Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কি ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের? ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ভ্যান্সের একটি দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তাঁর বক্তব্যে কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকেই নির্বাচনে দলের হারের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন কেন

    গত বুধবার, ৪ নভেম্বর, নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভ্যান্স লেখেন, ২০২৪ সালে যাঁরা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে দলের অন্দরে অনেক বিতর্ক ও মতবিরোধ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, নির্বাচনে হারের আসল কারণ প্রায় সকলের কাছেই স্পষ্ট। এক রাজনৈতিক সমীক্ষকের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ভ্যান্স জানান, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া বহু মানুষ এবার রিপাবলিকানদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কেন তাঁরা আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফিরতে পারেন, তা জানতে চাওয়া হলে চারটি প্রধান বিষয় উঠে আসে।

    কেন আবার ভোট দেবেন রিপাবলিকানদের

    ভ্যান্সের পোস্ট অনুযায়ী, সেই চারটি দাবি হল—প্রথমত, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া। তৃতীয়ত, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং চতুর্থত, ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা। এর পরেই সরাসরি ভ্যান্সের মন্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হল যুদ্ধ। তাঁর এই বক্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে মার্কিন রাজনৈতিক মহল। ভ্যান্সের পোস্টে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি এবং দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একাধিক পরোক্ষ সমালোচনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের জন্য এমন বড় নির্বাচনী ধাক্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইস প্রেসিডেন্টের এই ধরনের মন্তব্যকে যথেষ্ট নজিরবিহীন।

    ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত

    যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও বিরোধের কথা বলেননি ভ্যান্স। বরং নিজের পোস্ট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ভ্যান্সের মনোভাব তিনি জানেন এবং তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট ভালো বলেই মনে হয়েছে। তবে এই পোস্টের মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সিএনএন-এর সাংবাদিক স্টিফেন কলিনসনের মতে, মঙ্গলবার থেকেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে বলে রাজনৈতিক মহলে মশকরা চলছিল। কিন্তু ভ্যান্সের এই মন্তব্য কার্যত সেই নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করে দিল।

  • CAIT Writes to Rahul Gandhi: প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?’ রাহুলকে প্রশ্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের, দেশজুড়ে ধিক্কার দিবসের ডাক

    CAIT Writes to Rahul Gandhi: প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?’ রাহুলকে প্রশ্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের, দেশজুড়ে ধিক্কার দিবসের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আগে রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে দিল্লির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে (CAIT Writes to Rahul Gandhi) বিপুল প্রভাব পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT)। এই ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দায়ী করে তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে ব্যবসায়ীদের সর্বভারতীয় সংগঠনটি। গত এক মাস ধরে দিল্লিতে একের পর এক রাজনৈতিক সভা, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী সংগঠনের। বিশেষ করে গত ১ নভেম্বর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডি জোটের সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

    রাহুল গান্ধীর চিঠির উত্তরের অপেক্ষা

    সংগঠনের দাবি, উৎসবের মরশুমে রামলীলা ময়দান ও তার আশপাশের একাধিক দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিএআইটি । সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, রাহুল গান্ধীর চিঠির উত্তরের অপেক্ষা করা হবে। তবে দীপাবলির পরেই দিল্লিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক নেতৃত্বকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্তরের বৈঠক ডাকা হবে। সেই বৈঠকেই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এই ইস্যুতে দেশজুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’ পালনেরও ঘোষণা করেছে সিএআইটি (CAIT।) জাতীয় বৈঠকেই এই কর্মসূচির দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনের মত

    সিএআইটি (CAIT)-এর নেতা প্রবীণ খণ্ডেলওয়াল (Bhartia) বলেন, “রাহুল গান্ধী একই সঙ্গে দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিতে পারেন না। একদিকে তিনি মানুষকে স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান, অন্যদিকে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সমর্থন করেন, যার ফলে ক্রেতারা সেই বাজারে পৌঁছতেই পারেন না। এটি শুধু রাজনৈতিক অবস্থানের অসঙ্গতি নয়, সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও রোজগারের উপর সরাসরি আঘাত।” সংগঠনের জাতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন— “প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?” রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে সাধারণ মানুষের জীবিকা ও বাজার অচল করে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

    সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, প্রতিবাদের অধিকার পরম বা সীমাহীন নয়। প্রতিবাদের অধিকারের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ ও ব্যবসার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো জনবহুল স্থান বা রাস্তা আটকে রাখা যায় না। সিএআইটি-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি আর শুধু দিল্লির ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আজ জাতীয় রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আগামী দিনে দেশের অন্য শহরগুলিতেও একই পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তাই এটি এখন একটি গুরুতর জাতীয় সমস্যা। ব্যবসায়ী সমাজ আর এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।

    প্রতিবাদ করার অধিকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ!

    রাজনৈতিক নেতাদের সংবিধানের অধিকার নিয়ে বেছে বেছে অবস্থান নেওয়ারও সমালোচনা করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। খণ্ডেলওয়ালের বক্তব্য, সংবিধানের ১৯(১)(এ) অনুচ্ছেদে নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ১৯(১)(জি) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের পেশা গ্রহণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকারও সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাহুল গান্ধী কি মনে করেন, প্রতিবাদ করার অধিকার ব্যবসা ও জীবিকা অর্জনের অধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? সংবিধানের ১৯(১)(জি) অনুচ্ছেদ কি শুধুমাত্র বক্তৃতা ও বইয়ের জন্য, নাকি লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার, ফুটপাতের হকার এবং কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন রোজগারের অধিকারও এর আওতায় পড়ে? রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের সুবিধামতো সংবিধানের অধিকার তুলে ধরতে পারেন না, অথচ অন্যদের অধিকার উপেক্ষা করতে পারেন না।”

    দিল্লি শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়

    ভারতিয়ার বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলিকে বুঝতে হবে যে দিল্লি শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। দিল্লির বাজারগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার ভিত্তি এবং জাতীয় অর্থনীতি ও সরকারি রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা কারও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ নন। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং দেশ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁরা কোনও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা চাইছেন না, শুধু নিজেদের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান জানানোর দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের বিরোধিতা করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে অন্যের জীবিকা ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক বা ন্যায়সংগত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন সিএআইটি-এর জাতীয় সভাপতি।

    ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে

    ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছে সিএআইটি (CAIT।)। খণ্ডেলওয়ালের বক্তব্য, এই ধরনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী পরিবারগুলির যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? কংগ্রেস বা এই ধরনের কর্মসূচির আয়োজক ও সমর্থকদের কি ক্ষতির দায় নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা রয়েছে? রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য কি সাধারণ মানুষের জীবিকা ও রোজগারকে এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া যায়? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব চেয়েই রাহুল গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়েছে সিএআইটি (CAIT।)। এখন ওই চিঠির উত্তরের পাশাপাশি দীপাবলির পর জাতীয় বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠনটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বিশেষ করে শরৎ থেকে হেমন্ত—এই দুই ঋতু যেন উৎসবের আবহে মোড়া। মহালয়ার হাত ধরে শুরু হয় উৎসবের মরশুম। তারপর একে একে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো। আলোর উৎসব দীপাবলির ঠিক দু’দিন আগে পালিত হয় ধনতেরাস। ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের কামনায় এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন কোনও সামগ্রী কেনা শুভ। তবে ২০২৬ সালের ধনতেরাসে রয়েছে বিশেষ জ্যোতিষ সংযোগও। শুক্রবারে এই উৎসব পালনের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ। ফলে এবারের ধনতেরাসের মাহাত্ম্য আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন জ্যোতিষশাস্ত্রের অনুরাগীরা।

    কেন পালন করা হয় ধনতেরাস?

    ধনতেরাস শব্দটি এসেছে দুটি শব্দের সংমিশ্রণে—‘ধন’ অর্থাৎ সম্পদ এবং ‘তেরাস’ অর্থাৎ ত্রয়োদশী। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত এই দিনটি।

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে ভগবান ধন্বন্তরী, দেবী লক্ষ্মী এবং ধনদেবতা কুবেরের আরাধনা করা হয়। ধনসম্পদ ও আর্থিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য এবং পরিবারের মঙ্গল কামনাও এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রচলিত রীতি অনুসারে, এদিন মূল্যবান ধাতু, সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র কিংবা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস, এর মাধ্যমে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধির আগমন ঘটে।

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসে কেন বিশেষ শুক্রবারের যোগ?

    এবারের ধনতেরাস পালিত হবে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসে শুক্রবার দেবী লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। লক্ষ্মী হলেন ধন, ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। ফলে লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ দিন শুক্রবারে ধনতেরাস পড়ায় এই তিথির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই দিনে ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং দান-ধ্যানের মাধ্যমে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ধনদেবতা কুবের ও ভগবান ধন্বন্তরীর পুজোরও বিশেষ রীতি রয়েছে।

    ধনতেরাসে তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ, কী এর তাৎপর্য?

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসের অন্যতম আকর্ষণ জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি বিশেষ যোগ—মালব্য রাজযোগ। পঞ্জিকা ও জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, এই সময়ে শুক্র নিজের রাশি তুলাতে অবস্থান করবে।

    জ্যোতিষশাস্ত্রে শুক্রকে সৌন্দর্য, বিলাসিতা, সুখ, ঐশ্বর্য এবং পার্থিব সমৃদ্ধির কারক গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুক্র নিজের রাশিতে অবস্থান করলে মালব্য রাজযোগ তৈরি হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। এটি পঞ্চ মহাপুরুষ যোগের অন্যতম।

    জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এই যোগ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আর্থিক সমৃদ্ধি ও বিলাসবহুল জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণেই ধনতেরাসের মতো সম্পদ ও সমৃদ্ধির উৎসবে মালব্য রাজযোগের উপস্থিতিকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এগুলি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস, এর কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।

    কবে ধনতেরাস ২০২৬? ত্রয়োদশী তিথির সময়

    এ বছর ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস পালিত হবে। কলকাতার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ত্রয়োদশী তিথি শুরু হবে ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে। তিথি শেষ হবে ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে। অর্থাৎ, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুজোর সময়ও ত্রয়োদশী তিথি বজায় থাকবে।

    ধনতেরাস ২০২৬: পুজোর শুভ সময় কখন?

    ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ধনতেরাসের সন্ধ্যায় প্রদোষ কালে পুজো করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালে প্রদোষ কাল থাকবে বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ভগবান ধন্বন্তরী ও দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করতে পারেন ভক্তরা। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা নিবেদনেরও প্রচলন রয়েছে।

    ধনতেরাসে কেনাকাটার তিনটি শুভ মুহূর্ত

    ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা থাকলে নজরে রাখতে পারেন এই তিনটি সময়।

    • ● ১. চৌঘরিয়া মুহূর্ত: কেনাকাটার প্রথম শুভ সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ে সোনা, রুপো, বাসনপত্র এবং অন্যান্য গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার রীতি রয়েছে।
    • ● ২. অভিজিৎ মুহূর্ত: দ্বিতীয় শুভ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়েও সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা যেতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
    • ● ৩. সন্ধ্যার প্রদোষ কাল: কেনাকাটার তৃতীয় শুভ সময় বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়টি পুজোর জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সন্ধ্যায় পুজো ও কেনাকাটা—দুই-ই করতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ধনতেরাসে শুক্রবারের বিশেষ তাৎপর্য, মালব্য রাজযোগ এবং কেনাকাটার একাধিক শুভ মুহূর্ত উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় এই দিনটি পালন করবেন বহু মানুষ।

    DISCLAIMER: পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি, প্রদোষ কাল এবং তিনটি কেনাকাটার মুহূর্ত একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো। বিশেষত চৌঘরিয়া ও অভিজিৎ মুহূর্তের সময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
  • Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media Safe Harbor) ব্যবহারকারীদের পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা মন্তব্যের দায় এবার সরাসরি বর্তাতে পারে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির উপর। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

    ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তি!

    বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পেয়ে থাকে। এই বিধান অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কোনও পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্যের জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই আইনি সুরক্ষা থেকে বাদ পড়তে পারে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি। পরিবর্তে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, টেলিকম এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য এই সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

    কেন এই আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) সংস্থাগুলি এখন আর শুধুমাত্র তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম নয়। বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কোন পোস্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, কোন ভিডিও বেশি প্রচার পাবে কিংবা কোন বিষয় ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি নিজেদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী বিভিন্ন পোস্ট মুছে দেয় কিংবা সেগুলির প্রচার সীমিত করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিমালার সঙ্গে ভারতীয় আইনের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রের একাংশের যুক্তি, কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারে যখন প্ল্যাটফর্মগুলির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, তখন ব্যবহারকারীদের পোস্টের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক

    এর আগেও মেটা পরিচালিত ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট বা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSAM) অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) দিল্লি পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় প্রযুক্তি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্ট করার দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ

    ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পুজোর আগেই কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আর এখানে মূল প্রশ্ন হল, ১৮ বছরের কম বয়সিরা নিজের নামে স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে কি না। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কার্যপ্রণালীতে এই বিষয়টির সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

    ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে

    তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলির। কারণ, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি আইনি দায় এড়ানোর সুযোগই এত দিন এই সংস্থাগুলির ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি। ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় ইন্টারনেট মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা কোনও পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য করলে তার জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই সুরক্ষা বজায় থাকে। কেন্দ্রের আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সুবিধা কি শুধুমাত্র সেই সব সংস্থার জন্য রাখা উচিত, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে? যেমন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম সংস্থা কিংবা পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং পরিষেবা।

    নতুন পণ্য আনলেও আগাম জানাতে হতে পারে

    শুধু সেফ হারবার নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনলে আগাম সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর এই ভাবনা সামনে এসেছে। ওই ফিচারের মাধ্যমে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং এবং আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা দেখিয়ে জুলাইয়ে ফিচারটির চালু হওয়া স্থগিত রাখতে বলেছিল মন্ত্রক। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চাইছে সরকার। ডিপফেক, সম্মতি ছাড়া ছড়ানো যৌন বা ব্যক্তিগত ছবি এবং পরিচয় অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কনটেন্ট সরানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বড়সড় বদলের ভাবনা কেন্দ্রের

    সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্টের প্রচার রুখতে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রের এই ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইন পরিবর্তন হলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কিংবা এক্স— সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কোনও বিষয়বস্তুর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোয় বড়সড় বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতের ডিজিটাল দুনিয়ায় তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।

  • Suvendu DA Announcement: দীপাবলির উপহার! চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu DA Announcement: দীপাবলির উপহার! চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি মাসের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটাতে আরও চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। বুধবার রাতে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu DA Announcement) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, এই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। শুধু বকেয়া মিটিয়ে দেওয়াই নয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের কাজও রাজ্য দ্রুত সেরে ফেলতে চায় বলে জানান তিনি। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে আসার পর চলতি আর্থিক বছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর ঘোষণা

    নবান্ন সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক দায়ভারের অঙ্ক মেলাতেই এই সিদ্ধান্ত। ডিএ প্রসঙ্গে অতীতের টানাপড়েন টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তৈরি হিসেব বলছে কর্মীদের ১২ হাজার কোটি টাকা মতো প্রাপ্য ছিল। আগের সরকার কিছুটা দিয়ে গিয়েছিল। আমরা আসার পরেও কিছুটা দিয়েছি। তিন-সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা মতো দিলে সরকারি কর্মচারীদের বিষয়টা নিষ্পত্তি হবে।” তবে সরকারি কর্মীদের টাকা দ্রুত মিটলেও সাহায্যপ্রাপ্ত বা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও কিছুদিন। আদালতের তৈরি বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের উপরেই তাঁদের ভাগ্য নির্ভর করছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর এই কমিটির সদস্যদের কলকাতায় এসে সমস্ত পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মীদের দাবি খারিজ না করে সরকার যে পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চাইছে, তা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমরা মনে করি ডিএ কর্মচারী থেকে শুরু করে শিক্ষক সবার অধিকার। আমরা ২০ শতাংশ ডিএ সবাইকে দিয়েছি। সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ব্যাপারে কমিটি যা বলবে আমরা সেই ধরনের ব্যবস্থা নেব। কিন্তু নীতিগতভাবে আমরা মনে করি মহার্ঘভাতা সবার অধিকার।”

    আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মীরা

    রাজ্য মন্ত্রিসভায় সপ্তম বেতন কমিশন তৈরির ছাড়পত্র মেলায় আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পুরসভা, পঞ্চায়েত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অশিক্ষক কর্মীরাও। কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতন ফারাক কমাতে পে কমিশনের রূপরেখা তৈরির কাজ এগোচ্ছে। তবে এই বিরাট অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের পাশাপাশি রাজ্য যে অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও টান পড়তে দিচ্ছে না, সে কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা দীপাবলির আগে মানে ৭ তারিখের আগে ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা, লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা এবং ১ কোটি ৬৫ লক্ষ প্রাপককে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

  • Voter ID for Panchayat: পঞ্চায়েতের কল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার নয়, এবার ভোটার কার্ড! সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক যাচাই

    Voter ID for Panchayat: পঞ্চায়েতের কল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার নয়, এবার ভোটার কার্ড! সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক যাচাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ এলাকার কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। এবার থেকে আধার কার্ডের পরিবর্তে ভোটার পরিচয়পত্র বা EPIC-কে উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রধান নথি হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ভোটার কার্ড (Voter ID for Panchayat) থাকলেই হবে না, আর্থিক সুবিধা ও সরকারি অনুদান পেতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বায়োমেট্রিক যাচাইও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর এবং বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ প্রয়োজন হবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই দ্বৈত যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।

    আধারের পরিবর্তে ভোটার কার্ড কেন?

    নতুন ব্যবস্থার পিছনে পরিচয় যাচাইয়ের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র। দ্রুত নথি তৈরি বা পরিচয় সংক্রান্ত অনিয়মের সম্ভাবনা রুখতে আরও শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। ভোটার কার্ডের তথ্যের সঙ্গে শারীরিক বায়োমেট্রিক যাচাই যুক্ত হলে উপভোক্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশজুড়ে নতুন করে চালু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা (PM VGSY)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযানকে প্রতিস্থাপন করবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    গ্রামীণ উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পে জোর

    পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক সরাসরি কৃষি বা আবাসন প্রকল্পের মতো নগদ আর্থিক অনুদান প্রদানকারী মন্ত্রক না হলেও গ্রামীণ প্রশাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা এবং স্বামিত্ব (SVAMITVA) প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বামিত্ব প্রকল্পের আওতায় ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রামের বসতবাড়ি ও জমির মানচিত্র তৈরি করে বাসিন্দাদের সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জমি সংক্রান্ত বিবাদ কমার পাশাপাশি নিজেদের সম্পত্তির ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েত উন্নয়ন পরিকল্পনা বা জিপিডিপি-র মাধ্যমে পানীয় জল, নিকাশি, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তার আলো-সহ বিভিন্ন স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি eGramSwaraj এবং PANCHAM-এর মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি কাজকর্মের স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্বচ্ছতা বাড়ানোই লক্ষ্য, কবে থেকে কার্যকর?

    কেন্দ্রের দাবি, ভোটার পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ যুক্ত হলে গ্রামীণ এলাকার উপভোক্তাদের তথ্যভাণ্ডার আরও নির্ভুল ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। nএদিকে, গ্রামীণ উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে নিজেদের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানোর উপরেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে নতুন পরিচয় যাচাইকরণ ব্যবস্থা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে এবং বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যগুলির জন্য এই সংক্রান্ত বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

  • Agniveer: অগ্নিবীরদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! আরও ২ বছর বাড়ল চাকরির মেয়াদ, মিলবে সেনায় স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ

    Agniveer: অগ্নিবীরদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! আরও ২ বছর বাড়ল চাকরির মেয়াদ, মিলবে সেনায় স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগ্নিবীরদের (Agniveer) জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। চার বছরের নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও দু’বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন অগ্নিবীররা। শুধু তাই নয়, এই অতিরিক্ত দু’বছরের মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নির্বাচনী মাপকাঠি পূরণ করতে পারলে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে স্থায়ীভাবে নিয়োগের সুযোগও মিলবে তাঁদের। বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামণি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই প্রথম ব্যাচের প্রায় ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে ধাপে ধাপে অব্যাহতি দেওয়ার কথা ছিল। হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চার বছরের মেয়াদ শেষ করে প্রায় ১৮,৩০০ অগ্নিবীরের সেনাবাহিনী ছাড়ার কথা ছিল।

    অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কী জানালেন সিডিএস?

    বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামণি জানান, চার বছরের কাজের অভিজ্ঞতা এবং কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করে অগ্নিবীরদের সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিডিএস বলেন, “প্রাথমিকভাবে ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে রাখার পরিকল্পনা ছিল। এবার বাকি ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকেও আরও দু’বছরের জন্য কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।” এই বর্ধিত সময়ের জন্য তাঁদের পারিশ্রমিকও আগের তুলনায় বেশি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত দু’বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যাঁরা নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী, তাঁদের সকলকেই নির্দিষ্ট বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠ নির্বাচনী মাপকাঠি পূরণ করতে হবে।

    মোদি সরকারকে ধন্যবাদ রাজনাথের

    কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই অতিরিক্ত দু’বছরের চাকরির মেয়াদকে ‘সেকেন্ড ট্যুর অফ ডিউটি’ (Second Tour of Duty) বলে উল্লেখ করেছেন। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য, চার বা ছ’বছরের মেয়াদ শেষে নির্ধারিত নির্বাচনী মাপকাঠি পূরণ করতে পারলে ইচ্ছুক অগ্নিবীরদের নিয়মিত সেনা হিসেবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তরুণ, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ। বদলে যাওয়া যুদ্ধের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই এর লক্ষ্য।

    কী এই অগ্নিপথ প্রকল্প?

    ২০২২ সালের জুন মাসে ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় নিয়োগের জন্য অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় অগ্নিবীরদের চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়। চার বছরের মেয়াদ শেষে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে আরও ১৫ বছরের জন্য রাখার ব্যবস্থা ছিল। বাকি ৭৫ শতাংশকে অব্যাহতি দেওয়ার নিয়ম ছিল। তবে এই নিয়োগ পদ্ধতি চালুর পর থেকেই চাকরির মেয়াদ কমে যাওয়া এবং নিয়মিত সেনাকর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌসেনায় মোট প্রায় ২৪,৪০০ জন অগ্নিবীর নিয়োগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে প্রায় ১৯ হাজার, বায়ুসেনায় ২,৮৫০ এবং নৌসেনায় ২,৫৫০ জন যোগ দিয়েছিলেন। এবার কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তে প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের পাশাপাশি ভবিষ্যতের নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও পরিষেবার মেয়াদ ও নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল।

  • US Midterm Election: মার্কিন কংগ্রেসে ধাক্কা ট্রাম্পের! ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভারতের জন্য কী কী নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল?

    US Midterm Election: মার্কিন কংগ্রেসে ধাক্কা ট্রাম্পের! ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভারতের জন্য কী কী নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল ডেমোক্র্যাটরা। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান দলের কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা।

    মানুষের ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প

    মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনীতির অস্থিরতা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং সরকারি স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ—একাধিক ইস্যুতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে। আর এই ফলাফলের দিকে বিশেষ নজর ছিল ভারতেরও। কারণ, গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের রফতানি ও অর্থনীতিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের সমস্ত জটিলতা যে রাতারাতি মিটে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

    ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম, বাড়বে সিদ্ধান্তে বাধা?

    ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়তে পারে কংগ্রেসের নজরদারি। তদন্ত, শুনানি, বাজেট সংক্রান্ত ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নজরদারির মাধ্যমে ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতির রাজনৈতিক মূল্য বাড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও চাপে পড়তে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    বাণিজ্য ও শুল্কনীতি: ভারতের জন্য কি মিলবে স্বস্তি?

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম বাণিজ্য। ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্কনীতির জেরে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একসময় ভারতীয় পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সেই শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং ভারতীয় কৃষিপণ্যের বাজারে মার্কিন প্রবেশাধিকার—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসে এবার মার্কিন ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে ভারতের উপর শুল্কের চাপ কমানোর বিষয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটরাও সব ক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্যের সমর্থক নন। তাই অবিলম্বে শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এখনও স্পষ্ট নয়।

    রুশ তেল আমদানি: চাপ কি কমবে ভারতের উপর?

    রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের উপর একাধিকবার চাপ তৈরি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। রুশ তেল কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪৪ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে রুশ তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় আপাতত ভারতের উপর মার্কিন চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

    এইচওয়ান বি ভিসা: ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য আশার আলো?

    ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এইচওয়ান বি ভিসা। নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচওয়ান বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব ঘিরে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ফেডারেল আদালত এই ফি কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) ফি ছাড়াই জমা পড়া কিছু আবেদন অনুমোদন করতে শুরু করেছে। এবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের উপর বিধিনিষেধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগে এই নীতির প্রভাব খতিয়ে দেখা হতে পারে। ফলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও অভিবাসন নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনও প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা: বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দুই দেশ ১০ বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। এর আওতায় কৌশলগত সহযোগিতা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের বিষয়গুলি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ভারত ও আমেরিকার অভিন্ন উদ্বেগ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। আমেরিকায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন রয়েছে। তাই কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও এই ক্ষেত্রে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    ভারতের জন্য কৌশলগত সুবিধা, নাকি বাড়বে অনিশ্চয়তা?

    মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ভারতের সামনে আলোচনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সমস্ত নীতি যে বদলে যাবে, তা নয়। বাণিজ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার, অভিবাসন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক—এই বিষয়গুলিতে দুই দেশের মতপার্থক্য থেকেই যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে ভারতের বিদেশনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করা উচিত নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প অংশীদারিত্ব বাড়ানো, দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উপর জোর দিতে হবে। সব মিলিয়ে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ভারতের জন্য তা আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করলেও ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ নীতির অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটবে না। এটাই ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

  • Nirmala Attacks Rahul: ‘বিতর্কের জন্য সংসদ তো রয়েছেই’, মক-পার্লামেন্ট নিয়ে রাহুলকে তোপ নির্মলার

    Nirmala Attacks Rahul: ‘বিতর্কের জন্য সংসদ তো রয়েছেই’, মক-পার্লামেন্ট নিয়ে রাহুলকে তোপ নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এবার সেই চ্যালেঞ্জের পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Attacks Rahul)। তাঁর প্রশ্ন, বিতর্কের জন্য আলাদা জায়গা খোঁজার প্রয়োজন কী? সংসদ তো রয়েছেই। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর উপস্থিত থাকার কথা। গত ৩ নভেম্বর সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেন নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। তিনি লেখেন, “রাহুলজি, আপনি প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের জন্য একটি জায়গা বেছে নিতে বলছেন। সেই জায়গা তো আগে থেকেই রয়েছে—সংসদ, যেখানে আপনি বিরোধী দলনেতা।”

    সংসদে বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান

    নির্মলা সীতারামন তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং ইভিএম নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন অমিত শাহ। সেই প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন, সংসদের বাইরে বিতর্কে এত আগ্রহ থাকলেও সংসদের ভিতরে আলোচনায় অংশ নিতে একই রকম উৎসাহ দেখা যায় না কেন? তাঁর অভিযোগ, সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার পর সেই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাংসদরা বারবার অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন। কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের বিরুদ্ধে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। এর ফলে সংসদের একাধিক দিনের কাজকর্ম কার্যত ভেস্তে গিয়েছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

    মক পার্লামেন্ট নিয়ে কটাক্ষ নির্মলার

    সীতারামনের কথায়, “উত্তর দাবি করার পাশাপাশি সেই উত্তর শোনার দায়িত্বও রয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, সংসদে আলোচনা চলতে না দিয়ে কীভাবে বিতর্কের দাবি জানানো যায়? সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত মক পার্লামেন্ট নিয়েও কটাক্ষ করেন নির্মলা। তাঁর মতে, সেটি মক পার্লামেন্টের চেয়ে সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতি উপহাসই বেশি ছিল। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার কথা বলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আচরণেও তার প্রতিফলন থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণও পেশ করুন’

    শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, রাহুল গান্ধীর অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর দাবি, একের পর এক অভিযোগের তালিকা তৈরি করলেই তা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সামনে আনতে হবে। সীতারামন বলেন, “আপনি যে বিষয়গুলি নিয়ে অভিযোগ তুলছেন, সেগুলির নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেশ করুন। একগুচ্ছ অভিযোগ একসঙ্গে তুলে ধরলেই আপনার বক্তব্যের জোর বাড়বে না।” রাহুল গান্ধীর বহুল ব্যবহৃত স্লোগান ‘ডরো মত’-এর প্রসঙ্গ টেনেও তাঁকে কটাক্ষ করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভয় না পেয়ে তথ্য সামনে আনুন, প্রশ্নের মুখোমুখি হন এবং সংসদে থেকে সরকারের জবাব শুনুন।

    কী বলেছিলেন রাহুল গান্ধী?

    উল্লেখ্য, নির্মলা সীতারামনের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জের পর। বিদেশি যোগ, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্স-এ নিজের পোস্টে রাহুল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের জন্য যে কোনও জায়গা বেছে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানানোর পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। তিনি প্রস্তাব দেন, দুই নেতা মুখোমুখি বসে আলোচনা করুন। সেখানে সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি দেশের যুবসমাজও উপস্থিত থাকবে। এমনকী, বিতর্কের বিচারক হিসেবে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নামও প্রস্তাব করেন তিনি। এছাড়াও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকে না জানিয়েই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আদানি মামলা এবং এপস্টিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাব চান তিনি। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানির মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫টি মামলা রয়েছে। বিদেশি যোগ নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী চাইলে আরও একটি মামলা করতে পারেন বলেও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। রাহুলের বক্তব্য, “সত্য সামনে আসুক। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাক।” ফের ‘ডরো মত’ স্লোগান তুলে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানান তিনি।

    নির্মলা বনাম রাহুল

    এর আগে কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তার প্রেক্ষিতে সমাজমাধ্যমে নির্মলা স্পষ্ট বলেছেন, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক যখন এনডিএ সরকারের হাতে আসে, তখন ব্যাঙ্কের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। ধুঁকছিল ব্যাঙ্ক। এই পরিস্থিতির জন্য কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নির্মলার দাবি, নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলেই আইডিবিআই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নির্মলার অভিযোগ, কংগ্রেস ব্যাঙ্ককে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করত। যখন ইচ্ছা-যাকে ইচ্ছা ঋণ দিয়ে দিত। এমনকী কর্মীদেরও চাপ দেওয়া হত।” অর্থমন্ত্রী সাফ বলে দেন, কংগ্রেস জমানায় আইডিবিআইকে একপ্রকার বাধ্য করা হয় বিভিন্ন ডুবে যাওয়া সংস্থায় বিনিয়োগ করাতে। রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স পোস্টে অভিযোগ করেছেন, টাটা গোষ্ঠীকে অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ দেশের কোনও শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী নেতা এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। রাহুলের এই আক্রমণের জবাবে নির্মলা সীতারামন তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। প্রতিটি বিষয়কে রাজনীতির রং দেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, কোনও বাণিজ্যিক বা আইনি বিরোধকে প্রমাণ ছাড়াই অপরাধমূলক বলে চিহ্নিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আর এবার, সংসদের ভিতরে বিতর্কের মঞ্চ বনাম সংসদের বাইরে প্রকাশ্য বিতর্ক—এই দুই অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে নির্মলা ও রাহুল তথা বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে।

     

     

     

     

     

     

  • Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! শরীরের পাশপাশি মনের ক্ষত বাড়ছে! ভারতীয় পুরুষদের জীবন যাপনের ধরনের জেরেই ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্য সঙ্কট। তাই শরীর ও মনের সমান খেয়াল রাখা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। নভেম্বর মাস জুড়ে পু্রুষদের স্বাস্থ্যের সঙ্কট নিয়ে একাধিক কর্মশালার পরিকল্পনা করছেন চিকিৎসকদের সংগঠন‌।

    কোন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে গত কয়েক দশকে মূলত দুটো স্বাস্থ্য সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এক, অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। দুই, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা! এই দুই রোগের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ অসচেতনতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। সমস্যা সম্পর্কে না জানা এবং তাকে অবহেলা করার জেরেই দিনের পর দিন পরিস্থিতি জটিল হয়। বড় বিপদ তৈরি হয়।

    কোন অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হারে অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে। আর এই অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,‌ লিভারের অসুখের মতো একাধিক জটিল সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে।
    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একাধিক পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, ভারতীয় পুরুষদের মৃত্যুর কারণ হিসাবে সবচেয়ে বেশি হলোৎঅসংক্রামক রোগ। আর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়সি ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থুলতার মতো নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই ধরনের সমস্যা হৃদরোগ, কিডনির অসুখ, লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    কেন অসংক্রামক রোগে ভারতীয় পুরুষেরা আক্রান্ত হচ্ছেন?

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠছে। যা একাধিক অসংক্রামক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারের অভ্যাস, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করছে। আবার অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় মেদ বাড়াচ্ছে। ফলে, স্থুলতার মতো সমস্যা তৈরি করছে। যা পরবর্তীতে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, লিভারের অসুখের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।

    অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করে। দিনের অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকার কারণ অনেক সময়েই ভারতীয় পুরুষদের খাবারে নির্দিষ্ট সময় থাকে না। খাবার খাওয়ার সময়ের ব্যবধান অনেক সময়েই বেশি হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খাওয়ার জেরে হজমের সমস্যা সহ একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    শারীরিক কসরতের জন্য কম সময় বরাদ্দ!

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শারীরিক কসরতের প্রতি অনীহা বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনে অন্তত আধ ঘণ্টাও শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটির জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় নির্দিষ্ট জায়গায় বসে কাজ হচ্ছে। অধিকাংশ সময় ল্যাপটপে চোখ রেখেই চলে যাচ্ছে।‌ এর ফলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অপর্যাপ্ত বিশ্রাম!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুম অধিকাংশের হয় না। এখন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জেরে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপরে আরও বেশি চাপ পড়ে। যার ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ু আরও ক্লান্ত হয়ে যায়। ফলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি হয়‌।

    কেন ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    ভারতীয় পুরুষদের শরীরের পাশপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা এবং অবসাদের মতো নানান মানসিক সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরেই অনেকে চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ভারতে আত্মহত্যার ঘটনা যে হারে বাড়ছে, সেটা অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে এনসিআরবি-র তথ্য?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারতে পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিলো প্রায় ৯৭ হাজার। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি।‌ প্রত্যেক বছর উদ্বেগজনক হারে আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ!
    পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় কম বয়সি পুরুষদের মধ্যেই শুধু নয়। মধ্যবয়সি ও প্রৌঢ়দের মধ্যেও ক্রমশ আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার জেরেই এই বিপদ ক্রমশ বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    কেন বাড়ছে মানসিক সঙ্কট?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক চাপ ভারতীয় পুরুষদের মানসিক সঙ্কট তৈরির অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পুরুষদের সফল হওয়ার বাড়তি বোঝা নিয়ে চলতে হয়। কর্মজীবনের ধরণ বদলে যাচ্ছে। সুনিশ্চিত দীর্ঘ চাকরির পরিবর্তে প্রতি নিয়ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনিশ্চিয়তা দেখা দিচ্ছে। লাগাতার পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মজীবনের চাপের ফলেই ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ, হতাশা, অবসাদ তৈরি হচ্ছে।
    তবে, ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতাও চিন্তার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় পুরুষেরা হতাশা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে চান না।‌ এই ধরনের সমস্যায় প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে, একাধিক বড় বিপদ আটকানো সম্ভব, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ ক্রমশ বাড়ছে।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ভারতীয় পুরুষদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনের ধরনে বদল জরুরি। অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা দরকার।‌ আবার বিশ্রাম যাতে পর্যাপ্ত হয় সেটাও নিশ্চিত জরুরি। নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পাশপাশি শারীরিক কসরত নিয়মিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য রাখতে হবে। সেটা গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা বা বই পড়া এমনকি বাগান তৈরি, যেকোনো কাজ হতে পারে। এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমবে।‌ একঘেয়েমি আসবে না। ফলে শরীর ও মন ভালো থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share