Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রুখতে এবং সরকারি খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদি সরকারের (Modi Government)। এবার কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ (Department of Expenditure) ‘ওয়ান অফিসার, ওয়ান অফিসিয়াল কার’ নীতি (One Officer One Car Policy) কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম (Office Memorandum) অনুযায়ী, কোনও আধিকারিককে একবার সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হলে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেও আর দ্বিতীয় সরকারি গাড়ি পাবেন না। এর অর্থ, কোনও আধিকারিক যদি নিজের মন্ত্রক বা দফতরের পাশাপাশি অন্য কোনও মন্ত্রক, বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU) বা স্বশাসিত সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বও পান, তবুও তাঁর জন্য আলাদা সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হবে না। প্রতিটি যোগ্য আধিকারিকের জন্য থাকবে মাত্র একটি সরকারি গাড়ি।

    সব মন্ত্রক ও দফতরকে কড়া নির্দেশ

    এই নীতি (One Officer One Car Policy) কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রের সমস্ত মন্ত্রক ও দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। পাশাপাশি, যে সরকারি গাড়িগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেগুলিকে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিতে হবে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না বলেও নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    কী নতুন নির্দেশ?

    নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), স্বশাসিত সংস্থা বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িও নিয়মিত ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনও আধিকারিক সরকারি কাজে ওই সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে সফরে গেলে, সেই সফরের সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করা যাবে।

    ২০২২ সালের নির্দেশিকা আরও কড়াভাবে কার্যকর

    ব্যয় বিভাগ জানিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রক ও দফতরে যাতে একই নিয়মে এই নীতি কার্যকর হয়, সেই উদ্দেশ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    কেন্দ্রীয় সরকারের (Modi Government) বক্তব্য, সরকারি সম্পদের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। একজন আধিকারিকের জন্য একাধিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রবণতা বন্ধ করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই নীতির ফলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি গাড়ির সংখ্যা কমবে, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হ্রাস পাবে এবং সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

  • CJP Protest: খুনের দায়ে অভিযুক্ত ১০১ জন উপস্থিত সিজেপি বিক্ষোভে! চাঞ্চল্যকর দাবি দিল্লি পুলিশের

    CJP Protest: খুনের দায়ে অভিযুক্ত ১০১ জন উপস্থিত সিজেপি বিক্ষোভে! চাঞ্চল্যকর দাবি দিল্লি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest)-র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত ছিলেন। মোট ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯৮৯ জন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS)-সহ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিক্ষোভে উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ (POCSO), মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের সংখ্যা

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে—

    • ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত
    • ৬২ জন খুনের চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত
    • ২৮৪ জন ডাকাতি ও লুটপাটের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬১ জন ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬ জন পকসো আইনের মামলায় অভিযুক্ত
    • ২৫ জন নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত
    • ২২৯ জন অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযুক্ত
    • ১৩৫ জন ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযুক্ত
    • ১৯ জন অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬৭ জন এনডিপিএস (মাদকদ্রব্য) আইনের মামলায় অভিযুক্ত

    দিল্লি পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই পুনরাবৃত্ত অপরাধী (Repeat Offender)।

    ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে আহত ১১৮ পুলিশকর্মী

    গত ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad March) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আহতদের মধ্যে ছিলেন স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার (DCP), অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, এসিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক এবং বেশ কয়েকজন মহিলা পুলিশকর্মী। অন্যদিকে, ওই সংঘর্ষে প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হন। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরই সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।

    প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন এবং ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে একাধিক অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠিয়ে ওই ধরনের পোস্ট ও ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে আপত্তিকর কনটেন্ট সামনে এলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে তা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে।

  • MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (MMSBY Scheme)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকলেও যাঁরা আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যই এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই প্রকল্পে (MMSBY Scheme) যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

    কী কী সুবিধা মিলবে?

    নতুন প্রকল্পে (MMSBY Scheme) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে- বছরে প্রতি পরিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্লোটার ভিত্তিক ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামে পৃথক স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। আগে থেকে থাকা (Pre-existing) রোগের চিকিৎসাও এই বিমার আওতায় থাকবে। সরকারি ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পভুক্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। চিকিৎসার জন্য আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং আয়ুষ্মান ভারত পরিচয়পত্র  (Ayushman Bharat Health Account) ব্যবহার বাধ্যতামূলক। চিকিৎসা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী। চিকিৎসার খরচ আগে দিয়ে পরে ফেরত (রিএমবার্সমেন্ট) নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না।

    কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

    স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না- যাঁদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প (CGHS), ইএসআই (ESI) বা অন্যান্য কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স-এর আওতায় থাকা কর্মচারীরা, মেডিক্যাল অ্যালাউন্সপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, পরিবারের ৭০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা, SIR-এ নাম বাদ গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। যেমন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

    এসআইআর বা সিএএ-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সিএএ বা এসআইআর-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে কোনও আবেদন বিচারাধীন থাকলে, শুধুমাত্র সেই কারণে কাউকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না। অন্য সব যোগ্যতা পূরণ করলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে পরে SIR-এ নাম বাদ গেলে আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

    কারা দেখভাল করবে এই প্রকল্প (MMSBY Scheme)?

    স্বাস্থ্য দফতরই হবে এই প্রকল্পের নোডাল দফতর। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্টেট হেলথ এজেন্সি (State Health Agency)।

    কবে থেকে কার্যকর?

    গত ২২ জুলাই রাজ্য (West Bengal) মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এরপর ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য দফতর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে। নতুন এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধাবঞ্চিত বহু পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবে বলে রাজ্য সরকারের আশা।

  • Bangladeshi Infiltration: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশে টেলিগ্রাম নেটওয়ার্ক! সীমান্ত পার হওয়ার কৌশল, হিন্দি শেখানো থেকে ভুয়ো নথির যোগ

    Bangladeshi Infiltration: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশে টেলিগ্রাম নেটওয়ার্ক! সীমান্ত পার হওয়ার কৌশল, হিন্দি শেখানো থেকে ভুয়ো নথির যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশে (Bangladeshi Infiltration) সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল টেলিগ্রামভিত্তিক একাধিক অনলাইন নেটওয়ার্ক। এসব টেলিগ্রাম গ্রুপে সীমান্ত পার হওয়ার বিভিন্ন উপায়, স্থানীয় সমাজে মিশে যাওয়ার কৌশল, এমনকি প্রাথমিক হিন্দি ভাষা শেখানোর মতো তথ্যও ভাগ করে নেওয়া হতো। পাশাপাশি, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর কীভাবে নজর এড়িয়ে বসবাস করা যায়, সে সম্পর্কেও নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। এই নেটওয়ার্কগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, চলমান অভিযানে ইতিমধ্যেই এমন কয়েকটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের সন্ধান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেলে “হাউ টু এন্টার ইন্ডিয়া ” (How to Enter India) এবং “হান্ড্রেড ওয়ান ওয়েস টু বাইপাস ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি” (101 Ways to Bypass Indian Security)-এর মতো শিরোনামে পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এখানে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের মতে, এসব গ্রুপ কেবল আলোচনা চালানোর জন্য ছিল না; বরং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সীমান্ত পার হওয়া এবং দেশের ভিতরে বসতি গড়ে তুলতে সহায়ক তথ্য সরবরাহ করা হত। এই নেটওয়ার্কের বিস্তার ও কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে, সংগঠিত চক্রগুলি কীভাবে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

    স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের পরামর্শ

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকটি গ্রুপে প্রাথমিক হিন্দি ভাষার পাঠ এবং ভারতে প্রবেশের পর স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শও দেওয়া হতো। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ধরনের তথ্য অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত মিশে যেতে সাহায্য করেছে। পরিচয় যাচাইয়ের সময় সন্দেহ এড়াতে সহায়তা করার জন্যও প্রচার চালানো হত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, এই কার্যকলাপের পিছনে সীমান্তপারের সংগঠিত দালালচক্র বা মানব পাচার চক্রের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না। তদন্তে আরও দেখা হচ্ছে, এই টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলির সঙ্গে এমন মধ্যস্থতাকারীদের যোগাযোগ ছিল কি না, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর যাতায়াত, অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা এবং জাল পরিচয়পত্র সংগ্রহে সহায়তা করত।

    ভারতের পূর্ব সীমান্ত-ই প্রবেশ পথ!

    পূর্ববর্তী একাধিক পুলিশি তদন্তেও উঠে এসেছিল যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পার হওয়া এবং দেশের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানোর জন্য দালালচক্র ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করত। তদন্তকারী সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক তথ্য সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরদার করেছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ভারতের পূর্ব সীমান্ত দীর্ঘ এবং ভৌগোলিকভাবে জটিল হওয়ায় নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তে ব্যাপক বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও সংগঠিত চক্রগুলি নানা উপায়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    নক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার!

    তদন্তে উঠে আসা তথ্যের পর আবারও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও টেলিগ্রাম বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত একটি বৈধ মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ব্যক্তিগত চ্যানেল এবং বৃহৎ গ্রুপ পরিচালনার সুবিধা কখনও কখনও অপরাধচক্রের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট চ্যানেলগুলি, যেগুলির বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে; প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে কোনও অভিযোগ করা হচ্ছে না।

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসেও টেলিগ্রামের ব্যবহার!

    আগেও সাময়িকভাবে টেলিগ্রামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কেন্দ্র। নিট (NEET-UG) পরীক্ষা নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। অভিযোগ, টেলিগ্রামের মাধ্যমেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিভ্রান্তিকর ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’-এর প্রমাণ তৈরির জন্য মেসেজ এডিটিং-এর অপব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ। , কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর সাহায্যে টেলিগ্রামে প্রতারণা ও ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এবার দেখা গেল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাও টেলিগ্রামের সাহায্য নিচ্ছে।

    তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণই চূড়ান্ত

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি আরও খতিয়ে দেখছে, এই অনলাইন গ্রুপগুলির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি ভারতে প্রবেশের পর অন্য কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন কি না। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র কোনও টেলিগ্রাম গ্রুপের সদস্য হওয়া মানেই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য চলমান তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণই চূড়ান্ত ভিত্তি হবে।

    সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার

    এই ঘটনার পর আবারও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আইনের আওতায় থেকে সংগঠিত অনলাইন অপরাধচক্রের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির দাবি জোরালো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্ত পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযান, নথিপত্র যাচাই, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।

    বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাই

    সরকারি সংস্থাগুলি বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। টেলিগ্রামভিত্তিক এই কথিত সহায়ক নেটওয়ার্কের তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির লক্ষ্য, এই চ্যানেলগুলির পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করা, নেটওয়ার্কটির প্রকৃত পরিসর নির্ধারণ করা এবং এটি বৃহত্তর কোনও সংগঠিত আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা।

  • Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক থেকে হঠাৎ-ই উধাও প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও বার্তা! মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতে কিছু সময়ের জন্য ব্লক হয়ে যায় নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তা। এরপরেই মেটার (Meta) তরফে একটি বার্তা সামনে আসে। মেটার তরফে জানানো হয়- ‘‘আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে (Legal Request) এই অঞ্চলে ভিডিওটি আটকে রাখা হয়েছে।’’ যদিও পরে সেই ভুল সংশোধন করে নেয় মেটা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি আবার চালু করে মেটা (Meta) জানায়, কোনও আইনি নির্দেশের কারণে নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Technical Glitch) জেরে ভুলবশত এমনটা হয়েছিল। ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে সংস্থা।

    ‘ভুল করে সরানো হয়েছিল ভিডিও

    ঘটনা প্রসঙ্গে মেটার (Meta) এক মুখপাত্র জানান, ‘‘ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে সেই ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে এবং ভিডিওটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’

    ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র

    সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মেটার দেওয়া ব্যাখ্যা এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরানো হয়েছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মেটার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ডেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হতে পারে বলেও খবর সূত্রের।

    মেটা ও ইনস্টাগ্রামের শীর্ষ কর্তাদের তলব!

    সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও সাময়িকভাবে ব্লক হওয়ার ঘটনায় মেটা এবং ইনস্টাগ্রামের গ্লোবাল প্রধানদের তলব কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY)। ভিডিওটি কেন ব্লক হয়েছিল? কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল? সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কোন ভিডিওটি ব্লক হয়েছিল?

    ২৩ জুলাই আপলোড করা ওই ভিডিওতে ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ রুখতে সরকার আরও কঠোর আইন আনতে চলেছে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান আনা হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে বিশেষ আদালত এবং আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।
    সরকারের পদক্ষেপের ফলে প্রায় ২২ লক্ষ পড়ুয়ার শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।’’

    লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছিলেন ভিডিওটি

    ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তা দেখেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের দিকে হঠাৎ-ই ফেসবুকে ভিডিওটি দেখা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ব্যবহারকারীদের জানানো হয়, আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে ভিডিওটি এই অঞ্চলে দেখানো হচ্ছে না। পরে অবশ্য মেটা জানায়, সেই বার্তাটিও প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল ছিল। ভুল বুঝতে পেরে ভিডিওটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয় এবং সংস্থা সরকারের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশও করে। এখন কেন্দ্রীয় সরকার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজন হলে মেটার কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।

  • Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    সুশান্ত দাস

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন—দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর কি এখন কার্যত একক নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির? আর যদি তাই হয়, তাহলে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পাকিস্তানের সাংবিধানিক পরিবর্তন, সামরিক কাঠামোর রদবদল, পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থার প্রকৃতি এবং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল—সবকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

    কী বদলেছে পাকিস্তানে?

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার নতুন Chief of Defence Forces (CDF) পদ সৃষ্টি করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে। এই পদে তিন বাহিনীর (স্থল, নৌ ও বিমান) সর্বোচ্চ সামরিক কর্তৃত্ব একত্রিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত কমান্ড ব্যবস্থার উপরও তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু সংবাদমাধ্যমে এটিকে ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’ বলে বর্ণনা করা হলেও, বাস্তব চিত্র কিছুটা বেশি জটিল।

    ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ বলতে কী বোঝায়?

    সাধারণ মানুষের কাছে ‘‘নিউক্লিয়ার বাটন’’ বলতে এমন একটি বোতামের ধারণা তৈরি হয়, যা একজন ব্যক্তি চাপলেই পারমাণবিক হামলা শুরু হয়ে যায়। বাস্তবে কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশেই বিষয়টি এতটা সরল নয়। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র পরিচালনা করে ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (NCA) এবং তার অধীনস্থ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান্স ডিভিশন (SPD)। এই ব্যবস্থায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্তরের অংশগ্রহণ রয়েছে। যদিও নতুন কাঠামোতে আসিম মুনিরের প্রভাব অনেক বেড়েছে, তবুও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনও একটি প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমেই কার্যকর হয়। অর্থাৎ, ‘‘একটাই বোতাম টিপে যুদ্ধ শুরু’’— এমন ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে।

    কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

    বিশ্লেষকদের মতে উদ্বেগের মূল কারণ কেবল সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়, বরং আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তাঁর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। গত কয়েক মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক কড়া মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় সূত্রের দাবি, তিনি পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। যদিও পাকিস্তান পরে জানায়, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা স্বাধীনভাবে ওই দাবিগুলি যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা নীতি এবং আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে আসিম মুনিরের প্রভাব বর্তমানে অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

    ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কিনা এই প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তরটি ‘‘হ্যাঁ, তবে আতঙ্কিত হওয়ার নয়।’’ কারণ—

    • প্রথমত, ভারত বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে মাথায় রেখে নিজস্ব প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করে আসছে।
    • দ্বিতীয়ত, ভারতের রয়েছে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি, মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ (Credible Minimum Deterrence) নীতি।
    • তৃতীয়ত, ভারত এখনও ‘‘নো ফার্স্ট ইউজ’’ (NFU) বা প্রথম ব্যবহার নয় নীতির কথা বললেও, পাকিস্তান বরাবরই প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প খোলা রেখেছে। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামরিক নেতৃত্বে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীকরণ ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব

    পাকিস্তানে বহু দশক ধরেই সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বহু পর্যবেক্ষকের মত। এর ফলে নির্বাচিত সরকারের তুলনায় সেনাবাহিনীর প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল কী দেখছে?

    পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো এখন আরও বেশি সামরিককেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, চিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায়ও আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন।

    ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে…

    ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’— এমন দাবি বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিসরল করে তুলে ধরে। তবে এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ও সামরিক পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোয় তাঁর প্রভাব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ভারতের জন্য এর অর্থ তাৎক্ষণিক যুদ্ধের আশঙ্কা নয়, বরং পাকিস্তানের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, পারমাণবিক নীতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উপর আরও নিবিড় নজর রাখা। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক প্রতিরোধের ভারসাম্য এখনও বহাল থাকলেও, যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে আরও কেন্দ্রীভূত হয়, তখন ভুল হিসাব বা সংকটের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

  • Commonwealth Games 2026: সোনার মেয়ে শর্মিলা, চার রুপো-সহ কমনওয়েলথ গেমসের পঞ্চম দিনে ভারতের ঝুলিতে ছয় পদক

    Commonwealth Games 2026: সোনার মেয়ে শর্মিলা, চার রুপো-সহ কমনওয়েলথ গেমসের পঞ্চম দিনে ভারতের ঝুলিতে ছয় পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম ভারতীয় হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতলেন শর্মিলা ধনখড় (Sharmila Dhankar)। মহিলাদের শট পাট এফ৫৭-এ স্বর্ণপদক জিতলেন তিনি। কমনওয়েলথ গেমসের (Commonwealth Games 2026) পঞ্চম দিনে একটি সোনা, একটি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ছয়টি পদক জিতল ভারত। পদকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০। মীরাবাঈ চানুর সোনা জয়ের পর ভারোত্তোলনে ভারতের সাফল্য অব্যাহত। এই ভারোত্তোলনেই সোমবার তিন তিনটি পদক জিতল ভারত। আবারও প্রমাণ হল এই বিভাগে ভারতীয় অ্যাথলিটরা কতটা শক্তিশালী। ভাল্লুরি অজয়া বাবু, জ্ঞানেশ্বরী যাদব এবং বিন্দিয়ারানি দেবী ভারোত্তোলনেই পোডিয়াম ফিনিশ করে দেশকে পদক এনে দিলেন। পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    শটপুটে সেরার মুকুট শর্মিলার

    প্যারা শটপুটে সোনা জিতেছেন শর্মিলা ধনখড়। একই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ভারতের শিল্পা কে শায়লা। মহিলাদের এফ-৫৭ শটপুট ফাইনালে শুরু থেকেই দাপট দেখান ৪০ বছরের শর্মিলা। ছ’টি থ্রোয়ের সুযোগ ছিল। তার মধ্যে শর্মিলার সেরা থ্রো ছিল ৯.৮১ মিটার। সেই দূরত্ব আর কেউ ছুঁতে পারেননি। ওই ইভেন্টেই ভারতের শিল্পা কে শায়লা ৭.২৬ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ জিতে নেন। ফলে একটি ইভেন্ট থেকেই ভারতের ঝুলিতে ঢোকে দু’টি পদক। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল পেলেন শর্মিলা। ২০২২-এ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে জাতীয় রেকর্ড গড়েও অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল। ২০২৫-এর ইন্ডিয়ান ওপেন প্যারা অ্যাথলেটিক্সে অবশ্য সোনা জিতেছিলেন। চলতি বছর দুবাইয়ের ফাজ্জা আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও শটপুটে সোনা ও ডিসকাসে ব্রোঞ্জ জিতে নিজের ফর্মের ইঙ্গিত দেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই এ বার কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে সোনার পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন শর্মিলা।

    খেলো ইন্ডিয়ার পোডিয়াম থেকেই সাফল্য অজয় বাবুর

    পুরুষদের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সোনার দৌড়ে ছিলেন ভল্লুরি অজয় বাবু। স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি তুলে এগিয়েও যান। কিন্তু ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮১ কেজি তুলেও শেষ পর্যন্ত সোনা হাতছাড়া হয়। মোট ৩৩০ কেজি তুলে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় অজয়কে। আর ৩৩১ কেজি তুলে সোনা জিতে নেন মালয়েশিয়ার এরি হিদায়াত মহম্মদ। মাত্র ১ কেজির ব্যবধানই বড় ফারাক গড়ে দেয়। ভল্লুরি অজয় বাবু ভারতীয় ভারোত্তোলনের উদীয়মান মুখ। ২০২৩-এ খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমসে জাতীয় রেকর্ড গড়ে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। তার পর থেকে একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০২৪-এর কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে জুনিয়র ও সিনিয়র—দুই বিভাগেই সোনা জিতেছিলেন। ২০২৫-এ আমেদাবাদে কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৩৫ কেজি ওজন তুলে ৭৯ কেজি বিভাগে সোনা লিখে নিয়েছিলেন নিজের নামের পাশে। কিন্তু এ বারে এক কেজির জন্য সোনা হাতছাড়া হলো।

    কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর ঝলক

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন তামিলনাড়ুর ভারোত্তোলক রাজা মুথুপান্ডি। পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে মোট ২৮৬ কেজি ওজন তুলে তিনি জিতে নিলেন রুপোর পদক। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ২০১৯ সালে গুরুতর কনুইয়ের চোট এবং অস্ত্রোপচারের পর অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁর কেরিয়ার শেষ। কিন্তু অদম্য মানসিক শক্তিতে তিনি ফিরলেন এবং কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন রাজা। ২০২৫ সালে আমেদাবাদে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর পদক জিতে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেন রাজা। এরপর ২০২৬ সালে সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ৩০২ কেজি ওজন তুলে জাতীয় খেতাব জেতেন। সেই পারফরম্যান্সের জোরেই কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় দলে সুযোগ পান। ২৭ বছর বয়সি রাজা মুথুপান্ডি গ্লাসগোতে পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে স্ন্যাচে ১২৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৬০ কেজি তুলে মোট ২৮৬ কেজি ওজন উত্তোলন করেন। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দেয় রুপোর পদক।

    ভারোত্তলনে ভারতের দাপট

    কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের ভারোত্তোলনে ১৩৩টি পদক রয়েছে। এবারও সেই দাপটই ধরে রাখলেন ভারতের ছেলে-মেয়েরা। এ দিন সকালে ভারোত্তোলনে জ্ঞানেশ্বরী যাদব রুপো এবং বিন্দিয়ারানি দেবী ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। সব মিলিয়ে ভারতের মোট পদক সংখ্যা পৌঁছেছে ১০-এ। এর মধ্যে ছ’টি এসেছে ভারোত্তোলন থেকে। চোট, বিতর্ক আর ডোপিংয়ের কালো মেঘ। সব অন্ধকারকেই ক্লাইড নদীর জলে বিসর্জন দিলেন ভারতের কন্যারা। রবিবার মীরাবাই চানুর হ্যাটট্রিক সোনার রেশ এখন কাটেনি। তারই মধ্যে সোমবার গ্লাসগোর ভারোত্তোলন মঞ্চ মাতালেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব (Gyaneshwari Yadav)। মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে নাইজেরিয়ান প্রতিযোগীর সঙ্গে কার্যত ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই চালালেন। রুপো ছিনিয়ে আনলেন ২৩ বছরের তনয়া। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ১৯৯ কেজি (৮৮ কেজি + ১১১ কেজি) ওজন তুললেন জ্ঞানেশ্বরী।

    হাই জাম্পেও রুপো

    পুরুষদের হাই জাম্পের ফাইনালে ২.২৬ মিটার টপকে রুপোর পদক নিশ্চিত করেন সর্বেশ অনিল কুশারে। ধারাবাহিক ভাবে ভালো পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত সর্বেশের হাত ধরেই ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি রুপো যোগ হলো। কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাথলেটিক্সে এক নতুন ইতিহাস লিখলেন ভারতের সর্বেশ কুশারে। গেমসের ইতিহাসে হাই জাম্পে ভারতের এটিই এই বিভাগে প্রথম রুপো অর্জন, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের উদীয়মান শক্তিকে আবারও তুলে ধরল। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার এক প্রান্তিক পেঁয়াজ চাষীর সন্তান সর্বেশের এই পথচলা একেবারেই সহজ ছিল না। শৈশবে আধুনিক অনুশীলনের সুযোগসুবিধা না থাকায়, বাবা ও কোচের সহায়তায় ভুট্টা, তুলো এবং খেতের কৃষি বর্জ্য দিয়ে বানানো অস্থায়ী ‘ল্যান্ডিং পিটে’ লাফিয়ে হাই জাম্পের প্রাথমিক পাঠ নিয়েছিলেন তিনি। সেই অনটন আর প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেরঙ্গা ওড়ালেন সর্বেশ।

  • Suvendu in Jalpaiguri: ‘‘ঘরে ফিরুন, রাজ্যেই মিলবে কাজ’’ উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu in Jalpaiguri: ‘‘ঘরে ফিরুন, রাজ্যেই মিলবে কাজ’’ উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সময় বদলেছে। রাজ্যে এখন ভয় আউট ভরসা ইন। নতুন নতুন কারখানা হচ্ছে। তাই আর বাংলার বাইরে যআওয়ার দরকার নেই। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে ভিন্‌ রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে রাজ্যে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তিনি জলপাইগুড়ি যান। গত ২০ জুলাই সিকিমের নামচির এনএইচপিসি প্রকল্পের একটি নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার পর, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকের উদ্দেশ্যে ওই বার্তা দেন তিনি।

    রাজ্যে ফিরতে শুরু করুন

    জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রয়াত শ্রমিকেরা কাজের জন্য ভিন্‌ রাজ্যে গিয়েছিলেন। বাংলায় তো কাজ নেই, তবে আমরা সবে এসেছি—ধীরে ধীরে কাজের সুযোগ তৈরি করব এবং সবাই ফিরে আসবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের বলব, আপনারা রাজ্যে ফিরতে শুরু করুন। আমরা বড় কারখানা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কাজের ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি সরকারি স্তরেও কর্মসংস্থান শুরু হবে। আমাদের সরকার দায়িত্বে আসার মাত্র ১০ সপ্তাহ পার হয়েছে। এতদিন ওবিসি সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা ছিল। আগের রাজ্য সরকার তোষণের রাজনীতি করে ওবিসি নিয়ে জটিলতা তৈরি করেছিল। আমরা বিধানসভায় বিল পাস করে তা সংশোধন করেছি। এ বার আমরা দ্রুত সব কাজ শুরু করব।’’

    জব কার্ড বানিয়ে ফেলুন

    পরিযায়ী শ্রমিক ও বেকার যুবদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আপনারা সকলে জব কার্ড বানিয়ে ফেলুন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘জি রাম জি’ প্রকল্পে আপনারা কাজের সুযোগ পাবেন। কেউ কাজ পাবেন আর কেউ পাবেন না—এমনটা হবে না। আমরা নিয়ম সহজ করেছি, ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেব।’’

    ‘আমূল’-কে দুটি আইসক্রিম কারখানার জন্য জমি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ‘আমূল’-কে দুটি আইসক্রিম কারখানা তৈরির জন্য ১৫ একর করে মোট ৩০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কারখানা দক্ষিণবঙ্গে এবং অপরটি উত্তরবঙ্গে গড়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শীঘ্রই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং তখনই জানা যাবে কারখানা দুটি ঠিক কোথায় নির্মিত হচ্ছে।

    খুলবে চা-বাগান

    উত্তরবঙ্গের বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে মোট ২৫টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং ও টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আগামী তিন মাসের মধ্যে ১২টি চা বাগান পুনরায় চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন।’’ এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকার চা শ্রমিকদের কল্যাণে ৩৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা এই বাগানগুলির শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।

    উত্তরবঙ্গে আর কোন কোন শিল্পের উপর জোর

    মালদায় আম-লিচুর ফুড প্রসেসিং, মাখানা, আনারস ও ভুট্টার উপরে ফুড প্রসেসিং এবং তুলাইপাঞ্জি চাল নিয়েও শিল্পের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ

    অন্য দিকে, সিকিমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই আমি আজ এখানে এসেছি। দুর্ঘটনার দিন থেকেই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং নাগরাকাটার বিধায়ক অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছেন। নিহতদের দেহ উদ্ধার করে পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২১ লক্ষ টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বাড়তি ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।’’এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নিহতদের পরিবারের সাতজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    ১৬ই অগাস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’

    এদিন উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ অগাস্টকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর কথায়, “১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এ হাজার হাজার হিন্দু প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিগত সরকার ওই দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ করেছিল। আমরা সেই জায়গায় আয়ুষ্মান দিবস উদযাপন করে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিককে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, যাঁরা এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা নিয়ে রাজ্য সরকার চালু করছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’।

    জল্পেশ মন্দিরে পুজো

    শ্রাবণের সোমবারে জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দুপুর সোয়া দুটোর পরে মুখ্যমন্ত্রী জল্পেশে পৌঁছন। জল্পেশের গর্ভগৃহে গিয়ে পুজোয় বসেন তিনি। ভোগ নিবেদন করবেন বলে মন্দির সূত্রের খবর। আকন্দ ফুলের মালা, পদ্মফুল বাবা জল্পেশ্বরকে নিবেদন করেন তিনি । পুজোর পরে মন্দির লাগোয়া এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। শুভেন্দু বলেন, “জলপাইগুড়িতে এসেছি। বাবা জল্পেশের কাছে যাব না, তাই হয় নাকি?” উল্লেখ্য তাঁর আগে রাজ্যের কোনও প্রশাসনিক প্রধান এই ঐতিহাসিক মন্দির দর্শনে আসেননি ৷ এদিন শিলিগুড়ির বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান রোড উড়ালপুলের উদ্বোধন করবেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই উড়ালপুল চালু হলে যেমন শিলিগুড়ির যানজট অনেকটাই কমবে, তেমনই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় উত্তেজনা, হিংসা এবং সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার দুই প্রান্তে জাতীয় পতাকা হাতে পালটা মিছিল করল বঙ্গ বিজেপি (BJP Rally)। দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা (National Flag March) নিয়েই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়।

    দুই প্রান্তে বিজেপির মিছিল (BJP Rally)

    বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল (BJP Rally) শুরু হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী। একই সময়ে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত আরও একটি মিছিল (BJP Rally) বের করা হয়।

    হিংসা ও সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ

    বিজেপির অভিযোগ, গত শুক্রবার নিট আন্দোলনের নামে ধর্মতলায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হিংসা ছড়ানো, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই জাতীয় পতাকা হাতে (National Flag March) পথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য

    মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “নিট আন্দোলনের নামে অরাজকতা বা দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে বহুবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল।” বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রশ্ন, যারা হিংসায় জড়িত, তারা কীভাবে নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করতে পারে? তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

    ‘পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হচ্ছে’ 

    বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ, দেশের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    কড়া পদক্ষেপের দাবি

    মিছিল থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে বিজেপি পালটা স্লোগান দেয়। আন্দোলনের নামে হিংসা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় দলের নেতৃত্ব।

  • Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-সহ দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথমবার সংসদে হাজির বিজেপি (BJP) সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। আর প্রথম দিনেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) বলেন, ‘‘আমি স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।’’

    সংসদে উষ্ণ অভ্যর্থনা

    সোমবার সংসদের মকর দ্বার প্রবেশপথে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপেক্ষায় ছিলেন এনডিএ (NDA)-র একাধিক সাংসদ। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) পৌঁছতেই তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক টুপি পরিয়ে স্বাগত জানান দলীয় সহকর্মীরা। যা বিজেপির তরফে তাঁর প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে হাসিমুখেই সহকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে দেখা যায়।

    জয়রামের সহানুভূতি, প্রধানের পাল্টা জবাব

    এদিন সংসদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) কাছে পদত্যাগের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। জয়রাম রমেশ বলেন, “এমনটা হয়েই থাকে।” জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “কিছুই হয়নি। আমি একজন স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।” বিজেপি (BJP) নেতাদের মতে, এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি আসেনি।

    নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বের জল্পনা

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) এই মন্তব্যের পর বিজেপির (BJP) অন্দরে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ওড়িশায় বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হওয়ার পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়ে আসছে দল। বিজেপির অন্দরে এখন জোর জল্পনা, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সাংগঠনিক পদ দেওয়া হতে পারে। আবার আগামী দিনে যে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, তার মধ্যে কোনও একটির নির্বাচনী দায়িত্বও তুলে দেওয়া হতে পারে ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাতে।

    একাধিক রাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। এরপর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি (BJP)। ২০২৪ সালে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর আগেও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কর্ণাটকের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ওই রাজ্যগুলিতে বিজেপির জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে দলের দাবি।

    পাশে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও প্রকাশ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবদানের প্রশংসা করেন। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, এই পদত্যাগ তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমার ইঙ্গিত নয়। বরং এটি “রাজনৈতিক জবাবদিহি”, “ত্যাগ” এবং “জাতীয় স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত”-এর উদাহরণ।

    বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

    একদিকে যখন বিজেপি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছিল, অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নেতৃত্বে বিরোধী দল ছাত্র আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ছবির মধ্যেই লোকসভায় আলোচনার জন্য তোলা হয় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬। প্রশ্নফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করার লক্ষ্যেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।

LinkedIn
Share