Category: স্বাস্থ্য

Get updates on Health News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে কিডনির রোগ! ভারতীয়দের একাংশ ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিডনির সমস্যা বয়সের সীমানায় আটকে থাকছে না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও কিডনির রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না নিলে দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব নয়। এমনকি সংসদীয় কমিটিতেও সম্প্রতি এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    কেন উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    বিশ্বের একাধিক পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে কিডনির রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বাদ নেই ভারতও। আধুনিক ব্যস্ত জীবনের সঙ্গী হয়ে আসছে নানান রোগ। তেমনি একটি জটিল শারীরিক সমস্যা হল কিডনির রোগ।

    কিডনির ক্রনিক অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন ৩০ থেকে ৮০—যেকোনও বয়সের মানুষ। কম বয়সিদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে কিডনির অসুখ বাড়ছে। আর তার ফলেই জটিলতা আরও বাড়ছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ‘নেফ্রোলজি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৬ শতাংশ ভারতীয় কিডনির অসুখে ভুগছেন। বিশ্বের মোট কিডনির অসুখে আক্রান্তের একটি বড় অংশ ভারতীয়।

    শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ভারতেও কিডনির অসুখের প্রকোপ মারাত্মক। গত কয়েক বছরে গ্রামে কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা শহুরে পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে কিডনির অসুখ বাড়ছে?

    ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ মারাত্মক। খুব কম বয়সে, এমনকি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    ১৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দাপট উদ্বেগজনক। আর তার জেরেই কিডনির অসুখের প্রকোপও বাড়ছে।

    রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে কিডনির উপর চাপ বাড়ে। কিডনির কার্যকারিতাও কমে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কিডনির অসুখের বোঝা কমানো যাবে না।

    উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা!

    ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি।

    অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং লাগাতার মানসিক চাপের জেরেই তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে বলে চিকিৎসকদের একাংশের মত।

    উচ্চ রক্তচাপ কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। তাই ভারতীয়দের কিডনির রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসছে।

    অতিরিক্ত ধূমপান!

    ধূমপান একাধিক রোগের কারণ। মুখ ও গলার ক্যান্সার, ফুসফুসের একাধিক সংক্রমণ এবং ক্যান্সারের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

    তেমনি কিডনির অসুখের কারণ হিসাবেও ধূমপানের অভ্যাসের কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

    বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই অনেকের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যার ফলে পরবর্তী জীবনে একাধিক রোগ দেখা দিচ্ছে। ধূমপান কিডনির একাধিক জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ সেবন!

    ভারতে অন্যতম বড় অসচেতনতা হল, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস। জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা বা হজমের গোলমাল—যে কোনও সমস্যায় অনেকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কিনে খান।

    দীর্ঘমেয়াদি এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার জেরে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশেষত ব্যথা কমানোর ওষুধ বা পেনকিলারের অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাব কিডনির উপর পড়তে পারে। লাগামছাড়া ভাবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া পেনকিলারের মতো ওষুধ খেলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    কিডনির অসুখ নিয়ে কী নয়া সুপারিশ সংসদীয় কমিটির?

    সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে ভারতে কিডনির অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কমিটির সদস্যেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ, কিডনির অসুখ রুখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।

    ২০ বছর বয়স থেকেই বছরে নিয়ম মেনে কিডনির পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিডনির রোগ রয়েছে কি না, তা প্রথম পর্বেই জানা গেলে জটিলতা কমানোর সুযোগ থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্দিষ্ট কিছু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অসুখের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিডনি ঠিকমতো ফিল্টার করতে পারছে কি না, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটাও বোঝা সম্ভব।

    তাই কিডনির অসুখের জটিলতা রুখতে প্রতি বছর শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কম বয়সিদের মধ্যে কিডনির অসুখ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন বলেই জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতের ভারতের উন্নতির জন্য তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

    একদিকে রোগ নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। তাহলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আবার রোগ হয়েছে কি না, সেটাও যাচাই করা জরুরি। তবেই প্রাথমিক পর্ব থেকেই রোগের মোকাবিলা করা যাবে।

  • Child Nutrition: ভাত-রুটিতে পেট ভরানো নয়, চাই ‘রামধনু খাবার’! শিশুর পাতে কী কী থাকা জরুরি?

    Child Nutrition: ভাত-রুটিতে পেট ভরানো নয়, চাই ‘রামধনু খাবার’! শিশুর পাতে কী কী থাকা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুষ্টিকর খাবার সরাবরাহতেই দায়িত্ব শেষ নয়। বরং পুষ্টির সামগ্রিক দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের। বিশেষত শিশু এবং মহিলাদের পুষ্টির ঘাটতির দিক বিশ্লেষণ করা, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস বুঝে, প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির উপরে নজরদারি, এই সবকিছুই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের হাত ধরেই হবে।
    সেপ্টেম্বর মাস জাতীয় পুষ্টি মাস।‌ দেশজুড়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হবে। আর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে অগ্রনী ভূমিকায় থাকবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র!

    কেন অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ জুড়ে ১৪ লাখের বেশি অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো নিয়মিত প্রায় ৮ কোটি শিশুর কাছে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেয়। তাই ভারতীয় শিশুদের পুষ্টির সমস্যা কমাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। শুধু খাবার সরাবরাহের দায়িত্বেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে, তাই আরও বড় দায়িত্বের পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে।
    স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, পুষ্টিকর খাবার কী, কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিৎ, কোনটা এড়িয়ে চলা দরকার, বিশেষত, তাজা খাবার গরম রান্না করে খেলে কী ধরনের বাড়তি পুষ্টি পাওয়া যায়, এই সম্পর্কে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। পাশপাশি, শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে কিনা, পুষ্টি পাচ্ছে কিনা, বিকাশ সময়োপযুক্ত কিনা, সেগুলো নিয়মিত যাচাই করবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। কারণ, তাঁদের স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ। নিয়মিত দেখা হওয়ার সুযোগ বেশি।‌
    শিশুদের পাশপাশি অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র থেকেই গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির সচেতনতা পাঠ দেওয়া হবে। মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য কোন ধরনের খাদ্যাভ্যাস জরুরি, সেটা বোঝানো ও সেদিকে নজরদারির দায়িত্ব থাকবে।

    শিশুর পুষ্টিতে অঙ্গনওয়ারির গুরুত্ব কতখানি?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্যোজাত থেকে শিশুর ছ’বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টির অনেকটাই দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের উপরে থাকছে। একবেলা খাবার দেওয়ার পাশপাশি, বিকাশের পর্যবেক্ষণ করা, অভিভাবকদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রাক প্রাথমিক পর্বে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কতখানি হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখার দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছ’মাস থেকে ছয় বছর বয়স। এই সময়ে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক বিকাশ হয়। যার প্রভাব সারা জীবন থাকে। পুষ্টি শুধু শরীরের জন্য নয়। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হবে না। তার বৌদ্ধিক শক্তি বিকশিত হবে না।
    তাই শিশুদের নিয়মিত কোন ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে, কোথায় ঘাটতি থাকছে, কীভাবে সেই ঘাটতি কমানো যাবে, এই সবকিছুই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র নজরে রাখবে। নিয়মিত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় স্তরের পুষ্টির সমস্যা সমাধান করবে।
    ভারতে শিশু পুষ্টির সবচেয়ে বড় সমস্যা সুষম খাবার দেওয়া হয় না। কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল নিয়মিত শিশু শরীরে পৌঁছনো জরুরি। যা অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর কাছে সহজেই নিয়মিত পৌঁছে যায়।

    ভারতীয় শিশুর পুষ্টিতে ঘাটতি কোথায়?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের খাবারে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ১২ শতাংশ শিশু পেট ভরা খাবার পেলেও, পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি থাকছে। সুষম খাবারের অভাব হচ্ছে। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ৩৫ শতাংশ শিশুর বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। ভারতের ১৯ শতাংশ শিশুর উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম। ভারতের ৩২ শতাংশ শিশু প্রয়োজনের তুলনায় কম ওজন থাকছে। এগুলো স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। ফলে, ঠিকমতো শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হচ্ছে না।

    পেট ভরানো নয়, পুষ্টিতে ভরপুর খাবারেই বাড়তি গুরুত্ব!

    শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পেট ভরানো খাবারে নয়, বরং পুষ্টিকর খাবারেই বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের খাদ্যাভ্যাস বৈচিত্র্যময়। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, একেকটি রাজ্যে, খাবারের ধরণ আলাদা। তাই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের দায়িত্ব, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের ধরণ বুঝে, শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নজর দেওয়া।

    ভাত কিংবা রুটির মতো খাবার বেশি দিয়ে পেট ভরিয়ে রাখলে শিশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দেবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ, শিশুকে পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি দিতে হবে। তার সঙ্গে পেট ভরানোর মতো নানান রকমের সবজি, বাদাম বা দানাশস্য জাতীয় খাবার দিতে হবে যাতে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ হয়। আর শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো প্রোটিন। তাই নিয়মিত শিশুকে প্রোটিন দিতে হবে। শিশু যাতে প্রত্যেক দিন ডিম, মাংস, মাছ, মাশরুম, পনীর কিংবা সোয়াবিনের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার খায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবেই শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হবে।

    পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, শিশুর পাতে পড়বে রামধনু খাবার। অর্থাৎ, ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে গাজর, পালং শাক, বেগুনের মতো নানান রকমের সবজি থাকবে, তার সঙ্গে ডাল থাকবে, আর থাকবে ডিম, মাংস বা পনীরের মতো প্রোটিন। নানান রকমের খাবার খেলে তবেই পুষ্টিতে ভরপুর খাবার হবে। বিকাশ ঠিকমতো হবে।

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

  • Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আশপাশের পরিচিত মহলেই এখন আর জীবনের গন্ডি আটকে থাকছে না! মুখোমুখি যোগাযোগ না থাকলেও, মুঠোফোনের দৌলতে এখন বহু দূর দেশে, কখনো না দেখা মানুষ ও সহজেই জেনে যান জীবনের খুঁটিনাটি! তাঁদের মতামত, তার প্রত্যাশাও সহজেই চাপিয়ে দেওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগত এখন জীবনের অনেক ওঠা-পড়া আর সফল-অসফলের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ! এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে! বিশ্ব জুড়ে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাদ নেই ভারত। ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বিপজ্জনক হারে বেড়েছে। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। প্রথম থেকেই জীবন যাপনের কিছু বদল প্রয়োজন। তবেই সুস্থ ও সুন্দর দীর্ঘ জীবন কাটানো যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে পরিসংখ্যান?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আত্মহত্যার ঘটনায় দুই তৃতীয়াংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। যা যথেষ্ট বিপজ্জনক।

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৩৩.৫ শতাংশ পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করেছেন। অসুস্থতার কারণে ১৮% আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই অসুস্থতা শারীরিক এবং মানসিক। মাদক আসক্তির জেরে ৮ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    কেন জেন জি-দের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে?

    সামাজিক প্রত্যাশার চাপ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক প্রত্যাশার তীব্র চাপের জেরেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হচ্ছে। হতাশার জন্ম নিচ্ছে। এর জেরেই আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পড়াশোনার চাপ, চাকরির চাপ , পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার চাপ থাকে। অনেক সময়েই এগুলো মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে ওঠে। আশপাশের মানুষের প্রত্যাশার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন হয়ে যায়। তার উপরে এখন ভার্চুয়াল জগতের চাপ, বাড়তি হতাশা তৈরি করছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও সেই চাপ দেখা যায়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই সুন্দর আর সফল দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। সেগুলোই জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি হয়ে উঠছে। কিন্তু বাস্তবে সব সময় সেটা সম্ভব হয় না। তখন ধাক্কা লাগছে। অনেক সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত মানুষদের সীমাহীন মন্তব্য জীবন যাপনের দিক নির্ধারণ করছে। এগুলো একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এর ফলে অনেক সময়েই হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসাদ তৈরি হচ্ছে। ফলে, আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে।

    পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপড়েন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৮-৩০ বছর বয়সে মানুষ একাধিক নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে জীবনের নানান নতুন সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি হয়। পারিবারিক সম্পর্কও জটিল হয়ে যায়। অনেকের ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা তৈরি হয়। সবটা সহজে ভারসাম্য বজায় থাকে না। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার কারণেই জেন জি-র আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

    বাস্তবে একাকিত্ব!

    জেন জি প্রজন্মের অন্যতম সমস্যা বাস্তবে একাকিত্ব! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইনে হাজার হাজার বন্ধু থাকলেও বিপদে পাশে থাকার মতো বন্ধুর অভাব দেখা দিচ্ছে। গল্প করা, সময় কাটানো, নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া মানুষের অভাব মানসিক জটিলতা তৈরি করে। ফলে, কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটা ভাগ করে নেওয়া যায় না। আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    মদ্যপান ও আসক্তি!

    ভারতে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মাদক ও মদে আসক্তি। এমনটিই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসক্তি থাকলে হঠকারিতা বাড়ে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে। আর তার ফলেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    কীভাবে আত্মহত্যার ঘটনা কমতে পারে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা ঠেকাতে জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা জরুরি।‌ কারণ, প্রথম থেকেই শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ‌ হবে।

    পারিবারিক সম্পর্কে বাড়তি নজর!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে বাড়তি নজরদারি জরুরি।‌ যেকোনো সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে, এই পরিবেশ আর নিশ্চয়তা জরুরি। তবেই যেকোনো সঙ্কটে পরিবারের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। হঠকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।‌ ছোট থেকেই শিশু মনে পরিবার নিয়ে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যাতে সে বড় হলেও যেকোনো সমস্যা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পরিবারের মধ্যে যেকোনো একজনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হবে, যাতে সে সহজ‌ ভাবে মনের কথা প্রকাশ করতে পারে।

    ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমানো!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমলে মানসিক চাপ ও হতাশা কমবে। সোশ্যাল মিডিয়া জীবন মাপকাঠি ঠিক করে দেবে না। বরং, জীবনের সব ঠিক-ভুলের খুঁটিনাটির হিসাব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমালে, ভার্চুয়াল জগতের প্রত্যাশার চাপ সহজেই এড়ানো যাবে।

    পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি!

    সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। যেকোনো বিষয়ে গভীর ভাবে ভাবার ক্ষমতা থাকে। তাই সুস্থ শরীর ও মনের জন্য নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ!

    ভারত সরকার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয়। দেশে আত্মহত্যার ঘটনা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসারের পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়েও সক্রিয়। তাই যেকোনো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য দিনের যেকোনো সময়ে ‘টেলি মানস’-এ যোগাযোগ করা যাবে। নিজের সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। আবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাবে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সেগুলো সাহায্য করবে। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অফিসের কাজ হোক কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস, ইলেকট্রিক বিল থেকে বন্ধুর সঙ্গে গপ্প-আড্ডা, সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কয়েকটি ক্লিক আর টাইপের যাবতীয় কাজ চলছে। কিন্তু লাগাতার টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার, টাইপ করে যাওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য সঙ্কট বাড়তে চলেছে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত দিনের দীর্ঘ সময় টাচ স্ক্রিনে একনাগাড়ে কাজ করলে হাতের আঙুল এবং কবজির স্নায়ুতে একধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই হাতের কিছু অংশে অসাড়তার সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘসময় অতিরিক্ত টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার এই ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।

    কেন এই অসাড়তা হতে পারে?

    স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাতের কব্জি মধ্যে একটি স্নায়ু রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম মিডিয়ান নার্ভ। টাচ স্ক্রিনের লেখার সময় কবজি একটি নির্দিষ্ট ভাবে বাঁকানো থাকে। এর ফলে ওই স্নায়ু এবং কবজির কোষগুলো ফুলে যায়। এর জেরেই এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হয়। তাছাড়া হাতে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে দীর্ঘসময় টাইপ চালিয়ে গেলে, এক কাজ করার জন্য হাতের আঙুলের স্নায়ু্র কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে অসাড় হয়ে যায়।

    কীভাবে বুঝবেন এই অসাড়তার সমস্যা প্রকট হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই স্নায়ু অসাড় হয়ে যাওয়া প্রাথমিক পর্বে বোঝা যায় না। অনেকেই সমস্যাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু কয়েকটি উপসর্গে নজর দিলেই পরিস্থিতি আগাম সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমায় ঝিনঝিন ব্যথা করলে কখনোই অবহেলা করা উচিৎ নয়। কারণ, এই তিনটে আঙ্গুল টাইপ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। লাগাতার টাচ স্ক্রিনে টাইপ করার জেরে এই তিন আঙুলেই প্রথম প্রভাব পড়ে।
    হাত অবশ হয়ে যাওয়ার জেরে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে স্নায়ুর অসাড়তার রোগ জটিল হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    পাশপাশি হাত থেকে জিনিস বারবার পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়ছে।

    কাদের এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন অনেকক্ষণ মোবাইলে টাইপ করেন বা একই আঙুল দিয়ে বারবার স্ক্রল করেন তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
    যাঁরা দিনের অধিকাংশ সময় ফোন শক্ত করে ধরে রাখেন, কিংবা কবজি দীর্ঘক্ষণ বাঁকানো অবস্থায় রাখেন তাঁদের স্নায়ুর অসাড়তার সমস্যা হতে পারে। পাশপাশি, একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়তে পারে। তবে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস আছে তাঁদের এই ধরনের স্নায়ুর সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

    • ১. চিকিৎসকদের পরামর্শ, একটানা টাইপ করা উচিৎ নয়। দীর্ঘ সময়ের কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে। মাঝেমধ্যে হাত-কবজিকে বিশ্রাম দিতে হবে।
    • ২. বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কব্জি সোজা রাখতে হবে। দীর্ঘসময় কবজি বাঁকিয়ে রাখার জন্য স্নায়ুর অসাড়তা সমস্যা আরও বাড়ছে। তাঁদের পরামর্শ, ফোন ব্যবহার করার সময় কবজি অতিরিক্ত সামনে বা পিছনে বাঁকিয়ে রাখা যাবে না।
    • ৩. স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একই বুড়ো আঙুল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ টাইপ না করে দুই হাতের আঙুল ব্যবহার করলে বা ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
    • ৪. ব্যথা বা ঝিনঝিনি শুরু হলে জোর করে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিৎ নয় এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একনাগাড়ে কাজ চালিয়ে গেলে স্নায়ুর উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলেই নানান সমস্যা তৈরি হয়।
  • Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্ত বাড়ছে। প্রশাসন সক্রিয়। স্বচ্ছ ভাবেই ডেঙ্গি মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, প্রশাসনের পাশাপাশি ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ রুখতে সাধারণ মানুষের সাহায্য সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বর মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। তবে অক্টোবরেও ডেঙ্গি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যু মিছিল কমাতে হলে, সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার মরশুমে জল জমে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বছরের এই সময়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মশার বংশবিস্তার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি‌ হয়। তাই মশাবাহিত রোগের দাপট বছরের এই সময়ে বাড়ে। সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার প্রকোপ বাড়ে। তাই সেপ্টেম্বরে বাড়তি গুরুত্ব।

    সেপ্টেম্বরে মশার বংশবিস্তার কমাতে পারলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি সংক্রমণ আটকানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ডেঙ্গি মোকাবিলার দুই অস্ত্র জরুরি। একদিকে মশার বংশবিস্তার কমাতে হবে, আরেকদিকে, রোগের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ, এই দুই করতে পারলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহজ হবে। এই মাসে সেই দুই দিকেই প্রশাসন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাহলে, রোগ ছড়াতে পারবে না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে এবং মৃত্যু মিছিল আটকানো‌ যাবে।

    কোন পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জল জমা কিংবা এলাকার অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে যেমন সচেতনতা জরুরি, তেমনি আরও কয়েকটি অভ্যাসে নজর দিতে হবে।

    পোশাকে বাড়তি নজরদারি!

    ডেঙ্গি রুখতে পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মশার কামড়ের জেরেই ডেঙ্গির ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক এই সময়ে পরে থাকা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ডেঙ্গি রুখতে শিশুদের পোশাক নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। তাই শিশুরা যাতে, ডেঙ্গির কবল থেকে বাঁচে, সেদিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বিশেষত বিকেলে পার্কে বা বাগানে খেলতে যাওয়ার সময় হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরাতে হবে। যাতে মশা কামড়ানোর সুযোগ কমে। রাতে ঘুমোনোর সময়েও হাত-পা ঢাকা‌ পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    মশারি টাঙানোর অভ্যাস!

    আধুনিক শহুরে বাঙালির অনেকেই মশারি টাঙানোর অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো রোগ থেকে বাঁচতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকা জরুরি। ঘুমের মধ্যে যাতে মশা না কামড়ায়, সেই জন্য নিয়মিত রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি বাড়িতে সদ্যোজাত থাকলে, নবজাতক শিশুকে দিনের অধিকাংশ সময় মশারির‌ ভিতরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মশা দিনের বেলায় দাপট বেশি দেখায়। তাই নবজাতক শিশুদের দিনের বেলাতেও মশারির ভিতরে রাখতে পারলে ভালো হয়।

    জানলা খোলা ও বন্ধের সময়ে নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে ঘরের জানলা কখন খোলা আর বন্ধ করা হবে, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা বাগান থাকলে জানলা খোলা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। দিনের বেলা, সূর্যের আলোয় ঘরের জানলা খোলা রাখা যেতেই পারে। কিন্তু বিকেলের পরে জানলা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে ঘরের ভিতরে মশার দাপট কমবে।

    বাড়ির শৌচলায় এবং ছাদ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা!

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসন বাড়ির ভিতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে পারবে না। সে নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তাই নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং শৌচালয় নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই বাড়ির চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখেন। এই মাসে সেই কাজ করলে বিপদ বাড়বে। মশার বংশবিস্তার কমাতে নিয়মিত চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পরে ছাদে জল জমে থাকছে কিনা, সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক সপ্তাহে ছাদ পরিষ্কার করতে হবে। অনেকেই বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় বাগান করেন। আবার কলকাতা সহ একাধিক শহরে ছাদে বাগান করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সক্রিয় থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, টবে জমা জল থাকছে কিনা দেখতে হবে। আগাছার জন্য মশার বংশবিস্তার হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বাগানে নিয়মিত মশানিধন তেল ও স্প্রে দিতে হবে।

    আক্রান্তের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ!

    ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে সবচেয়ে জরুরি আক্রান্তকে চিহ্নিত করা এবং তাঁর আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা। পাশপাশি তাঁর পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটা দ্রুত নিশ্চিত করা। আর এই সব কিছুতেই সাধারণ নাগরিকদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা জরুরি। তবেই কোথায় ডেঙ্গি সংক্রমণ কতখানি গুরুতর, সেটা স্পষ্ট হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ টানা তিন দিন জ্বরে আক্রান্ত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। আবার রোগ নিশ্চিত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্তকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। যাতে তাঁর থেকে অন্যদের শরীরে সহজে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য প্রশাসনকেও জানানো জরুরি। যাতে এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও মশানিধন নিয়ে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয় হতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে! কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখ। কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের দাপট। ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে‌।
    সোয়াইন ফ্লু সহ স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে নানান রোগের দাপট বাড়ছে। অনেক সময়েই ভাইরাস চরিত্র বদল করছে। ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের প্রকোপ। কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ১৯ জন সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল। তবে স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। রোগ যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত শিশুদের মধ্যে যাতে রোগের প্রকোপ না বাড়ে সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    কোন বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, গত পনেরো দিনে রাজ্য জুড়ে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।‌ বর্ষার মরশুমে ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তার সঙ্গে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত অসুখের দাপট ও বাড়ে। তবে চলতি বছরে বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভাইরাসের চরিত্র বদল। মরশুমের চেনা ভাইরাস ঘটিত অসুখ হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। সংক্রমণের শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। যার জেরে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো সোয়াইন ফ্লু-তেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগাম সতর্ক না থাকলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    স্কুল থেকেই কি সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে সহজেই যেকোন ভাইরাস ঘটিত রোগের সংক্রমণ ঘটে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় কম থাকে। ফলে, শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হয়। শিশুদের স্কুল থেকেই রোগ সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি‌ ঝুঁকি থাকে। এমনটাই মনে করছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনভর পাশপাশি বসে থাকা, হাতে স্পর্শ, খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়। অনেক সময়েই শিশুরা হাঁচি-কাশির সময়ে ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। আবার অনেক সময়েই খাবার খাওয়ার আগে বা পরে ঠিকমতো হাত ধোয়া হয় না। যার জেরেই আরও বেশি সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই স্কুল থেকে সহজেই শিশুরা ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া কিংবা সোয়াইন ফ্লু-র মতো ভাইরাসের পাশপাশি মরশুমের নানান ভাইরাস ও সংক্রমণের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। নিজেদের চরিত্র বদল করছে। এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

    কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    জ্বর হলেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই বাড়তি সজাগ থাকতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করা চলবে না। ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া-সোয়াইন ফ্লু হোক কিংবা বর্ষার মরশুমের সাধারণ ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ, প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য জ্বর হলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। তাই কেন জ্বর হয়েছে, সেটা জানা জরুরি।
    পাশপাশি, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কারণ, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। যেকোনো সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাজ কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

    আক্রান্তের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা!

    পরিবারের কেউ জ্বর বা অন্য কোনো ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। আবার শিশুদের শিশুদের শরীরে ঢুকে ভাইরাস চরিত্র বদল করতে পারে। তাই আক্রান্তের থেকে শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।

    স্কুল যাওয়ার বিধি-নিষেধ!

    শিশুর সর্দি-কাশি হলে স্কুলে না পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশু স্কুল বা যেকোনো ভিড় জায়গায় গেলে, সংক্রমণ যেমন ছড়াবে, তেমনি আক্রান্ত শিশুর ও শারীরিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ক্লান্তি বাড়তে পারে। ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    ভিড় এড়িয়ে চলা!

    যেকোনো ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পার্ক, মেলা বা এমন যেসব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কয়েক দিন সেই সব জায়গা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

    মাস্ক পরা জরুরি!

    বাইরে মাস্ক পরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোয়াইন ফ্লু সহ একাধিক ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। তাই মাস্ক ব্যবহার জরুরি।

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা!

    খাবার খাওয়ার আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই মরশুমের একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বৃষ্টির দাপট অব্যাহত! উত্তর থেকে দক্ষিণ একটানা বৃষ্টি চলছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর পাশাপাশি দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। এই পরিস্থিতিতে টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেই জনস্বাস্থ্যে বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোথায় টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে গত এক মাসে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বেশি। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয়। এক স্বাস্থ্য কর্তা জানান, আগষ্ট মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাইফয়েড। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশি শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েড রুখতেও প্রশাসন বাড়তি সতর্ক ও সক্রিয় থাকছে।

    কী বলছে আইসিএমআর?

    দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে টাইফয়েডের দাপট অব্যাহত। গত বছরেও দেশে ৪৭ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারমধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ এই রোগে মারা যান। তাই টাইফয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে।

    কেন টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া নামে এক ব্যাকটেরিয়ার জেরেই টাইফয়েড হয়। এই ব্যাকটেরিয়া বারবার প্রকৃতি বদল করছে। এর ফলে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। আবার চিকিৎসা করাও বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জল জমে আবার নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত কাজ করে না। সব মিলিয়ে চারপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর তার জেরেই টাইফয়েড রোগের প্রকোপ বাড়ছে। টাইফয়েড মূলত জলবাহিত অসুখ। অপরিচ্ছন্ন জল থেকেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। তারপরে জটিল রোগ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    কী কী দাওয়াই স্বাস্থ্য দফতরের ?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাইফয়েড রুখতে রাজ্য জুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে এ রাজ্যে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই রাজ্য জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    জনসচেতনতায় বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, টাইফয়েডের মতো রোগ রুখতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি।‌ পচা ও বাসি খাবার, অপরিশ্রুত জল থেকেই টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়। তাই এই মরশুমে খাবার ও জল নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। প্রত্যেক এলাকায় এই নিয়ে সচেতনতা চালাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। শিশুদের খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা, পরিশ্রুত জল খাওয়ার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হবে। খাবারের পাশপাশি শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতনতা চলবে। শৌচালয় থেকে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ির শৌচালয় যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সে নিয়েও প্রচার কর্মসূচি চলবে। টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার দাপট কমানো যায়।

    এলাকা পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি!

    বর্ষার মরশুমে যেকোনো রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এলাকার পরিচ্ছন্নতা। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ হোক কিংবা টাইফয়েডের মতো ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ, যেকোনো রোগের নেপথ্যে থাকছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ‌। তাই পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে একযোগে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্য দফতর এই কাজ চালিয়ে যাবে। যাতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য সংক্রমণের দাপট না বাড়ে, সে দিকে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

    স্কুল স্তর থেকেই স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে সচেতনতা!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলস্তর থেকেই এবার স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। শৌচালয়ে ঠিকমতো জলের ব্যবহার, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধির নানান দিক সম্পর্কে শিশুরা অবগত হলে টাইফয়েডের দাপট কমানো সহজ হবে‌ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাড়তি গুরুত্ব!

    টাইফয়েডে বড় বিপদ রুখতে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করানোয় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।‌ স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আক্রান্ত দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছয়। ফলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তাই টানা তিন‌দিন জ্বর হলেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর হয়রানি কমাতে সমস্ত হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি! তবে একা ডেঙ্গি নয়! কলকাতা ও তার আশপাশের জেলায় মশাবাহিত জোড়া রোগ, ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রমণে প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। তাই বাড়তি সক্রিয়তার পথে হাঁটছে প্রশাসন। আজ, মঙ্গলবার, প্রশাসনের শীর্ষ মহলের জরুরি বৈঠক হতে চলেছে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবার ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য দফতর।

    কেন প্রশাসনের উদ্বেগ?

    বছরের এই মরশুমে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসেই রাজ্যে ভেক্টর বোর্ন ডিজিজের প্রকোপ বাড়ে। অর্থাৎ, বিভিন্ন পতঙ্গ বাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত মশাবাহিত রোগের প্রকোপে জেরবার হয় বঙ্গবাসী। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম নয়। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়া। তাই সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই প্রশাসন কড়া হাতে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। অক্টোবর মাসে ডেঙ্গির দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে তাই সবরকম প্রশাসনিক পরিকল্পনা জরুরি। সেটা আগাম না করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ডেঙ্গি রুখতে বিশেষ বৈঠক হবে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অগাস্ট মাসে রাজ্যে নতুন করে ১০০০ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং দুই চব্বিশ পরগনায়। ইতিমধ্যে ৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু তালিকায় রয়েছে ১১ বছরের স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়! আর এই মৃত্যু মিছিল রুখতেই প্রশাসনের বাড়তি সক্রিয়তা। ডেঙ্গির পাশপাশি কলকাতার কসবা, যাদবপুর, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, কলেজ স্ট্রিট সহ একাধিক এলাকায় ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনক। আবার হাওড়াতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা জানান, কলকাতায় একসঙ্গে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত একাধিক কেস পাওয়া যাচ্ছে। এক ব্যক্তি একসঙ্গে এই দুই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে যায়।

    ডেঙ্গি রুখতে কী নয়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার?

    ডেঙ্গি রিভিউ মিটিংয়ে সমন্বয়ে জোর দেওয়া হতে পারে!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে ডেঙ্গি নিয়ে রিভিউ মিটিং করবেন। বিশেষত কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার এলাকাগুলো নিয়ে বাড়তি জোর দেওয়া হবে। কারণ এই দুই এলাকাতেই গত এক মাসে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় জোড়া দাপট বেশি দেখা গিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তাদের পাশপাশি বৈঠকে অন্যান্য বিভাগের কর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। যাতে ডেঙ্গি রুখতে সমস্ত বিভাগের মধ্যে ঠিকঠাক সমন্বয় থাকে। কোনো রকম জটিলতা তৈরি না হয়‌।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই পরিকল্পনা!

    চলতি বছরে ডেঙ্গি কতখানি ভয়ানক হতে পারে সে নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন প্রশাসনের একাংশ। এক কর্তা জানান, ২০২৩ সালে এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডেঙ্গি পরিস্থিতি হয়েছিল। চলতি বছরে এই মশাবাহিত রোগ কতটা দাপট বাড়াতে পারে, সে সম্পর্কে আগাম ধারনা করা জরুরি। তাই এই বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। তাঁরা রোগ ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রশাসনকে রোগের দাপট সম্পর্কে একটা ধারনা দেবেন। তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হবে।

    বাড়ি-বাড়ি নজরদারিতে বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমেছে, কোথায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, সে সম্পর্কে সমস্ত তথ্য থাকা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    এলাকায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে কে কে আক্রান্ত হচ্ছেন, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য থাকা প্রয়োজন। সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই পুর কর্মীরা নিজেদের এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। যাতে জ্বর হলে তাঁদের কাছে তথ্য থাকে। ডেঙ্গি সংক্রমণের খবর থাকলে, সেই এলাকায় বাড়তি নজর দেওয়া হবে। যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে। সংক্রমণ দ্রুত আটকানো সম্ভব হয়।
    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, ডেঙ্গি টিকা এলেও চলতি বছরে নানান আইনি জটিলতার জন্য সেই টিকা করণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রচলিত পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে। প্রশাসন সক্রিয় থাকবে। এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া হবে আবার জনসচেতনতাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘন ঘন আবহাওয়ায় পরিবর্তন। কখনো একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কখনো তীব্র রোদ, গরম! আর এই পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশির দাপট বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের সমস্যা আরও বেশি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার এই মরশুমে স্কুল পড়ুয়াদের ভোগান্তি বাড়ে। অনেক সময়েই তাদের বৃষ্টিতে‌ ভিজতে হয়, আবার কখনো তীব্র গরমে ঘামে ভিজে যায়। ফলে নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট বাড়ে। কাশি-সর্দিতে নাজেহাল হয়। কিন্তু, সম্প্রতি, কাশির ওষুধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চার বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো রকম কাশির ওষুধ বা কফ সিরাপ দেওয়া যাবে না। চার বছর বয়সের উপরের শিশুদের কফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি। তবে অধিকাংশ সময়েই কফ সিরাপ বা কাশির ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কেন শিশুকে কাশির ওষুধ দেওয়ায় আপত্তি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট একটি অ্যান্টিহিস্টামিন গোত্রের ওষুধ যা সর্দি, হাঁচি ও নাক দিয়ে জল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। ফিনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড সর্দি কমাতে ও সাইনাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই দুই উপাদান মিশিয়ে যে ওষুধ তৈরি হচ্ছে সেটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ খাওয়ালে শিশুদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঘুমের অভ্যাস পাল্টে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই ওষুধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এমন ওষুধ খেতে থাকলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সিরাপে ডোজ়ের পরিমাণ যা বলা থাকে, তার চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    ওষুধের পরিবর্তে কোন ঘরোয়া উপাদানেই ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। পাশপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

    এসি ব্যবহারে বাড়তি নজরদারি!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এসির ব্যবহারে রাশ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, বন্ধ ঘরে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টিতে ভেজার পরে এসি চালিয়ে থাকলে সর্দি-কাশির ভোগান্তি বাড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। মরশুমের নানান ভাইরাসের দাপট বাড়তে পারে। তাই বর্ষায় এসি চালিয়ে ঘুমোনো একেবারেই উচিত নয়। কিছুটা সময় এসি চালানোর পরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, রাতে এসি চললে অবশ্যই গায়ে চাদর দেওয়া জরুরি। তাহলে সরাসরি কৃত্রিম ঠাণ্ডা হাওয়া লাগবে না।

    লবঙ্গ-এলাচ দেওয়া গরম জল!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত একাধিক মশলা সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর এগুলোর খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষার মরশুমে শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে ফোটানো গরম জল এক কাপ দেওয়া যেতে পারে। লবঙ্গ এবং এলাচ একাধিক ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষত শ্বাসনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

    সব্জিতে আদার ব্যবহার বিশেষ উপকারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে এবং শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আদা সবচেয়ে উপকারি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আদায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। ফলে, যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।‌ সব্জি বা মাছ, যেকোনো পদ রান্নার সময় উপকরণে আদা বাটা ব্যবহার করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে।

    মধু ও তুলসী পাতার মিশ্রণ!

    কাশি ও সর্দি হলে সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা বেঁটে তার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষত কাশি কমাতে বিশেষ সাহায্য করবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে তুলসী পাতা। সর্দি-কাশি নিরাময়ে মধু বিশেষ উপকারি। তাই এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share