Tag: মাধ্যম বাংলা

  • CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে (JSSC CGL Paper Leak) সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী, পরীক্ষার ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেই উত্তর ছড়িয়ে পড়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট সামনে আসার পর রাজ্য সরকার তা কার্যত সরিয়ে রেখে দ্বিতীয়বার তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই দ্বিতীয় তদন্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ খারিজ করে পরীক্ষাকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়।

    কীভাবে ছড়িয়েছিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর?

    সিআইডির (CID) প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যারা টাকা দিয়ে সেই উত্তর নিয়েছিলেন, তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে উত্তর সরবরাহ করা হয়েছিল। তদন্তে হজারিবাগ, জামশেদপুর, পটনা, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা এবং এমনকী নেপালের নামও উঠে এসেছে। অর্থাৎ, শুধু ঝাড়খণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই চক্রের কার্যকলাপ- এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সিআইডির(CID) রিপোর্টে।

    ইন্টারনেট বন্ধ করেও আটকানো যায়নি ফাঁস

    এর আগে প্রশ্নফাঁসের (JSSC CGL Paper Leak) অভিযোগের জেরে জেএসএসসির পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়। পুনরায় যাতে প্রশ্নফাঁস না হয়, সেই আশঙ্কায় পরীক্ষার সময় গোটা ঝাড়খণ্ডে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রশ্নফাঁস চক্রকে আটকানো যায়নি বলে অভিযোগ। এক পরীক্ষার্থীর দাবি, এবার সরাসরি প্রশ্ন নয়, তাঁদের কাছে উত্তরও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ইন্টারনেট না থাকায় ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার করেও উত্তর জানানো হয়েছিল। ফোনে উত্তর বলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।

    ‘প্রশ্ন নয়, উত্তর পেয়েছিলাম’

    পরীক্ষার্থী জিৎ কুমারের দাবি, তাঁদের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হয়নি, পাঠানো হয়েছিল উত্তর। তাঁর কথায়, পরীক্ষার পর তাঁরা জানতে পারেন যে হাতে পাওয়া উত্তরগুলি সঠিক ছিল। এ সংক্রান্ত প্রমাণ আদালতেও জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জিৎ কুমার এবং আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থী রাঁচির আদালতে মামলাও করেছেন। তাঁদের কাছে থাকা উত্তরগুলির ফটোকপিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, কেউ কেউ উত্তরগুলি লিখে রেখেছিলেন এবং পরে বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে সেগুলির মিল খুঁজে পান।

    সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের ছবি ঘিরে রহস্য

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি ছবির কথা উঠে এসেছে। ছবিটিতে সময় দেখা যাচ্ছে সকাল ৭টা ২৩ মিনিট, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। অর্থাৎ, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই ওই ছবি তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ছবিটির অবস্থান হিসেবে জামশেদপুরের বিষ্ণুপুর এলাকার লোকেশন পাওয়া গিয়েছে। এই ছবিই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    সিআইডির (CID) রিপোর্টে কী বলা হয়েছিল?

    রাজ্য সিআইডি ২০২৫ সালের মার্চে তদন্ত শেষ করে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, মোট ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর ফাঁস হয়েছিল। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপরই রাজ্য সরকার সিআইডির রিপোর্টটি কার্যত সরিয়ে রেখে নতুন করে তদন্তের জন্য দ্বিতীয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

    দ্বিতীয় তদন্তে মিলল না প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ!

    দ্বিতীয় বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তের ফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষাকেও ক্লিনচিট দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আর তেমন অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরব থাকা পড়ুয়াদের ক্ষোভ থামেনি।

    জেএসএসসির পর জেপিএসসি, ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

    এর মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায়ও একই ধরনের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপর রাজ্যজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হয় বড়সড় আন্দোলন।

    ১৬ দিন ধরে আন্দোলনে পড়ুয়ারা

    ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতোর নেতৃত্বে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলন চলছে। ইতিমধ্যেই সেই আন্দোলন ১৬ দিনে পড়েছে। সরকারের সঙ্গে পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের একাধিক দফায় বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

    ‘পড়ুয়াদের দাবি যুক্তিসঙ্গত’

    পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় থাকা ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী দীপিকা সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উদ্বেগকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়ারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন এবং তাঁদের দাবিগুলিও যুক্তিসঙ্গত। সরকার সেই বিষয়গুলি সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে এজন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ফলে ২০২৪ সালের জেএসএসসি প্রশ্নফাঁসের পুরনো অভিযোগ, সিআইডির (CID) বিস্ফোরক রিপোর্ট এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া ক্লিনচিট- সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক ফের নতুন করে সামনে এসেছে।

  • Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) করাচিতে পাঁচ বালোচ ছাত্রকে (Baloch Students) জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে। বালোচ ছাত্রদের সংগঠন বালোচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি (Baloch Students Action Committee) জানিয়েছে, ৫ অগাস্ট গভীর রাতে করাচির (Karachi) গুলশান-ই-ইকবাল এলাকার একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি সংগঠনটির।

    কারা নিখোঁজ? (Baloch Students)

    বিএসএসি (Baloch Students Action Committee)-র বিবৃতি অনুযায়ী, নিখোঁজ পাঁচ ছাত্র হলেন- আজহার বালোচ ও গওস বখশ বালোচ, দু’জনেই জনৈক হায়াতের ছেলে, শাহিদের ছেলে শেহজাদ বালোচ, আজিমের ছেলে আনিস বালোচ এবং মহম্মদ আমিনের ছেলে ওয়াসিম বালোচ। আজহার গওয়াদরের বাসিন্দা এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর ভাই গওস বখশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ছেন। গওয়াদরের বাসিন্দা শেহজাদ পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। নওশকির বাসিন্দা আনিস দর্শন নিয়ে পড়ছেন। আর কালাতের বাসিন্দা ওয়াসিম পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

    গভীর রাতে আবাসনে অভিযান

    বিএসএসির দাবি, ৫ অগাস্ট রাত প্রায় ২টোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের সদস্যরা গুলশান-ই-ইকবালের ওই আবাসনে ঢোকেন। সংগঠনটির অভিযোগ, সেখানে ছাত্রদের শারীরিকভাবে হেনস্থা ও ভয় দেখানোর পর তাঁদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র-সহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ওই পাঁচ ছাত্র কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে বিএসএসি।

    আগে আরও দুই ছাত্র নিখোঁজ

    বিএসএসি জানিয়েছে, এই পাঁচজনের আগেও আরও দুই বালোচ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Karachi University) এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচ। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্য ছাত্র জুবেইর বালোচ নূর মহম্মদের ছেলে। তিনি হাব ডিগ্রি কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক। চতুর্থ তফশিলের একটি মামলায় শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার সময় হাব এলাকা থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে বিএসএসির দাবি, মোট সাত বালোচ ছাত্র বর্তমানে নিখোঁজ।

    ‘শিক্ষার জন্য বাড়ি ছেড়েও নিরাপদ নন’

    বালোচ ছাত্রদের (Baloch Students) সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের এলাকা ছেড়ে করাচিতে আসা ছাত্রদেরই বারবার নিশানা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান- কোনও জায়গাই তাঁদের জন্য নিরাপদ থাকছে না বলে দাবি সংগঠনটির। বিএসএসি বলেছে, এই ধরনের ঘটনার ফলে শুধু ছাত্রদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তাঁদের পরিবারও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ছে। সংগঠনটির দাবি, অবিলম্বে বালোচ ছাত্রদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, সাতজনকেই নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’

    বালোচ (Baloch) ইয়াকজেহতি কমিটির নেত্রী সাবিহা বালোচের দাবি, বালোচ ছাত্রদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলির মধ্যে ভয় ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর এক বালোচ নেত্রী সামি দীন বালোচ জানিয়েছেন, নিখোঁজ সাতজনের মধ্যে ছয়জনই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচও রয়েছেন। তাঁর দাবি, রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই খলিলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রদের নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত, নিখোঁজ করে দেওয়ার কেন্দ্র নয়। কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতে হাজির করা উচিত। অভিযোগ না থাকলে অবিলম্বে তাঁদের খুঁজে বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

    মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

    হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অব বালোচিস্তানও সাত ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ছাত্রদের অবস্থান জানাতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও বৈধ অভিযোগ থাকলে আইন মেনে আদালতে হাজির করতে হবে। তা না হলে অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ, পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    নিখোঁজ বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার

    এরই মধ্যে বালোচিস্তানে (Balochistan) আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া এক বৃদ্ধের দেহ লাসবেলা জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম হাইবাতান। তিনি মালো মাররির ছেলে এবং বেলার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৯ জুলাই বেলা ক্রস এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে হাব-সাকরান সড়কের গরিবাবাদ এলাকার কাছে রাস্তার ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেহে নির্যাতনের চিহ্ন এবং গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।

    বালোচিস্তানে বাড়ছে উদ্বেগ

    বালোচিস্তানে (Balochistan) জোর করে নিখোঁজ করে দেওয়া ব্যক্তিদের পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের অভিযোগ নতুন নয়। পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়া অনেক ব্যক্তিকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। করাচিতে সাত বালোচ ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং লাসবেলায় এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে সেই উদ্বেগই সামনে এনেছে।

  • Heart Health Tips: ভাত-রুটি পুরো বাদ দেওয়া নয়! সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে এই সহজ ৫ অভ্যাসই যথেষ্ট

    Heart Health Tips: ভাত-রুটি পুরো বাদ দেওয়া নয়! সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে এই সহজ ৫ অভ্যাসই যথেষ্ট

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদেশের দামী চা কিংবা ফল নয়। এমন কিছু প্রতিদিনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নয়। আবার এমন কিছু অভ্যাসের তালিকায় রাখার প্রয়োজন নেই, যা বছরের পর বছর সামলানোই কঠিন হয়ে যাবে। বরং জীবন যাপন হোক সাদামাটা। যা দিনের পর দিন অভ্যাস করতে সহজ হবে। আর সেই সহজ জীবনেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

    সহজ জীবন যাপনেই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি!

    সম্প্রতি ইউরোপিয়ান কার্ডিওলজি সোস্যাইটির তরফে এক রিপোর্টে এমন কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ।
    বিশ্ব জুড়ে হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। আর এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশপাশি, কিডনি, লিভার সহ একাধিক অঙ্গের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গবেষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই জীবন যাপনের ধরনে বদল আনছেন। কিন্তু এমন কিছু পরিবর্তন করছেন, যেটা স্বাস্থ্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, লাভ হচ্ছে না। তাঁদের পরামর্শ সহজ জীবন যাপনেই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি রয়েছে। শুধু প্রয়োজন সেই সম্পর্কে সচেতনতা।

    সহজ জীবনের কোন কৌশলের কথা বলছেন চিকিৎসকেরা?

    সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রে চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত একটা স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অভ্যাস জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, নিজের এলাকায় সহজেই পাওয়া যায় এমন কিছু ফল নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন।

    সহজেই পাওয়া যাবে এমন একটা ফল প্রত্যেক দিন!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব দামী ফল মানেই দারুণ উপকারি এমন নয়। ভারতে কলা, লেবু, পিয়ারার মতো সহজেই পাওয়া যায়। নিয়মিত এই ধরনের ফল খেলে শরীরে ফাইবার, ভিটামিন সি, আয়রনের জোগান সহজেই থাকবে। ভিটামিন এবং মিনারেল শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াবে, ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে। শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত একটা ফল খাওয়া জরুরি। কিন্তু অনেক সময়েই এমন কিছু ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা হয়, যা সহজে পাওয়া যায় না। ফলে সমস্যা বাড়ে।

    সব্জি ও ডাল খাওয়ার অভ্যাস!

    খুব দামী দানাশস্য খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত পাতে থাকুক পর্যাপ্ত সবুজ সব্জি এবং ডাল খাওয়ার অভ্যাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভাত কিংবা রুটি খেতে রাজি হন না। বরং তার পরিবর্তে নানান বিদেশি দানাশস্য খান। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গম-বাজরা-মিলেটের তৈরি রুটি কিংবা সহজলভ্য চালের ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি এবং ডাল খাওয়ার অভ্যাস থাকলেই শরীর সুস্থ থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি, লিভার এবং অন্ত্রের কার্যকরিতা বজায় রাখতে নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। তাছাড়া পর্যাপ্ত সব্জি খেলে তবেই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত পালং শাক, পটল, বিট, গাজর, ধনেপাতার মতো সবুজ সব্জি খাওয়া জরুরি। তবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সুস্থ থাকতে ভাত এবং রুটি সম্পূর্ণ বর্জন করছেন। কিন্তু এভাবে দীর্ঘমেয়াদি জীবন যাপন সম্ভব নয়। এর ফলে ক্লান্তি বাড়বে। প্রত্যেক দিনের স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই ভাত ও রুটি নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া প্রয়োজন। কারণ শরীরে কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন আছে। তবে পেট ভরাতে ভাত কিংবা রুটি নয়। বরং সব্জি এবং ডাল খাওয়া জরুরি।

    নিয়মিত বাদাম জাতীয় খাবার হৃদপিন্ড সুস্থ রাখবে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম, পেস্তা কিংবা চিনেবাদামের মতো খাবার সহজলভ্য। নিয়মিত এই ধরনের যেকোনও একটা বাদাম অল্প পরিমাণ খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। যেকোনও প্রকার বাদামেই প্রচুর পরিমাণে মিনারেল থাকে। শরীরের উপকারি চর্বি থাকে। যেগুলো হৃদপিন্ড সুস্থ থাকে। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাবে। ফলে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অত্যন্ত দামী কিংবা দুর্মূল্য খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ খাবার না খেলেও চলবে। বরং প্রতিদিনের তালিকায় থাকুক সহজে পাওয়া যাবে এমন বাদাম জাতীয় খাবার। যাতে শরীর সুস্থ থাকে।

    পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক কসরত জরুরি!

    জটিল জীবন যাপন নয়। বরং, পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক কসরত এই দুই দিকে নজর দেওয়া দরকার। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয়। শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।‌ মানসিক চাপ এবং অবসাদ কমবে। তাছাড়া, স্নায়ুর সক্রিয়তা বজায় রাখতেও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তাছাড়া নিয়মিত সহজ শারীরিক কসরত করতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মানুষ ওজন কমাতে নানান জটিল কসরত করছেন‌। তাতে সব সময় উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।‌ বরং, নিয়মিত আধ ঘণ্টা হাঁটা কিংবা সহজ কিছু যোগাভ্যাস এবং প্রাণায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি মানসিক উদ্বেগ এবং অবসাদ কমবে। ফলে শরীরের একাধিক রোগের মোকাবিলা সহজ হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনি ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করেন? তাহলে এই খবর আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দিয়েছে কেন্দ্র। সংসদে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই (UPI) লেনদেনে চার্জ বসানোর আইনি ক্ষমতা পেতে পারে সরকার। তবে এখনই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা কাটার কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেমন চলছে, তেমনই ইউপিআই (UPI) পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকছে। গুগল পে (Google Pay), ফোনপে (PhonePe), পেটিএম (Paytm) বা অন্য কোনও UPI অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোনও ট্রানজেকশন ফি দিতে হবে না। Taxation and Other Laws (Amendment) Bill, 2026- এর মাধ্যমে এই আইনি পরিবর্তনের রাস্তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি Payment and Settlement Systems Act, 2007-এ সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। তাহলে কি ইউপিআই-তে (UPI) চার্জ আসছে? কার কাছ থেকে নেওয়া হবে? সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপর কতটা প্রভাব পড়বে? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয়।

    কাল থেকেই ইউপিআই (UPI) পেমেন্টে টাকা কাটা শুরু হবে?

    এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে উত্তর হল- না। বিল পাস হলেও আগামিকাল থেকে বা এখনই ইউপিআই (UPI) লেনদেনে কোনও চার্জ চালু হচ্ছে না। এই বিল শুধুমাত্র সরকারকে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে চার্জ চালুর আইনি ক্ষমতা দেবে। ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, আপাতত ইউপিআই দিয়ে আগের মতোই বিনামূল্যে টাকা পাঠানো ও পেমেন্ট করা যাবে।

    টাকা দেবে কারা?

    সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইউপিআই (UPI)-তে কোনও ফি চালু হলেও তা সরাসরি গ্রাহকদের উপর চাপানো হবে না। প্রস্তাবিত এই চার্জের নাম এমডিআর (Merchant Discount Rate)। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই চার্জ প্রযোজ্য হবে ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, দোকানদার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা বড় সংস্থাগুলি ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করলে তাদের উপর এই চার্জ বসতে পারে। আপনি যদি ইউপিআই (UPI) দিয়ে বাজারের জিনিস কেনেন, বিদ্যুতের বিল দেন, রেস্তরাঁয় টাকা মেটান বা ক্যাব বুক করেন- তাহলে সাধারণ গ্রাহক হিসেবে সরাসরি কোনও চার্জ দেওয়ার কথা নয়।

    হঠাৎ কেন এমডিআর চালু?

    কেন্দ্রের যুক্তি, ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যাঙ্ক ও ফিনটেক সংস্থাগুলিকে নিয়মিত পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ইউপিআই (UPI) লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ থেকে ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট সংস্থাগুলির কোনও সরাসরি আয় নেই। ফলে ভবিষ্যতে পরিষেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি আনার জন্য এমডিআর (Merchant Discount Rate)-এর মতো চার্জের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) কী বললেন?

    ইউপিআই (UPI)-তে চার্জ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, ইউপিআই সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) স্পষ্ট করে বলেন, এমডিআর (MDR) শুধুমাত্র মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নয়। তিনি আরও জানান, ইউপিআই এবং Services Steering Committee, যার নেতৃত্বে রয়েছে এনপিসিআই (NPCI), এখনও এমডিআর চালুর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    ইউপিআই-তে কত শতাংশ চার্জ বসতে পারে?

    এই মুহূর্তে সরকার কোনও নির্দিষ্ট এমডিআর হার ঘোষণা করেনি। তবে সম্ভাব্য কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে- ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে বড় ব্যবসায়ীদের উপর ০.৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর বসানো হতে পারে। যেসব মার্চেন্টের বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ১.৫ কোটি টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। আরেকটি প্রস্তাবে লেনদেনের অঙ্কের বদলে ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ চার্জের একটি সীমাও বেঁধে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

    কার উপর পড়বে সবচেয়ে বেশি প্রভাব?

    যদি ভবিষ্যতে ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু হয়, তাহলে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি। ছোট দোকানদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপ কম রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রেও মার্চেন্টদের এমডিআর (Merchant Discount Rate) দিতে হয়। ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত প্রায় ১.৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ থাকতে পারে। ডেবিট কার্ডে তুলনামূলক কম চার্জ নেওয়া হয়।

    তাহলে ইউপিআই ব্যবহারকারীদের এখন কী চিন্তা করা উচিত?

    না, এখনই নয়। ইউপিআই (UPI) এখনও সম্পূর্ণ বিনামূল্যের পরিষেবা। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনও ট্রানজেকশন চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে যদি এমডিআর চালু হয়ও, তার বোঝা মূলত মার্চেন্টদের উপর পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। সুতরাং, আপাতত নিশ্চিন্তে ইউপিআই ব্যবহার করুন। চার্জ চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

  • Rabindranath Tagore: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ ২২ শ্রাবণে স্মরণ বিশ্বকবিকে, স্মৃতির আকাশে আজও অমর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Rabindranath Tagore: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ ২২ শ্রাবণে স্মরণ বিশ্বকবিকে, স্মৃতির আকাশে আজও অমর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা যেন প্রতি বছর ২২ শ্রাবণে (22 Shravan) একটু অন্যরকম হয়। আকাশে জমে থাকা মেঘ, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, ভেজা কদমফুলের গন্ধ- সবকিছু মিলিয়ে যেন বাংলার বাতাসে ভেসে ওঠে এক পরিচিত সুর। কোথাও বাজে আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ…”, কোথাও আবার মনের অজান্তেই উচ্চারিত হয়- চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”। ২২ শ্রাবণ তাই কেবল একটি তারিখ নয়। এটি বাঙালির স্মৃতির দিন, আত্মপরিচয়ের দিন, সংস্কৃতির সামনে মাথা নত করার দিন। এই দিনেই, ১৯৪১ সালের ৭ অগাস্ট, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য, দর্শন ও সাংস্কৃতিক চিন্তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। তাঁর ভাবনা শুধু বাংলা ভাষার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়ে দিয়েছে আধুনিক ভারতের মনন ও সাংস্কৃতিক চেতনাকেও। তাঁর লেখার মাধ্যমে বিশ্ব চিনেছিল ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনের গভীরতাকে। তিনি আজও আছেন আমাদের ভাষায়, ভাবনায়, গানে, কবিতায়, প্রেমে, প্রতিবাদে, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসায় এবং মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাসে।

    অনুপ্রেরণার ২২ শ্রাবণ (22 Shravan)

    আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। তিনি শুধু বাংলা সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাননি, আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য, দর্শন এবং সাংস্কৃতিক চিন্তার অন্যতম নির্মাতা হিসেবেও ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে গিয়েছেন। স্বাধীনতা, মানবতা, ভয়হীন চিন্তা এবং বিশ্বমানবতার যে বীজ তিনি রোপণ করেছিলেন, তার ছায়াতেই আজও আশ্রয় খোঁজে কোটি কোটি মানুষ। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন আজও নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখায়। ২২ শ্রাবণ তাই অনুপ্রেরণার দিনও।

    জোড়াসাঁকো থেকে বিশ্বমঞ্চ

    ১৮৬১ সালের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। এক অভিজাত পরিবারে জন্ম হলেও তাঁর মন পড়ে থাকত প্রকৃতির কোলে, মানুষের জীবনে, সমাজের পরিবর্তনের স্বপ্নে। শৈশব থেকেই ছিল সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর আকর্ষণ। অল্প বয়সেই লেখা শুরু। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠলেন এমন এক স্রষ্টা, যাঁর পরিচয় শুধু কবি শব্দে সীমাবদ্ধ রাখা অন্যায়। তিনি ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, সুরকার, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক এবং চিত্রশিল্পী। বাংলা ভাষা তাঁর হাতে শুধু সমৃদ্ধই হয়নি, বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ আসনেও পৌঁছে গিয়েছে।

    যে কলমে সৃষ্টি হয়েছে বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) সাহিত্যকে কোনও একটি ধারায় বাঁধা যায় না। তাঁর কলমে যেমন প্রেম আছে, তেমনি প্রতিবাদ; যেমন প্রকৃতি আছে, তেমনি মানুষের অন্তর্জগত; যেমন দেশপ্রেম আছে, তেমনি বিশ্বমানবতার আহ্বান। তাঁর লেখা ‘গীতাঞ্জলি’, ‘সোনার তরী’, ‘মানসী’, ‘বলাকা’, ‘গীতিমাল্য’-  বাংলা কাব্যসাহিত্যের ইতিহাসে আজও মাইলফলক। উপন্যাসে গোরা, ঘরে বাইরে, চোখের বালি, যোগাযোগ, শেষের কবিতা শুধু সাহিত্য নয়, সমাজ, রাজনীতি, জাতীয়তাবোধ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং মানুষের আত্মসঙ্কটকে নতুন দৃষ্টিতে দেখিয়েছে। ছোটগল্পে কাবুলিওয়ালা, পোস্টমাস্টার, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষাণ আজও বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদের মধ্যে গণ্য হয়। নাটকে ডাকঘর, রক্তকরবী, রাজা, অচলায়তন মানুষের মুক্তি, প্রশ্ন করার অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। শিশুদের জন্যও তিনি লিখেছেন অজস্র ছড়া, কবিতা ও গল্প। আবার তাঁর প্রবন্ধে উঠে এসেছে শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, সভ্যতা এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা।

    ‘গীতাঞ্জলি’

    তাঁর সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ‘গীতাঞ্জলি’। ১৯১৩ সালে এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন। তিনিই প্রথম এশীয়, যিনি এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, সমগ্র ভারতবর্ষকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নতুন মর্যাদা এনে দেয়।

    বিশ্বভারতীর জন্ম

    কবিগুরুর অবদান শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা মানুষের সৃজনশীলতা, স্বাধীন চিন্তা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনবোধ গড়ে তোলে। এই দর্শন থেকেই শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। আজও বিশ্বভারতী তাঁর সামগ্রিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিশ্বমানবতার আদর্শ বহন করে চলেছে।

    সুরে, দর্শনে, মানবতায় রবীন্দ্রনাথ

    দুই হাজারেরও বেশি গান লিখেছেন কবিগুরু। যা আজ রবীন্দ্রসঙ্গীত নামে শুধু একটি সঙ্গীতধারা নয়, বাঙালির জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু, প্রেম থেকে বিচ্ছেদ, পূজা থেকে প্রকৃতি, দেশপ্রেম থেকে আত্মঅন্বেষণ- মানুষের জীবনের এমন কোনও অনুভূতি নেই, যার জন্য তিনি একটি গান রেখে যাননি। সময় বদলেছে, পৃথিবী বদলেছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের আনন্দ, বেদনা, ভালোবাসা, একাকীত্ব, প্রশ্ন আর স্বপ্ন বদলায়নি। সেই কারণেই আজও বাঙালির মনে বারবার ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। তাই আজও ভোর শুরু হয়- “আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে…” দিয়ে। বর্ষার দিনে ভেসে আসে— “আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে…”। ভালোবাসার মুহূর্তে বাজে— “আমার পরান যাহা চায়…”। আবার দুঃসময়ে সাহস জোগায়— “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে…”। তাঁর প্রতিটি লেখা যেন আজও নতুন করে আমাদের প্রশ্ন করে- আমরা কি সত্যিই মুক্ত? আমরা কি সত্যিই মানবিক?

    জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্ঠা

    সঙ্গীত ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্টির অন্যতম গৌরব, ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

    আজও পথ দেখায় বিশ্বকবির দর্শন

    কবিগুরুর সাহিত্য বারবার মানবমর্যাদা, স্বাধীনতা ও নৈতিক সাহসের কথাই বলেছে। তাঁর অমর পঙ্‌ক্তি—

    • “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”

    শুধু একটি কবিতার লাইন নয়, এটি এক মুক্ত সমাজের স্বপ্ন। আজও এই বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই সম্ভব, যখন মানুষ ভয়, কুসংস্কার, সংকীর্ণতা ও অজ্ঞতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হবে।

    যতদিন বাংলা থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথও থাকবেন

    • “মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুরই রূপ,
      দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ।”

    হয়তো সেই কারণেই তিনি মৃত্যুকেও ভয় পাননি। তিনি জানতেন, শরীর একদিন থেমে যাবে, কিন্তু সৃষ্টি থেমে থাকে না। আজ ২২ শ্রাবণে (22 Shravan) যখন বৃষ্টি নীরবে ঝরে পড়ে, তখন মনে হয়, প্রকৃতিও যেন তার শ্রেষ্ঠ কবিকে স্মরণ করছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) আছেন বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষরে, প্রতিটি রবীন্দ্রসঙ্গীতে, প্রতিটি শিশুর প্রথম কবিতায়, প্রতিটি প্রেমপত্রে, প্রতিটি স্বাধীন চিন্তায়, প্রতিটি প্রতিবাদে। তিনি আছেন শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা পথের ধুলোয়, কাশফুলের দোলায়, বর্ষার গানে, শরতের আকাশে, বসন্তের পলাশে। তিনি আছেন বাঙালির অস্তিত্বে। তাই ২২ শ্রাবণ কোনও সমাপ্তির দিন নয়। এটি এক অনন্ত আলোর সামনে মাথা নত করার দিন। কারণ মানুষ চলে যান, কিন্তু মহামানবেরা তাঁদের সৃষ্টির মধ্যেই যুগের পর যুগ বেঁচে থাকেন। যতদিন বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে, যতদিন মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখবে, যতদিন পৃথিবী মানবতার আলো খুঁজবে- ততদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) অমর হয়ে থাকবেন আমাদের মনে।

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

  • Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরভোটের (Municipal Elections) আগেই বদলে যাচ্ছে কলকাতা ও হাওড়ার রাজনৈতিক মানচিত্র! শহরের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও নাগরিক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্য়াস (Ward Delimitation) করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় এক ধাক্কায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। ২০৯টি ওয়ার্ড নিয়ে সাজছে তিলোত্তমা, অন্যদিকে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬৮-তে। ১২ অগাস্ট বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাশ হলেই সিলমোহর পড়বে নতুন বিন্যাসে- যার পর শহর জুড়ে বাজবে বহুল প্রতীক্ষিত পুরভোটের রণকাসর। 

    কলকাতায় ২০৯, হাওড়ায় ৬৮

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অর্থাৎ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ৬৫টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে হাওড়া পুরসভার (Howrah Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৬৮। এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এখন বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই তা আইনি স্বীকৃতি পাবে।

    মুখ্যমন্ত্রী কী জানালেন?

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, “১২ অগাস্ট এক দিনের বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হয়েছে। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮ করা হবে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে।”

    শেষ হচ্ছে ডিলিমিটেশনের কাজ

    আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরেই পুরভোট (Municipal Elections) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই নির্দেশ মেনে কলকাতা পুরসভার সমীক্ষা বিভাগ দ্রুত কাজ শুরু করে। বোরো-ভিত্তিক বিশেষ কমিটি গঠন করে প্রতিটি এলাকার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক প্রয়োজন খতিয়ে দেখে নতুন ওয়ার্ডের খসড়া তৈরি করা হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন বাড়ানো হচ্ছে ওয়ার্ড সংখ্যা?

    সরকারের মতে, গত কয়েক বছরে কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে এবং অনেক ওয়ার্ডের আয়তনও বড় হয়ে গিয়েছে। ফলে নাগরিক পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক কাজ আরও কার্যকর করতে ছোট ছোট ওয়ার্ড গঠন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নতুন ওয়ার্ড হলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলেই সরকারের দাবি।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন পরিকল্পনা

    গত মে মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। পরে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই পুরভোটের (Corporation Vote) আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (Ward Delimitation) কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নজরে ১২ অগাস্টের বিধানসভা

    ১২ অগাস্ট বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হলে কলকাতা ও হাওড়ার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস (Ward Delimitation) কার্যকর করার পথ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত পুরভোটের (Corporation Vote) দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনাও জোরালো হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়ার পুর-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

  • Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষার মরশুমে সামান্য জ্বর আর সর্দিতে কমবেশি সকলেই ভোগেন। পরিবারের খুদে সদস্যের জ্বর বা সর্দি হলেও তাই অভিভাবকেরা হালকা ভাবেই নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক ভাইরাসের দাপটে আতঙ্ক বাড়ছে। বর্ষার মরশুমে জ্বর-সর্দি-কাশি হলেও বাড়তি নজরদারি জরুরি। কারণ, দেশজুড়ে দাপট বাড়াচ্ছে চাঁদিপুরা ভাইরাস! তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    চাঁদিপুরা ভাইরাস কী?

    চাঁদিপুরা ভাইরাস একটি বিরল এবং বিপজ্জনক ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এটা ১৯৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের চাঁদিপুর এলাকায় প্রথম দেখা গিয়েছিলো। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে।

    কেন চাঁদিপুরা ভাইরাস আতঙ্ক বাড়াচ্ছে?

    সম্প্রতি গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে চাঁদিপুরা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গুজরাটে ২২ জন শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। মহারাষ্ট্রেও এই ভাইরাসের সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। তাই দেশ জুড়ে সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই এই বিপজ্জনক ভাইরাস থেকে সতর্ক না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হয়। ১৫ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তেরা সকলেই ১৫ বছরের কম বয়সি। তাই শিশুদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    কীভাবে এই সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বালির মাছি বা স্যান্ড ফ্লাই থেকে চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের যে অঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছে, সেখানে স্যান্ড ফ্লাইয়ের দাপট বেশি। তবে যে কোনও রকম পোকা, যা মানুষকে সহজে কামড়াতে পারে, কামড়ে রক্ত বেরিয়ে যায়, এই ধরনের পোকার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে পারেন‌। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে দ্রুত এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না। তাই সতর্ক থাকলে মহামারির ঝুঁকি হবে না।

    কেন বাড়তি আতঙ্ক এই ভাইরাসে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাস স্নায়ু ও মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। আক্রান্তের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা চলে যায়। স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়। রোগ নির্ণয় হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। তাঁরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিবায়োটিক নেই। নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। তবে আক্রান্তের উপসর্গ কমানোর চেষ্টা করা হয়। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা যাতে বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। আর স্নায়বিক জটিলতা কমানোর চেষ্টা চলে। এই রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা এবং ওষুধ না থাকার জেরেই এই রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সংক্রামক রোগ রুখতে সচেতনতা জরুরি। সন্তানের জ্বর হলে তার বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, বার বার বমি হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করছে কিনা কিংবা স্নায়বিক কোনও জটিলতা দেখা দিচ্ছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে আর দেরি করা যাবে না। বরং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।‌ তাই যাতে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সক্রিয় থাকে, তাই আগাম চিকিৎসা শুরু জরুরি। না হলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই মরশুমে রোগ থেকে বাঁচতে হাত ও পা ঢাকা জামা কাপড় পরা জরুরি। কোনও রকম পোকা যাতে কামড়াতে না পারে, সেদিকেও‌ খেয়াল রাখতে হবে। রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামের বদল, টাকাও পৌঁছতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। একসময় কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বাংলায় বদলে হয়েছিল ‘বাংলার বাড়ি’। এবার সেই প্রকল্পই ফের নতুন পরিচয় পেল। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ (Paschim Banga Awas)। একইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান। সরকারের দাবি, ১৮ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার থেকেই ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানো হচ্ছে।

    নবান্ন (Nabanna) থেকে বড় ঘোষণা

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। মোট ১৮ লক্ষ মানুষ পাবেন ৬০ হাজার টাকা করে। তৃণমূল সরকারের তৈরি প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকার মধ্যে সাড়ে ১২ লক্ষই অযোগ্য। সেইসব নাম বাদ দিয়েই যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

    ‘রং-ধর্ম নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি’

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “যোগ্যরা সবাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। উপভোক্তাদের রং দেখব না, ধর্ম দেখব না।” সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি দারিদ্রসীমার নিচে থাকা বহু উপভোক্তা। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পেয়ে অসমাপ্ত বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করার আশা দেখছেন তাঁরা।

    কীভাবে বদলেছে প্রকল্পের নাম?

    মূলত এটি কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নাম নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেই সময় রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই প্রকল্প চালাবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হয় বাংলার বাড়ি। উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি হয় এবং প্রতিটি বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় এবং বিজেপি সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকারের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মতো আবাস প্রকল্পেও দ্রুততার সঙ্গে অনুদান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    কেন বদল হল নাম?

    এপ্রসঙ্গে এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এতদিন তৃণমূল সরকারের আপত্তি ছিল মোদিজির প্রকল্পের নাম নিয়ে। গোটা দেশে যে প্রকল্পের সুবিধা দরিদ্র মানুষ পান, সেটা পশ্চিমবঙ্গে এতদিন সেই নামে চলত না। আমাদের স্পষ্ট কথা, এখন থেকে গোটা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কাজ হবে। তাই বাংলার বাড়ির নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস (Paschim Banga Awas) রাখা হচ্ছে। এদিন থেকেই দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময় তৈরি তালিকায় বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম ছিল। সেইসব নাম যাচাই করে বাদ দেওয়ার পরই বর্তমান সরকার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করছে।” নামের বদলের সঙ্গে শুরু হল দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও বিতরণ। একদিকে প্রকল্পের নতুন পরিচয় পশ্চিমবঙ্গ আবাস, অন্যদিকে ১৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে ৬০ হাজার টাকা- এই দুই ঘোষণাকেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।

LinkedIn
Share