক জন কর্মীর বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র ছিল, যেগুলিকে গুরুত্ব দেয়নি সিবিআইয়ের সেই সময়কার তদন্তকারীর দল। তাঁদের দাবি, ওই বিল্ডিংয়ের যত জনের বয়ান নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য’ ছিল এক নার্সের বক্তব্য। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ওই নার্স তাঁর মোবাইলে ওই রাতের ‘উল্লেখযোগ্য’ কিছু ঘটনা রেকর্ড করা রয়েছে, যে বয়ান গুরুত্ব দেয়নি সীমার নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল।

    যাঁরা ডিনার করেছিলেন, তাঁদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন

    অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বারবার দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে তাঁদের মেয়ের সঙ্গে যাঁরা ডিনার করেছিলেন, তাঁদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। আদালতের তরফ থেকেও সেই রাতে ডিনারে কারা উপস্থিত ছিলেন ও তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজাকে সরিয়ে তদন্তভার দেওয়া হয় সন্দীপনী গর্গকে। দিন কয়েক আগে তদন্তের জাল গোটাতে দিল্লি থেকে ৪ সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি দল পৌঁছয় হাসপাতালে। জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে সিনিয়র আধিকারিকদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গায় তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, সেই জায়গাই ফের খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। আদালতে নির্যাতিতার মায়ের আবদনের ভিত্তিতেই এই সিবিআইয়ের দলকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হচ্ছে।

    কয়েকজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি

    নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, বেশ কয়েকজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। তাতে গুরুত্ব দেয়নি সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন দল। সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আবার ঘটনার দিন ওই বিল্ডিংয়ে থাকা সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বয়ান রেকর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল। চলতি এবং আগামী সপ্তাহ জুড়ে ওই কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করা হবে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দফতর থেকেও পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানেও এই কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলের কাজেও বিরক্ত আদালত

    সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলের কাজেও বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না, যা যা করা দরকার, সিবিআই তা করছে না। এই মামলায় সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলটি গত ৬ অগাস্ট আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় এবং তদন্তের জন্য পর্যাপ্ত সময় চায়। তাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আরজি করের ঘটনার তদন্ত প্রথম শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তারাই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে (বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত) গ্রেফতার করে। পরে ওই মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। তারা চার্জশিটে সঞ্জয়কেই একমাত্র অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করে এবং শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআই বা পুলিশের তদন্তে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল নির্যাতিতার পরিবার। তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছিল সিবিআই।

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ‘মেগা প্ল্যান’! ধর্মান্তর-জমি আইন নিয়েও কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ‘মেগা প্ল্যান’! ধর্মান্তর-জমি আইন নিয়েও কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে এবার জোরকদমে কাজ শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের কাজের পর্যালোচনা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানালেন, চলতি অর্থবর্ষের বাকি আট মাসে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মোট ১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,৬০০ কোটি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে খরচ করা হবে। দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়নের গতি ফেরাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁকুড়ার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানের সাংসদ-বিধায়ক, মন্ত্রিসভার সদস্য, জেলাশাসক এবং প্রায় ৭৫ জন বিডিও। বৈঠকে রাস্তা, পানীয় জল, স্কুল, আবাসন, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান-সহ একাধিক বিষয়ে জেলাভিত্তিক অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি করা হয়।

    সেপ্টেম্বরেই প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, পুজোর পর মাঠে কাজ

    জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে আগামী তিন মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রকল্প চিহ্নিত করে ডিপিআর তৈরি, অক্টোবরে টেন্ডার এবং পুজোর পর শুষ্ক মরসুম শুরু হলেই বাস্তব কাজ শুরু হবে। পিছিয়ে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি এলাকায় অন্তত ৫০ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আগের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই সব আসনে বিজেপি জেতার পর প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরকে কার্যত অকেজো করে রেখেছিলেন। গত অর্থবর্ষে এই খাতে মাত্র ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ৬ কোটির! কিন্তু আমাদের সরকার মাত্র চার মাসের ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ ও বাকি আট মাসের হিসাবে এই অঞ্চলের জন্য মোট ১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা অফিসার-কর্মীদের বেতনের জন্য এবং বাকি ১,৬০০ কোটি টাকা মূল পরিকল্পনা খাতে খরচ করা হবে।” পরিষেবা মানুষের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে ঝাড়গ্রামে পিইউপি-র নতুন কার্যালয় এবং বীরভূমের বোলপুর অফিসের পাশাপাশি সিউড়ি জেলা পরিষদে ক্যাম্প অফিস চালুর নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    স্কুল, আইসিডিএস ও পানীয় জলে বিশেষ নজর

    জঙ্গলমহলের আবহাওয়া ও পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা মাথায় রেখে স্কুল ও শিশু-কেন্দ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে ফ্যান, পানীয় জল, ডাইনিং স্পেস-সহ কিচেন এবং ছাত্রছাত্রীদের পৃথক শৌচাগার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আইসিডিএস কেন্দ্রগুলির সংস্কারেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    বিডিওদের ‘অ্যাক্টিভ’ হওয়ার বার্তা

    উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নয়াগ্রাম, বান্ধোয়ানের মতো পিছিয়ে থাকা ব্লকের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “জেলাশাসকদের পারফরম্যান্সে আমরা সন্তুষ্ট। তবে কিছু কিছু বিডিও-র লেভেলে এখনও জড়তা রয়েছে। সেই জড়তা কাটিয়ে বিডিও-দের আরও অ্যাক্টিভ হতে হবে, কারণ ইমপ্লিমেন্টেশনের দায়িত্ব তাঁদের হাতেই।”

    ৬ ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছবে প্রতিটি পরিবারে

    পশ্চিমাঞ্চলের প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

    • ১. অন্নপূর্ণা যোজনা: প্রকৃত উপভোক্তাদের খাদ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা।
    • ২. আয়ুষ্মান ভারত: যেখানে এই সুবিধা কার্যকর হবে না, সেখানে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’র মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা।
    • ৩. বিকশিত ভারত যোজনা: ১২,০০০ কোটি টাকার বাজেটে ১২৫ দিনের কাজ এবং পরিবারপিছু বছরে ৩৪,৫০০ টাকার সংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা।
    • ৪. প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ কাঁচা বাড়ির নাম নথিভুক্ত হয়েছে। আরও যোগ্য পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • ৫. প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর: কেন্দ্রের ১ লক্ষ পরিবারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজ্যে ৫ লক্ষ পরিবারকে সৌর সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
    • ৬. জল জীবন মিশন: ‘নল আছে জল নাই’ পরিস্থিতি এবং অনিয়ম বন্ধ করে প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ।

    ধর্মান্তর ও মৌলবাদী তৎপরতা নিয়ে কড়া বার্তা

    বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহল এলাকায় বিদেশি অর্থের সাহায্যে দরিদ্র মানুষকে বিভ্রান্ত করে বেআইনি ধর্মান্তর এবং মৌলবাদী তৎপরতার অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে আসছি—‘এক দেশ, এক আইন, এক মুখ্যমন্ত্রী’। এর পরে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে জোর করে ধর্মান্তর রুখতে কঠোর আইন এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন আইনি বিধিনিষেধ জারি করা।”

    পিএসসি-এসএসসি নিয়োগে স্বচ্ছতার বার্তা

    সরকারি নিয়োগ নিয়েও এ দিন মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পিএসসি ও এসএসসিতে নতুন নেতৃত্ব এনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “পিএসসি-র মাথায় অনিল বর্মা কিংবা এসএসসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে বসিয়ে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দুর্নীতিগ্রস্তদের আর স্থান নেই। নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, সরকারের দায়িত্ব মূলত ক্যাবিনেটে পদের অনুমোদন, চাকরির পদ তৈরি এবং অর্থ দফতরের ছাড়পত্র দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। নিয়োগের বাকি প্রক্রিয়া স্বশাসিত বোর্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তাঁর কথায়, “আমাদের সরকার মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করবে। সব প্রক্রিয়া শেষে স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে আমরা নির্বাচিতদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেব।”

    সিএএ, ভোটার তালিকা ও সীমান্ত নিয়ে অবস্থান

    বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের প্রসঙ্গেও এ দিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সিএএ-তে আবেদন করা শরণার্থীদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রেশন, অন্নপূর্ণা বা বার্ধক্য ভাতার মতো সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার জমি সংক্রান্ত জটিলতা মেটানো, ভুয়া ওবিসি তালিকা বাতিল এবং ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বন্ধ করার বিষয়েও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। সব মিলিয়ে, বাঁকুড়ার বৈঠক থেকে জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নকে নতুন করে গতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের জবাবদিহি, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং নিয়োগে স্বচ্ছতার উপরও জোর দিল রাজ্য সরকার। এখন ঘোষিত তিন মাসের রোডম্যাপ কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, নজর থাকবে সেই দিকেই।

  • Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-কে এর উদ্যোক্তারা প্যান-ইসলামিক যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কৌশলগত বিশ্লেষক এই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি আদৌ কোনও ঐক্যবদ্ধ ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়। বরং চুক্তিটি ইরানকে ঘিরে সুন্নি শক্তিগুলির একটি কৌশলগত জোট হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্বের দীর্ঘদিনের সুন্নি-শিয়া বিভাজন কমার বদলে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    যৌথ নিরাপত্তার আড়ালে কি সুন্নি সমীকরণ?

    রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা— তিন দেশের কর্তারা বারবার জানিয়েছেন, এই ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরি। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী সুন্নি রাজতন্ত্র সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্নি সন্ত্রাসী শক্তি পাকিস্তান এবং ন্যাটোর  সুন্নি সদস্য তুরস্ককে একই নিরাপত্তা কাঠামোয় নিয়ে আসার ফলে ইরানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র সঙ্গে তুলনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ইরান এই জোটের বাইরে। ফলে এই চুক্তিকে সর্বজনীন ইসলামি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে দেখার যুক্তি দুর্বল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে চুক্তিটির পেছনে রয়েছে সুন্নি-শিয়া ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় স্বার্থের হিসাব।

    তেহরান থেকে ইসলামাবাদ—চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

    চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রেজাই বলেন, ‘‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে একটি চুক্তি করলেই সৌদি আরব নিরাপত্তা পাবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন আমেরিকার উপর নির্ভর করেও সৌদি আরব যে নিরাপত্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান পায়নি, অন্য দেশের উপর নির্ভর করে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি রিয়াধকে অন্যের কাছ থেকে নিরাপত্তা ‘চেয়ে নেওয়ার’ পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন। তবে শুধু ইরান থেকেই সমালোচনা আসেনি। চুক্তির অন্যতম অংশীদার পাকিস্তানের প্রাক্তন আমেরিকা-স্থিত রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট কূটনীতিক হুসেন হাক্কানিও এই চুক্তিকে নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। হাক্কানির মতে, সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবের তুলনায় প্রতীকী দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর যুক্তি, একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন একটি অভিন্ন শত্রু। কিন্তু তিন দেশের ক্ষেত্রে সেই অভিন্ন শত্রু কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, চুক্তির ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো সহযোগিতা বাড়তে পারে। কিন্তু এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে দেখার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের স্বার্থ কি এক?

    সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। তিন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক নীতি একে অপরের থেকে যথেষ্ট আলাদা। পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি ভারতকে ঘিরে সীমান্ত বিরোধ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা নীতি গভীরভাবে যুক্ত ন্যাটো এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে। ফলে আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রাধিকার রিয়াধ বা ইসলামাবাদের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা, তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা।ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও একটি অভিন্ন সামরিক কৌশল বা একক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কি শুধুই ভূ-রাজনৈতিক মিথ?

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা জোটের ধারণা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে সুন্নি-শিয়া বিভাজন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক নীতি সেই সম্ভাবনাকে বারবার দুর্বল করেছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই চুক্তি গোয়েন্দা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটিকে একটি সর্বজনীন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার তুলনায় অনেকটাই অতিরঞ্জিত। বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কৌশলগত ও লেনদেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবেই চুক্তিটিকে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্যের পথ তৈরি করবে, নাকি ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র স্বপ্নের চেয়ে বাস্তব ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সমীকরণই এই জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Pan Masala Packaging: প্লাস্টিকের প্যাকেটে পানমশলা বিক্রি বন্ধ! প্যাকেজিংয়ে নতুন নিয়ম, বিক্রি করতে হবে কাচ বা টিনের পাত্রে

    Pan Masala Packaging: প্লাস্টিকের প্যাকেটে পানমশলা বিক্রি বন্ধ! প্যাকেজিংয়ে নতুন নিয়ম, বিক্রি করতে হবে কাচ বা টিনের পাত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পান মশলার প্যাকেজিং (Pan Masala Packaging) নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI New Rules)। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পান মশলা প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং ধাতব স্তর ব্যবহার করা যাবে না। এই সংশোধনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান সংক্রান্ত প্যাকেজিং বিধি, ২০১৮-তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের জন্য অনুমোদিত প্যাকেজিং উপকরণের তালিকায় পান মশলাকে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

    কী দিয়ে তৈরি হবে পানমশলার প্যাকেট

    এফএসএসএআই জানিয়েছে, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সংস্থাগুলিকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার করতে হবে। যেমন, ধাতব টিন ক্যান বা কাচের ছোট পাত্র। সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত কাগজ, পেপারবোর্ড, সেলুলোজ বা প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি প্যাকেজিংয়েও আপত্তি নেই। সংশোধিত নীতিতে জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি, ১৯৮৬ সালের পরিবেশ (রক্ষা) আইন মেনে এ বার থেকে পানমশলা প্যাকেটজাত করতে হবে। নীতি সংশোধনীর খসড়া চলতি বছর ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চেয়েছিল তারা। ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়। এফএসএসএআই জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্যাকেজিং-য়ে ব্যবহার করা যাবে না কী কী

    প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত ৭ অগাস্ট এফএসএসএআই-এর মূল প্যাকেজিং নীতিমালায় সংশোধন এনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর পানমশলার প্যাকেটে আর ব্যবহার করা যাবে না পলিথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পলিয়েস্টার ও পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC)। অন্যান্য সিন্থেটিক পলিমার, কো-পলিমার এবং ল্যামিনেটের স্তর রাখাও যাবে না। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং ধাতব প্রলেপযুক্ত যে কোনও অভ্যন্তরীণ স্তরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ পানমশলাই বহুস্তরীয় বা প্লাস্টিকের ছোট পাউচে বিক্রি করা হয়। ফলে কেন্দ্র সরকারের এই কড়া নির্দেশের পর প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে প্যাকেজিংয়ের পুরো পরিকাঠামো রাতারাতি বদলাতে হবে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কাচ বা টিনের পাত্রে রূপান্তরের ফলে পানমশলা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উৎপাদন, পরিবহণ এবং সামগ্রিক প্যাকেজিংয়ের খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। যা আগামী দিনে বাজারে পানমশলার বিক্রয়মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • Gautam Adani: ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন ফৌজদারি মামলা খারিজ

    Gautam Adani: ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন ফৌজদারি মামলা খারিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির (Gautam Adani) বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডেরাল আদালত। ১০ অগাস্ট আদালতের (US Court) এই রায়ের জেরে মার্কিন ফেডেরাল কৌঁসুলিরা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। তবে মামলা খারিজের অনুমোদন দেওয়ার সময় বিচারক মার্কিন বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন। ব্রুকলিনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিস মামলাটি খারিজের অনুমোদন দেন। তবে তিনি বিশেষভাবে মার্কিন বিচার বিভাগের কর্তা ট্রেন্ট ম্যাককটারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের আগে আদানির আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন ম্যাককটার। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, মামলাটিতে আগে কাজ করা একাধিক ফেডেরাল কর্তা ও তদন্তকারীর মতামতকে ম্যাককটার উপেক্ষা করেছেন বলে মনে হয়েছে। পরিবর্তে তিনি নিজের মূল্যায়নের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন বলে বিচারক মন্তব্য করেন।

    আদানির ১০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন (Gautam Adani)

    আদালতে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আমেরিকায় আদানি গোষ্ঠীর ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলেও তখন জানানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে গৌতম আদানির হয়ে মামলা লড়া আইনজীবী রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন একটি দল মার্কিন বিচার বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে জিউফ্রা ১০০ পাতার একটি নথি উপস্থাপন করেন। সেখানে যুক্তি (US Court) দেওয়া হয়, আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ কৌঁসুলিদের হাতে নেই। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনাগুলি সম্পূর্ণভাবে ভারতে ঘটেছে বলে এই মামলার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার্য এক্তিয়ারও নেই বলে দাবি করা হয়েছিল। আদানির (Gautam Adani) পক্ষে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, মামলায় উল্লেখ করা ঋণপত্রগুলি মার্কিন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল না এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনও বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতি হয়নি।

    ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি

    ১০০ পাতার ওই নথির একটি পাতায় আমেরিকায় আদানির ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ ছিল। এর পরেই বিচারক প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি কি মার্কিন বিচার বিভাগের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল? ম্যাককটার অবশ্য দাবি করেন, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেনি। এই বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও তিনি অস্বীকার করেন। তবে ১৫ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় গৌতম আদানি স্বীকার করেন, তাঁর আইনজীবীরা মার্কিন বিচার বিভাগকে জানিয়েছিলেন যে এই বিনিয়োগ মামলাগুলির নিষ্পত্তির অংশ হতে পারে। জিউফ্রাও আদালতকে জানান, অভিযুক্ত পক্ষ মার্কিন বিচার বিভাগকে জানিয়েছিল যে সম্ভাব্য নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে আদানি গোষ্ঠী ওই বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিচারক গারাউফিস বলেন, এই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া যথাযথ কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তবে তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে—এই ধরনের প্রস্তাব সমান বিচার এবং আইনের শাসনের ক্ষেত্রে কী অর্থ বহন করতে পারে (US Court)।

    ২০২৪ সালে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ

    ২০২৪ সালে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, আদানি গোষ্ঠীর একটি সহযোগী সংস্থার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত করতে তিনি ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিলেন (Gautam Adani)। মার্কিন কৌঁসুলিরা আরও অভিযোগ করেছিলেন, সংস্থার দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে আদানি গোষ্ঠী প্রথম থেকেই এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক নথিতে ম্যাককটার বলেন, মামলাটি মূলত বিদেশকেন্দ্রিক, অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন এবং এটি মার্কিন বিচার বিভাগের বর্তমান আইন প্রয়োগের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক, বিচার বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ এবং নিজের আইনি গবেষণা ও বিশ্লেষণের পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    আদানি পরিবারের সদস্য ও সংস্থার বিরুদ্ধেও আলাদা মামলা

    এদিকে, আদানি পরিবারের সদস্য এবং গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থাকে ঘিরে মার্কিন বিচার বিভাগে আরও কয়েকটি পৃথক আইনি বিষয় রয়েছে। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলায় গৌতম আদানি ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছেন। তাঁর ভাইপো সাগর আদানি ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে সম্মত হয়েছেন। এদিকে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড মার্কিন অর্থ দফতরকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে।

    আদালতের সিদ্ধান্তে স্বস্তি আদানির

    আদালতের রায়ের পর গৌতম আদানি (Gautam Adani) সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি বিনয় ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এই মামলা খারিজের ফলে আপাতত গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও, মামলাটি খারিজের পেছনে (US Court) বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিচারকের মন্তব্য নতুন করে জন্ম দিয়েছে একরাশ প্রশ্নের (Gautam Adani)।

     

  • Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে। ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই মধ্যে আমজনতাকে সতর্ক করতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় ১৯ জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির ছবি ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য-সহ পোস্টার লাগানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আবেদনও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পোস্টারে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, আল-কায়দা এবং বিভিন্ন খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ওয়ান্টেড জঙ্গির ছবি রয়েছে। তাঁদের সন্ধান পেতে তথ্য দিলে উপযুক্ত পুরস্কারের কথাও জানানো হয়েছে।

    কোন কোন জঙ্গি পুলিশের নজরে?

    দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত তালিকায় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত রিয়াজ ভাটকল এবং শাবানদ্রি মহম্মদ ইকবাল ওরফে ইকবাল ভাটকলের নাম রয়েছে। আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ শারজিল আখতার, আবু সুফিয়ান এবং সৈয়দ মহম্মদ আরশিয়ান-এর ছবিও পোস্টারে রাখা হয়েছে। খালিস্তানি জঙ্গিদের মধ্যে খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স (KZF)-এর সঙ্গে যুক্ত রঞ্জিত সিং ওরফে নীতা এবং পরমজিৎ সিং পাম্মা-র নাম রয়েছে। এছাড়াও খালিস্তান টাইগার ফোর্স (KTF)-এর সঙ্গে যুক্ত আরশদীপ সিং ওরফে আরশ ডালা-র ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (BKI)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত হরবিন্দর সিং সান্ধু ওরফে রিন্ডা, ওয়াধাওয়া সিং বাব্বর এবং গুরমিত সিং বাগ্গা-র নামও রয়েছে পুলিশের প্রকাশিত তালিকায়।

    কেন পোস্টার লাগানো হলো?

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে এ ধরনের পোস্টার সাঁটানো নতুন নয়। ১৫ অগeস্ট ও ২৬ জানুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবেই সাধারণত সন্দেহভাজন বা ওয়ান্টেড জঙ্গিদের ছবি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। এ বারও দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য, ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে থাকলে তা দ্রুত নিরাপত্তা সংস্থার কাছে পৌঁছনো। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তবে, পুলিশের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু নজরদারি বাড়ানো নয়, সাধারণ মানুষকেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বাধীনতা দিবসে হামলার আশঙ্কায় দিল্লি জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসার পরই স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হল।

    সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না দিল্লি পুলিশ। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, জনবহুল বাজার, ধর্মীয় স্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও আরও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লি মেট্রোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়িয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি দেশের পশ্চিম সীমান্তেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

    রেড ফোর্টে বিশেষ নজর

    স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে দিল্লির লালকেল্লায়। সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ফলে লালকেল্লা ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার অন্তত ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কর্মীকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং জনবহুল এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দিল্লি পুলিশ প্রথম বারের মতো তাদের ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে’র পাশাপাশি ‘অভিজ্ঞান অ্যাপ’ ব্যবহার করবে। উত্তর দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) রাজা বানথিয়া বলেছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি চলছে এবং এতে দিল্লি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীরা অংশ নেবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভিডিয়ো অ্যানালিটিক্স এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ব্যবস্থা দূর থেকে মুখাবয়ব চিহ্নিত করতে পারে।

    সাধারণ মানুষকে পরামর্শ

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল জায়গায় কোনও পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেলে সেটি স্পর্শ না করে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টারে থাকা ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য কারও কাছে থাকলে তা নিরাপত্তা সংস্থাকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। ১১২ নম্বরে ফোন করে তথ্য দেওয়া যাবে। এছাড়াও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

  • Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) নিশানা করলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কংগ্রেস মিথ্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand Parliament) পড়ুয়াদের ওপর হিংসার ঘটনায় রাহুলের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি করেছিলেন রাহুল। তার পরের দিনই কংগ্রেস এবং রাহুলকে নিশানা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের স্বার্থ নিয়ে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা রটিয়ে চলেছে। রাহুল গান্ধীর কাছে তথ্য নেই। যে বিরোধী দলনেতা অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, তিনি সংসদে আসতে বা জবাব শুনতেও চান না। তাঁরা শুধু নিজেদের মিথ্যা রটাতে এবং কুমিরের কান্না কাঁদতে চান।’’

    রাহুল গান্ধী নীরব কেন?’ (Rahul Gandhi)

    অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুল ও কংগ্রেস ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছে বলেও দাবি করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সংসদে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত। কংগ্রেস সংসদের কাজ ব্যাহত করছে এবং দেশের ও যুবসমাজের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এর পরেই ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে রাহুলকে নিশানা করেন প্রধান। বলেন, ‘‘ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে রাহুল গান্ধী প্রতিটি বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন, তিনি আজ নীরব কেন?’’ কংগ্রেস গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাছাই করা নীতি অনুসরণ করে বলেও অভিযোগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে যুবকদের বিরুদ্ধে হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়। আবার রাজনৈতিক নজর কাড়ার প্রয়োজন হলে মিথ্যা এবং হইচইও করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘দেশের যুবসমাজ কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতা সম্পূর্ণভাবে বুঝে গিয়েছে।’’

    রাহুলকে সংসদে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান নাড্ডার

    সংসদে অচলাবস্থা নিয়ে রাহুলকে আক্রমণের একদিন পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য সামনে এল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও রাহুলের বিরুদ্ধে সংসদের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫ দিন ধরে ব্যাহত করার এবং দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন (Rahul Gandhi)। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডার দাবি, রাহুল গান্ধীর দাবির পর সরকার সংসদে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু পরে রাহুল তাঁর দাবি বদলে ফেলেন। নাড্ডা বলেন, “যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করছিলেন রাহুল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দাবিতে রাজি হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা নিজের দাবিই বদলে ফেললেন এবং রাম মন্দিরের অনুদানে কথিত আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনার দাবি তুলতে শুরু করলেন।” সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাহুলকে আহ্বান জানান নাড্ডাও। তিনি বলেন, ‘‘তিনি (রাহুল) আলোচনা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন কেন? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাহুল গান্ধী, আলোচনা থেকে পালাবেন না। আমরা প্রস্তুত। সংসদের ভিতরে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। পালিয়ে যাবেন না।’’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলার অভিযোগও করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য (Jharkhand Parliament), গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের কোনও ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, ‘‘জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলা রাহুল এবং কংগ্রেস পার্টির এটা ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত (Rahul Gandhi)।’’

LinkedIn
Share