Tag: বাংলা খবর

  • Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতায় বড়সড় সংযোজন ঘটল। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এসএমপিপি-এর তৈরি ১০৬টি ‘পিসকিপার’ (ভারতে নাম ‘অগ্নিবেগ’) জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে মোট ১০৬টি সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০০টি অপারেশনাল ড্রোন এবং ৬টি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইউনিট। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত।

    নকশা বেলারুশের, উৎপাদন ভারতে

    ২০২৫ সালে বেলারুশ এবং ভারতের মধ্যে প্রায় ১০০টি ‘পিসকিপার’ কামিকাজে ড্রোন সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে ক্রেতা ছিল এসএমপিপি এবং বিক্রেতা ছিল বেলারুশের রাষ্ট্রায়ত্ত বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা বেলস্পেৎসনেশটেকনিকা। প্রযুক্তি হস্তান্তর (Transfer of Technology) চুক্তির আওতায় এসএমপিপি ইতিমধ্যেই কামিকাজে ড্রোনের মিউনিশন (অস্ত্র) অংশের উৎপাদন দেশীয়ভাবে শুরু করেছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। অর্ডারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রোনের বিভিন্ন উপাদান, এমনকি জেট ইঞ্জিন মোটর উৎপাদনের প্রযুক্তিও ভারতে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের খবর, এসএমপিপি ইতিমধ্যেই এই কামিকাজে ড্রোনের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণও প্রস্তাব করেছে, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম।

    কী এই ‘পিসকিপার’?

    ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ একটি টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন, যা শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। প্রচলিত নজরদারি ড্রোনের মতো এটি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফিরে আসে না। বরং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেই নিজেকে ধ্বংস করে দেয়। এই কারণেই একে ‘কামিকাজে ড্রোন’ বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ বলা হয়। বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই ড্রোন শত্রুপক্ষের উচ্চমূল্যের সামরিক কাঠামো, কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, গোলাবারুদ ডিপো কিংবা সাঁজোয়া যানকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।

    ১৮০ কিলোমিটার দূরে নিখুঁত আঘাত

    অগ্নিবেগ ড্রোনের অন্যতম বড় শক্তি তার দীর্ঘ পাল্লা। এটি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে। অর্থাৎ সীমান্তের অনেক ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শত্রু লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর। শুধু পাল্লাই নয়, গতি এবং নির্ভুলতার দিক থেকেও এটি অত্যন্ত উন্নত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম এই ড্রোনের ‘সার্কুলার এরর প্রোবাব্যল’ (CEP) ৫ মিটারেরও কম। সহজ ভাষায়, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু থেকে এর বিচ্যুতি অত্যন্ত কম, ফলে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা সম্ভব হয়।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রেও কার্যকর

    বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রশক্তিই নয়, ইলেকট্রনিক যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত্রুপক্ষ প্রায়ই জ্যামিং এবং স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করে। তবে ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ-কে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করেও মিশন সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ড্রোনটি আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিবেশেও সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    অগ্নিবেগ ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● আঘাত হানার পাল্লা: সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার
    • ● নির্ভুলতা: সিইপি- ৫ মিটারের কম
    • ● ইঞ্জিন: দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত টার্বোজেট ইঞ্জিন
    • ● অপারেশন: স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল হামলা
    • ● সক্ষমতা: জ্যামিং ও স্পুফিং প্রতিরোধী

    সেনাবাহিনীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানবচালিত যুদ্ধবিমান বা সেনাদের সরাসরি ঝুঁকিতে না ফেলে শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে অগ্নিবেগ ড্রোন ভারতীয় সেনাকে কম খরচে, দ্রুত এবং নির্ভুল আঘাত হানার নতুন ক্ষমতা দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সংঘাত বা উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে এই ধরনের কামিকাজে ড্রোন শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করতে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বড় সাফল্য

    দেশীয় সংস্থা এসএমপিপি-র তৈরি এই ড্রোনের সফল সরবরাহ ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নতমানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করার যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, ‘অগ্নিবেগ’ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি এই অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোনের অন্তর্ভুক্তি শুধু সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতাই বাড়াবে না, পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা মহলের বিশেষজ্ঞরা।

  • Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ডায়মন্ড হারবারের ১ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) নিয়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ তাঁকে হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় হেঁটে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলতার (Falta) একজন কুখ্যাত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে এই অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের চেয়ে বিরোধীমহলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

    পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ (Jahangir Khan)

    গত শনিবার রাতে ডায়মন্ড হারবার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি অভিযানের সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গির খান (Falta) ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে জাহাঙ্গির সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এরপর রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করার সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। সাধারণত নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার খাতিরে ধৃতদের পুলিশের গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলেও, জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) ক্ষেত্রে পুলিশ তাঁকে থানা থেকে আদালত পর্যন্ত হেঁটে নিয়ে যায়। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল একটি সাধারণ হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি। ফলতার (Falta) নেতা গ্রেফতার হতেই ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

    আইন সবার জন্য সমান

    এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, এইরকম দাগি দুষ্কৃতীকে প্রকাশ্যে এনে ভয় দেখানোর পরিবেশ থেকে জনসাধারণকে মুক্ত করাই একমাত্র কাজ। অন্যদিকে, একজন ব্লক স্তরের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে নিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত (Jahangir Khan) বা এর পেছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় (Falta) রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

  • S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার জন্য পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার মুখে বারবার পড়তে হয়েছে ভারতকে। তবে সেই সমালোচনার জবাবে আবারও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডে আয়োজিত ‘কুলতারান্তা টকস্’ (Kultaranta Talks)-এ এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে তিনি ভারতের জ্বালানি নীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

    ‘ভারত তেল কেনে দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে’

    ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহকারী বিদেশমন্ত্রী লানা নুসেইবেহর সঙ্গে ‘ইমার্জিং পাওয়ার্স অ্যান্ড দ্য নিউ জিওপলিটিক্যাল কম্পিটিশন’ (Emerging Powers and the New Geopolitical Competition) শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন জয়শঙ্কর। সেখানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ভারত কেন রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তেল কিনি তার দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।” বিদেশমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী অঞ্চল হলেও সেই সময় ইউরোপীয় দেশগুলি বিপুল পরিমাণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল কিনতে শুরু করে। ফলে ভারতের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। জয়শঙ্করের কথায়, “সেই সময় বাজারে যে তেল সহজলভ্য ছিল, তার বড় অংশই ছিল রুশ তেল। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় অংশ কিনে নিচ্ছিল। পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে বাধ্য করেছিল।”

    ‘নৈতিকতার প্রশ্নে’ ইউরোপকে পাল্টা আক্রমণ

    আলোচনার সময় সঞ্চালক ভারতের এই নীতির মধ্যে কোনও ‘নৈতিক অস্পষ্টতা’ বা ‘মোরাল অ্যাম্বিগুইটি’ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জয়শঙ্কর ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতি তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “কোনও ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় অস্ত্রের আক্রমণের শিকার হয়নি। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, ইউরোপীয় অস্ত্র ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে— এমন উদাহরণ রয়েছে।” বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, ইউরোপের একাধিক দেশ পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, যেগুলি পরবর্তীতে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। জয়শঙ্কর আরও বলেন, “বহু বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলি এমন অস্ত্র বিক্রি করেছে যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ভারত কখনও এমন কোনও কাজ করেনি যা ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে।”

    ইউরোপের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন

    রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও ইউরোপের নিজেদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়শঙ্কর। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউরোপীয় দেশগুলি দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছিল এবং এখনও বিভিন্ন উপায়ে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করা একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও তুলে ধরলেন

    জয়শঙ্কর আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রুশ তেল কেনার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিল। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, ভারতের রুশ তেল আমদানির সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র জাতীয় স্বার্থের কারণেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে।

    ভারতের জ্বালানি কৌশলের বড় পরিবর্তন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যখন ছাড় মূল্যে তেল বিক্রি শুরু করে, তখন ভারত সেই সুযোগ গ্রহণ করে। ফলে গত কয়েক বছরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশই রাশিয়া থেকে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে—

    • ● ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
    • ● আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সত্ত্বেও দেশীয় জ্বালানির দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
    • ● বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে ভারত।
    • ● ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বহুমুখী কূটনীতির বার্তা

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত বর্তমান বহুমেরু বিশ্বের বাস্তবতায় নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমা চাপ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতার নীতি বজায় রেখেই নয়াদিল্লি তার জ্বালানি ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে চায়। ফিনল্যান্ডের মঞ্চ থেকে দেওয়া জয়শঙ্করের বক্তব্য শুধু রুশ তেল ইস্যুতেই নয়, বরং ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক, বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আগাম উপসর্গ দেখা দিলেও, অসচেতনতার জেরে অনেক সময়েই তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিপদ বাড়লেও অসতর্কতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। মস্তিষ্কের টিউমার ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার জেরে অনেক সময়েই প্রাণ সংশয় বাড়ছে। চিকিৎসার সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে ভারতের পাশপাশি বিশ্বের একাধিক দেশেই এই সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার দেরি। তাই চলতি বছরে ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-র মূল বার্তা, নিবিড় পর্যবেক্ষণেই কমবে বিপদ!

    কেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাড়তি গুরুত্ব?

    ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-তে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের টিউমার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিবিড় পর্যবেক্ষণের উপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন-র এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ু ঘটিত সমস্যাকে অবহেলা করলে, পরবর্তী সময়ে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই এ বছরে সেই দিকে গুরুত্ব দিয়েই বলা হচ্ছে, ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি রুখতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি। অর্থাৎ, শিশু হোক বা মধ্য বয়সি, যেকোনো মানুষ যদি বারবার কোনো ধরনের স্নায়বিক সমস্যায় ভোগেন, তাহলে সেই উপসর্গকে অবহেলা করা চলবে না। বরং, তাঁর ঠিকমতো শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। সকলেই এই বিষয়ে অবগত হলে, রোগ নির্ণয় সহজ হবে।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সাধারণ সমস্যা, অনেক সময়েই অবহেলা করা হয়। যা পরবর্তীতে নানান জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই প্রবল মাথা যন্ত্রণার কাবু হন, আবার অনেকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, খিঁচুনির মতো উপসর্গ ও দেখা দেয়‌। এই ধরনের সমস্যা বারবার হলে, তা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। এগুলো মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। আবার, চোখে ঠিকমতো দেখতে না পাওয়া, লক্ষ্য অস্পষ্ট হওয়া, স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে অর্থাৎ খুব সাধারণ তথ্য ও মনে রাখতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিলে, একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের ভিতরে টিউমার হলে, তা খালি চোখে বোঝা যাবে না। কিন্তু শরীর নানান ভাবে তা জানান দেবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ সেই উপসর্গকে অবহেলা করেন। অসচেতনতার জেরে খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যাকেও অন্যান্য সমস্যা ভেবে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করান না। যার ফলে রোগ নির্ণয় হয় না। তাই নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি।

    কাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের টিউমার একটি স্নায়বিক সমস্যার জেরে হয়। যেকোনো বয়সে, মহিলা কিংবা পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু জিনগত একটা ইতিহাস মস্তিষ্কের টিউমারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হলে বংশানুক্রমিক ভাবে তা পরবর্তী প্রজন্মে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, টিউমারের সঙ্গে স্নায়বিক সমস্যার যোগাযোগ রয়েছে। স্নায়বিক সমস্যা কিন্তু অনেক সময়েই জিনগত হয়। তাছাড়া, বেশ কিছু বিরল স্নায়বিক রোগ রয়েছে, যেগুলো জিনগত সমস্যা। সেগুলোও মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে, জিনগত এই জটিলতার পাশপাশি অতিরিক্ত মাথায় উচ্চ মাত্রায় রেডিয়েশন থেরাপি টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক জীবনে বিভিন্ন রকম রেডিয়েশনের ঝুঁকি বাড়ছে। এগুলো কিন্তু মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যারা প্রত্যক্ষ ধূমপান করেন, তাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি, পরোক্ষভাবে এই ধূমপানের ধোঁয়ার মধ্যে থাকেন তাঁদের ও ঝুঁকি বেশি। অর্থাৎ, পরিবারের কেউ ধূমপান করলে, তার অন্যান্য সদস্যদেরও অনেক সময় সেই ধোঁয়া সহ্য করতে হয়। পরোক্ষভাবে হলেও এই ধোঁয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তামাকের এই ধোঁয়া, স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করে। তাই ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতনতাই রোগের ঝুঁকি কমাবে। রোগ নির্ণয় প্রাথমিক পর্বে হলে, তবেই চিকিৎসা ঠিকমতো করা যাবে। মস্তিষ্কের টিউমার চিকিৎসার মূল অন্তরায় হলো চিকিৎসার বিশেষ সুযোগ থাকে না। তাই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তবে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম নেওয়া, মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক এড়িয়ে চলা ও ক্ষতিকারক রশ্মি এড়িয়ে চললেছবি নানান শারীরিক বিপদ কমবে। ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। এগুলো স্নায়ু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে‌। ফলে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকিও কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Religious Conversion: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে ৫ লক্ষ টাকা! বিলাসপুরে ধর্মান্তকরণ চক্র, তদন্তের দাবিতে সরব ভিএইচপি

    Religious Conversion: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে ৫ লক্ষ টাকা! বিলাসপুরে ধর্মান্তকরণ চক্র, তদন্তের দাবিতে সরব ভিএইচপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর (Bilaspur) জেলার চাট্টিডিহ গ্রামে প্রলোভন দেখিয়ে গণ-ধর্মান্তকরণের (Religious Conversion) একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য তাঁদের পরিবার প্রতি নগদ ৫ লক্ষ টাকা, বিনামূল্যে পাকা বাড়ি এবং উন্নত চিকিৎসার টোপ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশাসনের কাছে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

    দরিদ্র ও অনগ্রসর হিন্দু পরিবারগুলোকে টার্গেট (Religious Conversion)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই চাট্টিডিহ গ্রামের (Bilaspur) একটি বাড়িতে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি যাতায়াত করছিল এবং সেখানে নিয়মিত প্রার্থনা সভার নামে গোপন বৈঠক চালানো হচ্ছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকার দরিদ্র ও অনগ্রসর হিন্দু পরিবারগুলোকে টার্গেট করে এই ধর্মান্তকরণ চক্র (Religious Conversion) চালানো হচ্ছিল। গতকালও ওই বাড়িতে একটি ধর্মান্তকরণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল বলে খবর পান স্থানীয় হিন্দু যুবকরা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা ও ব্লক স্তরের পদাধিকারীরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে চড়াও হন। ভিএইচপি নেতাদের দেখে ধর্মান্তকরণ চক্রের মূল পান্ডারা সেখান থেকে চম্পট দেয়। গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং জানান যে, তাঁদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।

    বাইবেল বিলি করছিল

    ভিএইচপি-র স্থানীয় নেতা বলেন, “আমরা খবর পেয়েছিলাম যে চাট্টিডিহ গ্রামের (Bilaspur) একদল নিরীহ মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এসে দেখি বহিরাগত কয়েকজন সেখানে প্রলোভনমূলক লিফলেট এবং বাইবেল বিলি করছিল।” এই ঘটনার পর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে বিলাসপুর জেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই ধর্মান্তকরণ চক্রের (Religious Conversion) পেছনে কোনও বড় আন্তর্জাতিক বা ভিন রাজ্যের অর্থায়ন রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করে পুলিশি তদন্ত শুরু করা হোক। এলাকায় যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে।

  • Bharuch Jama Masjid: ভরুচের জামা মসজিদের ভোঁয়রায় প্রাচীন হিন্দু ও জৈন মূর্তি! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আরও জোড়াল হচ্ছে হিন্দুপক্ষের দাবি

    Bharuch Jama Masjid: ভরুচের জামা মসজিদের ভোঁয়রায় প্রাচীন হিন্দু ও জৈন মূর্তি! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আরও জোড়াল হচ্ছে হিন্দুপক্ষের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের ভরুচের (Bharuch Jama Masjid) ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত জামা মসজিদের ভূগর্ভস্থ কক্ষে বা ভোঁয়রায় প্রাচীন হিন্দু ও জৈন দেবদেবীর মূর্তি (Ancient Hindu Jain Idols) থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি ধর্মীয় মহলেও নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

    ইতিহাসকে কখনও মুছে ফেলা যায় না (Bharuch Jama Masjid)

    ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মসজিদের মাটির তলার একটি গোপন কক্ষে ভগবান গণেশ, হনুমান এবং জৈন তীর্থঙ্কর মল্লিনাথের প্রাচীন ও খণ্ডিত মূর্তি রয়েছে। বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ওপিইন্ডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে ভরুচের (Bharuch Jama Masjid)  বিশিষ্ট সন্ত স্বামী মুক্তানন্দ এই ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, “ভিডিওটি সম্পূর্ণ সত্য, এবং এটি হিন্দু সাধু-সন্তদের দীর্ঘদিনের দাবির পক্ষেই জোরালো প্রমাণ দেয়। ইতিহাসকে (Ancient Hindu Jain Idols) কখনও মুছে ফেলা যায় না এবং আজ সত্য সবার সামনে উন্মোচিত হয়েছে।” উল্লেখ্য, ভরুচের এই জামা মসজিদটি প্রাচীন হিন্দু ও জৈন মন্দির ভেঙে তৈরি করা হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও সাধু সমাজ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই ওপিইন্ডিয়া এই দাবির সপক্ষে ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ ও নথি সহ একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

    নিয়ম বহির্ভূত সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ হোক

    স্বামী মুক্তানন্দের অভিযোগ, জামা মসজিদটি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI)-এর সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বেশ কিছু নিয়মের লঙ্ঘন করা হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, পুরাতত্ত্ব বিভাগের নিয়ম মেনেই এই ঐতিহাসিক কাঠামোর (Bharuch Jama Masjid) রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক এবং নিয়ম বহির্ভূত সমস্ত কাজকর্ম অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন মসজিদ চত্বরে বেআইনিভাবে তৈরি করা একটি ‘অজু খানা’ (Wazu Khana) ভেঙে দিয়েছে এবং সমস্ত অবৈধ দখলদারিত্ব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের প্রবেশ রুখতে ভূগর্ভস্থ ওই কক্ষে যাওয়ার একটি প্রবেশদ্বারও সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করলেও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা (Ancient Hindu Jain Idols) শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও মন্তব্য করতে চায়নি প্রশাসনের তরফ থেকে।

  • Gurugram: গুরুগ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেলের বাড়িতে লুটপাট, মহম্মদ আরমান সহ ৪ বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার

    Gurugram: গুরুগ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেলের বাড়িতে লুটপাট, মহম্মদ আরমান সহ ৪ বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুগ্রামের (Gurugram) সেক্টর ২৩ এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেলের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের বন্দি করে ১৫ লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনায় চার বাংলাদেশি (Bangladeshi) নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে এই ডাকাত দলের মূল পান্ডা মহম্মদ খাইরুল আরমানও রয়েছে। ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চাল্য তৈরি হয়েছে।

    দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা (Gurugram)

    পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ জুন সেক্টর ২৩-এর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেল সি.এল. জেইনের বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পালাম বিহার ক্রাইম ব্রাঞ্চের সাব-ইন্সপেক্টর মনোজের নেতৃত্বে একটি দল বাজঘেরা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশকে দেখে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে এবং দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের একটি আন্ডারপাসে লাফ দেয়। এর ফলে চারজনেরই হাত-পায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    ধৃতদের নাম?

    ধৃতদের শনাক্ত করা হয়েছে। এরা হল—মহম্মদ খাইরুল আরমান (৫২), মহম্মদ মামন (৩৫), মহম্মদ হিলাল (২৫) এবং মামো খান (২৬)। এরা সকলেই বাংলাদেশের (Bangladeshi) নাগরিক। সহকারী পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) নবীন শর্মা জানিয়েছেন, ধৃত চারজনই বর্তমানে সেক্টর ১০এ-র সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছিল

    এসিপি নবীন শর্মা আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে অভিযুক্তরা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার বাড়িতে হামলা চালানোর আগে সেক্টর ২৩-এর বেশ কয়েকটি বাড়িতে নজরদারি করেছিল। লুটের জিনিস উদ্ধার করতে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” পুলিশের দাবি, গ্যাং লিডার আরমান ২০০৪ সাল থেকে ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছে। এই চক্রটি দিল্লির সঙ্গম বিহারের একটি গোপন আস্তানা থেকে তাদের অপরাধমূলক কাজকর্ম পরিচালনা করছিল।

  • Manipur: মণিপুরে উত্তেজনা! অপহৃত ৬ নাগা নাগরিকের দেহ উদ্ধার, ২৪ ঘণ্টার বনধের ডাক ইউএনসি-র

    Manipur: মণিপুরে উত্তেজনা! অপহৃত ৬ নাগা নাগরিকের দেহ উদ্ধার, ২৪ ঘণ্টার বনধের ডাক ইউএনসি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতিগত হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে (Manipur) পরিস্থিতি আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে অপহৃত হওয়া ৬ জন নাগা নাগরিকের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুকি উগ্রপন্থীরা (Nagas-kukis) তাঁদের অপহরণ করে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ১৪ জন কুকি নাগরিককে মুক্ত করার ঠিক একদিন পরেই এই ৬ নাগা নাগরিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

    ২৪ ঘণ্টা ধরে যৌথ চিরুনি তল্লাশি (Manipur)

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে লেইলোন ভাইপেই এলাকা থেকে এই ছয়জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাঁদের খোঁজে মণিপুর (Manipur) পুলিশ, সিআরপিএফ (CRPF) এবং আসাম রাইফেলসের প্রায় ৪৫০ জন জওয়ানের একটি বিশাল দল গত ২৪ ঘণ্টা ধরে যৌথ চিরুনি তল্লাশি চালায়। এই অভিযানে স্নিফার ডগ এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও কাজে লাগানো হয়। বুধবার বিকেলে তল্লাশি দল নিখোঁজ ওই ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত শোকার্ত ও ক্ষুব্ধ মানুষ ইম্ফল পূর্বের জওহরলাল নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (JNIMS) হাসপাতালের মর্গের সামনে ভিড় জমান। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়, সেজন্য হাসপাতাল চত্বরে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

    ইউএনসি-র বনধের ডাক ও লাশ গ্রহণে অস্বীকার

    এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মণিপুরের শীর্ষ নাগা সংগঠন ‘ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল’ (UNC) আজ সকাল ৬টা থেকে মণিপুরের সমস্ত নাগা (Nagas-kukis) অধ্যুষিত এলাকায় ২৪ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ বনধের ডাক দিয়েছে। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বাজারঘাট, দোকানপাট এবং যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ইউএনসি জানিয়েছে, সরকারের কাছে তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা নিহতদের দেহ গ্রহণ করবে না। ন্যায়বিচারের দাবিতে তাদের এই প্রতিবাদী অবস্থান মণিপুরের প্রশাসনকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন সেনাপতি জেলার নাগরিক সমাজের (CSO) মধ্যস্থতায় আইনি প্রক্রিয়া মেনে ১৪ জন কুকি (Nagas-kukis) নাগরিককে নিরাপদে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের গ্রামপ্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার পরেই নাগা (Manipur) নাগরিকদের এই মর্মান্তিক পরিণতি রাজ্যকে পুনরায় এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা জাতিগত সংঘাতের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মাঝেই এই ঘটনা মণিপুরে নতুন করে বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

  • Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সংসদীয় দলের (সিপিপি) চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, দুই দলের (TMC-Congress) সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেই জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের খবর “সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য”।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল (Jairam Ramesh)

    জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত “আন্তরিক ও সৌজন্যমূলক”। দুই নেত্রীর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে সেখানে মূলত ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে জয়রাম রমেশ লিখেছেন, “সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (TMC-Congress) বৈঠকে কী ঘটেছে তা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।” নয়াদিল্লিতে সোনিয়া-মমতার এই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের একাংশে কংগ্রেস ও তৃণমূলের রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণের সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতেই কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতার কাছ থেকে এই স্পষ্টীকরণ এলো।

    অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র রূপ নিয়েছে। দফায় দফায় ইস্তফা এবং বিদ্রোহী নেতাদের মন্তব্যের জেরে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের (TMC-Congress) সঙ্গে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণের জল্পনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণই দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তৃণমূল ব্লকের পক্ষে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বর্তমানে আমাদের সঙ্গে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এঁরা সবাই এসে বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেবেন।” তিনি আরও জানান, তাঁদের পক্ষে বিধায়কদের সমর্থন ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪ হয়েছে এবং তাঁরা শীঘ্রই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হবেন। ফলে এই সময়ে জয়রামের মন্তব্য মমতার জন্য কতটা সুবিধা জনক হবে তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।

    কোনও প্রশ্নই ওঠে না

    শুধু তাই নয়, দলের সংযুক্তিকরণের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেসে (TMC-Congress) যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের সংসদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদও কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছেন না।” ঋতব্রত জোর দিয়ে বলেন, দলের কোনও অংশ—তা সে সাংসদ, পুরপ্রতিনিধি, জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সদস্য হোক না কেন, কেউই কোনও সংযুক্তিকরণের দিকে হাঁটছেন না। তবে এই ঘটনায় তৃণমূল এবং কংগ্রেস দুই দল চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের পরদিন সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ‘এক্স’-এ পোস্ট করে দুই নেত্রীর মধ্যকার আন্তরিকতার কথা জানানো হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যেদিন দুই নেত্রীর এই বৈঠক হয়, সেদিনই জালিয়াতি সই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছায় সিআইডি (CID)-র একটি দল। রাজ্য রাজনীতির আঙ্গিনায় এখন ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

  • Firhad Hakim: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

    Firhad Hakim: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে চেতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কলকাতার এক বিজেপি কর্মী এই অভিযোগ দায়ের করে মেয়রের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের ভিত্তি (Firhad Hakim)

    অভিযোগকারী বিজেপি কর্মীর দাবি, একটি ধর্মীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় কলকাতার মেয়র এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারত এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে।

    আইনি পদক্ষেপের দাবি

    অভিযোগকারীর মতে, একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত। তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে।

    বিজেপির অবস্থান

    রাজ্য বিজেপির একাংশের পক্ষ থেকে ববির দাওয়াতে ইসলাম মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বারংবার এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কলকাতার সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী।

    অভিযোগ নেয়নি এই থানা

    যে বিজেপি কর্মী ববির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি বলেন, “তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর সন্দেশখালিতে তৃণমূলের একটি সভায় মহিলাদের মাল বলে সম্বোধন করেন। এবং প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করেন ও ব্যঙ্গাত্মক কথা বলেন। সেই ভিডিয়ো আমাদের কাছে রয়েছে। এই থানাতেই ওইদিন অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু, সেইসময় ফিরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেয়নি এই থানাই। আজ তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলাম। আবার ২০২৪ সালের ৩ জুলাই একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা বলেছিলেন ফিরহাদ। তখন তিনি পুরমন্ত্রী। সেইসময় এই থানাতে আমরা এসেছিলেন। তখনও অভিযোগ নেয়নি। এদিন অভিযোগ নিয়েছে। ধর্মীয় বিভাজন ও উস্কানিমূলক কথাবার্তার জন্য আমি তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানাই।”

    নবান্ন ও তৃণমূল শিবিরের প্রতিক্রিয়া

    এই অভিযোগ এবং চেতলা থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়া প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মেয়রের (Firhad Hakim) বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিষয়টিকে রাজনৈতিক মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

LinkedIn
Share