Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাতসকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মুর্শিদাবাদে (Murshidabad)। রেলগেট খোলা থাকায় লেভেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় (Rail Accident) পিষে গেল স্কুলগাড়ি। আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ডাউন লাইনে আসা একটি লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিন স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালক। মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা। সিগন্যালের সমস্যা নেই, গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) বড় দুর্ঘটনা? তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ রেলের। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা রেলের।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Rail Accident)?

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার ঠিক আগেই আপ লাইন ধরে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যায়। সেই সময় নিয়ম মেনেই গেট ফেলা ছিল। কিন্তু ট্রেনটি পার হওয়ার পরই কর্তব্যরত গেটম্যান রেলগেটটি তুলে দেন। সেইসময় নির্দিধায় রেল লাইন পেরোচ্ছিল একটি স্কুলগাড়ি। আর তখনই আচমকাই লাইনে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। লাইনের উপর গাড়িটি চলে আসায় চালক আর গাড়ি সরানোর সুযোগ পাননি। সরাসরি স্কুলভ্যান ও এক সাইকেল আরোহীকে সজোরে ধাক্কা মারে লোকাল ট্রেনটি (Rail Accident)। কার্যত দুমড়েমুচড়ে যায় পড়ুয়াভর্তি স্কুলভ্যান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন পড়ুয়া এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িতে ছিল মোট ১০ জন পড়ুয়া। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালককে উদ্ধার করে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন পাঁচ জনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    কাঠগড়ায় গেটম্যান: মদ্যপ থাকার অভিযোগ

    দুর্ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ট্রেনের সময়সূচি জানা থাকা সত্ত্বেও গেটম্যানের চরম অসতর্কতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটন। এমনকী পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই গেটম্যান মত্ত অবস্থায় ছিলেন। ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেলের তরফে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনার দায়ে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

    রেলের অবস্থান- উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

    পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সিগন্যালের কোনও সমস্যা ছিল না। ট্রেন সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই আসছিল। যেহেতু এটি একটি ম্যানুয়ালি অপারেটেড ‘ইন্টারলকিং গেট’, তাই দুর্ঘটনার সময় গেটম্যানের ভূমিকা কী ছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রেল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। পূর্ব রেলের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য গঠন রেলের একটি মেডিক্যাল টিমও।

    শোকপ্রকাশ বিধায়কের

    মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কার ঘটনায় (Rail Accident) তীব্র ক্ষোভ ও শোকপ্রকাশ বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের। তিনি বলেন, “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এতগুলো স্কুল পড়ুয়ার এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঠিক কী কারণে? কার গাফিলতিতে এতগুলো তরতাজা প্রাণ চলে গেল? তা রেল কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত।”

    অধীর-রেলমন্ত্রী ফোনে কথা

    প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সরাসরি রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীর। এরপর ঘটনাস্থল থেকেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি জানান। এক লহমায় কয়েকটি পরিবারের সাজানো সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন চুরমার। ভোরের আলো ফুটতেই যে তরতাজা হাসিমুখগুলো কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাদের নিথর দেহ আর রক্তভেজা বইখাতাগুলো পড়ে রইল রেললাইনের ধারে। চারপাশে কান্নার রোল আর স্বজনহারা মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের আকাশ-বাতাস। কোনও সান্ত্বনা, কোনও ক্ষতিপূরণই যে আর এই শূন্য কোলগুলিকে ভরিয়ে তুলতে পারবে না- সেই চরম ও নির্মম বাস্তবকে সঙ্গী করেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা।

  • Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত। একদা যে দলনেত্রীর এক ডাকে গোটা বাংলা কেঁপে উঠত, আজ তাঁরই পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগেই সেই ফাঁটল আরও চওড়া হল। এবার দল এবং সক্রিয় রাজনীতি- উভয় ক্ষেত্র থেকেই চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মণীশ গুপ্ত। বৃহস্পতিবারই তিনি তাঁর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র (Manish Gupta Quits TMC) পাঠিয়ে দেবেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (Manish Gupta Quits TMC)?

    রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার নেপথ্যে ক্ষোভ এবং বয়স- উভয় কারণকেই দায়ী করেছেন প্রাক্তন এই আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্ষোভপ্রকাশ করে মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) বলেছেন, ‘‘তৃণমূলে আমাকে গত পাঁচ বছর ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দল আমাকে সেভাবে ব্যবহার করেনি। একে আক্ষেপ বলবো না, তবে এই ধরনের অনেক কারণ তো রয়েছেই। একই সঙ্গে বয়সও একটা বড় বিষয়। ৮৫ বছর বয়স হল, আর রাজনীতি করব না বলে ঠিক করেছি।’’ তবে, তিনি এও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনও রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হতে চান না। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় জীবন কাটাতেই মনস্থির করেছেন মণীশ (Manish Gupta)।

    মণীশ গুপ্তের রাজনৈতিক সফর

    মণীশ গুপ্তের রাজনীতি ছাড়ার বিষযটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যখন মহাকরণ অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের আন্দোলন চলছিল এবং পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী মারা যান, তখন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন এই মণীশ গুপ্তই। সেই সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) নাটকীয়ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। দল তাঁকে বিধায়ক করার পাশাপাশি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (বিদ্যুৎ দপ্তর) দায়িত্বও দেয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক মহলে কম চর্চা হয়নি। সেই ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই এবার তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি।

    বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

    তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক দক্ষতার দরাজ প্রশংসাও করেছেন মণীশ গুপ্ত। তাঁর মতে, বাংলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর মতো দক্ষ প্রশাসক পেয়েছে বাংলা। তিনি যেভাবে কাজ করছেন, তাতে বাংলার উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না। একের পর এক নিয়ম অত্যন্ত দক্ষ হাতে সামলাচ্ছেন তিনি।’’

    সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)?

    কিন্তু মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) একা নন, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেভাবে ধিকিধিকি জ্বলেছে, তাতে একের পর এক শীর্ষ স্তরের নেতা মমতার (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। একে তো একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ, তার উপর দলের অন্দরে এই ভাঙনের হিড়িক। যে দল একদা একমুখী আবেগে চলত, তা আজ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের ঠিক মুখে যখন দলনেত্রী মমতার মঞ্চ থেকে নতুন বার্তা দেওয়ার কথা, ঠিক তখনই মণীশ গুপ্তের (Manish Gupta)  মতো প্রবীণ নেতার বিদায় দলটির বুনিয়াদকেই নাড়িয়ে দিল। প্রশ্ন একটাই- দলের এই রক্তক্ষরণ থামাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নতুন কোনও রণকৌশল নেবেন? নাকি সময়ের নিয়মে এভাবেই খালি হতে থাকবে ঘাসফুল শিবির? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

  • ED Raid Fake Document Hub: এনজিও-র আড়ালে মানবপাচার! নিশানায় রাজ্যের ‘নথি হাব’, বাংলাসহ দেশের ১৩ জায়গায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

    ED Raid Fake Document Hub: এনজিও-র আড়ালে মানবপাচার! নিশানায় রাজ্যের ‘নথি হাব’, বাংলাসহ দেশের ১৩ জায়গায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (NGO) আড়ালে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের (Human trafficking) জাল! আর এই ভয়ঙ্কর কারবারের মূল ভরকেন্দ্র বা ‘করিডোর’ হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ! এমনকী সীমান্ত টপকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিক বানিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাচারের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে এবার বিস্ফোরক তথ্য। এক মেগা সিন্ডিকেটের হদিস পেয়ে এবার পুরোদমে অ্যাকশন মোডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এই চক্রের শিকড় এবং কোটি কোটি টাকার গুপ্ত অর্থভান্ডারের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের মোট ১৩টি জায়গায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি (ED Raid Fake Document Hub) কেন্দ্রীয় সংস্থার।

    কোথায় কোথায় তল্লাশি?

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকায় জোরদার অভিযানে নামেন ইডি আধিকারিকেরা (ED Raid Fake Document Hub)। সাতসকালে কেন্দ্রীয় এজেন্সির (ED) এই আচমকা হানা ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হয় তীব্র চাঞ্চল্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকা ঘিরে রাখে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে এই অভিযান শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন ডেরাতেও তল্লাশি (ED Raid Fake Document Hub) চালান তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

    রাজ্যের ‘জাল নথি হাব’, দেশজুড়ে মানবপাচার!

    ইডি সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের মূল নিশানায় পশ্চিমবঙ্গের একটি সংগঠিত ও শক্তিশালী জাল নথির নেটওয়ার্ক। অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিন রাজ্যে পাচার (Human trafficking) করার আগে এদেশীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করাই এই চক্রের কাজ। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেয়। এই চক্রের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র যেমন-ভোটার কার্ড বা এপিক, প্যান কার্ড, এবং ই-শ্রম কার্ড তৈরি করা হয়। এই সমস্ত জাল পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার পর, দালালের হাত ধরে অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কর্ণাটক, পঞ্জাব, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশের মতো শিল্প ও কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে শ্রমিক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

    উত্তরপ্রদেশ STF-এর তদন্তে ফাঁস আন্তর্জাতিক যোগসূত্র

    এই দেশজোড়া পাচারচক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্রটি প্রথম সামনে আসে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF) ও অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের (ATS) একটি মামলার তদন্তে। বেশ কয়েক মাস আগে উত্তরপ্রদেশ এটিএস মানবপাচার (Human trafficking) নিয়ে একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই খাস কলকাতায় বসে থাকা এই চক্রের এক মূল পান্ডার সন্ধান পান গোয়েন্দারা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্ত ও আদালতে পেশ করা তথ্যে স্পষ্ট হয় যে, কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা এবং সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল কাগজ বানানোর বড় কারখানা সক্রিয় রয়েছে। ভিন রাজ্যে সস্তা শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে এই দালাল চক্রটি কার্যত রমরমিয়ে দেশজুড়ে মানবপাচার ও জাল নথির কারবার চালাচ্ছে।

    এনজিও-র আড়ালে ‘ভাড়ার অ্যাকাউন্ট’!

    ইডির প্রাথমিক তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই মানবপাচার ও জাল নথি তৈরির চক্রের (Fake Document Hub) আড়ালে ঢাল হিসেবে কাজ করছে রাজ্যের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও (NGO)। এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির আড়ালেই কোটি কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। তদন্তকারীদের এড়াতে এবং মূল মাথাদের আড়াল করতে চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ‘ভাড়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট’ (Rented Accounts) ব্যবহার করে। সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের থেকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে তাতে ছোট ছোট অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হয়, যাতে তা ব্যাঙ্কের নজরদারিতে বা সন্দেহের তালিকায় না আসে। তবে ছোট ছোট অঙ্কের লেনদেন হলেও, সমস্ত অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট লেনদেনের অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    পুরনো তদন্তের সূত্র-বর্তমান পরিস্থিতি

    উল্লেখ্য, এর আগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও (NIA) বাংলাদেশ থেকে নারী ও নাবালিকা পাচারের তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেবারও তদন্তে একটি সংগঠিত জাল নথি তৈরির চক্রের অস্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনা সামনে এসেছিল। আর বৃহস্পতিবারের এই দেশজোড়া ইডি হানার পর স্পষ্ট যে, এই সিন্ডিকেটের শিকড় দেশের অনেক গভীরে।এর সঙ্গে একটি বহু কোটি টাকার অবৈধ মানবপাচার ব্যবসাও চলছে। তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূল পান্ডাদের খাঁচায় পুরতে মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

  • ISKCON Rath Yatra: কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত, হাতে সোনার ঝাড়ু! ইসকনের রথযাত্রায় অন্য মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী

    ISKCON Rath Yatra: কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত, হাতে সোনার ঝাড়ু! ইসকনের রথযাত্রায় অন্য মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথা ও ভক্তির মেলবন্ধনে সাড়ম্বরে পালিত হল কলকাতার ইসকনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা (ISKCON Rath Yatra)। বৃহস্পতিবার ১২টা নাগাদ ইসকন মন্দিরে গিয়ে রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথা মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে জগন্নাথদেবের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণামও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ দিন ইসকন মন্দির চত্বরে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    ঈশ্বর বন্দনা ও হেরিটেজ ঘোষণার আর্জি

    ইসকন (ISKCON) মন্দিরে পৌঁছেই প্রথমে জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে নতমস্তকে প্রণাম করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো দিয়ে আরতিও করেন তিনি। এরপর সোজা চলে যান শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে। সেখানে সাষ্টাঙ্গে প্রণামের পর পুরো কক্ষটি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শ্রীল প্রভুপাদের এই কক্ষটিকে যাতে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার।’’ শুভেন্দু মনে করেন, রাষ্ট্রবাদী ও সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় তাঁর ইসকনের রথযাত্রায় শামিল হতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের উন্নয়নও যেমন হবে, পাশাপাশি সংস্কৃতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’’

    মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটিই শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম রথযাত্রা (Rath Yatra)। সনাতনী ও রাষ্ট্রবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে এই রথযাত্রায় শামিল হতে পারা পরম সৌভাগ্যের, বললেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগ্রহে মাল্যদানের পর তিনি বলেন, ‘‘আজ ভক্তদের দিন।’’ উপস্থিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের অনুরোধে এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে দু’কলি গৌড়ীয় সঙ্গীতও গেয়ে শোনান তিনি। এরপরই প্রথা ও রীতি মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করার প্রতীকী আচার পালন করেন এবং রথের রশিতে টান দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    ৬০ রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক অনুদান

    প্রসঙ্গত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যের মোট ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়। মোট বরাদ্দ অনুদান ৩ কোটি টাকা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন রথযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ করতেই রাজ্যের এই উদ্যোগ।

    ইসকনের মিড-ডে মিলের প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে ইসকনের (ISKCON) সমাজসেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে মিড-ডে মিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে মিড-ডে মিল কিচেন তৈরি হচ্ছে। ইসকনের এই কাজ নতুন নয়। ২২টি বড় বড় শহরে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইসকন। এই মিড-ডে মিল অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন।’’ একইসঙ্গে, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে মিড-ডে মিল নিয়ে ঘটে যাওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া ভাষায় সরব হন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা

    এ দিন সকালে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মহাপ্রভুর কাছে দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘রথযাত্রা উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। এই উৎসব ভারতের আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। রথযাত্রার সঙ্গে জড়িত রীতিনীতি ভারত তথা বিশ্বজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।’’ সব মিলিয়ে, ভক্তি, সংস্কৃতি এবং সরকারি সহযোগিতার মেলবন্ধনে কলকাতার ইসকনের রথযাত্রা এ বছর এক নতুন মাত্রা পেল।

  • Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না কি কথাই শোনেননি! দিঘার পাথরের মূর্তিতে ঘটা করে ‘ধাম’ লিখেছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কোনও শাস্ত্রীয় পরামর্শ শোনেননি! মহাপ্রভু কারও দম্ভ বা অহঙ্কার সহ্য করেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেদ আর অহঙ্কারের জন্যই বাংলায় সরকার টিকে থাকতে পারেনি। একদিকে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) পুণ্য উৎসবে যখন পুরীধাম ভক্তদের ভিড়ে গমগম করছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পুরীর জগন্নাথদেবের প্রধান পানিগ্রাহী (সেবায়েত) জগন্নাথ দয়িতাপতি।

    কেন ক্ষুব্ধ সেবায়েত?

    জগন্নাথ দয়িতাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘তিনি কোনও দলীয় রাজনীতি করেন না। কেবল শাস্ত্রীয় ও আইনি সত্যটাই তুলে ধরছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কোনও পরামর্শ বা শাস্ত্রীয় বিধান মানেননি।  জগন্নাথ ধাম বলতে আদি পুরী ধামকেই বোঝায়। কিন্তু দিঘার নবনির্মিত মন্দিরকে ‘ধাম’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, যা শাস্ত্রসম্মত নয়। মন্দিরে দারুব্রহ্ম বা কাঠের মূর্তির পরিবর্তে পাথরের মূর্তি তৈরি করা নিয়েও তাঁর ঘোর আপত্তি ছিল। জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আমার কথা শুনলেন না। আমার শিষ্য শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এসে সেই ভুল শুধরে দিয়েছেন, সে ধাম লেখাটি বাদ দিয়েছে। ভুল কাজের জন্যই শেষ পর্যন্ত সরকার উল্টে গেল।’’

    বৃষ্টির মাঝেই পুরীতে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) মহাসমারোহ

    রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেও পুরীতে রথযাত্রার আনন্দ ও ভক্তিতে কিন্তু কোনও খামতি নেই। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা সৈকত শহরে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রথের রশি ছুঁতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তের ঢল নেমেছে। এ বছরও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বিশেষ কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি মূল রথ- জগন্নাথদেবের ‘নন্দীঘোষ’, বলভদ্রের ‘তালধ্বজ’ এবং সুভদ্রার ‘দর্পদলন’। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) এই যাত্রাপথের একটি গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।

    • বলরামের রথ (তালধ্বজ): বলরাম হলেন গুরুর প্রতীক, যিনি ভক্তকে সঠিক পথ দেখান।
    • সুভদ্রার রথ (দর্পদলন): সুভদ্রা হলেন ভক্তির প্রতীক।
    • জগন্নাথের রথ (নন্দীঘোষ): জগন্নাথ স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতীক। অর্থাৎ, গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথ পেরিয়েই ভক্ত ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারেন।

    বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথাও জানিয়েছেন প্রধান সেবায়েত। তিনি বলেন, ‘‘চৈতন্য মহাপ্রভুর পুণ্যভূমি বাংলাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি। বাংলার প্রতিটি মানুষের উপর মহাপ্রভুর আশীর্বাদ বজায় থাকুক।’’ উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো এবারও রথযাত্রা (Rath Yatra 2026) উপলক্ষে পুরীর সমুদ্র সৈকতে বালি দিয়ে মহাপ্রভুর এক নয়নাভিরাম প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন পদ্মশ্রী জয়ী বিশ্ববিখ্যাত বালুশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক।

  • Rath Yatra 2026: এবার দিঘার রথে পুরীর ছোঁয়া- জগন্নাথের মাথায় পুরীর ‘রাজমুকুট’, মোড় ঘোরার সুবিধার্থে রথে থাকছে স্টিয়ারিং-ব্রেক!

    Rath Yatra 2026: এবার দিঘার রথে পুরীর ছোঁয়া- জগন্নাথের মাথায় পুরীর ‘রাজমুকুট’, মোড় ঘোরার সুবিধার্থে রথে থাকছে স্টিয়ারিং-ব্রেক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৈকত শহর দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এবার দ্বিতীয় বর্ষের রথযাত্রা উৎসব (Rath Yatra 2026)। আর রথযাত্রা উপলক্ষে থাকছে বিশেষ বিশেষ চমক। দ্বিতীয় বছরেই দিঘার রথযাত্রায় দেখা যেতে চলেছে একগুচ্ছ পরিবর্তন ও রাজকীয় ছোঁয়া। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওড়িশা সরকারের সঙ্গে নবান্নের হৃদ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার পুরীর আদলে সেজে উঠছেন দিঘার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। আজ, বৃহস্পতিবার, মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বহু প্রতীক্ষিত রথযাত্রা। উৎসবের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক স্তরে সব রকম সাহায্য করতে তৎপর রাজ্য সরকার।

    পুরীর রাজকীয় আমেজ এবার দিঘার সৈকতে

    ২০২৫ সালে, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple) উদ্বোধন হয়েছিল। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর এবারের রথযাত্রায় (Rath Yatra 2026) যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, এবার ওড়িশার বাইরে দিঘার সৈকতেই মিলবে পুরীর রাজকীয় আমেজ। সম্পূর্ণ রাজবেশে সাজবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। এর জন্য পুরী থেকে আনা হচ্ছে বিশেষ ‘রাজমুকুট’ এবং তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পোশাক।এই রাজকীয় বেশে সাজিয়ে বিশেষ ‘পাহাণ্ডি বিজয়’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহদের রথে তোলা হবে। স্নানযাত্রার পর থেকে বিগ্রহরা নিভৃতবাসে ছিলেন। বুধবার নবযৌবন রূপ নিয়ে তাঁরা ভক্তদের দর্শন দেবেন এবং তার ঠিক পরদিনই অর্থাৎ ১৬ জুলাই রথে চাপবেন।

    রথে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া

    গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রথের গঠনে আনা হয়েছে বিশেষ বদল। পুরীর রথ সোজা রাস্তায় চললেও, দিঘার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রথটিকে কিছুটা যাওয়ার পর দুবার ডানদিকে মোড় নিতে হয়। গতবার চাকা নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায়, এবার রথটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। রথে লাগানো হয়েছে ৪টি নতুন চাকা, এবং মোড় ঘোরার সুবিধার্থে যুক্ত করা হয়েছে স্টিয়ারিং ও ব্রেক। ইতিমধ্যে রথের মহড়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

     রাজ্য সরকারের অনুদান

    দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার রথ উৎসবের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বাবা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী। উৎসবকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে। প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাসের কথায়, “রথযাত্রার প্রস্তুতি শেষের পথে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছি, যার জন্য ধন্যবাদ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে রথযাত্রা শুরু হবে। আশা করছি, ১৬ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলা এই উৎসবে ৯-১০ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে”। রথযাত্রায় (Rath Yatra 2026) লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমকে মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফ থেকেও কড়া নিরাপত্তা ও সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, যখন পুরীর রাজকীয় সাজে দিঘার রাস্তায় টান পড়বে জগন্নাথের রথের রশিতে।

  • Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সাল, বিশ্বস্ত সৈনিকদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতার শপথের সঙ্গেই শপথ নেন তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিকরাও। কিন্তু আজ সেই সব সৈনিকরাই সঙ্গ নিলেন অন্য ‘রাজার’। তাসের ঘরের মতো ভাঙছে কালীঘাটের দুর্গ। ২০১১ সালে যে সমস্ত বিশ্বস্ত, লড়াকু সৈনিকদের কাঁধে ভর করে বাংলায় পরিবর্তনের ইতিহাস লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষমতা টলমল করতেই আজ একে একে তাঁরাই সঙ্গ ছাড়ছেন দলনেত্রীর। তৃণমূলে এখন শুধুই ভাঙা-গড়ার খেলা। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। মদনের হাত ছাড়ার সঙ্গেই এবার চূড়ান্ত রূপ নিল কালীঘাট তৃণমূলের ভাঙন। বিধানসভায় ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’ যোগ দিলেন মদন। স্পষ্ট করে দিলেন- দলের এই ভরাডুবি এবং ভাঙনের জন্য দায়ী আর কেউ নন, খোদ ভাইপো।

    ক্ষমতা যেতেই সঙ্গত্যাগ (Madan Mitra Leaves TMC)!

    যুব কংগ্রেসের আমল থেকে মমতার ছায়ার মতো পাশে থাকা মদন মিত্রও আর কালীঘাটের প্রতি আস্থা রাখতে পারলেন না। তৃণমূলের চরম সঙ্কটের দিনগুলোতেও তিনি কালীঘাটের পথ ছাড়েননি, বিশ্বস্ত সেনাপতির মতো আগলে রেখেছিলেন নেত্রীকে। কিন্তু সেই মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগই প্রমাণ করে দিল, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন কতটা চওড়া। বুধবার দুপুরে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাত ছাড়লেন মদন মিত্র (Madan Mitra Leaves TMC)। সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। সম্প্রতি মদন মিত্রের (Madan Mitra) স্ত্রী ও দুই ছেলেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) তলব করে। ইডি-র তলবের পরপরই সন্দীপন সাহার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মদন মিত্র। এই দুই ঘটনার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে, যা বুধবার দুপুরে কামারহাটির বিধায়কের সঙ্গ বদলের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হলো। মমতার সঙ্গ ছাড়ার পর মদন মিত্রের গলায় ঝরে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা। তাঁর সাফ কথা- ‘‘দল যখন ডুবছে, তখন সংগঠন টানার মতো মহাবলী কাউকে দরকার ছিল। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অহঙ্কার, একনায়কতন্ত্র এবং ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আজ দল ও দলের কর্মীদের এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছেন অভিষেকই।’’

    মদনের অভিযোগ

    মদন মিত্রের (Madan Mitra) অভিযোগ, ‘‘আমি তো চুনোপুঁটি, অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয় না। দল এখন চলছে হিটলারি কায়দায়। ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ যা বলবে, তা না শুনলেই পুলিশের ভয় দেখানো হয়।’’ ভোটের ভরাডুবির পুরো দায় অভিষেকের উপর চাপিয়ে মদনের দাবি, “একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, সর্বনাশ হয়ে গেল”। দলের ডুবন্ত সংগঠনকে টেনে তুলতে অভিষেককে সরানোর জন্য তিনি একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুনয়-বিনয় করেছিলেন, কিন্তু নেত্রী সেই পরামর্শে কান দেননি বলেও অভিযোগ উঠছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘ইডি-র চেয়ে বেশি ভয় ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু অভিষেক কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে কে জানে!’’

    অভিষেককে তীব্র খোঁচা মদনের

    মমতার সঙ্গ ছেড়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও রণকৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। তাঁর মতে, ‘‘জনসংযোগহীন এই চটকদার রাজনীতি দিয়ে আর যাই হোক, বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। এখনই হাল ধরা না গেলে, ভবিষ্যতে কখনও বিজেপি-কে হারানো যাবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে বিজেপি-কে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায়, প্লেন থেকে নেমে, কোমরে হাত দিয়ে চার তারিখ দেখে নেব, হুইসল বাজবে- এসবে দল চলে না। রাজনীতি করতে গেলে মানুষের কাছে যেতে হবে।’’

    ‘আদালত তৃণমূলের সম্মান বাঁচিয়েছে’

    ভোটের ফলাফল ও আদালতের সাম্প্রতিক কিছু হস্তক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে মদন মিত্রর দাবি, “আদালতের জন্যই অন্তত দলের সম্মানটুকু রক্ষা পেয়েছে। বাদাম-মুড়িওয়ালাই ৩-৪ হাজার লোক থাকে। সম্মানটাতো বাঁচল”।

    দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

    উত্তর ২৪ পরগনার সাতজন মন্ত্রীর দুর্নীতি এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাকরি বিক্রির অভিযোগের প্রসঙ্গেও সরব হন মদন মিত্র। তিনি সাফ জানান, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তিনি টাকা বা গয়না নিয়ে চাকরি দিয়েছেন, তবে মাথা পেতে নেবেন। এই বিষয়ে তিনি সরাসরি গণভোট করানোর চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন।

    কোণঠাসা কালীঘাট

    তৃণমূলে এই ভাঙা-গড়ার খেলা অবশ্য মদন মিত্রকে দিয়ে শুরু হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর অনাস্থা প্রকাশ করে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একে একে সেই বিক্ষুব্ধ শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে শুরু করে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলের মতো পুরনো ও শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে মঙ্গলবারই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘‘ক্যামাক স্ট্রিটই দলটাকে শেষ করে দিল।’’ আর আজ মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগ। আবারও প্রমাণ করে দিল যে, পুরনো নেতাদের এই ক্ষোভ কতটা গভীর।

    বিপন্ন তৃণমূল কর্মীরা

    কালীঘাট তৃণমূলের হাত ছাড়ার পাশাপাশি দলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার কথাও তুলে ধরে মদন মিত্র। তিনি জানান, ‘‘আজ দলের লক্ষ লক্ষ ছেলে ঘরছাড়া, মারপিট চলছে, ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, নেতাদের মূল কাজ হবে এই অসহায় কর্মীদের জন্য লঙ্গরখানা খোলা।’’ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা মদন মিত্রের এই সঙ্গত্যাগ ও সরাসরি বিদ্রোহ প্রকাশ কালীঘাট শিবিরের জন্য যে এক বিরাট বড় ধাক্কা, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১১ সালের সেই সোনালী অধ্যায়ের কাণ্ডারীদের এভাবে একে একে বিদায় নেওয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা বিশ্বস্ত দুর্গে ফাটল, এটাই প্রমাণ করে- কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। আর এই ভাঙনের খেলায় লাভ কার হবে, তা সময়ই বলবে।

  • Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে বদল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya) জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল। সূত্রের খবর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।

    সহজ-সরল জীবনযাত্রা মীরা-দেবীর

    বর্তমানে মীরা দেবী একাই থাকেন ওই ফ্ল্যাটে। স্বামী বুদ্ধদেব থাকাকালীন যেমন সহজ ও সাধারণ জীবনযাত্রা ছিল এখনও তাই। এই ছোট্ট ফ্ল্যাট বদলানোর কথা স্বয়ং জ্যোতি বসুও নাকি একসময়ে বলেছিলেন। কিন্তু বুদ্ধবাবু চেয়েছিলেন এখানেই থাকতে। স্বামীর মৃত্যুর পর মীরা দেবীও সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছেন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর তাকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন। মতাদর্শগত ফারাক মাথায় রেখেও নতুন সরকারের প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রার্থনা করেছিলেন, ২০১১ সালের আগে যেমন সিন্ডিকেট রাজ ছিল না, সেই পরিস্থিতিই যেন ফিরে আসে বাংলায়। ভোটের সময় যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির, তা পূরণ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন মীরা।

    রাজনৈতিক সৌজন্যের অনন্য নজির

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধি। তবুও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সম্মানের পথে বাধা হতে দেননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মত অনেকের।

  • Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Case) গোটা রাজ্য তোলপাড়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মৃত ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।

    সরকারি চাকরি-আর্থিক সাহায্য

    রবিবার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরই মঙ্গলবার সরাসরি বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথম থেকেই বারুইপুরের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহত ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সবরকমের সাহায্য়ের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন, পীড়িত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত নাবালিকা ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাকে সরকারি কারা দফতরে নিয়োগের ঘোষণা। পাশাপাশি পরিবারকে সরকারি আর্থিক সাহায্যও প্রদান করা হয়।

    কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?

    পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পরিবারকে বলে এসেছি কাস্টডি ট্রায়াল এবং কনভিকশন এক্সিকিউশন মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে হবে। একটা দৃষ্টান্তমূলক নজির এই কেসে রাখা হবে। সরকারের পক্ষ দিয়ে কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সেটা নিয়ে আমি বলব না। কিছু অ্যাসিস্ট্যান্সের বিষয় থাকে, যদি ফ্যামিলি রাজি থাকে। ফ্যামিলি রাজি ছিল। সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

    আইনি পদক্ষেপ ও এনকাউন্টার

    বারুইপুরকাণ্ডে (Baruipur Case) কড়া অ্যাকশন নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction)-এর সময় এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে এক অভিযুক্ত।

    সুরক্ষায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি, সিসিটিভি

    নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পর সূর্যপুর এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছিল। পরিবারের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। পুরো এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তড়িঘড়ি এই হস্তক্ষেপে স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। ভয় অনেকটাই কমেছে। এবার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বলছেন এলাকাবাসীরা।

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নিহতের বাবার

    মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর মৃত ছাত্রীর বাবা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান এবং সরকারের সহযোগিতার কথা নিশ্চিত করেন। চাকরি পাওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন,”এই মুহূর্তে তাদের মানসিক অবস্থা একদম ভাল নেই। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা থিতু হলে তবেই সরকারের দেওয়া কারা দফতরের কাজে যোগ দেবেন”। সরকারি চাকরি ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে প্রশাসন বোঝাতে চেয়েছে যে, এই কঠিন সময়ে তারা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে পাশে রয়েছে। নিহতের বাবার জন্য কারা দফতরের চাকরিটি পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক অনটন দূর করতে সাহায্য করবে। তবে এই মুহূর্তে কন্যাসন্তানকে হারানোর শোক এতটাই গভীর যে, নিহতের পিতা এখনই কাজে যোগ দিতে পারছেন না। মানসিকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, স্কুলের লাইব্রেরিটি নিহত নাবালিকার স্মৃতিকে চিরকাল এলাকায় বাঁচিয়ে রাখবে।

  • West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সরকারে আসে তৃণমূল। ২০২৬ পর্যন্ত একাধারে মসনদে রাজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের এই অপশাসনের রাজত্বে সামনে এসেছে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ। আর্থিক দুর্নীতি থেকে, লটারি, শিক্ষা ও কয়লা- দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলেও রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট। এবার পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ওঠা একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির পাহাড় খতিয়ে দেখতে বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের (West Bengal Corruption Investigation)। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময়ের সমস্ত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে একটি ‘বিশেষ কমিশন’ (Special Commission) গঠন নবান্নের।

    নবান্নের বিজ্ঞপ্তি

    সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর, প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ওঠা যাবতীয় দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের (Special Commission) চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

    স্ক্যানারে কোন কোন দফতর?

    নবান্ন সূত্রের খবর, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত দেড় দশকে শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে ওঠা দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে এই কমিশন। কমিশনের তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে আর্থিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্পে ওঠা তছরুপের অভিযোগ। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগে অনিয়ম, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পের আর্থিক গরমিল। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অপব্যবহার, সরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বেনিয়মের অভিযোগ।

    শুধুই আর্থিক নয়, তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহারও

    কমিশনের তদন্তের এক্তিয়ার শুধু আর্থিক দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং এর পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বেআইনি গ্রেফতার বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগগুলোও এবার খতিয়ে দেখা হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা বা মদত ছিল কি না? তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুরসভার নিয়ম লঙ্ঘন করে কীভাবে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল? তার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা হবে।

    কারা থাকছেন কমিটিতে?

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই বিশেষ কমিশনের (Special Commission) প্রশাসনিক কাঠামোও অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এই বিশেষ টিমে থাকছেন একজন প্রবীণ আইপিএস (IPS) আধিকারিক। থাকছেন একজন আইএএস (IAS) বা ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিক। প্রযুক্তিগত ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব পরিষেবা (WBRS)-র একজন আধিকারিক। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কমিশন আরও সদস্য নিয়োগ করতে পারবে।

    সিভিল কোর্টের ক্ষমতা ও টাকা উদ্ধারের সুপারিশ

    কমিশনকে তদন্তের সুবিধার্থে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘সিভিল কোর্ট’ বা দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা। ফলে কমিশন প্রয়োজনে, যে কোনও ব্যক্তি বা সরকারি আধিকারিককে তলব করে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। প্রয়োজনীয় গোপন নথি তলব ও সাক্ষ্যও গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও তদন্তের স্বার্থে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে বসে শুনানি ও অনুসন্ধান চালানোর অবাধ অধিকার থাকবে কমিশনের কাছে। এরইমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয় হয়েছে, তা কীভাবে উদ্ধার (Recovery) করা সম্ভব? সেই বিষয়েও সরকারকে নির্দিষ্ট সুপারিশ করতে পারবে এই কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ফলে বিগত দেড় দশকের একাধিক হেভিওয়েট দুর্নীতির তদন্তে এই বিশেষ কমিশনের ভূমিকা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মোড় ঘোরানো হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

LinkedIn
Share