Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • CAG Report: স্বাস্থ্যসাথী থেকে আমফান ত্রাণ, একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

    CAG Report: স্বাস্থ্যসাথী থেকে আমফান ত্রাণ, একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্যসাথী থেকে যুবশ্রী, আমফানের ত্রাণ থেকে পিএম কেয়ার্সের অক্সিজেন প্ল্যান্ট—রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, গাফিলতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে একের পর এক প্রশ্ন ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report)। শনিবার বিধানসভায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রিপোর্টগুলিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই রিপোর্টগুলো পড়লেই বোঝা যাবে কেন রাজ্যের ঋণের বোঝা এত বেড়েছে।’’

    পিএম কেয়ার্সের অক্সিজেন প্ল্যান্টের বড় অংশই চালু হয়নি

    ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) বলা হয়েছে, কোভিডের সময় কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) যে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত তার ৬৫৯.২৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশই খরচ হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, পিএম কেয়ার্স তহবিল এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর অর্থে রাজ্যে ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৩২টি চালু ছিল। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় অর্থে তৈরি হওয়া বহু পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহারই করা হয়নি বলে রিপোর্টে (CAG Report) উল্লেখ।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম!

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়েও একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ করেছে ক্যাগ—

    • ভুয়ো সুবিধাভোগীর আশঙ্কা- ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে রেশন কার্ডধারী পরিবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি স্বাস্থ্যসাথী সুবিধাভোগীর নাম নথিভুক্ত ছিল, যা ভুয়ো উপভোক্তার সম্ভাবনার ইঙ্গিত বলেই ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report) উল্লেখ।
    • অতিরিক্ত খরচ ও হাসপাতালের রেটিং নিয়ে প্রশ্ন- স্মার্ট কার্ড বিতরণে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। নমুনা হিসেবে পরীক্ষা করা ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৩১টিকে বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চতর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত (Empanel) করা হয়েছিল। এর ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
    • হাসপাতালের সংখ্যায় ঘাটতি- মোট ২ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারের জন্য ৩,০৩৮টি হাসপাতাল প্রয়োজন হলেও বাস্তবে তালিকাভুক্ত ছিল মাত্র ২,৬০৫টি হাসপাতাল। ফলে বহু মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে রিপোর্টে (CAG Report) ইঙ্গিত করা হয়েছে।
    • জনবল ও পরিকাঠামোর অভাব- পরিদর্শন করা হাসপাতালগুলির মধ্যে- ৩২টিতে চিকিৎসকের অভাব, ৩৬টিতে নার্সের ঘাটতি, ১৬টিতে ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি সরঞ্জামের অভাব ধরা পড়েছে।

    বাজেটের অভাবে ঋণ

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ২০২০-২২ সালে প্রায় ৭২১ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে সেই ঋণের সুদ বাবদ সরকারকে প্রায় ১০-১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ চিত্র

    ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী—

    • ● বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৩৬ শতাংশ পদ খালি
    • ● সাধারণ চিকিৎসকের ৪৯ শতাংশ পদ শূন্য
    • ● ৮৯ শতাংশ সাব-সেন্টারে পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী নেই
    • ● কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ৫৪ শতাংশ চিকিৎসকের পদ ফাঁকা
    • ● ৯১ শতাংশ CHC-তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই
    • ● ৮০ শতাংশের বেশি CHC-তে রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না

    এছাড়া জেলা হাসপাতালগুলিতে—

    • ● ৬৩ শতাংশ চিকিৎসকের পদ
    • ● ৪৪ শতাংশ প্যারামেডিক্যাল কর্মীর পদ
    • ● ৮০ শতাংশ প্রশাসনিক আধিকারিকের পদ খালি ছিল

    যুবশ্রী প্রকল্পেও প্রশ্ন

    ক্যাগ (CAG Report) রিপোর্টে উল্লেখ, যুবশ্রী প্রকল্পে আবেদনকারীদের যথাযথ যাচাইয়ের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। রিপোর্টে বলা হয়েছে- একই ব্যক্তি বছরের পর বছর ভাতা পাচ্ছেন। নতুন আবেদনকারীদের সুযোগ কমে যাচ্ছে। ভুয়ো আবেদনকারী তালিকায় থেকে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    আমফান ও ইয়াসে ত্রাণে অনিয়ম!

    সুপার সাইক্লোন আমফান-এর ক্ষতিপূরণ নিয়েও একাধিক অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেছে ক্যাগ (CAG Report)। রিপোর্ট অনুযায়ী- রাজ্য সরকার (West Bengal) কেন্দ্রের কাছে ৩৫,০১৮ কোটি টাকা দাবি করলেও নিরীক্ষায় দেখা যায়, প্রকৃত প্রাপ্য ছিল প্রায় ২,৭০৭.৭৭ কোটি টাকা। ৯,২২৬ জন উপভোক্তাকে একাধিকবার বাড়ি তৈরির অনুদান দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ১৮.০৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ২১৮.০৪ কোটি টাকা নির্দিষ্ট তহবিলের বাইরে রাখা হয়েছিল, ফলে ৪.৫১ কোটি টাকার সুদের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিপূরণে হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে ১,৭৭৯ জন একই ব্যক্তি একাধিকবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, যার ফলে ২২.৮৩ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

    শিল্পে জমি লিজে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ক্ষতি

    ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নদিয়ার হরিণঘাটায় শিল্প পার্কের জমি ৯৯ বছরের জন্য একটি ই-কমার্স সংস্থাকে লিজ দেওয়ার সময় জলাভূমিও লিজের আওতায় চলে আসে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের প্রায় ১৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিমা সংস্থার বকেয়া বেড়ে ৩১ কোটি টাকা

    ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report) বলা হয়েছে, বিমা সংস্থাগুলির কাছে রাজ্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা বকেয়া ছিল। সময়মতো সেই অর্থ পরিশোধ না করায় জরিমানা-সহ বকেয়ার পরিমাণ ৩১ কোটিরও বেশি হয়ে যায়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া বৃদ্ধি পেলেও সেই অর্থ বিমা সংস্থাগুলিকে পরিশোধ করা হয়নি।

    বাজেট বাস্তবায়নেও অসঙ্গতি

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের স্টেট ফিনান্সেস অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে- বরাদ্দ ছিল ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৬৩৮.০৪ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৭৫.৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭০ হাজার ৬৬২.২৫ কোটি টাকা (১৮.০৯ শতাংশ) অব্যবহৃত থেকে গেছে। এছাড়া ১৩ হাজার ৪৮৬.৯২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় এখনও বিধানসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও বহু হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত থাকার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রাজ্যের আর্থিক অবস্থার চিত্র

    ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী- রাজস্ব ঘাটতি: ৩৯,৭২৭ কোটি টাকা। আর্থিক (Fiscal) ঘাটতি: ৬১,৯২৪ কোটি টাকা। মোট ঋণ: প্রায় ৭.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত টানা ১০ বছর রাজস্ব ঘাটতির কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আয়ের বড় অংশ বেতন, পেনশন, সুদ এবং ভর্তুকি খাতে ব্যয় হওয়ায় পরিকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত মূলধনী বিনিয়োগ সম্ভব হয়নি বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে ক্যাগ।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) দাবি করেছেন, ক্যাগ রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ‘‘ভয়াবহ চিত্র’’ তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়লেও সেই অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

    ক্যাগ রিপোর্টে যেসব প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

    স্বাস্থ্যসাথী, যুবশ্রী, পিএম কেয়ার্সে অর্থে স্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্ট, আমফান ও ইয়াস ত্রাণ, জল জীবন মিশন, সমগ্র শিক্ষা মিশন, অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্প, পূর্ত দপ্তরের বিভিন্ন কাজ, শিল্পোন্নয়ন নিগমের জমি লিজ ও রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা- সব মিলিয়ে, ক্যাগের একাধিক রিপোর্টে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থ ব্যয়, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, দুর্যোগ ত্রাণ, কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই একাধিক অনিয়ম, গাফিলতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ উঠে এসেছে।

  • Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বর্ধিত বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে, শনিবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এক আইপিএস -সহ মোট পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড (IPS Officer Suspended) করার কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের আমলে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে যুক্ত কাজের অভিযোগ রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আগের সরকারের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই সময় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতেও আঘাত লেগেছিল।” পাশাপাশি, বিজেপি সরকার যে কোনওভাবেই প্রশাসনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বা দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না, তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও একই বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড

    সাসপেন্ড হওয়া পাঁচ পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে রয়েছেন-  কোটেশ্বর রাও (IPS Officer Suspended)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ (Diamond Harbour Police) জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন কোটেশ্বর। সাসপেন্ড করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন, কলকাতা পুলিশের বড়তলা থানার প্রাক্তন অফিসার-ইন-চার্জ সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী, বড়তলা থানার প্রাক্তন সাব-ইনস্পেক্টর সাধন পাণ্ডে এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অমলেন্দু বিশ্বাস।

    ক্ষমতায় এসেই শুরু হয়েছিল কড়া পদক্ষেপ

    এটাই নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেন। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্ত ও তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। শুধু সাসপেন্ড করাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্য সরকার ওই তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সরকারের বার্তা

    প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বজায় রাখাই যে বর্তমান বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়, তা আবারও স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই পদক্ষেপে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বার্তাও আরও একবার স্পষ্ট করে দিল শনিবারের এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত।

  • Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় ছাত্র সমাবেশ চলাকালীন হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার (Journalists Attack) ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। গত ২৪ জুলাই হামলা হয় সাংবাদিকদের ওপর (Rally Violence)। শনিবার গ্রেফতারির খবর জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানান, যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা কেউই ছাত্র নন।

    সাংবাদিক পিটিয়ে গ্রেফতার ১১ (Journalists Attack)

    তিনি বলেন, “হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা কেউই ছাত্র নয়। তারা সকলেই গোলমাল সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র সংগঠনের সমাবেশে উপস্থিত থেকে তারা ভাঙচুর ও হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।” গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ইরফান খুরশেদ (৩০), আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ (৫০), মহম্মদ মইনুদ্দিন (২৬), মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু (৪৮), ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯), খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু (৪৭), জামির আহমেদ ওরফে মিনকু (৪২), মহসিন খান (৩০) এবং দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮)। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে জনৈক মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে। পুলিশের দাবি, “মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে অন্ডালের কাছে তাদের আটক করা হয়।”

    কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এর আগে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় নিট আন্দোলনের সময় পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর “নৃশংস হামলা”র তীব্র নিন্দা করেন। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে জখম হওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি জানান, আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন (Journalists Attack)। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ কলকাতায় দুষ্কৃতীদের হাতে পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একাধিক আহত সাংবাদিক বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছি। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের ব্যানারে আয়োজিত এক (Rally Violence) বিক্ষোভে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে বোতল ছুড়তেও দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ (Journalists Attack)।

     

  • Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির (Sebashray Scam) অভিযোগে ফের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, এই মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং যথাসময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি” (Sebashray Scam)

    বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু প্রথমেই সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি। বিষ্ণুপুরে একাধিক অভিযোগ হয়েছে।” এরপর নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে আক্রমণ করেন। বিধানসভায় বক্তব্যের সময় শুভেন্দু বেশ কয়েকটি ছবিও দেখান। তাঁর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে একাধিক মানুষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও পা কেটে ফেলতে হয়েছে, কাউকে খোয়াতে হয়েছে হাত। সেই সমস্ত ঘটনার ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এক্স-রে এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্র বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদেরও বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ তো খুনের মামলা। চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। সবক’টাকে তুলব। একবার কেউ জেলে ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না। কাউকে বাঁচানো যাবে না। আগে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সমস্ত যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’’

    সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয়

    মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দিলীপ মণ্ডলের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ২০২৫ সালের ওষুধের পাশাপাশি মিলেছে ২০২১ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া ওষুধও। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্যের সময় ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাসের লেখা একটি চিঠিরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই চিকিৎসক সেবাশ্রয় প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির অংশও তিনি বিধানসভায় পড়ে শোনান। এরপর রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের পরমাণু শক্তি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য দফতরের কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার এবং নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয় এবং সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে (Sebashray Scam)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী এবং জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক তদন্ত চলছে। সেবাশ্রয় শিবিরে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অভিযোগকে পৃথক মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিশ্চিন্ত থাকুন, যাঁরা এত বড় অপরাধ করেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। সময়ই সব কথা বলবে। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যথা সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।”

    অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের মামলা

    এদিকে, অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, পৈলানের একটি রিসর্টে টানা চল্লিশ দিন ধরে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই রিসর্টের তরফে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিবির পরিচালনার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান টানা চল্লিশ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক এবং কর্মীর থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের সমস্ত ব্যবস্থা করতে হয়েছিল রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে। অথচ সেই সমস্ত খরচ তাঁদের (চিকিৎসক ও কর্মীদের) নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে। এর ফলে পর্যটনের মরশুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। অভিযোগে অভিষেক ছাড়াও তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রিসর্টের মালিক সমীরণ রায়ের দাবি, শুধু থাকার খরচই নয়, স্থানীয় শিবির পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থও তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল। টাকা না দিলে রিসর্টে ভাঙচুর চালানো হবে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ (Sebashray Scam)।

    কী বলছেন অভিযোগকারী?

    অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ প্রকল্পের কারণে তাঁদের অন্তত বিশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তাঁরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় অভিষেক-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। শুক্রবারই ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেন। সেই আবহেই নতুন অভিযোগ সামনে আসায় তৃণমূলের রক্তচাপ আরও বেড়েছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (Suvendu Adhikari)।

    সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়, জানাল আদালত

    এদিকে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অভিষেকের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে একের পর এক মামলা। তবে এই সব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলেই দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন। যদিও আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সামগ্রিকভাবে তাঁকে কোনও সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে প্রতিটি মামলায় আইন অনুযায়ী তদন্ত চলবে। রাজ্যের অন্যতম বহুল চর্চিত এই মামলায় আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের পক্ষে কতটা প্রমাণ সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর (Sebashray Scam)।

     

  • NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ওই মিছিল থেকে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকেরাও। শনিবার বিধানসভায় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইন যোগ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

    কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

    শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের আঁচ লেগেছে কলকাতাতেও। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। মিছিলের ব্যাখা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসেবে ভিড় ছিল ৯ হাজার। তার মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভোটে পরাজিতরা খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট নিউটাউন, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি থেকে লোক সাপ্লাই করেছে। পরবর্তীকালে যখন ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসে, প্রথমে জুতো, বোতল ছোড়া হয়। টার্গেট করে সাংবাদিকদের। ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি মারুক সেল ফাটাক যাতে নাটক জমে। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেননি। কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    কোনওরকম বলপ্রয়োগ নয়

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শনিবার শুভেন্দু বলেন, “আমি আক্রান্ত ও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছি। …আমাদের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে এটা গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ গণতান্ত্রিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না বা পুলিশের দিক থেকে কিছু করা যাবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। মিছিল থেকে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের তরফে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা একজনও ছাত্র নয়। ককরোচ পার্টির সদস্য নয়। যারা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।”

    রণক্ষেত্র ধর্মতলা চত্বর

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা চত্বর। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিকও। সেই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। একটি মামলা হয়েছে এন্টালি থানাতেও। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতেও পাঁচটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘‘এই নেগেটিভ পিআর এর আগেও ছড়ানো হয়েছে। যে পুলিশের তরফ থেকে হামলা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে আমরা স্বচক্ষে দেখেছি যে পুলিশের তরফে কোনও হামলা শুরু হয়নি। পুলিশ আটকাতে আসছিল। আর আমাদের এই ছাত্রসমাজের মাঝখান থেকে এক দু’জন উঠে কিছুটা তেড়ে যায় পুলিশের দিকে। তবে, তারা ছাত্রছাত্রী ছিল না অবশ্যই। তারা আমাদের ডাকে অবশ্যই আসেনি।’’

    পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ জড়িত

    এদিন বিধানসভায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “চারজন কুখ্যাত লোকের নাম বলছি আমি। যাদের আমরা ছাড়ব না। আরও বাকি নাম বলে এখানে সময় নষ্ট করব না। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুণ্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম। গুণ্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুণ্ডাদমন আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে। সমগ্র বিধানসভার তরফে সাংবাদিকদের উপরে শারীরিক নিগ্রহের নিন্দা করছি। বিজেপির বিধায়করা বিআর আদেম্বকর মূর্তির নিচে কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেই কালো ব্যাজ পরে তাঁরা সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।”

    কেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা?

    সিজেপি-র কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা আদৌ ছাত্র কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগই ছিল সংবাদমাধ্যমের তরফে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। মূলত বেআইনি জমায়েত, হিংসা, জমায়েত থেকে অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা দেওয়া, অশান্তিতে উস্কানির ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Suvendu Adhikari: ‘গেটম্যানের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য’, কর্ণসুবর্ণে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে শুভেন্দু, চাকরির আশ্বাস

    Suvendu Adhikari: ‘গেটম্যানের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য’, কর্ণসুবর্ণে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে শুভেন্দু, চাকরির আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে পুলকার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পাঁচ জনের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রত্যেক পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার (Compensation for Victims) চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের এক জনকে চাকরির আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনা “ক্ষমার অযোগ্য” এবং আইন অনুযায়ী তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কী ঘটেছিল কর্ণসুবর্ণে?

    গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে রেলগেট পার হওয়ার সময় একটি পুলকারে ট্রেনের ধাক্কা লাগে। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় চার শিশু-সহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত আরও দু’জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই দুর্ঘটনা ঘিরে গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। রেলগেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গেটম্যানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়।

    শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন কর্ণসুবর্ণে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রত্যেক পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক সহায়তার (Compensation for Victims) চেক তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির এক জন সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “ছোট্ট ছোট্ট ফুলের মতো বাচ্চাগুলো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। দুঃখপ্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতিপূরণ হয় না। যে অর্থ দিয়েছি, সেটা সরকারি অর্থ, আমার নয়।”

    গেটম্যানকে নিয়ে কড়া বার্তা

    দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “এই ঘটনা এড়ানো যেত। প্রাথমিক তদন্তে রেল ও পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, গেটম্যান দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছে। আইন অনুযায়ী তার চূড়ান্ত শাস্তি হবে।” তবে, শুধু কঠোর মন্তব্যেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযুক্ত জেলে থাকাকালীনই দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি কাস্টডি ট্রায়ালের মাধ্যমে যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সে দিকেও নজর রাখতে বলেছেন।

    আহতদের খোঁজ নিলেন শুভেন্দু

    এদিন হাসপাতালে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত দু’জনের শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

    ভেঙে পড়েছেন আজিজা

    এই দুর্ঘটনায় নিজের একমাত্র ছেলে ইশানুর রহমানকে হারিয়েছেন আজিজা খাতুন। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সামনে কান্নায় ভাঙলেন তিনি। আজিজা জানান, তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে সৌদি আরবে থাকেন। একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর তিনি কার্যত একা হয়ে পড়েছেন। তাই স্বামীর জন্য রাজ্যেই একটি চাকরির আবেদন জানিয়েছেন। আজিজা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন।”

    ‘ছোট মেয়েটাকে মানুষ করতে চাই’

    দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জেসিকা শবনমের মা শেফালি খাতুনও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে বড় হয়ে অনেক কিছু করতে পারত। কিছুই হল না। এখন একটাই আশা, কোনও ছোটখাটো চাকরিও যদি দেয় আমাকে, ছোট মেয়েটাকে মানুষ করতে পারি। আমার স্বামীর কোনও আয় নেই। আমি ওই গেটম্যানের শাস্তি চাই।”

    স্বজন হারিয়েও মানবিক বার্তা

    স্বজনহারা দিলার হোসেনের বক্তব্যে উঠে এসেছে এক ভিন্ন অনুভূতি। দিলারের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছেন। গেটম্যানের তো ভুল আছেই। সরকার যা করার করবে। আসল মানুষটা তো চলেই গিয়েছে। গেটম্যানকে এখন শাস্তি দিয়েই বা কী হবে! তারও তো পরিবার আছে!”

    তদন্তের পাশাপাশি নজর পুনর্বাসনেও

    দুর্ঘটনার পর ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক সহায়তা ও চাকরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের। কর্ণসুবর্ণের এই দুর্ঘটনা শুধু পাঁচটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, একাধিক পরিবারের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে এবং প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Manoj Agarwal: এসআইআর-এ ধরা পড়েছে ‘অনিয়ম’, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নিয়মে বড় বদল! মুখ্যসচিবের কড়া বার্তা

    Manoj Agarwal: এসআইআর-এ ধরা পড়েছে ‘অনিয়ম’, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নিয়মে বড় বদল! মুখ্যসচিবের কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রকে কেন্দ্র করে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সম্প্রতি ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছিল, তারপরেই একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত নবান্নের (Nabanna)। এবার থেকে আর পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধানরা জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। সেই দায়িত্ব যাবে সরকারি আধিকারিকদের হাতে। একইসঙ্গে ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত সমস্ত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই, রাজ্যজুড়ে পুলিশের অভিযান এবং অভিন্ন ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরির মতো একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়ালের (Manoj Agarwal)।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    নবান্নের (Nabanna) দাবি, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রশাসন ও পুলিশের কাছেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যসচিবের বার্তা

    মুখ্যসচিবের (Manoj Agarwal) কথায়, “জন্ম শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। নির্বাচনের পরে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। SIR করতে গিয়ে বহু ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক জায়গায় নকল জন্ম শংসাপত্র পাওয়া গিয়েছে। এই ভুয়ো নথির মাধ্যমে অনেকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। নিয়ম থাকলেও বহু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।”

    দায়িত্বে থাকবেন সরকারি আধিকারিক

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষমতা আর কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে থাকবে না। পুরপ্রধান, চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধানদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকরাই এই শংসাপত্র ইস্যু করবেন। স্বাস্থ্য দফতর খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকা প্রকাশ করবে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমবে।

    ১৯৯৭ সাল থেকে সব নথির পুনর্যাচাই

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ধাপে ধাপে পুনরায় যাচাই করা হবে। সমস্ত তথ্য ডিজিটালভাবে স্ক্যান করে একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার (ডেটাবেস) তৈরি করা হবে। পরে সেই তথ্যভান্ডার কেন্দ্রীয় পোর্টালের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে সহজেই নথির সত্যতা যাচাই করা যায়। এদিন মুখ্যসচিব (Manoj Agarwal) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই স্ক্যানিং ও ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তথ্য যাচাই। তা শেষ হলেই সমস্ত রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট দফতরে ফেরত দেওয়া হবে।

    বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, শুনানির সুযোগও

    তবে, শুধু নথি যাচাই করেই থেমে থাকবে না প্রশাসন। প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষাও করা হবে। যাঁদের কাছে বৈধ জন্ম শংসাপত্র নেই, তাঁদের শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজন হলে নতুন করে শংসাপত্র দেওয়া হবে। অন্যদিকে, কোনও ভুয়ো বা বেআইনি শংসাপত্র ধরা পড়লে তা বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে সেই নথি পেয়েছেন? তা নিয়েও তদন্ত হবে।

    ‘কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক থাকতে পারবেন না’

    যাচাই অভিযানের প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল (Manoj Agarwal) বলেন, “কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবেন না। ভুয়ো নথির মাধ্যমে কেউ যাতে বেআইনিভাবে সরকারি সুবিধা নিতে বা পরিচয় গোপন করে থাকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।”

    স্কুলের নথিতেও ভুয়ো শংসাপত্রের অভিযোগ

    মুখ্যসচিবের (Manoj Agarwal) অভিযোগ, শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, স্কুলের নথিতেও বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত আবেদনকারীরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাই সব তথ্য স্ক্যান করে পুনরায় যাচাই করা হবে।

    মুখ্যসচিবের আশ্বাস

    তবে সাধারণ মানুষের ভয়ের যে কোনও কারণ নেই, এদিন তাও আশ্বস্ত করলেন মুখ্যসচিব (Manoj Agarwal)। তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই এই যাচাই করবেন। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের কড়া অভিযান

    মুখ্যসচিবের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি ও নথি যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বীরভূম, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক জেলার পুরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্টার পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এসআইআর চলাকালীন বেআইনিভাবে শংসাপত্র ইস্যুর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চলছে।

    সরকারের লক্ষ্য

    নবান্নের (Nabanna) স্পষ্ট বার্তা, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা নয়, বরং জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও দুর্নীতিমুক্ত করা। বৈধ নথি থাকা সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কোথাও কারচুপির প্রমাণ মিললে বা কোনও সরকারি আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেআইনি কাজ করে থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উদ্যোগে আরও স্পষ্ট হল বিজেপি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

  • Kolkata Metro: এ বার ভোর ৬টা থেকেই মেট্রো, রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময়! কলকাতার যাতায়াতে বড় স্বস্তি, বদল এই মাস থেকেই

    Kolkata Metro: এ বার ভোর ৬টা থেকেই মেট্রো, রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময়! কলকাতার যাতায়াতে বড় স্বস্তি, বদল এই মাস থেকেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে কলকাতার ব্যস্ত জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে মেট্রো পরিষেবা। অফিসগামী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে প্রতিদিনের হাজার হাজার যাত্রীর সুবিধার্থে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro)। এবার ব্লু ও গ্রিন- দুই গুরুত্বপূর্ণ করিডরেই প্রথম ও শেষ মেট্রোর সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। তবে শুধু সময়ই নয়, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও (Metro Service Increase)। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ২৭ জুলাই (সোমবার) থেকে এই নতুন সূচি কার্যকর হবে।

    ভোর ৬টা থেকেই প্রথম মেট্রো

    এখনও পর্যন্ত ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরাম করিডরে দুই প্রান্ত থেকেই দিনের প্রথম মেট্রো ছাড়ে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে। নতুন সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে সেই সময় এগিয়ে এসে হবে ভোর ৬টা। একই পরিবর্তন হচ্ছে হাওড়া ময়দান- সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অর্থাৎ গ্রিন লাইনেও। বর্তমানে এই লাইনে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৬টা ৩৯ মিনিটে। ২৭ জুলাই থেকে এখানেও প্রথম মেট্রো পাওয়া যাবে সকাল ৬টায়।

    রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময় 

    শুধু সকালেই নয়, রাতেও যাত্রীদের জন্য বাড়ছে মেট্রোর সময়সীমা। বর্তমানে ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর ও শহিদ ক্ষুদিরাম- দুই প্রান্ত থেকেই শেষ মেট্রো ছাড়ে রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে। নতুন সূচিতে তা পিছিয়ে রাত ১০টা ৩০ মিনিট করা হচ্ছে। একইভাবে গ্রিন লাইনে এখন শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ১০টা ৫ মিনিটে। আগামী সোমবার থেকে হাওড়া ময়দান ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভ- দুই প্রান্ত থেকেই শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।

    সপ্তাহের কোন দিন কী নিয়ম?

    নতুন সময়সূচি কার্যকর থাকবে সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত। তবে রবিবার কিছুটা আলাদা নিয়ম থাকবে। ওই দিন ব্লু ও গ্রিন- দুই লাইনেই প্রথম মেট্রো চলবে সকাল ৯টায়। তবে শেষ মেট্রোর সময় থাকবে রাত ১০টা ৩০ মিনিট।

    শুধু সময় নয়, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও (Metro Service Increase)

    যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে দুই লাইনেই পরিষেবার সংখ্যাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ব্লু লাইনে সোমবার থেকে শুক্রবার- ২৬০ থেকে বেড়ে ২৭২টি পরিষেবা। শনিবার- ২৪৬ থেকে বেড়ে ২৫৮টি ও রবিবার- ১৫২ থেকে বেড়ে ১৫৮টি মেট্রো চলবে। পাশাপাশি, গ্রিন লাইনে সোমবার থেকে শুক্রবার চলবে ২২৮ থেকে বেড়ে ২৩৬টি মেট্রো। শনিবার- ২০৪ থেকে বেড়ে ২১২টি ও রবিবার- ১০৮ থেকে বেড়ে ১১১টি মেট্রো চলবে।

    আপাতত পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা

    কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই সময়সূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। যাত্রীদের সাড়া, যাতায়াতের চাহিদা এবং পরিষেবার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে এই সময়সূচিকেই স্থায়ী করা হতে পারে। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায় কতদিন চলবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কলকাতার জনজীবনে মেট্রো এখন শুধু একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। সেই কারণেই ভোরের পরিষেবা আরও আগে শুরু হওয়া এবং রাত পর্যন্ত ট্রেন চলার সময় বাড়ানো- দুই মিলিয়ে শহরের যাত্রীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। অফিসের তাড়া হোক কিংবা রাতের বাড়ি ফেরা, নতুন সূচি কলকাতার চলার গতি আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেবে।

  • Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে হিসেব মেটানোর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Abhishek)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়াই করুন অভিষেক। ২০৩১ সালে তিনি কোথায় থাকবেন, তা বিজেপিই ঠিক করবে বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির প্রশ্নে বিধানসভা থেকে বুধবার বাম-তৃণমূল দুই প্রাক্তন শাসক দলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তবে তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে।

    শুভেন্দুর আল্টিমেটাম

    স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর হুমকি, ‘‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’’ তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি। কেউ বলছে, ভাইপো প্যারাশুটে নেমেছে। আর ভাইপো বলছে, নোট-খাতা খুলে রাখো, একত্রিশে হিসেব হবে। আরে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে।” রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে কেন আর তাঁর কেন্দ্রে দেখা যায় না, তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “৪ মের পর ডায়মন্ড হারবার গিয়েছ? জোকা পেরিয়েছ? যাও না ডায়মন্ড হারবার। পান্নালাল হালদার নিয়ে যান চ্যাম্পিয়ন এমপি-কে।”

    ৩১-এ কোথায় থাকে দেখব

    বুধবার ক্যাথিড্রাল রোডের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। কর্মীদের সাহস ও উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যাঁরা ভয় উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ৩১ সালে সব হিসেব বুঝে নেবে।” মন্তব্যের পাল্টা শুভেন্দু বলেন, “গতকাল বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। ও ৩১-এ কোথায় থাকে আমি দেখব।”

    ‘‘ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে’’

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটে লড়ুন, তারপর কোথায় থাকবেন, তা দেখবেন। ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহ—সবাই বলেছিলেন, ডি-জে বাজাবেন। কিন্তু ৪ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষই ডি-জে বাজিয়ে দিয়েছেন।” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সরকার ভদ্রতা বজায় রেখেছে বলেই এখনও কেউ ২ হাজার লোকের সামনে নায়কোচিত ভঙ্গিতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। প্রতিষ্ঠিত চোর ভিতরে থাকবেন না বাইরে থাকবেন, তা ভবিষ্যৎই বলবে।”

    ‘‘শওকত, পুষ্পার থেকেও অবস্থা খারাপ হবে’’

    ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন। সেখানে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। তারপরও আপনি যে ব্যবধানে জিতেছেন, সেই ব্যবধানেই যদি আপনাকে হারাতে না পারি, তাহলে আমার কথাই ভুল প্রমাণিত হবে। আপনার অবস্থা শওকত বা পুষ্পার থেকেও খারাপ হবে।’’ বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আগের রাজ্য সরকারেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পুলিশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? এই ভাইপোপন্থী তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, সেটাই আমার দায়িত্ব। ফলতা তো সবে শুরু, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম এখনও বাকি।’’

    ‘‘পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না’’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘তিনি বলছেন, আবার ফিরে আসবেন। সবাই নাকি গদ্দার, সব চোর নাকি অন্য দলে চলে গিয়েছে। এত বড় নেত্রী হয়েও মিত্র ইন্সটিটিউশনের চারটি বুথেই আমার কাছে হেরেছেন। পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না, অথচ নিজেকে জননেত্রী বলেন। একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন।’’

    আমফান দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে তোপ

    তার আগেই বিধানসভায় সিএজি (ক্যাগ) রিপোর্ট পেশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে আমফান নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। আমপানের পর কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আসা বিপুল অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর সভা করার সময়ও আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্নীতি নিয়ে আগেও অভিষেককে নিশানা করেছেন তিনি। সেই আমফান দুর্নীতি নিয়ে সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    পুলিশের দুর্নীতি রুখতে দাওয়াই শুভেন্দুর

    পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘ওটা (অভিষেক) বাঘ না, বেড়াল। যত চুরি করেছে সব গর্ত খুঁড়ে বার করব।’’ ‘আঞ্চলিক দলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলে অভিষেককে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতার দিকেও। তাঁর নাম না-করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘আপনি বেঁচে থাকতে থাকতে প্রমাণ করে দেব আপনি প্রতিষ্ঠিত চোর।’’পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুলিশের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কিছুই করেনি। রাজ্য পুলিশে অনুমোদিত পদের এক তৃতীয়াংশই (৪৩ হাজার ৭৩) শূন্য রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তবে আশ্বাস দেন পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিযুক্ত হবে। আরও ২০ হাজার পুলিশকর্মী অবিলম্বে নিয়োগ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পুলিশের দুর্নীতি রুখতে তাঁর দাওয়াই, ‘‘হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। কোথাও কাউকে রাস্তায় হাত পাততে দেখলেই জানান।’’

    ‘জিরো টলারেন্সের’ নির্দেশ

    ধানতলা, বানতলা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা বা সূচপুরের ঘটনা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, যে ঘটনাগুলিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে মানুষকে বিচার পাইয়ে দিতে পারেননি তিনি। মহিলা এবং নারীদের উপর অপরাধের ক্ষেত্রে ফের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বলে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘‘এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। যা করার দরকার তাই করবেন। মনে রাখবেন আপনাদের সবচেয়ে বড় ঢাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’ বিগত সরকারের জমানায় ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত একের পর এক ফাঁসির সাজা দিলেও তা কার্যকর কেন হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মূলত তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বারুইপুরের শিশুকন্যা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে কার্যত মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ঘটনা ঘটলে তা কী ভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা বারুইপুরের ঘটনায় প্রমাণ করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’

    দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা তৃণমূলকে

    এর পরেই দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। গত পনেরো বছরে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি করেছেন, সেই সব বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বামেদেরও বিঁধেছেন শুভেন্দু। সিপিএমকে চিটফান্ডের ‘ক্যাম্পেইনার’ বলে অভিযোগ করে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে এ রাজ্যের সিপিএম নেতাদের একাংশের ফাইল খোলার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

    ডায়মন্ড হারবারে লড়বেন!

    কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে ভিড় নিয়ে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিড়লা তারামণ্ডলে ওইটুকু জায়গায় কত লোক হয়েছে? পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। আড়াই হাজারের একটু বেশি হয়েছে।” মমতা অভিষেককে বাঘ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা বাঘ না বিড়াল। ওকে আমি কাউন্টার করব না। ও অনেক বড়-বড় কথা বলে। তবে একটাই কথা বলব, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে। যত ভোটে জিতেছে, তত ভোটে হারাব। আপনার অবস্থা পুষ্পার চেয়েও খারাপ হবে।”

  • WB Assembly: ক্যাগ রিপোর্টে নাম উঠলেই এফআইআরের সুপারিশ! বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    WB Assembly: ক্যাগ রিপোর্টে নাম উঠলেই এফআইআরের সুপারিশ! বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬, তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচারের মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেছিলেন, ‘‘বিকাশ ভি হোগা, হিসাব ভি হোগা।’’ অর্থাৎ উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতিরও হিসাব নেওয়া হবে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই বার্তারই প্রতিফলন যেন দেখা গেল বিধানসভায় (WB Assembly)। স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের জবাবি ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) যাঁদের নাম উঠবে, তিনি যত বড় নেতা-মন্ত্রীই হোন না কেন, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার সুপারিশও করা হবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?

    বিধানসভায় (WB Assembly) দাঁড়িয়ে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘‘আগামী ২৫ জুলাই ক্যাগ রিপোর্ট (CAG Report) পেশ হবে। পরবর্তী অধিবেশনে আমরা ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করব এবং তার সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব। যেখানে যেখানে দুর্নীতি হয়েছে, ক্যাগ তা ধরবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হোন, মন্ত্রী হোন কিংবা যত বড় নেতাই হোন না কেন। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য আমরা রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করব।’’ এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, দুর্নীতির অভিযোগে ব্যক্তি নয়, প্রমাণই হবে সরকারের পদক্ষেপের ভিত্তি।

    ফের সামনে আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ 

    এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি (Narendra Modi) আমফানের সময় দু’দফায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমফানে বড় দুর্নীতি হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ ক্যাগ তদন্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি, বিধানসভাতেও (WB Assembly) পেশ করা হয়নি। যাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’’ সেই বিশেষ ক্যাগ তদন্তের রিপোর্টও এবার প্রকাশ্যে এনে বিধানসভায় আলোচনা করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adjikari)।

    বিশেষ অধিবেশনের ইঙ্গিত

    এদিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান,”সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাজ শেষ হলেই রিপোর্ট জমা পড়বে। এরপর রাজ্যপালের কাছে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সুপারিশ করা হবে। যাতে আমফানের বিশেষ ক্যাগ রিপোর্ট-সহ ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে এই বিধানসভায় আলোচনা হয়। যারা বড় বড় ভাষণ দিয়েছেন, এবার তাঁদের মুখোশও খোলা হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ১ অগাস্ট থেকে সচল হবে সাংবিধানিক কমিশনগুলি

    প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকার মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশন, শিশু রক্ষা কমিশন, এসসি-এসটি, ওবিসি, সংখ্যালঘু কমিশন এবং তথ্য কমিশনার-সহ একাধিক সাংবিধানিক সংস্থাকে কার্যত অচল করে রেখেছিল। পশ্চিমবঙ্গে যতগুলি সাংবিধানিক সংস্থা আছে, সবকটিকেই অচল করে রাখা হয়েছিল। আগামী ১ অগাস্ট থেকে সব কমিশন আবার কাজ শুরু করবে। তারা সব অভিযোগ নিতে বাধ্য থাকবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করবে।’’ একইসঙ্গে প্রাক্তন বিচারপতি তথা পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অশোক গাঙ্গুলির উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

    কুণাল ঘোষের পাল্টা প্রশ্ন

    তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলও। কালীঘাটের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) পাল্টা প্রশ্ন, ক্যাগ রিপোর্টে যদি বালিশ শিবিরের কারও নাম থাকে, সেখানেও কি ব্যবস্থা হবে? এর আগেও একটা ঘটনায় এক বিধায়কের সই দেখিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। তারপর কী হয়েছিল?

    ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা, এখন নজর ক্যাগ রিপোর্টে

    বিজেপি সরকার শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন মামলায় পদক্ষেপ কার্যত সেই বার্তাই দিয়েছে। এবার ২৫ জুলাই ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশের পর তাতে উঠে আসা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়? আমফান দুর্নীতির বিশেষ তদন্তের রিপোর্ট কবে বিধানসভায় আসে? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়? এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কারণ, এই রিপোর্টকে ঘিরেই বাংলার রাজনীতিতে যে নতুন সংঘাতের সূচনা হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

LinkedIn
Share