Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • PM Surya Sarovar Yojana: জলের উপর ভাসবে সৌরবিদ্যুৎ! ৫,০৭০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের

    PM Surya Sarovar Yojana: জলের উপর ভাসবে সৌরবিদ্যুৎ! ৫,০৭০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাবুন তো, যে জলাশয় এতদিন শুধু জল সংরক্ষণ বা সেচের কাজে ব্যবহৃত হতো, সেই জলাশয়ই এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠবে! নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে ৫,০৭০ কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana)-র। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জলাধার, বাঁধ, হ্রদ ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের উপর গড়ে তোলা হবে ৫,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লোটিং সোলার প্রকল্প (Floating Solar Project) এবং ১০,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা (MWh) ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা। যা বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদন বাড়াবে, তেমনই কমাবে কার্বন নিঃসরণ এবং কৃষিজমির উপর চাপ।

    কী এই ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana)?

    ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana) জমির বদলে জলাশয়ের উপর বিশেষ ভাসমান প্ল্যাটফর্ম বসিয়ে সৌর প্যানেল (Floating Solar Project) স্থাপন করা হবে। ফলে কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। একই সঙ্গে জলাশয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাবে।

    কেন ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ (Floating Solar Project)?

    ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের (Floating Solar Project) একাধিক সুবিধা রয়েছে-

    • ● কৃষিজমি বা বনভূমি ব্যবহার করতে হয় না
    • ● জল প্যানেলকে ঠান্ডা রাখায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ে
    • ● জলাশয় থেকে বাষ্পীভবনের পরিমাণ কমে
    • ● সূর্যালোক আংশিক আটকানোর ফলে শৈবালের বৃদ্ধি কম হয়
    • ● বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল সংরক্ষণ- দুই উদ্দেশ্যই পূরণ হয়

    ভারতে সম্ভাবনা কতটা?

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সোলার এনার্জি (NISE)-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে প্রায় ১০২.১৮ গিগাওয়াট ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ বর্তমানে স্থাপিত ক্ষমতা মাত্র প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য সেই ব্যবধান দ্রুত কমানো।

    কীভাবে মিলবে আর্থিক সহায়তা?

    প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্র একাধিক আর্থিক সুবিধা দেবে। সফলভাবে প্রকল্প চালু হলে প্রতি মেগাওয়াটে ১ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা (CFA)। প্রকল্প শুরুর আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, জলাশয়ের গভীরতা নির্ণয়, পরিবেশগত মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্য প্রতি প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান।

    কবে বাস্তবায়ন ?

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রকল্প অনুমোদন করা হবে। কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা চলবে ২০৩২-৩৩ অর্থবর্ষ পর্যন্ত। রাজ্য সরকার, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থার যৌথ অংশগ্রহণে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    ব্যাটারি স্টোরেজ কেন বাধ্যতামূলক?

    এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ১০,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা। অন্তত দুই ঘণ্টার বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ক্ষমতা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে দিনের বেলা উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা রেখে সন্ধ্যা বা মেঘলা আবহাওয়ায় ব্যবহার করা যাবে। এতে বিদ্যুৎ গ্রিড আরও স্থিতিশীল হবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়বে।

    পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব

    সরকারের দাবি, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টন (১০ মিলিয়ন টন) কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে। একই সঙ্গে উৎপাদন, প্রকৌশল, নির্মাণ, পরিবহণ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৭ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এছাড়া সৌর প্যানেল, ভাসমান প্ল্যাটফর্ম, ব্যাটারি, অ্যাঙ্করিং সিস্টেম-সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দেশীয় উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করছে কেন্দ্র।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা (PM Surya Sarovar Yojana) দেশের পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। জলাধার ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের অভিনব ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই প্রকল্পের সুফল পাবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ।” ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিজমির উপর চাপ কমানো, জলসম্পদের কার্যকর ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো নির্গমন লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে কেন্দ্র। ভাসমান সৌরবিদ্যুতের (Floating Solar Project) মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শক্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এই প্রকল্প।

  • Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এবার মালদা শহরের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। একই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, একটি ল্যাপটপ এবং পরে অন্য একটি গুদামঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। গোটা ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা থানা এলাকার মঙ্গলবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ নগদের কারণে টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিন আনা হয়। সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে নোট গণনার কাজ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায়, মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    একই রাতে গুদামেও অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

    ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি মালদার খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। ভোর প্রায় ৪টে পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদের যোগ থাকতে পারে। যদিও অর্থের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে ধৃতদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিন জন গ্রেফতার, কারা তারা?

    এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে তিন জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনেরই বাড়ি মালদা থানা এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের নেটওয়ার্ক এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

    কীভাবে মিলল এই ফ্ল্যাটের খোঁজ?

    তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযানের সূত্রপাত গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনার পর। সেই সময় প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদার মঙ্গলবাড়ির এই ফ্ল্যাটের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের সঙ্গে নিয়েই রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

    কার ফ্ল্যাট থেকে মিলল টাকা?

    পুলিশের দাবি, যে আবাসনে অভিযান চালানো হয়েছে, তার মালিক দিলীপ সাহা। ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন ধৃত পিন্টু সরকার। তদন্তে জানা গিয়েছে, পিন্টুর একটি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। তবে সেই ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে। এছাড়াও তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস সম্পর্কে ধৃতরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক নথি এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বীরভূমের ঘটনার পর ফের চাঞ্চল্য

    কয়েক দিন আগেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই মালদায় আবার কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অবৈধ অর্থের উৎস এবং আন্তঃজেলা পাচারচক্রের বিস্তার নিয়ে।

    তদন্তে একাধিক দিক

    রাজ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার ফেনসিডিল-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে এবং পাচারের অভিযোগে বহুজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে কাশির সিরাপ পাচারের তদন্তে সূত্র ধরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, পাচারের রুট, সম্ভাব্য সহযোগী এবং উদ্ধার হওয়া নগদের প্রকৃত উৎস—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের দাপট। আন্তর্জাতিক একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের মোট ফুসফুসের রোগে আক্রান্তের ১২ শতাংশ ভারতীয়। ভারতের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। ভারতে ফুসফুসের রোগ অন্যতম প্রধান অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে। আর ফুসফুসের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জীবন যাপনের ধরন। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

    কী বলছে নয়া তথ্য?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধূমপানের মতো অভ্যাস। তবে, ধূমপান ছাড়াও এমন একাধিক অভ্যাস রয়েছে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশের মধ্যেই সে সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। প্রত্যেক বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ, এমন আছেন, যারা কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু তাঁরা ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানি এমনকি ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেক দিনের জীবন যাপনের ধরন ফুসফুসের রোগের কারণ‌ হয়ে উঠছে!

    কোন অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    ল্যাপটপের সামনে ৮-১০ ঘণ্টা 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজের ধরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কর্মজগতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ দিনের ৮-১০ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাটায়। দীর্ঘসময় ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে থাকতে হয়‌। আর দীর্ঘ সময় এই বসে থাকাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও তাই কমে। এগুলো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, যে কোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    শরীর চর্চায় ঘাটতি বাড়ায় ঝুঁকি

    শরীর চর্চায় ঘাটতি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কাজের সময় এতটাই বেশি এবং অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। এর ফলে দিনের বেলায় শরীর চর্চা করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এতে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কিন্তু যোগাভ্যাসে অনীহা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা তৈরি করছে‌।

    কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহারও কারণ

    ফুসফুসের সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহার। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের দূষণ নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘরের ভিতরের দূষণ নিয়ে একেবারেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর ফলে, বিপদ বাড়ছে। লাগাতার মশানাশক ওষুধের ধোঁয়া কিংবা অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ঘরে ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই কাঠে রান্না করেন। আবার শহরাঞ্চলে গ্যাসে রান্না করলেও কেউ কেউ জানলা বন্ধ করে রান্না করেন, এর ফলে ধোঁয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের অভ্যাস এ দেশে ফুসফুসের রোগের বোঝা বাড়াচ্ছে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশায় ঝুঁকি বেশি

    এর পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষদের কাজের জন্য ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লা খনি কিংবা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষদের ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, লাগাতার ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতখানি মানা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

    ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে এই বিপুল সংখ্যক ফুসফুসের রোগের বোঝা, জনস্বাস্থ্যের বড় বিপর্যয় হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি। সব মহলে সতর্কতা না বাড়লে, বিপদ কমবে না। তাই দিনভর একজায়গায় বসে কাজ থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে আবার শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতাও ঠিকমতো চলবে।

    নিয়মিত যোগাভ্যাস

    ব্যস্ততা সত্ত্বেও যোগাভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁর জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু দিনে তিরিশ মিনিট যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন না। ফলে, একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সচেতনতার মাধ্যমে এই মানসিকতা বদল প্রয়োজন। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের অন্যান্য কাজের মতোই যোগাভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাসে রপ্ত করতে হবে। তাহলেই নানান জটিলতা কমবে।
    তবে ধূমপান ফুসফুসের বিপদ সবচেয়ে বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান বর্জন করতেই হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের বছর বাইশের এক তরুণীকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃতের নাম অর্পিতা সরকার। এসটিএফের দাবি, সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্রে প্রেমিক মহম্মদ হামিম মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। পরে হামিমের মাধ্যমেই পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের সংস্পর্শে এসে নাশকতার ছকের শরিক হয়ে ওঠেন অর্পিতা।

    ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার (Jharkhand Arrest) অর্পিতা

    প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় হামিম ও অর্পিতার। শনিবার ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Arrest) সাহেবগঞ্জ জেলার বরহারওয়া এলাকা থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। তার একদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে ধরা পড়েছিল তাঁর প্রেমিক হামিম। এসটিএফের (STF) অভিযোগ, হামিম পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সেই কাজে অর্পিতাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিল। হামিমের মাধ্যমেই অর্পিতা ওই চক্রে যুক্ত হয় এবং পরে সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতো কাজ করতে শুরু করে।

    ডিজিটাল তথ্য থেকেই সূত্র!

    এসটিএফ (STF) সূত্রে খবর, হামিম ও অর্পিতার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে হওয়া কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন অর্পিতা। তদন্তকারীদের নজরে তাঁর মোবাইল, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাট।

    ‘হানি ট্র্যাপে’র অভিযোগ

    এসটিএফের (STF) আইজি গৌরব শর্মার দাবি, হামিমের নির্দেশে অর্পিতা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে কোনও অর্থ এসেছে কি না? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর?

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিম নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজর রাখারও অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। এসটিএফের (STF) দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে সম্প্রতি হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে একটি দল নিয়ে গিয়ে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনাও করেছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    বড় নেটওয়ার্কের জাল?

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, হামিম একটি বড় ISI-সমর্থিত নেটওয়ার্কের অংশ। লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ আধিকারিক এবং ভিআইপিদের ওপর নজরদারি চালানো। হামিমকে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেয় বলে অভিযোগ। অর্পিতা ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের সহযোগীদের একজন।

    একাধিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার

    STF জানিয়েছে, যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট এক্স এবং সেশনের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা হত। তদন্তে চারটি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলের নাম উঠে এসেছে- আবির জাট৩৩৩, উজাইর, রানা এবং হামাদ। পুলিশের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কট্টরপন্থী প্রচার চালিয়ে যুবকদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করা হত। কথপোকথনের সময় ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজত

    তদন্তকারীরা অর্পিতার কলেজ জীবনে কলকাতায় তাঁর মামারবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। সেই সময় হামিমের সঙ্গে তাঁর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ হত কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারির পর অর্পিতাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে এবং আগামী দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সম্প্রতি বেজিংয়ে প্রথমবারের মতো ‘ওপেন হাউস’ (Indian Embassy Open House) কর্মসূচির আয়োজন করে ভারতীয় দূতাবাস। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সোশাল মিডিয়ায় ভারত ও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপমানজনক মন্তব্যের বিষয়টি।

    অনলাইনে ভারতবিরোধী প্রচার নিয়ে উদ্বেগ

    প্রবাসীদের অভিযোগ, চিনের একাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে ভুল তথ্য, নেতিবাচক প্রচার এবং ভারতীয়দের লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট শুধু ভারতীয়দের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি করছে। তাই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

    আলোচনায় ভিসা, চাকরি ও পারিবারিক সমস্যাও

    শুধু অনলাইন বিদ্বেষ নয়, বৈঠকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাও জোরালোভাবে উঠে আসে। চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) একাংশ জানান, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য কাজের ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেকের স্বামী বা স্ত্রীর চাকরির ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে চিনে বসবাস করাও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা নিয়ে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস?

    প্রবাসীদের বক্তব্য শোনার পর ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, ভারতবিরোধী বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং প্রবাসীদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যাও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সংলাপ চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয় দূতাবাস।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনা যে কোনও দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দিক থেকে বেজিংয়ের এই ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নজরে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

    এই বৈঠকের পর প্রবাসী ভারতীয়দের প্রত্যাশা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা এবং অনলাইনে ভারতবিদ্বেষী প্রচারের মতো বিষয়গুলিতে ভারতীয় দূতাবাস আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে নিয়মিত এই ধরনের ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি হলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

  • RTI Activist Amit Tiwari: সিজেপি-র অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে পড়ার খরচ নিয়েও প্রশ্ন আরটিআই কর্মীর

    RTI Activist Amit Tiwari: সিজেপি-র অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে পড়ার খরচ নিয়েও প্রশ্ন আরটিআই কর্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে (Abhijeet Dipke) এবং দলের অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন সুরাটের এক আরটিআই কর্মী (RTI Activist Amit Tiwari)। একই সঙ্গে অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে বহন করা হয়েছিল? তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দলের আইনি অবস্থান এবং সম্প্রতি ঘোষিত ১ কোটি টাকার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    বিদেশে পড়াশোনার খরচ নিয়ে প্রশ্ন

    সুরাটের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির (RTI Activist Amit Tiwari) দাবি, “অভিজিৎ ডিপকের (Abhijeet Dipke) বাবা ভগবানরাও ডিপকে মহারাষ্ট্র সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।পরিবারের ঘোষিত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে পড়াশোনার খরচের উৎস মিলিয়ে দেখা হোক।”

    সিজেপি-র আইনি মর্যাদা যাচাইয়ের দাবি

    অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari) নির্বাচন কমিশনের কাছেও একটি আবেদন করেছেন। EC-র কাছে তাঁর দাবি, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আদৌ নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত বা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কি না? যদি দলটি নিবন্ধিত না হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কার্যকলাপ চালানো এবং অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৯এ ধারার উল্লেখ করে কমিশনের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari)। পাশাপাশি, শুধু দল বা প্রতিষ্ঠাতার আর্থিক বিষয় নয়, সম্প্রতি ঘোষিত ১ কোটি টাকার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari)। আয়কর দফতর এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (CBIC)-এর কাছে তাঁর আবেদন, এই তহবিলের অর্থের উৎস এবং এর উপর পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) প্রযোজ্য কি না? তা খতিয়ে দেখা হোক। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে প্রবীণ আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল সিজেপি-র গঠিত একটি লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন। এই তহবিলের উদ্দেশ্য, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনকারী বিক্ষোভকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়া।

    এখনও চুপ সিজেপি

    আরটিআই কর্মীর (RTI Activist Amit Tiwari) আবেদনে সিজেপি-র অর্থের উৎস, দলের আইনি বৈধতা, লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড এবং প্রতিষ্ঠাতার বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হলেও, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, আয়কর দফতর, সিবিআইসি বা অন্য কোনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে, অভিজিৎ ডিপকে (Abhijeet Dipke), তাঁর পরিবার বা ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকেও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য বক্তব্য সামনে আসেনি।

  • Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক পর্বতারোহণের জগতে এক যুগের অবসান। ব্রড পিক অভিযানে তুষারধসে প্রাণ হারালেন কিংবদন্তি ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজা (Nirmal Purja)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) ব্রড পিকের (Broad Peak Avalanche) ওয়েস্ট রিজ রুটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার তাঁর সংস্থা এলিট এক্সপেড এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী ও গাইড- পুর বাহাদুর গুরুং (যুক্তা) এবং নিমা শেরপাও।

    কীভাবে দুর্ঘটনা?

    ব্রড পিক অভিযানে (Broad Peak Avalanche) নির্মল পুরজার নেতৃত্বে নেপাল, আমেরিকা, পাকিস্তান, ওমান, চিন-সহ একাধিক দেশের পর্বতারোহীরা অংশ নিয়েছিলেন। অভিযান চলাকালীন প্রায় ৬,৫৮০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-২ ও ক্যাম্প-৩-এর মাঝামাঝি ভয়াবহ তুষারধস নামে। দলের জিপিএস ট্র্যাকার থেকে আচমকা উচ্চতা দ্রুত কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। পরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারী দল একাধিক দেহ উদ্ধার করে।

    হিমালয়ের গ্রাম থেকে ব্রিটেনের এলিট বাহিনী

    নেপালের মিয়াগদি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নির্মলের (Nirmal Purja)। গোর্খা পরিবারে বেড়ে ওঠা নির্মল ২০০৩ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেড অব গোর্খাস-এ যোগ দেন। এরপর কঠিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া পেরিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিটেনের অভিজাত স্পেশাল বোট সার্ভিস (এসবিএস)-এর সদস্য হন। ১৬ বছরের সামরিক জীবনে অর্জিত মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতাই পরবর্তীতে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

    একটি ট্রেকই বদলে দিয়েছিল জীবন

    মজার বিষয় হল, নির্মল (Nirmal Purja) প্রথমে পেশাদার পর্বতারোহী হতে চাননি। ২০১২ সালে পর্যটক হিসেবে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পাহাড়ের প্রতি গভীর টান তৈরি হয়। দেশে ফিরে না গিয়ে তিনি পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর প্রথম সফল শৃঙ্গজয় ছিল ৬,১১৯ মিটার উচ্চতার লোবুচে ইস্ট। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল উচ্চতাজয়ী পর্বতারোহী হয়ে ওঠেন।

    প্রজেক্ট পসিবল-এই ইতিহাস সৃষ্টি

    ২০১৯ সালে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অভিযান প্রজেক্ট পসিবল। সেই সময় বিশ্বের ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ জয়ের দ্রুততম রেকর্ড ছিল প্রায় আট বছর। নির্মল বিশ্বাস করতেন, এটি কয়েক মাসেও সম্ভব। অর্থের অভাবে স্পনসর না পেয়ে তিনি নিজের বাড়ি ফের বন্ধক রাখেন। স্ত্রী সুচির সমর্থনেই শুরু হয় অভিযান। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ জয় করে তিনি ইতিহাস গড়েন। পরে এই রেকর্ড ভাঙলেও, অসম্ভবকে সম্ভব করার ধারণাই বদলে দিয়েছিল নির্মলের (Nirmal Purja) এই সাফল্য।

    এভারেস্টের সেই ভাইরাল ছবি

    ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানের সময় শৃঙ্গের ঠিক নীচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতারোহীদের একটি ছবি তুলেছিলেন নির্মল। সেই ছবি সারা বিশ্বে ভাইরাল হয়। এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড়, বাণিজ্যিক অভিযান এবং নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল ওই ছবিকে কেন্দ্র করেই।

    রেকর্ডের পাশাপাশি মানবিকতার নজির

    শুধু রেকর্ড গড়াই নয়, বিপদে পড়া বহু পর্বতারোহীর জীবন বাঁচাতেও নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। অন্নপূর্ণা থেকে নামার সময় প্রায় ৪০ ঘণ্টা খাবার, জল ও অক্সিজেন ছাড়া আটকে থাকা এক পর্বতারোহীকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে আরও দু’জন আটকে পড়া পর্বতারোহীকে বাঁচাতে নিজের অক্সিজেনও দিয়ে দেন।

    শেরপাদের প্রাপ্য সম্মানের দাবিতে সোচ্চার

    আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ার পর নির্মল (Nirmal Purja) এলিট এক্সপেড, নিমসদাই ফাউন্ডেশন এবং একটি পর্বতারোহণ সরঞ্জাম সংস্থা গড়ে তোলেন। পাশাপাশি তিনি সবসময় দাবি করেছেন, নেপালি শেরপা ও পর্বত গাইডদের অবদানকে বিশ্বের সামনে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত। ২০১৮ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (MBE) সম্মানে ভূষিত করেন।

    শেষ অভিযানের আগে কী লিখেছিলেন?

    সম্প্রতি গাশেরব্রুম-২ জয় করেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। এরপর ব্রড পিকে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। এই শৃঙ্গ জয় করতে পারলে অক্সিজেন ছাড়া দ্বিতীয়বার বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ সম্পূর্ণ করা প্রথম পর্বতারোহী হওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। শেষবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ব্রড পিক (Broad Peak Avalanche) তাঁর মূল পরিকল্পনায় ছিল না। তবে সুযোগ যখন এসেছে, তখন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের কাছে নিরাপদ যাত্রার প্রার্থনাও করেছিলেন। তাঁর শেষ বার্তায় ছিল- “সমর্থক হোক বা সমালোচক, সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের দু’পক্ষই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।”

    শোকে পর্বতারোহণ বিশ্ব

    তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করে। ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস নির্মল পুরজাকে (Nirmal Purja) অসাধারণ এবং অনন্য মানুষ বলে শ্রদ্ধা জানান। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই থেমে গেল নির্মল নিমসদাই পুরজার জীবনযাত্রা। কিন্তু তাঁর সাহস, আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার অদম্য মানসিকতা ভবিষ্যতের প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করে যাবে।

  • Kulgam Terror Attack: কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়ে জঙ্গিদের কবলে, গুলিতে হত ছত্তিশগড়ের ২ শ্রমিক

    Kulgam Terror Attack: কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়ে জঙ্গিদের কবলে, গুলিতে হত ছত্তিশগড়ের ২ শ্রমিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে হাজার কিলোমিটার দূরে জম্মু ও কাশ্মীরে পাড়ি দিয়েছিলেন দুই যুবক। ভেবেছিলেন, কয়েক মাস কঠোর পরিশ্রম করলে পরিবারের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারবেন, সন্তানের ভবিষ্যৎ একটু নিরাপদ হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কেলাম এলাকায় একটি ইটভাটায় কর্মরত অবস্থায় শুক্রবার রাতে জঙ্গিদের গুলিতে (Kulgam Terror Attack) প্রাণ গেল ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) দুই পরিযায়ী শ্রমিক দীপক রাত্রে (২৪) এবং ভূপেন্দ্র ভাইনা (২৮)-র। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারের পাশাপাশি গোটা এলাকায়।

    অকালে প্রাণ হারালেন দুই যুবক

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে কুলগামের কেলাম এলাকার একটি ইটভাটায় হঠাৎ জঙ্গিরা হামলা (Kulgam Terror Attack) চালায়। সেই সময় সেখানে কাজ করছিলেন দীপক ও ভূপেন্দ্র। জঙ্গিদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের। তাঁরা দু’জনেই জীবিকার সন্ধানে কয়েক মাস আগে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কে ধরবে সংসারের হাল?

    দীপকের বাড়ি ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) সাকতি জেলার বুন্দেলি গ্রামে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে কাশ্মীরে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। দীপকের বাবা আগেই মারা গিয়েছেন। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছোট ভাই, দীপকের স্ত্রী এবং মাত্র চার মাসের এক শিশু পুত্র। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দীপক। দীপকের কাকা হালধর জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। তাই বাধ্য হয়েই এত দূরে কাজের সন্ধানে যেতে হয়েছিল দীপককে। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবার কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে। বৃদ্ধ মা ও ভাই বারবার ভেঙে পড়ছেন কান্নায়। এখন সংসার চালানোর মতো আর কেউ নেই।

    ‘সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’

    সারঙ্গড়-বিলাইগড় জেলার ছুইয়া গ্রামের বাসিন্দা ভূপেন্দ্রও প্রায় তিন মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন ইটভাটায় কাজ করতে। নিজেদের চার বছরের ছেলেকে বাড়িতে দিদিমা ও নাবালিকা বোনের কাছে রেখে যেতে হয়েছিল তাঁদের। ভূপেন্দ্রের বাবা-মা এবং ভাই তখন হিমাচল প্রদেশে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। পরিবারের অভাব এতটাই ছিল যে, জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। শনিবার গভীর রাতে পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে বৃদ্ধ দিদিমা এবং ছোট বোনকে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর খবর না জানিয়ে প্রথমে হিমাচল প্রদেশে থাকা তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত ভূপেন্দ্রের ছোট বোন জানতেন না যে তাঁর ভাই আর বেঁচে নেই। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি শুধু বলেছিলেন, সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর পরিস্থিতি ছিল বলেই ভূপেন্দ্র কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়েছিলেন।

    মরদেহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রশাসনের

    দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ছত্তিশগড় (Chhattisgarh) প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত তাঁদের গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

    ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “নিরীহ শ্রমিকদের ওপর এই কাপুরুষোচিত জঙ্গি হামলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার সব সময় থাকবে এবং তাঁদের জন্য সম্ভাব্য সমস্ত সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    জীবিকার খোঁজে গিয়ে নিভে গেল দুটি জীবনের আলো

    দেশের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে গিয়েছিলেন শুধু পরিবারের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেওয়ার আশায়। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সন্তান ও পরিবারের জন্য একটু ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নই ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত জঙ্গি হামলায় (Kulgam Terror Attack) থেমে গেল। দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, সন্ত্রাসের বলি শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, কখনও কখনও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও হয়ে ওঠেন।

  • India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় বক্সারদের দুরন্ত সাফল্য অব্যাহত। শনিবার (১ আগস্ট) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে সোনার পদক জিতলেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। ফাইনালে তিনি কানাডার স্কারলেট সাভানা ডেলগাডো-কে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত রায়ে হারিয়ে ভারতের ঝুলিতে ষষ্ঠ সোনা তুলে দেন।এর কিছুক্ষণ পরেই মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশ-কে পরাজিত করে দেশের সপ্তম সোনার পদক নিশ্চিত করেন। একই দিনে অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের সাফল্য আসে। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের পদকসংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।

    ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র প্রীতি

    ২২ বছর বয়সি প্রীতি পাওয়ার গোটা ফাইনালেই ছিলেন সম্পূর্ণ প্রভাবশালী। পাঁচ বিচারকই তিনটি রাউন্ডেই তাঁকে এগিয়ে রাখেন। প্রথম রাউন্ডে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ রাউন্ডেও আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত আক্রমণ এবং দুর্দান্ত রক্ষণ বজায় রেখে আরও একটি ৫-০ স্কোর আদায় করেন প্রীতি। তীক্ষ্ণ কম্বিনেশন, দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং কার্যকর কাউন্টার-পাঞ্চিংয়ের সামনে ডেলগাডো কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। পুরো লড়াই জুড়েই ভারতীয় বক্সারের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।

    দুরন্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা

    ২০২৬ সালটি প্রীতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকছে। এর আগেই তিনি ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাপ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ-এর শিরোপা জিতেছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই গ্লাসগোয় নেমে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে সোনা জয় করলেন তিনি। সেমিফাইনালেও প্রীতি ৫-০ ব্যবধানে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপে-কে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। সেই জয়ের ফলে ভারতের অন্তত রুপো নিশ্চিত হয়েছিল। পরে ফাইনালে একতরফা জয় তুলে নিয়ে সেই পদককে সোনায় রূপান্তরিত করেন তিনি। অন্যদিকে, কানাডার ডেলগাডো সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের লরেন ম্যাকি-কে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।

    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়ার হাতেও সোনা

    মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনার পদক জেতেন। লড়াইটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত জেসমিনই এগিয়ে থাকেন। ফল ঘোষণার পর দুই বক্সার একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে জেসমিন নিজেই ওয়ালশের হাত তুলে দর্শকদের অভিনন্দন গ্রহণের আহ্বান জানান।

    ট্রিপল জাম্পে রুপো ও ব্রোঞ্জ

    অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের ঝুলিতে এল আরও দুটি পদক। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল ১৬.৫৮ মিটার লাফিয়ে রুপোর পদক জেতেন। তিনি এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ের সাফল্যের পর কমনওয়েলথ গেমসে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। অন্যদিকে, সেলভা প্রভু থিরুমারণ ১৬.৫২ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক। এই ইভেন্টে ১৬.৭২ মিটার লাফিয়ে সোনার পদক জেতেন জামাইকার জর্ডান স্কট।

LinkedIn
Share