Tag: মাধ্যম বাংলা

  • India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে শুধু যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কৌশলগত দায়িত্বেই ছিলেন না ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটরা। সরাসরি যুদ্ধ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচালিত একাধিক মিশনে মহিলা পাইলটরা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমনই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় এক মহিলা ফাইটার পাইলট সুখোই সু-৩০ (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিলেন। এই যুদ্ধবিমান ব্রহ্মোস (BrahMos) ও র‌্যামপেজ  (Rampage) -এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা সূত্র। অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত এখনও গোপনীয় বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, হামলার পর পাকিস্তান কয়েকটি জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলির ধরন ও উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহৃত অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

    একাধিক মহিলা পাইলট ছিলেন অপারেশন সিঁদুরে

    সম্প্রতি ১৫ অগস্ট মুক্তি পেয়েছে  ডিসকভারির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮৮ ঘণ্টার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের নেপথ্যের পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ওই তথ্যচিত্রে। সেখানে এক মহিলা অফিসারের বক্তব্যও রয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে একাধিক মহিলা ফাইটার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সুখোই-৩০ এবং রাফাল (Rafale)— দুই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন। কেউ ককপিটের সামনের আসনে বসে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আবার কেউ পিছনের আসনে বসে উইপন সিস্টেম অপারেটর (WSO) হিসেবে অভিযানে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের ব্যাখ্যা, ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা পাইলটের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকে না। একই প্রশিক্ষণ, একই অপারেশনাল দায়িত্ব এবং একই ধরনের যুদ্ধ মিশনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়।

    ৭ মে-র ব্রিফিংয়ের বাইরেও ছিল মহিলা অফিসারদের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরের সময় মহিলা অফিসারদের ভূমিকা প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। ৭ মে-র সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার হয়ে সামনে এসেছিলেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা অপারেশনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় স্পষ্ট হচ্ছে, মহিলা অফিসারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ভারতের প্রথম সারির যুদ্ধবিমান নিয়ে সরাসরি অপারেশনাল মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রথম দিনেই ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত। এর মধ্যে পাকিস্তানের মুরিদকেতে থাকা মারকাজ তৈবা ছিল লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানাল্লা ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়াও মুজফফরাবাদ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং ভিম্বরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের নয়টি টার্গেটের মধ্যে মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অন্য লক্ষ্যগুলিতে ভারতীয় সেনা লয়টারিং মিউনিশন এবং দূরপাল্লার আর্টিলারি ব্যবহার করে আঘাত হানে।

    বালাকোটের তুলনায় অনেক বড় অভিযান

    মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলার তাৎপর্য ছিল যথেষ্ট বেশি। মুরিদকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বাহাওয়ালপুর ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল ভারত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে একসঙ্গে নয়টি টার্গেটে হামলা চালানো হয়। এরপর অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। পাকিস্তান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার গণ্ডি পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভিন্ন পর্যায়ে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্রহ্মোস, স্ক্যাল্প-সহ একাধিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।

    পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মোস হামলা?

    অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে ব্রহ্মোস উৎক্ষেপণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিও ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল।

    অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটদের ভূমিকা শুধুমাত্র প্রতীকী বা সহায়ক ছিল না। প্রতিরক্ষা সূত্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ অভিযানে সরাসরি অপারেশনাল কমব্যাট মিশনের অংশ ছিলেন। তবে কোন পাইলট কোন নির্দিষ্ট মিশনে কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তার বিস্তারিত এখনও সামরিক গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে।

  • Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুরোনো আতঙ্ক কি ফের ফিরে আসছে? এই নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকদের একাংশ। দিন কয়েক আগে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে! আর তারপরেই ফের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না থাকলে ফের বিপদ বাড়তে পারে‌।

    কেন আবার করোনা নিয়ে উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সন্দীপ বাগ মারা যান। জানা যায়, তাঁর শরীরে করোনা সদৃশ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ওই চিকিৎসক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই চিকিৎসকের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ডেথ সার্টিফিকেটে অবশ্য মৃত্যুর কারণ হিসাবে, ম্যাসিভ অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন’ অর্থাৎ গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্রমণ থেকে হার্টের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই এই পরিণতি ঘটে। তবে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে করোনার মতো ভাইরাস সক্রিয় ছিল বলেই জানা যায়। তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। হঠাৎ এই মৃত্যুতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যুর পরে বাড়তি সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।

    করোনা পরিস্থিতি কতখানি উদ্বেগজনক?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে অবশ্যই সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাছাড়া করোনা টিকা করণ হয়ে গিয়েছে। ফলে, ২০১৯ সালের মতো পরিস্থিতি আর হয়তো তৈরি হবে না। সংক্রমণ ঘটলেও রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মৃত্যু মিছিল আটকানো যাবে। কারণ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সম্পর্কেও এখন ধারণা রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এমন কোনো তথ‌্য নেই। তাই অযথা উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু অবশ্যই সচেতনতা জরুরি।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    করোনা মহামারির দাপট যাতে ফের ফিরে না আসে, তার জন্য প্রথম থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ রুখতে সচেতনতা জরুরি। করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা জারি রাখতে হবে।

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, ফের মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ করেই এই ভাইরাস মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই মাস্ক করোনা রুখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে‌। হাতে তালু দিয়ে করোনা নাক ও মুখে প্রবেশ করে। আর সেখান থেকেই এই ভাইরাস শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই করোনা সংক্রমণ রুখতে অন্যতম হাতিয়ার মাস্ক। নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরে তবেই বাইরে যাওয়া উচিত। বিশেষত বয়স্কদের অবশ্যই বাইরে ভিড় এলাকায় যাওয়ার আগে মাস্ক পরা প্রয়োজন। বয়স্কদের করোনা বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই ষাটোর্ধ্বদের বেশি সচেতন থাকতে হবে।

    হাত পরিষ্কারের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের পরামর্শ, বাইরে থেকে ফিরলেই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার খাওয়ার আগে এবং পরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যাতে হাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়। যাতে হাত থেকে শরীরের ভিতরে ভাইরাস সংক্রমিত না হতে পারে।

    তাছাড়া জ্বর, সর্দি-কাশি হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিৎ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে কাবু হচ্ছেন‌। অনেক সময়েই সেটা সাধারণ ভাইরাস ঘটিত জ্বর । কিন্তু দিন দুয়েক টানা জ্বর থাকলে সেটা অবহেলা করা যাবে না।‌ কারণ, তাতে করোনার মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমেই রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। পাশপাশি চিকিৎসা দ্রুত শুরু হলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

  • West Bengal STF: রানা রউফকে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় আনল কে? তপসিয়া থেকে গ্রেফতার আরও এক

    West Bengal STF: রানা রউফকে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় আনল কে? তপসিয়া থেকে গ্রেফতার আরও এক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি-যোগ এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা এবং তার জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরিতে সাহায্য করার অভিযোগে তপসিয়া থেকে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃতের নাম ইমরান হোসেন। এর আগে রানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে তপসিয়া থেকেই মহম্মদ ইজাজ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ফলে রানা-কাণ্ডে কলকাতা থেকে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়ল।

    কাঠমান্ডু থেকে রানাকে কলকাতায় আনার অভিযোগ

    গত ১২ অগাস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে কলকাতায় বসবাস করছিল সে। নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে ভারতে ঢুকে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল রানা। তদন্তে উঠে এসেছে, ইমরান হোসেনই কাঠমান্ডু থেকে রানাকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিল। শুধু তাই নয়, রানার জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরিতেও ইমরান সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। সোমবার তাকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এসটিএফের ধারণা, ইমরানকে জেরা করলে রানা-যোগে আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে এসটিএফ।

    আইএসআই-যোগের অভিযোগ, তৈরি হচ্ছিল ‘সেল’?

    রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভারতে একটি ‘সেল’ তৈরি করার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ।অভিযোগ, সেনা ও বিএসএফের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল রানা। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি, ভিডিও এবং মানচিত্র সংগ্রহেরও চেষ্টা করেছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের হাতে রানার পাকিস্তানি পাসপোর্টের নম্বর আসার পর তার আসল পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার ছক ছিল বলে অভিযোগ। বাংলাদেশ সীমান্তে রানার জন্য পাভেল নামে এক সহযোগী অপেক্ষা করছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তবে এখনও তার সন্ধান মেলেনি। বাংলাদেশেও কোনও মডিউল তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

    রানার ডায়েরিতে একাধিক দেশের নম্বর

    রানা নিজের মোবাইল নষ্ট করে দিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে তার কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ডায়েরিতে নেপাল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই নম্বরগুলির সঙ্গে রানার কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    আল কায়দার মতাদর্শে জেহাদি মডিউল তৈরির অভিযোগ, ধৃত ২

    অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে আল কায়দার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জেহাদি মডিউল তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এবং বিড়লাপুরে অভিযান চালিয়ে জানাদুল বেগ ও সফিক শেখকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত দু’জনকে সোমবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে দেশবিরোধী ও সরকারবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নোদাখালি থানায় মামলা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে এসটিএফ তাদের সঙ্গে জেহাদি কার্যকলাপের যোগসূত্রের সন্ধান পায়।

    ‘মুঘলেজম’ ও ‘জেহাদ কি সবিবিল্লা’ নামে পেজ

    তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তেরা ‘মুঘলেজম’ এবং ‘জেহাদ কি সবিবিল্লা’ নামে দুটি সমাজমাধ্যমের পেজ খুলেছিল। ওই পেজগুলির মাধ্যমে উস্কানিমূলক ও দেশবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু প্রচার নয়, সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজেদের সংগঠনও বিস্তারের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সংগঠনে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জেহাদি মডিউল তৈরির পাশাপাশি অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টাও চলছিল। তবে এই অভিযোগগুলির বিস্তারিত প্রমাণ এবং মডিউলের পরিধি জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসটিএফ।

    হামিম মণ্ডল-কাণ্ডের পর ফের বড় অভিযান

    এর আগে, বর্ধমানে অভিযান চালিয়ে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য এসটিএফ। তার সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরই হাবড়া থেকে পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবার একই ঘটনায় ইমরান হোসেনের গ্রেফতারি তদন্তকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। একই সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জেহাদি মডিউল তৈরির অভিযোগে জানাদুল বেগ ও সফিক শেখের গ্রেফতারি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, পশ্চিমবঙ্গে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা চলছিল কি না। রানা-যোগ এবং জেহাদি মডিউল— দুই মামলার তদন্তেই এখন নজর রয়েছে এসটিএফের। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

  • Fatty Liver: লিভারে চর্বি জমছে? প্রাতঃরাশের পাতে রাখুন এই খাবারগুলি, মিলবে উপকার

    Fatty Liver: লিভারে চর্বি জমছে? প্রাতঃরাশের পাতে রাখুন এই খাবারগুলি, মিলবে উপকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। বিশেষত নন অ্যালকোহল ফ্যাটি লিভারের বিপদ আরও বাড়ছে। একাধিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ফ্যাটি লিভারের সমস্যার ভুগছেন শিশু থেকে প্রৌঢ়! বিশেষত চল্লিশোর্ধ্বদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাটি লিভারের সমস্যা শরীরের একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। লিভারের বড় জটিল সমস্যা, অন্ত্রের রোগ, হজমের গোলমাল এমনকি একাধিক হরমোন ঘটিত অসুখের নেপথ্যে থাকছে ফ্যাটি লিভার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগের প্রকোপ থেকে বাদ নেই শিশুরাও। ভারতীয় শিশুদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বয়স দশ কিংবা বারো বছর। কিন্তু তারাও এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে। ফলে দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপন মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলেই ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু গত এক দশকে সেই ভাবনা বদলে গিয়েছে। জীবন যাপনের ধরনের জেরেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হচ্ছে। যার নাম নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। তবে, এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে জলখাবার। এমনটাই জানাচ্ছেন, পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাতঃরাশে কী খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। বিশেষত ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের মোকাবিলায় প্রাতঃরাশ খুবই জরুরি।‌ এই ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রাতঃরাশের খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    প্রাতঃরাশের কোন খাবার ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে?

    মুগের ডালের ছিলা!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাতঃরাশে সুষম খাবার নিয়মিত খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার লিভারে অপ্রয়োজনীয় চর্বি তৈরি করে। ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। জলখাবারে মুগ ডালের ছিলার মতো খাবার খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে। তাঁদের পরামর্শ, মুগ ডালের পেস্ট বানিয়ে প্যানকেকের মতো তৈরি করতে হবে। তার মধ্যে কিছু সবুজ সব্জি যেমন ক্যাপসিকাম, বিনস কিংবা ভূট্টার মতো দানাশস্য ও দেওয়া যেতে পারে। তাহলে একসঙ্গে শরীরে প্রোটিন ও ভিটামিনের উপাদান পৌঁছবে। সকালে এই জাতীয় খাবার খেলে পেট ভরে থাকবে। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার ঝুঁকি কমবে। আবার ভিটামিন ও ভালো প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি কমাবে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা মোকাবিলা সহজ হবে।

    ডিম ও সব্জি দিয়ে রুটি!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিম, সবুজ সব্জি ও পরিমাণ মতো দানাশস্য একসঙ্গে নিয়মিত প্রাতঃরাশে থাকলে লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো থাকবে। ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, নিয়মিত আটা, মিলেট বা বাজরার রুটি সব্জির পুর এবং ডিম দিয়ে বানিয়ে প্রাতঃরাশে খাওয়া যেতে পারে। সব্জির মধ্যে পালং শাক, গাজরের মতো সব্জি দেওয়া যেতে পারে। যেখান থেকে শরীর সহজেই ভিটামিন‌ সংগ্রহ করতে পারবে। আবার মাশরুম ও খাওয়া যেতে পারে।

    দই এবং বেরি মেশানো!

    টক দই লিভারের জন্য খুবই উপকারি।‌ তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের মোকাবিলায় টক দই হাতিয়ার হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময় সকালের জলখাবার ভারি খেতে ইচ্ছে হয় না। কখনো কখনো হালকা খাবার খেতে ইচ্ছে হয়। এমন সময় বেরি মেশানো টক দই খাওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, টক দই অন্ত্রের জন্য উপকারি। এতে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। ফলে লিভার, পাকস্থলী, অন্ত্র ভালো রাখে। আবার বেরিও শরীরের জন্য উপকারি। এতে মেদ জমে না। বরং স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে, ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ মোকাবিলা সহজ‌ হয়। তাই, ফ্যাটি লিভারের বিপদ রুখতে বেরি মেশানো টক দই খাওয়া যেতে পারে।

    সব্জি ও ডিম দেওয়া স্যান্ডুইচ!

    শশা, পিঁয়াজ, টমেটো, গাজর, লেটুস পাতার মতো রঙিন সব্জি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এগুলোতে শরীরে মেদ জমে না।‌ বরং এই ধরনের খাবার ক্যালোরি ক্ষয় করতে সাহায্য করে। ফ্যাটি লিভার রুখতে এই ক্যালোরি ক্ষয় করা জরুরি। তাই সকালের জলখাবারে পাউরুটির ভিতরে শশা, পিঁয়াজ, টমেটো, লেটুস পাতা দিয়ে ভরে স্যান্ডুইচ বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে এরসঙ্গে পাতে একটা বা দুটো সেদ্ধ ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ফাইবারের সঙ্গে প্রোটিন থাকা জরুরি। তাই সিদ্ধ ডিম থাকলে সুষম আহার হবে। ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমবে। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রাতঃরাশে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা খুবই জরুরি। ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে লুচি, পরোটা, অতিরিক্ত তেলেভাজা জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন বার্গার, পিৎজা এগুলো কখনোই খাওয়া যাবে না। কারণ এগুলো লিভারের ক্ষতিকারক চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Tarapith Hotel Fire: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পুড়ে-দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু অন্তত ৬ পুণ্যার্থীর

    Tarapith Hotel Fire: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পুড়ে-দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু অন্তত ৬ পুণ্যার্থীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল বীরভূমের তারাপীঠ। মন্দিরের অদূরে পাঁচতলা একটি হোটেলে আগুন লেগে অন্তত ৬ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃতদের মধ্যে কেউ আগুনে পুড়ে এবং কেউ ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার হওয়ায় এ দিন সকাল থেকেই তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল। বহু মানুষ পুজো দিতে এসে বিভিন্ন হোটেলে উঠেছিলেন। তার মধ্যেই ভোরের দিকে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

    ভোরে হঠাৎ আগুন, ঘন কালো ধোঁয়ায় আতঙ্ক

    তারাপীঠ থানার কাছেই পুকুরপাড়ে রয়েছে ‘বিদেশিনী’ নামে পাঁচতলা হোটেলটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ হোটেলের বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি হঠাৎ ফেটে যায়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে হোটেলের নিচের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শিশু ও পুণ্যার্থীরাও ছিলেন। আচমকা ধোঁয়ায় ঘর ও সিঁড়ি ভরে যাওয়ায় অনেকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আটকে পড়েন। আতঙ্কে হোটেলের ভিতরে শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি।

    প্রাণ বাঁচাতে বেরোতে গিয়ে বিপত্তি

    হোটেল মালিক কল্যাণ পাল জানান, আগুন লাগার পর রাতপাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারের সামগ্রীতে আগুন ধরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কল্যাণ পাল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা উঠে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনটা আরও বেড়ে যায়।’’ তাঁর দাবি, দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ধোঁয়া হোটেলের উপরতলাগুলিতেও পৌঁছে যায়। ঘর ও সিঁড়ি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় আতঙ্কে আবাসিকেরা বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। হোটেল মালিক আরও বলেন, ‘‘হঠাৎই ঘর ও সিঁড়ি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে গেলে আবাসিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। আতঙ্কে ঘর থেকে আবাসিকেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। তাঁরা বাইরে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁরা রিসেপশন দিয়ে বেরোতে শুরু করেন। তখনই অনেকে ঝলসে যান।’’

    উপরতলাতেও আটকে ছিলেন অনেকে

    আগুন মূলত হোটেলের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ায় উপরতলার আবাসিকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। নিচে আগুন থাকায় তাঁদের অনেকেই নিরাপদে বেরোতে পারেননি। আতঙ্কে কয়েকজন উপর থেকে জিনিসপত্র নিচে ফেলতে শুরু করেন। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, উপরতলায় থাকা আবাসিকদের মধ্যে বড় ধরনের আঘাতের খবর নেই।

    দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল

    হোটেলটি তারাপীঠ থানার কাছেই হওয়ায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। খবর পেয়ে দমকলের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হোটেলের ভিতর থেকে আবাসিকদের একে একে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। আগুনে দগ্ধ এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে তারাপীঠে যখন পুণ্যার্থীদের ভিড় তুঙ্গে, তখনই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা চলার পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, সে দিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের।

  • Independence Day 2026: স্বাধীনতার লড়াইয়ে যাঁরা জাগিয়েছিলেন দেশ, তাঁদের সেরা ১২ বাণী

    Independence Day 2026: স্বাধীনতার লড়াইয়ে যাঁরা জাগিয়েছিলেন দেশ, তাঁদের সেরা ১২ বাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৫ অগাস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই দীর্ঘ প্রায় দুই শতকের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ভারত। সেই স্বাধীনতা সহজে আসেনি। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, কারাবরণ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে দেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবসের সকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। তাঁদের লড়াই শুধু একটি পরাধীন দেশকে মুক্ত করার জন্য ছিল না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক ভারত গড়ার স্বপ্নও ছিল। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে সেইসব বীরের কিছু অমর উক্তি আজও নতুন করে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে।

    একনজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁদের সেই বাণী—

    ভগৎ সিং

    “স্বাধীনতা মানুষের অবিচ্ছিন্ন অধিকার। ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমার চিন্তাকে ওরা কখনও মারতে পারবে না।”

    মহাত্মা গান্ধী

    “প্রথমে তারা তোমাকে উপেক্ষা করবে, তারপর তোমাকে দেখে হাসবে। তারপরে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। শেষে কিন্তু জয় তোমারই হবে।”

    জওহরলাল নেহরু

    “পুঁজিবাদী সমাজের শক্তিগুলিকে যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে ধনীরা আরও ধনী এবং দরিদ্ররা আরও দারিদ্রতার স্বীকার হবে।”

    ভীম রাও আম্বেদকর

    “কোনও সম্প্রদায়ের অগ্রগতি আমি সেই সম্প্রদায়ের নারীর অগ্রগতির নিরিখে পরিমাপ করি।”

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

    “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কিংবদন্তি বিপ্লবী চন্দ্রশেখর আজাদের কণ্ঠেও ধ্বনিত হয়েছিল অদম্য আত্মবিশ্বাস—

    চন্দ্রশেখর আজাদ

    “দুশমন কি গোলিও কা হাম সামনা করেঙ্গে / আজাদ হি রহে হ্যায়, আজাদ হি রহেঙ্গে।”

    দেশের ঐক্য ও নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

    “এদেশের সমস্ত নাগরিককে মনে রাখতে হবে যে তারা ভারতীয় এবং এই দেশে তাদের সমস্ত অধিকার রয়েছে, সমস্ত কর্তব্যও রয়েছে।”

    বিপ্লবীদের মুখে দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগের যে অঙ্গীকার শোনা যেত, তারই প্রতিধ্বনি রয়েছে রামপ্রসাদ বিসমিলের বিখ্যাত পংক্তিতে—

    রামপ্রসাদ বিসমিল

    “সরফরোশি কি তমন্না অব হামারে দিল মে হ্যায় / দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-ই-কাতিল মে হ্যায়”

    স্বরাজের দাবিকে সাধারণ মানুষের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে বাল গঙ্গাধর তিলকের বিখ্যাত উক্তি আজও স্মরণীয়।

    বাল গঙ্গাধর (লোকমান্য) তিলক

    “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি সেটা অর্জন করবই।”

    নারী জাগরণ, শিক্ষা এবং সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রশ্নেও স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গিয়েছেন। সরোজিনী নাইডুর কথায় উঠে এসেছিল সেই প্রত্যয়ের কথা।

    সরোজিনী নাইডু

    “আমরা গভীর আন্তরিকতা, বক্তৃতায় আরও সাহস এবং কর্মে আন্তরিকতা চাই।”

    অল্প বয়সেই দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার সেই অদম্য মানসিকতার পরিচয় মেলে তাঁর কথায়—

    ক্ষুদিরাম বসু

    “আমি গীতাপাঠ করেছি। আমার মৃত্যুভয় নেই।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামের আর এক অগ্নিযুগের বিপ্লবী ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন। তাঁর আহ্বানে ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প—

    মাস্টারদা সূর্য সেন

    “লক্ষ্যে পোঁছানোর আগে মৃত্যুর হিমশীতল তোমাদের স্পর্শ করলে তোমরা অনুগামীদের হাতে এই অন্বেষণ এর ভার তুলে দেবে-যেমন আমি তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। প্রিয় বন্ধুরা-এগিয়ে চল-কখনও পিছিয়ে যেও না। ওই দেখা যাচ্ছে স্বাধীণতার নবারুণ। উঠে-পড়ে লাগো। কখনও হতাশ হয়ো না। সাফল্য আমাদের সুনিশ্চিত।”

    স্বাধীনতার স্বপ্ন শুধু রাজনৈতিক মুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ভয় থাকবে না, জ্ঞান হবে মুক্ত এবং মানুষের চিন্তা ও কর্ম কোনও সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। তাঁর ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার সেই অমর প্রার্থনা আজও স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ মনে করিয়ে দেয়—

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
    জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
    আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
    বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি,
    যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
    উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
    দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
    অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়,
    যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
    বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
    পৌরুষেরে করে নি শতধা, নিত্য যেথা
    তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা,
    নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ;
    ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত॥”

    উন্নত ভারতের স্বপ্নের প্রতীক

    স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে এই বাণীগুলি তাই শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায় থাকা কিছু উক্তি নয়। এগুলি আত্মত্যাগ, সাহস, অধিকার, কর্তব্য, ঐক্য এবং একটি উন্নত ভারতের স্বপ্নের প্রতীক। জাতীয় পতাকার তলায় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের আদর্শকে মনে রাখাই হতে পারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অন্যতম সার্থকতা।

  • Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১৫ অগাস্ট। স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ভারত। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিন। দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত—জাতীয় পতাকার রঙে সেজে উঠেছে ভারত। স্বাধীনতা অর্জনের এই পথ অবশ্য সহজ ছিল না। বহু আন্দোলন, বিদ্রোহ, আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এসেছে ১৯৪৭-এর ১৫ অগাস্ট। আজকের দিনে তাই ফিরে দেখা যাক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    ১৮৫৭-র বিদ্রোহ: স্বাধীনতার প্রথম বড় স্ফুলিঙ্গ

    ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইতিহাসে এটি সিপাই বিদ্রোহ বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবেও পরিচিত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুত বিস্তৃত আকার নেয়। মঙ্গল পাণ্ডে, বাহাদুর শাহ জাফর, রানি লক্ষ্মীবাই, নানা সাহেব-সহ বহু নেতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের আগুন।

    স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক

    ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে স্বদেশি ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিদেশি পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয় দেশবাসীকে। বিশেষ করে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় স্বদেশি আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পায়। বাল গঙ্গাধর তিলকের মতো নেতারা দেশীয় শিল্প ও পণ্যের প্রসারে জোর দেন। স্বদেশি ভাবনা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

    ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন

    স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলন। ১৯৪২ সালের ৮ অগাস্ট বম্বেতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের উদ্দেশে ওঠে ‘ভারত ছাড়ো’ স্লোগান। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে স্বাধীনতা অর্জন। দেশজুড়ে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয় এবং বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী গ্রেফতার হন।

    ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা থেকে আজকের তেরঙা

    স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ একদিনে তৈরি হয়নি। ১৯০৬ সালের ৭ অগাস্ট কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। সেই পতাকায় ছিল সবুজ, হলুদ ও লাল রং। পরবর্তীতে জাতীয় পতাকার নকশায় একাধিক পরিবর্তন আসে। ১৯২১ সালে পিঙ্গালি বেঙ্কাইয়া তেরঙার নকশা উপস্থাপন করেন। বর্তমান জাতীয় পতাকায় রয়েছে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রং এবং মাঝখানে ২৪টি কাঁটাযুক্ত নীল অশোকচক্র। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই সংবিধান সভা ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান নকশা গ্রহণ করে। স্বাধীনতার পর ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু।

    ‘জনগণমন’ কীভাবে জাতীয় সঙ্গীত হল?

    ভারতের স্বাধীনতার সময় কোনও আনুষ্ঠানিক জাতীয় সঙ্গীত ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১১ সালে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ রচনা করেন। পরবর্তীতে এর প্রথম স্তবক ‘জনগণমন’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘জনগণমন’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করে।

    জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস

    স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি রচনা করেন। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    র‌্যাডক্লিফ লাইন ও দেশভাগ

    স্বাধীনতার সঙ্গে ভারতীয় ইতিহাসে যুক্ত হয়ে আছে দেশভাগের গভীর বেদনা। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফকে। পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের সীমারেখা নিয়ে কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৭ সালের ১৭ অগাস্ট তা প্রকাশ্যে আসে। স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন পর প্রকাশিত সেই সীমারেখা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও বাসস্থানকে বদলে দেয়।

    ১৫ অগাস্ট ১৯৪৭: স্বাধীন ভারতের জন্ম

    অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন—১৫ অগাস্ট, ১৯৪৭। দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। একই সঙ্গে দেশভাগের ফলে জন্ম নেয় পাকিস্তান। ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন প্রথমে ১৯৪৮ সালের ৩০ জুন ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এগিয়ে আনা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা অর্জন করে ভারত।

    লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা উত্তোলন

    স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীনতার প্রথম প্রভাতে জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তিনি। সেই ভাষণে নেহরুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীন ভারতের নতুন যাত্রার প্রত্যয়—“গোটা পৃথিবী যখন ঘুমোচ্ছে, তখন ভারত জাগবে নতুন জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে।” আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সেই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও স্বপ্নকেই ফের স্মরণ করছে দেশ। স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু অতীতের একটি অধ্যায় নয়— এটি ভারতীয় গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় চেতনার ভিত্তি।

  • ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে ধৃত সন্দেহভাজন পাকিস্তানি চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, রানার নোটবুক ও ডায়েরি থেকে অন্তত ৬ জন আন্তর্জাতিক স্তরের পাক এজেন্টের নাম মিলেছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জন নেপালের এবং ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সেনা ছাউনি, বিএসএফ ক্যাম্প, গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন, রেলপথ এবং সামরিক পরিকাঠামোর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠাত রানা। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের অভিযোগও। বিএসএফ ও ভারতীয় সেনার গতিবিধি এবং ভারতীয় রেলের নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ।

    মোবাইল ভেঙেও রক্ষা হল না

    তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের তথ্য মুছে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল রানা। নেপালে গিয়ে ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। তবে তার কাছে থাকা দুটি সিমকার্ড নষ্ট করতে পারেনি সে। সেই সিমকার্ড এখন তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। এদিকে রানার নোটবুক ও ডায়েরি পরীক্ষা করতেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। সেখানে কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি এবং হারুণ সফদার নামে পাঁচ ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে বলে এসটিএফ সূত্রে দাবি। তাঁরা নেপালে অবস্থান করছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা পাভেল নামে আরও এক সন্দেহভাজন পাক এজেন্টের নামও উঠে এসেছে।

    নেপাল হয়ে বাংলাদেশ যাওয়ার ছক

    তদন্তকারীদের দাবি, কাঠমান্ডুতে একটি গোপন বৈঠকের পর বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। হাবড়া থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সেখান থেকে নেপালের কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনাও তার ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের যশোরে পাভেল নামে ওই সন্দেহভাজন এজেন্ট রানার জন্য একটি নতুন মোবাইল নিয়ে অপেক্ষা করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই ফোনে পুরনো সিমকার্ড ঢুকিয়ে ফের নেপাল ও পাকিস্তানে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা ছিল বলে এসটিএফ-এর অনুমান।

    ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে ভারতীয় নথি

    মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড় থেকে রানাকে আটক করে এসটিএফ। তপসিয়ার বাসিন্দা ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে নিজের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণের জন্য আধার ও ভোটার কার্ডও দেখিয়েছিল সে। কিন্তু তার পরিচয়, এনআরসি এবং নথিপত্র সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দীর্ঘ জেরার পর শেষ পর্যন্ত রানা নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক বলে স্বীকার করে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার কাছ থেকে পাকিস্তানের পাসপোর্টও উদ্ধার হয়েছে। নগদ মাত্র ৩৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    আরও এক সঙ্গী গ্রেফতার

    রানাকে সাহায্য করার অভিযোগে কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতার পূর্ব দিকের আরও দুই বাসিন্দা রানার চরবৃত্তির কাজে সহযোগিতা করত। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রানা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে নেপালে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে অ্যাপের মাধ্যমে পাঠাত। পরে সেই তথ্য পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কাছে পৌঁছত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার আশঙ্কা?

    রানাকে ঘিরে তদন্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে। বারাসত আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের দিন নাশকতার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতে সরকারি পক্ষের তরফে এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, রানার মোবাইলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার একাধিক নম্বর ছিল। ওই নম্বরগুলির সঙ্গে চ্যাটও হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে গ্রেফতারের আগে বহু চ্যাট এবং নম্বর মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর দাবি, দুই পাকিস্তানি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ঢুকে কলকাতায় অবস্থান করছিল বলে তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের গতিবিধির মধ্যে কলকাতা ও আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ছিল। মুছে দেওয়া নথি ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত

    রানার নোটবুক থেকে নেপাল ও বাংলাদেশের সন্দেহভাজন এজেন্টদের নাম উঠে আসায় তদন্তের পরিধি এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছেছে। নেপাল ও বাংলাদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে রানার যোগাযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তাঁরা কার হয়ে কাজ করত এবং সংগৃহীত তথ্য কোথায় পাঠানো হত—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে থাকা এই সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশ সরকারকেও তথ্য জানানো হচ্ছে। রানাকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। তার জেরা এবং উদ্ধার হওয়া নথি, সিমকার্ড, ডিজিটাল যোগাযোগ ও নোটবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের আরও সদস্য এবং তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

  • Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নয়া দিশা দেখাচ্ছে। বাদ নেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্র! একের পর এক সাফল্যে দেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এখনও কয়েকটি জায়গায় হোঁচট খেতে হচ্ছে! রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভারতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অঙ্গদান! বিশেষত রোগীর ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে দেহদান নিয়েই চলে নানান জটিলতা! অগাস্ট মাসে বিশ্ব জুড়ে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। ভারতেও পালন করা হয় ন্যাশনাল অরগ্যান ডোনেশন ডে! আর সেই উপলক্ষে একাধিক কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে প্রশাসনিক জটিলতা। বিশেষত ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সেই জটিলতা আরও বাড়ে।

    কোন জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে অঙ্গদান?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর ব্রেন ডেথ হলে, অর্থাৎ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ শেষ হলে, তাকে মৃত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারপরেও সেই রোগীর শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। কিন্তু মস্তিষ্কের মৃত্যুর কারণে রোগীর বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তার অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দেরি হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির অঙ্গ অন্য রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষত হৃদপিণ্ড, চোখের মতো অঙ্গ দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু উপযুক্ত যোগাযোগ ও তৎপরতার অভাবে অনেক সময়েই অঙ্গদান‌ হচ্ছে না।

    একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাব

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে, তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই সময় অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা এক সরকারি অফিস থেকে আরেক সরকারি অফিস ছুটোছুটি করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। এক ছাদের তলায় সহজে অঙ্গদানের সুযোগ ও পরিকাঠামো থাকলে তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অনেকেই জানাচ্ছেন, অঙ্গদানে ইচ্ছুক থাকলেও, হাসপাতালকে জানানোর পরেও অঙ্গদান হয় না। বিশেষত ছুটির দিনে সরকারি জটিলতা আরও বাড়ে। এর ফলে অঙ্গদান সম্ভব হয় না। অনেক সময় রোগীর পরিবার দ্রুত অনুমতি দেওয়ার পরেও একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে অঙ্গদান ব্যর্থ হয়‌।

    মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ

    তাছাড়া মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর আগে স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার অঙ্গদানে ইচ্ছুক। কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ এগোতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত তার শরীরের একাধিক অঙ্গ সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে সেটা প্রতিস্থাপনের কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু মরণোত্তর অঙ্গদান পর্বের প্রশাসনিক জটিলতার জেরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেহ চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানোর কাজ ছাড়া, অন্য কোনও ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় না।

    কেন অঙ্গদানে বাড়তি গুরুত্ব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে। সেই উন্নতিকে কাজে লাগাতে মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। একাধিক রোগীর সুস্থতার জন্য অঙ্গদান অত‌্যন্ত জরুরি। ভারতের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে চোখ, লিভার, কিডনি, ত্বক এমনকি হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন হয়। একজন রোগীর দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপিত করে, সে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন। কিন্তু অঙ্গদানে ঘাটতির জন্য সেই সুস্থতার পথে বাধা আসে। ঠিকমতো অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা দ্রুত প্রতিস্থাপনের বন্দোবস্ত না থাকার জেরে, প্রতি বছর এদেশে বহু রোগী মারা যান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, লিভার, কিডনি কিংবা হৃদপিণ্ডের জটিল সমস্যা নিয়ে প্রতি বছর কয়েক হাজার রোগী অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ঠিকমতো যথেষ্ট অঙ্গদাতা না থাকার জেরে রোগীর ভোগান্তি বাড়ে। এমনকি প্রাণ সংশয়ও হয়।‌ অন্যান্য দেশের নিরিখে ভারতে অঙ্গদানের হার কম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলে এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনা জরুরি।

    অঙ্গদানের জটিলতা কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তিনটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই অঙ্গদানের হার বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি দেশ জুড়ে সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের হার বাড়বে।

    জনসচেতনতার হার বাড়ানো দরকার!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানের প্রবণতা বাড়াতে এই নিয়ে লাগাতার সচেতনতা প্রয়োজন। ব্রেন ডেথ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, কখন একজন রোগীর ব্রেন ডেথ ঘোষণায় করা হবে, সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই। চিকিৎসায় কোনও সাড়া না দিলে, মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ শক্তি হারালে তবেই ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। তখন তাঁর অঙ্গদান করলে, একাধিক রোগী সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন, এই সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি। কিন্তু এই নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক হাসপাতালে এই নিয়ে আলাদা বিভাগ প্রয়োজন। রোগীর পরিবারকে এই সম্পর্কে বোঝানো প্রয়োজন। তাঁদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেই তাঁদের এই সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। পরিবারের সম্মতি পেলে তবেই বাকি কাজ করা সম্ভব হবে। কারণ, হৃদপিণ্ড সক্রিয় থাকলেও মস্তিষ্কের মৃত্যু হতে পারে। আর মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে আর বাঁচানো সম্ভব হয় না। এটা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই।

    হাসপাতাল ও প্রশাসনের অন্যান্য মহলে সমন্বয়!

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মূল সমস্যা সরকারি মহলে জটিলতা। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই জটিলতা কমাতেই হবে। কারণ অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হলে অঙ্গদান ব্যর্থ হবে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের যাতে সহজেই দ্রুত যোগাযোগ হয় এবং প্রয়োজনীয় রোগীরা যাতে অঙ্গ পেতে পারেন, সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত ছুটির দিনেও যাতে কাজ আটকে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আলাদা এই বিশেষ দফতরে যাতে রুটিন মাফিক কর্মী উপস্থিত থাকেন, সেদিকেও নজরদারি জরুরি।

    অঙ্গ পরিবহণে বাড়তি জোর!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অঙ্গ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্র্যান্সপ্লান্ট সেন্টারে পৌঁছনো জরুরি। না হলে অঙ্গদান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। তাই প্রয়োজন অঙ্গ পরিবহণের পরিকাঠামো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অঙ্গ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারে না। সেদিকে স্বাস্থ্য দফতরের পাশপাশি অন্যান্য দফতরের খেয়াল রাখতে হবে। তবেই এত বড় বিষয়টি সফল হবে।

  • West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে পশ্চিমবঙ্গে ফের পাক-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার এক ব্যক্তি। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-হাবড়া এলাকা থেকে পাকিস্তানের নাগরিক বলে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ/রানা রাউত নামে ভারতে বসবাস করছিল এবং ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে তার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর যোগাযোগের সন্দেহও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, রানাকে ভুয়ো নথি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল ইজাজ। সূত্রের খবর, বুধবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালায় এসটিএফ। সেই অভিযানে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল সে। সেই খবর পাওয়ার পরই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করা হয়।

    পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ থেকে নেপাল হয়ে ভারতে?

    প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফ জানতে পেরেছে, রানা আদতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। প্রায় ২০১২ সাল নাগাদ নেপাল হয়ে সে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে ভারতে আসার পর কোথায় কোথায় ছিল এবং এর আগে একাধিকবার সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বেশ কিছুদিন বসবাস করেছিল রানা। সেখানে ছোটখাটো কাজ করার পাশাপাশি ওয়াহাব আলম নাম ব্যবহার করে আধার কার্ড-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। এই ভুয়ো নথি তৈরির ক্ষেত্রে তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ তাকে সাহায্য করেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে এসটিএফ। রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইজাজের নাম সামনে আসে। এরপর তপসিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, রানা ভারতে নিজের পরিচয় গোপন রেখে থাকতে ইজাজের সাহায্য নিয়েছিল।

    পাক সেনা ও আইএসআই-যোগের সন্দেহ

    রানার সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই-এর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, রানা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং আইএসআই-এর হ্যান্ডলার হিসেবেই নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, ভারতে থাকার সময়ে রানা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং পাকিস্তানে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সে নির্দেশ পেত কি না।

    ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধিতে নজর?

    রানার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারতে থাকার সময়ে সে ভারতীয় রেল এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। কোন ধরনের তথ্য সে সংগ্রহ করেছিল, সেই তথ্য কোথাও পাঠানো হয়েছিল কি না এবং এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।  বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশের দিকে পালানোর চেষ্টা কেন করছিল রানা, বাংলাদেশে তার জন্য কেউ অপেক্ষা করছিল কি না এবং সীমান্তের ওপারে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    হামিম মণ্ডল গ্রেফতারের পরই নতুন সূত্র

    রানাকে গ্রেফতারের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। হামিমের কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভিআইপি গতিবিধি, রুট ম্যাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।তদন্তে উঠে আসে, হামিমের যোগাযোগ ছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে। তাকে পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূলচক্রী সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করেছে তদন্তকারী সূত্র। বর্ধমানে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার আগে হামিম কলকাতার নিউটাউন এলাকায় থাকত বলে তদন্তে জানা যায়। তার সূত্র ধরেই এসটিএফ পরে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং ওরফে রাজ-কেও গ্রেফতার করে।

    অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে অর্পিতার পাকিস্তান-যোগও সামনে আসে। পাকিস্তানের বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করে নেতা, মন্ত্রী এবং আমলাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে যোগাযোগ করা হত বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাস্তবে কোনও অপহরণ বা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণে অর্পিতার যোগাযোগ এবং পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

    একই নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজছে এসটিএফ

    রানা-ইজাজ গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। পাকিস্তান থেকে বেআইনি ভাবে ভারতে ঢোকার পর রানা কীভাবে এত বছর ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিল? কে তাকে ভুয়ো নথি তৈরিতে সাহায্য করেছিল? ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধি সম্পর্কে সে কী তথ্য সংগ্রহ করেছিল? সেই তথ্য কোথায় পাঠানো হত? আর বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনার পিছনে কারা ছিল? এর পাশাপাশি হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার, আদিত্য সিংহ এবং নতুন করে গ্রেফতার হওয়া রানা ও ইজাজের মধ্যে কোনও সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, একের পর এক গ্রেফতারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় সন্দেহভাজন পাক-যোগ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য চক্রটি আরও বড় আকার নিচ্ছে। এসটিএফ এখন এই সমস্ত সূত্রকে এক জায়গায় এনে পাকিস্তান, আইএসআই, জঙ্গি সংগঠন, ভুয়ো পরিচয়পত্র, সীমান্তপথ এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটাই খুঁজে দেখছে।

LinkedIn
Share