Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে একটি তালাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র, পড়ার সামগ্রী, গদি, চেয়ার-সহ একাধিক জিনিসপত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠল আদালতেই। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ঘরটির তালার চাবি ছিল এজাজ হোসেন নামের এক আইনজীবী কাছে। হাইকোর্টের প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর হাতে ওই ঘরের চাবি কীভাবে এল, তা জানতে চেয়েছে আদালত। পাশাপাশি, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ঘরের চাবি সংরক্ষণের পদ্ধতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিকিউরিটি কমিটিকে।

    তবে পরিদর্শন রিপোর্টে ছাদের ওই ঘরকে মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত আদালতের নজর ঘরটির ব্যবহার, সেখানে থাকা সামগ্রী এবং চাবির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।

    ছাদে নামাজ পড়া হত কি না, জানতে চেয়েছিল আদালত

    সঞ্জয় ঘোষের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিকে আদালত ভবনের ছাদ পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। ছাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ পড়তেন কি না এবং পড়লে দিনের বেলায় কত ঘনঘন তা হত, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

    সেই নির্দেশ মেনে পরিদর্শন চালায় রেজিস্ট্রি। রঙিন ছবিসহ রিপোর্ট জমা পড়ার পর জানা যায়, ছাদে একটি ছোট ঘর রয়েছে। সেখানে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা ছিল।

    ঘরে কী কী পাওয়া গেল?

    পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘরটিতে কাঠের তৈরি দু’টি দরজা ছিল। দু’টিই তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। চাবির খোঁজ করতে গিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, সেই চাবি রয়েছে আইনজীবী এজাজ হোসেনের কাছে। তিনি হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ১২ নম্বর ঘর ব্যবহার করেন। পরে এজাজ হোসেন আরও তিন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন। এরপর তালা খুলে ঘরটি পরিদর্শন করা হয়।

    ঘরের ভিতর থেকে পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল—

    • ● ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বই ও ধর্মীয় পাঠ্যসামগ্রী

    • ● গদি ও প্লাস্টিকের চেয়ার

    • ● স্ট্যান্ড ফ্যান ও একটি আলমারি

    • ● বালতি, গামলা ও জলের পাত্র

    • ● চটি রাখার একটি ঝুড়ি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী

    এই সামগ্রীগুলি ঘরটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, পরিদর্শন রিপোর্টে সেখানে মসজিদ থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, তা-ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    আইনজীবীর কাছে চাবি কেন? প্রশ্ন আদালতের

    ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, হাইকোর্টের ছাদের একটি তালাবন্ধ ঘরের চাবি প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর কাছে থাকা। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘর, দরজা, এজলাস, সিঁড়ি এবং আদালত ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি হাইকোর্ট প্রশাসনের হেফাজতে থাকা উচিত। আদালত চত্বর, ভবন ও টাওয়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশাসনের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশে পরিচালিত হয়।

    এই প্রেক্ষিতে এজাজ হোসেনের কাছে দু’টি তালার চাবি কীভাবে এল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। মামলাকারীকে আদালতের নির্দেশের একটি কপি ওই আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে সিকিউরিটি কমিটি

    শুধু ওই ঘরের চাবি নয়, আদালত ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনার আওতায় আনতে চায় হাইকোর্ট। সেই কারণে রেজিস্ট্রিকে সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের আগের নির্দেশের কপি হাইকোর্টের সিকিউরিটি কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    কর্মরত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটিকে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ছাদের ওই ঘর এবং ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি কার হেফাজতে থাকবে, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

    তদন্তের মূল প্রশ্ন কী?

    এই ঘটনায় আপাতত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ছাদের ঘরটি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেখানে পাওয়া ধর্মীয় বই ও অন্যান্য সামগ্রী কীসের জন্য রাখা হয়েছিল এবং ঘরটির চাবি একজন আইনজীবীর কাছে থাকার কারণ কী।

    উল্লেখযোগ্য, ঘরে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র পাওয়া যাওয়াই সেখানে মসজিদ ছিল বা নিয়মিত নামাজ হত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশে হওয়া পরিদর্শন থেকে এখনও সেই দাবির নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

    এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আইনজীবীর ব্যাখ্যা এবং সিকিউরিটি কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঘরটির ব্যবহার ও চাবি সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের চলতি জনগণনা প্রক্রিয়ায় এনুমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগের পরিধি বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষক বা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরাই নন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করণিক এবং অন্যান্য উপযুক্ত ব্যক্তিকেও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণনা সংক্রান্ত নিয়মে এই সংশোধনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে জনগণনার মতো বৃহৎ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প তৈরি হল।

    জনগণনার নিয়মে কী বদল আনল কেন্দ্র?

    রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, Census Rules, 1990 সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে জনগণনার কাজে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এনুমারেটর হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে—

    • ● সরকারি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সাহায্যহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

    • ● কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণিক ও আধিকারিক।

    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ব্যাঙ্ক, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, সমিতি ও ট্রাস্টের কর্মী।

    • ● রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের বিবেচনায় উপযুক্ত বলে গণ্য যে কোনও ব্যক্তি।

    আগে সাধারণত সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের উপরই জনগণনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা ছিল। সংশোধিত নিয়মে সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হল।

    বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

    কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের আগে হরিয়ানায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হরিয়ানা প্রোগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স (Haryana Progressive Schools Conference) পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মামলা করে। তাদের আপত্তি ছিল, সরকারি সাহায্য না-পাওয়া বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা যায় কি না।

    সংগঠনটির যুক্তি ছিল, Census Act, 1948-এর ৪এ ধারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আধিকারিক ও কর্মীদের নিয়ে প্রযোজ্য। তাদের দাবি, সরকারি সাহায্যহীন বেসরকারি স্কুল সেই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ফলে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে আইনের পরিধি বাড়ানো যায় না।

    গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার হরিয়ানা সরকারের এমন দুটি নির্দেশের কার্যকারিতায় স্থগিতাদেশ দেন, যেখানে জনগণনার কাজে নিয়োগের জন্য শিক্ষকদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। মামলাটি আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি সামনে এল। তবে সংশোধিত নিয়মের ফলে সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    কবে শুরু হবে জনগণনার পরবর্তী পর্যায়?

    স্বাধীনতার পর দেশের অষ্টম জনগণনা দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকাভুক্তি ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনসংখ্যা গণনা বা Population Enumeration। এই পর্যায়ে জাতিভিত্তিক জনগণনার তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

    গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চল বাদে অন্যান্য অংশে ১ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে জনসংখ্যা গণনার কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দেশের বাকি অংশে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়সূচি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল।

    কোন কোন তথ্য সংগ্রহ করা হবে?

    জনসংখ্যা গণনার সময় প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জনতাত্ত্বিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে অভিবাসন এবং প্রজনন সংক্রান্ত তথ্যও।

    এই তথ্য দেশের জনসংখ্যার গঠন, মানুষের স্থানান্তর, পরিবার ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, পরিষেবা প্রদান এবং উন্নয়নমূলক নীতি নির্ধারণেও জনগণনার তথ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    মণিপুর, লাদাখ ও তুষারাবৃত অঞ্চলের পরিস্থিতি

    মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা জাতিগত হিংসার পরিস্থিতির কারণে সেখানে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মাসে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অন্যদিকে, লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলগুলিতে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    কোভিডের কারণে পিছিয়েছিল জনগণনা

    প্রতি দশ বছর অন্তর জনগণনা পরিচালনার নিয়ম থাকলেও ২০২১ সালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কোভিড অতিমারির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ১১,৭১৮ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।

    প্রশাসনিক গুরুত্ব কোথায়?

    জনগণনার মতো বিশাল কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌঁছনো এবং নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এনুমারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

    তবে নিয়োগের পরিধি বাড়লেই যে মাঠপর্যায়ে কাজের সমস্ত সমস্যা মিটবে, তা নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি প্রশ্নের সমাধানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের শর্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশের বৈধতা কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    সব মিলিয়ে, জনগণনার কর্মী নিয়োগে কেন্দ্রের এই সংশোধন প্রশাসনিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন নজর থাকবে, সংশোধিত নিয়মের ভিত্তিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কীভাবে কর্মী নিয়োগ করে এবং নির্ধারিত সময়ে জনসংখ্যা গণনার কাজ কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

  • Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা এক নির্বাহী নির্দেশে ২০২৬ সালের ‘Sanctioning Russia and Iran Act’-এর আওতায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগে ছাড় ঘোষণা করেছেন তিনি। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা নিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর নতুন করে মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ তৈরির আশঙ্কা আপাতত কমল।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ছাড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে তিনি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার উপর থেকে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বলে দেখার সুযোগ নেই। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাশিয়া সংক্রান্ত আগের নির্বাহী নির্দেশগুলির আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বহাল থাকবে।

    কী ছিল গ্রাহাম আইনের প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা?

    গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘Lindsey O. Graham Act’ নামে পরিচিত আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে রাশিয়ার জ্বালানি ক্ষেত্রকে নিশানা করার পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধেও কড়া শুল্ক আরোপের সংস্থান রাখা হয়েছিল।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাশিয়া থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি, ১৮ অক্টোবর বা তার পরে জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের নতুন সরবরাহ কিনলে রুশ জ্বালানির পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা পাঁচ বৃহত্তম দেশের পণ্যের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্কের সংস্থান ছিল।

    ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশে এই প্রস্তাবিত শুল্ক ও বিধিনিষেধ প্রয়োগে আপাতত ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত ও চিনের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত?

    রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, দেশের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরবরাহের নিরাপত্তা, প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী দামের কথা মাথায় রেখে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করলে তার প্রভাব ভারতের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ খরচের উপরেও পড়তে পারে।

    রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে নয়াদিল্লি আগে থেকেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি আমদানিকে শুধু ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নটি উপেক্ষিত হতে পারে। চিনও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিল।

    ট্রাম্পের এই ছাড়ের ফলে ভারতের উপর তাৎক্ষণিকভাবে নতুন শুল্কের চাপ তৈরির আশঙ্কা কমেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক মতপার্থক্যের স্থায়ী সমাধান বলা যাবে না। কারণ, নির্বাহী নির্দেশে রুশ জ্বালানি কেনাকাটা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

    আমেরিকায় জ্বালানির দাম, মধ্যবর্তী নির্বাচনও কি বড় কারণ?

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পিছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ তেল ও গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলির উপর নতুন করে শুল্ক চাপালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও ছিল।

    নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্প্রতি রুশ ডিজেল রফতানি ফের চালু করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে রাশিয়ার রাজস্ব বাড়বে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে মস্কো সুবিধা পেতে পারে।

    মার্কিন প্রতিনিধি ডন বেয়ারও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে খর্ব করছে।

    রুবিওর ভারত সফরে রিলায়্যান্সের শোধনাগার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর আসন্ন মুম্বই ও জামনগর সফর বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, রুবিওর সফরে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    মুম্বইয়ে একাধিক বৈঠকের পর রুবিও জামনগরে যাবেন। সেখানে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। জামনগরেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে অন্যতম, যা রিলায়্যান্স পরিচালনা করে।

    গোর আরও জানিয়েছেন, আমেরিকায় গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন তেল শোধনাগার খোলার পরিকল্পনা রয়েছে রিলায়্যান্সের। ফলে এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পেতে পারে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং রুশ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে তাই শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জ্বালানির জোগান, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ভারত-মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

    নজরদারি চলবে, ভবিষ্যতে ফের কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দেশের রুশ তেল ও গ্যাস কেনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার কোনও প্রচেষ্টা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিলে প্রেসিডেন্টকে তা জানাতে হবে।

    এই ছাড় কত দিন বহাল থাকবে, তারও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকরা যখন মনে করবেন যে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তখন এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের চাপ আপাতত কমল। তবে ওয়াশিংটনের নীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট। ভারতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এলেও ভবিষ্যতে রুশ তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন অবস্থান কোন দিকে যায়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

  • Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শহর থেকে জেলা, সেজে উঠেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মেজাজে! রাস্তা জুড়ে মানুষের ঢল! দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতেছে আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ!
    দুর্গাপুজোয় রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা বাঙালির বহু দিনের অভ্যাস। কিন্তু একটানা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকা, ভিড়ের মধ্যে হাঁটাহাঁটি, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, কম জল খাওয়া এবং ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফেরার পথে যাতায়াত—সব মিলিয়ে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষত শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তাই রাত জেগে প্রতিমা দর্শন করলে কয়েকটি দিকে, বাড়তি নজর না রাখলেই বিপদ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাত জেগে ঠাকুর দেখার কী বিপদ আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক ক্লান্তি!

    রাত জেগে ঠাকুর দেখা মানেই পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত! এর জেরেই একাধিক সমস্যা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘুম কম হলে পরের দিন ঝিমুনি, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, বিরক্তি এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    জলশূন্যতা ও দুর্বলতা

    প্রতিমা দর্শন মানেই ভিড়ে হাঁটতে হয়! ভিড় ঠেলে এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, ঘাম হওয়া, গরমে ভিড়ের মধ্যে থাকা এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

    শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও অ্যালার্জি

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দূষণ এবং নানান পরিবেশগত সমস্যার কারণে শিশু থেকে বয়স্ক কম বেশি সকলেই ফুসফুসের নানান সমস্যায় ভোগেন। উৎসবের মরশুমে ভিড় এলাকায় ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তাই একনাগাড়ে ধুলো, ধোঁয়া ও দূষণ থেকে হাঁপানি বা অ্যালার্জির উপসর্গও বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    পায়ে ব্যথা ও পেশির ক্লান্তি

    ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখা বাঙালির দুর্গা পুজোর চির পরিচিত ছবি। কিন্তু অনেক সময়েই অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য প্রতিমা দর্শনের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ের পেশিতে ব্যথা, কোমরে অস্বস্তি, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া এবং আগে থেকে থাকা হাঁটু বা কোমরের সমস্যার বেড়ে যেতে পারে।

    হজমের গোলমাল ও রক্তে শর্করার ওঠানামা

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত হজমের গোলমাল দেখা দেয়। তার উপরে উৎসবের দিনে অনেক সময়েই খাবারের অনিয়মিত দেখা দেয়। ঠিকমতো খাবার না খাওয়া, আবার অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মশলাদার খাবার এবং রাতের দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া বিপদ বাড়ায়। এতে অম্বল, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবার ও ওষুধের সময়ের পরিবর্তনে রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামা করতে পারে।

    হৃদরোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও জলের ঘাটতি, একসঙ্গে হলে শরীরের উপর চাপ বাড়তে পারে। তবে রাত জাগলেই হার্টের বড় সমস্যা হবে, এমন নয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘাম হলে সেটিকে ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

    বিপদ এড়াতে কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন?

    চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাধারণ স্বাস্থ্য-পরামর্শের ভিত্তিতে পুজোর রাতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ঘুমের ঘাটতি এড়ানো, পর্যাপ্ত জল পান এবং ভিড়ের মধ্যে বিরতি নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ঘুমের সময়ের সঙ্গে আপস নয়!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত অন্তত ৭ ঘণ্টা এবং ৬–১২ বছরের শিশুদের ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পরপর কয়েক রাত ঘুম কমিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনো এড়িয়ে চলুন। বরং একটা রাত ঠিকমতো ঘুম না হলে, পরের দিন অন্তত যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

    পর্যাপ্ত জল পান করুন

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিমা দর্শনে বেরনোর সময় সঙ্গে জলের বোতল রাখতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের অবস্থা অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এনার্জি ড্রিঙ্ক বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবেন না।

    খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ঠিকমতো খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক সমস্যা এড়ানো সহজ হয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা চলবে না । রাস্তার খাবার খেলে পরিষ্কারভাবে তৈরি, ভালোভাবে রান্না করা খাবার বেছে নিতে হবে এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করতে হবে।

    শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে কী বিশেষ সতর্কতা জরুরি?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জাগার পরিবর্তে সন্ধ্যার দিকে ঠাকুর দেখানোর পরিকল্পনা ভালো। শিশুর ঘুম, খাবার ও জল খাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। ভিড়ে মাস্ক ব্যবহার এবং ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। প্রবীণদের ক্ষেত্রেও বাড়তি নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা ও ভিড়ের মধ্যে থাকার পরিকল্পনা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধের সময় বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে বিপদ বাড়তে পারে।

  • Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে নদিয়ার হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার নতুন কারখানা তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়ায় আরও দুটি শিল্পপ্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা

    হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ অধীনস্থ সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রটি তৈরি করেছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানা দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র বলে জানানো হয়েছে।

    শিল্পপ্রকল্পটির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হলদিয়ায় ইতিমধ্যেই ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারখানা চালু হওয়ায় রাসায়নিকের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় সরাসরি প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কাজ পেয়েছেন আরও প্রায় ১,০০০ জন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলা, ২৮ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ঘোষণা এসেছে ক্যাম্পা কোলাকে ঘিরে। নদিয়ার হরিণঘাটায় এই পানীয় সংস্থার কারখানা তৈরি করতে চলেছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর, বুধবার প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

    রাজ্যে শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। এর আগে লাক্স কোজি এবং আমূলের মতো সংস্থার কারখানা ঘিরেও রাজ্যে শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বিনিয়োগ টানতে শিল্পপতিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে রাজ্য সরকার। মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মতো শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উঠে এসেছে। নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে নতুন শিল্প ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    হলদিয়ায় পেপসির প্ল্যান্ট, তৈরি হবে চিকিৎসা সরঞ্জামও

    হলদিয়াকে ঘিরে আরও দুটি শিল্পপ্রকল্পের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ একর জমিতে পেপসির উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দ্বিতীয় প্রকল্পের সঙ্গে প্রভিস কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ক্ষেত্রের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি পানীয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো পৃথক ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    এ ছাড়া হলদিয়ায় আইডব্লিউএল এবং আইওসিএলের প্ল্যান্টের জন্যও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই প্রকল্পগুলির বিনিয়োগের অঙ্ক ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

    শ্রমিকদের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার ট্রমা সেন্টার

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি হলদিয়ার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে হলদিয়ায় ৫০ শয্যার একটি ট্রমা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্পাঞ্চলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়াই এই কেন্দ্র তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নত জরুরি চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে উঠলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভাতার বদলে দক্ষতা ও স্বনির্ভরতায় জোর

    শিল্পপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় যুবক-যুবতীদের শিল্পের উপযোগী করে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর জোর দেন।

    তাঁর বক্তব্য, আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাতা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মনির্ভর হতে হবে। এটাই আজ আমাদের শপথ হওয়া উচিত।’

    রাজ্যে নতুন শিল্পপ্রকল্প তৈরি হলে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় যুবক-যুবতীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগ সহজ হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

    দীপাবলির আগে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ইঙ্গিত

    রাজ্যে আরও বিনিয়োগ টানতে নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিওয়ালির আগেই সেই নীতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে নতুন শিল্পনীতির নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে শিল্পের অভাব ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের বিষয়টি উঠে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ার ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা, হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার প্রকল্প এবং হলদিয়ায় প্রস্তাবিত পেপসি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র—সব মিলিয়ে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন, তার উপর।

  • India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ফের স্পষ্ট বার্তা দিল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক চাপানউতোর। ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে বেজিং। পাল্টা চিনের আপত্তি খারিজ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, চিনের অস্বীকারে লাদাখের উপর ভারতের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা বদলাবে না। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিন যতই তা অস্বীকার করুক, এই প্রতিষ্ঠিত সত্য বদলানো সম্ভব নয়।”

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য উল্লেখ করে জয়সওয়াল জানান, লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল, সেগুলির সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

    নামকরণের তালিকায় রয়েছে পর্বতশৃঙ্গ, হিমবাহ, গিরিপথ, উপত্যকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। এই তালিকায় গোগরা (Gogra) ও হট স্প্রিংসের (Hot Springs) মতো এলাকাও রয়েছে, যা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-তে (LAC) ভারত-চিন সামরিক উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    কেন গোগরা ও হট স্প্রিংস গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পর এই এলাকাগুলি বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করে। গোগরা ও হট স্প্রিংস ছিল দুই দেশের সেনার মুখোমুখি অবস্থানের অন্যতম প্রধান সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ফলে এই স্থানগুলিকে ভারতের সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেজিংয়ের আপত্তির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ান শহিদ হন। চিনের পক্ষেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সংঘর্ষে নিহত সেনার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বেজিং দীর্ঘদিন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার পর ২০২২ সালে সংঘাতপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় সেনা সরানোর প্রক্রিয়া এগোয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও দেখা যায়। তবে সীমান্তে অমীমাংসিত বিষয়গুলি ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

    কী বলছে চিন?

    ভারতের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চিনের বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র মাও নিং (Mao Ning) দাবি করেছেন, ভারত একতরফাভাবে যে ‘তথাকথিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ’ প্রতিষ্ঠা করেছে, চিন তাকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাও নিং বলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং এর কোনও বৈধতা নেই। তাঁর দাবি, ভারত-চিন সীমান্তের পশ্চিম অংশের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি বরাবরই চিনের অন্তর্ভুক্ত।

    বেজিংয়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থানের স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ভারতের বক্তব্য, লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সরকারি মানচিত্রে ভৌগোলিক স্থানগুলির নাম অন্তর্ভুক্ত করা প্রশাসনিক ও মানচিত্রগত স্বীকৃতির প্রক্রিয়া। চিনের আপত্তি সেই অবস্থান বদলাতে পারবে না বলেই জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    কোন কোন স্থানের নাম রয়েছে তালিকায়?

    লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের তালিকায় গোগরা, হট স্প্রিংস ছাড়াও রয়েছে আলিশা গিরি, ব্রাংসা, চাপচিংগাল পাস, কানিষ্ক পিক, কারুন পির পর্বত, কুকসেল, মার্তণ্ড গিরি, পারপিক হিমবাহ, স্কামরি হিমবাহ, শাচমিরিক পাস, শকোর্গা উপত্যকা এবং জোরাওয়ার পিক।

    এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে ডেহরা কম্পাস, দ্রাক কার্পো, জোলমোরি, কুমারায়ণ পয়েন্ট, পাংলুং, রিনচেন জাংপো, সাক্যশ্রী গিরি, গুরু রিনপোচে, শামাল লুংপা, ইয়াংপা নদী, মারপা লোৎসাভা রি, মিলারেপা কাংরি, শিব রি এবং মহেশ্বর রি।

    এই নামগুলির মধ্যে শামাল লুংপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে এটি টহলদারি এবং সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিমূলক পথ হিসেবে ব্যবহৃত হত। ফলে তালিকার কয়েকটি স্থানের গুরুত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে চাপানউতোর?

    ভারত ও চিনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একাধিক উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতৃত্বের যোগাযোগ সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিশ্বাসের জায়গা এখনও রয়ে গিয়েছে।

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে তাই কেবল নামকরণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে বিষয়টির সম্পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যাবে না। একদিকে রয়েছে ভৌগোলিক পরিচিতি ও প্রশাসনিক নথিভুক্তির প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার উপর সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারত ও চিনের পরস্পরবিরোধী দাবি।

    তবে এই নামকরণের ফলে সীমান্তের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ বা দুই দেশের মধ্যে থাকা ভূখণ্ডগত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যায় না। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, চিনও তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি। ফলে সরকারি মানচিত্রে ২৮টি স্থানের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেও, সীমান্ত সমস্যার সমাধান নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনা ও বাস্তব পরিস্থিতির উপরই।

  • CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জন্য তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সহযোগী অজিঙ্ক শিন্ডে অবশ্য শান্তির বন্ডে স্বাক্ষর করে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার তিনজনকেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) সামনে পেশ করা হয়।

    দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, তিনজনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ অমান্য, শান্তির বন্ড ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর সৌরভ ও আশুতোষ এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    তবে সিজেপি-র আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহের অভিযোগ, তিনজনকে রাত ৩টের সময় একটি বেসরকারি ভ্যানে করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে তাঁদের আটকে রেখেছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সমর্থন পাওয়া যায়নি।

    কেন বিতর্কের কেন্দ্রে জন্তর মন্তর?

    গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার একটি নির্দেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর ফলে জন্তর মন্তর নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

    এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলের দাবি, রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছনো কঠিন হবে।

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ কথিত অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও সিজেপি-সহ একাধিক সংগঠন প্রতিবাদ করছে। তবে SIR-এ অনিয়মের অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ এই মুহূর্তে সামনে নেই।

    সব মিলিয়ে, দুই নেতার গ্রেফতারি ও বিচারবিভাগীয় হেফাজতকে ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের আইনশৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ কার্যকর করার যুক্তি, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, এখন সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উৎসবের মেজাজ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্র দূর্গা পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কিন্তু তারমাঝেই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আনন্দের এই তাল কাটাতে পারে সংক্রামক রোগ! তাই সামান্য অসচেতনতাও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। বিশেষত, শিশু স্বাস্থ্যে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সন্তানের স্বাস্থ্যে সামান্য অবহেলাও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    কোন সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ভাইরাসঘটিত অসুখের দাপট!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষার মরশুম সবে শেষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক। সূর্যের তাপে দিনের বেলা বেশ গরম ভাব রয়েছে। কিন্তু রাত বাড়লে কিংবা ভোরের দিকে আবহাওয়া অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। এর ফলে আবহাওয়ার তারতম্য দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রার এই রকমফেরের জেরে বাতাসে একাধিক ভাইরাসের দাপট বাড়ছে। এর জেরে ভাইরাস ঘটিত অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে।

    ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে!

    দুর্গাপুজো মানেই ভিড়! একসঙ্গে অনেকে মিলে আনন্দ উদযাপন। কিন্তু ভিড় থেকেই একাধিক সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা ও থাকে।‌ বিশেষত শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিড় এলাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে রোগ সংক্রামিত হতে পারে। বিশেষত ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত যেসব শিশুরা হাঁপানি বা অন্যকোনো শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের বাড়তি সাবধানতা জরুরি।

    ডায়রিয়া বা পেটের সংক্রমণ!

    উৎসবের দিনগুলোতে সকলেই কমবেশি অন্যরকম খাওয়া দাওয়া করেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাই এই সময়ে পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই রঙিন জলের সরবত, লাগাতার ঠান্ডা পানীয় খেতে পছন্দ করে। শিশুদের এই ধরনের খাবারে বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ফলে, তাদের জন্য বিপদ বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সরবতের জল পরিশ্রুত থাকে না। তাই ডায়রিয়ার মতো পেটের অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    মশাবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসবের দিনগুলোতেও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কোনো ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজারের কাছাকাছি। তার সঙ্গে ম্যালেরিয়া সহ একাধিক মশাবাহিত রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই শিশুদের বাড়তি যত্ন জরুরি। উৎসবের দিনগুলোতেও যেন শিশুদের এই ধরনের সংক্রমণ না হয়, তার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করতে হবে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধের পরিকল্পনা করবেন?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে বাড়তি নজর রাখলেই একাধিক বিপদ আটকানো সহজ হয়। বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে অযথা আতঙ্ক নয়। সচেতনতা এবং সতর্কতাই সমস্ত বিপদ আটকাতে সাহায্য করে।

    বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ারা আগে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ানো!

    দুর্গাপুজো মানেই এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল প্রতিমা দর্শন। তবে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সন্তানকে পেট ভরে খাইয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের খাবার এড়িয়ে চললে একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ হয়। ভারি খাবার খেয়ে বাইরে গেলে, লাগাতার স্ন্যাক্স বা ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে। এর ফলে শরীরে ক্ষতিকারক তেল মশলা কম যাবে, পুষ্টির ঘাটতি হবে না। হজমের সমস্যা ও পেটের অসুখের ঝুঁকি কমবে।

    সঙ্গে পানীয় জল রাখা আবশ্যিক!

    শিশুকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় বাইরে থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। কারণ সূর্যের তাপে যথেষ্ট গরম লাগছে, ঘাম হচ্ছে। আবহাওয়া শুষ্ক। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার অপরিশ্রুত জল খেলে ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। লিভারের নানান সংক্রামক রোগ হতে পারে। তাই সব সময় পানীয় জল সঙ্গে রাখতে হবে। যাতে শিশু পরিশ্রুত জল খেতে পারে।

    ভিড় এলাকায় মাস্ক ব্যবহার জরুরি!

    ভিড় এলাকায় যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার জরুরি। বিশেষত শিশুদের মাস্ক পরানোর অভ্যাস থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখ কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মাস্কের ব্যবহার খুবই কার্যকরী। এতে হাঁচি কাশি হলেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    হাত পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাত পরিষ্কার করার দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে ফেরার পরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে কিংবা শৌচালয় থেকে বেরনোর পরে সন্তানের হাত পরিষ্কার কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করাতে হবে। এতে নানান জীবাণু বাহিত অসুখের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

    চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি পরিকল্পনা!

    শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি কী কী করণীয় সে সম্পর্কে অভিভাবকদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তাই সন্তানকে নিয়মিত যে চিকিৎসক দেখেন, তার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই পুজোর দিনগুলোতে চিকিৎসককে সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আগাম কী ধরনের সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি সে সম্পর্কে কথা বলে রাখতে হবে। তাহলে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল সংস্থাটি। শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা, পরিষেবা ক্ষেত্রে শক্তিশালী কার্যকলাপ এবং অর্থনীতির ধারাবাহিক গতি এই আশাবাদের মূল কারণ।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশে উন্নীত করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। এবার আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের ইতিবাচক মনোভাবকেই তুলে ধরল।

    কেন ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ?

    আইএমএফ-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি আউটলুক (World Economic Outlook) রিপোর্টের সাম্প্রতিক আপডেটে বলা হয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনীতিকে গতি জুগিয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—

    • ● বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার: দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান বাজার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সহায়তা করছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তি: পরিষেবা ক্ষেত্রে স্থিতিশীল কার্যকলাপ জিডিপি বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।
    • ● অনুকূল জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি: কর্মক্ষম জনসংখ্যার সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে।
    • ● কাঠামোগত সংস্কার: ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কার দেশের উৎপাদনশীলতা ও বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে।

    আইএমএফ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সমস্ত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে ভারত এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে উঠে আসছে, যার বৃদ্ধির গতি আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

    বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?

    ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে। ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফ সামান্য বাড়িয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাস ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যেখানে ৩ শতাংশের আশপাশে, সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেশটির তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরছে। এই কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধিতে ভারতের ভূমিকা আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও বৃদ্ধির আশা

    বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    আইএমএফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তির উপর ভর করে ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল থেকেছে।

    তবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যয় বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ ও উৎপাদন খরচের উপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ইতিবাচক পূর্বাভাসের পাশাপাশি জ্বালানির দামের গতিপ্রকৃতিও নজরে রাখতে হবে।

    ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    আইএমএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, ব্রেন্ট, দুবাই ফতেহ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—এই তিন ধরনের অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

    ২০২৭ সালে অবশ্য তেলের গড় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্তরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি খাতের ভারসাম্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে।

    জার্মানি ও ব্রিটেনের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়াল আইএমএফ

    শুধু ভারত নয়, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। ২০২৬ সালে জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৩ শতাংশ হয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে উন্নত অর্থনীতিগুলির বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে এই গোষ্ঠীর জন্য ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমান করা হলেও, বর্তমানে তা কমিয়ে ৩.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

    চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের বৃদ্ধির গতি নিয়ে সংশয়

    উদীয়মান অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমার অন্যতম কারণ চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ধীরগতির বৃদ্ধি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও অন্যান্য বড় উদীয়মান অর্থনীতির দুর্বল সম্ভাবনা সামগ্রিক গোষ্ঠীর বৃদ্ধির উপর চাপ তৈরি করছে।

    অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ

    আইএমএফ-এর আগেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB), অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) এবং দুই আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা  এসঅ্যান্ডপি  (S&P) ও ফিচ্ (Fitch) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৭ শতাংশের আশপাশে রেখেছে বা বাড়িয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শক্তিশালী গতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতাকে এই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির সামনে কী বার্তা?

    আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। অভ্যন্তরীণ বাজার, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং কাঠামোগত সংস্কারের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধির গতি ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ভারতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যথেষ্ট বেশি। তবে এই পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    আন্তর্জাতিক সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশ্ববাণিজ্যের পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, আইএমএফ-এর নতুন পূর্বাভাসে স্পষ্ট—বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত আপাতত তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই সম্ভাবনা বাস্তব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কতটা প্রতিফলিত হয়।

  • Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মৃত্যু হল চার পাকিস্তানি জঙ্গির। নিহতদের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার এক শীর্ষ কমান্ডার বলে জানা গিয়েছে। সোমবার কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের দিক থেকে একদল সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে বাহিনী।

    কারা নিহত? সামনে লস্কর কমান্ডারের নাম

    প্রাথমিক সূত্রে নিহত চারজনকে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের (PoJK) পুঞ্চ জেলার হাজিরা তেহসিলের মান্ডলা, মদরপুর এলাকার বাসিন্দা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নাম মহম্মদ ইশতিয়াক, মহম্মদ ফয়জান, মহম্মদ ওয়াকাস এবং মহম্মদ আসিম। নিহতদের মধ্যে মহম্মদ ফয়জান লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পরই ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা মহলে তৎপরতা শুরু হয়।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাতওয়াল-নাকি এলাকা?

    পুঞ্চের কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতেও এই রুট ব্যবহার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে দাবি। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি সেনাবাহিনীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    নিয়ন্ত্রণরেখার এই অংশে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল এবং দুর্গম পথ নজরদারির ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই ধরনের ভূপ্রকৃতি কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, একটি ভিডিও ফুটেজে (সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম) কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাঠানি পোশাক পরা অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের কাছে পিস্তল ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তারা আইইডি পুঁতে রাখার চেষ্টা করছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফুটেজের সত্যতা, সময় এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাধীন ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    বিস্ফোরণের পর দেহ নিয়ে যাওয়ার দাবি

    বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানি সেনার সদস্যরা নিহত সন্দেহভাজনদের দেহ সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে নিয়ে গিয়েছেন বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাক সেনার ৬৬ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতেও এই অঞ্চলে পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT)-এর ছয় থেকে সাতজন সদস্য একই ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বর্তমান বিস্ফোরণের সঙ্গে অতীতের সেই ঘটনার প্রকৃতি ও পরিস্থিতির মিল কতটা, তা স্পষ্ট নয়।

    নিয়ন্ত্রণরেখায় কেন গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমাইন?

    নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সামনের দিকের বিভিন্ন এলাকায় ল্যান্ডমাইন বসানো থাকে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথগুলিতে সন্দেহভাজনদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে ল্যান্ডমাইন সব সময় নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির থাকে না। ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গেলে বা ভূমিক্ষয় ঘটলে কিছু মাইন মূল অবস্থান থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র চলে আসতে পারে। ফলে যেখানে আগে বিস্ফোরক থাকার কথা ছিল না, সেখানেও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

    নিরাপত্তা বাড়াল বাহিনী, নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণরেখা

    বিস্ফোরণের পর সংশ্লিষ্ট সেক্টরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখছে নিরাপত্তাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ দমন এবং অনুপ্রবেশ রুখতে তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানও চালানো হচ্ছে।

    পুঞ্চের ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনছে। প্রথমত, পরিচিত অনুপ্রবেশের রুটগুলিতে নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা ল্যান্ডমাইনও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের কারণে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    মেন্ধরেও উদ্ধার দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন

    পুঞ্চের ঘটনাটির পাশাপাশি সোমবার মেন্ধর সেক্টরের বাসোনি এলাকায় সীমান্তের বেড়ার কাছে আরও দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করেন ভারতীয় সেনার জওয়ানরা। সূত্রের খবর, রাস্তা বা চলাচলের পথ নির্মাণের কাজ চলাকালীন সকাল ৮টা ২৫ মিনিট এবং দুপুর ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ বিস্ফোরক দুটি নজরে আসে।

    এরপর সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করেন। এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় পুরনো বিস্ফোরক থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকির বিষয়টি।

    বিশেষ করে বর্ষার সময়ে ভারী বৃষ্টিতে মাটি সরে যাওয়া, ভূমিক্ষয় এবং জলস্রোতের কারণে ল্যান্ডমাইন স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্মাণকাজ, টহলদারি এবং নজরদারির সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

LinkedIn
Share