Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় দোষী সাব্যস্ত মহম্মদ রশিদ খানের মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি সুপ্রিম কোর্টের। দিল্লি হাইকোর্ট গত ৫ জুন রশিদের সাজা মকুব করে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে সেই নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রশিদ খানকে মুক্তি দিলে রাজ্য সরকারের আপিল কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। তাই পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জেলেই থাকবেন। আগামী ২৮ জুলাই হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

    কে এই রশিদ খান?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, রশিদ খান ছিলেন ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বউবাজার বিস্ফোরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তদন্তে উঠে আসে, বাবরি মসজিদ ভাঙার পর দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহে কলকাতায় হিন্দুদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, মুসলিম যুবকদের দিয়ে বোমা তৈরি করিয়ে কলকাতায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বোমা তৈরির গোপন কারখানায় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৬৯ জনের মৃত্যু হয় এবং জখম হন অন্তত ৪৬ জন। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় মধ্য কলকাতার একাধিক বহুতল।

    সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের যুক্তি

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে যুক্তি দেন, এত বড় মাপের বিস্ফোরণ এবং ব্যাপক প্রাণহানির মামলায় শুধুমাত্র ‘সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থা’র ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও জানান, রাজ্যের সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের অকালমুক্তির বিরোধিতা করেছিল। এদিকে, রশিদের আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তার মক্কেল ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৭৭। তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং জেলে তাঁর আচরণও ছিল অত্যন্ত ভালো। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য মন্তব্য করে, রশিদ খান সাধারণ কোনও অভিযুক্ত নন, বরং গোটা ষড়যন্ত্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’। আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, তাঁর অপরাধের চরিত্র ছিল ‘প্রায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সমতুল’।

    কেন মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট?

    গত ৫ জুন বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণার একক বেঞ্চ রশিদের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়। দিল্লি হাইকোর্ট স্বীকার করেছিল, বউবাজার বিস্ফোরণ সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল, এবং এটি কোনও ব্যক্তিগত অপরাধ ছিল না। আদালতের মতে, অবশ্য অপরাধের গুরুত্বই একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না যার কারণে কোনও বন্দিকে রিমিশন থেকে বঞ্চিত করা হবে (Rashid Khan)।আদালত উল্লেখ করে, রশিদ খানের বিরুদ্ধে জেলের ভেতরে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার রেকর্ড নেই। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিন্টেনডেন্টের দেওয়া চরিত্রগত শংসাপত্রে তাঁর আচরণকে ‘অত্যন্ত ভালো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি ৯৩ দিন প্যারোলে বাইরে থেকেও নির্ধারিত সময়ে জেলে ফিরে এসেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি (Bowbazar Blast)।

    স্বাস্থ্যগত কারণও বিবেচনায়

    দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, রশিদ খান ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় রোগ, প্রস্টেটের সমস্যা, ছানি-সহ একাধিক বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। আদালতের মতে, এত দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর তাঁর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রাখার আর কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

    রশিদের মুক্তির সুপারিশ করেছিল মমতার সরকার!

    রশিদের মুক্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৭ সালেই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর অকালমুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ডও তাঁর মুক্তির সুপারিশ করে। সেই সময় বোর্ড বন্দির বয়স, স্বাস্থ্য, জেলের আচরণ, পুনর্বাসনের সম্ভাবনা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পুনরায় অপরাধ করার ঝুঁকি-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টে চলা ভি শ্রীহরণ মামলার কারণে রাজ্য সরকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেনি। কারণ তখন কেন্দ্রীয় আইনে দণ্ডিত বন্দিদের রিমিশন (সাজা মকুব) দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল (Bowbazar Blast)।

    কেন বদলে গেল মমতা সরকারের অবস্থান?

    ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড ফের রশিদের রিমিশনের আবেদন খারিজ করে দেয়। কলকাতা পুলিশের আপত্তির ভিত্তিতে বোর্ড জানায়, অপরাধের গুরুত্ব, সামাজিক প্রভাব এবং বিস্ফোরণে রশিদের ভূমিকাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে নেতিবাচক সুপারিশ পাঠায়। কেন্দ্রও জাতীয় নিরাপত্তা এবং টাডা আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে (Rashid Khan)। তবে দিল্লি হাইকোর্ট পরে পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৫ সালে মুক্তির সুপারিশ করার পর রশিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও নেতিবাচক তথ্য বা অসদাচরণের অভিযোগ ওঠেনি। ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্তকে আদালত ‘পরিবর্তিত অবস্থান’ বলে উল্লেখ করে।

    বউবাজার বিস্ফোরণ

    ১৯৯৩ সালের ১৬ মার্চের রাত। মধ্য কলকাতার বউবাজার এলাকার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের একটি ভবনে আচমকা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে একে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পরে তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরক তৈরির একটি গোপন কারখানার অস্তিত্ব (Bowbazar Blast)।তদন্তকারীদের দাবি, রশিদের নির্দেশেই তাঁর সহযোগী মহম্মদ খালিদ নাইট্রোগ্লিসারিন-সহ বিভিন্ন রাসায়নিক সংগ্রহ করতেন। সেই উপকরণ দিয়ে বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করা হচ্ছিল। রশিদ পরিচালিত অবৈধ সাট্টার আড্ডাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হত। গভীর রাত পর্যন্ত চলা কার্যকলাপের সুযোগে বিস্ফোরক আনা-নেওয়া এবং বোমা তৈরির কাজ চলত। অভিযোগ, এগুলি ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসমূলক হামলায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু বিস্ফোরক মজুত এবং বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত পুরো কারখানাটিই উড়ে যায় (Rashid Khan)।

    হতাহত, ধ্বংস একাধিক ভবন

    বিস্ফোরণের অভিঘাতে কেঁপে ওঠে গোটা তল্লাট। দুটি বহুতল ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে, নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু হয়, জখম হন অন্তত ৪৬ জন। উদ্ধারকাজে নেমেছিল পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সরু রাস্তা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান হয়ে পড়েছিল অত্যন্ত কঠিন (Bowbazar Blast)।

    বোমা কারখানা

    ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ, তার, রাসায়নিক উপাদান এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো করে। পরে মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, বিস্ফোরক আইন এবং টাডা (TADA)-এর একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়।প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, রশিদ খান প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে তিনি মুসলিম সহযোগীদের মাধ্যমে কলকাতার হিন্দুদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চান। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে তুলে ধরা হয়। শেষমেশ ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ ও তাঁর সহযোগীদের দোষী সাব্যস্ত করে। পরবর্তী কালে সুপ্রিম কোর্টও সেই সাজাই বহাল রাখে।

    অতঃকিম?

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন হল, ৬৯ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে বিবেচিত এবং বিস্ফোরণ চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত একজন টাডা দণ্ডিতকে ৩৩ বছরের কারাবাসের পর রিমিশন দেওয়া কতটা আইনসঙ্গত এবং যুক্তিযুক্ত। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারাগারেই থাকবেন (Rashid Khan) রশিদ। আগামী ২৮ জুলাইয়ের শুনানির দিকে নজর থাকবে আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক মহল এবং বউবাজার বিস্ফোরণের নিহতদের পরিবারগুলির (Bowbazar Blast)।

     

  • West Bengal: সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা, ৯০ দিনের মধ্যে যোগ্যতা-নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ

    West Bengal: সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা, ৯০ দিনের মধ্যে যোগ্যতা-নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ (Civic Volunteer Recruitment), যোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতা নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনার পথে রাজ্য সরকার (West Bengal)। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জারি করা হয়েছে নয়া নির্দেশিকা। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং গত দু’বছরের কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ঝাড়াই বাছাই শুরু (West Bengal)

    জানা গিয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি, নিয়োগ বা বদলির ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ প্রভাব ফেলেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ বা বদলি করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াই নয়, গত দু’বছরে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মদক্ষতা, উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনের মান এবং শারীরিক সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে। দীর্ঘদিন কাজে অনুপস্থিত থাকা কর্মীদেরও চিহ্নিত করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, কর্মক্ষমতা এবং শারীরিক সক্ষমতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।” তাঁর অভিযোগ, অতীতে বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ হয়েছে।

    ‘বিট সিস্টেমে’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ

    মন্ত্রীর দাবি, বিভিন্ন সরকারি দফতরে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “একটি কাজের জন্য যেখানে পাঁচজন কর্মী প্রয়োজন, সেখানে কয়েকশো লোককে নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকেই নিয়মিত দফতরে আসেন না, অথচ সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।” তিনি আরও জানান (West Bengal), ইতিমধ্যেই ‘বিট সিস্টেমে’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কর্মী রাখা যাবে না এবং যারা দীর্ঘদিন কাজে অনুপস্থিত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে ‘ঝাড়াই-বাছাইে’র ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এই ব্যবস্থায় বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, এবং সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র দফতরের নয়া নির্দেশিকার জেরে রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ (Civic Volunteer Recruitment) ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের (West Bengal)।

     

  • Taratala Godown Collapse: ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ! তারাতলায় একটি কারখানার লোহার ছাদ ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    Taratala Godown Collapse: ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ! তারাতলায় একটি কারখানার লোহার ছাদ ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তারাতলায় একটি কারখানার (Taratala Godown Collapse) শেড ভেঙে বিপত্তি। ভেঙে পড়ে লোহার বিম, টিন। আহত হয়েছেন একাধিক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারোর হাত থেঁতলে গিয়েছে, কারোর মাথা। অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। অসমর্থিত সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪০-৪৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে খবর। সূত্রের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান।

    কেন ভেঙে পড়ল এই গোডাউন?

    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, লোহার বীম বা পিলারের ধারণ ক্ষমতা ছিল না। বিপুল পরিমাণ কংক্রিটের ঢালাই ধরে রাখা বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। টিনের উপর কংক্রিটের ঢালাই করে তৈরি হচ্ছিল এই গোডাউনের ছাদ। সেটি উপরে থেকে সরাসরি নেমে দুমড়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। লোহার বীমের উপর এই ঢালাই চাপানো হয়েছিল, তা ভার বহন করতে পারেনি। তাই দুমড়ে নীচে ঢুকে এসেছে। যাঁরা নীচে ছিলেন, তাঁদের চাপা দিয়ে দিয়েছে সেটি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাকেশ সিং। তিনি বলেন, “পোর্ট ট্রাস্ট চেয়ারম্যান থেকে লিজ নিয়েছিলেন শম্ভু বেরা বলে একজন। কী বানানো হচ্ছিল, কী সিকিউরিটি ছিল, সেটা জানি না। তবে ৫০-৬০ জন শ্রমিক এর মধ্যে রয়েছেন।”

    কাদের অনুমতিতে বেআইনি নির্মাণ?

    স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়েছে। গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর। কয়েক হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামের ভিতরে একটি জায়গায় ছিল শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা। এদিকে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ চলেছে। অবিলম্বে ঠিকাদার সংস্থার কর্তাকে গ্রেফতার করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ইঞ্জিনিয়াররাও জানাচ্ছেন, এভাবে নির্মাণ করার ক্ষেত্রে কার অনুমোদন ছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।

    তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘাড়ধাক্কা

    দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তৃণমূল কাউন্সিলর সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, দেড় বছর ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। আর তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খান ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে একাংশের দাবি।

    কাঠামোর নীচ থেকে মানুষের আর্তনাদ

    তারাতলায় (Taratala Godown Collapse) ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর আটকে রয়েছেন এখনও বেশ কয়েক জন। তাঁরা সংখ্যায় কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গুদামের লোহা এবং কংক্রিটের কাঠামোর নীচ থেকে এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনা। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে তারা। আগে থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন দমকল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল বা এনডিআরএফ-এর সদস্যেরা। উদ্ধারকাজে গতি আনতে একাধিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে, এমন হাইড্রোলিক ক্রেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ক্রেনের সাহায্যে ভেঙে পড়া কাঠামোটিকে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি নতুন করে আর ধসে যেতে না পারে। ড্রোন উড়িয়ে চলছে উদ্ধারকাজ।

    দ্রুতগতিতে চলছে উদ্ধার

    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, গুদামটি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপর ছিল। মূল কাঠামোটির ভিতর কোনও দেওয়াল বা আলাদা কক্ষ না-থাকায় গোটা অংশটাই এক সঙ্গে ভেঙে পড়ে। প্রথমে ভেঙে পড়া কাঠামোর পিছন দিকে একটি জায়গা দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তার পর হাইড্রলিক মই বেয়ে উপরে উঠেও ভিতরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঢালাইয়ের পুরু স্তর এবং লোহার বিম ভেদ করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। তবে কিছু অংশ ছিদ্র করে ভিতরে হাওয়া চলাচলের বন্দোবস্ত করা হয়। ভিতরে আটকদের চিহ্নিত করতেও কিছুটা সুবিধা হয়।

    নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম 

    এখনও পর্যন্ত ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। বাকিদের সন্ধানে স্নিফার ডগ নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে বড় জেনারেটর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতেও উদ্ধারকাজ চলতে পারে, এমনটা ধরে নিয়েই বিদ্যুতের জোগানের বন্দোবস্ত করে রাখছেন উদ্ধারকারীরা। ঘটনাস্থলে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সময় যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত। নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও (1070, 8697981070, 033 22143526 এবং 033 22535185)। মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছেন।

  • Suvendu Adhikari: ‘বছরে ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই’! বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ‘বছরে ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই’! বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথা মতোই কাজ করছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনেই বাংলাকে দুর্নীতি মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর বিজেপিও। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি থেকে অপরাধ, সবকিছুর ফাইল খুলবেন তিনি। সেই মোতাবেক কাজও হচ্ছে। খুলছে একের পর এক দুর্নীতির ফাইল। গ্রেফতরাও হয়েছেন তৃণমূলের বহু নেতা, কাউন্সিলর ও প্রাক্তন বিধায়ক। আর মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন তৃণমূল সরকার কোন কোন প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে, তার তথ্য তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বীরভূমের পাথর খাদান কেলেঙ্কারি

    বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বেআইনিভাবে পাথর পাচার করে কীভাবে বছরে প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা লুট হয়ে ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ হয়ে সরাসরি দুবাইয়ে চলে গেছে, এদিন বিধানসভায় তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের দাবির সপক্ষে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগের জমানায় বছরে যেখানে মাত্র ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, সেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তা বেড়ে ৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই রাজস্ব ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলবে। আর এই হিসেব কষেই মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করতে চান যে, প্রতি বছর বাকি ১১০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোজা পৌঁছে যেত ক্যামাক স্ট্রিট ও দুবাইয়ে।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে দুর্নীতি

    সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায়। শুধু মহিলা নয়, পুরুষরাও পেয়েছেন টাকা। তিনি জানান, লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, ভুয়ো নামের আড়ালে বছরে ৫৪০০ কোটি টাকা শুধু এই একটি প্রকল্প থেকেই লুট করা হয়েছে। নবান্নের চোদ্দ তলা সব জেনেবুঝেই এই বিপুল পরিমাণ গরিবের টাকা ও সাধারণ মানুষের করের টাকা লুট হতে দিয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই সরকার যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছে, কাদের জন্য চালু করেছেন? পুরুষদের পাওয়ার কথা? আপনি কতজন পুরুষকে দিয়েছেন? জঙ্গিপুর ব্লক, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর ব্লক, ডোমকল ব্লক, এখানে ভুয়ো কত দেখুন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৫৬৮টি অ্যাকাউন্ট। যার মধ্যে ডোমকলে ৫৩৭ আর ৩১ বহরমপুরে।

    আই-প্যাক-এও কোটি কোটি টাকার ‘লুট’

    এদিন আই-প্যাক (I-PAC)-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের সব দফতর থেকেই চুরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক ঠিকাদার কাকদ্বীপের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই সব কিছুরই তদন্ত হবে।

    স্কলারশিপ-এও দুর্নীতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘মাইনোরিটি স্কলারশিপ’-এও দুর্নীতি হয়েছে। ৩০৭৬ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে হয়েছে। এলপিজি বেনিফিট – প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ২৯৮ টি অ্যাকাউন্ট ভুয়ো। এখানেও দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বার্ধক্যভাতার টাকাতেও দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। ৪৮ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। শিক্ষাশ্রী এসসি, এসটি-তে ৭১৫ টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। মেধাশ্রী ওবিসি-তে ২০৪ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ‘তপশিলি বন্ধু’ প্রকল্পের ৬৫৩০ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ‘জয় জোহর’ (Jai Johar) প্রকল্পে, আদিবাসীদের টাকাও তুলে নিয়েছে এরা। ২২৩৫ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ন্যাশনাল স্কলারশিপ এসসি, এসটি ও ওবিসি-তে ৭৯টি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত।

    পূর্বতন সরকারের আচরণ

    মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল, বিগত সরকার তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করেছে। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় মৃত্যু হয়েছিল ৫৭ জনের। এফআইআর হয়েছিল ২০০০-এর বেশি। সেখানে এ বছর পুলিশের করা স্বতপ্রবৃত্ত এফআইআর মিলিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ২৬২। দিনের পর দিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছিল, কত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। পাল্টা ক্ষমতায় এসে সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসা নিয়ে তিনি যে কোনও বাধা দেননি, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন।

    বণিকসভাতেও দুর্নীতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাণিজ্য সম্মেলনের জন্য ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা সংক্ষেপে ফিকিকে (FICCI) নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ‘‘বিজিবিএসের নথি দেখলেই বোঝা যাবে, সরকার ফিকিকে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দিয়েছে। প্রয়োজনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষরও দেখা যেতে পারে। তবে এটি পুরো ঘটনার কেবলমাত্র হিমশৈলের চূড়া মাত্র।’’ একইসঙ্গে তিনি জানান, অভিযোগগুলির তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস কে জয়রামন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মনরেগা, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এই কমিশনের সামনে জমা পড়বে। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

    অনু্প্রবেশ নিয়ে ফের সরব শুভেন্দু

    মঙ্গলবার ফের অনুপ্রবেশ রোধে নিজের সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। বিএসএফ-কে কত জমি তুলে দেওয়া হয়েছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরেন। এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে পুশব্যাক করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘সিএএ-র আওতায় যাঁরা আসেননি, বাকি যাঁরা ঢুকে পড়েছেন, এখনও অবধি আমি ১০ হাজার জনকে বার করেছি। আমার কাছে ১২টা হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন অপেক্ষা করছেন। রোজ ও পারে পাঠাচ্ছি। থাকবে না কেউ।’’ তিনি আরও জানান যে, সীমান্তে বেড়া তৈরির কাজের জন্য ইতিমধ্যেই বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের প্রচারপর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে যে স্লোগান শোনা গিয়েছিল যে, মঙ্গলবার শুভেন্দুর মুখেও শোনা গেল সেই কথা, ‘সবকা সাথ, সব কা বিকাশ’।

  • Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৭ বছর বয়সি মহম্মদ রশিদ খানের (Rashid Khan) আগাম মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশ জারি করে দিয়েছে। গত ৫ জুন রশিদ খানের দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি কারাবাস, জেলে তাঁর আচরণ এবং সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আগাম মুক্তির পক্ষে রায় দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    বউবাজার বিস্ফোরণ মামলা (Rashid Khan)

    মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু প্রশ্ন তোলেন, যে বিস্ফোরণে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু, শতাধিক মানুষ জখম এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছিল, সেই মামলায় কীভাবে শুধুমাত্র সংশোধনমূলক তত্ত্বের ভিত্তিতে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া যায়? তিনি জানান, রাজ্যের স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড (SSRB) রশিদ খানের মুক্তির বিরুদ্ধেই মত দিয়েছিল। রশিদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তাঁর মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি এবং সহ-অভিযুক্ত পন্নালাল জয়সওয়ারা ২০১৪ সালেই রেমিশন পেয়েছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি আদালতের নজরে আনেন রশিদের বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও (Rashid Khan)।

    রশিদ খানই মাস্টারমাইন্ড

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রশিদ খান ওই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। আদালত আরও জানিয়েছে, তাঁকে যদি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী শুনানি অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ খান-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), অস্ত্র আইন এবং টাডা আইনের অধীনে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় (Bowbazar Blast)। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয় আদালতই বহাল রাখে সেই সাজা (Rashid Khan)।

     

  • Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাস্তা, এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার (Swami Pradiptananda) বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে (Place Renaming) তিনি জানান, পদ্মশ্রী প্রাপক স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ (কার্তিক মহারাজ) এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করে পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি আমি ঘোষণা করছি। আপনারাই বলেছেন মূল্যায়ন।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনও রাস্তা, এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম পরিবর্তন কিংবা নয়া নামকরণের প্রস্তাব থাকলে তা এই কমিটির কাছেই জমা দেওয়া যাবে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ একটি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। যাঁর যা প্রস্তাব আছে সেখানে জমা দেবেন।” বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গ টানেন। সেই সূত্রেই তিনি সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমি যখন সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেছি, তখন দেখতাম সুরাবর্দি অ্যাভেনিউ লেখা ছিল। সুরাবর্দির নাম থাকবে না।”

    কালামের প্রসঙ্গ টানলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, স্বাধীন ভারতে অত্যাচার, হিংসা বা ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে কোনও রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম থাকা উচিত নয়। প্রকৃত দেশভক্ত ও রাষ্ট্রনেতাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পক্ষেও সওয়াল (Swami Pradiptananda) করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “যদি মনে করেন এপিজে আবদুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্তকে সম্মান জানানোর প্রয়োজন আছে, তাহলে তথ্য দেবেন, মর্যাদা দেওয়া হবে।” রাজ্য সরকারের এহেন উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে (Place Renaming) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু হতে পারে (Swami Pradiptananda) বলেই অনুমান প্রশাসনিক মহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘অধিবেশনের শেষ দিনই আসছে আইন’! দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল আনার বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘অধিবেশনের শেষ দিনই আসছে আইন’! দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল আনার বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় শুভেন্দু-সরকার। বিধানসভায় জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, শুধু গ্রেফতার নয়, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের জন্যও নতুন আইন আনার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যপালের ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাবে বক্তৃতা করতে গিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই অধিবেশনের শেষ দিনেই দুর্নীতি রোধে আরও কড়া আইন আনা হচ্ছে। সেই আইন কার্যকর হলে দোষীদের শুধু জেল হবে না, দুর্নীতিকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে।

    তৃণমূল আর ফিরবে না

    নাম না-করে এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পূর্বতন তৃণমূল সরকার তাঁর সঙ্গে কী কী করেছিল, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। সেই সঙ্গে নিজের ভাষণে বার বার তিনি বলতে ছাড়েননি যে, ‘‘তৃণমূল আর ফিরবে না।’’ আমতলায় তৃণমূলের প্রাসাদোপম পার্টি অফিস। কিংবা কালীঘাটে হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। বিভিন্ন সময় আলোচনার কেন্দ্রে উঠেছে। এবার নাম না করে বিধানসভায় ওই ‘প্রাসাদগুলি’ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভায় তিনি বলে দিলেন, “ওই প্রাসাদগুলোতে কলকাতার রাস্তায় যাঁরা রাতের বেলা ফ্লাইওভারে নিচে থাকেন, তাঁদের রাখাব।”

    ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে যেত দুবাই!

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। কেউ কেউ জ্ঞান দিচ্ছিলেন, টাকা আসবে কোথা থেকে। টাকা কোথা থেকে আসবে জানেন? বীরভূমে পাথরে কী করেছেন জানেন? এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে রাজস্ব দিয়েছেন ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা একমাসে রাজস্ব দিয়েছি ৮৩ কোটি। এটা ১০০ কোটি হবে। এক বছরে ১২০০ কোটি টাকা। আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তহবিলে ১০০ কোটি, বাকি ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে যেত দুবাই।”

    অধিবেশনের শেষ দিন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বিল

    মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যে তোলাবাজি, মাফিয়ারাজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, সংগঠিত অপরাধ এবং আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি অধিবেশনেই এমন একটি বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি কাঠামো (Property Seizure Bill) তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সেই সম্পত্তি নিলামের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সবার হিসেব হবে। আমার দফতর স্বরাষ্ট্র দফতর এই অধিবেশনেই বিল আনছে। বিধানসভায় বিএ (বিজনেস অ্যাডভাইসরি) কমিটি অনুমোদন দিলেই অধিবেশনের শেষ দিন বিল আসবে। অনেকেই ভাবছেন, ২ মাস থাকলাম (জেলে)। তারপর আইনি লড়াই করে বেরিয়ে এলাম। বিল আসছে। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তির নিলাম করব।”

    কোনও চোরকে ছাড়া হবে না

    এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনি যা যা পদক্ষেপ করছেন, পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু, যাঁরা যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটাকে বাঁচতে দেবেন না।” তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। একটাও গুণ্ডা মাফিয়া জেলের বাইরে থাকবে না। স্বরাষ্ট্র দফতর আমার। আপনারা যদি ওদের বিরুদ্ধে কোনও চুরি, দুর্নীতি, ত্রিপল লুকিয়ে রাখা, অবৈধ সম্পত্তির কোনও তথ্য থাকে, লিখিতভাবে দেবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কথা দিলাম।”

    আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মুখ্যমন্ত্রী

    ভাষণ দিতে গিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আগাগোড়া আক্রমণাত্মক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান, শওকত মোল্লাদের কোনও ভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তের প্রসঙ্গও। সব্যসাচীর সোনা-কেনা প্রসঙ্গ নিয়ে বলেন, ‘‘সমস্ত সোনা কেনা হয়েছে ২০২১ সালের পরে।’’ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, সব্যসাচীর মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেড় কেজি রুপো বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ও আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।

    নাম না করে মমতাকে নিশানা

    নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের আমলে বাণিজ্য সম্মেলনে ফিকিকে ৩২৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল নিয়ম বহির্ভূত ভাবে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজিবিএস দেখবেন? সরকার ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা ফিকি (ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডিস্ট্রি)-কে দিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সই দেখবেন নাকি? ৩২৪ কোটি টাকা। এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র!’’ শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘‘আপনি কি এটা করতে পারেন?’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘একটা কমিশন হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং মেম্বার সেক্রেটারি, যাঁর নাম শুনলে অনেকেই আপনারা ভয় পান, এডিজি র‍্যাঙ্কের আইপিএস কে জয়রামনকে নিয়ে। যত চুরি করেছেন, মনরেগার চুরি, আবাসের চুরি, জল জীবন মিশনের চুরি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের চুরি— যত চুরি করেছেন, এই কমিশনে অভিযোগ পড়বে এবং তাঁদের শ্রীঘরে যেতে হবে।’’

    ইউপিএসসি-র মতো নিয়োগ

    তার পরেই শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, এ বার থেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই পক্ষপাতদুষ্টতা থাকবে না, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে। কোনও রাজনীতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। ইউপিএসসি-র মতো নিয়োগ হবে। বাজেটেও সে কথা জানিয়েছে সরকার। এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। তাঁর বক্তব্য, জনস্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে (West Bengal) একাধিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করল রাজ্যের পালাবদলের সরকার। আগামী ৬ জুলাই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্য সরকারি ছুটি থাকবে। রাজ্যের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিশেষভাবে পালন করা হবে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে রাজ্যের স্কুলগুলিকেও। এই মর্মে জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।

    ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ (Shyama Prasad Mukherjee)

    জানা গিয়েছে, আগামী পনেরো দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম এবং চিন্তাধারা নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। থাকছে আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তাঁর লেখা ও বক্তৃতা পাঠের আয়োজন এবং দেশের শিক্ষা ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিশেষ আলোচনা। সরকারের দাবি, নয়া প্রজন্মের কাছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনা ও অবদান আরও বিশদে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

    পৈতৃক ভিটে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত

    এদিকে, চলতি রাজ্য বাজেটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর জন্মস্থান হুগলির জিরাট। সেখানে রয়েছে তাঁর পৈতৃক ভিটে। সেটিও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই ভিটেতেই গড়ে তোলা হবে রাষ্ট্রীয় স্মারক, সংগ্রহশালা এবং গ্রন্থাগার। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটির সংস্কার করে আগের ভোল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee) রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের।

    মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ

    জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে পার্ক, গ্রন্থাগার ও স্মারক নির্মাণের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, রবিবারই শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে বিজেপি। এদিন ছিল (West Bengal) তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান এই নেতাকে স্মরণ করেন (Shyama Prasad Mukherjee) পদ্ম নেতৃত্ব।

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রহস্যমৃত্যুকে’ চক্রান্ত বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বলিদান দিবসে’ পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কলকাতার হাজরা মোড়ে বিজেপির যুব মোর্চার রক্তদান শিবিরে যোগ দিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের কাজকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।’ শ্যামাপ্রসাদের আদর্শেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার, ২৩ জুন ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘তাঁর (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা আড়ালে ছিল। ইচ্ছে করে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”

    শ্যামাপ্রসাদের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শই পথ

    বদলের বাংলায় ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই সরকারি ছুটি, বিরাট মূর্তি গড়ায় উদ্যোগ আগেই গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। সকাল থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর বিশাল মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা জড়ো হন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে মাল্যদান করেন। এরপর একে একে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, ড: হরেকৃষ্ণ বেরা, কৌশিক চৌধুরীরা। মূর্তিতে মাল্যদান করে, প্রণাম জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    শ্যামাপ্রসাদ প্রসঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারকে জামাতের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিনি না হলে হিন্দু বাঙালি মাতৃভূমি পেত না। পাকিস্তানে চলে যেতে হতো। সেই জায়গা থেকে উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এখন থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শ নিয়ে আমরা চলব।” নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,‘‘ভবানীপুরে আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। তিনি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেননি।” যুব মোর্চা অনেক কষ্টে ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের বাড়ির সামনে বলিদান দিবস পালন করতেন বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালন

    ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেক স্কুলে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ পালনের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কেওড়াতলার অনুষ্ঠান সেরে হাজরা মোড়ে যুব বিজেপির রক্তদান শিবিরে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে ঘিরে রীতিমতো জনতার ভিড় দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু। এ বারই প্রথম কলকাতা পুরসভা এবং তথ্য সংস্কৃতি দফতর যৌথ ভাবে বলিদান দিবস পালন করেছে বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি

    জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার জন্য ‘পারমিট প্রথা’-র বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন শ্যামাপ্রসাদ। মে মাসে তাঁকে গ্রেফতার করে শ্রীনগর পুলিশ। বন্দি থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও বিজেপির তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি এক দেশ, এক নিশান (পতাকা), এক বিধান (সংবিধান)-এর দাবি করেছিলেন। তাই তাঁকে অসময়ে-অকালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত।

    ‘বলিদান দিবস’-এর তাৎপর্য

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (Shyama Prasad)কলকাতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি “ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড”। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার আন্দোলনের কারণেই তাঁকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশের অখণ্ডতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং তাঁর আদর্শ আজও ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিজেপি ও তার আদর্শিক শিকড় জনসংঘের কাছে তিনি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক। তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের প্রশ্নও সময় সময় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেওয়া হয়নি

    হুগলির বলাগড়ের জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেতে ১২৫ ফুট উঁচু নতুন মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুরোনো বাড়ির আমূল সংস্কার ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে তার কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘তাঁর আবির্ভাব দিবসেই ভূমি পুজোর কাজ শুরু হবে।’  বঙ্গীয় আইনসভায় ৫৮-২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারকেশ্বরে হিন্দু মহা সম্মেলনে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, এই সরকার তাঁর আদর্শে চলবে।’

LinkedIn
Share