Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল ক্রীড়া সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসের আগে নেপালের বক্সিং দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে ভারত। স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (SAI) গুয়াহাটি ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে (NCOE) দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমানের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিয়েছেন নেপালের বক্সাররা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে শুরু হতে চলেছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। তার আগে নেপাল বক্সিং ফেডারেশনের অনুরোধে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাত জন বক্সার এবং দুই জন কোচ নিয়ে নেপালের দলটি গত ১০ আগস্ট থেকে গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শিবির শেষ করে এখান থেকেই সরাসরি জাপানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাদের।

    নেপালের দলে ৭ বক্সার

    নেপাল দলের সাত বক্সার হলেন রামিশা শ্রেষ্ঠা, অস্মিতা দুওয়াল, কুসুম তামাং, চন্দ্র বাহাদুর থাপা, খগেন্দ্র রোকা মাগার, দান বাহাদুর দারলামি এবং রবিন নেপাল। তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সাই-এর কোচ নরেন্দ্র রানা, ত্রিদীপ বোরা এবং প্রণমিকা বোরার তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁদের প্রশিক্ষণ। বক্সারদের টেকনিকের উন্নতি, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার জন্য মানসিকভাবে তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মেঘালয়ের বক্সারদের সঙ্গে নেপালের খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও স্প্যারিংয়ের সুযোগ। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের বক্সিং স্টাইল ও কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নেপালের বক্সাররা। নেপালের বক্সার রামিশা শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, গুয়াহাটিতে কঠোর অনুশীলন এবং দক্ষ ভারতীয় বক্সারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসের আগে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কঠোর হয়েছে। অসাধারণ ও দক্ষ বক্সারদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি। ফলে এশিয়ান গেমসের জন্য আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত।” ভারতীয় খেলোয়াড় ও সাই-এর কর্মীদের আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন তিনি।

    ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক

    সাই-এর গুয়াহাটির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর ডি কে মিত্তল বলেন, প্রথমবার নেপালের বক্সিং দল গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছে। তাঁর আশা, এই শিবির থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা জাপানে নেপালের বক্সারদের ভাল ফল করতে সাহায্য করবে। তিনি জানান, শিবির চলাকালীন প্রায় পাঁচ দিনের একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছিল, যা ভারত ও নেপাল—দুই দেশের বক্সারদেরই উপকৃত করেছে। সাই (SAI)-এর উপর কোনও আর্থিক বোঝা না রেখেই এই শিবির পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াত, ভিসা, চিকিৎসা বিমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করছে নেপাল বক্সিং ফেডারেশন। নেপালের বক্সারদের এই প্রশিক্ষণ শিবির শুধু এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেই সাহায্য করছে না, ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গুয়াহাটির গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে।

  • Rajouri Terror Module: রাজৌরিতে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি মডিউল ভাঙল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

    Rajouri Terror Module: রাজৌরিতে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি মডিউল ভাঙল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় লস্কর-ই-তৈবার (LeT)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ‘ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (OGW) নেটওয়ার্কের হদিশ পেয়ে তা ভেঙে দিল রাজৌরি পুলিশ। এই ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের লজিস্টিক সহায়তা, নিরাপদে যাতায়াত এবং অন্যান্য মাটির স্তরের সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন জাকির হুসেন, গুলাম হুসেনের ছেলে, রাজৌরির কোটচরওয়াল তেরিয়াথের বাসিন্দা; মোহাম্মদ আজম, আলি বাহাদুরের ছেলে, একই এলাকার বাসিন্দা; এবং মোহাম্মদ মুস্তাক, মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে, রাজৌরির উদান এলাকার বাসিন্দা।

    কীভাবে জঙ্গিদের সহায়তা

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পীর পাঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় একটি জঙ্গি মডিউলের তদন্তের সময় এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, ধৃতরা জঙ্গিদের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করতেন। এমনকি তাঁরা গাইড হিসেবে কাজ করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে কাশ্মীর উপত্যকার দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক হাই-প্রোফাইল হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদেরও তাঁরা প্রাথমিক স্তরে সহযোগিতা করেছেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। এর মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার ঘটনাও রয়েছে।

    এই মডিউলের সম্পূর্ণ পরিধির খোঁজ চলছে

    তদন্তের সময় এক অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা ওই বিস্ফোরকটি ধৃত ব্যক্তির হাতে নিরাপদে রাখার জন্য তুলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তা কোনও নির্দিষ্ট হামলায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ। আইইডি উদ্ধারের পাশাপাশি তিনজনের গ্রেফতারি পীর পাঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছে রাজৌরি পুলিশ। এখন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং জঙ্গি কার্যকলাপে এই মডিউলের সম্পূর্ণ পরিধি কতটা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জঙ্গিদের সহযোগী কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাজৌরি পুলিশ। তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

  • Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। নন্দীগ্রামে  (Nandigram By Poll)  হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে (Rejinagar By Poll) শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। মঙ্গলবার হলদিয়ায় হাসিরানি রথকে পাশে নিয়ে একটি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের দায়িত্ব আমার। এখানকার সকলের মাথায় ছাদ, হাতে কাজ, পেটে ভাত আমার অঙ্গীকার। আমি পূরণ করবই।” জয় যে নিশ্চিত তা বুঝিয়ে শুভেন্দু বললেন, “আমি ভোট করাতে জানি, এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, কেউ ভাবতে পারেনি। এবারও এমন মার্জিনে জিতব কেউ ভাবতে পারছেন না।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বললেন, “ওর পাড়ায় গিয়ে ওকে হারিয়ে দিয়ে এসেছি।”

    মনোনয়ন জমা, জানকীনাথ মন্দিরে পুজো

    মঙ্গলবার বিশাল মিছিল ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান তিনি। তার আগে এদিন সকালে নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিখ্যাত জানকীনাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রথম অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হাসি রানি রথ। তিনি বলেন, “প্রথম অনুভূতি বলতে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আমার সমস্ত কর্মী, বিজেপির কর্মীরা এবং সংগঠনকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ ভালোবাসা এবং বড়দের জানাই প্রণাম। দল আমাকে প্রার্থী করেছে, কিন্তু এখানকার সংগঠন আমার সঙ্গে রয়েছে। আমি সবার সহযোগিতা চাইব, যাতে নন্দীগ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।” মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামের সঙ্গে আছেন, আমাদের সঙ্গে আছেন। শুধু আমার সঙ্গে নয়, নন্দীগ্রামবাসীর সঙ্গে শুভেন্দু বাবু যে আছেন, সেটাই আজ সবার সবচেয়ে বড় পাওনা।”

    হাসিরানি রথ নতুন মুখ নয়

    গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি কেন্দ্র থেকে জেতার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রাখেন এবং নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরও একটি আসন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। ফলে দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন হচ্ছে। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে আগে থেকেই বিজেপির অন্দরে জল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকেই টিকিট দিল দল। হাসিরানি রথ হলেন বিজেপির প্রয়াত নেতা এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। এর আগে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পরিবারের অভিভাবক। তিনি কোনও দায়িত্ব দিলে তা গ্রহণ করবেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।

    ১ লক্ষের বেশি ভোটে জয় লাভের আশা

    চন্দ্রনাথ রথকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁকে গাড়ির মধ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। এবার সেই পরিবারের হাসিরানি রথকেই ভোটের ময়দানে নামাল বিজেপি। তবে রাজনৈতিক মাঠে হাসি রানি রথ মোটেও নতুন মুখ নন। ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।  ভোটে জয়ের মার্জিন কত হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে হাসিরানি জানান, সংগঠনের সঙ্গে বসে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দলের মূল লক্ষ্য যে নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে জয়লাভ করা, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

    রেজিনগরের প্রার্থী নির্বাচনেও চমক

    অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের বিজেপির পরিচিতি মুখ শাখারভ সরকার। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। কয়েকমাস আগেই বহরমপুরে রামমন্দিরের শিলান্যাসের সময়েও তাঁর নাম নিয়ে বিতর্ক চলেছিল। উপনির্বাচনে প্রার্থী করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাখারভ। বর্তমান রাজ্য বিজেপির পরিচিত মুখ তিনি। শাখারভ বহুদিনের বিজেপি কর্মী। তিনি মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এখন তাঁকে বিজেপি রেজিনগরে প্রার্থী করল। তাঁকেই কঠিন আসনে জয় ছিনিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। আর নয়া চ্যালেঞ্জ পেয়ে প্রত্যয়ী শাখারভ। তিনি বিশ্বাসী, ‘এবারের নির্বাচনে রেজিনগরের মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের জন্য তৈরি। ব্রিজ চাই ও কলেজ চাই। ডেভেলপমেন্ট চাই। সেই সংকল্প নিয়েই রেজিনগরের মানুষ ভোটদান করবেন। এখানকার মানুষ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ভোট দেবেন।’ হুমায়ুন কবীরের হোম গ্রাউন্ডে, তাঁরই ছেড়ে দেওয়া আসনে লড়াই। হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়বেন তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজাদ। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও, এই কেন্দ্রে লড়াই কঠিন হবে, বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের। এখন দেখার রেজিনগরের মানুষ কাকে বেছে নেন।

  • BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সাফল্য দেশবাসীর কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা ফের প্রমাণ করেছে। সফলভাবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজনের পর কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির আত্মবিশ্বাস এখন পাহাড়ের চূড়ায়। এমনই অভিমত রাজনৈতিক মহলের। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে জি-২০-র পর ফের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনকে মোদি সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। দলের আশা, এই সাফল্য নিট বিতর্ক ও ছাত্র আন্দোলনের ধাক্কা কাটিয়ে ফের বিজেপির জমি শক্ত করবে।

    ব্রিকসের বাজিমাত

    সফলভাবে ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজন ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাব ফের সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি। সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশকে ভারতীয় কূটনীতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ঘোষণাপত্রে পাহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দাও ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসের লাগাতার আক্রমণের জেরে সংসদের বাদল অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ওই অধিবেশনে সরকার কোনও বড় সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট পেশও পিছিয়ে দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সাফল্যে বিজেপি বাজিমাত করেছে বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

    ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিন

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বিজেপি। সম্মেলনের ফাঁকে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইরানের মধ্যে আলোচনা, ইরানের প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা এবং টানা তৃতীয় বছর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাকে কংগ্রেসও স্বাগত জানিয়েছে, যদিও দলের তরফে কিছু আপত্তি ও শর্তের কথা জানানো হয়েছে।

    ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আয়োজক দেশের নেতা হিসেবে তিন দিন ধরে ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সম্পর্ক এবং ব্যস্ত কর্মসূচি বিশেষ নজর কেড়েছে। তিন দিনে ১৫ জন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। পাশাপাশি একাধিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর ছিল আন্তর্জাতিক মহলের। বিজেপির মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত যে এই ধরনের বৃহৎ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষমতা রাখে, তাও প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারতের দাবিও আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছে দলটি।

    আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে ঘিরে দেশীয় রাজনৈতিক আবহ বদলে দেওয়া অবশ্য মোদি সরকারের জন্য নতুন ঘটনা নয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সফল জি-২০ সম্মেলনের সময়ও সরকারের বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। এর আগে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে রোডশো আয়োজনের ঘটনাও দেখা গিয়েছে। বিজেপির কাছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর এই কৌশল যথেষ্ট কার্যকর বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন ব্রিকসের সাফল্যকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই বিজেপি ও সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন।

    ব্রিকস নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা

    দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন থেকে শুরু হতে চলা এক মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এ ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তির বিষয়টিও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হবে। তাঁর বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক সাফল্যের তালিকায় ব্রিকস সম্মেলনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেছে বিজেপি। সম্মেলনের আগে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম ব্রিকস আয়োজন করে ভারতের কী লাভ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করে বিরোধীদের আক্রমণ করতে চাইছে বিজেপি।

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি এবং সম্মেলনের সাফল্য দেশজুড়ে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। একই সঙ্গে ব্রিকসের নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু নিয়ে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতাদের সমালোচনাকেও কটাক্ষ করছে বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, এত বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সমালোচনা করার মতো বিষয় না পেয়ে শুধুমাত্র নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি তোলাই বিরোধীদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যেই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সংসদ এখনও স্থগিত বা প্রোয়োগ করা হয়নি। ফলে প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা খোলা রয়েছে।

    বিধানসভা নির্বাচনে ব্রিকস নিয়ে প্রচার

    একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়েও আলোচনা চলছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন টিম গঠনের পর দলের সংসদীয় বোর্ড, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, জাতীয় কার্যনির্বাহী এবং জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে বিজেপি। এর পাশাপাশি আগামী বছরের গোড়ায় পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে দল।

  • PM Modi for Rajasthan: ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়’, রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপির সাফল্যে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi for Rajasthan: ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়’, রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপির সাফল্যে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজস্থানের পুর নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi for Rajasthan)। তাঁর দাবি, এই ফলাফল রাজ্যে বিজেপির ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সুশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন। সোমবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজস্থানের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ বিজেপিকে পুর নির্বাচনে (BJP’s Victory in Rajasthan Polls) বিপুল জয় এনে দেওয়ার জন্য। এটি মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়ের প্রমাণ।” মোদি আরও বলেন, এই নির্বাচনী রায়ের মাধ্যমে রাজস্থানের মানুষ ফের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা সুশাসন ও উন্নয়নের নীতির পাশে রয়েছেন। এই জনসমর্থন রাজ্যকে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি আনার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও জানান তিনি। বিজয়ী প্রার্থী এবং দলের কর্মীদেরও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

    অমিত শাহের অভিনন্দন

    রাজস্থানের পুর নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের জন্য রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের সুশাসন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন এই ফলাফল। শাহের দাবি, কংগ্রেসের ‘অপশাসন ও দুর্নীতি’ থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে বিজেপি সরকার উন্নয়নের গতি বাড়িয়েছে। রাজস্থানের মানুষ যে সমর্থন দিয়েছেন, তা ‘বিকশিত রাজস্থান’ গড়ার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডে জয় বিজেপির

    রাজস্থানের পুর নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। মোট ১০,২৪৫টি ওয়ার্ডের ফলাফলে বিজেপি জয় পেয়েছে ৪,১৭৯টি আসনে। কংগ্রেস পেয়েছে ৩,৬১৩টি আসন, আর নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে। চারটি পুরনিগম—জয়পুর, কোটা, উদয়পুর এবং ভিলওয়াড়ায় বোর্ড গঠনের পথে বিজেপি। অন্যদিকে বিকানের পুরনিগমে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস। তবে আজমের, যোধপুর, ভরতপুর, আলওয়ার ও পালি-সহ বেশ কয়েকটি পুরসভা ও পুরনিগমে কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে বোর্ড গঠনে নির্দল কাউন্সিলরদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    জয়পুরে বিজেপির বোর্ড গঠন প্রায় নিশ্চিত

    জয়পুর পুরনিগমে বিজেপি পেয়েছে ৭৮টি আসন, কংগ্রেসের দখলে এসেছে ৫৩টি, আর নির্দলরা জিতেছেন ১৫টি ওয়ার্ডে। ফলে জয়পুরে বিজেপির বোর্ড গঠন কার্যত নিশ্চিত। অন্যদিকে যোধপুর পুরনিগমে বিজেপি ও কংগ্রেস—দুই দলই ৪৪টি করে আসন পেয়েছে। ফলে সেখানে নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থনই বোর্ড গঠনে নির্ণায়ক হতে পারে। রাজ্যের ৪৭টি পুর পরিষদের মধ্যে বিজেপি ১২টিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে ৮টি পুর পরিষদে। বাকি ২১টি পুর পরিষদে কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া রাজ্যের ২৫২টি পুরসভার মধ্যে বিজেপি ৬৬টিতে, কংগ্রেস ৩৮টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। প্রায় ১২১টি পুরসভায় বোর্ড গঠনে নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী জুনপুটে ডিআরডিও-র (DRDO) নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ এবার বাস্তবায়নের পথে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মেলার পর এই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।

    চাঁদিপুরের বিকল্প নয়, পরিপূরক পরিকাঠামো

    ওড়িশার চাঁদিপুরে থাকা ডিআরডিও-র ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এর পরিপূরক হিসেবে জুনপুটে এই নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ডিআরডিও এই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নেয় বলে জানা গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রটি তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

    বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষণ পরিকাঠামো রয়েছে ওড়িশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে। চাঁদিপুর-অন-সি এলাকায় লঞ্চ কমপ্লেক্স-III এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে লঞ্চ কমপ্লেক্স-IV-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হয়। সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি জুনপুটে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোর উপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    দিঘা থেকে জুনপুটের দূরত্ব প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার। কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এই এলাকা প্রতিরক্ষা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    জমি-জট কাটিয়ে মিলল অনুমোদন

    এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পটিতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ডিআরডিও-র তরফে প্রকল্প নিয়ে চিঠি এলেও আগের সরকারের সময়ে তার জবাব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি অনুমোদন দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প হবে।”

    অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকল্পটি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকিরণ ও অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, জুনপুট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি রাজ্যসভাতেও তুলেছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

    পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও এই রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বদলাতে পারে শিল্পের ছবিও

    জুনপুটে ডিআরডিও-র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে স্থানীয় ও সহযোগী শিল্পের ক্ষেত্রে।

    ডিআরডিও-র মতো কৌশলগত জাতীয় সংস্থার পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ নির্মাণ, ধাতব কাঠামো, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও বন্দর। জুনপুট-হলদিয়া অঞ্চলের ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎপাদন, পরিবহণ এবং সরবরাহের জন্য ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাড়তে পারে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ

    প্রস্তাবিত কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ কারিগর, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি নির্মাণ, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাস্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয় ব্যবসা, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহযোগী ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

    গবেষণায় নতুন দরজা

    জুনপুট প্রকল্পের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য দিক হল উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা। ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণার সহযোগিতা তৈরি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, জুনপুটের ডিআরডিও পরীক্ষাকেন্দ্রকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো হিসেবে দেখলে এর সম্ভাব্য প্রভাবের পরিধি ছোট করে দেখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি জুনপুট-হলদিয়া করিডরকে ঘিরে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং তার সঙ্গে যুক্ত শিল্পনীতিই ঠিক করবে, এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

  • Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা সামরিক আক্রমণ শুরু করতেই সংঘাতের পরিধি বাড়ে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেই নিশানা করে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সেই অভিযানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল।

    ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পর ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র চার দিনের সামরিক সংঘাত। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ফাইটার জেট, এডব্লিউঅ্যান্ডসি ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে পাকিস্তানের চারটি বিমান হ্যাঙ্গারকে নিশানা করে আইএএফ। সেখানে যুদ্ধবিমান, এডব্লিউঅ্যান্ডসি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) প্ল্যাটফর্ম এবং আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (ইউসিএভি) রাখা ছিল।

    রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকোবাবাদে একাধিক এফ-১৬, একটি এডব্লিউঅ্যান্ডসি বিমান এবং আকিঞ্চি ও টিবি-২ শ্রেণির একাধিক ইউসিএভি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাক বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যাকোবাবাদ ছাড়াও ভোলারি, সুক্কুর ও মুরিদে থাকা হ্যাঙ্গারও হামলার নিশানায় ছিল।

    রানওয়েতেও নির্ভুল আঘাত

    পাকিস্তানের সারগোধা এবং রহিম ইয়ার খান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও হামলা চালায় আইএএফ। লক্ষ্য ছিল রানওয়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে ওই ঘাঁটিগুলিকে লাগাতার সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা কঠিন করে দেওয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে এই হামলার নির্ভুলতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করার আইএএফের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডেও আঘাত

    শুধু বিমান বা রানওয়ে নয়, পাকিস্তানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল পরিকাঠামোকেও নিশানা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চক্লালা এবং মুরিদে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চক্লালার পরিকাঠামো, কারণ সেখানে পাকিস্তান বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের সদর দফতর ছিল।অর্থাৎ, ভারতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা নয়; বরং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের পরিকাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া।

    আকাশ প্রতিরক্ষায় আইএসিসিএস-এর বড় ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের নিজস্ব ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সামরিক ও অসামরিক সমস্ত নজরদারি সেন্সরকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘কমন রিকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক আইএএফ নেটওয়ার্কড ট্যাকটিক্যাল নোডের মাধ্যমে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

    ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ‘এস-৪০০ কিল’!

    অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভবত এই ঘটনাটিই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন বিমানকে ধ্বংস করেরিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেডার নীরবে লক্ষ্যবস্তুটি ট্র্যাক করে এবং এস-৪০০-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তার ‘ফার বাউন্ডারি’ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়। অর্থাৎ, নজরদারি, ট্র্যাকিং, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপশন—এই গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়েই ওই হামলা সম্ভব হয়।

    বায়ুসেনার সদস্যদের সম্মান

    অপারেশন সিঁদুরের পর ১২ মে ২০২৫ এয়ারফোর্স স্টেশন আদমপুরে গিয়ে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের সাহস ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরে ১৫ অগস্ট ২০২৫ অপারেশন সিঁদুরে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ২১৯ জন সদস্যকে প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর শুধু জঙ্গি ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন পরিকাঠামো এবং এয়ার ডিফেন্স কমান্ড—সমগ্র সামরিক নেটওয়ার্ককেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিল ভারত।

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

  • 80s Style AI Photo: ৮০-এর দশকের AI ছবি সাময়িক, কিন্তু আপনার আসল ছবি কোথায় থাকে?

    80s Style AI Photo: ৮০-এর দশকের AI ছবি সাময়িক, কিন্তু আপনার আসল ছবি কোথায় থাকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : সামাজিক মাধ্যমে ফের জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ’৮০-এর দশকের নস্টালজিক লুকে (80s Style AI Photo) এআই-নির্মিত ছবি। নিজের বর্তমান ছবি আপলোড করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিজেকে পুরনো সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল বা ভিনটেজ গাড়ির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এর আগে ‘ঘিবলিফাই’-এর মতো এআই-নির্ভর ছবির ট্রেন্ডও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের ছবি তৈরির সময় ব্যবহারকারীরা যে ব্যক্তিগত তথ্য এআই প্ল্যাটফর্মের হাতে তুলে দিচ্ছেন, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এনিয়ে চিন্তাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ছবি শুধু একটি ছবি নয়—এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে একাধিক তথ্য।

    ছবির সঙ্গে যায় আরও অনেক তথ্য

    স্মার্টফোনে থাকা ছবিতে কখন সেটি তোলা হয়েছে, কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনও ক্ষেত্রে কোথায় ছবি তোলা হয়েছে—এ ধরনের মেটাডেটা থাকতে পারে। আর কোনও ছবিতে ব্যক্তির মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলে সেটি ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবু ধাবির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা পপার-বলেছেন, এআই সিস্টেমে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি একাধিক স্তরে ঘটতে পারে। ব্যবহারকারী কী লিখছেন এবং কী ছবি বা ফাইল আপলোড করছেন, তার পাশাপাশি সেশন-সংক্রান্ত তথ্য, যেমন আইপি ঠিকানা ও ডিভাইসের ধরনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হতে পারে। সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ থেকে কিছু তথ্য অনুমান করাও সম্ভব। ফলে কোনও জনপ্রিয় ট্রেন্ডে অংশ নিতে একটি ছবি আপলোড করলেও ব্যবহারকারী অজান্তেই ছবির বাইরের আরও কিছু তথ্য এআই পরিষেবার কাছে তুলে দিতে পারেন।

    মূল ছবি থেকে যেতে পারে

    এআই দিয়ে তৈরি ’৮০-এর দশকের ছবিটি হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমের ফিড থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু সেই ছবি তৈরির জন্য আপলোড করা মূল ছবিটি কতদিন এআই সংস্থার সার্ভারে থাকবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ নীতির ওপর। বিভিন্ন এআই পরিষেবার তথ্য সংরক্ষণের সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি-তে চ্যাট ব্যবহারকারী নিজে মুছে না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ওপেন এআই-এর সার্ভারে তা ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে দেওয়া তথ্য আরও দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। জেমিনাই-এর ক্ষেত্রে চ্যাট ডেটা ডিফল্টভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের কথা রয়েছে। ক্লড-এ মুছে দেওয়া চ্যাট সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে অ্যানথ্রোপিক-এর ব্যাক-এন্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ব্যবহারকারী যদি নিজের চ্যাটকে মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন, তাহলে পরিচয়বিহীন কপি দীর্ঘ সময়—সর্বোচ্চ পাঁচ বছর—সংরক্ষিত থাকতে পারে।

    এর অর্থ ছবি ফাঁস হবেই, এমন নয়

    তবে কোনও এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার অর্থ এই নয় যে সেই ছবি অবশ্যই ফাঁস হবে বা অপব্যবহার করা হবে। মূল বিষয়টি হল, ব্যবহারকারীর মুখের আরেকটি ডিজিটাল কপি তখন সংশ্লিষ্ট এআই সংস্থার সার্ভারে রয়েছে এবং সেটি সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতির আওতায় চলে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যবহারকারী কী ধরনের ছবি আপলোড করছেন এবং কী বিষয়ে এআই-কে প্রশ্ন করছেন—এই তথ্যের ধারাবাহিকতা থেকে তার অভ্যাস, আগ্রহ বা পেশা সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হতে পারে। নাম বা সরাসরি পরিচয় না থাকলেও এই ধরনের তথ্যের সমন্বয়ে একজন ব্যবহারকারীর একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এআই পরিষেবাগুলো এখন ই-মেল, কেনাকাটা, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে ক্রমশ বেশি যুক্ত হচ্ছে। ফলে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে থাকা ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্বও বাড়ছে।

    কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এআই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে—

    পরিচয়পত্র বা অত্যন্ত ব্যক্তিগত নথির ছবি এআই চ্যাটবটে আপলোড না করা।
    শিশু বা অন্য ব্যক্তির ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া আপলোড না করা।
    যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে এআই মডেল প্রশিক্ষণে নিজের ডেটা ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ রাখা।
    সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে সাময়িক বা প্রাইভেট চ্যাটের সুবিধা ব্যবহার করা।
    প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে পুরনো চ্যাট ও আপলোড করা ফাইল মুছে ফেলা।
    কোনও এআই অ্যাপে ছবি আপলোড করার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডেটা ব্যবহারের নীতি ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম দেখে নেওয়া।

    এআই চ্যাটবটকে অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত অ্যাপের তুলনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি বিপজ্জনক বলা যায় না। তবে ব্যবহারকারীদের মনে রাখা জরুরি—এআই পরিষেবায় আপলোড করা তথ্য ব্যক্তিগত হলেও তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিবেশে থাকে না। তাই শুধুমাত্র কয়েক সেকেন্ডের মজার ছবি তৈরির জন্য ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করাই নিরাপদ।

     

     

     

     

     

  • BRICS Summit 2026: জি-৭-কে পুতিনের কটাক্ষ, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশ

    BRICS Summit 2026: জি-৭-কে পুতিনের কটাক্ষ, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির অর্থনৈতিক শক্তির প্রশংসা করে জি-৭-কে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করেছে ব্রিকস দেশগুলি। সেখানে জি-৭-এর অবদান ২৯ শতাংশ। পুতিন বলেন, একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোট বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলি থেকে। জি-৭-এর ক্ষেত্রে এই অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, ব্রিকস দেশগুলির জনসংখ্যা বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি। ফলে এই দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বাজারও অত্যন্ত বড় এবং গতিশীল। জি-৭-কে ‘তথাকথিত জি-৭’ বলেও কটাক্ষ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। জি-৭-এর সদস্য হল আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান।

    রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমী দেশগুলির আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব হন পুতিন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৩০ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। পুতিন বলেন, এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়া সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে ‘নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য’ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বিশ্ব অর্থনীতির গড় বৃদ্ধির হারের তুলনায় বেশি ছিল।

    আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা নীতির সমালোচনা

    আমেরিকার সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলির বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা গৌণ নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা কখনও কখনও ‘কুৎসিত রূপ’ নেয়। পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডর অবরুদ্ধ করার চেষ্টা, সামুদ্রিক জাহাজ আটক এবং নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ না করা দেশগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে তিনি সেই প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    ‘পুরনো অর্থনৈতিক শক্তির জায়গা নিচ্ছে নতুন ইঞ্জিন’

    পুতিনের বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে যেসব দেশ বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল, তাদের জায়গায় ধীরে ধীরে নতুন অর্থনৈতিক শক্তিগুলি উঠে আসছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পশ্চিমী দেশগুলির এখনও উন্নত পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো এবং শক্তিশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতি স্থির নয়—সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে তার চরিত্রও পরিবর্তিত হয়। শুক্রবারই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন।

LinkedIn
Share