Tag: বাংলা খবর

  • West Bengal election: “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার”, নতুন গান ও স্লোগান রিলিজ বিজেপির, রয়েছেন মোদি, শুভেন্দু-শমীক

    West Bengal election: “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার”, নতুন গান ও স্লোগান রিলিজ বিজেপির, রয়েছেন মোদি, শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal election) জয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টি (West Bengal BJP) তাদের সাফল্যের উদ্‌যাপনে নতুন গান ও স্লোগান প্রকাশ করেছে। ভোট প্রচারে স্লোগান ছিল ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পরে নতুন স্লোগান বাঁধল পদ্মশিবির। এবারের গান “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার। বাঁধল নতুন গানও।”

    স্লোগানে পরিবর্তন (West Bengal election)

    নির্বাচনের (West Bengal election) আগে বিজেপির প্রধান স্লোগান ছিল—“পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” জয়ের পর সেই স্লোগান পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে—“পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার।” ক্ষমতায় আসার পরে সেই গান এবং স্লোগান উদ্‌যাপন করতে নতুন গান প্রকাশ্যে আনল পদ্মশিবির। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেখানে প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তার পাশাপাশি রইল মোদির মুখে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি। গানের সুরে রয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও। দলের তরফে দুই মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি নতুন গান প্রকাশ করা হয়েছে। এই গানে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি (West Bengal BJP) প্রসঙ্গে গানে বলা হয়েছে শিক্ষা হবে উর্ধ্বগামী সিঁড়ি। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং রাজ্যে তথাকথিত ‘দাদাগিরি’র সংস্কৃতির অবসানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষঙ্গ

    গানের ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি এবং আবহ সঙ্গীতে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি (West Bengal BJP) ব্যবহার করা হয়েছে, যা দলের আদর্শগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। শিক্ষা এ বার ‘ঊর্ধ্বগামী সিঁড়ি’তে পা রাখবে। রাজ্যে আর ‘বেকারত্ব থাকবে না’, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে নতুন গানে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক ‘দাদাগিরির’ সংস্কৃতি ঘোচানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। গানের ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের সাফল্যের মুহূর্তগুলো (West Bengal election) তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে নেতাকর্মীদের প্রবল পরিমাণে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে গানে।

     গানের প্রেক্ষাপট

    গত ১৭ জানুয়ারি মালদার জনসভা (West Bengal election) থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে স্লোগান বেঁধে দিয়েছিলেন, তা প্রচার পর্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। বিজেপি মনে করছে, মানুষের আবেগকেই জয়ের পর এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে এই গান ও স্লোগান বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। রাজ্যে ২০০-র গণ্ডি পেরিয়ে ক্ষমতায় আসার পর জনতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন নতুন সরকারের (West Bengal BJP) প্রধান লক্ষ্য—এই বার্তাই গানে স্পষ্ট করা হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: “মমতাকে হারানোর বদলা নিল তৃণমূল”, কেঁদে কেঁদে বললেন চন্দ্রনাথের মা

    Suvendu Adhikari: “মমতাকে হারানোর বদলা নিল তৃণমূল”, কেঁদে কেঁদে বললেন চন্দ্রনাথের মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। রামকৃষ্ণ মিশনের মেধাবী ছাত্র থেকে বায়ুসেনায় চাকরি, সেখান থেকে দাপুটে রাজনীতিবিদের ছায়াসঙ্গী— চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) এই অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিজন ও প্রতিবেশীরা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যে শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপির অবশ্য দাবি এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের একটা চক্র রয়েছে। তবে শপথ গ্রহণের আগেই এই হত্যাকাণ্ড রাজ্যরাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

    মেধাবী ছাত্র থেকে বায়ুসেনা হয়ে রাজনীতির আঙিনায়, কেমন ছিলেন চন্দ্রনাথ (Suvendu Adhikari)?

    পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। ২০০০ সালে সসম্মানে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এই যুবক ছিলেন এলাকার গর্ব। তাঁর সহপাঠী ও বাল্যবন্ধু শিবশঙ্কর দাসের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে এক আদর্শবাদী তরুণের ছবি।

    • শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছয়টি বিষয়ে লেটার মার্কস-সহ স্টার মার্কস পেয়েছিলেন চন্দ্রনাথ।
    • ব্যক্তিত্ব: বন্ধুমহলে তিনি পরিচিত ছিলেন পরোপকারী ও মিষ্টভাষী হিসেবে। কাউকেও কোনোদিন উচ্চস্বরে কিছু বলা বা কোনও বিবাদে জড়ানোর বিন্দুমাত্র ইতিহাস তাঁর ছিল না।
    • রাজনৈতিক বিবর্তন: কর্মজীবন শুরু করার পর একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দল পরিবর্তন করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

    শোকাতুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের হাহাকার

    শুভেন্দুর পিএ (Suvendu Adhikari) চন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবর পৌঁছানো মাত্রই চণ্ডীপুরে তাঁর গ্রাম শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। গতকাল রাত থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাচ্ছেন উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী ও পরিচিতরা। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে চিন্তিত পরিজনেরা। প্রতিবেশীরা বলেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে চেনা প্রতিবেশীরা বলছেন, “এমন মার্জিত ও অমায়িক ছেলে এ তল্লাটে বিরল।” ভোটের ঠিক আগের দিনও গ্রামে এসে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে গিয়েছিলেন তিনি। সেই স্মৃতিই এখন গ্রামবাসীর চোখে জল এনে দিচ্ছে।

    মৃত্যুর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের যেন শাস্তিটুকু হয়

    চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) মা হাসি রানী রথের অভিযোগ, সবটাই তৃণমূলের সাজানো গল্প। তিনি বলেন, “আজ আমরা ক্ষমতায় আসার পর, যখন আমাদের নেতা বলছেন সুশৃঙ্খলভাবে থাকতে, তখন শাসকদের যাঁরা গরম গরম বক্তৃতা দিয়েছিল যে চার তারিখের পর কোনও বাপ রক্ষা করতে পারবে না, সেটাই করে দেখাল। আমি নতুন সরকারের কাছে আবেদন করব আমার ছেলের মৃত্যুর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের যেন শাস্তিটুকু হয়।”

    রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ ও বিচারের দাবি

    চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তাঁর বন্ধু ও অনুগামীরা। শিবশঙ্কর দাসের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে চন্দ্রনাথকে। তিনি বলেন, ‘‘যিনি কোনওদিন কাউকে একটি চড় পর্যন্ত মারেননি, তাঁর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকা অসম্ভব। বিজেপি করার ‘অপরাধেই’ তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।’’ বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব চন্দ্রনাথের গ্রাম ও রাজনৈতিক মহল।

  • ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই (BJP Bengal Victory) রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) প্রদেশ কার্যালয়ে ঢল নেমেছে জেন জিদের। স্বদেশ মাতার বন্দনা, দেশের সুরক্ষা এবং দুর্নীতি মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে ছাড়ার হিড়িক দেখা দিয়েছে ছাত্র সমাজের মধ্যে। রাজনৈতিক পালা পরিবর্তনের পর এবিভিপির পক্ষ থেকে লিংড কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার জোরালো দাবি উঠেছে। সেই সঙ্গে সংগঠনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে বিদ্যার্থী পরিষদ। বাংলার ভেঙে পড়া শিক্ষা পরিকাঠামকে পুনঃনির্মাণের দাবি তোলা হয় এই হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠনের তরফে।

    ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ (ABVP)

    অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) তরফে সাফ দাবি করা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচন করতে হবে। ছাত্র অধিকারের দাবিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং ক্যাম্পাসকে রাজনীতি মুক্ত করে এবিভিপি সকল ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থকে সুরক্ষিত করার কথা জোর দিয়ে জানিয়েছে। ভর্তিতে কাটমানি, তোলাবাজি, নেশামুক্ত ক্যাম্পাস এবং কাম্পাসে নারী সুরক্ষার বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিরাপদ করার দাবিও তুলেছে এবিভিপি। বঙ্গের কৃষ্টি-সংস্কৃতির জাগরণের আরেকবার পুনঃজাগরণের কথায় জোর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি

    ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই জেলা ভিত্তিক সংগঠনের কাজ সম্পন্ন করেছে এবিভিপি। ইতিমধ্যে কলকাতা, শহরতলী, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি, শিলিগুড়ি, মালদা, কোচবিহারে এবিভিপির শক্ত সংগঠন রয়েছে। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে গত ৮ বছর আগে ২০১৯ সালে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল কেবলমাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যায় এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একক ভাবে এবিভিপি (ABVP) বিশেষ ভাবে নিজেদের ভোট অঙ্কে বিরাট প্রতিফলন হয়েছিল। তবে রাজ্যের বাকি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্পাসগুলিতে ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি। একক ভাবে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের একাধিপত্য জোরপূর্বক দখল করে রেখে ছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির (BJP Bengal Victory) ফলে ক্যাম্পাসকে ভয় মুক্ত করতে এগিয়ে আসছে বঙ্গের জেন জি সমাজ।

    রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে

    এবিভিপির দাবি, তৃণমূলের রাজত্বে গত আট বছর এ রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রসংসদ গঠন করা যায়নি। স্বচ্ছ ভাবে করা হয়নি ছাত্র সংসদের ভোট। বারবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রসংসদ নিষ্ক্রিয় করে রেখছে শাসকদল তৃণমূল। ইউনিয়ন রুমে ক্যাম্পাসের তৃণমূল নেতারা ছাত্রীদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে।  সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে এমন ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছিল সর্বত্র। অকারণে শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষকদের সঙ্গে অভব্য আচরণ, মারধর এবং রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে। কলজেগুলিকে লোকাল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। যাদবপুরের মতো জায়গায় স্বপ্নদীপের মতো একজন প্রথম বর্ষের ছাত্রকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে নামাজ, ইফতারের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কাজ করেছে তৃণমূল। তাই সার্বিক ভাবে অপসংস্কৃতির সমাপ্তি ঘটিয়ে একটি শিক্ষার পরিমণ্ডল চায় এবিভিপি।

    দুর্নীতিগ্রস্তদের সংগঠনে না

    এবিভিপি-র (ABVP) রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সেলের সহ-আহ্বায়ক দেবাঞ্জন পাল জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্য থেকে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এবিভিপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যেরা সব থেকে বেশি যোগ দিতে চাইছেন আমাদের সংগঠনে। কিন্তু নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিবেশ যাঁরা এত দিন নষ্ট করে এসেছেন, ভাবমূর্তি খারাপ তাঁদের কোনও ভাবেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। ২০১৭-র পর থেকে কোথাও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। এই ন’বছরে যাঁরা পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা বুঝতেই পারলেন না ছাত্র রাজনীতি কী। তৃণমূল স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধ্বংস করেছে আমরা সেটা ফিরিয়ে আনব।”

    ছাত্র সমাজের বিরাট পরিবর্তন

    রাজ্যে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনের (West Bengal Election 2026) অবসান হয়েছে। পদ্মশিবির উত্তর থেকে দক্ষিণে দিকে দিকে জয়যুক্ত হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের ঢেউ (BJP Bengal Victory) আছড়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের অলিগলিতে। লাগাম ছাড়া নারীধর্ষণ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে একক ভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে জয়যুক্ত হয়েছে। মমতার মা মাটি সরকারের লাগাম ছাড়া তোষণনীতির বিরুদ্ধে এবং হিন্দু সুরক্ষার পক্ষে জনাদেশ এসেছে। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যেও বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদ্যার্থী পরিষদ রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে হিংসা মুক্ত পরিবেশ চায় এবিভিপি। এমনটাই জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে।

  • Model Code of Conduct: নির্বাচনী বিধিনিষেধের অবসান, চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ প্রত্যাহার করল কমিশন

    Model Code of Conduct: নির্বাচনী বিধিনিষেধের অবসান, চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ প্রত্যাহার করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Assembly Election 2026) মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হওয়ার পর দেশজুড়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জনজীবন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে।

    কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ (Model Code of Conduct)

    বিধিনিষেধ মুক্ত এলাকা

    পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Bengal Assembly Election 2026) পুদুচেরি।

    স্বাভাবিক হবে প্রশাসনিক কাজ

    নির্বাচনী আচরণবিধি উঠে যাওয়ার ফলে এখন থেকে এই রাজ্যগুলোর সরকার (Model Code of Conduct) জনকল্যাণমূলক নতুন প্রকল্প ঘোষণা, উন্নয়নমূলক কাজে অনুমোদন এবং প্রশাসনিক রদবদল বা বদলির মতো কাজগুলো পুনরায় শুরু করতে পারবে।

    কমিশনের নির্দেশনা

    কমিশনের (Bengal Assembly Election 2026) পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর এখন আর নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ রাখার প্রয়োজন নেই।

    প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ছিল

    উল্লেখ্য, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে সরকারি (Model Code of Conduct) কর্মকাণ্ডে এক ধরনের বিধিনিষেধ নেমে এসেছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ছিল কমিশনের (Bengal Assembly Election 2026)। বিধানসভা ভেঙে দেওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির মাঝে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার প্রশাসনিক গতিবিধি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আর কোনও আইনি বা নীতিগত বাধা থাকল না। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু করার পথ প্রশস্ত হলো।

  • TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে দোষারোপের পালা। দীর্ঘদিন ধরে মনের ভিতর জমে থাকা ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোতে শুরু করেছে। এঁদের মধ্যে কেউ জেলাস্তরের দলের সাংগঠনিক নেতা, তো কেউ বঞ্চিত টিকিটপ্রার্থী। নির্বাচনে তৃণমূল পর্যুদস্ত হতেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে এক এক করে যাবতীয় রাগ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের এই নেতানেত্রীরা। কারও মুখে দলের পরাজয়ের কারণ, তো কেউ ফাঁস করছেন টিকিট নিয়ে কালোবাজারির কথা। কেউ কেউ তো আবার সরাসরি হারের জন্য নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের ভোট-কুশলী সংস্থা আই-প্যাককে দায়ীও করেছেন।

    ‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’

    এবারের নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গ পদ্মময়। কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। এই প্রেক্ষিতে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানত্রী পাপিয়া ঘোষের সাফ কথা, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। তাই এমন হওয়ার ছিল। গত ৫ বছরে দল চলেছে শুধু-মালিক আর চাকর হিসাবে। আমাদের কাজ ছিল চাকর হয়ে নির্দেশ মানা।” তৃণমূলের এই দাপুটে নেত্রী বলেন, ‘‘২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে সিন্ডিকেট-রাজ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। আমাদের তো কথা বলার জায়গাই ছিল না। যে এজেন্সি এসেছিল তাঁদের হয়তো যাঁরা মিষ্টির প্যাকেট দিতে পারতেন তাঁদের কথা উপরে যেত।’’ তাঁর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের মতো দলকে প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রত্যাখ্যান করেছে দাম্ভিক, অহংকারী নেতাদের।

    ‘অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক’

    উত্তরবঙ্গের আরও এক তৃণমূল নেতা হারের জন্য সরাসরি অভিষেককে দায়ী করেছেন। শিলিগুড়ি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অত্রিদেও শর্মার দাবি, শওকত, জাহাঙ্গিরের মতো অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। মানুষ এসব ভালোভাবে নেয়নি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিল না। সব এদের মাধ্যমে হচ্ছিল। ফলে কোনও কিছুই সংগঠিতভাবে ছিল না। সবার দম্ভ দেখে মনে হয়েছিল আমরা যেভাবে চাইব সেভাবেই নির্বাচন হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রচেষ্টায়, নির্বাচন কমিশনের তীক্ষ্ণ নজরে আমরা আমাদের মতো ভোট করাতে পারিনি।”

    ‘দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’

    ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও সরাসরি তোপ দেগেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” কৃষ্ণেন্দুবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ করে রাখা হয়েছিল। টিভিতে নেত্রীর লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখে ব্যথিত এই প্রবীণ নেতা বলেন, “মমতাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন দৃশ্য রাজনৈতিক জীবনে দেখিনি।” প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেককে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, হরিশ্চন্দ্রপুরে এমন একজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে যাঁর ভাষাজ্ঞান নেই, আবার রতুয়ায় দাঁড়িয়েছেন ৮৪ বছরের এক অশক্ত বৃদ্ধ। এই ভুল সিদ্ধান্তের মাসুলই দিচ্ছে দল।

    ‘ঔদ্ধত্ব ও অহংকার…পতনের মূল কারণ’

    চুঁচুড়া আসন নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পোড়খাওয়া ও বর্ষীয়ান নেতা অসিত মজুমদারকে সাইডলাইন করে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘আমরা অনেক দক্ষ লোক ছেড়ে, অদক্ষ লোক নিয়ে সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম। একবারে সমস্ত পুরনো নেতাদের বাদ দেওয়া দলের কর্মীরা ভালো চোখে নেয়নি। অনেকের ঔদ্ধত্ব ও অহংকার হয়ে গিয়েছিল যে, আমরাই হয়তো শেষ কথা বলার লোক। সেটাও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। আর এটাই পতনের মূল কারণ।’’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ ঘোড়াদের বসিয়ে দিয়ে ‘ভাড়াটে’ দিয়ে দল চালাতে যাওয়ার মাসুল দিতে হয়েছে এই নির্বাচনে। অসিত বলেন, ‘‘যাঁদের বাদ দেওয়া হল, তাঁদের সঙ্গে অন্তত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। আই-প্যাকের প্রয়োজন আমাদের কখনও হয়নি। সিপিএমের চরম অত্যাচারের সময় যখন আমরা দুটো নির্বাচন জিতেছি, তখন তো কোনও ভাড়ার লোক লাগেনি!’’

    ‘আগে ভদ্র লোকেরা তৃণমূল করত’

    বর্ধমানের তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান তৃণমূলের এই পরাজয়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তোলাবাজদের সংস্থার মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করা, মাতাল গাঁজাখোরদের এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়া হলে এটাই হবে। তাঁর দাবি, ‘‘আগে ভদ্র লোকেরা পার্টি করত, কিন্তু এখন যাদের হাতে পার্টিটা দিয়েছে, তারা কেউ কোনও দিন তৃণমূল করেনি। কেউ ১০১২, কেউ ২০১৬-এ দলে এসেছে। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পর দলে এসেছে। এই অহংকার ও দাম্ভিকতার জন্য তৃণমূলের এই হাল।’’

    ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’

    অসিতের মতোই এবারের নির্বাচনে টিকিট পাননি প্রাক্তন ক্রিকেটার-বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি। তাঁর বদলে তৃণমূল এবার শিবপুরে প্রার্থী করেছিল রানা চট্টোপাধ্যায়কে। ঘাসফুলের সেই শক্ত ঘাঁটিতেই ফুল ফুটিয়েছেন বিজেপি-র রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। পাঁচ বছর আগে, একুশের বিধানসভা ভোটে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীকে তিরিশ হাজারের উপর ভোটে হারিয়েই বিধায়ক হন তিনি। এরপর মনোজকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার, তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মনোজের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট— ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। মনোজ জানিয়েছেন, শুধু তারাই টিকিট কিনতে পেরেছেন, যাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা দিতে পেরেছেন। এবার অন্তত ৭০-৭২ জন প্রার্থী টিকিট পাওয়ার জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। মনোজের দাবি, তাঁকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় টিকিট পাননি। মনোজের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। ক্রিকেটারের সংযোজন, ‘‘আমাকে ‘এমওএস’ (প্রতিমন্ত্রী) পদের একটি ললিপপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার কার্যত কোনও অর্থই ছিল না। আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে বলতাম, দিদি, আমি একটি নির্দিষ্ট সমস্যার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তিনি মাঝপথেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন, তোমাদের মতো লোকের জন্য আমার কাছে কোনও সময় নেই।’’ মনোজ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও ধুয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘অরূপদা তো খেলার এ-বি-সি-ডি’ই জানেন না। নিজের হীনমন্যতা বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমাকে আমার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করতে দেননি।’’

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিদ্রোহ কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। একদিকে কর্পোরেট সংস্কৃতি আর অন্যদিকে প্রবীণদের ব্রাত্য করে রাখা, এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই যে বাংলার মসনদ হারাতে হলো তৃণমূলকে, তা এখন ঘরোয়া কোন্দলেই স্পষ্ট।

  • Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত করার পর তাঁর এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি এক অবিস্মরণীয় নাম। তবে ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে এই কেন্দ্রটি কেবল একটি নির্বাচনী ক্ষেত্র নয়, বরং হয়ে উঠেছিল মর্যাদার লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত রণাঙ্গন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের (Nandigram) মানুষ আমায় বিশ্বাস করেছেন, আমি তাঁদের সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করব না।”

    জয়ের নেপথ্যে জনগণের রায় (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর বক্তব্যে বারংবার নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র হওয়ার আবেগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই জয় কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়, বরং এটি নন্দীগ্রামের (Nandigram) আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জয়। ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত তত্ত্বে ভূমি পুত্রের জয় হয়েছে। জনগণের জনাদেশ সেই ভাবাবেগকেই সিলমোহর দিয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব। তবে আমার আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ তাকে কামড়ায় না। তাই আইন কেউ হাতে নেবেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বহিরাগত শক্তির আক্রমণ রুখে দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষ যে আস্থা তাঁর ওপর রেখেছেন, তার প্রতি তিনি চিরকাল দায়বদ্ধ থাকবেন।

    গণতন্ত্র ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) ফলাফল ঘোষণা নিয়ে ভোট গণনার দিন যে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কারোর অজানা নয়। শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের খবর চাউর হলেও, শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জয়ী হয়েছিলেন। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শাসকদলের পক্ষ থেকে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার জবাবে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আস্থার কথাকেই প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের শংসাপত্রই শেষ কথা এবং কোনও প্রকার ভয়ভীতি বা আইনি চাপের কাছে মাথা আমরা নত করব না। ২০১১ সালের পরিবর্তনেও আমি ছিলাম, আর এবারের আসল পরিবর্তনেও আমিই রয়েছি।”

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে আগামীর লক্ষ্য

    নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের (Nandigram) প্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেবল তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের কথাই বলেননি, বরং সমগ্র বাংলার বিরোধী রাজনীতির একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। তাঁর ভাষণে বলেন, “আগামী ১ বছরের মধ্যে রাজ্যের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন। মোদির গ্যারান্টি, অমিত শাহর ঘোষিত সংকল্পপত্র অক্ষরে অক্ষরে সময় মতো পূরণ করার ক্ষেত্রে বিজেপি দায়বদ্ধ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইন মেনে প্রত্যেকটি পুরনো মামলা পুনরায় চালু করবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কর্মীদের মুক্তি ও আইনি বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। গুন্ডাবাহিনীকে মোকাবিলা করার দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধে।”

    উন্নয়নের রাজনীতি

    শুভেন্দু বলেন, ‘‘মহিলারা দরকারে যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোবেন। রাতে বেরনো যাবে না, এরকম কথা আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামীর মুখ্য়মন্ত্রী বলবেন না।’’ ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বারবার অভয় দিয়েছেন যে, জয়ী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সর্বদা তাঁদের পাশে থাকবেন। নন্দীগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

    কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মতো একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে পরাজিত করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃসাধ্য ছিল। শুভেন্দুর মতে, এটি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর মানুষের সাথে মিশে থাকা এবং তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়ার ফল।

    বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নন্দীগ্রাম (Nandigram) জয়ের পরবর্তী অবস্থান কেবল বিজয়োল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর মার্জিত অথচ কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনগুলোতে তিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শাসকদলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন। নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’ আগামী দিনেও প্রাসঙ্গিক থাকবে এবং তাঁর এই জয় আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সোপান হিসেবে কাজ করবে।

  • South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) ক্যানিং পূর্বের মঠেরদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (OT) ভেতর থেকে একটি সুটকেস উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।  যার কাছে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে তিনি তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজি (TMC Leader) বলে জানা গিয়েছে।

    সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার (South 24 Parganas)

    নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে একটি পরিত্যক্ত সুটকেস লক্ষ্য করা যায়। খবর পেয়ে জীবনতলা (South 24 Parganas) থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালঙ্কার, বেশ কিছু আধার কার্ড এবং একটি গাড়ির চাবি উদ্ধার করে। সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে কীভাবে এই বিপুল সম্পত্তি পৌঁছাল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রাথমিক তদন্ত ও চিকিৎসককে আটক

    হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শাহরুখ হোসেন বলেন, “স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে সভাপতির ছেলেই এই ব্যাগটি আমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন।” বিজেপির দাবি, ডাক্তার শাহরুখ হোসেন এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত অত্যন্ত প্রভাবশালী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজের চেয়ে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ পালনেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

    পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালেরই (South 24 Parganas) এক অ্যাম্বুলেন্স চালক ওই সুটকেসটি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের এক চিকিৎসকের জিম্মায় রাখতে দিয়েছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক সংযোগ ও অভিযোগ

    বিজেপির অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সম্পত্তি স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজির। ভোটের ফল প্রকাশের পর লুটের আশঙ্কায় বা আইনি জটিলতা এড়াতে ওই নেতা তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপদ স্থানে সম্পদ গচ্ছিত রেখেছিলেন। বর্তমানে ওই তৃণমূল নেতা (TMC Leader) এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা (South 24 Parganas) হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং এর নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত এই রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

  • Vande Mataram: ‘জনগণমন’ ও ‘বন্দে মাতরম’ সমমর্যাদার, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, অবমাননা করলেই…

    Vande Mataram: ‘জনগণমন’ ও ‘বন্দে মাতরম’ সমমর্যাদার, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, অবমাননা করলেই…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে (Vande Mataram) কেন্দ্র করে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই গানটিকে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র সমমর্যাদায় উন্নীত করার পথে হাঁটল কেন্দ্র।

    আইনি সংশোধন ও দণ্ডবিধি (Vande Mataram)

    এতদিন পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ বা জাতীয় সম্মান রক্ষা আইন অনুযায়ী জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সংগীতের অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবার এই আইনের সেকশন ৩ সংশোধনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-কেও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে, বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গাওয়ার ক্ষেত্রে অনিচ্ছা প্রকাশ বা কোনও প্রকার অসম্মান প্রদর্শন করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আর্থিক জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও পালনীয় নিয়ম

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাষ্ট্রীয় গীত পরিবেশনের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছে—

    পূর্ণাঙ্গ রূপ

    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Vande Mataram) মূল রচনার ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    পরিবেশনার ক্রম

    • কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে যদি জাতীয় সংগীত ও রাষ্ট্রীয় গীত উভয়ই পরিবেশিত হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বা বাজাতে হবে।

    মর্যাদা প্রদর্শন

    • জাতীয় সংগীতের মতো রাষ্ট্রীয় গীত চলাকালীনও উপস্থিত সকল শ্রোতাকে সসম্মানে উঠে দাঁড়াতে হবে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    বন্দে মাতরম-এর (Vande Mataram) সার্ধশতবর্ষ দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সংকল্প নিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার (PM Modi)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবং বিজেপির বাংলা জয়ের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্কিমচন্দ্রের এই কালজয়ী সৃষ্টিকে জাতীয় মর্যাদার শীর্ষে স্থাপন করা কেবল দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।

  • Mamata Close Aides Resign: মমতা ইস্তফা না দিলেও, এক-এক করে পদত্যাগ তাঁর পছন্দের আমলা-শীর্ষকর্তাদের

    Mamata Close Aides Resign: মমতা ইস্তফা না দিলেও, এক-এক করে পদত্যাগ তাঁর পছন্দের আমলা-শীর্ষকর্তাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই শুরু হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত সদ্যপ্রাক্তন রাজ্য সরকার-নিযুক্ত আমলা, শীর্ষকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক। সেদিন থেকেই এক-এক করে ইস্তফা দিচ্ছেন রাজ্যের একাধিক শীর্ষস্তরের আমলা, কর্তা ও পদাধিকারীরা।

    পদত্যাগ আলাপন-হরিকৃষ্ণ-মনোজের…

    মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেবেন না। তবে, তাঁর নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষস্তরে নিযুক্ত হওয়া তাঁর পছন্দের ও কাছের আমলা-কর্তারা এক-এক করে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। যেমন, ক্ষমতার পালাবদলের পরে এ বার (সদ্যপ্রাক্তন) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ‍্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দুই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নবান্ন সূত্রে খবর, আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই একদা রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার আস্থাভাজন হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ।

    পদত্যাগ রাজ্যের এজি কিশোর দত্তর

    তার আগেই, একেবারে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিনই, তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই পদত্যাগ করছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। মঙ্গলবার তিনি রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন কিশোর দত্ত৷ মঙ্গলবার সকালেই বিজেপির লিগাল সেলের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্য সরকার সম্পর্কিত সমস্ত মামলায় রায়দান যেন স্থগিত রাখা হয়৷ প্রধান বিচারপতি সেই আশ্বাস দেন৷ এরপর বেলা বাড়তেই খবর পাওয়া যায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পদত্যাগ করেছেন৷ উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তারপরই কিশোর দত্তকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর নয়া সরকার গদিতে বসার আগেই নিজে থেকে কিশোর পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগ অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের…

    এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল পরাজয়ের পরেই রাজ্য সরকারের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম এবং স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর নৈকট্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অতীতে একাধিকবার চর্চা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাজ্যে বিপুল পট পরিবর্তনের কারণে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক ও বিভিন্ন পর্ষদের পদাধিকারীরা ইস্তফার পথে হাঁটতে পারেন।

    এদিকে, নবান্ন থেকে এক জারি হওয়া এক নির্দেশের মাধ্যমে অবসরের পরও দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বুধবার থেকে অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সচিবরা নিজের নিজের দফতরে মৌখিকভাবে এই নির্দেশ জারি করেছেন। লোক ভবন থেকে আসা এই নির্দেশ মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা সব দফতরের সচিবদের জানিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে।

  • BJP Wins Bengal: বঙ্গজয়ের পর বিজেপির মহাপরিকল্পনা! রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ বাংলার নতুন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর?

    BJP Wins Bengal: বঙ্গজয়ের পর বিজেপির মহাপরিকল্পনা! রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ বাংলার নতুন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বঙ্গ-জয় বিজেপির (BJP Wins Bengal)। ১৫ বছরের তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আজ পশ্চিমবঙ্গ পদ্ম-ময়। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার নতুন সরকার গঠনের (BJP Government Formation Bengal) পালা। সেই নিয়ে জোর প্রস্তুতি বিজেপির অন্দরে। আর সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করতে রাজ্যে আসছেন রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। পরিষদীয় দলের বৈঠক, মুখ্যমন্ত্রীর নাম নির্ধারনের পর তাঁরা যাবেন রাজ্যপালের কাছে। বিজেপি সূত্রে খবর, আজ, মঙ্গলবার বাংলায় আসছেন রাজনাথ সিং। পরিষদীয় দলের বৈঠক করবেন তিনি। নিউটাউনের হোটেলে বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। সেখানে পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে। আর সেই বৈঠকেই ঠিক হতে পারে পরিষদীয় দলের নেতার নাম। অর্থাৎ, ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। তারপরই তাঁরা সরকার গঠনের জন্য লোকভবনে যাবেন তাঁরা। বিজেপি সূত্রে খবর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার শপথগ্রহণ করতে পারে৷

    ২৫ বৈশাখেই নতুন সরকারের শপথ?

    বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার, ৯ মে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ হতে পারে। ৯ মে-ই বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গে। ওই দিন ২৫ বৈশাখও, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিবস। যা জানা যাচ্ছে, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ী সরকারের মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। ফলে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই পর্ব দীর্ঘায়িত করা যাবে না। মমতা ইস্তফা দিলেই বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতাকে ডেকে পাঠাবেন রাজ্যপাল এন রবি। তিনি সরকার গঠনের নির্দেশ দেবেন। কিন্তু হিসেব মতো ৭ মে সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, ফলে ২ দিন দেরী হলে কোনও সাংবিধানিক সমস্যা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে বাঙালি আবেগকে ধরতে কোনও জায়গায় খামতি রাখছে না বিজেপি। প্রচারপর্বে বার বার বিজেপি-র গায়ে ‘বাংলাবিরোধী’, ‘অবাঙালি’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়। সেই তকমা কাটিয়ে বেরোতেই ২৫ বৈশাখ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

    বাঙালিয়ানায় মাতলেন মোদি…

    সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে উপস্থিত হয়ে বিজেপির কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান মোদি। মোদির সাজে ছিল স্পষ্ট বাঙালিয়ানার ছাপ। তাঁর পরণে ছিল সাদা পাঞ্জাবি, ধাক্কাপাড়ের কোরা ধুতি। পাঞ্জাবির পকেটে গোঁজা ছিল ধুতির কোঁচা। একেবারে বাঙালি কায়দায়। এক কথায়, একেবারে বাঙালিবাবু সেজে জনগণের সামনে হাজির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর দেখা যায় মঞ্চে উঠে নিতিন নবীনের হাত থেকে দুর্গার ছবি উপহার নেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, শপথের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভাবনা রয়েছে বিজেপির। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল।” তাঁর ঘোষণা, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।

    নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা

    এদিকে, কমিশন সূত্রে খবর, আজ (মঙ্গলবার) আসছেন নির্বাচন কমিশনের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এসবি যোশী ও সেক্রেটারি সুজিত কুমার মিশ্র। এদিনই ২০২৬ সালের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। আগামিকাল, বুধবার সকালে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি যোশী রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সেই তালিকা নিয়ে উপস্থিত হবেন। এরপর গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হবে।

LinkedIn
Share