Category: স্বাস্থ্য

Get updates on Health News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েক দিন! শহর থেকে জেলা, বহুতল থেকে পাড়া সেজে উঠবে আলোর উৎসবে! প্রদীপের আলো আর বাজির উৎসবে মাতবেন আট থেকে আশি, সকলেই। কিন্তু দীপাবলির এই আনন্দে বাধা হতে পারে অসাবধানতা! সামান্য অসতর্কতাও আনন্দের তাল কাটতে পারে। তাই কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোন বিপদের ইঙ্গিত করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    অগ্নিদগ্ধের ঝুঁকি!

    সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদ তৈরি করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীপাবলির পরেই প্রত্যেক বছর উল্লেখযোগ্য ভাবে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ে। শিশু থেকে প্রৌঢ়, সব‌ বয়সেই এই বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি।

    শ্বাসকষ্টের রোগীর জটিলতা!

    দীপাবলির পরে অনেকেই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর ফলে এক ধরনের ধোঁয়া হয়। সেই ধোঁয়া থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ শিশু ও বয়স্কদের এই সমস্যা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা!

    শব্দবাজির দাপটে শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তীব্র শব্দ কানের ভিতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এর ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। তাই এই নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    ত্বক ও চোখের সংক্রমণ!

    বাজির মধ্যে থাকে নানান রাসায়নিক পদার্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকের সেই রাসায়নিক পদার্থ সংস্পর্শে এসে নানান ধরনের অ্যালার্জি হয়। আবার, চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ও বছরের এই সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাজির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে। সেখান থেকেই সংক্রমণ ঘটতে থাকে।

    কীভাবে সুস্থ থেকে উৎসব উদযাপন সম্ভব?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই দীপাবলির উৎসব নিশ্চিন্তে উদযাপন সম্ভব। এড়ানো যেতে পারে হয়রানি।

    খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানো!

    বাজির উৎসবে সবচেয়ে বেশি চিন্তা বাড়ায় আগুন। অসাবধানতা বড় বিপদ‌ তৈরি করে। তাই খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর সময় হালকা সুতির কাপড় পরা জরুরি। পা ঢাকা জুতো পরতে হয়। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে।
    আবার বাজি পোড়ানোর সময় আশপাশে জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। যাতে বিপদ হলেও সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    শিশুদের একেবারেই একা ছাড়া চলবে না। বাজি পোড়ানোর সময় অবশ্যই অভিভাবকদের সঙ্গে থাকতে হবে। ফুলবাজি, রং মশালের মতো বাজি তুলনামূলক নিরাপদ মনে হলেও এই বাজি আগুন ধরাতে পারে। বিপদের ঝুঁকি রয়েছে।

    সিওপিডি আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি আক্রান্ত। এই সময়ে তাঁদের বাড়তি শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাজির ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। আবার নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, এই সময়ে বাড়ির বাইরে গেলেই মাস্ক পরা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়া আটকাবে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। তাছাড়া প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ মতো ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে।

    বাজি পোড়ানোর পরে হাত ও চোখ জল দিয়ে পরিষ্কার করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর পরে ভালোভাবে হাত ও চোখ পরিষ্কার করা জরুরি। জল দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করলে বাজির রাসায়নিক থেকে ত্বক ও চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    শব্দবাজির ব্যবহারে হ্রাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শব্দবাজি নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আইন মেনে বাজির উৎসব উদযাপন করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো সহজ হয়। পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ালে নানান ক্ষতির ঝুঁকি কমে। শব্দ বাজি এড়িয়ে চললে শুধু কানের ক্ষতি নয়। পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিও এড়ানো যেতে পারে। তাই উৎসবের উদযাপনে সচেতন ও সতর্ক থাকলে যেকোনো বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা!

  • Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একটি ক্রোমোজোমের হেরফের! বদলে যায় জীবন! যাপনের ভঙ্গি! এমনকি বোঝার ও শেখার ক্ষমতাতেও পরিবর্তন আনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ডাউন সিনড্রোম। জন্মের সময় থেকেই শিশু এই সমস্যায় আক্রান্ত থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিকমতো যত্ন না নিলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। অক্টোবর মাস ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হয়। এই সমস্যা সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে জানানো এবং সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবার ও সমাজ সচেতন ও সংবেদনশীল হলে তবেই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।

    ডাউন সিনড্রোম কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম এমন একটি জিনগত অবস্থা, যা শিশুর শারীরিক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মানো মানেই যে শিশু স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, পড়াশোনা, খেলাধুলো কিংবা সামাজিক জীবনে অংশ নিতে পারবে না, তা নয়। সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা, পরিবারের সহযোগিতা এবং উপযুক্ত সরকারি সহায়তা পেলে অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যথেষ্ট স্বনির্ভর জীবন কাটাতে পারেন।

    কেন হয় ডাউন সিনড্রোম?

    মানুষের শরীরের কোষে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, যা ২৩ জোড়ায় সাজানো। ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকা জিন শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডাউন সিনড্রোমে সাধারণত ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি কপির বদলে তিনটি কপি থাকে। একে ট্রাইসোমি ২১ বলা হয়। এর ফলে শিশুর বিকাশের ধরনে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কোষ বিভাজনের সময় আকস্মিকভাবে ঘটে। সাধারণত এটি প্রতিরোধ করার কোনও নির্দিষ্ট উপায় নেই। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভধারণের সময় মায়ের বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    প্রথম থেকে নেওয়া কোন পদক্ষেপ সহজ করবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন?

    প্রত্যেক শিশুর চাহিদা, বোঝার ক্ষমতা এবং মানিয়ে নেওয়ার শক্তি আলাদা! ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের ক্ষেত্রেও তাই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে প্রথম থেকেই অভিভাবকদের কয়েকটি পদক্ষেপ ভাবনা চিন্তা করে নেওয়া জরুরি। তাহলে ছোটো থেকেই তাদের জীবন যাপন অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

    স্কুল নির্বাচনে বাড়তি নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এলাকার ভালো স্কুল বা নামী স্কুল হলেই চলবে না। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত সন্তানের জন্য তার উপযুক্ত স্কুল নির্বাচন করতে হবে। স্কুলে ভর্তির সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষ শিশুকে দেখভাল করা এবং শেখানোর মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন কিনা!
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর শেখার ক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুল, বিশেষ শিক্ষকের সাহায্য এবং ব্যক্তিগত শিক্ষণ পরিকল্পনা ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবনের বিকাশের কাজে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। ছবি, খেলা, ছড়া, পুনরাবৃত্তি এবং ছোট ছোট নির্দেশের সাহায্যে শেখানো অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর হয়। সন্তানের কোন দিকে শেখার আগ্রহ হচ্ছে, কীভাবে সেটা কার্যকর হয়, সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আক্রান্ত শিশুর মানসিক বিকাশ সম্ভব।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের সমস্যা ছাড়াও নানান শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে। তাই ভোগান্তি রুখতে ও জীবন যাপন সহজ করতে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি, থাইরয়েড, দাঁত, বৃদ্ধি এবং ঘুমের সমস্যা আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞর পরামর্শে পরীক্ষা করাতে হবে। সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে উপযুক্ত চিকিৎসাও করতে হবে। পাশাপাশি জীবন যাপন সহজ করতে কিছু থেরাপিও প্রয়োজন। ছোটো থেকেই এই থেরাপিগুলো ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে শিশুদের নানান সমস্যা কমে। পেশি ও স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে। এমনকি বৌদ্ধিক জটিলতাও কমতে পারে।

    খেলাধুলো ও সামাজিক মেলামেশার সুযোগ প্রয়োজন!

    মনস্তাত্ত্বিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স ও শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুকে নানান সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। পাশপাশি নিয়মিত খেলাধুলোর অভ্যাস তৈরি করাও প্রয়োজন। এতে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমবে। মস্তিষ্কের বিকাশের কাজ সহজ হবে। অভিভাবকদের জন্য তাঁদের পরামর্শ, খেলাধুলো, গান, নাচ, আঁকা, সাঁতার বা অন্য পছন্দের কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তকে অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ গড়ে দিতে হবে। যাতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ে।

    ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জন্য সরকারি সহযোগিতা কি রয়েছে?

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে, রোগ নির্ণয়ের উপযুক্ত তথ্য সহ নিজের জেলার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা জেলা হাসপাতালের প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন বিভাগে অভিভাবকদের যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষার পরে জেলা সমাজকল্যাণ দফতর বা District Disability Rehabilitation Centre (DDRC) থেকে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়া হবে। যা থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ হিসাবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত নানান সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ ও সুবিধা পাবেন‌। সরকারের তরফে নানান প্রকল্প রয়েছে। যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার পথ সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Malaria in West Bengal: অক্টোবরের শেষেও বৃষ্টি! বাড়ছে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি, শীতেও কি বাড়বে সংক্রমণ? উদ্বেগে স্বাস্থ্য মহল

    Malaria in West Bengal: অক্টোবরের শেষেও বৃষ্টি! বাড়ছে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি, শীতেও কি বাড়বে সংক্রমণ? উদ্বেগে স্বাস্থ্য মহল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বর্ষার মরশুম শেষ হলেও বৃষ্টি পিছু ছাড়ছে না। নিম্নচাপের জেরে আকাশে কালো মেঘ জমাট বাঁধছে। হেমন্তের শুরুতেও রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। আর তার মাঝেই বিপদ বাড়াচ্ছে ম‌্যালেরিয়া। ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গি রুখতে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর তার মাঝেই ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, শীতেও রেহাই পাওয়া যাবে না। বরং, সতর্ক না হলেই বড় বিপদ ঘটতে পারে।

    শীতেও কি দাপট দেখাতে পারে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুম এলেই মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে যাবে, এমনটা একেবারেই নয়। বছরভর মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে। শীতে কিছুটা কমলেও, একেবারে হবে না, একথা বলা যায় না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলতি বছরে শীতকালেও রাজ্যের একাধিক জেলায় ম্যালেরিয়ার দাপট চলবে। এই বছরে কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন এলাকায় জল জমছে। ফলে মশাবাহিত রোগের দাপট ও জারি রয়েছে। মশার বংশবিস্তারের জেরেই ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাই শীতকালেও মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ থাকবে।

    রাজ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কতখানি?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষ এই রাজ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলোতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে।‌ তাই সেই এলাকাগুলোয় শীতকালেও মশাবাহিত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে।

    আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরেই কি ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ম্যালেরিয়ার মতো রোগের দাপট বাড়ানোর অন্যতম কারণ। বিশেষত, ভাইরাস ঘটিত একাধিক রোগের চরিত্র বদল হচ্ছে। ম‌্যালেরিয়ারও চরিত্র বদল হয়েছে। সংক্রমণের পরেও চরিত্র বদল করছে। অনেক সময়েই তাই আক্রান্তের শরীরে নতুন ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
    তাছাড়া শীতের মরশুমেও ম্যালেরিয়া সংক্রমণ অব্যহত থাকছে। তার অন্যতম কারণ মশার বংশবিস্তার ক্রমশ হচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে জমা জলের সমস্যা থাকছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও জমা জলের সমস্যা থাকছে। এর জেরে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই শীতেও মশা বাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    শিশুদের কি ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যাবে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে শিশুদের টিকা দেওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতো শিশুদের ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যেতে পারে। সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সুপারিশ রয়েছে। শিশুর পাঁচ বছর বয়সের পরে এই টিকাকরণ করা সম্ভব। তবে কতগুলো ডোজ দিতে হবে, সে নিয়েও নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজন অনুযায়ী, শিশুকে ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যেতে পারে।
    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করলেই শিশুর ম্যালেরিয়ার টিকাকরণ সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে। ভারতে এই টিকা করণের ব্যবস্থা কেমন সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সহজ হবে।

    শীতের মরশুমে ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    জমা জল পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা জরুরি।‌ প্রত্যেকের মধ্যে এই নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ, বাগান, ছাদ কিংবা বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কার না হলে মশার বংশবিস্তার সহজ হয়। তখন মশাবাহিত রোগের দাপট ও বাড়ে। তাই শীতের মরশুমে ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে আশপাশ পরিষ্কারের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার ও অপ্রয়োজনীয় জল জমতে না দেওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বাগান থাকলে অবশ্যই সেটা পরিচ্ছন্ন করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    সন্ধ্যার পরে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরা জরুরি!

    মশার কামড় এড়াতে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরতে হবে। বিশেষত সন্ধ্যার পরে বাইরে গেলে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয়, না হলেই সংক্রমণের দাপট বৃদ্ধি!

    জ্বর হলে একেবারেই অবহেলা করা চলবে না।‌ চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে জ্বরের কারণ জানতে হবে। তবেই রোগ চিহ্নিত হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা যাবে। ম্যালেরিয়ার মতো রোগ প্রথম ধাপে চিহ্নিত না হলে, এলাকায় ক্রমশ সংক্রমণ বাড়বে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। তাছাড়া রোগ নির্ণয় দেরিতে হলেও, চিকিৎসা শুরু করলেও দেরি হয়ে যায়। তার জেরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • World Stroke Day 2026: হঠাৎ স্ট্রোক, নাকি আগাম ইঙ্গিত? বিপদ চিনতে জেনে রাখুন BEFAST-এর ৬টি সঙ্কেত

    World Stroke Day 2026: হঠাৎ স্ট্রোক, নাকি আগাম ইঙ্গিত? বিপদ চিনতে জেনে রাখুন BEFAST-এর ৬টি সঙ্কেত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই কি বিপদ হয়! নাকি ইঙ্গিত আগে থেকেই পাওয়া যায়? প্রয়োজনীয় সচেতনতা এবং সতর্কতার অভাব বিপদ ক্রমশ বাড়িয়ে দেয়!
    ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস! সেই উপলক্ষে দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে ক্রমশ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। আর স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যাওয়া। ২০২৬ সালে স্ট্রোক দিবসে মূল থিম হলো প্রত্যেক মিনিট গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু এই প্রতি মিনিটের গুরুত্ব বোঝার জন্য ‘BEFAST’ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    স্ট্রোক কী? কেন প্রতি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কোনও নির্দিষ্ট অংশে হঠাৎ রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা মস্তিষ্কের রক্তনালী হঠাৎ ফেটে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে শুরু হয়। এই শারীরিক পরিস্থিতিকেই স্ট্রোক বলা হয়।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা হঠাৎ রক্তক্ষরণ শুরু হলে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহের সমস্ত স্নায়ুর উপরেই তার প্রভাব পড়তে থাকে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। প্রত্যেক মুহূর্তে শরীরের একেকটা অঙ্গের কার্যশক্তি হ্রাস পায়। গভীর ক্ষত তৈরি হয়‌। পেশি এবং স্নায়ুর উপরে এমন প্রভাব পড়ে, যার জেরে দীর্ঘমেয়াদি একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রত্যেক মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতি মুহূর্তে রক্তক্ষরণ বাড়লে শারীরিক অবস্থার অবনতির ঝুঁকি বাড়ে। আবার মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন না হলেও আজীবন শরীরে অসাড়তা আসতে পারে। যত দেরি হবে, তত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসায় দ্রুত চিকিৎসা শুরুর দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    স্ট্রোক রুখতে কেন BEFAST ধারণায় বাড়তি গুরুত্ব?

    স্ট্রোকের বড় বিপদ রুখতে চিকিৎসকেরা BEFAST ধারণায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সম্পর্কে যত সচেতনতা বাড়বে, প্রাণনাশের আশঙ্কা কমবে। এমনকি যে কোনও বড় দীর্ঘমেয়াদি বিপদ আটকানোও সহজ হবে। তাই দেশ জুড়ে এই বছরে BEFAST ধারণাকে আরও বেশি তুলে ধরা হচ্ছে। যাতে সময় মতো বিপদ আটকানো যায়।

    BEFAST কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, BEFAST হলো স্ট্রোকের লক্ষণ বোঝার একটি সহজ পদ্ধতি। পরিবার কিংবা পরিচিতদের এই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    B হলো ব্যালেন্স বা ভারসাম্য!

    হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটাচলার অসুবিধা হতে থাকা কিংবা শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে মনে হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটা স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ।

    E হলো আইজ বা চোখের সমস্যা!

    স্ট্রোকের বিপদ প্রথম জানান দেয় দৃষ্টিশক্তি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ দেখতে অসুবিধা হলে কিংবা ঝাপসা হয়ে গেলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। হঠাৎ কোনও একটি চোখে সমস্যা দেখা দিলে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

    F হলো ফেস বা মুখ বেঁকে যাওয়া!

    হঠাৎ ঠোঁটের পাশ হালকা বেঁকে যাওয়া কিংবা মুখে হঠাৎ আকৃতিগত পরিবর্তন দেখা দিলে‌ সচেতন হতে হবে। সামান্য পরিবর্তন ও আসলে স্ট্রোকের ইঙ্গিত বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।

    A হলো আর্মস বা হাতের দূর্বলতা!

    স্ট্রোক শরীরের স্নায়ু এবং পেশির উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে। তাই পেশি জানান দেয়। হঠাৎ করেই হাতের পেশির দূর্বলতা, শিথিল হয়ে যাওয়া, দুই হাত সমানভাবে কাজ করতে না পারার উপসর্গ আসলে স্ট্রোকের ইঙ্গিত।

    S হলো স্পিচ বা কথা বলার সমস্যা!

    ঠোঁট বা জিভের জড়তা স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ কথা বলায় আড়ষ্টতা দেখা দিলে বুঝতে হবে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে সমস্যা হয়েছে। তাই সময় নষ্ট করা একেবারেই চলবে না।

    T হলো টাইম বা সময়!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন স্ট্রোকের বড় বিপদ রুখতে সময় সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই সময় নিয়ে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যায় আক্রান্তদের স্ট্রোকের যে কোনও একটা উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ সময় মতো চিকিৎসা শুরু করতে পারলে তবেই বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে।

    ভারতে স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

    ভারতে ক্রমশ স্ট্রোকের প্রকোপ বাড়ছে। কম বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জেরেই ভারতে স্ট্রোকের প্রকোপ উর্ধ্বমুখী। কারণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং জীবন যাপন এ দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া আধুনিক জীবনে বাড়ছে উদ্বেগ, অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা। তাই সবমিলিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে। তবে স্ট্রোকের চিকিৎসায় এ দেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূলত তিনটি!

    ১. দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছনো!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছনো। অর্থাৎ চিকিৎসা শুরু হতেই অনেক দেরি হয়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ৫৩ শতাংশ বেশি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর আক্রান্ত হওয়ার ৪ ঘণ্টা পরে চিকিৎসা শুরু হয়। যেখানে স্ট্রোক পরবর্তী প্রথম এক ঘণ্টা সবচেয়ে জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার জেরে অনেক বেশি ক্ষতি হয়। প্রাণ সংশয় দেখা দেয়।

    ২. পুর্নবাসন চিকিৎসায় অবহেলা!

    স্ট্রোকের চিকিৎসায় পুর্নবাসন বা রিহ্যাবিলিটেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সাময়িক চিকিৎসার পরে একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা থাকে। নানান ওষুধের পাশপাশি রোগীকে নানান রকমের থেরাপি করতে হয়। যেগুলো আক্রান্তের পেশি, স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেবে। আবার মস্তিষ্কের ক্ষত সারিয়ে তুলবে। কিন্তু ভারতে এই পুনর্বাসন চিকিৎসা নিয়ে অসচেতনতা রয়েছে। স্ট্রোক পরবর্তী এই চিকিৎসা অধিকাংশ আক্রান্ত করেন না। এর জেরে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন না। অনেক সময়েই তাঁদের নিয়মিত কাজের জন্য অন্যের উপরে নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র প্রাণ বাঁচিয়ে দিলেই চিকিৎসা পর্ব শেষ হয়ে যায় না। রোগীকে সুস্থ জীবন যাপনের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। আর সেই পর্বে এই রিহ্যাবিলিটেশন অত‌্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    ৩. উপসর্গ সম্পর্কে অবহেলা!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্ট্রোকের উপসর্গ সম্পর্কে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। কেমন জীবন যাপন করলে স্ট্রোকের ঝুকি কমবে সেই সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ট্রোকের প্রাথমিক উপসর্গ সম্পর্কেও জানতে হবে। তবেই বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পোলিও মুক্ত দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও পুরোপুরি বিপদ মুক্ত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাই সাবধানতা এবং সচেতনতা অবশ্যই নিতে হবে। ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পোলিওমুক্ত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু পোলিওমুক্ত হওয়া মানেই পোলিওর ঝুঁকি চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। যত দিন বিশ্বের অন্য কোথাও পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ থাকবে, তত দিন ভারতেও বিদেশ থেকে ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা এবং টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
    বিশেষ করে শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং পোলিও সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    ভারত পোলিওমুক্ত হলেও ঝুঁকি কোথায়?

    বিদেশ থেকে ভাইরাসের প্রবেশ!

    পোলিও মুক্ত হলেও পোলিও-র বিপদ কমেনি। কারণ বিদেশ থেকে পোলিও-র ভাইরাস সংক্রমণ হতেই পারে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রচুর পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ এখনও রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাস অন্য দেশেও পৌঁছতে পারে।

    টিকাবিহীন শিশুদের ঝুঁকি

    কোনও এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশু টিকা না পেলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই শিশুদের ঠিকমতো টিকা দেওয়া হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বিশেষত সদ্যোজাতেরা যাতে কোনো টিকার ডোজ থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

    ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে কী বিশেষ বার্তা?

    এ বছরে ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে- উপলক্ষে বিশেষ ভাবে বলা হচ্ছে, পোলিও রুখতে একটি দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অর্থাৎ, টিকা করণের দিন সবচেয়ে জরুরি। একদিন পোলিও টিকা করণ পোলিও বিপদ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তাই এ বছরের বার্তা, “One day, one focus, ending polio for good: Together let us build a polio-free future.” অর্থাৎ, একটি দিন, একটি লক্ষ্য—চিরতরে পোলিও নির্মূল। এবছর প্রচারের মূল লক্ষ্য হলো, বিশ্ব থেকে পোলিও সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাকরণ, জনসচেতনতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখা কতখানি প্রয়োজন, সেদিকে নজর দেওয়া।

    পোলিও রুখতে কোন কোন দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলিও ভাইরাসের বিপদ কমাতে কয়েকটি দিকে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি জরুরি।

    পালস পোলিও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ!

    নিয়মিত টিকা নেওয়া থাকলেও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী পালস পোলিও অভিযানে শিশুকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযানের অতিরিক্ত ডোজ এবং নিয়মিত টিকাকরণ পরস্পরের বিকল্প নয়।

    প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পরিযায়ী পরিবারের কাছে টিকাকরণ কর্মসূচি পৌঁছনো!

    পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার, বস্তি, দুর্গম এলাকা, নবজাতক এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত শিশুদের টিকাকরণে বিশেষ নজর প্রয়োজন। বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেন। সেই শিশুদের নিয়মিত টিকাকরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে পোলিও-র ডোজ বাদ না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

    সংক্রমণের দ্রুত শনাক্তকরণ

    স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে পোলিও-সদৃশ উপসর্গ, বিশেষত হঠাৎ হাত-পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে। মল পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং পরিবেশগত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।

    অভিভাবকদের জন্য কোন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সহজ বিষয়ে নজর রাখলেই সন্তানের পোলিও সংক্রমণের ঝুঁকি নিশ্চিহ্ন করা যাবে। তাই পোলিও রুখতে চিকিৎসকদের কিছু বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

    • ● শিশুর টিকাকরণের কার্ড দেখে সমস্ত ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।
    • ● সরকারি পালস পোলিও অভিযানের ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। তাহলে টিকার ডোজ বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকবে না।
    • ● শিশুর টিকা বাদ পড়লে পরবর্তী সুযোগের জন্য অপেক্ষা না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
    • ● পোলিওমুক্ত দেশ বলে টিকা বন্ধ করলে চলবে না বা ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
    • ● শিশুর হঠাৎ হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষত সন্তানের বয়স পাঁচ বছরের কম হলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।
  • Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শহর থেকে জেলা, সেজে উঠেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মেজাজে! রাস্তা জুড়ে মানুষের ঢল! দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতেছে আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ!
    দুর্গাপুজোয় রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা বাঙালির বহু দিনের অভ্যাস। কিন্তু একটানা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকা, ভিড়ের মধ্যে হাঁটাহাঁটি, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, কম জল খাওয়া এবং ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফেরার পথে যাতায়াত—সব মিলিয়ে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষত শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তাই রাত জেগে প্রতিমা দর্শন করলে কয়েকটি দিকে, বাড়তি নজর না রাখলেই বিপদ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাত জেগে ঠাকুর দেখার কী বিপদ আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক ক্লান্তি!

    রাত জেগে ঠাকুর দেখা মানেই পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত! এর জেরেই একাধিক সমস্যা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘুম কম হলে পরের দিন ঝিমুনি, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, বিরক্তি এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    জলশূন্যতা ও দুর্বলতা

    প্রতিমা দর্শন মানেই ভিড়ে হাঁটতে হয়! ভিড় ঠেলে এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, ঘাম হওয়া, গরমে ভিড়ের মধ্যে থাকা এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

    শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও অ্যালার্জি

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দূষণ এবং নানান পরিবেশগত সমস্যার কারণে শিশু থেকে বয়স্ক কম বেশি সকলেই ফুসফুসের নানান সমস্যায় ভোগেন। উৎসবের মরশুমে ভিড় এলাকায় ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তাই একনাগাড়ে ধুলো, ধোঁয়া ও দূষণ থেকে হাঁপানি বা অ্যালার্জির উপসর্গও বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    পায়ে ব্যথা ও পেশির ক্লান্তি

    ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখা বাঙালির দুর্গা পুজোর চির পরিচিত ছবি। কিন্তু অনেক সময়েই অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য প্রতিমা দর্শনের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ের পেশিতে ব্যথা, কোমরে অস্বস্তি, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া এবং আগে থেকে থাকা হাঁটু বা কোমরের সমস্যার বেড়ে যেতে পারে।

    হজমের গোলমাল ও রক্তে শর্করার ওঠানামা

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত হজমের গোলমাল দেখা দেয়। তার উপরে উৎসবের দিনে অনেক সময়েই খাবারের অনিয়মিত দেখা দেয়। ঠিকমতো খাবার না খাওয়া, আবার অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মশলাদার খাবার এবং রাতের দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া বিপদ বাড়ায়। এতে অম্বল, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবার ও ওষুধের সময়ের পরিবর্তনে রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামা করতে পারে।

    হৃদরোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও জলের ঘাটতি, একসঙ্গে হলে শরীরের উপর চাপ বাড়তে পারে। তবে রাত জাগলেই হার্টের বড় সমস্যা হবে, এমন নয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘাম হলে সেটিকে ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

    বিপদ এড়াতে কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন?

    চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাধারণ স্বাস্থ্য-পরামর্শের ভিত্তিতে পুজোর রাতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ঘুমের ঘাটতি এড়ানো, পর্যাপ্ত জল পান এবং ভিড়ের মধ্যে বিরতি নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ঘুমের সময়ের সঙ্গে আপস নয়!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত অন্তত ৭ ঘণ্টা এবং ৬–১২ বছরের শিশুদের ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পরপর কয়েক রাত ঘুম কমিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনো এড়িয়ে চলুন। বরং একটা রাত ঠিকমতো ঘুম না হলে, পরের দিন অন্তত যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

    পর্যাপ্ত জল পান করুন

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিমা দর্শনে বেরনোর সময় সঙ্গে জলের বোতল রাখতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের অবস্থা অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এনার্জি ড্রিঙ্ক বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবেন না।

    খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ঠিকমতো খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক সমস্যা এড়ানো সহজ হয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা চলবে না । রাস্তার খাবার খেলে পরিষ্কারভাবে তৈরি, ভালোভাবে রান্না করা খাবার বেছে নিতে হবে এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করতে হবে।

    শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে কী বিশেষ সতর্কতা জরুরি?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জাগার পরিবর্তে সন্ধ্যার দিকে ঠাকুর দেখানোর পরিকল্পনা ভালো। শিশুর ঘুম, খাবার ও জল খাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। ভিড়ে মাস্ক ব্যবহার এবং ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। প্রবীণদের ক্ষেত্রেও বাড়তি নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা ও ভিড়ের মধ্যে থাকার পরিকল্পনা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধের সময় বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে বিপদ বাড়তে পারে।

  • Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উৎসবের মেজাজ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্র দূর্গা পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কিন্তু তারমাঝেই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আনন্দের এই তাল কাটাতে পারে সংক্রামক রোগ! তাই সামান্য অসচেতনতাও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। বিশেষত, শিশু স্বাস্থ্যে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সন্তানের স্বাস্থ্যে সামান্য অবহেলাও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    কোন সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ভাইরাসঘটিত অসুখের দাপট!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষার মরশুম সবে শেষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক। সূর্যের তাপে দিনের বেলা বেশ গরম ভাব রয়েছে। কিন্তু রাত বাড়লে কিংবা ভোরের দিকে আবহাওয়া অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। এর ফলে আবহাওয়ার তারতম্য দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রার এই রকমফেরের জেরে বাতাসে একাধিক ভাইরাসের দাপট বাড়ছে। এর জেরে ভাইরাস ঘটিত অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে।

    ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে!

    দুর্গাপুজো মানেই ভিড়! একসঙ্গে অনেকে মিলে আনন্দ উদযাপন। কিন্তু ভিড় থেকেই একাধিক সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা ও থাকে।‌ বিশেষত শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিড় এলাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে রোগ সংক্রামিত হতে পারে। বিশেষত ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত যেসব শিশুরা হাঁপানি বা অন্যকোনো শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের বাড়তি সাবধানতা জরুরি।

    ডায়রিয়া বা পেটের সংক্রমণ!

    উৎসবের দিনগুলোতে সকলেই কমবেশি অন্যরকম খাওয়া দাওয়া করেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাই এই সময়ে পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই রঙিন জলের সরবত, লাগাতার ঠান্ডা পানীয় খেতে পছন্দ করে। শিশুদের এই ধরনের খাবারে বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ফলে, তাদের জন্য বিপদ বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সরবতের জল পরিশ্রুত থাকে না। তাই ডায়রিয়ার মতো পেটের অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    মশাবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসবের দিনগুলোতেও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কোনো ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজারের কাছাকাছি। তার সঙ্গে ম্যালেরিয়া সহ একাধিক মশাবাহিত রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই শিশুদের বাড়তি যত্ন জরুরি। উৎসবের দিনগুলোতেও যেন শিশুদের এই ধরনের সংক্রমণ না হয়, তার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করতে হবে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধের পরিকল্পনা করবেন?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে বাড়তি নজর রাখলেই একাধিক বিপদ আটকানো সহজ হয়। বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে অযথা আতঙ্ক নয়। সচেতনতা এবং সতর্কতাই সমস্ত বিপদ আটকাতে সাহায্য করে।

    বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ারা আগে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ানো!

    দুর্গাপুজো মানেই এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল প্রতিমা দর্শন। তবে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সন্তানকে পেট ভরে খাইয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের খাবার এড়িয়ে চললে একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ হয়। ভারি খাবার খেয়ে বাইরে গেলে, লাগাতার স্ন্যাক্স বা ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে। এর ফলে শরীরে ক্ষতিকারক তেল মশলা কম যাবে, পুষ্টির ঘাটতি হবে না। হজমের সমস্যা ও পেটের অসুখের ঝুঁকি কমবে।

    সঙ্গে পানীয় জল রাখা আবশ্যিক!

    শিশুকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় বাইরে থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। কারণ সূর্যের তাপে যথেষ্ট গরম লাগছে, ঘাম হচ্ছে। আবহাওয়া শুষ্ক। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার অপরিশ্রুত জল খেলে ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। লিভারের নানান সংক্রামক রোগ হতে পারে। তাই সব সময় পানীয় জল সঙ্গে রাখতে হবে। যাতে শিশু পরিশ্রুত জল খেতে পারে।

    ভিড় এলাকায় মাস্ক ব্যবহার জরুরি!

    ভিড় এলাকায় যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার জরুরি। বিশেষত শিশুদের মাস্ক পরানোর অভ্যাস থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখ কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মাস্কের ব্যবহার খুবই কার্যকরী। এতে হাঁচি কাশি হলেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    হাত পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাত পরিষ্কার করার দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে ফেরার পরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে কিংবা শৌচালয় থেকে বেরনোর পরে সন্তানের হাত পরিষ্কার কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করাতে হবে। এতে নানান জীবাণু বাহিত অসুখের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

    চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি পরিকল্পনা!

    শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি কী কী করণীয় সে সম্পর্কে অভিভাবকদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তাই সন্তানকে নিয়মিত যে চিকিৎসক দেখেন, তার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই পুজোর দিনগুলোতে চিকিৎসককে সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আগাম কী ধরনের সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি সে সম্পর্কে কথা বলে রাখতে হবে। তাহলে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • West Bengal Dengue: পুজোয় ডেঙ্গির চোখরাঙানি, রক্ত ও প্লেটলেটের আকাল রুখতে আগাম প্রস্তুতি রাজ্যের

    West Bengal Dengue: পুজোয় ডেঙ্গির চোখরাঙানি, রক্ত ও প্লেটলেটের আকাল রুখতে আগাম প্রস্তুতি রাজ্যের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাঙালির প্রাণের উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গির চোখ রাঙানি রয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ মারাত্মক। উৎসবের দিনগুলোতে ডেঙ্গি আক্রান্তের হয়রানি বাড়িয়ে দেয়। কর্মী সঙ্কটের জেরে একদিকে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। আরেকদিনে সমস্যা বাড়ায় রক্তের আকাল। পুজোর দিনগুলোতে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে অনেক সময়েই রক্ত পাওয়া যায় না। বিশেষত ডেঙ্গির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় প্লেটলেটের মতো উপাদান পাওয়া আরও মুশকিল হয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবে বিগত কয়েক বছরের এই হয়রানির ছবি এবার পাল্টে দেওয়ার জন্য আগাম কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর‌। নিবিড় যোগাযোগেই এবার ডেঙ্গি ‘অসুর’-কে বধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

    কেন ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা?

    স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিশেষত সাম্প্রতিক তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, শহরের তুলনায় গ্রামে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। রাজ্যের ১৪টি পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ন’হাজার ছাড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জেলায় ক্রমশ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে‌। ফলে, আগামী কয়েক মাস জরুরিভিত্তিতে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজ চলছে।
    তবে গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকেই পুজোর মরশুমে বাড়তি পরিকল্পনা নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।‌ স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা জানান, গত কয়েক বছরে দূর্গাপুজোর দিনগুলোতে ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসা নিয়ে অনেক সময়েই জটিলতা দেখা যেত। অভিযোগ পাওয়া যেত, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য রোগী ও তাঁর পরিজনদের ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। আবার রক্তের আকাল নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছিলো। বিশেষত অষ্টমী, নবমীর পুজোর রাতে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের অভাব এবং তার জন্য রোগীর পরিবারের ভোগান্তির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এবার তাই আগাম প্রস্তুতি।
    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যু মিছিল যাতে শুরু না হয়, সে নিয়ে প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর। প্রথম থেকেই রোগ চিহ্নিত করার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে যাতে বাড়তি বিপদ তৈরি না হয় তাই আগাম প্রস্তুতি। ডেঙ্গি আক্রান্তের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রক্তের যাতে সঙ্কট না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

    ডেঙ্গি রোগীর হয়রানি রুখতে কোন পরিকল্পনা রাজ্যের?

    উৎসবের মরশুমে নিবিড় যোগাযোগেই এবার ডেঙ্গি ‘অসুর’-কে কাবু করতে চায় স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    কলকাতার সঙ্গে জেলার হাসপাতালের যোগাযোগ!

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত হাসপাতাল বিশেষত জেলার হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি জটিল হলে অনেক সময়েই রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়। সেক্ষেত্রেও যাতে রোগীর কোনো অসুবিধা না হয়, সেই জন্য হাসপাতালগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখবে‌‌। চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ঘুরে বেড়ানোর হয়রানি কমবে।

    হাসপাতালের নিজেদের মধ্যে আগাম পরিকল্পনা!

    দূর্গা পুজোর সময়ে অনেক স্বাস্থ্য কর্মী এবং চিকিৎসক ছুটিতে থাকেন। তাই আগাম বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ কোন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মী দায়িত্বে থাকবেন, সে সম্পর্কে আগেই পরিকল্পনা করা হবে। নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি হবে। যাতে রোগীর কোনো সমস্যা না হয়‌। নিজেদের মধ্যে উৎসবের দিনগুলোর দায়িত্ব ভাগ নিয়ে আগেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে।

    স্বাস্থ্য ভবনের জরুরি নম্বরের সাহায্য!

    উৎসবের দিনগুলোতেও ডেঙ্গি রোগীর হয়রানি কমাতে স্বাস্থ্য ভবন চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকবে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ভবনের জরুরি নম্বর দেওয়া থাকবে। তাঁদের সঙ্গে রোগীর পরিবার ও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সাহায্য পাবেন।

    কোথায় কী প্রয়োজন তার আগাম তালিকা তৈরি!

    ডেঙ্গি প্রবণ এলাকা মোটামুটি সনাক্ত করা গিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের রিপোর্ট থেকেই আন্দাজ করা গিয়েছে, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সেই‌মতো সেই সমস্ত এলাকার হাসপাতালেও বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সেখানে প্রয়োজনীয় রক্ত রয়েছে কিনা, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গির চিকিৎসায় যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটাও দেখা হচ্ছে।

    কেন রক্ত নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি চিকিৎসায় অত‌্যন্ত প্রয়োজনীয় হলো প্লেটলেট। অর্থাৎ রক্ত হলেই চলবে না। রক্তের উপাদান ভাগ করে রাখতে হবে। লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং প্লেটলেট, এই তিনটে উপাদানে রক্তকে ভাগ করে সংরক্ষণ করা হয়। রক্তের একটি নির্দিষ্ট উপাদান প্লেটলেট। এটাই ডেঙ্গির চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর সময়ে রাজ্য জুড়ে রক্তের আকাল দেখা যায়। বিশেষত উপাদান ভাগ করা রক্তের আরও বেশি আকাল হয়। গত কয়েক বছরে এই সময়ে রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট থাকে। তাই প্লেটলেটের চাহিদাও হয় মারাত্মক। তবে, সেই মতো ব্লাড ব্যাঙ্কে প্লেটলেট পাওয়া যায় না। সময় মতো রক্তের জোগান দিতে না পারার জেরে, বড় বিপদ ও ঘটে যায়। তাই রক্ত বিশেষত উপাদান ভাগ করা রক্তের জোগানের দিকে বাড়তি নজরদারি।

    কীভাবে রক্তের চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা হয়েছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন ব্লাড ব্যাঙ্কে কতখানি রক্ত মজুত রয়েছে, সেই নিয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নিয়মিত চাহিদা কোথায়, কতখানি সেটাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যাতে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জোগান বজায় রাখ যায়। তাছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের উপাদান বা কম্পোনেন্ট ভাগ করার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। যাতে প্লেটলেটের চাহিদা পূরণ হয়।
    পাশপাশি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এমন বিশেষ কিছু আধুনিক যন্ত্র রাখা হয়েছে, যাতে রক্তদাতার থেকে রক্ত সংগ্রহ করে দ্রুত রক্তের উপাদান বিভাজন করে, প্লেটলেট আলাদা করা যায়‌। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতেও প্লেটলেটের সমস্যা হবে না।
    তাছাড়া, ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে, কোথায় ঘাটতি আছে সেটা যেমন স্পষ্ট হবে, তেমন রোগীর পরিজনদের ও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া যাবে। এতে হয়রানি ও সময়ের অপচয় কমবে। চিকিৎসাও দ্রুত করা যাবে।

  • Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাতাসে এখন পুজোর গন্ধ! ফুটে ওঠা পদ্ম আর মাঠের কাশফুল জানান দিচ্ছে মা আসছেন! আর মাত্র কয়েক দিন। শহর থেকে গ্রাম, উৎসবের আনন্দে সেজে উঠেছে‌। কিন্তু সব আনন্দের মাঝেও উদ্বেগ রয়েছে! বিশেষত বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। পুজোর মরশুমে এলাকার পরিচিত চিকিৎসক, এমনকি নানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেকেই ছুটিতে থাকেন। ফলে, সহজেই স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এমনকি পুজোর সময় বিশেষ দিনে ওষুধের দোকান ও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য সঙ্কট তো যেকোনো সময় হতে পারে! তখন? এই প্রশ্ন ভাবিয়ে তোলে!
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম কিছু পরিকল্পনা করে রাখলে এবং কয়েকটি ব্যাপারে বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা বজায় রাখলে, পুজোর দিনগুলোতে বড় বিপদ আটকানো যেতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যেরাও যাতে নির্বিঘ্নে পুজোর দিনগুলোতে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজন বাড়তি একটু সচেতনতা।

    পুজোর আগে কী পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা!

    অধিকাংশ পরিবারের বয়স্ক সদস্যকে কোনো একজন নির্দিষ্ট চিকিৎসক দেখেন। তাঁর পরামর্শ মেনেই তিনি নিয়মিত ওষুধ খান। তাঁর সঙ্গে আগাম আলোচনা জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন,‌ কোন ধরনের বিপদ ঘটতে পারে, কোন দিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে, সেগুলো চিকিৎসক সবচেয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির নিরিখে, সেগুলো বুঝতে পারলে বড় সঙ্কট এড়ানো সহজ হয়‌।

    ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা জরুরি!

    বহু পরিবারেই বয়স্কেরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা কিডনির অসুখে ভুগছেন। তাঁদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। এই ওষুধ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। কোন ওষুধ কতটা পরিমাণে কখন খেতে হবে, সে ব্যাপারে চিকিৎসকের কাছে পরিষ্কার জেনে নেওয়া দরকার। ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িতে রাখা দরকার। কারণ, পুজোর সময়ে অনেকক্ষেত্রে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা হয়। ফলে, হঠাৎ যাতে সমস্যা না হয়, সেটা দেখা জরুরি।

    জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা!

    রোগীর কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে, কিডনি হোক বা হৃদরোগ, কখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জরুরি। কারণ, সেই অসচেতনতা অনেক সময় বড় বিপদ ঘটায়। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাহলে বাড়তি উদ্বেগ কমবে আবার বিপদ ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে‌।

    প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিডনি, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে পুজোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ, শারীরিক পরীক্ষা করালে বিপদ সম্পর্কে আন্দাজ পাওয়া সহজ হয়। ফলে পরিকল্পনা সেই মতো করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, উচ্চ রক্তচাপ বাড়তি বিপদ তৈরি করছে কিনা কিংবা কিডনির সমস্যা থাকলে কতখানি সঙ্কট হতে পারে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাই আগাম আন্দাজ পেতে কিছু শারীরিক পরীক্ষা বাড়তি সাহায্য করবে।

    হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের যোগাযোগ নম্বর এবং বিকল্প চিকিৎসকের খোঁজ রাখা জরুরি!

    দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই ছুটিতে থাকেন। আবার কেউ কেউ কর্মরত থাকেন। এলাকায় বিকল্প কোন চিকিৎসকদের পুজোর মরশুমে সহজে পাওয়া যেতে পারে, সেই যোগাযোগ নম্বর রাখা জরুরি। তাহলে বড় সমস্যা হলে সহজেই পরামর্শ নেওয়া যাবে। আবার স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর রাখা জরুরি। কারণ গভীর রাতে বা এমন কোনো সময় হঠাৎ সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগুলো অত‌্যন্ত জরুরি। পুজোর দিনে সেগুলোর পরিষেবা পাওয়া যাবে কিনা, সেটা আগাম যাচাই করে রাখতে হবে।

    প্রস্তুত রাখতে হবে চেক লিস্ট!

    • বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে বয়স্কেরা থাকলে পুজোর সময় একটা চেক লিস্ট রাখা জরুরি। অর্থাৎ, হঠাৎ বড় বিপদ হলে যাতে সহজেই সামলে দেওয়া যায়, তাই আগাম কয়েকটি জিনিস তৈরি করে রাখতে হবে।
      তাঁদের পরামর্শ,
      ● ১. প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের তালিকা এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাতে সহজেই পাওয়া যায়।
      ● ২. বয়স্ক সদস্য ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হলে গ্লুকোমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বাড়িতে রাখতে হবে। যাতে আচমকা শর্করা বা রক্তচাপ ওঠানামা করছে কিনা সেটা যাচাই করতে হবে।
      ● ৩. পরিচয় পত্র ও স্বাস্থ্য বিমার কার্ড নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে, যাতে বড় বিপদ হলেও পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।
      ● ৪. হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো জরুরি পরিষেবা পাওয়া যায়, এমন জায়গায় নম্বর ঠিকমতো জেনে রাখা দরকার। যাতে আপদকালীন সময়ে সাহায্য পাওয়া সহজ হয়।

    উৎসবের দিনগুলোতেও জীবন যাপনে বাড়তি নজর!

    উৎসবের দিনে অনিয়ম হয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির বয়স্কদের সুস্থ রাখতে জীবন যাপনে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসব বা আনন্দের দিনে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, বিশেষত অনিয়মিতভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বয়স্কদের অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার না দেওয়া বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।
    বয়স্কদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে বয়স্কদের অনিয়মিতভাবে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে। ফলে, নানান শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই আনন্দ উদযাপনের মধ্যেও বয়স্কদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকটি নজরে রাখতে হবে।
    জল খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা ‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু অসুখ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খাওয়া। তাই পরিবারের বয়স্কেরা ঠিকমতো জল পান করছেন কিনা সেটাও নজরে রাখা জরুরি।

    পড়ে যাওয়া আটকাতে বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের বিপদ বাড়িয়ে দেয় হঠাৎ পড়ে যাওয়া। তাই বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা থাকলে অ্যান্টি স্কিপ ম্যাট লাগিয়ে রাখা দরকার। তাছাড়া মাথা ঘোরা বা এমন ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কখনোই একা ছাড়া উচিত নয়। বিছানা থেকে শৌচালয় যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত আলো রাখতে হবে। আবার বাথরুম যাতে শুকনো থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। রাতের দিকে একা শৌচালয়ে যাওয়া চলবে না। বরং পরিবারের কেউ সঙ্গে থাকা দরকার। যাতে বড় বিপদ না হয়।

    কখন বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে?

    পরিবারের বয়স্ক সদস্য হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা শ্বাসকষ্টের‌ মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা বারবার বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেয়ে হবে। অপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Myopia in Children: চার বছর বয়স থেকেই চোখে সমস্যা! ভারতের শিশুদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিপদঘণ্টা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Myopia in Children: চার বছর বয়স থেকেই চোখে সমস্যা! ভারতের শিশুদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিপদঘণ্টা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতা বাড়ছে। অন্ধত্বই একমাত্র সমস্যা নয়। বরং দৃষ্টিশক্তি কমছে কিনা সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেলে কতখানি সতর্ক হতে হবে, এ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই। বিশেষত ভারতীয় শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই ওয়ার্ল্ড সাইট ডে উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চোখের যত্ন নিতে হবে। পাশপাশি ছোটো থেকেই চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। চোখের যত্ন নেওয়া প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তবেই ভারতে চোখের সমস্যা কমবে।

    কেন শিশুদের নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশ জুড়ে চোখের সমস্যা বাড়ছে। ভারতে অন্ধত্ব আটকানোর কাজ যথেষ্ট ভালোভাবে হচ্ছে। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত খুব কম বয়স থেকেই দূরের জিনিস দেখার ক্ষমতা কমছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে চার বছর বয়স থেকেই দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। খুব কম বয়স থেকেই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে পরবর্তীতে আরও নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত খুব কম বয়সে চোখে ছানি কিংবা ড্রাই আই-য়ের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। যার জেরে পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়‌।

    কেন ভারতীয়দের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ছে?

    শিশু ও কিশোরদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে!

    ভারতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে চোখের সমস্যা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। মায়োপিয়া অর্থাৎ দূরের জিনিস অস্পষ্ট দেখার সমস্যা সবচেয়ে দেখা যাচ্ছে। স্কুল স্তর থেকেই শিশুরা এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে।

    ডায়াবেটিস আক্রান্ত বৃদ্ধির কারণে!

    ভারতীয়দের মধ্যে চোখের সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, ডায়াবেটিস! এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চোখের উপরেও তার প্রভাব পড়ে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি বলা হয়। প্রাথমিক পর্বে উপসর্গ দেখা না দিলেও, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে।
    ভারতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের দাপট বাড়ছে। তাই তারাও চোখের সমস্যায় ভুগছে।

    উচ্চ রক্তচাপ চোখের বিপদ বাড়ায়!

    ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি উচ্চ রক্তচাপ। এই সমস্যা শুধু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এমন নয়। বরং শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে। এমনি হলো চোখ। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে চোখের উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। শরীরে রক্তচাপ বারবার ওঠানামা করলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    নিয়মিত চোখ পরীক্ষায় অনীহা!

    বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করানো জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়দের মধ্যেই সেই সচেতনতা নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে তবেই চোখে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা বোঝা যাবে। বিশেষত যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভোগেন কিংবা যাদের দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে হয়, তাঁদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো‌ জরুরি। তবেই চোখের বড় সমস্যা আটকানো যাবে।

    দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা ও সতর্কতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    স্ক্রিন টাইম সম্পর্কে সচেতনতা!

    শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই এখন অধিকাংশ শিশু স্ক্রিন টাইমে অভ্যস্ত। কিন্তু একঘণ্টার বেশি একটানা স্ক্রিন টাইম কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। এতে চোখের উপরে মারাত্মক চাপ পড়ে। এই ব্যাপারে শিশুদের বোঝানো প্রয়োজন। নানান কাজে তাদের সময় ভাগ করে দিতে হবে। নূন্যতম সময় স্ক্রিন টাইম হিসাবে রাখতে হবে। এতে চোখে চাপ কম পড়বে।

    প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো!

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে বিশেষত দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমাতে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো জরুরি। অধিকাংশ ভারতীয় শিশু ও কিশোরদের আধুনিক জীবনে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। কিন্তু দিনে অন্তত আধঘণ্টা কোনো বাগান, পার্ক বা খোলা মাঠে কাটানো দরকার। প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

    পঞ্চাশ পেরোলেই বাড়তি নজর!

    বয়স পঞ্চাশ পেরোলেই চোখে ছানি পড়েছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা দরকার। তবেই প্রৌঢ় কালের অন্ধত্বের মতো সমস্যা আটকানো যাবে।

    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস!

    শিশু হোক বা বয়স্ক, দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি। গাজর, কুমড়ো, টমেটোর মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমে। রেটিনা ভালো থাকে।

    ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বাড়তি গুরুত্ব!

    ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে বাড়তি নজরদারি জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যার প্রকোপ মারাত্মক। তাই প্রথম থেকেই চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা থাকা জরুরি।‌ তবেই এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও চোখের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share