Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • ITR Filing 2026: ৩১ জুলাই আয়কর রিটার্ন ফাইলের শেষ তারিখ, দেরি হলেই বাড়তে পারে জরিমানা-করের বোঝা!

    ITR Filing 2026: ৩১ জুলাই আয়কর রিটার্ন ফাইলের শেষ তারিখ, দেরি হলেই বাড়তে পারে জরিমানা-করের বোঝা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেরি করলেই গুণতে হবে মাশুল। এই ভুল ভুলেও করবেন না। দ্রুত এগিয়ে আসছে আয়কর রিটার্ন (ITR Filing 2026) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। বেতনভোগী এবং কর নিরীক্ষার আওতার বাইরে থাকা অধিকাংশ করদাতার জন্য ৩১ জুলাই-ই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে পরে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, সেক্ষেত্রে জরিমানা, বকেয়া করের ওপর সুদ এবং ভবিষ্যতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে সময়সীমার মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া উচিত।

    কার জন্য কোন শেষ তারিখ?

    করদাতার আয়ের ধরন ও ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার (ITR Filing 2026) শেষ তারিখ আলাদা।

    • ITR-1 ও ITR-2: বেতনভোগী ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF), যাঁরা ট্যাক্স অডিটের আওতায় নন – ৩১ জুলাই ২০২৬
    • ITR-3 (নন-অডিট): ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের করদাতা (অডিট প্রযোজ্য নয়) – ৩১ অগাস্ট ২০২৬
    • ITR-4 (নন-অডিট): প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন ব্যবস্থার যোগ্য করদাতা (অডিট প্রযোজ্য নয়) – ৩১ অগাস্ট ২০২৬
    • ITR-3 (ট্যাক্স অডিট): ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের করদাতা (অডিট প্রযোজ্য) – ৩১ অক্টোবর ২০২৬
    • ITR-4 (ট্যাক্স অডিট): প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন ব্যবস্থার করদাতা, যেখানে অডিট প্রযোজ্য – ৩১ অক্টোবর ২০২৬
    • ট্রান্সফার প্রাইসিং সংক্রান্ত করদাতা: ৩০ নভেম্বর ২০২৬
    • বিলম্বিত রিটার্ন (Belated Return): ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত
    • সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return): ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত
    • আপডেটেড রিটার্ন (Updated Return): সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন বর্ষ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৮ মাস পর্যন্ত, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে।

    সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া কেন জরুরি?

    সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) জমা দিলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যদি কেউ শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্য কোনও মূলধনী সম্পদ বিক্রি করে ক্যাপিটাল লস করে থাকেন, তাহলে সেই ক্ষতি ভবিষ্যতের মূলধনী লাভের সঙ্গে সমন্বয় (Set-off) করার সুযোগ থাকে। এই ক্ষতি সর্বোচ্চ ৮টি মূল্যায়ন বর্ষ পর্যন্ত বহন করা যায়। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে ভবিষ্যতে মূলধনী লাভের ওপর কর কমানোর এই সুযোগ হারাতে হতে পারে। তবে বাড়ির সম্পত্তি (House Property) থেকে হওয়া ক্ষতির ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। আয়কর আইনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দিলেও সেই ক্ষতি বহন করার সুযোগ থাকতে পারে।

    দেরি করলে কত জরিমানা?

    নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে আইনে নির্ধারিত জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে। আয়কর আইন, ধারা ২৩৪এফ অনুযায়ী- সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিলম্ব ফি। যদি মোট আয় ৫ লাখের বেশি না হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা জরিমানা। ধারা ২৩৪এ অনুযায়ী- বকেয়া করের ওপর প্রতি মাস বা মাসের অংশের জন্য ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে এই সুদ তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন টিডিএস (TDS), অগ্রিম কর (Advance Tax) ও অন্যান্য কর-ছাড় সমন্বয়ের পরও কর বকেয়া থাকে।

    বিলম্বিত রিটার্ন ও সংশোধিত রিটার্নের পার্থক্য

    যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেননি, তাঁরা বিলম্বিত রিটার্ন (Belated Return) জমা দিতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁরা ইতিমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন কিন্তু পরে কোনও ভুল বা তথ্য বাদ পড়েছে বলে বুঝতে পেরেছেন, তাঁরা সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return) জমা দেওয়ার সুযোগ পান। তবে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে এবং ক্যাপিটাল লস বহন করার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধাও হারাতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

  • Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ আবারও ‘লাভ জেহাদ’ (Love Jihad) বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে উঠে এসেছে ছদ্মবেশ ধারণ, মিথ্যা পরিচয় ও বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন এবং ধর্মান্তরের মতো একাধিক অভিযোগ। দেশজুড়ে এমনই কিছু ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

    ইন্দোরে ‘ভুয়ো’ বজরং দল নেতা গ্রেফতার

    ১১ জুলাই গ্রেফতার করা হয় ফারহানকে। অভিযোগ, নিজেকে ‘বজরং দল’-এর স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে (Fake Identity) এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে ফারহান। ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ‘গোলু সোলাঙ্কি’ নাম নেয়। কিন্তু যখন ফারহানের আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায়, তখন সে মেয়েটিকে জোর করে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ফারহানের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং মধ্যপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

    বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেল রেলকর্মীর

    ২০২৬ সালের ৮ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ে এক বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ওঠে এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে, ওই রেলকর্মী ভুয়ো হিন্দু পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্ত প্রথমে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। এরপর সেই ভিডিও দেখিয়ে প্রায় ছ’বছর ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। মহিলার বিয়ের পরেও তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। মহিলার স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি ধর্মান্তরের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    তেহরিতে নাবালিকাকে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরাখণ্ডের তেহরি জেলার জিউদানা গ্রামে এক নাবালিকা হিন্দু ছাত্রীকে প্রতারণা ও শোষণের অভিযোগে মহম্মদ জাসিম আনসারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, তিনি সোশ্য়াল মিডিয়ায় নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে (Fake Identity) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করেন এবং তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বন্দুকের মুখে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ পুলিশের কাছে এক হিন্দু তরুণী অভিযোগ করেন এক দম্পতি এবং এক স্থানীয় মৌলবী তাঁকে বাড়িতে ডেকে বন্দুক দেখিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত করেন। অভিযোগ, তাঁকে কয়েক দিন ধরে সেখানে আটকে রাখা হয়। সেই সময় তাঁকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানি করা হয় এবং জোর করে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়। ঘটনার পর ওই তরুণী সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) সতপাল আন্তিলের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে এসএসপি মাজহোলা থানাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

    সাহারানপুরে সুফিয়ান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে সুফিয়ান খান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মান্ডি থানার পুলিশ। এক হিন্দু নাবালিকাকে ক্রমাগত উত্যক্ত করা ও অত্যাচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করছিল এই সুফিয়ান। অভিযোগ, সুফিয়ান সব সময় ওই নাবালিকার পিছু নিত। তার পরিবার প্রতিবাদ করতে গেলে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তদন্তে নেমে পুলিশ মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ পায়। এর ভিত্তিতে পুলিশ বেআইনি ধর্মান্তরকরণ আইনের পাশাপাশি নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের কঠোর ধারা যুক্ত করেছে।

    সেনা জওয়ান সেজে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই বিহারের মুজফ্ফরপুরে মহম্মদ আরমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বছর একুশের এক হিন্দু তরুণী। অভিযোগ, আরমান নিজেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেন। পরে তরুণী জানতে পারেন, আরমান সেনাবাহিনীতে কর্মরত নন, তিনি একটি টায়ার মেরামতির দোকানে কাজ করেন এবং তিনি বিবাহিত। অভিযোগ এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে আরমান এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওই তরুণীকে মারধর করেন, জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন, অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

    হারদোইতে নাবালিকাকে প্রলোভন ও অপহরণ

    ২০২৬ সালের ৬ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হারদোইয়ে ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ ওঠে ফিরোজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফিরোজ নাবালিকাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে তাঁকে তেনদুয়া গ্রামের একটি পেট্রল পাম্পের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। নাবালিকা পরে পুরো ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান। বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাবালিকাদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইনে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ পুলিশ দল গঠন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

    বেআইনি ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে দারুল উলুম রহিমিয়া মাদ্রাসার প্রধান মৌলানা হাফিজুর রহমান আনসারি এবং তাঁর ছেলে জুবায়ের আনসারির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তর পরিচালনার অভিযোগে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবা-ছেলে মিলে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও বিভ্রান্ত করে স্থানীয় হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করতেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইন, ২০২১-এর অধীনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।

    ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহারের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহার করে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযোগ, সাজিদ নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। মহিলা থানার পুলিশ প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্যে তদন্ত চালায়। পরে গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভেদ গ্রাম থেকে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    নাবালিকা কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে ধরা পড়ার অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের খানপুর এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেলের ঘরে আলম নামে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরীকে দেখতে পেয়ে হোটেলের কয়েকজন কর্মী পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম মানেনি। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান এবং নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেলের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে, নাবালিকাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় এবং আলম ও হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

    কাতারে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ধর্মান্তরকরণের গভীর ষড়যন্ত্র

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ায় ১৩ বছর বয়সি এক হিন্দু নাবালিকাকে পাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। নাবালিকার বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, নাবালিকাটি একটি স্থানীয় নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেত। সেখানেই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে তাঁকে কাতারের দোহায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। মামলায় বেআইনি ধর্মান্তরবিরোধী আইন-সহ মোট ১১টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে সক্রিয় হয়ে ওঠা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Assam STF)। পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (Shahzad Bhatti Network)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই জঙ্গি-অপরাধচক্রটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর নির্দেশে কাজ করত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা, জঙ্গি কার্যকলাপ ও স্লিপার সেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে যাচ্ছিল।

    একযোগে তিন জেলায় অভিযান

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF) জানিয়েছে, ২৪ জুলাই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে যোগ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশও। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ধুবড়ি জেলার বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আক্রামূল ইসলাম (২৬), চিরাং জেলার পানবাড়ির ধুপিরি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান (২২), এবং বরপেটা জেলার কালগাছিয়ার দাবান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হুসেনকে (৫৪)।

    কী কী কাজে যুক্ত ছিল এই নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)?

    তদন্তকারীদের (Assam STF) দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক শুধু জঙ্গি নিয়োগই নয়, অনলাইনে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকি, অস্ত্র সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্লিপার সেল গড়ে তোলার কাজও করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলাররা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

    একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

    এসটিএফের (Assam STF) দাবি, এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল একাধিক উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রয়েছে- খালিস্তান আর্মড ফোর্স, পঞ্জাব সার্বভৌমত্ব অ্যালায়েন্স, খালিস্তান লিবারেশন আর্মি, শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড, ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড, শিখ টাইগার্স অফ খালিস্তান,  তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (টিটিএইচ)। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে পঞ্জাব পুলিশের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে হওয়া হত্যাকাণ্ডের দায়ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান স্বীকার করেছিল।

    অসমে কীভাবে সামনে এল এই চক্র?

    অসমে এই নেটওয়ার্কের (Shahzad Bhatti Network) কার্যকলাপ প্রথম সামনে আসে নলবাড়ি জেলার একটি তদন্তে। ওই তদন্তে গত ২২ মে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তের সূত্র ধরেই আরও তথ্য হাতে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তিন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কী কী উদ্ধার হয়েছে?

    ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে  ৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই ও ডেবিট কার্ড। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সমস্ত সামগ্রী খতিয়ে দেখে নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    নাশকতার পরিকল্পনা!

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF)-এর পুলিশ সুপার প্রণব কুমার পেগু জানিয়েছেন, “গোয়েন্দা সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য মিলেছিল যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত এই নেটওয়ার্ক দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। প্রথমে পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে স্লিপার সেল গড়ে তোলার পর চলতি বছরে অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতেও এই নেটওয়ার্ক নিজেদের কার্যকলাপ বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে তদন্ত শেষ নয়। বরং উত্তর-পূর্ব ভারতে এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত জঙ্গি ও অপরাধচক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম পুলিশ।

  • Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বর্ধিত বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে, শনিবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এক আইপিএস -সহ মোট পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড (IPS Officer Suspended) করার কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের আমলে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে যুক্ত কাজের অভিযোগ রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আগের সরকারের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই সময় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতেও আঘাত লেগেছিল।” পাশাপাশি, বিজেপি সরকার যে কোনওভাবেই প্রশাসনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বা দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না, তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও একই বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড

    সাসপেন্ড হওয়া পাঁচ পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে রয়েছেন-  কোটেশ্বর রাও (IPS Officer Suspended)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ (Diamond Harbour Police) জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন কোটেশ্বর। সাসপেন্ড করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন, কলকাতা পুলিশের বড়তলা থানার প্রাক্তন অফিসার-ইন-চার্জ সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী, বড়তলা থানার প্রাক্তন সাব-ইনস্পেক্টর সাধন পাণ্ডে এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অমলেন্দু বিশ্বাস।

    ক্ষমতায় এসেই শুরু হয়েছিল কড়া পদক্ষেপ

    এটাই নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেন। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্ত ও তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। শুধু সাসপেন্ড করাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্য সরকার ওই তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সরকারের বার্তা

    প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বজায় রাখাই যে বর্তমান বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়, তা আবারও স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই পদক্ষেপে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বার্তাও আরও একবার স্পষ্ট করে দিল শনিবারের এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত।

  • Mohan Bhagwat: ‘আদেশ নয়, আলোচনাই পথ’, যুবসমাজকে বোঝার আহ্বান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘আদেশ নয়, আলোচনাই পথ’, যুবসমাজকে বোঝার আহ্বান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের আবহের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে নির্দেশ দিয়ে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে বোঝাতে হবে। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রয়োজন বিশ্বাস, স্নেহ এবং নিয়মিত সংলাপ। ‘বিশ্ব মঙ্গল্য সভা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত বা দিশাহীন বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। বরং তাঁরা প্রশ্ন করতে শিখেছে এবং সেই প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়া বড়দের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমাদের সময় ছিল নির্দেশ মানার যুগ। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম প্রশ্ন করে। তাই তাঁদের যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে, সময় দিতে হবে, ভালোবাসা দিতে হবে এবং নিয়মিত কথা বলতে হবে।”

    আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হল সংলাপ

    আরএসএস প্রধানের মতে, নতুন প্রজন্মের আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হল সংলাপ। তাঁর কথায়, “নির্দেশ নয়, আলোচনা। আদেশ নয়, ঐকমত্য—এই পথেই এগোতে হবে।” যদিও মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে সরাসরি দিল্লির চলমান ছাত্র আন্দোলন বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্যকে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছে। ২০ জুলাই সংসদ ভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এদিকে, আরএসএস প্রধানের নীরবতা নিয়ে শুক্রবার প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, যন্তর মন্তরের ঘটনায় মোহন ভাগবতের নীরবতা তাঁর বক্তব্যের থেকেও বেশি অর্থবহ।

    আন্দোলনকারীদের দাবি কী?

    আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি শনিবার দুপুরেই ছাত্রদের ভবিষ্যত সুরক্ষার্থেই পদত্যাগ করেছেন। ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সিজেপি-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে এসেছে সমাধান সূত্র। এই পরিস্থিতিতে মোহন ভাগবতের ‘আদেশ নয়, আলোচনা; নির্দেশ নয়, ঐকমত্য’ বার্তাকে বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • PM Modi hails Jhandu Kumar: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জজয়ী ঝান্ডু কুমারকে শুভেচ্ছা মোদির

    PM Modi hails Jhandu Kumar: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জজয়ী ঝান্ডু কুমারকে শুভেচ্ছা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয়ের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) ভারতের পদক অভিযান শুরু হলো এক অনুপ্রেরণার গল্প দিয়ে। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে প্রথম পদক যোগ করলেন বিহারের নালন্দার ২৯ বছরের ঝান্ডু কুমার। মোট ১৯০ কেজি ওয়েট তুলে তিনি পোডিয়ামে জায়গা করে নিয়েছেন। গ্লাসগো গেমসে প্রথম পদক জয়ের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা

    সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ঝান্ডু কুমারের এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয় নয়, বরং তাঁর অদম্য মানসিক শক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলনের ফল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, “পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে ঝান্ডু কুমার কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদক তালিকার সূচনা করেছেন। তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন এবং অসংখ্য ভারতীয়কে অনুপ্রাণিত করেছেন।”

    এক অনুপ্রেরণার গল্প

    বিহারের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম ঝান্ডু কুমারের। মাত্র ৫ বছর বয়সেই পোলিও আক্রান্ত হন তিনি। ছোটবেলা থেকে শারীরিক ও আর্থিক – দুই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাবা রাস্তার ধরে সবজি বিক্রি করেন। এমনকি, পরিবার চালাতে কোভিড ও কোভিড পরবর্তী সময়ে ই-রিক্সা চালিয়েছেন তিনি। আবার ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরেও নিয়মিত জিমে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতেন। সেই লড়াইয়ের ফল এই সাফল্য। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম অবশেষে সফল হয়। তাঁর প্রতিভা নজরে আসে জাতীয় কোচ রাজিন্দর সিং রাহেলুর। এরপর তিনি ঝান্ডুকে গান্ধীনগরের সাইয়ের ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স অনুশীলনের সুযোগ করে দেন। এই সুযোগই তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে ভাল ফল পেয়ে তিনি আরও উন্নতি করতে থাকেন। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক ভাল ফল করতে থাকেন ঝন্ডু।পদক জয়ের পর তিনি বললেন,”আমার মনে হচ্ছে আমি আকাশে উড়ছি। আমার মাথায় খালি একটাই কথা ঘুরছিল – যেভাবেই হোক আমাকে পদক জিততেই হবে। আমি খুব কৃতজ্ঞ সবার কাছে। সবাই আমাকে এত অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছে ও ভালবাসা দিয়েছে ফলে আমি অভিভূত। ভবিষ্যতে আরও ভাল করার চেষ্টা করব। আমাকে সাইয়ের মতো জায়গায় অনুশীলন করতে দেওয়ার জন্য আমি ওদের কাছেও কৃতজ্ঞ। এই পদকটা শুধু আমার নয়, ওদেরও।”

  • Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং তা ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে লেখা দুই পাতার একটি খোলা চিঠিতে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং বিষয়টি যাতে আরও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না হয়, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ছাত্রজীবন, শিক্ষকতা এবং শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে তাঁর চার দশকের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল।

    ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে। তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং পুনরায় পরীক্ষার ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজি সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে স্বচ্ছতা আরও বাড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য পুনঃপরীক্ষা নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২১ জুন সফলভাবে পুনঃপরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

    নিজের দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনও দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয় এবং কোনও যোগ্য পরীক্ষার্থী বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করেছে। ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি ফলাফলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সাফল্যে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    তবে একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের একাধিক পদক্ষেপের পরও কিছু ‘দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি’ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং নানা বাধা তৈরি করেছেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর ইঙ্গিত, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থ থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সরে গিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দায় নির্ধারণের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আবেদন জানান, দেশের যুবসমাজ যেন বিভ্রান্তি, দীর্ঘ আইনি লড়াই বা রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, দেশের বিরোধী শক্তিগুলিকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেওয়া উচিত নয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের যুবসমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, উন্নত ভারতের প্রকৃত নির্মাতা দেশের তরুণ প্রজন্মই।চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক এবং সকল সহকর্মীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওডিশার মানুষ এবং দেশের যুবসমাজের সেবায় যে কোনও ভূমিকায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

  • NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ওই মিছিল থেকে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকেরাও। শনিবার বিধানসভায় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইন যোগ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

    কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

    শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের আঁচ লেগেছে কলকাতাতেও। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। মিছিলের ব্যাখা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসেবে ভিড় ছিল ৯ হাজার। তার মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভোটে পরাজিতরা খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট নিউটাউন, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি থেকে লোক সাপ্লাই করেছে। পরবর্তীকালে যখন ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসে, প্রথমে জুতো, বোতল ছোড়া হয়। টার্গেট করে সাংবাদিকদের। ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি মারুক সেল ফাটাক যাতে নাটক জমে। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেননি। কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    কোনওরকম বলপ্রয়োগ নয়

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শনিবার শুভেন্দু বলেন, “আমি আক্রান্ত ও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছি। …আমাদের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে এটা গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ গণতান্ত্রিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না বা পুলিশের দিক থেকে কিছু করা যাবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। মিছিল থেকে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের তরফে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা একজনও ছাত্র নয়। ককরোচ পার্টির সদস্য নয়। যারা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।”

    রণক্ষেত্র ধর্মতলা চত্বর

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা চত্বর। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিকও। সেই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। একটি মামলা হয়েছে এন্টালি থানাতেও। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতেও পাঁচটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘‘এই নেগেটিভ পিআর এর আগেও ছড়ানো হয়েছে। যে পুলিশের তরফ থেকে হামলা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে আমরা স্বচক্ষে দেখেছি যে পুলিশের তরফে কোনও হামলা শুরু হয়নি। পুলিশ আটকাতে আসছিল। আর আমাদের এই ছাত্রসমাজের মাঝখান থেকে এক দু’জন উঠে কিছুটা তেড়ে যায় পুলিশের দিকে। তবে, তারা ছাত্রছাত্রী ছিল না অবশ্যই। তারা আমাদের ডাকে অবশ্যই আসেনি।’’

    পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ জড়িত

    এদিন বিধানসভায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “চারজন কুখ্যাত লোকের নাম বলছি আমি। যাদের আমরা ছাড়ব না। আরও বাকি নাম বলে এখানে সময় নষ্ট করব না। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুণ্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম। গুণ্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুণ্ডাদমন আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে। সমগ্র বিধানসভার তরফে সাংবাদিকদের উপরে শারীরিক নিগ্রহের নিন্দা করছি। বিজেপির বিধায়করা বিআর আদেম্বকর মূর্তির নিচে কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেই কালো ব্যাজ পরে তাঁরা সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।”

    কেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা?

    সিজেপি-র কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা আদৌ ছাত্র কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগই ছিল সংবাদমাধ্যমের তরফে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। মূলত বেআইনি জমায়েত, হিংসা, জমায়েত থেকে অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা দেওয়া, অশান্তিতে উস্কানির ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • NEET Paper Leak: নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবিভিপির

    NEET Paper Leak: নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সংগঠনের মতে, এই পদক্ষেপগুলি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ছাত্রছাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। একইসঙ্গে, কেন্দ্রের আশ্বাসের পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে এবিভিপি। সংগঠনটি ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথই সর্বাধিক ফলপ্রসূ।

    কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি

    এবিভিপির দাবি, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর সমস্যা রোধ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার আনার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘদিন ধরেই কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনের মতে, পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কঠোর আইন ও নীতিগত সংস্কার বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে এবিভিপির মতে, এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। সংগঠনটি কেন্দ্রের কাছে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি (হাই-লেভেল কমিটি) গঠনের দাবি জানিয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সুপারিশ পেশ করে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ছাত্রকেন্দ্রিক করে তুলতে কাজ করবে।

    উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি

    এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বিরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পরীক্ষার সততা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা ছাত্রসমাজের স্বার্থেই হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে এই উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে গভীর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এবিভিপির দাবি অনুযায়ী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জন্য একটি স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।”

  • Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতে নিযুক্ত চিনের (China) নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে রিয়ার অ্যাডমিরাল ইউ জিয়ান (Rear Admiral You Jian)। গত বছর কেরল উপকূলে আগুনে বিধ্বস্ত একটি কার্গো জাহাজ থেকে ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধারের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’’

    ‘‘ভারত-চিন সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি’’

    নয়াদিল্লিতে ২১ জুলাই পিপলস্ লিবারেশন আর্মির (PLA) প্রতিষ্ঠার ৯৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউ জিয়ান বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় ভারত-চিন সম্পর্ক আবারও উন্নয়ন ও ইতিবাচক অগ্রগতির পথে ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘‘চিন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ। বর্তমানে দুই দেশই উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার সঠিক পথে ফিরেছে।’’

    ‘‘সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না’’

    ইউ জিয়ান বিশেষভাবে ২০২৫ সালের জুন মাসে কেরল উপকূলে ঘটে যাওয়া একটি উদ্ধার অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘গত জুনে কেরল উপকূলে আগুন ও বিস্ফোরণের কবলে পড়া একটি কার্গো জাহাজ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধার করেছিল। আমরা সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না।’’

    জ্বলন্ত জাহাজ থেকে চিনা নাবিকদের উদ্ধার ভারত

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৯ জুন সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেনার জাহাজ এমভি ওয়ান হাই ৫০৩ (MV Wan Hai 503) কেরলের আজহিক্কালের (Azhikkal) উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। কলম্বো থেকে নাভা শেভার উদ্দেশে যাত্রারত জাহাজটিতে মোট ২২ জন নাবিক ছিলেন। বিপদের মুখে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চারজন নিখোঁজ হন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন চিনা নাগরিক। সে সময় চিনা দূতাবাস ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদার উদ্ধার অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল। পরে ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বায়ুসেনা যৌথভাবে অগ্নিনির্বাপণ ও জাহাজটিকে নিরাপদে সরানোর অভিযানও চালায়।

    রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রসঙ্গ

    ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর যৌথ অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ইউ জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রসংঘের (UN) শান্তিরক্ষা অভিযানে দুই দেশের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বহু আত্মত্যাগও করেছে। তার কথায়, ‘‘ভারত ও চিনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ সেই পার্থক্যের তুলনায় অনেক বেশি।’’

    সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা

    ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন চিনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাই।’’

    লাদাখ অচলাবস্থার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

    ২০২০ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত এবং গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চারজন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেপসাং ও ডেমচক এলাকায় টহল সংক্রান্ত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ। এর ফলে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়। পরবর্তীতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়। পরে ২০২৫ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তিয়ানজিনেও দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখার উপর জোর দেয়।

    সীমান্ত সংলাপ ও প্রতিরক্ষা বৈঠক অব্যাহত

    সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের মধ্যে এসসিও বৈঠকের ফাঁকে আলোচনা হয়। এছাড়া সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজমের ৩৫তম বৈঠক বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকেও দুই দেশ সম্পর্কের ‘‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিকীকরণ’’ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে। তবে ইউ জিয়ানের বক্তব্যে ভারত-চিন যৌথ সামরিক মহড়া পুনরায় শুরু করা বা নতুন কোনও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়নি।

LinkedIn
Share