Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডার হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। বেড়েছে বরাদ্দ। অন্যদিকে, যুবসাথী হয়েছে যুবশক্তি। এবার সেই তালিকায় জুড়ল আরও দু’টি নাম। কন্যাশ্রী (Kanyashree) ও সবুজসাথী (Sabujsathi) প্রকল্প। তৃণমূল সরকারের আমলের এই দু’টি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হল। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রকল্পের নতুন নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নারীকল্যাণ ও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। অন্য দিকে, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বণ্টনের বহুল পরিচিত প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথি’।

    পালিত হবে ‘কন্যারত্ন দিবস’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া দু’টি জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হলেও এর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তার কাঠামোয় কোনও প্রকার বদল আসবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতি বছর ১৪ অগস্ট রাজ্য জুড়ে যে ভাবে ‘কন্যাশ্রী দিবস’ উদ্‌যাপন করা হত, সেই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকবে। তবে এ বার থেকে তা নতুন পরিচয় নিয়ে ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।”

    কন্যাশ্রী থেকে কন্যারত্ন

    ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছিল। এই প্রকল্পে ছাত্রীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মূলত এই প্রকল্পের লক্ষ্য় হল ছাত্রীদের স্কুলছুট আটকানো, বাল্যবিবাহ রোধ ও ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা মূলত তিন ধাপে দেওয়া হত। প্রথমে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর এক হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া। এরপর পরের ধাপে অবিবাহি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া ছাত্রীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। এছাড়া, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

    সবুজ সাথী হল সারথি

    সবুজ সাথী প্রকল্পে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হত সাইকেল। বিনামূল্যেই সাইকেল বিতরণ করত বিগত সরকার। নতুন সরকারও একইভাবে সাইকেল বিতরণ করবে। শুধু নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে ‘সারথি’। উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না ৷ প্রতিশ্রুতি মতোই সব প্রকল্প চালু রাখা হচ্ছে। উল্টে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। শুধু বদলে দেওয়া হচ্ছে বিগত সরকারের দেওয়া প্রকল্পের নাম।

  • Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রথম বার জনগণনা শুরু হচ্ছে ভারতে। শনিবার জনগণনার (Census) প্রথম ধাপ শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal Census)। রয়েছে সেল্‌ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া (Digital Census), যাতে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন নাগরিকেরা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকেরা অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে প্রথমে। জনগণনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য সেখানেই পূরণ করা যাবে।

    কী ভাবে, কোথায় তথ্য নথিভুক্ত করবেন

    সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইনের পর দেখা যাবে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিকল্প। যিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁকে সেই রাজ্য ‘সিলেক্ট’ করতে হবে। তার পর দিতে হবে ক্যাপচা (বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী আসলে মানুষ, না কোনও ক্ষতিকর কম্পিউটার বট, তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়)। পরের ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম প্রদান করতে হবে। পাশেই থাকবে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার জায়গা। এটি ঐচ্ছিক। তৃতীয় ধাপে থাকছে ভাষা পছন্দের বিষয়। তাতে ‘ক্লিক’ করার পর ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। চতুর্থ ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। ওই ধাপ সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যা থেকে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। ষষ্ঠ ধাপে হাউসলিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। এই ঘর ও তার ব্যবহার সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর জমা দিতে হবে। ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বাড়ির ধরন; মেঝে ও দেয়ালে ব্যবহৃত উপকরণ, ঘরের সংখ্যা, মালিকানাধীন বা ভাড়া এবং বাড়ির অবস্থা, বাসিন্দার সংখ্যা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উৎস। প্রদত্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে নিন, প্রয়োজনে সংশোধন করুন এবং তথ্য সেভ করে রাখুন। যদি কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তবে নির্ধারিত সময়সীমার আগে তথ্য জমা দিন।সেটি দেওয়ার পর আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, মিলিয়ে দেখে নিতে হবে। এর পর শেষ ধাপ— ‘ফাইনাল সাবমিট’। সেখানে ক্লিক করলে এগারো অঙ্কের একটি স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই* আইডি’ চলে যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা ইমেলে। জনগণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা যখন বাড়িতে যাবেন, ওই নম্বরটি তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাই করার পর নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত

    অনলাইন স্ব-গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা করা হবে। এই সময়, অবশ্যই অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করার সময় প্রাপ্ত ১১ সংখ্যার নম্বরটি দেখাতে হবে। অনলাইনে সেল্ফ এনুমারেশন না করলেও, বাড়িতে আসা গণনাকারীর কাছে বিবরণ নথিভুক্ত করা যাবে। ১১ সংখ্যার নম্বরটি হারিয়ে ফেললেও চিন্তা নেই। গণনাকারীরা তা খুঁজে নিয়ে জনগণনার কাজ করতে পারবেন। গণনাকারীদের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য স্মার্টফোন এবং বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই বিশাল দেশব্যাপী প্রকল্পে ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১১,৭১৮ কোটি টাকা।

    জনগণনা দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে

    এ বারের জনগণনা (Digital Census) দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই পর্ব। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। তার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা

    ২০১১ সালে শেষবার জনগণনা হয়েছিল দেশে। সাধারণত ১০ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই হিসেবে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে কোভিড অতিমারীর প্রকোপ থাকায় কা‌শ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কোহিমা এই বিপুল ভারতে জনগণনার মতো কর্মযজ্ঞ করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা হতে চলেছে দেশে। প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি হিসাবে কলকাতা শহরকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকছেন। গণনার কাজ সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভাবে যাতে সম্পন্ন করা যায়, তার সমস্ত রকম উদ্যোগ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

     

     

     

     

  • ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে (Birbhum) ফের কোটি কোটি টাকার গন্ধ। মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় বুধবার ভোররাত থেকে বড়সড় অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি (ED Raid)। আর সেই অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

    ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা

    ইডি সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক টাকা গোনার মেশিন। উদ্ধার হওয়া নগদ, সোনা এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করতে ব্যবহার করা হয় বড় লোহার ট্রাঙ্ক। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ির প্রতিটি অংশে তল্লাশি (ED Raid) চালান তদন্তকারীরা।

    সরকারি বাসচালক থেকে কোটি টাকার মালিক?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল পেশায় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তাই তাঁর বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। তবে স্থানীয়দের দাবি তিনি দীর্ঘদিন ধরে টুলু মণ্ডলের পাথর খাদান, ক্রাশার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (ED)।

    ফের আলোচনায় টুলু মণ্ডল

    এই অভিযানের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত টুলু। জেলার পাথর খাদান, ক্রাশার ও বালি ব্যবসায় দীর্ঘদিন তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। অতীতে বেআইনি পাথর খাদান, গরু পাচার-সহ একাধিক মামলায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশিও চালিয়েছিল। পরে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইডির (ED) নজরে আর্থিক লেনদেন

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, সোনা, সম্পত্তির নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই সম্পদের উৎস কী? তা বৈধ আয় থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনও অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত? সেই বিষয়েই জোর দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন তিনি। পুলিশের অভিযানের প্রশংসার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনেই এই অভিযান চলবে, বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    এখন নজর তদন্তের দিকে

    যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি আইনি যোগ রয়েছে বলে ইডি (ED) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে এই বিপুল সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরকদমে চলছে। বীরভূমের এই মেগা রেডে আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কর্মীসঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কর্মীবান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়োগ, ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন কমিশন, আধুনিক তদন্তকারী সংস্থা, বদলি নীতি- সব মিলিয়ে পুলিশের জন্য কার্যত একগুচ্ছ ‘মেগা প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, সেটা হয় নাকি! পরে আরও দেব, আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”

    ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment)

    রাজ্যে পুলিশের ঘাটতি পূরণে আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment) করা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Police Recruitment) শুরু হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পথও এখন পরিষ্কার। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জট কাটার পর দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ানো হবে।

    পুজো থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)

    তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সরকারে আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে ডিএর ফারাক কমাতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)-র ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি রাজ্য গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই দ্রুত তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করারও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পুজোর সময় থেকেই কার্যকর হবে।

    এনআইএ-র আদলে গড়ে উঠছে ‘SIA’

    রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, জটিল অপরাধ ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ তদন্তে এই বিশেষ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আধুনিক পুলিশ পরিকাঠামো

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন সরকারি পুলিশ যান ধাপে ধাপে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে। পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ-এর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু হবে।

    বদলি নীতিতে মানবিক উদ্যোগ

    পুলিশকর্মীদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী-

    • মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে
    • মহিলা অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির নীতি গ্রহণ করা হবে
    • যাঁরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জেলা থেকে দূরে কর্মরত, তাঁদের ধাপে ধাপে স্বজেলায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

    গড়ে উঠছে অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড

    পুলিশকর্মীদের আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করে তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও নতুন করে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দেন, শক্তিশালী ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যেমন চলবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে এবার সরব ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাকর্মীরা। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জোড়া মহামিছিলের (Dharmatala Rally) আয়োজন করে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় রাজ্যের অনেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ নয়; বরং গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সামাজিক উদ্যোগ।

    পথে শিক্ষা জগৎ

    ধর্মতলার সাম্প্রতিক অশান্তির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও হিংসা ও নৈরাজ্য কখনওই গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। সেই কারণেই ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

    জোড়া মহামিছিল

    মঙ্গলবার দুপুর থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষাকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দুটি প্রান্ত থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে শুরু হয় পদযাত্রা (Dharmatala Rally)। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ডাকে আয়োজিত এই মহামিছিলে অংশ নেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সংকলন সমিতি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা

    মহামিছিলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর কিংবা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত এবং সেই স্বাধীনতার উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিছিলে (Dharmatala Rally) অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে বাম ও কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যেমন নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছিল, কলকাতার ঘটনাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এছাড়াও কিছু বামপন্থী সংগঠন ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশবিরোধী শক্তির মদতপুষ্ট প্রচারকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    বিদেশি শক্তির মদতের আশঙ্কাও

    দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে কলকাতার ধর্মতলা- প্রতিবাদের নামে যেখানেই হিংসা বা নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটুক, তার কড়া নিন্দা হওয়া উচিত বলেই মত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।

    গণতন্ত্রের নামে হিংসা নয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা

    হাওড়া থেকে ধর্মতলা ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা – জাতীয় পতাকার ছায়ায় আয়োজিত এই দুই মহামিছিল থেকে উঠে আসে একটাই বার্তা। প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের শক্তি হলেও, সেই অধিকারের আড়ালে হিংসা, ভাঙচুর, সাংবাদিক নিগ্রহ কিংবা অরাজকতার কোনও স্থান নেই। মতের লড়াই হতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথ কখনওই বর্বরতার পথ হতে পারে না – এই বার্তাই রাজপথ থেকে তুলে ধরল ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চে’র এই মহামিছিল।

  • Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ, অর্থের অনিয়ম, কাগজে রাস্তা তৈরি দেখিয়ে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরনো প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা, অডিট এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

    হুগলিতে পর্যালোচনা বৈঠক

    সোমবার হুগলির চুঁচুড়ার রবীন্দ্রভবনে জেলার পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সচিব ড. পি. উল্গানাথন, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারা এবং দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের সময়ের একাধিক প্রকল্পের কাজ এখন পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগের কিছু টেন্ডার ও কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবকিছুর রিভিউ চলছে। টেন্ডার ছাড়াই অনিয়ম (Panchayat Corruption) করে কাজ হয়েছে। টাকারও গরমিল হয়েছে। কোথাও ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, অথচ রাস্তা তৈরি হয়নি- এমন অভিযোগও এসেছে। একাধিক ইঞ্জিনিয়ারকে বদলিও করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসের অভিযোগও

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সংক্রান্ত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘যে সব প্রাচীন সংস্কৃতি রয়েছে, সেগুলি ফিরে আসবে। কাশী বিশ্বনাথ, মহাকালেশ্বর হলে আদিনাথ কেন হবে না? গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই এফআইআর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে।’’

    আলুর দাম নিয়ে কী বললেন?

    আলুর মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারের নীতির ফলে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত হয়েছিল। গত কয়েক বছর আলু বাইরে পাঠানো বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে। এখন সেই আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দেওয়ার জন্য অর্থ দফতরে তিনবার ফাইল পাঠিয়েছি। কৃষি বিপণন দফতরের পক্ষ থেকেও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

    প্রকল্পগুলির সার্ভে চলছে

    তিনি আরও জানান, ‘‘বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে হওয়া প্রকল্পগুলির কাজের সার্ভে চলছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নতুন করে উপভোক্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলার পর জেলা পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

    খাজনা আদায়ে জোর

    নকশালবাড়িতে গত তিন মাসে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খাজনা আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘হুগলিতেও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগে যে রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল, তার অনেকটাই আদায় হতো না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে খাজনা আদায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’’ সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিল বিজেপি সরকার। তৃণমূল আমলের বিভিন্ন প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নেও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

  • MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (MMSBY Scheme)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকলেও যাঁরা আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যই এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই প্রকল্পে (MMSBY Scheme) যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

    কী কী সুবিধা মিলবে?

    নতুন প্রকল্পে (MMSBY Scheme) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে- বছরে প্রতি পরিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্লোটার ভিত্তিক ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামে পৃথক স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। আগে থেকে থাকা (Pre-existing) রোগের চিকিৎসাও এই বিমার আওতায় থাকবে। সরকারি ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পভুক্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। চিকিৎসার জন্য আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং আয়ুষ্মান ভারত পরিচয়পত্র  (Ayushman Bharat Health Account) ব্যবহার বাধ্যতামূলক। চিকিৎসা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী। চিকিৎসার খরচ আগে দিয়ে পরে ফেরত (রিএমবার্সমেন্ট) নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না।

    কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

    স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না- যাঁদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প (CGHS), ইএসআই (ESI) বা অন্যান্য কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স-এর আওতায় থাকা কর্মচারীরা, মেডিক্যাল অ্যালাউন্সপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, পরিবারের ৭০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা, SIR-এ নাম বাদ গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। যেমন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

    এসআইআর বা সিএএ-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সিএএ বা এসআইআর-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে কোনও আবেদন বিচারাধীন থাকলে, শুধুমাত্র সেই কারণে কাউকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না। অন্য সব যোগ্যতা পূরণ করলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে পরে SIR-এ নাম বাদ গেলে আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

    কারা দেখভাল করবে এই প্রকল্প (MMSBY Scheme)?

    স্বাস্থ্য দফতরই হবে এই প্রকল্পের নোডাল দফতর। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্টেট হেলথ এজেন্সি (State Health Agency)।

    কবে থেকে কার্যকর?

    গত ২২ জুলাই রাজ্য (West Bengal) মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এরপর ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য দফতর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে। নতুন এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধাবঞ্চিত বহু পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবে বলে রাজ্য সরকারের আশা।

  • Sreelekha Mitra: প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আইনি জটিলতা বাড়ল শ্রীলেখার, অভিযোগ দায়ের আরও তিন থানায়

    Sreelekha Mitra: প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আইনি জটিলতা বাড়ল শ্রীলেখার, অভিযোগ দায়ের আরও তিন থানায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের (NEET Protest) প্রতিবাদে কলকাতার মিছিলে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি-সম্বলিত পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের (Sreelekha Mitra) বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বিধাননগর সাইবার থানা ও আনন্দপুর থানার পর সোমবার আরও তিন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুরুলিয়া সদর থানা, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এবং মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে ঠাকুরপুকুর থানায়ও।

    একের পর এক থানায় দায়ের এফআইআর (Sreelekha Mitra)

    পুরুলিয়া সদর থানায় জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বিজেপির সাংগঠনিক জেলার নেতারাও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এর আগে রবিবার আনন্দপুর ও বিধাননগর সাইবার থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে এই ঘটনায় আদালতেরও দ্বারস্থ হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর “জিরো টলারেন্স” নীতির প্রসঙ্গ টেনে কেয়া বলেন, “দরকার হলে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে যাব।” শুক্রবার কলকাতায় নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত ছাত্রছাত্রীদের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন শ্রীলেখা। অভিযোগ, সেই মিছিলে তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক কুরুচিকর ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় এবং একের পর এক থানায় অভিযোগ দায়ের হতে শুরু করে।

    শ্রীলেখার বক্তব্য

    যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীলেখা। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিকভাবে আমি বিজেপির বিরোধিতা করলেও, প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ ঠিক নয়।” অভিনেত্রীর দাবি, তিনি সেদিন শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়েছিলেন (Sreelekha Mitra)। ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়োয় একটি পোস্টার হাতে তুলে নিতে হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সেদিন চশমা সঙ্গে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছে শুধু সানগ্লাস ছিল। তাই পোস্টারে কী লেখা বা কী ছবি ছিল, তা ঠিকঠাক দেখতে পারেননি। শ্রীলেখাকে ঘিরে বিতর্ক এই প্রথম নয়। অতীতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি চর্চায় এসেছেন। তবে (NEET Protest) বর্তমান ঘটনায় একাধিক জেলায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের (Sreelekha Mitra)।

     

  • Suvendu in Jalpaiguri: ‘‘ঘরে ফিরুন, রাজ্যেই মিলবে কাজ’’ উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu in Jalpaiguri: ‘‘ঘরে ফিরুন, রাজ্যেই মিলবে কাজ’’ উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সময় বদলেছে। রাজ্যে এখন ভয় আউট ভরসা ইন। নতুন নতুন কারখানা হচ্ছে। তাই আর বাংলার বাইরে যআওয়ার দরকার নেই। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে ভিন্‌ রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে রাজ্যে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তিনি জলপাইগুড়ি যান। গত ২০ জুলাই সিকিমের নামচির এনএইচপিসি প্রকল্পের একটি নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার পর, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকের উদ্দেশ্যে ওই বার্তা দেন তিনি।

    রাজ্যে ফিরতে শুরু করুন

    জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রয়াত শ্রমিকেরা কাজের জন্য ভিন্‌ রাজ্যে গিয়েছিলেন। বাংলায় তো কাজ নেই, তবে আমরা সবে এসেছি—ধীরে ধীরে কাজের সুযোগ তৈরি করব এবং সবাই ফিরে আসবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের বলব, আপনারা রাজ্যে ফিরতে শুরু করুন। আমরা বড় কারখানা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কাজের ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি সরকারি স্তরেও কর্মসংস্থান শুরু হবে। আমাদের সরকার দায়িত্বে আসার মাত্র ১০ সপ্তাহ পার হয়েছে। এতদিন ওবিসি সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা ছিল। আগের রাজ্য সরকার তোষণের রাজনীতি করে ওবিসি নিয়ে জটিলতা তৈরি করেছিল। আমরা বিধানসভায় বিল পাস করে তা সংশোধন করেছি। এ বার আমরা দ্রুত সব কাজ শুরু করব।’’

    জব কার্ড বানিয়ে ফেলুন

    পরিযায়ী শ্রমিক ও বেকার যুবদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আপনারা সকলে জব কার্ড বানিয়ে ফেলুন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘জি রাম জি’ প্রকল্পে আপনারা কাজের সুযোগ পাবেন। কেউ কাজ পাবেন আর কেউ পাবেন না—এমনটা হবে না। আমরা নিয়ম সহজ করেছি, ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেব।’’

    ‘আমূল’-কে দুটি আইসক্রিম কারখানার জন্য জমি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ‘আমূল’-কে দুটি আইসক্রিম কারখানা তৈরির জন্য ১৫ একর করে মোট ৩০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কারখানা দক্ষিণবঙ্গে এবং অপরটি উত্তরবঙ্গে গড়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শীঘ্রই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং তখনই জানা যাবে কারখানা দুটি ঠিক কোথায় নির্মিত হচ্ছে।

    খুলবে চা-বাগান

    উত্তরবঙ্গের বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে মোট ২৫টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং ও টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আগামী তিন মাসের মধ্যে ১২টি চা বাগান পুনরায় চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন।’’ এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকার চা শ্রমিকদের কল্যাণে ৩৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা এই বাগানগুলির শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।

    উত্তরবঙ্গে আর কোন কোন শিল্পের উপর জোর

    মালদায় আম-লিচুর ফুড প্রসেসিং, মাখানা, আনারস ও ভুট্টার উপরে ফুড প্রসেসিং এবং তুলাইপাঞ্জি চাল নিয়েও শিল্পের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ

    অন্য দিকে, সিকিমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই আমি আজ এখানে এসেছি। দুর্ঘটনার দিন থেকেই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং নাগরাকাটার বিধায়ক অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছেন। নিহতদের দেহ উদ্ধার করে পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২১ লক্ষ টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বাড়তি ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।’’এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নিহতদের পরিবারের সাতজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    ১৬ই অগাস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’

    এদিন উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ অগাস্টকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর কথায়, “১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এ হাজার হাজার হিন্দু প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিগত সরকার ওই দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ করেছিল। আমরা সেই জায়গায় আয়ুষ্মান দিবস উদযাপন করে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিককে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, যাঁরা এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা নিয়ে রাজ্য সরকার চালু করছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’।

    জল্পেশ মন্দিরে পুজো

    শ্রাবণের সোমবারে জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দুপুর সোয়া দুটোর পরে মুখ্যমন্ত্রী জল্পেশে পৌঁছন। জল্পেশের গর্ভগৃহে গিয়ে পুজোয় বসেন তিনি। ভোগ নিবেদন করবেন বলে মন্দির সূত্রের খবর। আকন্দ ফুলের মালা, পদ্মফুল বাবা জল্পেশ্বরকে নিবেদন করেন তিনি । পুজোর পরে মন্দির লাগোয়া এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। শুভেন্দু বলেন, “জলপাইগুড়িতে এসেছি। বাবা জল্পেশের কাছে যাব না, তাই হয় নাকি?” উল্লেখ্য তাঁর আগে রাজ্যের কোনও প্রশাসনিক প্রধান এই ঐতিহাসিক মন্দির দর্শনে আসেননি ৷ এদিন শিলিগুড়ির বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান রোড উড়ালপুলের উদ্বোধন করবেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই উড়ালপুল চালু হলে যেমন শিলিগুড়ির যানজট অনেকটাই কমবে, তেমনই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় উত্তেজনা, হিংসা এবং সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার দুই প্রান্তে জাতীয় পতাকা হাতে পালটা মিছিল করল বঙ্গ বিজেপি (BJP Rally)। দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা (National Flag March) নিয়েই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়।

    দুই প্রান্তে বিজেপির মিছিল (BJP Rally)

    বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল (BJP Rally) শুরু হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী। একই সময়ে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত আরও একটি মিছিল (BJP Rally) বের করা হয়।

    হিংসা ও সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ

    বিজেপির অভিযোগ, গত শুক্রবার নিট আন্দোলনের নামে ধর্মতলায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হিংসা ছড়ানো, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই জাতীয় পতাকা হাতে (National Flag March) পথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য

    মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “নিট আন্দোলনের নামে অরাজকতা বা দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে বহুবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল।” বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রশ্ন, যারা হিংসায় জড়িত, তারা কীভাবে নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করতে পারে? তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

    ‘পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হচ্ছে’ 

    বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ, দেশের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    কড়া পদক্ষেপের দাবি

    মিছিল থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে বিজেপি পালটা স্লোগান দেয়। আন্দোলনের নামে হিংসা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় দলের নেতৃত্ব।

LinkedIn
Share