Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেল। রাজ্যের চারটি জেলায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের (West Bengal Oil Exploration) জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনকে অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার (ONGC West Bengal)। শিল্পমহলের মতে, এই পদক্ষেপ সফল হলে শুধু জ্বালানি ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    কোন কোন জেলায় অনুসন্ধান?

    রাজ্য সরকারের অনুমোদন (ONGC West Bengal) পাওয়া চারটি জেলা হল নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের বাজেট পেশের সময় শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, ২০২৫ সালের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী ওএনজিসিকে (ONGC) এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া- এই তিন জেলায় প্রায় ২,৮৭২.৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধানের কাজ হবে। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর প্রকল্পেও কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলেছে।

    রাজ্যের আয় বাড়ার আশা

    সরকারের আশা, এই প্রকল্প থেকে রাজ্যের কোষাগারেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসবে। বিশেষ করে অশোকনগর প্রকল্প থেকেই প্রায় ১০৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। অন্য তিন জেলার ক্ষেত্রেও চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন থেকে রাজ্যের নির্ধারিত অংশ রাজস্ব হিসেবে মিলবে।

    শিল্প ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

    তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সফল হলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছে শিল্প দফতর। অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে ঘিরে একাধিক সহায়ক শিল্প গড়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি সংক্রান্ত আরও প্রকল্পে বিনিয়োগের পথও খুলতে পারে।

    আগেই মিলেছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান

    রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বহু বছর ধরেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ওএনজিসি (ONGC)। এর আগে কেন্দ্র জানিয়েছিল, উত্তর ২৪ পরগনার কনকপুর এলাকায় প্রায় ২,৭৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। একইভাবে নদিয়ার রানাঘাটেও প্রায় ২,৭১৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণে এই অঞ্চলে অনুসন্ধান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    ভারত এখনও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে দেশের মাটিতে নতুন জ্বালানির উৎস খুঁজে পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে চারটি জেলায় অনুসন্ধানের অনুমতি সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর থাকবে অনুসন্ধানের ফলাফলের দিকে। যদি পর্যাপ্ত মজুতের সন্ধান মেলে, তাহলে আগামী দিনে বাংলার মাটিতেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

  • 7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালুর চেষ্টা করবে রাজ্য। সেই হিসেবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই তা চালু হতে পারে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on DA)। রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একুশে জুলাইয়েই বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, একলপ্তে ৪২ শতাংশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ১০ শতাংশ — কোনওটাই দেওয়া হয়নি, হিসেব করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ তৈরি হয়েছে। তা চূড়ান্ত হলে শীঘ্রই কমিশন গঠন করা হবে।

    কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার কাজ আগের সরকার শুরু করেছিল। আমি আরও অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। বাকি রয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের, সেটা আমরা দিয়ে দেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০ শতাংশ ডিএ আগেই বাজেটে ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবর মাস, পুজোর মাসেই অগ্রিম বেতন পাবেন। তখনই পেয়ে যাবেন ২০ শতাংশ ডিএ। এসেই গেল‌ সময়। নকিং দ্য ডোর।’’ অর্থাৎ, আগামী অক্টোবর মাসেই, উৎসবের আগে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ যোগ হবে।

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে অভিরূপ সরকারের কমিটি হয়। আমি ২০১৬-তে মন্ত্রী হই। ২০১৯-এ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি নেই। আমি বলেছিলাম, অর্থমন্ত্রী ভুল বলছেন, কমিশনের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন। আমার সামনেই জিজ্ঞাসা করা হয়, আর তখন কমিশনার জানান অর্থমন্ত্রী রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছেন, কারণ টাকা নেই। আমি বলি, এটা দিয়ে দিন। সেই ২০২০-তে আপনারা ষষ্ঠ পে কমিশন পান। তবে ডিএ তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই হয়, তাতে আমারও একটা ছোটখাটো ভূমিকা ছিল। যাঁরা থার্ড পার্টির মাধ্যমে টাকা পান, তাঁদের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।’

    সরকারি কর্মীদের পাশে রাজ্য সরকার

    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতন কমিশন এবং ডিএ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। এর ফলে সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ দিনের অন্যতম প্রধান দাবি ডিএ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। সেই ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা কাজের পরিধি ও দায়িত্বের খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত হলেই দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। এর পর কমিশন তার কাজ শুরু করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালুর চেষ্টা করছে তাঁর সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    কীভাবে নতুন বেতন কাঠামো

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।

    বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় বার্তা

    ডিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে সব মিলিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখনও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, সেই ব্যবধান একবারে নয়, ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

    বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা

    দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন। শুভেন্দুর সরকার ক্ষমতায় এসেই কর্মচারীদের সেই ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের গ্যাপ ধীরে ধীরে মেটাব। আপনারা ভেবেছিলেন হয়তো একলপ্তে ৪২ শতাংশ দিয়ে দেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার ১০ শতাংশের কথাও বলা হচ্ছিল। ৪২ বা ১০ — কোনওটাই দিইনি, হিসেব করে দিয়েছি। আগামী দিনে বাকিটা মেকআপ করে দেব।’ বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দফতরে ভয়ভীতি কাটিয়ে মন খুলে কাজ করুন।’ মঙ্গলবার করুণাময়ীতে বিদ্যুৎ দফতরে এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য নয়া কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেছেন তিনি।

  • 21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলের ছোঁয়া ২১-এও। ২১ জুলাই কলকাতায় এবার পরিবর্তনের ছবি। গত ১৫ বছর ধরে ২১ জুলাই এক অঘোষিত ছুটির চেহারা নিয়েছিল। জেলা থেকে কলকাতায় আসত সমর্থক বোঝাই বাস। আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা। মঞ্চে থাকতেন প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী থেকে তারকারা। আর এবার অন্য ছবি। খণ্ডবিখণ্ড তৃণমূল। তিন শিবির আলাদা করে ২১ জুলাই পালন করেছে। ক্যাথিড্রাল রোডে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমাবেশ করেছে। মেয়ো রোডে ২১ জুলাই পালন করছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাই পালন করছে কংগ্রেসও। চার দিকে ২১ জুলাই পালন হচ্ছে, অথচ ভিড়-যানজটের সেই চেনা ছবি উধাও।

    কোথায় গেল মমতার ২১-এ জুলাই!

    কলকাতার কোনও রাস্তাতেই এদিন ২১ জুলাইয়ের ভিড় কার্যত ছিল না। ট্রেন, বাস, ট্রাম, মেট্রো- কোথাও চোখে পড়ছে না অতিরিক্ত ভিড়। ২১ জুলাইয়ের সভাস্থল ছাড়া কার্যত কোথাও নেই তৃণমূলের পতাকা। হাওড়া-শিয়ালদা স্টেশনেও অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। হাওড়ার ফেরিঘাটেও ২১ জুলাইয়ের জন্য় আলাদা চাপ নেই । কলকাতা থেকে জেলা, ২১ জুলাইয়ের উন্মাদনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন সভায় যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।

    রাজনীতির হাতিয়ার ২১ জুলাই!

    ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযান করেছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মিছিলের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কর্মী-সমর্থক আসতেন শহরে। সেই উপলক্ষে কার্যত ভিড়ে থিকথিক করত শহর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু, এবার আর সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না। আসলে সর্বদাই ২১ জুলাইকে হাতিয়ার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবারগুলো আখেড়ে কিছুই পায়নি।

    শহিদ পরিবারগুলি উপেক্ষিত

    প্রতি বছর ২১ জুলাই পালন করেচে তৃণমূল কিন্তু প্রায় এক যুগ পরে রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রকাশ্যে আনে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট। ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দু’বছর পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি মমতার সরকার। সোমবার তা বিধানসভায় পেশ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ করলেন, ‘‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারগুলি আজ চরম উপেক্ষিত।’’

    দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যেতে চান, তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘যাদের যাওয়ার, তারা বিজেপিতে যান। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে না থেকে সরাসরি বিজেপি করুন।’’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রতদের (Ritbrata Banerjee) এক্সপায়ারি ডেট বেঁধে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের এক্সপায়ারি ডেট। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, বিড়লা তারামণ্ডলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কল্যাণের (Kalyan Attacks Ritabrata) স্পষ্ট বার্তা, মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা তৈরি করবে।

    এবার মমতা-কল্যাণ বাদানুবাদ

    তবে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে সটান বাড়ি চলে গেলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনার জন্যও অপেক্ষা করলেন না। কালীঘাটপন্থীদের একটি সূত্র বলছে, নেত্রী সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দিলেও কানে তোলেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা করেছেন। তার জেরে তালিকায় থাকলেও বাদ পড়তে হয়েছে কয়েক জন সাংসদ-বক্তাকে। তা নিয়েই ‘কথা কাটাকাটি’ হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান নেত্রীর অনুগত বলে পরিচিত কল্যাণ। পরে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। বাদানুবাদের কোনও প্রশ্নই নেই।

    শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা ঋতব্রতের

    এদিন মেয়ো রোডের সভায় ঋতব্রত বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তা হলে পার্টির এই যে বিপুল টাকা, সেই টাকা থেকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে আমরা ১০ হাজার টাকা করে দেব।” একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সংযোজন, “তৃণমূলের যে টাকা, বছরে তার সুদই হয় ১০০০ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল?” ঋতব্রতের দাবি, বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে সংসদে একের পর এক বিল পাস করাতে তৃণমূল সাহায্য করেছে। ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট কেন এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা)-র কাছে জানতে চাই, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল? কাদের বাঁচানোর ছিল?”

  • ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই  রাজ্যে বড়সড় অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ (Government Scheme Scam) করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এই অভিযান। ইডি সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের তদন্তে পাওয়া একাধিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এদিনের তল্লাশি অভিযান।

    কেন ইডি অভিযান (ED Raid)?

    একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত (Government Scheme Scam)। ইডির প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ- বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে বলেও প্রলোভন দেখানো হত। এইভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কোথায় গিয়েছে? তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ১৬৪ কোটি টাকার প্রতারণা!

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। একটি এফইআরের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে আসায় অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি (ED Raid)।

    কারা তদন্তের নজরে?

    তদন্তে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁর দুই বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে- অভিজিৎ গত মাসেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। রাহুলের খোঁজ এখনও মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত? তাও জানার চেষ্টা চলছে।

    রাজনৈতিক আবহে বাড়ল জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই ২১ জুলাই। এই দিন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইডির এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের সূত্র ধরেই চালানো নিয়মিত অভিযান (ED Raid) এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

  • Nabanna: মাসে এবার দেড় হাজার টাকা! ভাতা বাড়ছে প্রবীণ, বিধবা ও দিব্যাঙ্গদের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Nabanna: মাসে এবার দেড় হাজার টাকা! ভাতা বাড়ছে প্রবীণ, বিধবা ও দিব্যাঙ্গদের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সামাজিক সুরক্ষার নতুন অধ্যায়। প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের (দিব্যাঙ্গ) জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ একধাক্কায় ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা ঘোষণা রাজ্য সরকারের (Nabanna)। অর্থ দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই এই কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি নির্দেশিকা

    বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নের (Nabanna) তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করেন। একই দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক পেনশন প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের মাসিক আর্থিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হল। রাজ্য অর্থ দফতরের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে হাঁটল সরকার।

    প্রধান ৩টি স্কিমেই বর্ধিত টাকা

    বার্ধক্য ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য পেনশন স্কিম), বিধবা ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা পেনশন স্কিম), প্রতিবন্ধী ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় প্রতিবন্ধী পেনশন স্কিম)

    • কবে থেকে কার্যকর? অগাস্ট মাস থেকেই এই বর্ধিত হার চালু হতে চলেছে।
    • টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে? ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে। এর ফলে কোনও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা থাকবে না।
    • খরচ সামলানো হবে কীভাবে? ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বরাদ্দ খাত থেকেই এই বাড়তি খরচ বহন করা হবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে গভীর আশা, ভরসা ও বিশ্বাস রেখে এক রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্য পূরণেই আজ এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেদের সামাজিক সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।

    সরকারের বক্তব্য

    মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাত্র এক হাজার টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠছিল। প্রান্তিক মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম- সব এলাকার যোগ্য মানুষ যাতে সময়মতো টাকা পান, তার জন্য সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং সুডা (SUDA)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের মেগা উন্নয়ন প্যাকেজ, পরিকাঠামো-কৃষি-গ্রামীণ উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ

    West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের মেগা উন্নয়ন প্যাকেজ, পরিকাঠামো-কৃষি-গ্রামীণ উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সার্বিক উন্নয়নে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। সড়ক, রেল, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, আবাসন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের (Rural Package) অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “উন্নত ভারত এবং আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নপূরণে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে, সমস্ত বাধা দূর করতে এবং প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও জানান, পরিকাঠামোর উন্নতি, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং গ্রামীণ জীবিকার বিকাশ ঘটলে তা কেবল পশ্চিমবঙ্গেরই কল্যাণ করবে না, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও বড় অবদান রাখবে।

    বিশেষ নজরদারি দল (West Bengal)

    এই বিরাট পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হল রাজ্যের ১৯টি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের পর্যালোচনা। সড়ক, রেল, মেট্রো রেল, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং শ্রম দফতরের অধীনে থাকা এই প্রকল্পগুলির মোট আর্থিক মূল্য ৮২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।চৌহান জানান, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং লজিস্টিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে। তবে জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, বনবিভাগের ছাড়পত্র, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে অনেক প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। এই জট কাটাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সময়সীমা বেঁধে কাজ করতে রাজি হয়েছে। পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজ্য-স্তরের প্রকল্প পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী বা ‘পিএমজি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রগতি’ প্ল্যাটফর্মের ধাঁচেই এটি কাজ করবে, যা নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সাহায্য করবে।

    কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

    গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে কেন্দ্র ৮,৫০৮ কোটি টাকার একটি বড় আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। রাজ্যের সমপরিমাণ অংশীদারিত্ব মিলিয়ে আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য মোট উপলব্ধ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২,০৬৪ কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ গ্রামীণ পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান তৈরি এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে খরচ হবে। গত ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া কেন্দ্রের নতুন ‘ভিবিজিরাম’ কাঠামোর অধীনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের দিন সংখ্যা বর্তমানের ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় কেবল স্বল্পমেয়াদী কাজ নয়, বরং গ্রামীণ রাস্তা, পুকুর, সেচ নালা, স্কুল ভবন ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মতো দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ তৈরি করা হবে (West Bengal)।

    আবাসন ও নারীর ক্ষমতায়ন

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (পিএমএওয়াইজি) প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক দফতরে ১ লাখ গ্রামীণ পাকা বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ফিল্ড লেভেলের উপভোক্তা যাচাইকরণের কাজ ব্যাহত হওয়ায়, এর সময়সীমা আগামী ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে পাকা বাড়ি দেওয়া কেন্দ্রের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার অধীনে রাজ্যের নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য ২৯৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি ৫০ কোটি টাকা কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা সামাজিক বিনিয়োগ তহবিল হিসেবে দেওয়া হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়াতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সহায়ক হবে (Rural Package)।

    কৃষির আধুনিকীকরণ

    কৃষি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের ‘বীজ হাব’ বা বীজ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন (West Bengal) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আলু এবং হাইব্রিড ভুট্টার বীজ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ইতিমধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন ক্ষেত্রের উন্নয়নে মালদা জেলাকে জাতীয় ‘ক্লিন প্ল্যান্ট প্রোগ্রামে’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে আম, লিচু ও অন্যান্য ফলের রোগমুক্ত চারা তৈরির জন্য বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই চারা তৈরির জন্য বড় নার্সারিগুলিকে ৩ কোটি টাকা এবং মাঝারি নার্সারিগুলিকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও ধান, ভুট্টা এবং অর্কিডের বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্যের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি-জলবায়ু ও মাটির চরিত্র বুঝে একটি বৈজ্ঞানিক কৃষি রোডম্যাপ তৈরি করছেন।

    ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’

    রাজ্যের ধান গবেষণা কেন্দ্রগুলিকে উন্নত প্রযুক্তির আদানপ্রদানের জন্য ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্রে উন্নীত করা হবে। কৃষকদের ফসলের সুরক্ষা ও ঋণের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। কৃষকরা যাতে মহাজনদের খপ্পরে না পড়ে সহজে ব্যাঙ্ক ঋণ পান, তার জন্য নাবার্ড এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে কিষান ক্রেডিট কার্ড শিবির করা হবে। পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে (Rural Package) পরিণত করতে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নত ভারতের স্বপ্ন সফল করতে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী।

     

  • Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই (21 July)। ১৯৯৩ সালের এই অভিশপ্ত দিনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মী। বাম জমানার সেই (Suvendu Adhikari) নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসেই ওই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার, যে সরকারের চালিকা শক্তি ছিলেন মমতা স্বয়ং। টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন মমতা। তার পরেও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত রিপোর্ট। প্রশ্ন হল, কেন দিনের আলো দেখেনি সেই রিপোর্ট? কেনই বা রাখা হয়েছিল ফাইল বন্দি করে? শেষমেশ সোমবার, ৩৩তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে সেই রহস্যের কুয়াশা কাটল। সৌজন্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। নিয়ম মেনে রাজ্য বিধানসভায় ২১ জুলাই কমিশনের সেই বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্ট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এনেছেন, যা তৃণমূল সরকারের ভূমিকাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের সামনে।

    মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলেছিল গুলি (Suvendu Adhikari)

    বিধানসভায় তদন্ত রিপোর্টটি পড়ে শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কোনওরকম উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই সেদিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। যদিও মণীশ গুপ্তকে ওপর থেকে কে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা কমিশন জানতে পারেনি। রিপোর্টের সূত্র ধরে শুভেন্দু আরও জানান, মেয়ো রোড, রেড রোড এবং ডোরিনা ক্রসিং— যেখানে যেখানে পুলিশের বন্দুক থেকে গুলি ছুটেছিল, তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল। কারণ, সেই জায়গাগুলি রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকে অনেকটাই দূরে। বিক্ষোভকারীরা মহাকরণ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে, প্রশাসনের এই আশঙ্কা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। অথচ, পুলিশের গুলিতে যুবকদের যে মৃত্যু হয়েছিল, তার কোনও যথার্থতা বা আইনি বৈধতা কমিশন খুঁজে পায়নি। এমনকি মহাকরণ থেকেও এই সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার কোনও সদুত্তর মেলেনি।

    প্রধান সাক্ষী মমতাকেই ডাকেনি কমিশন!

    এই রিপোর্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর বিষয় হল সাক্ষীদের তালিকা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সৌগত রায়, মদন মিত্র এবং তৎকালীন পুলিশ কর্তা-সহ মোট ৪৪ জনকে তলব করেছিল কমিশন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, যে মমতার নেতৃত্বে সেদিন মহাকরণ অভিযান হয়েছিল এবং যিনি নিজেকে এই ঘটনার প্রধান সাক্ষী বলে দাবি করেন, তাঁকেই শুনানির জন্য ডাকেনি কমিশন! এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলে দিয়েছিলেন তাঁকে যেন না ডাকা হয়। আসলে আইন অনুযায়ী এই তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশনই মনে করে না।” এর পাশাপাশি প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পঙ্কজবাবু এই কমিশনে সাক্ষ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, যাঁর নির্দেশে যুবকদের বুকে গুলি চলেছিল, সেই মণীশ গুপ্তকে মমতা নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী করেছেন। তাই এই কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং প্রহসন মাত্র (Suvendu Adhikari)।

    ক্ষমতার লোভ ও বিপুল সম্পত্তি

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু (21 July) করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পদ কিংবা ক্ষমতা পাওয়া তো বটেই, চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরে বেড়ানো এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া— সবই হয়েছে এই দিনটিকে পুঁজি করেই। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের আসল সত্যিটা কী ছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আজও জানতে পারেনি।” শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল সরকার প্রতি বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনের নামে বিশাল তোড়জোড় এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটালেও, আদতে শহিদদের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার কোনও মানসিকতাই তাদের ছিল না। নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য মণীশ গুপ্ত ফেঁসে যেতে পারেন, এই ভয়েই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে ফাইল বন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন। শহিদদের আবেগকে স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়েছে।

    তৃণমূলের ত্রিমুখী ভাঙন

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ। ক’দিন আগেই লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, মণীশ গুপ্তকে আড়াল করতেই ২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাই প্রকৃত বিচার চেয়ে তিনি রিপোর্টটি জনসমক্ষে আনার অনুরোধ জানান। কাকলির সেই পত্র পাওয়ার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিলেন। এর ফলে মঙ্গলবার, একুশে জুলাইয়ের দিন বাংলায় নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যেতে চলেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের। এবার আর এক ছাতার তলায় নয়, তৃণমূলের তিনটি আলাদা গোষ্ঠী পৃথকভাবে এই দিনটি পালন করবে। কালীঘাট শিবিরের কর্মসূচি পালিত হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর কর্মসূচি পালিত হবে ধর্মতলায়, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এবং দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানাবেন লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা, যাঁরা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই পার্টিতে (Suvendu Adhikari)।

    এর ঠিক আগের দিন সোমবার বিকেলে তথ্যপ্রমাণ সহ এই রিপোর্ট আমজনতার দরবারে পেশ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন, “যাঁরা ১৫ বছর সরকারে ছিলেন, তাঁরা এই সুপারিশ কতটা কার্যকর করেছেন আর কতটা ধামাচাপা দিয়েছেন, তা এবার বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই রিপোর্ট (21 July) প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে আরও খানিক উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য (Suvendu Adhikari)।

     

  • WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্মীর অভাব! তাই থমকে পঞ্চায়েতের কাজ? এবার হবে সব সমস্যার সমাধান। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং রাজ্যবাসীর পরিষেবা ত্বরান্বিত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরে ১১ হাজার কর্মচারী নিয়োগ (WB Panchayat Recruitment) করা হবে। বড় ঘোষণা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। সোমবার বিধানসভার বাদল অধিবেশন শুরুর দিন বিধানসভায় নিজের কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মীর অভাবে পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।

    নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন

    এত দিন পর্যন্ত পঞ্চায়েত আইনের অধীনে জেলা স্তর থেকে পৃথকভাবে পঞ্চায়েতের কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন হত। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার বদলে কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়োগের (WB Panchayat Recruitment) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার পিএসসির মাধ্যমে পঞ্চায়েতে নিয়োগের কথাও ঘোষণা করলেন তিনি। তবে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের হাতে নিয়োগের দায়িত্ব তুলে দিতে হলে রাজ্যকে পঞ্চায়েত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। রাজ্য সরকার দ্রুত আইন সংশোধন করে এই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পিএসসি-র হাতে সঁপে দিতে প্রস্তুত।

    কী বললেন দিলীপ ঘোষ?

    এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা এক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম ও অন্যতম বড় ধাপ হিসেবেই পঞ্চায়েতের এই ১১ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।”

    মন্ত্রীর কড়া বার্তা

    উল্লেখ্য, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই অধিকাংশ পঞ্চায়েতে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের প্রধান ও নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রে সই মিলছে না এবং উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে। এর আগেও এই বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, দায়িত্বে অবহেলা করলে তার ফল ভালো হবে না। এবার সেই অচলাবস্থা কাটাতে একদিকে যেমন উধাও হওয়া প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামো সচল করতে দ্রুত ১১ হাজার পদে নতুন রক্ত আনার পথ প্রশস্ত করলেন মন্ত্রী।

  • Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নয়, এবার সরকারি কাজে বাংলা ভাষা (Bengali Language)! মাতৃভাষার মর্যাদা বাড়াতে এবং প্রশাসনিক কাজে তার প্রয়োগ বাড়াতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি দফতরে প্রশাসনিক কাজের প্রধান ভাষা হবে বাংলা (BengaliLanguage)। সরকারি ফাইল, নোটিস, আদেশ, দফতরের চিঠিপত্র থেকে শুরু করে পুলিশের কাছে FIR দায়ের- সব ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্র বাংলায় পাঠানো হবে, তবে প্রয়োজনে হিন্দিতেও যোগাযোগ করা যাবে।

    রবিবারের ঘোষণার পর সোমবার বড় সিদ্ধান্ত

    রবিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ভারতীয় ভাষা বিষয়ক দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘শব্দলোক’ (Museum of Words)-এর উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছিলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রশাসনিক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, সোমবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় সেই চিঠি পড়ে শোনাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই এদিন অধিবেশনের শুরুতে চিঠির মূল বক্তব্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা (Bengali Language) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

    কোন কোন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক?

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে-

    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয় এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ফাইল পরিচালনা, নোটিস, সরকারি আদেশ ও অফিসিয়াল চিঠিপত্র বাংলায় করা হবে।
    • ● আবেদনপত্র, শংসাপত্র, নাগরিক পরিষেবা, ডিজিটাল প্রশাসন, সরকারি পোর্টাল, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমেও বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
    • ● পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরিষেবায় FIR, অভিযোগ নথিভুক্তকরণ, নাগরিক তথ্য এবং জনসচেতনতামূলক বার্তাও বাংলায় দেওয়া যাবে।
    • ● ভারত সরকারের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্রের ক্ষেত্রেও ইংরেজির পরিবর্তে বাংলাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রয়োজনে হিন্দিতেও চিঠিপত্র আদানপ্রদান করা যাবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘গতকাল অমিত শাহ আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাতে সরকারি কাজকর্মে বাংলা ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক হবে। আমরা বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক কার্যকর করলাম। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এই সময়কালে অনুবাদক রাখব। ভারত সরকার ও অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে যে চিঠিপত্র করা হবে, তা বাংলা ভাষাতেই (Bengali Language) করব। উত্তরও দেব। রাজ্যে সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাতৃভাষাকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী যে উপদেশ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করলাম।’’

    চিঠিতে কী লিখেছিলেন শাহ?

    মুখ্যমন্ত্রীর পড়ে শোনানো চিঠিতে অমিত শাহ উল্লেখ করেন, প্রশাসন, শিক্ষা এবং জনজীবনে ভারতীয় ভাষাগুলির যথাযথ স্থান নিশ্চিত করা উচিত। মানুষের নিজের ভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং জনমুখী হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আরও বেশি করে প্রয়োগ এবং উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বাংলা ভাষার ভূয়সী প্রশংসা শাহের

    অন্যদিকে, রবিবার ন্যাশনাল লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা (Bengali Language) ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ ভাষাকে তৈরি করেনি, ভাষাই মানুষকে তৈরি করেছে। কোনও দেশের সংস্কৃতি ভাষা ছাড়া পূর্ণতা পায় না। ভাষাই একটি জাতির ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বাহক। বাংলা পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’’ বাংলা সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঋষি অরবিন্দ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আজ বাংলা আবার সোনার বাংলা হয়েছে। ভাষার মাধ্যমেই একটি দেশের সংস্কৃতিকে বোঝা যায়। শব্দ ও ভাষা ছাড়া সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের যে উদ্যোগ চলছে, এই শব্দ জাদুঘর সেই প্রচেষ্টাকেই আরও শক্তিশালী করবে।’’

    বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও মাধুর্য

    মায়ের মুখে শোনা প্রথম সুর, হৃদয়ে গাঁথা আজীবনের অনুভূতি। বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ, আত্মপরিচয় ও শিকড়ের সবচেয়ে মধুর ঠিকানা। রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুলের কবিতা, জীবনানন্দের প্রকৃতিপ্রেম- বাংলার প্রতিটি শব্দে মিশে আছে ইতিহাস, সাহিত্য আর অনুভূতির গভীরতা। প্রায় এক হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করা বাংলা ভাষার (Bengali Language) প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। তবে এই ভাষার ইতিহাস শুধু সাহিত্যচর্চার নয়, আত্মত্যাগেরও। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন ভাষাসৈনিকরা। সেই ত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। আজ ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও বহুল ব্যবহৃত ভাষা। এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বাঙালির গর্ব, ঐতিহ্য, আত্মপরিচয় এবং ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক।

    ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদার পর আরও এক পদক্ষেপ

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষা (Classical Language)-র মর্যাদা দিয়েছে। সেই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির পর এবার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সরকারের মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজ হবে এবং মাতৃভাষার মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার ব্যবহার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

  • Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখো ভক্তের ঢল ও ৩৭ কিমি হাঁটা পথ- শ্রাবণী মেলায় (Shrabani Mela 2026) বাবা তারকনাথের পুজোয় সেজে উঠছে তারকেশ্বর (Tarakeswar)। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যে নজিরবিহীন প্রশাসনিক উদ্যোগ। শ্রাবণ মাসে বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢালতে প্রতি বছর লাখো লাখো ভক্তের সমাগম হয়। এ বছর প্রায় এক কোটি পুণ্যার্থীর ভিড় হতে পারে- এই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্প্রতি হরিপাল বিডিও অফিসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং এবং পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব। বৈঠক শেষে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশিকা মেনে মেলা প্রাঙ্গণ ও যাত্রাপথের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে।

    বিশেষ দিনের সূচি

    জুলাই ও অগাস্ট মাসজুড়ে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) ছ’টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। ১৪-২০ জুলাই, ২৪-২৭ জুলাই, ৩১ জুলাই-৩ অগাস্ট, ৭-১০ অগাস্ট, ১৪-১৭ অগাস্ট এবং ২২-২৩ অগাস্ট। শনি, রবি ও সোমবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তাই এই দিনগুলিতে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ছোট গলির আনাজ বিক্রেতাদের সকাল ৯টা পর্যন্ত বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি করা হবে জলসত্র। এখানে ঠান্ডা গরম দু’রকম জলেরই ব্যবস্থা থাকবে।

    যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প রুট

    মেলা উপলক্ষে উক্ত দিনগুলিতে শ্বেতপুর মোড়, দিল্লি রোড, দীর্ঘাঙ্গী মোড় থেকে ১২ নম্বর রুট, বিঘাটি মোড়, পিয়ারাপুর, চাঁপসরা, বৈদ্যবাটি- তারকেশ্বর রোড, চন্দননগর হাসপাতাল মোড় থেকে বৈদ্যবাটি চৌমাথায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি ডালহৌসি জুটমিল, মঞ্জুশ্রী, রিষড়া মৈত্রীপথ ও বাঘখাল পর্যন্ত নো-এন্ট্রি থাকবে। চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর, শ্রীরামপুর, রিষড়া এবং উত্তরপাড়া থানা সীমানার প্রধান সড়কগুলিতে অটো, টোটো, ই-রিকশা ও ইঞ্জিন ভ্যান সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

    বিকল্প রাস্তার নির্দেশিকা

    • চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর এলাকা: পালপাড়া রোড, বিঘাটি মোড় এবং দিল্লি রোড হয়ে দর্জি মোড় দিয়ে যাতায়াত করা যাবে।
    • শ্রীরামপুর ও রিষড়া এলাকা: অমূল্যকানন, প্রভাসনগর, বটতলা মোড়, জিতেন লাহিড়ী রোড ও ৪ নম্বর রেলগেটের রাস্তা ব্যবহার করা যাবে।
    • উত্তরপাড়া এলাকা: বিশালাক্ষ্মী মোড়, রেললাইনের ধার, সুধীর ঘাট ও ধারসা মোড় দিয়ে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো

    নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল তুলে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তারকেশ্বর মন্দিরে যান ভক্তরা। দীর্ঘ এই যাত্রাপথকে সুগম করতে প্রশাসন একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    • স্বাস্থ্যসেবা- ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স: শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর (Tarakeswar) পর্যন্ত প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ মজুত থাকবে। দ্রুত চিকিৎসার জন্য মণিকমল হাসপাতালেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গঙ্গায় স্নান ও জল তোলার নিরাপত্তার জন্য ১৪টি ঘাটে নজরদারি চলবে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকছে ‘ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স’।
    • পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা: পঞ্চায়েতগুলির উদ্যোগে সমগ্র যাত্রাপথে আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফ থেকে ঠান্ডা ও গরম পানীয় জলের সুব্যবস্থা (জলসত্র) থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ১৫০ মিটার অন্তর প্রায় শতাধিক অস্থায়ী ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে।
    • সহায়তা ও নজরদারি: প্রতিটি মোড়ে কড়া পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি উঁচুতে ওয়াশ টাওয়ার থেকে নজর রাখবে পুলিশ ও কমিশনারেট। পথচলতি পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বিতরণ করা হবে বিশেষ ‘গাইড ম্যাপ’, যাতে পানীয় জল, শৌচালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট চিহ্নিত থাকবে। রেলগেটে দুর্ঘটনা এড়াতে জিআরপি ও অতিরিক্ত পুলিশকর্মী রাখা হচ্ছে। সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে পূর্ব রেলও।

    ঐতিহ্যের তারকেশ্বর

    কলিকাতা থেকে মাত্র ৫৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন এই শৈবতীর্থ। হাওড়া থেকে দেড় ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় পৌঁছানো যায় তারকেশ্বর (Tarakeswar) স্টেশনে। আটচালা স্থাপত্যের ঐতিহ্যমণ্ডিত এই মন্দিরে গর্ভগৃহে বিরাজ করছেন স্বয়ং বাবা তারকনাথ। মন্দিরের পশ্চিমে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘দুধ পুকুর’ বা শিবগঙ্গা। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল এনে শ্রাবণে বাবা তারকনাথকে স্নান করালে সকল মনোবাসনা পূর্ণ হয়। প্রশাসনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) এবার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।”

LinkedIn
Share