Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দুই নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী।

    নির্বাচন কমিশনের তরফে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত হিসাব জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই নয়, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথগুলির পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

    নন্দীগ্রামে ৩৭, রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রেজিনগরে থাকবে ৩৪ কোম্পানি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সাধারণত এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রায় ১০০ জন অফিসার ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

    ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং

    নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নন্দীগ্রামে মোট বুথ রয়েছে ২৮২টি এবং রেজিনগরে বুথের সংখ্যা ৩১৫টি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুথের পাশাপাশি সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাতেও নজরদারি চালাবেন। ভোটের আগে এলাকায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন উপনির্বাচন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে?

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

    অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর। তিনিও রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি।

    তৃণমূলের প্রতীক-জটিলতায় নজর

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এই পরিস্থিতিতেই দুই শিবির আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।

    ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দুই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা

    নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

    নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন হরি লাল চৌহান এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক সন্তোষ দাস। রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন এম বি বোরলিঙ্গাইয়া এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক হর্ষল পঞ্চোলী।

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে কমিশনের এই বিপুল নিরাপত্তা আয়োজনের ফলে ভোটের প্রস্তুতি এখন আরও তুঙ্গে।

  • Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে কিডনির রোগ! ভারতীয়দের একাংশ ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিডনির সমস্যা বয়সের সীমানায় আটকে থাকছে না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও কিডনির রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না নিলে দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব নয়। এমনকি সংসদীয় কমিটিতেও সম্প্রতি এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    কেন উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    বিশ্বের একাধিক পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে কিডনির রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বাদ নেই ভারতও। আধুনিক ব্যস্ত জীবনের সঙ্গী হয়ে আসছে নানান রোগ। তেমনি একটি জটিল শারীরিক সমস্যা হল কিডনির রোগ।

    কিডনির ক্রনিক অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন ৩০ থেকে ৮০—যেকোনও বয়সের মানুষ। কম বয়সিদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে কিডনির অসুখ বাড়ছে। আর তার ফলেই জটিলতা আরও বাড়ছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ‘নেফ্রোলজি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৬ শতাংশ ভারতীয় কিডনির অসুখে ভুগছেন। বিশ্বের মোট কিডনির অসুখে আক্রান্তের একটি বড় অংশ ভারতীয়।

    শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ভারতেও কিডনির অসুখের প্রকোপ মারাত্মক। গত কয়েক বছরে গ্রামে কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা শহুরে পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে কিডনির অসুখ বাড়ছে?

    ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ মারাত্মক। খুব কম বয়সে, এমনকি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    ১৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দাপট উদ্বেগজনক। আর তার জেরেই কিডনির অসুখের প্রকোপও বাড়ছে।

    রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে কিডনির উপর চাপ বাড়ে। কিডনির কার্যকারিতাও কমে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কিডনির অসুখের বোঝা কমানো যাবে না।

    উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা!

    ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি।

    অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং লাগাতার মানসিক চাপের জেরেই তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে বলে চিকিৎসকদের একাংশের মত।

    উচ্চ রক্তচাপ কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। তাই ভারতীয়দের কিডনির রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসছে।

    অতিরিক্ত ধূমপান!

    ধূমপান একাধিক রোগের কারণ। মুখ ও গলার ক্যান্সার, ফুসফুসের একাধিক সংক্রমণ এবং ক্যান্সারের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

    তেমনি কিডনির অসুখের কারণ হিসাবেও ধূমপানের অভ্যাসের কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

    বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই অনেকের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যার ফলে পরবর্তী জীবনে একাধিক রোগ দেখা দিচ্ছে। ধূমপান কিডনির একাধিক জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ সেবন!

    ভারতে অন্যতম বড় অসচেতনতা হল, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস। জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা বা হজমের গোলমাল—যে কোনও সমস্যায় অনেকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কিনে খান।

    দীর্ঘমেয়াদি এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার জেরে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশেষত ব্যথা কমানোর ওষুধ বা পেনকিলারের অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাব কিডনির উপর পড়তে পারে। লাগামছাড়া ভাবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া পেনকিলারের মতো ওষুধ খেলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    কিডনির অসুখ নিয়ে কী নয়া সুপারিশ সংসদীয় কমিটির?

    সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে ভারতে কিডনির অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কমিটির সদস্যেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ, কিডনির অসুখ রুখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।

    ২০ বছর বয়স থেকেই বছরে নিয়ম মেনে কিডনির পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিডনির রোগ রয়েছে কি না, তা প্রথম পর্বেই জানা গেলে জটিলতা কমানোর সুযোগ থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্দিষ্ট কিছু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অসুখের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিডনি ঠিকমতো ফিল্টার করতে পারছে কি না, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটাও বোঝা সম্ভব।

    তাই কিডনির অসুখের জটিলতা রুখতে প্রতি বছর শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কম বয়সিদের মধ্যে কিডনির অসুখ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন বলেই জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতের ভারতের উন্নতির জন্য তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

    একদিকে রোগ নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। তাহলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আবার রোগ হয়েছে কি না, সেটাও যাচাই করা জরুরি। তবেই প্রাথমিক পর্ব থেকেই রোগের মোকাবিলা করা যাবে।

  • DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী জুনপুটে ডিআরডিও-র (DRDO) নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ এবার বাস্তবায়নের পথে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মেলার পর এই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।

    চাঁদিপুরের বিকল্প নয়, পরিপূরক পরিকাঠামো

    ওড়িশার চাঁদিপুরে থাকা ডিআরডিও-র ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এর পরিপূরক হিসেবে জুনপুটে এই নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ডিআরডিও এই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নেয় বলে জানা গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রটি তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

    বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষণ পরিকাঠামো রয়েছে ওড়িশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে। চাঁদিপুর-অন-সি এলাকায় লঞ্চ কমপ্লেক্স-III এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে লঞ্চ কমপ্লেক্স-IV-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হয়। সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি জুনপুটে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোর উপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    দিঘা থেকে জুনপুটের দূরত্ব প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার। কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এই এলাকা প্রতিরক্ষা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    জমি-জট কাটিয়ে মিলল অনুমোদন

    এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পটিতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ডিআরডিও-র তরফে প্রকল্প নিয়ে চিঠি এলেও আগের সরকারের সময়ে তার জবাব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি অনুমোদন দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প হবে।”

    অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকল্পটি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকিরণ ও অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, জুনপুট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি রাজ্যসভাতেও তুলেছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

    পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও এই রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বদলাতে পারে শিল্পের ছবিও

    জুনপুটে ডিআরডিও-র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে স্থানীয় ও সহযোগী শিল্পের ক্ষেত্রে।

    ডিআরডিও-র মতো কৌশলগত জাতীয় সংস্থার পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ নির্মাণ, ধাতব কাঠামো, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও বন্দর। জুনপুট-হলদিয়া অঞ্চলের ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎপাদন, পরিবহণ এবং সরবরাহের জন্য ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাড়তে পারে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ

    প্রস্তাবিত কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ কারিগর, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি নির্মাণ, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাস্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয় ব্যবসা, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহযোগী ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

    গবেষণায় নতুন দরজা

    জুনপুট প্রকল্পের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য দিক হল উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা। ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণার সহযোগিতা তৈরি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, জুনপুটের ডিআরডিও পরীক্ষাকেন্দ্রকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো হিসেবে দেখলে এর সম্ভাব্য প্রভাবের পরিধি ছোট করে দেখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি জুনপুট-হলদিয়া করিডরকে ঘিরে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং তার সঙ্গে যুক্ত শিল্পনীতিই ঠিক করবে, এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

  • Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা সামরিক আক্রমণ শুরু করতেই সংঘাতের পরিধি বাড়ে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেই নিশানা করে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সেই অভিযানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল।

    ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পর ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র চার দিনের সামরিক সংঘাত। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ফাইটার জেট, এডব্লিউঅ্যান্ডসি ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে পাকিস্তানের চারটি বিমান হ্যাঙ্গারকে নিশানা করে আইএএফ। সেখানে যুদ্ধবিমান, এডব্লিউঅ্যান্ডসি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) প্ল্যাটফর্ম এবং আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (ইউসিএভি) রাখা ছিল।

    রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকোবাবাদে একাধিক এফ-১৬, একটি এডব্লিউঅ্যান্ডসি বিমান এবং আকিঞ্চি ও টিবি-২ শ্রেণির একাধিক ইউসিএভি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাক বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যাকোবাবাদ ছাড়াও ভোলারি, সুক্কুর ও মুরিদে থাকা হ্যাঙ্গারও হামলার নিশানায় ছিল।

    রানওয়েতেও নির্ভুল আঘাত

    পাকিস্তানের সারগোধা এবং রহিম ইয়ার খান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও হামলা চালায় আইএএফ। লক্ষ্য ছিল রানওয়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে ওই ঘাঁটিগুলিকে লাগাতার সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা কঠিন করে দেওয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে এই হামলার নির্ভুলতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করার আইএএফের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডেও আঘাত

    শুধু বিমান বা রানওয়ে নয়, পাকিস্তানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল পরিকাঠামোকেও নিশানা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চক্লালা এবং মুরিদে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চক্লালার পরিকাঠামো, কারণ সেখানে পাকিস্তান বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের সদর দফতর ছিল।অর্থাৎ, ভারতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা নয়; বরং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের পরিকাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া।

    আকাশ প্রতিরক্ষায় আইএসিসিএস-এর বড় ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের নিজস্ব ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সামরিক ও অসামরিক সমস্ত নজরদারি সেন্সরকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘কমন রিকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক আইএএফ নেটওয়ার্কড ট্যাকটিক্যাল নোডের মাধ্যমে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

    ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ‘এস-৪০০ কিল’!

    অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভবত এই ঘটনাটিই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন বিমানকে ধ্বংস করেরিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেডার নীরবে লক্ষ্যবস্তুটি ট্র্যাক করে এবং এস-৪০০-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তার ‘ফার বাউন্ডারি’ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়। অর্থাৎ, নজরদারি, ট্র্যাকিং, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপশন—এই গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়েই ওই হামলা সম্ভব হয়।

    বায়ুসেনার সদস্যদের সম্মান

    অপারেশন সিঁদুরের পর ১২ মে ২০২৫ এয়ারফোর্স স্টেশন আদমপুরে গিয়ে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের সাহস ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরে ১৫ অগস্ট ২০২৫ অপারেশন সিঁদুরে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ২১৯ জন সদস্যকে প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর শুধু জঙ্গি ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন পরিকাঠামো এবং এয়ার ডিফেন্স কমান্ড—সমগ্র সামরিক নেটওয়ার্ককেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিল ভারত।

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

  • India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ নজরদারি এবং মাইক্রোস্যাটেলাইট প্রযুক্তি—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশের সংস্থাগুলি। প্যারিসে আয়োজিত প্রথম ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিট-এ এই চুক্তিগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ফ্রান্সের সাফরান স্পেস এবং ভারতের ধ্রুব স্পেস-এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের চুক্তি। ভারতের পরিকল্পিত ৫২টি উপগ্রহের স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর প্যারিসে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, শিল্পক্ষেত্র এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। সম্মেলনে মোট ৫১টি ঘোষণা করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই মঞ্চেই ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির সঙ্গে ফরাসি সংস্থাগুলির একাধিক নতুন অংশীদারিত্ব সামনে এসেছে।

    ৫২ উপগ্রহের নজরদারি ব্যবস্থা

    সাফরান স্পেস এবং ধ্রুব স্পেস-এর চুক্তিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এসবিএস-৩ স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন-এর জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৫২টি উপগ্রহের এই কনস্টিলেশন গড়ে তোলা হবে।

    চুক্তির আওতায় ভারতীয় সংস্থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন ইউনিট, অপটিক্যাল পেলোড এবং গ্রাউন্ড স্টেশন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে সাফরান স্পেস। এর ফলে কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন মহাকাশযান ও অন্যান্য বস্তুর উপর নজরদারি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়বে ভারতের।

    বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এখন জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর কক্ষপথে কোন উপগ্রহ কোথায় রয়েছে, কোনও মহাকাশযানের গতিপথে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কিংবা কোনও বস্তু সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার জন্য শক্তিশালী স্পেস-সার্ভেইলেন্স পরিকাঠামো প্রয়োজন। ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    সরকারি কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি মহাকাশ শিল্প

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা ক্রমশ সরকারি মহাকাশ সংস্থার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিউ স্পেস বা বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতার মূল স্তম্ভ ছিল ভারতের ইসরো এবং ফ্রান্সের সিএনইএস। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি দেখাচ্ছে, এখন ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সরবরাহ-শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

    ধ্রুব স্পেস-এর সঙ্গে সাফরানের চুক্তি সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি প্রযুক্তি এবং ভারতীয় শিল্প-উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

    ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে আরও দুই চুক্তি

    প্যারিস সম্মেলনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। ফরাসি লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থা রাইড এবং ভারতীয় সংস্থা টেকমিটুস্পেস-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় টেকমিটুস্পেস-এর দুটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। টেকমিটুস্পেস-কে ভারতের প্রথম অরবিটাল ডেটা সেন্টার-এর নকশাকারী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির জন্য আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর আগে রাইড এবং ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার নজির রয়েছে। সম্প্রতি একটি ইউরোপীয় অ্যাটমস্ফেরিক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ভারতের পিএসএলভি-র মাধ্যমে উৎক্ষেপণ, কক্ষপথে সংযুক্তি এবং পরে পৃথিবীতে ফেরানোর কাজে দুই পক্ষের সহযোগিতা হয়েছে।

    অন্যদিকে ফরাসি মহাকাশ সংস্থা ইউ-স্পেস এবং ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাক্সিসকেডস একটি বাণিজ্যিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। লক্ষ্য ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা মাইক্রোস্যাটেলাইট মার্কেট-এ একসঙ্গে কাজ করা। পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে এগোনোর কথা, যার অন্যতম ভিত্তি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতি। ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতাকে যুক্ত করাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

    পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্ক

    ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। ইসরো এবং সিএনইএস-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব সেই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, স্পেস জিওডেসি, মানব মহাকাশ অভিযান, পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি এবং গ্রহ অনুসন্ধান—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করেছে।

    দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক স্পেস ডায়ালগ বা কৌশলগত মহাকাশ সংলাপও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অসামরিক এবং প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের মহাকাশ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের জুনে প্যারিসে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০২৪ সালের মার্চে নয়াদিল্লিতে।

    ইসরো-সিএনইএস সহযোগিতায় ত্রিশনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    ইসরো এবং সিএনইএস ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি, যৌথ ত্রিশনা আর্থ অবজারভেশন মিশন, সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে নজরদারি এবং স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস-এর মতো বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    দুই দেশের লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থাগুলির মধ্যেও বহু বছরের সহযোগিতা রয়েছে। ভারতীয় পিএসএলভি বাণিজ্যিকভাবে ফরাসি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। আবার ফ্রান্সের এরিয়ানস্পেস ভারতীয় জিওস্টেশনারি উপগ্রহ উৎক্ষেপণে পরিষেবা দিয়েছে।

    ফলে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক শুধু গবেষণা বা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উৎক্ষেপণ, উপগ্রহ নির্মাণ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ নজরদারি এবং বেসরকারি মহাকাশ ব্যবসা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে।

    চন্দ্রযান-৩ থেকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ সহযোগিতা

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ফরাসি শিল্পের অংশগ্রহণও দীর্ঘদিনের। সাফরানের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চন্দ্র অভিযানে তাদের অবদান ছিল। একই সঙ্গে ভারতে তাদের শিল্প পরিকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে।

    ফলে সাফরান-ধ্রুব স্পেস-এর নতুন চুক্তিকে বিচ্ছিন্ন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। বরং এটি ভারতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির মধ্যে ক্রমশ গভীরতর শিল্প-সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ।

    প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    মহাকাশ এখন আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র নয়। যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, আবহাওয়া, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ এবং সামরিক যোগাযোগ—আধুনিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে মহাকাশ পরিকাঠামো সরাসরি যুক্ত।

    এই কারণেই ভারতের জন্য স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস এবং মহাকাশে নিজস্ব নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় সংস্থার দক্ষতার সমন্বয়ে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত করার ফলে ভারতের মহাকাশ শিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং গবেষণার পরিসরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় নিউ স্পেস সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে প্রবেশের আরও সুযোগ পাবে।

    মাক্রঁর ভারত সফরের পর আরও গতি

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরের সময়ও দুই দেশ অসামরিক উপগ্রহ নির্মাণ এবং মানব মহাকাশ অভিযান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করেছিল। তার পরেই প্যারিসের আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে একসঙ্গে তিনটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সামনে আসা দুই দেশের মহাকাশ অংশীদারিত্বে নতুন গতি নির্দেশ করছে।

    সব মিলিয়ে, ভারত-ফ্রান্সের মহাকাশ সম্পর্ক এখন ইসরো-সিএনইএস-এর ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মসূচি + প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতা + বেসরকারি শিল্প + আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়াচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত নজরদারি কনস্টিলেশন এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারিত্বগুলি সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

  • Swami Vivekananda Chicago Speech: ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা’ ১৩৩ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ?

    Swami Vivekananda Chicago Speech: ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা’ ১৩৩ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১১ সেপ্টেম্বর। স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের ১৩৩তম বর্ষপূর্তি। ১৮৯৩ সালের এই দিনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু বিশ্বধর্ম সম্মেলনেই আলোড়ন তৈরি করেনি, বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সভ্যতা, সনাতন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার এক শক্তিশালী পরিচয়ও তুলে ধরেছিল।

    নিজের ভাষণের শুরুতেই স্বামীজি বলেছিলেন, ‘‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা…’’। যার অর্থ, ‘আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ’। তাঁর এই সম্বোধনের পরেই প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে করতালি চলেছিল বলে জানা যায়। কারণ, বিশ্বধর্ম সম্মেলনের মঞ্চে তার আগে বক্তারা সাধারণত ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ বলেই শ্রোতাদের সম্বোধন করেছিলেন। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকাবাসীকে ‘ভাই ও বোন’ বলে সম্বোধন করেন।

    তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর ভাবনা, ভারতের সুপ্রাচীন সভ্যতা, সনাতন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরা। একই সঙ্গে তিনি তুলে ধরেছিলেন ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ভারতীয় আদর্শ। তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—ভারতবর্ষ কখনও অন্য ধর্মের ওপর আঘাত হানার পথ অনুসরণ করেনি; বরং বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে।

    বিশ্বমঞ্চে স্বামীজির সেই ভাষণ সেদিন ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সভ্যতা ও সনাতন ধর্মের উদারতার একটি শক্তিশালী পরিচয় বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের নির্বাচিত কিছু অংশ ও তার তাৎপর্য দেখে নেওয়া যাক।

    পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসী-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি

    ‘‘হে আমার আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ, আজ আপনারা আমাদিগকে যে আন্তরিক ও সাদর অভ্যর্থনা করিয়াছেন, তাহার উত্তর দিবার জন্য উঠিতে গিয়া আমার হৃদয় অনির্বচনীয় আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে। পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসী-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি। সর্বধর্মের যিনি প্রসূতি-স্বরূপ, তাঁহার নামে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোটি কোটি হিন্দু নরনারীর হইয়া আমি (Swami Vivekananda) আপনাদিগকে ধন্যবাদ দিতেছি।’’

    আমরা শুধু সকল ধর্মকেই সহ্য করি না, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি

    ‘‘এই সভামঞ্চে সেই কয়েকজন বক্তাকেও আমি ধন্যবাদ জানাই, যাঁহারা প্রাচ্যদেশীয় প্রতিনিধিদের সম্বন্ধে এরূপ মন্তব্য প্রকাশ করিলেন যে, অতি দূরদেশবাসী জাতিসমূহের মধ্য হইতে যাঁহারা এখানে সমাগত হইয়াছেন, তাঁহারাও বিভিন্ন দেশে পরধর্মসহিষ্ণুতার ভাব প্রচারের গৌরব দাবি করিতে পারেন। যে ধর্ম জগৎকে চিরকাল পরমতসহিষ্ণুতা ও সর্বাধিক মত স্বীকার করার শিক্ষা দিয়া আসিতেছে, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমরা শুধু সকল ধর্মকেই সহ্য করি না, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি। যে ধর্মের পবিত্র সংস্কৃত ভাষায় ইংরেজি ‘এক্সক্লুশন’ (ভাবার্থঃ বহিষ্কার, পরিবর্জন) শব্দটি অনুবাদ করা যায় না, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া গর্ব অনুভব করি। যে জাতি পৃথিবীর সকল ধর্মের ও সকল জাতির নিপীড়িত ও আশ্রয়প্রার্থী জনগণকে চিরকাল আশ্রয় দিয়া আসিয়াছে, আমি (Swami Vivekananda) সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি।’’

    আমরাই ইহুদিদের খাঁটি বংশধরগণের অবশিষ্ট অংশকে সাদরে হৃদয়ে ধারণ করিয়া রাখিয়াছি

    ‘‘আমি আপনাদের এ কথা বলিতে গর্ব অনুভব করিতেছি যে, আমরাই ইহুদিদের খাঁটি বংশধরগণের অবশিষ্ট অংশকে সাদরে হৃদয়ে ধারণ করিয়া রাখিয়াছি; যে বৎসর রোমানদের ভয়ঙ্কর উৎপীড়নে তাহাদের পবিত্র মন্দির বিধ্বস্ত হয়, সেই বৎসরই তাহারা দক্ষিণভারতে আমাদের মধ্যে আশ্রয়লাভের জন্য আসিয়াছিলেন। জরাথুষ্ট্রের অনুগামী মহান পারসিক জাতির অবশিষ্টাংশকে যে ধর্মাবলম্বীগণ আশ্রয় দান করিয়াছিল এবং আজ পর্যন্ত যাহারা তাঁহাদিগকে প্রতিপালন করিতেছেন, আমি তাঁহাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’’

    ‘যত মত তত পথ’-এর ভাবনা

    স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও মতের প্রতি তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি। বিভিন্ন পথ অনুসরণ করেও মানুষ যে একই পরম লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে, সেই ভাবনাই তিনি তুলে ধরেছিলেন।

    ‘‘বিভিন্ন নদীর উৎস বিভিন্ন স্থানে, কিন্তু তাহারা সকলে যেমন এক সমুদ্রে তাহাদের জলরাশি ঢালিয়া মিলাইয়া দেয়, তেমনই হে ভগবান, নিজ নিজ রুচির বৈচিত্র্যবশতঃ সরল ও কুটিল নানা পথে যাহারা চলিয়াছে, তুমিই তাহাদের সকলের একমাত্র লক্ষ্য। পৃথিবীতে এযাবৎ অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাসম্মেলনে গীতা-প্রচারিত সেই অপূর্ব মতেরই সত্যতা প্রতিপন্ন করিতেছি, সেই বাণীই ঘোষণা করিতেছিঃ ‘যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্। মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।’ (যে কোনও ব্যক্তি যে ভাব আশ্রয় করিয়া আসুক না কেন, আমি তাহাকে সেই ভাবেই অনুগ্রহ করিয়া থাকি। হে অর্জুন মনুষ্যগণ সর্বতোভাবে আমার পথেই চলিয়া থাকে)।’’

    সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও ধর্মোন্মত্ততার বিরুদ্ধে স্বামীজির বার্তা

    স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণের শেষাংশে ছিল সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও ধর্মোন্মত্ততার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা। মানবসভ্যতার অগ্রগতির পথে ধর্মের নামে হিংসা ও বিভাজন যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা তিনি সেদিন বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন।

    ‘‘সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও এগুলির ভয়াবহ ফলস্বরূপ ধর্মোন্মত্ততা এই সুন্দর পৃথিবীকে বহুকাল অধিকার করিয়া রাখিয়াছে। ইহারা পৃথিবীকে হিংসায় পূর্ণ করিয়াছে, বরাবর ইহাকে নরশোণিতে সিক্ত করিয়াছে, সভ্যতা ধ্বংস করিয়াছে এবং সমগ্র জাতিকে হতাশায় মগ্ন করিয়াছে। এই-সকল ভীষণ পিশাচগুলি যদি না থাকিত, তাহা হইলে মানবসমাজ আজ পূর্বাপেক্ষা অনেক উন্নত হইত। তবে ইহাদের মৃত্যুকাল উপস্থিত; এবং আমি সর্বতোভাবে আশা করি, এই ধর্ম-মহাসমিতির সম্মানার্থ আজ যে ঘণ্টাধ্বনি নিনাদিত হইয়াছে, তাহাই সর্ববিধ ধর্মোন্মত্ততা, তরবারি অথবা লিখনীমুখে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রকার নির্যাতন এবং একই লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর ব্যক্তিগণের মধ্যে সর্ববিধ অসদ্ভাবের সম্পূর্ণ অবসানের বার্তা ঘোষণা করুক।’’

    খেতড়ির রাজা অজিত সিংহের সাহায্যে স্বামীজি পৌঁছান আমেরিকা

    তবে স্বামী বিবেকানন্দের আমেরিকা সফরের পথ মোটেই সহজ ছিল না। উত্তর-পূর্ব রাজস্থানের খেতড়ির রাজা অজিত সিংহ তাঁকে শিকাগো যাওয়ার জন্য ‘ওরিয়েন্ট’ জাহাজের ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট কিনে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। আমেরিকায় পৌঁছেও অবশ্য স্বামীজিকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমনকী বর্ণবিদ্বেষেরও শিকার হয়েছিলেন তিনি।

    তৎকালীন আমেরিকার একাংশের মানুষের কাছে ভারত ছিল অত্যন্ত পিছিয়ে থাকা একটি দেশ। সেই পরিস্থিতিতেই শিকাগো পৌঁছে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন হেনরি রাইটের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সুপারিশের মাধ্যমে সম্মেলনে তাঁর বক্তৃতা দেওয়ার পথ খুলে যায়।

    ১৮৯৩ সালের সেই ভাষণ আজও ভারতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিকতা, বহুত্ববাদ এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের যে বার্তা স্বামী বিবেকানন্দ সেদিন দিয়েছিলেন, ১৩৩ বছর পরেও তার প্রাসঙ্গিকতা অটুট।

  • Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠক হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা থেকে শুরু করে পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—একাধিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে।

    মোদি-পুতিন বৈঠকে বড় অংশ জুড়ে থাকবে প্রতিরক্ষা

    তবে মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উন্নয়নের দিকে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়।

    এস-৪০০-এর শেষ ইউনিট কবে? বড় প্রশ্ন বৈঠকে

    মোদি-পুতিন আলোচনায় সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাকি থাকা শেষ ইউনিটের সরবরাহ। ২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তিতে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এর মধ্যে চারটি ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পঞ্চম এবং শেষ ইউনিটের সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে।

    তবে মস্কো যে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে এখনও দায়বদ্ধ, তা স্পষ্ট করেছে ক্রেমলিন। সম্প্রতি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, রাশিয়া চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। ভারতের জন্য এস-৪০০-এর গুরুত্বও যথেষ্ট বেশি। দীর্ঘ পাল্লায় বিমান এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার ক্ষমতার কারণে এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেষ এস-৪০০ ইউনিটের সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    এসইউ-৫৭: শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরেও নজর ভারতের

    মোদি-পুতিন বৈঠকে আরেকটি বড় বিষয় হতে পারে রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। ভারতের বাজারে এসইউ-৫৭-কে দীর্ঘদিন ধরেই তুলে ধরছে মস্কো। কিন্তু ভারতের আগ্রহ শুধু সরাসরি যুদ্ধবিমান কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশে উৎপাদন এবং ভারতীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তির সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানের সংযুক্তি—এই বিষয়গুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এসইউ-৫৭ নিয়ে কোনও সম্ভাব্য চুক্তি হলে তার মূল্যায়ন শুধু কতগুলি বিমান কেনা হবে, সেই প্রশ্নে আটকে থাকবে না। ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—কতটা প্রযুক্তি দেশে আসবে, উৎপাদনে ভারতীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা কতটা থাকবে এবং ভবিষ্যতে এই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ভারত কতটা স্বাধীনতা পাবে। অর্থাৎ, এসইউ-৫৭ নিয়ে আলোচনা হলে তা ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্ক থেকে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হতে পারে।

    ব্রহ্মোসে এবার নতুন ক্ষমতা, নতুন বাজারের লক্ষ্য

    ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে সফল উদাহরণগুলির একটি হল ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। দুই দেশ যৌথভাবে তৈরি করা এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এবার ব্রহ্মোসের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

    ক্রেমলিনের তরফে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোসের উন্নয়ন এবং নতুন ক্ষমতা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামনে আসছে ব্রহ্মোস-এনজি—বর্তমান ব্রহ্মোসের তুলনায় ছোট ও হালকা সংস্করণ।এই কমপ্যাক্ট সংস্করণের অন্যতম সুবিধা হতে পারে আরও বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমানে এটিকে সংযুক্ত করার সুযোগ। ভারতের দেশীয় তেজস-এর মতো তুলনামূলক হালকা যুদ্ধবিমানেও এর ব্যবহার সম্ভব হলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশভিত্তিক আক্রমণক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

    শুধু ভারতীয় বাহিনীর প্রয়োজন নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্রহ্মোসের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর রয়েছে দুই দেশের। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং তৃতীয় দেশে রফতানি—এই মডেল ভবিষ্যতে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন মডেল: অস্ত্র কেনা থেকে যৌথ উৎপাদন

    ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিপুল সংখ্যক প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে রুশ প্রযুক্তির দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের চরিত্রও বদলাচ্ছে। ভারত এখন চায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির পাশাপাশি দেশের মাটিতে উৎপাদন, প্রযুক্তি অর্জন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে।

    অন্যদিকে, রাশিয়াও শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রির পরিবর্তে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি ভাগাভাগি, উৎপাদন এবং তৃতীয় দেশের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।  ব্রহ্মোস এই পরিবর্তিত মডেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে ফিলিপিন্স ব্রহ্মোসের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হওয়ার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব বেড়েছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়া?

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মস্কোর সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সরবরাহ এবং রসদ সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ভারত তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। তারপরও রাশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার।

    এই বাস্তবতায় মোদি-পুতিন বৈঠকের গুরুত্ব শুধু নতুন কোনও অস্ত্র চুক্তির সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং পুরনো চুক্তিগুলির বাস্তবায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কাঠামো—সবই আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে এস-৪০০-এর শেষ ইউনিটের সরবরাহ এবং ভবিষ্যতের যৌথ উৎপাদন প্রকল্পগুলি নিয়ে স্পষ্টতা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    ব্রিকসের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, নজরে ভূ-রাজনীতিও

    ১১ সেপ্টেম্বর মোদি-পুতিন বৈঠকের পরই ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তাঁদের মধ্যে থাকবেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। ফলে মোদি-পুতিন বৈঠককে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা আলোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ছবির একটি বড় অংশ বাদ পড়বে।

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে এই বৈঠক থেকে।

    প্রতিরক্ষায় দ্বিপাক্ষিক প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতায় জোর

    এস-৪০০-এর বাকি সরবরাহ, এসইউ-৫৭-এর প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ব্রহ্মোসের নতুন সংস্করণ ও রফতানি—তিনটি বিষয়ই আলাদা হলেও এর মধ্যে একটি অভিন্ন সূত্র রয়েছে। সেটি হল—ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক থেকে আরও গভীর প্রযুক্তিগত ও শিল্প সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাওয়া। মোদি-পুতিন বৈঠকে সেই পরিবর্তনের কতটা স্পষ্ট রূপরেখা সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর প্রতিরক্ষা মহলের।

  • Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আশপাশের পরিচিত মহলেই এখন আর জীবনের গন্ডি আটকে থাকছে না! মুখোমুখি যোগাযোগ না থাকলেও, মুঠোফোনের দৌলতে এখন বহু দূর দেশে, কখনো না দেখা মানুষ ও সহজেই জেনে যান জীবনের খুঁটিনাটি! তাঁদের মতামত, তার প্রত্যাশাও সহজেই চাপিয়ে দেওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগত এখন জীবনের অনেক ওঠা-পড়া আর সফল-অসফলের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ! এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে! বিশ্ব জুড়ে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাদ নেই ভারত। ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বিপজ্জনক হারে বেড়েছে। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। প্রথম থেকেই জীবন যাপনের কিছু বদল প্রয়োজন। তবেই সুস্থ ও সুন্দর দীর্ঘ জীবন কাটানো যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে পরিসংখ্যান?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আত্মহত্যার ঘটনায় দুই তৃতীয়াংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। যা যথেষ্ট বিপজ্জনক।

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৩৩.৫ শতাংশ পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করেছেন। অসুস্থতার কারণে ১৮% আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই অসুস্থতা শারীরিক এবং মানসিক। মাদক আসক্তির জেরে ৮ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    কেন জেন জি-দের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে?

    সামাজিক প্রত্যাশার চাপ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক প্রত্যাশার তীব্র চাপের জেরেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হচ্ছে। হতাশার জন্ম নিচ্ছে। এর জেরেই আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পড়াশোনার চাপ, চাকরির চাপ , পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার চাপ থাকে। অনেক সময়েই এগুলো মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে ওঠে। আশপাশের মানুষের প্রত্যাশার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন হয়ে যায়। তার উপরে এখন ভার্চুয়াল জগতের চাপ, বাড়তি হতাশা তৈরি করছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও সেই চাপ দেখা যায়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই সুন্দর আর সফল দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। সেগুলোই জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি হয়ে উঠছে। কিন্তু বাস্তবে সব সময় সেটা সম্ভব হয় না। তখন ধাক্কা লাগছে। অনেক সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত মানুষদের সীমাহীন মন্তব্য জীবন যাপনের দিক নির্ধারণ করছে। এগুলো একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এর ফলে অনেক সময়েই হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসাদ তৈরি হচ্ছে। ফলে, আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে।

    পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপড়েন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৮-৩০ বছর বয়সে মানুষ একাধিক নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে জীবনের নানান নতুন সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি হয়। পারিবারিক সম্পর্কও জটিল হয়ে যায়। অনেকের ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা তৈরি হয়। সবটা সহজে ভারসাম্য বজায় থাকে না। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার কারণেই জেন জি-র আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

    বাস্তবে একাকিত্ব!

    জেন জি প্রজন্মের অন্যতম সমস্যা বাস্তবে একাকিত্ব! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইনে হাজার হাজার বন্ধু থাকলেও বিপদে পাশে থাকার মতো বন্ধুর অভাব দেখা দিচ্ছে। গল্প করা, সময় কাটানো, নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া মানুষের অভাব মানসিক জটিলতা তৈরি করে। ফলে, কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটা ভাগ করে নেওয়া যায় না। আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    মদ্যপান ও আসক্তি!

    ভারতে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মাদক ও মদে আসক্তি। এমনটিই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসক্তি থাকলে হঠকারিতা বাড়ে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে। আর তার ফলেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    কীভাবে আত্মহত্যার ঘটনা কমতে পারে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা ঠেকাতে জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা জরুরি।‌ কারণ, প্রথম থেকেই শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ‌ হবে।

    পারিবারিক সম্পর্কে বাড়তি নজর!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে বাড়তি নজরদারি জরুরি।‌ যেকোনো সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে, এই পরিবেশ আর নিশ্চয়তা জরুরি। তবেই যেকোনো সঙ্কটে পরিবারের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। হঠকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।‌ ছোট থেকেই শিশু মনে পরিবার নিয়ে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যাতে সে বড় হলেও যেকোনো সমস্যা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পরিবারের মধ্যে যেকোনো একজনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হবে, যাতে সে সহজ‌ ভাবে মনের কথা প্রকাশ করতে পারে।

    ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমানো!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমলে মানসিক চাপ ও হতাশা কমবে। সোশ্যাল মিডিয়া জীবন মাপকাঠি ঠিক করে দেবে না। বরং, জীবনের সব ঠিক-ভুলের খুঁটিনাটির হিসাব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমালে, ভার্চুয়াল জগতের প্রত্যাশার চাপ সহজেই এড়ানো যাবে।

    পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি!

    সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। যেকোনো বিষয়ে গভীর ভাবে ভাবার ক্ষমতা থাকে। তাই সুস্থ শরীর ও মনের জন্য নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ!

    ভারত সরকার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয়। দেশে আত্মহত্যার ঘটনা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসারের পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়েও সক্রিয়। তাই যেকোনো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য দিনের যেকোনো সময়ে ‘টেলি মানস’-এ যোগাযোগ করা যাবে। নিজের সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। আবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাবে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সেগুলো সাহায্য করবে। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতি নিয়ে বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাংলায়। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে দুর্গাপুজোর সময় বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়ার রীতির সমালোচনা করেছিলেন তিনি। আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।

    বিরোধীদের আক্রমণের মুখে এবার কার্যত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বঙ্গ বিজেপি। সরাসরি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের বিরোধিতা না করলেও একের পর এক বিজেপি নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। বরং তাঁরা নিজেরাও আমিষভোজী এবং বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে বাইরের কোনও ‘প্রেসক্রিপশন’ চলবে না বলেই বার্তা দিয়েছেন।

    ‘বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না?’: শমীক

    রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর অবস্থান। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কেউ নির্দেশ দিতে পারেন না। শমীক বলেন, “আমাকে আমার মতো থাকতে দাও! বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে। বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না? স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন, তাঁর ওপরে আবার কে আছে? মা কালী এখানে পাঁঠা খাবেন!”

    তাঁর সংযোজন, “অষ্টমীর দিন লুচি আর নবমীর দিন কচি পাঁঠার মাংস খাওয়া বাঙালির খাঁটি রীতিনীতি, আর বাঙালি সেই ঐতিহ্যই লালন করবে। কোনও সন্ত বা চিকিৎসকের নিরামিষাশী হওয়ার আহ্বান বা পরামর্শ দেওয়ার অধিকার থাকতেই পারে, কিন্তু বাংলায় বসে কে কী খাবে আর কে কী পরবে, তা বাইরে থেকে এসে কেউ ঠিক করে দেবে না।” ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রেখেই শমীক বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মদর্শনের ওপরে অন্য কোনও মত চাপিয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বাংলায় মা কালীকে পাঁঠার মাংস নিবেদন করার যে সুপ্রাচীন প্রথা রয়েছে, তাকে অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।”

    তবে আমিষভোজীদের ‘পাষণ্ড’ বা ভণ্ড বলে উল্লেখ করার বিষয়টি সমর্থন করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য নয়, একজন সন্তের ব্যক্তিগত মতামত। তাই বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতেও যেতে চান না তিনি। শমীকের কথায়, “যার ধুতি পরার ইচ্ছে সে ধুতি পরবে, যে লুঙ্গি পরে সে লুঙ্গি পরবে—বাঙালির নিজস্ব জীবনযাত্রা ও রুচিবোধের ওপর রাজনীতি বা অন্য কোনও প্রেসক্রিপশন খাটবে না।”

    ‘রাজ্যের সংস্কৃতি আলাদা’, বললেন অগ্নিমিত্রা

    বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলার দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে।

    অগ্নিমিত্রা বলেন, “অন্য রাজ্যে এই দুর্গাপুজোর সময় এই দশ দিন যে পুজো হয়, সেখানে অন্য রাজ্যের সবাই মিলে নিরামিষ খায়। এখন তিনি যদি মনে করে থাকেন যে এখানেও সেই কালচার, এখানে তো সেই কালচারটা নয়। আমরা সারা বছর টাকা পয়সা জমাই দিয়ে আমরা পুজোর চার দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কবজি ডুবিয়ে মাংস খাব, ইলিশ মাছ খাব। সুতরাং রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা। উনি ওনার মতো করে বলেছেন, যেটা উনি জানেন। উনি হয়ত জানেন না যে, এখানে কালচারটা ওইটা নয়।” অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “আমরা কী খাবো, কী পোশাক করবো, কখন বেরবো, কখন বাড়ি ঢুকবো এটা কেউ বলে দেবে না। যারা রাজনীতি করছেন… রাজনীতি করবেন না। রাজনীতির আগুনে আবার রুটি সেঁকবেন না।”

    ‘আমার নিয়মিত মাছ দরকার’: দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও একই সুরে বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কে কী খাবেন, সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার নিয়মিত মাছ দরকার। তবে সেটা বড় কথা নয়। যাঁরা যা খেতে চান, তাঁরা তাই খাবেন। দুর্গাপুজোয় পাঁঠা বলি হয়। পাঁঠার মাংস প্রসাদ হিসেবে খাওয়া হয়।” তাঁর সংযোজন, “কোনও কোনও সাধুসন্ত নিরামিষ খেতে বলেন, কিন্তু সেটা বাধ্যতামূলক হতে পারে না।”

    বাগেশ্বর বাবার উদ্দেশেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন দিলীপ। তাঁর প্রশ্ন, “বাগেশ্বর বাবার কাছে যে ভক্তরা যান, তাঁরা কেউ আমিষ খান না, সেটা উনি হলফ করে বলতে পারবেন?” দিলীপের বক্তব্য, “বিবেকানন্দ বলেছিলেন, যতদিন দেশ থাকবে, ততদিন শিব ডমরু বাজাবেন আর মা কালী পাঁঠা খাবেন। এটাই বাংলার সংস্কৃতি।” তাঁর আরও অভিযোগ, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ‘ফতোয়া’র রাজনীতি তৃণমূলই শুরু করেছিল।

    ‘কবজি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাব’, বার্তা লকেটের

    বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় অবশ্য গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে না টেনে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরম্পরার সঙ্গে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। লকেট বলেন, “বাগেশ্বর বাবা তাঁর মতো বলেছেন, এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও কারণ নেই। বাঙালিরা যেভাবে পুজো করে আসছেন সেভাবেই পুজো করবে।”

    তাঁর কথায়, “বিরোধীরা সবকিছুতেই বলতে চায় বিজেপি এলে নিরামিষ করে দেবে রাজ্যকে, পুজোয় অনুদান দেবে না কিন্তু পুরোটাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেটা প্রমাণিত পুজোতেও অনুদান হবে এবং বাঙালিরা কব্জি ডুবিয়ে মাছ মাংস সব কিছুই খাবে।”

    লকেট আরও বলেন, “আমরা আমাদের পরম্পরাকে ভাঙতে পারি না। মা আসছেন তার বাপের বাড়ি চার দিনের ছুটিতে। মা সবার সঙ্গে সিঁদুর খেলে। আমরা অষ্টমীতে অঞ্জলি দিই। খিচুড়ি খাই। নবমীতে নন ভেজ খাই। এটা আমাদের পরম্পরাতেই আছে। এটাকে ওনার বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কোন দরকার নেই।”

    ‘ইনি বাংলার বাবা নন’, সজল ঘোষের কটাক্ষ

    বিজেপি নেতা সজল ঘোষ অবশ্য বাগেশ্বর বাবাকে সরাসরি নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাঙালিরই। সজল বলেন, “বাগেশ্বর বাবার কথা ছাড়ুন। ইনি বাংলার বাবা নন। আমার বাবা আমি যা শিখিয়েছে, সেটাই পালন করব। আমরা বাঙালিরা জানি পুজোর নিয়ম কী। ওঁরা উত্তর ভারতের মানুষ। তাই উনি এ কথা বলেছেন। বাগেশ্বর বাবা বিজেপি নয়। আমাদের দল পরিষ্কার করে বলেছে।”

    ‘আমরা আমিষ খাব, ১০০ শতাংশ খাব’: সুকান্ত

    এই বিতর্কে নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর কথায়, বাঙালির আমিষ খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সুকান্ত বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সবকিছুতে রাজনীতি খোঁজে। আমরা আমিষ খাব। আমরা আমিষ খাব, ১০০% খাব। আমি আজ দু’পিস ইলিশ মাছ খেয়ে এসেছি। আমরা নিজেরা আমিষভোজী। আমরা আমিষ বন্ধ করে দিলে খাব কী?”

    ফলে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতার বক্তব্যে কার্যত একটি বিষয়ই স্পষ্ট—বাঙালির দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা বা ‘ফতোয়া’ তাঁরা মানতে নারাজ। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বিতর্ককে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা কতটা বাড়ে, সেদিকেই।

LinkedIn
Share