মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক শীর্ষপদে বড়সড় রদবদল ঘটল। রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব (Chief Secretary) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ১৯৯০ ব্যাচের অভিজ্ঞ আইএএস আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এতদিন তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO Manoj Agarwal) গুরুদায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে দিল্লির পশ্চিমবঙ্গ ভবনের প্রধান রেসিডেন্ট কমিশনার পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সমীকরণের ইঙ্গিত (CEO Manoj Agarwal)
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর (CEO Manoj Agarwal) ঠিক পাশেই আসীন ছিলেন মনোজ আগরওয়াল। বিকেলেই নবান্নের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
দক্ষ আমলাদের ওপর আস্থা
বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে মনোজ আগরওয়ালের ভূমিকা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ নির্বাচন পরিচালনার প্রশংসা শোনা গিয়েছিল প্রশাসনিক মহলে। জল্পনা ছিল যে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) এবং সুব্রত গুপ্তর মতো দক্ষ আমলারা প্রশাসনের মূল স্রোতে ফিরে আসবেন। শনিবারই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার মুখ্যসচিব (Chief Secretary) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মনোজ আগরওয়াল। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকার কারণেই নতুন সরকার এই অভিজ্ঞ আধিকারিকদের ওপর আস্থা রাখছে।
দিল্লি মিশনে দুষ্মন্ত নারিয়ালা
১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (Chief Secretary) পদমর্যাদায় দিল্লির পশ্চিমবঙ্গ ভবনের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাজ্যের বকেয়া পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতেই এই অভিজ্ঞ আমলাকেই বেছে নিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার।
আগামীর লক্ষ্য
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘কোর টিম’ গঠনের ধরণ থেকে স্পষ্ট যে, শুভেন্দু প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আধিকারিকদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। একদিকে উপদেষ্টা হিসেবে প্রবীণ সুব্রত গুপ্ত এবং অন্যদিকে মুখ্যসচিব (Chief Secretary) হিসেবে কর্মদক্ষ মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)— এই দুই স্তম্ভের ওপর ভর করেই নতুন সরকার তাদের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে আগ্রহী।

Leave a Reply