Tag: মাধ্যম বাংলা

  • S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে’! পাক সাংবাদিকের প্রশ্নে এক লাইনেই জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতকে প্রশ্ন করতে গিয়ে ওই সাংবাদিক পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন, সরাসরি জবাব জয়শঙ্করের

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হাই-লেভেল উইকের জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন জয়শঙ্কর। শুক্রবার লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেইসোলো নাইয়ান্তির সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকটির মূল বিষয় ছিল ‘গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অফ শিপিং অ্যান্ড সিফ্যারার্স’। বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগে এটিকে মূলত ‘শুধুমাত্র বক্তব্যের বিবরণী’ হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক বৈঠকের শেষদিকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি জানতে চান, “আপনাদের সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে?” এর পরেই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে। আসুন!”

    নির্মম সত্যের মুখোমুখি পাক সাংবাদিক!

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ—নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান ফের স্পষ্ট হয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতানেনি ওই পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেন, “আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনেছেন। খুব স্পষ্টভাবেই আপনার জবাব পেয়ে গিয়েছেন।” আসলে, গতকাল ভারতীয় সংবাদসংস্থার এক সাংবাদিক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে প্রশ্ন করেছিলেন, “লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালাবেন?” শাহবাজের কাছে এর কোনও জবাব ছিল না, তিনি সেখান থেকে চলে যান। আজ ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু জয়শঙ্করের কাছ থেকে নির্মম সত্যের মুখোমুখি হন তিনি।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?

    সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে বিশ্বাসযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। একইসঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ, পরিকাঠামো বা অন্য কোনও ধরনের সহায়তা বন্ধ করার জন্যও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    পহেলগাঁও হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা। ওই হামলায় ২৬ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হন।

    এর পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালায়। ভারতীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের পরিকাঠামো, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক পরিকাঠামো নয়।

    নয়াদিল্লি আরও দাবি করেছে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকারের প্রয়োগ। এই হামলা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চেও উঠে এসেছে।

    ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নিয়ে ভারতের দাবি

    পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ-এর যোগ থাকার দাবি করেছে ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই টিআরএফ-কে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

    ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আমেরিকা টিআরএফ-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির একটি রিপোর্টেও টিআরএফ এবং পহেলগাঁও হামলার মধ্যে যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্যও ভারত নিয়মিত ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উদ্যোগ নিয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নিয়েও পাকিস্তানকে ঘিরে চাপ

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের উৎস বন্ধ করাও ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন রোধের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

    ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর নজরদারিও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং অর্থপাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না করার কারণে পাকিস্তান একাধিকবার এফএটিএফ-এর ‘গ্রে লিস্টে’ ছিল। সর্বশেষ পর্যায়ে ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান বর্ধিত নজরদারির আওতায় ছিল।

    এই সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন চিহ্নিত ও বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর পথ আটকানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য ছিল, এফএটিএফ-এর নজরদারির ফলে পাকিস্তানকে একাধিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামও ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলেছে।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের সরব জয়শঙ্কর

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক টানাপড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বারবার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেছে, সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে স্বাভাবিক করে তোলা উচিত নয়।

    নিউইয়র্ক সফরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বৈঠকও করছেন জয়শঙ্কর। শনিবার সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সেশনে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁর শুক্রবারের মন্তব্য তাই শুধুমাত্র একটি সাংবাদিক বৈঠকের তাৎক্ষণিক উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান—সবকটি বিষয়ই এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে।

  • Rabies Vaccine: প্রাণীর কামড়ে রেবিস টিকা পেতে আর ঘুরতে হবে না, ৪ মডেল কেন্দ্র তৈরির পথে রাজ্য

    Rabies Vaccine: প্রাণীর কামড়ে রেবিস টিকা পেতে আর ঘুরতে হবে না, ৪ মডেল কেন্দ্র তৈরির পথে রাজ্য

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাড়ির পোষ্য হোক কিংবা পথ চলতে গিয়ে, কখনও আবার হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা—বিভিন্ন প্রাণীর কামড় বা আঁচড় মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, কামড়ের জায়গায় জ্বালা বা অস্বস্তি প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। পরবর্তী সময়ে জল বা খাবার গিলতে সমস্যা, হাত-পায়ে খিঁচুনি, এমনকি বারবার অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    এই ধরনের বিপদ এড়াতে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পরে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেবিস টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজ্যের বহু জায়গায় পর্যাপ্ত রেবিস টিকার জোগান না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সরকারি হাসপাতালে ঘুরতে হয়। ফলে টিকাকরণের উপযুক্ত সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    এই হয়রানি কমাতেই রাজ্য সরকার রেবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার দিকে বাড়তি নজর দিতে চাইছে। পাশাপাশি রাজ্যে চারটি পৃথক রেবিস টিকাকরণের মডেল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্দেশ্য, জেলা থেকে শহর—সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে যাতে প্রয়োজনমতো রেবিস টিকাকরণের ব্যবস্থা থাকে এবং রোগীদের অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়।

    কেন মডেল টিকাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা?

    চিকিৎসকদের মতে, রেবিস ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের পরে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাকরণ না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশের দাবি, রাজ্যের একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনেক সময় রেবিস ভ্যাকসিনের জোগান ঠিকমতো থাকে না। আবার কোথাও ভ্যাকসিন থাকলেও টিকাকরণের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। এর জেরেই সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।

    এই পরিস্থিতি বদলাতেই চারটি মডেল রেবিস টিকাকরণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকার জোগান রয়েছে কি না, তা নজরদারি করা হবে। কোথাও কর্মীর ঘাটতি থাকলে তা সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে।

    রেবিসের টিকাকরণ একাধিক ডোজে সম্পূর্ণ করতে হয়। তাই কোনও রোগী নিয়ম মেনে টিকাকরণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে। সামগ্রিকভাবে জলাতঙ্কে মৃত্যুর হার কমাতেই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    শুধু কুকুর নয়, কোন কোন প্রাণীর কামড়ে প্রয়োজন রেবিস টিকা?

    রেবিসের ক্ষেত্রে শুধু কুকুরের কামড়কেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয় না। বাঁদর বা হনুমানের কামড় কিংবা আঁচড় থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    বাদুড়ের সংস্পর্শের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদুড়ের কামড় বা আঁচড় অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। এমনকি ঘুমন্ত অবস্থাতেও কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    গ্রামাঞ্চলে শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাও ঘটে। এমন ক্ষেত্রেও রেবিস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী টিকাকরণ করতে হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালার সংস্পর্শে এলে রেবিস ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই কুকুর, বেড়াল, হনুমান, বাঁদর, বাদুড়, শিয়াল-সহ কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন।

    কেন রেবিস টিকাকরণে বাড়তি গুরুত্ব?

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৯৫ লক্ষ মানুষ প্রাণীর কামড়ের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশই কুকুরের কামড়ের ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ রেবিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

    চিকিৎসকদের মতে, রেবিসের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পরে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই সংক্রমণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি।

    একই সঙ্গে রেবিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন। কোনও প্রাণীকে বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হলেও তার মধ্যে রেবিস ভাইরাস থাকতে পারে। তাই কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে হালকা ভাবে না নিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কামড়ের জায়গায় কী করবেন?

    প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পরে ক্ষতস্থানে হলুদ, মাটি বা অন্য কোনও পদার্থ লাগানো উচিত নয়। বরং দ্রুত ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেবিস টিকাকরণই এই প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে ফের ভোটের প্রস্তুতি। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ মোট সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে প্রশাসনিক ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত ভোটের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নভেম্বরের ২৭ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফলপ্রকাশের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

    কোন সাত পুরসভায় ভোট?

    প্রথম দফায় কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। এই সাতটি পুর এলাকায় প্রায় ৬,৩০০-৬,৪০০ বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় ৬,৩০১টি বুথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। এরপর নভেম্বরের ২৭, ২৮ অথবা ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটের ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    জেলাশাসকদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক

    ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। ভোটকেন্দ্র, ভোটকর্মী, ইভিএম, ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কমিশনের প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটকর্মী বাছাই ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়াও এগোনোর কথা জানানো হয়েছে। সাতটি পুর এলাকায় কয়েক হাজার ভোটকর্মীর প্রয়োজন হবে। সামগ্রিকভাবে ভোট পরিচালনার জন্য বুথভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলিও এখন কমিশনের অগ্রাধিকারে।

    রাজ্যে এল ২১ হাজারের বেশি ইভিএম

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেছে ২১ হাজারের বেশি ইভিএম। প্রথম দফায় ২১,১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯,৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    এই ইভিএমের একটি অংশ নভেম্বরের সাত পুরসভার নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। বাকি ইভিএম পরবর্তী ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাতটি পুর এলাকার জন্য প্রায় ৬,৪০০ ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।

    হাওড়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভোট

    এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে রয়েছে হাওড়া পুরনিগম। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। ২০১৩ সালে শেষবার পুরভোট হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    কলকাতা পুরনিগমের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ আপত্তি জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কমিশনের বৈঠকে সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।

    ভোটার তালিকা নিয়েও নজর

    এবারের পুরভোটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত ভোটার তালিকাই পুরভোটের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে; মূল পরিবর্তন হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বুথ বিন্যাসে।

    এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ঘিরে যেহেতু একাধিক আবেদন ও আপত্তি এখনও প্রক্রিয়াধীন, তাই পুরভোটের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দিকে নজর রাখছে কমিশন। কলকাতা পুর এলাকার এসআইআর-সংক্রান্ত বহু আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হীত

    ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত না হলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের বক্তব্য আগেই জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে নির্বাচন করার বিষয়েও দলের অবস্থান থাকবে বলে জানান বৈশ্বানর।

    বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিত সরকার জানান, তাঁদের দল সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। পুরভোটকে রাজ্যের নগর প্রশাসন ও উন্নয়নের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের কাছে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

    তবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতির মধ্যেই এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই ভোটের দিন, মনোনয়ন, প্রচার, ভোটগ্রহণ ও গণনার চূড়ান্ত সময়সূচি স্পষ্ট হবে।

    সব মিলিয়ে, পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হতে চলেছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ সাত পুর এলাকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করানোর লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে, ইভিএম পাঠানো থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক—একাধিক পদক্ষেপেই তার ইঙ্গিত মিলছে।

  • Bank Strike: ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর টানা ৩ দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, গ্রাহকদের সুবিধার্থে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

    Bank Strike: ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর টানা ৩ দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, গ্রাহকদের সুবিধার্থে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতি। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তাহান্তের ছুটির পরই ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (UFBU)। তার সঙ্গে মাসের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের পরিষেবায় যাতে বড় ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য আগাম একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    ২৫ সেপ্টেম্বরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন-পেনশন

    ধর্মঘট ও পরপর ছুটির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সেপ্টেম্বর মাসের বেতন, মজুরি ও পেনশন আগেভাগে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কন্ট্রোলার জেনারেল অফ অ্যাকাউন্টসের জারি করা অফিস মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী, শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সেপ্টেম্বরের বেতন ও মজুরি দেওয়া যাবে।

    এই সুবিধার আওতায় থাকবেন প্রতিরক্ষা, ডাক এবং টেলিকম দফতরের কর্মীরাও। একই দিনে কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগীদের সেপ্টেম্বরের পেনশনও দেওয়া যেতে পারে। পরে পুরো মাসের প্রাপ্য অর্থের সঙ্গে কোনও সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা অক্টোবর ২০২৬-এর পেমেন্টে করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার দফতরগুলিকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যে সমস্ত পেমেন্ট ও ব্যাঙ্কিং লেনদেন হওয়ার কথা, সম্ভব হলে সেগুলিও আগেভাগে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।

    ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবারও খুলবে ব্যাঙ্ক

    ধর্মঘট শুরুর আগে গ্রাহকদের জন্য আরও একটি সুযোগ তৈরি করতে রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর সব ব্যাঙ্ক, এমনকী রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক (RRB)-গুলিকেও শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক শাখা, এটিএম-সংযুক্ত শাখা, অফিস এবং কারেন্সি চেস্টগুলির পূর্ণাঙ্গ কাজকর্মের অনুমোদন দিয়েছে। কারণ, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তাহান্তের ছুটি এবং তার পরেই ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘট। ফলে ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় শাখাভিত্তিক লেনদেন সেরে নেওয়ার অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হবে।

    কেন ধর্মঘট?

    ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (UFBU) ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাঙ্ককর্মীর প্রতিনিধিত্ব করে। ধর্মঘটের অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা এবং ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে অভিন্ন পেনশন ব্যবস্থা কার্যকর করা।

    গ্রাহকদের কী করা উচিত?

    ব্যাঙ্কগুলি ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেভাগে সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। জরুরি কাজ থাকলে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন করে নেওয়া যেতে পারে।

    ধর্মঘট চলাকালীন গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ইউপিআই, এটিএম এবং বিজনেস করেসপন্ডেন্ট (BC) পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যাঙ্কগুলিকে ধর্মঘটের সময় এটিএম-গুলিতে পর্যাপ্ত নগদের ব্যবস্থা রাখতেও বলা হয়েছে।

    অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং টানা তিন দিনের ধর্মঘট মিলিয়ে ব্যাঙ্ক পরিষেবায় টানা কয়েকদিন চাপ তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা থাকা এবং ২৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন-পেনশন দেওয়া—দুই পদক্ষেপই গ্রাহক ও সরকারি কর্মীদের জন্য আগাম প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করবে।

  • KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘপাল্লার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন (Long-Range One-Way Attack Drone) তৈরির ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সম্প্রতি, নয়ডার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা আইজি ডিফেন্স (IG Defence)-এর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কাল’ (KAL) ড্রোন রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সফলভাবে পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষা দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় ড্রোন-ভিত্তিক আক্রমণ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা

    সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’ ড্রোনের সর্বোচ্চ পাল্লা ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর ফ্লাইট এন্ডিওরেন্স বা একটানা উড়ে থাকার ক্ষমতা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পেলোড (বিস্ফোরক) বহন করতে পারে এই ড্রোন। অপারেটিং অল্টিটিউড সর্বোচ্চ ৫০০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ টেক-অফ ওজন প্রায় ২০০ কেজি। ড্রোনটি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতিতে ক্রুজ করতে পারে। দীর্ঘপাল্লার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটিকে তৈরি করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অস্ত্র বা মিশন কনফিগারেশন এবং কার্যকরী অনুমোদনের উপর এর ব্যবহার নির্ভর করবে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘কাল’?

    ‘কাল’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ব্যবস্থা। ম্যানুয়াল পাইলটিংয়ের প্রয়োজন কমাতে এতে মাল্টি-ব্যান্ড জিএনএসএস (GNSS) এবং ইনারশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS)-এর সমন্বিত নেভিগেশন স্যুট ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত মিশন প্রোফাইল অনুযায়ী ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছতে সক্ষম হওয়ার কথা। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’-কে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, রেডার, এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আঘাতের জন্য কনফিগার করা যেতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর বদলেছে ড্রোন যুদ্ধের সমীকরণ

    দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি উৎসের শাহেদ-১৩৬ (Shahed-136) এবং রুশ গেরান-২ (Geran-2)-এর ব্যবহার দেখিয়েছে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়েও দীর্ঘপাল্লার হামলা চালিয়ে শত্রুর এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থার উপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করা সম্ভব।

    পরবর্তী সময়ে শাহেদ-শ্রেণির ড্রোনের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্য এবং লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক সংঘাতেও দেখা গিয়েছে। ফলে দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় স্ট্রাইক ড্রোন এখন আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত যুদ্ধকৌশলের প্রেক্ষাপটেই দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘কাল’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ প্রকল্পের অংশ ‘কাল’

    আইজি ডিফেন্সের ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ (GRID STRIKE) দীর্ঘপাল্লার প্রিসিশন-স্ট্রাইক পোর্টফোলিওর অংশ ‘কাল’। সংস্থার গ্রিড ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (GRID Battle Management System) সঙ্গেও এটি সংযুক্ত করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থা একটি এআই-চালিত সি৫আইএসআরটি (C5ISRT) আর্কিটেকচার, যার লক্ষ্য যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য এবং বিভিন্ন আনম্যানড প্ল্যাটফর্মকে সমন্বয় করা।

    আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয় বলেন, পোখরানে ‘কাল’-এর সফল পরীক্ষা সংস্থার পাশাপাশি ভারতের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলি দেখিয়েছে যে দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন আর কোনও প্রান্তিক সক্ষমতা নয়; আধুনিক যুদ্ধে প্রিসিশন স্ট্রাইক, এয়ার-ডিফেন্স এবং কৌশলগত প্রতিরোধের হিসাবেও এগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘কাল’-এর পোখরান পরীক্ষা তাই শুধু একটি নতুন ড্রোনের ট্রায়াল নয়; দীর্ঘপাল্লার, স্বয়ংক্রিয় এবং দেশীয় মানববিহীন স্ট্রাইক প্রযুক্তি গড়ে তোলার ভারতের বৃহত্তর প্রচেষ্টারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

  • Liver Disease Skin Symptoms: বারবার ব্রণ, ত্বক ফ্যাকাসে ও কালচে ছোপ! সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, লিভার নিয়ে সতর্ক হোন

    Liver Disease Skin Symptoms: বারবার ব্রণ, ত্বক ফ্যাকাসে ও কালচে ছোপ! সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, লিভার নিয়ে সতর্ক হোন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ত্বকের মসৃণ ভাব ক্রমশ কমে আসছে! ত্বকের রং বদলে যাচ্ছে। এমনকি গাল, নাক ও থুতনির নীচে কালচে ছোপ, ক্রমশ গভীর হচ্ছে। তার সঙ্গে বারবার ব্রণ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ত্বকের সমস্যা বলে এড়িয়ে গেলে চলবে না। বরং, বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। কারণ, অনেক সময়েই এগুলো এক গভীর রোগের উপসর্গ হিসাবে জানান দেয়। কিন্তু অসচেতনতার কারণে শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

    কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ত্বকের এই ধরনের উপসর্গ লিভারের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারের অসুখ সম্পর্কে সচেতনতা কম। শুধু হেপাটাইটিস লিভারের রোগ নয়। এছাড়াও লিভারে একাধিক সমস্যা হয়।

    লিভারের বিষাক্ত উপাদান বেড়ে যাওয়ায় কালো ছাপ!

    লিভারে টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান তৈরি হলে বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়। তার জেরে শরীরের একাধিক কোষে প্রভাব পড়ে। ত্বকের মেলানোসাইট কোষগুলোতে পরিবর্তন হয়। অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি হয়। এর ফলেই কোষের রং পরিবর্তন হতে পারে। থুতনি, গালের বিভিন্ন অংশে কালো ছাপ‌ দেখা দেয়।

    হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় ব্রণ!

    লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকলে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অ্যান্ড্রোজেন এবং ইস্ট্রোজেন নামে দুই হরমোন বেড়ে যায়। এই দুই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জেরেই মুখের সিবেসিয়াস গ্রন্থীতে অতিরিক্ত তৈলাক্ত উপাদান তৈরি হতে থাকে। যার ফলে মুখে বারবার ব্রণ দেখা দেয়। ব্রণের সমস্যা কমতে চায় না।

    ইস্ট্রোজেন বেড়ে যাওয়ায় শিরা ফুলে যায়!

    অনেকের নাক ও মুখের শিরা লাল হয়ে ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শরীরের হরমোন ভারসাম্যের জন্য লিভারের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকা জরুরি। সেটায় ব্যাঘাত হলেই ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে, ত্বকের নীচে থাকা রক্তনালী প্রসারিত ও স্ফিত হয়ে যায়। এর জেরেই মুখে বিশেষত নাক ও তার আশপাশের জায়গার শিরা ফুলে যায়। লালচে দেখায়।

    বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ায় ত্বকের রং বদলে যায়!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই ত্বক ফ্যাকাসে দেখায়। আবার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্বলতা এবং মসৃণ ভাব নষ্ট হয়ে যায়। এর নেপথ্যে থাকে লিভারের সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারের ক্ষতি হলে শরীরে বিলিরুবিন নামে একটি উপাদান বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বক, চোখ উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

    কেন বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে লিভারের অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ লিভারের অসুখে আক্রান্ত। যেকোনো ধরনের লিভারের রোগ তাদের রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে লিভারের অসুখ রয়েছে। কিন্তু উদ্বেগজনক হলো, অধিকাংশ আক্রান্ত লিভারের অসুখ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। ফলে, অনেক সময়েই গভীর সমস্যা তৈরি হয়। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে লিভারের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে লিভারের রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাছাড়া যাদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যেও লিভারের রোগের ঝুঁকি বেশি হয়। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তের ত্বকে কোনো সমস্যা বারবার দেখা দিলে, তাঁর আরও বেশি সচেতন হতে হবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তিত ও অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে আত্মনির্ভরতা এখন আর শুধুমাত্র ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লক্ষ্য ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত—প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ভারতে তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল এবং যুদ্ধক্ষমতার নিয়ন্ত্রণও ভারতের হাতে রাখা। গত এক বছরে নীতি সংস্কার, দেশীয় বরাত, বেসরকারি শিল্পের অংশগ্রহণ, স্টার্টআপ এবং তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণে একাধিক পদক্ষেপ সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা কেনাকাটা নীতিতে বড় বদল

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আধুনিকীকরণ বাজেটের ৭৫ শতাংশ দেশীয় শিল্প থেকে কেনাকাটার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি ভারতীয় শিল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। অর্থাৎ, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সংস্থার বাইরে বেসরকারি শিল্পকেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল পরিকাঠামোর অংশ করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।

    ২০২০ সালের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিওর বা ডিএপি-র পর্যালোচনাও শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত ডিএপি ২০২৬-এ দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘স্পাইরাল অ্যাকুইজিশন’-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম কেনার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও নিচের স্তরে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো এবং অটোমেশনের মাধ্যমে কেনাকাটার সময় কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নতুন ‘বাই গ্লোবাল, ম্যানুফ্যাকচার ইন ইন্ডিয়া’ ব্যবস্থার লক্ষ্য বিদেশি অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার বা ওইএম-কে ভারতে উৎপাদন পরিকাঠামো তৈরিতে উৎসাহিত করা। ফলে শুধু মূল অস্ত্র নয়, যন্ত্রাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ারও ধীরে ধীরে দেশেই তৈরি করার সুযোগ তৈরি হবে।

    আমদানি কমাতে স্থানীয় উৎপাদন, এমএসএমই-তে জোর

    দেশে আগে তৈরি হয়নি, কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব—এমন গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট ও সাব-সিস্টেমকে আমদানির বিকল্প হিসেবে তৈরি করতে চালু হয়েছে মেক-৩ ক্যাটেগরি। এদিকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রকল্পে এমএসএমই-দের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্তত দু’টি যোগ্য এমএসএমই অংশ নিলে এই সীমা ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে ছোট ও মাঝারি ভারতীয় সংস্থাগুলিও বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহশৃঙ্খলে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে।

    শুধু গবেষণাগারে প্রযুক্তি তৈরিই নয়, সেটিকে দ্রুত সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। আইডেক্স এবং টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড-এর মাধ্যমে তৈরি সফল স্টার্টআপ প্রোটোটাইপকে দ্রুত অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি বা এওএন-এর পথে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রযুক্তি পরীক্ষায় সফল হলে সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিশ্চিত বরাত দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    মেক-১ ব্যবস্থায় দেশীয় প্রোটোটাইপ তৈরির খরচের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সরকার বহন করছে। একইসঙ্গে আগে সীমিত থাকা সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিও বেসরকারি শিল্পের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার আর্থিক ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।

    ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি বড় অনুমোদন

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি প্রায় ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের তালিকায় ছিল দেশীয় কিউআরএসএএম এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম, উন্নত ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম এবং নেট্রা-র উন্নত এইডব্লিউঅ্যান্ডসি এমকে-১এ সংস্করণ।

    তিন বাহিনীর জন্য মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডিউরেন্স বা মেল ড্রোন, আরও ৯৭টি তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর জন্য রাফাল মেরিন-এর মতো বড় প্রকল্পও রয়েছে। অর্থাৎ, আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য শুধু ছোট অস্ত্র বা যন্ত্রাংশে সীমাবদ্ধ থাকছে না; যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি বিমান এবং ড্রোনের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

    ‘রুদ্র’, ‘ভৈরব’, ‘অশ্নি’—বদলাচ্ছে সেনাবাহিনীর কাঠামো

    যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ভারতীয় সেনাবাহিনীও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোনোমাস সিস্টেম, হাইপারসনিক অস্ত্র, ড্রোন এবং ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনকারী প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মার্ড ব্রিগেড এবং মাউন্টেন ব্রিগেডকে পুনর্গঠন করে রুদ্র অল-আর্মস ব্রিগেড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন যুদ্ধশাখার ক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান চালানো।

    এর পাশাপাশি প্রায় ২৬৪ জন সদস্যের ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, শক্তিবাণ আর্টিলারি রেজিমেন্ট এবং দিব্যাস্ত্র ব্যাটারি গঠনের কাজ এগিয়েছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে অশ্নি ড্রোন প্লাতুন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ব্যাটালিয়ন স্তরেই ড্রোন-নির্ভর নজরদারি শক্তিশালী করা যায়।

    অপারেশন সিঁদুরের পর ড্রোনে আরও জোর

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা বিশেষ করে আনম্যান্ড এরিয়াল সার্ভেল্যান্স বা ইউএএস, কাউন্টার-ইউএএস এবং লয়টারিং মিউনিশনের ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। সেই অনুযায়ী সেনাবাহিনীতে ইউএএস ও কাউন্টার-ইউএএস ব্যবস্থার জন্য একটি বিশেষ কোর কমিটি তৈরি হয়েছে।

    দ্রুত গবেষণা ও উৎপাদনের জন্য বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পেশাল পারপাস ভেহিকল তৈরির পরিকল্পনা এবং অদিতি ও আইডেক্স-এর অধীনে নয়টি ফাস্ট ট্র্যাক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য—যেসব প্রযুক্তির ঘাটতি যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলি দ্রুত দেশীয়ভাবে তৈরি করা।

    নৌবাহিনীতেও একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ

    আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে দৃশ্যমান ছবি পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীতে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ কমিশন হয়েছে—আইএনএস অর্নালা, আইএনএস নিস্তার, আইএনএস উদয়গিরি, আইএনএস হিমগিরি, আইএনএস অন্ধ্রোথ, আইএনএস ইক্ষক এবং আইএনএস মাহে।

    ২০২৬ সালে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস অঞ্জদীপ। এরপর একসঙ্গে আইএনএস অরিধমন ও আইএনএস তারাগিরি নৌবহরে যুক্ত হয়। আইএনএস অরিধমন ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন বহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এরপর কলকাতায় একদিনে আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয় কমিশন করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস নিপুণ। অর্থাৎ, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় শিপইয়ার্ডের সক্ষমতা এবং উৎপাদনের গতি—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    অপারেশন সিঁদুরে তিন বাহিনীর সক্ষমতার পরীক্ষা

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের বাস্তব পরীক্ষাও হয়ে ওঠে। নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ ও সাবমেরিন-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম মোতায়েন করে। সারফেস, এয়ার, স্পেস এবং শোর-বেসড সেন্সরের সমন্বয়ে মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বজায় রাখা হয়।

    বিমানবাহিনীর ক্ষেত্রেও অপারেশন সিঁদুর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দূরপাল্লার প্রিসিশন-গাইডেড ওয়েপন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সামরিক ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা আইএসিসিএস-এর মাধ্যমে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালিত হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময়ে একটি ভারতীয় এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন এয়ারক্র্যাফ্ট ধ্বংস করে। রিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লক্ষ্য শুধু অস্ত্র তৈরি নয়, গোটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশীয় করা

    গত এক বছরের নীতি ও সামরিক পরিবর্তনকে একসঙ্গে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতি এখন শুধু বিদেশি অস্ত্রের পরিবর্তে ভারতীয় অস্ত্র কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    কাঁচামাল, কম্পোনেন্ট, ডিজাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রোটোটাইপ, পরীক্ষা, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার—পুরো ব্যবস্থাটিকেই দেশীয় করার দিকে এগোচ্ছে ভারত।

    এই প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি শিল্প, এমএসএমই এবং স্টার্টআপকে আরও বেশি করে যুক্ত করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্প থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য মূলধনী বাজেটের ৭৫ শতাংশ নির্দিষ্ট রাখার নীতি এই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    ফলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এখন ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’ ধারণার দিকে এগোচ্ছে—যেখানে শুধু অস্ত্রের গায়ে ভারতের নাম থাকাই নয়, সেই অস্ত্রের প্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা, সরবরাহশৃঙ্খল এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণও দেশের হাতে রাখাই হয়ে উঠছে মূল লক্ষ্য।

  • World Alzheimer’s Day: ৪০ পেরোলেই সাবধান! অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে এই ৫ অভ্যাস আজ থেকেই বদলান

    World Alzheimer’s Day: ৪০ পেরোলেই সাবধান! অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে এই ৫ অভ্যাস আজ থেকেই বদলান

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জীবনভর দায়িত্ব পালনের পরে, নিশ্চিন্তে অবসর যাপন! কিন্তু প্রৌঢ়কালে সেই নিশ্চিন্ত আরামের অবসরে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে স্মৃতিশক্তি! বয়স বাড়লেই বাড়ছে স্মৃতিহ্রাসের সমস্যা। পরিস্থিতি এমন হচ্ছে, নিজের নাম ঠিকানা মনে পড়ছে না। এমনকি সন্তানের মুখও অপরিচিত হয়ে উঠছে। বেঁচে থাকলেও, এক অর্থহীন যাপন হয়ে উঠছে। স্বাভাবিক ছন্দে আর জীবন কাটছে না।‌
    ভারতে অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে অ্যালজাইমার। ২১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড অ্যালজাইমার ডে! বিশ্ব জুড়ে এই রোগের দাপট বাড়ছে। বাদ নেই ভারত। ডিমেনশিয়া, অ্যালজাইমারের মতো স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যায় আক্রান্ত বহু ভারতীয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরোলেই আগাম সতর্ক থাকা জরুরি। জীবন যাপনের ধরণে এমন কিছু অভ্যাস আয়ত্ত করতে হবে, যাতে অ্যালজাইমারের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমে।

    ভারতে এই সমস্যা কতখানি প্রবল?

    গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৪২ লাখ মানুষ অ্যালজাইমারের মতো রোগে আক্রান্ত। গোটা বিশ্বে এই রোগে আক্রান্তের একটা বড় অংশ ভারতীয়। ১৯৯০ সালের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণের বেশি আক্রান্ত।‌ এই সংখ্যা ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। ভারতে প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ভারতে এই রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ছে। চল্লিশের পরেই এই রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই মধ্য বয়স থেকেই শরীর ও মনের যথেষ্ট যত্ন নেওয়া জরুরি। তবেই এই রোগের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

    কেন ভারতে অ্যালজাইমারের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের গড় আয়ু বেড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য এক কমবেশি সকলেই গড়ে ৮০ বছরের বেশি বেঁচে থাকেন। দীর্ঘ জীবনের জন্য স্বাস্থ্য সঙ্কট ও নানান রকম তৈরি হয়। তবে, অ্যালজাইমার অনেক সময়েই ৬০ বছরের শুরুতেই দেখা দেয়। দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই সমস্যা দ্রুত হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন বলতে শারীরিক অভ্যাসের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বলা হয়েছে।

    ভারতীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, স্ট্রোকের মতো রোগের প্রকোপ মারাত্মক। এই রোগ একদিকে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। স্নায়ুর নানান জটিল রোগের কারণ হয়ে ওঠে। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখার জন্য মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর সক্রিয় থাকা জরুরি। তাই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন প্রয়োজন।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অ্যালজাইমারের অন্যতম কারণ মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি। বহু ভারতীয় একাকিত্বে ভোগেন। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগ কম হয়। দীর্ঘদিন একাকিত্বে ভুগলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত বন্ধু ও পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। তাছাড়া ভারতীয়দের ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস অ্যালজাইমারের মতো রোগের নেপথ্যে থাকে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই দুই অভ্যাস স্নায়ুর উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। এরফলে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমে যায়।

    চল্লিশের পরে কোন পাঁচ কাজে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরিয়ে গেলেই কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন। জীবন যাপনের ধরনে বাড়তি সচেতনতা এবং যত্ন জরুরি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা রাতারাতি তৈরি হয় না। বরং দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। তারপরে হঠাৎ সেটা সমক্ষে আসে। তাই আগাম, সতর্কতা জরুরি।‌ কয়েকটি অভ্যাস পরিবর্তন করলে বড় বিপদ কমানো সহজ হবে।

    মস্তিষ্কের নতুন কাজ প্রয়োজন!

    মস্তিষ্কের সক্রিয়তা ধরে রাখতে মস্তিষ্ককে নতুন কাজ দেওয়া জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একটা বয়সের পরে মস্তিষ্ক নতুন কাজ কিছু পায় না। কারণ, অধিকাংশ মানুষ একঘেয়ে জীবন কাটিয়ে যান। নতুন কিছু শেখেন না। ফলে, মস্তিষ্কের স্নায়ুর মধ্যেও সক্রিয়তা কমে যায়। ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, বয়স চল্লিশ হলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ কমে। ফলে, মস্তিষ্কের স্নায়ুর সক্রিয়তাও কমে। এটা করলে চলবে না। বরং চল্লিশের পরে নতুন কিছু শেখা জরুরি।‌ নতুন ভাষা, নতুন ধরনের রান্না কিংবা বাদ্যযন্ত্র, ছবি আঁকা কিংবা দাবার মতো খেলা, এমন কিছু শেখা জরুরি, যাতে মস্তিষ্ককে নতুন কিছু মনে রাখতে হয়, মস্তিষ্ক নতুন কাজ পায়। তাহলে স্নায়ু সতেজ ও সক্রিয় থাকবে।

    সামাজিক সক্রিয়তা বজায় রাখা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বহু ভারতীয়ের জীবন যাপনের অন্যতম বড় সঙ্কট হলো, পেশাগত জীবনে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ায়, সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়। পরিবার ও বন্ধু বৃত্ত ক্রমশ ছোটো হয়ে যায়। অনেক সময়েই সেটা একাকিত্বের কারণ হয়ে ওঠে। তাই তাঁদের পরামর্শ, সামাজিক সক্রিয়তার উপরে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে কিছুটা সময় বরাদ্দ করতে হবে। এতে নিজের মনের ভাব সহজে প্রকাশ করা যাবে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষন্নতা কমবে। এর ফলে, মস্তিষ্কের উপরেও বাড়তি চাপ পড়বে না। আবার পরিবারের অন্যদের কথা শুনলে, কিংবা বন্ধুদের সমস্যা বা অভিজ্ঞতার কথা শুনলে, মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কথা বলা, কথা‌ শোনা, মতামত দেওয়া মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যায় ঝুঁকি কমে।

    পর্যাপ্ত ঘুমের সময় জরুরি!

    পেশাগত চাপ ও একাধিক কারণে মধ্য বয়সীদের ঘুমের অভাব, অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নিয়মিত ৮ ঘণ্টাও ঘুমোনোর সুযোগ পান না। দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতে গভীর প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কার্যশক্তি কমতে থাকে। ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চল্লিশের পরে সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, রাতে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ঘুমের অভাব যাতে না‌ হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই নিয়মিত কাজের তালিকা তৈরি করা দরকার।

    ব্রেন হেলথ রুটিন তৈরি জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স চল্লিশ পেরোলেই ব্রেইন হেলথ রুটিন তৈরি জরুরি। অর্থাৎ, এমন একটা জীবন যাপন, যেখানে শরীর মন মস্তিষ্কের যথাযথ যত্ন হবে। অর্থাৎ, নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটা বা যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ থাকবে। যাতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনে অন্তত ২০ মিনিট পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বরাদ্দ করতে হবে। পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে গল্প করা বা খাওয়া দাওয়া করা যেতে পারে। তাহলে সামাজিক যোগাযোগ নিবিড় হবে। অন্তত ৩০ মিনিট গল্পের বই পড়া বা নতুন কিছু শেখার রেওয়াজ করতে হবে। অর্থাৎ দিনের তিরিশ মিনিট নতুন গল্পের বই পড়া বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা ছবি আঁকার জন্য বরাদ্দ করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য এলাকার যেকোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। এর ফলে বিভিন্ন নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতেও একটা নিয়ম জরুরি। ব্রেইন হেলথ রুটিন মেনে চললে, সেই কাজ সহজ হবে।

    স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়লে নিজের শরীরের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। ডায়াবেটিস, রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমবে। স্নায়ুর জটিলতা দেখা দেবে। তাই এমন কিছু খাবার খাওয়া প্রয়োজন যাতে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। আবার, ধূমপান, মদ্যপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Vishwakarma Puja: বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ওড়ে ঘুড়ি? ‘ভোক্কাট্টা’র নেপথ্যে রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস

    Vishwakarma Puja: বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ওড়ে ঘুড়ি? ‘ভোক্কাট্টা’র নেপথ্যে রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja)। আর বিশ্বকর্মা তথা দেবশিল্পীর পুজো মানেই দুর্গাপুজোর ফাইনাল কাউন্টডাউন শুরু। এই দিনটির আরও এক বিশেষ আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো (Kite Flying)। নীল আকাশের বুকে রং-বেরঙের ঘুড়ির মেলা—একসময় বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে যা ছিল অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

    একটা সময় ছিল, যখন মানুষের ব্যস্ততা এত বিরামহীন ছিল না। সেই সময় কলকাতা তথা বাংলার আকাশে বিশ্বকর্মা পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই দখল নিতে শুরু করত ঘুড়ি। পুজোর দিন ভোর থেকেই বাচ্চা থেকে বয়স্ক—নাটাই, মাঞ্জাসুতো হাতে সকলে মেতে উঠতেন ঘুড়ির প্যাঁচের প্রতিযোগিতায়। সকাল থেকে বিকেল আকাশজুড়ে দেখা যেত ঘয়লা, পেটকাটি, চাপরাস, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, ময়ূরপঙ্খী, বগ্গা-সহ নানা ধরনের ঘুড়ি। বাতাস মুখরিত হত একটাই শব্দে—‘ভোক্কাট্টা!’

    এখন অবশ্য সেই দিন অনেকটাই অতীত। ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে গিয়েছে সেই উন্মাদনা ও আমেজ। শহরের আকাশে আগের মতো ঘুড়ির মেলাও আর দেখা যায় না। ইতিউতি কোথাও, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুড়ি ওড়ে (Kite Flying)। তবু বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্য আজও বাঙালির নস্টালজিয়ার অন্যতম অংশ।

    পুরাণ মতে কেন বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানো হয়?

    পুরাণ মতে, বিশ্বকর্মা হলেন দেবতাদের শিল্পী। স্বর্গে দেবতাদের যে কোনও ধরনের কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন পড়লেই মুশকিল আসান একমাত্র বিশ্বকর্মা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশ্বকর্মাই দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথ তৈরি করেছিলেন। সেই উড়ন্ত রথের স্মৃতিকে ঘিরেই বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    ঋগ্বেদের সঙ্গে যুক্ত ব্যাখ্যায় বিশ্বকর্মাকে সৃষ্টিশীলতা, নির্মাণ ও কারিগরি বিদ্যার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পুরাণের কাহিনিতে কৃষ্ণের বাসস্থান দ্বারকা নগরী নির্মাণের সঙ্গেও বিশ্বকর্মার নাম জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই শ্রমিক থেকে ইঞ্জিনিয়ার—কারিগরি ও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে বিশ্বকর্মা পুজোর গুরুত্ব বরাবরই বিশেষ।

    বাংলায় কবে থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর চল?

    ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলায় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে জোরালো হয়ে ওঠে। প্রায় ১৮৫০ সাল নাগাদ কলকাতা ও গ্রাম বাংলার কিছু বিত্তশালী জমিদার ঘুড়িতে টাকা বেঁধে ওড়াতেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর চল ততটা জনপ্রিয় ছিল না; মূলত ধনী ও অভিজাতদের মধ্যেই এই শখ সীমাবদ্ধ ছিল।

    তবে কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানোর সংস্কৃতির বিস্তারের সঙ্গে নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের নামও জড়িয়ে রয়েছে। ১৮৫৬ সালে অওধের সিংহাসন হারিয়ে কলকাতায় আসেন তিনি। পরে মেটিয়াবুরুজে নিজের আবাস গড়ে তোলেন। তাঁর সঙ্গে কলকাতায় আসে লখনউয়ের নানা সাংস্কৃতিক রীতি ও বিনোদনের ধারা। তারই অন্যতম ছিল ঘুড়ি ওড়ানো ও ঘুড়ির লড়াই।

    ওয়াজেদ আলি শাহের মেটিয়াবুরুজের ‘ছোটা লখনউ’-এ ঘুড়ি ওড়ানো ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে সেই সংস্কৃতি কলকাতার রাজা, জমিদার ও অভিজাত সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক সূত্রে এমনও উল্লেখ রয়েছে যে, সেই সময় ঘুড়ি ওড়ানো শুধু বিনোদন ছিল না, বরং আভিজাত্য ও ঐশ্বর্য প্রদর্শনেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।

    আজ অবশ্য শহরের আকাশে সেই পুরনো দিনের মতো ঘুড়ির ভিড় নেই। উঁচু বহুতল, খোলা জায়গার অভাব, মানুষের ব্যস্ততা এবং মোবাইল-নির্ভর বিনোদনের কারণে কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহ্য অনেকটাই ফিকে হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিতেও উঠে এসেছে।

    তবু বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে নীল আকাশে হঠাৎ কোনও রঙিন ঘুড়ি ভেসে উঠলে আজও যেন ফিরে আসে পুরনো কলকাতার সেই দিনগুলি। নাটাই হাতে ছাদে দাঁড়ানো ছোট-বড় সকলের চোখে তখন একটাই অপেক্ষা—কখন প্রতিপক্ষের ঘুড়ি কাটা যাবে, আর চারপাশে শোনা যাবে সেই চেনা ডাক—‘ভোক্কাট্টা!’

  • Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দুই নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী।

    নির্বাচন কমিশনের তরফে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত হিসাব জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই নয়, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথগুলির পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

    নন্দীগ্রামে ৩৭, রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রেজিনগরে থাকবে ৩৪ কোম্পানি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সাধারণত এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রায় ১০০ জন অফিসার ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

    ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং

    নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নন্দীগ্রামে মোট বুথ রয়েছে ২৮২টি এবং রেজিনগরে বুথের সংখ্যা ৩১৫টি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুথের পাশাপাশি সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাতেও নজরদারি চালাবেন। ভোটের আগে এলাকায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন উপনির্বাচন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে?

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

    অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর। তিনিও রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি।

    তৃণমূলের প্রতীক-জটিলতায় নজর

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এই পরিস্থিতিতেই দুই শিবির আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।

    ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দুই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা

    নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

    নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন হরি লাল চৌহান এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক সন্তোষ দাস। রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন এম বি বোরলিঙ্গাইয়া এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক হর্ষল পঞ্চোলী।

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে কমিশনের এই বিপুল নিরাপত্তা আয়োজনের ফলে ভোটের প্রস্তুতি এখন আরও তুঙ্গে।

LinkedIn
Share