Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Assembly Election 2026: “দিদির খেলা শেষ, সিন্ডিকেটরাজ বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলব”, বর্ধমানে বিস্ফোরক ভাষণে তোপ দাগলেন শাহ

    Assembly Election 2026: “দিদির খেলা শেষ, সিন্ডিকেটরাজ বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলব”, বর্ধমানে বিস্ফোরক ভাষণে তোপ দাগলেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ধমানের জামালপুর থেকে শাহি আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জানালেন বাংলায় এবার পদ্মফুল ফুটছেই। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ৪ মে বর্ধমানের সীতাভোগ খাইয়ে মিষ্টিমুখ করাবেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘‘প্রথম দফায় (Assembly Election 2026) বিজেপি ১১০ আসন জিতবে দিদির খেলা শেষ করে দেবে। সব সরকারি কর্মচারীকে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় আনা হবে। মা বোনেদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। বেকার যুবকদেরও প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। মা-বোনেদের সরকারি বাসে কোনও টিকিট কাটতে হবে না। আলুর দাম কম হতে দেওয়া যাবে না। কৃষকদের ধানের দাম দেওয়া হবে। ৫ তারিখে বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৬ তারিখে সব সিন্ডিকেটরাজ বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলব।’’

    সন্ত্রাস হয়েছে মা-বোনেদের উপর

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে গত ১৫ বছরে মহিলাদের ওপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহ। তাঁর কথায়, দেশের ২০টি রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, কিন্তু কোথাও কোনও মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের সময় বেঁধে দেননি। শাহ বলেন, ‘‘১৫ বছরে মমতাদিদির জমানায় সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস হয়েছে মা-বোনেদের উপর। আরজি কর, সন্দেশখালি প্রতি জায়গায় মা-বোনেদের উপর অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু দিদি বলেন, মা-বোনেরা সন্ধ্যা ৭টা পর বাড়ি থেকে বেরোবেন না। কিন্তু আমি বলে যাচ্ছি, বিজেপি সরকার এলে মাঝরাতেও মা-বোনেরা বেরোতে পারবেন। দেশের ২০ রাজ্যে বিজেপির সরকার আছে। কোনও মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেননি মহিলারা ৭টার পর ঘরের বাইরে বেরোবেন না। লজ্জা করুন দিদি, মহিলাদেরর আপনি সুরক্ষা দিতে পারেননি। কিন্তু বিজেপির সরকার এলে কোনও গুন্ডা মা-বোনেদের দিকে চোখ তুলে তাকালে জেলের হাওয়া খাওয়াব।’’

    মতুয়াদের ভয় দেখানো হচ্ছে

    বাংলা থেকে গুন্ডা-রাজ সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহ বলেন,‘‘প্রতি বার ভোটের সময় দিদির গুন্ডারা ঝামেলা করে। দিদির গুন্ডাদের তাই বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখে ঘরের বাইরে যেন না দেখতে পাই। যদি বার হয়, তা হলে ৫ তারিখের পর উল্টো করে ঝোলাব। দিদি আমার উপর ক্ষেপে যাচ্ছে যে, অমিত ভাই গুন্ডাদের ধমকাচ্ছেন। এখন তো শুধু ধমকাচ্ছি, শুধরে যাও। না হলে জেলে ভরব।’’ মতুয়া সমাজকে নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘দিদি মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছেন, যদি বিজেপি আসে তা হলে আপনাদের ভোট চলে যাবে। কিন্তু দিদি, এই মতুয়া সমাজ আমাদের প্রাণ। ওদের কেউ ছুঁতে পারবে না। মতুয়া সমাজ, নমশূদ্র সমাজের ব্যক্তিদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সিএএ করতে দিচ্ছে না দিদি। আপনারা বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৫ তারিখের পর মতুয়া সমাজের সব ভাই-বোনদের নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি। টিএমসি সব সময় এসসি সমাজের অপমান করেছে। আর বিজেপি সম্মান করেছে। এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছে। মতুয়া আর শূদ্র সমাজকে বলে দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপির প্রাণ বাংলার মতুয়া সমাজ। বাংলায় কারও চারটে বিয়ে করা উচিত? ৫ তারিখের পর আমরা ইউসিসি (অভিন্ন দেওয়াবিধা বিধি) আনব। কেউ চারটে বিয়ে করতে পারবে না।’’

    স্থানীয় স্তরে উন্নয়নের অঙ্গীকার

    স্থানীয় উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘কেন্দ্র সরকার গরিবদের পাকাবাড়ি, পরিশ্রুত পানীয় জল, শিক্ষার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু এই কোথায় গেল? এই সব টাকা টিএমসি-র সিন্ডিকেট আর ভাইপো-ট্যাক্সে চলে গিয়েছে। গোটা বাংলায় বেকারত্ব বাড়িয়েছে দিদির সরকার। ৭ হাজার কারখানা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমরা ২ বছরে সব কারখানা আবার বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসব। যুব সম্প্রদায়ের চাকরির রাস্তা খুলবে।’’

  • BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    BJP: বাংলায় কি ঘুরছে হাওয়া! বিজেপির অন্দরমহলে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ, সামনে দ্বিতীয় দফা, কী পরিকল্পনা দলের?

    সুশান্ত দাস

    প্রথম দফার ভোট মিটতেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শিবিরে যেন এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের পর দলের অন্দরমহলে আশাবাদের সুর ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। এই আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্য— প্রথম দফাতেই ১১০-র বেশি আসন জয়ের সম্ভাবনা— দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

    শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ

    কলকাতায় সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তাঁর মতে, এবারের ভোট শুধু আসনসংখ্যা বাড়ানোর লড়াই নয়, বরং ব্যবধান বাড়ানোর লড়াইও। ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে জনসমাগম দেখা গিয়েছে, সেটিকেই তিনি বিজেপির পক্ষে জনমতের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে মধ্যমগ্রামের রোড শো-এর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা তীব্র।

    ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব’

    বিজেপির অন্দরে এই মুহূর্তে যে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা হল— ‘এই লড়াই জেতা সম্ভব।’ দলের নেতাদের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে শাসকবিরোধী মনোভাব বেড়েছে, আর সেই ক্ষোভই এবার ভোটে প্রতিফলিত হচ্ছে। নারী সুরক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিজেপি নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

    “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা

    একই সঙ্গে বিজেপির প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল “ভয়মুক্ত ভোট”-এর বার্তা। অমিত শাহের অভিযোগ, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে বিজেপি সমর্থকরা ভয়ের কারণে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলেই দলের বিশ্বাস। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে নিজেদের সমর্থকদের আরও সক্রিয় করতে চাইছে, অন্যদিকে নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যেও আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

    সংগঠন আরও মজবুত করায় নজর

    দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিজেপি এখন সংগঠন আরও মজবুত করার দিকে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় তৃণমূলের শক্তি বেশি বলে ধরা হয়, সেখানেই বাড়তি নজর দিচ্ছে দল। দমদমের জনসভায় শাহের আক্রমণাত্মক ভাষণ সেই প্রস্তুতিরই অংশ। তিনি সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে—আর সেই অভিযোগের জবাব দিতেই বিজেপি নেতৃত্ব আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে।

    ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট

    প্রচারের পাশাপাশি ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট করতে চাইছে বিজেপি। নারী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ, কৃষকদের জন্য গবেষণা কেন্দ্র, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত— এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে সামনে এনে দল বোঝাতে চাইছে, তারা শুধু ক্ষমতায় আসতে চায় না, বরং প্রশাসনিক পরিবর্তন আনতেও প্রস্তুত।

    বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই…

    সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের পর বিজেপির প্রচারে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও তৈরি করছে। এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা অবশ্য নির্ভর করবে পরবর্তী দফার ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের উপর। তবে আপাতত বিজেপি শিবিরে বার্তা একটাই— এই লড়াইয়ে তারা পিছিয়ে নেই, বরং এগিয়ে থাকার বিশ্বাস নিয়েই পরবর্তী পর্যায়ে ঝাঁপাচ্ছে।

  • Assembly Election 2026: কড়া নিরাপত্তা! দ্বিতীয় দফার ভোটে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন

    Assembly Election 2026: কড়া নিরাপত্তা! দ্বিতীয় দফার ভোটে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন (Assembly Election 2026) হয়েছে শান্তিতেই। দ্বিতীয় দফার ভোট একেবারে ‘ঘটনাবিহীন’ করতে রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে আরও ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হল। আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটে নজরদারি আরও আঁটোসাঁটো করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে যেটুকু অশান্তি হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় তার সম্ভাবনাও দূর করতে চাইছে কমিশন। সেই কারণে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মোট ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক

    এ বারের নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন, যা অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় দফায় সংখ্যা আরও বাড়ানো হল। এখন মোট ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা প্রত্যেকেই ভিন্‌রাজ্য থেকে আসছেন। তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশকেই। বহু দিন পর পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোট হচ্ছে। কমিশন ভোট ঘোষণার দিনই জানিয়েছিল, দফা কমানো হলেও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হবে। সেই মতো এবার কার্যত নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বাড়তি ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন

    প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও দ্বিতীয় দফায় কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বাড়তি ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন (Election Commission)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বা বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী এই দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শহর কলকাতা (Kolkata) ছাড়াও ভাঙড়-সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া (Howrah), হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু অতি-উত্তেজনাপ্রবণ বুথ (Sensitive Booths) বা এলাকা রয়েছে, যেখানে আরও বেশি পরিকল্পনামাফিক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কলকাতা বা রাজ্যের পুলিশ অথবা ভিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে কাজে লাগাতে চায় কমিশন।

    দ্বিতীয় দফায় বাহিনী বাড়ছে না

    পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও দ্বিতীয় দফায় বাহিনী বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। রাজ্যে যে ২৫৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) রয়েছে, তাদের মধ্যে একাংশকে প্রথম দফা নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় রাখা হচ্ছে। বাকি বাহিনীকে দ্বিতীয় দফার ৮ নির্বাচনী জেলায় নিরাপত্তা রক্ষার কাজে লাগানো হবে। শুক্রবার থেকেই সিইও দপ্তরে রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন নিয়ে দফায় দফায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক, ভিডিয়ো কনফারেন্স হয়েছে। সিইও ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র, ওড়িশা পুলিশের আইজি তথা পুলিশ পর্যবেক্ষক হীরালাল, সিআরপিএফ কর্তা থেকে ভিন রাজ্যের পুলিশ কর্তারাও। সব মিলিয়ে ভোটের বুথ এবং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে বা বুথ সন্নিহিত এলাকাকে শান্তিপূর্ণ রেখে বঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও রেকর্ড ভোটদানের নজির অক্ষুণ্ণ রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • Suvendu Adhikari: ‘‘১০ হাজার কোটির রেশন দুর্নীতির ৭৫ শতাংশ টাকা জ্যোতিপ্রিয় পাঠিয়েছেন মমতার বাড়িতে’’, ভবানীপুরে আক্রমণ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘১০ হাজার কোটির রেশন দুর্নীতির ৭৫ শতাংশ টাকা জ্যোতিপ্রিয় পাঠিয়েছেন মমতার বাড়িতে’’, ভবানীপুরে আক্রমণ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Bengal Elections 2026) মধ্যে রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, “হাবরার প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১০ হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতি করেছেন। তার থেকে ৭৫ শতাংশ মমতার বাড়িতে পাঠিয়েছেন।” এই দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি বিশাল অংশ সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। তাঁর নিশানায় ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ভোট আবহে রেশন দুর্নীতিতে তদন্ত

    শনিবার সকাল থেকেই সক্রিয় ইডি। রেশন দুর্নীতি মামলায় একাধিক এলাকায় চলছে তল্লাশি অভিযান। ইডি-র কলকাতা জোনাল অফিস আজ প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ২০০২ (পিএমএলএ) আইনকে মাথায় রেখে কলকাতা, বর্ধমান এবং হাবড়ার মোট ১৭টি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই অভিযান নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও অন্যান্যদের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই এফআইআর বসিরহাট পুলিশ স্টেশনে দায়ের করেছিলেন ডেপুটি কমিশনার অফ কাস্টমস্ ঘোজাডাঙ্গা এলসিএস। তাতে বলা হয়েছিল, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম বা রেশনের গম পাচার হয়েছে। সেই নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। সেই মামলাতেই শনিবার এই অভিযান। এর মধ্যেই তৃণমূলকে তোপ দেগেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

    ৭৫ শতাংশ অংশ টাকা গিয়েছে প্রভাবশালীদের কাছে (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “রেশন দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অন্তত ৭৫ শতাংশ অংশ নির্দিষ্টভাবে প্রভাবশালী মহলে প্রেরণ করা হয়েছিল। মমতার বাড়িতে টাকা পৌঁছেছে । জেলখাটা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সঠিক পথে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গেলেই এই আর্থিক লেনদেনের সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আসবে।”

    নির্বাচনী মরসুমে এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, “এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেও ব্যবহার করা হয়েছে।”

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

    উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকসহ একাধিক ব্যক্তি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর রেডারে রয়েছেন। বিরোধী শিবিরের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণত এই ধরণের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই অভিহিত করে আসছে। তবে রেশন দুর্নীতি (Bengal Elections 2026) ভোটে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ায় প্রচার শুভেন্দুর

    অপর দিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা উপনির্বাচনকে (Bengal Elections 2026)  কেন্দ্র করে ভবানীপুর কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই আবহে আজ সকালে এক ভিন্নধর্মী প্রচার কৌশলে অংশ নিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার ভোরে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে আলাপচারিতা ও জনসংযোগের মাধ্যমে নিজের প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন।

    সকাল থেকেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শুভেন্দু অধিকারী সেখানে পৌঁছে প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন। কোনও বড় মাপের সভা বা মিছিলের পরিবর্তে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই ছিল আজকের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    অভাব-অভিযোগ শুনলেন শুভেন্দু

    জনসংযোগ চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) বলেন, “ভবানীপুর কেন্দ্রটি রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।” তিনি দাবি করেন, “এলাকার সাধারণ ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন চাইছেন এবং তার প্রতিফলন ভোটবাক্সে দেখা যাবে।”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বিজেপি শিবির। শুভেন্দু অধিকারীর এই সকালের জনসংযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনেই এই শান্ত ও সুশৃঙ্খল প্রচার চালানো হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছ।

  • Weather Update: রবিবার থেকেই হাওয়া বদল! দক্ষিণবঙ্গে স্বস্তির পূর্বাভাস, আগামী চার দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা একাধিক জেলায়

    Weather Update: রবিবার থেকেই হাওয়া বদল! দক্ষিণবঙ্গে স্বস্তির পূর্বাভাস, আগামী চার দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা একাধিক জেলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র তাপপ্রবাহের পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Weather Update)। গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কাটিয়ে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ (Rainfall) হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি (Weather Update)

    হাওয়া অফিসের (Weather Update) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের ওপর বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া দফতর। সতর্কতা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। তবে রবিবার থেকে কলকাতাও ঝড়বৃষ্টি (Rainfall) হবে। রবিবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণের সব জেলায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস রয়েছে। একই ভাবে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং বীরভূমে ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। সমুদ্রের উপরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। ইতিমধ্যে বঙ্গপোসাগরে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    কলকাতার পরিস্থিতি

    কলকাতায় আকাশ আংশিক মেঘলা (Weather Update) থাকার সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। তবে বিকেলের পর শহরের কোনও কোনও অংশে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে, যা তাপমাত্রার পারদ সামান্য হলেও নামাতে সাহায্য করবে। শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.১ ডিগ্রি বেশি। কৃষিজীবী এবং সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের (Rainfall) সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠে কাজ করার সময় বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

  • Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে কর্তব্যে গাফিলিতির জন্য ৫ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

    Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে কর্তব্যে গাফিলিতির জন্য ৫ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Elections 2026) আবহে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অসদাচরণের অভিযোগে ৫ জন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে কমিশন (Election Commission India)। রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতের জন্য হিঙলগঞ্জের ওসিকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে গতকাল । বসানো হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত।

    অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে পদক্ষেপ (Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন (Bengal Elections 2026) চলাকালীন এই পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছিল। কমিশনের (Election Commission India) পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়মাবলী লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

    • কর্তব্যে গাফিলতি: কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
    • নিরপেক্ষতা: প্রতিটি পুলিশ কর্মীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
    • তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা: এই ৫ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হতে পারে।

    কমিশনের সাফ কথা, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও প্রকার আপস করা হবে না। আধিকারিকদের আচরণে বিন্দুমাত্র ত্রুটি দেখা দিলে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।”

    সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই। এসডিপিও সজল মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি মৌসম চক্রবর্তী, ফলতা থানার আইসি অজয় বাগ ও উস্তি থানার আইসি শুভেচ্ছা বাগ।

    ২৯ এপ্রিল কোথায় কত বাহিনী?

    দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট (Bengal Elections 2026) হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। সেদিন ১৪২টি আসনে ভোট হবে। এর মধ্যে রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। আর এই শেষ দফাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে আরও কড়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশন । কমিশন বঙ্গে অতিরক্ত ১০ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে পাঠাবে বলে জানা গিয়েছে। ২৯৪টি আসনের জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮৪ জন। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য আরও ১০ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দ্বিতীয় দফার জন্য ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে নিরাপত্তার দায়িত্বে। শুধু কলকাতায় থাকবে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের আগে ও পরের দিন শহরে থাকবে প্রায় ২২ হাজার আধা সামরিক বাহিনী। হিংসা মুক্ত নির্বাচন করাই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য।

  • Ashok Lahiri: নীতি আয়োগের শীর্ষ নেতৃত্বে বঙ্গের দুই কৃতি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী

    Ashok Lahiri: নীতি আয়োগের শীর্ষ নেতৃত্বে বঙ্গের দুই কৃতি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা ‘নীতি আয়োগ’-এর (Niti Aayog) পুনর্গঠনে বিশেষ গুরুত্ব পেল পশ্চিমবঙ্গ। ভারত সরকারের এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বালুরঘাটের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীকে (Ashok Lahiri) নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান (Vice Chairman) পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে, বিশিষ্ট অধ্যাপক গোবর্ধন দাসকেও এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অশোক লাহিড়ীর অবদান

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে অশোক লাহিড়ীর (Ashok Lahiri) কর্মজীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি ইতিপূর্বে ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (ADB) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁর এই নতুন দায়িত্ব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অশোক লাহিড়ী ২০২১ সালে বালুরঘাট আসন থেকে বিজেপির বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবার নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান খোদ প্রধানমন্ত্রী। পদমর্যাদার নিরিখে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (Niti Aayog) সমকক্ষ। এবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থনীতি বিষয়ে কাজ করবেন অশোকবাবু। ভোটের মধ্যেও বঙ্গবাসীর কাছে এই সংবাদ অত্যন্ত আনন্দের।

    অধ্যাপক গোবর্ধন দাসের ভূমিকা

    জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) সেন্টার ফর মলিকুলার মেডিসিন-এর অধ্যাপক গোবর্ধন দাসের নীতি আয়োগে অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনস্বাস্থ্য এবং উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত গবেষণায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আয়োগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোতে বিশেষ সহায়ক হবে। কেন্দ্রীয় স্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় বাংলার দুই কৃতী ব্যক্তিত্বের নিযুক্তিতে যেমন রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়, তেমনই জাতীয় উন্নয়নের রূপরেখা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতাদের গুরুত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করল। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই দুই ব্যক্তিত্বের মেধা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি আয়োগের (Niti Aayog) কর্মপদ্ধতি আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল হবে।

  • ED Raids: চাল ব্যবসাতেই কালো টাকা সাদা! রেশন দুর্নীতিতে হাবড়া-সহ মোট ১৭ জায়গায় ইডি-অভিযান

    ED Raids: চাল ব্যবসাতেই কালো টাকা সাদা! রেশন দুর্নীতিতে হাবড়া-সহ মোট ১৭ জায়গায় ইডি-অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের (Assembly Election 2026) আগে ফের সক্রিয় ইডি। শনিবার সাতসকালে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় (ED Raid Habra) পৌঁছে গেল ইডি। রেশন বণ্টন দুর্নীতি (Ration Scam) মামলার শিকড় খুঁজতে এবার এলাকার একাধিক প্রভাবশালী চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এদিন ভোররাতেই অভিযানে (Enforcement Directorate) নামেন গোয়েন্দারা, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে একাধিক জায়গায় চলছে অভিযান। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় অনেকের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি।

    দুই চাল ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ

    ইডি সূত্রে খবর, শনিবার সকালে গোয়েন্দাদের বিশেষ টিমটি প্রথম হানা দেয় হাবড়ার জয়গাছি নেতাজি রোডের বাসিন্দা সমীর চন্দের বাড়িতে। পেশায় চাল ব্যবসায়ী সমীরবাবু দীর্ঘদিন ধরেই হাবড়া চালপট্টি এলাকায় কারবার চালান। রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে। এদিন সকালে যখন আধিকারিকরা তাঁর দরজায় কড়া নাড়েন, তখন বাড়ির সকলে ঘুমে আচ্ছন্ন। বারবার ধাক্কা দেওয়ার পর অবশেষে দরজা খোলা হলে ভিতরে প্রবেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। হাবড়ার আরও এক ব্যবসায়ী সাগর সাহার বাড়িতেও চলে ইডি অভিযান। হাবড়া শ্রীনগর রোডে সাগর সাহার বাড়িতে শনিবার ভোর হতে না হতেই আসেন ইডি আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছে। এদিন সকালে ব্যবসায়ী সাগর সাহার বাড়ির বাইরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় ইডি আধিকারকদের। তবে অবশেষে ভিতরে ঢুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছেন তাঁরা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ব্যবসায়ীর পরিবারের লোকজনদের।

    এলাকায় মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী

    এদিন সকালে ইডির আধিকারিকদের সঙ্গেই ময়দানে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তাঁরা গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে।  তল্লাশি চলাকালীন কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যবসায়ীদের বাড়ির গেট ও আশপাশের এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে। বাড়ির ভেতরে ব্যবসায়ীদের নথিপত্র পরীক্ষা করার পাশাপাশি বয়ান রেকর্ড করছেন ইডি আধিকারিকরা। এদিন হাবড়ায় চার জায়গায় যায় ইডির দল। দক্ষিণ হাবড়ার সুভাষ রোডে চাল ব্যবসায়ী রাজীব সাহা ও পার্থ সাহার বাড়িতেও হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা।

    কেন চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডি

    রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় মূলত অভিযোগ উঠেছিল যে রেশনের সামগ্রীর কালোবাজারি করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি কালো টাকা সাদা করার মতো অভিযোগও উঠেছে। রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্তে এর আগেও রাজ্যজুড়ে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি ও সিবিআই। মূলত রেশনের সামগ্রী খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা, কালোবাজারি এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে এই মামলায়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে এখন চালের উৎস এবং তার লেনদেনের গতিপ্রকৃতি। ব্যবসায়ী সমীর চন্দ অনেকদিন ধরেই চাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে ইডি সূত্রে খবর। কোথা থেকে তিনি চাল কেনেন, কী দামে কেনেন, মান্ডিতে কী দামে যায় – এই সবকিছুই খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা।

    রেশন দুর্নীতির সূত্র

    কোভিডকালে ১৭১ ট্রাক গম ধরা পড়েছিল তার রেশ ধরেই নতুন করে তদন্তে গতি এসেছে। অভিযোগ, পাচার করা হচ্ছিল ৫ হাজার টনের বেশি গম। সেই সময় শুল্ক দফতর প্রত্যেকটি ট্রাককে আটক করে। পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশের থেকে তদন্তভার নেয় ইডি। সূত্রের খবর, ওই সময় ধরা পড়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকার গম। অভিযোগ এফসিআই থেকে যে গম পাঠানো হয় সেই গম হিসাবে কারচুপি করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বাংলাদেশে। ওই কেসে এক্সপোর্টার হিসাবে যাঁদের নাম উঠে এসেছিল তাতেই এই চার ব্যক্তির নাম ছিল বলে জানা যাচ্ছে। পুরো কাণ্ডে প্রত্যেকেই মোটা টাকা কামিয়েছে বলে অভিযোগ। সেই এক্সপোর্টারদের চিহ্নিত করেই তাঁদের বাড়ি অফিস, বিভিন্ন সংস্থায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।

    জ্যোতিপ্রিয়-যোগ, ১৭ জায়গায় ইডির তল্লাশি

    আগামী ২৯ এপ্রিল হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোয় আগেই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই এই এই গম এক্সপোর্টের জল গড়িয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। ফলে ভোটের মুখে ফের এই কেসের তদন্ত যে বিশেষভাবে তাৎপর্যন্তপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন কলকাতা এবং বর্ধমানের কিছু জায়গাতেও ইডি গিয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত ন’টি জায়গায় শনিবার সকাল থেকে তল্লাশি চলছে বলে খবর। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতি মামলার সূত্রে এই তল্লাশি অভিযান। আর্থিক তছরুপের সূত্রেই চাল ব্যবসায়ীদের বাড়িতে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ভোরে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে ইডি-র একাধিক দল রওনা দেয়। ৯ ব্যবসীয়র বাড়ি ছাড়াও একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস, সংস্থা সহ মোট ১৭ জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।

  • WB Assembly Election 2026: ভোটগ্রহণের সময় গন্ডগোল করতে গুন্ডাবাহিনীকে মাঠে নামিয়েছিল তৃণমূল!

    WB Assembly Election 2026: ভোটগ্রহণের সময় গন্ডগোল করতে গুন্ডাবাহিনীকে মাঠে নামিয়েছিল তৃণমূল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনব্যবস্থা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হারানোর আশঙ্কায় নড়বড়ে (Post Poll Violence) হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ, প্রথম দফার ভোটগ্রহণের সময় বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত সৃষ্টি করতে তারা তাদের গুন্ডাবাহিনীকে মাঠে (Post Poll Violence) নামিয়েছে। জানা গিয়েছে, গুন্ডাবাহিনীকে বিরত রাখতে এবং মমতা সরকারের পতন ঠেকাতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হিংসা ও ভয় দেখানোর পথ অবলম্বন করেছে (WB Assembly Election 2026)। সংবাদ মাধ্যমে এমন ৯টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার ঘটেছে (WB Assembly Election 2026)।

    ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা (WB Assembly Election 2026)

    এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডলকে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। জনতা প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেন, তাকে তাড়িয়ে দেয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৪ নম্বর বুথে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয়। অভিযোগের পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষুব্ধ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যায়। প্রথম দফার ভোটের সময় তৃণমূলের তরফে দুষ্কৃতীরা কুমারগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীকে হেনস্থা করে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা (Post Poll Violence) করছে। দোষীরা পালানোর চেষ্টা করলেও, পুলিশ হামলাকারীদের থামাতে কিছুই করেনি বলে অভিযোগ।

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা

    একই কেন্দ্রে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে বিজেপি কর্মীরা তাদের তাড়িয়ে দেন। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা (WB Assembly Election 2026) মুর্শিদাবাদের রাস্তায় নেমে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত করে। পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, তারা তৃণমূলের পতাকা নিয়ে বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যায় বলে অভিযোগ (WB Assembly Election 2026)। এদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সমর্থকদের মধ্যে (Post Poll Violence) সংঘর্ষ হয়। কবীর, যিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা, তাঁকে তৃণমূল কর্মীরা প্রচারে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। এর ফলে দু’পক্ষের মধ্যে লাঠি ও পাথর নিয়ে তীব্র সংঘর্ষ হয়। একটি ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করতে এবং হুমকি দিতে শোনা যায়।

    লুঙ্গি বাহিনীর তাণ্ডব

    বৃহস্পতিবার (২৩শে এপ্রিল) মমতা সরকারের তথাকথিত ‘লুঙ্গি বাহিনী’ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটে বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জনতা ইট-পাথর ছুড়ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে (Post Poll Violence)। তারা একটি পুলিশের গাড়ির কাচও ভাঙচুর করে (WB Assembly Election 2026)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত আর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বীরভূম জেলার লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা (WB Assembly Election 2026) বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং লাথি-ঘুষি মারে। উত্তেজিত জনতা গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে দেয়, আর পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে আক্রমণ

    পরে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপির এক পোলিং এজেন্টকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে বুথ দখলের খবরও সামনে আসে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয় এবং তাড়িয়ে দেয়। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল শহরে বিজেপি (WB Assembly Election 2026) প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তারা তাঁর গাড়িতে ইট-পাথর ছুড়ে গুরুতরভাবে আঘাত করার চেষ্টা করে। তবে বিজেপি নেত্রী অক্ষত অবস্থায় পালাতে সক্ষম হন (WB Assembly Election 2026)। পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

    মমতা সরকার এবং তাদের তথাকথিত ‘লুঙ্গি বাহিনী’ ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রভাবিত করা এবং হিংসার মাধ্যমে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে এগিয়ে আসেন এবং তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।

     

  • Assembly Election 2026: ‘‘বাংলা থেকে মমতা দিদি ধুয়ে মুছে সাফ হবে’’, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শাহী হুঙ্কার

    Assembly Election 2026: ‘‘বাংলা থেকে মমতা দিদি ধুয়ে মুছে সাফ হবে’’, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শাহী হুঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি। হিঙ্গলগঞ্জের সভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুন্দরবনের এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল ও মমতাদির খেলা শেষ হতে চলেছে। কাল ভোট হয়েছে। সেই ১৫২ আসনের মধ্যে ১১০টি জিতবে বিজেপি।’’ তাঁর সাফ কথা, ‘‘এবার মমতা দিদি আর তৃণমূল দুই-ই বাংলা থেকে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে।’’

    পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডারাজ শেষ হবেই

    হিঙ্গলগঞ্জের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডারাজ শেষ হবেই। আরজি করের নির্যাতিতার মা এবং সন্দেশখালিতে অত্যাচারিত রেখা পাত্রকে আমরা টিকিট দিয়েছি। তাঁদের বিধানসভায় পাঠিয়ে গুন্ডাদের শিক্ষা দেওয়া হবে।’’ গরু পাচার নিয়ে শাহ বলেন, ‘‘ভাইপোর আশীর্বাদে সারা বাংলায় গরু পাচার বেড়ে গিয়েছে। গরু পাচারকারীরা সাবধান হয়ে যান। ৫ তারিখের পর কেউ গরু পাচারের চেষ্টা করলে জেলে ঢোকানো হবে। আর আপনাদের কাটমানির নামে ভাইপো ট্যাক্স দিতে হবে না।’’ নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বেকার যুবকদের শাহ বলেন, ‘‘মমতাদি এবং তৃণমূলের নেতারা ২৬ হাজার যুবকের নিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকা খেয়েছে, তা সব ফেরত দিতে হবে।’’

    কেন্দ্রের টাকা প্রসঙ্গে শাহ

    শাহ এদিন আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ নিয়ে রাজ্য সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘মোদিজি সুন্দরবনের মানুষের জন্য হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কাটমানি আর তোলাবাজির চক্করে সেই টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।’’ সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘বিজেপি সরকার গড়লেই সন্দেশখালির প্রতিটি অত্যাচারের ফাইল খোলা হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’’ নির্বাচনী হিংসা ও ভোটদানের অধিকার নিয়ে শাহ এদিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারত না। তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘২৯ তারিখ ভোটের দিন মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোলে যারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, ৫ তারিখের পর তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’’ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘বাংলার পবিত্র মাটিতে কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ হতে দেব না।’’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এবার বাংলায় বিজেপি ইতিহাস গড়তে চলেছে এবং ১৫ বছরের ‘কুশাসনের’ অবসান ঘটিয়ে সোনার বাংলা গড়ার পথে মানুষ ইতিমধ্যেই পা বাড়িয়েছেন। শুক্রবারও পশ্চিমবঙ্গে জোড়া জনসভা রয়েছে শাহর। বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ থেকে তিনি চলে যাবেন শ্রীরামপুরে। সেখানে জনসভা করবেন শাহ। তার পরে ব্যারাকপুরে রোড শো করবেন তিনি।

LinkedIn
Share