Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • CM Suvendu Adhikari: তিন মাসে আড়াই লাখ পড়ুয়ার পাতে ইসকনের মিড-ডে মিল, সপ্তাহে দু’দিন মিলবে ডিম

    CM Suvendu Adhikari: তিন মাসে আড়াই লাখ পড়ুয়ার পাতে ইসকনের মিড-ডে মিল, সপ্তাহে দু’দিন মিলবে ডিম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্যের আড়াই লাখ পড়ুয়ার কাছে ইসকনের মিড-ডে (ISKCON Mid Day Meal) মিল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। শনিবার তারাতলায় ইসকনের ‘সেন্ট্রাল কিচেনে’ মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এ দিন কলকাতা পুরসভা এলাকার প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ৫০০টি স্কুলের প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার জন্য ইসকনের তরফে মিড-ডে মিল সরবরাহ করা হয়। রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল, স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য উন্নত মানের খাবার নিশ্চিত করতে ইসকনের হাতে মিড-ডে মিল পরিষেবার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইসকনের খাবার মূলত নিরামিষ হওয়ায় শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, পড়ুয়াদের পাতে তা হলে ডিম থাকবে কি না। বিরোধিতা ও বিতর্কের মধ্যেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে। তবে ইসকনের রান্না করা খাবারের ব্যবস্থার বাইরে পৃথকভাবে ডিম সরবরাহ করা হবে।

    পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে (CM Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু বলেন, “পড়ুয়াদের সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়া হবে। তবে আলাদা ব্যবস্থার মাধ্যমে।” ইসকনের মিড-ডে মিল নিয়ে ডিম বাদ পড়ার সম্ভাবনা ঘিরে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর অনেকেই দাবি করেছিলেন, ডিম না থাকলে খাবারের পুষ্টিমান কমে যেতে পারে। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ দিন ইসকনের ‘সেন্ট্রাল কিচেন’ পরিদর্শনে গিয়ে রান্নার ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ইসকন আয়োজিত যজ্ঞে অংশ নেন তিনি। পরে রান্নাঘরে গিয়ে মিড-ডে মিল তৈরির প্রক্রিয়া দেখার পাশাপাশি রান্নার কাজেও সহযোগিতা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঁচটি স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়াও উপস্থিত ছিল। রান্নাঘর উদ্বোধনের পাশাপাশি একটি বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিড-ডে মিলের পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “ইসকনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরিষেবা আড়াই লাখ পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে (ISKCON Mid Day Meal)।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইসকন অত্যন্ত পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই স্কুলগুলিতে খাবার পৌঁছে দেবে। শুধু উন্নয়ন নয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্রুটিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি (CM Suvendu Adhikari)।

    রাঁধুনিদেরও কাজে রাখা হবে

    ইসকনের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব যাওয়ায় এত দিন যে রাঁধুনিরা স্কুলে খাবার তৈরি করতেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এ দিন তাঁদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও রাঁধুনিকে কাজ থেকে সরানো হবে না। তাঁদেরও ইসকনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। শুভেন্দু বলেন, “এক মাস আগে মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের নিয়ে একটি মিছিল দেখেছিলাম। কিছু বলিনি। সেই মিছিলকারীদের উদ্দেশে বলি, একজন রাঁধুনি দিদিও কর্মচ্যুত হবেন না। রান্না এবং মিড-ডে মিল বিতরণ প্রক্রিয়ায় তাঁদের জুড়ে দেওয়া হবে।” মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অগাস্ট থেকে তাঁদের মাসিক ভাতা আরও ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ফলে তাঁদের মোট মাসিক পারিশ্রমিক ৩,০০০ টাকা হবে বলে জানান তিনি।

    আন্ডা আন্ডা’ বলে আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ

    স্কুলের মিড-ডে মিলে ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে শুরু থেকেই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এ দিন তারও জবাব দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ইসকনের নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে। তবে তার সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে (ISKCON Mid Day Meal)। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ইসকনের একটি নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে। তার বাইরেও ওড়িশায় আমাদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। জানতে পেরেছি সেখানে স্কুলে এক দিন ডিম সিদ্ধ দেওয়া হয়। আমরা ঠিক করেছি আলাদা করে বাচ্চাদের দু’দিন ডিম বিতরণ করব (CM Suvendu Adhikari)।” ডিম নিয়ে আগাম আন্দোলন ও সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রথম থেকেই আন্ডা আন্ডা বলে মিছিল বের করে দিলেন! কিছু না জেনে এ সব নিয়ে বলা শুরু করে দিলেন!” শুভেন্দুর বক্তব্য, মিড-ডে মিল নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইসকনের কী চুক্তি হয়েছে, তা জানতে শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলা যেত। প্রয়োজন হলে ইসকনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তা না করেই শুরু থেকে ডিম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলন করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

    কলকাতায় পাইলট প্রকল্প, পরে গোটা রাজ্যে?

    রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিড-ডে মিল ব্যবস্থার মানোন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল। পড়ুয়াদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার লক্ষ্যেই ইসকনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের বক্তব্য। প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে (ISKCON Mid Day Meal)। ১ অগস্ট থেকে কলকাতার স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পাইলট প্রকল্পের সূচনা হল। প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে গোটা রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে (CM Suvendu Adhikari)। ইসকনের নিরামিষ খাবার নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, পুষ্টির ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি রাখা হবে না। এখন সপ্তাহে দু’দিন আলাদা ব্যবস্থায় ডিম দেওয়ার ঘোষণায় সেই বিতর্কেও জল দিল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার।

     

  • CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজ্যে শুরু হল জনগণনার কাজ। দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো এ রাজ্যেও প্রথম বার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করা হচ্ছে। এই পর্বে অনলাইনে ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে স্ব-শুমারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নবান্নে বসেই তিনি নিজের পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করেন। পাশাপাশি রাজ্যবাসীকেও (Census) স্ব-শুমারির সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    স্ব-শুমারি প্রথম বার (CM Suvendu Adhikari)

    এ বারের জনগণনায় স্ব-শুমারি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ—এই দুই বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ বারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-শুমারি হচ্ছে প্রথম বার।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “রাজ্যবাসীর দেওয়া তথ্য গোপন এবং আইনগত ভাবে সুরক্ষিত থাকবে। একমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য তা ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের সুযোগ নেই।”

    ‘জনগণের জনকল্যাণ’

    এ বারের জনগণনার মূল বার্তা ‘জনগণের জনকল্যাণ’। জনগণনা সফল ভাবে সম্পন্ন হলে উন্নত ভারত গঠনের পরিকল্পনায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্যও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ১৫ অগস্ট স্ব-শুমারি পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হবে বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের কাজ। ১৬ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণনাকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখবেন। কোথাও ভুল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগও থাকবে। এ বার গোটা জনগণনা প্রক্রিয়াই ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য গণনাকারীদের বিশেষ মোবাইল ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে তথ্য সংগ্রহের কাজ আগের তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কাগজের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে (CM Suvendu Adhikari)।

    মিলবে জাতিগত সুবিধা

    স্ব-শুমারির ৩৩টি প্রশ্নে নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বসবাসের ধরন-সহ নানা তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই জনগণনায় প্রথম বার জাতিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জাতিগত ভিত্তিতে স্থায়ী পরিসংখ্যান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এর ফলে সাধারণ মানুষ জাতিগত সুবিধা পাবেন। আলাদা করে তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। জাতিগত তথ্যে স্থায়ী পরিসংখ্যান থাকবে।” জনগণনার প্রস্তুতি নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার সময়মতো কাজ শুরু করেনি। বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন যাঁরা

    এ দিকে, যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার তালিকায় এখনও বিবেচনাধীন, তাঁরা স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। এর মধ্যে কিছু নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে, ট্রাইবুনালও হয়েছে এবং প্রায় সাত লাখ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের তরফে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসা মানুষদের নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে একাংশ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন এবং অন্য অংশ শরণার্থী। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (CM Suvendu Adhikari)।

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যেরা হলেন শরণার্থী। সিএএর আওতায় হিন্দু, শিখ, জৈন পারসিরা কিন্তু শরণার্থীর পর্যায়ে পড়েন। ২০১৯ সালের আইন, ২০২৪ সালের রুলে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তাঁরা শরণার্থী। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাণ, ধর্ম বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে না। পুলিশ হয়রানি করতে পারবে না।” জনগণনার (Census) মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এখন নজর আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলা স্ব-শুমারি পর্বে রাজ্যের মানুষ কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, তার দিকে (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-যোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হতেন অর্পিতা। তদন্তকারীদের দাবি, এই তথ্যের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য হামলার ছক তৈরি করা হত।

    হামিমকে জেরা করেই সামনে আসে অর্পিতার নাম

    শুক্রবার বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্স থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আদালত তাকে ১৪ দিনের STF হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। এসটিএফ সূত্রের দাবি, জেরার সময় হামিমের কাছ থেকেই অর্পিতা সরকারের নাম উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাতেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে চলত তথ্য সংগ্রহ?

    তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতাকে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হত। তাঁর কাজ ছিল বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রশাসনিক আধিকারিক, আমলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। অভিযোগ, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হত। এসটিএফ-এর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, হামিমের নির্দেশেই এই যোগাযোগ তৈরি করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটসহ একাধিক ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামিমের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে চাইছেন। একই সঙ্গে জানতে চাইছেন, গোটা নেটওয়ার্কে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল এবং আর কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

    বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের নিশানায় রাখার অভিযোগ

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি ও আরএসএস নেতার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর। সেই উদ্দেশ্যে একটি নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে হামিম সেই পরিকল্পনায় কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল এবং সেই তথ্য কীভাবে বিদেশি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছত, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করার অভিযোগ

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হামিমের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি এসটিএফ-এর। এমনকি, শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনের ফ্ল্যাটে যে রাস্তায় যাতায়াত করতেন, সেই রুটে হামিম রেকিও করেছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আন্তর্জাতিক যোগ মিলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। এসটিএফ তদন্ত করছে। ধৃতের মোবাইল-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    জিম থেকেই ধরা পড়ে হামিম

    শুক্রবার সকালে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন রেনেসাঁ হাউজিং কমপ্লেক্সের জিম থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে পূর্ব বর্ধমান জেলার কুসুমগ্রামের বাসিন্দা। তবে তার পরিবারের শিকড় মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর গ্রামেও রয়েছে। হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করতেন। কয়েক মাস আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্সের রোহিনী টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছে দেখেন ফ্ল্যাটে তালা ঝুলছে। প্রতিবেশীদের দাবি, হামিমের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের কথা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য, আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা কখনও চোখে পড়েনি।

    হাওড়ায় চাকরির আড়ালে চলছিল নাশকতার প্রস্তুতি?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম হাওড়ার পিলখানার একটি রেডিমেড পোশাক কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করত। কিন্তু এসটিএফ-এর দাবি, এই চাকরির আড়ালেই সে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল নিউটাউনেও।তদন্তকারীরা এখন হামিম ও অর্পিতার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে গোটা নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ এবং আরও কোনও সহযোগী এই চক্রে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে হামিম ও অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে STF। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আগামী কয়েক দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনিক প্রধান যখন চোখ-কান বন্ধ করে থাকেন, তখনই দুর্নীতি একেবারে গোড়য় গেঁথে যায়। আগের সরকারের সময় রাজ্যে তাই হয়েছিল। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। বীরভূমের পাথর ও বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান এবং বিপুল ধনসম্পদ উদ্ধারের খতিয়ান তুলে ধরে নবান্ন থেকে একগুচ্ছ বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন তিনি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, টুলু মণ্ডলের নামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিলাসবহুল গাড়ি, জমি, সোনা-রুপো-সহ একাধিক সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, তদন্তে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও উদ্ধার করেছেন তিনটি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার ও সিপিইউ এবং দুটি পেনড্রাইভ। পরিবহণ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সম্পদেরও হদিস মিলেছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ, অডি-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ১৫ বছরে কেবল একটি জেলা থেকেই রাজ্য সরকারের বিপুল রাজস্বের ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় পাচার চক্র বছরের পর বছর চলা অসম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “বিগত সরকারের আমলে পাথর খাত থেকে মাসে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। আর আমাদের সরকারের সময়ে কঠোর নজরদারির ফলে কেবল গত এক মাসেই ৮৩ কোটি টাকার রেভিনিউ সংগ্রহ হয়েছে। নদীর পাড়ে তৃণমূল নেতারা যে বালি ডাম্প করে রেখেছিল, আমরা এসে তা খোলা নিলাম (Auction) করাই। সেই বালি নিলাম করেই রাজ্য সরকারের ভাণ্ডারে নতুন করে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এসেছে।”

    রাজ্য পুলিশ দক্ষ

    সাধারণত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে এই ধরনের বিশাল ক্র্যাক ডাউন করতে দেখা যায়। তবে রাজ্য পুলিশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রাজ্যের পুলিশও যে কতটা দক্ষ, তা এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। এই পাচারের টাকা বিদেশেও পাঠানো হয়েছে। অনেকেই চিকিৎসার দোহাই দিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।” শুভেন্দু আশাপ্রকাশ করেন যে, দুর্নীতির পথ বন্ধ হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষ শেষে রাজ্য সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ আরও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

  • Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ঘিরে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাছে পাঠানোর অভিযোগে ধৃত হামিদ মণ্ডলকে জেরা করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এসটিএফ-এর ডিজি, সিআইএসএফ-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও কোনও ফাঁক ছিল কি না, ভবিষ্যতে কীভাবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে— সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হবে।

    হামিদকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়

    বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদ মণ্ডলকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একটি দল ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু বর্ধমান নয়, হাওড়াকেও ব্যবহার করা হচ্ছিল এই গোটা অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, হামিদ একা কাজ করছিল না। এই চক্রের সঙ্গে আরও অন্তত চারজন যুক্ত থাকতে পারে। তাদের পরিচয়, অবস্থান এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের তথ্য পাঠানোর অভিযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, হামিদ নিয়মিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, সম্ভাব্য অবস্থান এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে কাশ্মীরে থাকা সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে পাঠাত। এই তথ্যের বিনিময়ে সে নিয়মিত অর্থও পেত বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। ধৃতের মোবাইল ফোন থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হামলার ষড়যন্ত্রের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন।

    ছাপোষা জীবনের আড়ালে সক্রিয় নেটওয়ার্ক

    তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আরও বিস্ময়কর। বাইরে থেকে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিদের ভূমিকা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাওড়ার পিলখানায় তার পরিবারের বসবাস। বাবা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতেন এবং হামিদও দীর্ঘদিন সেই কারখানাতেই কাজ করেছে। স্থানীয়ভাবে সে দর্জির কাজও করত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। পিলখানা এলাকায় উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পর সে বর্ধমানে চলে আসে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং-এ থাকছিল সে। এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সেই সময় থেকেই কি নতুন করে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল।

    পূর্ব ভারতে নেটওয়ার্ক বিস্তারের দায়িত্ব?

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিদের দায়িত্ব ছিল পূর্ব ভারতে সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক বিস্তার করা। শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, নতুন সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা, সংগঠনের সদস্যদের আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া— একাধিক দায়িত্ব সামলাত সে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। গোয়েন্দাদের মতে, তার সাধারণ চেহারা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনই ছিল সবচেয়ে বড় আড়াল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন সন্দেহের বাইরে থাকতে পেরেছিল সে।

    শুধু বাংলা নয়, উত্তর-পূর্বেও সক্রিয় একই নেটওয়ার্ক

    এই তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অসমেও একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। অসমে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি এবং একাধিক সন্দেহজনক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, রেইকি, গুপ্তচরবৃত্তি, স্লিপার সেল গঠন, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো একাধিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

    পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করত। গোয়েন্দাদের মতে, আইএসআই-সমর্থিত এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সদস্য সংগ্রহ ও অপারেশন পরিচালনার চেষ্টা চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়া— বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম— ব্যবহার করে নতুন সদস্য নিয়োগ, ভয়েস নোটের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো এবং সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত হামিদ কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সদস্য। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, টার্গেটেড কিলিং, অস্ত্র পাচার এবং উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধীরে ধীরে এই নেটওয়ার্ক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কি না, এখন সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাকে একই সূত্রে মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা

    মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে বসেছে। নিরাপত্তা বলয়ের প্রতিটি স্তর নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ধৃত হামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। হামিদের ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।

  • New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যমিক নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি (New Syllabus) কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গেই এবার সিলেবাস পরিবর্তনের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পুরো সিলেবাস আমুল বদলে যাবে বলে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ইতিমধ্যে সিলেবাস কাম কারিকুলাম কমিটি গড়েছে রাজ্য। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বদল করা হবে সিলেবাসে। ২০২৭-এর শিক্ষাবর্ষেই পড়ুয়ারা পরিমার্জিত সিলেবাস পাবে। অর্থাৎ, পাঠ্যবইয়ে বদল আসবে। আর ২০২৮ থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে সেই নীতিকে সামনে রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে পুরো বদলে যাবে সিলেবাস। ফের বদলাবে বই।

    বর্তমানের উপযোগী সিলেবাস

    দীপক বর্মণ বলেন, “আজকের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যে সিলেবাস প্রয়োজন, সেটা করা হবে। মাঝে মাঝেই এভাবে রিভিউ কমিটি তৈরি করা হয়ে থাকে, সেরকমই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির প্রথম পরিকল্পনা, ২০২৭-এ যে বই বেরবে, সেগুলি রিভিউ করা হবে। ২০২৮-এ শিক্ষানীতি অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে। কমিটি যা সুপারিশ করবে, সেই অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে।” দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই ওই কমিটি সিলেবাস তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    নীল-সাদা রং নয়, বাদ বিশ্ব বাংলা লোগো

    স্কুলের ক্ষেত্রে একাধিক বদল ইতিমধ্যেই এনেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ইউনিফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব বাংলা লোগো। অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন করার কথাও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। নীল নয়, প্রতিটি স্কুল নিজের মতো রঙ পছন্দ করতে পারবে। ২০১৮-য় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলে নীল-সাদা রং করার জন্যে সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। তৎকালীন স্কুলশিক্ষা সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালের পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছিল, সরকারি নিয়মে যে রঙের কথা বলা আছে, সেটাই করতে হবে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নীল-সাদাই ছিল সরকারি রং। সেজন্য অর্থ সরকারই দিয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু স্কুল অবশ্য সেই পথে এখনও হাঁটেনি।

    স্কুল-ছুট রুখতে পদক্ষেপ

    পাশাপাশি স্কুল-ছুট রুখতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং’ (এনআইওওএস)-এর সঙ্গে মউ সই হয়েছে সরকারের। এক রাজ্য থেকে অন্যত্র কোনও পরিবার বা পড়ুয়া স্থানান্তিরত হলে যাতে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই মউ সই হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরেও যাতে এমন সেন্টার খোলা যায়, সেই চেষ্টাও হবে বলে জানিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।

     

     

     

     

  • NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০১৪। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর রাজ্যে প্রথম তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ঘটনার এক যুগ পর পশ্চিমবঙ্গে থানা পেল এনআইএ। সপ্তাহখানেক আগেই ক্যাবিনেট বৈঠকে থানা (NIA Police Station) তৈরির ছাড়পত্র মেলে। এবার তৈরি হল এনআইএ থানা। এবার থেকে আর রাজ্যের অন্য কোনও সাধারণ বা স্থানীয় থানার পরিকাঠামোর উপর তাদের নির্ভর করতে হবে না। নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে । বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউটাউনের এনবিসিসি স্কোয়ারে এনআইএ-র নিজস্ব থানা কাজ শুরু করবে।

    এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি

    সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই একটি মাত্র থানার এক্তিয়ারেই থাকবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। অর্থাৎ, রাজ্যের যেকোনও প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্তের প্রয়োজনে এই নির্দিষ্ট থানাতেই এফআইআর দায়ের বা মামলা রুজু করতে পারবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) বা ২০২৩ সালের ৪৬ নম্বর আইনের অধীনে রাজ্য সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই আইনের ২(১)(ইউ) ধারায় রাজ্য সরকারকে যেকোনও স্থানকে থানা হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল এই থানার অনুমোদন দিয়েছেন। রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। নবান্নের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির নম্বর হল ১৯৭৫-পিএল/পিবি/৪পি-০২/২০২৬।

    কোথায় হয়েছে এনআইয়ের থানা

    সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের এনআইএ আইনের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট অপরাধগুলির তদন্তের জন্যই মূলত এই থানা কাজ করবে। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া থ্রি-তে অবস্থিত এনবিসিসি স্কোয়ারের ১৬ তলায় এই থানার আনুষ্ঠানিক ঠিকানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে থানার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি পুলিশ স্টেশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল’। তার ঠিক পাশেই এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা হিসেবে ‘সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য থানার মতোই এই থানাতেও ওসি, সাব ইন্সপেক্টর, কনস্টেবলের মতো পোস্ট থাকে। এ রাজ্যে কোনও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা থাকলে, তা তদন্ত করা হবে এই থানা থেকে। রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে বেলডাঙার অশান্তির মামলা, মালদহের মোথাবাড়ি-কাণ্ড থেকে শুরু করে একাধিক মামলার তদন্ত করছে এনআইএ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের মামলাতেও একাধিকবার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। সম্প্রতি রাজ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে থানা তৈরির বিষয়টিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্প্রতি অমিত শাহও রাজ্য সফরে এসে এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

    এনআইয়ের নিজস্ব থানার সুবিধা

    তৃণমূল সরকারের আমলেই থানা খুলতে চেয়েছিল এনআইএ। তবে বিভিন্ন সমস্যায় সেই থানা খোলা যায়নি বলে দাবি। তবে ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা উন্নতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তিনমাসের মধ্যে ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাজ্যে খোলা হবে এনআইএ থানা। সেই সিদ্ধান্তের পরই খুলে গেল থানা। এতদিন রাজ্যে এনআইএ-র নিজস্ব কোনও পূর্ণাঙ্গ থানা ছিল না। ফলে তদন্তের প্রয়োজনে তাদের নানা আইনি এবং পদ্ধতিগত জটিলতার মুখে পড়তে হত। কোথাও তল্লাশি চালানো, কাউকে গ্রেফতার করা বা ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাগুলির উপর নির্ভর করতে হত। অনেক ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়াতেও অহেতুক সময় নষ্ট হত বলে অভিযোগ ছিল। নতুন এই থানা চালু হওয়ার ফলে সেই পরিকাঠামোগত সমস্যা আর থাকবে না। এখন থেকে সরাসরি নিজেদের থানাতেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এনআইএ আধিকারিকরা।

    তৈরি হবে এনআইএ আদালত-ও

    শুধু থানা নয় এনআইএ আদালতও তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেই কাজ হবে বলে জানা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরি হবে। কোথায় হবে আদালত, তা ঠিক করবে কলকাতা হাইকোর্ট। এই আদালতে শুধুমাত্র এনআইএ মামলাগুলিরই শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে মামলাগুলির আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে দেশজুড়ে এনআইএ-এর মামলাগুলোর জন‍্য সুনির্দিষ্ট ও পৃথক আদালত গঠন করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিচারভবনে মুখ্য বিচারকের এজলাসের উপর এনআইএ-এর আদালতের দায়িত্ব দিয়েছে রেখেছে হাইকোর্ট। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় তাদের মামলার সংখ্যাও অনেকটা বেড়েছে। এবার পৃথক থানা তৈরি হয়ে গেল। এবার আদালত গঠন হলে মামলার কাজ দ্রুত এগোনো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এনআইএ সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, দেশদ্রোহিতা, জালনোট কারবার বা বিস্ফোরক আইনের মতো গুরুতর এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধের তদন্ত করে থাকে। নিজস্ব থানা না থাকায় অনেক সময় ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়া বা লকআপে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হত। এখন নিউটাউনের এই ঠিকানাই হবে রাজ্যে এনআইএ-র মূল কন্ট্রোল রুম। এখান থেকেই গোটা রাজ্যের যেকোনও প্রান্তের মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন তদন্তের কাজে গতি আসবে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখাও অনেক বেশি সহজ হবে।

  • JeM Terrorist Arrest: বর্ধমানে গ্রেফতার জইশ জঙ্গি, মিলল মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্টের তথ্য! শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক? তদন্তে এসটিএফ

    JeM Terrorist Arrest: বর্ধমানে গ্রেফতার জইশ জঙ্গি, মিলল মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্টের তথ্য! শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক? তদন্তে এসটিএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী যোগের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মীরের এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে, যিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি তদন্তকারীদের। ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর কাছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিআইপি মুভমেন্ট সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল তথ্য ছিল। এই তথ্য উদ্ধারের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও হামলার ছক কষা হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে।

    বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে এসটিএফের অভিযান

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং বর্ধমান পুলিশ। সেখান থেকেই হামিদ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপন করে ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি কিছু সময় কলকাতার নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটেও অবস্থান করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।ধৃতের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলির ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে তাঁর যোগাযোগের পরিধি এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার

    তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, হামিদ মণ্ডলের কাছ থেকে এমন কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৈনন্দিন কর্মসূচি, যাতায়াতের রুট, ভিআইপি মুভমেন্ট, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য এবং চলাচলের বিভিন্ন খুঁটিনাটি উল্লেখ রয়েছে।

    সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল—

    • ● মুখ্যমন্ত্রী কোন গাড়িতে যাতায়াত করেন
    • ● কখন গাড়িতে ওঠেন
    • ● কোন রুট ব্যবহার করেন
    • ● কোথায় পার্কিং করা হয়
    • ● গাড়ির চালক সংক্রান্ত তথ্য
    • ● ভিআইপি মুভমেন্টের সময়সূচি
    • ● লোকেশন ট্র্যাকিং এবং ফলো করার নির্দেশ সংক্রান্ত নথি
    • ● মোবাইল চার্ট-সহ একাধিক ডিজিটাল তথ্য

    এই সংবেদনশীল নথি উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, শুধুই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও হামলার পরিকল্পনা ছিল।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহ

    এসটিএফ সূত্রে দাবি, হামিদ মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল কাশ্মীরের কুখ্যাত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি তথা পুলওয়ামা আক্রমণের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাজ্জাদ ভাটের গোষ্ঠীর সঙ্গে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি শুধু সংগঠনের সমর্থক নন, বরং ওই গোষ্ঠীর সক্রিয় সহযোগী হিসেবেও কাজ করতেন বলে সন্দেহ রয়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিদের ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং রাজ্যে তাঁর সম্ভাব্য সহযোগীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি

    ধৃত হামিদ মণ্ডলকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করবেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ হেফাজতে এনে কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তদন্ত সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের আশা, জিজ্ঞাসাবাদে পশ্চিমবঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, স্থানীয় যোগাযোগ এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

    বিজেপি বিধায়কের প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক এবং প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যে সরকার বদলের পর পুলিশের মাইন্ডসেট বদলেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। তাদের কাজ আরও ভালো হয়েছে। এই জঙ্গিরা ওভার দ্য গ্রাউন্ড সমর্থন পেয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে যেমন তাদের সাপোর্ট ভাঙা হয়েছে, আমাদের এখানেও তাই করতে হবে।”

    তদন্তে এখনও একাধিক প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার কোনও নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের কথা নিশ্চিত করেনি। তবে ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সংবেদনশীল নথি, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য এবং জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগের অভিযোগ গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। হামিদ মণ্ডলের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • Suvendu Adhikari: শিল্প ফেরাতে মাস্টারপ্ল্যান! বন্ধ কারখানার জমি ফিরিয়ে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’, সিঙ্গুরে কেমিক্যাল হাবের প্রস্তাব

    Suvendu Adhikari: শিল্প ফেরাতে মাস্টারপ্ল্যান! বন্ধ কারখানার জমি ফিরিয়ে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’, সিঙ্গুরে কেমিক্যাল হাবের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাতে জমির অভাব বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা শিল্প কারখানার জমি চিহ্নিত করে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে নতুন আইন এনে সেই জমি পুনরুদ্ধার করে শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এমন সময় বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) কেন্দ্রের ‘ভব্য রসায়ন’ (BHAVYA Rasayan) প্রকল্পের আওতায় বাংলায় একটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ার আবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সিঙ্গুর-সহ চারটি সম্ভাব্য জায়গারও প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি প্রস্তুত রাখার সরকারি উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীকের

    কেন্দ্র সরকারের নতুন ‘ভব্য রসায়ন’ (BHAVYA Rasayan) প্রকল্পের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার আর্জি জানালেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) লেখা একটি চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, এই প্রকল্প বাংলার শিল্পায়নের জন্য একটি বিরল সুযোগ। অন্য রাজ্যগুলি আবেদন করার আগেই দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত বলেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

    কেন্দ্রের ৩,০৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে বাংলার সুযোগ

    গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক ‘চ্যালেঞ্জ রুট’-এর মাধ্যমে তিনটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র সর্বোচ্চ ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে। গোটা প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,০৩০ কোটি টাকা। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্প?

    চিঠিতে সাংসদ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে রাজ্য নির্বাচিত হলে শুধু কেন্দ্রীয় অনুদানই নয়, ভবিষ্যতে হাজার হাজার কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাংলায় আসতে পারে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধাগুলি হল-

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে অন্তত ১,৫০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো গড়ে উঠবে
    • ● কেমিক্যাল, নির্মাণ, লজিস্টিক্স এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-এ বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে
    • ● বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং কৃষি-সহ একাধিক শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হবে
    • ● আধুনিক কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (CETP) এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে

    সিঙ্গুর-সহ চারটি জায়গার প্রস্তাব

    কেমিক্যাল পার্ক তৈরির জন্য রাজ্যের চারটি সম্ভাব্য স্থানের নামও উল্লেখ করেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। সেগুলি হল- সিঙ্গুর, হলদিয়া, রঘুনাথপুর ও দুর্গাপুর। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি জমি নিয়ে কোনও বিতর্ক না থাকে, তাহলে সিঙ্গুর একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার চাইলে পরিকাঠামো ও সুবিধা বিচার করে অন্য কোনও বিতর্কমুক্ত জমিও নির্বাচন করতে পারে।

    প্রকল্পের জন্য কী কী শর্ত মানতে হবে?

    চিঠিতে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলিও তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- অন্তত ২,০০০ একর নিরবচ্ছিন্ন জমি চিহ্নিত করতে হবে। রাজ্য সরকারকে ৫০০ কোটি টাকা আর্থিক অংশীদারিত্ব দিতে হবে। জমির মালিকানা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

    রাজ্যকে চারটি পরামর্শ

    প্রকল্পে সফল হতে রাজ্য সরকারের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপেরও পরামর্শ দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।

    • ● শিল্প দফতর ও WBIDC-কে নিয়ে দ্রুত একটি আন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করে আবেদনপত্র প্রস্তুত করা
    • ● ২,০০০ একর বিতর্কমুক্ত জমি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা
    • ● আগামী রাজ্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার অংশীদারিত্বের ব্যবস্থা রাখা
    • ● কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও পেট্রোরসায়ন মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও জোর দিতে চায় রাজ্য

    চিঠিতে কেমিক্যাল পার্কের পাশাপাশি শিল্পায়নের বৃহত্তর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্র যেমন কেমিক্যাল পার্ক গড়ার পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় বিনিয়োগ টানতে উৎসাহ দিচ্ছে, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari) এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগের জন্য টাটা গোষ্ঠীকে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ে সহযোগিতার আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি এই প্রকল্পে এগিয়ে আসে, তাহলে কেন্দ্রীয় স্তরে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তাঁর লেখা চিঠির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta), শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Ray) এবং শিল্প সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    বন্ধ শিল্প জমি ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত একটি শিল্প-সভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) জানান, ‘‘বহু শিল্প সংস্থার হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি বছরের পর বছর ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই জমিগুলিকে পুনরুদ্ধার করে নতুন শিল্প স্থাপনের কাজে লাগাতে চায় সরকার। প্রয়োজন হলে নতুন আইন আনার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে। আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় শিল্প কারখানার দখলে থাকা জমি পুনরুদ্ধার করে নতুন শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে।’’

    তৈরি হচ্ছে রাজ্যের ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’

    শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবার গোটা রাজ্যজুড়ে অব্যবহৃত শিল্প জমির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শুধু কলকাতার আশেপাশে নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পড়ে থাকা শিল্প জমিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, এই জমিগুলিকে একত্রিত করে একটি ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরি করা, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শিল্প স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জমি দেওয়া যায়।

    বিনিয়োগ না হলে ফিরিয়ে দিতে হবে জমি

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শিল্পের জন্য বরাদ্দ হলেও বহু জমিতে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকল্প শুরু হয়নি। তাই প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থা বা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য বলা হবে। যদি কোনও সংস্থা শিল্প গড়তে আগ্রহ না দেখায়, তাহলে তাদের সেই জমি সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের।

    দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানাই লক্ষ্য

    রাজ্য সরকারের লক্ষ্য শুধু দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী নয়, বিদেশি বিনিয়োগও পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা। সেই কারণে শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা, দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং দীর্ঘদিন অচল থাকা জমিকে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, শিল্পায়নের পথে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে আনতে পারলে আগামী দিনে বড় শিল্প, কেমিক্যাল পার্ক, সেমিকন্ডাক্টর, উৎপাদন শিল্প এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।

    শিল্পায়নে একের পর এক পদক্ষেপ

    নবগঠিত বিজেপি সরকারের বয়স এখনও মাত্র ১২ সপ্তাহ। তার মধ্যেই শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক পরিকল্পনা সামনে আনা হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রের ভব্য রসায়ন প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি নিশ্চিত করতে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির উদ্যোগও শুরু হয়েছে। সরকারের আশা, এই দুই পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে বড় শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে।

  • Minar Mondal Arrest: বাস চালক থেকে ‘ধনকুবের’, গ্রেফতার টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়িতে ২৮ কোটি! মিনারের উত্থানের নেপথ্যে কী রহস্য?

    Minar Mondal Arrest: বাস চালক থেকে ‘ধনকুবের’, গ্রেফতার টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়িতে ২৮ কোটি! মিনারের উত্থানের নেপথ্যে কী রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের মহম্মদবাজারে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। তার পরে রাতভর চলে ‘সিজ়ার লিস্ট’ তৈরির কাজ। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন মিনার মণ্ডল (Minar Mondal Arrest)। ইতিমধ্যেই গোটা বাড়ি সিল করা হয়েছে। পরিবারের বাকি সদস্যরা অন্যত্র ঠাঁই নিয়েছেন। পেশায় একজন সরকারি বাসচালক ছিলেন। সেখান থেকে কীভাবে এত সম্পত্তি?

    বাসচালক থেকে ‘ধনকুবের’

    মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া অভিযান বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ। পাশাপাশি উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। মহম্মদবাজারের ডেউচা বাসস্ট্যান্ডের পাশেই মিনারের বাড়ি। বাইরে থেকে বাড়িটি একেবারেই সাধারণ। রং চটা দেওয়াল, নেই কোনও বিলাসিতার ছাপ। কিন্তু সেই বাড়ির আলমারিতেই লুকিয়ে ছিল কোটি কোটি টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা।

    বাজেয়াপ্ত ট্রাঙ্ক ও আলমারি

    বৃহস্পতিবার সকালে মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার (Minar Mondal Arrest) করে পুলিশ। এদিনই তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারীরা সেগুলি ট্রেজারিতে নিয়ে যান। তদন্তকারী দল বাড়ি থেকে ছ’টি ট্রাঙ্ক এবং দুটি আলমারি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের দাবি, এই ট্রাঙ্ক ও আলমারিগুলির মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল নগদ অর্থ এবং সোনা।  রাতভর চলে সেগুলির হিসাব ও বাজেয়াপ্ত তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরির কাজ। পুরো অভিযান চলাকালীন মিনারের বাড়ি ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    টাকার উৎস নিয়ে নীরব মিনার

    গ্রেফতারের (Minar Mondal Arrest) সময় সাংবাদিকরা বারবার জানতে চান, এত বিপুল টাকা ও সোনার উৎস কী? এই সম্পদের মালিক কে? তবে কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি মিনার মণ্ডল। অন্যদিকে, মিনারের ছেলের দাবি, বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনা রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণাই ছিল না। তবে বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, তল্লাশির সময় মিনার প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনা টুলু মণ্ডলের অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ডাকাতদের জেরায় খুলল গোপন ভাণ্ডার!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ডাকাতির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হলেন অর্জুন লোহার, শেখ গিয়াসউদ্দিন, শেখ ফরজুদ্দিন, পুলক সাহা, শেখ ফিরোজ আহমেদ, অভিনব ভাতসা এবং রবিকুমার গুপ্ত। বুধবার সিউড়ি আদালত তাঁদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সাত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারের ডেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর টানা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে পুলিশি অভিযান। তল্লাশির সময় বাড়ির বিভিন্ন আলমারি ও লুকোনো জায়গা থেকে একের পর এক নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয়।

    টুলু-যোগ!

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় মিনার মণ্ডল সরকারি বাসের চালক ছিলেন। পরে তিনি সেই কাজ ছেড়ে দেন। তিনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নিজামুদ্দিনের শ্যালক। এরপর টুলু মণ্ডলের সঙ্গে পাথর ব্যবসায় যুক্ত হন। তারপর থেকেই তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।

    মিনারের অনুব্রত (Anubrata Mondal)-যোগ!

    বীরভূমে বালি ও পাথর ব্যবসাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে তথাকথিত ‘ডিসিআর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব লুঠ হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ তৃণমূলের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ঘনিষ্ঠ। গরুপাচার মামলার তদন্তের সময় টুলু মণ্ডলকেও দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। মিনার মণ্ডল টুলু মণ্ডলের আত্মীয় (শ্যালক) হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তাই মিনারকেও অনুব্রত (Anubrata Mondal)-ঘনিষ্ঠ বলেই দাবি শাসক শিবিরের। যদিও এবিষয়ে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) কাছে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    সরকারের কড়া বার্তা

    এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি সম্পদ লুঠ, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের মতে, এই বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা কোথা থেকে এসেছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত? এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না? তা পুরোটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

LinkedIn
Share