Category: স্বাস্থ্য

Get updates on Health News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক কোটি মানুষ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (সংক্ষেপে ইউটিআই)  আক্রান্ত হন। মূত্রনালীর সংক্রমণের জেরে ভোগান্তি বাড়ে। অনেকেই বছর একাধিকবার এই সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক তথ্য জানাচ্ছে, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই ভোগান্তি বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায়, উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজন ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে ছ’মাস অন্তর আবার সেই সংক্রমণ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বারবার সংক্রমণ ফিরে আসছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

    কেন পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে এই ভোগান্তি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি কারণে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এখন নরম পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেশি। অতিরিক্ত পরিমাণে নরম পানীয় খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পাশপাশি, অতিরিক্ত মশলাদার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ মশলাদার খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তবে সবচেয়ে বিপদ বাড়ায় চিনি এবং চকলেট। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিনি শরীরের একাধিক ক্ষতি করে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি এবং চকলেট খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত পরিমাণ মিষ্টি খাওয়ায় প্রবণতা রয়েছে। আর সেই অভ্যাস ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    রোগ রুখতে কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি ঘরোয়া উপাদানে ভরসা করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি অভ্যাসে নজর দেওয়া এবং কিছু খাবার নিয়মিত খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।

    নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই শিশুর জল খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।‌ শিশুর জন্মের ছ’মাস পর থেকেই সে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেই পরিমাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার। শরীরে জলের ঘাটতি হলেই একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তার মধ্যে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন অন্যতম। তাই এই রোগের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। একজন স্কুল পড়ুয়ার নিয়মিত ৪ থেকে ৬ লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ভাতের পাতে টক দই জরুরি!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন কমাতে টক দই জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা অন্ত্র, মূত্রনালী ও একাধিক অঙ্গের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। ফলে, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকিও কমে। তাই তাঁদের পরামর্শ, স্কুল থেকে ফিরে খাওয়ার শেষ পাতে নিয়মিত টক দই দেওয়া জরুরি। সন্তান নিয়মিত টক দই খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমবে।

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল!

    কমলালেবু, পেয়ারা, আমলকি কিংবা কিউই যেকোনো একটি ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন সি ঘাটতি হলে চলবে না। নিয়মিত তাই যেকোনো একটা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে। ছোটো থেকেই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হবে। ফলে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

    পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর!

    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে ছোটো থেকেই পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষত মেয়েদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে বিশেষ পাঠ দেওয়া জরুরি। কারণ মহিলারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে ভোগেন। তাই শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতার দিকে যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি ভিজে কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা যাবে না।‌ সুতির পরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস পরার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার পাঠ জানা জরুরি।‌তাছাড়া, মল ও মূত্র ত্যাগের পরে পর্যাপ্ত জল দিয়ে ঠিকমতো পরিষ্কার করার অভ্যাস থাকাও জরুরি। তবেই একাধিক সংক্রমণ আটকানো সহজ হবে।

  • Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের দাপট। আন্তর্জাতিক একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের মোট ফুসফুসের রোগে আক্রান্তের ১২ শতাংশ ভারতীয়। ভারতের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। ভারতে ফুসফুসের রোগ অন্যতম প্রধান অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে। আর ফুসফুসের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জীবন যাপনের ধরন। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

    কী বলছে নয়া তথ্য?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধূমপানের মতো অভ্যাস। তবে, ধূমপান ছাড়াও এমন একাধিক অভ্যাস রয়েছে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশের মধ্যেই সে সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। প্রত্যেক বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ, এমন আছেন, যারা কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু তাঁরা ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানি এমনকি ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেক দিনের জীবন যাপনের ধরন ফুসফুসের রোগের কারণ‌ হয়ে উঠছে!

    কোন অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    ল্যাপটপের সামনে ৮-১০ ঘণ্টা 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজের ধরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কর্মজগতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ দিনের ৮-১০ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাটায়। দীর্ঘসময় ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে থাকতে হয়‌। আর দীর্ঘ সময় এই বসে থাকাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও তাই কমে। এগুলো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, যে কোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    শরীর চর্চায় ঘাটতি বাড়ায় ঝুঁকি

    শরীর চর্চায় ঘাটতি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কাজের সময় এতটাই বেশি এবং অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। এর ফলে দিনের বেলায় শরীর চর্চা করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এতে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কিন্তু যোগাভ্যাসে অনীহা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা তৈরি করছে‌।

    কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহারও কারণ

    ফুসফুসের সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহার। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের দূষণ নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘরের ভিতরের দূষণ নিয়ে একেবারেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর ফলে, বিপদ বাড়ছে। লাগাতার মশানাশক ওষুধের ধোঁয়া কিংবা অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ঘরে ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই কাঠে রান্না করেন। আবার শহরাঞ্চলে গ্যাসে রান্না করলেও কেউ কেউ জানলা বন্ধ করে রান্না করেন, এর ফলে ধোঁয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের অভ্যাস এ দেশে ফুসফুসের রোগের বোঝা বাড়াচ্ছে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশায় ঝুঁকি বেশি

    এর পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষদের কাজের জন্য ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লা খনি কিংবা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষদের ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, লাগাতার ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতখানি মানা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

    ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে এই বিপুল সংখ্যক ফুসফুসের রোগের বোঝা, জনস্বাস্থ্যের বড় বিপর্যয় হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি। সব মহলে সতর্কতা না বাড়লে, বিপদ কমবে না। তাই দিনভর একজায়গায় বসে কাজ থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে আবার শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতাও ঠিকমতো চলবে।

    নিয়মিত যোগাভ্যাস

    ব্যস্ততা সত্ত্বেও যোগাভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁর জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু দিনে তিরিশ মিনিট যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন না। ফলে, একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সচেতনতার মাধ্যমে এই মানসিকতা বদল প্রয়োজন। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের অন্যান্য কাজের মতোই যোগাভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাসে রপ্ত করতে হবে। তাহলেই নানান জটিলতা কমবে।
    তবে ধূমপান ফুসফুসের বিপদ সবচেয়ে বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান বর্জন করতেই হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঝকঝকে সূর্যের আলোতেও লুকিয়ে রয়েছে বিপদ! দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বড় বিপদ এড়ানো সহজ হবে। চিকিৎসকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি এখন থেকেই ত্বকের স্বাস্থ্য এবং সূর্যরশ্মি নিয়ে সচেতনতা, না বাড়ে, তাহলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে ত্বকের ক্যান্সার সহ একাধিক জটিল রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষত ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, যে হারে সূর্যের তেজ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। জুলাই মাস জুড়ে চিকিৎসকেরা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন। দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্কুল পড়ুয়া থেকে কর্মরত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করলে ত্বকের একাধিক সমস্যা কমানো যাবে, সে দিকগুলো চিকিৎসকেরা তুলে ধরেছেন।

    কেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে সচেতনতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের আলো যেমন স্বাস্থ্যের একাধিক উপকার করে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষতিকারক রশ্মি ও রয়েছে। যার জন্য ত্বকে চিরস্থায়ী গভীর ক্ষতি হতে পারে। এই দিক সম্পর্কে এখনো সচেতনতার হার কম। তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি বা UV রশ্মি ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। লাগাতার এই আলো শরীরে স্পর্শ করলে ত্বকের কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ত্বকের ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার চোখের কর্নিয়ার ক্ষতিও করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হয়।

    ভারতে কি এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির জেরে বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ত্বক ও চোখের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েক দশক আগেও ভারতে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা অত্যন্ত ব্যতিক্রম ছিলো। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের জেরে এখন ভারতেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর ত্বকের ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি সান বার্নের সমস্যা, চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাছাড়া এখন বাইরে কাজ করেন, এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এখন সকলেই বাইরে যান। কাজ করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্য রশ্মির স্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই ধরনের সমস্যাও বাড়ছে।
    তাছাড়া, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ভারতেও রোদের দাপট বাড়ছে। সূর্যের তেজ বাড়ছে। তেমনি গরম দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতের অধিকাংশ জায়গায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই রোদের দাপট দেখা দিচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় তীব্র গরম থাকছে। এমনকি বর্ষার পরেও সূর্যের দাপট চলে। ফলে এই বাড়তি গরমে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    কীভাবে সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ, আবহাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। তবেই এই পরিবর্তিত জলবায়ুতে সুস্থ থাকতে পরিবেশ সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাঁদের পরামর্শ , সূর্যরশ্মির প্রকোপ কতখানি অর্থাৎ ইউভি ইন্ডেক্স (UV Index) দেখে আগাম সতর্কতা নিয়ে বাইরে যেতে হবে। অর্থাৎ আকাশ মেঘলা, বৃষ্টি হবে নাকি ঝড় হবে, এগুলোর যেমন পূর্বাভাসের খবর নেওয়া হয়, তেমনি প্রত্যেক দিনের  ইউভি ইন্ডেক্স সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। যদি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রকোপ যেদিন বেশি থাকবে, সেদিন শরীর সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরা প্রয়োজন। তবে প্রত্যেক দিন বাইরে যাওয়ার আগে মুখ এবং শরীরের যে অংশ পোশাকে ঢাকা থাকছে না, সেই সব অংশে সান স্ক্রিন লাগানো জরুরি। শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, নিয়মিত সান স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস জরুরি। ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। প্রয়োজন না হলে বেলা বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো। কারণ এই সময়ে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির দাপট সবচেয়ে বেশি। তবে, সবচেয়ে জরুরি পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে জলের ঘাটতি না হলে সূর্যের প্রকোপে ঘটা একাধিক রোগের দাপট কমানো সহজ হয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। সঙ্গে জল রাখার অভ্যাস থাকা দরকার। যাতে বারেবারে জল খাওয়া হয়। শরীরে কখনোই জলের ঘাটতি না দেখা দেয়।

  • Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্পের (Jan Aushadhi Kendras) মাধ্যমে দেশের মানুষের ওষুধ কেনার খরচে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। লোকসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান (India) কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সারমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ১৪৯। দেশের ৭৮৪টি জেলার মধ্যে ৭৭৬টিতে ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্রগুলির পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। ২০০৮ সালে স্বল্পমূল্যে মান-নিয়ন্ত্রিত জেনেরিক ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পের সূচনা হলেও, প্রথম দিকে এর অগ্রগতি ছিল ধীর। পরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প হিসেবে নতুনভাবে চালু হওয়ার পর দ্রুত সম্প্রসারণ শুরু হয়। ২০২১ সালের জুন মাসে কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৩৬। ২০২৪ সালে তা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। একই বছরে বার্ষিক ওষুধ বিক্রি এক হাজার কোটি টাকার গণ্ডিও অতিক্রম করে। ২০২৫ সালের জুনে কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার, ৯১২ এবং তখন পর্যন্ত নাগরিকদের মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এক বছরেরও কম সময়ে আরও তিন হাজারের বেশি নতুন কেন্দ্র চালু হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা ২০ হাজার পেরিয়েছে এবং মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকায়।

    সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে বড় স্বস্তি (Jan Aushadhi Kendras)

    সরকারের দাবি, জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে বিক্রি হওয়া ওষুধের দাম বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ-সহ নানা রোগের চিকিৎসায় মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে ব্র্যান্ডেড ওষুধের দোকান তুলনামূলক কম এবং চিকিৎসার খরচ পারিবারিক বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে, সেখানে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে দাবি সরকারের (Jan Aushadhi Kendras)।

    ওষুধের পাশাপাশি দাম কম অস্ত্রোপচার সামগ্রীরও

    বর্তমানে জন ঔষধি প্রকল্পে ২ হাজার ১১০ ধরনের ওষুধ এবং ৩১৫ ধরনের অস্ত্রোপচার-সরঞ্জাম, চিকিৎসা উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যায়। হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, অ্যালার্জি, পরিপাকতন্ত্রের রোগ থেকে শুরু করে পুষ্টি-সম্পূরক—প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধই এখন এই প্রকল্পের আওতায় মেলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় পরিচালকদের ২০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধ সবসময় মজুত রাখার জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানও চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ১০০টি সর্বাধিক বিক্রিত ও বাজারে সর্বাধিক ব্যবহৃত আরও ১০০টি ওষুধও।

    মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি

    কম দামের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে মানুষের মধ্যে যে (India) সংশয় রয়েছে, তা দূর করতে সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির শংসাপত্রপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকেই ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি ব্যাচ বাজারে আসার আগে জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি বোর্ড অনুমোদিত পরীক্ষাগারে মান যাচাই করা হয়। প্রকল্প পরিচালনাকারী ভারতীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যুরো নিয়মিতভাবে কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করে এবং কোথাও ঘাটতি ধরা পড়লে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় (Jan Aushadhi Kendras)।

    নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ

    জন ঔষধি কেন্দ্রগুলি সরাসরি সরকার পরিচালনা করে না। ব্যক্তি উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমিতি, ট্রাস্ট এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি অনলাইনে আবেদন করে এই কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগ পায়। কেন্দ্রীয় পরিচালকরা বিক্রির ওপর নির্ধারিত কমিশনের পাশাপাশি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মাসিক প্রণোদনাও পান। উত্তর-পূর্বাঞ্চল, হিমালয় অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, প্রাক্তন সেনাকর্মী, মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির উদ্যোক্তাদের জন্য আসবাবপত্র ও কম্পিউটার কেনার উদ্দেশ্যে এককালীন ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতির সঙ্গেও এই প্রকল্প যুক্ত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে (Jan Aushadhi Kendras)। এ ছাড়া, মাত্র ১ টাকা দামে বিক্রি হওয়া জন ঔষধি সুবিধা স্যানিটারি ন্যাপকিন ইতিমধ্যেই ১০০ কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মহিলাদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী সহজলভ্য হয়েছে, অন্যদিকে ওষুধ বিক্রির কেন্দ্রগুলির আয়ও বেড়েছে।

    সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

    দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওষুধ পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি কেন্দ্রীয় গুদাম এবং চারটি আঞ্চলিক গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন পরিবেশকের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রায় ৪০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধের মজুত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। চাহিদার পূর্বাভাস নির্ধারণেও এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে জন ঔষধি সুগম মোবাইল অ্যাপ। ৩৮ লাখেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে নিকটতম কেন্দ্রের অবস্থান, ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের দামের তুলনা এবং ওষুধের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতার খবর জানা যায় (Jan Aushadhi Kendras)।

    সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে প্রচার

    শুধু ওষুধ বিক্রিই নয়, জেনেরিক ওষুধ সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যুরো, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, মাইগভ এবং মাই ভারত-এর সহযোগিতায় সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতার, সামাজিক মাধ্যম, প্রচারফলক ও বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে (India)। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট এবং টেলিফোনের মাধ্যমেও নাগরিকদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ ‘জন ঔষধি সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে স্বাস্থ্য শিবির, সচেতনতা র‍্যালি, ফার্মেসি কলেজে সেমিনার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ৭ মার্চ পালিত হয় ‘জন ঔষধি দিবস’।

    রাজ্যভিত্তিক বিস্তার

    জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে ২ হাজার ৬০০-রও বেশি কেন্দ্র রয়েছে। এর পরে রয়েছে বিহার, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্র। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের মতো প্রত্যন্ত এলাকায়ও এখন জন ঔষধি কেন্দ্র চালু হয়েছে। ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়ও মানুষ এখন ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত উৎসের পরিবর্তে এই কেন্দ্রগুলির ওপর নির্ভর করছেন। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশে ২৫ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র চালু করা। বর্তমানে মাত্র আটটি জেলায় এখনও কেন্দ্র খোলা বাকি রয়েছে। সেখানেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (Jan Aushadhi Kendras)। কেন্দ্রের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প একটি সীমিত পরিসরের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বল্পমূল্যের ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই (India) দাবি সরকারের।

     

  • Hepatitis in India: হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান ভারতের! টিকাকরণে ঘাটতিই কি বড় কারণ?

    Hepatitis in India: হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান ভারতের! টিকাকরণে ঘাটতিই কি বড় কারণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। সদ্যোজাত ও শিশুদের মধ্যে লিভারের রোগের দাপট বাড়ছে‌। বিশেষত দীর্ঘমেয়াদি এবং সংক্রামক লিভারের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তাই উদ্বেগ আরও বেশি। ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস ডে-তে তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সামাজিক সচেতনতার হার না বাড়ালে এবং স্বাস্থ্য সতর্ক না হলে আগামী দিনে আরও বড় বিপদ হতে পারে। তাঁরা আরেকটি মহামারির আশঙ্কা করছেন।
    ভারতে ক্রমশ বাড়ছে হেপাটাইটিস রোগের দাপট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে ভারত বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গত এক দশকে ভারতে হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য হারে আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। হেপাটাইটিস এ এবং অন্যান্য হেপাটাইটিস সারিয়ে তোলা সহজ। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি হলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি।

    মিলিয়েনিয়াম প্রজন্মের টিকাকরণে ঘাটতি বিপদ বাড়িয়েছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগে আক্রান্তের একটা বড় অংশ শিশু এবং সদ্যোজাত। অধিকাংশ আক্রান্ত তার মায়ের শরীর থেকে এই রোগে সংক্রামিত হয়েছেন। আবার অনেকের দীর্ঘদিন পরে রোগ চিহ্নিত হয়েছে। উপসর্গ বিশেষ না থাকায়, তাঁরা স্বাস্থ্য অবহেলা করেছেন। যার ফলে পরবর্তী কালে রোগ আরও জটিল আকার নিয়েছে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণে ঘাটতি ভারতে হেপাটাইটিসের বোঝা বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কুড়ি-পঁচিশ বছর আগে ভারতে হেপাটাইটিসের টিকাকরণের হার একদম কম ছিল। এখন যাদের পঁচিশ -তিরিশ বছর বয়স, তাঁদের অনেকেই হেপাটাইটিস বি-র টিকাকরণ হয়নি। এখন গোটা দেশ জুড়ে শিশুদের জন্মের পরে হেপাটাইটিসের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু আগের প্রজন্মের অনেকের এই টিকা দেওয়া হয়নি। এর ফলে, তাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। আর হেপাটাইটিস বি এবং সি-র মতো রোগ সহজেই মায়ের শরীর থেকে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সংক্রামিত হয়। তাই বর্তমানে ভারতে শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিসের দাপট দেখা দিচ্ছে।
    পাশপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণের হার এ দেশে এখনো উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্ত বয়স্কদের হেপাটাইটিস টিকাকরণের হার মাত্র ৩ শতাংশ। হেপাটাইটিসের প্রকোপ বাড়ার নেপথ্যে এটাও অন্যতম কারণ বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, টিকাকরণের হার না বাড়লে এই রোগের দাপট আটকানো কঠিন হয়ে যাবে।

    কীভাবে রোগ নির্ণয় হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে সজাগ থাকলেই রোগ নির্ণয় সহজ হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারে এই রোগ সংক্রামিত হলে, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া, পেটের ডান দিকে ব্যথা হওয়া, ক্লান্তি ভাব দেখা দেবে। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। বরং, চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নির্দিষ্ট উপায়ে রক্ত পরীক্ষা করালে হেপাটাইটিস রোগ চিহ্নিত করা যায়। এর দ্রুত চিকিৎসাও করা যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস রোগ দীর্ঘমেয়াদি হলে লিভারের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ চলে যেতে পারে। সিরোসিস হতে পারে। জীবন সংশয় ও দেখা দিতে পারে। তাই এই ধরনের রোগকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।

    হেপাটাইটিস বি এবং সি নিয়ে কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস এ সাধারণত জলবাহিত রোগ। বর্ষার মরশুমে এই সংক্রামক রোগের দাপট বাড়ে। দূষিত জল থেকেই এই রোগ হয়। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি আরও বেশি জটিল। এই রোগ একাধিক কারণে হতে পারে। মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে সংক্রামিত হওয়া ছাড়াও, এই রোগ রক্ত এবং যৌন সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এই রোগ কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন আক্রান্তের শরীরে থাকতে পারে। যখন রোগ নির্ণয় হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। ফলে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে যায়।

    হেপাটাইটিসের দাপট ঠেকাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২৮ জুলাই ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস ডে! এই উপলক্ষে দেশ জুড়ে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি হেপাটাইটিসের মতো রোগ আটকানোর মূল হাতিয়ার বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর এ দেশে ৫৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত হন। ভারতে হেপাটাইটিসের দাপট ঠেকাতে মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। এ দেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগের দাপট বেড়েছে। তাই লিভারের এই সংক্রামক রোগ ঠেকাতে টিকা করণ জরুরি। শিশুদের টিকা দেওয়ার পাশপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে জোর দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণ না হলে হেপাটাইটিসের এই বোঝা ভারতে বাড়তে পারে। হেপাটাইটিস বি নিঃশব্দে মহামারির আকার নিতে পারে। তাছাড়া লিভার সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসে জোর দিতে হবে। আবার মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। কারণ দেশ জুড়ে মদ্যপানে আসক্তি বাড়ছে। যা লিভারের একাধিক সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠছে।

  • Brain Health: ভুলে যাচ্ছেন সব কিছু? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন মানুন এই ৪ অভ্যাস

    Brain Health: ভুলে যাচ্ছেন সব কিছু? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন মানুন এই ৪ অভ্যাস

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ জীবন যাপনের অনেকটাই নির্ভর করে মস্তিষ্কের উপরে।‌স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকলে, মস্তিষ্ক ভালো থাকলে, শরীর ভালো থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের একাধিক সমস্যাও সমাধান করা সহজ হয়। কিন্তু আধুনিক জীবনে চাপ বাড়ছে। তাই মস্তিষ্কের উপরে তার প্রভাব পড়ছে। নানান শারীরিক সমস্যা এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চারটি অভ্যাসে নজর দিলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। জটিলতা কমবে। জুলাই মাসে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া জরুরি।‌ নিয়মিত কয়েকটি অভ্যাসের মাধ্যমেই মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে এমন একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যার সঙ্গে সরাসরি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য জড়িয়ে আছে। স্নায়ুর একাধিক রোগের অন্যতম কারণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ‌্য। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ, দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। স্নায়ুতন্ত্রের উপরে যার প্রভাব পড়ে। ফলে, হাত-পায়ে খিঁচুনি, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ, যেকোনো কাজে মনোযোগ না করার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে পেশাগত জীবনে সমস্যা তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবনেও জটিলতা আসে। যার ফলে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, একটা চক্রের মতো সমস্যা বাড়তে থাকে।

    বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা 

    তাছাড়া বিশ্বজুড়ে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ছে। প্রৌঢ় বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে পারছেন না। এর ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়‌। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা বাড়বে। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রয়েছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে নানান অভ্যাস রপ্ত করা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য মস্তিষ্কের সুস্থ থাকা এবং সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। সেটা না হলেই নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আচরণগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এমনটাই মত চিকিৎসকদের একাংশের।‌

    কোন চার অভ্যাসে বাড়তি নজর বিশেষজ্ঞদের?

    নিয়ম মাফিক ঘুমের অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত মস্তিষ্কের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। আধুনিক জীবনের একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে থাকছে পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোয় না। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে মস্তিষ্কের স্নায়ু এবং হরমোনের উপরে গভীর চাপ পড়ে। ভারসাম্য নষ্ট হয়‌। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই নিয়ম মাফিক পর্যাপ্ত ঘুমোয় না। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো কিংবা অনেক সময় অফিসের কাজ করার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়।

    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস !

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ঠিকমতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে যেমন ভিটামিন,‌ প্রোটিন জরুরি। তেমনি মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে খনিজ পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শরীরে পর্যাপ্ত মিনারেল পৌঁছলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই তাঁরা নিয়মিত কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোটের মতো খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো উপাদান থাকে। এই খনিজ পদার্থগুলো মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।

    নিয়মিত মেডিটেশন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন‌ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন নিয়মিত তিরিশ মিনিট মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমবে। আবার আচরণগত জটিলতা দেখা দেবে না। অনেকের সব সময় মেজাজ খিটখিটে থাকে। অকারণেই রাগ বাড়ে। নানান ছোটো বিষয়েও উদ্বেগ বাড়ে। সেগুলো তাঁদের আচরণে প্রভাব‌ ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোন গত সমস্যার কারণেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে তবেই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। নিয়মিত মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

    ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ জরুরি!

    ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশপাশি মস্তিষ্কের অসুখের নেপথ্যেও থাকে ধূমপান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। মুখ ও গলার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ ধূমপান। আবার মস্তিষ্কের নানান রোগের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের অভ্যাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার ধূমপান করলে স্নায়ুর উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। মস্তিষ্কেও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ নিয়মিত লাগাতার ধূমপান। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ধূমপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

  • Typhoid Symptoms: বর্ষায় বাড়ছে টাইফয়েডের দাপট! কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?

    Typhoid Symptoms: বর্ষায় বাড়ছে টাইফয়েডের দাপট! কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কোথাও হঠাৎ বৃষ্টিতেই নাজেহাল পরিস্থিতি। আর এই আবহাওয়ায় বিপদ বাড়াচ্ছে টাইফয়েড। রাজ্য জুড়ে বাড়ছে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগ নিয়ে আগাম সচেতনতা না বাড়ালে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই টাইফয়েড রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার পাশপাশি, কীভাবে এই সংক্রমণ আটকানো যাবে, আক্রান্ত হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন, সে সম্পর্কেও সতর্ক থাকা জরুরি। না হলে, বিপদ আরও বাড়বে।

    টাইফয়েড কী?

    পরজীবী রোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, টাইফয়েড একটা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ। সালমোনেলা টাইফি নামে এক ব্যাকটেরিয়া থেকে এই রোগ ছড়ায়।

    কীভাবে এই রোগ সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দূষিত জল এবং খাবার থেকেই এই রোগ সংক্রামিত হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার জেরে এই রোগ হতে পারে। বর্ষায় রাজ্য জুড়ে একাধিক জায়গায় জমা জলের ভোগান্তি রয়েছে। বৃষ্টির জেরে অনেক জায়গায় পরিশ্রুত খাওয়ার জল পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে অনেকেই অপরিচ্ছন্ন জল খাচ্ছেন। তার ফলে টাইফয়েডের মতো রোগের দাপট বাড়ছে। তাছাড়া, হাত ধুয়ে না খাওয়ার অভ্যাস যে কোনও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, এই আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। তাছাড়া খোলা জায়গায় রাখা খাবার থেকে টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই বর্ষায় বাজার থেকে কেনা তেলেভাজা কিংবা মশলা মাখানো কাটা ফল খান। এই ধরনের খাবারে টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কীভাবে বুঝবেন টাইফয়েড আক্রান্ত হয়েছেন কিনা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড আক্রান্ত হলে তার উপসর্গ স্পষ্ট হয়। তাই এই রোগের উপসর্গ সম্পর্কে জানতে পারলে রোগ চিহ্নিত করা সহজ হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, প্রবল জ্বর, মাথা ও পেটে ব্যথা, বারবার বমি হওয়া, খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং একাধিকবার মলত্যাগের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এগুলো টাইফয়েডের লক্ষণ। তবে এর পাশপাশি টাইফয়েড আক্রান্ত হলে, অনেকের ত্বকে ছোটো ছোটো গোলাপি দাগ দেখা দেয়। তাই তাঁদের পরামর্শ, বর্ষার মরশুমে জ্বর হলে এবং ত্বকে কোনো রকম দাগ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যাতে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে বাড়তি স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি। জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। পরিবারের শিশু সদস্যের জন্য প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের টাইফয়েডে দ্রুত সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের পানীয় জলের গুণমানের প্রতি বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। বাজার থেকে ফল ও সব্জি কিনে আনার পরে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। কাটা ফল কিংবা খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা যে কোনও রকম খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না। এগুলো থেকে দ্রুত টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িতে গরম রান্না করা খাবার খেলে এই ধরণের রোগের ঝুঁকি কমবে। শৌচালয় ব্যবহার নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শৌচালয় নিয়মিত পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। টাইফয়েড, ডায়ারিয়ার মতো বর্ষার মরশুমে একাধিক সংক্রামক রোগ শৌচালয় থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শৌচালয় ব্যবহারের পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এছাড়াও, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত-মুখ ধোয়া জরুরি।‌ তাহলে টাইফয়েডের মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    রোগে আক্রান্ত হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অবহেলা করলে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যেতে পারে। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। টাইফয়েড আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা দরকার। কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পরে, মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দিলে লিভার, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তাই আক্রান্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা করছেন কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। টাইফয়েড আক্রান্ত হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দেয়। ক্লান্তি বাড়ে। ঠিকমতো পুষ্টির জোগান না থাকলে সেরে ওঠা কঠিন হয়ে যাবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, আক্রান্তকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, যাতে হজমের সমস্যা না হয়। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, টাইফয়েড আক্রান্ত হলে সিদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। ভাত, ডাল, সব্জি সিদ্ধ করে নিয়মিত খেতে হবে। যাতে শরীরে ভিটামিন, খনিজের চাহিদা পূরণ হয়। আবার ডিম, মাংসের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার দেওয়া যাবে। কিন্তু সিদ্ধ বা স্টু জাতীয় পদ দিতে হবে। যাতে প্রোটিন শরীরে গেলেও হজমে সমস্যা না হয়। তাছাড়া, ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। যাতে শরীরে বাড়তি ক্লান্তি গ্রাস না করে। তবেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

  • India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের। প্রথমবারের মতো দেশে ডেঙ্গির টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA)-কে অনুমোদন দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সি ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ডেঙ্গির বাড়তে থাকা প্রকোপের মধ্যে এই অনুমোদন জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতে প্রতি বছর বর্ষা এলেই বাড়তে থাকে ডেঙ্গির প্রকোপ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত মোট মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গির কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। এতদিন পর্যন্ত ভারতে ডেঙ্গির কোনও অনুমোদিত টিকা ছিল না। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ, জমা জল পরিষ্কার রাখা এবং সচেতনতাই ছিল সংক্রমণ রুখতে প্রধান ভরসা। সেই জায়গায় কিউডেঙ্গার অনুমোদনকে ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী এই কিউডেঙ্গা (QDENGA)?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) একটি টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গির টিকা। অর্থাৎ এটি ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি ধরন- ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪ সবকটির বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে পারে। এই টিকার আরও একটি বড় সুবিধা হল, টিকা নেওয়ার আগে কোনও ব্যক্তির আগে ডেঙ্গি হয়েছিল কি না? তার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    কারা তৈরি করেছে?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) তৈরি করেছে জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে আসার পর থেকে এই টিকা ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই ৩ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ একাধিক দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভারতও।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কী মত?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ (WHO) কিউডেঙ্গাকে প্রি-কোয়ালিফায়েড ভ্যাকসিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেসব দেশে ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি বা নিয়মিত সংক্রমণ দেখা যায়, সেখানে এই টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ‘হু’। কিউডেঙ্গার মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়েছে। এরপর ২০১৯ সালের নিউ ড্রাগস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস রুলস অনুযায়ী টিকাটির ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিসিজিআই (DCGI)।

    ট্রায়ালে কী ফল মিলেছে?

    টাকেডার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ২৮ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফেজ-৩ ‘টাইডস (DEN-301)’ ট্রায়ালটি আটটি দেশে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের উপর চালানো হয়। ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গিয়েছে- দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর ডেঙ্গি সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ। টিকা নেওয়ার ১৮ মাস পর ডেঙ্গির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কার্যকারিতা ছিল ৯০.৪ শতাংশ।

    কীভাবে দেওয়া হবে টিকা?

    কিউডেঙ্গার দুটি ডোজে দেওয়া হবে। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।

    ভারতে কবে পাওয়া যাবে?

    অনুমোদন মিললেও এখনই বাজারে পাওয়া যাবে না কিউডেঙ্গা। টাকেডা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে টিকাটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১০ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।

    শুধু টিকা নয়, সচেতনতাও জরুরি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউডেঙ্গা ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলেও এটি কোনও একমাত্র সমাধান নয়। টিকাকরণের পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধ, জমা জল পরিষ্কার রাখা, মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সমান জরুরি। তবে ভারতের মতো ডেঙ্গি-প্রবণ দেশে এই প্রথম অনুমোদিত টিকা ভবিষ্যতে সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

  • School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য অবসর পেলেও খেলাধুলাতেই বিশ্রাম খুঁজে পেত! বাড়িতে অতিথি এলে, তার কাছ ছাড়তেই ছাড়তো না। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, সময় কাটানো ছিলো খুবই পছন্দের। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল তার প্রকৃতি! পরিবারের একরত্তির হঠাৎ আচরণ বদলে চিন্তিত অভিভাবকেরা। পড়াশোনার প্রতি অনীহা, অতিরিক্ত জেদ তৈরি হলো! বকাবকির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলো। এমন অবস্থার মুখোমুখি বহু বাবা-মা হচ্ছেন। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন, সেটাও বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান করতে না পারার জন্য সন্তানের জীবনে নানান জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম সচেতনতা জরুরি। কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।

    কী বলছে আন্তর্জাতিক গবেষণা?

    সম্প্রতি স্কুল পড়ুয়াদের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে স্কুল পড়ুয়াদের নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে। শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের পাশপাশি, তারা নানান রকমের মৌখিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তাদের ভবিষ্যতে একাধিক সমস্যার কারণ হচ্ছে, শৈশবের এই মানসিক যন্ত্রণা। শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ দ্রুত পাওয়া গেলেও, মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া মুশকিল হয়। আর সেখানেই জটিলতা বাড়ছে! তবে কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই সমস্যা কিছুটা আয়ত্ত করা যেতে পারে বলেই জানাচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান বুলিং-য়ের শিকার হচ্ছে কি না?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েকটি আচরণগত পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে জানা সহজ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বাচ্চার যেমন কিছু আলাদা প্রকৃতি থাকে, আবার কিছু কিছু পছন্দ এক রকম হয়। হঠাৎ এমন কিছু স্বভাব পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা আন্দাজ করা যেতে পারে।

    সন্তান হঠাৎ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে!

    সাধারণত শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। কিন্তু কোনো স্কুল পড়ুয়া যদি একদম মেলামেশা করতে পছন্দ না করে, তার যদি কোনও বন্ধু না থাকে, খুব গুটিয়ে থাকে তাহলে সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে সে নিজের সমস্যা ভাগ করে নিতে পারছে না। আবার হয়তো বন্ধুমহলেই সে মানসিক ভাবে নিগ্রহের শিকার হচ্ছে, তাই তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইছে না। বন্ধুদের কথায় সে নিগ্রহের শিকার হলে, তার মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়বে। তাই সন্তানের বন্ধু না থাকলে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগে অনীহা!

    পরিবারে অতিথি আসলে কিংবা কোথাও নেমতন্ন থাকলে, সাধারণত শিশুরা উচ্ছ্বসিত থাকে। অধিকাংশ সময়েই তারা অতিথির সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করে। কিন্তু হঠাৎ যদি সন্তান সম্পূর্ণ নিজেকে গুটিয়ে রাখে, কোনো কারণ ছাড়াই সে নিজের ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছে না, মেলামেশা করতে চাইছে না। আবার কোথাও নেমতন্ন থাকলেও যেতে নারাজ, তাহলে বুঝতে হবে, তার সামাজিক যোগাযোগের উপরে অনীহা তৈরি হয়েছে। যা একেবারেই স্বাভাবিক নয়। তাই সেই আচরণে গুরুত্বপূর্ণ দিয়ে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জরুরি।

    অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিলে বাড়তি‌ নজরদারি প্রয়োজন। অনেক সময়েই খুব সামান্য বিষয়, যেমন খাবার খাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা নিয়েও সন্তান অতিরিক্ত জেদ করতে থাকে। পরিবারের সকলের সঙ্গেই খিটখিটে মেজাজে কথা বলে। এই আচরণে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    পড়াশোনা ও স্কুল যাওয়ার প্রতি অনীহা!

    পড়াশোনার প্রতি অতিরিক্ত অনীহা তৈরি এবং স্কুলের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হলে, অভিভাবকদের উচিত সেদিকে নজর দেওয়া। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার বুলিং-য়ের শিকার হলে সেই জায়গার প্রতি ভয় তৈরি হয়। সেখান থেকেই অনীহার জন্ম হয়। সন্তান যদি হঠাৎ স্কুল যেতে না চায়, কিংবা পড়াশোনার প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেখানে মানসিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে কিনা, সেটা যাচাই করা জরুরি।

    কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা এবং সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে। অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে, তবেই বড় সঙ্কট আটকানো সহজ হবে। মনোরোগ চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে গল্প করে কাটাতে হবে। পরিবারের একজনের সঙ্গে যেকোনো সমস্যার কথা সে প্রকাশ করতে পারে, এই বিশ্বাস শিশুর মনে থাকা জরুরি। যাতে সে যেকোনো সমস্যা সহজেই বলতে পারে। প্রথম থেকেই যেকোনো সমস্যা ভাগ করে নিতে পারলে সমাধান সহজ হয়। বন্ধুরা কী বললো, স্কুলে কী হলো, খেলার মাঠে কেমন সময় কাটলো, এই সবকিছুই ভাগ করে নিতে পারলে বড় বিপদ আটকানো যাবে। প্রথম থেকেই সমস্যা সম্পর্কে বোঝা যাবে। সেই মতো পরিস্থিতি সামলানোর পথ ও খোঁজা সহজ হবে। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই ব্যস্ত আধুনিক জীবনে সন্তান একাকিত্বে ভোগে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বড্ড কম থাকে। ফলে তারা কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি হলেও কীভাবে সেটা সমাধান করবে, বুঝতে পারে না। অধিকাংশ সময়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জ্বর-কাশির মতো সাধারণ সমস্যা হোক কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার জেরে মাথা ধরা, যেকোনো সামান্য ভোগান্তিতে অনেকেই নিজেই নিজের চিকিৎসক হয়ে ওঠেন। কেউ হঠাৎ একখানা ব্যথা কমার ওষুধ খেয়ে নেন, আবার কেউ ইচ্ছে মতো দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নেন। আর এগুলোই বড় জটিলতা তৈরি করে। আগামী দিনে সমস্যা তৈরি হয়। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়া এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ভারতে অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে চলেছে।

    কোন ওষুধে বিপদ বাড়াতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধ ইচ্ছে মতো, যখন তখন খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অনেক সময়েই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বোঝা যায় না। কিন্তু পরে শরীরের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাই যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক, পেইন কিলার কিংবা অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ার আগে, উপযুক্ত পরামর্শ প্রয়োজন। কতদিন ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন, কতটা মাপের ওষুধ খেতে হবে, এগুলো একমাত্র বিশেষজ্ঞরা ঠিকমতো পরামর্শ দিতে পারে। তা না হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে।

    কোন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই সামান্য মাথা ব্যথা, হাত-পায়ে ব্যথা হলে খুব শক্তিশালী পেইন কিলার বা ব্যথা কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধ খাওয়া হয়। এর ফলে ডোজ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা থাকে না। রোগীর ব্যথা কমার জন্য কতখানি মাপের ব্যথা কমার ওষুধ প্রয়োজন, সেটা জানা জরুরি। নিয়মিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার ব্যথা কমার ওষুধ খেলে, কিডনিতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া, স্নায়ুর উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে। তাই যথেচ্ছ পেইন কিলার খাওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক।

    অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ভারতে

    ভারতে মারাত্মক হারে বেড়েছে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা সাধারণ পেটের গোলমাল হলেও ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফল মারাত্মক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। যেকোনো বড় অপারেশন কিংবা সংক্রামক রোগে চিকিৎসা করাই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোগী যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শক্তি শরীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে কোনো বড় অসুখ হলে, সংক্রমণ রুখতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। এর ফলে নিউমোনিয়া, লিভারের অসুখ কিংবা বড় কোনো অপারেশনের পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। সুস্থ হতে সময় লাগছে।

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে। দূষণ ও নানান অভ্যাস পরিবর্তনের জেরে ভারতীয়দের মধ্যে নানান অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে। অনেকেই অ্যালার্জি কমাতে ইচ্ছেমতো অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাচ্ছেন। এর ফলে শরীরে অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। আদৌও অ্যান্টি অ্যালার্জির প্রয়োজন রয়েছে কিনা, উপসর্গগুলো অ্যালার্জির কিনা, সেটা ঠিকমতো যাচাই হচ্ছে না। তার আগেই ওষুধ খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি ওষুধে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছে। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    কেন যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয়ের কাছেই এখন নানান তথ্য সংগ্রহ খুবই সহজ। কারণ, ইন্টারনেটের ব্যবহার সুলভ। এর ফলে অনেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা হলে, ইন্টারনেটে উপসর্গ দেখেন।‌ সেখানে থাকা ওষুধের নাম দেখেই নিজের মতো সেগুলো খেয়ে নেন। কিন্তু এক উপসর্গে নানান রোগের হতে পারে। তথ্য কখনোই রোগ নির্ণয় করতে পারে না। বরং, রোগ সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে পারে। এই সচেতনতার অভাবের জেরেই ভারতে বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে পারে। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমাবে। আবার অন্যান্য বড় অসুখে ভোগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।

LinkedIn
Share