Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচরচক্রের হদিশ পাওয়ার দাবি করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় দিল্লির বাসিন্দা এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতের স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হওয়া দু’জন হল ২৫ বছরের সাহিল এবং তার ২১ বছরের স্ত্রী সমীরা। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তারা একাধিক ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। তদন্তে দিল্লি থেকে করাচি ও ইসলামাবাদ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলেও জানিয়েছে স্পেশাল সেল।

    পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাহিল ও সমীরা মোট ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে দুবাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। এর বিনিময়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তারা প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল বলে অভিযোগ।  তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানে পৌঁছনোর পর ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভরা ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাত। পুলিশের আরও অভিযোগ, ওই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলির কয়েকটি ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও প্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গ্রুপে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা।

    সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ— কীভাবে চলত নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলাররা ভারতের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এর মধ্যে কথিত ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ এবং ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যরাও থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই যোগাযোগ চালানো হত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অর্থাৎ, শুধু সিম কার্ড পাচার নয়, ভারতের মাটিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগের জন্য একটি বিস্তৃত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে।

    সামরিক এলাকায় রেকি করার অভিযোগ

    এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক এলাকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সাহিলকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গিয়ে রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশনের জন্য নতুন লোক নিয়োগের দায়িত্বও তার উপর ছিল বলে অভিযোগ।

    তদন্তকারীদের আরও দাবি, সামরিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে চলা কোর্ট মার্শাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া কিছু ভারতীয় সেনাকর্মীর সম্পর্কেও সাহিল তথ্য সরবরাহ করেছিল। ফলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য সংগ্রহ ছিল না। ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো, সেনা সদস্য এবং সামরিক কার্যকলাপ সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল বলেই অভিযোগ।

    ইনস্টাগ্রাম থেকেই শুরু যোগাযোগ

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিলের সঙ্গে পাকিস্তানি এজেন্টের প্রথম যোগাযোগ হয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ২০২৪ সালে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমীরার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাহিল ২০২২ সালে সমীরার সঙ্গে আলাপ হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে। এরপর ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানি এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ওই এজেন্টই পরে দম্পতিকে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, ওই গোয়েন্দা অপারেটিভ আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দম্পতিকে গুপ্তচরচক্রে কাজ করতে রাজি করায়।  এরপর তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল দিল্লিতে নেটওয়ার্ককে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ ও পাঠানো এবং নতুন ব্যক্তিদের গুপ্তচরবৃত্তি ও ফিল্ড অপারেশনে যুক্ত করার চেষ্টা।

    মোবাইল ফোন থেকেই মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

    চাঁদ বিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে সাহিলকে প্রথমে গ্রেফতার করে স্পেশাল সেল। তিনি মহম্মদ আশফাকের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।  সাহিলের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষার সময় পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে তার কথোপকথনের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসে বলে দাবি। সেই চ্যাটের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা সমীরার ভূমিকার বিষয়ে জানতে পারেন।

    এরপর সমীরাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইল ফোনে সাহিল এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দম্পতির কাছ থেকে মোট দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডিভাইসগুলিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং ভারতে থাকা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যোগাযোগ ও কার্যকলাপের তথ্য রয়েছে।

    কারা এই সাহিল ও সমীরা?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে জন্ম সাহিল দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে কলায় স্নাতক পাশ করেছে। সে এক আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করত এবং ভবিষ্যতে এলএলবি পড়ার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের জুনে সে চাকরি ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে সে বেকার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে জন্ম সমীরা কেশবপুরমের কন্যা বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। পরে করেসপন্ডেন্স-এর মাধ্যমে বিএ ডিগ্রি অর্জন করে। গ্রেফতারের আগে নয়ডার একটি কল সেন্টারে কাজ করছিল।

    কীভাবে সামনে এল পুরো নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের কাছে প্রথমে খবর আসে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের কথিত ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার  এবং স্লিপার সেলকে দিল্লি থেকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে এমন কিছু স্থানীয় ব্যক্তির নাম, যারা ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করছিল বলে অভিযোগ। সেই তদন্তেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সাহিলের নাম সামনে আসে। তার মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষার পর পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। এরপর সেই সূত্র ধরে সমীরার কথিত ভূমিকা এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে স্পেশাল সেল।

    তদন্তে এখন নজর কোথায়?

    দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিল ও সমীরাকে গ্রেফতার করার ফলে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং ভারতে থাকা তাদের কথিত যোগাযোগকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে।বিশেষ করে ভারতীয় সিম কার্ড কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছত, সেই সিম ব্যবহার করে কারা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালাত, ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল এবং সামরিক এলাকার কোন কোন তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছেছিল— এই বিষয়গুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি সত্যি হলে, ঘটনাটি শুধুমাত্র দু’জনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নয়; বরং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ভারতের মাটিতে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের মধ্যে কীভাবে ডিজিটাল যোগাযোগ, সিম কার্ড এবং স্থানীয় লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি সামনে আনতে পারে এই মামলা। তবে এই সমস্ত অভিযোগই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে; আদালতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।

  • Presidency Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    Presidency Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার অতি সুরক্ষিত প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস। জেল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কারা দফতর ও রাজ্য পুলিশে।

    কারা সূত্রে খবর, গত ১৩ অগাস্ট প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই সময় আফতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হয় দুটি স্মার্টফোন, একটি আইফোন এবং দুটি রাউটার। এর পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি কার্ড রিডার, পেনড্রাইভ, ওটিজি (অন-দ্য-গো) কেবল এবং ওটিজি অ্যাডাপ্টার। একটি হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির কাছে কীভাবে এতগুলি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পৌঁছল, তা নিয়েই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে।

    জেলের ভিতর থেকে কার সঙ্গে যোগাযোগ?

    আফতাব আনসারির সেল থেকে একসঙ্গে এতগুলি যোগাযোগ ও ডেটা-সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জেলের ভিতরে বসে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন? উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও রাউটারগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেগুলি দিয়ে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না এবং কোনও সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বিশেষ করে রাউটার, স্মার্টফোন, আইফোনের পাশাপাশি কার্ড রিডার ও ওটিজি সংক্রান্ত সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ডিভাইসগুলির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার বা তথ্য আদানপ্রদানের কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    আগেও উঠেছিল করাচিতে যোগাযোগের অভিযোগ

    আফতাব আনসারিকে ঘিরে জেলের ভিতর থেকে যোগাযোগের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে করাচিতে থাকা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই জেলবন্দি এই কুখ্যাত জঙ্গির যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা সামনে আসে। নতুন করে তাঁর সেল থেকে একাধিক মোবাইল ও নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় সেই পুরনো অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

    হেস্টিংস থানায় এফআইআর

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গতকাল রাতে হেস্টিংস থানায় আফতাব আনসারির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছেন কারা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক সামগ্রী পৌঁছনোর পিছনে কোনও অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকা বন্দির সেলে কীভাবে একাধিক স্মার্ট ডিভাইস ঢুকল, তা নিয়েও জেল প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী

    আফতাব আনসারি কলকাতার আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী হিসেবে পরিচিত। ওই হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রেসিডেন্সি জেলের হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি রয়েছেন।

    এমন একজন উচ্চ-ঝুঁকির বন্দির সেল থেকেই যদি একসঙ্গে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং ডেটা-ট্রান্সফারের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়, তাহলে প্রেসিডেন্সি জেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—এই ডিভাইসগুলি কীভাবে জেলে ঢুকল, কারা তা সরবরাহ করল এবং সেগুলি ব্যবহার করে আফতাব আনসারি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সিচুয়ান প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তিব্বতে ফের একটি জলাধার বা ব্যারেজ লেক ভেঙে যাওয়ার খবর ঘিরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল প্রশাসন নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নেপালের ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলায় চলা উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিব্বতের কিছু এলাকাতেও একই কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পের পর নতুন বিপদ

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরেই তিব্বতের একটি নতুন হ্রদ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে নেপালকে সতর্ক করে চিন। জানা গিয়েছে, শুওকেন এবং পোয়েক সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমেছিল। সেই হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল নীচের দিকে নেমে এলে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেপালজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ প্রশাসনের সমস্ত স্তরকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নেপাল সরকার। পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে।

    নদীর ধারে থাকা মানুষদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

    হ্রদ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরই নেপালের রাসুয়া জেলার প্রশাসন নদীর কাছাকাছি এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলেছে। তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান উদ্ধার অভিযানে যুক্ত নিরাপত্তাকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ, আচমকা জলস্তর বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরাও বিপদের মুখে পড়তে পারেন।এদিকে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে থাকা আরও একটি ব্যারেজ লেকে জল ক্রমশ বাড়ছে। সেটিও ভেঙে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

    ৫০ লক্ষ ঘনমিটার পর্যন্ত জল জমতে পারে

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, চোচেন খোলা এবং পুরপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে আনুমানিক ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। ইতিমধ্যেই হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করেছিল বলে জানানো হয়েছে। চিনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ওই হ্রদে ঢুকতে পারে। সেক্ষেত্রে হ্রদটির মোট জলধারণের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ ঘনমিটার হয়ে যেতে পারে। ফলে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট’ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক হ্রদটির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ বুঝতে জলপ্রবাহের সিমুলেশন এবং ঝুঁকি মূল্যায়নও করা হচ্ছে। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন চিন ও নেপাল—দুই দেশেই আগের বিপর্যয়ের পর শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে এখনও ৫৫৮ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, চিনের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, নেপালের ভূখণ্ডেও প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে হ্রদ ভেঙে বন্যা হলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই কারণেই ধাদিং ও নুওয়াকোটে চলা উদ্ধার অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল প্রশাসন।

    আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গত ২৬ তারিখ, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলির ওপর আছড়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায় নিমেষে। ওই হড়পা বানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ সহস্রাধিক। সেই ভয়াবহতার মধ্যেই এখন ভূমিকম্প, পাহাড়ি এলাকায় জল জমে হ্রদ তৈরি হওয়া এবং সেই হ্রদ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। নেপাল সরকার জানিয়েছে, চিনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নতুন হ্রদের জলস্তর এবং সম্ভাব্য জলপ্রবাহের গতিপথের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

  • Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বত। হিমবাহ ধসের পর বরফ-পাথরের বিশাল ধস এবং জলস্রোতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ১,৪৬৮ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে ভোতে কোশি নদীর উৎসের কাছে তৈরি হওয়া একটি নতুন ‘ব্যারিয়ার লেক’। সেটি ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থলপথে আরও ৭৯৬ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেপালে ৯১০ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জনের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।

    ২৯০ ভারতীয় এখনও নিখোঁজ

    বন্যার জেরে নেপালে ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই ৮৪ জন নাগরিককে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন। পাশাপাশি তিব্বতের দিকে আটকে থাকা প্রায় ২০০ ভারতীয়ও ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপাল সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, পর্যটন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।

    উদ্ধার ১১ ভারতীয় পর্যটক

    নেপালের রসুয়া জেলা থেকে ২৭ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন ভারতীয়। এছাড়া চার জন দক্ষিণ কোরীয়, দুই জন ইতালীয় এবং দুই জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। নেপাল আর্মির হেলিকপ্টারে তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে দিল্লি-কাঠমান্ডু বাস পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    নতুন ব্যারিয়ার লেক নিয়ে বড় আশঙ্কা

    উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থার উৎসের কাছে তৈরি হয়েছে একটি প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার লেক। চিনা কর্তৃপক্ষের অনুমান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে জমতে পারে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ফের প্রবল জলস্রোত নেমে আসতে পারে। নেপালের জল ও আবহাওয়া দফতর ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক করে নদীর কাছ থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই বিপর্যয়, ভূমিকম্প নয়

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প বলে মনে করা হলেও নেপালি কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার সংশোধিত বিশ্লেষণে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধস এবং বরফ-পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। হিমবাহ ধসের পর লহেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে বিপুল জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার দিকে নেমে আসে।

    ধ্বংসস্তূপে চাপা রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্প

    বন্যায় নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেত্রাবতী থেকে রাসুওয়াগাধি পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু কংক্রিট ও ঝুলন্ত সেতু ভেসে গিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৫টি মোটরযোগ্য সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি ও দেবীঘাট-সহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    এদিকে হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং নদীর তীরে নিখোঁজ পরিজনদের খুঁজছেন অসংখ্য পরিবার। বহু এলাকায় এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল আর্মি, পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসের পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শত শত পরিবার এখনও প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায়, আর নতুন ব্যারিয়ার লেকের আশঙ্কায় বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বাড়াতে রুশ আর-৩৭এম ভেরি-লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার বিষয়ে ভারত এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ন্যাটো নামকরণ ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’

    ন্যাটো নামকরণ অনুযায়ী, আর-৩৭এম মিসাইলকে ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’ বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র সুখোই-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে থাকা প্রচলিত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার একটি অস্ত্র পাবে। তবে সর্বোচ্চ ঘোষিত পাল্লা এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর পাল্লা এক বিষয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন উচ্চতা থেকে ছোড়া হচ্ছে, উৎক্ষেপণের সময় বিমানের গতি কত, লক্ষ্যবস্তু কত দূরে এবং লক্ষ্য কীভাবে গতিপথ পরিবর্তন করছে—এসব বিষয়ের উপর প্রকৃত কার্যকর পাল্লা নির্ভর করে।

    কেন এত শক্তিশালী আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম মূলত কাছাকাছি দূরত্বের বিমানযুদ্ধ বা ডগফাইটের জন্য তৈরি নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকে অনেক দূর থেকেই আক্রমণ করা।

    এই তালিকায় রয়েছে—

    • ● এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) বিমান
    • ● আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম
    • ● আকাশে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম

    এই ধরনের বিমান সরাসরি শত্রু যুদ্ধবিমানের মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন না করলেও আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যাওয়াক্স বিমানগুলি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে শত্রু বিমান শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানগুলিকে দীর্ঘসময় আকাশে থাকার সুযোগ দেয়। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্মগুলি শত্রুর রেডার, যোগাযোগ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এই সহায়ক বিমানগুলিকে দূরপাল্লা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে গোটা শত্রু বিমান অভিযানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    আর-৩৭এমকে কেন ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ বলা হয়?

    আর-৩৭এম এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলি সাধারণত যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক পিছনে অবস্থান করে। একটি অ্যাওয়াক্স বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারিতে থাকে না। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সেটি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেদের যুদ্ধবিমানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। দূরপাল্লার আর-৩৭এম-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র সেই তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারে। একইভাবে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানও শত্রুর বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর দূর থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে শত্রুকে তার যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানগুলিকে আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে হতে পারে। এই কারণেই আর-৩৭এম-কে অনেক সময় ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মারণ ক্ষমতা কত দূর?

    আর-৩৭এম-এর পাল্লা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। কিছু রিপোর্টে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাল্লার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে কার্যকর পাল্লা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। উৎক্ষেপণের উচ্চতা, যুদ্ধবিমানের গতি, লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব এবং লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি—সবকিছুই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর-৩৭এম-এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ম্যাক ৬ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.০৬ মিটার, ওজন প্রায় ৫১০ কিলোগ্রাম এবং এতে প্রায় ৬০ কেজির ফ্র্যাগমেন্টেড ওয়ারহেড রয়েছে। অর্থাৎ আকার ও ওজন—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত বড় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

    কীভাবে লক্ষ্য খুঁজে নেয় আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে এগোতে পারে। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্যও পাওয়া যায়। এরপর লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছলে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার সিকার সক্রিয় হয়ে লক্ষ্যকে অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ উৎক্ষেপণকারী সুখোই-৩০ এমকেআই-কে পুরো উড়ানজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একইভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করে যেতে হয় না। শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার ব্যবস্থা লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম-এর সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে বিপুল সংখ্যায় থাকা সুখোই-৩০ এমকেআই ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের সুখোই-৩০ এমকেআই-এর শক্তিশালী রেডার, দীর্ঘসময় আকাশে থাকার ক্ষমতা এবং বড় অস্ত্র বহনের সক্ষমতার সঙ্গে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আর-৩৭এম-এর সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান নয়, শত্রুর পিছনের সারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকেও লক্ষ্য করার সুযোগ বাড়বে।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় কেন দরকার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র?

    আধুনিক আকাশযুদ্ধে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ বা বিআরআর যুদ্ধের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমানগুলি একে অপরের খুব কাছে গিয়ে লড়াই করার পরিবর্তে অনেক দূর থেকেই প্রতিপক্ষকে শনাক্ত ও আঘাত করার চেষ্টা করছে। চিনের পিএল-১৫-এর মতো দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। পাকিস্তানও আধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগিয়েছে। ভারত নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র, বিশেষ করে অস্ত্র পরিবারের উন্নত সংস্করণ নিয়েও কাজ করছে। কিন্তু দেশীয় এই প্রকল্পগুলির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলতে থাকায় আর-৩৭এম-এর মতো ইতিমধ্যে তৈরি ও ব্যবহৃত একটি অস্ত্র দ্রুত দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা দিতে পারে।

    ‘সুপার সুখোই’-এর সঙ্গে ভয়ঙ্কর সমন্বয়

    ভারত ইতিমধ্যেই সুখোই-৩০ এমকেআই-কে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য ‘সুপার সুখোই’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে। এই আধুনিকীকরণের আওতায় বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● উন্নত এইএসএ রেডার
    • ● অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা
    • ● উন্নত অ্যাভিওনিক্স
    • ● নতুন সেন্সর ও মিশন ব্যবস্থা
    • ● দেশীয় ও বিদেশি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● দেশীয় অ্যাস্ট্রা ক্ষপণাস্ত্র পরিবারের বিভিন্ন সংস্করণের সংযুক্তি
    • ● ব্রহ্মোস-এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণের মতো অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● আর-৩৭এম-এর মতো অতিদূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সংযুক্তি

    ফলে সুখোই-৩০ এমকেআই আগামী বহু বছর ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে কার্যকর থাকার সুযোগ পাবে।

    সুখোই-৩০ এমকেআই-তে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের কী লাভ?

    আর-৩৭এম সংযুক্তির সম্ভাব্য গুরুত্ব শুধু নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধের কৌশলেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    এর মাধ্যমে—

    • ● প্রথমত, ভারতীয় যুদ্ধবিমান আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ পাবে।
    • ● দ্বিতীয়ত, শত্রুর অ্যাওয়াক্স, ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্মের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
    • ● তৃতীয়ত, শত্রুর বিমানবাহিনীকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা যেতে পারে।
    • ● চতুর্থত, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ভারতের আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
    • ● পঞ্চমত, উন্নত রেডার, সেন্সর এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার সমন্বিত আকাশ অভিযান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে আর-৩৭এম

    আর-৩৭এম ইতিমধ্যেই রুশ যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার মিগ-৩১ এবং বিভিন্ন সুখোই যুদ্ধবিমান। ইউক্রেন যুদ্ধে আর-৩৭এম ব্যবহারের বিভিন্ন রিপোর্টও সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শত্রু যুদ্ধবিমানকে নিজেদের অবস্থান, গতি এবং পরিচালন এলাকার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে।

    বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক আকাশযুদ্ধের সমীকরণ

    ভারতের সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে আর-৩৭এম যুক্ত হওয়ার খবর সত্যি হলে তা শুধু ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারেই নতুন সংযোজন হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশশক্তির ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক বিমানযুদ্ধে শুধু কতগুলি যুদ্ধবিমান রয়েছে, সেটাই এখন মূল বিষয় নয়। কোন বিমান কত দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে, কত দূরের লক্ষ্যকে আঘাত করতে পারে এবং কত দ্রুত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য পেতে পারে—এসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কোনও পক্ষই চুক্তি নিয়ে খোলসা করেনি

    এই জায়গাতেই আর-৩৭এম এবং ‘সুপার সুখোই’-এর সম্ভাব্য সমন্বয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম কেনার ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং নির্দিষ্ট সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে রিপোর্টভিত্তিক সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত চুক্তি, অস্ত্রের সংখ্যা, সংযুক্তিকরণের সময়সূচি এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে এলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের প্রকৃত সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হবে।

  • Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘন ঘন আবহাওয়ায় পরিবর্তন। কখনো একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কখনো তীব্র রোদ, গরম! আর এই পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশির দাপট বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের সমস্যা আরও বেশি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার এই মরশুমে স্কুল পড়ুয়াদের ভোগান্তি বাড়ে। অনেক সময়েই তাদের বৃষ্টিতে‌ ভিজতে হয়, আবার কখনো তীব্র গরমে ঘামে ভিজে যায়। ফলে নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট বাড়ে। কাশি-সর্দিতে নাজেহাল হয়। কিন্তু, সম্প্রতি, কাশির ওষুধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চার বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো রকম কাশির ওষুধ বা কফ সিরাপ দেওয়া যাবে না। চার বছর বয়সের উপরের শিশুদের কফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি। তবে অধিকাংশ সময়েই কফ সিরাপ বা কাশির ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কেন শিশুকে কাশির ওষুধ দেওয়ায় আপত্তি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট একটি অ্যান্টিহিস্টামিন গোত্রের ওষুধ যা সর্দি, হাঁচি ও নাক দিয়ে জল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। ফিনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড সর্দি কমাতে ও সাইনাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই দুই উপাদান মিশিয়ে যে ওষুধ তৈরি হচ্ছে সেটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ খাওয়ালে শিশুদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঘুমের অভ্যাস পাল্টে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই ওষুধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এমন ওষুধ খেতে থাকলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সিরাপে ডোজ়ের পরিমাণ যা বলা থাকে, তার চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    ওষুধের পরিবর্তে কোন ঘরোয়া উপাদানেই ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। পাশপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

    এসি ব্যবহারে বাড়তি নজরদারি!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এসির ব্যবহারে রাশ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, বন্ধ ঘরে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টিতে ভেজার পরে এসি চালিয়ে থাকলে সর্দি-কাশির ভোগান্তি বাড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। মরশুমের নানান ভাইরাসের দাপট বাড়তে পারে। তাই বর্ষায় এসি চালিয়ে ঘুমোনো একেবারেই উচিত নয়। কিছুটা সময় এসি চালানোর পরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, রাতে এসি চললে অবশ্যই গায়ে চাদর দেওয়া জরুরি। তাহলে সরাসরি কৃত্রিম ঠাণ্ডা হাওয়া লাগবে না।

    লবঙ্গ-এলাচ দেওয়া গরম জল!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত একাধিক মশলা সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর এগুলোর খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষার মরশুমে শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে ফোটানো গরম জল এক কাপ দেওয়া যেতে পারে। লবঙ্গ এবং এলাচ একাধিক ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষত শ্বাসনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

    সব্জিতে আদার ব্যবহার বিশেষ উপকারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে এবং শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আদা সবচেয়ে উপকারি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আদায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। ফলে, যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।‌ সব্জি বা মাছ, যেকোনো পদ রান্নার সময় উপকরণে আদা বাটা ব্যবহার করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে।

    মধু ও তুলসী পাতার মিশ্রণ!

    কাশি ও সর্দি হলে সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা বেঁটে তার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষত কাশি কমাতে বিশেষ সাহায্য করবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে তুলসী পাতা। সর্দি-কাশি নিরাময়ে মধু বিশেষ উপকারি। তাই এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    চিন ও মিশরের যৌথ বিমান মহড়া  ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ (Eagles of Civilisation) ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানকে নিয়ে। ২২ অগাস্ট শুরু হওয়া এই মহড়ায় প্রথমবারের মতো চিনের অত্যাধুনিক জে-১৬ (J-16) ফাইটার জেট মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে সরাসরি সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটে অংশ নিয়েছে। ফলে চিনা পাইলটদের সামনে এমন একটি পশ্চিমী নকশার যুদ্ধবিমানকে কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যে ধরনের যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনাও ব্যবহার করে। তবে এই মহড়াকে সরাসরি ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর পরীক্ষা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরঞ্জিত হবে। কারণ মিশরীয় ও ভারতীয় রাফালের অস্ত্র, সেন্সর, সফটওয়্যার, মিশন কনফিগারেশন এবং অপারেশনাল ডকট্রিন এক নয়। তা সত্ত্বেও চিনের জন্য এই মহড়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের কাছেও বিষয়টি নজর রাখার মতো।

    কী ঘটছে চিন-মিশরের বায়ুসেনা মহড়ায়?

    চিন ও মিশরের বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই মহড়া পরিচালনা করছে। মহড়ার প্রথম পর্যায়ে মূলত এক বনাম এক বিমানযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চিনা ও মিশরীয় পাইলটরা একে অপরের যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করছেন। এর পাশাপাশি বিমান নিরাপত্তা বিধি, আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম, টেক-অফ ও ল্যান্ডিং পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সেই বিষয়গুলিও অনুশীলন করা হচ্ছে। চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, মহড়া ধাপে ধাপে আরও জটিল হবে। প্রথমে এক বনাম এক লড়াইয়ের পর দুই বনাম দুই এয়ার কমব্যাট এবং পরে আরও জটিল যৌথ বিমান অভিযান অনুশীলন করা হবে।

    প্রথমবার রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬

    এই মহড়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, চিনা জে-১৬ প্রথমবার রাফালের সঙ্গে সিমুলেটেড কমব্যাট পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেল। চিন সাধারণত নিজেদের তৈরি বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রশিক্ষণ এবং ডগফাইট অনুশীলন করে। কিন্তু পশ্চিমী প্রযুক্তি ও নকশার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। সেই জায়গা থেকেই মিশরের রাফাল চিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটের মাধ্যমে চিনা পাইলটরা রাফালের উড়ানগত বৈশিষ্ট্য, ম্যানুভারিং ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য কৌশলগত আচরণ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন। অর্থাৎ, শুধু জে-১৬ কীভাবে উড়বে বা আক্রমণ করবে, তা নয়— প্রতিপক্ষ হিসেবে রাফালকে সামনে রেখে চিনা পাইলটদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    ভারতের রাফালের সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?

    এখানেই বিষয়টি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান আধুনিক যুদ্ধবিমান হল দাসো রাফাল। ফলে মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর প্রশিক্ষণকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ঘটনা হিসেবে দেখা কঠিন। চিনা বিমান বিশেষজ্ঞ ওয়াং ইয়ানানও উল্লেখ করেছেন, রাফাল সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই মহড়া চিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। কারণ ভারত ও মিশর—দুই দেশই রাফালের প্রধান ব্যবহারকারী। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। মিশরের রাফাল এবং ভারতের রাফাল একই পরিবারের যুদ্ধবিমান হলেও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, মিশন সিস্টেম এবং অপারেশনাল ব্যবহারে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬-এর অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ভারত-চিন আকাশযুদ্ধের মহড়া বলা ঠিক হবে না।

    জে-১৬ বনাম রাফাল: চিন কী শিখতে পারে?

    চিনা পাইলটদের জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমানের আচরণ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা তৈরি করা। রাফালের বিরুদ্ধে সিমুলেটেড কমব্যাটে চিনা পাইলটরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন—

    • ● রাফাল কীভাবে আক্রমণাত্মক ম্যানুভার করে
    • ● কাছাকাছি আকাশযুদ্ধে তার গতিবিধি কেমন
    • ● বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রাফালের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে
    • ● জে-১৬-এর কৌশলগত অবস্থান কীভাবে পরিবর্তন করা যায়
    • ● কোন ধরনের পরিস্থিতিতে জে-১৬ পাইলটদের কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা উচিত

    এই অভিজ্ঞতা শুধু পাইলটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশিক্ষক, কৌশলবিদ এবং সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও এই মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং এয়ার-কমব্যাট ট্যাকটিক্স আরও উন্নত করতে পারেন।

    কতটা শক্তিশালী চিনের জে-১৬?

    জে-১৬ চিনা বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভারী শ্রেণির, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট মাল্টিরোল ফাইটার। বিভিন্ন ধরনের আকাশযুদ্ধ এবং স্ট্রাইক মিশনে ব্যবহারের জন্য বিমানটিকে তৈরি করেছে চিন। অন্যদিকে রাফালও একটি অত্যাধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার, যা আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড অ্যাটাক—বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যায়। তাই জে-১৬ ও রাফালের মধ্যে সিমুলেটেড কমব্যাট চিনা পাইলটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে এই ধরনের মহড়ার ফলাফল দেখেই কোনও একটি যুদ্ধবিমান অন্যটির তুলনায় নিশ্চিতভাবে শ্রেষ্ঠ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কারণ আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু বিমানটির ক্ষমতাই নয়, পাইলটের দক্ষতা, অস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ডেটা-লিঙ্ক, এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম এবং সামগ্রিক যুদ্ধকৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই মহড়া?

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল উদ্বেগের জায়গা হল—চিনা বায়ুসেনা এমন একটি যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে, যার একটি সংস্করণ ভারতীয় বায়ুসেনার হাতেও রয়েছে। ভারত-চিন সীমান্তে ভবিষ্যতে আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে রাফাল চিনা বিমানবাহিনীর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে। সেই কারণে চিনা পাইলটদের রাফালের উড়ানগত আচরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তৈরি হওয়া ভারতের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের নজর এড়াবে না।

    তবে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে মহড়া মানেই চিন ভারতীয় রাফালের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে—এমনটা বলা যাবে না। কারণ ভারতীয় রাফাল শুধু একটি বিমান নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতীয় অস্ত্রব্যবস্থা, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, প্রশিক্ষণ ও নিজস্ব অপারেশনাল কৌশল। ফলে মিশরীয় রাফালকে সামনে রেখে চিন যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তা ভারতের ক্ষেত্রে আংশিকভাবে প্রাসঙ্গিক, কিন্তু সম্পূর্ণ সমতুল্য নয়।

    ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ কেন নজরে রাখছে নয়াদিল্লি?

    এই মহড়ার তাৎপর্য শুধু চিন-মিশরের সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। চিনের জন্য এটি পশ্চিমী নকশার একটি উন্নত যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের বিরল সুযোগ। আর ভারতের জন্য এর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। চিনা বায়ুসেনা যত বেশি রাফালের মতো যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ করবে, তত বেশি তাদের পাইলট ও প্রশিক্ষকদের কাছে এই প্ল্যাটফর্মের আচরণ পরিচিত হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে ভারত-চিন উত্তেজনা বাড়লে এই অভিজ্ঞতা চিনা কৌশল নির্ধারণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, ভারতের কাছেও এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই হবে না, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সেই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে কতটা জানে এবং তার মোকাবিলায় কী ধরনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’-এ জে-১৬ ও রাফালের মুখোমুখি হওয়া কোনও সরাসরি ভারত-চিন যুদ্ধের মহড়া নয়। কিন্তু এটি এমন একটি প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা, যা চিনা বায়ুসেনাকে রাফাল সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। আর সেই কারণেই ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালকে ঘিরে এই চিন-মিশর মহড়ার দিকে কৌশলগত নজর রাখা স্বাভাবিক।

  • Kolkata Municipal Election: কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে কোমর বাঁধছে বিজেপি, সুকান্ত-রাহুলের হাতে বড় দায়িত্ব

    Kolkata Municipal Election: কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে কোমর বাঁধছে বিজেপি, সুকান্ত-রাহুলের হাতে বড় দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার নির্বাচন কবে হবে, তার সরকারি দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে সম্ভাব্য নভেম্বরের পুরভোটকে সামনে রেখে আর অপেক্ষা করতে চাইছে না বঙ্গ বিজেপি। নির্বাচনী সূচি ঘোষণার আগেই সংগঠনকে মজবুত করা, ওয়ার্ডভিত্তিক সমীকরণ খতিয়ে দেখা, বুথস্তরের প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে পদ্ম শিবির। একইসঙ্গে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের জন্য পৃথক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নামও ঘোষণা করেছে দল।

    মঙ্গলবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বৈঠকে কলকাতা পুরভোটের সম্ভাব্য পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটের রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, বিধায়কদের কাছ থেকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংগঠনের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট এবং ফিডব্যাক নেওয়া হয়েছে।

    কলকাতা পুরভোটে সুকান্ত, হাওড়ায় রাহুল

    পুরনির্বাচনের প্রস্তুতিকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে মঙ্গলবারই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী প্রস্তুতির ইনচার্জ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারকে। তাঁর সঙ্গে কো-ইনচার্জ হিসেবে থাকছেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (রাজু)। কলকাতা পুরভোটের কনভেনরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাপস রায়কে। কো-কনভেনর হয়েছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি। অন্যদিকে, হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচনী প্রস্তুতির ইনচার্জ হয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। বালির বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিংকে হাওড়ার কনভেনর করা হয়েছে। বিকেলে এ বিষয়ে দলের তরফে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

    কলকাতার জন্য পৃথক কমিটি

    কলকাতা পুরভোটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যেই পৃথক কমিটি গঠন করেছে বিজেপি। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাপস রায়। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সজল ঘোষ, ঋতেশ তিওয়ারি, স্বপন দাশগুপ্ত-সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মকর্তা। দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণ, স্থানীয় সংগঠন এবং ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে যাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদেরই কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এই কমিটির দায়িত্বও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পুরভোটের প্রচারের বিষয়বস্তু নির্ধারণ, জনসংযোগের কৌশল তৈরি, কোন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালানো হবে তা ঠিক করা এবং বিজেপির সংকল্পপত্র তৈরির মতো বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করবে কমিটি। পাশাপাশি, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এই কমিটির মতামত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    বিধায়কদের থেকে নেওয়া হল ওয়ার্ডভিত্তিক রিপোর্ট

    সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনসল, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী। বৈঠকে স্বপন দাশগুপ্ত, সজল ঘোষ, ঋতেশ তিওয়ারি, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক ও শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল কলকাতা পুরসভার সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিস্থিতি। কোন ওয়ার্ডে সংগঠনের শক্তি কতটা, কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, বুথস্তরে প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কারা গ্রহণযোগ্য—এই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিধায়কদের কাছ থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    নভেম্বরেই কি কলকাতা পুরভোট?

    কলকাতা পুরসভার ভোটের সরকারি সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বিজেপি-সহ রাজনৈতিক মহলে নভেম্বর মাসে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফেও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নতুন পুরবোর্ড গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে একাধিকবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই আগেভাগে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। কারণ অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজো এবং পরবর্তী সময়ে দীপাবলির মতো উৎসব থাকায় নির্বাচনের ঠিক আগে হাতে সময় কমে যেতে পারে। ফলে এখন থেকেই বুথ, ওয়ার্ড এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করতে চাইছে দল।

    বদলেছে কলকাতা-হাওড়ার ওয়ার্ডের সমীকরণও

    আসন্ন পুরভোটের আগে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়েও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যেই দুটি বিল পাশ হয়েছে। তার মধ্যে হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার প্রস্তাব রয়েছে। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত খসড়া রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। ফলে দুই পুরনিগমের ক্ষেত্রেই নতুন আসন বিন্যাস অনুযায়ী সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলিকে।

    প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

    কলকাতা ও হাওড়া—দুই পুরনিগমের ক্ষেত্রেই বিপুল সংখ্যক আসনে প্রার্থী দিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে। বিজেপি সূত্রের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলীয় সংগঠনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ফলে সম্ভাব্য আসনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টিকিটপ্রার্থী রয়েছে দলের অন্দরে। তাঁদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, স্থানীয় পরিচিতি এবং জয়ের সম্ভাবনা—একাধিক মাপকাঠিতে প্রার্থী বাছাই করতে চাইছে নেতৃত্ব। সেই কারণেই নির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটকে সামনে রেখে বঙ্গ বিজেপির প্রস্তুতি এখন আর শুধু বৈঠক বা সাংগঠনিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ঘোষণা, বিশেষ কমিটি গঠন, বিধায়কদের কাছ থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক রিপোর্ট সংগ্রহ এবং বুথস্তরের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পুরভোটের ময়দানে আগেভাগেই সংগঠনকে নামিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি।

  • Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ করল ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি সমস্ত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে হস্তান্তরের (Transfer of Technology বা ToT) অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং নিয়ন্ত্রক বিধি পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় সংস্থাগুলি দেশে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির উৎপাদন করতে পারবে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। এর মূল লক্ষ্য হল ডিআরডিও-র গবেষণাগারে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে উন্নয়ন পর্যায় থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

    দেশীয় সংস্থার হাতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি

    এতদিন ডিআরডিও-র তৈরি বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদনে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এবার সেই ব্যবস্থায় আরও বড় পরিসরে বেসরকারি ভারতীয় শিল্পকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের ফলে যোগ্য ভারতীয় সংস্থাগুলি ডিআরডিও-র কাছ থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে দেশেই উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) এবং অন্যান্য প্রযুক্তি অংশীদারদের অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।

    ডিআরডিও-শিল্প সহযোগিতায় জোর

    প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিআরডিও এবং ভারতীয় শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে তৈরি করাই নয়, সেই প্রযুক্তিকে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য করে তোলা এবং সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যায় সরবরাহ করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। এই ব্যবস্থায় ডিআরডিও ভারতীয় শিল্পকে প্রযুক্তি গ্রহণ ও আত্মস্থ করতে সহায়তা করবে। ফলে ভবিষ্যতে দেশীয় সংস্থাগুলি আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রতিরক্ষা রফতানিতে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরিতে বেসরকারি সংস্থার দৌড়?

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে ভারতের দেশীয় অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ (Astra Mark-2) ক্ষেপণাস্ত্র। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই একটি রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে পারে। সেখানে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরির জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থা ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে আইকম, আদানি, ভারত ফোর্জ, টাটা গোষ্ঠী ও মহিন্দ্রা গ্রুপ সহ একাধিক ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০–২০০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুসেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দেশীয় আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন যদি বৃহৎ ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এর উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে উৎপাদনে নামার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং সমস্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

    দেশীয় মিসাইলের চাহিদা বাড়ছে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ভারতীয় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার চাহিদা দেশ এবং বিদেশ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি দেশও ভারতের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া অ্যাস্ট্রা সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন মেটানো নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি শিল্পকে উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও বেশি করে যুক্ত করলে সেই চাহিদা পূরণ করা সহজ হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতেও বড় সুযোগ

    ভারত গত কয়েক বছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধবিমান, কামান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সেই নীতিরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলিতেও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রফতানির সুযোগ বাড়তে পারে।

    এতদিন কেন পিছিয়ে ছিল মিসাইল উৎপাদন?

    ভারতে বেসরকারি শিল্পের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিমান, ড্রোন এবং আর্টিলারি বা কামান উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষিপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির ভূমিকা এতদিন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এবার ডিআরডিও-র তৈরি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি বৃহত্তর ভারতীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা ডিআরডিও আরও বেশি করে নতুন প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে শিল্প সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ পরিসরের উৎপাদনের দায়িত্ব নিতে পারবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়

    রাজনাথ সিংয়ের অনুমোদিত এই প্রযুক্তি হস্তান্তর তাই শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় গবেষণা থেকে উৎপাদন এবং উৎপাদন থেকে রফতানি—পুরো শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, এমএসএমই-কে সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বিদেশি বাজারে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাবনা বাড়ানো— সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত ভারতের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২-এর মতো উন্নত দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনে যদি একাধিক ভারতীয় বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হয়, তাহলে আগামী দিনে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পরিকাঠামো আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

LinkedIn
Share