Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা দিয়ে উত্তরবঙ্গে মিছিল করল বিজেপি। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে বিশাল মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলকে আক্রমণ শানান রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে কংগ্রেস, আঞ্চলিক দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে সামনে আনলেন ‘৪জি, ৩জি ও ২জি’ তত্ত্ব। মিছিলের মঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

    শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে শুরু হয়ে এয়ারভিউ মোড়ে শেষ হয় মিছিল (Siliguri Rally)। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি।

    মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে বিরোধী শিবিরের নেতারা এখন দিল্লিতে গিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এই প্রসঙ্গে বামপন্থী দলগুলিকেও নিশানা করেন তিনি।

    জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দুর কথায়, “এঁরা সবাই রাজনৈতিকভাবে পরাজিত। এখন দিল্লিতে গিয়ে একজোট হয়েছেন। বাংলাদেশে যেমন জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে, তেমন পরিস্থিতি ভারতেও তৈরি করতে চাইছে কিছু শক্তি। দেশকে বিভক্ত করার রাজনীতি এবং উৎখাত হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।”

    বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দিমাগি নকশাল, জিহাদি, জঙ্গি কিংবা দেশবিরোধী শক্তিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। রাজনীতি করতে হলে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। নরেন্দ্র মোদি যতদিন দেশের নেতৃত্বে থাকবেন, ততদিন তোমাদের পক্ষে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন।”

    পরিবারতন্ত্র বোঝাতে নয়া তত্ত্ব

    ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলগুলিকে নতুন আঙ্গিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রবণতাকে বোঝাতেই তিনি ৪জি, ৩জি ও ২জি-র উদাহরণ সামনে আনেন।

    শুভেন্দুর ব্যাখ্যায়, নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে নিয়ে ৪জি। শেখ আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লা ও ওমর আবদুল্লাকে নিয়ে ৩জি। একইভাবে করুণানিধি, এম কে স্ট্যালিন ও উদয়নিধি স্ট্যালিনের রাজনৈতিক পরিবারকেও ৩জি-র উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুলায়ম সিং যাদব ও অখিলেশ যাদব, লালুপ্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব এবং মুফতি পরিবারের উদাহরণ টেনে ২জি-র প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে এমন পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নজির নেই। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি দেশ ও দেশের স্বার্থ।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের অগ্রগতির দাবি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে বিশ্বের অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান ছিল দ্বাদশ স্থানে। বর্তমানে দেশ তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে এগিয়ে চলেছে।

    করোনা অতিমারির সময় প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন দেশকে টিকা সরবরাহের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “অতিমারি শুরু হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মধ্যে তিনটি প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশ্বের ৫৫টি দরিদ্র দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন (Siliguri Rally) নরেন্দ্র মোদি। এই কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছেন।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারতীয় পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতায় সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হয়েছিল এবং প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

    পুরভোটে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

    আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের নির্বাচনী সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে কলকাতা, হাওড়া ও শিলিগুড়িতেও জয়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ফেব্রুয়ারিতে শিলিগুড়িতেও বিজেপি ভালো ফল করবে।

    শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের মতো কলকাতাতেও আমরা জয় পাব। এরপর কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য।”

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গকে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রাখা হবে না বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    তাঁর ঘোষণার মধ্যে রয়েছে, রায়গঞ্জে সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, জলপাইগুড়িতে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ, বালুরঘাট, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শিলিগুড়িতে প্রযুক্তি অথবা ব্যবস্থাপনা শিক্ষার উচ্চমানের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা, হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং সামসিং-সহ বন্ধ হয়ে থাকা ২১টি চা বাগান ফের খোলার ব্যবস্থা করা।

    উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যবাসী ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী রাসপূর্ণিমায় কোচবিহারে উপস্থিত থাকার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    ভাওয়াইয়া ও বৈষ্ণব সংগীতশিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পীদের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি।

    পরিকাঠামো উন্নয়নে বৈঠক

    মিছিল শেষ হওয়ার পর শিলিগুড়ির পুর কমিশনার, প্রশাসক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

    বৈঠক শেষে রাজু জানান, কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের অনুমোদন আগেই মিলেছে বলে জানান তিনি।

    আগামী ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক ও শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলির সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    লেবং গ্রাউন্ডকে আধুনিক ক্রীড়া স্টেডিয়ামে রূপান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে (Siliguri Rally)।

    সব মিলিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ, পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই শিলিগুড়ির মিছিল থেকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

     

  • PPP Projects: পালাবদলের পর কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর, পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের

    PPP Projects: পালাবদলের পর কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর, পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বয় ও সহযোগিতার পথে হাঁটতে চাইছে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে এ বার পরিকাঠামো (PPP Projects) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত পরামর্শদাতাদের তালিকাকে স্বীকৃতি দিল রাজ্যের অর্থ দফতর। সম্প্রতি অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত কুমার মিশ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই (West Bengal) সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের তৈরি যৌথ অংশীদারি প্রকল্পের লেনদেন সংক্রান্ত পরামর্শদাতাদের তালিকা এ বার থেকে পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর হবে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্যানেল এ’ এবং ‘প্যানেল বি’—এই দুই বিভাগে সংশ্লিষ্ট পরামর্শদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। রাজ্য সরকার সেই তালিকা গ্রহণ করায় এখন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং সরকারি সংস্থাগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত বিশেষজ্ঞদের পরিষেবা নিতে পারবে।

    পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ (PPP Projects)

    প্রশাসনিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অবস্থান, উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের সঙ্গে অকারণ বিরোধে জড়িয়ে না পড়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে রাজ্যের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    দিল্লি ও কলকাতার মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও মজবুত করতে শীর্ষ আমলাদের নিয়মিত দিল্লি সফরের পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, মাসে অন্তত এক বা দু’বার কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে রাজ্যের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক উদ্যোগেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    তবে কেন্দ্রীয় তালিকা গ্রহণের অর্থ এই নয় যে, রাজ্যের নিজস্ব পরামর্শদাতা তালিকা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্য যে নিজস্ব পরামর্শদাতা প্যানেল তৈরি করেছিল, সেটিও বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এখন থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় তালিকা থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ সংস্থা বেছে নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট দফতর বা স্থানীয় প্রশাসন।

    প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার আশঙ্কাও কমবে

    প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, এই ব্যবস্থায় প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত পরামর্শদাতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিকল্প বাড়বে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সংস্থার অভাবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার আশঙ্কাও কমবে। প্রকল্পের (PPP Projects) পরিকল্পনা, আর্থিক কাঠামো তৈরি এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও আরও সহজ হতে পারে।

    নবান্নের এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। অতীতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেই সংঘাতের আবহ কাটিয়ে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে (West Bengal) নতুন সরকার।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, কেন্দ্রীয় নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌথ প্রকল্পের কাজ এগোলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে। এই নয়া সমন্বয়ের ফলে আদতে যে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে বেশ গতি (PPP Projects) আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

     

  • Nitin Nabin in Kolkata: ‘বাংলায় হেরে দিল্লিতে কাঁদছেন’, কলকাতায় দাঁড়িয়ে মমতাকে নিশানা! রাহুলকে বিদেশি শক্তির টুলকিট বললেন নবীন

    Nitin Nabin in Kolkata: ‘বাংলায় হেরে দিল্লিতে কাঁদছেন’, কলকাতায় দাঁড়িয়ে মমতাকে নিশানা! রাহুলকে বিদেশি শক্তির টুলকিট বললেন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই পুরোপুরি মমতামুক্ত হয়েছে। নিজের রাজ্যে হারের ধাক্কা সামলাতে না পেরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন। এবার দিল্লিকেও দ্রুত রাহুলমুক্ত করতে হবে। সোমবার শহর কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একযোগে নিশানা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin in Kolkata)। এদিন নিতিন বলেন, ‘‘বাংলা বিজেপিময়, ৪ মে অরাজকতা শেষ হয়েছে। বাংলায় হেরে দিল্লিতে গিয়ে কাঁদছেন মমতা। বিরোধীদের কাছে ব্যক্তিস্বার্থ আগে, দেশ পরে। বিজেপির কাছে দেশ সবার প্রথমে, বাকি সব পরে। রাহুলের নেতৃত্বে দেশে অরাজকতার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। গণতন্ত্র বাঁচানোই বিজেপির আসল উদ্দেশ্য। মমতা-মুক্ত বাংলা, এবার দিল্লি রাহুল-মুক্ত করব।’’

    ভোট বাঁচাও-এর পরিবর্তে গণতন্ত্র বাঁচাও

    রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও কর্মসূচি করেছিল ‘ইন্ডিয়া’ (INDI Alliance)। সোমবার তার পাল্টা কলকাতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হল। কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin), রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পদযাত্রা শেষে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূলের বিগত শাসনকাল, ও দিল্লিতে কংগ্রেস শাসনকে একযোগে নিশানা করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। এই জনসভার মঞ্চ থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে তৃণমূল ও বিরোধীদের তুলোধনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘বিরোধীদের কাছে এসআইআর যাই হোক না কেন, আমাদের কাছে এসআইআরের আসল অর্থ হল – অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও।’’

    পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে তোষণের রাজনীতি

    বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘দুর্নীতি ও জেলযাত্রা থেকে নিজেদের বাঁচাতে, পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এবং তোষণের রাজনীতিকে ব্যাকডোরে ফিরিয়ে আনতে যারা আজ একজোট হয়েছে, তাদের মনে করিয়ে দিই – ২০২৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ ২ কোটি ৯২ লক্ষ ভোট দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে নির্বাচিত করেছে। তাই তারা আজ বাংলায় অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে।’’ এর পাশাপাশি দিমাগী নকশাল, জেহাদি, মাওবাদী, অরাজকতাবাদী ও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দেন যে, আগামী কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে বিরোধীদের এর উপযুক্ত জবাব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

    পুরসভা ভোটে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকারের বার্তা

    এদিনও পুরসভা ভোট প্রসঙ্গে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকারের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা রেখে আপনারা রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়েছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিতে আপনাদের পুরসভাগুলিতে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ দিতে হবে। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা আমাদের দিতে হবে, তবেই শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।’’

    বিদেশি শক্তির ইশারায় চলেন রাহুল

    মমতা-ইন্ডি জোটকে আক্রমণ করে এদিন নিতিন নবীন বলেন,‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কড়া জবাব দিয়েছে মমতাকে। বাংলার মানুষ মুক্তি পয়েছেন মমতার হাত থেকে। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি গড়াগড়ি খাচ্ছে। রাহুল গান্ধী ভোটের আগে মমতার হয়ে বড় বড় কথা বলেছিল। এখন মমতা হেরে গিয়ে দিল্লিতে গিয়ে কাঁদছে। এখনও রাহুলকে পরামর্শ দিতে চাই। নিজেদের ব্যর্থতা থেকে শিখুন, না হলে দেশে আর কংগ্রেস থাকবে না। রাহুল শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবে। দুর্নীতি, তোষণ, পরিবারবাদ বাঁচাতে বিরোধীদের জোট। বিদেশি শক্তির ইশারায় চলেন রাহুল গান্ধী। ১৪০ কোটি জনতার কথা ভাবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবোই, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও সরাব।’’

    তৃণমূলের গুন্ডাগিরি বন্ধ করে দিয়েছে শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শোনা গেল বিজেপি সভাপতির গলায়। তিনি বলেন,‘‘অনুপ্রবেশকারী হঠাতে বিরোধীদের রামলীলা-যাত্রা। যখন কেউ মোদিজিকে অপমান করেন, মানুষ তখনই তাদের সরিয়ে দিয়েছে। বাংলায় রাম রাজ্য চলছে, কংগ্রেস, তৃণমূলকে দেখলেই দয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে বলব জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করুন। আপনি সরকার বানিয়েছেন বাংলার মানুষকে পরিষেবা দেবেন। রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৯-এ ফের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। ২০২৯-লালকেল্লায় তিরঙ্গা উড়াবেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তোলাবাজি সমাপ্ত, তোলাবাজি এখন তালাবন্ধ। তৃণমূলের গুন্ডাগিরি বন্ধ করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী।’’

    বাংলা এখন বিজেপিময়

    জাতীয় পতাকা হাতে কয়েকশো কর্মী-সমর্থক এদিন কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন। বিরোধী জোটের এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা হিসেবেই দেশজুড়ে এই কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এদিন বলেন, ‘‘বাংলা এখন বিজেপিময়, বাংলা এখন রামময়। বাংলায় রামরাজ্য ফিরে এসেছে।’’ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান এবং তাঁদের কোনও অধিকার না দেওয়ার নীতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিজেপির বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    রাহুল বিদেশি শক্তির টুলকিট

    ধর্মতলার সভা থেকে রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করেন নিতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, নেপাল-সহ ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলির ‘টুলকিট’হিসেবে কাজ করছেন রাহুল। বিজেপি সভাপতির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অরাজকতা তৈরির পিছনেও ওই শক্তিগুলির ভূমিকা রয়েছে। রাহুলের নেতৃত্বেই সেই শক্তিগুলি সক্রিয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলা ও বিহারের পর উত্তরপ্রদেশেও বিরোধী শিবিরের পতন নিশ্চিত। কংগ্রেসের অতীতের দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। টুজি কেলেঙ্কারি-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের পরাজয় থেকে রাহুল গান্ধীর শিক্ষা নেওয়া উচিত। ২০১৪ সালে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার বাইরে এসেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে নিতিন নবীনের বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নির্বাচন কমিশনের উপর চাপিয়ে লাভ নেই। তাঁর প্রশ্ন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণেই যদি বিরোধীরা হেরে থাকে, তা হলে কেরল ও তামিলনাড়ুতে তারা জয় পেল কী ভাবে? তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ছ’কোটি নামের মধ্যে তিন কোটি অনুপ্রবেশকারীর প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ২০২৯ সালে নরেন্দ্র মোদিই ক্ষমতায় থাকবেন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নীতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কংগ্রেস নেতারা যখনই কটূক্তি করেছেন, তখনই দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছেন। বিরোধীদের ২০২৯ সালের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি । তাঁর দাবি, যারা বলছে ২০২৯ সালে মোদি আর ক্ষমতায় ফিরবেন না, তাদের জেনে রাখা উচিত, ওই নির্বাচনেও নরেন্দ্র মোদিই ফিরে আসবেন। বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, বিরোধী দলগুলি ভোটের সময় সক্রিয় থাকলেও ভোট মিটে গেলে অনেক সময় জনজীবন থেকে উধাও হয়ে যায়। অন্য দিকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা ২৪ ঘণ্টা মানুষের পাশে থেকে কাজ করেন বলে দাবি তাঁর ।

  • BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন) ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের পালটা এবার রাজপথে নামল বিজেপি (BJP)। সোমবার কলকাতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগান সামনে রেখে পদযাত্রা করে গেরুয়া শিবির। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হয় ধর্মতলায় গিয়ে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা হাতে কয়েকশো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকও এই পদযাত্রায় অংশ নেন (Kolkata Rally)।

    সোমবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছন নীতিন নবীন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর দু’জনে কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছন। তাঁদের ঘিরে তখন থেকেই এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ে কলেজ স্কোয়ার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। মিছিলের সামনের সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় নীতিন নবীন, শুভেন্দু এবং শমীককে। কলেজ স্ট্রিট থেকে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা ধরে মিছিল এগিয়ে যায় ধর্মতলার দিকে।

    গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা (BJP)

    কর্মসূচি শুরুর আগে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদযাত্রার আয়োজন। তিনি বলেন, “সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে রয়েছেন মানুষ।”

    একই সুর শোনা যায় বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের গলায়ও। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই কাজে বিদেশি শক্তির আর্থিক মদত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী শিবির। বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন। এই আন্দোলনের পালটা হিসেবে দেশজুড়ে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে একাধিক শহরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    মমতা-রাহুলকে নিশানা

    সোমবার কলকাতার পাশাপাশি বিহারের ভাগলপুরেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন নীতিন নবীন। সেখানে এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। বিজেপির এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হায়দরাবাদে জাতীয় পতাকা কাঁধে পদযাত্রায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (BJP)।

    তবে কলকাতায় বিজেপির এই পদযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির। সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এই কর্মসূচির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের আন্দোলনের তেমন কোনও প্রভাব এ রাজ্যে পড়েনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মাত্র ছ’মাস হয়েছে। তাহলে এখনই কলকাতায় এই ধরনের মিছিলের প্রয়োজনীয়তা কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের আবহে বিজেপির এই পদযাত্রা নিছক একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং পালটা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টাও (Kolkata Rally)। একদিকে বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলা, অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়ানো এবং জনসমক্ষে নিজেদের (BJP) অবস্থান তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিহার থেকে কলকাতা, পরপর দুই রাজ্যে নীতিন নবীনের কর্মসূচি ঘিরে এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

     

  • Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আড়াই লাখ আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua People) সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার ঠাকুরনগরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মতুয়া গোসাঁই সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অথচ যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা ঢের বেশি। এই পরিস্থিতিতে শুনানি ও আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আমরা শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করব এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

    মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “এই সরকার আপনাদের জন্য।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের অন্য রাজ্যগুলিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও এ রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু যোগ্য মানুষ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    শুভেন্দু আরও ঘোষণা করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া তফসিলি জাতিভুক্ত যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে তফসিলি জাতির শংসাপত্রও দেওয়া হবে। এর ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।

    মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষার ভাতা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা যা প্রয়োজন মনে করবেন, নিয়ম মেনে সরকার তার ব্যবস্থা করবে। এই সরকার আপনাদেরই।”

    এ দিন প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মতুয়া মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মাসিক দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য পৃথক মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভা করার উদ্যোগ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঠাকুরনগরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী রাজ্য বাজেটে এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হতে পারে। পৃথক পুরসভা গঠিত হলে এলাকার নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালটির নামকরণ করা হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক নেত্রী বড়মার নামে। এই হাসপাতাল তৈরি হলে ঠাকুরনগর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি করা হবে। মন্দিরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে চান।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজ ঘোষণা করছি, মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হবে। ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি হবে। ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত থাকব।”

    মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোরও চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ বারুণী মেলাকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সম্প্রসারণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া ভোটের গুরুত্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রে এই সম্প্রদায়ের ভোট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল দলটি। পরবর্তী সময়েও রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে মতুয়া ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থেকেছে।

    এই সম্প্রদায়ের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়া পরিবারের একটা বড় অংশের পূর্বপুরুষের শিকড় অধুনা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা বহু পরিবারের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি এখনও (Matua People) গুরুত্বপূর্ণ।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে অথবা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

    মমতাকে দুষলেন শুভেন্দু

    ঠাকুরনগরে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রকৃত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। বরং সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে আগের সরকার প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করেছিল।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের এবং তাঁদের সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁদের জন্য কোনও কাজই করেননি। বরং সরাসরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। আগামী দিনে আমি তাঁদের জন্য কাজ করব।”

    ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনও বিভাজন থাকবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের ঐক্য বজায় রাখা এবং সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, তাঁদের সমর্থনেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। ঠাকুরনগরের জন্য কিছু করতে পারলে সেটাকেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের উত্থান

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে। হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে অবিভক্ত বাংলায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মূলত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষকে সংগঠিত করে সামাজিক সাম্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় সংস্কারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    পরবর্তীকালে হরিচাঁদ ঠাকুরের পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন। তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শের ভিত্তিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষত তফসিলি জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। নমঃশূদ্র সম্প্রদায় (Matua People) পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত।

    দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বহু পরিবারের ভারতে চলে আসার কারণে মতুয়া সমাজের একাংশের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।

     

  • BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজপথে মহা মিছিলের (BJP Rally in Kolkata) ডাক দিল গেরুয়া শিবির। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nabin in Kolkata) নেতৃত্বে আদ, সোমবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ শীর্ষক মহামিছিল হতে চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলায় জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হবে মিছিল, সমাবেশ।

    কারা কারা থাকবেন?

    আজ মেগা এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিলে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এদিনের মিছিলে পা মেলাবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল, অর্জুন সিং, ক্ষুদিরাম টুডু, ইন্দ্রনীল খাঁ, সুমনা সরকার, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, দীপঙ্কর জানা, উমেশ রাই-সহ মন্ত্রীরা। উপস্থিত থাকবেন সজল ঘোষ, বিজয় ওঝা, রীতেশ তিওয়ারি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশিস ধর, শঙ্কর শিকদার, কৌস্তভ বাগচী, রাজেশ কুমার, দেবদাস মণ্ডল, শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, বিমান ঘোষ, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম ঘোষ – সহ বিধায়করা। এছাড়া, পাঁচ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিজন গোস্বামী, শশী অগ্নিহোত্রী, সৌমিত্র খাঁ সহ বিভিন্ন পদাধিকারীদের থাকার কথা।

    বিশেষ বিমানে কলকাতায় নিতিন

    দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছোনোর কথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের। বিকেলে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করবে বিজেপি। সেখানে যোগ দেবেন নিতিন। মিছিল শেষে বক্তৃতাও করার কথা তাঁর। ইতিমধ্যেই রবিবার রাতে কর্মসূচি স্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অমিতাভ চক্রবর্তী, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ অন্যান্য পদ্ম নেতৃত্ব প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে বিরোধীরা। সরব হচ্ছে ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও। রবিবার ইন্ডি জোটের দিল্লির আন্দোলনে শামিল হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর ঠিক পরের দিনই কলকাতায় বিজেপির মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে।

    বিরোধীদের আন্দোলন অরাজকতা সৃষ্টি করছে

    বিরোধীদের আন্দোলন বর্তমানে আর শুধু রাজনীতির দৈনন্দিন কর্মসূচিতে আটকে নেই। তা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তেমনটাই মনে করছেন দেশের শাসক দল বিজেপি। এই আবহে বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে পদ্ম শিবির। কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও।’ গত শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও শীর্ষক সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। গত শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতাতেও একই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যে দুই কর্মসূচির প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা

    রবিবার একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করে বিজেপি। একদিকে যখন ভোটচুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে দিল্লিতে মেগা কর্মসূচি করছে বিরোধী জোট, সেদিনই একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করল বিজেপি। হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হয় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা। কোথাও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। সিমলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় নেতৃত্ব দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মিছিলে ছিলেন অনুরাগ ঠাকুর-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।

  • Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে এবার রাজনৈতিক হিংসায় বলি পরিবারগুলির (Bengal Political Violence) একজন সদস্যকে স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ২০০১ সাল থেকে গত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার (Suvendu Adhikari)।

    বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য জেলাশাসকদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞাপন প্রকাশ কবে (Bengal Political Violence)

    নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের বিষয়ে শীঘ্রই সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে চাকরির জন্য আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কোথায়, কোন সালে, কত তারিখে এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, পরিবারের কোন সদস্য চাকরির আবেদন করছেন, নিহতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তাঁর বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণও জমা দিতে হবে।

    এরপর শুরু হবে পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু রাজনৈতিক হিংসার কারণে হয়েছিল কি না, আবেদনে দেওয়া তথ্যের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখবে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তদন্তের রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জেলাশাসক পরিবারের মনোনীত একজন সদস্যের চাকরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    নবান্নের একটি সূত্রের দাবি, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাউকে স্থায়ী সরকারি পদে নিয়োগের এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে এই প্রথম। স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, অতীতে এই ধরনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পুলিশে হোমগার্ড অথবা কনস্টেবল পদে কাজের সুযোগ দেওয়া হত। তৃণমূল সরকারের আমলে নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও নিয়োগের নজির রয়েছে। পরবর্তী সময়ে চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগও হয়েছিল। তবে এবার প্রত্যেককে চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী সরকারি কর্মী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কী বলছে সরকার

    সরকারের যুক্তি, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বহু ব্যক্তির পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুতে গোটা পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। বাম আমলে তৃণমূল কর্মী কিংবা মাওবাদীদের হাতে নিহত সিপিএম নেতা ও কর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও নিয়ম মেনে (Bengal Political Violence) আবেদন করতে পারবেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক।

    রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “বিজেপি সরকারে থাকলেও আমরা দলীয় বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। অতীতে কোনও সরকার এই ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বরং শাসক দল রাজনৈতিক হত্যার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। গত ২৫ বছরে অন্তত ৪৫০ জন বিজেপি নেতা ও কর্মী খুন হয়েছেন।”

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন(Suvendu Adhikari), “রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হিংসার শিকার হওয়া সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পরিবার যেন এই সুবিধা পান। কোনও রকম দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা চলবে না (Bengal Political Violence)।”

    সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে যোগ করেছে নয়া মাত্রা। উপকৃত পরিবারগুলির মুখে কবে হাসি ফোটে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দাবিতে কলকাতায় বিশাল কৃষক সমাবেশের আয়োজন করল ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh) পশ্চিমবঙ্গ শাখা। ৩০ অক্টোবর ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশ ২০২৬’-এ রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কৃষি ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানান (Farmers Demands) তাঁরা।

    সমাবেশের শেষে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে ২১ দফা দাবিসনদ গ্রহণ করা হয়। কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যকর করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সেচের ব্যবস্থা, সারের পর্যাপ্ত জোগান, জৈব চাষে উৎসাহ, মৎস্যচাষের উন্নয়ন এবং পশুপালকদের আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলি দাবিসনদে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কিষান সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি কে সাই রেড্ডি, সর্বভারতীয় মহিলা সংযোজক মঞ্জু দীক্ষিত, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীনিবাস, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি অনিমেষ পাহাড়ি এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস সরকার-সহ সংগঠনের একাধিক পদাধিকারী ও প্রতিনিধিরা।

    সমাবেশে কৃষকরা কৃষি উৎপাদন, কৃষিজ পণ্যের বিপণন এবং কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কাজকর্মের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে শুধু ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করলেই হবে না। পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত কৃষি পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরকারের কার্যকর সহযোগিতা।

    মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২১ দফা দাবিসনদ পেশ (Bharatiya Kisan Sangh)

    সমাবেশের পর ভারতীয় কিষান সংঘের নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দাবিসনদ তুলে দেওয়া হয়।

    প্রতিনিধিদলে ছিলেন কে সাই রেড্ডি, মঞ্জু দীক্ষিত, শ্রীনিবাস, অনিমেষ পাহাড়ি এবং আশিস সরকার-সহ কৃষক সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

    সাক্ষাৎপর্বে প্রতিনিধিরা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যস্তরের সমাবেশে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়। কৃষকদের সম্মিলিত মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি এই দাবিসনদে কৃষি উৎপাদন, কৃষকদের আয় এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সমাজের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংগঠনের উত্থাপিত দাবিগুলি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে যাতে কৃষকদের একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, নভেম্বর মাসে ভারতীয় কিষান সংঘের প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

    কৃষি ও মৎস্য দফতরের সঙ্গে বৈঠক

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত নভেম্বরের বৈঠকে কৃষি দফতর, মৎস্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

    ওই বৈঠকে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ এবং দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলির সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজাই হবে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংগঠনের দাবিগুলি শুধু প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে মৎস্যচাষ, পশুপালন, কৃষি গবেষণা, সেচ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের জোগানের মতো বিষয়ও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠন।

    ভারতীয় কিষান সংঘের আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষক সমাজ এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে।

    ধানের কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা দর নিশ্চিত করার দাবি

    ২১ দফা দাবিসনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। ভারতীয় কিষান সংঘের বক্তব্য, উৎপাদন খরচ ও কৃষকদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। শুধু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো দাম নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশেষ করে ধান কেনার ক্ষেত্রে কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে ধানচাষিদের আয় বাড়বে এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে সংগঠন।

    জৈব চাষের প্রসার এবং জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের জন্য সুস্থ ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে বাজারে পৌঁছতে পারে এবং তাঁরা যাতে উপযুক্ত দাম পান, তার জন্য বাজারের সুযোগ বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবি

    কৃষকদের অন্যতম বড় সমস্যা সারের কালোবাজারি। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ। চাষের মরশুমে যাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণ সময়মতো এবং নির্ধারিত দামে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারের উপর নির্ভরশীলতা এবং অতিরিক্ত দামে সার কেনার বাধ্যবাধকতা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি উঠেছে।

    কৃষিকাজের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন। বিশেষ করে সেচের কাজে বৈদ্যুতিক পাম্প এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীল কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    অঞ্চলভিত্তিক সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকার ভৌগোলিক ও কৃষিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ পরিকাঠামো এবং জল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের মতে, উন্নত সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নেও বিশেষ নজর

    কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নের উপরেও গুরুত্ব দিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    মৎস্যচাষিদের জন্য চুন, নুন এবং জলে অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিনামূল্যে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুকুরের জলের গুণমান বজায় রাখা, মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উপকরণগুলির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠন।

    কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে জমি, বীজ, সার এবং জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে সুসংহত কৃষিনীতি প্রণয়নের দাবি উঠেছে। কৃষকদের বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে গবেষণা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে (Farmers Demands)।

    পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার দাবিও রয়েছে ২১ দফা দাবিসনদে। সংগঠনের বক্তব্য, গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পশুপালনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও সরকারি আর্থিক সহযোগিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন এবং কৃষি গবেষণাকে একই উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার পক্ষেই সওয়াল করেছে সংগঠন (Bharatiya Kisan Sangh)।

    কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে অঙ্গীকার

    নির্দিষ্ট দাবিগুলির পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কৃষক সমাজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    সংগঠনের তরফে উন্নতমানের বীজ, পর্যাপ্ত হিমঘর, কৃষক মান্ডির সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হলে ফসল তোলার পর ক্ষতির পরিমাণ কমবে, কৃষকদের বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়বে এবং উৎপাদিত ফসলের জন্য তাঁরা আরও ভালো দাম পেতে পারবেন।

    সমাবেশে রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে আসা প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকে কৃষক সমাজের সম্মিলিত ঐক্যের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় কিষান সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখা। কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য অংশগ্রহণকারী কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে (Farmers Demands) সংগঠন।

    কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি আগামী দিনেও রাজ্য সরকারের সামনে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত সমন্বয় বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে কৃষক সংগঠন। সেই বৈঠকে ২১ দফা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh)।

     

  • West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছুরি-কাঁচি ছাড়াই অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দাবি, কোথাও আবার চিকিৎসার খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে জমা পড়েছে বিল। এমনকী, যে চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেই নেই, সেই চিকিৎসার নামেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে (West Bengal)। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কিংবা অস্তিত্বহীন স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে (Swasthya Sathi Project Scam) বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো উপভোক্তার আড়ালে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর।

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “সবে ওপেনিং ব্যাটসম্যান নেমেছে, তাতেই ২৫-৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। পুরো ইনিংস এখনও বাকি। এটা তো টি-২০ ম্যাচ নয়, তাই সময় লাগবে। আস্তে আস্তে দেখবেন আরও কত তথ্য বেরিয়ে আসে।”

    কীভাবে চলত দুর্নীতির কারবার? (West Bengal)

    স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা এবং উপভোক্তার মধ্যে সংযোগ রক্ষার কাজ করে তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা। চিকিৎসার খরচ বাবদ দাবি যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে তারা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই সংস্থাগুলির একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

    বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার বিলের দুই থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায় করত অভিযুক্ত তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থাগুলি। দাবি মতো টাকা না দিলে আটকে দেওয়া হত চিকিৎসার বিলের টাকা। এই চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কয়েক জন আধিকারিকের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বিল পাশ করানো সম্ভব হত না বলেও অভিযোগ।

    ৪০ হাজারের অস্ত্রোপচারে বিল ২ লাখ টাকা!

    প্রতিটি অস্ত্রোপচারের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নির্দিষ্ট আর্থিক প্যাকেজ রয়েছে। অভিযোগ, সেই প্যাকেজের অঙ্ক বাড়িয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করত কিছু নার্সিংহোম। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, ৪০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচারের প্যাকেজকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। নার্সিংহোমের তরফে বেশি টাকার আবেদন জমা পড়ার পর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের অনুমোদনে তা পাশ হয়ে যেত বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ ভাগ হয়ে যেত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে।

    এখানেই শেষ নয়। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের নির্ধারিত চিকিৎসা প্যাকেজের বাইরে থাকা কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দেখিয়েও বিল জমা দেওয়া হত বলে (West Bengal) অভিযোগ।

    একজনের অস্ত্রোপচারে চারজনের কার্ড ব্যবহার!

    দুর্নীতির অভিযোগের আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক সামনে এনেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন। সংগঠনের প্রতিনিধি চিকিৎসক রাজীব পাণ্ডের বক্তব্য, একটি পরিবারের চার সদস্যের নাম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নথিভুক্ত ছিল। পরিবারের একজন সদস্যের অস্ত্রোপচার হলেও বাকি তিনজনের নামও প্রকল্পের আওতায় ব্যবহার করে আটকে দেওয়া হত। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নার্সিংহোমে অতিথি হিসেবে থাকার ব্যবস্থাও করা হত বলে অভিযোগ।

    অভিযোগ, বাস্তবে ২০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচার হলেও ভুয়ো অস্ত্রোপচারের হিসাব দেখিয়ে বিল তৈরি করা হত ৮০ হাজার টাকার। অর্থাৎ, প্রকৃত চিকিৎসার খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা হত।

    ২৫ লাখেরও বেশি ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান?

    সম্প্রতি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন। সেই যাচাইয়ের কাজেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন উপভোক্তার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।

    মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল বৃহস্পতিবার এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, অস্তিত্বহীন উপভোক্তাদের নামেও বছরের পর বছর সরকারি কোষাগার থেকে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ লাখ ভুয়ো বা অদৃশ্য উপভোক্তার কারণে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, উপভোক্তা যাচাইয়ের সূত্রে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কার্ডের সন্ধান পাওয়ার দাবিও সামনে (West Bengal) এসেছে।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের

    এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল এবং সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্ত হাসপাতাল, নার্সিংহোম, তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তা উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে (Swasthya Sathi Project Scam) হবে।

    সংগঠনের বক্তব্য, কেবল অভিযুক্ত কোনও সংস্থাকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বাদ দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা জরুরি।

    স্বাস্থ্যসাথী-আয়ুষ্মান ভারত বাতিলের দাবি চিকিৎসক সংগঠনের

    অন্যদিকে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত—দুই প্রকল্পই বাতিলের দাবি তুলেছে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের দাবি, গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।

    তাঁদের মতে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিবর্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়ানোর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাতে রাজ্যের সমস্ত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সংগঠনের অভিযোগ, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলির অন্যায্য মুনাফার সুযোগ বাড়ছে (Swasthya Sathi Project Scam)।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা, অতিরিক্ত বিল, অস্তিত্বহীন অস্ত্রোপচার এবং সরকারি আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের। সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে (West Bengal), এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলের।

     

  • Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শিল্পের বিকাশে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দিলেন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি অশোককুমার লাহিড়ি (Ashok Lahiri)। তাঁর মতে, ব্যবসা ও শিল্পের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়মকানুন ছেঁটে ফেলে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি। নীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে (Industry Growth) তা শিল্পের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। রাজ্যের নতুন সরকারের কাছেও শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যথেষ্ট প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। শুক্রবার কলকাতায় বেঙ্গল চেম্বার্স অফ কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন লাহিড়ি। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরেই শিল্পবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসা শুরু করা কিংবা সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারান। তাই এই দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ করা প্রয়োজন।

    কী বলছেন অশোক (Ashok Lahiri)

    তিনি বলেন, “ব্যবসা শুরু করতে বা সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই সমস্যা কমানো জরুরি। সরকারের কাছে কোনও নাগরিকের তথ্য আগে থেকেই থাকলে তাঁকে বার বার একই তথ্য জমা দিতে বলা উচিত নয়।” তবে শিল্পের বিকাশের জন্য সমস্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার পক্ষে নন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণের বদলে প্রয়োজন সময়োপযোগী ও জনস্বার্থবাহী নিয়মকানুন। অশোক বলেন, “উন্নয়নের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন নিয়ম তৈরি করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে, অথচ ব্যবসা ও শিল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে না।”

    ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাস তুলে ধরে অশোক জানান, ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সাহায্য করেছে। ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের ব্যবসা করার সহজতার তালিকায় ভারতের অবস্থান ছিল ১৪২। পরবর্তী সময়ে সংস্কারের ফলে ২০২০ সালে সেই অবস্থান উন্নীত হয়ে ৬৩-তে পৌঁছয় (Ashok Lahiri)।

    তবে শুধু কেন্দ্রীয় উদ্যোগে বাংলার শিল্পের পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য কেন্দ্র, রাজ্য এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছেন অশোক। নতুন রাজ্য সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য, “এই সরকারের কাছে আমার অনেক আশা রয়েছে। অতীতে কী কী ভুল হয়েছে, তা যেহেতু সরকার জানে, তাই প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি তারা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়িত করবে (Industry   Growth) বলে আমার বিশ্বাস।”

    শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্য

    অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও বাংলার শিল্পক্ষেত্রের সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, একসময় বাংলা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু জমির অপ্রতুলতা, সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগের গতি ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কেন্দ্র ও রাজ্যকে যৌথভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    শিল্পমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ৩৩টি প্রকল্পে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে রাজ্যের প্রকৌশল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির সংযোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে (Ashok Lahiri)।

    নতুন শিল্পনীতিতে জমি বরাদ্দ, কারখানা স্থাপনের অনুমোদন এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাপস। শিল্পোদ্যোগীদের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনতে চান তিনি। কোন সরকারি নিয়মের কারণে শিল্প স্থাপনে অসুবিধা হচ্ছে এবং কোথায় অনুমোদন পেতে দেরি হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে শিল্পপতিদের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজ্যের লক্ষ্য

    তাপসের বক্তব্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও লালফিতের ফাঁস কাটিয়ে শিল্পের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই রাজ্যের লক্ষ্য। সেই পথেই বাংলার শিল্পক্ষেত্রকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করাতে চায় (Industry   Growth) সরকার। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগ এবং নতুন শিল্পনীতি প্রণয়নের পরিকল্পনার মধ্যে অশোককুমার লাহিড়ীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক সংস্কার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে রাজ্য সরকার (Ashok Lahiri)।

     

LinkedIn
Share