Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Election Commission India: রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মেয়াদ বৃদ্ধি; দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নবান্নে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত

    Election Commission India: রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মেয়াদ বৃদ্ধি; দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নবান্নে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহানির্দেশক (DGP) সিদ্ধনাথ গুপ্তের (Election Commission India) চাকরির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে এবং ক্যাবিনেটের সিদ্ধনাথের (IPS Siddh Nath Gupta) নিয়োগ কমিটির (ACC) অনুমোদনে এই সিদ্ধান্তের কথা সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

    আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি (Election Commission India)

    ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস অফিসার সিদ্ধনাথ গুপ্তের (IPS Siddh Nath Gupta) আগামী ৩০ এপ্রিল অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জনস্বার্থে এবং নির্বাচনকালীন বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস’ অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছিল। ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়ে ছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। তাঁর জায়গায় নিযুক্ত করা হয় সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। সেই সময় তৎকালীন ডিজি-র পরিবর্তে সিদ্ধনাথ গুপ্তকে রাজ্যের পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট পরিচালনা করবেন সিদ্ধনাথ

    ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকেও বদলি করেছিল কমিশন। মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় তারা। তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুষ্মন্তকে। সরানো হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয় সংঘমিত্রা ঘোষকে। তার পরে ক্রমে একঝাঁক পুলিশ কর্তা এবং আধিকারিকদের বদলি করে কমিশন। রাজ্যের ডিজি পদে বসেন সিদ্ধনাথ। তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে কমিশন তাঁর নেতৃত্বের উপর নির্ভর করে ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট পরিচালনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কমিশনের বক্তব্য

    গত ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণকে ঘিরে সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল বলেন, ‘‘ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও গন্ডগোলের অভিযোগ নেই। সর্বত্র সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ছিল। আগে ওই সমস্ত কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যেও অশান্তি হত। বুথের বাইরে কয়েকটি অশান্তির অভিযোগ এসেছে। তবে কোথাও কোনও মৃত্যুর খবর নেই।’’

    শান্তি রক্ষা ও সমন্বয়

    দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে স্থায়িত্ব বজায় থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোট চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মতো (IPS Siddh Nath Gupta)  অভিজ্ঞতার ওপরই আস্থা রাখছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) ও প্রশাসন।

    নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই চিঠির পর রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে বর্তমান কর্মপরিকল্পনা বজায় রেখেই পরবর্তী দফার নির্বাচনগুলোর প্রস্তুতি নেওয়া হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ, রোগ মুক্ত জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা। সেই সতর্কতা এবং সচেতনতার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে টিকাকরণ। টিকাকরণ সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সময় মতো টিকা করণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর ভারত গত দু’বছরে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে‌। শিশুদের টিকাকরণে দেশে বিপুল সাফল্য দেখা দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা (Adult Vaccination India)। এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ জুড়ে চলে ইমিউনাইজেশন উইক (World Immunization Week)। অর্থাৎ, শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি অটুট রাখতে টিকা করণ জরুরি। সেই টিকা করণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এবং সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই প্রচার কর্মসূচি চলে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চ্যালেঞ্জের দিকে নজর রেখেই ইমিউনাইজেশন উইকে দেশ জুড়ে কর্মসূচি পালন হবে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দেশ জুড়ে শিশু টিকাকরণে বিপুল সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। দেশের ৯৪ শতাংশ শিশুর নিয়ম মাফিক টিকা করণ হয়েছে। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনেই শিশুর সমস্ত টিকা করণ হয়েছে। কোনও কোনও রাজ্যে শিশু টিকাকরণে সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি। যক্ষ্মা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি, রুবেলা, ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য উল্লেখযোগ্য। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনে জিরো ডোজ চাইল্ড অর্থাৎ একটিও টিকা পায়নি এমন শিশু ০.০৬ শতাংশ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তারা অবশ্য জানাচ্ছেন, তাঁদের টার্গেট ১০০ শতাংশ শিশুর টিকা করণ। তাই আরও বেশি নজরদারি দেওয়া হচ্ছে।

    ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ

    তবে, চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা। করোনা আবহে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ নিয়ে সচেতনতা বেড়েছিল। যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা যথেষ্ট নয়। এ দেশে শিশু টিকা করণ নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণের হার কম। প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের হার ২ শতাংশ। দেশে নিউমোনিয়ায় বয়স্কদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লেও, প্রাপ্তবয়স্কদের নিউমো-কক্কাল টিকাকরণের হার ০.৭ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের হেপাটাইটিস বি টিকা করণের হার ২ শতাংশ। টাইফয়েড এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাকরণের হার ১.৫ শতাংশ। বয়স্কদের টিকার করণের হার এত কম হওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের মধ্যে টিকা করণ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। টিকা শুধুই শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। সুস্থ জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত। এ সম্পর্কে এখনও সব স্তরে ধারণা স্পষ্ট হয়নি। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ এখন ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    কোন দিকে বাড়তি গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে ইমিউনাইজেশন উইকের মূল ভাবনা হলো, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখবে টিকা। অর্থাৎ, টিকা করণ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির সুরক্ষা কবচ নয়। বরং একটি রোগ নির্মূল করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ জীবনযাপনের পথে নিয়ে যেতেও সাহায্য করে। হেপাটাইটিস, টাইফয়েড কিংবা নিউমোনিয়ার মতো রোগের দাপট কমাতে টিকা করণ জরুরি। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের এই রোগ হলে, বাকিদের মধ্যেও, রোগ সংক্রামিত হতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। শৈশবে টিকা নেওয়া না হলে, চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে, পরবর্তী সময়ে টিকা করণ করা যায়। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। যাতে দেশ থেকে একাধিক ভাইরাসঘটিত অসুখ নির্মূলের কাজ সহজ হয়। সেদিকে নজর রেখে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণে বাড়তি সচেতনতা প্রসার চালানো হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Election Commission India: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আগে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ৩৬-ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ১৫৪৩ দুষ্কৃতী গ্রেফতার

    Election Commission India: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আগে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ৩৬-ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ১৫৪৩ দুষ্কৃতী গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (Election Commission India) নির্বিঘ্ন ও ভীতিমুক্ত করতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৩৬ ঘণ্টায় এখনও পর্যন্ত ১৫৪৩ জন চিহ্নিত দুষ্কৃতীকে আটক করেছে পুলিশ (Bengal Assembly Election 2026)।

    ভোটারের মনে আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) সূত্রে খবর, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোটারের মনে আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। রবিবার সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যে ১৫৪৩ জন দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করা হয়েছে। এই বিপুল ধরপাকড়ের মধ্যে জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে এগিয়ে পূর্ব বর্ধমান। সেখানে ৪৭৯ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন নাড়ুগোপাল ভকত নামে পূর্ব বর্ধমান জেলার এক তৃণমূল কাউন্সিলরও।  পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে মূলত সেই সমস্ত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে নির্বাচনী হিংসায় (Bengal Assembly Election 2026) জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে অথবা যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ভোটে উত্তপ্ত জগদ্দল

    রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল জগদ্দল। গোলমালের সূত্রপাত হয় আটচলা বাগানে। তৃণমূলের আক্রমণের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র‍্যাফ নামে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাঁদের উপর ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্জুন। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

    চিহ্নিতকরণ ও অভিযান

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) নির্দেশে জেলাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে গত কয়েক দিনে কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) কার্যকর করা হয়েছে। জেলা ভিত্তিক গ্রেফতারের সংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, পূর্ব বর্ধমানে ৪৭৯ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন, উত্তর কলকাতায় ১০৯ জন, হুগলিতে ৪৯ জন, নদিয়া জেলায় ৩২ জন  এবং হাওড়ায় ৩২ জন।

    সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি

    ভিন রাজ্য বা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে যাতে কোনো দুষ্কৃতী রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য নাকা চেকিং এবং সীমানা সিল করার কাজও জোরদার করা হয়েছে। দুষ্কৃতী দমনের পাশাপাশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ক্ষেত্রেও জেলা পুলিশকে বিশেষ সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

    শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি

    প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “শান্তিপূর্ণ ভোটদান (Bengal Assembly Election 2026) নিশ্চিত করতে আমরা শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছি। কোনও ধরণের প্ররোচনা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।”

    প্রথম দফার ভোটের আগে পুলিশের এই ব্যাপক ধরপাকড় জনমনে সুরক্ষার বার্তা দিলেও, রাজনৈতিক মহলে এর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক উৎসবকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এই প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী ২৯ এপ্রিল কতটা শান্তিপূর্ণ ভোট হয় তাই এখন দেখার।

  • Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই রাজনৈতিক সচেতনতার (Bengal Assembly Election 2026) নিরিখে অগ্রগণ্য। সম্প্রতি গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় সেই সচেতনতার এক অনন্য প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। বিশেষত জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যেখানে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে এক অভূতপূর্ব ভোটদানের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে— পুরুষ ভোটারদের তুলনায় মহিলা ভোটারদের উপস্থিতির হার অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) জানিয়েছে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তার মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি পরিমাণে ভোট প্রদান করেছেন। এটি কেবল একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলার গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরে নারী ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এক বিরাট ইঙ্গিত।

    পরিসংখ্যানের দর্পণে নারী ভোটাধিকার (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার বেশ কিছু কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে যে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। অনেক কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের ভোটের হার যেখানে ৭৯ বা ৮০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, সেখানে মহিলাদের ভোটের হার ৮৩ থেকে ৮৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলোতে এই চিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ উপেক্ষা করেও মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ (Bengal Assembly Election 2026) প্রমাণ করে যে, নীতি নির্ধারণ এবং সরকার গঠনে নিজেদের ভূমিকার গুরুত্ব তাঁরা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

    এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কী কারণ?

    সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল মহিলা ভোটের হার বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। যা হল-

    রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রচার

    সবকটি রাজনৈতিক দলই বর্তমানে তাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতি রেখেছে। রাজনৈতিক সভাগুলোতে মহিলাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। নারীদের কেন্দ্র করে যে ধরণের প্রচার চালানো হয়েছে, তা তাঁদের মধ্যে এক ধরণের গুরুত্ববোধ তৈরি করেছে।

    নিরাপদ পরিবেশ

    নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি মহিলাদের মনে সাহস জুগিয়েছে। নির্ভয়ে ভোট (Bengal Assembly Election 2026) দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণেই ঘরের কাজ সামলেও গ্রাম বাংলার মহিলারা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছেন।

    গণতন্ত্রের সুফল ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

    ভোটার তালিকায় লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ থেকে শুরু করে সচেতনতা শিবির—সবক্ষেত্রেই মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার এই পরিসংখ্যান (Election Commission India) সেই প্রচেষ্টারই সাফল্য।

    আসুন দেখে নিই কোন জেলায় ভোটের পরিমাণ কত

    ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ। মোট ভোটদাতার সংখ্যা ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ।

    • শীতলকুচিতে— ৯৭.৫৩ শতাংশ। ভোটদানের হারে তার পরেই রয়েছে ভগবানগোলা— ৯৬.৯৫ শতাংশ, রানিনগর— ৯৬.৯৫ শতাংশ এবং রঘুনাথগঞ্জ— ৯৬.৯ শতাংশ। প্রথম দফার মোট ৪৪টি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
    • কান্দিতে পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৫ হাজার। সেখানে মহিলার চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার কম। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৪.৯৪ শতাংশ।
    • ঘাটালে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা মহিলার চেয়ে প্রায় ছ’হাজার বেশি। তবে সেখানে ভোট বেশি পড়েছে মহিলাদেরই। ১.২৩ লক্ষ মহিলা এবং ১.১৬ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান প্রায় সাত লক্ষ।
    • দাসপুরে মহিলাদের চেয়ে প্রায় তিন হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। তবে ১.১৯ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.৩১ লক্ষ।
    • ডেবরায় ১.০৭ লক্ষ পুরুষ বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.০৮ লক্ষ। তবে ভোটার হিসাবে মহিলার চেয়ে পুরুষের সংখ্যা হাজারখানেক বেশি এই কেন্দ্রে।
    • মেদিনীপুরেও মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে অবশ্য পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.১৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা।
    • বাঁকুড়ায় পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যায় তফাত সামান্য। মহিলাদের চেয়ে সেখানে প্রায় ৫০০ জন পুরুষ বেশি রয়েছেন। তবে ভোট মহিলারাই বেশি দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে ১.১৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৮ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন।
    • ময়ূরেশ্বরে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৩.৮৪ শতাংশ।
    • রামপুরহাটে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় দু’হাজার বেশি। এই কেন্দ্রে ১.১৪ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৬ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.৫৩ শতাংশ।
    • রামনগরে মহিলার তুলনায় পুরুষ ভোটার বেশি ছ’হাজার। তবে মহিলাদের ভোট বেশি পড়েছে। ১.২০ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯০.০২ শতাংশ।
    • বহরমপুরে পুরুষের চেয়ে চার হাজার বেশি মহিলা ভোটার রয়েছে। ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। ভোটের হার ৯১.৭২ শতাংশ।
    • ভরতপুরে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেশি। কিন্তু সেখানে ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৭ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৯.১৭ শতাংশ।
    • বড়ঞায় মহিলার চেয়ে ন’হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ৯৬ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৮৭.৮০ শতাংশ।
    • খড়গ্রামে মহিলাদের চেয়ে ১০ হাজার পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯৮ হাজার পুরুষ এবং ১.০৪ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৮.৩২ শতাংশ।
    • নবগ্রামে পুরুষের সংখ্যা মহিলার চেয়ে ছ’হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.০৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯০.৭৩ শতাংশ।
    • শামসেরগঞ্জে মহিলার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৭৪ হাজার পুরুষ এবং ৮০ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯৬.০৪ শতাংশ।
    • মালদহের ইংলিশ বাজারে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটার দু’হাজার বেশি। সেখানে ভোট দিয়েছেন ১.১৩ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৭ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৮ শতাংশ।
    • মালদায় মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটার বেশি তিন হাজার। ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৬১ জন পুরুষ এবং ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৩৪ জন মহিলা। ভোটের হার ৯৪.৬২ শতাংশ।
    • রায়গঞ্জে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৮০ হাজার পুরুষ এবং ৮১ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯২.৯৭ শতাংশ।
    • মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.২২ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২৫ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৯ শতাংশ।
    • কার্শিয়াঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা চার হাজার বেশি। সেখানে ৮৭ হাজার পুরুষ এবং ৯২ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৩.১৪ শতাংশ।
    • দার্জিলিঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। সেখানে ৮৪ হাজার পুরুষ এবং ৮৬ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮২.২৭ শতাংশ।
    • মালকেন্দ্রে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৪০০ বেশি। সেখানে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৮১ জন পুরুষ, ১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৩৯ জন মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.১৭ শতাংশ।
    • ঝাড়গ্রামে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার বেশি। সেখানে ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৯ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯২.৬৩ শতাংশ।

    মহিলাদের এই বাড়তি হার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা। এখন আর কেবল পুরুষদের পছন্দ-অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন জেতা সম্ভব নয়। বরং ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ যে কোনও দলের ভাগ্য নির্ধারণে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি উপহার দেবে বলে আশা করা যায়।

    গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত

    প্রথম দফার এই চিত্রটি কেবল একটি নির্বাচনের (Election Commission India) খবর নয়, এটি বাংলার সমাজব্যবস্থার এক ইতিবাচক পরিবর্তনের দলিল। যখন মায়েরা, বোনেরা এবং গৃহবধূরা নিজের অধিকার প্রয়োগে ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হন, তখন সেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। আগামী দফার নির্বাচনগুলোতেও (Bengal Assembly Election 2026) এই নারীশক্তির জয়যাত্রা বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞ মহলের। 

  • PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন। ব্যারাকপুরের ভাটপাড়ায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে, বড়মার ছবি তুলে দেওয়া হয়। ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে ভাষণ শুরু করেন নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা তাঁর ছবি এঁকে এনেছিলেন, তাঁদের থেকে তা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রার্থীদের ডেকে নেন পাশে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার।’’ রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষণা ৪ মে। এই প্রেক্ষিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকার গঠনের সময় বঙ্গে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, ‘‘সকাল সকাল আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন বহু মানুষ। হেলিপ্যাড থেকে যখন আসছিলাম, রাস্তার দু’পাশে মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত। কল্পনা করতে পারিনি। এই ভোটে আমার এটা শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের যা মেজাজ দেখেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, ৪ মে-র পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।’’

    অঙ্গ, কলিঙ্গের পর বঙ্গ…

    বাংলার এই ভোটকে পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট। যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওড়িশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল যখন হয়, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে। আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা।’’

    বাংলায় পূর্বোদয় হচ্ছেই…

    বাংলায় পূর্বোদয় যে হচ্ছেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন হলে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ‘‘বাংলায় যে বিজেপি সরকার আসছে, তারা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করবে। ভারতের প্রগতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতায় বাংলার সন্তানদের ভূমিকা ছিল বড়। কিছু দূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তিতে বাংলাও ঐতিহাসিক পরিবর্তন করতে চলেছে। বন্দে মাতরম দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র ছিল। এ বার বাংলার নব নির্মাণের মন্ত্র তৈরি করতে হবে। সুজলং, সুফলংকে নীতি করব, শস্য শ্যামলং -কে রোজগারের পথ করব। মলয়জ শীতলং-কে সুখ সমৃদ্ধির পথ করব। দুর্গার শক্তিকে সুরক্ষার গ্যারান্টি করব।’’

    তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই…

    মোদি জানান, বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। তাই কোনও তৃণমূল নেতা রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। তিনি বলেন, ‘‘প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে। তৃণমূলের এক জন নেতাও রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। যারা নিজের কাজের রিপোর্ট দিতে পারে না, তাঁদের কি সুযোগ দেওয়া উচিত? কিছু করেন, বরবাদীর জন্য সুযোগ দেবেন?’’ বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। কী করা হবে, কোথায় নিয়ে যাবে, তা-ও বলে না তৃণমূল। কারণ ওদের কোনও ইচ্ছা নেই, দূরদর্শিতা নেই।’’

    তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক

    ব্যারাকপুরে কেন পরিবর্তন প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা এদিন সভায় দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পরিবর্তন কেন জরুরি, তা ব্যারাকপুরের থেকে বেশি কেউ জানে না। যে ব্যারাকপুরে আগে বাইরে থেকে লোক আসতেন, কাজের জন্য, আজ সেখান থেকে লোক পালিয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হচ্ছেন। এখানে কারখানার শব্দ আসত এক সময়, আজ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। অকল্যান্ড পাটকলে কী হল, সবাই দেখেছেন। আজ ব্যারাকপুরের দুর্ভাগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাট, কাপড়কল বন্ধ হয়েছে একটার পর একটা। ব্যারাকপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টে গত কয়েক মাসে এক ডজন পাটকল বন্ধ হয়েছে।’’ এক সময় শিল্পের জন্য পরিচিত ব্যারাকপুর এখন গুলি-বোমার জন্য কুখ্যাত। সেই কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক দেন মোদি। বলেন, ‘‘আপনাদের রোজগার বন্ধ হচ্ছে। গুন্ডাদের রোজগারের জায়গা, বোমার কারখানা ফুলেফেঁপে উঠছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটের দোকান বাড়ছে। এটাই ওদের জঙ্গলরাজ। নিজের বাড়ি, দোকান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ওদের সিন্ডিকেটকে জিজ্ঞেস করতে হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ভাগাতে হবে, ওদের হারাতে হবে। তৃণমূলকে সরাবেন তো? আজ ভারতের জন্য গোটা দুনিয়া উৎসাহিত। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, কলকাতা এবং আশপাশের এসব এলাকা মেক ইন্ডিয়ার বড় হাব হবে। বিজেপি সরকার কারখানা নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করবে। পরিকল্পনা করব। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। পিএম, সিএম এক সঙ্গে উন্নয়ন করবে।’’

    মোদির গ্যারান্টি…

    ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী কী করবে, তার একটা আভাস দিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এখানে রোজগার নেই। তাই যুবসমাজ বাধ্য হয়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছে। বৃদ্ধেরা একা হয়ে গিয়েছেন। বৃদ্ধাবাসের সংখ্যা বাড়ছে। বিজেপি সরকার এসে বাংলার যুবকদের এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সরকারি নিয়োগ সময়ে হবে। নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে। সরকারি কর্মীদের তৃণমূলের ভয় থেকে মুক্ত করা হবে। মোদির গ্যারান্টি শুনে নিন, সপ্তম কমিশনের লাভ পাবেন সরকারি কর্মীরা। এখানে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিস্তার হবে। আর্ট, গেমিং ক্ষেত্রে নতুন মঞ্চ করা হবে যুবসমাজের জন্য। বাংলার স্কুলে যাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব হয়, সেই চেষ্টা করা হবে। গ্রামে ১২৫ দিনের আয়ের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। জিরামজি আইন কার্যকর করা হবে। পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, মৎস্য যোজনা কার্যকর করা হবে, যাতে কারিগর, শিল্পীরা, মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি হবে।’’ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হয়ে জোর সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পিএম স্বনিধি যোজন, ফুটপাথে যারা কাজ করেন, তারাও ব্যাঙ্ক থেকে সাহায্য পাবেন। এগুলো মোদির গ্যারান্টি। এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন, ডাবল ইঞ্জিনের লাভ পাবেন। কলকাতায় মেট্রোর যাতে দ্রুত বিস্তার হয়, তাই বিজেপি-কে ভোট দিন। বৈদ্যুতিন বাসের নতুন নেটওয়ার্ক হবে।

    মহিলাদের বিশেষ প্রতিশ্রুতি…

    মহিলাদের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের প্রত্যেকটা হিসেব নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এই মাটি রানি রাসমণির সাহসের গাঁথায় সমৃদ্ধ। সেখানকার মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এই রাজ্যকে অসুরক্ষিত করেছে মহিলাদের জন্য। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে গুন্ডাদের কথা মনে করবেন। যে বোনদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাঁরা ন্যায় পাবেন। হিসাব নেব। সব ফাইল খুলব। মহিলাদের রোজগার, চিকিৎসা বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য। বাংলায় বিজেপি সরকার গর্ভবতীদের ২১ হাজার টাকা দেবে। মেয়ে হলে সুকন্যা সমৃদ্ধির সুবিধা দেবে। কলেজে ভর্তি হলে টাকা পাবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। পাকা ঘর পাবেন। তৃণমূল আপনাদের অধিকারের চাল লুটে নেয়। বিজেপি বন্ধ করবে। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্ত চিকিৎসা হবে। ১৫ বছরে কলকাতার পরিচয় বদলে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের এনেছে। সকলে মিলে এ সব বন্ধ করব। কলকাতাকে সিটি অফ ফিউচার করব।’’

    বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি করার ডাক

    বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য সব ধর্মের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘বিজেপি জমানায় কোনও ভারতীয় নাগরিক, যে ধর্মেরই হোন তিনি, তাঁদের সমস্যা হবে না। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ছাড়া হবে না। মতুয়া, নমশূদ্রদের বলছি, নাগরিকত্ব মিলবেই। সব কাগজ, অধিকার পাবেন, যা ভারতীয় নাগরিকেরা পান। এটা মোদির গ্যারান্টি। নেতাজি বলেছিলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। আপনারা ৭০ বছর কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে দিয়েছেন। আজ তারা সব জোটে রয়েছে। একটা সুযোগ বিজেপি-কে দিন, মোদিকে দিন, সকলে মিলে বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি দেব। হিংসা, তৃণমূলের দুর্নীতি, ভয়, সিন্ডিকেট, অনুপ্রবেশকারী, বেকারত্ব, পরিবারবাদ, তোষণের রাজনীতি থেকে মুক্তি দেব। পুরনো গৌরব ফিরে আসবে। সব বুথ থেকে তৃণমূলকে সাফ করুন। কমল চিহ্নে ভোট দিন।’’

  • kharif-2026: খরিফ শষ্য মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সারের ঘাটতির আশঙ্কা নাকোচ করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার; মজুত ও সরবরাহ নিয়ে বিশেষ আশ্বাস

    kharif-2026: খরিফ শষ্য মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সারের ঘাটতির আশঙ্কা নাকোচ করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার; মজুত ও সরবরাহ নিয়ে বিশেষ আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের খরিফ শষ্য চাষের মৌসম (kharif-2026) শুরু হওয়ার আগেই দেশে সারের ঘাটতি হতে পারে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তা এবার সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় সার মন্ত্রক এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আসন্ন চাষের মরসুমের জন্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের মজুত (Fertiliser) রয়েছে এবং কৃষকদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।

    রবিবার (২৬শে এপ্রিল) সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইউরিয়া, ডিএপি (DAP) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    দেশজুড়ে গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত (kharif-2026)

    কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশজুড়ে গুদামগুলোতে সারের বর্তমান মজুত গত বছরের তুলনায় সন্তোষজনক। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের (Kharif-2026) ওঠানামা সত্ত্বেও ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চাষীরা (Fertiliser) যাতে উদ্বিগ্ন না হন, তাই সরকারের এই পদক্ষেপ।

    উৎপাদন ও আমদানি

    দেশীয় সার কারখানাগুলোতে (kharif-2026) উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার আমদানির প্রক্রিয়াও মসৃণভাবে চলছে। বিশেষ করে ইউরিয়ার ক্ষেত্রে ভারত আত্মনির্ভরতার দিকে দ্রুত এগোচ্ছে বলে বড় ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। চাষের জন্য সবরকম অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেলা স্তরে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হচ্ছে। কালোবাজারি বা কৃত্রিম অভাব (Fertiliser) রুখতে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কৃষকদের জন্য আশ্বাস

    কেন্দ্রীয় কৃষি (Fertiliser) মন্ত্রক জানিয়েছে, খরিফ মৌসমের সময় সারের চাহিদা সাধারণত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সেই বর্ধিত চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ (Buffer Stock) বর্তমানে হাতে রয়েছে। কৃষকদের প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সার মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সার (Kharif-2026) ও রসায়ন মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, “আমরা পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছি। কোনও রাজ্য থেকেই সারের ঘাটতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষকরা যাতে সঠিক সময়ে এবং নির্ধারিত দামে সার পান, তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

    মূলত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সারের দাম বাড়ার যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এই বিবৃতি কৃষকদের মনে স্বস্তি জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। খরিফ চাষের মূল ভিত্তি হিসেবে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা গ্রামীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • Bengal Assembly Election 2026: অশান্তি পাকানো হতে পারে! যাদবপুর, কলকাতা, আলিয়ার ছাত্রাবাসে কড়া নজর কমিশনের

    Bengal Assembly Election 2026: অশান্তি পাকানো হতে পারে! যাদবপুর, কলকাতা, আলিয়ার ছাত্রাবাসে কড়া নজর কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে (Bengal Assembly Election 2026) বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলোতে কড়া নজরদারি ও বিশেষ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যে বহিরাগত এবং নানা কর্মকাণ্ডের গোপন সূত্রে খবর মেলায় সক্রিয় ভূমিকায় নেমেছে নির্বাচন কমিশ।

    অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা (Election Commission India)!

    কমিশন (Election Commission India) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনওভাবেই যাতে বহিরাগতরা হস্টেলগুলোতে আশ্রয় নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। বিশেষ করে যে জেলাগুলোতে ভোট রয়েছে, সেই সংলগ্ন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাসগুলোর ওপর বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

    বুধবার ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (Bengal Assembly Election 2026)। সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া। তাই এই জেলাগুলির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে বলে খবর।

    নজরে কোন কোন ক্যাম্পাসের হোস্টেল?

    একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে বহিরাগতদের জামায়েতের ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Bengal Assembly Election 2026)। তাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, বেলগাছিয়ার ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নজরে রাখা হয়েছে। এছাড়াও তেঘরিয়ায় হজ টাওয়ার, নিউটাউনে হজ হাউস, পার্ক সার্কাসে হজ হাউস, রাজারহাট নিউটাউনে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, পার্ক সার্কাসে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, তালতলার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। সল্টলেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের যুব আবাস সহ ৫৬টি বিভিন্ন‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে, যেখানে থাকবে কমিশনের (Election Commission India) কড়া নজরদারি

    বহিরাগত ব্যক্তিদের উপর নজর

    ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। হস্টেলগুলোতে কারা অবস্থান করছেন, কোনও বহিরাগত ব্যক্তি সেখানে আছেন কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের (Bengal Assembly Election 2026) আগে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

  • Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। বেলা বাড়তেই রোদের দাপটে জেরবার বঙ্গবাসী। দুপুরে বাইরে থাকতে হলে, অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কোন চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    গরমে বাড়তে পারে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি। গরমের শরীর ঠাণ্ডা রাখা জরুরি। তবেই শরীর সুস্থ রাখা যাবে।

    তরমুজ!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে তরমুজ খুবই জরুরি। কারণ, তরমুজে ৯০ শতাংশ জল থাকে। তাই এই ফল ডিহাইড্রেশন রুখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। শরীরের জলের ঘাটতি গরমে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত গরম এবং ঘামের জেরে যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়, তাই এই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরের ক্লান্তি বাড়ে। তাই তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করতে বিশেষ সাহায্য করে। আবার এই ফল হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়। এই আবহাওয়ায় বেশি সময় বাইরে থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ফল খেলে সেই বিপদ কিছুটা এড়ানো যাবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আম!

    গরমে বাজারে দেদার পাওয়া যায় আম। বাঙালির পছন্দের খাবারের তালিকায় চিরকাল থাকে আম।‌ আম কাঁচা হোক বা পাকা, বাঙালি নানান ভাবেই এই ফল খেতে পছন্দ করে। কখনো কাঁচা আমের সরবত আবার কখনো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পাকা আম, নানা রকম ভাবেই আম খায়। স্বাদের পাশপাশি আম এই গরমে স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আম ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ একটি ফল। তাই এই ফল রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। গরমে নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের দাপট বাড়তে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। তাই আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আম খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। তাছাড়া কাঁচা আম শরীর ঠাণ্ডা রাখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। যা এই গরমে খুবই জরুরি। আম অতিরিক্ত ঘাম এবং জলের ঘাটতি গরমে দ্রুত পূরণ করে। তাই এই আবহাওয়ায় আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    শশা!

    শশা ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শশা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করার পাশপাশি ফাইবারের চাহিদাও মেটায়। তাই এই গরমে নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাছাড়া শশা হজমের জন্য খুবই উপকারি। লিভার ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে শশা খাওয়া বিশেষ উপকারি। তাই শশা গরমে বাড়তি সাহায্য করে। কারণ, গরমে অনেক সময়েই হজমের গোলমাল হয়। তাই এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যা অন্ত্র ও লিভার সুস্থ রাখে। তাই নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    বেল!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বেল গরমে বিশেষ উপকারি একটি ফল। এই ফলে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া। তাই ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গরমে এই ফল খাওয়া জরুরি। তাছাড়া বেল হজম শক্তি বাড়ায়। গরমে হজমের গোলমাল এড়ানোর দিকে বিশেষ নজরদারি দেওয়া প্রয়োজন। তাই বেল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরম থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর খাওয়া প্রয়োজন। এই চার ফল সেই খাবারের তালিকায় রাখা জরুরি। এতে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। আবার শরীর সুস্থ থাকবে। তবে রাস্তার পাশের কাটা ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাটা ফেলে রাখা ফলে নানান ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডায়রিয়া সহ নানান রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তাই তাজা ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে ফল কেটে সঙ্গে সঙ্গে খেলে তবেই শরীরের উপকার হবে। গরমে সুস্থ থাকা সম্ভব হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Grok: ‘পরিবারতন্ত্র নয়, তথ্যই শেষ কথা’; এলন মাস্কের ‘গ্রক’ এআই-এর তথ্যে রাহুল গান্ধীর চেয়ে অনেক এগিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    Grok: ‘পরিবারতন্ত্র নয়, তথ্যই শেষ কথা’; এলন মাস্কের ‘গ্রক’ এআই-এর তথ্যে রাহুল গান্ধীর চেয়ে অনেক এগিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র বনাম কাজের নিরিখে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এবার প্রবেশ করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এলন মাস্কের মালিকানাধীন মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এর নিজস্ব এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’-এর (Grok) একটি উত্তর বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে তুলনামূলক এক প্রশ্নের উত্তরে মোদিকেই এগিয়ে রেখেছে গ্রকের তথ্য ভিত্তি।

    ঘটনাটি ঠিক কী (Grok)?

    সম্প্রতি একজন ব্যবহারকারী গ্রক-এর (Grok) কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, ভারতের প্রগতি এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি এবং রাহুল গান্ধীর মধ্যে কার অবদান বা গ্রহণযোগ্যতা বেশি? এর উত্তরে গ্রক (Grok) কোনও ব্যক্তিগত মতামত না দিয়ে বিভিন্ন ডেটা বা তথ্যের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।

    Grok-এর বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে

    উন্নয়ন ও অর্থনীতি

    গ্রক (Grok) তার উত্তরে উল্লেখ করেছে যে, গত এক দশকে ভারতের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযান এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে মোদি সরকারের সাফল্য পরিসংখ্যানগতভাবে প্রমাণিত।

    পরিবারতন্ত্র বনাম যোগ্যতা

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, গ্রক (Grok) রাহুল গান্ধীকে ‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির’ (Dynastic Politics) উত্তরাধিকারী হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি মোদিকে একজন ‘স্বনির্ভর’ এবং ‘ডেটা-নির্ভর’ নেতা হিসেবে তুলে ধরেছে।

    গ্রক-এর জনপ্রিয়তা ও জনমত

    সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের নিরিখেও তথ্যের ভিত্তিতে মোদিকে অনেক বেশি রেটিং দিয়েছে এই এআই (AI)।

    রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

    বিজেপি এই প্রতিবেদনটিকে তাদের প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির নিরপেক্ষ ডেটাও মোদিকে শ্রেষ্ঠ বলছে, সেখানে বিরোধীদের পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ধরণের এআই (AI) মডেলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, অ্যালগরিদম বা ডেটা অনেক সময় পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।

    প্রযুক্তির যুগে রাজনীতির লড়াই আর কেবল জনসভায় সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন এআই (AI)-এর ল্যাবেও পৌঁছে গেছে। এলন মাস্কের গ্রক (Grok) যেভাবে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে, তা আগামী নির্বাচনে এবং রাজনৈতিক বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

  • Bengal Elections 2026: “মা কাঁদছেন, মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে আর মানুষ আতঙ্কিত!”, বাংলায় এসে মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ মোদির

    Bengal Elections 2026: “মা কাঁদছেন, মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে আর মানুষ আতঙ্কিত!”, বাংলায় এসে মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Elections 2026) প্রচার তুঙ্গে। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুর নাগরে এক জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Election Rally)। তৃণমূলের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আজ বাংলার মা-মাটি-মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।”

    কাঁদছেন ‘মা’ (Bengal Elections 2026)

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (Bengal Elections 2026) বলেন, “তৃণমূলের শাসনে বাংলার মায়েরা সুরক্ষিত নন। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মা-বোনেদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তাতে আজ ‘মা’ কাঁদছেন। তৃণমূল কেবল ভোটের জন্য নারীবন্দনা করে, কিন্তু বাস্তবে তাঁদের সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ।”

    অনুপ্রবেশকারীদের দখলে ‘মাটি’

    বাংলার ‘মাটি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদি (Bengal Elections 2026) বলেন, “আজ বাংলার মাটি বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তৃণমূল সীমান্ত খুলে দিয়েছে, যার ফলে বাংলার জনবিন্যাস কাঠামো বদলে যাচ্ছে এবং প্রকৃত ভূমিপুত্ররা নিজেদের অধিকার হারাচ্ছেন।”

    আতঙ্কিত ‘মানুষ’

    রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Election Rally)  বলেন, “বাংলার সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এখানে সিন্ডিকেট রাজ এবং তোলাবাজিই শেষ কথা। মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু এই নির্বাচন সেই ভয়কে জয় করার নির্বাচন।”

    দুর্নীতি ও উন্নয়ন নিয়ে তোপ

    প্রধানমন্ত্রী (Bengal Elections 2026) তাঁর ভাষণে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং রেশন দুর্নীতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, “বাংলার যুবকদের ভবিষ্যৎ তৃণমূল বিক্রি করে দিয়েছে। কেন্দ্রের পাঠানো উন্নয়নের টাকা এখানে দুর্নীতির পকেটে চলে যাচ্ছে।” তিনি (PM Modi Election Rally) জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলা আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলা হবে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    ২০২৬-এর নির্বাচনকে (Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতি এখন তপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিজেপি এবার দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা—এই দুটি ইস্যুকে হাতিয়ার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছে। পালটা তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে ‘মিথ্যাচারের ঝুলি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, বাংলার মানুষ বহিরাগতদের নয়, নিজেদের মেয়েকেই বেছে নেবে।

LinkedIn
Share