Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বঙ্গে প্রথম বিজেপি-রাজ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি আসছেন। তাঁর এই সম্ভাব্য সফরের আগে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচি। বুধবার কলকাতার বাগবাজারের মায়ের ঘাটে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘাট পরিষ্কার করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেওয়া (Swachhata Se Swagat Drive) হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

    স্বচ্ছতা অভিযান (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের দাবি, ২০ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে এই স্বচ্ছতা অভিযান। প্রধান উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং গঙ্গার ঘাট-সহ বিভিন্ন জনপরিসরকে জঞ্জালমুক্ত রাখা। বুধবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। কর্মসূচির শুরুতে বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে ঘাট পরিদর্শন করে নিজে হাতে ঝাঁটা নিয়ে নেমে পড়েন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত বিজেপির অন্যান্য নেতাও যোগ দেন স্বচ্ছতা অভিযানে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    পরে সাংবাদিকদের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বৃহত্তর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কোনও একদিনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সকলের নিয়মিত একটি অভ্যাস হওয়া উচিত। সমগ্র কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও জোর দেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা ও গঙ্গার ঘাটগুলিকে দূষণমুক্ত রাখতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুরো কলকাতা, পুরো রাজ্যকে পরিষ্কার করতে হবে। উন্নয়নও হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতাও জরুরি।’’

    পুজো দিয়ে শুরু সাফাই অভিযান

    ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে এই প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে এগোয়নি। ভবিষ্যতে গঙ্গাকে আরও পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।কয়েক দিন আগেই পাঁচ দিনের স্বচ্ছতা অভিযানের ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই বুধবার বাগবাজার মায়ের ঘাট থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সূচনা করা হয় (Swachhata Se Swagat Drive)। এদিন সাফাই অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বাগবাজার ঘাটের পাশে থাকা মন্দিরে পুজো দেন, প্রার্থনা করেন মা গঙ্গার আশীর্বাদ। এরপরেই হাতে ঝাঁটা নিয়ে সহকর্মী এবং মন্ত্রীদের নিয়ে ঘাট পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছতা উপহার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়েই এই ধরনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। আমাদের সমাজ ও পরিবেশে স্বচ্ছতার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। আমরা তাঁকে এই স্বচ্ছতা উপহার দিয়ে কলকাতায় স্বাগত জানাতে চাই।” তৃণমূল সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিগত সরকারের নেতিবাচক ভাবনার কারণে বাংলায় নমামি গঙ্গা প্রকল্পের কোনও কাজই হয়নি। আমরা আগামী দিনে গঙ্গাকে আরও নির্মল ও দূষণমুক্ত করব। সারা বছর ধরেই এই সাফাই অভিযান ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে জারি থাকবে।” রাজ্যে যে স্বচ্ছতা অভিযান শুরু হবে, তা আগেই জানিয়েছিল নবনির্বাচিত পদ্ম সরকার। সেই মতো এদিন শুরু হয় অভিযান। চলবে পাঁচ দিন ধরে। গঙ্গা পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিষ্কার করা হবে কলকাতার প্রতিটি গঙ্গার ঘাটও। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানিয়েছিলেন, ২১ জুন যোগ দিবসে রাজ্যে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে এক স্বচ্ছ কলকাতা উপহার দেওয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ ভারত অভিযান

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সেই বছরই দেশের শহরগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার পরিকল্পনা সামনে রেখে ২ অক্টোবর স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Swachhata Se Swagat Drive)। ঝাঁটা হাতে নিজেই নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। তখন দিল্লি ভোটের তোড়জোড় চলেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালার দল আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ঝাঁটা। বস্তুত, এই ঝাঁটা হাতে তুলে নিয়েই পথে নেমে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেবার দিল্লির নির্বাচনে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি।

    প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অভিযান

    তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সাফা্ই অভিযান দেশ তো বটেই, বিদেশেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে (Suvendu Adhikari)। এই অভিযানের ১০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই মিশন একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছুঁয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল ডঃ টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাসও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের দশ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন (Swachhata Se Swagat Drive)। শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এহেন অভিযানের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন বিল গেটস।

     

  • Road Tunnel Beneath Hooghly: হুগলির তলদেশে দেশের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল, খরচ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা

    Road Tunnel Beneath Hooghly: হুগলির তলদেশে দেশের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল, খরচ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গার তলদেশ দিয়ে মেট্রোর সফল চলাচলের পর এবার দেশের পরিবহণ পরিকাঠামোয় আরও এক নতুন মাইলফলক গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে ভারতের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য কলকাতা বন্দরকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে যুক্ত করা। সম্প্রতি নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)-এর যৌথ উদ্যোগে এই টানেল নির্মিত হবে।

    কেন এই টানেল?

    বর্তমানে কলকাতা বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকে প্রায়শই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন টানেল চালু হলে ২৪ ঘণ্টাই নির্বিঘ্নে যান চলাচল সম্ভব হবে। ফলে বন্দরের সঙ্গে জাতীয় সড়কের সংযোগ আরও দ্রুত হবে এবং পণ্য পরিবহণে সময় ও খরচ—দুই-ই কমবে।

    প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য

    প্রস্তাবিত সড়কপথের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১৫.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত জোড়া টিউব টানেলের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৮.৫ কিলোমিটার। নদীর তলদেশ থেকে প্রায় ৩৮ মিটার গভীরে এই টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    কলকাতা প্রান্তে সংযোগ

    কলকাতা অংশে টানেলে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য দু’টি পৃথক র‌্যাম্প তৈরি হবে। একটি র‌্যাম্প থাকবে এনএসডি-র ৮ নম্বর গেট ও গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স সংলগ্ন এলাকায়।
    অন্য র‌্যাম্পটি শুরু হবে তারাতলা রোডের জিঞ্জিরা বাজার সংলগ্ন অঞ্চল থেকে। এই সংযোগস্থলে তারাতলা রোড, বজবজ রোড, হাইড রোড এবং উপেন ব্যানার্জি রোড মিলিত হওয়ায় এটি পণ্য পরিবহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

    হাওড়া প্রান্তে সংযোগ

    নদী পার হওয়ার পর টানেলটি হাওড়ার সাঁকরাইল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাটির উপরে উঠে আসবে। সাঁকরাইল গুডস ইয়ার্ডের কাছেও দু’টি র‌্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে একটি র‌্যাম্প সরাসরি ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। অন্যটি কলকাতামুখী যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর ফলে কলকাতা বন্দর থেকে জাতীয় সড়কে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।

    ১০ হাজার ট্রাকের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা

    প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বৃহৎ ট্রাক পার্কিং অবকাঠামো। হাওড়া প্রান্তে টোল প্লাজার কাছে দু’টি বিশাল পার্কিং লট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী যান রাখা যাবে। টোল প্লাজা অতিক্রম করার পর সংযোগকারী রাস্তা সরাসরি আলমপুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে।

    কমবে যানজট, বাড়বে বন্দরের ক্ষমতা

    বর্তমানে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান ভরসা হাওড়া ব্রিজ, বিদ্যাসাগর সেতু এবং বালি এলাকার সেতুগুলি। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপে এই রুটগুলিতে প্রায়শই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন টানেল চালু হলে একদিকে যেমন সড়ক পরিবহণের গতি বাড়বে, অন্যদিকে কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

    শিল্প ও বাণিজ্য মহলের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। যানজট হ্রাস, পরিবহণ ব্যয় কমানো এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই টানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, হুগলি নদীর তলদেশের এই পণ্যবাহী সড়ক টানেল শুধু দেশের প্রথম প্রকল্প হিসেবেই নয়, পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • Monsoon Rain Update: বর্ষা ঢুকে গেছে দেশে, কিন্তু ঝেঁপে বৃষ্টি কই? কবে থেকে ভারী বর্ষণ, জানাল হাওয়া অফিস

    Monsoon Rain Update: বর্ষা ঢুকে গেছে দেশে, কিন্তু ঝেঁপে বৃষ্টি কই? কবে থেকে ভারী বর্ষণ, জানাল হাওয়া অফিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টি নেমেছে শহরে। কিন্তু গরম কমেনি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি। ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা (Monsoon Rain Update) এসে গেলেও বাস্তবে বৃষ্টির দেখা খুবই কম। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশও করে গিয়েছে। কিন্তু গরমে এখনও হাঁসফাঁস করছে দেশের একটা বড় অংশ। এর মধ্যেই আরও দুঃসংবাদ শোনাল আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অন্তত এক সপ্তাহ দেশজুড়ে ব্যাপক বা ভারী বৃষ্টির (Rain in Bengal) কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ার মডেলগুলি বলছে, ২৩ জুনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ।

    দুর্বল মৌসুমি বায়ু

    আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বেশ কিছু এলাকায় বর্ষা প্রবেশ করলেও বর্তমান আবহাওয়া ব্যবস্থা (Weather System) অস্বাভাবিক রকমের দুর্বল। স্যাটেলাইট চিত্রেও বৃষ্টির অনুকূল মেঘের সেভাবে দেখা মিলছে না। যার জেরে ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে দেশের এক বিশাল অংশে কার্যত বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি থাকবে। ফলে আগামী দিনে দেশে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি আরও অনেকটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশে বর্ষা বা মৌসুমি বায়ু এবার বিলম্বিতই। তার উপর চলছে বেশ ধীরগতিতে। এতদিনে দক্ষিণ ভারত, পূর্ব ও মধ্য ভারত স্বাভাবিক ছন্দে পার করে পুরোপুরি উত্তর ভারতের কিছু অংশে বর্ষা ঢুকে পড়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মধ্য ও উত্তর ভারতে বর্ষা প্রবেশ করেনি। এমনকি শুরু হয়নি দক্ষিণ ভারতের সমগ্র অংশেও। আপাতত কেরল ও তামিলনাড়ু, গোয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা পুরোপুরি প্রবেশ করেছে। পূর্ব ভারতের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে, প্রায় গোটা রাজ্যে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করলেও শুধু উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। রাজ্যের বাকি অংশে যেখানে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে সেখানেই কিছুটা বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিই আপাতত থাকবে।

    কবে থেকে ভারী বৃষ্টি?

    আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২২ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বাড়তে পারে বৃষ্টির সম্ভাবনা। বিশেষত, অভ্যন্তরীণ অঞ্চল, আন্ধ্রপ্রদেশ-কর্নাটক সীমান্ত, দক্ষিণ তামিলনাড়ু এবং কেরলের পশ্চিমঘাট এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় কেরল ও কর্নাটক, পাশাপাশি মুম্বই পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিমঘাট অঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই, মাসের একেবারে শেষলগ্নে গিয়ে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সময়পর্বে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে। আপাতত জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা চলবে বলেই মনে করছে হাওয়া অফিস। উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গেও বেশকিছু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবারই প্রথম পাহাড় সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এটাই ছিল তাঁর প্রথম দার্জিলিং সফর। কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ যোগ দিয়ে পাহাড়বাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা (Suvendu Adhikari)

    এদিন পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সর্বদলীয় এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়বাসী এবার প্রকৃত অর্থেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের যে সব প্রকল্প আটকে ছিল, সেগুলি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে (Tourism Politics)। রাজনৈতিকভাবে দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং— তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে তাঁর সরকার যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

    উন্নয়নের রোডম্যাপ

    এদিন, পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। জোর দেওয়া হবে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও। তিনি এও জানান, রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসবেন। ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে পাহাড়ে। যুব সমাজের খেলাধুলোর উন্নয়নের জন্য ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। বিদ্যুৎ বিলের সরকারি ভর্তুকি আগের মতোই বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

    আগের সরকারকে নিশানা

    তৃণমূল পরিচালিত পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের আমলে শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধই ছিল না, জিটিএতেও ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হবে, এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে প্রচুর পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে। কার্শিয়ঙের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার পাহাড়কে গুরুত্ব দিত না। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে শুধু পর্যটক হিসেবে আসতেন, উন্নয়নের জন্য কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেননি।” তিনি বলেন, “আমি পর্যটক হয়ে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষের কাছে সরকারের সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

    শহিদ সেনানীদের অবদান স্মরণ

    এদিনের সভা থেকে দেশ রক্ষায় পাহাড়ের বীর জওয়ান ও শহিদ সেনানীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “দেশের সঙ্কটের সময় পাহাড়ের মানুষ সবসময় দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে।” প্রসঙ্গত, কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে প্রশাসনের ১৯টি দফতরের বিভিন্ন জনমুখী পরিষেবা নিয়ে বর্তমানে ‘জনকল্যাণ শিবির’ চলছে (Tourism Politics)। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শিবির পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। খতিয়ে দেখেন বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার কাজকর্ম (Suvendu Adhikari)।

  • Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ি মাপল কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অবস্থিত অভিষেকের ওই বাড়ির সামনে পুরসভার একটি দল পৌঁছে ফিতে দিয়ে বিভিন্ন অংশ পরিমাপ করতে শুরু করে। এদিন সকালেই ডিজে মামলায় সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যখন দফতরে, তখনই ১২১ নম্বর কালীঘাটে এসে পৌঁছলেন কলকাতা পৌরনিগমের আধিকারিকরা। পুরসভা সূত্রে খবর, বাড়ির আউটসাইড মাপ, লেন , ফুটপাত ঠিকমতো ছাড় দেওয়া হয়েছে কিনা, ফুটপাতের কোনও অংশ দখল করা রয়েছে কিনা , সেইসব মাপ নিচ্ছেন আধিকারিকরা।

    কেন অভিষেকের বাড়িতে পুর আধিকারিকরা

    আগেই কলকাতা পৌরনিগমের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির অন্দরমহলের নতুন স্কেচ-সহ এলিভিশন কপি জমা দিতে হবে। অভিষেকের সম্পত্তিতে নির্মাণ নকশা নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বাড়ির ভিতরে নতুন করে কী কী অংশ তৈরি হয়েছে, সেটা এলিভিশন কপিতে এঁকে জমা করতে হবে, সে নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত মাপ করে একটি রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোডে শান্তিনিকেতনে মাপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক ও তাঁর সংস্থার একাধিক সম্পত্তিতে ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও নির্মাণ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। অভিষেকের আত্মীয়দের মিলিয়ে মোট ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর। পুরসভার অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে। সেই বিষয়টিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না

    তবে পুরসভার এই পরিদর্শনের সময় অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না। সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। একদিকে যখন ভবানী ভবনে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন তিনি, অন্যদিকে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে শুরু হয় পুরসভার এই মাপজোক। অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দাবি করেছেন, ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধ অনুমোদন নিয়েই নির্মিত হয়েছে।

  • TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    সুশান্ত দাস

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ যখন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন বিদ্রোহী বিধায়কদের শিবির সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে চলেছে বলে স্পষ্ট করে দিলেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কী বলেছেন ঋতব্রত?

    সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজস্ব বিষয় এবং তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এনসিপিআই-এর সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একীভূত হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। “লোকসভার ২০ জন সাংসদ ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। আমাদের গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এমন কোনও ভাবনা নেই। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কদের এনসিপিআই-এ মিশে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে ৬৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থন রয়েছে,” দাবি করেন ঋতব্রত।

    বিদ্রোহী শিবিরে দুটি আলাদা রাজনৈতিক মেরু

    ঋতব্রতর এই মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম গোষ্ঠীতে রয়েছেন সেই বিদ্রোহী সাংসদরা, যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-র কাছাকাছি বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি গড়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই শিবির আপাতত নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখে বিধানসভার ভেতরে শক্তি সঞ্চয়ের কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-বিরোধী শিবিরের মধ্যেও ঐক্য নেই। বরং ক্ষমতার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    কেন এনসিপিআইতে অনীহা ঋতব্রতর?

    কোনও রাজনৈতিক দলের একীভূতকরণ (মার্জার) বৈধ হতে গেলে সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভায় সেই দলের আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীও কাকলি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজ্যেও এনডিএকে সমর্থন করে, তাহলে তিনি বিরোধী দলনেতার পদ হারাবেন। কারণ সেক্ষেত্রে তাঁর গোষ্ঠী শাসক জোটের অংশ হয়ে যাবে।

    ঋতব্রতরা এনডিএ-তে গেলে কী হবে?

    আবার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দলকে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার জন্য আইনসভার মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ সদস্যের সমর্থন থাকতে হয়। বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি করা ৬৫ সংখ্যাকে ভিত্তি ধরে যদি তাঁর গোষ্ঠী এনডিএ-তে যোগ দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর হাতে ১০ শতাংশেরও কম বিধায়ক থাকবে। সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে শাসক দলের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করবে।

    ৬৫ বিধায়কের সমর্থনের দাবি

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেছেন যে, তাঁদের গোষ্ঠীর পাশে বর্তমানে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। যদিও সেই বিধায়কদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে। সেই চিঠিতে সমর্থনকারী বিধায়কদের বিষয়ে তথ্য রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। “আমরা স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছি। সেই নামগুলি যদি প্রকাশ্যে আসে, তাহলে তা বিধানসভার বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের সামিল হবে,” মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে যে তৃণমূলের আরও বহু বিধায়ক গোপনে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

    সাংসদদের এনসিপিআই-এ যোগদান

    রবিবার দিল্লিতে নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা সংসদে পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানান এবং নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন। এরপর বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে তাঁদের গোষ্ঠী এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে এনসিপিআই। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের যোগদানের ফলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ঋতব্রতদের নিয়ে ভাবছেন না বিদ্রোহী সাংসদরা

    ঋতব্রত, তথা বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠীর মুখ কাকলি সাফ জানিয়ে দেন, ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর “কোনও সম্পর্ক নেই”। বারাসতের সাংসদ বলেন, “ওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। ও বিধানসভায় আছে, আর আমি সংসদে। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন একাই এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলাম। এখন আরও ১৯ জন আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে বাংলার জন্য কাজ করব।”

    দিল্লির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিদ্রোহী নেতা

    এই রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জোরালো হয় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ, যার মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, বাপি হালদার এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপই তাঁদের পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে কাজ করার ইঙ্গিত বহন করে।

    তৃণমূলের সামনে দীর্ঘ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে তার ইতিহাসের অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে দলের সাংসদদের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার পথে হাঁটছে, অন্যদিকে বিধায়কদের একটি অংশ রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার কৌশল নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের এই পৃথক রাজনৈতিক পথ ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি, বিধানসভায় অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ— সবকিছুর উপরই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান, স্পিকারের ভূমিকা এবং এনসিপিআই-এর সাংগঠনিক বিস্তার—এই তিনটি বিষয়ই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের (Prasun Mukherjee) সৌজন্যমূলক বৈঠক ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। সোমবার এই বৈঠক হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্ভাব্য শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি (Prasun Mukherjee)

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রধান শুভেন্দু শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বহুজাতিক সংস্থা ‘ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডে’র  চেয়ারম্যান প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ ঘোষণার খবর সামনে না এলেও, এই বৈঠককে ঘিরে ভবিষ্যতে বড় শিল্প প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে জানান, প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। তিনি নবান্নে এসেছিলেন সৌজন্যমূলক বৈঠক করতে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, ভবিষ্যতে দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রবৃদ্ধি ও কৌশলগত উন্নয়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    তিনি এও জানান, এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত মহলে প্রসূন-শুভেন্দুর এই বৈঠক নিয়ে চড়ছে আগ্রহের পারদ। এদিকে, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। সম্প্রতি গুজরাটের দুগ্ধ সমবায় সংস্থা আমূল হাওড়ার সাঁকরাইলে বড় লগ্নির কথা ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সংস্থাটি উত্তরবঙ্গেও ব্যবসা সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি করছে (Prasun Mukherjee)।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    এহেন পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাঙালি শিল্পপতি প্রসূনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই (Suvendu Adhikari) বৈঠকের ফলশ্রুতিতে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে নয়া বিনিয়োগ, শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের কতটা সুযোগ সৃষ্টি হয়, এখন সেটাই দেখার (Prasun Mukherjee)।

     

  • Suvendu Adhikari Government: রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনকল্যাণ শিবির ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু, নন্দীগ্রামে উদ্বোধন করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari Government: রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনকল্যাণ শিবির ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু, নন্দীগ্রামে উদ্বোধন করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari Government) নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘জনকল্যাণ শিবির’ (Janakalyan Shibir)। নাগরিক পরিধি আরও সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজ্যবাসী এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট শিবিরের আওতাতেই সরকারের বিভিন্ন দফতরের মোট ৫৪টি জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা ও সেবার জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।

    উদ্যোগের নেপথ্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (Suvendu Adhikari Government)

    প্রশাসনিক (Suvendu Adhikari Government) সূত্রে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষকে যাতে সরকারি প্রকল্পের সুফল পেতে বা যেকোনও শংসাপত্রের আবেদনের জন্য ব্লক কার্যালয় কিংবা জেলা সদরের বিভিন্ন দফতরে দফায় দফায় দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়, সেই ঝক্কি কমাতেই এই সমন্বিত শিবিরের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে এই শিবিরগুলো পরিচালিত হবে। যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলকভাবে সরকারি পরিষেবা (Janakalyan Shibir) পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল অভিমুখ।

    যেসব প্রধান পরিষেবা মিলবে এই শিবিরে

    এই বিশেষ সরকারি উদ্যোগে (Suvendu Adhikari Government) রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষি সংক্রান্ত ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাইকরণ করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র হলো:

    • সামাজিক ভাতা ও নিরাপত্তা: বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য সুরক্ষামূলক আর্থিক সহায়তা।
    • কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: কৃষকদের জন্য ক্রেডিট কার্ড, ফসল বিমা এবং বিভিন্ন সরকারি কৃষি অনুদান সংক্রান্ত পরিষেবা।
    • শিক্ষা ও যুব প্রগতি: ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি (স্কলারশিপ), স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোন সংক্রান্ত আবেদনের সুবিধা।
    • নাগরিক শংসাপত্র ও সংশোধন: জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) প্রদান এবং আধার বা ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের (Janakalyan Shibir) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।

    প্রশাসনিক তৎপরতা ও তদারকি

    ‘জনকল্যাণ শিবির’ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ সফল ও জনবান্ধব করে তুলতে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে (Suvendu Adhikari Government) বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি শিবিরে প্রতিটি দফতরের জন্য পৃথক কাউন্টার এবং অনুসন্ধান কেন্দ্রের (Help Desk) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, আবেদনপত্র জমা পড়ার পর তা যেন লাল ফিতের ফাঁসে আটকে না থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তারা পরিষেবা পান (Janakalyan Shibir), তা নিশ্চিত করতে রাজ্য স্তর থেকে একটি বিশেষ নজরদারি দল (Monitoring Cell) কাজ করছে। সোমবার প্রথম দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই শিবিরগুলোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

    জনকল্যাণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ও রূপরেখা

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষকে যাতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধার জন্য ব্লক দফতর বা জেলা সদরের একাধিক কার্যালয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই সমন্বিত শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে সুনির্দিষ্ট সূচি মেনে এই শিবিরগুলো পরিচালিত হবে। যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের চিহ্নিত করে দ্রুত সরকারি পরিষেবা (Janakalyan Shibir) প্রদান নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    আবেদনযোগ্য প্রধান প্রকল্পসমূহ

    এই বিশেষ শিবিরে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত ৫৪টি প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। শিবির থেকে মোট ৫৪টি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন দেখে নিন—

    • ● আয়ুষ্মান ভারত
    • ● অন্নপূর্ণা যোজনা
    • ● ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্টান্স প্রোগ্রাম
    • ● সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা
    • ● বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও
    • ● পিএম কিসান সম্মান নিধি
    • ● কিসান ক্রেডিট কার্ড
    • ● মাটির স্বাস্থ্য কার্ড
    • ● কৃষি পরিকাঠামো তহবিল
    • ● ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড
    • ● আধার এনরোলমেন্ট ও সিডিং
    • ● সিএএ আবেদন
    • ● জমির রেকর্ড মিউটেশন
    • ● জমির রেকর্ডে ছোট সংশোধন
    • ● পাট্টার আবেদন
    • ● পিএম সূর্যঘর যোজনা
    • ● পিএম স্বনীধি যোজনা
    • ● প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
    • ● পিএম উজ্জ্বলা যোজনা,
    • ● পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রস্তুতি

    জনকল্যাণ শিবিরগুলোকে নির্বিঘ্ন ও সফল করতে জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে প্রতিটি দপ্তরের জন্য আলাদা কাউন্টার বা হেল্পডেস্কের ব্যবস্থা থাকছে, যাতে প্রবীণ নাগরিক ও গ্রামীণ মানুষ সহজে তাঁদের প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে পারেন। প্রতিটি আবেদনের অগ্রগতি যাতে কড়া নজরদারিতে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তারা পরিষেবা (Janakalyan Shibir) পান, তার জন্য একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে। আজ প্রথম দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে এই শিবিরগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছ।।

  • Suvendu Adhikari: ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট শেষে নয়া বোর্ড কলকাতা পুরসভায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট শেষে নয়া বোর্ড কলকাতা পুরসভায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরসভা স্বচ্ছতা কর্মসূচির অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ছ’মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হয়ে যাবে এবং ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নবনির্বাচিত পুরবোর্ড গঠন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণায় এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, ডিসেম্বরের শুরুতেই হয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুরসভা নির্বাচন।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায় জল্পনার অবসান (Suvendu Adhikari) 

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাওয়ার পরেই তাদের দখলে থাকা কলকাতা পুরসভায়ও ভাঙন ধরে। মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর পদত্যাগের পরেই পুরবোর্ড বাতিল করে দেয় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রশাসক হিসেবে। নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে পুরসভার যাবতীয় কাজকর্ম। যদিও পুরসভার নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। সোমবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোট করে নয়া বোর্ড গড়া হবে।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর ডামাডোল

    কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে। করোনা অতিমারীর কারণে নির্বাচন হয়নি। ভোট হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৭টিতে জিতে বোর্ড গড়ে তৃণমূল। ওই নির্বাচনে বিরোধীরা ব্যাপক কারচুপি, ছাপ্পা ভোট ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে ক্ষমতা হারায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই শুরু হয়ে যায় পদত্যাগের হিড়িক, যার আঁচ লাগে কলকাতা পুরবোর্ডেও। ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগের পর পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর নতুন মেয়রের নাম জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও নাম জানানো হয়নি তৃণমূলের তরফে। এরপরেই রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেয় স্মিতার হাতে।

    শুভেন্দুর অনুষ্ঠানে হাজির কাজরী-ফিরহাদ

    এদিকে, এদিন পুরসভার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় (Kajari Banerjee)। ছিলেন তৃণমূলেরই জুঁই বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক কাউন্সিলর। উপস্থিত ছিলেন সদ্য-প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। জুঁই বলেন, “আমি ২০১০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কর্পোরেশনের কাউন্সিলর। আজ পর্যন্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রী কর্পোরেশনে আসেননি। এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন। এটা নিঃসন্দেহে একটা বড় পদক্ষেপ। আশাকরি, সব কাউন্সিলরই সহযোগিতা করবেন।” কাজরী বলেন, “অন্য দল বলে উনি (মুখ্যমন্ত্রী) কোনও বিভেদ করেননি। বিরোধীদের সমান গুরুত্ব দিয়ে ডেকেছেন।”

     

  • JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবার সফরের সময় বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার (JP Nadda) কনভয়ে হামলার ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে পুলিশ। এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা ফলতার তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। রাস্তা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় পরনে হাফ প্যান্ট ছিল। দুই হাতে কান ধরে ছিলেন এবং রাস্তায় উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চাইছিলেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তপ্রক্রিয়া (JP Nadda)

    ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) ফলতার নির্দিষ্ট ঘটনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০২০ সালের সেই দিনটিতে (JP Nadda) ঠিক কী ঘটেছিল, কনভয় লক্ষ্য করে কীভাবে এবং কোথা থেকে আক্রমণ চালানো হয়েছিল— তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণচিত্র তৈরি করেন তদন্তকারীরা। পুলিশি জেরা ও পুনর্নির্মাণের সময় একসময়ের এই দাপুটে নেতাকে অত্যন্ত অনুতপ্ত ও বিপর্যস্ত দেখায়। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতেই তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

    মামলা পুনরুজ্জীবন ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

    দীর্ঘদিন এই মামলার (JP Nadda) তদন্ত থমকে থাকার পর, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিপূর্বে রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনও কারণে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ব্যাহত হয়েছিল, যার ফলে মূল অভিযুক্তরা আইনি সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারির পর এই মামলার জট খুলতে শুরু করেছে।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে জাহাঙ্গীর খানের (Jahangir Khan) রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়া এবং পরবর্তীকালে নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁর গ্রেফতারের পর, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা এই পুরোনো ও স্পর্শকাতর মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং ঘটনার পেছনে থাকা সমস্ত কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা হবে।

LinkedIn
Share