Tag: মাধ্যম বাংলা

  • West Bengal Investment: পুজোর আগেই বাংলায় শিল্পবিপ্লব! হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির প্ল্যান্ট সহ এলঅ্যান্ডটির জোড়া প্রকল্প, নিউটাউনে আদানির হাসপাতাল

    West Bengal Investment: পুজোর আগেই বাংলায় শিল্পবিপ্লব! হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির প্ল্যান্ট সহ এলঅ্যান্ডটির জোড়া প্রকল্প, নিউটাউনে আদানির হাসপাতাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে একের পর এক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো বা এলঅ্যান্ডটি গোষ্ঠী রাজ্যে দু’টি নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছে। পাশাপাশি, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি একটি বড় প্ল্যান্টের উদ্বোধনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর পাশাপাশি নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির জন্য আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবে রাজ্য সরকারের নীতিগত সম্মতির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নিউটাউনে এলঅ্যান্ডটির বড় পরিকাঠামো প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৭ তারিখ সকাল সাড়ে ১১টায় নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে এলঅ্যান্ডটি গোষ্ঠীর একটি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক নিউটাউনে এই প্রকল্পকে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। এর পর দুর্গাপুজোর সময় শিল্পশহর হলদিয়াতেও এলঅ্যান্ডটির আরও একটি বড় শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ পুজোর মরসুমের আগে ও চলাকালীন পরপর একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্ল্যান্ট

    পুজোর আবহে শিল্পশহর হলদিয়ায় এলঅ্যান্ডটি-র আরও একটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বিশাল প্ল্যান্ট আগামী ১৪ অক্টোবর উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় রাজ্যে এসে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই প্রকল্পের উদ্বোধনের সময়সূচি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পুজোর মরসুম শুরু হওয়ার আগে শিল্পক্ষেত্রে একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধন বাংলার বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। প্রকল্পগুলি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।

    নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল, ১ হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসা

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের লিখিত সম্মতির কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবিত হাসপাতালের বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে এর বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। মোট ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজার শয্যা আর্থিক ভাবে দুর্বল ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাখা হবে। বাকি ১ হাজার শয্যায় বাণিজ্যিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আদানি গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাসপাতাল প্রকল্পের বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে লিখিত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    দ্রুত কাজ শুরু করতে আগ্রহী আদানি গোষ্ঠী

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানিও নিউটাউনের হাসপাতাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ আদানি গোষ্ঠী নিজেদের তহবিল থেকেই করবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। এই হাসপাতাল বাস্তবায়িত হলে নিউটাউন তথা কলকাতার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি বড় সংযোজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১ হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিকল্পনা কার্যকর হলে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে।

    ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া, শিল্প বিনিয়োগের বিস্তার

    রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন শিল্প প্রকল্পগুলি শুধু কলকাতা ও হলদিয়াকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া—রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার কোটি টাকার একাধিক বিনিয়োগ প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। শিল্প পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান এবং আনুষঙ্গিক শিল্পের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে রবিবার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রেও প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে ওই ঘোষণা হওয়ায় রাজ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্ভাবনাকেও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    পুজোর আগে বিনিয়োগের একাধিক বার্তা

    সব মিলিয়ে, পুজোর আগে পরপর শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন, হলদিয়ায় বড় বিনিয়োগ, নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রস্তাব এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প—এই একাধিক পদক্ষেপকে রাজ্যের শিল্পায়নের গতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে নবান্ন। রাজ্য সরকারের প্রত্যাশা, নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে বাংলায় বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তৈরি হবে নতুন সুযোগ। পুজোর মরসুমের আগে এই ধারাবাহিক ঘোষণার মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে ‘বিনিয়োগবান্ধব বাংলা’র বার্তাই আরও জোরালো করতে চাইছে রাজ্য সরকার।

  • Sleep Apnea: নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর নয়, বড় বিপদেরও ইঙ্গিত! কোন ৬ লক্ষণে বুঝবেন ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’?

    Sleep Apnea: নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর নয়, বড় বিপদেরও ইঙ্গিত! কোন ৬ লক্ষণে বুঝবেন ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘুমিয়ে পড়লেই বিকট নাক ডাকার আওয়াজ! এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক অশান্তির হাজার কাহিনী কমবেশি সকলের জানা! কিন্তু এই তীব্র নাক ডাকার আওয়াজ ডেকে আনতে পারে একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট। এমনকি বাড়িয়ে দেয় প্রাণ সংশয়! নাক ডাকা তাই পাশের জনের অসুবিধার কারণ শুধু নয়। নিজের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নাক ডাকার এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়‌। ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছতে না পারার জেরেই এই নাক ডাকার আওয়াজ তৈরি হয়। পরিবারের কেউ অতিরিক্ত নাক ডাকলে যথেষ্ট সতর্ক থাকা জরুরি। না হলেই বড় বিপদ হতে পারে।

    কেন নাক ডাকার আওয়াজ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেনের প্রবেশ নিয়ে সমস্যা হলেই নাক ডাকার আওয়াজ তৈরি হয়। শ্বাসনালীতে অক্সিজেন ঢুকতে বাধা পেলেই এই ধরনের আওয়াজ হয়। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এমন একটা রোগ, যেখানে ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বাধা প্রাপ্ত হয়। স্বাভাবিক ভাবে হয় না। কখনও কখনও কয়েক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। যা খুবই বিপজ্জনক।

    কাদের এই রোগ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত বয়স পঞ্চাশের চৌকাঠ পেরোলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এই রোগের জটিলতাও বাড়ে। তবে যেকোনও বয়সেই এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
    • স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্তদের স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা বেশি হয়। অতিরিক্ত ওজনের জেরে গলায় চর্বি জমে। ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালীর কাজ স্বাভাবিক ভাবে হয় না। তখন স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
    • গলা কিংবা জিভে সমস্যা থাকলে কিংবা টনসিলের কোনও সমস্যা থাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই সর্দি-কাশিতে দীর্ঘদিন ভুগলে স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা দিতে পারে।
    • পরিবারের কেউ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগলে এই রোগ বংশানুক্রমিক ভাবেও হতে পারে।
    • শরীরে হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাবের জেরেও‌ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

    কীভাবে বুঝবেন আপনি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত কিনা?

    পরিবারের কেউ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত কিনা বোঝার জন্য কয়েকটি উপসর্গের দিকে নজর দিলে সহজেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    • কেউ ঘুমের মধ্যে জোরে বারবার নাক ডাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত। এটা এই সমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ‌।
    • ঘুমের মধ্যে খুব অল্প সময়ের জন্য দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিনা, হঠাৎ হাঁসফাঁস করে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে কিনা, এটা পরিবারের অন্য সদস্যদের নজরে রাখা জরুরি।‌ কারণ এগুলো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত।
    • রাতে পর্যাপ্ত ঘুমোনোর পরেও দিনভর ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব থাকলে, এটাও স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
    • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই মাথা যন্ত্রণা, মনে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকার মতো সমস্যা স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ।
    • তবে শিশুদের ক্ষেত্রে কয়েকটি উপসর্গ আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর যেকোনও কাজে মনোযোগের অভাব, বিছানায় বারবার প্রস্রাব করে ফেলার অভ্যাস স্লিপ অ্যাপনিয়ার জানান দেয়।

    কেন এই রোগ স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা না হলে এই রোগ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে। ঘুমের মধ্যে দম আটকে আসার জেরে অনেক সময়েই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।‌ অর্থাৎ স্লিপ অ্যাপনিয়া প্রাণ সংশয় তৈরি করতে পারে।
    তাছাড়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে পর্যাপ্ত গভীর ঘুম হয় না। ফলে, শরীরের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হয় না। এর জেরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। স্নায়ুর উপরে চাপ বাড়ে। ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ে। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। আবার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। স্লিপ অ্যাপনিয়ার জেরে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। এর ফলে একদিকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। আবার হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই নাক ডাকার মতো সমস্যাকে কখনই হালকা ভাবে নিয়ে অবহেলা করা উচিৎ নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসলে এটা। বড় সমস্যার ইঙ্গিত।

    কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করবেন?

    রোগ চিহ্নিত করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্লিপ অ্যাপনিয়া কমানোর প্রথম ধাপ হলো সচেতনতা। এটা একটা স্বাস্থ্য সমস্যা, এটাই অধিকাংশ সময় চিহ্নিত করণ হয় না। ফলে, সমস্যার সমাধান হয় না। বরং আরও বিপদ বাড়তে থাকে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা!

    স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা কমাতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।‌ হঠাৎ করেই ওজন কমে যাবে না। বরং, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ওজন কমাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। তেলেভাজা জাতীয় খাবার খাওয়া চলবে না।

    পর্যাপ্ত শারীরিক কসরত করতে হবে!

    স্লিপ অ্যাপনিয়ার বিপদ কমাতে নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি। প্রত্যেক দিন দুবেলা অন্তত তিরিশ মিনিট হাঁটা কিংবা যোগাভ্যাস জরুরি। এতে স্নায়ু ও পেশির সক্রিয়তা বজায় থাকবে। শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার বাড়তি মেদ জমবে না। ফলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যাও কাবু হবে।

    অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে হবে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত ধূমপান করলে কিংবা মদ্যপান করলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই এই রোগের প্রকোপ কমাতে মদ্যপান ও ধূমপান‌ ত্যাগ করতে হবে।

    প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা জরুরি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা কতখানি গুরুতর, সেটা নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। তাই পরিবারের কেউ এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে‌ চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শরীরিক পরীক্ষার মাধ‌্যমে পরিস্থিতি কতখানি গুরুতর সেটাও স্পষ্ট বোঝা যাবে। যাতে অন্যান্য বড় বিপদ আটকানো সহজ হয়।

  • Rajnath Singh: বাংলায় শিল্পে ফিরছে ‘সুদিন’! শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটির ৫ প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনাথের

    Rajnath Singh: বাংলায় শিল্পে ফিরছে ‘সুদিন’! শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটির ৫ প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কলকাতা থেকে রবিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রাউনফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং শিল্প পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে দাবি কেন্দ্রের। অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। এদিনের কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স বা জিআরএসই-র সম্প্রসারণ এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের নতুন পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    ‘কারখানা বন্ধ হওয়ার দিন অতীত’, রাজনাথের বার্তা

    কলকাতার অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন শিল্প ও উন্নয়নের নতুন পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, বাংলায় কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা শিল্পে তালা ঝোলার সময় এখন অতীত। তার পরিবর্তে নতুন প্রকল্প, বিনিয়োগ এবং শিল্প পরিকাঠামো গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনাথ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগও।” তাঁর দাবি, এই পাঁচটি প্রকল্প বাংলার শিল্প পরিকাঠামোয় নতুন গতি আনবে এবং একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে।

    কী রয়েছে পাঁচ প্রকল্পে?

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং দুটি যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। জিআরএসই-র সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে রায়চকে নতুন শিপইয়ার্ড, হাওড়ায় টিম্বার পন্ড শিপবিল্ডিং ফেসিলিটি এবং দামোদর কমপ্লেক্স শিপ বিল্ডিং ফেসিলিটি। অন্যদিকে যন্ত্র ইন্ডিয়ার প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ৩,০০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রলিক ওপেন ডাই ফোর্জিং প্রেস এবং একটি রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্ট। এই প্রকল্পগুলিতে বিপুল বিনিয়োগের ফলে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বাংলার ভূমিকা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    রায়চকে তৈরি হবে ২০০ মিটার দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজ

    জিআরএসই-র সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রায়চকে নতুন শিপইয়ার্ড। রাজনাথ সিং জানান, সেখানে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা তৈরি করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য পরিকল্পিত পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে জিআরএসই আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, হাওড়ার টিম্বার পার্ক এবং দামোদর কমপ্লেক্সের পরিকাঠামোও জাহাজ নির্মাণের সম্পূর্ণ ‘ভ্যালু চেইন’-কে আরও শক্তিশালী করবে। অর্থাৎ জাহাজের নকশা ও নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান ও পরিষেবা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত শিল্পগুলিও এর ফলে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এমএসএমই-তে বাড়বে কাজের সুযোগ

    এই প্রকল্পগুলিকে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছে না কেন্দ্র। জিআরএসই-র নতুন পরিকাঠামোকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, ধাতু, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহণ এবং বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের চাহিদা বাড়লে রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিও তার সুফল পেতে পারে।

    আত্মনির্ভর ভারত ও ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ জোর

    রাজনাথ সিং বলেন, পাঁচটি প্রকল্পই ভারতের ‘আত্মনির্ভরতা’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর যে পরিকল্পনা কেন্দ্র নিয়েছে, এই প্রকল্পগুলি তারই অংশ বলে জানান তিনি। জিআরএসই-র সাম্প্রতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। নবরত্ন মর্যাদা পাওয়ায় সংস্থাটিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, নবরত্ন জিআরএসই এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, গোটা দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

    নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেলে ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদান

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদানের ব্যবহার কতটা বাড়ছে, তার উদাহরণ হিসেবে নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের কথাও তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। তিনি জানান, এই ধরনের জাহাজে ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় সরঞ্জাম থাকার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিদেশের উপর ভারতের নির্ভরতা দ্রুত কমছে।

    জিআরএসই-র সম্প্রসারণে নতুন শিল্প সম্ভাবনা

    জিআরএসই ইতিমধ্যেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় জাহাজ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সংস্থার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের সঙ্গে হুগলি নদীর দুই পাড়ে থাকা দুটি ছোট শিপইয়ার্ড এবং রায়চকের প্রায় ৩২ একর নদী তীরবর্তী জমি ব্যবহারের জন্য লিজ চুক্তি করা হয়েছে। এই পরিকাঠামো যুক্ত হলে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে কলকাতা ও হাওড়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইঞ্জিনিয়ারিং ও সহায়ক শিল্পগুলিও নতুন অর্ডার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা রাজনাথকে

    অনুষ্ঠানে জিআরএসই-র সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিনিয়োগ আনার প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য রাজনাথ সিংকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজ্যে বিনিয়োগ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প আনার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন তিনি।

    সব মিলিয়ে কলকাতা থেকে শুরু হওয়া এই পাঁচ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট এমএসএমই ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল। কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগ শুধু কয়েকটি কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং বাংলাকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও জাহাজ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

  • ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। ভবিষ্যতে রকেট ও নিয়মিত ব্যবহারের উপগ্রহ তৈরির মতো রুটিন উৎপাদনমূলক কাজ থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে গবেষণা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং বিশেষ পরিকাঠামো তৈরিতে আরও বেশি মন দিতে চলেছে ইসরো (ISRO)। সেই সঙ্গে রকেট ও উপগ্রহের উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক পরিচালনার বড় অংশ তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের হাতে। একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন-স্পেস-এর চেয়ারম্যান ড. পবন গোয়েঙ্কা এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রূপান্তর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ শিল্পে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    রকেট তৈরির দায়িত্ব আর নেবে না ইসরো

    পবন গোয়েঙ্কার কথায়, ভবিষ্যতে ইসরো নিজে আর কোনও লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না। তাঁর বক্তব্য, রকেট নির্মাণের কাজ বেসরকারি সংস্থা অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে চলে যাবে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যে মডেল কার্যকর ছিল, তাতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন গবেষণা থেকে শুরু করে রকেটের নকশা, উৎপাদন এবং উৎক্ষেপণ—প্রায় প্রতিটি স্তরেই ইসরোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ইসরো মূলত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

    এসএসএলভি দিয়ে শুরু হয়েছে পরিবর্তন

    এই প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উঠে এসেছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা এসএসএলভি (SSLV)। ইতিমধ্যেই এসএসএলভি-র প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। ভবিষ্যতে আরও বড় রকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এবার পিএসএলভি ও এলভিএম ৩-র পালা?

    পরবর্তী ধাপে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল—পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা পিএসএলভি (PSLV) এবং লঞ্চ ভেহিক্যল মার্ক-৩ বা সংক্ষেপে এলভিএম-৩ (LVM3) —বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে পারে। এলভিএম-৩ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকরী রকেট। ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ মানব মহাকাশ অভিযানেও এই পরিবারের রকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসএসএলভি-এর মতো এবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা। অর্থাৎ, এই পর্বে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিই মূলত উৎপাদনের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে।

    গবেষণায় আরও বেশি মন দেবে ইসরো

    এই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর চরিত্রও ধীরে ধীরে বদলাবে। শুধু রকেট ও উপগ্রহ তৈরির দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি গবেষণা ও উন্নয়ন বা গবেষণা-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসরোকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি তৈরি, বৈজ্ঞানিক মহাকাশ অভিযান, বিশেষায়িত উপগ্রহ এবং এমন উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণে ইসরো গুরুত্ব দেবে, যেগুলি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে একা তৈরি করা কঠিন। কোনও প্রযুক্তি পরীক্ষিত ও পরিণত হয়ে গেলে তা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি শিল্প বাণিজ্যিক পরিষেবা চালাতে পারবে। গোয়েঙ্কা জানান, ইতিমধ্যেই ইসরো ১২০টি প্রযুক্তি বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে হস্তান্তর করেছে।

    নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও বেসরকারি হাতে যেতে পারে

    শুধু রকেট উৎপাদন নয়, ভারতের একটি নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বও বেসরকারি শিল্পের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গোয়েঙ্কার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের অপারেটর চূড়ান্ত হতে পারে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ পরিকাঠামোতেও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পরিমাণ বাড়বে।

    ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ অর্থনীতি

    ভারতের এই নীতির পিছনে রয়েছে আরও বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেটিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্য পূরণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন গোয়েঙ্কা। প্রথমত, মহাকাশ পরিষেবায় সরকারের চাহিদা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত মহাকাশ শিল্পের বাইরের ক্ষেত্রগুলিতে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মহাকাশ পরিষেবা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে একজন ‘অ্যাঙ্কর কাস্টমার’ বা প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাড়ছে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে ৩১টি উপগ্রহের অর্ডার দিয়েছে। একই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় আরও ২১টি উপগ্রহ তৈরি করার কথা ইসরোর। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, নজরদারি, যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রয়োজনেও বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার তৈরি উপগ্রহের ব্যবহার বাড়তে পারে।

    বদলাচ্ছে মহাকাশ ব্যবসার মডেল

    ভারত শুধু বেসরকারি সংস্থাকে রকেট বা উপগ্রহ তৈরির সুযোগ দিতে চাইছে না, বরং মহাকাশ সম্পদের মালিকানা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মডেলের দিকে এগোচ্ছে। এই মডেলে বেসরকারি সংস্থাগুলি নিজেরাই উপগ্রহের মালিক হবে। সেই উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত তথ্য, ডেটা ও পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে তারা আয় করতে পারবে। ফলে আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিতে শুধু উৎক্ষেপণ পরিষেবা নয়, স্যাটেলাইট ডেটা, স্পেস-ভিত্তিক পরিষেবা, যোগাযোগ, নজরদারি এবং বিভিন্ন শিল্পে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা?

    স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির বিকাশে ইসরোর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। সীমিত সম্পদ ও পরিকাঠামোর মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করে ভারত আজ বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এবার সেই মডেলেই বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রুটিন উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কাজের বড় অংশ শিল্পক্ষেত্রের হাতে তুলে দিয়ে ইসরো যদি গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি মন দিতে পারে, তাহলে চাঁদ, মঙ্গল, মানব মহাকাশ অভিযান, গভীর মহাকাশ গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, রকেট তৈরি থেকে প্রযুক্তি তৈরি—ইসরোর ভূমিকার এই পরিবর্তনই ভারতের পরবর্তী মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Eye Problems in Children: শুধু মোবাইল নয়, এই সব কারণেও ছোটদের চোখে বাড়ছে সমস্যা, জানুন চোখ ভালো রাখার সহজ উপায়

    Eye Problems in Children: শুধু মোবাইল নয়, এই সব কারণেও ছোটদের চোখে বাড়ছে সমস্যা, জানুন চোখ ভালো রাখার সহজ উপায়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা আর বয়সের চৌকাঠে আটকে থাকছে না। বরং, খুব ছোটো থেকেই বিপদ বাড়ছে। ফলে আগাম সচেতনতা না থাকলে জীবনভর ভোগান্তির আশঙ্কা থাকছে। ভারতে দৃষ্টিশক্তি নিয়ে সমস্যা সম্পর্কে এমনটাই জানাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা। অগাস্ট মাসে দেশ জুড়ে ন্যাশনাল আই এক্সাম মান্থ পালন হয়। চলতি বছরের থিম, ‘হেলদি লাইফ, হেলদি আইস’! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক রোগের ঝুঁকির নেপথ্যে থাকে জীবনযাপনের ধরণ। আর সেই তালিকায় বাদ নেই চোখের সমস্যা।

    দেশ জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বাড়ছে। যার ফলে জীবনভর নানান ভোগান্তি হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যার পাশাপাশি চোখে নানান রকম ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনাও বাড়ছে। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, মোবাইল দেখার জেরেই কমবয়সীদের মধ্যে চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, শুধুমাত্র মোবাইল বা ল্যাপটপের জন্যই চোখের সমস্যা হচ্ছে না। বরং নেপথ্যে থাকছে একাধিক কারণ।

    কেন ভারতে চোখের সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্কুল পড়ুয়াদের চোখের সমস্যা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশ জুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মায়োপিয়ার সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট দেখতে না পারার সমস্যায় তারা ভুগছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাইরের জগতের সঙ্গে কম মেলামেশার সুযোগের জেরেই চোখের এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ ভারতীয় স্কুল পড়ুয়াদের এখন মাঠে খেলাধুলা করা কিংবা বাগানে ঘোরার জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ নেই। ফলে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। খোলা মাঠ, বাগান, সবুজ গাছপালা চোখের জন্য খুবই উপকারী। সেখানে সময় কাটানোর সুযোগ না থাকার জেরেই দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত নানান সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনাও বেড়েছে। যা অনেক সময়েই চোখের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে।

    পঞ্চাশ পেরোলেই বাড়ছে ছানির ঝুঁকি

    তবে ছোটোদের পাশাপাশি ভারতে পঞ্চাশোর্ধ্বদের মধ্যেও মারাত্মক হারে চোখের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ছানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে।চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখের নিয়মিত পরীক্ষা না করানোর জেরেই প্রৌঢ়দের মধ্যে চোখের সমস্যা জটিল হচ্ছে।ছানি হয়েছে কিনা, সেটা নির্ণয় করা জরুরি। বয়স চল্লিশ বছর পেরোলেই বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু অনেকেই নিয়ম মেনে তা করেন না। ফলে রোগ নির্ণয় হয় না এবং সমস্যা আরও বাড়ে। এমনকি কর্ণিয়ার ক্ষতি হয়, যা অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।

    স্ক্রিন টাইম কি চোখের সমস্যার একমাত্র কারণ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু শুধুমাত্র মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখার জন্যই চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন ধারণা ভুল। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখলেই চোখ খারাপ হয় না। বরং দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, নানান সংক্রমণের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকে। বিশেষত শিশুদের চোখের সমস্যার নেপথ্যে নানান কারণ থাকে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই কারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

    শিশুদের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজন শিশু কতক্ষণ স্ক্রিন টাইম পাচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। দিনের অধিকাংশ সময়েই কি সেই শিশু মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখছে, নাকি মোবাইল দেখার পাশাপাশি সে বাইরে খেলাধুলা করছে, সেটা বোঝা জরুরি। পাশাপাশি কমবয়সীদের জীবনযাপনের ধরন কতখানি স্বাস্থ্যকর, সেটার উপরেও তাদের চোখের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভ্যাসের উপরেও চোখের স্বাস্থ্য নির্ভরশীল।

    স্কুল পড়ুয়াদের কতটা স্ক্রিন টাইম কম ঝুঁকিপূর্ণ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতো, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের দিনে গড়ে ১ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম দেওয়া উচিত নয়।তবে একটানা এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম হলে তার মাঝে ২০ মিনিট অন্তর চোখকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। বহু স্কুল পড়ুয়াকেই এখন নানান অনলাইন ক্লাস করতে হয়। সেক্ষেত্রেও ২০-২৫ মিনিট অন্তর চোখ-মুখ ধোয়ার অভ্যাস রাখতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম থাকলে এক ঘণ্টা খেলাধুলার জন্যও বরাদ্দ করতে হবে। মাঠে বা বাগানে শারীরিক পরিশ্রম হয়, এমন খেলার সময় বের করতে হবে। তবেই চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমবে।

    চোখ ভালো রাখতে খাবারে কী রাখবেন?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত নানান রকমের সব্জি খেতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, গাজর, কুমড়ো, টমেটোর মতো সব্জি নিয়মিত খেলে চোখ ভালো থাকবে। কারণ এই ধরনের সব্জিতে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা ভিটামিন এ-র জোগান দেয়। এর ফলে চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    ডিম, ফল ও ডালেও নজর দিন

    চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত স্কুল পড়ুয়াদের ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমে থাকে জিঙ্ক-সহ একাধিক মিনারেল, যেগুলো চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষত, ডিমের কুসুম চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি প্রয়োজনীয়।কমলালেবু, পেয়ারার মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলও চোখের জন্য উপকারী। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন সি-র চাহিদা পূরণ হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এই ধরনের ফল খাওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি বাদাম, ছোলা এবং বিভিন্ন রকমের ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    পর্যাপ্ত ঘুমও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি

    খাবারের পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস পালন জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করতে হবে। দিনে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমোনো জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে চোখ বিশ্রাম পাবে এবং চোখের কার্যক্ষমতা বজায় থাকবে। তাছাড়া ভালো ঘুমের জন্য ঘুমোতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন টাইম বন্ধ করতে হবে। যাতে মস্তিষ্ক এবং চোখের স্নায়ু অতিরিক্ত উত্তেজিত না থাকে।

    প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটান প্রকৃতির মাঝে

    নিয়মিত বাইরে কিছুটা সময় কাটাতে হবে। বাগান, পার্ক কিংবা মাঠে খেলাধুলা করার জন্য সময় দিতে হবে। পরিবেশের মধ্যে কিছুটা সময় কাটালে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার হতে পারে। একটানা কাজ করাও যাবে না। বরং নির্দিষ্ট সময় অন্তর চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।

    বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা জরুরি

    তবে সবকিছুর পাশাপাশি প্রতি বছর চোখের পরীক্ষা করানো জরুরি। তাহলে সমস্যা হলেও প্রাথমিক পর্বেই তা নির্ণয় করা যাবে। ফলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। ছোটো থেকে বড়—প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এবং নিয়মিত পরীক্ষা ভবিষ্যতের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • India Japan Defence Deal: নজরে চিন! ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, জাপানের সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন চুক্তি

    India Japan Defence Deal: নজরে চিন! ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, জাপানের সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন চুক্তি

    সুশান্ত দাস

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তার সমীকরণ। আর সেই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথে হাঁটল ভারত ও জাপান। সমুদ্র নিরাপত্তা, সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক রসদ সরবরাহ— একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ২০ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার একাধিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এ ভারত ও জাপানের শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ বিবৃতির পরেই দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। দুই দেশই জানিয়েছে, ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

    সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন সমঝোতা

    বৈঠকের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর। এই সমঝোতার মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী এবং জাপানের সামুদ্রিক আত্মরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    বিশেষ করে সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতনতা বা এমডিএ-র ক্ষেত্রে তথ্য আদানপ্রদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে। পারস্পরিক নৌসফর, যৌথ সামরিক মহড়া, কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের আদানপ্রদান এবং সামরিক রসদ সহায়তার বিষয়েও সহযোগিতা হবে। প্রয়োজনে একে অপরের বন্দর এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে।

    জাপানি প্রযুক্তি, ভারতীয় উৎপাদন ক্ষমতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত ও জাপান। দুই দেশ মাইন প্রতিরোধ ও মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে নৌবাহিনীর জাহাজের নকশা ও নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় জাপান কীভাবে ভারতের জাহাজ নির্মাণ পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারে, সেই বিষয়েও আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও দুই দেশের জাহাজ মেরামত কেন্দ্র পরস্পরের জন্য ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই জাহাজ মেরামত সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে দুই দেশ।

    বাড়বে সামরিক মহড়ার পরিধি

    ভারত ও জাপানের সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল যৌথ মহড়া। বৈঠকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর ‘ধর্ম গার্ডিয়ান’ এবং নৌবাহিনীর ‘জাইমেক্স’ মহড়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়াও চলতি বছর হতে চলা দুই দেশের বিমানবাহিনীর যৌথ মহড়া ‘বীর গার্ডিয়ান ২৬’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই মহড়ায় এবার বিশেষ নজর থাকবে। কারণ প্রথমবার জাপানের বিমান আত্মরক্ষা বাহিনীর যুদ্ধবিমান ভারতে এসে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। আগামী দিনে ভারত ও জাপান যৌথ সামরিক মহড়ার জটিলতা এবং পরিধি আরও বাড়াবে। মহড়ায় মানবহীন ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প সময়ের নোটিসেও যৌথ অনুশীলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের বিশেষ অভিযান বাহিনীর মধ্যেও যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ বিনিময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের সমন্বিত থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর জাপানের সঙ্গে এই ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

    ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জাপানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতায় জাপানের আরও বড় ভূমিকার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জাপানের স্টেলথ রণতরীতে ব্যবহৃত বিশেষ ইউনিকর্ন রেডোম অ্যান্টেনা ব্যবস্থা। এটিকে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে আরও আলোচনা করে ভবিষ্যতে নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও এবং জাপানের সংস্থার মধ্যে যৌথ গবেষণা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্প মঞ্চ গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

    ইন্দো-প্যাসিফিকে তৃতীয় দেশগুলির সঙ্গেও সহযোগিতা

    শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় ভারত ও জাপান। ফেব্রুয়ারিতে ভারত, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর মধ্যে প্রথম ত্রিদেশীয় পাসেক্স মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আগামী দিনে উচ্চপর্যায়ের সফর, সামরিক মহড়া এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে তৃতীয় দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় যৌথভাবে অবদান রাখাই এর লক্ষ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সহযোগী দেশগুলিতে দ্রুত মানুষ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক বা আইপিএলএন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে এই ব্যবস্থার দ্বিতীয় টেবিলটপ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

    দ্রুত হবে ভারত-জাপান ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক

    ভারত ও জাপানের মধ্যে চতুর্থ বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, যা ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক নামে পরিচিত, দ্রুত আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। চলতি বছর টোকিওতে এই বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এর মাধ্যমে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করতে চায় নয়াদিল্লি ও টোকিও।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নজরদারির জন্য নতুন গোষ্ঠী

    ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। তাই বিভিন্ন উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিজি বা যুগ্মসচিব পর্যায়ের এই গোষ্ঠী দুই দেশের মধ্যে সামরিক কর্মসূচি, গোয়েন্দা তথ্য, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সংক্রান্ত সহযোগিতার সমন্বয় করবে। বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথ তৈরি করাও এই গোষ্ঠীর অন্যতম দায়িত্ব হবে। তবে দুই দেশের নিজস্ব নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সম্মান করেই এই সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে ভারতের জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁকে তিন বাহিনীর সমন্বিত গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ভারত সফরের সময় মুম্বইয়ে গিয়ে পশ্চিম নৌ কমান্ড এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইএনএস চেন্নাই-ও পরিদর্শন করেন তিনি। সব মিলিয়ে, সমুদ্র নিরাপত্তা থেকে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, সামরিক মহড়া থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশের এই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ বিমানে শিলিগুড়িতে পৌঁছন তিনি। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ এবং পাহাড়ের একাধিক সমস্যা।

    বিমানবন্দর থেকে অমিত শাহ সুকনার একটি হোটেলে যান। সেখানেই রাতে থাকার পর শুক্রবার সকালে তাঁর সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র সুকনা শিবিরে যাবেন। সেখানে ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পরপর দু’টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বৈঠকগুলিতে বিএসএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নজরে ‘চিকেনস নেক’, বাড়ছে নিরাপত্তার গুরুত্ব

    উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে এসএসবি শিবিরের বৈঠকগুলিকে। ভারতীয় ভূখণ্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েক দশক কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডরই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কেন্দ্রের বিশেষ নজর রয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ করিডরের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উত্তরবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘চিকেনস নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কাওয়াখালি ময়দানে বিএনএস প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    এসএসবি শিবিরে বৈঠক শেষ করে অমিত শাহের শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে যাওয়ার কথা। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। আগামী ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। সাধারণ মানুষের কাছে নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি-র পরিবর্তে কার্যকর হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় কোন পুরনো ধারার পরিবর্তে কোন নতুন ধারা এসেছে, প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা তুলে ধরা হবে। নতুন আইন এবং তার বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    দলীয় বৈঠক, শনিবার পাহাড় নিয়ে পরপর দুই বৈঠক

    শুক্রবারের সরকারি কর্মসূচি শেষ করে ফের সুকনার হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের শেষ দিন শনিবারও ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সুকনার হোটেলেই পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা তাঁর। পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা এবং প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

    সমস্ত বৈঠক ও কর্মসূচি শেষ করে শনিবারই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা, অন্যদিকে পাহাড়ের সমস্যা এবং নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে জনসচেতনতা—সব মিলিয়ে অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একইসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে পৃথক দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলি দখল করেছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। দুই ঘটনায় মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক জলদস্যুদের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরপর এই দুই ঘটনায় পূর্ব আফ্রিকার ‘হর্ন অফ আফ্রিকা’ অঞ্চল সংলগ্ন এডেন প্রণালী জলসীমায় ফের সক্রিয় হয়ে ওঠা সোমালি দস্যুদের  নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দখল

    প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে এডেন প্রণালীতে। ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছয় সশস্ত্র জলদস্যু দখল করে নেয় ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী তেলজাত পণ্য পরিবহণকারী ট্যাঙ্কার এমটি সিবু ১। জাহাজটিতে মোট ২০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন সিরীয়, একজন সুদানি, একজন ইরাকি এবং আরও একজনের জাতীয়তা নিশ্চিত নয়। ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিএমএ) রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে জাহাজের সমস্ত কর্মী নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের বর্তমান অবস্থান এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

    ঘটনার পর রিক্রুটমেন্ট ও প্লেসমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স-প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ডিএমএ। পাশাপাশি ই-নাবিক অনলাইন মেরিন ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসকেএস কৃষিভ মেরিন সার্ভিসের সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা জাহাজটির চারজন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। সংশ্লিষ্ট চার কর্মীর তথ্যও ডিএমএ-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সোমালিয়া উপকূলে দ্বিতীয় জাহাজ ছিনতাই

    অন্যদিকে, সোমবার সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড অঞ্চলের আইল প্রদেশের মারায়া এলাকার কাছে দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে। আট জলদস্যু ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি লুতুফ  দখল করে নেয়। হামলার সময় জাহাজটি উপকূল থেকে মাত্র ৩.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।  এক সোমালি আধিকারিক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, জাহাজটি দখলের পর জলদস্যুরা সেটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।

    এমভি লুতুফ-এ মোট ১০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, একজন তুরস্কের নাগরিক, একজন জর্জিয়ার নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। জাহাজটির মালিক পোলার মুভমেন্ট শিপিং। জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সংক্রান্ত সরঞ্জামের পাশাপাশি অস্ত্রও ছিল। এগুলি মোগাদিশুতে একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন ওই সোমালি আধিকারিক।

    এপ্রিলেও একই ধরনের জাহাজ ছিনতাই

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এমভি লুতুফ ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত জলদস্যুরা সম্ভবত সেই একই গোষ্ঠীর সদস্য, যারা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এমভি স্বার্ড নামে একটি জাহাজ ছিনতাই করেছিল। এপ্রিলের ওই ঘটনায় জলদস্যুরা জাহাজটিকে পন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার অন্তর্গত গারমাল-এর কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এমভি লুতুফ, তার কর্মী এবং জাহাজে থাকা পণ্য ও অস্ত্রের বর্তমান অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনা নিয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ফের কি বাড়ছে সোমালি জলদস্যুদের দাপট?

    একই সময়ে ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যু হামলা এবং ২২ জন ভারতীয়ের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এডেন প্রণালী, সোমালিয়া ও আফ্রিকার হর্ন সংলগ্ন জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এই ধরনের হামলা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরপর দুটি ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দুই জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

  • Minor mothers: নাবালিকা মায়ের সংখ্যায় দেশে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ! ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে, নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

    Minor mothers: নাবালিকা মায়ের সংখ্যায় দেশে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ! ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে, নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ চোদ্দ বছর বয়সি আবার কেউ সতেরো! ইতিমধ্যেই তাঁরা মা! কেউ দুই সন্তানের আবার কেউ তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন! রাজ্য জুড়ে নাবালিকা মায়ের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে! তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রসবকালে মায়ের মৃত্যু! এই জোড়া বিপদে কপালে ভাঁজ স্বাস্থ্য মহলে! স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারোদ্বত মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, দ্রুত পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রশাসন সব রকমভাবে তৎপর হবে। নাবালিকা বিয়ে রুখতে হবে। নাবালিকা মায়ের সংখ্যা কমবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই মা হওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে, প্রসূতি মৃত্যুর মতো ঘটনাও বাড়ছে। একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়ার জেরে মায়ের প্রাণ সংশয় বাড়ছে। নাবালিকা বিয়ে রুখতে প্রশাসন সব রকম ভাবেই তৎপর থাকবে।

    কী বলছে পরিসংখ্যান? কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে মারাত্মক হারে বেড়েছে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা। দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। ঝাড়খণ্ডের পরেই নাবালিকা মায়ের নিরিখে রাজ্যের স্থান দ্বিতীয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক জেলায় সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, প্রতি চারজন মায়ের মধ্যে একজন মা নাবালিকা। বিশেষত, কোচবিহার, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ জেলায় নাবালিকা মায়ের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেশি। কোচবিহারে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ২৭.৩ শতাংশ নাবালিকা মা এই জেলায়! বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৫ শতাংশ এবং মুর্শিদাবাদে ২০ শতাংশ।‌ এই পরিসংখ্যান দেখে উদ্বিগ্ন রাজ্য প্রশাসন।

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন প্রশাসন। একাধিক জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকেই প্রসূতি মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কেন প্রসূতি মৃত্যু এই তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়েই জানা যাচ্ছে, প্রসূতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাবালিকা। তাই মায়ের মৃত্যুর ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। মা প্রাপ্ত বয়স্ক না হলে, মায়ের শারীরিক গঠন ঠিক মতো হয় না। এর ফলে সন্তান ধারণ করলে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়। স্নায়ুর জটিলতা তৈরি হয়। সবমিলিয়ে মায়ের প্রাণ সংশয় তৈরি হয়। আবার স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সমস্যা হয়ে উঠেছে, একাধিক প্রসব। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে নাবালিকা মা, আরেক দিকে আট থেকে দশটি সন্তান প্রসবের চাপ, সব মিলিয়ে মায়ের স্বাস্থ্য চূড়ান্ত অবহেলিত হচ্ছে। এর ফলেই প্রসূতি মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    কেন রাজ্যের এই পরিস্থিতি?

    প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলের তৎপরতার অভাবের জেরেই রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকেই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিলো, নাবালিকা মায়ের নিরিখে দেশে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। ১৬ শতাংশ নাবালিকা মা এই রাজ্যে। ২০২৪ সালের আরেকটি পরিসংখ্যানেও একই রকম পরিস্থিতি জানান দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফেও একাধিকবার রাজ্যকে এই নিয়ে সতর্ক করা হয়। কিন্তু সব মহলের তৎপরতার অভাব যে স্পষ্ট সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গত এক দশকে এই রাজ্যে নাবালিকা বিয়ে রুখতে রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ ছিলো। তাই রাজ্য জুড়ে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    নয়া কোন পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্য জুড়ে প্রচার কর্মসূচি চালানো হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক মা দুটি সন্তানের জন্ম দিলে কী ধরনের সরকারি সাহায্য পেতে পারেন, সেই সম্পর্কে লাগাতার প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশা কর্মীরা প্রসূতির স্বাস্থ্যের খবর রাখবেন। যাতে প্রসূতি মৃত্যু আটকানো সহজ হয়। তাছাড়া নাবালিকা বিয়ে রুখতে সচেতনতার পাশপাশি আইন মাফিক কড়া পদক্ষেপ যাতে নেওয়া হয়, সেটাও প্রশাসনের সব মহল দেখবেন। পুলিশের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে। স্কুল স্তর থেকেই নাবালিকা বিয়ে এবং নাবালিকা মা হওয়ার বিপদ সম্পর্কে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের সব মহলের সমান তৎপরতা থাকলে নাবালিকা বিয়ে আটকানো সম্ভব হবে। তবেই নাবালিকা মায়ের সংখ্যা কমবে। রাতারাতি পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে না। কারণ, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি। নাবালিকা বিয়ে ও কিশোরী মায়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা শুধু স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। বরং এটা জটিল সামাজিক সমস্যা। তাই এই সমস্যা সমাধানে সব মহলের সমান সমন্বয় এবং তৎপরতা জরুরি। তবেই রাজ্যের পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।

  • Bengal ANTF-ATS: মাদক চক্র ও জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম! এএনটিএফ-এটিএস গড়ছে রাজ্য, হাজারের বেশি নতুন পদে অনুমোদন

    Bengal ANTF-ATS: মাদক চক্র ও জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম! এএনটিএফ-এটিএস গড়ছে রাজ্য, হাজারের বেশি নতুন পদে অনুমোদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাদক পাচার থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ—দুই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্যের পুলিশি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF) এবং অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই দুই বিশেষায়িত বাহিনীর কাজ পরিচালনার জন্য এক হাজারেরও বেশি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, রাজ্যে মাদক পাচারের চক্র এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান চালানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। নতুন পরিকাঠামোর ফলে তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তঃজেলা অভিযান আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    চার জেলায় এএনটিএফ থানা, তৈরি হবে ৫৯১টি পদ

    রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তার তত্ত্বাবধানে অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাহিনীর কার্যক্রমকে জেলা স্তরে আরও কার্যকর করতে দুর্গাপুর, মালদা, খড়্গপুর ও নদিয়ায় চারটি পৃথক এএনটিএফ থানা তৈরি করা হবে। এই চারটি থানাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে মোট ৫৯১টি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ফলে নিষিদ্ধ মাদকের প্রবেশ, আন্তঃরাজ্য পাচার এবং মাদকচক্রের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা ভাঙার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

    জঙ্গি দমনে এটিএস, ৪৬১টি স্থায়ী পদ

    মাদকবিরোধী ব্যবস্থার পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপ মোকাবিলায় অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড বা এটিএস গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার। এমন সময়ে এই বিশেষ বাহিনীর জন্য পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ৪৬১টি স্থায়ী পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে যখন পাক আইএসআই গুপ্তচর থেকে জঙ্গি মডিউলের খোঁজ মিলতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি এটিএস-এর তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কাজের জন্য আরও ৫ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী দুই বিশেষায়িত কাঠামোকে শক্তিশালী করতে মোট এক হাজারেরও বেশি নতুন পদ তৈরির পথে এগোল রাজ্য।

    মহিলা কমিশনেও বাড়ছে কর্মী

    শুধু মাদক ও সন্ত্রাস মোকাবিলা নয়, প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বুধবার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। নারী নির্যাতন ও হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬৮টি নতুন পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আইন বিভাগের অধীনে ওয়েস্ট বেঙ্গল লিগ্যাল সার্ভিস ক্যাডারে ৬ জন ল’ অফিসার নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁদের মোতায়েন করা হবে। আসানসোল ও দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জন্যও একটি করে, অর্থাৎ মোট ২টি ল’ অফিসার পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বিসিএস—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন পদ

    প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে একাধিক ক্ষেত্রেও পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন গ্রামীণ পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ১৯টি পদ তৈরি করা হবে। কলকাতা হাইকোর্টের কার পুলের জন্য তৈরি হচ্ছে ১০টি চালক পদ। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)-এর সদস্য সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

    এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বন্যা কবলিত এলাকায় মন্ত্রী ও বিধায়কদের রাতেই পৌঁছে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল সার্কিট বাঁধ বরাবর নারায়ণী ও দুধের বাঁধ খালের মোহনায় দুটি পাম্প হাউস তৈরির জন্য ২৪.৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনে জরুরি নদীবাঁধ এবং স্লুইস সংস্কারের জন্য ৩.১০ কোটি টাকার জমি কেনার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

    ২,২৫০ কোটি টাকার কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (ADB) সহায়তায় রাজ্যে ২,২৫০ কোটি টাকার ‘পশ্চিমবঙ্গ সমন্বিত চাষ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন ক্রেডিট প্রকল্প’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষি, পরিবেশ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে যুক্ত করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্প পার্কে জমি, ৬৮ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের দাবি

    শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ডব্লিউবিআইডিসিএলের অধীনে থাকা ৮টি শিল্প পার্কের ২৪টি ইউনিটে ৪৬৩.১৪ একর এবং ৬,৩৯৭.২৩ বর্গফুট জমি বিভিন্ন সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়ার অনুমোদন হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৬২,৭১২টি কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডব্লিউবিআইআইডিসি-র অধীনে থাকা ৪টি শিল্প পার্কের ৯টি ইউনিটে ৭৮.১৭ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও ৫,৮৭২টি কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে শিল্পখাতে ৬৮ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা।

    চা-বাগানে পর্যটন ব্যবসার পরিসর বাড়ল

    চা শিল্পের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও নীতিগত পরিবর্তন এনেছে রাজ্য। ‘চা পর্যটন ও আনুষঙ্গিক ব্যবসা নীতি, ২০১৯’ সংশোধন করে চা-বাগানের মোট জমির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ, তবে সর্বাধিক ১৫০ একর জমি পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একদিকে মাদক ও জঙ্গি দমনে বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, অন্যদিকে প্রশাসন, বন্যা মোকাবিলা, শিল্পায়ন ও পর্যটনে একাধিক সিদ্ধান্ত—বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের পুলিশি ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর একাধিক পদক্ষেপের অনুমোদন মিলল।

LinkedIn
Share