Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Fast Breeder Reactor: ব্যর্থ হয় আমেরিকা, ডাহা ফেল ফ্রান্স-জাপানও! পরমাণু প্রযুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন ভারতের

    Fast Breeder Reactor: ব্যর্থ হয় আমেরিকা, ডাহা ফেল ফ্রান্স-জাপানও! পরমাণু প্রযুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বে পরমাণু শক্তি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ভারত। তামিলনাড়ুর কালপাক্কমে (KNPP) ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) প্রথম বারের মতো ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। যার অর্থ রিঅ্যাক্টরে স্বনির্ভর পারমাণবিক চেন বিক্রিয়া সফলভাবে শুরু হয়েছে।

    এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ…

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই অর্জনের ফলে ভারত এমন একটি সক্ষমতা অর্জন করল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারেনি। বর্তমানে বাণিজ্যিক স্তরে শুধুমাত্র রাশিয়াই এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করছে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) জানিয়েছে, “সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ভারত রাশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হবে, যারা বাণিজ্যিকভাবে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর পরিচালনা করবে।”

    কী এই ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর?

    সাধারণ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর যেখানে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে, সেখানে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (Fast Breeder Reactor) ব্যবহার করা জ্বালানির থেকেও বেশি পরিমাণে নতুন জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম। এই ‘ফিসাইল’ জ্বালানি ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগে। এই রিঅ্যাক্টরে মিশ্র অক্সাইড (MOX) জ্বালানি ব্যবহার করা হয় এবং তরল সোডিয়াম কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এখন এটি নিম্ন-ক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষা পর্যায় অতিক্রম করবে, এরপর পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

    ভারতের জন্য কেন তা তাৎপর্যপূর্ণ?

    ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে ইউরেনিয়ামের মজুত সীমিত হলেও থোরিয়ামের ভাণ্ডার বিপুল। ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপকূলে এই থোরিয়াম মজুত রয়েছে। কালপাক্কমের এই রিঅ্যাক্টরটি সীমিত ইউরেনিয়াম ও বিপুল থোরিয়ামের বাস্তবতাকে একত্রে কাজে লাগায়। প্রথম পর্যায়ে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে শুরু হলেও, পরবর্তী পর্যায়ে থোরিয়াম-ভিত্তিক জ্বালানিতে এটি চালানো সম্ভব হবে। এর ফলে ইউরেনিয়াম আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। এই রিঅ্যাক্টর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, বরং যতটা জ্বালানি ব্যবহার করবে তার থেকেও বেশি জ্বালানি তৈরি করতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে থোরিয়াম ব্যবহার করে শতাব্দীর পর শতাব্দী বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুলে যাবে। এটি যেমন বৈজ্ঞানিক সাফল্য, তেমনই একটি কৌশলগত জয়।

    তিন-পর্যায়ের পরমাণু কর্মসূচিতে বড় অগ্রগতি

    এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত তার তিন-পর্যায়ের পরমাণু কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল। এই কর্মসূচির ধারণা প্রথম দেন ভারতের পরমাণু কর্মসূচির জনক ডক্টর হোমি জেহাঙ্গির ভাবা।

    • ● প্রথম পর্যায়: প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্লুটোনিয়াম তৈরি
    • ● দ্বিতীয় পর্যায়: ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরে সেই প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে আরও জ্বালানি উৎপাদন
    • ● তৃতীয় পর্যায়: থোরিয়াম ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম-২৩৩ তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন

    কেন ব্যর্থ হয় আমেরিকা ও ফ্রান্স?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬০-এর দশকে ‘ফার্মি-১’ রিঅ্যাক্টর তৈরি করলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও দুর্ঘটনার কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। পরে ‘ক্লিঞ্চ রিভার’ প্রকল্পও ব্যয়বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সমস্যার জন্য বাতিল করা হয়। ফ্রান্সের ‘সুপারফেনিক্স’ রিঅ্যাক্টরও সোডিয়াম লিক, আগুন ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন টেকেনি এবং ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। জাপানের ‘মনজু’ রিঅ্যাক্টরও একাধিক দুর্ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা

    বর্তমানে ভারত প্রায় ৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সরকারের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াটে পৌঁছানো। ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ এটি আমদানিকৃত ইউরেনিয়াম ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। এটি স্থিতিশীল ও পরিষ্কার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকেও ভারতকে সুরক্ষা দেবে। কালপাক্কমের এই রিঅ্যাক্টর প্রায় ৩০ লক্ষ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালপাক্কমের ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি স্বনির্ভরতা এবং কৌশলগত স্বাধীনতার ভিত্তি মজবুত করবে। দশকের পর দশক গবেষণা, বিনিয়োগ এবং ধৈর্যের ফল এই সাফল্য এসেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সাফল্যকে ভারতের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির “একটি নির্ধারক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার প্রতিফলন এবং থোরিয়াম ব্যবহারের পথে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ভারত, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারতীয় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা বলেছে, “এই রিঅ্যাক্টর কম জ্বালানি ব্যবহার করে এবং একটি ক্লোজড ফুয়েল সাইকেলের পথে দিশা দেখাবে।”

  • Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের স্বাস্থ্যকর জলখাবারের মেনুতে হোক কিংবা সন্ধ্যার মুখোরোচক খাবারের তালিকায়, সবজায়গাতেই তার অবাধ যাতায়াত। বাঙালির চির পরিচিত চিড়ে! শুকনো খাবার হিসাবে কয়েক হাজার বছর ধরেই তার কদর। বহুদূরে যাতায়াতের সময় এক কালে চিড়ে সঙ্গে রাখাই ছিলো দস্তুর। এখন অবশ্য পদের রকমফের বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাঙালির অতি পরিচিত চিড়ে কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। এমনকি একাধিক রোগ মোকাবিলাতেও বাড়তি সাহায্য করে এই চিড়ে!

    চিড়ে খেলে শরীরে কী উপকার হয়?

    এনার্জি‌ জোগাতে সাহায্য করে!

    চিড়ে থেকে শরীর সহজেই এনার্জি জোগান করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। শরীরের এনার্জি জোগায় কার্বোহাইড্রেট। তাই চিড়ে খেলে ক্লান্তিবোধ কমে। শরীর সহজেই এনার্জি পায়।

    হজম শক্তি ঠিক রাখে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে হজম শক্তি বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। চিড়ে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত চিড়ে খেলে হজম শক্তি বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে‌।

    দূর্বলতা কমাতে সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে সহজ পাচ্য খাবার। আবার চিড়ে বাড়তি এনার্জির জোগান দেয়। তাই শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলের জন্য চিড়ে উপকারি। বিশেষত অসুস্থ অবস্থায় চিড়ে খুব উপকারি খাবার। কারণ এই খাবার সহজে হজম হয়। আবার এই খাবার খেলে শরীরের দূর্বলতা কমে।

    চিড়ে খেলে কোন রোগের ঝুঁকি কমে?

    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত চিড়ে খেলে একাধিক রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্থূলতা এখন অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, কমবেশি সকলেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। বাড়তি ওজন সুস্থ জীবন যাপনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খাওয়া নিয়ে তাই সচেতনতা জরুরি। তাই চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়েতে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও ফ্যাট নেই। তাই শরীরে মেদ জমে না। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগান দিতে সক্ষম হয়। চিড়ে খেলে সহজেই পেট ভরে থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে চিড়ে খাওয়া উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
    • চিড়ে কম ফ্যাটযুক্ত এবং হালকা খাবার। তাই চিড়ে হৃদরোগ রুখতেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মশলা জাতীয় ভাজা খাবারে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। যা হৃদরোগের ঝুঁকিও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু চিড়ে সেটা নয়। চিড়ে খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
    • চিড়ে রক্তাল্পতার সমস্যা সমাধানেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে খেলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে। কারণ চিড়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। অধিকাংশ ভারতীয় মেয়েরা রক্তাল্পতার সমস্যায় ভোগেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ মেয়েদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। যার ফলে নানান রোগের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত চিড়ে খেলে এই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা সহজ হয়।

    কীভাবে চিড়ে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফল‌ এবং দইয়ের সঙ্গে চিড়ে খেলে শরীরে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কলা, আপেল, আঙুর কিংবা আমের মতো ফলের সঙ্গে টক দই এবং চিড়ে খেলে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ঠিকমতো জোগান পাওয়া যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এটি সুষম খাবার। তাই হজমের পক্ষেও ভালো। তবে শিশুদের জন্য বাদাম বা পেস্তার সঙ্গে দুধ চিড়ে দিলে খুব উপকার পাওয়া যাবে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের শরীরে এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট এবং খনিজ পদার্থের জোগান সহজেই পাওয়া যাবে।

    মুখোরোচক খাবার হিসাবেও চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মটরশুঁটি, গাজর, ক্যাপসিকাম, বিনসের মতো নানান সব্জি সামান্য মাখনে ভেজে সেদ্ধ চিড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এমনকি শিশুদেরও এই খাবার দেওয়া যেতে পারে। এই খাবার সুস্বাদু। আবার পুষ্টিগুণ ভরপুর। নানান সব্জি থাকায় শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সহজেই পাবে। এই খাবারে সামান্য পরিমাণ মাখন দেওয়া থাকে। তাই এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ফ্যাট সংগ্রহ সহজ। আবার চিড়ে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেবে। তাই এই খাবার শরীরের জন্য উপকারি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীর আর মনের সীমানাতেই আটকে নেই সমস্যা। জীবন যাপন এমনকি অর্থনীতির উপরেও প্রভাব ফেলবে এই সঙ্কট। এমনটাই আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে মানসিক চাপে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশে এই সমস্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যার রূপ নিয়েছে। তাই এপ্রিল মাস জুড়ে চলছে মানসিক চাপ নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুই সচেতনতা যথেষ্ট নয়। বরং, প্রয়োজন জীবন যাপনে পরিবর্তন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের স্লোগান, ‘বি দ্যা চেঞ্জ’। নিজের জীবনে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আবার এক সঙ্গে আশপাশের মানুষের জীবনেও যাতে মানসিক চাপ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি‌। তাঁদের আশঙ্কা পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

    ভারতে কতখানি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। যার অন্যতম কারণ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন মানসিক চাপের শিকার। অবসাদ, উদ্বেগ সহ একাধিক মানসিক সমস্যার নেপথ্যে থাকছে মানসিক চাপ। সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের ৫০ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ হল মানসিক চাপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টেলি মানস’ সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ একটা নির্দিষ্ট ফোন কলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের কাছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা জানাতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সমাধানের পথ খুঁজে পাবেন। গত এক বছরে ৩৪ লাখের বেশি মানুষ টেলি মানস-এ নিজের মানসিক চাপে শিকারের কথা জানিয়েছেন। যাদের অধিকাংশের সমস্যা যথেষ্ট জটিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ৩৫ বছরের নীচে ৬০ শতাংশ ভারতীয় মানসিক চাপে ভুগছেন।

    কেন শরীর ও মনের পাশপাশি আর্থিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে মানসিক চাপ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মানসিক চাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার পাশপাশি আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হতে চলেছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে কর্মক্ষমতা ও কর্ম দক্ষতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ। আগের থেকে কম দক্ষ ও নিপুণতা কমে যাওয়ায় কাজের মান কমছে। অনেক সময়েই মানসিক চাপের কারণে কাজের গুণমান খারাপ হচ্ছে। এর ফলে কাজ হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। আবার মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মানব সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তাই এগুলোর প্রভাব সরাসরি অর্থনীতির উপরে পড়ছে। এছাড়া মানসিক চাপ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। আর্থিক উন্নতিতে এর প্রভাব পড়ছে। তাই মানসিক চাপ কেবল স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। এর প্রভাব আরও গভীর।

    কেন মানসিক চাপ বাড়ছে?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মানসিক চাপের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রতিযোগী পরিবেশ, এর অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে স্কুল স্তর থেকেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আধুনিক অর্থনীতিতে কর্মজীবনেও তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। কাজের নিশ্চয়তা কমছে। আর্থিক উন্নতির জন্য এক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই যেতে হচ্ছে। এগুলো মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাছাড়া শহুরে জীবনে বদলে যাচ্ছে পরিবারের সমীকরণ। নিজের উদ্বেগ, রাগ, দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মতো সঙ্গী পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ শহুরে ভারতীয় একাকিত্বে ভুগছেন। যা মানসিক চাপ তৈরি করছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি ভারতে মানসিক চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর জেরে অপর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে। আবার ভার্চুয়াল জগত জীবন যাপনের ধারায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এগুলো মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

    মানসিক চাপ শরীরের জন্য কতখানি বাড়তি বিপজ্জনক?

    মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ, খিটখিটে মেজাজের মতো একাধিক সঙ্কট তৈরির পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কম বয়সে স্ট্রোকের নেপথ্যেও থাকে মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। তাই একাধিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সেই প্রভাব দেখা যায়। বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে মানসিক চাপ কমাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। বরং কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তাকে কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে যাতে বড় বিপদ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা যেতে পারে। তাঁদের পরামর্শ, মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শরীর চর্চা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস, ধ্যান করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। এর ফলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম ঘুম মানেই মানসিক চাপ বাড়বে। নিয়মিত যাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য বরাদ্দ জরুরি। অর্থাৎ গান গাওয়া, ছবি আঁকা কিংবা গল্পের বই পড়ার মতো কাজে কিছুটা সময় দিলে মানসিক চাপ কমবে। তবে নিজের কথা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব কমাতে না পারলে মানসিক চাপ বাড়বে। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • 800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত ব্রহ্মোস-এলআর (লং রেঞ্জ) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য বড় অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সেনা, প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস?

    বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে থাকা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে স্থল, নৌ ও বায়ু—তিন বাহিনীতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াতে এবার ৮০০ কিমি পাল্লার সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মোসের এই উন্নত ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের ডিআরডিও (DRDO) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন সংস্করণটি মাক ৩ (শব্দের তিনগুণ বেশি) গতিবেগ বজায় রেখেই শত্রুপক্ষের গভীর এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমানে, এই মিসাইলের একাধিক উড়ান পরীক্ষা চলছে।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের বৈঠক শীঘ্রই!

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে খুব শিগগিরই এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর বৈঠকে এই বড় ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে এটি হবে দীর্ঘ-পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৃহৎ অর্ডার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ‘স্ট্যান্ড-অফ ডিটারেন্স’ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ তৈরি করে দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজসেও তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক সংঘাত কী শেখাচ্ছে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছিল। ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ ভারতীয় বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একাধিক ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানে। একই সঙ্গে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাতও দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থার উপর। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি মানবসম্পৃক্ততার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

    সেনাবাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন

    এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত নিজেদের বাহিনী কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছে। বড় সংখ্যায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি আর্টিলারি ও পদাতিক রেজিমেন্টে বিশেষ ড্রোন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এমনকি সেনার নিজস্ব কর্মশালায় বড় আকারে ড্রোন উৎপাদনও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি একটি পৃথক মিসাইল ফোর্স গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে একত্রিত করে একটি আধুনিক, নেটওয়ার্কভিত্তিক মাল্টি-ডোমেইন স্ট্রাইক ফোর্স গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য।

    কৌশলগত বার্তা কী?

    ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নয়, বরং একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা—ভারত ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, যেখানে গতি, নির্ভুলতা এবং দূরপাল্লার আঘাতই হবে মূল নির্ধারক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের অনুমোদন মিললে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় ধাপ এগোবে। সব মিলিয়ে, ব্রহ্মোসের দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণ শুধু একটি অস্ত্র নয়—এটি ভারতের সামরিক চিন্তাধারার এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের প্রতীক।

  • Bone Health: চুপিসারে ক্যালসিয়াম কমাচ্ছে এই ৫ জনপ্রিয় খাবার— আপনি কি খাচ্ছেন?

    Bone Health: চুপিসারে ক্যালসিয়াম কমাচ্ছে এই ৫ জনপ্রিয় খাবার— আপনি কি খাচ্ছেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একটানা কয়েক মিনিট হাঁটার পরেই হাঁটুতে যন্ত্রণা অনুভব হয়। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কোমড়ে তীব্র ব্যথা। আবার কখনো কখনো হাত-পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। বয়সের সংখ্যায় আর এই সব ভোগান্তি আটকে নেই। তিরিশ থেকে আশি, সব বয়সীদের মধ্যেই কম বেশি এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাড়ের সমস্যায় কাবু অধিকাংশ ভারতীয়। আর তার জেরেই নানান ভোগান্তি বাড়ছে। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলেও হাড়ের জোর কমছে। আর নেপথ্যে রয়েছে পাঁচ খাবার! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের হাড়ের শক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ, ক্যালসিয়াম ক্ষয়। অনেকক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরেও অনেকেই হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন। তার কারণ, ভুক্তভোগীদের অনেকেই এমন পাঁচ খাবার নিয়মিত খাচ্ছেন, যা তাঁদের হাড়ের ক্ষয়ের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ভারতে হাড়ের সমস্যা কতখানি প্রবল?

    ভারতে হাড়ের রোগ মহামারির আকার নিচ্ছে। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সীদের মধ্যেও হাড়ের নানান রোগ দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া এক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৬ কোটি মানুষ অস্ট্রিওপোরেসিস রোগে আক্রান্ত। অস্ট্রিওপোরেসিস হাড় ক্ষয় রোগ। এছাড়াও, ওই তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ অস্ট্রিওপেনিয়ায় আক্রান্ত। অর্থাৎ, অধিকাংশ ভারতীয়ের হাড় দূর্বল। একাধিক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি পাঁচ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন হাড়ের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। পুরুষ ও মহিলার তুলনায় মহিলারাই বেশি হাড়ের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের মধ্যে হাড়ের রোগের প্রকোপ বেশি।

    কোন পাঁচ খাবারে হাড়ের ক্ষয় বাড়াচ্ছে?

    হাড়ের রোগের ঝুঁকি কমাতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশপাশি এমন খাবার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে, যাতে হাড়ের ক্ষয় না হয়। অর্থাৎ, শরীরের ক্যালসিয়াম নষ্ট করে এমন খাবার কখনোই খাওয়া যাবে না। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয়দের নিয়মিত খাবারের তালিকায় এমন কিছু খাবার ও পানীয় থাকছে, যা হাড়ের ক্ষতি করছে। যার ফলে হাড়ের সমস্যা আরও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত নুন দেওয়া খাবার!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অতিরিক্ত নুন খাওয়ার অভ্যাস একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত নুন শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। শৈশব থেকেই চিপস, আচার বা প্রক্রিয়জাত এমন নানান খাবারে ভারতীয়েরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যেগুলো অতিরিক্ত নুন দেওয়া হয়। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম গেলে, ক্যালসিয়াম নষ্ট হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত নুন জাতীয় খাবার খেলে ক্যালসিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে। হাড়ের ক্ষতি হবে।

    অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয়!

    অধিকাংশ ভারতীয় বাড়তি এনার্জি পাওয়ার জন্য ভরসা রাখেন চা কিংবা কফিতে! আর এই অতিরিক্ত চা কিংবা কফি খাওয়ার অভ্যাসের জেরেই হাড়ের রোগ দেখা দিতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় প্রসাবের সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। দিনে তিন বারের বেশি কফি বা চা পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ক্ষয় হতে পারে।

    সফট ড্রিংকস বাড়াচ্ছে বিপদ!

    বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ উদযাপনে হোক কিংবা গরমের সাময়িক আরাম দিতে, সঙ্গী হয় সফট ড্রিংকস। কিন্তু প্যাকেটজাত এই পানীয় বিপদ বাড়ায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। সফট ড্রিংকসে থাকে ফসফরিক অ্যাসিড। এই উপাদান শরীরের ক্যালসিয়াম নষ্ট করে দেয়।

    অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ায় অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের সমস্যা বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু ভারতীয় নিয়মিত রান্নায় মাত্রাতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করেন। আবার অনেকেই নিয়মিত পেস্ট্রি, কেক বা অন্যান্য মিষ্টি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখেন। চিনি বা মিষ্টি শুধু শরীরের অতিরিক্ত ওজন বাড়িয়ে দেয় না। মিষ্টি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে বাধা দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিম, দুধ, লেবুর মতো খাবার শরীরে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। কিন্তু নিয়মিত মিষ্টি খেলে শরীর সেই ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে না। ক্যালসিয়াম গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়।

    মদ্যপান!

    ভারতীয়দের মধ্যে মদ্যপানের অভ্যাস বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, উদযাপনের অঙ্গ হয়ে উঠছে মদ্যপান। লিভার, কিডনির ক্ষতি করার পাশপাশি মদ্যপান হাড়ের ক্ষয় রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত মদ্যপান করলে হাড়ের ক্যালসিয়ামের ক্ষয় হয়। ফলে হাড় দূর্বল হয়। ভোগান্তি বাড়ে।

  • Suvendu Adhikari: তাঁর ওপর নজর রাখছে সাদা পোশাকের পুলিশ! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, কমিশকে দিলেন চিঠি

    Suvendu Adhikari: তাঁর ওপর নজর রাখছে সাদা পোশাকের পুলিশ! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, কমিশকে দিলেন চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনে (Bengal Elections 2026) হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur Assembly Constituency)। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপির বাজি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুই হেভিওয়েটের মুখোমুখি লড়াইয়ে (Suvendu vs Mamata) ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করেছে।

    অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

    এই আবহেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তোলা এক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রবিবার তিনি ইমেলের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে বাড়ি বাড়ি প্রচারের সময় সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা তাঁকে অনুসরণ করছেন, তাঁর উপর নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, যেসব সাধারণ ভোটার তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন বা কথা বলছেন, তাঁদের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

    ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ

    শুভেন্দুর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ভবিষ্যতে ওই ভোটারদের ভয় দেখানো। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা সাহস করে আমার সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ভোটারদের উপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কলকাতা পুলিশকে শাসকদল তাদের ‘নজরদারি বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা।

    সমাজমাধ্যমে সরব শুভেন্দু

    এই অভিযোগের সমর্থনে নিজের সমাজমাধ্যমেও একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি লেখেন, “ভবানীপুরে আক্রান্ত গণতন্ত্র। কলকাতা পুলিশকে তৃণমূল ব্যক্তিগত নজরদারি বাহিনী হিসেবে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করছে।” তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রচারের সময় তাঁকে অনুসরণ করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করা প্রতিটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় বাধা বলে দাবি ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর। যদিও এই সব কৌশল আর কাজ করবে না বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের কৌশল আর কাজ করবে না। রাজ্যে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষের পথে। ভবানীপুরের ভোটাররা এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”

    ছবি প্রকাশ শুভেন্দুর, নজর কমিশনের দিকে

    উল্লেখযোগ্যভাবে, শুভেন্দু অধিকারী দু’জন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন, যাঁদের তিনি পুলিশকর্মী বলে দাবি করেছেন। তাঁদের নাম, পদ এবং সংশ্লিষ্ট থানার তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। যদিও এই ছবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসন বা কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। এখন নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। চৈত্র মাসের শেষ জানান দিচ্ছে, চলতি বছর গরমের প্রকোপ বাড়বে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তীব্র রোদ আর অস্বস্তিকর আবহাওয়া শরীরে গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষত, রক্তচাপ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকছে। গরমে বাড়তে পারে রক্তচাপ। কমবয়সী থেকে প্রৌঢ়, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই আবহাওয়া তাঁদের জন্য যেমন বাড়তি সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনি হঠাৎ করেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়ে, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন গরমে রক্তচাপ বাড়ে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার সঙ্গে শরীরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত তাপমাত্রার পরিবর্তনে শরীরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ঘাম হয়। এর ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ জল কমে গেলে,রক্ত ঘন হয়ে যায়। তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
    • গরমে অস্বস্তি বাড়ে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতাও বাড়ে। তাই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
    • গরমের ঘাম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানসিক চাপ বাড়ায়। স্ট্রেস হরমোনের সঙ্গে শরীরের রক্তচাপের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্ট্রেস বাড়লেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়।
    • গরমে সাময়িক আরাম পেতে অনেকেই বারবার প্যাকেটজাত পানীয় খায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে লবন, মিষ্টি এবং নানান প্রক্রিয়াজাত পদার্থ থাকে। এগুলি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    হঠাৎ রক্তচাপ বাড়লে কী বিপদ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদপিণ্ডের ওপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
    • হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। তার নেপথ্যে থাকে হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
    • রক্তচাপ বাড়লে চোখের ওপরে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তচাপ হঠাৎ বাড়লে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।
    • তাছাড়া রক্তচাপ বাড়লে কিডনির উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। কিডনির কার্যকারিতা কমে। তাছাড়া বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও হতে পারে।

    কীভাবে এই আবহাওয়ায় রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখবন?

    • চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুক্তভোগীদের এই আবহাওয়ায় নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
    • নিয়মিত পরীক্ষা করলে তাঁদের রক্তচাপ কতখানি ওঠানামা করছে, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাবে। ফলে, আগাম সতর্কতা নেওয়া সহজ হবে। বড় বিপদ এড়ানো‌ যাবে।
    • লাগাতার প্রচন্ড মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
    • গরমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে হবে। তবে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। আরামের জন্য প্যাকেটজাত পানীয় নয়। ডাবের জল, টক দইয়ের সরবত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • অতিরিক্ত লবন দেওয়া খাবার নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার নয়। বরং নিয়মিত খাবারের তালিকায় সব্জি, ফল রাখা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে অস্বস্তি কমবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোলে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আধ ঘন্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Indian Navy: ৭ দিনে যোগ দিল ৫ যুদ্ধজাহাজ, ১ পারমাণবিক সাবমেরিন! নজিরবিহীন তৎপরতা ভারতীয় নৌসেনায়, কারণ কী?

    Indian Navy: ৭ দিনে যোগ দিল ৫ যুদ্ধজাহাজ, ১ পারমাণবিক সাবমেরিন! নজিরবিহীন তৎপরতা ভারতীয় নৌসেনায়, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুড ফ্রাইডে-র সকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের একটা ছোট্ট টুইট আলোড়ন ফেলে দিয়েছে দেশে। নিজের এক্স হ্যান্ডলে রাজনাথ লেখেন, ‘‘শব্দ নয়, এটি শক্তি—‘অরিধমান’’’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই ক্রিপ্টিক (ইঙ্গিতবাহী) পোস্ট দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাহলে কি ভারতীয় নৌসেনায় চুপিসাড়ে তৃতীয় পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক সাবমেরিনকে কমিশনড্ বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে গেল? অবিশ্বাস্য নয় এটা। কারণ, ‘অরিধমান’-এর দুই পূর্বসূরি যথা ‘অরিহন্ত’ ও ‘অরিঘাত’-এর ক্ষেত্রেও চুপিসাড়ে অন্তর্ভুক্তির ঘটনা ঘটেছিল। ফলে, এক্ষেত্রেও যে ব্যতিক্রম হবে না, তা ধরে নেওয়া যায়। কারণ, এসএসবিএন (পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন)-এর বিষয়ে বরাবরই মুখে কুলুপ কেন্দ্রের। এই সাবমেরিন হচ্ছে ভারতের অত্যন্ত গোপন বিষয়। কাকপক্ষীও টের পায় না। এমনকী, অন্তর্ভুক্তির পর অরিধমান ঠিক কোথায় করছে, তা সরকারেরও সকলে জানে না। তবে, সাবমেরিনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখলেও জাহাজের ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক তার উল্টো। একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে জাহাজের অন্তর্ভুক্তির কথা জানানো হয়। কারণ, সাবমেরিন যেখানে অতল সমুদ্রতলে ঘাপটি মেরে থাকে, জাহাজ তো ভাসমান।

    কী ঘটে চলেছে নৌসেনায়?

    এদিকে, এক সপ্তাহে ভারত যা করে দেখাল, তা বোধহয়, বিশ্বের কোনও নৌসেনা করে দেখাতে পারেনি। গত সাত দিনে ভারতীয় নৌসেনায় এমন কিছু ঘটেছে, যা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আক্ষরিক অর্থে! কী সেটা? খোলসা করা যাক— গত সাত দিনে, ভারতীয় নৌসেনায় ৫টি রণতরী এবং একটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে অন্তর্ভুক্ত করে এক নজির সৃষ্টি করেছে। এই অন্তর্ভুক্তি ধারার শুরুটা হয়েছিল ৩০ মার্চ। সেদিন কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) একদিনে তিন-তিনটি রণতরীকে ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছিল। জাহাজগুলি হল— অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘দুনাগিরি’, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ‘সংশোধক’ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট ‘অগ্রয়’। ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ, ৩১ মার্চ নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয় কোচিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত আরও একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট ‘মালওয়ান’। এর পর মাঝে ২ দিনের বিরতি। ফের শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ভারতীয় নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত এক জোড়া নৌযানের অন্তর্ভুক্তি হল। এদিন নৌসেনার পরিবারে আরও একটি অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’ এবং এসএসবিএন ‘অরিধমান’ প্রবেশ করল। বিশাখাপত্তনমে তারাগিরি-র অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাজনাথ সিং। কাকতালীয়ভাবে, এই ভাইজ্যাগই হল ভারতের পারমাণবিক সাবমেরিনের নির্মাণের হাব এবং নৌসেনার সাবমেরিন ফ্লিটের সদর। ফলে, দুয়ে-দুয়ে চার করা সহজ। ভারতের এই যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ দেখে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, নৌসেনায় ঠিক কী ঘটে চলেছে? কেন নৌসেনায় এত তৎপরতায় পর পর রণতরীর অন্তর্ভুক্তি হয়ে চলেছে?

    ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গড়ে তোলার লক্ষ্য

    অল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলি রণতরীর অন্তর্ভুক্তির ঘটনা শুধু বিরল নয়, কার্যত নজিরবিহীন। এর থেকে পরিষ্কার, ভারতীয় নৌসেনায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নীল-জলে নিজেদের শক্তি-বৃদ্ধি করার পণ নিয়েছে এবং তা পূরণ করে চলেছে। এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরে ভারতীয় নৌসেনায় আরও একাধিক যুদ্ধজাহাজ যোগ দিতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে ১৫ থেকে ১৯টি জাহাজ নৌসেনায় যোগ দিতে চলেছে, যা কিনা একটা রেকর্ড হতে পারে। অর্থাৎ, প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে জাহাজের অন্তর্ভুক্তি হবে। কী প্রচণ্ড গতিতে দেশে জাহাজ নির্মাণের কাজ হচ্ছে, তা এই ছোট্ট পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে ১৩০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় ২৫১টি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ নৌ কমান্ডের অধীনে বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, করভেট, সাবমেরিন ও অ্যামফিবিয়াস জাহাজ মোতায়েন রয়েছে দেশের বিস্তৃত সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নৌবহর ১৫৫-১৬০টি যুদ্ধজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দীর্ঘমেয়াদে ২০০-রও বেশি জাহাজ নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক জলসীমায় কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

  • Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর পাঁচ জনের মতো পরিচিত ছন্দে জীবন কাটে না। নিজের কথা বোঝানোর ভঙ্গি আলাদা। আনন্দ-দুঃখ-যন্ত্রণা প্রকাশের ধরণ ভিন্ন। তবে অধিকাংশের থেকে আলাদা হলেও, মানবাধিকারের প্রশ্নে কিন্তু তারা সকলের সঙ্গে এক সারিতেই রয়েছেন‌। ২ এপ্রিল ছিল অটিজম সচেতনতা দিবস। আর চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অটিজম সচেতনতায় আক্রান্তদের মানবাধিকার নিয়ে সচেতনতা প্রসার সবচেয়ে জরুরি। এ বছরের থিম, ‘autism and humanity: every life has value.’ আর পাঁচজনের থেকে ব্যতিক্রম বলেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যায় না। অটিজম আক্রান্তের প্রতি মানবিক থাকা জরুরি।‌ কারণ প্রত্যেক জীবন মূল্যবান। অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। অটিজম নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি। তার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে এই মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠাও জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    অটিজম কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম হলো মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এর নেপথ্যে থাকে দিন ঘটিত কারণ। এই সমস্যা শিশুর কথা বলা, অন্যদের মনের ভাব প্রকাশ, সামাজিক মেলামেশায় প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ অটিজম আক্রান্ত অন্যদের দেখে কোনও কাজ করতে শিখতে পারে না। তাঁরা এক কাজ বারবার করেন। তীব্র আলো, শব্দে তাঁদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।

    ভারতে কি অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩৬ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজম আক্রান্ত।‌ গত এক দশকে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

    কেন ভারতে অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত এক দশকে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বছর দশেক আগেও এই সমস্যা সম্পর্কে অধিকাংশ পরিবার অসচেতন ছিলেন। এর ফলে শিশু আক্রান্ত হলেও, চিহ্নিত হত না। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এই সমস্যা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে। লাগাতার স্ক্রিনিং হচ্ছে। আর তার ফলেই শিশুদের এই সমস্যা রয়েছে কিনা, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া স্ক্রিনিং পদ্ধতিও উন্নত হচ্ছে। তাই মাইল্ড অটিজম অর্থাৎ খুব সামান্য সমস্যা থাকলেও, সেটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে।

    অটিজম সচেতনতায় মূল চ্যালেঞ্জ কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের জীবন যাপনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সামাজিক অসচেতনতা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আর পাঁচ জনের থেকে ভিন্ন হলেও, আক্রান্তের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে, এ নিয়ে সচেতনতা কম। আক্রান্তের শিক্ষার অধিকার রয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তলানিতে‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ স্কুলে অটিজম আক্রান্তের শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ফলে, সমাজের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ অটিজম আক্রান্তদের কমে যায়। এর ফলে, তাঁদের জীবন যাপন আরো জটিল হয়ে যায়। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা আরো কমে যায়। তাছাড়া, অনেকক্ষেত্রে আক্রান্তদের মানবিক সম্মান দেওয়া হয় না। তাঁদের কথা বলার সমস্যা নিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগের জটিলতা নিয়ে কটুক্তি করা হয়। এর ফলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও কমে যায়। লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পারবে, এই সমস্যা কমাতে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত, এ নিয়ে সচেতনতা প্রসার জরুরি।‌ অটিজম আক্রান্ত শিশুর শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তারা খেলবে, আঁকবে, সবকিছু করবে। তাঁদের সমস্ত কাজে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিতে হবে। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা প্রসার জরুরি। তবেই আক্রান্তেরা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারবেন। প্রতিকূলতা কমবে।

     

  • Agasthya-1 Rocket: ২৪ ঘণ্টার নোটিসেই উৎক্ষেপণ সম্ভব! বিশ্বকে চমকে দিতে প্রস্তুত ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানীদের তৈরি ‘অগস্ত্য-১’

    Agasthya-1 Rocket: ২৪ ঘণ্টার নোটিসেই উৎক্ষেপণ সম্ভব! বিশ্বকে চমকে দিতে প্রস্তুত ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানীদের তৈরি ‘অগস্ত্য-১’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ভারতের মহকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর প্রাক্তন কয়েকজন বিজ্ঞানী মিলে এমন একটি অত্যাধুনিক রকেট তৈরি করেছেন, যাকে কিনা মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিসে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হতে পারে। অর্থাৎ, গবেষণাগার থেকে উৎক্ষেপণের সময় মাত্র ২৪ ঘণ্টা! এই প্রকল্পটি ভারতের দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

    বদলে দিতে পারে উৎক্ষেপণের ধারনা

    ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, আর সেই দৌড়ে নতুন নাম হিসেবে উঠে আসছে গুজরাটের সংস্থা ভারত স্পেস ভেহিকল (Bharath Space Vehicle)। সুরাট-ভিত্তিক এই স্টার্টআপটি তৈরি করছে ‘অগস্ত্য-১’ (Agasthya-1 Rocket) নামের একটি নতুন রকেট, যা ভবিষ্যতে দেশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ধরন ও ধারনাই বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার টিমের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ৭০ বছরেরও বেশি। ফলে এটিকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি রকেট প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কী এই ‘অগস্ত্য-১’?

    ‘অগস্ত্য-১’ (Agasthya-1 Rocket) একটি ২৮ মিটার লম্বা, দুই ধাপের (টু-স্টেজ) রকেট। এটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সূর্য-সমলয় কক্ষপথে (Sun-synchronous orbit) প্রায় ৫০০ কেজি পর্যন্ত এবং ৪০০ কিমি উচ্চতার নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (LEO) প্রায় ৮০০ কেজি পর্যন্ত স্যাটেলাইট বহন করতে সক্ষম এই রকেট। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল—মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা যায়। প্রতিরক্ষা, জরুরি পরিস্থিতি বা দ্রুত স্যাটেলাইট মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি বড় সুবিধা দিতে পারে।

    তরল জ্বালানির বিশেষ সুবিধা

    ভারতের বেশিরভাগ ছোট রকেট, যেমন এসএসএলভি, কঠিন জ্বালানি (solid fuel) ব্যবহার করে। কিন্তু ‘অগস্ত্য-১’-এ ব্যবহার করা হচ্ছে তরল অক্সিজেন (LOX) এবং কেরোসিন (RP-1)।

    এর ফলে বড় সুবিধা হল—

    • উৎক্ষেপণের আগে ইঞ্জিন পরীক্ষা করা যায়
    • ‘Test What You Fly’ পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব
    • দ্বিতীয় ধাপের ইঞ্জিন প্রায় ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত পরীক্ষা করা যায়
    • স্টেজ আলাদা হওয়া বা ফেয়ারিং বিচ্ছিন্ন করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও আগে যাচাই করা যায়

    ফলে মিশনের সময় ব্যর্থতার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে।

    অভিজ্ঞ নেতৃত্বে প্রকল্প

    এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছেন মহাকাশ গবেষণার অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা। রয়েছেন এন বেদচালাম — যিনি ইসরোর লিকুইড প্রোপালশন সিস্টেমস সেন্টারের প্রাক্তন ডিরেক্টর এবং পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত। ভারতের ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। রয়েছেন এসভি শর্মা — যিনি এসএলভি-৩, এএসএলভি, পিএসএলভি এবং জিএসএলভি প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং এপিজে আুদুল কালামের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    গুজরাতে নতুন স্পেস হাবের সম্ভাবনা

    বিএসভি গুজরাটের কোদিনার এলাকায় একটি নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতের প্রথম পশ্চিম উপকূলীয় স্পেসপোর্ট হতে পারে। এছাড়াও সংস্থাটি ইনস্পেস-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে, যার ফলে ইসরোর অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে—যা একটি নতুন সংস্থার জন্য বড় সহায়তা।

    ভারতের মহাকাশ ভবিষ্যতে কী প্রভাব?

    ভারতীয় মহাকাশ নীতি ২০২৩ চালু হওয়ার পর থেকেই বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য মহাকাশ খাতের দরজা খুলে গেছে। ফলে একাধিক স্টার্টআপ এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পরিষেবায় প্রবেশ করছে। ‘অগস্ত্য-১’-এর (Agasthya-1 Rocket) মাধ্যমে বিএসভি দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী উৎক্ষেপণ পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে থাকা ছোট স্যাটেলাইট বাজারে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হতে পারে।

LinkedIn
Share