Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পথে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Independence Day)। তাঁর সঙ্গী কলকাতার প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া। আগামী সোমবার ১০ অগস্ট ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি (Har Ghar Tiranga Campaign) উপলক্ষে বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাস্তায় নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া উপস্থিত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে গোটা পরিকল্পনা হলেও কার্যত সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে। বিভিন্ন কলেজের সঙ্গে বৈঠক করে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে, শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু কলেজ থেকেও পড়ুয়াদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া, কলকাতার প্রায় ২০টি স্কুলের পড়ুয়ারা ওই পদযাত্রায় যোগ দেবে।

    তালিকায় রয়েছে ৭৬ টি কলেজ

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, আপাতত ৭৬ টি কলেজকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসবেন। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ হাজার পড়ুয়াকে জড়ো করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। কলকাতার বাইরের কলেজের ক্ষেত্রে বাসের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। ওই দিন সকাল ১০ টার মধ্যে আকাশবাণীর কাছে জমায়েত হবে। বেলা ১ টার পরে মিছিল শুরু হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত। যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে সব আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের আকাশবাণী এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কলেজ থেকে একজন নোডাল অফিসার থাকবেন। তাঁর দায়িত্বে থাকবেন সব ছাত্রছাত্রীরা। তিনি যোগাযোগ রাখবেন সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে।

    অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে শহরের প্রায় ২০টি স্কুল

    স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, শহরের প্রায় ২০টি স্কুল এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী ২ অগাস্ট থেকে ১২ অগাস্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা শেষ করার কথা। সে ক্ষেত্রে যোগদানকারী কোনও স্কুলে যদি ১০ অগাস্ট পরীক্ষার সূচি থাকে, তা পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, ‘‘বিগত সরকার কেন ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি করেনি, জানি না। আমরা এবার ওই কর্মসূচিতে জুড়লাম। এবছর থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা তিরঙ্গা যাত্রা করব। যেহেতু এবারই প্রথম, তাই এর বিস্তারিত আমি জানিয়ে দিচ্ছি। ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট তিরঙ্গা কর্মসূচি পালিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, পৌরসভা, ব্লক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা – সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এই উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক ভবন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা হবে। প্রবন্ধ, অঙ্কন, সচেতনতামূলক মিছিল হবে। এনিয়ে প্রিন্ট, ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করব আমরা।”

  • West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি (West Bengal) কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। সপ্তম বেতন কমিশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী ও কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বেতনস্তরের সামঞ্জস্য, মহার্ঘ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সপ্তম বেতন কমিশনের অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা (West Bengal)

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যৌথভাবে এই ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বার কমিশন কোন কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবে এবং সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিল শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকার। ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন ভাবনার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। একই সঙ্গে দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এত দিন ২৭০০ ক্যালোরির যে পুরনো মানদণ্ড ছিল, তার বদলে নয়া এই ভিত্তি গ্রহণের বিষয়টি কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। এর ফলে ন্যূনতম বেতনের হিসাবের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

    বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব

    সপ্তম বেতন কমিশনের কার্যপরিধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ে বছরে ৩ শতাংশ হারে। সেই হার বাড়িয়ে অন্তত ৫ শতাংশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়া বেতনস্তর তৈরির বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতনস্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। একই বেতনস্তরে সর্বভারতীয় সমতা তৈরির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বা কার্যত অচল বেতনস্তর একত্রিত করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো আরও সরল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় মামলা কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    ডিএ-র সংজ্ঞা ও নিয়মিত দেওয়ার ভাবনা

    ডিএর (মহার্ঘ ভাতা) ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে ডিএর সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ডিএ দেওয়ার জন্য স্থায়ী নির্দেশ জারির সুপারিশ করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও কমিশনকে মতামত দিতে বলা হয়েছে (West Bengal)। সপ্তম বেতন কমিশন কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সেই বিষয়টিও কমিশনের আলোচনার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভর্তুকি এবং অন্যান্য ভাতার পরিমাণ ও নিয়ম নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ভাতাগুলির কাঠামো নির্ধারণের বিষয়েও সুপারিশ করতে পারবে কমিশন। বাড়িভাড়া ভাতার ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও রয়েছে।

    অবসরকালীন সুবিধায়ও একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা

    অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সুবিধার বিষয়েও কমিশনের কার্যপরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত। অবসর নেওয়ার পরে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে পেনশনের যে অংশ এককালীন গ্রহণ করা হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারের বর্তমান নিয়ম পর্যালোচনা করা হবে। ১১ বছর পর সেই পেনশন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার তালিকায় রয়েছে। অবসরের সময় জমা ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধি দেওয়ার বিষয়টিও কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। ফলে অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও নতুন সুপারিশ আসতে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।

    কর্মজীবনে অগ্রগতির কাঠামো বদলের সম্ভাবনা

    সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবনে পদোন্নতি ও আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে (7th Pay Commission)। বর্তমানে ৮, ১৫ এবং ২৪ বছরের তিনটি ধাপে যে কর্মজীবন অগ্রগতি ব্যবস্থা রয়েছে, তার পরিবর্তে ৫, ৮, ১২, ১৮ এবং ২৪ বছরের পাঁচটি ধাপ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। এ ছাড়াও সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা সম্প্রসারণ, চিকিৎসকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ও কার্যপরিধিতে রয়েছে।

    কারা রয়েছেন সপ্তম বেতন কমিশনে?

    প্রসঙ্গত, সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অতনু চক্রবর্তীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের প্রবীণ ফেলো পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের অর্থনীতির অধ্যাপক পার্থ প্রতীম পাল। কমিশনের সদস্য-সচিব পদে রয়েছেন আইএএস আধিকারিক দেবীপ্রসাদ করনম।

    কোন কোন বিষয় বিবেচনায় রাখবে কমিশন?

    সরকারি নির্দেশিকায় (West Bengal) বলা হয়েছে, সুপারিশ তৈরির সময় কমিশন শুধু রাজ্য সরকারের বর্তমান বেতন কাঠামো দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামো, দেশের অন্যান্য রাজ্যের বেতন কাঠামো, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য, সরকারি আয় ও ব্যয়ের পরিস্থিতি এবং অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশও বিবেচনায় রাখা হবে।কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো, ডিএ, বিভিন্ন বিশেষ ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, পদোন্নতির নীতি, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা খতিয়ে দেখবে। নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের প্রাথমিক বেতন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেই পদ্ধতিও কমিশন সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি নিয়েও মতামত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে ডিএ-সহ—সরকারি চাকরির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও পরিষেবাগত বিষয়ই কমিশনের পর্যালোচনার আওতায় আসছে (7th Pay Commission)।

    ২০২৭ সালে কার্যকর করার লক্ষ্য

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। এখন কমিশনের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আগামী দিনে বেতন, ডিএ এবং অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর বার্তা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তির পর সেই প্রক্রিয়াও আরও এক ধাপ এগোল (West Bengal)।

    কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আমাদের পরামর্শ দিয়েছিল যে যাঁরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বেতন চাইছেন, তাঁরা দিল্লি চলে যান। আমরা দিল্লির সরকারকেই পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসেছি। আর আজ প্রকাশিত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আমাদের বেশির ভাগ দাবিকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা এই বিজ্ঞপ্তি দেখে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে বর্তমান রাজ্য সরকার যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের সাথী (7th Pay Commission) হয়, সেই বিষয়ে আমাদের আবেদন থাকবে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে (West Bengal)। কারণ, তিনি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন যেসব প্রতিশ্রুতি আমাদের দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।”

     

     

  • Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরভোটের (Municipal Elections) আগেই বদলে যাচ্ছে কলকাতা ও হাওড়ার রাজনৈতিক মানচিত্র! শহরের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও নাগরিক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্য়াস (Ward Delimitation) করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় এক ধাক্কায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। ২০৯টি ওয়ার্ড নিয়ে সাজছে তিলোত্তমা, অন্যদিকে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬৮-তে। ১২ অগাস্ট বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাশ হলেই সিলমোহর পড়বে নতুন বিন্যাসে- যার পর শহর জুড়ে বাজবে বহুল প্রতীক্ষিত পুরভোটের রণকাসর। 

    কলকাতায় ২০৯, হাওড়ায় ৬৮

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অর্থাৎ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ৬৫টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে হাওড়া পুরসভার (Howrah Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৬৮। এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এখন বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই তা আইনি স্বীকৃতি পাবে।

    মুখ্যমন্ত্রী কী জানালেন?

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, “১২ অগাস্ট এক দিনের বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হয়েছে। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮ করা হবে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে।”

    শেষ হচ্ছে ডিলিমিটেশনের কাজ

    আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরেই পুরভোট (Municipal Elections) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই নির্দেশ মেনে কলকাতা পুরসভার সমীক্ষা বিভাগ দ্রুত কাজ শুরু করে। বোরো-ভিত্তিক বিশেষ কমিটি গঠন করে প্রতিটি এলাকার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক প্রয়োজন খতিয়ে দেখে নতুন ওয়ার্ডের খসড়া তৈরি করা হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন বাড়ানো হচ্ছে ওয়ার্ড সংখ্যা?

    সরকারের মতে, গত কয়েক বছরে কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে এবং অনেক ওয়ার্ডের আয়তনও বড় হয়ে গিয়েছে। ফলে নাগরিক পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক কাজ আরও কার্যকর করতে ছোট ছোট ওয়ার্ড গঠন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নতুন ওয়ার্ড হলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলেই সরকারের দাবি।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন পরিকল্পনা

    গত মে মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। পরে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই পুরভোটের (Corporation Vote) আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (Ward Delimitation) কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নজরে ১২ অগাস্টের বিধানসভা

    ১২ অগাস্ট বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হলে কলকাতা ও হাওড়ার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস (Ward Delimitation) কার্যকর করার পথ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত পুরভোটের (Corporation Vote) দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনাও জোরালো হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়ার পুর-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

  • 358 Security Mesh Fencing: শিলিগুড়ি থেকে সুন্দরবন! বাংলাদেশ সীমান্তে বসছে এআই-সমর্থিত স্মার্ট ফেন্সিং! অভেদ্য প্রাচীরের মধ্যমণি ‘৩৫৮ মেশ’, কী এটা?

    358 Security Mesh Fencing: শিলিগুড়ি থেকে সুন্দরবন! বাংলাদেশ সীমান্তে বসছে এআই-সমর্থিত স্মার্ট ফেন্সিং! অভেদ্য প্রাচীরের মধ্যমণি ‘৩৫৮ মেশ’, কী এটা?

    সুশান্ত দাস

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে আরও অভেদ্য করে তুলতে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে কেন্দ্রের ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১,০০০ একরেরও বেশি জমি হস্তান্তরের পর সীমান্তে অত্যাধুনিক স্মার্ট ফেন্সিং নির্মাণের কাজ জোরকদমে শুরু করেছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৭২.৬ কিলোমিটার সীমান্তে উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন বেড়া তৈরি করা হচ্ছে। ‘শিলিগুড়ি করিডর’ -এর পাশাপাশি, বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং সুন্দরবনের মতো অনুপ্রবেশ-প্রবণ এলাকাগুলিকে। প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি নতুন সীমান্ত বেড়া নির্মাণ নয়। বরং এটি এমন একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সীমান্তের প্রতিটি নড়াচড়ার উপর তাৎক্ষণিক নজর রাখা সম্ভব হবে।

    কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে ‘স্মার্ট ফেন্সিং’?

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বড় অংশ নদী, চর এবং দুর্গম ভূখণ্ডে অবস্থিত। বহু জায়গায় প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া কার্যকরভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। আবার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ‘স্মার্ট বর্ডার’ ধারণা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—শুধু শারীরিক বাধা তৈরি নয়, প্রযুক্তির সাহায্যে সীমান্তকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির আওতায় আনা।

    শুধু বেড়া নয়, থাকবে অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা

    নতুন স্মার্ট ফেন্সিংয়ের সঙ্গে একাধিক উন্নত প্রযুক্তিকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● উচ্চ রেজোলিউশনের সিসি ক্যামেরা
    • ● থার্মাল ইমেজার
    • ● নাইট ভিশন ডিভাইস
    • ● নজরদারির জন্য ড্রোন
    • ● সেন্সর-ভিত্তিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
    • ● আধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার
    • ● রিয়েল-টাইম মনিটরিং নেটওয়ার্ক

    এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তে কোনও সন্দেহজনক নড়াচড়া ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো যাবে কুইক রিঅ্যাকশন টিম (QRT)। একজন বিএসএফ আধিকারিক বলেন, “এই নতুন বেড়া শুধু উঁচু নয়, এটি স্মার্টও। মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি সেক্টরের মতো এলাকায় ১২ ফুট উঁচু নিরাপত্তা প্রাচীরের সঙ্গে থাকবে সিসিটিভি, ড্রোন, থার্মাল সেন্সর এবং রিয়েল-টাইম অ্যালার্ম ব্যবস্থা।”

    কী এই ‘৩৫৮’ সিকিউরিটি মেশ? কেন এত শক্তিশালী?

    এই স্মার্ট ফেন্সিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ হল ‘৩৫৮ সিকিউরিটি ওয়েল্ডেড মেশ’ প্রযুক্তি। ভারতে এই ধরনের উচ্চ-নিরাপত্তার স্টিল মেশ তৈরির অন্যতম কেন্দ্র শিলিগুড়ি। এখানকার একাধিক সংস্থা সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে ব্যবহারের উপযোগী এই বিশেষ ধরনের বেড়া তৈরি করে।

    ‘৩৫৮’ নামের পিছনেও রয়েছে প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা—

    • ● ৩ ইঞ্চি × ০.৫ ইঞ্চি মেশ ওপেনিং
    • ● ৮-গেজ (প্রায় ৪ মিমি) পুরু স্টিল তার
    • ● ছোট ফাঁক হওয়ায় হাত ঢোকানো বা পা রাখার সুযোগ নেই
    • ● সাধারণ বোল্ট কাটার বা হাতিয়ার দিয়ে কাটা অত্যন্ত কঠিন
    • ● হট-ডিপ গ্যালভানাইজড স্টিল ব্যবহারের ফলে দীর্ঘদিন মরিচা পড়ে না
    • ● অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য পাউডার কোটিং বা পিভিসি আবরণ ব্যবহার করা যায়
    • ● বিশেষ ক্ল্যাম্প ও নাট-বল্টের সাহায্যে দ্রুত স্থাপন সম্ভব, ফলে মাঠ পর্যায়ে ভারী ওয়েল্ডিংয়ের প্রয়োজন পড়ে না

    ফলে এই বেড়া কার্যত একটি অদৃশ্য নিরাপত্তা প্রাচীরের মতো কাজ করে।

    অমিত শাহ কী বলেছিলেন?

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ সফরে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘স্মার্ট বর্ডার’ ধারণার মাধ্যমে দেশের সীমান্তকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য। তিনি জানান, চতুর্মুখী নিরাপত্তা বলয় (Quadrangular Security Grid) গড়ে তোলার প্রকল্পের সূচনা পশ্চিমবঙ্গ থেকেই হবে।

    সফরের সময় তিনি একাধিক আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল—

    • ● রেডিও-ভিত্তিক ফেন্স ব্রিচ ডিটেকশন সিস্টেম— যা বেড়া কাটার বা নষ্ট করার চেষ্টা হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা সম্প্রচার করে।
    • ● ইনফ্রারেড অ্যালার্ম সিস্টেম— যা নদী, খাল কিংবা দুর্গম এলাকায় ইনফ্রারেড রশ্মি বিচ্ছিন্ন হলেই নিরাপত্তা বাহিনীকে আগাম সতর্ক করে।

    সুন্দরবনের জন্য আলাদা নিরাপত্তা কৌশল

    স্থল সীমান্তের মতো সুন্দরবনের নদীপথে সাধারণ বেড়া নির্মাণ কার্যত অসম্ভব। তাই সেখানে নেওয়া হয়েছে পৃথক কৌশল।

    সুন্দরবনে মোতায়েন করা হচ্ছে—

    • ● ভাসমান বর্ডার আউটপোস্ট
    • ● উচ্চগতির টহল নৌকা
    • ● নদী ও খাঁড়িতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি
    • ● স্মার্ট নজরদারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

    এই ভাসমান সীমান্ত চৌকিগুলি কার্যত চলমান বিএসএফ ক্যাম্প হিসেবে কাজ করবে। জলপথে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

    সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষার ধারণা এখন আর শুধুমাত্র কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমর্থিত নজরদারি, সেন্সর, ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ আগামী দিনের সীমান্ত নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হতে চলেছে।পশ্চিমবঙ্গে শুরু হওয়া এই স্মার্ট ফেন্সিং প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য আন্তর্জাতিক সীমান্তেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালু হতে পারে। সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া, উন্নত নজরদারি এবং অনুপ্রবেশ রোধে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছে নিরাপত্তা মহল।

  • Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামের বদল, টাকাও পৌঁছতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। একসময় কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বাংলায় বদলে হয়েছিল ‘বাংলার বাড়ি’। এবার সেই প্রকল্পই ফের নতুন পরিচয় পেল। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ (Paschim Banga Awas)। একইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান। সরকারের দাবি, ১৮ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার থেকেই ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানো হচ্ছে।

    নবান্ন (Nabanna) থেকে বড় ঘোষণা

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। মোট ১৮ লক্ষ মানুষ পাবেন ৬০ হাজার টাকা করে। তৃণমূল সরকারের তৈরি প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকার মধ্যে সাড়ে ১২ লক্ষই অযোগ্য। সেইসব নাম বাদ দিয়েই যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

    ‘রং-ধর্ম নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি’

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “যোগ্যরা সবাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। উপভোক্তাদের রং দেখব না, ধর্ম দেখব না।” সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি দারিদ্রসীমার নিচে থাকা বহু উপভোক্তা। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পেয়ে অসমাপ্ত বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করার আশা দেখছেন তাঁরা।

    কীভাবে বদলেছে প্রকল্পের নাম?

    মূলত এটি কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নাম নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেই সময় রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই প্রকল্প চালাবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হয় বাংলার বাড়ি। উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি হয় এবং প্রতিটি বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় এবং বিজেপি সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকারের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মতো আবাস প্রকল্পেও দ্রুততার সঙ্গে অনুদান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    কেন বদল হল নাম?

    এপ্রসঙ্গে এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এতদিন তৃণমূল সরকারের আপত্তি ছিল মোদিজির প্রকল্পের নাম নিয়ে। গোটা দেশে যে প্রকল্পের সুবিধা দরিদ্র মানুষ পান, সেটা পশ্চিমবঙ্গে এতদিন সেই নামে চলত না। আমাদের স্পষ্ট কথা, এখন থেকে গোটা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কাজ হবে। তাই বাংলার বাড়ির নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস (Paschim Banga Awas) রাখা হচ্ছে। এদিন থেকেই দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময় তৈরি তালিকায় বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম ছিল। সেইসব নাম যাচাই করে বাদ দেওয়ার পরই বর্তমান সরকার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করছে।” নামের বদলের সঙ্গে শুরু হল দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও বিতরণ। একদিকে প্রকল্পের নতুন পরিচয় পশ্চিমবঙ্গ আবাস, অন্যদিকে ১৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে ৬০ হাজার টাকা- এই দুই ঘোষণাকেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।

  • Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে যে পিছিয়ে পড়ার ছবি তৈরি হয়েছে, তা বদলে রাজ্যকে নতুন শিল্পায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা (Industrial Investment)। ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র হাত ধরে রাজ্য উন্নয়নের নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    শিল্পপতি, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্যে শিল্পের গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। এর জেরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একাধিক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৫০ বছরে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এখন ‘অমৃত কাল’ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে আমরা শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছি। তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বাংলা এখন এগোতে প্রস্তুত, তাই নির্ভয়ে এখানে বিনিয়োগ করুন।”

    অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন

    শিল্পায়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পর্কের বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা গেলে শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে। সেই আস্থা থেকেই নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যেই রাজ্যের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্র ও চা শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগাস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। বস্ত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তাঁত, পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Industrial Investment)।

    ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’

    বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের যাতে একাধিক দফতর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পপতিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী করা হবে (Suvendu Adhikari)। জমি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলেও জানান রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সরল করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

    রাজ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, লাক্স কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি (Suvendu Adhikari)। শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন শিল্প হলে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে (Industrial Investment)।

    বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরির আশ্বাস

    তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যের দীর্ঘদিনের তাঁতশিল্প ও পোশাক উৎপাদনকে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার এবং বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন, জমি নীতির পরিবর্তন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে বস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সের মঞ্চ থেকে তাই একই সঙ্গে তিনটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী—শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে সেই (Industrial Investment) পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজ্যের অর্থনীতিতে দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

  • WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শব্দদূষণ (Noise Pollution) রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার (WB Govt)। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ (Noise Pollution) সংক্রান্ত বিধি (Loudspeaker Rules) কঠোরভাবে কার্যকর করতে শুরু হয়েছে অভিযান। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছাদের লাউডস্পিকার সরিয়ে কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের পর ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় মসজিদ থেকে উচ্চ ক্ষমতার মাইক খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এতে ধর্মীয় কার্যক্রমে কোনও বাধা তৈরি হবে না, একই সঙ্গে শব্দদূষণও (Noise Pollution) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

    কী নির্দেশ দিয়েছে সরকার?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (WB Pollution Control Board) নির্ধারিত শব্দসীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সেই নিয়ম অনুযায়ী- আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ করা যাবে। রাতের বেলা শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশ প্রশাসন মসজিদ কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে ছাদের উচ্চ ক্ষমতার লাউডস্পিকারের পরিবর্তে কম মাত্রার সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের জবাব

    সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠনের অভিযোগ, শুধুমাত্র মসজিদগুলিকেই লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, এই নির্দেশ কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (WB Pollution Control Board)  নিয়ম অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ-সহ সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই একই আইন মেনে চলতে হবে।

    কী বললেন মন্ত্রীরা?

    পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে শব্দবিধি মেনে চলতেই হবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy)-ও সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হবে না।”

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়েছেন, “ধর্মীয় প্রার্থনা নিজ নিজ উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। রাস্তা দখল করে বা সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি করে কোনও ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

    শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য

    এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “মসজিদে নামাজ পড়ুন, মন্দিরে মন্ত্রপাঠ করুন। মাইক বাজানোর দরকারটাই বা কী?  ধর্ম করুন বাড়িতে। কোনও আপত্তি নেই।” শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রশাসনের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান- মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্য যে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেককেই একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের শব্দদূষণজনিত ভোগান্তি কমবে, তেমনই পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

  • Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর। এবার তৃণমূল আমলে গত প্রায় ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification)। ইতিমধ্যেই বহু শংসাপত্র বাতিল হয়েছে, আর সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ৪৫ হাজারেরও বেশি কাস্ট সার্টিফিকেট। শুনানির পর প্রমাণ দিতে না পারলে সেগুলিও বাতিল হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ১ লক্ষের বেশি কাস্ট সার্টিফিকেটের পুনর্যাচাই

    অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১,২২,১১৭টি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮ শতাংশ) শংসাপত্র বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যাচাই চলাকালীন একের পর এক অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

    ইতিমধ্যেই বাতিল ১৩৫টি শংসাপত্র

    যাচাইয়ের পর এখনও পর্যন্ত ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-  ৮৩টি তফসিলি জাতি (SC), ৪১টি তফসিলি জনজাতি (ST) ও ১১টি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)। এছাড়াও আরও ২৯টি শংসাপত্রকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বাতিল?

    বাতিল হওয়া শংসাপত্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে- উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান। এই জেলাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রের দাবি। বর্তমানে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় নজর ৪৫,৩৬৭টি কাস্ট সার্টিফিকেটের উপর। এগুলিকে সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের একে একে শুনানিতে ডাকা হবে। সেখানে তাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। যদি কেউ বৈধ নথি দেখাতে না পারেন, তাহলে সেই কাস্ট সার্টিফিকেটও অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হবে। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক শংসাপত্র?

    সন্দেহের তালিকায় থাকা শংসাপত্র সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে— উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, মালদহ, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলির শংসাপত্র বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শুরু হয় অভিযান

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্যাচাইয়ের (Caste Certificate Reverification) নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই এই পুনর্যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা ভুয়ো বা অবৈধভাবে জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LinkedIn
Share