Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

typhoid-risk-children-rainy-season-west-bengal

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

বৃষ্টির দাপট অব্যাহত! উত্তর থেকে দক্ষিণ একটানা বৃষ্টি চলছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর পাশাপাশি দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। এই পরিস্থিতিতে টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেই জনস্বাস্থ্যে বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোথায় টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে গত এক মাসে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বেশি। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয়। এক স্বাস্থ্য কর্তা জানান, আগষ্ট মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাইফয়েড। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশি শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েড রুখতেও প্রশাসন বাড়তি সতর্ক ও সক্রিয় থাকছে।

কী বলছে আইসিএমআর?

দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে টাইফয়েডের দাপট অব্যাহত। গত বছরেও দেশে ৪৭ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারমধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ এই রোগে মারা যান। তাই টাইফয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে।

কেন টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া নামে এক ব্যাকটেরিয়ার জেরেই টাইফয়েড হয়। এই ব্যাকটেরিয়া বারবার প্রকৃতি বদল করছে। এর ফলে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। আবার চিকিৎসা করাও বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জল জমে আবার নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত কাজ করে না। সব মিলিয়ে চারপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর তার জেরেই টাইফয়েড রোগের প্রকোপ বাড়ছে। টাইফয়েড মূলত জলবাহিত অসুখ। অপরিচ্ছন্ন জল থেকেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। তারপরে জটিল রোগ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কী কী দাওয়াই স্বাস্থ্য দফতরের ?

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাইফয়েড রুখতে রাজ্য জুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে এ রাজ্যে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই রাজ্য জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

জনসচেতনতায় বাড়তি গুরুত্ব!

স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, টাইফয়েডের মতো রোগ রুখতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি।‌ পচা ও বাসি খাবার, অপরিশ্রুত জল থেকেই টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়। তাই এই মরশুমে খাবার ও জল নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। প্রত্যেক এলাকায় এই নিয়ে সচেতনতা চালাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। শিশুদের খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা, পরিশ্রুত জল খাওয়ার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হবে। খাবারের পাশপাশি শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতনতা চলবে। শৌচালয় থেকে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ির শৌচালয় যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সে নিয়েও প্রচার কর্মসূচি চলবে। টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার দাপট কমানো যায়।

এলাকা পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি!

বর্ষার মরশুমে যেকোনো রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এলাকার পরিচ্ছন্নতা। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ হোক কিংবা টাইফয়েডের মতো ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ, যেকোনো রোগের নেপথ্যে থাকছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ‌। তাই পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে একযোগে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্য দফতর এই কাজ চালিয়ে যাবে। যাতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য সংক্রমণের দাপট না বাড়ে, সে দিকে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

স্কুল স্তর থেকেই স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে সচেতনতা!

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলস্তর থেকেই এবার স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। শৌচালয়ে ঠিকমতো জলের ব্যবহার, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধির নানান দিক সম্পর্কে শিশুরা অবগত হলে টাইফয়েডের দাপট কমানো সহজ হবে‌ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাড়তি গুরুত্ব!

টাইফয়েডে বড় বিপদ রুখতে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করানোয় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।‌ স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আক্রান্ত দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছয়। ফলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তাই টানা তিন‌দিন জ্বর হলেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর হয়রানি কমাতে সমস্ত হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share