Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা শুভেন্দুর, বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন হিঙ্গলগঞ্জে

    Suvendu Adhikari: সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা শুভেন্দুর, বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন হিঙ্গলগঞ্জে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির উৎসবে সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার হিঙ্গলগঞ্জের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিবিরে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে আলোর উৎসবে শামিল হন তিনি (Suvendu Adhikari)। উৎসবের আবহে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন (Diwali Celebration) মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সীমান্তে কর্তব্যরত সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রাজ্য পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দিতে আগামী নতুন বছরে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ চালুর কথা ঘোষণাও করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। বিশেষ করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জমি সংক্রান্ত সেই জটিলতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ফলে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    বাহিনীর প্রশংসা (Suvendu Adhikari)

    সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এই বাহিনীগুলির জওয়ান ও পুলিশকর্মীরা নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দিতেই নতুন বছরে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ চালু করা হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী কর্মীদের এই সম্মানের মাধ্যমে স্বীকৃতি জানানো হবে।

    অনুপ্রবেশ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি

    সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর থাকবে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি।

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সম্পর্কে করা বিভিন্ন মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছিল। বাহিনী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যও করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    জরুরি পরিষেবা নিয়েও বার্তা

    এদিন রাজ্য পুলিশের উদ্যোগে দ্রুত ১১২ নম্বর জরুরি পরিষেবা চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই পরিষেবা চালু হওয়ায় বিপদের সময়ে সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশের সহায়তা পাবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (Diwali Celebration)।

    সব মিলিয়ে, হিঙ্গলগঞ্জে সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপনের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমন্বয় নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • PM Modi: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর, জওয়ানদের সঙ্গে উৎসব পালন করবেন শুভেন্দুও

    PM Modi: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর, জওয়ানদের সঙ্গে উৎসব পালন করবেন শুভেন্দুও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, আলোর উৎসব শুধু ঘরে ঘরে আলো জ্বালানোর উপলক্ষ নয়, অন্ধকারের বিরুদ্ধে দেশের সম্মিলিত সংকল্পেরও প্রতীক (Diwali Wishes)। দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করার পাশাপাশি জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্‌যাপনের কথাও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের মতো আমিও অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে দীপাবলি পালন করি। আপনারা জানেন, এই দিনটি দেশের জওয়ানদের সঙ্গে কাটানো আমার দীর্ঘদিনের রীতি। এই বছরও সেই পরম্পরা বজায় রাখব। সকলকে আবারও দীপাবলির আন্তরিক শুভেচ্ছা।” ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করে আসছেন মোদি। লাদাখের সিয়াচেন থেকে শুরু করে পঞ্জাব সীমান্ত, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, কার্গিল এবং গুজরাটের  সীমান্তবর্তী এলাকা—বিভিন্ন জায়গায় জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। গত বছর গোয়া-কারওয়ার উপকূলের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর রণতরীতেও দীপাবলি উদ্‌যাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবারই উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে দীপাবলির শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মোদি।

    আন্তর্জাতিক সীমান্তে শুভেন্দুও

    এদিকে, আলোর উৎসব দীপাবলিতে যখন আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠেছে গোটা দেশ, তখনও কর্তব্যে অবিচল সীমান্তরক্ষীরা। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে দেশের নিরাপত্তায় দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা। সেই সমস্ত জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতেই এবার সুন্দরবনের ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্‌যাপন করবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার কথা রাজ্য পুলিশের ডিজিরও।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের রীতির অনুসরণেই মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর দীপাবলিতে দেশের কোনও না কোনও সীমান্ত এলাকায় গিয়ে সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন মোদি। এবার সেই ধারাই অনুসরণ করতে চলেছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দীপাবলি। আর সেই বিশেষ উৎসবের দিনটি সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে (PM Modi) রাজনৈতিক মহল।

    শনিবার কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের এই কর্মসূচির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তায় যাঁরা নিজেদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের সঙ্গে দীপাবলির শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রবিবার রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকিতে যাব।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকি?

    উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকির গুরুত্ব অপরিসীম। নদী, খাঁড়ি এবং ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্যে ঘেরা এই অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম। ফলে এখানে সীমান্ত পাহারা দেওয়া নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধে দিনরাত নজরদারি চালান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। জলপথে নজরদারি আরও জোরদার করতে আধুনিক ভাসমান সীমান্ত চৌকিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নদী ও খাঁড়ি বরাবর নিয়মিত টহলদারি চালানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির উপর দ্রুত নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে। এই হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধীন। এটি দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের কলকাতা সেক্টরের আওতাভুক্ত। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ জলপথ এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্যে দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এই চৌকির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনসংযোগেও জোর

    শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়াই নয়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেও একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক কর্মসূচি, নাগরিক সহায়তা শিবির, সাইকেল মিছিল-সহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাও বাড়ছে (Diwali Wishes)। উল্লেখ্য, এর আগে হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকিতেই জওয়ানদের সঙ্গে হোলি উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ডিজি। ফলে এই সীমান্ত চৌকির সঙ্গে বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির যোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগের দিনই তমলুকে কালীপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পুজোর সূচনা করার পাশাপাশি দেবী বর্গভীমার মন্দিরে পুজো দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ (PM Modi) করেছিলেন তিনি।

     

  • Bharosa Scheme: বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ শুভেন্দুর! জানুয়ারিতেই মিলবে মাসিক ৩ হাজার টাকা

    Bharosa Scheme: বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ শুভেন্দুর! জানুয়ারিতেই মিলবে মাসিক ৩ হাজার টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ধাঁচে বেকারদের জন্য নতুন প্রকল্প চালুর আশ্বাস দিয়েছিল তারা। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হাঁটল নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়া থেকে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন প্রকল্পের নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Bharosa Scheme)। প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘ভরসা স্কিম’। একই সঙ্গে কবে থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

    মাসিক আর্থিক সহায়তা

    ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটেই এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল বিজেপি সরকার। সেই সময় জানানো হয়েছিল, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যোগ্য শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন। গ্র্যাজুয়েট ও নন-গ্র্যাজুয়েটদের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের জন্য মাসে ২,০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এতদিন ধোঁয়াশা ছিল।

    ‘ভরসা স্কিম’-এর অনুমোদন

    বৃহস্পতিবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৩ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ভরসা স্কিম’-এর (Bharosa Scheme) অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর জানুয়ারি মাস থেকেই উপভোক্তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। পুরশুড়ার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমার যুবক ভাইরা, গ্র্যাজুয়েট এবং নন-গ্র্যাজুয়েট, আপনাদের স্কিমের নাম দিচ্ছি আমরা ‘ভরসা স্কিম’। আগামী ২৩ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হবে। জানুয়ারি মাস থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। যে সমস্ত বেকার যুবক-যুবতী অন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়াবে সরকার। যতদিন না তাঁরা চাকরি পাচ্ছেন, ততদিন সরকার তাঁদের পাশে থাকবে।”

    সুবিধা চালুর সময়সীমা

    এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দিতে চালু হয়েছিল ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হত। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের আমলে সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে প্রথম রাজ্য বাজেটেই বেকারদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। এবার সেই প্রকল্পের নাম, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সম্ভাব্য দিন এবং সুবিধা চালুর সময়সীমাও জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্যের যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর পথ খুলতে চলেছে।

  • West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিল জয় বালাজি গ্রুপ (Jai Balaji Group)। আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ গবেষণার উপযোগী যন্ত্রাংশ, প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি—মূলত এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পে বিশেষ নজর

    • ● জয় বালাজি গ্রুপের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নতমানের কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য বিশেষ অ্যালয় এবং উচ্চমানের ইস্পাত তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● পাশাপাশি রেল এবং মহাকাশ শিল্পের জন্য উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন (High-Precision) উপাদান ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও জোর দিতে চায় সংস্থাটি। বিশেষ ধরনের তামা ও অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়, স্টিল কাস্টিং এবং ফোরজিংস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
    • ● এছাড়া রেল, প্রতিরক্ষা, অটোমোবাইল, মহাকাশ এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের চাহিদা মেটাতে প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও তার পরবর্তী উৎপাদনশৃঙ্খল বা ডাউনস্ট্রিম প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় গোষ্ঠীটি।

    ২০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    • ● এই বিনিয়োগের অন্যতম বড় ইতিবাচক দিক কর্মসংস্থান। জয় বালাজি গ্রুপের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের ফলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সহযোগী ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে জয় বালাজি গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। জাজোদিয়া পরিবারের প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীর ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পে চার প্রজন্মের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড় মিলিয়ে তাদের মোট ১০টি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে আটটিই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।

    সবুজ শক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনেও জোর

    • ● শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, শিল্পের শক্তির চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রিন পাওয়ার জেনারেশনের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করতে চায় জয় বালাজি গ্রুপ। এর লক্ষ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো।

    সংস্থার বর্তমান সমন্বিত উৎপাদন পরিকাঠামোয় প্রায় ১০০ মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বর্জ্য তাপ (Waste Heat) এবং কঠিন শিল্পবর্জ্য ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গোষ্ঠীটি। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলার শিল্পায়নে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ এই বিনিয়োগ?

    পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ টানতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই জয় বালাজি গ্রুপের এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, রেল এবং উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোর বহুমুখীকরণে সাহায্য করতে পারে।

    এর পাশাপাশি বিশেষ ইস্পাত, অ্যালয়, কাস্টিং এবং ফোরজিংসের মতো শিল্পে উৎপাদন বাড়লে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থা এবং পরিবহণ ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য ২০ হাজার কর্মসংস্থানের বাইরেও বৃহত্তর শিল্প অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা এবং নতুন সরকারের অধীনে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক পরিবেশের উপর আস্থা রেখেই এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের শিল্পনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগের সঙ্গে এই পরিকল্পনা কতটা সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Suvendu Adhikari on Singur: টাটা-ন্যানো স্মৃতি! সিঙ্গুরে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা, অশোক লে-ল্যান্ডকে নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Singur: টাটা-ন্যানো স্মৃতি! সিঙ্গুরে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা, অশোক লে-ল্যান্ডকে নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’দশক আগে সিঙ্গুর (Suvendu Adhikari on Singur) থেকে বিদায় নিয়েছিল গাড়ি কারখানা। টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, আন্দোলন এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শিল্পের স্বপ্ন কার্যত অধরাই থেকে গিয়েছে এই এলাকার মানুষের কাছে। এবার কি সেই সিঙ্গুরেই ফিরতে চলেছে গাড়ি শিল্প? নতুন করে আশার কথা শোনালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করতে গিয়ে শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পপতিদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি রাজ্যের জমি নীতি এবং সিঙ্গুরের শিল্প পরিকাঠামোকে নতুন করে কাজে লাগানোর বিষয়েও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    সিঙ্গুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি

    সিঙ্গুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করব। কিছু একটা করব। অশোক লে-ল্যান্ডের সঙ্গে আমার প্রাথমিক স্তরের কথা হয়েছে। তবে আগের সরকারের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে শুধু সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর করে দায় সারতে চাই না। তাই এখনই বিস্তারিত কিছু বলছি না।” শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাপস রায়ও সিঙ্গুরে টাটা মোটরসকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। প্রয়োজনে নিজে টাটা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর অশোক লে-ল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার কথা প্রকাশ্যে আসায় সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এদিন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “সিঙ্গুরের গাড়ি কারখানার জমিতে শিল্প গড়ে উঠুক, এটাই সেখানকার মানুষের প্রত্যাশা। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে তাঁরা অবশ্যই খুশি হবেন। গাড়ি কারখানার জমিতে একই ধরনের শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার উদ্যোগী হয়েছে।”

    শিল্পমহলের প্রতিক্রিয়া

    মুখ্যমন্ত্রীর সিঙ্গুর-ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে শিল্পমহল। বণিকসভার সদস্য আরএ বাঙ্গুরের মতে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ভাবমূর্তির সঙ্গে সিঙ্গুরের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানে নতুন করে শিল্প গড়ে উঠলে তা রাজ্যের অর্থনীতির পক্ষেও ইতিবাচক হবে। এমএসএমই-র প্রতিনিধি লক্ষ্মীকান্ত রাও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানুষের চাহিদা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। সেই জায়গা থেকে সিঙ্গুরে নতুন করে কিছু করার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। সেখানে শেষ পর্যন্ত গাড়ি কারখানা গড়ে উঠলে একাধিক অনুসারী শিল্পেরও সম্ভাবনা তৈরি হবে। উপকৃত হবেন এলাকার সাধারণ মানুষ।”  বণিক সভার সদস্য আরএ বাঙ্গুর বলেন, “সিঙ্গুর রাজ্যের শিল্পের ভাবমূর্তির জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ নাম। সিঙ্গুরের মাটিতে শিল্প এলে আদতে রাজ্যেরই লাভ।”

    সিঙ্গুরে শিল্প প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

    সিঙ্গুরে শিল্প প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নতুন নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, জমি অধিগ্রহণ, আদালতের লড়াই এবং জমি ফেরতের পরেও আজ পর্যন্ত সেখানে বড় কোনও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। একসময় শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ দেখেছে সিঙ্গুর। পরে সেই জমি ফেরত পাওয়ার আন্দোলনও প্রত্যক্ষ করেছে। কৃষিজমিতে আবার চাষের স্বপ্ন দেখা হলেও কৃষি ও শিল্প—কোনও ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।

    সিঙ্গুর ও টাটাদের অধরা ন্যানো প্রকল্প

    সিঙ্গুরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০০৬ সালের মে মাসে সপ্তমবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার ঘোষণা করে, টাটা মোটরস পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ টাকার ছোট গাড়ি ন্যানো তৈরির কারখানা গড়বে। হুগলির সিঙ্গুরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে প্রায় ৯৯৭ একর জমি চিহ্নিত করা হয়।

    জমি অধিগ্রহণ ও অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রতিবাদ: ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে জমি অধিগ্রহণ শুরু করে রাজ্য সরকার। অনেক কৃষক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলেও একাংশ জমি দিতে অস্বীকার করেন। তাঁদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে কৃষিজমি রক্ষা কমিটি।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন ও অনশন: ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে অনিচ্ছুক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে নামেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ধর্মতলায় টানা ২৬ দিনের অনশন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

    কারখানা নির্মাণ ও রাজনৈতিক সংঘাত: কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সিঙ্গুরে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করে টাটা মোটরস। তৈরি হতে থাকে কারখানার শেড ও অন্যান্য পরিকাঠামো। কিন্তু জমির বাইরে আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ক্রমে সিঙ্গুরের আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

    রাজভবনে বৈঠক, কিন্তু মেলেনি সমাধান: অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রায় ৪০০ একর জমি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন তীব্র হয়। কারখানা ঘেরাও এবং দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধের ঘটনাও ঘটে। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধির মধ্যস্থতায় রাজভবনে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হলেও জমি ফেরত নিয়ে কোনও ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

    সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটে ন্যানো প্রকল্প: শেষ পর্যন্ত আন্দোলন, অচলাবস্থা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে গুজরাতের সানন্দে স্থানান্তরিত হয় প্রকল্পটি।

    রাজনৈতিক পালাবদল: ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।

    জমি ফেরানোর উদ্যোগ ও আইনি লড়াই: ক্ষমতায় এসেই সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় নতুন সরকার। বিধানসভায় পাশ হয় সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট, ২০১১। তবে টাটা মোটরস এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ আইনটি বহাল রাখলেও ২০১২ সালের জুন মাসে ডিভিশন বেঞ্চ তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে খারিজ করে দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার।

    সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়: ২০১৬ সালের ৩১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ২০০৬ সালে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বেআইনি ছিল। আদালত প্রায় ৯৯৭ একর জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ক্ষতিপূরণের টাকা যাঁরা নিয়েছিলেন, তাঁদেরও সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়নি। ওই বছরের ২০ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে জমির পরচা ও দখল হস্তান্তর করেন।

    জমি ফিরেছে, কিন্তু ফেরেনি শিল্প

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জমি কৃষকদের হাতে ফিরলেও বাস্তবে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। দীর্ঘদিন কারখানার নির্মাণকাজ, কংক্রিটের ভিত্তি এবং ভারী যন্ত্রপাতির কারণে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনের তরফে জমিকে আবার চাষযোগ্য করে তোলার চেষ্টা হলেও সব জমিতে আগের মতো কৃষিকাজ সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে টাটা মোটরস চলে যাওয়ার পর সিঙ্গুরে বড় কোনও বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ফলে একদিকে কৃষির সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে শিল্পের অভাব—এই দুইয়ের মধ্যে আটকে পড়েছেন এলাকার বহু মানুষ। যে যুবসমাজ একসময় কারখানায় চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছেই সেই প্রত্যাশা আজও অধরা। ফলে সিঙ্গুরে আবার শিল্প গড়ে তোলার দাবি ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

    স্বপ্ন দেখাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে অশোক লে-ল্যান্ড-এর কথা

    ভারতের বাণিজ্যিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পে পরিচিত নাম অশোক লে-ল্যান্ড। হিন্দুজা গোষ্ঠীর এই সংস্থার যাত্রা শুরু ১৯৪৮ সালে, অশোক মোটরস নামে। ১৯৫৫ সালে সংস্থার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় অশোক লে-ল্যান্ড। বর্তমানে বাস ও বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম বড় সংস্থা এটি। ফলে সিঙ্গুরে অশোক লে-ল্যান্ডের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাথমিক আলোচনা ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনা কতটা এগোবে, সেখানে আদৌ গাড়ি কারখানা হবে কি না, কিংবা কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে—সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। সিঙ্গুরের মানুষ অতীতে শিল্পের স্বপ্ন দেখেছেন, আন্দোলন করেছেন, জমি ফিরে পেয়েছেন। এবার তাঁদের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবেই ফিরুক শিল্প। অশোক লে-ল্যান্ড কি সেই স্বপ্নপূরণের নতুন অধ্যায় লিখবে? আপাতত সেই দিকেই তাকিয়ে সিঙ্গুর তথা গোটা বাংলা।

  • West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বাংলাকে নতুন করে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার লক্ষ্ণী বারে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি (West Bengal Industrial Policy) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়, দীর্ঘদিনের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, বন্ধ ও রুগ্‌ণ কারখানার পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পের প্রসার—সবকিছুকেই এই নীতির আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই নীতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুধু করছাড় বা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থায়ী নীতিগত সহায়তা, পরিকাঠামোগত সুবিধা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী পাওয়ার নিশ্চয়তা। নয়া শিল্পনীতিতে এই বিষয়গুলির উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরির সঙ্গে আর্থিক সুবিধাকে যুক্ত করা, মহিলা কর্মীদের নিয়োগে বাড়তি উৎসাহ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার সংস্থান রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

    বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা, কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার

    • ● নয়া শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে শিল্প সংস্থাগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ইপিএফ (EPF) অবদানের একটি অংশ ফেরত দেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
    • ● ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ১০০ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের যোগ্য সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের নিয়োগে ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ইপিএফ সহায়তার সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০০-র বেশি কর্মী থাকা যোগ্য পরিষেবা ইউনিটগুলি পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারে।
    • ● বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রয়েছে পিএফ সহায়তা। অগ্রাধিকার এলাকায় অন্তত ২০০ জন এবং অন্যত্র অন্তত ৪০০ জন কর্মী থাকা যোগ্য শিল্প ইউনিট পাঁচ বছর পর্যন্ত নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ৫০ শতাংশ সহায়তা পেতে পারে।
    • ● এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মহিলা কর্মসংস্থান এবং শিল্পক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন শিল্পের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও নজর

    বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান বলতে শুধু নতুন কারখানা তৈরি বোঝায় না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা রুগ্‌ণ অবস্থায় থাকা শিল্প ইউনিটগুলিকে পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়া শিল্পনীতিতে সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● অনুমোদিত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার আওতায় রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা, জমির ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় এবং জমির বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট পুনরুজ্জীবন সেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    এর ফলে রাজ্যের বিদ্যমান শিল্প সম্পদকে নতুন করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ জমি ও পরিকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি আগে থেকেই থাকা শিল্প পরিকাঠামোর পুনর্ব্যবহারও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    • ● শুধু তাই নয়, পুরনো শিল্প ইউনিট সম্প্রসারণ করেও সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনুমতির শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিছিয়ে থাকা এলাকাতেও শিল্পের প্রসারের পরিকল্পনা

    • ● শিল্পায়নের সুফল যাতে শুধু কয়েকটি পরিচিত শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে রাজ্যের নির্দিষ্ট মহকুমাগুলিকে অগ্রাধিকার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই সমস্ত এলাকায় বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ন্যূনতম শর্তও কম রাখা হবে।

    এই উদ্যোগের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প স্থাপিত হলে শুধু প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানই তৈরি হয় না, স্থানীয় পরিবহণ, আবাসন, বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়।

    • ● অগ্রাধিকার এলাকার তালিকা প্রতি তিন বছর অন্তর পর্যালোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে এলাকার শিল্প ও পরিকাঠামোগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনা করে নীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

    বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

    শিল্পোদ্যোগীদের কাছে আর্থিক নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। সেই দিকটি বিবেচনা করেই প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • ● সাধারণ শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, থ্রাস্ট সেক্টর অথবা অগ্রাধিকার এলাকার শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অগ্রাধিকার এলাকায় অবস্থিত থ্রাস্ট সেক্টরের ইউনিটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সীমা রাখা হয়েছে।

    তবে এই সহায়তা এককালীন নগদ অনুদান নয়। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে ধাপে ধাপে তা পাওয়া যাবে। বার্ষিক সীমা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য। নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছলে অথবা ১০ বছর পূর্ণ হলে, যেটি আগে হবে, সেই অনুযায়ী সহায়তা বন্ধ হবে।

    ভবিষ্যতের শিল্পে বাংলাকে এগিয়ে রাখার পরিকল্পনা

    • ● বিশ্বজুড়ে শিল্প ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, গ্রিন হাইড্রোজেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বাড়তি সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এই শিল্পগুলি আগামী দিনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলার শিল্প অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এলে তার সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, পরিকাঠামোতেও সহায়তা

    • ● বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে পৃথক বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পক্ষেত্র এবং একসঙ্গে অন্তত ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুবিধার আবেদন করা যাবে।
    • ● বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাস্তা, জল সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো পরিকাঠামো তৈরিতেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

    এই সংস্থান বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি ও মূলধনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে।

    উৎপাদন ও পরিষেবা—দুই ক্ষেত্রেই পৃথক সুবিধা

    • ● উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য এসজিএসটি-সংযুক্ত আর্থিক সহায়তা, পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ, প্রকল্পের জমিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ফেরত এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্যও পৃথক প্যাকেজ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এসজিএসটি-সংযুক্ত সহায়তা, ইপিএফ প্রতিপূরণ, বিদ্যুৎ শুল্কে সুবিধা এবং লিজে নেওয়া জায়গার ভাড়ায় সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
    • ● এছাড়া, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রকেও নির্দিষ্ট শর্তে শিল্পনীতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্ধারিত পরিষেবা দেওয়ার শর্ত পূরণ করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সুবিধা পেতে পারে। পিএম-শ্রী মডেলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সবুজ শিল্প ও প্রশাসনিক সরলীকরণে বিশেষ গুরুত্ব

    • ● আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম শর্ত পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। সেই বিষয়টিও নয়া শিল্পনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত সারচার্জ মকুবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলি বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে।
    • ● অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে একটিমাত্র আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ স্থির হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব ইনটেন্ট এবং উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ৪৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক সহায়তার দাবি মঞ্জুর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ইউনিটের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও ৩০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে।

    প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গতি আনা গেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যে সংস্থাগুলি একাধিক রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে, তাদের কাছে দ্রুত অনুমোদন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

    শিল্পের পুনরুত্থানে নীতিগত পদক্ষেপ, এবার নজর বাস্তবায়নে

    সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মহিলা কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিল্পে বিনিয়োগ—একাধিক দিককে একই ছাতার তলায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    এই নীতির ইতিবাচক দিক হল, শিল্প সংস্থাকে শুধু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি সহায়তাকে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য।

    অবশ্যই, কোনও শিল্পনীতি ঘোষণার পরই রাতারাতি শিল্পের চেহারা বদলে যায় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, জমি ও পরিকাঠামোর জোগান, দক্ষ শ্রমশক্তি, বিদ্যুৎ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক কাজ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ঘোষিত সুবিধা যাতে যোগ্য শিল্প সংস্থার কাছে সময়মতো পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    তবে নীতিগতভাবে শিল্পের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির যে বার্তা এই নয়া শিল্পনীতিতে দেওয়া হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এবার তার প্রমাণ মিলবে বাস্তব বিনিয়োগ ও নতুন শিল্প প্রকল্পের হাত ধরে।

  • Suvendu Adhikari: নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার আগে নবান্নে জিন্দাল, বাংলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন-কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

    Suvendu Adhikari: নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার আগে নবান্নে জিন্দাল, বাংলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন-কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক আগে রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তাঁর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করলেন জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে দু’পক্ষের এই বৈঠকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহাসিক মন্দিরের সংস্কার-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয় (Sajjan Jindal)। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটাই সজ্জন জিন্দালের প্রথম বৈঠক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক সম্পর্কে শুভেন্দু জানান, রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। সেই সূত্রেই এদিন জিন্দাল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সজ্জন জিন্দাল অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। তিনি আমার সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছেন।”

    শালবনীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা (Suvendu Adhikari)

    বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্প্রসারণ। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জনশুনানি সম্পন্ন হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “দ্বিতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিপুজো হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে জনশুনানি শেষ হয়ে যাবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমি সেখানে যাব বলে জানিয়েছি।” শুধু দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নয়, শালবনীতে তৃতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জিন্দাল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার সঙ্গে জিন্দাল গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ইউনিট গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিল্পপতি।

    স্থানীয় যুবকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার

    শিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জিন্দাল গোষ্ঠীর উদ্যোগে যে প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে প্রশিক্ষিত যুবকদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির পরিধি বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “দক্ষতা প্রশিক্ষণের জন্য আপনারা একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করেছেন। সেখানকার ছেলেদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের পরিধিও বাড়াতে হবে।”

    মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়নে আগ্রহ

    শিল্পের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগ নিতে আগ্রহী জিন্দাল গোষ্ঠী। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নে পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন জিন্দাল। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ নিতে চান তাঁরা।

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে চান তিনি। বিষয়টি বাণিজ্যিকভাবে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে করতে চান। আমি স্বাস্থ্যসচিবকে প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখতে বলেছি।”

    প্রাচীন মন্দির সংস্কারেও উদ্যোগ

    রাজ্যের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মন্দিরগুলির সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণেও আগ্রহ দেখিয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠী। বৈঠকে জিন্দাল জানিয়েছেন, অতীতে কেদারধামের সংস্কারের কাজেও তাঁরা যুক্ত ছিলেন। এবার বাংলার কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরের দায়িত্ব নিতে চান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রাচীন মন্দিরগুলির একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেই তালিকা জিন্দাল গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকে চার-পাঁচটি মন্দির বেছে নিয়ে সেগুলির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন শিল্পপতি।

    রাজ্যের শিল্প-পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট জিন্দাল

    বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে শিল্পগোষ্ঠী কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শ্রমিক সরবরাহ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জিন্দাল। উৎপাদন চালানোর ক্ষেত্রেও বড় কোনও সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে সিমেন্ট কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ওড়িশা থেকে নিয়ে আসতে হবে। সেজন্য পরিবহণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে অন্য সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন শিল্পপতি।

    লগ্নির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে জিন্দাল গোষ্ঠী

    বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করার কথা। তার আগেই জিন্দাল গোষ্ঠীর সঙ্গে এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে শিল্পমহল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন শিল্পনীতিতে কী কী বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জিন্দাল গোষ্ঠীকে বলা হয়েছে। নীতিটি পর্যালোচনা করার পর পরবর্তী বৈঠকে নিজেদের মতামত ও পরিকল্পনা জানাবে সংস্থাটি।

    তৃণমূল জমানা নিয়ে নীরব জিন্দাল

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পূর্বতন সরকারের আমলে শিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি জিন্দাল। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথার উল্লেখ করেছেন। জিন্দালের বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কও যথেষ্ট ভালো ছিল। তবে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে ট্রেড ইউনিয়নগুলির ভূমিকা শিল্পের পক্ষে ইতিবাচক ছিল না বলেই মনে করেন তিনি। এদিকে, গত পনেরো বছরের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জিন্দাল (Sajjan Jindal)। সব মিলিয়ে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ঠিক আগে জিন্দাল গোষ্ঠীর এই তৎপরতা রাজ্যের (Suvendu Adhikari) শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ধারণা শিল্পমহলের।

     

  • Suvendu DA Announcement: দীপাবলির উপহার! চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu DA Announcement: দীপাবলির উপহার! চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি মাসের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটাতে আরও চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। বুধবার রাতে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu DA Announcement) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, এই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। শুধু বকেয়া মিটিয়ে দেওয়াই নয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের কাজও রাজ্য দ্রুত সেরে ফেলতে চায় বলে জানান তিনি। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে আসার পর চলতি আর্থিক বছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর ঘোষণা

    নবান্ন সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক দায়ভারের অঙ্ক মেলাতেই এই সিদ্ধান্ত। ডিএ প্রসঙ্গে অতীতের টানাপড়েন টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তৈরি হিসেব বলছে কর্মীদের ১২ হাজার কোটি টাকা মতো প্রাপ্য ছিল। আগের সরকার কিছুটা দিয়ে গিয়েছিল। আমরা আসার পরেও কিছুটা দিয়েছি। তিন-সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা মতো দিলে সরকারি কর্মচারীদের বিষয়টা নিষ্পত্তি হবে।” তবে সরকারি কর্মীদের টাকা দ্রুত মিটলেও সাহায্যপ্রাপ্ত বা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও কিছুদিন। আদালতের তৈরি বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের উপরেই তাঁদের ভাগ্য নির্ভর করছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর এই কমিটির সদস্যদের কলকাতায় এসে সমস্ত পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মীদের দাবি খারিজ না করে সরকার যে পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চাইছে, তা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমরা মনে করি ডিএ কর্মচারী থেকে শুরু করে শিক্ষক সবার অধিকার। আমরা ২০ শতাংশ ডিএ সবাইকে দিয়েছি। সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ব্যাপারে কমিটি যা বলবে আমরা সেই ধরনের ব্যবস্থা নেব। কিন্তু নীতিগতভাবে আমরা মনে করি মহার্ঘভাতা সবার অধিকার।”

    আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মীরা

    রাজ্য মন্ত্রিসভায় সপ্তম বেতন কমিশন তৈরির ছাড়পত্র মেলায় আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পুরসভা, পঞ্চায়েত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অশিক্ষক কর্মীরাও। কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতন ফারাক কমাতে পে কমিশনের রূপরেখা তৈরির কাজ এগোচ্ছে। তবে এই বিরাট অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের পাশাপাশি রাজ্য যে অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও টান পড়তে দিচ্ছে না, সে কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা দীপাবলির আগে মানে ৭ তারিখের আগে ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা, লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা এবং ১ কোটি ৬৫ লক্ষ প্রাপককে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

  • Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল নগদ ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই বিপুল পরিমাণ টাকার হদিশ পেয়েছে (Suvendu Adhikari) ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। বুধবার পুলিশের তরফে এই টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। যে দলীয় কার্যালয় থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে, সেটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে (Hidden Cash Recovery)।

    সুমিতকে জেরা করেই টাকার হদিশ (Suvendu Adhikari)

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩১ অক্টোবর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগে সুমিতকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় সুমিত-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

    পুলিশি হেফাজতে সুমিতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সরিষার ওই দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ মজুত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কালীতলা থানা এলাকায় বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া টাকার যোগ থাকতে পারে। তবে এই অর্থের প্রকৃত মালিক কে, কী উদ্দেশ্যে তা দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল এবং কারা এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ন’বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট জমি থেকে বিভিন্ন সময়ে বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকা। এই কারবার থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও বেআইনি মাটি কাটার টাকা জমা পড়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

    এই ঘটনায় শুধু সুমিত নন, ডায়মন্ড হারবারের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এর আগে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলায় সুমিতের নাম জড়িয়েছিল (Suvendu Adhikari)।

    টাকা উদ্ধারে রাজনৈতিক তরজা, নিশানায় তৃণমূল

    সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলা দীর্ঘদিনের ঘটনা। তিনি বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ওরা সেখানে সীমাহীন টাকা তুলেছে। কোথায় রেখেছিল, তারও ঠিক ছিল না। এটা ওদের প্রতিদিনের রোজগারের মতো বিষয় ছিল।”

    নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে।”

    শুধু নগদ উদ্ধারের ঘটনা নয়, রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়সীমায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

    শুভেন্দুর প্রশ্ন, নতুন করে কোনও করের বোঝা না চাপিয়েই রাজস্ব আদায় এতটা বাড়ল কীভাবে? তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির টাকা কোথায় কোথায় রয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। ওই অর্থের একটি বড় অংশ আবাসন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং বেনামে জমি কেনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী, দুর্নীতির টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

    সরিষার দলীয় কার্যালয়ে নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘মিসফায়ার’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সেখানে টাকা রেখে যাওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলার কথা সম্ভবত তৃণমূল নেতারা ভুলে গিয়েছিলেন।

    পুলিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তৃণমূলের

    অন্যদিকে, সুমিতের হয়ে তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সুমিতকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশ তাঁকে ওই দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “যা জানানোর, আদালতে গিয়ে জানান।”

    তদন্তকারীদের নজরে টাকার উৎস ও মালিকানা

    সরিষার তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এত টাকা কেন রাখা হয়েছিল? কোথা থেকে এসেছিল এই অর্থ? বেআইনি মাটি কাটার কারবারের সঙ্গে এর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অর্থের সঙ্গে আরও কোনও রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিকের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Hidden Cash Recovery) সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে (Suvendu Adhikari) উদ্ধার হওয়া টাকার নেপথ্যে থাকা রহস্যের জট খোলাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • Suvendu Adhikari: পঞ্চায়েতে ৭১৯০ পদে নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর, নিউটাউনে তৈরি হবে নয়া ভবন

    Suvendu Adhikari: পঞ্চায়েতে ৭১৯০ পদে নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর, নিউটাউনে তৈরি হবে নয়া ভবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ প্রশাসনে কর্মী সঙ্কট মেটাতে বড়সড় নিয়োগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে মোট ৭১৯০ জন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মূলত পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারের ঘাটতি মেটাতেই এই নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউটাউনে পাঁচ একর জমির উপর নতুন পঞ্চায়েত ভবন তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

    বুধবার সল্টলেকের প্রশাসনিক ভবনে (Panchayat Staff Recruitment) পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাজকর্ম নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক-সহ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। বিভিন্ন জেলাশাসক এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকেরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সেখানে।

    বিপুল নিয়োগ (Suvendu Adhikari)

    বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোট ৭১৯০ জনকে নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “৭১৯০ জন নিয়োগ পাবেন। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুজোর পর বিধানসভার অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিল পাশ করানো হবে। মূলত ইঞ্জিনিয়ারের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করতেই এই নিয়োগ।”

    পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্মে অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়েও রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পঞ্চায়েত প্রধান বা উপপ্রধানের পদত্যাগের কারণে যেসব জায়গায় প্রশাসনিক কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে ওই সব জায়গায় প্রশাসকেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

    পঞ্চায়েত দফতরের পরিকাঠামো উন্নয়নেও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউটাউনে পাঁচ একর জমির উপর গড়ে তোলা হবে নতুন পঞ্চায়েত ভবন। প্রস্তাবিত বিধানসভা ও প্রশাসনিক ভবনের কাছেই এই নির্মাণকাজ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দফতরের কাজকর্মে মন্ত্রী ও আধিকারিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ, শান্তনু প্রামাণিক এবং (Suvendu Adhikari) আধিকারিক পি উলাগানাথনের কাজে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগ

    এদিন পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, “আমরা বেশিদিন দায়িত্বে আসিনি। আগে অনেক অনিয়ম হয়েছে। ৯৮ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিরোধীরা ক্ষমতায় ছিল। আসল কাজ হয় গ্রামে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে যাঁদের কাজের নথি ছিল, তাঁদের আধার সংযুক্তিকরণের সময় প্রায় ৩১ লাখ নাম বাদ পড়েছে।”

    গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের হিসাবও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাজ্য সরকার দ্রুত কাজ করছে। তাঁর দাবি, ২২ কোটি শ্রমদিবস তৈরি এবং ২২ হাজার কোটি টাকার কাজের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে ১২০০ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৬৫ লাখ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় সাত লাখ কর্মদিবস তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

    নতুন সরকারের কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পের (Panchayat Staff Recruitment) অগ্রগতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নতুন সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ২২ লাখ মানুষকে কাজ দিচ্ছে। আমাদের হাতে সময় কম। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আবেদন, ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজ্যে ফিরে এসে সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজের সুযোগ গ্রহণ (Suvendu Adhikari) করুন। গ্রামীণ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি এবং পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে বলেও বৈঠক শেষে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

     

LinkedIn
Share