Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশিকী অমাবস্যায় (Koushiki Amabasya) কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat) পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো শেষ হওয়ার পর মন্দিরের মাটিতে বসেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাতে ছিল বাসন্তী পোলাও, মাছের মাথা ও পায়েস। বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিতে দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদনের যে দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে, এদিনের পুজোয় তারই প্রতিফলন দেখা যায়। মায়ের পুজোয় আমিষ গ্রহণ নিয়ে অকপট শুভেন্দু (Suvendu in Kalighat) বলেন, “সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। দুর্গাপুজোর অষ্টমী কিংবা কার্তিক মাসে আমি যেমন সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক আহার মেনে চলি, তেমনই এক জন বাঙালি হিসেবে মায়ের ভোগের মাছ কিংবা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণ করতেও আমার কোনও দ্বিধা নেই।”

    মাতৃকৃপায় তিনি জনকল্যাণে ব্রতী

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুজোর ডালা নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডালায় ছিল বেনারসি শাড়ি, ফুলের মালা ও মিষ্টি। দেবী কালীর চরণে সেগুলি নিবেদন করে আরতি ও অঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়। ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে এদিন তিনি জানান, মাতৃকৃপা ও প্রাপ্ত ‘গুরুদায়িত্ব’ নিয়েই তিনি জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। পুজো নিবেদনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অখণ্ড ভারত গঠন, বাঙালি তথা সনাতন সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং দেশবিরোধী শক্তির বিনাশই তাঁর মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু বলেন, “যেদিন ভবানীপুরে আমার নাম ঘোষণা হয়েছিল, প্রথম মায়ের কাছে এসেছিলাম। মা পদধূলি দিয়ে বলেছিলেন, তোকে দায়িত্ব দিলাম।”

    বাঙালি ঐতিহ্য মেনেই মায়ের ভোগ

    বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির প্রচলিত রীতি মেনেই এদিন কালীঘাটে দেবীর জন্য সাজানো হয় নানা পদে সমৃদ্ধ ভোগের আয়োজন। সেখানে ছিল বাসন্তী পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, শুক্তো, ডাল, সবজি, পনির এবং একাধিক ধরনের মাছ। ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে ও কাতলা-সহ মাছের বিভিন্ন পদ ছিল ভোগের তালিকায়। ছিল কাতলা মাছের মাথাও। পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস ও চাটনি পরিবেশন করা হয়। মায়ের ভোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দিরের পুরোহিতদের দেওয়া মাছ ভাজা, মাছের মাথা, বাসন্তী পোলাও-সহ বিভিন্ন পদ তিনি প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, অষ্টমীর দিন এবং কার্তিক মাসে তিনি সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার বাঙালি হিসেবে দেবীকে যে মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, সেই প্রসাদও তিনি গ্রহণ করেন। একইভাবে পাঁঠা বলির প্রসাদ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

    দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক, মন্দির থেকেই বার্তা

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে ঘিরে আলাদা তাৎপর্য দেখছে রাজনৈতিক মহল। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও বিজেপির একাধিক নেতা স্পষ্ট করেছেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিষয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই। এই আবহে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর আমিষ ভোগ গ্রহণকে নিছক ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে বাঙালির নিজস্ব ধর্মীয় আচার, খাদ্যসংস্কৃতি এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রসঙ্গটি এদিনের অনুষ্ঠানে নতুন করে সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও সন্ত বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেই পারেন। কে সেই মত গ্রহণ করবেন, তা ব্যক্তিগত বিষয়। আমিও কার্তিক মাস দামোদর মাসে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করি, আবার বাঙালি হিসেবে..পাঁঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করি।”

    রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বার্তা

    বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ কারও উপরে চাপিয়ে দেওয়া যেমন হবে না, তেমনই তাঁকে সামনে রেখে ঘোলা জলে বিরোধীরা মাছও ধরতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘লিলুয়ায় একজন সাধু এসেছিলে‍‍ন। তিনি দেশপ্রেমের কথা, রাষ্ট্রবাদের কথা, অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। যাঁরা সে সব গ্রহণ করতে চান, করবেন। যাঁরা চান না, করবেন না। তিনি কারও উপরে কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।’ এরপরে নাম না–করে মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করেন কংগ্রেসকে। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ না–মানার অধিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো সমর্থনযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, ‘আমি কতগুলি লোককে দেখলাম, ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াচ্ছে। আমি এখান থেকে সিপিকে (কলকাতার সিপি অজয় নন্দ) বলছি, ওই লোকগুলিকে গ্রেফতার করতে হবে। এ রাজ্যে এ সব চলবে না।’ তাঁর এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, সাধু–সন্তদের অপমান বিজেপি–শাসিত বাংলায় কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার।

    গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে

    বাগেশ্বর বাবা আর বিজেপিকে এক বন্ধনীতে ফেলে পদ্ম–নেতাদের গায়ে বাঙালি বিরোধী তকমা সাঁটতে শুরু করে দিয়েছিলেন বিভিন্ন শিবিরের বিরোধীরা। যদিও বাগেশ্বর বাবার আমিষ–নিরামিষ সংক্রান্ত পরামর্শের সঙ্গে যে বিজেপি কোনও ভাবেই সম্পৃক্ত নয়, সেটা ঘটনার দু’দিনের মাথায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। একই ভাবে নিজেদের আমিষপ্রীতির জানান দেন দি‍লীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, সুকান্ত মজুমদারের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতা–নেত্রীরা, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। এবার বিরোধীদের স্পষ্ট জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ধর্মীয় আচার ও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে শেষ পর্যন্ত সনাতন সংস্কৃতির জাগরণের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে, কখনও নীচে নামবে না।” ‘বহুজন সুখায় বহুজন হিতায়’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্য থেকে দেশবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করার জন্য মায়ের কাছে শক্তি ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।

  • University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র বিতর্ক, শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধ এবং হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পাস হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ (University Staff Teacher Transfer Bill)। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়েছে ১৭১টি ভোট। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৫ জন বিধায়ক। এই ১৫ জনের মধ্যে (West Bengal) কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরের ১১ জন বিধায়ক ছাড়াও রয়েছেন নওসাদ সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিধানসভার দুই কংগ্রেস বিধায়ক।

    বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি এই বিল রাজ্য সরকার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রতিহিংসামূলকভাবে ব্যবহার না করে, তবে আমরা একে নীতিগতভাবে সমর্থন জানাব। তবে কোনওভাবেই যেন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়। মুখ্যমন্ত্রী অতীতে সিপিএমের ‘অনিলায়ন’ এবং পরবর্তীতে ‘মমতায়নে’র কথা বলেছেন। আমাদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এই বিলের আড়ালে এখন নতুন করে ‘গৈরিকীকরণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এর পরেই ক্ষোভে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী বিধায়করা।

    শুভেন্দুর সাফ কথা (University Staff Teacher Transfer Bill)

    বিল নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, “অতীতে সিপিএম উচ্চশিক্ষায় অনিলায়ন করেছিল। আর আপনাদের পার্টি এখন তিন না চার টুকরো, জানি না, আপনারা করেছিলেন মমতায়ন! আমরা তার কোনওটাই করব না। আমাদের লক্ষ্য দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা।”

    এদিকে, বিলের মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “স্বশাসনের নামে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি কুশাসন বা স্বেচ্ছাচারিতা চালায়, তবে এই বিলই হবে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজের অধ্যাপকরা এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির সুযোগ পেলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হত না। এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনতেই বিলটি পাস করা হল।”

    জুটার ‘ইতিহাস’ সরকারের কাছে রয়েছে: শুভেন্দু

    বিল নিয়ে আলোচনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে একাধিকবার। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে বলেন, জুটার সদস্যরা অতীতে কোথায়, কখন কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে।

    বামপন্থী শিক্ষকদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাঁদের, তাঁদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব, যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রস্তাবিত বিলের গুরুত্ব প্রথম দিকে বিরোধী দল এবং অধ্যাপক সংগঠনগুলি বুঝতে পারেনি। এখন সরকারের অবস্থান এবং বিলের সম্ভাব্য প্রয়োগের বিষয়টি আঁচ করেই বিভিন্ন মহলে আপত্তি ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

    যাদবপুরে ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক স্লোগান এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও বিধানসভায় সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “অনুমতি নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষেনজি’ বা দেশবিরোধী কোনও নাম লেখা কিংবা লাল সেলাম জানানো বরদাস্ত করা হবে না (University Staff Teacher Transfer Bill)।”

    তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্মকে যারা কেবল সাংস্কৃতিক মনে করেন আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র স্লোগান তোলেন, তাঁদের জবাব নেতাজির ভাষাতেই দেওয়া হবে, গান্ধীর ভাষায় নয়।”

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে ১৩০০ কোটি টাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হবে।”

    অনুদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যেন একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। সেখানে দেশ ভাঙার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ‘কিষেনজি লাল সেলাম’, ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো স্লোগান লেখা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে লিখলে, আমরাই টুকরো করে দেব। কিষেনজির নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখতে দেব না। বেছে বেছে গেরুয়াধারীদের তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপকরা টার্গেট করেছেন, এটা চলবে না।”

    সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিক্ষা বিল সংশোধনীর পক্ষে বক্তব্য রাখতে মুখ্যমন্ত্রী উঠতেই বিরোধীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা সুর চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই জন্যই আপনারা হেরেছেন। সামনের ভোটে আপনাদের কী অবস্থা গেরুয়া করবে, তা দেখবেন। আপনাদের বিরোধিতায় আমাদের সুবিধাই হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত পণ্ডিতদের পাঠাব। প্রতিষ্ঠিত আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী আছেন, তাঁদের অন্যত্র পাঠানো হবে। অন্যান্য রাজ্যেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির সংস্থান রয়েছে। কোন লাইনে যাচ্ছি, বোঝা যেতেই বিল নিয়ে চিড়বিড় করা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভায় আইন প্রণয়নের এবং নিজস্ব শিক্ষা আইন আনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। সরকারের আইনের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের উপরে।”

    ‘স্বায়ত্তশাসন থাকবে, সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে’

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা হবে, পাশাপাশি সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কি দেশের বাইরে? আইনের ফাঁকের সুযোগ নিয়ে মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চলেছে, তার উত্তরে শৃঙ্খলা আনার জন্য এই আইন জরুরি। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল, তৃণমূলের টুকরোরা মমতায়ন করেছিল, আমরা অবশ্য গৈরিকীকরণ করব না।”

    বদলি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “বদলি চাকরির অন্তর্নিহিত শর্ত। অসুবিধা হলে চাকরি ছেড়ে দিন, ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।”

    নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই আইন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিলের কোনও অপপ্রয়োগ হবে না। বিলের মাধ্যমে রাজ্যের আটটি প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়ুয়ারাও অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন (West Bengal)। ব্যঙ্গের সুরে শুভেন্দু বলেন, “তথাকথিত সমাজবাদ যাঁরা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের বিরাট মেধাকে আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কাজে লাগাতে চাই। এতে আপত্তির কী আছে (University Staff Teacher Transfer Bill)?” বিল নিয়ে বিতর্কের গোটা পর্বে বার বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে ‘দুর্গাপুজো’ (Durga Puja) বলা ও লেখার উপরেই জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুজোর পরিবর্তে কোনও পুজোর স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে তা বাতিল করার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুজোর নামকরণ নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপুজোয় ‘পুজো’ শব্দটি এড়িয়ে তথাকথিত বামপন্থীরা যদি কোনও স্টল করেন এবং সেখানে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকে, তা বাতিল করা হবে। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্গাপুজোকে দুর্গাপুজোই বলতে হবে। ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে সেই স্টল বাতিল করা হবে।”

    বৈষম্য বরদাস্ত নয় (Suvendu Adhikari)

    এদিন বিধানসভায় নিজের বক্তব্যে বারবার দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। দুর্গাপুজোকে ‘সার্বজনীন উৎসব’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।

    রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করেও একাধিক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে নিশানা করা উচিত নয়।

    বিক্ষোভ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশই পালন করবে বলেও জানান তিনি। জনপ্রতিনিধিদের হাতে লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়ার প্রয়োজন নেই।

    ‘হিংসা ছড়াবেন না’

    অতীতের কয়েকটি আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রসঙ্গও এদিনের বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে হিংসা বা উত্তেজনা ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন (Suvendu Adhikari)।

    ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিশানা করার অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কেউ গেরুয়া পোশাক পরলে, মাথায় শিখা রাখলে কিংবা ধর্মীয় মালা পরলে তাঁকে আলাদা করে নিশানা করা যাবে না। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা অন্য যে কোনও ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বক্তব্যের শেষাংশে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন কমিটির (Durga Puja) উদ্দেশে পুজোর আয়োজন এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—যাদবপুরে গেরুয়া (Saffron) সম্মান যাত্রা শেষে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিল শেষে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেরুয়াকে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া ও দেশের মর্যাদাকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    গেরুয়াময় যাদবপুর (Suvendu Adhikari)

    বুধবার দুপুর থেকেই যাদবপুর কার্যত গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। গেরুয়া পোশাক পরে এবং হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন বহু সাধু-সন্ত। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে মিছিল। আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও ওঠে। কপালে গেরুয়া তিলক, হাতে ডমরু নিয়ে সাধু-সন্তদের অংশগ্রহণে মিছিলের আবহ ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ।

    গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। সেখানে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায় দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা গেরুয়ার অবমাননা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে, যেখানে উৎকর্ষের কেন্দ্র, যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের এবং যাঁরা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন, তাঁদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব আমি।”

    তবে বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, যাদবপুর দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    শুভেন্দুর ‘তিন সত্যি’

    মঞ্চ থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বলেন, “আপনারা জানেন, ২০১১-য় পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।”

    এর পরেই স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং স্বামী প্রণবানন্দের প্রসঙ্গ তুলে গেরুয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আপনারা সঙ্গে থাকুন স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।”

    শুধু বুধবারের কর্মসূচি নয়, আগামী দিনেও যাদবপুরে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে আরও দু’বার যাদবপুরে আসার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, একবার বেদপাঠের আসরে এবং অন্যবার হনুমান চল্লিশা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। যাদবপুরে তিন দিন ধরে বেদপাঠের আয়োজন করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    তিনি বলেন, “এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।”

    যাদবপুরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবাদী মানুষদের যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আশা করব, সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।” তিন দিন ধরে বেদপাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গুরুত্বপূর্ণ বিল

    এদিনের সভায় উচ্চশিক্ষা দফতর সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানান (Saffron) তিনি। তাঁর দাবি, পরের দিন বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসতে চলেছে এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করার বিষয়েও তিনি বক্তব্য রাখবেন বলে জানান।

    শুভেন্দু বলেন, “উচ্চশিক্ষা দফতর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করছে সরকার। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।”

    এদিনের মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে তাঁকে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন কয়েকশো সাধু-সন্ত। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তাপস রায়ও মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ‘বন্দে মাতরম’

    মিছিল এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর সকলে ‘বন্দে মাতরম’ গান। এরপর মঞ্চ থেকে ফের যাদবপুরকে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই ভূমিতে গেরুয়ার উপস্থিতিই থাকবে।

    শুভেন্দু বলেন, “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম। যাদবপুর থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, রেড স্যালুট কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা জানে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড়-সহ তুলব।”

    এর আগে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টদের সরানোর পাশাপাশি জামাতের সরকার সরানোর সংকল্পের কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতাতেই সেই রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

    গেরুয়া সম্মান যাত্রা

    এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রাকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সাধু-সন্তদের উপস্থিতি, বেদপাঠ, হনুমান চল্লিশা পাঠ এবং গেরুয়া পতাকা—অন্যদিকে দেশবিরোধী স্লোগান ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, সব মিলিয়ে এদিনের কর্মসূচিটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গেরুয়ার মর্যাদা রক্ষা (Saffron), সনাতন সংস্কৃতির প্রসার এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতার বিষয়। যাদবপুরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। আগামী দিনে বেদপাঠ ও হনুমান চল্লিশা পাঠের কর্মসূচি ঘিরে যাদবপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে বড়সড় বদল। রাজ্যপাল তথা আচার্যের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে। তার জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুই আধিকারিককে ৷ ছ’মাসের জন্য অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁদের। যাদবপুরের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের জায়গায় নয়া রেজিস্ট্রার (JU Registrar Removed) হলেন দেবজিৎ দত্ত। তিনি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। একই ভাবে সরানো হল ফাইন্যান্স অফিসারকেও। তাঁর জায়গায় এসেছেন কলা বিভাগের সচিব ইন্দ্রজিৎ দত্ত। ৮ সেপ্টেম্বর উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

    আচার্যের নির্দেশ মতো কাজ

    নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দেবজিৎ দত্তকে রেজিস্ট্রার এবং ফ্যাকাল্টি অফ আর্টসের সচিব ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাইন্যান্স অফিসার হিসেবে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দু’জনকেই তাঁদের স্বাভাবিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছ’মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই এই মেয়াদ কার্যকর হবে, অথবা পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত-যেটি আগে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বুধবারই তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, রাজ্যপাল তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আরএন রবির ২৬ অগাস্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে । নির্দেশে বলা হয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ হবে। আচার্যের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে স্থায়ী নিয়োগের জন্য যে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা শুরু করা যেতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের কার্যকালের মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত পদের মেয়াদ ছ’মাসের বেশি দীর্ঘায়িত করা যায় না। কিন্তু কর্মসমিতি (ইসি) স্থায়ী আধিকারিক নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া চালুর বদলে অস্থায়ী আধিকারিকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল মনে করেছেন, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়মানুবর্তিতার পরিপন্থী। সেই কারণেই ১৯৮১ সালের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১৭(৩) ধারায় নিজের পর্যালোচনা ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সরিয়ে নতুন নিয়োগের নির্দেশ জারি করেছেন তিনি।

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। পাশাপাশি, ‘অ্যাক্টিং’ বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাও আইনে নির্ধারিত সময়সীমার বেশি চালু রাখা হয়েছিল বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম, অ্যাকাডেমিক গভর্ন্যান্স এবং আর্থিক শৃঙ্খলার স্বার্থের পরিপন্থী। সেই কারণেই এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে আচার্য নতুন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ী পদাধিকারী নিয়োগের আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ছ’মাসের জন্য অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নতুন দুই আধিকারিককে এই দায়িত্ব সামলাতে হবে। মূল কাজের অতিরিক্ত হিসেবেই তাঁরা এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দেশ

    নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পুরনো রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে সমস্ত সরকারি নথি, ফাইল, ডকুমেন্ট, রেজিস্টার, আর্থিক রেকর্ড, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল, সরকারি সিল, চাবি, সম্পত্তি-সহ তাঁদের কাছে থাকা যাবতীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য পৃথক হ্যান্ডওভার-টেকওভার স্টেটমেন্ট তৈরি করে তা রেকর্ডে রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যকে বলা হয়েছে, সমস্ত বিধিবদ্ধ নথি, গোপনীয় কাগজপত্র, আর্থিক ও ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্পত্তি নিরাপদ রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকদেরই সেগুলিতে প্রবেশাধিকার থাকবে। প্রসঙ্গত, একাধিকবার দক্ষিণপন্থী অধ্যাপক সংগঠনের তরফে এই দাবি তোলা হয়েছিল। তাদের প্রশ্ম ছিল, এই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাহলে কীভাবে তাঁরা এখন সেই পদে রয়েছেন।

    উত্তপ্ত যাদবপুর

    এ দিকে, বুধবার অর্থাৎ আজ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ রয়েছে। এই আবহের মধ্যেই এমন পরিবর্তন। বস্তুত, বিগত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এখানে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন। সম্প্রতি তিনি যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার কর্মসূচিও নিয়েছিলেন। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে আবার দেশবিরোধী স্লোগান মুছে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তা করা হয়েছে পুরসভার তরফে। এবার বদল করা হল রেজিস্ট্রারকে।

  • Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতি নিয়ে বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাংলায়। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে দুর্গাপুজোর সময় বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়ার রীতির সমালোচনা করেছিলেন তিনি। আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।

    বিরোধীদের আক্রমণের মুখে এবার কার্যত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বঙ্গ বিজেপি। সরাসরি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের বিরোধিতা না করলেও একের পর এক বিজেপি নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। বরং তাঁরা নিজেরাও আমিষভোজী এবং বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে বাইরের কোনও ‘প্রেসক্রিপশন’ চলবে না বলেই বার্তা দিয়েছেন।

    ‘বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না?’: শমীক

    রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর অবস্থান। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কেউ নির্দেশ দিতে পারেন না। শমীক বলেন, “আমাকে আমার মতো থাকতে দাও! বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে। বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না? স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন, তাঁর ওপরে আবার কে আছে? মা কালী এখানে পাঁঠা খাবেন!”

    তাঁর সংযোজন, “অষ্টমীর দিন লুচি আর নবমীর দিন কচি পাঁঠার মাংস খাওয়া বাঙালির খাঁটি রীতিনীতি, আর বাঙালি সেই ঐতিহ্যই লালন করবে। কোনও সন্ত বা চিকিৎসকের নিরামিষাশী হওয়ার আহ্বান বা পরামর্শ দেওয়ার অধিকার থাকতেই পারে, কিন্তু বাংলায় বসে কে কী খাবে আর কে কী পরবে, তা বাইরে থেকে এসে কেউ ঠিক করে দেবে না।” ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রেখেই শমীক বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মদর্শনের ওপরে অন্য কোনও মত চাপিয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বাংলায় মা কালীকে পাঁঠার মাংস নিবেদন করার যে সুপ্রাচীন প্রথা রয়েছে, তাকে অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।”

    তবে আমিষভোজীদের ‘পাষণ্ড’ বা ভণ্ড বলে উল্লেখ করার বিষয়টি সমর্থন করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য নয়, একজন সন্তের ব্যক্তিগত মতামত। তাই বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতেও যেতে চান না তিনি। শমীকের কথায়, “যার ধুতি পরার ইচ্ছে সে ধুতি পরবে, যে লুঙ্গি পরে সে লুঙ্গি পরবে—বাঙালির নিজস্ব জীবনযাত্রা ও রুচিবোধের ওপর রাজনীতি বা অন্য কোনও প্রেসক্রিপশন খাটবে না।”

    ‘রাজ্যের সংস্কৃতি আলাদা’, বললেন অগ্নিমিত্রা

    বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলার দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে।

    অগ্নিমিত্রা বলেন, “অন্য রাজ্যে এই দুর্গাপুজোর সময় এই দশ দিন যে পুজো হয়, সেখানে অন্য রাজ্যের সবাই মিলে নিরামিষ খায়। এখন তিনি যদি মনে করে থাকেন যে এখানেও সেই কালচার, এখানে তো সেই কালচারটা নয়। আমরা সারা বছর টাকা পয়সা জমাই দিয়ে আমরা পুজোর চার দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কবজি ডুবিয়ে মাংস খাব, ইলিশ মাছ খাব। সুতরাং রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা। উনি ওনার মতো করে বলেছেন, যেটা উনি জানেন। উনি হয়ত জানেন না যে, এখানে কালচারটা ওইটা নয়।” অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “আমরা কী খাবো, কী পোশাক করবো, কখন বেরবো, কখন বাড়ি ঢুকবো এটা কেউ বলে দেবে না। যারা রাজনীতি করছেন… রাজনীতি করবেন না। রাজনীতির আগুনে আবার রুটি সেঁকবেন না।”

    ‘আমার নিয়মিত মাছ দরকার’: দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও একই সুরে বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কে কী খাবেন, সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার নিয়মিত মাছ দরকার। তবে সেটা বড় কথা নয়। যাঁরা যা খেতে চান, তাঁরা তাই খাবেন। দুর্গাপুজোয় পাঁঠা বলি হয়। পাঁঠার মাংস প্রসাদ হিসেবে খাওয়া হয়।” তাঁর সংযোজন, “কোনও কোনও সাধুসন্ত নিরামিষ খেতে বলেন, কিন্তু সেটা বাধ্যতামূলক হতে পারে না।”

    বাগেশ্বর বাবার উদ্দেশেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন দিলীপ। তাঁর প্রশ্ন, “বাগেশ্বর বাবার কাছে যে ভক্তরা যান, তাঁরা কেউ আমিষ খান না, সেটা উনি হলফ করে বলতে পারবেন?” দিলীপের বক্তব্য, “বিবেকানন্দ বলেছিলেন, যতদিন দেশ থাকবে, ততদিন শিব ডমরু বাজাবেন আর মা কালী পাঁঠা খাবেন। এটাই বাংলার সংস্কৃতি।” তাঁর আরও অভিযোগ, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ‘ফতোয়া’র রাজনীতি তৃণমূলই শুরু করেছিল।

    ‘কবজি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাব’, বার্তা লকেটের

    বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় অবশ্য গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে না টেনে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরম্পরার সঙ্গে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। লকেট বলেন, “বাগেশ্বর বাবা তাঁর মতো বলেছেন, এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও কারণ নেই। বাঙালিরা যেভাবে পুজো করে আসছেন সেভাবেই পুজো করবে।”

    তাঁর কথায়, “বিরোধীরা সবকিছুতেই বলতে চায় বিজেপি এলে নিরামিষ করে দেবে রাজ্যকে, পুজোয় অনুদান দেবে না কিন্তু পুরোটাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেটা প্রমাণিত পুজোতেও অনুদান হবে এবং বাঙালিরা কব্জি ডুবিয়ে মাছ মাংস সব কিছুই খাবে।”

    লকেট আরও বলেন, “আমরা আমাদের পরম্পরাকে ভাঙতে পারি না। মা আসছেন তার বাপের বাড়ি চার দিনের ছুটিতে। মা সবার সঙ্গে সিঁদুর খেলে। আমরা অষ্টমীতে অঞ্জলি দিই। খিচুড়ি খাই। নবমীতে নন ভেজ খাই। এটা আমাদের পরম্পরাতেই আছে। এটাকে ওনার বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কোন দরকার নেই।”

    ‘ইনি বাংলার বাবা নন’, সজল ঘোষের কটাক্ষ

    বিজেপি নেতা সজল ঘোষ অবশ্য বাগেশ্বর বাবাকে সরাসরি নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাঙালিরই। সজল বলেন, “বাগেশ্বর বাবার কথা ছাড়ুন। ইনি বাংলার বাবা নন। আমার বাবা আমি যা শিখিয়েছে, সেটাই পালন করব। আমরা বাঙালিরা জানি পুজোর নিয়ম কী। ওঁরা উত্তর ভারতের মানুষ। তাই উনি এ কথা বলেছেন। বাগেশ্বর বাবা বিজেপি নয়। আমাদের দল পরিষ্কার করে বলেছে।”

    ‘আমরা আমিষ খাব, ১০০ শতাংশ খাব’: সুকান্ত

    এই বিতর্কে নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর কথায়, বাঙালির আমিষ খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সুকান্ত বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সবকিছুতে রাজনীতি খোঁজে। আমরা আমিষ খাব। আমরা আমিষ খাব, ১০০% খাব। আমি আজ দু’পিস ইলিশ মাছ খেয়ে এসেছি। আমরা নিজেরা আমিষভোজী। আমরা আমিষ বন্ধ করে দিলে খাব কী?”

    ফলে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতার বক্তব্যে কার্যত একটি বিষয়ই স্পষ্ট—বাঙালির দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা বা ‘ফতোয়া’ তাঁরা মানতে নারাজ। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বিতর্ককে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা কতটা বাড়ে, সেদিকেই।

  • Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলায় আসার কথা তাঁর। সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ (BL Santosh)। দলীয় সূত্রে খবর, এই সফরে মূলত সাংগঠনিক বৈঠকেই জোর দেওয়া হবে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দলের সাংগঠনিক অবস্থান—সব কিছুই খতিয়ে দেখবেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সাংগঠনিক বৈঠক (Nitin Nabin)

    দলীয় সূত্রের খবর, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর টানা দু’দিন বিভিন্ন স্তরের সাংগঠনিক বৈঠক করবেন নিতিন নবীন। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলা নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। সংগঠনের কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, ঘাটতিই বা কোথায়—সেই সব বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়া হবে বলে খবর।

    এই সফরে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন এবং পুরসভা নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করা, তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে সক্রিয় করা এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এর পাশাপাশি জনসংযোগ কর্মসূচি কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সেই বিষয়েও রাজ্য নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন নিতিন নবীন।

    ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির নিরবচ্ছিন্ন কার্যকালের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচি পালিত হবে। নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত

    উল্লেখ্য, গত অগাস্টেই জানা গিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলায় আসতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। প্রথমে তাঁর তিন দিনের সফরের কথা থাকলেও, পরে কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    এর আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) সফর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাংগঠনিক কর্মসূচি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সফরসূচিতে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক বৈঠককে।

    দলীয় সূত্রে খবর, বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নিতিন নবীনকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট নেওয়ার পাশাপাশি কার্যকর্তাদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলবেন তিনি। বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের মতামত শোনার কথা রয়েছে।

    শুধু রিপোর্ট নেওয়াই নয়, দলের কর্মীদের উদ্দেশেও প্রয়োজনীয় বার্তা দিতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। নির্বাচনের আগে কীভাবে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা যায়, কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো সম্ভব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও নিবিড় করার কৌশল কী হবে—সেই বিষয়েও দিকনির্দেশ দিতে পারেন তিনি।

    দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) এই বঙ্গ সফরকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে তাঁর প্রথম সফরে সাংগঠনিক বৈঠকের পাশাপাশি (BL Santosh) নির্বাচনী প্রস্তুতিও যে বিশেষ গুরুত্ব পাবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে কলকাতায় বন্ধ হতে পারে ৯১৯টি গেস্ট হাউস! মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গেস্ট হাউসগুলি (Kolkata Guest Houses) পরিদর্শনে গিয়ে হতচকিত হয়ে গিয়েছে কলকাতা পুরনিগমের প্রতিনিধি দল। কোথাও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নেই। কোথাও গেস্ট হাউস চালানোর বৈধ লাইসেন্সই নেই। এর পরেই পুর কমিশনারকে এই গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ করার সুপারিশ (KMC Send Notice) করেছে দলটি। মাপকাঠি পূরণ করলে তবেই আবার গেস্ট হাউস খোলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পুরসভার পরীক্ষায় পাশ করেছে মাত্র ৪১টি গেস্ট হাউস। কলকাতায় মোট ৩ হাজার ৭০০ গেস্ট হাউস রয়েছে।

    কেন নোটিস গেস্টহাউসগুলিকে

    বীরভূমের তারাপীঠ এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর হোটেলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৯৬০টি গেস্ট হাউসে এখনও পর্যন্ত পরিদর্শনে গিয়েছে পুরনিগম, দমকল, সিইএসসি-র যৌথ দল। ৯৬০টি গেস্ট হাউসের মধ্যে ৯১৯টি গেস্ট হাউজকে বন্ধ করে দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে। ৪১টি গেস্ট হাউস ঠিক আছে বলে মনে করছে কলকাতা পুরনিগম। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, যে গেস্ট হাউসগুলিকে নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছু হোটেল বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চালানো হচ্ছিল। সেই বাড়িগুলির অবস্থা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, আবাসিরকদের থাকার ঘরের অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রবেশ-প্রস্থানের পথ, বিদ্যুতের সংযোগ খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকেরা। তবে, সামনে উৎসবের মরশুম। তাই পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে পৌরনিগম বার্তা দিয়েছে, শর্তাবলী মেনে এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আধুনিক ও ত্রুটিমুক্ত করে আবেদন জানালে পুনরায় হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।

    অগ্নি নির্বাপণ দফতরের সচিব বদল

    রাজ্যে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যেই অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিব বদল করেছে নবান্ন। অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের পদ থেকে খলিল আহমেদকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় ওঙ্কার সিং মীনাকে অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ওঙ্কার সিং মীনা। দেবীপ্রসাদ করণমকে কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরপর অগ্নিকাণ্ড ও অগ্নি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নের আবহে দমকল দফতরের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে এই বদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিউ মার্কেট এলাকায় ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগার পরে ওই এলাকা-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, গেস্ট হাউসগুলিকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কেন হোটেলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করে শনিবারের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে হবে।

  • KMC Suspend Licenses: পচা মাংস, দুধে ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, নিষিদ্ধ রং! অন্তত ৪০টি রেস্তরাঁ, দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড

    KMC Suspend Licenses: পচা মাংস, দুধে ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, নিষিদ্ধ রং! অন্তত ৪০টি রেস্তরাঁ, দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ কর্মসূচির সূচনাপর্ব থেকে শুরু হয়েছিল অভিযান। ১–৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতর অভিযান চালায়। তাতেই সামনে এল চরম সত্য। ইএম বাইপাসের ধারে সিমলা বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নাগেরবাজারের আরসালান- কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁ-হোটেলের লাইসেন্স (KMC Suspend Licenses) বাতিল করল কলকাতা পুরসভা। তার মধ্যে রয়েছে বলরাম মল্লিকের মিষ্টির দোকানও। কেবল বলরাম মল্লিক নয়, একাধিক মিষ্টির দোকানেরও লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরনিগম। কোথাও পচা খাবার, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, কোথাও আবার খাবারে বিষাক্ত রং। মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে তৈরি হত মিষ্টি। বাঙালির প্রিয় মিষ্টিতে ব্যবহৃত দুধেও ছিল ভেজাল।

    কী জানাল কলকাতা পুরসভা

    কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানালেন, বিধিভঙ্গের অভিযোগে ৪০টি খাদ্যবিপণির লাইসেন্স (Trade License Suspend For Food Safety) সাসপেন্ড করা হয়েছে। স্মিতা মঙ্গলবার ডন জিওভানি’স, করিম’স, গিরিশচন্দ্র দে, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা ফুড-সহ কয়েকটি নামী রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যবিপণির নাম করেছেন। তবে পুরসভার তরফে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে পুর কমিশনার উল্লিখিত কয়েকটি নাম অনুপস্থিত। অর্থাৎ লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্মিতার কথা, ‘‘সরাসরি স্থায়ী ভাবে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেই। দু’সপ্তাহের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।’’ তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণিগুলি খাদ্যসুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে যত দ্রুত পদক্ষেপ এবং আবেদন করবে, তাঁরাও তত দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে লাইসেন্স পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

    ফ্রিজের মধ্যে আরশোলা

    ১–৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে পচা ও বাসি মাছ-মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা ও মিষ্টি, খাবারে নিষিদ্ধ রঙের ব্যবহারের মতো ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে বলে জানান পুর কমিশনার। বিভিন্ন রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান, বেকারি এমনকি বিভিন্ন নামী শপিং মলের ফুড কোর্টে মিলিয়ে ৫৯২টি ঠিকানায় অভিযানে ১,২২৪ কেজি নিম্নমানের খাবার নষ্ট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘‘মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা ফ্রিজের মধ্যে আরশোলাও পেয়েছি।’’ পুরসভা সূত্রের খবর, হোটেল-রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ডের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি করে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি।

    লাইসেন্স সাসপেন্ড হল কাদের

    কলকাতা পুরসভার তালিকা থেকে জানা যাচ্ছে, যে সব রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়েছে তাদের তালিকায় রয়েছে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সরণির রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেড, লেক ভিউ রোডের এশিয়া হাউস, গোল্ডেন গেট, রামমোহন সরণির দাদা বৌদি হোটেল, পার্ক স্ট্রিটের ডন জিওভিনি’স, মির্জা গালিব স্ট্রিটের করিমস, সল্ট লেকের চৌরাসিয়া চাট, বেনিয়াপুকুরের ‘মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি’, জেপটো লিমিটেড, শ্রী ব্রজরাজ, এশিয়া হাউস, এফ অ্যান্ড বি মার্কেটিং লিমিটেড (চায়গ্রাম), ডেনজং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, ডায়মন্ড পার্কের গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, মিস্ট অ্যান্ড মরসেলস প্রভৃতি। পুরসভার কোপে পড়া মিষ্টির দোকানের তালিকায় রয়েছে গিরিশ চন্দ্র দে অ্যান্ড কোং, কালীপুর রোডের শ্রী কৃষ্ণ সুইটস, বিএল সাহা রোডের বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, ধাপা রোডের মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, ক্রিস্টোফার রোডের শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার, শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার ইত্যাদি।

    মিষ্টির দোকানে কোথায় সমস্যা

    খাবার প্রস্তুতকারী ও পরিবেশনকারীদের বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রতিষেধক টিকাদানের নথি পাওয়া যায়নি। রেফ্রিজারেটরে রাখা কোনও প্রস্তুত বা অর্ধ-প্রস্তুত খাবারে প্রস্তুতের তারিখের ট্যাগ (Date tag) পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত ভোজ্যতেল ফেলার বা নষ্ট করার বিষয়ে কোনও কাগজপত্র বা নথি পাওয়া যায়নি। ঢাকনাবিহীন আবর্জনার পাত্র (ডাস্টবিন) পাওয়া গেছে। তাপমাত্রা সঠিকভাবে দেখা যায় এমন কোনও ফ্রিজার পাওয়া যায়নি। খাবার প্রস্তুতকারী বা পরিবেশনকারীরা কোনো ধরনের টুপি বা অ্যাপ্রন পরে ছিলেন না। বেশিরভাগ খাবারই খোলা বা ঢাকনাবিহীন অবস্থায় রেক বা ফ্রিজারে রাখা ছিল। রান্নাঘরের বাইরে আলুর সবজি তৈরি হচ্ছিল এবং নিচু জলজ/জলাভূমির সংলগ্ন জায়গায় বস্তায় আলু রাখা ছিল।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি করে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি। আরশোলা, ইঁদুর, পোকামাকড় পাওয়া যাচ্ছে। পচা খাবার রাখা থাকতে দেখা গিয়েছে, ছত্রাকযুক্ত পনির, মাছ-মাংসও পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন জায়গায় কালারিং এজেন্ট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। দেওয়াল রং করতে ব্যবহৃত কার্সিনোজেনিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে মিষ্টির দোকান থেকে বিরিয়ানির রেস্তরাঁ এবং খাবারের হোটেলগুলিতে। এই কার্সিনোজেনিক থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাজ্যের বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তাঁর কথায়, “বিগত দিনের সরকার এসব দেখত না। আমাদের সরকার, জনগণের সরকার। জনগণের স্বাস্থ্য, সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। সব বিভাগকে বলা রয়েছে, সব হোটেল, রেস্তরাঁর খাবারের গুণমান যাচাই করতে হবে। পানীয় জলের মানদণ্ডও দেখা হবে। যাঁদের উতরোতে পারবেন, থাকবেন। যাঁরা পারবেন না তুলে দেওয়া হবে।”

    কীভাবে পুনরায় মিলবে লাইসেন্স

    গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার একাধিক রেস্তরাঁ, হোটেল, শপিং মলের ফুড কোর্টে অভিযান চলছিল। অভিযান চালাচ্ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর, পুরসভাগুলি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গত সাত দিনে ১৬৭টি রেস্তরাঁ এবং খাবারের হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৩০০ কেজি খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে, যেগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ৪০টি রেস্তরাঁ এবং খাবারারে দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সেই তালিকায় একাধিক নামী রেস্তরাঁ রয়েছে। তবে এই লাইসেন্স সাসপেনশন সাময়িক বলে জানা যাচ্ছে। আগামী কাল একটি কর্মশালা হবে। সেখানে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সকলকে। তার পর আবার নতুন করে আবেদন জানাতে হবে। তাতে যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে ফুড লাইসেন্স দেওয়া হবে আবার।

  • GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড় তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার প্রথমবার কালিম্পং সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে কালিম্পঙে নামতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই পাহাড়ের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দেন।

    জিটিএতে বিপুল বরাদ্দ (GTA)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। খুব শীঘ্রই নিজে উপস্থিত থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

    এদিন উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এদিকে, কালিম্পং টাউন হলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং কালিম্পঙের বিধায়ক ভরত ছেত্রী।

    ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দশ মিনিট ধরে অবতরণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জ্বালানি কম থাকায় উত্তরকন্যায় ফিরে আসতে হয়। আমি ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসব। ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও জলদাপাড়ায় গন্ডার দিবস পালন করতেও আসব। ২ অক্টোবর বক্সায় আসব। ৬ অক্টোবর দার্জিলিং যাব। ফেরার সময় কালিম্পং হয়ে ফিরব।”

    জিটিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএ-র সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আমি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে পাহাড়ের সমস্ত বিষয়ে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ বরাদ্দ হয়েছে। আমি নিজে তার শিলান্যাস করব। এটা কালিম্পংবাসীর জন্য বড় উপহার।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি

    পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহাকে পাহাড়ের বিপর্যয় নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সম্প্রতি মিরিকে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের খুব সাবধানে কাজ করতে হবে। জিটিএর চেয়ারম্যান ও সভাসদরা পদত্যাগ করেছেন। জিটিএর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২৫৪ কোটি টাকা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জিটিএকে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসক সেই কাজ করবেন। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং বাকি সভাসদদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেখছেন। বাকি উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।”

    ২০২৫ সালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের এদিন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকারের তরফে আগেই পুনর্বাসনের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। এবার বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় একাধিক ঘোষণা

    কালিম্পং জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৩১১ জন সেই কার্ড পেয়েছেন বলে জানানো হয়। ১২৩ জন ওই কার্ডের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

    কালিম্পঙের ১৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। কেউ যাতে এই প্রকল্প থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিধায়ক ভরত ছেত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয় (GTA)।

    অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    পাহাড়ে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো বাড়াতে পুলিশের বিশেষ বিভাগে অন্তত এক হাজার কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ৩০০টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পের পরিধি গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্যও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতাও মাসে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে।

    চা বাগানের উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা

    চা বাগান ও চা শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের বন্ধ, রুগ্ণ এবং সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলির স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও তাদের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    অসমের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা ২০২১’ পুরোদমে চালু করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের রাজ্য সরকার এই প্রকল্প কার্যকর করেনি।

    এই প্রকল্পের আওতায় পাহাড় থেকে তরাই অঞ্চলের চা বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ চালানো হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার আগেই চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শ্রম দফতর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (GTA)।

    তিস্তায় উদ্ধারকারী দল, তৈরি হবে ৮,৩২৫টি বাড়ি

    দুর্গত এলাকার নিরাপত্তার জন্য তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্জুন বাহিনী-সহ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি আগামী ছ’মাসের মধ্যে কালিম্পং জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ৮,৩২৫টি নতুন বাড়ি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হয়েছে (Suvendu Adhikari) বলেও জানান তিনি।

    বিশিষ্টদের সম্মাননা

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কালিম্পং জেলার পদ্মশ্রী প্রাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্মানিতদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপক জি এস ইয়েনজোন, পদ্মশ্রী প্রাপক একলব্য শর্মা, প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কাজী সিংয়ের স্ত্রী দুর্গা সিং, চলচ্চিত্র নির্মাতা তুলসী ঘিমিরে, স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকরাজ আগরওয়াল, মিরিক কলেজের অধ্যক্ষ শেরাপ ভুটিয়া এবং আধ্যাত্মিক নেতা মোহন প্রিয় আচার্য।

    জিটিএর দুর্নীতিতে এফআইআর ও গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি

    উন্নয়নের ঘোষণার পাশাপাশি জিটিএর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও এদিন সরাসরি কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় তিনি জানান, তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। সরকারি তহবিল কিংবা জনগণের করের টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকলে সেই অর্থও উদ্ধার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএতে (GTA) যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনওটাকেই আমরা ছাড়ব না।”

    তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত

    তদন্ত কমিটির গঠন সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রামনকে কার্যকরী সদস্য করে ওই কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল প্রকল্প, নজরে একাধিক অভিযোগ

    জিটিএর অধীনে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পানীয় জল প্রকল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চার শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অমৃত প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য গঠিত উন্নয়ন পর্ষদগুলির তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    লেপচা ও তামাং বোর্ড-সহ মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

    কালিম্পংবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা দুর্নীতি করেছে (Suvendu Adhikari), তাদের একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

    “জনগণের টাকা ফেরত নেব”

    তদন্ত শেষ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এফআইআর করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা (GTA) হবে বলেও জানান তিনি।

    সরকারি অর্থের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের করের টাকা কিংবা সরকারি তহবিলের অর্থ বেআইনিভাবে সরানো হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।”

    পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএর প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। সেই আবহে উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই (GTA) বার্তা জিটিএর উপর নতুন করে (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

LinkedIn
Share