Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরানকে শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য প্রায় ৪০০টি এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার (MANPADS) পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিন। একইভাবে পাকিস্তানও এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান হয়ে ইরানের কাছে প্রথম চালান পৌঁছতে পারে। চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় চিনের তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (MANPADS) কেনার কথা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি হংকং-ভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। যদি এই সরবরাহ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে ইরানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ইসলামাবাদ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে পাকিস্তান ইরানকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল যে, মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান তাদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।”

    ট্রাম্পের হতাশার সুর

    ইরানের কাছে চিনের অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি চিন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তিনি অত্যন্ত হতাশ হবেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বেজিং এই সংঘাতে জড়াবে না। ট্রাম্পের কথায়, “তিনি (শি জিনপিং) খুব দৃঢ়ভাবে আমাকে বলেছেন যে তাঁরা এতে অংশ নেবেন না। যদি তাঁরা তা করেন, তাহলে আমি অবশ্যই হতাশ হব। তিনি সম্ভবত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন।” এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিনপিং তাঁকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে চিন তেহরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

  • Brazil India Tour: প্রতিপক্ষ ভারত! পুজোর আগেই শহরে সাম্বার ঝলক, অক্টোবরে কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল

    Brazil India Tour: প্রতিপক্ষ ভারত! পুজোর আগেই শহরে সাম্বার ঝলক, অক্টোবরে কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগেই সাম্বার ছন্দে মাতবে কলকাতা। শারদীয়ার মরশুমে ভারতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসছে ব্রাজিল। একাধিক ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আসন্ন ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আগামী ৩ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ কে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের নাম উঠে আসছে। তবে, আরেকটি সূত্রের খবর, বিএফএ প্রাথমিকভাবে মিশরকে চাইছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।

    কেন ভারতে ব্রাজিলের ম্যাচ

    ইএসপিএন ব্রাজিলের এক প্রতিবেদনে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্বকাপের পরে প্রথম আন্তর্জাতিক সূচি চূড়ান্ত করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF)। জানা গিয়েছে, সেই সূচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি প্রীতি ম্যাচ খেলবেন ভিনিসিয়াসরা। পাশাপাশি ভারতে আরও একটি ম্যাচ হবে। কলকাতাতেই হবে সেই ম্যাচ। ইএসপিএন ব্রাজিল (ESPN Brasil)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত দুটি ম্যাচের পাশাপাশি সিবিএফ (ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) অক্টোবরের শুরুর দিকে ভারতে তৃতীয় ম্যাচ খেলবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীনই সিবিএফ এবং আয়োজকদের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালে এই অঞ্চলে ব্রাজিলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার ভক্তকে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে এখন কেবল শেষ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।

    ফের নজরে কলকাতা

    বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল দল ব্রাজিলকে কলকাতায় খেলতে দেখার সুযোগ পেলে তা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘটনা হয়ে উঠতে পারে। ম্যাচটি চূড়ান্ত হলে কলকাতা আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক ঐতিহাসিক সন্ধ্যার সাক্ষী হতে পারে। প্রসঙ্গত আর্জেন্টিনার জার্সিতে অধিনায়ক লিয়োনেল মেসির অভিষেক হয়েছিল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় মেসি আসার পর বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। তার পর আবার আরও একটি বড় ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পেতে পারে কলকাতা। তাই গোটা দেশের ফুটবল মহলের নজর এখন কলকাতার দিকে।

     

     

     

  • Meta To PM Modi Post: ভিআইপি অ্যাকাউন্টের জন্য কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা! প্রধানমন্ত্রী মোদির ফেসবুক পোস্ট সরানো নিয়ে ব্যাখ্যা মেটার

    Meta To PM Modi Post: ভিআইপি অ্যাকাউন্টের জন্য কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা! প্রধানমন্ত্রী মোদির ফেসবুক পোস্ট সরানো নিয়ে ব্যাখ্যা মেটার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Meta To PM Modi Post) ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় এবার বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলল মেটা। কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, মেটা কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে চিঠি দিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট দেখভালের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার কথা জানিয়েছে মেটা। এই ধরনের ব্যক্তিদের পোস্ট শুধু মেটার উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরাই খতিয়ে দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছে মেটা। সংস্থার দাবি, এটি একটি “প্রযুক্তিগত ত্রুটি” (Technical Glitch)-র কারণে ঘটেছিল।

    কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু

    ভারত সরকারকে পাঠানো চিঠিতে মেটা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Facebook Post), কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পদাধিকারী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জননেতাদের অ্যাকাউন্টে পোস্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রধানমন্ত্রী-সহ নির্বাচিত উচ্চ-প্রোফাইল অ্যাকাউন্টগুলির কোনও পোস্ট সরানো বা তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের আগে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা করা হবে। মেটার দাবি, এর ফলে ভুলবশত কোনও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

    মেটার ব্যাখ্যায় খুশি ছিল না কেন্দ্র

    খোদ প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ফেসবুক থেকে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা ভুল স্বীকার করলেও তাদের বক্তব্য সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র। এর আগে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) মেটার প্রাথমিক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে সেটিকে “অপর্যাপ্ত” বলে মন্তব্য করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সরকারের তরফে মেটার এক শীর্ষ আধিকারিককেও তলব করা হয়েছিল। সরকারের আপত্তির পর মেটা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তাদের কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন থেকে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের পোস্টের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার আগে একাধিক উচ্চ আধিকারিকের পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক হবে। সংস্থা আরও জানিয়েছে, ঘটনার একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন (Internal Assessment) করা হয়েছে, যেখানে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

    আরও সতর্ক থাকবে মেটা

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যে কোনও মডারেশন সিদ্ধান্ত মেটা-র অন্তত দু’জন উচ্চ আধিকারিকের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যাবে না। সংস্থার দাবি, এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমাবে এবং সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করবে। যদিও মেটার নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রকাশ পেতে পারে। কেন্দ্রের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে মেটা-র একটি প্রতিনিধিদল সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবে। সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হতে পারে।

    কেন সরানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট?

    নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ছাত্রবিক্ষোভের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন, প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনছে সরকার। ২৮ জুলাই ভোরে ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মেটা সেটি পুনরুদ্ধার করে জানায়, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল। এই ঘটনার জন্য মঙ্গলবার ক্ষমা চায় ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটা। একটি বিবৃতি দিয়ে মেটা-র এক মুখপাত্র জানান, ভুল করে ওই ভিডিওটি মুছে গিয়েছিল। তার পর সেটিকে ফেরানো হয় বলে জানান তিনি। মেটা-র তরফে যান্ত্রিক গোলযোগের কথাও বলা হয়। মেটা-র এই ব্যাখ্যায় অবশ্য সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র। সরকারের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানায়, বিষয়টি এখনই মিটে যাওয়ার লক্ষণ নেই। এই ঘটনার জন্য মেটা যে যুক্তি দিয়েছে, তাকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে না সরকার। পোস্টটি মুছে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিও বার্তার ক্যাপশনটি অবিকল থাকলেও ভিডিওর অংশে লেখা ছিল, “আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।”

    বিজেপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

    জনপ্রিয় সমাজমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম মেটা-র নিয়ন্ত্রণাধীন। এই তিনটি সমাজমাধ্যমের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্কে প্রায়ই টানাপড়েন দেখা যায়। সম্প্রতি ‘ইউজ়ারনেমস’ ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের আতশকাচের তলায় এসেছিল হোয়াট্‌সঅ্যাপ। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ-আন্দোলনেও সমাজমাধ্যমের বড় ভূমিকা ছিল। ছাত্রদের বিক্ষোভ উঠে যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ‘আপত্তিকর’ ছবি, ভিডিও শনাক্ত করে কেন্দ্র। সেগুলি ফেসবুক-সহ অন্য সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দিতে বলা হয়। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ‘মুছে দেওয়ার’ ঘটনা। ঘটনার পর বিজেপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিজেপি নেতা তাজিন্দর বাগ্গা এক্স-এ পোস্ট করে অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির কাগজ ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সম্পর্কিত পোস্ট ভারতের দর্শকদের কাছ থেকে আড়াল করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী কী পড়বেন বা ভারতীয়রা কী দেখবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার একটি বিদেশি প্ল্যাটফর্মকে কে দিয়েছে?” উল্লেখ্য, পোস্টটি ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভিউ অর্জন করেছিল। ফলে সাময়িকভাবে সেটি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে পোস্টটি পুনরায় দৃশ্যমান করা হলে মেটা সেটিকে প্রযুক্তিগত ভুল বলেই ব্যাখ্যা করে।

     

  • Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডার হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। বেড়েছে বরাদ্দ। অন্যদিকে, যুবসাথী হয়েছে যুবশক্তি। এবার সেই তালিকায় জুড়ল আরও দু’টি নাম। কন্যাশ্রী (Kanyashree) ও সবুজসাথী (Sabujsathi) প্রকল্প। তৃণমূল সরকারের আমলের এই দু’টি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হল। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রকল্পের নতুন নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নারীকল্যাণ ও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। অন্য দিকে, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বণ্টনের বহুল পরিচিত প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথি’।

    পালিত হবে ‘কন্যারত্ন দিবস’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া দু’টি জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হলেও এর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তার কাঠামোয় কোনও প্রকার বদল আসবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতি বছর ১৪ অগস্ট রাজ্য জুড়ে যে ভাবে ‘কন্যাশ্রী দিবস’ উদ্‌যাপন করা হত, সেই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকবে। তবে এ বার থেকে তা নতুন পরিচয় নিয়ে ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।”

    কন্যাশ্রী থেকে কন্যারত্ন

    ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছিল। এই প্রকল্পে ছাত্রীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মূলত এই প্রকল্পের লক্ষ্য় হল ছাত্রীদের স্কুলছুট আটকানো, বাল্যবিবাহ রোধ ও ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা মূলত তিন ধাপে দেওয়া হত। প্রথমে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর এক হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া। এরপর পরের ধাপে অবিবাহি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া ছাত্রীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। এছাড়া, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

    সবুজ সাথী হল সারথি

    সবুজ সাথী প্রকল্পে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হত সাইকেল। বিনামূল্যেই সাইকেল বিতরণ করত বিগত সরকার। নতুন সরকারও একইভাবে সাইকেল বিতরণ করবে। শুধু নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে ‘সারথি’। উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না ৷ প্রতিশ্রুতি মতোই সব প্রকল্প চালু রাখা হচ্ছে। উল্টে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। শুধু বদলে দেওয়া হচ্ছে বিগত সরকারের দেওয়া প্রকল্পের নাম।

  • Bhargavastra: মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪ মাইক্রো-মিসাইল! ভারতের ‘ভার্গবাস্ত্র’ বদলে দিতে পারে ড্রোন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

    Bhargavastra: মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪ মাইক্রো-মিসাইল! ভারতের ‘ভার্গবাস্ত্র’ বদলে দিতে পারে ড্রোন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

    সুশান্ত দাস

    ইজরায়েলের আয়রন ডোম (Iron Dome) যেমন বিশ্বের অন্যতম কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত, তেমনই ভারতও এবার নিজস্ব বহুতল এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পথে দ্রুত এগোচ্ছে। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হতে চলেছে স্বদেশি ‘ভার্গবাস্ত্র’ (Bhargavastra) অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা। নির্মাতা সংস্থার দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সিস্টেম শুধু ড্রোন ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তিন-স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকির মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড (SDAL)-এর চেয়ারম্যান সত্যনারায়ণ নুওয়াল জানিয়েছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ভার্গবাস্ত্রকে ধাপে ধাপে উন্নত করা হবে। তাঁর দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ২.৫ কিলোমিটার, ৬ কিলোমিটার এবং ২৫ কিলোমিটার— এই তিনটি ভিন্ন দূরত্বে শত্রুপক্ষের ড্রোন ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি প্রতিহত করতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কল্পিত ‘সুদর্শন চক্র’ বহুতল আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নে এই প্রযুক্তিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভার্গবাস্ত্র?

    বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর শুধু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং কম খরচের বিপুল সংখ্যক ড্রোন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ— সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখিয়েছে, ছোট আকারের ড্রোনও বড় সামরিক ঘাঁটি বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা কার্যকর বা অর্থনৈতিক নয়। সেই জায়গাতেই ভার্গবাস্ত্রকে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, তুলনামূলক কম খরচে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে।

    মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪টি মাইক্রো-মিসাইল ছোড়ার ক্ষমতা

    নির্মাতা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ভার্গবাস্ত্র বিশ্বের প্রথম স্বদেশি অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, যা মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬৪টি মাইক্রো-মিসাইল উৎক্ষেপণ করতে পারে। এর মূল লক্ষ্য হল একযোগে আক্রমণকারী ড্রোন-স্বার্মকে আকাশেই ধ্বংস করা। বিশ্বের বহু অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম যেখানে সীমিত সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে, সেখানে ভার্গবাস্ত্র একসঙ্গে বহু ড্রোনকে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে গড়ে উঠবে তিন-স্তরের নিরাপত্তা বলয়

    সোলার  জানিয়েছে, ভার্গবাস্ত্রকে ধাপে ধাপে উন্নত করে তিনটি আলাদা প্রতিরক্ষা স্তরে পরিণত করা হবে।

    প্রথম স্তর: ২.৫ কিলোমিটার

    বর্তমান ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি এই সংস্করণটি কাছাকাছি চলে আসা ড্রোনকে দ্রুত ধ্বংস করতে সক্ষম।

    দ্বিতীয় স্তর: ৬ কিলোমিটার

    ভার্গবাস্ত্রের ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (EOTS) ইতিমধ্যেই ৬ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে। এখন একই পাল্লায় আঘাত হানতে সক্ষম নতুন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, এর রেডার আরও বেশি দূরত্ব থেকে ছোট আকাশপথের হুমকি শনাক্ত করতে পারবে।

    তৃতীয় স্তর: ২৫ কিলোমিটার

    এটিই হবে ভার্গবাস্ত্রের সবচেয়ে বড় আপগ্রেড। ২৫ কিলোমিটার পাল্লা অর্জনের পর এটি শুধু ড্রোন নয়, বড় ইউএভি (UAV), দীর্ঘ-পাল্লার আকাশপথের প্ল্যাটফর্ম এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য হুমকির বিরুদ্ধেও প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ‘সুদর্শন চক্র’ এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    ভারতের ভবিষ্যৎ বহুতল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সুদর্শন চক্র’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভার্গবাস্ত্রকে দেখা হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কে বিভিন্ন পাল্লার একাধিক স্বদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে দেশের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারত শুধু ড্রোন যুদ্ধ প্রযুক্তিতেই নয়, স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম অগ্রগণ্য শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবকাঠামো এবং শহরগুলির জন্য আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) ভারতের বিজয়রথ এগিয়ে চলেছে। বুধবার, চলতি গেমসের তৃতীয় সোনা এল ভারতের ঝুলিতে। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নজির গড়ে সোনা জিতলেন দিলীপ মহাদু গাভিত। মহম্মদ বাসিল রুপোর পদক জিতলেন। অন্যদিকে, লং জাম্পে মুরলি শ্রীশঙ্কর টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জিতেছেন। এখানেই শেষ নয়, কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সারেরা বুধবার পাঁচটি পদক নিশ্চিত করলেন। সব মিলিয়ে বক্সিংয়ে ভারতের ন’টি পদক নিশ্চিত হল। বুধবার বক্সিংয়ের পাঁচটি কোয়ার্টার ফাইনালেই জয় পেলেন ভারতীয়েরা। পদকজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গাভিত ও বাসিলের ঐতিহাসিক সাফল্য

    বুধবার প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম সেরা সাফল্য আসে। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ বিভাগে দিলীপ মহাদু গাভিত সোনা জিতে নিয়েছেন। আবার তাঁরই সতীর্থ মহম্মদ বাসিল মোরসিংগানাকাথ রুপোর পদক জিতে ভারতের ঐতিহাসিক ১-২ ফিনিশ নিশ্চিত করেন। গাভিত ১০.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। একইসঙ্গে এটি ছিল তাঁর মরসুমের সেরা পারফরম্যান্স। অন্যদিকে বাসিল ১০.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের মরসুমের সেরা টাইমিং করে রুপো জেতেন। এই সোনার পদকের মাধ্যমে গ্লাসগো গেমসে ভারতের তৃতীয় সোনা এল। এর আগে মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু এবং মহিলাদের এফ৫৭ শট পুটে শর্মিলা ধানকর সোনা জিতেছিলেন।

    গুরু পূর্মিমায় কোচকে পদক উৎসর্গ গাভিতের

    গুরু পূর্ণিমার দিন নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোচকে উৎসর্গ করলেন ভারতের প্যারা স্প্রিন্টার দিলীপ মাহাদু গাভিত। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ পুরুষদের টি৪৭ বিভাগের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয়ের পর তিনি এই পদক তাঁর কোচ বৈজনাথ কালের হাতে উৎসর্গ করেন। গ্রামের খামারে কাজ করার সময় তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়ে যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই গুরুকেই কৃতজ্ঞতা জানালেন গাভিত। সোনা জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ বলেন, “শুরুরটা একটু ধীর ছিল। পরে গতি বাড়াতে পেরেছি। আগামীবার আরও ভালো করব। সাধারণত আমি ৪০০ মিটার দৌড়াই, সেটাই আমার মূল ইভেন্ট। কিন্তু এখানে শুধু ১০০ মিটার দৌড়ানোর সুযোগ ছিল এবং আমি দারুণ উপভোগ করেছি। আমি নাসিকের তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের ছেলে। আগে গ্রামের খামারে কাজ করতাম। তখনই আমার স্যার বৈজনাথ কালে আমাকে দৌড়তে দেখে নাসিকে প্রশিক্ষণের জন্য ডাকেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত খরচ তিনিই বহন করবেন। আজ গুরু পূর্ণিমা, তাই এই পদক আমার গুরুকে উৎসর্গ করলাম।”

    গুরু-শিষ্যের প্রেরণার সম্পর্ক

    মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম দিলীপের। পাঁচ সদস্যের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারে বড় হওয়া এই অ্যাথলিটের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে পৌঁছনোর স্বপ্ন একসময় ছিল অনেক দূরের। কিন্তু কোচ বৈজনাথ কালের নজরে পড়ার পরই বদলে যায় তাঁর জীবন। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কালে। ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ হারিয়েও নিজের লড়াই থামাননি দিলীপ। সুরগানা তহসিলের শহিদ ভগৎ সিং স্কুলে পড়াশোনা করার পর সম্পূর্ণভাবে অ্যাথলেটিক্সে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্টের সহায়তায় ভারতের অন্যতম সফল প্যারা স্প্রিন্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দিলীপের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কোচ বৈজনাথ কালে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল রেকর্ড গড়া। আবহাওয়ার কারণে শুরুটা পরিকল্পনামতো হয়নি। কিন্তু ঠিক কৌশল মেনে প্রথম ৫০ মিটারের পর দিলীপ দুর্দান্তভাবে গতি বাড়ায়। আসলে ওর মূল ইভেন্ট ৪০০ মিটার। দুর্ভাগ্যবশত, কমনওয়েলথ গেমসে ৪০০ মিটার ছিল না। তাই আমরা ১০০ মিটারে নামার সিদ্ধান্ত নিই। সেই ইভেন্টেই যোগ্যতা অর্জন করে শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে নিল।” গুরু পূর্ণিমার দিনে শিষ্যের এই সাফল্য শুধু ভারতের পদক তালিকায় আর একটি সোনা যোগ করেনি, বরং একজন কোচ ও তাঁর ছাত্রের অনন্য সম্পর্কের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে।

    ভারতীয় বক্সারদের দাপট

    পুরুষ এবং মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৪ জন বক্সারের দল পাঠিয়েছে ভারত। চার জন হেরে গিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই। নিজেদের বিভাগের শেষ চারে পৌঁছে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন অঙ্কুশ যাদব, সাক্ষী চৌধরী, অরুন্ধতী চৌধরী, সচিন সিওয়াচ এবং নরেন্দ্র বেরওয়াল। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন সেশেলসের জেড মিকককে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জোসুয়া ওফোরি। সচিন ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন বতসোয়ানার ট্রেসর মোরেমিকে। সচিনের পক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ফল ৫-০। শেষ চারের লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ ওয়েলসের হ্যারিস অ্যালান। নরেন্দ্র ৯০+ কেজি বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছেন সামোয়ার মাইকেল সেকোকে। সেমিফাইনালে তাঁকে লড়াই করতে হবে ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর নিগেল পলের বিরুদ্ধে।

    নারীশক্তির প্রভাব

    মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে উঠেছেন সাক্ষী। তিনি ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্যাটলিন ফ্রায়ার্সকে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জেন ওয়াল। অরুন্ধতী জয় পেয়েছেন মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে। তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের মরগ্যান হেন্ডারসনকে। সেমিফাইনালে তাঁর লড়াই ওয়েলসের রোজি একসেলের সঙ্গে। সেমিফাইনালে উঠে আগেই পদক নিশ্চিত করেছেন আরও চার জন। তাঁরা হলেন লভলীনা বরগোহাঁই (৭৫ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি) এবং যদুমণি সিং (৫৫ কেজি)।

    ভারতের ঝুলিতে পদকের সম্ভাবনা!

    এছাড়া অ্যাথলেটিক্সে অনিমেষ কুজুর ২০০ মিটারের সেমিফাইনালে উঠেছেন। আর শট পুটে তাজিন্দরপাল সিং তুর ও সমরদীপ সিং গিল ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। লন বোলসেও ভারত দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। নবনীত সিং ও দিনেশ কুমারের জুটি নামিবিয়াকে হারিয়ে এগিয়ে চলেছে। যার ফলে ভারতের মেডেলের ঝুলি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরুষদের ৪০০ মিটার হার্ডলসেও এগিয়ে চলেছে ভারত। এক্ষেত্রে যশস পালক্ষা ও সন্তোষ কে তামিলারাসান ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। হিট-২-এ সন্তোষ ৪৯.৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন। হিট-১-এ যশস ৪৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন।

    আজ নামছেন নীরজ

    কমনওয়েলথ গেমসে আজ অভিযান শুরু নীরজ চোপড়ার। জ্যাভলিনের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে নামছেন ২০২০ সালের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন নীরজ। দু’বছর আগের অলিম্পিক্সে অবশ্য রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ন নীরজ এ বার কি পারবেন? যোগ্যতা অর্জন পর্ব দুপুর ২:৫৫ থেকে। সম্প্রচারিত হবে সোনি স্পোর্টস চ্যানেল ও সোনি লিভ অ্যাপে।

  • UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঝকঝকে সূর্যের আলোতেও লুকিয়ে রয়েছে বিপদ! দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বড় বিপদ এড়ানো সহজ হবে। চিকিৎসকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি এখন থেকেই ত্বকের স্বাস্থ্য এবং সূর্যরশ্মি নিয়ে সচেতনতা, না বাড়ে, তাহলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে ত্বকের ক্যান্সার সহ একাধিক জটিল রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষত ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, যে হারে সূর্যের তেজ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। জুলাই মাস জুড়ে চিকিৎসকেরা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন। দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্কুল পড়ুয়া থেকে কর্মরত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করলে ত্বকের একাধিক সমস্যা কমানো যাবে, সে দিকগুলো চিকিৎসকেরা তুলে ধরেছেন।

    কেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে সচেতনতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের আলো যেমন স্বাস্থ্যের একাধিক উপকার করে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষতিকারক রশ্মি ও রয়েছে। যার জন্য ত্বকে চিরস্থায়ী গভীর ক্ষতি হতে পারে। এই দিক সম্পর্কে এখনো সচেতনতার হার কম। তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি বা UV রশ্মি ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। লাগাতার এই আলো শরীরে স্পর্শ করলে ত্বকের কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ত্বকের ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার চোখের কর্নিয়ার ক্ষতিও করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হয়।

    ভারতে কি এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির জেরে বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ত্বক ও চোখের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েক দশক আগেও ভারতে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা অত্যন্ত ব্যতিক্রম ছিলো। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের জেরে এখন ভারতেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর ত্বকের ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি সান বার্নের সমস্যা, চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাছাড়া এখন বাইরে কাজ করেন, এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এখন সকলেই বাইরে যান। কাজ করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্য রশ্মির স্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই ধরনের সমস্যাও বাড়ছে।
    তাছাড়া, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ভারতেও রোদের দাপট বাড়ছে। সূর্যের তেজ বাড়ছে। তেমনি গরম দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতের অধিকাংশ জায়গায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই রোদের দাপট দেখা দিচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় তীব্র গরম থাকছে। এমনকি বর্ষার পরেও সূর্যের দাপট চলে। ফলে এই বাড়তি গরমে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    কীভাবে সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ, আবহাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। তবেই এই পরিবর্তিত জলবায়ুতে সুস্থ থাকতে পরিবেশ সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাঁদের পরামর্শ , সূর্যরশ্মির প্রকোপ কতখানি অর্থাৎ ইউভি ইন্ডেক্স (UV Index) দেখে আগাম সতর্কতা নিয়ে বাইরে যেতে হবে। অর্থাৎ আকাশ মেঘলা, বৃষ্টি হবে নাকি ঝড় হবে, এগুলোর যেমন পূর্বাভাসের খবর নেওয়া হয়, তেমনি প্রত্যেক দিনের  ইউভি ইন্ডেক্স সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। যদি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রকোপ যেদিন বেশি থাকবে, সেদিন শরীর সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরা প্রয়োজন। তবে প্রত্যেক দিন বাইরে যাওয়ার আগে মুখ এবং শরীরের যে অংশ পোশাকে ঢাকা থাকছে না, সেই সব অংশে সান স্ক্রিন লাগানো জরুরি। শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, নিয়মিত সান স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস জরুরি। ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। প্রয়োজন না হলে বেলা বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো। কারণ এই সময়ে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির দাপট সবচেয়ে বেশি। তবে, সবচেয়ে জরুরি পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে জলের ঘাটতি না হলে সূর্যের প্রকোপে ঘটা একাধিক রোগের দাপট কমানো সহজ হয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। সঙ্গে জল রাখার অভ্যাস থাকা দরকার। যাতে বারেবারে জল খাওয়া হয়। শরীরে কখনোই জলের ঘাটতি না দেখা দেয়।

  • Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রথম বার জনগণনা শুরু হচ্ছে ভারতে। শনিবার জনগণনার (Census) প্রথম ধাপ শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal Census)। রয়েছে সেল্‌ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া (Digital Census), যাতে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন নাগরিকেরা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকেরা অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে প্রথমে। জনগণনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য সেখানেই পূরণ করা যাবে।

    কী ভাবে, কোথায় তথ্য নথিভুক্ত করবেন

    সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইনের পর দেখা যাবে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিকল্প। যিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁকে সেই রাজ্য ‘সিলেক্ট’ করতে হবে। তার পর দিতে হবে ক্যাপচা (বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী আসলে মানুষ, না কোনও ক্ষতিকর কম্পিউটার বট, তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়)। পরের ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম প্রদান করতে হবে। পাশেই থাকবে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার জায়গা। এটি ঐচ্ছিক। তৃতীয় ধাপে থাকছে ভাষা পছন্দের বিষয়। তাতে ‘ক্লিক’ করার পর ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। চতুর্থ ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। ওই ধাপ সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যা থেকে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। ষষ্ঠ ধাপে হাউসলিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। এই ঘর ও তার ব্যবহার সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর জমা দিতে হবে। ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বাড়ির ধরন; মেঝে ও দেয়ালে ব্যবহৃত উপকরণ, ঘরের সংখ্যা, মালিকানাধীন বা ভাড়া এবং বাড়ির অবস্থা, বাসিন্দার সংখ্যা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উৎস। প্রদত্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে নিন, প্রয়োজনে সংশোধন করুন এবং তথ্য সেভ করে রাখুন। যদি কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তবে নির্ধারিত সময়সীমার আগে তথ্য জমা দিন।সেটি দেওয়ার পর আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, মিলিয়ে দেখে নিতে হবে। এর পর শেষ ধাপ— ‘ফাইনাল সাবমিট’। সেখানে ক্লিক করলে এগারো অঙ্কের একটি স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই* আইডি’ চলে যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা ইমেলে। জনগণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা যখন বাড়িতে যাবেন, ওই নম্বরটি তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাই করার পর নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত

    অনলাইন স্ব-গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা করা হবে। এই সময়, অবশ্যই অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করার সময় প্রাপ্ত ১১ সংখ্যার নম্বরটি দেখাতে হবে। অনলাইনে সেল্ফ এনুমারেশন না করলেও, বাড়িতে আসা গণনাকারীর কাছে বিবরণ নথিভুক্ত করা যাবে। ১১ সংখ্যার নম্বরটি হারিয়ে ফেললেও চিন্তা নেই। গণনাকারীরা তা খুঁজে নিয়ে জনগণনার কাজ করতে পারবেন। গণনাকারীদের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য স্মার্টফোন এবং বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই বিশাল দেশব্যাপী প্রকল্পে ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১১,৭১৮ কোটি টাকা।

    জনগণনা দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে

    এ বারের জনগণনা (Digital Census) দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই পর্ব। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। তার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা

    ২০১১ সালে শেষবার জনগণনা হয়েছিল দেশে। সাধারণত ১০ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই হিসেবে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে কোভিড অতিমারীর প্রকোপ থাকায় কা‌শ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কোহিমা এই বিপুল ভারতে জনগণনার মতো কর্মযজ্ঞ করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা হতে চলেছে দেশে। প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি হিসাবে কলকাতা শহরকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকছেন। গণনার কাজ সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভাবে যাতে সম্পন্ন করা যায়, তার সমস্ত রকম উদ্যোগ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

     

     

     

     

  • Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি সংসদ অধিবেশনেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিস্তৃত বিল আনা হতে পারে। এই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং ‘ডিপফেক’-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে স্পষ্টভাবে জানায়, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে আইনে সংজ্ঞায়িত করতে হবে এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা ‘ডিপফেক’ ও অন্যান্য নতুন ধরনের অনলাইন অপরাধ মোকাবিলায়ও আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয় আদালত।

    কী বলল সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ?

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত যদি প্রাথমিকভাবে শক্ত প্রমাণ পায়, তাহলে তদন্ত চলাকালীন তাঁর সম্পত্তি বা আর্থিক সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা তদন্তকারী সংস্থার থাকা উচিত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তির অপব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এই ধরনের নতুন সাইবার অপরাধকে আইনের আওতায় আনতে এবং স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে দ্রুত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।

    কেন্দ্র কী জানাল আদালতে?

    সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি খসড়া বিল তৈরি করছে। সেই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং এ ধরনের অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলার জন্য বিস্তৃত আইনি ব্যবস্থা রাখা হবে। আদালতে তিনি বলেন, “একটি খসড়া বিল তৈরি হচ্ছে। সেখানে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ডিপফেক-সহ এই ধরনের সমস্ত অপরাধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

    ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে

    অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরমণি আদালতকে জানান, একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) বর্তমানে বিদ্যমান আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট তৈরি করছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নতুন আইন চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২০টি বড় ডিজিটাল প্রতারণার মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। অন্য মামলাগুলির তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখা।

    বুধবার নির্দেশ দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট

    মঙ্গলবারের শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, এই মামলায় বুধবার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হবে।

    কেন শুরু হয়েছিল এই মামলার শুনানি?

    গত বছর দেশজুড়ে বেড়ে চলা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) প্রতারণার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই ধরনের প্রতারণায় জালিয়াতরা নিজেদের পুলিশ, সিবিআই, ইডি বা আদালতের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদেরই বেশি টার্গেট করা হয়। এর আগের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বিচারকদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়ো আদালতের নির্দেশ তৈরি করা শুধু প্রতারণা নয়, এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার উপর সরাসরি আঘাত। আদালতের মর্যাদা ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

    কী হতে পারে নতুন আইনে?

    প্রস্তাবিত বিলে সম্ভাব্যভাবে যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হতে পারে- ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি। ‘ডিপফেক’ (Deepfake) তৈরি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি শাস্তি। নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণার স্পষ্ট সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান। গুরুতর মামলায় তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা। সাইবার অপরাধের তদন্ত ও বিচার আরও দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য নতুন আইনি কাঠামো।

  • Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কর্মীসঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কর্মীবান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়োগ, ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন কমিশন, আধুনিক তদন্তকারী সংস্থা, বদলি নীতি- সব মিলিয়ে পুলিশের জন্য কার্যত একগুচ্ছ ‘মেগা প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, সেটা হয় নাকি! পরে আরও দেব, আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”

    ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment)

    রাজ্যে পুলিশের ঘাটতি পূরণে আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment) করা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Police Recruitment) শুরু হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পথও এখন পরিষ্কার। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জট কাটার পর দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ানো হবে।

    পুজো থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)

    তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সরকারে আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে ডিএর ফারাক কমাতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)-র ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি রাজ্য গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই দ্রুত তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করারও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পুজোর সময় থেকেই কার্যকর হবে।

    এনআইএ-র আদলে গড়ে উঠছে ‘SIA’

    রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, জটিল অপরাধ ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ তদন্তে এই বিশেষ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আধুনিক পুলিশ পরিকাঠামো

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন সরকারি পুলিশ যান ধাপে ধাপে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে। পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ-এর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু হবে।

    বদলি নীতিতে মানবিক উদ্যোগ

    পুলিশকর্মীদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী-

    • মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে
    • মহিলা অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির নীতি গ্রহণ করা হবে
    • যাঁরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জেলা থেকে দূরে কর্মরত, তাঁদের ধাপে ধাপে স্বজেলায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

    গড়ে উঠছে অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড

    পুলিশকর্মীদের আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করে তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও নতুন করে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দেন, শক্তিশালী ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যেমন চলবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

LinkedIn
Share