Tag: বাংলা খবর

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

  • Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরভোটের (Municipal Elections) আগেই বদলে যাচ্ছে কলকাতা ও হাওড়ার রাজনৈতিক মানচিত্র! শহরের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও নাগরিক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্য়াস (Ward Delimitation) করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় এক ধাক্কায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। ২০৯টি ওয়ার্ড নিয়ে সাজছে তিলোত্তমা, অন্যদিকে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬৮-তে। ১২ অগাস্ট বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাশ হলেই সিলমোহর পড়বে নতুন বিন্যাসে- যার পর শহর জুড়ে বাজবে বহুল প্রতীক্ষিত পুরভোটের রণকাসর। 

    কলকাতায় ২০৯, হাওড়ায় ৬৮

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অর্থাৎ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ৬৫টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে হাওড়া পুরসভার (Howrah Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৬৮। এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এখন বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই তা আইনি স্বীকৃতি পাবে।

    মুখ্যমন্ত্রী কী জানালেন?

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, “১২ অগাস্ট এক দিনের বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হয়েছে। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮ করা হবে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে।”

    শেষ হচ্ছে ডিলিমিটেশনের কাজ

    আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরেই পুরভোট (Municipal Elections) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই নির্দেশ মেনে কলকাতা পুরসভার সমীক্ষা বিভাগ দ্রুত কাজ শুরু করে। বোরো-ভিত্তিক বিশেষ কমিটি গঠন করে প্রতিটি এলাকার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক প্রয়োজন খতিয়ে দেখে নতুন ওয়ার্ডের খসড়া তৈরি করা হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন বাড়ানো হচ্ছে ওয়ার্ড সংখ্যা?

    সরকারের মতে, গত কয়েক বছরে কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে এবং অনেক ওয়ার্ডের আয়তনও বড় হয়ে গিয়েছে। ফলে নাগরিক পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক কাজ আরও কার্যকর করতে ছোট ছোট ওয়ার্ড গঠন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নতুন ওয়ার্ড হলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলেই সরকারের দাবি।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন পরিকল্পনা

    গত মে মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। পরে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই পুরভোটের (Corporation Vote) আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (Ward Delimitation) কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নজরে ১২ অগাস্টের বিধানসভা

    ১২ অগাস্ট বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হলে কলকাতা ও হাওড়ার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস (Ward Delimitation) কার্যকর করার পথ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত পুরভোটের (Corporation Vote) দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনাও জোরালো হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়ার পুর-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

  • Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষার মরশুমে সামান্য জ্বর আর সর্দিতে কমবেশি সকলেই ভোগেন। পরিবারের খুদে সদস্যের জ্বর বা সর্দি হলেও তাই অভিভাবকেরা হালকা ভাবেই নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক ভাইরাসের দাপটে আতঙ্ক বাড়ছে। বর্ষার মরশুমে জ্বর-সর্দি-কাশি হলেও বাড়তি নজরদারি জরুরি। কারণ, দেশজুড়ে দাপট বাড়াচ্ছে চাঁদিপুরা ভাইরাস! তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    চাঁদিপুরা ভাইরাস কী?

    চাঁদিপুরা ভাইরাস একটি বিরল এবং বিপজ্জনক ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এটা ১৯৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের চাঁদিপুর এলাকায় প্রথম দেখা গিয়েছিলো। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে।

    কেন চাঁদিপুরা ভাইরাস আতঙ্ক বাড়াচ্ছে?

    সম্প্রতি গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে চাঁদিপুরা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গুজরাটে ২২ জন শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। মহারাষ্ট্রেও এই ভাইরাসের সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। তাই দেশ জুড়ে সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই এই বিপজ্জনক ভাইরাস থেকে সতর্ক না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হয়। ১৫ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তেরা সকলেই ১৫ বছরের কম বয়সি। তাই শিশুদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    কীভাবে এই সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বালির মাছি বা স্যান্ড ফ্লাই থেকে চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের যে অঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছে, সেখানে স্যান্ড ফ্লাইয়ের দাপট বেশি। তবে যে কোনও রকম পোকা, যা মানুষকে সহজে কামড়াতে পারে, কামড়ে রক্ত বেরিয়ে যায়, এই ধরনের পোকার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে পারেন‌। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে দ্রুত এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না। তাই সতর্ক থাকলে মহামারির ঝুঁকি হবে না।

    কেন বাড়তি আতঙ্ক এই ভাইরাসে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাস স্নায়ু ও মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। আক্রান্তের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা চলে যায়। স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়। রোগ নির্ণয় হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। তাঁরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিবায়োটিক নেই। নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। তবে আক্রান্তের উপসর্গ কমানোর চেষ্টা করা হয়। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা যাতে বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। আর স্নায়বিক জটিলতা কমানোর চেষ্টা চলে। এই রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা এবং ওষুধ না থাকার জেরেই এই রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সংক্রামক রোগ রুখতে সচেতনতা জরুরি। সন্তানের জ্বর হলে তার বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, বার বার বমি হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করছে কিনা কিংবা স্নায়বিক কোনও জটিলতা দেখা দিচ্ছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে আর দেরি করা যাবে না। বরং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।‌ তাই যাতে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সক্রিয় থাকে, তাই আগাম চিকিৎসা শুরু জরুরি। না হলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই মরশুমে রোগ থেকে বাঁচতে হাত ও পা ঢাকা জামা কাপড় পরা জরুরি। কোনও রকম পোকা যাতে কামড়াতে না পারে, সেদিকেও‌ খেয়াল রাখতে হবে। রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামের বদল, টাকাও পৌঁছতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। একসময় কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বাংলায় বদলে হয়েছিল ‘বাংলার বাড়ি’। এবার সেই প্রকল্পই ফের নতুন পরিচয় পেল। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ (Paschim Banga Awas)। একইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান। সরকারের দাবি, ১৮ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার থেকেই ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানো হচ্ছে।

    নবান্ন (Nabanna) থেকে বড় ঘোষণা

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। মোট ১৮ লক্ষ মানুষ পাবেন ৬০ হাজার টাকা করে। তৃণমূল সরকারের তৈরি প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকার মধ্যে সাড়ে ১২ লক্ষই অযোগ্য। সেইসব নাম বাদ দিয়েই যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

    ‘রং-ধর্ম নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি’

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “যোগ্যরা সবাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। উপভোক্তাদের রং দেখব না, ধর্ম দেখব না।” সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি দারিদ্রসীমার নিচে থাকা বহু উপভোক্তা। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পেয়ে অসমাপ্ত বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করার আশা দেখছেন তাঁরা।

    কীভাবে বদলেছে প্রকল্পের নাম?

    মূলত এটি কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নাম নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেই সময় রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই প্রকল্প চালাবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হয় বাংলার বাড়ি। উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি হয় এবং প্রতিটি বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় এবং বিজেপি সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকারের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মতো আবাস প্রকল্পেও দ্রুততার সঙ্গে অনুদান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    কেন বদল হল নাম?

    এপ্রসঙ্গে এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এতদিন তৃণমূল সরকারের আপত্তি ছিল মোদিজির প্রকল্পের নাম নিয়ে। গোটা দেশে যে প্রকল্পের সুবিধা দরিদ্র মানুষ পান, সেটা পশ্চিমবঙ্গে এতদিন সেই নামে চলত না। আমাদের স্পষ্ট কথা, এখন থেকে গোটা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কাজ হবে। তাই বাংলার বাড়ির নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস (Paschim Banga Awas) রাখা হচ্ছে। এদিন থেকেই দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময় তৈরি তালিকায় বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম ছিল। সেইসব নাম যাচাই করে বাদ দেওয়ার পরই বর্তমান সরকার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করছে।” নামের বদলের সঙ্গে শুরু হল দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও বিতরণ। একদিকে প্রকল্পের নতুন পরিচয় পশ্চিমবঙ্গ আবাস, অন্যদিকে ১৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে ৬০ হাজার টাকা- এই দুই ঘোষণাকেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

  • Tarun Tejpal: সেশনস কোর্টের রায় খারিজ! ২০১৩-র যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ

    Tarun Tejpal: সেশনস কোর্টের রায় খারিজ! ২০১৩-র যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে বড় মোড়। ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় প্রাক্তন ‘তেহেলকা’ সম্পাদক তরুণ তেজপালকে (Tarun Tejpal) ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ (Bombay High Court)। ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট যে খালাসের রায় দিয়েছিল, তা বাতিল করে তেজপালকে (Tarun Tejpal) দোষী সাব্যস্ত করেছে হাই কোর্ট। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।

    কী অভিযোগ?

    ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময় হোটেলের লিফটে পরপর দু’দিন এক তরুণী সহকর্মী সাংবাদিককে যৌন নির্যাতন করেন তিনি। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।

    সেশনস কোর্টে খালাস, হাইকোর্টে উল্টো রায়

    ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট তেজপালকে বেকসুর খালাস দেয়। আদালতের মতে, অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রসিকিউশন তুলে ধরতে পারেনি। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব এবং অভিযোগকারিণী ও তেজপালের (Tarun Tejpal) মধ্যে হওয়া বার্তা আদান-প্রদানও সেই রায়ে গুরুত্ব পায়। এরপর ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টে যায় গোয়া সরকার। রাজ্যের দাবি ছিল, নিম্ন আদালত প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। সেই যুক্তি মেনে হাই কোর্ট খালাসের রায় বাতিল করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে। বৃহস্পতিবার আদালত তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে।

    কী বললেন তারুণ তেজপাল?

    রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal) বলেন, “আমরা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে যাব। তেহেলকা-র সাংবাদিকতার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।” তবে এই দাবি আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    তদন্তকারী অফিসারের প্রতিক্রিয়া

    মামলার প্রাক্তন তদন্তকারী অফিসার সুনীতা সাওয়ান্ত বলেন, “সেশনস কোর্টের রায়ে গুরুতর ত্রুটি ছিল বলেই রাজ্য সরকার আপিল করেছিল।” হাই কোর্ট সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখে সেই রায়ে থাকা অসঙ্গতিগুলি চিহ্নিত করেছে বলেও তাঁর দাবি।

    নতুন অধ্যায়, শেষ নয় আইনি লড়াই

    দেশের অন্যতম আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টের এই রায় নিঃসন্দেহে বড় আইনি মোড়। তবে মামলার পর্দা এখনও নামেনি। সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)। ফলে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে নজর থাকবে।

  • WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শব্দদূষণ (Noise Pollution) রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার (WB Govt)। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ (Noise Pollution) সংক্রান্ত বিধি (Loudspeaker Rules) কঠোরভাবে কার্যকর করতে শুরু হয়েছে অভিযান। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছাদের লাউডস্পিকার সরিয়ে কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের পর ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় মসজিদ থেকে উচ্চ ক্ষমতার মাইক খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এতে ধর্মীয় কার্যক্রমে কোনও বাধা তৈরি হবে না, একই সঙ্গে শব্দদূষণও (Noise Pollution) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

    কী নির্দেশ দিয়েছে সরকার?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (WB Pollution Control Board) নির্ধারিত শব্দসীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সেই নিয়ম অনুযায়ী- আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ করা যাবে। রাতের বেলা শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশ প্রশাসন মসজিদ কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে ছাদের উচ্চ ক্ষমতার লাউডস্পিকারের পরিবর্তে কম মাত্রার সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের জবাব

    সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠনের অভিযোগ, শুধুমাত্র মসজিদগুলিকেই লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, এই নির্দেশ কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (WB Pollution Control Board)  নিয়ম অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ-সহ সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই একই আইন মেনে চলতে হবে।

    কী বললেন মন্ত্রীরা?

    পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে শব্দবিধি মেনে চলতেই হবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy)-ও সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হবে না।”

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়েছেন, “ধর্মীয় প্রার্থনা নিজ নিজ উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। রাস্তা দখল করে বা সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি করে কোনও ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

    শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য

    এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “মসজিদে নামাজ পড়ুন, মন্দিরে মন্ত্রপাঠ করুন। মাইক বাজানোর দরকারটাই বা কী?  ধর্ম করুন বাড়িতে। কোনও আপত্তি নেই।” শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রশাসনের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান- মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্য যে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেককেই একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের শব্দদূষণজনিত ভোগান্তি কমবে, তেমনই পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

  • Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর। এবার তৃণমূল আমলে গত প্রায় ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification)। ইতিমধ্যেই বহু শংসাপত্র বাতিল হয়েছে, আর সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ৪৫ হাজারেরও বেশি কাস্ট সার্টিফিকেট। শুনানির পর প্রমাণ দিতে না পারলে সেগুলিও বাতিল হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ১ লক্ষের বেশি কাস্ট সার্টিফিকেটের পুনর্যাচাই

    অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১,২২,১১৭টি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮ শতাংশ) শংসাপত্র বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যাচাই চলাকালীন একের পর এক অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

    ইতিমধ্যেই বাতিল ১৩৫টি শংসাপত্র

    যাচাইয়ের পর এখনও পর্যন্ত ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-  ৮৩টি তফসিলি জাতি (SC), ৪১টি তফসিলি জনজাতি (ST) ও ১১টি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)। এছাড়াও আরও ২৯টি শংসাপত্রকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বাতিল?

    বাতিল হওয়া শংসাপত্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে- উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান। এই জেলাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রের দাবি। বর্তমানে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় নজর ৪৫,৩৬৭টি কাস্ট সার্টিফিকেটের উপর। এগুলিকে সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের একে একে শুনানিতে ডাকা হবে। সেখানে তাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। যদি কেউ বৈধ নথি দেখাতে না পারেন, তাহলে সেই কাস্ট সার্টিফিকেটও অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হবে। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক শংসাপত্র?

    সন্দেহের তালিকায় থাকা শংসাপত্র সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে— উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, মালদহ, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলির শংসাপত্র বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শুরু হয় অভিযান

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্যাচাইয়ের (Caste Certificate Reverification) নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই এই পুনর্যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা ভুয়ো বা অবৈধভাবে জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিঙ্গুরের পরিত্যক্ত কারখানার জমি, রাজনৈতিক আন্দোলন আর দীর্ঘ দেড় দশকের তিক্ত আইনি যুদ্ধ- সবকিছু পিছনে ফেলে অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের অন্দরে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর রাজ্য শিল্প মহলে এখন এক নতুন আশার আলো। অতীত সংঘাতের তিক্ততা ভুলে গিয়ে ফের কি বাংলায় বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটবে টাটা গোষ্ঠী? শিল্প মহলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

    মুম্বইয়ে বৈঠক, আলোচনায় ক্ষতিপূরণ ও বিনিয়োগ

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (WBIDC)-এর প্রতিনিধিরা এবং রাজ্যের শিল্প দপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব মুম্বইতে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সদর দফতরে গিয়ে এক দফায় দীর্ঘ বৈঠক সেরে এসেছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আলোচনার পিছনে মূলত দুটি বড় উদ্দেশ্য ছিল- প্রথমত, আর্বিট্রেশন ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে টাটাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ মেটানোর প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, অতীতের জটিলতা দূরে সরিয়ে নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে টাটাদের (Tata Motors) শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।

    সিঙ্গুর (Singur) আন্দোলন থেকে সুপ্রিম কোর্ট

    সিঙ্গুর (Singur) ও টাটাদের (Tata Motors) এই আইনি লড়াইয়ের মূল শিকড় লুকিয়ে রয়েছে দেড় দশক আগের রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনে-

    ২০০৬-এর অধিগ্রহণ ও ২০০৮-এর প্রস্থান: ২০০৬ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে  (Singur) অত্যন্ত সুলভ মূল্যের ১ লাখ টাকার ‘ন্যানো’ গাড়ি কারখানার জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটর্সকে (Tata Motors) হস্তান্তর করে। তবে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি ও অনিচ্ছুক চাষিদের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আন্দোলনের চাপে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ২০০৮ সালের পুজোর ঠিক আগে বাংলা ছেড়ে গুজরাতে কারখানা স্থানান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন টাটার তৎকালীন প্রধান রতন টাটা (Ratan Tata)।

    ২০১১-র রাজ্য রাজনীতিতে বদল ও জমি ফেরত: ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সরকার গড়েই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিঙ্গুরের (Singur) জমি চাষিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাষিরা জমি ফেরত পেলেও কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা গড়তে না পারায় চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে টাটা গোষ্ঠী (Tata Motors)।

    আইনি লড়াই ও ২০২৩-এর আইনি নির্দেশ: এই ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে আইনি লড়াইয়ে নামে টাটা মোটর্স (Tata Motors)। আইনি প্রক্রিয়া গড়ায় আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে। সেখানে রাজ্যের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হলে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়- সিঙ্গুরের ন্যানো গাড়ি প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্য সরকারকে টাটা মোটর্সকে মেটাতে হবে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদ গুণতে হবে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে। এর পাশাপাশি নিগমকে আরও ১ কোটি টাকা মামলার আইনি খরচ হিসেবে টাটাদের মেটাতে হবে।

    তৃণমূল আমলের আইনি স্থগিতাদেশ: তৎকালীন তৃণমূল সরকার আলোচনার মাধ্যমে এই সঙ্কট নিষ্পত্তির পথে না গিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। শিল্পোন্নয়ন নিগমকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল পিটিশন করা হলে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের রায়ের উপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। ফলে ক্ষতিপূরণের পাওনা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা তৈরি হয়।

    নতুন সরকারের গতিশীল কূটনীতি

    চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরো আইনি অচলাবস্থা কাটানোর জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে নতুন সরকার। পুরনো তিক্ততা ধরে না রেখে আলোচনার টেবিলে বসে জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নেয় নবান্ন।

    প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী আলোচনা? কলকাতা হাইকোর্টে চলতে থাকা মামলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই মুম্বইতে টাটাদের সদর দফতরে যান রাজ্যের শিল্প সচিব বন্দনা যাদব (Bandana Yadav)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাটাকে সিঙ্গুরের (Singur) জমির ক্ষতিপূরণ মেটাতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মানতে রাজি রাজ্য সরকার। নবান্ন (Nabanna) সূত্রের খবর, টাটার পাওনা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কীভাবে এবং কতদিনের মধ্যে মেটানো হবে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ‘গাইডলাইন’ বা নীতিমালা প্রস্তুত করেছে নবান্ন।

    সমঝোতার পথে দুই পক্ষ? সম্পর্কের এই সুবাতাসকে আরও এগিয়ে নিতে রাজ্য সরকার পূর্ণ প্রস্তুত। টাটা (Tata Motors) কর্তৃপক্ষ সম্মত হলেই রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy) সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে নিজে মুম্বই গিয়ে টাটাদের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে রাজি আছেন।

    পাখির চোখ বাংলায় নতুন বিনিয়োগ

    নবান্নের (Nabanna) একাংশের মতে, শুধুই পুরানো একটি প্রকল্পের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়া এই উদ্যোগের শেষ কথা নয়। রাজ্যের নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ টানতে বড় বড় কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা। মুম্বইয়ের বৈঠকে টাটাদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শিল্পনীতি, উন্নত অবকাঠামো, সুসংহত লজিস্টিক সুবিধা এবং আগামী দিনের বিনিয়োগের নানা সুযোগ বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। পুরোনো সমস্ত জটিলতা দূর করে নতুন কোনো মেগা প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার জন্য টাটাদের ইতিবাচক আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও এই বৈঠক বা আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে রাজ্য সরকার কিংবা টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য বা স্পষ্ট বিবৃতি জারি করা হয়নি, তবে সরকারি সূত্রের দাবি- উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলা নিষ্পত্তি করতে এবং শিল্পায়নের স্বার্থে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

LinkedIn
Share